Thursday, March 8, 2018

রুশ গুপ্তচর হত্যাচেষ্টায় 'নার্ভ এজেন্ট' প্রয়োগে তোলপাড়

ব্রিটেনের পুলিশ বলছে, একজন সাবেক রুশ গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টায় স্নায়ুকে আঘাতকারী রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে। ওই রুশ গোয়েন্দা ও তার মেয়েকে রোববার একটি পার্কে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধারে যাওয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তা এখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নার্ভ এজেন্ট হচ্ছে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক যা স্নায়ুতন্ত্রকে বিকল বা অকার্যকর করে দিতে পারে এবং এতে দৈহিক কর্মক্ষমতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত মুখ অথবা নাক দিয়ে এই রাসায়নিক দেহে প্রবেশ করানো হয়। তবে চোখ বা ত্বক তা শোষণ করতে পারে। কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং ইউনিটের প্রধান মার্ক রাউলি বলেছেন, সরকারি বিজ্ঞানীরা শনাক্ত করেছেন যে তাদের ক্ষেত্রে নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ পর্যায়ে তারা খবরটিকে উন্মুক্ত করতে চান না।
তিনি জানান, বিষয়টি অনেক বড় একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে যেখানে 'হত্যাচেষ্টার' সন্দেহ করা হচ্ছে। ২০০৬ সালে লন্ডনে রাশিয়ার আরেকজন গুপ্তচর আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোকে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল। নার্ভ এজেন্ট সাধারণভাবে 'ক্রিমিনাল গ্যাং' বা 'সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো' তৈরি করতে পারে তেমনটি নয়। বিশেষ গবেষণাগারে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এই রাসায়নিক উৎপাদন করা হয়। তবে স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টার জন্য অবশ্যম্ভাবীভাবে সন্দেহের তীর রাশিয়ার দিকে। কারণ তাদের শত্রুদের বিষ প্রয়োগে হত্যার রেকর্ডই শুধু নয়, সের্গেই স্কিপ্রালের ঘটনার সঙ্গে অন্য মোটিভও আছে। রাশিয়ার একজন সামরিক গোয়েন্দা হিসেবে নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইউরোপে রুশ এজেন্টদের সম্পর্কে স্ক্রিপালের বিরুদ্ধে   এমআইসিক্সকে তথ্য দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচ দিন আগে যে দোকানে ৬৬ বছর বয়সী স্ক্রিপাল ও তার ৩৩ বছর বয়সী মেয়ে পড় গিয়েছিলেন সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। রাউলি জানান, কয়েকশ' গোয়েন্দা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, বিশ্লেষক এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। তবে এর তদন্ত শেষ হতে আরও ক'দিন লেগে যাবে। সূত্র: বিবিসি

মূর্তি ভাঙচুর থামছেই না, ক্ষোভের মুখে বিজেপি

ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রার্থী জয়ের পর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে লেনিনের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা দেশজুড়ে হৈচৈ ফেলে দেয়। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কেরলের কান্নুরে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে এনডিটিভর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কান্নুরের থালিপরবা এলাকায় কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রথমে গান্ধীর চশমা ভেঙে দেয়, পরে মূর্তিটি ভেঙে পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। সংবাদ মাধ্যম আজকাল বলছে, কেরল ছাড়াও তামিলনাড়ুতে বাবা আম্বেদকরের মূর্তিতে কালি ছিটিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে বুধবার উত্তর প্রদেশের মিরাটে বাবা সাহেবের মূর্তিও খণ্ডিত করে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। বুধবার হাতু়ড়ির দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় কলকাতায় অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি। কালি লেপে দেওয়া হয় সেই মূর্তির মুখে। কেওড়াতলা শ্মশান সংলগ্ন পার্কের ওই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন শাসক দলের নেতা-নেত্রী, সাধারণ মানুষ-সহ বিশিষ্টজনেরা। কারও মতে, এই এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র।
কারও মতে, এ নিয়ে দায় এড়াতে পারে না দেশের সরকার। এর আগে মঙ্গলবার রাতে তামিলনাড়ুর ভেলোরের তিরুপাত্তুরে পেরিয়ারের মূর্তির ওপরে হামলা হয়। দ্রাবিড় আন্দোলনের পুরোধা পেরিয়ারের আবক্ষমূর্তি লক্ষ করে পাথর ছোড়ার ঘটনায় মুথুরামন এবং ফ্রান্সিস নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুথুরামন বিজেপি এবং ফ্রান্সিস সিপিআই কর্মী বলে পুলিশের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়। ত্রিপুরায় বিজেপির বিপুল ভোটে জয়লাভের পরই এ ধরনের মূর্তি ভাঙার কাণ্ড প্রকাশ্যে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেছেন মোদি।

অনলাইনে অর্ডার দিলেই মিলবে গণ্ডারের শিং!

সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে কেনাকাটায় ঝুঁকছে মানুষ। খাবারদাবার থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখন মিলছে অনলাইন শপগুলোতে। আর সময় বাঁচাতে মানুষও প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনছে এসব অনলাইন শপ থেকে।
তবে নিত্যব্যবহার্য জিনিসের পাশাপাশি এবার অনলাইনে এমন জিনিসও মিলছে যা অবাক করার মতোই! এখন অনলাইনে অর্ডার দিলেই মিলবে গণ্ডারের শিং-ও! তবে সব দেশে নয়, কেবল দক্ষিণ আফ্রিকাতেই মিলবে এ সুযোগ। টাইমস অব মালটার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধভাবে গণ্ডারের শিং বিক্রি রুখতেই নাকি এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কেবল দেশের ভেতরের গণ্ডারের শিং বৈধভাবে বিক্রির জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাইভেট রাইনো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গণ্ডারের শিং পাচার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তারা দেশের বাজারে অনলাইনে গণ্ডারের শিং বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়া এতে চোরা শিকারিদের হাতে গণ্ডার নিধন অনেকটাই কমবে বলেও মনে করছেন তারা।

শ্রীলঙ্কায় মুসলিম-বৌদ্ধ সংঘাত ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ

শ্রীলঙ্কায়  মুসলমান ও বৌদ্ধদের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দেশিটিতে সরকারি এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী তিনদিন সারাদেশে ফেইসবুক, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকবে। খবর রয়টার্সের।
সাস্প্রতিক সময়ে বৌদ্ধ-মুসলিমদের মধ্যে হওয়া কয়েকটি সংঘাতের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দায়ী করে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফেসবুকে মুসলিমদের ওপর আরও হামলার হুমকি সম্বলিত পোস্টের মাধ্যমে সহিংসতাকে উস্কে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত রোববার দেশটির ক্যান্ডিতে মুসলমানদের সঙ্গে সংঘাতে এক বৌদ্ধ তরুণের মৃত্যুর জের ধরে নতুন করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে। সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ক্যান্ডিতে জরুরি অবস্থা জারি করার পরও  মুসলমানদের কয়েকটি মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বৌদ্ধরা। উল্লেখ্য, গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। কয়েকটি কট্টরপন্থি বৌদ্ধ গোষ্ঠীর অভিযোগ, শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধদের জোর করে ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৌদ্ধ পুরাতাত্ত্বিক স্থানগুলো ভাংচুরের জন্যও মুসলমানদের দায়ী করে তারা।

স্বর্ণ আমদানিতে ব্যাংকের মতামত চেয়ে চিঠি

বন্ডেড ওয়্যার হাউসের আওতায় স্বর্ণ আমদানি করে প্রস্তুতকারকদের কাছে বিক্রির বিষয়ে সব ব্যাংকের মতামত জানতে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উপায়ে আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকের পদ্ধতি এবং তা লাভজনক হবে কি-না সেটি জানাতে বলা হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতের নীতিমালা পর্যালোচনা করে শিগগির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে। স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসুর সভাপতিত্বে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সভা হয়েছে। এসব সভায় স্বর্ণ আমদানিতে জুয়েলারি মালিকদের অনুমোদন অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি করে তাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়। তবে স্বর্ণ আমদানিতে ব্যাংককে যুক্ত করার বিপক্ষে মত দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন করে সব ব্যাংকের মতামত নিয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। আর স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা প্রণয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা জানান, অনুমতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিদ্যমান নিয়মেও স্বর্ণ আমদানি করতে পারেন। তবে কোনো ব্যবসায়ী এলসি খুলে বাণিজ্যিকভাবে স্বর্ণ আমদানি করেননি।
অথচ রাজধানীসহ দেশের কোনো দোকানে স্বর্ণের কমতি নেই। ফলে স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা প্রণয়নের আগে প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, মজুদ, বিতরণ ও সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা বিধান এবং রফতানির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। মূলত গত বছরের মে মাসে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের ঘটনায় মামলাকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ আমদানি নীতিমালার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। ওই ঘটনার পর গত বছরের ৪ জুন শুল্ক্ক গোয়েন্দা আপন জুয়েলার্সে কয়েকটি বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ১৫ মণ স্বর্ণ এবং ৭ হাজার ৩৬৯টি হীরার অলঙ্কার জব্দ করে। এসব স্বর্ণের বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় মালিকদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। এরপর এ শিল্পের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তারা নীতিমালা প্রণয়নে তৎপরতা শুরু করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা জানান, অবৈধ স্বর্ণের বৈধতা পাওয়ার লক্ষ্যে স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা প্রণয়নে ব্যবসায়ীরা এত তোড়জোড় করছেন বলে তাদের ধারণা। এছাড়া বর্তমানে ব্যাগেজ রুলের আওতায় প্রতিভরি স্বর্ণ আনতে তিন হাজার টাকা শুল্ক্ক দিতে হয়। ভারতে ভরিপ্রতি শুল্ক্ক চার হাজার রুপি। ফলে বিদ্যমান শুল্ক্কে বৈধ পথে স্বর্ণ আনলেও তা পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে নীতিমালা প্রণয়নে সতর্কতার পক্ষে তাদের অবস্থান।

শহীদ মিনারে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে তাকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শ্রদ্ধা জানানো হবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী গত মঙ্গলবার ( ৬ মার্চ) রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও লিভার, কিডনি ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৮ নভেম্বর বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান তিনি।
সেসময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে কয়েক দফা চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রিয়ভাষিণী বাংলাদেশের ভাস্কর্য চর্চায় ব্যতিক্রমী একজন শিল্পী ছিলেন। দামি জিনিসের পরিবর্তে চারপাশে পাওয়া ডাল, পাতা, কাঠের টুকরা, শেকড়, গাছের গুড়িকে তুলে এনে শিল্পে রূপ দিতেন। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১০ সালে তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক 'স্বাধীনতা পুরস্কার' প্রদান করা হয়। একাত্তরের নির্মম ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার।

স্বাস্থ্য খাতে যে মানবসম্পদ প্রয়োজন

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সমকালে 'কোথায় যাবেন এত চিকিৎসক' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ পড়ে মনে হওয়া স্বাভাবিক, দেশে এখন চিকিৎসকের সংকট তো নেই-ই বরং প্রাচুর্য আছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের একটি সমীক্ষার প্রেক্ষাপটে সংবাদটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ কোটি মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের চাহিদা ছিল ৬৩ হাজার ৩৯৫ জন, অথচ জোগান ছিল ৭৪ হাজার ৯২৪। সে হিসাবে ১১ হাজার ৫২৯ জন চিকিৎসক 'উদ্বৃত্ত' ছিলেন। এটা চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগের ব্যাপার হলেও রাষ্ট্রের জন্য আনন্দের। যেখানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পর্যন্ত চিকিৎসকের প্রচণ্ড সংকট আছে, সেখানে বাংলাদেশে কি-না চিকিৎসক 'উদ্বৃত্ত' আছে- এটা আশা জাগানিয়া বিষয় বটে! তবে বিআইডিএসের সমীক্ষা গভীরভাবে খতিয়ে দেখলে এতে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যাবে। প্রতি ২৫২২ জনের জন্য একজন চিসিৎসক হিসাব করার কারণে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, আমাদের বোধ হয় অনেক চিকিসৎক আছেন। কোন যুক্তিতে ২৫২২ জনের জন্য একজন চিকিসৎক প্রয়োজন, সেটা স্পষ্ট হওয়া দরকার ছিল। কারণ 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা' অর্জনের জন্য প্রতি ১০০০ জন মানুষের বিপরীতে ৪.৪৫ জন স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রয়োজন। সেই দলে চিকিৎসকের সংখ্যা হতে হবে গড়ে ১.৫৬ জন। সে হিসাবে উল্লিখিত ২৫২২ জনের জন্য প্রায় চারজন (৩.৯৩) চিকিৎসক প্রয়োজন আর ১৬ কোটি মানুষের জন্য প্রয়োজন প্রায় আড়াই লাখ চিকিৎসক। বাংলাদেশে বর্তমানে মেডিকেল ও ডেন্টাল মিলিয়ে মোট চিকিৎসকের সংখ্যা এখন এক লাখের নিচে। কাজেই এখনও আমাদের চিকিৎসকের ঘাটতি আছে এবং উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের আরও চিকিৎসক প্রয়োজন। দেশে শুধু চিকিৎসকই নয়, অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের বিরলতম দেশগুলোর একটি, যেখানে ডাক্তারের সংখ্যা নার্স সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। সঠিক উপায়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য একটি স্বাস্থ্য কাঠামোতে চিকিৎসকের সঙ্গে আনুপাতিক হারে নার্সও থাকতে হবে। তা ছাড়া দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা দানকারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির যে সংকট বিরাজমান, সেটা নিরসনে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য মানবসম্পদ নীতি থাকা প্রয়োজন। কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নয়, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য জরুরি বিষয়, যেমন রোগের ধরন পরিবর্তন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক প্রগতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন- এসব নানা দিক বিবেচনায় রেখে আমাদের ভাবতে হবে, আগামীর বাংলাদেশে আমরা কেমন স্বাস্থ্যসেবা চাই এবং সেটা নিশ্চিত করতে আমাদের ঠিক কী পরিমাণে জনশক্তি প্রয়োজন।
এ পরিমাণটি ঠিক করা গেলে আমাদের ভাবতে হবে, আগামীর বাংলাদেশে আমরা কেমন স্বাস্থ্যসেবা চাই এবং সেটা নিশ্চিত করতে আমাদের ঠিক কী পরিমাণে জনশক্তি প্রয়োজন। এই পরিমাণটি ঠিক করা গেলে আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কীভাবে এই জনশক্তিকে গড়ে তুলব। আমাদের নজর দিতে হবে স্বাস্থ্যশিক্ষার দিকে। সরকারি ও বেসরকারি সব মেডিকেল, ডেন্টাল, নার্সিং ও অন্যান্য বিদ্যাপীঠে যেন সঠিক মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া হয়- সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আগামীর স্বাস্থ্য খাতের সেনানীরা যদি পেশাগতভাবে দক্ষ না হন, তাহলে দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে কোথাও তাদের দ্বারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যশিক্ষা বিশ্বের সর্বত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে স্বীকৃত। কাজেই এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। পরিমাণ ও গুণগত মান- এই দুটি যথেষ্ট পরিমাণে বজায় রেখে জনশক্তি উৎপাদন করার পর তাদের এমনভাবে দেশের অভ্যন্তরে কাজের সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে জনগণ তাদের প্রাপ্য সেবাটি বুঝে নিতে পারে। দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর সিংহভাগ শহরে অবস্থিত, অথচ মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ গ্রামে থাকে- এ এক চরম বৈষম্য। স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ না করা গেলে চিকিৎসক ও রোগী- উভয়ের শহরমুখিতা বাড়বে। তাতে শহরের যানজট বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার অবনতি ছাড়া আর কিছু হবে না। কীভাবে স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে জন্য সহজ অথচ কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় আরেক সমস্যা ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য। একই শহরে হৃদরোগে আক্রান্ত বিত্তবান মানুষটি যে সেবা নিতে পারেন, একজন বিত্তহীনের পক্ষে তা ভাবা দুস্কর। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে, আমাদের দেশে স্বাস্থ্যসেবা নিতে গেলে প্রায় ৬৭ শতাংশ ব্যয়ভারের জন্য আমাদের কোনো প্রস্তুতি থাকে না। এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা থেকে লব্ধ অর্থের সিংহভাগ চলে যায় গুটিকতক বেসরকারি খাতের ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিকদের পকেটে। ফলে 'স্বাস্থ্যসেবা' বাংলাদেশে একটি লাভজনক বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে এবং শব্দটির 'সেবা' অংশটি যেন আজকাল উপহাসে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতির আশু নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। দেশের সিংহভাগ মানুষের আয়ের সঙ্গে যেন চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গতি থাকে, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কীভাবে দক্ষ সেবাদানকারীর সেবা গ্রহণযোগ্য খরচে রোগীর কাছে পৌঁছায়, তা না হলে দেশে যতই চিকিৎসক-নার্স থাকুক তার সুফল জনগণ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। এভাবে যদি আমরা দেশের ভেতরে সংখ্যায় ও মানে যথেষ্ট চিকিৎসা-জনশক্তি গড়ে তুলতে পারি এবং তাদের সেবা সুলভে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, তখন আমাদের সুযোগ সৃষ্টি হবে দেশের ভেতরে 'চিকিৎসা পর্যটন' গড়ে তোলার। এতে দেশের জনশক্তি দেশে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। প্রয়োজনে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের চিকিৎসা-পরামর্শ প্রদান থেকে শুরু করে নানাভাবে আমাদের জনশক্তিকে বিশ্বমানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করা সম্ভব। আমাদের চিকিৎসা শিক্ষাকে যদি উন্নত দেশের সমমানে উন্নীত করা যায়, তাহলে দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়তে আসা এবং দেশের চিকিৎসকদের বিদেশে চিকিৎসা দেওয়া সহজতর হবে। তবে দেশের মানুষের চাহিদা অপূর্ণ রেখে এসব ভাবা কোনোক্রমেই সমীচীন হবে না। আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত দায়িত্বশীল সবাইকে মনে রাখতে হবে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বৈষম্যহীন জনমুখী রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, সেটার সংবিধান অনুসারে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। সেই সেবা দিতে আমাদের একটি সময়োপযোগী স্বাস্থ্য মানব সম্পদনীতি প্রণয়ন আবশ্যক। সেটা সঠিক পরিমাণে সঠিক গুণগত মানের জনশক্তি গড়ে তুলবে এবং তাদের মাধ্যম বাংলার প্রতিটি মানুষকে তার প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবার অধিকারটুকু বুঝিয়ে দেবে। আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং গবেষণা কর্মকর্তা ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ, ভারত
mahbub321@gmail.com

