Thursday, June 2, 2011

রোহিঙ্গাদের ‘দুই সন্তান’ নীতি বাতিলের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

রোহিঙ্গা মুসলমানদের সর্বোচ্চ দুই সন্তান গ্রহণের নীতি অবিলম্বে পরিহার করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নীতির সমালোচনা করে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি একে মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করার পর যুক্তরাষ্ট্র এ আহ্বান জানাল।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের কর্তৃপক্ষ মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর সর্বোচ্চ দুই সন্তান নীতি আরোপ করেছে। এ নীতি অনুযায়ী তাঁরা দুটি সন্তানের বেশি সন্তান নিতে পারবেন না। বৌদ্ধদের সঙ্গে দফায় দফায় ভয়াবহ সহিংসতার পর উত্তেজনা কমাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়েন সাকি বলেন, ‘রোহিঙ্গা মুসলমানদের সর্বোচ্চ দুটি সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, এতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
সাকি জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, ‘জন্ম নিয়ে বৈষম্যমূলক ও বাধ্যতামূলক যেকোনো ধরনের নীতির বিরোধিতা করবে ওয়াশিংটন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে আমরা মিয়ানমার সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চাপ দিয়েছি। কোনো বিলম্ব ছাড়াই এ ধরনের সব নীতি প্রত্যাহার করতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
গত সপ্তাহে অং সান সু চি বলেন, ‘এটি মানবাধিকারের পরিপন্থী। এ রকম বৈষম্য থাকা ভালো নয়। তা ছাড়া এটি মানবাধিকারের সঙ্গে যায় না।’
দুই সন্তান নীতি ছাড়াও বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে রাখাইনের দুই এলাকা বুথিডাউং ও মাউনডাউয়ে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ দুটি শহরের ৯৫ শতাংশ বাসিন্দাই মুসলিম।
সরকারি এক কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এসব পদক্ষেপ কার্যকর হয় বলে জানান রাখাইন রাজ্যের মুখপাত্র উইন মিয়াং। তিনি জানান, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমন এবং সংখ্যালঘু মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এ কমিশনকে। সহিংসতা এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা দ্বিগুণ করারও পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
উইন মিয়াং বলেন, রাখাইনদের চেয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১০ গুণ বেশি। অতিরিক্ত জনসংখ্যাই অস্থিরতার কারণ। রাখাইন কর্তৃপক্ষের এ জনসংখ্যানীতিকে ‘জঘন্য অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

ওবামার ঠিকানায় ‘সন্দেহজনক চিঠি’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঠিকানায় ‘সন্দেহজনক চিঠি’ পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় নিযুক্ত কর্মকর্তারা ওই চিঠি শনাক্ত করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, অবৈধ অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গকেও একই ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠির সঙ্গে ওবামাকে পাঠানো চিঠির যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ওবামাকে পাঠানো চিঠির বার্তা কী, এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ওবামা বরাবর হোয়াইট হাউসে আসা চিঠিপত্র তদারক করতে গিয়ে সন্দেহজনক চিঠির বিষয়টি নজরে আসে। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা কীভাবে চিঠিটি সন্দেহজনক বলে শনাক্ত করেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
হুমকি দিয়ে লুইজিয়ানা থেকে মেয়র ব্লুমবার্গের নিউইয়র্কের ঠিকানায় এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংগঠন মেয়রস অ্যাগেইনস্ট ইলিগ্যাল গানসের ওয়াশিংটন কার্যালয়ের ঠিকানায় চিঠি দুটি পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষা করে ওই চিঠিতে বিষাক্ত রাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

কিরগিজস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ

কিরগিজস্তানে কানাডার মালিকানাধীন একটি সোনার খনির বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেওয়া শ খানেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা মিছিল বের করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সরকারি কৌঁসুলিরা জানান, কামতোর নামের ওই খনি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ সময় ৯২ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কানাডার খনি গ্রুপ সেন্তেরা গোল্ডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীন কামতোর খনি থেকে উৎপাদন শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। এর অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটার উঁচুতে। বিক্ষোভকারীরা এই খনির জাতীয়করণের দাবি করছেন। তাই গত বৃহস্পতিবার শত শত বিক্ষোভকারী কামতোর খনিতে অবস্থান নেয় এবং খনির বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেয়।
সেন্তেরা গোল্ড জানিয়েছে, খনির উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট আলমাবেক আতমাবেয়েভ বলেন, ‘দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’
কিরগিজস্তানের কর্মকর্তারা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর বিদ্যুৎ-সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে খনির উৎপাদন খুব শিগগির শুরু করা যাবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না।

