Tuesday, September 27, 2016

হিলারি-ট্রাম্পের বাকযুদ্ধ

মুখোমুখি বিতর্কের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকানের ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি কম হয়নি। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে দুই নেতা প্রথম টিভি বিতর্কে অংশ নেন। এসময়ও দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তিন পর্বের ধারাবাহিক বিতর্কের প্রথম পর্বে বিপুল ব্যবধানে জয় পান হিলারি। এদিকে প্রার্থী নির্বাচনের সময় থেকে প্রথম পর্বের বিতর্ক পর্যন্ত হিলারিকে ঘায়েল করতে ট্রাম্প বেছে নিয়েছেন বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নারী লাঞ্ছনার ঘটনা ও ই-মেইল কেলেংকারিকে। অন্যদিকে, হিলারি বেছে নিয়েছেন ট্রাম্পের জুয়ার (ক্যাসিনো) ব্যবসার প্রসঙ্গ। হিলারির জিজ্ঞাসা, ‘জুয়ার ব্যবসায় কিভাবে লোকসান হয়?’ জুয়ার ব্যবসায় যদি দেউলিয়া হন, তবে ট্রাম্প দেশের অর্থনীতি বাঁচাবেন কীভাবে। দেশকেও তিনি দেউলিয়া বানিয়ে ছাড়বেন। এছাড়া হিলারিকে ঘায়েলে ট্রাম্প তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছেন ক্যাথলিন উইলি এবং হুয়ানিতা ব্রড্রিক নামের দুই নারীকে। এরা সেই দুই নারী, যারা ক্লিনটনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। ক্লিনটন ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে এ নিয়ে কোনো মামলাও হয়নি।
এমনকি হিলারিকে নানা দিক থেকে বিদ্ধ করতে তাকে আইএসের প্রতিষ্ঠাতা, মিথ্যাবাদী, শয়তান ও কুটিল নারী বলতেও দ্বিধা করেননি ট্রাম্প। এর জাবাবে ট্রাম্পকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করে হিলারি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নিজের কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ করতে ভয় পান। তিনি প্রেসিডেন্ট হলে দেশকে দেউলিয়া করে ফেলবেন। এছাড়া ট্রাম্প নানা ইস্যুতে মার্কিনিদের ভুল পথে নিয়ে যেতে চান বলে অভিযোগ তোলেন হিলারি। তিনি সব আমেরিকানকে আমেরিকান হিসেবে দেখেন না। হিলারি বলেছেন, ট্রাম্প এমনই একজন পুরুষ, যিনি নারীদের শুকরি, কুকুরি, ন্যক্কারজনক প্রাণী বলে অভিহিত করেন। পরিকল্পিত পিতৃত্ব-মাতৃত্বকে যিনি বন্ধ করে দিতে চান, নিরাপদ ও বৈধ গর্ভপাতকে যিনি শাস্তিযোগ্য মনে করেন, তিনি অন্তত নারীদের কিসে ভালো তা অনুবাধন করতে পারেন না। জাবাবে ট্রাম্প বলেন, কুটিল হিলারি মার্কিন অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবেন। তিনি সিরীয় শরণার্থীদের দিয়ে দেশ ভরে ফেলবেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে হিলারি অযোগ্য মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে মৌলবাদী বিচারক নিয়োগ দেবেন, যারা বেঞ্চ থেকেই আইন জারি করবেন। কংগ্রেসের দরকার মনে করবে না। ট্রাম্পকে চরম বর্ণবিদ্বেষী বলে অভিযোগ করে হিলারি বলেন, 'ট্রাম্পের ভাবনা বর্ণবিদ্বেষ ছড়ায়। জাতিভেদ তৈরি করতে তিনি ঘৃণা ছড়ান। হিলারি আরও বলেন, ‘তিনি নিজের ক্যাসিনোতে কৃষ্ণাঙ্গদের চাকরি দিতেন না।'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিতর্কে কী দেখা গেল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম বিতর্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একেবারে ধরাশয়ী করে ফেলেছেন। বিতর্কের সময় ট্রাম্প ছিলেন খামখেয়ালী, সামঞ্জস্যহীন এবং অসংলগ্ন। তিনি পুরো বিতর্ককালে আইনশৃংখলা ছাড়া আর কোনও ইস্যুতেই তার বক্তব্যকে মনে রাখার যোগ্য করার মতো কিছুই করতে পারেননি। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে হিলারি ও ট্রাম্প ৯০ মিনিট ধরে বিতর্ক করেন। এই বিতর্কের পর নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক লেখায় এভাবেই দুই প্রার্থীর পারফর্মেন্স মূল্যায়ন করেন থমাস বি এডসাল। থমাস লেখেন, বিতর্ককালে ট্রাম্প তার ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ না করার বিষয়টি যৌক্তিক করতে গিয়ে দাবি করেছেন, 'আমার সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পদ হলো আমার মেজাজ'। তিনি তার দেউলিয়াত্ব, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা, ধনীদের ট্যাক্স কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বিশৃংখল অবস্থায় থাকা সম্পর্কে যা বলেছেন তার সব কিছুতেই দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে বিতর্ককালে হিলারি ক্লিন্টন ছিলেন সুসঙ্গত এবং তথ্যভিত্তিক। তার বক্তব্যের সুন্দর দিকটি হলো দর্শকরা সহজেই তার কথা বুঝতে পেরেছেন। হিলারিকে খালি কলসি বেশি বাজে, কাজের বেলায় ঠনঠনাঠন বলে কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। কিন্তু এই মন্তব্য ট্রাম্পের বেলাতেই বেশি প্রযোজ্য। বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখা গেছে,
হিলারি আইসিসি থেকে শুরু করে পারমাণবিক অস্ত্র, সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্পকে এ ধরণের ইস্যুর জন্য অপ্রস্তুত মনে হয়েছে। থমাস লেখেন, এই বিতর্কের ব্যাপারে রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন কয়েকজনের ভাবনা জানতে চাই আমি। তাদের মধ্যে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের স্কলার নরম্যান অর্নস্টেইন ইমেইল জানান, বিতর্কের সময় ট্রাম্পকে রাগী, উদ্ভ্রান্ত, অস্থির এবং বেশির ভাগ সময় অসংলগ্ন মনে হয়েছে। তার জন্য বড় বাধা হলো তারমধ্যে প্রেসিডেন্টসুলভ বিনয়, মেজাজের ভারসাম্য এবং মৌলিক জ্ঞানের স্বল্পতা। এসব কিছুর ব্যাপারেই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। মিশিগান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিখেছিলেন, ট্রাম্প কেন তার ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেন না এ ব্যাপারে হিলারি যে অনুমানের কথা বলেছেন এটি ছিল বিতর্কমঞ্চের সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল। আটলান্টার ইমোরি ইউনিভার্সিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যালান আব্রামোভিৎজ লেখেন, যারা ট্রাম্পের বিরোধী তাদের কেউই বিতর্ককালে তার পারফর্মেন্সে প্রভাবিত হননি। বিতর্কে ট্রাম্পের থিম ছিল নিজেকে তুলে ধরার বাগাড়ম্বর। আর ক্লিন্টনের ৯০ মিনিটে ক্রমাগত গলা চড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ধরাশয়ী করে ফেলার জোরালো চেষ্টা করেন। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ক্লিনটন বলেন, তিনি হচ্ছেন সেই মানুষ যিনি নারীদের শূকর,  বোকা এবং কুকুর সম্বোধন করেছেন। ক্লিন্টন যখন বলেন, ট্রাম্প লাতিন মিস ইউনিভার্স অ্যালিসিয়া মাচাদোকে 'মিস শূকরী' এবং 'মিস গৃহিনী' সম্বোধন করেছিলেন, তখন ট্রাম্প হতাশ দৃষ্টিতে প্রতিদ্বন্দ্বির দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