কণ্টকমুক্ত হোক নারীর যাত্রাপথ by সেলিনা হোসেন

জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো পালন করার রেওয়াজ আমাদের দেশে বরাবরই ছিল। কিন্তু সাড়ম্বর আয়োজন করে আন্তর্জাতিক নানা দিবস পালনের রেওয়াজ বলতে গেলে খুব পুরনো নয়। যোগাযোগ ও প্রযুক্তির বিকাশের ফলে পৃথিবীর জাতিগুলো ক্রমান্বয়ে কাছাকাছি এসেছে। এর ফলে পরস্পরের সম্পর্কে জানা-বোঝার সুযোগ ঘটছে যেমন, তেমনি অপরের অর্জনগুলোকে সম্মিলিতভাবে সবার অর্জন হিসেবে পালনের সুযোগও ঘটেছে কিংবা ঘটছে। এ হলো মানুষের আন্তর্জাতিক আচরণের অংশ। আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি তাই আজ সবার মাতৃভাষা দিবস। বহু বছর ধরে আমরা মে দিবস পালন করি শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর স্পর্ধার দিন হিসেবে। আমাদের জাতীয় দিবসের পাশাপাশি এ দিনগুলো আমাদের আন্তর্জাতিকতাকে নতুন মহিমা ও মর্যাদা দিয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ইতিমধ্যে নারী দিবস পালনের শতবর্ষ অতিক্রান্ত হয়েছে। অনেকেই বলেন, নারী দিবস পালনের ইতিহাস আর নারী আন্দোলনের ইতিহাস প্রায় সমান্তরাল। আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে নারী অগ্রযাত্রার সূচনা করেছিল সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। এবারের প্রেক্ষাপটে যদি আমাদের দেশে নারীর সার্বিক দিক পর্যালোচনা করি, তাহলে কী দেখতে পাই? এ সঙ্গে এই প্রশ্নও দাঁড়ায় যে, সেদিকে ফিরে তাকানোর দিন শুধু আজই-বা কেন হবে? প্রত্যেকটি দিনই যদি এই প্রেক্ষাপটে আলোচনা-পর্যালোচনায় গুরুত্ব পায়, তাহলে নিশ্চয়ই এর শুভ প্রভাব সমাজে পড়বে। দূর করা সম্ভব হবে নানারকম অসঙ্গতি। যখন আমরা এবার নারী দিবস পালন করছি, এর কয়েক দিন আগে সমকালে প্রকাশিক একটি সচিত্র প্রতিবেদন দৃষ্টি কাড়ার পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও দাঁড় করিয়েছে। এই প্রতিবেদনে প্রকাশ, যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন অর্চনা রানী সরকার। ২২ বছরের অর্চনা ২ মার্চ সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর রেলস্টেশনের কাছে আত্মহত্যা করেন ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে। ওই ঘটনায় অর্চনার স্বামী শুধাংশু সরকার ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বিয়ের সময় অর্চনার বাবা যৌতুক দিলেও স্বামীর পরিবারের লোকজনের অর্চনার ওপর চাপ ছিল আরও যৌতুক আদায়ের। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও মানবিকতার যে আকালের কথা আমরা বলি, এরই মর্মন্তুদ শিকার হলো অর্চনা। এ যাবৎ কত অর্চনাকে যৌতুকের জন্য জীবন বলি দিতে হয়েছে এর পরিসংখ্যান মেলালে প্রশ্ন জাগবে সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করা যাচ্ছে না কেন? নারী নির্যাতন রোধে, যৌতুকের বিরুদ্ধে এ সমাজে আন্দোলন ইতিমধ্যে কম হয়নি কিংবা এখনও তা থেমে নেই। নারী নির্যাতন রোধে দেশে কঠোর আইনও রয়েছে। কিন্তু তারপরও নারী নির্যাতনের মতো অভিশাপের অপছায়া আমরা দূর করতে পারছি না। এখনও গণমাধ্যম কিংবা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নারী নির্যাতনের নানামুখী চিত্র প্রায়ই চোখে পড়ে। অর্চনা একটি মাত্র মর্মন্তুদ দৃষ্টান্ত। এ রকম ঘটনার সব খবরই যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত-প্রচারিত হয়, তাও নয়। অন্তরালেও থেকে যায় অনেক ঘটনা। সমাজে-পরিবারে নানাভাবে নারী সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্বের অনেক দেশ থেকে ভিন্ন। এখানে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তারপরও এখানে নারীরা আর্থ-সামাজিক পরিবেশ নানা প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে মজবুত হচ্ছে শ্নথভাবে হলেও। সম্প্রতি নারী নির্যাতনের বিচারের ক্ষেত্রেও অনেকটা গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ঘটনার দ্রুত বিচার হয়েছে এবং এমন দৃষ্টান্ত কখনও কখনও হতাশার মধ্যেও আমাদের আশার আলো দেখায়। কিন্তু এতেই স্বস্তি খুঁজলে চলবে না। এ রকম তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। নারীর জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান, চাকরি ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।
স্বাধীনতা অর্জনের আগে এ দেশে নারী শিক্ষার বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত। কিন্তু এখন অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকারের প্রশ্নে আমাদের অর্জনকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে, তেমনি ক্ষমতায়নেও তাদের অবস্থান আগের চেয়ে ইতিবাচক। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক চিত্র রয়েছে। কিন্তু তারপরও কিছু দিক আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত শ্রেণিতে ফেলে রেখেছে। সামাজিক অবক্ষয়জনিত কারণে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্মান্ধতা আর অশিক্ষার কারণে নারী তার অধিকার ভোগ করা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। নারী শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের অধিকতর আলোকিত করার যে উদ্যোগ রয়েছে, তা আরও দৃঢ়তর করতে হলে ব্যাপকভাবে আমাদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে পালন করতে হবে সামাজিক দায়িত্ব। এ কথা অনস্বীকার্য যে, নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নারী তার সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষ হিসেবে আপন মর্যাদা ও অধিকার আদায়ে এবং শোষণ-বঞ্চনা-নিপীড়ন দূর করার ক্ষেত্রে অনেকখানি সাফল্য অর্জন করেছে। তারপরও প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতা রয়েছে- এই সত্যও এড়ানো যাবে না এবং এসবই দূর করতে দরকার সম্মিলিত প্রয়াস। ধর্ষণ, যৌতুক, সন্ত্রাস, পারিবারিক সহিংসতা এ রকম লাঞ্ছনা ও আক্রমণের পথ রুদ্ধ করতে বিদ্যমান আইনের যেমন যথাযথ প্রয়োগ দরকার, তেমনি দরকার সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো। দেশের নানা আইনও যে কোনো ক্ষেত্রে নারীকে শক্ত আশ্রয় দিতে পারছে না; তার পেছনে রয়েছে এর প্রয়োগে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল কারও কারও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ত্রুটি এবং তাদের এসব বিষয়ে দায়বদ্ধতা কিংবা জবাবদিহির অভাব। দায়বদ্ধতা-জবাবদিহি-আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কল্যাণের জন্য বরাবরই অপরিহার্য বিষয়। এখানে বলতে হচ্ছে, ১৮৫৭ সালে নিউইয়র্কের পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিকদের আন্দোলনের দিনটি অক্ষয় হয়ে আছে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে। বাংলাদেশের কর্মযজ্ঞে নারীদের বিপুল অভিষেক ঘটেছে পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিকদের মাধ্যমেই। প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রা সমাজের এগিয়ে যাওয়ারই সূচক নির্ধারণ করে। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা প্রতিটি জাতীয় নীতিতে নারীর মাত্রাটি ব্যাপকভাবে যাতে যুক্ত রাখতে পারি, তা মনে রাখা দরকার। সরকার, প্রশাসন ও সমাজের দায়িত্বশীলদের সম্মিলিত প্রয়াস ও সার্বিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে নারী নির্যাতনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত-অনভিপ্রেত ঘটনার তালিকা যাতে আর দীর্ঘ না হয়, সেই পথ সৃষ্টিতে আরও সজাগ, সতর্ক ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মনে রাখা দরকার, নারীর সমঅধিকারের দাবি নিছক কথার কথা নয়। সমাজের সুষম বিকাশের স্বার্থেই নারীর সমঅধিকারের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া দরকার। সব ক্ষেত্রে আপন দক্ষতা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই নারী তার অধিকারের পরিপূর্ণ যৌক্তিকতা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। সাহিত্য, শিক্ষা, ক্রীড়াঙ্গন, কর্মক্ষেত্র সর্বত্রই মেধা ও সৃজনশীলতার দীপ্তিছটায় নারী আজ তার আপন মহিমায় অধিষ্ঠিত। নারীর এই স্বোপার্জিত গৌরব ও মহিমাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের দেশ ও সারাবিশ্বের নারী সমাজ বিশ্বব্যাপী নারীর পরিপূর্ণ মুক্তি ও অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের প্রদীপ্ত শপথ গ্রহণ করবে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে অবশ্যই দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ- এ কথাটি পুনর্বার জোর দিয়েই বলি। শুধু দিবস পালনের মধ্যে একটি গর্বিত আন্দোলনের উত্তরাধিকারে বন্দি হয়ে থাকা, এটি কাম্য নয়। আজকের পৃথিবীতে নারীর চোখে বিশ্ব দেখার বিষয় শুধু নয়, নারীর হাতে বিশ্ব পরিচালনার কথাও উঠছে। নারী সমাজে যে অসম অবস্থা রয়েছে তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নানা উদ্যোগ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। অবস্থার উন্নতিও হচ্ছে, তবে তা যাতে আরও গতিশীলতা পায়, লক্ষ্য হওয়া উচিত সেটিই। সমাজে নারী নির্যাতন রোধে যেমন প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধের বিষয়টি আরও বেগবান করা, তেমনি সবক্ষেত্রে নারীর অধিকতর নিশ্চিতকরণে দরকার সবার উদার মনোভাবও। নারী নির্যাতন রোধে একদিকে আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে অধিকার গতিশীল, অন্যদিকে অন্যায়-অপরাধের প্রশ্রয় কোনো মহল থেকেই যাতে না মেলে তাও নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি কথা হলো, নারী নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন নারী শিক্ষার সুযোগের পথটি আরও প্রশস্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া। অর্চনার বিষয়টি দিয়েই শেষ করি। পরিবারের লোকজনের যে লোভ-লালসা-নির্মমতা-নিষ্ঠুরতা-নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী এলাকার অর্চনা রানী সরকার, এর দৃষ্টান্তযোগ্য বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। কঠোর শাস্তি দিতে হবে তার আত্মহত্যার জন্য দায়ী মানুষরূপী পশুদের। শুধু পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন নয়, প্রয়োজনে ফৌজদারি দণ্ডবিধির প্রচলিত আইনে ওই অমানুষদের বিচার করতে হবে। সবশেষে এসে বলব, দূর হোক সব অন্ধকার এবং কণ্টকমুক্ত হোক নারীর যাত্রাপথ।
কথাসাহিত্যিক ও চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি

সিরিয়ায় রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩৯

সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক পরিবহন বিমান দ্য এএন ২৬ বিধ্বস্ত হয়ে ৩৯ জন নিহত হয়েছে। দেশটির উপকূলবর্তী অঞ্চল লাতাকিয়ায় রুশ বিমান ঘাঁটি হামেয়মিমে অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়। দুর্ঘটনার পর ৩২ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
পরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রুশ গণমাধ্যম ৩৯ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করে। রুশ গণমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্স প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায়, বিমানটিতে ৩৩ জন সেনা সদস্য এবং ছয়জন ক্রু ছিলেন। যাদের সবাই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এরমধ্যে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে রুশ কর্তৃপক্ষ মনে করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়। তবে কোনো রকমের হামলার শিকার হয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানায় রুশ বিমান বাহিনী।

বিজেপির সঙ্গ ছাড়ছেন চন্দ্রবাবু নাইডু!

