Sunday, December 15, 2024

ব্যাংকের ৮৭ শতাংশ ঋণ নিয়েছেন একজন গ্রাহক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৮৭ শতাংশ নিয়েছেন একজন গ্রাহক। দুঃখের বিষয় ঋণের এ অর্থগুলো এখন দেশে নেই, পাচার হয়ে বিদেশে চলে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ‘ড্রাইভিং চ্যালেঞ্জ: আনলকিং দ্য পটেনশিয়াল অব বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন গভর্নর মনসুর। অনুষ্ঠান আয়োজন করে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড।

গভর্নর বলেন, গত ১৫ বছরে দেশ থেকে বিপুল অর্থ ব্যাংকিং সিস্টেমের মধ্যদিয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে। এগুলো খুবই সুপরিকল্পিতভাবে নেয়া হয়েছে যেটা আমাদের সবার জন্য বেদনাদায়ক। ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংকের ৮৭ শতাংশ ঋণ নিয়েছে একজন গ্রাহক। দুঃখের বিষয় ঋণের অর্থগুলো এখন দেশে নেই, বিদেশে চলে গেছে। এ অর্থ ফেরত আনা কঠিন। ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়া তৈরি করেছি; যার মাধ্যমে ঋণ ও পাচারের অর্থ-সম্পদ রিকভারি বা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।
দেশের বেশ কিছু ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে ব্যাংক টু ব্যাংক তাদের সম্পদ পর্যালোচনা শুরু করা হবে। আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারা অর্থ নিয়ে গেছে সেটা বের হয়ে আসবে। ইউরোপ-আমেরিকার রাজনৈতিক সাহায্য নেয়া হবে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে।

মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে জানিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আসছে জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামবে। আর আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যে সমস্ত নীতি দরকার তার সবগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে মূল্যস্ফীতিতে উন্নতির লক্ষণ না দেখা দিলে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করা হবে বলে জানান আহসান এইচ মনসুর।
গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ হচ্ছে ও এখন বাজার স্থিতিশীল আছে।
এখন এলসি খুলতে কোনো জটিলতা নেই উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, গত চার মাসে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দু’টি পর্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, অর্থনীতিবিদ মোশতাক হোসেন খান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, এশিয়ান টাইগারের চেয়ারম্যান ইফতি ইসলাম, দ্য টাইম ট্রাভেলিং ইকোনমিস্টের লেখক চার্লস রবার্টসন, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন, ডিএসই ব্রোকারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসানুর রহমান।

mzamin


অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা, ১৬৭৬ অভিযোগের ৭৫৮টি যাচাই: নির্দেশদাতা হিসেবে হাসিনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে গুম কমিশন

বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত এ সংক্রান্ত কমিশন। হাসিনা ছাড়াও তার প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কমিশনের তদন্তে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুসহ র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশও করেছে কমিশন। শনিবার গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন (দ্য কমিশন অব এনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসাপিয়ারেন্স) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন। ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে জমা দেয়া রিপোর্টে কমিশন সদস্যরা এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগের মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এ ছাড়াও হাসিনা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে; যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা কাজটি এমনভাবে করেছে যাতে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। বিভিন্ন ফোর্স নিজেদের মধ্যে ভিকটিম বিনিময় করেছে এবং পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তিনি জানান, গুমের শিকার অনেকে এখনো শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না। তাদের ওপর এতটাই ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল যে তারা এখনো ট্রমায় ভুগছেন। প্রধান উপদেষ্টা তার সর্বশেষ বক্তব্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সঠিক বিচারের আশ্বাস দেয়ার পর রিপোর্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে কমিশনের সদস্যরা ড. ইউনূসকে আয়নাঘর পরিদর্শনের অনুরোধ জানান। তারা বলেন, আপনি আয়নাঘর পরিদর্শন করলে ভিক্টিমরা অভয় পেতে পারেন। প্রধান উপদেষ্টা তাদের এ অনুরোধে সম্মতি দিয়ে জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল যা আয়নাঘর নামে পরিচিতি পেয়েছে সেগুলো দেখতে যাবেন। তিনি কমিশন সদস্যদের তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং কাজটি এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তারা তিন মাস পর মার্চে আরও একটি ইন্টেরিম রিপোর্ট দেবেন। কাজটি শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কমপক্ষে আরও এক বছর সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এ সময় কমিশনের সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস ও মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ।
mzamin

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়বো -মতবিনিময়ে তারেক রহমান

বিএনপি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ, সক্ষম এবং সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মন্তব্য করে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি ও আমার দল বিএনপি উপলব্ধি করি, আপনাদের সমস্যা ও কষ্টগুলো বাস্তব এবং গভীর। আপনাদের মনে রাখতে হবে এই বাস্তবতায় আপনারা একা নন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। কারণ আপনাদের প্রতিবন্ধকতা আমাদের সবার প্রতিবন্ধকতা। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের পেছনে রেখে আমরা কখনো এগিয়ে যেতে পারি না। এগোতে চাইও না।

গতকাল রাজধানীর ঢাকার আগারগাঁও এলজিইডি-আরডিইসি ভবন মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অন্তত দেড় শতাধিক প্রতিবন্ধী নাগরিক এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো সেটি হবে সবার জন্য ফেয়ার, সবার জন্য ইনক্লুসিভ, সবার জন্য বাসযোগ্য এবং সবার জন্য উপভোগ্য। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যার ভিত্তি হবে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উদারতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ। আপনাদের কল্যাণ এবং সাফল্য আমাদের অগ্রাধিকার।

দেশে কিছু প্রাইভেট অর্গানাইজেশন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নানা ধরনের ট্রেনিং দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ট্রেনিং শেষে চাকরির ব্যবস্থা করতে গিয়ে তারা হিমশিম খায়। এ সমস্যার সমাধানে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো, যাতে দেশের বড় ব্যবসাগুলো একটি নির্দিষ্ট শতাংশ শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জ ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ করলে আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু ট্যাক্স সুবিধা বা কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট প্রদান করার চিন্তা করতে পারি। সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নামক যে তথাকথিত কার্ড রয়েছে, সেটিকে গতিশীল করে আমরা এর আওতায় স্বাস্থ্য বীমা, শিক্ষা বৃত্তি, পরিবহন ডিসকাউন্টসহ অন্যান্য সামাজিক সুবিধা প্রদান করতে চাই। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, আমরা তাদের জন্য বাস্তবসম্মত ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবো।

তারেক রহমান বলেন, বিশেষত আউটসোর্সিং, ডাটা প্রসেসিং এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিন্তু মেধাবী তরুণদের জন্য সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও কাঠামোগত সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি, ট্যাক্স ওয়েভার এবং ওয়ার্ক স্টেশন সৃষ্টির সুযোগ কার্যকরভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও, উদ্যমী ও সফল প্রতিবন্ধীদের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান করে উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো যাবে। আমরা গণপরিবহন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে চাই।