মা-মেয়ের পর ছেলেসহ সাবেক আমলার আত্মহত্যা

বিকে বানসাল
ছেলেসহ আত্মহত্যা করেছেন সালবিকে বান। ভারতের সাবেক এই আমলার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা ছিল বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি। মঙ্গলবার সকালে দিল্লির বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে একটি 'সুইসাইড' নোটসহ বানসালের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে বানসালের স্ত্রী সত্যবালা বানসাল (৫৮) এবং মেয়ে নেহা (২৭) নিজ ঘরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। সে সময়ে তারা সিবিআই'র অভিযানের সময়ে নিজেদের অপদস্তের বর্ণনা দিয়ে সুইসাইড নোট লিখে যান।
এ ঘটনায় বানসালেল ছেলেকেও সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। মা-মেয়ের মৃত্যুর দু'দিন আগে ১৭ জুলাই দুর্নীতির মামলায় বিকে বানসালকে সিবিআই গ্রেফতার করে। পরে আগস্টে তিনি জামিন মুক্তি পান। বিকে বানসাল দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজি ছিলেন। তদন্তে সিবিআই তার বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের একটি ফার্মেসি কোম্পানির কাছ থেকে ২০ লাখ রুপি দাবি করে ৯ লাখ ঘুষ নেয়ার প্রমাণ পেয়ে মামলা করে। এছাড়া সিবিআই তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সে সময় নগদ ৬০ লাখ রুপি, ২০টি সম্পত্তির কাগজপত্র এবং ৬০টি ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য জব্দ করে।