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু দলের দুই প্রতিনিধিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পুরোপুরি এনডিএ জোট ছাড়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চান নাইডু। আজ বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করতে পারেন টিডিপির দুই নেতা দেশটির বেসামরিক বিমানমন্ত্রী অশোক রাজাপতি রাজু ও কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ওয়াই এস চৌধুরী। গতকাল বুধবার অন্ধ্রের পার্লামেন্টে বিজেপির ওপর তাঁর ক্ষোভ ঝাড়েন চন্দ্রবাবু নাইডু। কেন্দ্রীয় সরকার বিমাতাসুলভ আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চন্দ্রবাবু বলেন, ‘আমি ২৯ বার দিল্লি গেছি অন্ধ্রের জন্য প্রাপ্য সুবিধাটুকু আদায়ের জন্য। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’ তেলেগু দেশমের নেতারা জানান, আজই জোট ছাড়ার ঘোষণা না দিলেও নাইডু ছাড়বেন। তাঁরা জানান, নাইডু ধাপে ধাপে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন।
অন্ধ্র প্রদেশের জন্য বিশেষ মর্যাদা চাইছিলেন নাইডু, তবে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তা নাকচ করে দিয়েছেন। অরুণ জেটলি বলেছেন, বিশেষ মর্যাদার বদলে বিশেষ প্যাকেজের মাধ্যমে তা পুষিয়ে দিতে রাজি কেন্দ্র। কিন্তু আবেগের রাজনীতি করলে অর্থ বরাদ্দ বাড়বে না। কেন্দ্রকে সংবিধান মেনে সব রাজ্যের স্বার্থই সমানভাবে দেখতে হবে। না হলে অন্য রাজ্যও একই দাবি জানাবে। অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে আলাদা তেলেঙ্গানা প্রদেশ করা সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ‘বিশেষ মর্যাদা’ পাবে অন্ধ্র। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সেই মর্যাদা পায়নি রাজ্যটি। নতুন অন্ধ্র গড়তে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দে খুশি নন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।

শ্রীলঙ্কায় ফেসবুক-ভাইবার বন্ধ

শ্রীলঙ্কায় ফেসবুক, ভাইবার ও হোয়্যাটস অ্যাপসহ কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের জন্য দেশজুড়ে এসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ রাখা হবে। আজ বুধবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার টেলিকমিউনিকেশনস রেগুলেটরি কমিশনের (টিআরসি) কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকানোর জন্য দেশটির সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার মুখপাত্র রাজিথা সেনারত্নে বলেন, সোশ্যাল মেসেজিং নেটওয়ার্কগুলো বন্ধ করার জন্য সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। তিনি আরও জানান, মুসলিমদের ওপর হামলা চালানোর জন্য ফেসবুকে কিছু উসকানিমূলক পোস্ট দেখার পর সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে টিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ফেসবুক, ভাইবার ও হোয়্যাটস অ্যাপ ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার কথা সব গ্রাহককে জানাবেন টিআরসির মহাপরিচালক।’
শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডি গত রোববার অশান্ত হয়ে ওঠে। ওই সময় মুসলমানদের বিভিন্ন দোকানে হামলা চালানো হয়। গত সোমবার ক্যান্ডিতে বৌদ্ধ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর গতকাল শ্রীলঙ্কায় ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এরপরই শহরের রাস্তায় নামে সশস্ত্র পুলিশ কমান্ডো। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যেসব শহরে দাঙ্গা হয়েছে, সেগুলোর রাস্তায় পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের শতাধিক কমান্ডো মোতায়েন রয়েছে। দাঙ্গায় এখনো পর্যন্ত দুজন নিহত এবং অনেক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কারণ দেখিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই এবং যারা এর পেছনে রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

সু চির পদক ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন দমনে তেমন পদক্ষেপ না নেওয়ায় দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক মানবাধিকার পদক প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম। গতকাল বুধবার মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এক চিঠিতে বলে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি দেশটির সেনাবাহিনীর ‘গণহত্যার পক্ষে পাহাড় সমান প্রমাণ’ থাকার পরও সু চির নিষ্ক্রিয়তার কারণে মিউজিয়াম এই পদক ফিরিয়ে নিল।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের নৃশংসতার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটনের এই জাদুঘর। মিয়ানমারে ‘গণতন্ত্রপন্থী’ নেত্রী হিসেবে পরিচিত সু চিকে ২০১২ সালে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে সম্মানজনক এলি ওয়াইজেল পদক দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া এলি ওয়াইজেলের নামে এই পদকের নাম করা হয়। তাঁকে প্রথম এই পদক দেওয়া হয়েছিল। জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি ব্যয় করেছেন মানবাধিকার আন্দোলনে। ১৯৮৬ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।
তিনি ছিলেন এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। সু চিকে এক চিঠিতে মিউজিয়াম লিখেছে, ‘২০১৬ ও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের প্রতি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনায় আমরা আশা করেছিলাম আপনি (সু চি) এর নিন্দা জানাবেন এবং সেনাবাহিনীর এই বর্বর এই নির্যাতন অভিযান দমন করবেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবেন।’ এর বদলে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি এ ঘটনায় তদন্তকাজে জাতিসংঘকে সহায়তা করাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং রোহিঙ্গাবিরোধী তৎপরতায় ইন্ধন জুগিয়েছে। এমনকি দলটি সাংবাদিকদের সেখানে গিয়ে খবরও সংগ্রহ করতে বাধা দিয়েছে। গত নভেম্বরে মিউজিয়াম ও দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস মিয়ানমারের মাঠপর্যায় থেকে যেসব তথ্য পেয়েছে, সেখানে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের প্রতি ব্যাপক ও সংঘবদ্ধ নির্যাতন চালানো হয়েছে। এর ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ত্রিপুরার নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি কী? by আলতাফ পারভেজ

এক. ভারতের জাতীয় কংগ্রেস সম্পর্কে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় একটা ধারণা রয়েছে যে দলটির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সমর্থক ভিত্তি সেক্যুলার ধাঁচের এবং বিজেপির হিন্দুত্ববাদের রাজনীতির বিপক্ষে এটাই ভারতবাসীর (এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারও) ভরসা। ভারতের প্রগতিশীল সমাজের একাংশ বরাবরই এই ধারণার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে থাকেন। কিন্তু তাতে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে কংগ্রেসের ওই ইমেজের ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে সম্প্রতি ত্রিপুরার নির্বাচনী পরিসংখ্যান কংগ্রেসের ওই ঐতিহাসিক সেক্যুলার আবেদন ও ইমেজকে মোটাদাগে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে; যা দেশটিতে জাতীয়ভাবে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপিকে প্রতিরোধের লক্ষ্যে জোট গঠনের মরিয়া চেষ্টাকেও বড় মুশকিলে ফেলেছে। ছোট্ট ত্রিপুরার নির্বাচনী ফলের তাৎক্ষণিক এবং বৃহৎ প্রতিক্রিয়া পড়েছে ভারতজুড়ে। তারই চুম্বক অংশটুকু এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।
দুই. অনেকেই জানেন, ভারতে সাধারণভাবে পাঁচ বছর পরপর রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন হয়। ত্রিপুরায় ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল প্রদত্ত ভোটের ৩৭ শতাংশ (আট লাখ চার হাজার)। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ভোট পায় প্রদত্ত ভোটের ৩৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ (৬ লাখ ৮৪ হাজার)। এই দুই নির্বাচনী ফল থেকে এটা স্পষ্ট, ত্রিপুরায় কংগ্রেসের মোটামুটিভাবে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য হলো এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছে প্রদত্ত ভোটের ১ দশমিক ৮ শতাংশ মাত্র (৪১ হাজার ভোট)। স্বভাবত প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ রাতারাতি এই রাজ্যে কংগ্রেসের ভোটব্যাংক কোথায় উধাও হলো। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের যেতে হবে বিজেপির ভোটের পরিসংখ্যানে।
তিন. যদিও ত্রিপুরায় ২০১৮-এর আগে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির কোনো প্রার্থী কখনো জেতেনি কিন্তু বহুকাল ধরেই তারা সেখানে নির্বাচন করে যাচ্ছে। ২০০৮-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীরা পান প্রদত্ত ভোটের ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ (২৮ হাজার ভোট)। ২০১৩ সালের নির্বাচনে একই দল পায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট (৩৩ হাজার ৮০৮)। অর্থাৎ রাজ্যে দলটির ভোটব্যাংক এক লাখের নিচে ছিল বরাবর। কিন্তু ২০১৮ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে তারা পেল প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট (১০ লাখ)! অর্থাৎ বিজেপির ভোট যখন ত্রিপুরায় এক লাখ থেকে দশ লাখে উঠছে (এর মধ্যে কিছু ভোট রয়েছে আদিবাসীদের), ঠিক তখনই কংগ্রেসের ভোট ৭-৮ লাখ থেকে ৪১ হাজারে নেমে আসছে। এই দুই দলের ভোটের এই অবিশ্বাস্য উত্থান-পতনের রহস্যটি অনুমান করা কঠিন নয়। তবে পাঠককে সেই অনুমানে সাহায্য করার জন্য আমরা পরিসংখ্যানের আরও নিবিড় চিত্র বিশ্লেষণে যাব। যাতে উল্লিখিত রহস্যটি একেবারেই রহস্যমুক্ত হয়ে যাবে।
চার. ত্রিপুরায় এবার যে ৫৯টি বিধানসভা আসনে ভোট হয়েছে, তার একটি হলো পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বামুতিয়া আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন হরিচরণ সরকার। তিনি ভোট পান ১৭ হাজার ৩২৪। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের প্রকাশ চরণ দাস ভোট পান ১৪ হাজার ৯৪৪। সিপিএম প্রার্থী জেতেন ২ দুই হাজার ৪০০ ভোটে।একই আসনে ২০১৩ সালের ভোটে সিপিএম প্রার্থী ছিলেন যথারীতি হরিচরণ। আর কংগ্রেসেরও প্রার্থী ছিলেন যথারীতি প্রকাশ চরণ। এবারও হরিচরণ জিতেন। তিনি ভোট পান ১৯ হাজার ৭৪৪। আর কংগ্রেসের প্রকাশ চরণ পান ১৬ হাজার ৯৯৪। লক্ষণীয়, কংগ্রেসের যে নির্দিষ্ট দৃঢ় ভোটব্যাংক রয়েছে, তা স্পষ্ট। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেখা যায়, সিপিএমের হরিচরণ দাসের ১৯ হাজার ৪২ ভোটের বিপরীতে কংগ্রেসের স্বপনানন্দ দাস পেয়েছেন মাত্র ৪০২ ভোট। কিন্তু বিজেপির কৃষ্ণচন্দ্র দাস পেয়েছেন ২০ হাজার ১৪ ভোট। অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার। অর্থাৎ সিপিএমের ভোটব্যাংক এ আসনে অক্ষুণ্নই ছিল। কেবল কংগ্রেসের ভোটগুলো প্রায় পুরোটাই গিয়ে বিজেপির মার্কায় পড়েছে। বামুতিয়ার কেসস্টাডিটি আমরা দৈবচয়ন আকারেই নিয়েছিলাম এবং বামুতিয়ার এই চিত্র ত্রিপুরার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না এবার। আগরতলার খয়েরপুর আসনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিচ্ছি। সেখানে এবার বিজেপির রতন চক্রবর্তী পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪৯৬ ভোট (প্রদত্ত ভোটের ৫৭ শতাংশ)। কংগ্রেসের সুখময় সাহা পেয়েছেন ৪৮২ ভোট (প্রদত্ত ভোটের ১ শতাংশ!)। আর সিপিএম পেয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ ভোট (প্রদত্ত ভোটের ৪১ শতাংশ)। এই একই আসনে গত নির্বাচনে কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল ১৯ হাজার ৬৭৫ এবং বিজেপি পেয়েছিল ৬৯৮ ভোট। লক্ষণীয়, সিপিএমের ভোট প্রায় অপরিবর্তিতই আছে (২০,৯৭২)। কিন্তু কংগ্রেসের পুরো ভোট বিজেপির দিকে গেছে।
পাঁচ. ত্রিপুরার নির্বাচনী এসব পরিসংখ্যানের পুরোটাই নেওয়া হয়েছে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ডেটা ব্যাংক থেকে। এসব পরিসংখ্যান স্পষ্ট সাক্ষী দিচ্ছে, ত্রিপুরায় বিজেপির বিজয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। অথচ জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস নিজেকে যেকোনো মূল্যে হিন্দুত্ববাদ ও মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের চ্যাম্পিয়ন শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর। আর কংগ্রেসের এই চেষ্টার পরিণতিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তার রয়েছে ভিন্ন এক ভাবমূর্তি। কিন্তু ত্রিপুরার নির্বাচনী পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের কংগ্রেস সমর্থকদের মৌলবাদ ও হিন্দুত্ববাদবিরোধী অঙ্গীকারের আদর্শিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। পাশাপাশি উপরিউক্ত পরিসংখ্যান এ-ও বলছে, ভারতীয় প্রভাবশালী মিডিয়াগুলো যেভাবে প্রচার করছে যে কর্মসংস্থান সংকটের কারণে দলে দলে সিপিএম সমর্থক তরুণেরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তা-ও মূল সত্যকে আড়াল করছে মাত্র। সিপিএম এবারের এই ভূমিধসেও যে আসনগুলো রক্ষা করতে পেরেছে, সব কটি প্রান্তিক গরিব এলাকা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসন। এ ছাড়া প্রদত্ত ভোটে সিপিএমের গড় হিস্যা মাত্র ৪ শতাংশ কমেছে এবং ওপরে বামুতিয়া এবং খয়েরপুরের যে কেসস্টাডি তুলে ধরা হয়েছে, তাতে সিপিএমের ভোট আগের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত থাকতেই দেখা গেছে।
পুনশ্চ
ত্রিপুরায় কংগ্রেসের এই আত্মসমর্পণ বা রহস্যময় ভূমিকা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস-সিপিএম জোট গঠনের সম্ভাবনা এ কারণেও দুরূহ করে তুলবে। ত্রিপুরায় কংগ্রেসের এই আত্মসমর্পণ বা রহস্যময় ভূমিকা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস-সিপিএম জোট গঠনের সম্ভাবনা এ কারণেও দুরূহ করে তুলবে। এর কারণ ত্রিপুরার সিপিএম নেতা মানিক সরকার দলের কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ কারাতের একটি মতের দৃঢ় সমর্থক। সেই মতটি হলো, বিজেপির মতোই কংগ্রেসকেও একইভাবে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। স্বভাবত কংগ্রেস সিপিএমকে যেভাবে হারিয়েছে, তা মানিক সরকার-প্রকাশ কারাত জোটকে ক্ষুব্ধ করেছে।
আলতাফ পারভেজ: দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ের গবেষক

ফোনটি বন্ধ থাকবে ৪৭ বছর!