তিনি বলেন, আপনাদের সেই সাহস, সংকল্প ও শক্তি আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস। এটি আমাদের উদ্বুুদ্ধ করে একটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যেতে। আজ আমি আপনাদের এমন চারজন মানুষের জীবনের গল্প শোনাবো, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় যাদের অর্জিত সাফল্য আমাদের প্রেরণা জোগায়। প্রথম গল্পটি পটুয়াখালীর একজন ৬৮ বছর বয়সের মানুষের, যিনি বাকপ্রতিবন্ধী হলেও, ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করছেন। তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদেশি ক্লায়েন্ট থেকে ডলার উপার্জন করে পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করা এই মানুষটির সাফল্য প্রমাণ করে, বয়স বা প্রতিবন্ধকতা কখনো জীবনের গতিপথ বদলাতে পারে না। দ্বিতীয় গল্পটি এক তরুণের, যার কোমর থেকে পা পর্যন্ত অবশ। শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে শিখিয়েছিল, ‘আমার পা নেই তো কী হয়েছে? আমার হাত তো আছে।’ তিনি নিজের পছন্দের শখের কাজ, কাঠের শিল্পকলা তৈরির মধ্যে নিজের প্রতিভা প্রকাশ করতে শুরু করেন। পা না থাকলেও হাতের নিপুণ কাজে তিনি অসাধারণ কাঠের পণ্য তৈরি করেন, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয় এবং তার হাতের কাজ আজ দেশজুড়ে জনপ্রিয়।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, তৃতীয় গল্পটি মৌলভীবাজারের এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তরুণের, যিনি চা-বাগানের এক শ্রমিকের সন্তান। চোখে আলো নেই, কিন্তু মনের আলোর শক্তিতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তার সংগ্রামী মনোবল আমাদের শিখিয়েছে, ইচ্ছাশক্তি আর মেধা কখনো শারীরিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার মানে না। চতুর্থ গল্পটি এমন একজন মানুষের, যার চলার শক্তি নেই একমাত্র ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল নড়াতে পারেন। সেই আঙুল দিয়েই তিনি কম্পিউটারে কাজ করেন। কুমিল্লার এক ছোট ঘরে বসে তিনি বেলজিয়ামের প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্যের ক্যাটালগ ডিজাইন করেন, একক প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করে চলছেন অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক অগ্রযাত্রা। এই চারজন ব্যক্তি আমাদের দেখিয়েছেন যে, প্রকৃত সক্ষমতা শরীর দিয়ে নয়, মনের জোর, ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে মাপা হয়।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি মানুষ তার সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে। শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও যারা নিজ উদ্যোগে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাদের বিজয়ের গল্প আমাদের আলোর পথ দেখায়। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামীর বাংলাদেশে শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কাউকে বৈষম্যের শিকার না করে, পিছিয়ে না রাখে, সেই বহুমুখী উদ্যোগ নিয়ে জীবনযুদ্ধে বিজয়ের অজস্র প্রেরণাদায়ী গল্প সৃষ্টি করা হবে। একসঙ্গে কাজ করে আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলবো, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আমরা এমন একটি বাংলাদেশে বসবাস করেছি, যেখানে আমাদের প্রাপ্য নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা একে একে কেড়ে নেয়া হয়েছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং আপনারাও তার ব্যতিক্রম নন। ফলে আপনাদের জীবনের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা ব্যক্তিগতভাবে আমিও অনুভব করেছি। আমি আপনাদের জানাতে চাই, আমি এবং আমার দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলে আমাদের প্রতিজ্ঞা থাকবে আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা কেউ প্রতিবন্ধী নন। বরং আপনারা সকলে বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিক। আপনাদের প্রত্যেকের রয়েছে অসীম সক্ষমতা।
তিনি বলেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার নিশ্চিত করবে যে, দেশের অন্যান্য সকল নাগরিকের মতো আপনাদেরও নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে এবং সমানভাবে পৌঁছে দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা থাকবে। আপনাদের সুচিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ, চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং দেশের প্রতিটি স্থাপনা ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে আপনাদের জন্য এক্সিসেবল করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আজ আপনাদের বক্তব্য থেকে আমি উপলব্ধি করছি যে, আপনাদের হয়তো মনে হয় বাংলাদেশের অনেক কিছুই এখনো আপনাদের জন্য ফেয়ার নয়। অনেক জায়গায় আপনাদের একসেস দেয়া হয় না, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং হয়তো উপেক্ষিত করা হয়। আপনাদের এই অনুভূতিগুলোকে আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি এবং এগুলো সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নতুন আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইনের সঠিক বাস্তবায়ন, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি, কিংবা সেই অর্থের সুষ্ঠু বণ্টন যেভাবেই হোক, আমরা চেষ্টা করবো আপনাদের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান ন্যায্যতা ও একটি ফেয়ার শেয়ার নিশ্চিত থাকবে। সেই লক্ষ্যেই কিন্তু আপনাদের সঙ্গ আমাদের আজকের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান। আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনের মানোন্নয়নে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যার ভিত্তি হবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। আমরা একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেবো, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় করবে।

তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই জানেন, ২০০১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদান শুরু করলেও, আওয়ামী লীগ সেই ভাতাকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে নিজেদের নেতাকর্মীদের মাঝে লুটে নিয়েছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে তা ন্যায্যভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে চাই। নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে আমরা সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করবো, যাতে একজন প্রতিবন্ধীও সামাজিক সুবিধা থেকে বাদ না পড়ে।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার বিষয়টি বিবেচনা করবো এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করতে চাই। তাদের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক সেবা প্রদান, প্রায়োরিটি সল্যুশন এবং বিভিন্ন এডমিশনে নির্দিষ্ট অংশ সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এনে প্রতিবন্ধীসহ প্রান্তিক জনগণের ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও সুগম করার উদ্যোগ নিতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে জেলা পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থাকবে, যেখানে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, ব্রেইলসহ ইনক্লুসিভ এডুকেশনের আধুনিক পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষার মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অন্যতম লক্ষ্য থাকবে- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ নিশ্চিত করা। ড্রয়িং, আর্ট, মিউজিক, স্পোর্টস এই সমস্ত ক্রিয়েটিভ ও ইনোভেটিভ এক্টিভিটিতে তাদের জন্মগত দক্ষতা ও শেখার আগ্রহ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রদান করা হবে। প্রান্তিক থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত আমরা তাদের খেলাধুলার সিস্টেম্যাটিক ডেভেলপমেন্ট এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে প্যারাঅলিম্পিকে ভালো ফল অর্জনে সহায়তা করবো। স্পোর্টস, ডিবেট, সায়েন্স ফেয়ারসহ বহুবিধ সহশিক্ষা কার্যক্রমে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট স্পন্সরশিপের সুযোগও তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠন পরিষদের (পিএনএসপি) সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব ও আরেকজন সঞ্চালক ইফতেখার মাহবুব। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। এ ছাড়া বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, ফারজানা শারমিন পুতুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্থায়ী সদস্য সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক এম সাঈদ খান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ফারহান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