হিযবুত তাহরীর নেতা ঢাবি শিক্ষক মহিউদ্দিনের বিচার শুরু

নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ'র অধ্যাপক মহিউদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে এ চার্জ গঠন করা হয়।  চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে উত্তরা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এই মামলার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো। আদালতের এপিপি তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাইদুর রহমান ওরফে রাজীব, কাজী মোরশেদুল হক ওরফে প্লাবন, এম এ ইউসুফ, তানভীর আহমেদ ও তৌহিদুল আলম চঞ্চল।
এদের মধ্যে তৌহিদুল আলম এ মামলায় পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছেন। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক মহিউদ্দিনসহ পাঁচ আসামি আজ আদালতে হাজির হন। তাদের উপস্থিতিতেই আদালত চার্জ গঠন করেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল উত্তরা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলায় হিযবুত তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া পলাতক তৌহিদুল আলম ছাড়া বাকি আসামিরাও বর্তমানে জামিনে আছেন।

হান্নান শাহ'র মরদেহ আসবে বুধবার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের মরদেহ বুধবার দেশে আনা হবে। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর নয়াপল্টনে জানাজা শেষে শুক্রবার গাজীপুর কাপাসিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে বর্ষীয়ান এই নেতাকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হান্নান শাহের ব্যক্তিগত সহকারী মো. শাজাহান শিরাজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তবে কখন কোন ফ্লাইটে হান্নানর শাহের মরদেহ দেশে আনা হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি। এদিকে মঙ্গলবার বাদ এশা সিঙ্গাপুরের থেরাঙ্গর রোডের এঙ্গোলিয়া জামে মসজিদে বর্ষীয়ান এ নেতার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার। মঙ্গলবার ভোরে সিঙ্গাপুরের র‌্যাফেলস হার্ট সেন্টার নামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেকমন্ত্রী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন হান্নান শাহ। অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয় র্যাফেলস হার্ট সেন্টারে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই সেন্টারে চিকিৎসক ডা. অ্যালভিন এনজি'র নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক সাবেক এই মন্ত্রীর হৃদযন্ত্রে সফল অস্ত্রোপচার করেন। তখন শাহ রেজানুর জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হান্নান শাহের হৃদযন্ত্রে চারটি রিং বসানো হয়। বিকালে করানো হয় এনজিওগ্রাম। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় খুলে দেয়া হয় লাইফ সাপোর্টও। কিন্তু ১৩ দিনের মাথায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান এই নেতা। হান্নান শাহ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে  সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। পরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। হান্নান শাহ গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় তিনি পাটমন্ত্রী ছিলেন।

'আ'লীগের সার্চ কমিটির ইসি সরকারের মেয়াদই বাড়াবে'

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, 'আওয়ামী লীগের সার্চ কমিটি দিয়ে যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন হবে, তারা শুধু বর্তমান সরকারের মেয়াদই বৃদ্ধি করবে।' সোমবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সদ্য ঘোষিত ঢাকা জেলা বিএনপির (আংশিক কমিটি) পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। গয়েশ্বর দাবি করেন, 'নির্বাচন কমিশন গঠনে যারা সার্চ কমিটি গঠন করবে তারা আওয়ামী লীগ। যাদের কমিশনে নিয়োগ দেয়া হবে তারাও হবে আওয়ামী লীগের।' তিনি অভিযোগ করেন, 'নির্বাচন কমিশন গঠনের নামে লোক দেখানো সার্চ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরা ৫ জানুয়ারির চেয়ে একটি জঘন্য নির্বাচন করে বর্তমান সরকারের শুধু মেয়াদ বৃদ্ধি করবে।'
প্রায় ২৪ বছর পর ঢাকা জেলার কমিটি গঠিত হয়েছে জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এ কমিটি দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, সবাই সহযোগিতা করলে এ কমিটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।' তিনি বলেন, এটা নতুন কমিটির প্রথম সভা। এ সভায় আগের ও বর্তমান কমিটির অনেকে উপস্থিত হতে পারেননি। আরও সভা হবে। সবাই এ কমিটিকে শর্তহীন ও স্বার্থহীনভাবে সহযোগিতা করলে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হতে পারবে। হারানো গণতন্ত্রও পুনরুদ্ধার হবে। পরিচিতি সভায় ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবুর সভাপতিত্ব এতে অন্যদের বক্তব্য রাখেন- জেলার সিনিয়র সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম পল, কেন্দ্রীয় নেতা নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