নওয়াজকে সহায়তার ঘোষণা ইমরানের

মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলা বন্ধে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান সে দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ইমরান খানের বরাত দিয়ে পিটিআইয়ের পাঞ্জাব প্রদেশের প্রেসিডেন্ট এজাজ চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে পিটিআইয়ের প্রধান ইমরান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে, নয়তো শক্তি প্রয়োগ করে ড্রোন হামলা বন্ধ করতে হবে।
পিটিআইয়ের প্রধান বলেন, ড্রোন হামলা বন্ধের প্রশ্নে সদ্য বিদায়ী সরকার এবং সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের নীতির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণ নির্বাচনে রায় দিয়েছে। অথচ এটা গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, গত বুধবারও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং ‘নিষ্পাপ’ মানুষ নিহত হয়েছে। তবে নওয়াজ শরিফকে উদ্দেশ করে ইমরান খান পাকিস্তানের ক্ষমতার সংকট নিরসনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কোনো বিবৃতি দেননি।
নওয়াজের সরকারকে সমর্থন: পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কিছু ভিন্নমতাবলম্বী সিনেটর দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) সরকারকে সমর্থন দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ জন্য তাঁরা বৃহস্পতিবার একটি হোটেলে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কেন্দ্রশাসিত উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকাগুলোর কয়েকজন স্বতন্ত্র সিনেটরও উপস্থিত ছিলেন।
নওয়াজের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে পিপিপি: পাকিস্তানের পার্লামেন্টে আগামী ৫ জুন নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচনে পিএমএল-এনের প্রধান নওয়াজ শরিফ প্রার্থী হবেন। এ জন্য দলটি নওয়াজকে সর্বসম্মতভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য পিপিপির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। তবে পিপিপি সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মখদুম আমিন ফাহিমকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসরায়েলকে জবাব দেওয়ার হুমকি

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তাঁর দেশ ভবিষ্যতে আর কোনো ইসরায়েলি বিমান হামলা হলে তার জবাব দেবে।
লেবাননের কট্টরপন্থী শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশনকে গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওই হুঁশিয়ারি দেন। গোষ্ঠীটি সিরিয়া সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, সিরিয়ায় বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের চালান সিরিয়ায় ইতিমধ্যে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেননি।
আসাদ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আমরা জানিয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতে আমরা যেকোনো ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দেব।’ গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার প্রতিরোধ যুদ্ধের এক নতুন ক্ষেত্র হিসেবে খুলতে দেশটির সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল এই মালভূমি দখল করে রেখেছে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল তার দখলকৃত এলাকা আরও সম্প্রসারণ করে। তবে তাদের এ পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো সমর্থন দেয়নি। ইসরায়েলও সতর্ক করে বলেছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হলে সিরিয়াতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
প্রেসিডেন্ট আসাদের ওই সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের আগে তাঁকে উদ্ধৃত করে আল-মানার টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়া এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালান গ্রহণ করেছে। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে সম্পাদিত সব চুক্তিরই বাস্তবায়ন হবে। এর কতগুলো সম্প্রতি কার্যকর হয়েছে। বাকিগুলোও আমরা বাস্তবায়ন করব।’
ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেনি রাশিয়া: রাশিয়ার গণমাধ্যমগুলোর খবরে গতকাল শুক্রবার বলা হয়েছে, দেশটি এখনো সিরিয়াকে এস-৩০০ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থার কোনো চালান সরবরাহ করেনি। এই ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ এ বছর, এমনকি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হতে পারে।