আইজিপি’র ক্ষমা প্রার্থনা ও আত্ম-সমীক্ষা by শহীদুল্লাহ ফরায়জী

সত্যকে স্বীকার করে, সত্যের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মহিমান্বিত নজির স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ডাক্তার বাহারুল আলম। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী সরকারের স্বার্থ রক্ষায় তাদের নির্দেশে পুলিশের কতিপয় সদস্য বাড়াবাড়ি করেছেন এবং আইন ভঙ্গ করেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অনেক নিরাপরাধ পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছেন। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয়। আমি পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

উপলব্ধি থেকে এবং বিবেকের অন্তর্নিহিত তাড়না থেকে ক্ষমা প্রার্থনা বা আত্ম-সমীক্ষা ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য স্পষ্ট করবে। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন বিষয়টিকে আরও সঙ্গতিপূর্ণ করে তুলবে। ফলে পুলিশ বাহিনীর অমানবিক সংস্কৃতির পরিবর্তে মানবিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে। পুলিশ বাহিনী অগৌরবের কলঙ্ক থেকে গৌরবে ফিরে আসবে। ক্রমাগতই আমাদের আত্ম-সমীক্ষার বিস্তৃতি ঘটাতে হবে। আমরা গত ১৫ বছর দেখেছি সরকার কর্তৃক সকল হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দিতে। প্রকাশ্যে মিছিলে বা জনসমাবেশে গুলি করে হত্যা, পুলিশ হেফাজতে হত্যা, বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যা, ক্রস ফায়ারের নামে হত্যা, নির্বিচারে মানুষ হত্যাই ছিল সরকারের মৌলিক কাজ। কারণ হত্যা না করলে, শত্রুকে নিধন না করলে, নির্মূল না করলে রাজত্ব হুমকিতে পড়ে। ফ্যাসিবাদের বিরোধিতাকারীরা সরকারের কাছে ছিল দেশের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু, সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারী। সুতরাং হাসিনার নির্দেশে পুলিশ, র?্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, ডিবি, সিআইডি, বিজেপি- যারাই রাষ্ট্রের সশস্ত্র শক্তি, তারাই মানুষ হত্যাকে পশু হত্যার সমকক্ষ করে ফেলেছিল। শেখ হাসিনা সরকার যে বয়ানের উৎপাদন করেছিল তা হচ্ছে - যারা সরকারের বিরোধিতা করে তারা স্বাধীনতা বিরোধী, চক্রান্তকারী, ষড়যন্ত্রকারী, সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি। এরা অধম পশুর চেয়েও নিম্নে। ফলে উন্নয়নের জন্য, অগ্রগতির জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিম্নমানের অধমদের হত্যা করা কোনো অন্যায় নয় বরং ন্যায়সঙ্গত। সরকারের এই ভয়ঙ্কর বয়ানে রাষ্ট্রের কয়েকটা শৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ঠুর এবং কসাই বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। ফলে যে যত দ্রুত হত্যা করতে পারতো, হত্যার পর সরকারবিরোধী চক্রান্ত বা নাশকতার নাটক করতে পারতো, সে তত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারতো এবং প্রমোশন ও ভালো পদায়ন নিশ্চিত হতো।

মেজর সিনহাকে যে ওসি প্রদীপ খুন করেছিল এর পূর্বে সে আরও শতাধিক হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিল। এই শতাধিক হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড পুলিশ সদরদপ্তরে জমা হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশ পদকের জন্য কয়েকবার মনোনয়ন করে এবং ওসি প্রদীপের পুলিশ পদক নিশ্চিত হয়। শেখ হাসিনা ‘মানুষ হত্যা’কে পুলিশের গুণ এবং দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করেছে। বিরোধীদলের নেতাকর্মীকে হত্যা এবং নির্বাচনে প্রতারণাপূর্ণ কর্মকাণ্ড দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে জয়লাভ করানোর বিষয়ে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) উল্লেখ থাকার রীতি চালু হয়েছিল। এসব বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন দেখে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন পদে পদায়ন করা হতো! রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি রাষ্ট্রকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল!
ছাত্র-জনতা আবার বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে রাহমুক্ত করেছে। বাংলাদেশের একজন আইজিপি এই প্রথম স্বীকার করেছেন- পুলিশের বাড়াবাড়িতে মায়ের বুক খালি হয়েছে, নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সত্যকে আড়াল করার, নিষ্ঠুরতাকে বৈধ করার- অতীতের কোনো প্রচেষ্টা কোনো আইজিপি সাহেব গ্রহণ করেননি। রাষ্ট্রের নাগরিক অর্থাৎ রাষ্ট্রের মালিকানার অধিকারী যিনি, তাকে বিনা বিচারে হত্যা করে, হত্যার স্বপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করার ভয়ঙ্কর সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা তিনি অব্যাহত রাখেননি। হত্যার স্বপক্ষে মিথ্যা বা বানোয়াট নাটকের কুশীলবের ভূমিকা গ্রহণ না করে, সত্য এবং নৈতিকতার সুউচ্চ স্তম্ভে একজন আইজিপি’র অবস্থান গ্রহণ করা- নিঃসন্দেহে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন পাঠ হিসেবে পর্যালোচনা করতে হবে।