৯ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৬,৬৫৬ কোটি টাকা

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলো মূলধন সংকটে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মালিকানাধীন ৮ ব্যাংকের মধ্যে ৭ ব্যাংকই মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। যেখানে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে মাত্র ৯টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে যাবে। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সোমবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও তদারকির অভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। আর খেলাপি ঋণ বাড়লে মূলধন ঘাটতি বাড়বেই। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের কারণে মূলধন ঘাটতি বেড়েছে।
ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে মূলধন ঘাটতি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নানা উদ্যোগের পরও মূলধন ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না সরকারি ব্যাংকগুলো। গত জুনে সরকারি খাতের ৭ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। গত মার্চে মূলধন ঘাটতি ছিল ৫ ব্যাংকে। এই ব্যাংকগুলোর ঘাটতি ছিল ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঘাটতিতে পড়া ব্যাংকের সংখ্যা ও পরিমাণ উভয় বেড়েছে। নিয়মানুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের মধ্যে যা বেশি সেই পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। জুন শেষে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ১৪ হাজার ১৭০ কোটি মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হওয়ায় ৬ হাজার ৭১ কোটি টাকা ঘাটতি পড়েছে। সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ ও মূলধন ঘাটতি সবচেয়ে বেশি সোনালী ব্যাংকের। জুন শেষে ব্যাংকটির ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৭৫০ কোটি। ঝুঁকিভিত্তিক এই সম্পদের বিপরীতে ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা মূলধন রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এটি রাখতে সক্ষম হয়নি ব্যাংকটি। মাত্র ১ হজার ৭৬৯ কোটি টাকা রাখায় মূলধন ঘাটতি হয়েছে ২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার হার মাত্র ৪ শতাংশ। যেখানে ন্যূনতম ১০ শতাংশ থাকতে হয়।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৮৬ কোটি ঘাটতি বেসিক ব্যাংকের। ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার হারও ঋণাত্মক প্রায় ১০ শতাংশ। ব্যাংকটির ঝুঁকিভিত্তিক ১১ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকার সম্পদের বিপরীতে ১ হাজার ১৫৩ কোটি রাখার প্রয়োজন ছিল। রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা সম্পদের বিপরীতে মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে পেরেছে। মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ হারে ১ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা সংরক্ষণের বিপরীতে মাত্র ৫৭৫ কোটি টাকা রাখতে পেরেছে ব্যাংকটি। জনতা ব্যাংকের ঘাটতি ৬৬৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ৩ হাজার ৮৭০ কোটি টাকার বিপরীতে ৩ হাজার ২০৬ কোটি সংরক্ষণ করতে পেরেছে। অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২০০ কোটি টাকা। সরকারি মালিকানাধীন ৮ ব্যাংকের মধ্যে শুধু বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৭৩৭ কোটি টাকা। সরকারি মালিকানাধীন দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৮ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি ৭ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। মূলধনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় ব্যাংকটি। জুন শেষে ১৩ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ৬৯৯ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ৪ হাজার ২২২ কোটি টাকার বিপরীতে কোনো মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হয়েছে। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি ২৯৮ কোটি টাকা। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ৭৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো ৭৬ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে ৬৪০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি হয়েছে। দেশের মোট ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৯টি বাদে ৪৭টি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় পরিমাণে তুলনায় বেশি পরিমাণে মূলধন রাখতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে ওই ৯ ব্যাংকের ১৬ হাজার ৬৫৬ কোটি ঘাটতি হলেও অন্য ব্যাংকের অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করায় সামগ্রিকভাবে ঘাটতি কমে এসেছে। এছাড়া জুন শেষে ব্যাংক খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগের প্রান্তিক মার্চে এই পরিমাণ আরও বেশি ছিল ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার কমেছে।