ইউরোজোনে বেকারত্বে নতুন রেকর্ড

ইউরোজোন হিসেবে পরিচিত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক অঞ্চলে গত এপ্রিল মাসে বেকারের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এপ্রিলে এই অঞ্চলে বেকার ছিল এক কোটি ৯৩ লাখ সাত হাজার লোক। আর বেকারত্বের হার ছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ, যা বিগত মার্চের চেয়ে দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এই হিসাবে নতুন করে ৯৫ হাজার লোক বেকার হয়েছে। সরকারি নথিপত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যসংখ্যা ২৭ হলেও ইউরোজোনের সদস্যসংখ্যা ১৭। যুক্তরাজ্যসহ ১০টি ইইউভুক্ত দেশ ইউরোজোনে নেই।
ইইউর পরিসংখ্যানবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউরোস্টার্ট জানিয়েছে, বেকারত্বের সর্বোচ্চ হার গ্রিসে। দেশটিতে ২৭ শতাংশ মানুষ বেকার (ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী)। অর্থাৎ দেশটির প্রতি চারজনের একজন বেকার। উচ্চ হারের অপর দেশগুলো হলো স্পেন (২৬ দশমিক ৮ শতাংশ) ও পর্তুগাল (১৭ দশমিক ৮ শতাংশ)।
অপরদিকে বেকারত্বের সর্বনিম্ন হার অস্ট্রিয়ায়। এখানকার বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। নিম্ন বেকারত্বের হারের অপর দেশগুলো হলো জার্মানি (৫ দশমিক ৪ শতাংশ) ও লুক্সেমবার্গ (৫ দশমিক ৬ শতাংশ)।
সামাজিক সংকট: ইউরোজোনে তরুণ বেকারের সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেখানে ২৫ বছরের কম বয়সী ৩৬ লাখ মানুষ বেকার।
ইতালিতে তরুণ বেকারের হার উল্লেখ্যযোগ্য। ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২৪ মাস ধরে ইউরোজোনে বেকারত্বের হার বাড়ছে।

ভালদেস বার্সায় আরও এক বছর

বার্সেলোনার গোলপোস্টের নিচে কেটে গেছে এক যুগ। কিন্তু গত জানুয়ারিতে ভিক্টর ভালদেস হঠাৎ করেই জানিয়ে দেন, ২০১৪ সালে চুক্তি শেষ হওয়ার পর বার্সেলোনায় আর থাকতে চান না। শোনা যাচ্ছিল, এই মৌসুম শেষেই ন্যু ক্যাম্পকে বিদায় জানাতে পারেন। তবে ভিক্টর ভালদেস জানিয়ে দিয়েছেন, এই মৌসুম শেষেই ক্লাব ছাড়বেন না। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে যে আগ্রহী নন, সেটাও নিশ্চিত করেছেন।
আরও এক মৌসুম কেন বার্সেলোনায় থেকে যেতে চান, সেটিও পরিষ্কার করেছেন লা মাসিয়ার ছাত্র, ‘২০১৪ সালে বার্সেলোনার সঙ্গে আমার এখনকার চুক্তি শেষ হওয়ার পরই আমি বার্সা থেকে বিদায় নেব। কারণ, আমি মনে করি, ১৮ মাসের মধ্যে ক্লাব একটা ভালো সমাধান খুঁজে নেবে, যাতে বার্সার মতো আমিও জয়ের ধারাটা বজায় রাখতে পারি।

প্রোটিয়াদের ব্যাটিং প্র্যাকটিস

ব্যাটিং প্রস্তুতিটা ভালোই হলো দক্ষিণ আফ্রিকার। আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে হল্যান্ডের বিপক্ষে কাল ৩ উইকেটে ৩৪১ রান করেছে টেস্ট-শ্রেষ্ঠ দলটি। আমস্টিলভিনে এরপর হল্যান্ডকে ২৫৭ রানে আটকে রেখে ৮৪ রানে জিতেছে সফরকারীরা। ৯৮ রানে রানআউট হয়েছেন ডাচ ওপেনার এরিক সোয়ারচিনস্কি। ৪ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার রবিন পিটারসন।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৫০ রান করে অপরাজিত থেকে যান জেপি ডুমিনি। ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন ফ্যাফ ডু প্লেসিস, ৮২ রান করেছেন কলিন ইনগ্রাম। ইনিংসের শুরুতে অবশ্য অস্বস্তিই ঘিরে ছিল প্রোটিয়াদের। ৩৮ রানে ২ উইকেট হারানো দলটিকে রানের পাহাড়ে তোলে দুটি ১৫০ রানের জুটি। তৃতীয় উইকেটে ইনগ্রামের সঙ্গে ১৫১ ও চতুর্থ উইকেটে ডু প্লেসিসের সঙ্গে ১৫২ রান যোগ করেন ডুমিনি। এক ইনিংসে দুটি ১৫০ রানের জুটি এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দেখল ওয়ানডে ক্রিকেট। এর আগে ২০০৯ সালে রাজকোটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের দুটি দেড় শ ছাড়ানো জুটি ছিল। কাল শেষ ১০ ওভারে ১৪৪ ও ৫ ওভারে ৯৯ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

পিস্টোরিয়াসের হৃদয়জুড়ে স্টিনক্যাম্প!