দুই বছর বয়সের শিশু খেলাচ্ছলে লক করে ফেলেছে তার মায়ের আইফোন।
তা-ও আবার ৪৭ বছরের জন্য!
চীনের সাংহাইয়ে গত জানুয়ারি মাসে এ ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা আইএএনএসের খবরে বলা হয়েছে, মায়ের আইফোন নিয়ে খেলছিল শিশুটি। আইফোনের লক খোলার জন্য বারবার ভুল পাসওয়ার্ড দিচ্ছিল সে। একপর্যায়ে আড়াই কোটি মিনিটের জন্য লক হয়ে যায় ওই ফোন। ওই শিশুটির মায়ের নাম লু। বাড়িতে ফিরে তিনি তো অবাক। কিছুতেই খুলতে পারছেন না আইফোন। পরে দেখেন কত মিনিটের জন্য লক হয়েছে ফোনটি। এরপরই ফোনটি সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যান লু। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, প্রত্যেকবার ভুল পাসওয়ার্ড দিলে আইফোন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এবার ভেবে দেখুন ওই দুই বছরের শিশুটি কতবার ভুল পাসওয়ার্ড দিয়েছিল! সাংহাইয়ের একটি অ্যাপল স্টোরে আইফোনটি নিয়ে গিয়েছিলেন লু। সেখানকার কারিগরেরা জানান, হয় ফোনটি খোলার জন্য ৪৭ বছর অপেক্ষা করতে হবে, নতুবা ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলে নতুন করে সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে। সেখানকার অ্যাপল স্টোরের এক কর্মী ওয়েই চুনলং বলেন, ‘এই মক্কেলের ক্ষেত্রে, অপেক্ষার বদলে একমাত্র পথ হচ্ছে ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলা ও ফ্যাক্টরি রিসেট দিতে হবে।’
চুনলং আরও জানিয়েছেন, একই পদ্ধতিতে ৮০ বছরের জন্য আইফোন লক হয়ে যাওয়ার ঘটনাও আগে ঘটেছে। লু জানিয়েছেন, শিক্ষামূলক ভিডিও চিত্র দেখার জন্য ছেলের হাতে আইফোন দিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে। ফোনটি অন্য পদ্ধতিতে ঠিক করার জন্য দুই মাস অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো উপায় বের হয়নি। লু বলেন, ‘৪৭ বছর অপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তা করতে পারলে হয়তো নাতি-নাতনিকে বলতে পারতাম যে এটি তোমাদের বাবার দোষ।’ হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই আইফোনে এ ধরনের ফিচার যুক্ত করেছে অ্যাপল। সাধারণত টানা ছয়বার ভুল পাসওয়ার্ড দিলে আইওএস ডিভাইস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আবার টানা ১০ বার একই ভুল করলে ওই ডিভাইসের সব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার একটি ফিচারও রেখেছে অ্যাপল।

যুক্তরাজ্যে জোর করে বিয়েতে বাংলাদেশিরা দ্বিতীয়

যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জোরপূর্বক বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশিরা। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তর প্রতিমন্ত্রী হ্যারিয়েট বল্ডউইনের দেওয়া তথ্য থেকে বিষয়টি জানা যায়। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশটির ফোর্সড ম্যারেজ ইউনিট (জোরপূর্বক বিয়ে দমন কর্তৃপক্ষ) বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৮৪টি অভিযোগ মোকাবিলা করেছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক লিখিত প্রশ্নে লেবার-দলীয় এমপি টিউলিপ সিদ্দিক পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের কাছে জানতে চান, ২০১০ সাল থেকে জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ আসা ঘটনাগুলো কোন কোন দেশের সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত অভিযোগগুলোর সংখ্যাও জানতে চান তিনি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী বল্ডউইন জানান, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ‘ফোর্সড ম্যারেজ ইউনিট’ বিয়ের মোট ৯ হাজার ৬১৮টি অভিযোগ মোকাবিলা করেছে। এসব অভিযোগ ৮৫টি দেশের সঙ্গে যুক্ত। শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭১৪টি ঘটনা, যা মোট অভিযোগের ৪৯ শতাংশ। পাকিস্তানের পরই রয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত মোট অভিযোগের সংখ্যা ৮৮৪টি, যা মোট অভিযোগের ৯ দশমিক ২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতের সঙ্গে যুক্ত ৭৩৬টি ঘটনা। এরপর আছে আফগানিস্তান ও সোমালিয়া। দেশ দুটির সঙ্গে যুক্ত অভিযোগের সংখ্যা যথাক্রমে ২১২ ও ১৮১টি। কনজারভেটিভ-দলীয় রাজনীতিক হ্যারিয়েট বল্ডউইন আরও জানান, ১ হাজার ৪৯টি অভিযোগের ক্ষেত্রে ভিনদেশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে সন্তানদের নিজ দেশে নিয়ে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা আছে। অনেক ক্ষেত্রে পাত্র বা পাত্রীর অমতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই অমতে বিয়ে দেওয়াকে বলা হচ্ছে ‘জোরপূর্বক বিয়ে’। জোরপূর্বক বিয়ে ঠেকাতে ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্য সরকার ‘ফোর্সড ম্যারেজ ইউনিট’ গঠন করে। দেশে দেশে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাজ্যের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমেও এই ইউনিট ব্রিটিশ নাগরিকদের জোরপূর্বক বিয়ে ঠেকাতে কাজ করে। এমন বিয়ের ভয়াবহ পরিণতির কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্য সরকার জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়াকে ফৌজদারি অপরাধ আখ্যা দিয়ে আইন পাস করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘গলার কাঁটা’

দায়িত্ব নেওয়ার মাস কয়েকের মাথায় গত বছরের আগস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগান যুদ্ধের কৌশল ঘোষণা করেন। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে একসময় ট্রাম্পকে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল। অথচ সেই তিনিই নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে দেশটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি দীর্ঘায়িত করার সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনারা জয়ের জন্য লড়বে। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের জয় কবে আসবে, কীভাবে আসবে, আদৌ আসবে কি না—সে প্রশ্ন রয়েই যায়। আর এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর খোদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও নেই। আসলে আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। না পারছে সইতে, না পারছে ছাড়তে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসের নিরাপদ স্বর্গ সমূলে উৎপাটনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নতুন, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক আফগানিস্তানের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আফগান যুদ্ধ আজও শেষ করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং তারা তাদের ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ লড়ে চলছে। খরচের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ সবচেয়ে ব্যয়বহুল। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বেশ জটিল। দেশটির গণতন্ত্র নড়বড়ে। সরকার দুর্বল। প্রতিষ্ঠান নাজুক। দুর্নীতি সর্বত্র। সুশাসন সুদূর পরাহত। সেনা, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সক্ষমতা সীমিত। দেশটিতে তালেবান ফুলেফেঁপে উঠছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে আইএস। মার্কিন সেনাবাহিনীও স্বীকার করেছে, আফগানিস্তানে তালেবানসহ অন্যান্য উগ্রবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। বাড়ছে রক্তক্ষয়ী হামলা। আমেরিকা আফগানিস্তানে ঠিক কী করছে, তার সহজ-সাপটা উত্তর নেই। আবার যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ করবে, তার রূপরেখাও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প যখন ক্ষমতা নেন, তখন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনার সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে আট হাজার। এখন তা বেড়ে ১৪ হাজার। ২০১৮ সালে আফগানিস্তানে আরও মার্কিন সেনা পাঠানোর কথা। এই বসন্তে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৫ হাজারে উন্নীত হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তানে যতই মার্কিন সেনা পাঠানো হোক না কেন, তাতে অবস্থার খুব একটা বদল হবে না। ট্রাম্পের আফগান যুদ্ধ কৌশল যথারীতি ব্যর্থ হবে বলে অনেকে আগাম মত দিয়ে রেখেছেন। আফগান যুদ্ধ জয়ের ব্যাপারে ট্রাম্পের চেয়েও বেশি আশাবাদী তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। আফগানিস্তান সফরে গিয়ে তিনি ফুরফুরে মেজাজে বলেছিলেন, ট্রাম্পের নতুন ‘ফাইট টু উইন স্ট্র্যাটেজি’ ফলপ্রসূ হবে। বিজয় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সন্নিকটে। ট্রাম্পের আফগান যুদ্ধ কৌশল ঘোষণার পর নতুন বছরেও দেশটিতে মার্কিন সেনা নিহত হচ্ছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ মার্কিন সেনা আফগানিস্তানে নিহত হয়েছে। আহত প্রায় ২০ হাজার। আফগানিস্তানে শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার আগেই সতর্ক করে বলেছেন, আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের জন্য ২০১৮ সাল হবে এক বিপজ্জনক বছর। আফগানিস্তানে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে এক দিকে লাশ গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে পকেট থেকেও বিপুল ডলার খসছে। মাসে যাচ্ছে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি অনেকটা আকস্মিকভাবে তালেবানকে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে আফগান সরকার। তালেবানকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। এই প্রেক্ষাপটে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির প্রস্তাবটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই নরম সুর আফগানিস্তানে তাদের পলায়নপর নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।

ভুয়া চিঠিতে দিঘি বেহাত

একটি ভুয়া চিঠি দেখিয়ে নাটোরের রানি ভবানীর ঐতিহ্যবাহী জয়কালী দিঘি যেভাবে বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে তা শুধু নিন্দনীয় নয়, গর্হিত অপরাধ। গত সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক চিঠি অনুযায়ী নাটোর আধুনিক মৎস্য চাষ প্রকল্প লিমিটেডের পরিচালক গোলাম নবীকে ৩০ বছরের জন্য ‘অকৃষি খাসজমি’ হিসেবে দিঘিটির বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে’ মাছ চাষ করতে গোলাম নবী এই দিঘির বন্দোবস্ত নেন। কিন্তু পরে এক তদন্তে দেখা যায় যে চিঠিটিই ভুয়া। ভূমি মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো চিঠি ইস্যু করেনি। প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, রানির দিঘির বন্দোবস্তের খবরে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার ২০১০ সালে বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে পত্র দেন। তখন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয়। এই চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে গোলাম নবী আদালতে একটি রিট আবেদন করলে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন। এদিকে চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন দিঘিটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। তখন মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
ওই কমিটির জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে রিটের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন এবং সরকারি সম্পত্তি বেহাত প্রক্রিয়ায় সহায়তার ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দলিল বাতিলের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে বলা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দিঘি বন্দোবস্ত বিধিসম্মত হয়নি। এতে সরকারের ১ কোটি ২৬ লাখ ৯ হাজার ৫১২ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, গোলাম নবী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই দিঘি নিজের নামে বন্দোবস্ত নিয়েছেন। এখানে বড় ধরনের অর্থের লেনদেন হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। কিছু লোভী মানুষের জন্য এমন একটি দিঘির বেহাত হওয়া কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। জয়কালী দিঘিটি নাটোরের ঐতিহ্য। পৃথিবীর বহু দেশ থেকে লোকজন এখানে দিঘিটি দেখতে আসে। আমরা মনে করি, সরকারিভাবে এই দিঘিটি সংরক্ষণ করা উচিত, যা পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় হতে পারে। তদন্ত কমিটির পরামর্শ অনুযায়ীই ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে কাজ করতে হবে। যে চিঠি দেখিয়ে গোলাম নবী দিঘি নিজের নামে বন্দোবস্ত নিয়েছেন, তা ভুয়া হলে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। দিঘি বন্দোবস্ত বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপকর্ম করতে সাহস না পায়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটির প্রাক্কালে ৭ মার্চ প্রথম আলোয় বাল্যবিবাহ ও গণপরিবহনে নারী নিগ্রহ নিয়ে যে দুটি খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। সারা পৃথিবীতে যখন বাল্যবিবাহের হার কমেছে, তখন বাংলাদেশে বেড়েছে। ইউনিসেফের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ৫৯ শতাংশ। সারা বিশ্বে আমাদের অবস্থান চতুর্থ আর সংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের পরই দ্বিতীয়। সরকারের পক্ষ থেকে ইউনেসকোর হিসাবকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবি, বাল্যবিবাহের হার ৫২ শতাংশের বেশি হবে না। হারের কম-বেশির চেয়েও এখানে যে বিষয়টি আমাদের বিচলিত করে, তা হলো বিয়ের বয়স নিয়ে সরকারের লুকোচুরি। এমনকি বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বয়সের সীমারেখা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছি এবং এখনো করছি। কোনো অবস্থায় বিয়ের বয়স আঠারোর নিচে হতে পারবে না। দ্বিতীয় খবরটি হলো গণপরিবহনে ৯৪ শতাংশ নারীই যৌন নিপীড়নের শিকার। সামাজিক কারণে অনেকে আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পায় না। এর আগে খবর বের হয়েছিল, ৮৭ শতাংশ নারী ঘরে নিগ্রহের শিকার হয়ে থাকে। নিকটজন পুরুষের দ্বারাই তারা নিগৃহীত হয়ে থাকে। এই যখন বাস্তবতা, তখন আমরা দাবি করতে পারি না যে সমাজে নারীর নিরাপত্তা আছে, তারা সমানাধিকার ভোগ করছে। সমাজে নারীরা প্রায় সব ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। সংবিধান নারী-পুরুষের সমানাধিকার স্বীকার করলেও পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইন সেই সুযোগ অনেকটাই রহিত করে দিয়েছে। বর্তমান সরকার নারী উন্নয়ননীতি ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। বরং যে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিরোধিতা করেছিল, ইদানীং তাদের সঙ্গে সরকারের সখ্য লক্ষ করা যাচ্ছে।
সরকারের এই পশ্চাৎপদ অবস্থান বাংলাদেশে নারীদের আশা জাগায় না, শঙ্কিত করে। অস্বীকার করা যাবে না যে গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদেও তারা অধিষ্ঠিত। স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে। কিন্তু আমরা যদি ঘরে-বাইরে তাদের নিরাপত্তাই দিতে না পারি, তাহলে এই সংখ্যা বৃদ্ধি কিংবা রাজনীতির শীর্ষ পদে নারীর অবস্থান দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে না। প্রতিবছরই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একটি প্রতিপাদ্য থাকে। চলতি বছরের প্রতিপাদ্য হলো, ‘প্রগতিকে দাও গতি’। অন্যদিকে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফুমজিলে ম্লামবো এনগুকা তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘টাইম ইজ নাউ: রুরাল অ্যান্ড আরবান অ্যাকটিভিস্টস ট্রান্সফর্মিং উইমেনস লাইভস’। অর্থাৎ নারীর জীবন বদলে দিতে গ্রাম ও শহরের স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসার এখনই সময়। এসব স্লোগান কেবল মুখে আওড়ালে হবে না, হৃদয় ও মননে ধারণ করতে হবে। নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের অন্ধত্ব, অনাচার ও কূপমণ্ডূকতা থেকে সমাজকে মুক্ত করার জন্য চাই সাংস্কৃতিক জাগরণ। নিরন্তর অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সমাজকে এমন স্তরে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে নারী-পুরুষের কোনো বৈষম্য থাকবে না। নারী নিজেকে অসহায় বা দুর্বল ভাববে না। সবশেষে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে চাই, নারীকে আপন ভাগ্য গড়ে তোলার সুযোগ দিতে হবে। কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ সেই অর্ধেক নারীকে পেছনে ফেলে কোনো সমাজ বা দেশ এগোতে পারে না। আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব নারীর প্রতি আমাদের অভিবাদন।