রাষ্ট্র যে মিথ্যার কারখানা নয়, রাষ্ট্র যে কসাইয়ের পাটাতন নয়, রাষ্ট্র যে মিথ্যার মঞ্চ নয়, তা হাসিনা বুঝতে না পারলেও নতুন বাংলাদেশের শাসকদের বা রাষ্ট্রযন্ত্রে জড়িতদের বুঝতে হবে। রাজপথে, রাজনীতির ময়দানে, সমাবেশে, মিছিলে রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবি উঠছে, ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা বিলোপের লক্ষ্যে বজ্র-কঠিন স্লোগান হচ্ছে। লাখ লাখ তরুণ-তরুণী ছাত্র-ছাত্রীদের উষ্ণ রক্তে ও শিরায় শিরায় মাতম উঠেছে নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র উচ্ছেদের জন্য। আজ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজপথে বিদ্রোহের আগ্নেয়গিরি জ্বলে উঠেছে, আমাদের বিবেকের মশালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সে মশাল জ্বলতে শুরু করেছে দিগন্ত জোড়া অন্ধকারকে আলোকিত করার প্রক্রিয়া হিসেবে। এখন মানুষ আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে- শোষণ ও নিপীড়নের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। প্রশ্ন থাকবে, বিতর্ক থাকবে, দ্বিমত থাকবে, থাকবে বিরোধ কিন্তু মানুষের মহিমাকে ক্ষুণ্ন করার কোনো প্রচেষ্টা কারো থাকবে না। প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যকে ক্ষুণ্ন করার, জনগণের মালিকানা কেড়ে নেয়ার কোনো দূরভিসন্ধি থাকবে না, গণতন্ত্রকে হত্যা করে ক্ষমতা দখলের কোনো অভিপ্রায় থাকবে না। রাষ্ট্র পরিচালিত হবে নাগরিকের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়া-পাওয়ার উপর।
অতীতের পুলিশ এবং গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পুলিশ এই দুইয়ের মাঝে বড় পার্থক্য থাকতে হবে, মৌলিক পার্থক্য। আগের পুলিশ মনে করতো জনগণ ক্রীতদাস এখন মনে করবে জনগণের মালিকানায় এই রাষ্ট্র। ফ্যাসিবাদী আমলে সরকার হয়ে উঠতো জনগণের ঊর্ধ্বে ঐশ্বরিক মহিমার সমতুল্য। কিন্তু এখন সরকার হবে জনগণের। আগে সরকার হতো ‘ক্ষমতা’ ও ‘প্রভুত্বের’ কেন্দ্রবিন্দু, এখন সরকার হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কেন্দ্র। প্রজাতন্ত্রে প্রভুত্ববাদিতার কোনো স্থান নেই। হাসিনা সরকার রক্ষা করতে গিয়ে প্রভুত্ববাদিতা এবং দখলদারিত্ব প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল, জীবন এবং অধিকার, সাম্য সব উচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। অতীতের লুণ্ঠনজীবী, অতিরিক্ত বল প্রয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রের রূপান্তর ঘটাতে হবে। এতে প্রভুত্ববাদ বা বল প্রয়োগ করে হবে না। সরকার গঠিত হবে জনগণের বিবেক নিঃসৃত সম্মতি প্রদানের মাধ্যমে। ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার উচ্ছেদ হবে গণতন্ত্রয়ানের মাধ্যমে- ডিটেক্টরশীপ বা জোর জবরদস্তির মাধ্যমে নয়।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতেই আইজিপি সাহেব সত্যকে স্বীকার করেছেন, ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। অন্যায় মিথ্যা লালন করলে মানুষ তার আপনসত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সামগ্রিকভাবে শৃঙ্খলিত দাসে পরিণত হয়, জীবন-যাপনের নৈতিক সক্ষমতা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বৃত্তপনা এককভাবে বা যৌথভাবে বহু মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে। সুতরাং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায্যতার সূত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনীকে গঠন পুনর্গঠন করা প্রশ্নটি এখন খুব জরুরি।

সামাজিক ব্যবস্থা এবং সামাজিক উপলব্ধিগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো স্থাপন করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের যেমন যথেষ্ট জ্ঞানভিত্তিও দরকার, তেমনি মানবিক ও সহানুভূতিশীল যুক্তি প্রয়োগের দ্বারা পরিচালনা করা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন আইজিপি সাহেবের মতো সত্য স্বীকার করে এবং আত্ম-সমালোচনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে সর্বক্ষেত্রে। সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায্যতার সমবণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের রাষ্ট্রের মূল দর্শন- সাম্য মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচারকে ধারাবাহিকভাবে এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক দৃশ্যপটে নিয়ে আসতে হবে। এই ত্রয়ী আদর্শ যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের পরতে পরতে উন্মোচিত হয়। আমাদের অন্যায় আচরণের মিথ্যা অহমিকা, ভাগাড়ম্বর, দুর্নীতি ও চৌর্যবৃত্তির উৎসগুলোর অনুসন্ধান করতে হবে। রাজনৈতিক দর্শনে বা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়ায় নৈতিক ও ন্যায্যতার প্রয়োগের জন্য নতুন  ডিসকোর্স এবং নতুন পদ্ধতি বা নতুন ব্যবস্থা (পড়সঢ়ষবঃব ড়ৎফবৎরহম) লাগবে। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার নতুন নকশার উদ্ভাবন করতে হবে। অতীতে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে প্রকট অন্যায়ে আমাদের জর্জরিত করেছিল, রিমান্ড এবং আয়না ঘরে জীবনের মহিমাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল তা থেকে পরিত্রাণের উপায় এখনই শুরু করতে হবে বা শুরু হয়েছে। আইজিপি হিসেবে বাহারুল আলমের সত্যের প্রতি আনুগত্য ও ক্ষমা প্রার্থনায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালকও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং আয়না ঘরের অবস্থানের কথা স্বীকার করেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারও ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। রাজনীতি ও সামাজিক জীবনের সকল ক্ষেত্রেই নৈতিকতার জন্য জায়গা বরাদ্দ রাখতে হবে।

পুলিশ বাহিনীতে এ চর্চা শুরু হয়েছে, সমাপ্তি যেন না হয়। ফ্যাসিবাদের শাসনামলে এসব ছিল কল্পনারও অতীত।

যারা রাষ্ট্রের গোপন বন্দিশালা নির্মাণ করেছিলেন তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে অনুতাপ এবং জবাবদিহিতার প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করতে হবে। সংস্কৃতিরও রূপান্তর ঘটাতে হবে। সামাজিক ব্যবস্থাপনার সংশোধন প্রক্রিয়াও শুরু করতে হবে। ন্যায্যতার পরিধিকে বিস্তৃত করতে হবে। আমাদের উপলব্ধি, মূল্যবোধ নির্ধারণে ও মূল্যায়নে ন্যায্যতার হাজির রাখা জরুরি। আমরা নিজেদের দ্বারা নিজেদের প্রয়োজনে এবং নিজেদের জন্য ন্যায্যতাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাবো।

ক্ষমতার মানদণ্ডে বিবেকের দংশন বা আত্মদহন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আইজিপি সাহেবের নৈতিক ভাবনা ও ক্ষমতার কর্তব্য দায় রাষ্ট্রের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

লেখক : গীতিকবি
faraizees@gmail.com

mzamin

অপহৃত হয়েছিলেন মিসবাহ, মুক্তিপণ দিয়ে উদ্ধার by ওয়েছ খছরু

সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত হয়েছিলেন এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। অপহরণকালেই তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তার পা ও হাত ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। এরপর অজ্ঞাত স্থানে রেখেই মিসবাহ সিরাজের ফোন থেকে স্ত্রী ও কন্যাকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে কোটি টাকা চাওয়া হয়। তিন ঘণ্টা দরকষাকষির পর ভোর রাতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জীবিত ছাড়া পান মিসবাহ সিরাজ। ততক্ষণে শরীরে রক্তক্ষরণে তিনি বার বার সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন। তাকে এই অপহরণ, কোপানো এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সিলেট জুড়ে তোলপাড় চলছে। তবে নিশ্চুপ মিসবাহ পরিবার। রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশও তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। তবে পুলিশ ও গোয়েন্দারা ছায়া তদন্তে নেমে অনেক তথ্যই পেয়েছেন। এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ আওয়ামী লীগের তিনবারের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এ ছাড়া সিলেট জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেন। ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরপরই গা ঢাকা দেন মিসবাহ। এরমধ্যে তার বিরুদ্ধে সিলেটে হত্যাসহ ৭টি মামলা করা হয়। মিসবাহ সিরাজের পারিবারিক ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন- মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি আর নগরের ফাজিলচিস্ত আবাসিক এলাকার নিজের বাসায় থাকতেন না। মাঝে মধ্যে বাসায় এলেও সুবিদবাজার এলাকার একটি বাসায় তিনি নিয়মিত বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জরুরি কাজে তার ফাজিলচিস্তস্থ বাসায় এসেছিলেন। মধ্যরাতে একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে ফেরার পথে তার সঙ্গে ছিলেন মিজান নামের একজন রংমিস্ত্রি। মূল সড়কে আসা মাত্রই ৮-৯টি মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দলের সন্ত্রাসীরা তার সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় অন্য একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলতে ধস্তাধস্তি করে। তিনি ওই সিএনজি অটোরিকশাতে উঠতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে সন্ত্রাসীরা।