বান্ধবী রিভা স্টিনক্যাম্পকে গুলি করে মেরেছেন। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে অস্কার পিস্টোরিয়াসের বিরুদ্ধে। তবে সিএনএনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে পিস্টোরিয়াসের চাচা জানিয়েছেন, স্টিনক্যাম্পকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারেননি বিশ্বের পা-বিহীন দ্রুততম মানব। হত্যার অভিযোগে মামলায় জামিনে থাকা পিস্টোরিয়াস সারাক্ষণ স্টিনক্যাম্পের ছবি নিয়ে পড়ে থাকেন।
সম্পর্কে চাচা হলেও আরনল্ড পিস্টোরিয়াস একই সঙ্গে পিস্টোরিয়াসের এজেন্ট ও কোচ। জামিন পাওয়ার পর তিন মাস ধরে তাঁর বাড়িতেই আছেন এই অ্যাথলেট। পিস্টোরিয়াসের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আরনল্ড জানান, স্টিনক্যাম্পকে হারিয়ে পিস্টোরিয়াসের হৃদয় ভেঙে গেছে। তাঁর কেবলই মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে গুলি করে মেরেছেন তিনি। এই বাস্তবতা নিয়ে তাঁকে গোটা জীবন কাটাতে হবে। এখন সারাক্ষণ নিজের চারপাশে বান্ধবী রিভা স্টিনক্যাম্পের ছবি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন পিস্টোরিয়াস।
আগামী মঙ্গলবার পিস্টোরিয়াসকে প্রিটোরিয়ার আদালতে হাজির করা হবে। ভাতিজার জন্য তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে আরনল্ড বলেন, ‘পিস্টোরিয়াস ঘরের ভেতরেই দিন-রাত পার করছে; বাড়ির বাইরে যাচ্ছে না। সে দাড়ি রেখেছে, যেন তাকে দেখে কেউ চিনতে না পারে। আপনার ভালোবাসার মানুষ মারা গেলে আপনি কেমন অনুভব করবেন? আর তার মৃত্যুটা যদি আপনার কারণেই হয়? এটা অচিন্তনীয়।’
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের ভোরে প্রিটোরিয়ায় পিস্টোরিয়াসের বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান স্টিনক্যাম্প। ২৯ বছর বয়সী স্টিনক্যাম্পের লাশের পাশেই একটি নাইন এমএম পিস্তল পাওয়া যায়। ওই পিস্তলের চারটি গুলি লাগে তাঁর শরীরে। ঘটনার পরপরই বাড়িটি ঘেরাও করে পিস্টোরিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২৬ বছর বয়সী পিস্টোরিয়াসের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত হত্যা’র অভিযোগ আনা হয়েছে। অবশ্য আদালতে লিখিত জবানবন্দিতে দক্ষিণ আফ্রিকান এই অ্যাথলেট দাবি করেন, তিনি ভেবেছিলেন যে তাঁর ঘরে অনাহূত কোনো চোর বা ডাকাত ঢুকেছে। সেটা ভেবেই গুলি চালিয়েছিলেন। তবে পিস্টোরিয়াসের এক প্রতিবেশী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, ওই রাতে পিস্টোরিয়াসের সঙ্গে তাঁর বান্ধবী স্টিনক্যাম্পের ঝগড়াঝাটির শোরগোল পাওয়া যাচ্ছিল। এর পরই শোনা যায় গুলির শব্দ।
আদালতে হত্যার অভিযোগ পড়ে শোনানোর সময় ম্যাজিস্ট্রেট ডেসমন্ড নাইরের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন পিস্টোরিয়াস। একপর্যায়ে দুই হাতে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন তিনি। এর এক সপ্তাহ পর ডেসমন্ড নাইর পিস্টোরিয়াসের জামিন মঞ্জুর করলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও ভক্তরা। তবে এ সময় নির্বিকার ছিলেন বিশ্বের পা-হীন দ্রুততম মানব।
স্টিনক্যাম্প ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মডেলিং জগতে পরিচিত এক মুখ। পিস্টোরিয়াসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় গত বছরের নভেম্বরে। আইন বিষয়ে স্নাতক পোর্ট এলিজাবেথের এই স্টিনক্যাম্প মারা যাওয়ার আগে দেশটির ‘সানডে টাইমস’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে পিস্টোরিয়াসকে ‘নিষ্কলুষ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