আমরা স্তম্ভিত ও ব্যথিত by সুলতানা কামাল

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, রাজনীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তার দৃশ্যমানতা ও বিচরণ যেমন বিস্মিত করে সারা বিশ্বকে, তেমনি স্তম্ভিত ও ব্যথিত হতে হয় এ দেশের নারী নির্যাতনের হার, ব্যাপকতা ও কখনো কখনো নৃশংসতায়। প্রায়ই এ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যে বাংলাদেশে নারীরা আসলে কতখানি অগ্রগতির স্বাদ পেয়েছেন? অনুমানের ওপর ভরসা না করে যদি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বলা যায়, দেশের প্রধান নির্বাহী থেকে শুরু করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে নারী সমাসীন। উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন নারীরা; প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য-সর্বত্রই নারীর উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত। এমন দেশে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বা অগ্রসরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়ে গেল কেন? ওপরের চিত্রের পাশাপাশি যদি দেখতে হয় যে বাংলাদেশে ৮৭ শতাংশ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন, ৯২ শতাংশ নারী গণপরিবহনে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন, বাল্যবিবাহের হার এখনো ৫০ শতাংশের ওপরে রয়ে গেছে, তাহলে এ প্রশ্নের যৌক্তিকতা নিয়ে কথা তোলা যায় না। যে প্রশ্নটি ঘুরে ঘুরে আসে তা হলো, নারীর অবস্থানে এই বৈপরীত্য কেন? এর নানা রকম ও নানা মাত্রার কারণ দর্শানো যায়। তবে অন্যতম কারণ হচ্ছে, নারীর ওপর নির্যাতনকে নির্যাতন বলে অথবা একটি অপরাধ বলে মেনে না নেওয়ার পুরুষতান্ত্রিক মনোভঙ্গির প্রভাব, যা আমাদের বিচারব্যবস্থাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এর ফলে সমাজে নারী নির্যাতন একটি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে এবং অভিযুক্ত বা অপরাধীর শাস্তি হচ্ছে না বলে অপরাধ হ্রাসের কোনো কার্যকর পরিস্থিতি আমরা তৈরি করতে পারছি না। যে নারীরা পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন অথবা যাঁদের গণপরিবহনে হয়রানি বা নির্যাতন করা হচ্ছে, এই নারীরাই তোঅগ্রগামী, ক্ষমতায়িত নারীর পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছেন। তাই অনেক সংখ্যায় আপাতক্ষমতায়িত নারীদের দেখে আমরা বাংলাদেশে নারী অগ্রগতির একটি চিত্র আঁকছি। সেই চিত্রের কিছু অংশ কিন্তু আমাদের কাছে পূর্ণ সত্যটি তুলে ধরছে না। এর পেছনের কারণ, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বা আন্তরিকতার সঙ্গে নির্মূল করার জন্য যে আইনকানুন, প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, তার অনুপস্থিতি। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, নারীর ওপর যে নির্যাতন হয়, তার অধিকাংশই প্রকাশিত হয় না। সংবাদ হিসেবে যে নির্যাতনের ঘটনার কথা আমরা জানতে পারি, তার সব কটির অভিযোগ হয় না, অভিযোগ পাওয়া সব ঘটনার মামলা হয় না।
তার চেয়েও বড় কথা, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যে ঘটনাগুলোকে মামলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তার বিচারের চিত্র অত্যন্ত করুণ ও হতাশাব্যঞ্জক। নারীর অভিযোগে মামলা গ্রহণে অনীহা, মামলা নিলে তদন্তে গাফিলতি বা ভুল, প্রযোজ্য নয় এমন ধারায় মামলা দায়ের করা, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ ও আদালতে উপস্থাপন করায় ত্রুটি, সাক্ষী হাজির না করা, সরকারি কৌঁসুলিদের আন্তরিকতার অভাব, কখনো কখনো দুর্নীতি-এ সবকিছু নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, যৌন পীড়ন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা-এসব অত্যন্ত গর্হিত, ভয়ানক অপরাধের জন্য যতটা মামলা হয়েছে, তার ৩ শতাংশের কম ক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি হয়েছে। ৫০ শতাংশের অধিক অভিযুক্ত ব্যক্তি খালাস পেয়েছেন বলে তথ্য আছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিযুক্ত ব্যক্তি অব্যাহতি পেয়ে যান। যাঁদের শাস্তি হয়, নানা বিচারিক প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে তাঁরা নির্যাতিতকে আবারও বিপদগ্রস্ত করেন, এমন দৃষ্টান্তও বিরল নয়। অনেক মামলা ভুল ধারায় দায়ের করায় সেগুলো ভুয়া প্রতিপন্ন হয়, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপসের কথাও শোনা যায়। এ সবকিছু মিলে নারীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার শুধু উপেক্ষিত নয়, প্রকারান্তরে অস্বীকৃতই থেকে যায়। তাই অনেক নতুন নতুন আইনকানুন, প্রক্রিয়াগত সংস্কার, নানা ব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও নারী নির্যাতনের হার ও ভয়াবহ প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে এই ব্যবস্থার যে প্রান্তে যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন, প্রত্যেককে তাঁর দায়িত্ব আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে পালন করা নিশ্চিত করতে হবে। যে কেউ এর যেকোনো পর্যায়ে গাফিলতি, দুর্নীতি বা অদক্ষতার পরিচয় দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে জবাবদিহির সম্মুখীন করতে হবে এবং তাঁর প্রাপ্য শাস্তি দিতে হবে। নারী নির্যাতন বন্ধ করা যে শুধু নারীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য নিশ্চিত করতে হবে তা নয়, এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার, যা আমরা ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের আখরে লিপিবদ্ধ করেছি।
সুলতানা কামাল: মানবাধিকারকর্মী

সক্রিয় হওয়ার এখনই সময় by সালমা খান

টিআইবির সাম্প্রতিক জরিপে দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ দুই ধাপ এগিয়েছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪৫ তম অবস্থান থেকে ১৪৩ তম অবস্থানে পৌঁছেছে। এ তথ্য কিছুটা সুবাতাসের পরশ দিলেও দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা এখনো উদ্বেগজনক, যা সুশাসনের ঘাটতি ও ন্যায্যতার সংকট সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে। এখনো দেশে ধনী-দরিদ্রের ও নারী-পুরুষের মধ্যে রয়েছে বিরাট বৈষম্য। লিঙ্গবৈষম্যের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জীবন মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে। সেখানে নারী দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মাথাপিছু গড় আয় বা আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের তত্ত্ব দিয়ে জনগণের প্রাপ্যতা বিচার করা যায় না। বাংলাদেশে ৬৫ শতাংশ জনগণ গ্রামাঞ্চলে বাস করে, তারা সরকারের নারী উন্নয়নের নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে একদিকে যেমন লিঙ্গবৈষম্য নিরসনের আদর্শগত ও বাস্তব সুবিধাভোগে বঞ্চিত, অন্যদিকে নগরায়ণের কারণে শহুরে জনগণ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের মাধ্যমে সম্ভাবনা বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করতে কিছুটা সক্ষম। এই অবস্থা নিরসনের জন্য আমাদের শুধু লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণের ওপর গুরুত্ব দিলে চলবে না, সেই সঙ্গে শ্রেণিবৈষম্য, ধনী-দরিদ্রের সমতা স্থাপন না করতে পারলে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়া সম্ভব নয়। স্বাধীনতার চার দশকে, বিশেষত নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের যে অর্জন, তা বহুলাংশে ক্ষীণ হয়ে আসছে লিঙ্গবৈষম্য ও শ্রেণিবৈষম্যের কারণে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে মানব উন্নয়ন সূচকে যথা নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি ইত্যাদিতে অগ্রগামী বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং এসবই সম্ভব হয়েছে নারীর প্রত্যক্ষ অবদানের মাধ্যমে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশে নারী নির্যাতন বেড়ে চলেছে, বাল্যবিবাহে চতুর্থ অগ্রগামী দেশ বাংলাদেশ। যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, সহিংসতা যদিও সব নারীর জীবনে এক বিরাট হুমকিস্বরূপ, তবু সিংহভাগ গ্রামীণ নারী এ ধরনের নিগ্রহের শিকার, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রসমূহ কর্তৃক ২০১৫ সালে গৃহীত এসডিজি তথা টেকসই উন্নয়নের ১৭টি অভীষ্ট লক্ষ্য ও ১৬৯টি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জিডিপি প্রবৃদ্ধির মাপকাঠিতে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলেও বিগত দুই বছরের মানবিক উন্নয়ন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি দেশে। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, যেখানে দেশের সিংহভাগ জনগণ বাস করে, সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার অতি নগণ্য, যা গ্রামীণ দারিদ্র্যকে আরও প্রকট করে তোলে। গ্রামাঞ্চলের সুষম উন্নয়নের জন্য সরকারের যথাযথ নীতির অভাব, সেই সঙ্গে সুশীল সমাজ ও অ্যাকটিভিস্টদের অঙ্গীকারের অভাব গ্রামীণ দারিদ্র্যকে আরও প্রকট করে তুলেছে। দেশে দুর্নীতির সূচকে সামান্য অগ্রগতি হলেও সামগ্রিক বিচারে প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত হয়নি।
২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে শুধু লিঙ্গ-সমতা স্থাপনই যথেষ্ট নয়; সেই সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বিশেষত গ্রামীণ দারিদ্র্য মুক্তির পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, তাতে ব্যাপক অবদান রয়েছে গ্রামীণ নারীর, বিশেষত কৃষিক্ষেত্রে এবং মজুরিবিহীন শ্রমদানের মাধ্যমে, যা সিপিডির পরিচালক ফাহমিদা খাতুন তাঁর গবেষণায় তুলে ধরেছেন। নারীর প্রতি লিঙ্গবৈষম্য ও শ্রেণিবৈষম্য নিরসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই। এখনই সময় ক্ষমতাহীন নারীকে ক্ষমতায়িত করার—এ কথা বিশ্ব নারী দিবসে এ বছরের প্রতিপাদ্যে মূর্ত হয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বিশ্ব নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা স্থাপন; প্ল্যানেট ৫০: ৫০ এবং এই প্রক্রিয়াকে উজ্জীবিত করা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের বিশ্ব নারী দিবসের একটি প্রতিপাদ্য হলো ‘প্রেস ফর প্রগ্রেস’, যা বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে ‘প্রগতিকে দাও গতি’। আর জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও ইউএন উইমেন ফর ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস ডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ফুমজিলে ম্লামবো এনগুকার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘টাইম ইজ নাউ: রুরাল অ্যান্ড আরবান অ্যাকটিভিস্টস ট্রান্সফরমিং উইমেনস লাইভস’। এসডিজি বা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সুশীল সমাজের মূল বক্তব্য হলো-কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। কিন্তু এখনো দেশের সুবৃহৎ জনগোষ্ঠী পেছনে পড়ে আছে। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, পাশাপাশি দারিদ্র্যও বেড়েছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে আমরা বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছি, কিন্তু নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। আমাদের উন্নয়নকর্মী ও অ্যাকটিভিস্টরা দেশের বাইরেও সুনাম অর্জন করেছে দারিদ্র্য ও অসমতা নিরসনে। তাই দেশ থেকে ধনী-দরিদ্র ও নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে হবে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারী-পুরুষকে একত্রে এগিয়ে আসতে হবে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার জন্য এবং এখনই তা করার সময়। এ প্রসঙ্গে আরও বলা যায়, উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়ার যাত্রাপথে বাংলাদেশের জন্য শুধু গ্রামীণ নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। এখনই সময় দেশের সব নারী-পুরুষের জন্য সমতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এখনই সময় সামাজিক মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের, ক্ষমতাশীল ও পুরুষের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকাকে চ্যালেঞ্জ করা, সমাজে বিরাজমান দুর্নীতিকে প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক মূলবোধকে সুদৃঢ় করা, যেখানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তাদের জীবন ও জীবিকার সুষম বিকাশের সুযোগ পাবে।
সালমা খান: অর্থনীতিবিদ, নারীনেত্রী

সময় গেলে সাধন হবে না by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

সাধনের দিকে এগোচ্ছে এমন লোক চোখে পড়ছে না। ধরা যাক, একজন গীদাল। তার সবচেয়ে বড় সম্মান সে গান গাইতে পারে। কখনো দোতারা বাজিয়ে। সে হয়তো কৃষক, দোকানদার, ফেরিওয়ালা, ঠেলাগাড়িওয়ালা, কিন্তু গীদালের সম্মানই আলাদা। একবার ঢাকার পুরানা পল্টনের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সামনেই মণি সিং, সেই নামকরা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। একজন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন-ইনি আব্বাসউদ্দীনের ছেলে। উনি জিজ্ঞেস করলেন, কোন আব্বাসউদ্দীন? যিনি গীদাল? তখন বুঝিনি, ওটাই আব্বাসউদ্দীনের আসল পরিচয়। পরে তাঁকে লোকসংগীত সম্রাট, ভাওয়াইয়া সম্রাট বলে লোকের মনে ভয় খাইয়ে দেওয়া হয়েছে। উনি তা কোনো দিন চাননি। জীবদ্দশায় কারও কাছ থেকেই একটি ফুলের মালাও পাননি। অন্তত আমি দেখিনি। সৈয়দ শামসুল হক বললেন [উনি তখন চিত্রালীতে রিপোর্টার], তোমার বাবাকে আমি লোকসংগীত সম্রাট হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এই চিহ্ন মুছে যাবে না। আমি শুধু বললাম, এটা তাঁর প্রতি আপনার ভালোবাসা। আমি যখন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হলাম, একটি প্রতিষ্ঠান ‘সংগীত মহারত্নাকর’ টাইটেল দিতে চাইল। বললাম, সংগীতের কিছুই শিখিনি। এটি দিয়ো না। সম্প্রতি উদ্যোগ এসেছে আমাকে আরেকটি টাইটেল দিতে। বাধা দিলাম না। বললাম, এটি কালোত্তীর্ণ হবে না। আমি গীদাল, গীদালই থাকব। গীদাল থাকবেন তাঁর দোতারা নিয়ে। আমার তিনটি দোতারা। একটি ভাটিয়ালির, একটি ভাওয়াইয়ার, আরেকটি সাধার জন্য। মন খারাপ থাকলে আমি দোতারা বাজাই।
সাধনার দিকে কেউ নেই। অথচ জি বাংলার নতুন গায়ক-গায়িকাদের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়াবিষ্ট আমি। কারণ, ওদের দিন-রাত রিহার্সাল দিয়ে সত্যিকারের শিল্পী বানানো হচ্ছে। আমাদের টিভির প্রয়োজন: ফিনিশড প্রোডাক্ট। তা তারা কোনো দিনই পাবে না, যদি সাধনার ব্যবস্থা না করে। একাডেমিগুলো চলছে না। টাকাপয়সা নেই। শিক্ষকদের বেতন নেই। আমার বোন একটি একাডেমি চালান। জায়গা নেই। কেউ ভাড়া দিতে চায় না। এটিই হলো সংগীত সাধনার অন্তরায়। আমরা চলে গেলে খুবই ভালো হবে। তখন আর আমাদের কথা শুনতে হবে না। উচ্চাঙ্গসংগীতের চর্চা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। আমার নতুন বইটি উৎসর্গ করলাম এমন একজনকে, যিনি বাংলাদেশের সংগীতচর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। উনি নিজে গান করেন না, কিন্তু গানের সমঝদার। তাই বছরের পর বছর উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলনের ব্যবস্থা করেছেন আবুল খায়ের। সাধনা হবে ঘরে। মা-বাবা উৎসাহ দেবেন। লেগে থাকবেন। তা না হলে সাধনা হবে না। সাধনার একটা পর্যায় দেখে এলাম শান্তিনিকেতনে। বড় বড় বিল্ডিংয়ের প্রয়োজন হবে না। গাছতলা হলেই হবে। প্রয়োজন রবীন্দ্রনাথের, প্রয়োজন শিক্ষকের, প্রয়োজন এমন মানুষের, যাঁরা সাধনার অর্থ জানেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যার সনদ পেলেই চাকরি হবে না। চাকরি হলেই পদোন্নতি হবে না। জীবনের সর্বক্ষেত্রে সাধনাকে এড়িয়ে আমাদের চর্চা। তাই পদে পদে ঠকে যাচ্ছি। রেলগাড়ি সময়মতো চলে না। প্লেন সব সময় লেট। রাস্তায় সব সময় গাড়ি ভর্তি। এমনকি আমার বাড়ির সামনে যে গলি, সেখানেও গাড়ি নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এ কেমন পরিকল্পনা বিভাগ? কারা পরিকল্পনাকারী? পরিসংখ্যান কত ভুল, কে হিসাব রাখবে? তাহলে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার মূল হলো সাধনা। সবচেয়ে বড় দরকার স্কুলের শিক্ষা, বাড়ির শিক্ষা। সেগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কি? তা না হলে সব গোলমাল হয়ে যাবে। খবরের কাগজে আমরা লিখেই চলেছি। কিন্তু সেগুলো পড়বে কে? পড়ে মানবে কে? এই মানার ওপরই তো চলছে দুনিয়া। যারা মানবে না, তারা কি ওপরে উঠতে পারবে? পারবে না। শৃঙ্খলা সবচেয়ে বড়। এটা মানতেই হবে। আমি যে স্কুলে পড়তাম, সেখানে আমেরিকান পাদরিরা পড়াতেন। বলতেন, এক মিনিট দেরি করে এলে ক্লাসে ঢুকতে পারবে না। সারা দিন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তিন দিন এ রকম হলে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে। একটি ইংরেজি বাক্য মুখস্থ করানো হলো, সেটি এখনো মনে আছে, সেটি হলো: Punctuality is the politeness of kings. অর্থাৎ সময়ানুবর্তিতা হচ্ছে রাজাদের নম্রতা। আমরা সবাই রাজা। তাই দেরি করে অফিসে আসি। কেউ সময়মতো আসি না। যখন কোনো কাজে কোনো অফিসে যাই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। কোনো কাজ সময়মতো হয় না। এক ঘণ্টার কাজ এক মাসেও হয় না। সময়ের প্রতি আমাদের এতটুকু আকর্ষণ নেই। চীন দেশে গিয়েছিলাম। তারা ধর্মের ধার ধারে না। কিন্তু বলে একটি কথা, যা কোনো দিন ভুলিনি। বলে: সময়ই ধর্ম। যে সময় চেনে না, তার জীবনে কিছুই হবে না।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব

ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করতে বেপরোয়া ট্রাম্প! by মাহফুজার রহমান

ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করতে যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এবার সেখানে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের তোড়জোড় শুরু করেছেন তিনি। যার অর্থ দাঁড়ায়, জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা। ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করবেন। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে তাঁর ওপর ইসরায়েলপন্থী মার্কিন রাজনীতিকদের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র তার ইসরায়েলি দূতাবাস জেরুজালেমে স্থাপন করলে পক্ষান্তরে সেটা হবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের মালিকানা হিসেবে ওয়াশিংটনের স্বীকৃতি। এই জেরুজালেম মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি—সবার কাছেই পবিত্র বলে বিবেচিত। শত শত বছর ধরে জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় বাসিন্দা, আঞ্চলিক শক্তি ও আক্রমণকারীরা লড়াই করেছে। এর মধ্যে ছিল মিসরীয়, ব্যাবিলনীয়, রোমান, মুসলিম, ক্রুসেডার, অটোমান, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো। সর্বশেষ এই পবিত্র ভূমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে দখলদার ইসরায়েল।গত ৬ ডিসেম্বরে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। এই ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা শুরু হয়। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি হয়। তাতে ট্রাম্পের ঘোষণা প্রত্যাখ্যাত হয়। ভোটাভুটিতে ১২৮ সদস্য ট্রাম্পের ঘোষণা প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় মাত্র নয়টি দেশ। ৩৫টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই অবস্থানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ট্রাম্প তোড়জোড় শুরু করেছেন জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর নিয়ে। ওয়াশিংটন আগেই আভাস দিয়েছিল, তারা তাদের ইসরায়েলি দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেবে। গত জানুয়ারিতে ইসরায়েল সফরের সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেনস ঘোষণা করেন, ২০১৯ সাল শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করা হবে।
কিন্তু গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হেথার নুয়েরট জানিয়ে দিলেন, ২০১৯ সাল নয়, চলতি বছরের মে মাসেই জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে ইসরায়েল। তিনি এটাও জানিয়ে দেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকী সামনে রেখে মে মাসেই দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসরায়েল আগামী ১৫ মে তার ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করবে। বর্তমানে পূর্ব জেরুজালেমে মার্কিন কনস্যুলেট রয়েছে। এই কনস্যুলেট মূলত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা ও ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই কনস্যুলেট আগের মতোই দায়িত্ব পালন করতে থাকবে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলয়ের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি এবং তেল আবিব থেকে দূতাবাস স্থানান্তর—দুটিই ট্রাম্পের পূর্বসূরিদের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতির বিরোধী। শুধু তা-ই নয়, কয়েক দশক ধরে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘দুই রাষ্ট্র সমাধানের’ নীতিপরিপন্থী ট্রাম্পের এসব সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের আগের মার্কিন নেতারা সবাই ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ছিলেন। জেরুজালেম প্রশ্নে ট্রাম্পের এই বেপরোয়া নীতি ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে অগ্নিগর্ভ করে তুলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পূর্ব জেরুজালেম হবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী—এটাই নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের দাবি। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস হওয়া মানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের নাম মুছে ফেলা। যার অর্থ হলো, পবিত্র ভূমি জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা। আরব নেতারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি উসকে দেবে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রাদাইনা বলেন, এটা ট্রাম্পের একেবারেই অগ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ। এমন একতরফা সিদ্ধান্ত কাউকে বৈধতা দেবে না; বরং শান্তিপ্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে। তবে এসব আশঙ্কাকে থোড়াই কেয়ার করেন ট্রাম্প। বিশ্বব্যাপী সমালোচনা সত্ত্বেও জেরুজালেম প্রশ্নে নিজের নীতিতে অটল ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমি এটা বলেছি, কারণ আমিই এটা করতে পারি। যদিও অনেক দেশ, অনেক মানুষ আমাকে এটা না করতে বলেছেন। আমি বলেছি, আমরা এটা করব। এটাই ঠিক।’ ১৯১৭ সালে ‘বেলফোর ঘোষণার’ পর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ইসরায়েল। ওই বছরই আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডসহ বেশ কিছু আরবভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ফিলিস্তিনের প্রায় পুরোটাই ও মিসরে সিনাইয়ের কিছু ভূমিও দখল করে ইসরায়েল। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য যে সীমানা বরাদ্দ রেখেছিল, বর্তমানে তার অর্ধেকও ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে নেই। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের হটিয়ে তাদের জমির ওপর প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ইহুদিবসতি গড়ে তুলেছে দখলদার ইসরায়েল।
মাহফুজার রহমান: সাংবাদিক
manik.mahfuz@gmail.com

শেষ পর্যন্ত ইয়ামিনকে সমর্থন দেবে চীন?

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের ক্ষমতা টেকাতে ও তাঁর পক্ষে সাফাই গাইতে সমানে বিকৃত তথ্য ও ডাহা মিথ্যা কথা প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু ইয়ামিনের হাজার চেষ্টাতে এই বিষয়টি আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না যে তিনি নিজের দেশে চীনের আদলে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার তালে আছেন। চীনের অর্থনৈতিক শক্তিমত্তা এই অঞ্চলে কতখানি খবরদারির সামর্থ্য রাখে এবং বিশ্ব সেই খবরদারিকে কীভাবে নেবে, তার পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের জন্য ইয়ামিনের শাসনাধীন মালদ্বীপই এখন আদর্শ জায়গা হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন কথা হচ্ছে, এই বিষয়টি ভারতকে কোথায় নিয়ে যাবে? এর সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব নেই। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিও আপাতত এ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থানে যাচ্ছে না। অন্যদিকে চীন এ বিষয়ে খুবই সরব এবং সে ইয়ামিনের পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন দিয়েছে। চীন নিজে স্বৈরতান্ত্রিক হওয়ায় সে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এমন কিছু স্বেচ্ছাচারী শাসক দেখতে চায়, যাঁরা নিজেরা ক্ষমতায় থাকার জন্য চীনের সহায়তা চাইবে এবং বিনিময়ে চীনের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাবে। চীন কিছু সুযোগ-সুবিধা ও অর্থের বিনিময়ে তার সীমান্তসংলগ্ন বা অতি নিকটবর্তী দেশের ভূখণ্ড দীর্ঘ মেয়াদে ইজারার নামে কিনে ফেলতে চায়। বাইরের একটি দেশ যখন উন্নয়নের দায়দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে চায়, স্বাভাবিকভাবেই তখন ছোট ছোট ভূখণ্ডের স্বেচ্ছাচারী শাসকদের সামনে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ বেড়ে যায়। বৃহৎ শক্তিকে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাওয়ায় তাঁরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। প্রাচ্যের দিকে বৃহৎ শক্তির দৃষ্টিপাতের তথাকথিত নীতির এটিই মূল ভিত। মালদ্বীপসহ দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর নেতারা এই সব সুবিধার পসরা সাজিয়ে তাদের আকর্ষণ করেন।
চীন যেভাবে দশকের পর দশক গণতন্ত্র অবদমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে রাখঢাক না করেই উড়িয়ে দিয়ে আসছে, ঠিক একইভাবে বৃহৎ শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় থাকা ছোট দেশগুলোর নেতারাও এমন ঔদ্ধত্য দেখানোর সক্ষমতা পাচ্ছেন। মিয়ানমার থেকে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ থেকে নেপাল কিংবা মালদ্বীপ-এই দেশগুলোর যে সরকারই সাম্প্রতিক দশকগুলোতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে, এর সঙ্গে সঙ্গে তারা দমনপ্রবণতার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে। চীনের মদদপুষ্ট সেসব সরকার তাদের বিরোধীদের ওপর নির্যাতন বাড়িয়েছে, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন কমিয়েছে এবং বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে সমানে রাজনৈতিকীকরণ করেছে। মালদ্বীপে এর সবকিছুই আমরা দেখেছি। সেখানে পাতানো নির্বাচন হয়েছে, সংবিধান ছিনতাই করা হয়েছে, ফ্লোর ক্রসিংয়ের কারণে সেখানে নির্বাচিত এমপিরা সংসদ সদস্য পদ হারিয়েছেন, সরকারবিরোধী সমাবেশের খবর প্রচার করার জন্য সাংবাদিকদের অপহরণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে, সরকারবিরোধী আইনজীবীদের মামলা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে এবং নির্বাচিত এমপিরা বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় তাঁদের রাস্তার ওপর ফেলে পুলিশ নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছে। ২০১৩ সালে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই উৎপীড়কের ভূমিকায় নামেন ইয়ামিন। তাঁর প্রথম টার্গেট ছিলেন মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। এরপর তিনি তাঁর নিজ মিত্রদের মধ্য থেকে একজনের পর একজনকে গ্রেপ্তার করলেন এবং ফালতু কিছু অভিযোগ এনে তাঁদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাগারে পাঠালেন। সবাই জানে ইয়ামিনের চাপে পড়ে সুপ্রিম কোর্ট এসব রাজবন্দীর মুক্তি ঠেকিয়ে দিয়েছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর স্বাধীন সত্তার ঝলক দেখিয়ে রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। এরপরই ইয়ামিন প্রধান বিচারপতি, অপর এক বিচারপতি এবং নিজের সৎভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করেন। ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং পরে পার্লামেন্ট এই অবস্থা আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে। এখানেও সাংবিধানিক লঙ্ঘন ছিল; কারণ, এটি পাস করতে যতজন এমপির উপস্থিতি থাকা দরকার, ততজন পার্লামেন্টে ছিলেন না। ভারত ইয়ামিনের এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছে এবং দ্রুত সেখানে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু চীন ইয়ামিনের পক্ষ নিয়ে বলেছে, এগুলো মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সেখানকার রাজনীতিকেরা আলোচনায় বসে এর সমাধান করবেন। শ্রীলঙ্কায় নির্বাসিত অবস্থায় থাকা মোহাম্মাদ নাশিদ ভারতকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানানোর পর চীন পাল্টা হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, ভারত যদি মালদ্বীপে সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে ভারতকে থামাতে যা যা দরকার, তার সব করতে চীন প্রস্তুত। চীন এমন সময় এসব কথা বলছে, যখন সে মালদ্বীপে নৌঘাঁটি গড়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। ইয়ামিনের প্রতি চীনের এই মৌন সমর্থন তাঁকে এটা ভাবতে প্রলুব্ধ করবে যে ‘বড় ভাই’ যেহেতু তাঁর পাশে আছে, সেহেতু তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবলীলায় দমিয়ে রাখতে পারবেন। কিন্তু দমন-পীড়ন বেড়ে গেলে সেটি চীনের ‘নিরপেক্ষ অবস্থান’ দাবির বিরুদ্ধে যাবে। বিদেশি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীন সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রথম থেকে তারা দাবি করে এসেছে। এই অবস্থান থেকে সরে না আসার বিষয়টি প্রমাণ করতে হলে ইয়ামিনকে চীন ক্ষমতা ছাড়তে বলতেও পারে। আর সেটি হলে ভারত মালদ্বীপের বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি মনোযোগী হতে পারবে। ভারত চীনকে নিরপেক্ষ থাকার চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দিতে পারবে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইয়ামিনকে চীন সমর্থন দিয়ে যাবে, সেটি ভাবার কারণ নেই। আর চীন যদি ইয়ামিনের ব্যাপারে ঢিল ছোড়ে, তাহলে ভারত পূর্ণমাত্রায় ইয়ামিনবিরোধী প্রচারণায় নেমে পড়বে। এতে ইয়ামিনের পক্ষে দীর্ঘদিন দমন-পীড়ন চালানো কঠিন হবে। মনে রাখতে হবে, চীন ইয়ামিনের পাশে আছে, এটা ঠিক। আপাতত তারা অবস্থান থেকে সরবে বলেও মনে হয় না। কিন্তু মালদ্বীপের পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে হয়ে উঠেছে যে সেখানে যেকোনো সময় দৃশ্যপট বদলাতে পারে।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
আব্বাস ফয়েজ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক

ছাত্রলীগের লাগাম কার হাতে? by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় প্রথম আলোর পাঠক সমাবেশে ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় এক তরুণ প্রশ্ন করেছিলেন, সংবাদপত্রে ছাত্রলীগ সম্পর্কে এত নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হয়, কিন্তু এই সংগঠনের ভালো কাজগুলো তুলে ধরা হয় না কেন? তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি নিজে সাম্প্রতিক কালে ছাত্রলীগের কোনো একটি ভালো কাজের উদাহরণ দিতে পারবেন কি না। চৌকস তরুণটি তাৎক্ষণিক একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন: চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন আদায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ আন্দোলন করেছিল। এতে প্রশাসন তৎপর হয়েছে, এসব স্কুল-কলেজের তালিকা তৈরি করে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বর্ধিত ফি আদায়ের ব্যবস্থা বন্ধ করতে পেরেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপকৃত হয়েছিলেন এই আন্দোলনে। সমাবেশে উপস্থিত সবাই স্বীকার করেছিলেন, এটি ভালো একটি দৃষ্টান্ত। ছাত্রসংগঠনের কাছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তো এ ধরনের উদ্যোগ ও তৎপরতাই প্রত্যাশা করেন। কিন্তু দলীয় কোন্দল থেকে সতীর্থ-সহকর্মীকে খুন, নির্মাণকাজের টেন্ডারের বখরা নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষ ভাঙচুর থেকে নিরীহ নগরবাসীর যানবাহন বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা-এহেন অসংখ্য ঘটনার নিচে চাপা পড়া ছাত্রলীগের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে তুলে আনা তো আতশ কাচের নিচে রাখা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুর অস্তিত্ব শনাক্ত করার শামিল। সুদীপ্ত বিশ্বাসের বাবার আহাজারি আর দিয়াজ ইরফানের মায়ের শোক ও ক্ষোভের অভিব্যক্তি যখন পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হয়, তখন তো ‘ছাত্রলীগ’ নামটির সঙ্গে সন্ত্রাস, ভীতি, আতঙ্ক, দৌরাত্ম্য, দাপট প্রভৃতি শব্দ একাকার হয়ে পড়ে। এর প্রতিকার বা দায় মোচনের কোনো উদ্যোগ কি ছাত্রলীগের নীতিনির্ধারক মহল বা তাদের মুরব্বি সংগঠন আওয়ামী লীগ নিয়েছে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, আদৌ উচ্ছৃঙ্খল এই কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা বা সামর্থ্য কি তাদের আছে? নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য আছে কি না-এই প্রশ্ন উঠছে সম্প্রতি চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দুটি অনুষ্ঠানের চিত্র দেখে। নগরের লালদীঘির মাঠে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভার আয়োজন করেছিল মহানগর ছাত্রলীগ। শোকে-শ্রদ্ধায় চট্টগ্রামের এই জনপ্রিয় নেতাকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্মরণ করবেন, এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু দলে-উপদলে বিভক্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে শুধু অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্যই নষ্ট করেননি, উপরন্তু মঞ্চে উপবিষ্ট নেতাদের শত অনুরোধ-উপরোধ সত্ত্বেও বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দিয়ে, চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে, হাতাহাতি-মারামারি করে নিজেদের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছেন। আদর্শ-উদ্দেশ্য দূরে থাক, দলের প্রতি বিন্দুমাত্র আনুগত্য এই উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের মধ্যে ছিল না। নেতৃত্বের চেইন অব কমান্ড নিয়েও তাঁদের ধারণা বা সমীহ আছে বলে মনে হয় না। বরং এই অন্ধ অনুসারীদের কাছে উপদলের ‘বড় ভাই’ই সর্বেসর্বা। এ ঘটনার মাত্র এক দিন পর নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের চিত্রটি ছিল আরও করুণ। আট বছর পর এই সম্মেলনে নতুন কমিটি নির্বাচনের কথা ছিল। কিন্তু স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, এমনকি ককটেল বিস্ফোরণের পর পণ্ড হয়ে যায় সম্মেলন। মঞ্চে বসা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিতান্ত অসহায় অবস্থায় প্রত্যক্ষ করেছেন কর্মীদের এই তাণ্ডব। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে অনুনয়-বিনয় করেও শান্ত করতে পারেননি কর্মীদের। নেতাদের এই ‘অসহায়ত্ব’ দেখেই প্রশ্ন জাগে, ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো সামর্থ্য আদৌ তাঁদের আছে কি না। ছাত্রলীগের লাগাম তাহলে কার হাতে? লালদীঘির মাঠের সভামঞ্চ থেকে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম বলেছেন, ‘যাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাঁরা ছাত্রলীগের কেউ নন। ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ইত্যাদি। একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল পরদিন মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বক্তব্যেও। তিনিও বললেন, ‘এরা ছাত্রলীগের কেউ না।’
পত্রিকান্তরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের মুখেও এ রকম কথা শুনেছি বলে মনে পড়ে। তাহলে এঁরা কারা? ভিডিও ফুটেজ দেখে এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে...ইত্যাদি তর্জন-গর্জন অনেকবার শোনা গেছে নেতাদের মুখে। কিন্তু আদৌ কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? দু-একটি ক্ষেত্রে বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ দূর হয় না। কারণ, বহিষ্কৃতরা কাগজে-কলমে বহিষ্কৃত হলেও দলের কর্মকাণ্ড থেকে অপাঙ্ক্তেয় হয়েছেন, এমন নজির নেই। বরং তাঁদের দাপট আরও বেড়েছে, নেতাদের কাছে ‘কদর’ও কমেনি তাঁদের। মোশাররফ হোসেনের মতো বর্ষীয়ান নেতা হাত জোড় করে অনুরোধ করার পরও মাত্র দু-দশ গজ দূরে থাকা উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের নিবৃত্ত করতে পারলেন না-এ ঘটনা বিস্ময়কর! যেকোনো মূল্যে নিজে বা নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ছাত্রলীগের কমিটিতে দেখতে চান এই অবাধ্য কর্মীরা। কমিটিতে থাকার সঙ্গে ‘বৈষয়িক’ লাভালাভের সম্পর্ক কতটা, তা এ ঘটনা থেকেই ধারণা করা যায়। আবার অন্য দিক থেকে ভাবলে কর্মীরা যে নেতাদের নির্দেশ মানছেন না, তার পেছনেও আছে তাঁদের প্রতি আস্থাহীনতার প্রকাশ। নেতারা প্রকৃত কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করার চেয়ে নিজের পছন্দের মানুষকে কমিটিতে আনতে বদ্ধপরিকর। এভাবে পারস্পরিক আস্থা-শ্রদ্ধার জায়গাটি নষ্ট হয়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতি আছেন ৬০ জন। এই অযৌক্তিক সংখ্যাই প্রমাণ করে, কর্মীদের খুশি করার কী হাস্যকর পদ্ধতি বেছে নিয়েছে সংগঠনটি। দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন তার ছাত্রসংগঠনটির নানা অপকর্ম দল ও সরকারকে বিব্রত করে, যেকোনো সাফল্য ম্লান করে দেয়। কিন্তু দলের দুর্দিনে ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আদতে কী কাজে লাগেন, তা বুঝতে বেশি দূর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিএনপির ছাত্রসংগঠনের দিকে তাকালেই তার প্রমাণ মিলবে। ক্ষমতায় থাকাকালে ‘অতি তৎপর’ ছাত্রদলের জন্য নানাভাবে সমালোচিত হয়েছে বিএনপি। কিন্তু আজ দলের কর্মসূচিতে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা প্রায় দেখাই যায় না। ছাত্রলীগের ‘সুখের পায়রাদের’ও দুর্দিনে দেখা মিলবে না, এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও এখন বহুধাবিভক্ত ছাত্রলীগ। এই কোন্দল আরও প্রাণহানির শঙ্কা জাগিয়ে রাখছে। ফেসবুকে পরস্পরকে হুমকি দিচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। গত দুই বছরে অন্তঃকোন্দলে প্রাণ হারিয়েছেন ছাত্রলীগের অন্তত পাঁচজন কর্মী। সুদীপ্ত বিশ্বাস বা দিয়াজ ইরফানের মৃত্যুর আগেও ফেসবুকে এ রকম অশনিসংকেত পাওয়া যাচ্ছিল। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দলীয় হাইকমান্ড এ ব্যাপারে শিক্ষা নেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক, কবি ও সাহিত্যিক
bishwabd@yahoo. com

বিলম্বিত বিচার সাজা কম হওয়ার অন্যতম কারণ

প্রথম আলো: সাজার হার কম হওয়ার বিষয়টা কি আপনি জানেন? কেন এমন হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?
আছাদুজ্জামান মিয়া: একেকটি মামলা প্রমাণের বিষয় সাক্ষী, প্রসিকিউশন ও আলামতের ওপর নির্ভরশীল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা বস্তুগত সাক্ষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব মামলায় অনেক ক্ষেত্রে বস্তুগত সাক্ষ্য কম থাকে এবং মৌখিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকে, যা আদালতে প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য। ফলে সাজার হার কম হয়ে থাকে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা সাধারণত পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা থেকে উদ্ভূত। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতে বিলম্ব হয় এবং প্রায়ই বাদী-বিবাদীদের মধ্যে আপস হয়ে যায়। সাজার হার কম হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি অন্যতম কারণ। এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ, প্রসিকিউশন ও সাক্ষীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আদালতে মামলা প্রমাণের কার্যক্রম পরিচালিত হলে মামলার গুণগত সাজার মাত্রা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
প্রথম আলো: আদালতের কর্মকর্তা, আইনজীবী, পিপিরা প্রথম আলোকে বলেছেন, মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার পরে পুলিশ মামলাটির আর কোনো খোঁজই রাখে না। এমনও মামলা পাওয়া যায়, যেখানে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা থেকে পুলিশের কেউ আদালতে সাক্ষী দিতে যাননি। প্রসিকিউশনের সাক্ষী হাজির করার কথা পুলিশের, কিন্তু আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ কর্মকর্তাদেরই হাজির করতে পারেন না—এমন নজিরও আমরা দেখেছি। এই পরিস্থিতি কেন হচ্ছে?
আছাদুজ্জামান মিয়া: আদালত মামলা-সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে এবং যেসব মামলায় পুলিশ সাক্ষী হিসেবে চার্জশিটে বিবেচিত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আদালতের তলবমতে পুলিশ সাক্ষ্য প্রদান করে থাকে। আমাদের ‘পারসোনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর (পিআইএমএস) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সাক্ষীকে দ্রুততম সময়ে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাক্ষীর প্রসেস রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীর উপস্থিতির হাজিরা রেজিস্ট্রার তদারকির মাধ্যমে সাক্ষীর উপস্থিতির বিষয়ে বহুলাংশে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথম আলো: কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও প্রথম আলোর কথা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন তাঁদের ব্যস্ততা, বদলি ও কাজের চাপের কথা। কিন্তু তাঁরা আবার পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে আদালতে সাক্ষী পাঠানোর পর অনেক সময়ই তাঁদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় না। এ কারণে সাক্ষীরা হতাশ হয়ে আর আদালতে যেতে চান না। এ বিষয়গুলো আপনার সহকর্মীরা আপনাকে জানান কি না? এর প্রতিকারের উপায় কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
আছাদুজ্জামান মিয়া: পুলিশ সাক্ষী আদালতের তলব মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদান করবেন, তাই বাঞ্ছনীয়। রাষ্ট্রপক্ষ সরকারি কৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য আদালতে উপস্থিত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপস্থিত সাক্ষীদের হাজিরাসংক্রান্ত রেজিস্ট্রার কার্যক্রমের তদারকি করলে আরও সুফল পাওয়া যাবে।
প্রথম আলো: পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন, নারী ও শিশু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সময়মতো বা ঠিকমতো না দিলে তাঁদের জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু আদালতে যাঁরা মামলা পরিচালনা করেন, সেই পিপিদের কোনো জবাবদিহি নেই। তাঁরা একের পর এক মামলা হেরে গিয়েও দিব্যি বছরের পর বছর পিপির পদ ধরে রাখছেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী?
আছাদুজ্জামান মিয়া: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং পিপিরা আসামিদের সাজা নিশ্চিতকরণের জন্য নিজেদের অবস্থান থেকে পেশাদারি নিয়ে কাজ করলে এবং প্রতিটি মামলার বিষয়ে সম্যক অবহিত থাকলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।
প্রথম আলো: থানাগুলো খোঁজ রাখছে না তাদের তদন্ত করা মামলাগুলো আদালতে গিয়ে কী হচ্ছে। ওসিরা বলতে পরছেন না তাঁদের থানার কত মামলা আদালতে চলমান। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কি নিয়মিত মামলার তদারক করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
আছাদুজ্জামান মিয়া: আদালতে মামলা চলাকালীন আসামি হাজির করা, আলামত উপস্থাপন করা, সাক্ষী উপস্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে থানা-পুলিশের সঙ্গে আদালতের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটররা তাঁদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থেকে মামলা পরিচালনা করে থাকেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি নজরে রাখলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
প্রথম আলো: ধর্ষণের পর শিশু হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের অনেক মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিচ্ছে। বাদীপক্ষ পুলিশের গাফিলতি বা অসদুপায়ের কথা বলেছে। আবার কোনো কোনো মামলায় সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে না পারার জন্য আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। কেউ তদন্তে গাফিলতি করেছেন বলে অভিযোগ এলে তাঁদের সাজা বা তিরস্কারের কোনো ব্যবস্থা আছে কি না? এ রকম ব্যবস্থা থাকলে আপনার জানামতে বছরে ডিএমপির কী পরিমাণ পুলিশ সদস্য এ রকম সাজা ভোগ করেন?
আছাদুজ্জামান মিয়া: তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর নির্ভর। তদন্ত কর্মকর্তা সব মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যপ্রমাণ পেলে চার্জশিট দেন। এ নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম নেই। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও অন্য সব গুরুত্বপূর্ণ মামলা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিবিড় তদারকির মাধ্যমে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই হয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করে। অধিকন্তু, পুলিশের তদন্তে গাফিলতি বা অসৎ উপায়ের প্রমাণ পেলে সে ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
প্রথম আলো: ধর্ষণ বা ধর্ষণের পরে হত্যার অপরাধের প্রাথমিক আলামত সংগ্রহের কোনো সাধারণ দিকনির্দেশনা আছে কি না?
আছাদুজ্জামান মিয়া: এসব মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত সম্পন্ন করেন। আলামত সংগ্রহে বিশেষ পারদর্শিতা, ভুক্তভোগীকে পরিচর্যা, জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও বস্তুগত আলামত সংগ্রহের জন্য দ্রুততম সময়ের ব্যবস্থা নেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে মাথায় রেখে তদন্ত শেষ করার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।
প্রথম আলো: ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, নারী নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণের মতো অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়ে তাঁদের মারাত্মক অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়ে। কেউ কেউ বলেছেন, উল্টো পুলিশ তাঁদের খারাপ মেয়ে বলে গণ্য করে। এ রকম অভিযোগ আপনার কানে এসেছে কি না? ধর্ষণ মামলার বিষয়ে থানাগুলোর জন্য সাধারণ নির্দেশনা কী? তার কি সেটা পালন করে।
আছাদুজ্জামান মিয়া: নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা, বিশেষ করে ধর্ষণের মতো ঘটনায় কোনো ভিকটিমকে যেন থানায় গিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে না হয়, সে জন্য প্রতিটি থানায় নারী ও শিশুবান্ধব হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে এবং সেখানে একজন নারী অফিসার নিয়োজিত আছেন। এ ধরনের মামলার ভিকটিম নারী হওয়ায় নারী পুলিশ কর্মকর্তা দ্বারা তদন্তের জন্য উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন রয়েছে।
প্রথম আলো: ঘটনার শিকার নারী ও শিশুরা বা পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে? অনেকে ভয়ে-চাপে আপস করে ফেলেছেন? যার কারণে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা? পুলিশ-আইনজীবীরা বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব, আর্থিক ও সামাজিক—সবদিক বিবেচনা করে আপসকে একটা সামাজিক বাস্তবতা বলতে চান তাঁরা। আপনি কি এর সঙ্গে একমত?
আছাদুজ্জামান মিয়া: আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। নারী ও শিশু আইনে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি মাথায় রেখে সব সাক্ষীর আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে। চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আপস করা বিচারহীনতার লক্ষণ। এ ধরনের প্রক্রিয়া থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
প্রথম আলো: এই ডিজিটাল যুগে পুলিশ সাক্ষীদের হাজির করা বা তাঁদের জবানবন্দি সংরক্ষণের কোনো ডিজিটাল পথ বের করতে পারে কি না? আসামিদের আনা-নেওয়ার ঝক্কি, যানজট—সব মিলিয়ে এসব থেকে রক্ষা পেতে সামনের দিনগুলোয় আদালতের সাক্ষ্য প্রদানের কোনো যুগোপযোগী পদ্ধতির কথা ভাবছেন কি না?
আছাদুজ্জামান মিয়া: সময় প্রবাহের দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করে ন্যায়বিচার প্রদান করা যৌক্তিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। ‘পারসোনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (পিআইএমএস) এবং ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) ব্যবস্থাকে অধিকতর যুগোপযোগী করে সাক্ষী হাজিরার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করা হলে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। ফলে ন্যায়বিচার নিষ্পত্তি হবে।