একপর্যায়ে মিসবাহ সিরাজকে জোরপূর্বক অটোরিকশাতে তুলে অপহরণকারীরা অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়। সেখান থেকে মিসবাহ সিরাজের ফোনে অপহরণকারীরা স্ত্রী ও কন্যার মোবাইল ফোনে ফোন দেয়। মিসবাহ সিরাজকে ফেরত পেতে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে কোটি টাকা। একইসঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। রাত ৩টা পর্যন্ত দেন-দরবারের মাধ্যমে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক নেতার মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মিসবাহকে ছেড়ে দেয়া হয়। পারিবারিক ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন- রাত ৩টার পর নগরের সাগরদিঘীরপাড়ের নির্জন স্থানে অপহরণকারীরা তাকে সড়কে ফেলে চলে যায়। পরে স্ত্রী, কন্যাসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নগরের সুবহানীঘাটের আল হারমাইন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। তারা জানিয়েছেন- উদ্ধারের সময় মিসবাহ সিরাজের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে তার শরীরে তিন ব্যাগ রক্ত পুশ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসার পর তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। ঢাকায় অজ্ঞাত স্থানে রেখেই তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেয়ে মুনতাহা তার পিতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তবে ঘটনা কী ঘটেছে সে ব্যাপারে তিনি মুখ খুলেননি। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন; ঘটনাটি জানার পর সিলেট নগর পুলিশ ও গোয়েন্দার তরফ থেকে ছায়া তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনার ভিকটিম কিংবা তার পরিবারের সদস্যদের কারোই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ এলাকার সিসিটিভি’র ফুটেজ সংগ্রহসহ ভার্চ্যুয়ালিও তদন্ত করছে।

মুক্তিপণের টাকা আদান-প্রদান প্রসঙ্গে তিনি জানান- এ ব্যাপারে পুলিশও খোঁজ পেয়েছে। আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিকে না পেলে এ ব্যাপারে কিছুই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এরপরও পুলিশ তদন্তকাজ এগিয়ে রাখছে বলে জানান তিনি। এদিকে; মিসবাহ সিরাজের স্বজনদের সূত্র খবর হচ্ছে- মিসবাহ সিরাজকে অপহরণ করেছে সুবিদবাজার কেন্দ্রিক আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি অপরাধী গ্রুপ। এ গ্রুপে রয়েছে সর্বদলীয় অপরাধী চক্র। ৫ই আগস্টের পর তারা নতুন করে ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ওই গ্রুপ কয়েকদিন রেকি করার পর মিসবাহ সিরাজকে হাতের কাছে পেয়ে ঘটনা ঘটায়। অপহরণকারীদের দাবি ছিল কোটি টাকা। শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা প্রদানের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে উঠে এসেছে স্থানীয় এক নেতা লল্লিক আহমদের নাম। গতকাল বিকালে এ ব্যাপারে লল্লিক আহমদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন; এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নয়। পত্রিকা দেখে শুনেছেন। বিষয়টি এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের পরিবারের লোকজনই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি। এদিকে- ঘটনার সত্যতা জানতে মিসবাহ সিরাজের মিয়া ফাজিলচিস্তর বাসায় গেলে বাসাটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। একই এলাকায় বসবাসরত মিসবাহ সিরাজের স্বজনরা জানিয়েছেন- ঘটনার দিন রাতে অনেক ঘটনাই ঘটেছে। মুক্তিপণ দেয়া হয়েছে। কার মাধ্যমে, কীভাবে ওই টাকা দেয়া হয়েছে আর অপরাধীরা কারা সেটি ভালোই বলতে পারবেন কেবল মিসবাহ’র পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর থেকে মিসবাহ’র পরিবারের আচরণে মনে করা হচ্ছে তারা আইনি লড়াইয়ে যাবেন না। মামলায় আসামি হওয়ায় উল্টো মিসবাহ সিরাজ এখন কারান্তরীণ হতে পারেন। সেই শঙ্কা থেকে তারা মুখবন্ধ করে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। 

mzamin

বিরোধীদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে প্রচার করেছে আওয়ামী লীগ -মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রিপোর্ট

বাংলাদেশে বিরোধী রাজনীতিকে বিগত সরকার সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু মানুষ বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। ২০২৩ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্ষিক সন্ত্রাস বিষয়ক রিপোর্টে এসব কথা বলেছে। সারা বিশ্বে ওই বছর ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে- ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেরোরিজম ২০২৩’। বাংলাদেশ অংশে বলা হয়,  ওই বছরে বহুজাতিক সন্ত্রাসী সহিংসতার কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। বিশেষত কর্তৃপক্ষ উগ্র জঙ্গি, বিশেষ করে আল- কায়েদা সংশ্লিষ্ট গ্রুপ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং আইসিস সংশ্লিষ্ট জামাআতুল মুহাহিদীন বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র প্রশিক্ষিত বাংলাদেশ পুলিশ ইউনিটগুলো সন্দেহজনক কয়েক ডজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ইন্টারপোলের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করে বাংলাদেশ। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ জাতীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের একটি ওয়াচলিস্ট তৈরি করেছে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকরভাবে তা শেয়ার করা হয়নি। বাংলাদেশ তার ওয়াচলিস্টের প্রক্রিয়া ও সুযোগের উন্নতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছে।  ফ্লাইট পৌঁছার আগে এডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অথবা প্যাসেঞ্জার নেম রেকর্ড ডাটা ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করে না বাংলাদেশ। রিপোর্টে আরও বলা হয়, মে মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে দু’জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এরজন্য সরকার বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রপন্থি কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টকে (কেএনএফ) দায়ী করে। একই রকম হামলায় মার্চ মাসে আরেক সেনাসদস্য নিহত হন। আলাদাভাবে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেন যে, কেএনএফ আল-কায়েদা গ্রুপের আদর্শে উৎসাহিত গ্রুপ জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকিয়া (জেএএইচএস)কে প্রশিক্ষণের নিরাপদ স্বর্গ করে দিয়েছে। ২০২২ সালের শুরুর দিকে এটা শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা জেএএইচএস’কে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। জুলাইতে এর কথিত আমীরকে গ্রেপ্তার করেছে। ২০২৩ সালে গ্রুপটি কোনো হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়নি। বাংলাদেশে ২০১৫ সালে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দিপন হত্যায় অভিযুক্ত মইনুল হাসান শামীম ও আবু সিদ্দিক হোসেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে তারা ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে নিরাপত্তা হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ২০২৩ সালেও অধরা থেকেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, বাংলাদেশ ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করেছে। কিন্তু সন্ত্রাসী হিসেবে সন্দেভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও আটক রাখার নীতিগুলো অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালে সরকার ২০১৮ সালের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রিভাইজ করে এর নাম রাখে সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ)। এই আইন পুলিশকে অনলাইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়েছে। দেশের ভিতরে এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনাকারীরা বলেন যে, সিএসএ’তে এখনও হতাশাজনক কিছু বিধি রয়েছে। সরকারের সমালোচনা, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের কারণে নাগরিক সমাজের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও টার্গেট করতে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ নাগরিক- উভয়কেই অনুমোদন দেয় এই আইন। এতে আরও বলা হয়, ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ২০২১ সালে গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি অ্যাক্টের অধীনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট (এটিইউ) এবং র‌্যাব তা সত্ত্বেও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেপ্তারি অব্যাহত রেখেছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং র‌্যাব ১৬৩ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলা দিয়েছে ৫৫টি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষিত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরক ডিভাইস নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র ডিএমপি/সিটিটিসি, এটিইউ এবং সরকার চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে পুলিশ ইউনিটকে বিভিন্ন রকম সহযোগিতা দিয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের (এটিটি) বিচারকদের প্রশিক্ষণও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এর মধ্যে আছেন প্রসিকিউটর এবং পুলিশও। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কীভাবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করতে হবে, তদন্ত করতে হবে, সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন বিষয়ক মামলা কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, স্থল এবং সমুদ্রসীমা পাহারা দেয়ার সক্ষমতা আছে বাংলাদেশের। আধুনিকায়ন সরঞ্জাম, প্রক্রিয়া এবং স্টাফ সংখ্যা বৃদ্ধি করে কার্গো ও যাত্রীদের স্ক্রিনিং ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। বন্দরের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ উন্নতি করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মূল বন্দর চট্টগ্রাম।
mzamin