ব্রাজিলের ‘হুমকি’ জার্মানি-স্পেন

ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা দারুণ। তবে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ব্রাজিলের জন্য ‘হুমকি’ মনে করেন না নেইমার।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা নেইমার মনে করেন, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সত্যিকারের হুমকি হয়ে দেখা দিতে জার্মানি ও স্পেন। ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য সান’ এ খবর জানিয়েছে।
ওয়েম্বলিতে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। কাল দুই দলের মধ্যকার আরেকটা প্রীতি ম্যাচ। ভেন্যু হলো ব্রাজিলের ‘ঐতিহাসিক’ মারাকানা স্টেডিয়াম। কালকের ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ২০১৪ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন সাজে সজ্জিত মারাকানা স্টেডিয়ামের। এক বছর দূরে থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই চলে আসছে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ।
পরবর্তী বিশ্বকাপ ঘরের মাঠে বলে শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নেইমার বলেন, ‘ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের প্রতি খুব শ্রদ্ধা রয়েছে আমার। ক্লাব ফুটবলে তারা অনেক কিছু করেছে। কিন্তু জাতীয় দল হিসেবে ইংল্যান্ডকে আমি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখি না।’
নেইমার বলেন, ‘নিজেদের দর্শকদের সামনে শিরোপার উত্সব করতে চাই আমরা। আমার কাছে বিশ্বকাপে আমাদের সামনে সত্যিকারের হুমকি দুটি দেশ—জার্মানি ও স্পেন। এরপর রয়েছে আর্জেন্টিনা, হল্যান্ড, ইতালি এবং আরও দু-একটি দেশ। ইংল্যান্ডকে সেভাবে দেখি না।’
আগামীকালের প্রীতি ম্যাচটি সম্পর্কে নেইমার বলেন, ‘রোববারের ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সাজে সজ্জিত এই স্টেডিয়ামে জয় দিয়ে শুরু করতে চাই আমরা।’ কোচের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যও ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান এই ফুটবলার। নেইমার বলেন, ‘কোচকে মুগ্ধ করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ১১ জন খেলোয়াড় জায়গা পাবে। ওই দলে জায়গা পেতে হলে এই ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।’
২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ কয়েকবারই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিল ব্রাজিল ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। স্টেডিয়াম নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের ধীরগতি ইত্যাদি নিয়ে ফিফার কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল আয়োজকদের। তবে কিছুটা দেরি হলেও শেষ পর্যন্ত পরবর্তী বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান ভেন্যু মারাকানা স্টেডিয়ামের পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে ব্রাজিল। আয়োজকদের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপের ফাইনালসহ মোট সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এই স্টেডিয়ামে।
কালকের প্রীতি ম্যাচ নিয়ে অবশ্য সংশয় জেগেছিল। মারাকানা স্টেডিয়াম এখনো পুরোপুরি ‘নিরাপদ’ নয় উল্লেখ করে গত পরশু সেখানে ম্যাচ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ব্রাজিলের একটি আদালত। রিও ডি জেনিরো রাজ্য সরকার এর বিরুদ্ধে আপিল করলে রাতেই আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন।