রাশিয়ার ওপর হামলার ব্যাপারে পুতিনের মারাত্মক হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার দেশের ওপর কেউ যদি হামলার চেষ্টা করে তাহলে মস্কোর পক্ষ থেকে এমন জবাব দেয়া হবে যাতে মানবসভ্যতার জন্য বিপর্যয় নেমে আসবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সঙ্গে বুধবার এক সাক্ষাৎকারে পুতিন এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি রাশিয়াকে ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তখন আমাদের পাল্টা হামলা চালানোর বৈধ অধিকার এসে যাবে এবং এর মানে হচ্ছে বিশ্বব্যাপী মানবসভ্যতার জন্য বিপর্যয় নেমে আসবে। কিন্তু রাশিয়ার একজন নাগরিক হিসেবে এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি জানতে চাই- যদি রাশিয়া না থাকে তাহলে কী ধরনের বিশ্ব হবে?’ পুতিন পরিষ্কার করে বলেন, রাশিয়া পরমাণু হামলার শিকার না হলে কখনোই অন্য কোনো দেশের ওপর মস্কো পরমাণু অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাবে না। তিনি আরো বলেন, ‘পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত কেবল তখনই নেব যখন আমাদের সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শুধু শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র শণাক্তই করবে না বরং যখন শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারবে এবং পরমাণু ওয়ারহেড রাশিয়ার ভূখণ্ডে পৌঁছাবে।’ এর এক সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন তার বার্ষিক ‘ইউনিয়ন অব দ্যা স্টেট’ বক্তৃতায় বলেছিলেন, কেউ যদি রাশিয়ার ওপর হামলা চালায় তবে রাশিয়াও পাল্টা পরমাণু অস্ত্র দিয়ে জবাব দেবে। তিনি এও বলেছিলেন, রাশিয়াকে যে সাইজ ও ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হবে মস্কোও সেই সাইজের ও তেমন ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাবে।

সিরিয়াতে প্রেম ও অন্য জীবনের ছবি আঁকেন যে শিল্পী

একটা ক্রিসমাস ট্রি-কে ঘিরে বসে বন্ধুরা গল্পগুজব করছে, দুজন লং ডিসট্যান্স প্রেমিক কথা বলছে টেলিফোনে - আর একজন পুরুষ তার বান্ধবীর জন্য ইন্টারনেট কানকেশনটা মেরামত করার চেষ্টা করছেন। প্রথম দেখায় ডিমা নাচাউই-র ছবিগুলো দেখলে মনে হবে এ ছবি পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তেরই ভালোবাসার ছবি হতে পারে। কিন্তু একটু খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, না - এ ছবিতে সম্পূর্ণ অন্য গল্পও আছে। সে গল্প বিমান হামলার, সে গল্প আঘাতের, এবং মৃত্যুর। আসলে এ ছবি হল সিরিয়ার ইস্টার্ন ঘৌটা অঞ্চলে সত্যিকারের মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে - এবং ভালও বাসছে - তারই। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুটেরেস এ অঞ্চলকে বর্ণনা করেছেন 'পৃথিবীর বুকে এক নরক' হিসেবে। ডিমার কথায়, "তবুও কিন্তু এখানকার বাসিন্দারা তাদের রোজকার জীবন যাপন করছে, তারা প্রেমেও পড়ছে - এবং ভালবাসার জনকে বাঁচানোর চেষ্টাও করছে!" ডিমা বড় হয়েছে সিরিয়াতেই। কিন্তু বহু বছর আগে দেশ ছাড়ার পর তিনি এখন বৈরুটের বাসিন্দা, আর সেখানেই একজন শিল্পী হিসেবে তিনি নিজের কেরিয়ার গড়ে তুলেছেন। সিরিয়ার পরিস্থতি নিয়ে নানা ধরনের সৃষ্টিশীল প্রকল্পেও তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। তার এই 'প্রেম হল ...' কালেকশনটা সদ্যই সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এর ছবিগুলো সত্যিকারের মানুষের জীবন নিয়ে, আর তাদের সম্পর্কে সিরিয়ার সংঘাত কী প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে। প্রতিটি ছবিতেই ডিমা তুলে ধরেছেন আলাদা আলাদা, অনামা কোনও দম্পতিকে - আর তাদের পরিচয় সম্পর্কে খুব কম তথ্যই তিনি প্রকাশ করেছেন। "এই প্রোজেক্টটা ছিল ভীষণই কঠিন - বিশেষ করে যে ছবিটায় মেয়েটি মারা যায়, সেটি", ডিমা বলছিলেন নিচের ছবিটার দিকে আঙুল দেখিয়ে। "ছবিটা কেমন দেখতে লাগবে সেটা যেমন আমি ভাবছিলাম, তেমনি ছবিটা আঁকার সময় আমার মনটাও ভারাক্রান্ত হয়ে ছিল। "আসলে যার শেষটা সুখের নয়, সে ছবি আঁকাটা ভীষণ, ভীষণ কঠিন।" "কিন্তু আমি কৃতজ্ঞ যে এই সুযোগে আমি সিরিয়ানদের জীবনের অন্য দিকটাও দেখার সুযোগ পেয়েছি। জীবনের এই দিকটায় তারাও বাঁচেন, তারাও ভালবাসেন - এবং তারা সেখানে কিন্তু ভিক্টিম নন।" "আমার ছবিগুলোতে আমি তাদের ঠিক সেই দিকটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।" এদিকে বিদ্রোহী-অধিকৃত ইস্টার্ন ঘৌটা থেকে দলে দলে মানুষের পালিয়ে যাওয়ার খবর আসছে, বলা হচ্ছে সেখানকার পরিস্থিতি 'সঙ্কটজনকের চেয়েও খারাপ'। সামান্য কিছু ত্রাণ সেখানে পৌঁছেছে ঠিকই - কিন্তু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো বলছে আরও অনেক বেশি সহায়তা পাঠানো দরকার। গত কয়েক সপ্তাহে সাতশোরও বেশি মানুষ সেখানে মারা গেছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই শিশু। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যেভাবে সিরিয়ার মানুষের ছবি তুলে ধরছে, ডিমা তাতে আদৌ খুশি নন। "মানুষ হিসেবে আমাদের যেন শরণার্থী ও ভিক্টিম হিসেবে স্টিরিওটাইপ করে ফেলা হচ্ছে", গভীর খেদের সঙ্গে বলছিলেন তিনি। "আমি তো বরং সিরিয়ার মানুষের সঙ্গে সেটা নিয়েই কথা বলতে চাইব যে কীভাবে তারা বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, কীভাবে তাদের রোজকার দিন কাটছে।" "তবে যখনই আমার খারাপ লাগে, আমি কিছু-না-কিছু করার চেষ্টা করি। আমি জানি আমার ছবির ভক্তরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন - আমি তাদের কাছে একটা বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, সিরিয়া নিয়ে এমন কিছু তাদের জানাতে চাই যেটা তারা আগে জানতেন না!" "আমার ছবি আর শিল্পকলাই এই কাজে আমার একমাত্র হাতিয়ার। ঠিকই, আমি হয়তো সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব একটা বড় কোনও পরিবর্তন আনতে পারব না।" "কিন্তু আমি এটা জানি আমার ছবি সিরিয়ার সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার কাজটা করছে, পরবর্তী প্রজন্ম যেটা দেখে জানতে পারবে আসলে সে দেশে তখন কী ঘটেছিল!"

'সুপ্রভাত' মেসেজের জেরে নাজেহাল ভারতীয়রা

সকালবেলায় প্রথম দেখা হলে শুভেচ্ছা জানানোর চল নতুন কিছু নয়। কেউ বলেন সুপ্রভাত, কেউ শুভ সকাল, কেউবা গুড মর্নিং। সামাজিক মাধ্যম বা তারও পরে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং সার্ভিসের মাধ্যমে এই সুপ্রভাত বা গুড মর্নিং মেসেজ পাঠানোর চল অবশ্য খুব বেশি দিনের নয় - বড়জোর বছর তিন চারেকের। সকাল হলেই হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধুদের কাছ থেকে চলে আসে একটা সুন্দর কোনো ছবি - বেশিরভাগ সময়েই সূর্যোদয়ের, অথবা এক কাপ গরম চা বা একরাশ ফুলের ছবি - সাথে লেখা নানা উদ্ধৃতি বা শুধুই 'গুড মর্নিং' বা 'সুপ্রভাত'। প্রথম প্রথম ভালই লাগত আমার নিজেরও। উত্তরও দিতাম যথাসাধ্য, একজনের পাঠানো সুন্দর ছবিসহ মেসেজ অন্যদের পাঠিয়ে দিয়ে জানাতাম শুভেচ্ছা। কিন্তু সেই শুভেচ্ছা বিনিময়ই ইদানীং আমার মতোই অনেকের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ভারতে। "ভোরে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে ইন্টারনেট কানেকশানটা অন করতেই টুং টুং শুরু হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই হোয়াটস্অ্যাপে জমে যায় প্রচুর মেসেজ," বলছিলেন কলকাতার বাসিন্দা এক হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী। এত সুপ্রভাত বা গুড মর্নিং মেসেজ পাঠাচ্ছেন ভারতীয়রা একে অন্যকে, যাতে মোবাইল ফোনের স্টোরেজ উপচে পড়ছে আক্ষরিক অর্থেই। এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে প্রতি তিনজন ভারতীয় অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীর মোবাইলের স্টোরেজ শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোবাইল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন স্টোরেজ স্পেস ভরে যাওয়ার সংখ্যাটা প্রতি দশ জনে একজন। ভারতে যে ৬৫ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক - ৩০ কোটি মানুষের কাছেই রয়েছে স্মার্টফোন।
নতুন বছরের শুরুতে শুধু ভারতেই প্রায় দুই হাজার কোটি 'নিউ ইয়ার' শুভেচ্ছা পাঠানো হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে - যা এক রেকর্ড। হোয়াটস্অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত 'সুপ্রভাত' মেসেজ পাঠান কলকাতার প্রবীণ সাংবাদিক নবেন্দু গুহ। তার কথায়, "কন্ট্যাক্ট লিস্টে থাকা সবার সাথে তো নিয়মিত কথা হওয়ার সুযোগ হয় না। তাই সকালবেলায় একটা মেসেজ পাঠাই। বছর দেড়েক ধরে এটা আমার নিয়মিত অভ্যেস হয়ে গেছে।" "শুরু করেছিলাম ১০-১২ জনকে দিয়ে, এখন মোটামুটি ৬০ থেকে ৭০ জনকে সুপ্রভাত মেসেজ পাঠাই। সকালবেলায় আধঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট সময় দিয়ে বন্ধুদের সাথে এইভাবেই যোগাযোগ রাখি। বন্ধনটা দৃঢ় হয়।" অনেকেই আবার 'সুপ্রভাত' মেসেজের পরিবর্তে কোনো গানের ভিডিয়ো পাঠান - কেউ আবার আরো কিছুটা এগিয়ে সুপ্রভাতের পরে দুপুরবেলায় 'গুড আফটারনুন' আর রাতে শোয়ার আগে 'গুড নাইট' বা শুভরাত্রি বলেও মেসেজ পাঠাতে থাকেন। তবে সুপ্রভাত মেসেজেই সবথেকে বেশি চলছে এখন। গুগল জানাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে 'গুড মর্নিং মেসেজ' লিখে সার্চ করা বেড়ে গেছে প্রায় দশ গুণ। কেউ যেমন গুগল সার্চ করে খুঁজে বের করেন নানা নতুন ধরণের মেসেজ, তেমনই বেশিরভাগ মানুষই 'রি-সাইকেল' করেন। অর্থাৎ তিনি যেসব 'সুপ্রভাত' মেসেজ পেয়েছেন কারো কাছ থেকে, সেগুলোকেই অন্যদের কাছে ফরওয়ার্ড করে দেন। গত পাঁচ ছয় মাস ধরেই বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়দের একই রকমভাবে সুন্দর কোনো ছবি দিয়ে সুপ্রভাত মেসেজ পাঠান কলকাতার আরেক বাসিন্দা দেবাশীষ রায়। কখনও তাতে থাকে রবীন্দ্রনাথের কোনো গানের লাইনও। "আমি একবারেই সবাইকে একটাই মেসেজ পাঠাই। মিনিট দশেক হয়তো সময় লাগে, কিন্তু সবার কাছে একটা সুন্দর ছবি বা দুটো সুন্দর কথা পৌঁছিয়ে দিয়ে ভাল লাগে। তবে অর্ধেকই দেখি মেসেজগুলো খোলে না, তবে কিছু লোক উত্তরও দেয়," বলছিলেন দেবাশীষ। কেউ বিরক্ত হয় প্রচুর সুপ্রভাত মেসেজ পেয়ে, কেউ সরাসরি বলেই দেয় যে আর যেন তাকে এরকম মেসেজ না পাঠানো হয়। সস্তার অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং আরও সস্তা মোবাইল ইন্টারনেট ডেটা প্যাকের ছড়াছড়ি ভারতে। তাই অনেকেই হয়তো ভেবে দেখেন না যে তার সুপ্রভাত অন্য কারো শির:পীড়ার কারণ হচ্ছে কী না। কলকাতার বাসিন্দা, এশিয়ান স্পোর্টস প্রেস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস সাবানায়কন বলছিলেন, "এই মেসেজগুলো যারা পাঠান, তাদের অনেকেই ভাবেন না যে যার কাছে পাঠানো হচ্ছে, তার পছন্দ হচ্ছে কী না!" "যে ব্যক্তি সকালে নিয়মিত সুপ্রভাত মেসেজ পাঠান, তার সাথেই দিনেরবেলা দেখা হলে কিন্তু তিনি কোনোরকম শুভেচ্ছাই জানান না! আমার তাই রাগও হয় না, মজাও পাই না, শুধু করুণা হয় যে কীভাবে এত বুদ্ধির অভাব হতে পারে কোনো মানুষের!" 'সুপ্রভাত' এর জেরে জেরবার স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল অনেক ভাবনা চিন্তা করে নিয়ে এসেছে একটি নতুন অ্যাপ - যা দিয়ে খুঁজে বার করা যাবে 'গুড মর্নিং' মেসেজগুলো আর সহজেই সেগুলোকে ডিলিট করা যাবে। গুগলের দাবি, ওই অ্যাপের মাধ্যমে এক জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ স্পেস খালি করা সম্ভব।