রাশিয়া-চীনের কৌশলে হিন্দু নির্যাতনের অপপ্রচার

রাশিয়া ও চীনের  কৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথিত নির্যাতনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম ও নিপীড়ন শুরু হয়েছে। অসংখ্য নতুন নতুন একাউন্ট খুলে তার মাধ্যমে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রযুক্তিগত অধিকার-বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ১০ই ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদন। এতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘দ্য অ্যানাটমি অব ডিজইনফরমেশন অব এক্স’। ২৪ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব একাউন্ট থেকে ভুয়া পোস্ট দেয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভারতভিত্তিক বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবহারকারী। একই সঙ্গে আছে ভারতীয় নন এমন মানুষ। তারা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক্সে বাংলাদেশকে নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর এসব একাউন্ট রাশিয়া, ইসরাইল ও চীনের ট্রল ফার্ম এবং কি-বোর্ড আর্মি’র (অর্থের বিনিময়ে নিয়োগকর্তা বা সামাজিক  যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের স্বার্থরক্ষাকারী গোষ্ঠী) কৌশল অনুসরণ করে সমন্বিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। এরপর বিদেশে বাংলাদেশ নিয়ে তথ্যের কারসাজি করে তা প্রচার করা হচ্ছে।  যেমন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরিতে এক্স ব্যবহারকারীরা কীভাবে অপতথ্য ছড়াচ্ছেন, তা দেখানো হয়েছে এ প্রতিবেদনে। ২৬শে জুলাই থেকে ২৬শে নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র বার্তার সামাজিক মাধ্যম এক্সে বাংলাদেশ নিয়ে রাজনীতিবিষয়ক পোস্ট থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে এক হাজারের বেশি বিষয়বস্তু সংগ্রহ করা হয়। এগুলো থেকে ১০০টি একক ‘ডেটাসেট’ (সংগঠিত ও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্তের কাঠামোগত সংগ্রহ) পেয়েছে টেক গ্লোবাল। এসব স্থানে বিকৃত তথ্য প্রচার করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার যথেষ্ট ঝুঁকি তৈরি করে- এমন উপাদান রয়েছে এসব তথ্যে। এ ডেটাসেট বিশ্লেষণ করেই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। টেক গ্লোবাল বলেছে, অপতথ্য যাচাইয়ের  ক্ষেত্রে সাধারণভাবে মেটার থার্ড পার্টি ফ্যাক্টচেক রেটিং ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। তবে এ পদ্ধতি এক্স বা ইউটিউবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। টেক গ্লোবালের মতে, সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার চালানো হয়েছে এই নভেম্বরে। এর  মধ্যে শতকরা ৭৭ ভাগই ছড়ানো হয়েছে এক্সের মাধ্যমে। শতকরা ৩৫ ভাগ অপপ্রচারমূলক তথ্য একসঙ্গে পোস্ট করা হয়েছে এক্স, ফেসবুক ও ইউটিউবে। শতকরা ৭১ ভাগ কন্টেন্ট শেয়ার করা হয়েছে ভাইবার, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে। এরপরে আছে আগস্ট মাস। এই দু’মাসে নতুন একাউন্ট করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এসব একাউন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য। টেক গ্লোবালের মতে, অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে শতকরা ২১৪ ভাগ নতুন একাউন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক একাউন্ট ভেরিফায়েড। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ একাউন্টগুলো একই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে। একে- অন্যের পোস্ট রিপোস্টও করে। এমনকি তথ্য যাচাইকারী বা ফ্যাক্টচেকারদের কাছে এগুলো বারবার অপতথ্য ছড়ানোয় যুক্ত একাউন্ট হিসেবেও চিহ্নিত। স্বাভাবিকভাবে এ ধরনের কাজ সংঘটিত নেটওয়ার্কভুক্ত গোষ্ঠীর বলে ধারণা দেয়। এ একাউন্টগুলোর ৭৪ শতাংশ ভুল তথ্যসংবলিত পোস্ট করেছে। অপ্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করেছে ২৪ শতাংশ। আর পরিবর্তন ও সহিংসতার ডাক দেয়া পোস্ট ছিল ১ শতাংশ।

এতে আরও বলা হয়, ১০০ দিনে বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এসব পোস্টের শীর্ষ হ্যাশট্যাগের মধ্যে রয়েছে, #সেভহিন্দুসইনবাংলাদেশ, #বাংলাদেশিহিন্দুজেনোসাইড। এই হ্যাশট্যাগের সঙ্গে থাকা কনটেন্টগুলোর বেশির ভাগই ভুয়া। বিশ্লেষণ বলছে, পোস্ট করা অপতথ্যের বিষয়বস্তুর একটি এমন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের গণহত্যা চলছে’। এটি মোট অপতথ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক বিষয়ে বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের পরিমাণ ২১ শতাংশ। শেয়ার করা কনটেন্টের অন্যতম বিষয়, ‘ধর্মের কারণে হিন্দুরা বৈষম্য বা আক্রমণের মুখে পড়ছে’।
একাউন্টগুলোর উৎপত্তি বোঝার জন্য কিছু সংকেত বিশ্লেষণ করেছে টেক গ্লোবাল। এতে দেখা যায়, এগুলো সম্ভবত বাংলাদেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে বা তাদের বিষয়বস্তুগুলো ভারতীয় অতি জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। এসব অপতথ্য ভারত ও ভারতের বাইরের ব্যবহারকারীদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে।

mzamin

আওয়ামী লীগ আমলের চেয়ে ভালো দেশ গড়তে না পারলে গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে: আসিফ নজরুল