গাদ্দাফি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন না

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন না। তবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আছেন। গত সোমবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির সঙ্গে বৈঠকের পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা এ কথা জানান।
প্রেসিডেন্ট জুমা লিবিয়া ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর সামরিক জোট ন্যাটো ত্রিপোলির বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) পক্ষে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ত্রিপোলি যান প্রেসিডেন্ট জুমা। গাদ্দাফির সঙ্গে বৈঠকের পর জুমা বলেন, ন্যাটো লিবিয়ায় বিমান হামলা বন্ধ করলে গাদ্দাফি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে রাজি আছেন। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করবেন না। জ্যাকব জুমা আরও বলেন, লিবিয়ায় সংঘাত বন্ধে এইউর রূপরেখা বাস্তবায়নে গাদ্দাফি প্রস্তুত আছেন। তিনি জানান, গাদ্দাফি লিবিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দেশটির জনগণকে নিজেদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন।
প্রেসিডেন্ট জুমা বলেন, ‘লিবিয়ার বর্তমান সংকট সমাধানে দেশটির জনগণকে একটি সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’
তবে গাদ্দাফির যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আবারও নাকচ করে দিয়েছে বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফাথি বাজা বেনগাজিতে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। এখন আমরা কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছি না। আর গাদ্দাফির এ প্রস্তাব তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলমাত্র।’ তিনি বলেন, ‘গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।’
এর আগেই এইউর পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ন্যাটো ও লিবিয়ার বিদ্রোহীরা। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এইউর পরিকল্পনায় গাদ্দাফির ক্ষমতা ছাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জুমা ত্রিপোলি ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর ন্যাটো বোমা হামলা চালিয়েছে। তাজুরা, আল জাফরাসহ বিভিন্ন স্থানে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়।
পক্ষত্যাগ: গাদ্দাফির পক্ষ ত্যাগ করেছেন শতাধিক সামরিক কর্মকর্তা। ইতালির রাজধানী রোমে গত সোমবার লিবিয়ার ঊর্ধ্বতন আটজন সামরিক কর্মকর্তা জানান, তাঁরাসহ কমপক্ষে ১২০ সামরিক কর্মকর্তার একটি দল সম্প্রতি গাদ্দাফির পক্ষ ত্যাগ করেছে। গাদ্দাফির সেনাদের ক্ষমতার মাত্র বিশ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।
ইতালি সরকারের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচজন জেনারেল, দুজন কর্নেল ও একজন মেজর পদমর্যাদার।
আট কর্মকর্তার একজন জেনারেল উন আলী উন বলেন, ‘আমাদের জনগণের ওপর যা ঘটছে, তা আমাদের আতঙ্কিত করেছে। লিবিয়ায় যা ঘটছে তা হলো গণহত্যা...নারীর প্রতি সহিংসতা। আমরা যা নিজ চোখে দেখেছি এবং আমাদের যা করতে নির্দেশ দেওয়া হতো, তা কোনো বিবেকবান মানুষ করতে পারে না।’
গাদ্দাফির পক্ষ ত্যাগ করা লিবিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুর রহমান শালগাম জানান, সম্প্রতি গাদ্দাফিকে ছেড়ে যাওয়া ১২০ জন সামরিক কর্মকর্তা এখন লিবিয়ার বাইরে অবস্থান করছেন।

এবার ‘সোনিয়া আম’

শচীন আম ও ঐশ্বরিয়া আমের পর ভারতের খ্যাতনামা উদ্যান বিশেষজ্ঞ হাজি কালিমুল্লাহ খান এবার নতুন প্রজাতির আম উৎপাদন করেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘সোনিয়া আম’।
ভারতের ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক দল কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর নামের সঙ্গে মিল রেখে এই আম চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাজারে আসবে বলে কালিমুল্লাহ জানান। আমটি দেখতে সোনালি রঙের, খেতে দারুণ সুস্বাদু।
উত্তর প্রদেশের মালিহাবাদ অঞ্চলের বাসিন্দা কালিমুল্লাহ (৭০) দীর্ঘদিন ধরে কলম করে নানা প্রজাতির ফল উৎপাদন নিয়ে গবেষণা করছেন। গত বছর মে মাসে শচীন আম বাজারে ছেড়েছেন। উৎপাদন করেছেন ঐশ্বরিয়া আমও।
গোটা ভারতজুড়ে রয়েছে কালিমুল্লাহর সুনাম। প্রতিবছরই তিনি গবেষণা করে নতুন নতুন ফল উৎপাদন করছেন।
কালিমুল্লাহ তাঁর নতুন প্রজাতির আম নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজ হাতে ‘সোনিয়া আম’ তুলে দিতে চান কংগ্রেস সভানেত্রীর হাতে।
কালিমুল্লাহ শত বছরের একটি গাছে ১৯৮৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক প্রজাতির আম উৎপাদন করেছেন। এ জন্য তিনি পদ্মশ্রী খেতাব পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ব্যবসায় আমাদের পরিবারের রয়েছে দেড় শ বছরের ইতিহাস। এই গাছটিতে আমি আরও নানা প্রজাতির ফল উৎপাদন করতে চাই।’