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সব সামাজিক সম্পর্ক শেষ করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। আওয়ামী লীগের শাসনকে ‘নিষ্ঠুর ও নারকীয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলের চেয়ে অনেক ভালো বাংলাদেশ গড়তে না পারলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় আসিফ নজরুল এ কথাগুলো বলেন। ‘গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আমি আবু বকর’ শিরোনামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গীয় সাহিত্য সভা। ‘আমি আবু বকর’ চলতি বছরের শুরুতে প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত আসিফ নজরুলের একটি উপন্যাস।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘আমি আবু বকর’ উপন্যাসটি প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশন ও প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর কক্ষে তালা, আগুন, গুলি করে হত্যার হুমকি, ধাওয়া দিয়ে বিতাড়িত করা, মামলা, বিভিন্ন কনসালট্যান্সির কাজ বাতিল করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সন্দেহে পেটানোর বিরুদ্ধে বলার জন্য অনেক বন্ধু দূরে চলে গেছেন উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘জেনেবুঝে শিক্ষার্থীদের ট্যাগ দেওয়া হতো। তারা জানত, ছাত্রটা শিবির বা ছাত্রদল না। তাঁর ল্যাপটপটা নেওয়ার জন্য বা বিনোদন হিসেবে এটা করা হতো।...১৫ বছরের এসব ব্যাধি থেকে আমরা এখনো মুক্ত হইনি।’ সেই ‘ট্যাগের রাজনীতি’ থেকে বের হওয়া গেছে কি না—প্রশ্ন রেখে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ঘৃণা করতাম ট্যাগের রাজনীতি দিয়ে মানুষকে ভিকটিমাইজ (ক্ষতিগ্রস্ত) করার কারণে। সেটা কি আমরা এখনো করে চলছি না?’

১৫ বছর ধরে যে ‘নারকীয় শাসন’ সহ্য করতে হয়েছে, তার পেছনে সামষ্টিক কাপুরুষতাও ছিল বলে মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘তারা সব সামাজিক সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছিল। এত নিষ্ঠুর, নারকীয়! জানি না আমরা কী পাপ করেছিলাম যে আমরা শেখ হাসিনার মতো একটা শাসক পেয়েছিলাম বাংলাদেশে। ...আমরা যদি আওয়ামী লীগ আমলের চেয়ে অনেক বেটার (আরও ভালো) একটা বাংলাদেশ না গড়তে পারি, তাহলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যাবে।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে কবিতার মাধ্যমে অনেক প্রতিবাদ হয়েছে। কিন্তু গল্প-উপন্যাসের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদটা কম হয়েছে বলে আমার মনে হয়। সাহিত্যচর্চা, গল্প-উপন্যাসের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রতিবাদটা জারি রাখা উচিত। ...আমি জীবনে অনেক বিচিত্র জিনিস করেছি। অ্যাকটিভিজম করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম, সাংবাদিক ছিলাম। এখন আবার সরকারের একটা দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু লেখালেখির মধ্যে যে আনন্দ, পৃথিবীতে এই আনন্দের কোনো তুলনা হয় না।’

‘আমি আবু বকর’ উপন্যাসের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন (লেখক নাম আন্দালিব রাশদী) বলেন, এই গল্পটি আবু বকরের আত্মজীবনী। আবু বকর একটি বিকৃত সমাজের সৃষ্টি। যে সমাজের প্রধানমন্ত্রী ও বায়তুল মোকাররমের খতিব একসঙ্গে পালিয়ে যান। ...গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান অস্ত্র হচ্ছে বিচার। যথাযথ বিচার সরকারি দলেরও হতে হবে, সেটা যে সরকারই হোক, এমনকি এই অন্তর্বর্তী সরকারও যদি হয়। সেটা যদি হয়, বৈষম্য ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসবে এবং সেই সমাজে আবু বকর সৃষ্টি হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রলীগের গণরুম–গেস্টরুম নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘আমি আবু বকর’ উপন্যাসে আসিফ নজরুল যা লিখেছেন, তা মফস্‌সল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর গল্প। আসিফ নজরুল সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু উপদেষ্টা হওয়ার পর থেকে অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে নিয়ে আবু বকরের মতোই নিপীড়ন ও ব্লেম-গেমের (দোষারোপ) চক্রান্ত করছে একটি মহল। তিনিও আবু বকরের মতোই নিপীড়ন ও সাইবার বুলিংয়ের (হয়রানি) শিকার।

কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন শুভ্র বলেন, ছাত্রলীগ নিপীড়নের যে পদ্ধতি গড়ে তুলেছিল, সেই বাস্তব ঘটনাগুলো ‘আমি আবু বকর’ উপন্যাসে আছে। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নিপীড়নব্যবস্থায় বেশি নিপীড়িত হয়েছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা।

লেখক ও প্রকাশক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ওটিটি নির্মাতাদের ‘আমি আবু বকর’ উপন্যাসটি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আসিফ নজরুলের অসম্ভব শক্তিশালী লেখক হওয়ার ক্ষমতা আছে। তিনি যেন নিয়মিত বেশি বেশি লেখেন।

গণ–অভ্যুত্থানের বুদ্ধিবৃত্তিক পাটাতন নির্মাণে ‘আমি আবু বকর’ উপন্যাসটি বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ। লেখক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান ও লেখক আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

-প্রথম আলো


এবার বিএনপি নেতাদের দখলে আলোচিত সেই খাল by সুদীপ অধিকারী

ঈদুল আজহাতে কোরবানির জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনা নিয়ে এনবিআর কর্মকর্তার দ্বিতীয় বিয়ে, দুর্নীতি, চাকরিচ্যুৎ, দেশত্যাগ। সব শেষ ঢাকঢোল পিটিয়ে গত ২৭শে জুন উচ্ছেদ করা হয় সেই ছাগলের ফার্মের জায়গাসহ ৬০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা। উদ্ধার করা হয় প্রায় ১০ বিঘা জমি। তবে এত সব কাণ্ডের কয়েক মাসের মাথায়ই আবারো দখল হয়ে গেছে রামচন্দ্রপুর খালের সেই জায়গা। অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা ওই খালের জায়গা নিজেদের আয়ত্তে রেখেছেন। ছোট ছোট টিনের ঘরের পাশাপাশি ইট-বালি-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পাকা স্থাপনাও। যার মধ্যে চলছে মাদক বেচা-কেনা ও জুয়ার আসর। আন্তঃজেলা চালকদের সমিতির নামে খালের জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল ট্রাকের স্ট্যান্ড।

সরজমিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাদেক এগ্রোর স্থাপনা ভেঙে উদ্ধার করা রামচন্দ্রপুর খালের সেই জায়গা আবার দখলে নেয়া হয়েছে। টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে সেখানে বানানো হয়েছে ছোট বড় একাধিক ঘর। রয়েছে রিকশার গ্যারেজ। যেখানে অন্তত ৪০/৫০টা রিকশা সব সময় রেখে দেয়া হয়েছে। আছে চায়ের দোকানও। আর যেখানে সাদেক এগ্রোর ফার্ম ছিল ঠিক সেখানেই নির্মাণ করা হচ্ছে লাল ইটের পাকা ঘর।  টিনের ঘরগুলোর মধ্যে আবার একাধিক কেরামবোর্ড খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে পরিত্যক্ত গানের স্কুল। যার জানালা, আসবাবপত্র আগেই লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘরটুকু ব্যবহার করছে ট্রাকচালকরা। আর এর সামনেই গাবতলী-সদরঘাট সড়কের পাশে খালের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল ট্রাকস্ট্যান্ড। ওই স্ট্যান্ডের মধ্যে সারি সারিভাবে পার্ক করা রয়েছে অসংখ্য পণ্য বহনকারী ট্রাক। চলছে ট্রাক মেরামতের কাজও। চারদিকে পাকা দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা ওই ট্রাকস্ট্যান্ডের দেখভালের জন্য রাখা হয়েছে নিরাপত্তা প্রহরী।

মহসিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গত কোরবানি ঈদের সময় একটি ছাগল কেনা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট মো. মতিউর রহমানের ছেলের দামি ঘড়ি, গাড়ি, আলিশান জীবনযাপন, মতিউর রহমান ও পরিবারের সদস্যদের নামে রিসোর্ট, শুটিং স্পট, বাংলো বাড়ি, জমিসহ নামে-বেনামে সম্পত্তি থাকার বিষয়ে একের পর এক খবর প্রকাশিত হতে থাকে। এরই একপর্যায়ে ২৭শে জুন রামচন্দ্রপুর খালের বেদখলে থাকা ওই জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ। সেদিনের অভিযানে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ অংশ ভেঙে দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খামারের পেছনে খালের জায়গায় থাকা অবৈধ কিছু টিনের ঘর ও রিকশার গ্যারেজও উচ্ছেদ করা হয়েছিল। ডিএনসিসি’র অঞ্চল-৫-এর তৎকালীন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ এবং ডিএনসিসি’র সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসানের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান শেষে তখন খাল খননের কাজও শুরু করা হয়। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আবারো দখল হতে শুরু করেছে এই খালের জমি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরের দিন বিকালেই একদল লোক ওই জায়গায় ঘর বানানোর কাজ শুরু করেন। রাতের মধ্যেই বাঁশের অবকাঠামো দিয়ে টিনের দুটি ছাপরা ঘর তৈরি করে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাতমসজিদ হাউজিং ইউনিটের নামে ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো জায়গা দখল করে একাধিক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। চায়ের দোকান, পাকা ঘর, রিকশার গ্যারেজ, ট্রাকস্ট্যান্ড, স্কুল কী নেই এই খালের জায়গায়। নতুন করে আবার বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে নতুন নতুন জায়গা। মূলত ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতারা এই সরকারি জায়গাগুলো নিজেদের দখল করে ঘর তৈরি করে মানুষের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। আর এসব দেখাশোনার জন্য বেশকিছু যুবক রেখে দেয়া হয়েছে। পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদেরই হাতে। তারা সার্বক্ষণিক এখানে থেকে পাহারা দেয়। এরা সকলেই ৩৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের লোক। তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। তিনি ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হয়েও বীরদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছেন।

মো. ইয়াসিন মোল্ল্যা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একসময় এই খালটি অনেক সুন্দর ছিল। গভীর ছিল। প্রচুর পানি ছিল। নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকায় মানুষ দৈনন্দিন কাজ এখানেই সারতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন খালটি দখল হতে হতে মৃতপ্রায়। খালের জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল ট্রাকস্ট্যান্ড। মেইন রোডের সঙ্গে পাকা দেয়াল দিয়ে সরকারি জায়গা ঘিরে রাখলেও যেন দেখার কেউ নেই। সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ। আর এর সুযোগ নিয়ে বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে সব দখল হয়ে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই। আমরা চাই খালটি আবার গভীরভাবে খনন করা হোক।

খালের জায়গা নিজের লোক দিয়ে দখলের বিষয়ে ৩৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মানবজমিন’কে বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরেই আমার প্রতিপক্ষ আমার নামে এসব মিথ্যা কথা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আমি কোনো খালের জায়গা দখল করিনি। আমি বরং খালের জায়গা দখলমুক্ত করতে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই জায়গা মূলত মোহাম্মদপুর থানার ৩৩নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মান্নান হোসেন শাহীনের লোকজন দখল করে ঘর নির্মাণ ও রিকশার গ্যারেজ তৈরি করেছেন। আর সুরের ধারা স্কুলের পেছনে টিনের ঘর তৈরি করে কেরামবোর্ড ও মাদকের আসর বসিয়েছে ওয়ার্ড যুবদল নেতা জাহিদ মোড়ল। জাহিদ তার লোকদের দিয়ে সেখানে মাদক বিক্রি করছেন। আগে যেখানে সাদেক এগ্রো ছিল সেখানে সাতমসজিদ হাউজিং এর সহ-সভাপতি রশিদ মাস্টার ভুয়া দলিল তৈরি করে তার ভাগ্নে আলিমকে দিয়ে পাকা ঘর নির্মাণ করেছে। ওই পাকা ঘরের পাশে টিনের ঘর তৈরি করেও মাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করছেন। তাদের এসব কাজে বাধা দেয়ায় আমার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ৩৩নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মান্নান হোসেন শাহীন বলেন, এইসব দখলদারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার অফিসে ঢুকে আমাকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে হাসপাতালে লড়াই করার পর এখন বাড়িতে রেস্টে রয়েছি। এখনো দুটো অপারেশন বাকি। পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। সকলে জানে আমার বিষয়ে। আমি খালের জমি দখল করবো কীভাবে? যারা আমার নামে এই অভিযোগ তুলেছে তারা নিজেরাই ওই সরকারি জমি লোক দিয়ে ভোগদখল করে খাচ্ছে। আর অন্যের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

এদিকে খালের জায়গায় তৈরি কার ট্রাকস্ট্যান্ডের দায়িত্বে থাকা আন্তঃজেলা ট্রাক-মিনি ট্রাকচালক সমিতির সভাপতি নসু মিয়া ও আকবর হোসেন বলেন, আমাদের ট্রাকগুলো রাখার জায়গা নেই বলেই খালের জায়গা ভরাট করে আমরা ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি করেছি। যদি সরকার কখনো আমাদের চলে যেতে বলে আমরা তখন জায়গা ছেড়ে দিবো।