Saturday, February 27, 2016

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি বিএনপির

দেশের সামরিক বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির নেতারা।
আজ শনিবার এক সভায় তারা বলেন, বর্তমানে ওই ঘটনার বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। একদিন সঠিক তদন্তে খুনি ও নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মচিত হবে।
বিএনপি নেতারা বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অবিলম্বে তা প্রকাশ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা। ভবিষ্যতে বিএনপির ক্ষমতায় এলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২১ ফেব্রয়ারি যেভাবে পালন করা হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারিকে সেভাবে পালন করা হবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার দাবি করেন বিএনপি নেতারা।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন।
পিলখানায় বিজিবির সদর দফতর হত্যাকাণ্ড-২০০৯ এবং শহীদ সামরিক কর্মকর্তাদের স্মরণে এই আলোচনা সভায় আয়োজন করে বিএনপি।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।
অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ কামরুজ্জামান, মেজর (অব.) মিজানুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এই সরকার বেছে বেছে সবচেয়ে ভালো সেনা অফিসারদের হত্যা করেছে। এই ফেব্রুয়ারি মাস হত্যার মাস। আপনাদের প্রভুদের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। জাতিকে মেধাশূন্য করে দিয়েছে।
নিজেকে দায়ী মনে হয়, কারণ আমি এদেশে রাজনীতি করি। তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তা হত্যকাণ্ডের দায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায় অস্বীকার করতে পারেনা বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, আগামীতে যদি বিএনপির সুযোগ আসে তাহলে ২১ ফেব্রুয়ারি যেভাবে পালন করা হয় ২৫ ফেব্রুয়ারিও সেভাবে পালন করার ব্যবস্থা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের সামরিক বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো। এটা সহজেই বুঝা যায়।
তিনি বলেন, এখন বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে। যেজন্য প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। যারা ষড়যন্ত্র করেছেন, তারা জানে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের ফলে সেনাবাহিনী থেকে অনেক দুর্বল চিত্তের মানুষ বাহিনী থেকে বের হয়ে যাবে। সব সময় তারা আতঙ্কে থাকবে এবং দেশের প্রতি তাদের যে কর্তব্য সেটা পালনে সক্ষম হবে না।
পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না দাবি করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তা আজো প্রকাশ করা যায়নি। সেই তদন্ত রিপোর্টটি প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।
বিদ্রোহের ঘটনা দমনে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ওই সময়ে সেনা প্রধানের দায়িত্বে থাকা মঈন-উ-আহমেদেরও সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, সেনাবাহিনীর কাপুরুষ সেনাপ্রধান মঈন-উ-আহমেদ কেনো অনুমতি নিতে গেলেন? এটা তো সেনা বাহিনীর ঐতিহ্য যে, বিদ্রোহ হলে আগে দমন করতে হবে। এতে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। শাকিল আহমেদ (বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ) সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাহায্যের জন্য বলেছে। কিন্তু সহায়তা পাঠানো হয়নি।
দক্ষ ও দেশপ্রেমিক সরকার না থাকার কারণে সেদিনের বিদ্রোহ দমানো সম্ভব হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের একটি আল্টিটমেটাম দিলেই তারা আত্মসমর্পণ করতো। তা না করে তাদের জামাই আদরে গণভবনে ডাকা হয়েছে। এতে তো খুনিরাও উৎসাহ পাবেই। সুবেদারকে ডিজি বানিয়ে কোনো বাহিনীর শৃঙ্খলা আনা যায় না।
নির্বাচিত সরকারের অভাবে বিডিআর বিদ্রোহের মতো আরো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করে হাফিজ বলেন, এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটবে যদি দেশে নির্বাচিত এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট সরকার না থাকে। যে নেতার জনসর্মথন আছে, যে নেতার কথায় লাখো কোটি জনগণ রাস্তায় নেমে আসে; সে ধরনের নেতা যদি দেশে না থাকে তাহলে সামরিক বাহিনীও দায়িত্ব পালন করতে পারে না।
তিনি বলেন, আজ মানুষও গণতন্ত্র বঞ্চিত। বাংলাদেশের মানুষও একটি বৃহৎ কারাগারে বাস করছে। দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার নেই। কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় না।
বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হতাশা প্রকাশ করে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ করলেও এখনও তা আলোর মুখ দেখিনি। অথচ তদন্তের আগেই বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২-১৩ জন কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ওই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হলে কারা লাভবান হবে? তাই বিডিআর হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা অনুমান করা যায়।
সরকার ও দেশের মঙ্গলের জন্য ঘটনার দ্রুত ও সঠিক তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা।
পিলখানার দরবার হলের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ কামরুজ্জামান বলেন, ওইদিন ৩২ ঘণ্টা বিডিআরের তাণ্ডব স্বচক্ষে দেখেছি। ওইদিন মরে গেলেই ভালো হতো। কারণ তখন প্রশ্ন উঠতো না, তোকে কেন মারলো না? তোর পরিবার কতবার রেপ (ধর্ষণ) হয়েছে? বিডিআরের সাথে তোর সখ্যতা কোথায়?.. এই বেঁচে থাকা জীবন যে কত কষ্টের তা বলে শেষ করা যাবে না।

গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ- দুই ছেলের পর না ফেরার দেশে বাবা, সঙ্কটাপন্ন মা

দুই ছেলে সারলিন ও জায়ানের পর না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাবা প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ। টানা দুই দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে হেরে গেলেন তিনি।
শাহনেওয়াজ ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের প্রকৌশলী ছিলেন।
আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের হাই-ডিপেনডেনসি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার স্ত্রী সুমাইয়া নেওয়াজের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকেরা স্বজনদের তার কাছাকাছি থাকতে বলেছেন।
এর আগে গত শুক্রবার প্রায় ১১ ঘণ্টা মৃত্যুর সাথে লড়ে বিকেলে বড় ছেলে সারলিন বিন নেওয়াজ (১৫) ও সন্ধ্যায় ছোট ছেলে জায়ান বিন নেওয়াজ (১৪ মাস) মারা যায়। তবে তাদের মেজ ছেলে জারিন বিন নেওয়াজের (১০) অবস্থা অনেকটাই বিপদমুক্ত। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিককে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে শাহনেওয়াজের মৃত্যুর আগে আজ বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বার্ন ইউনিটে শাহনেওয়াজ ও তার স্ত্রীকে দেখতে যান। এ সময় দগ্ধ দম্পতির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন রাষ্ট্রদূত।
গত শুক্রবার ভোরে ১৩ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়ির সপ্তমতলার একটি ফ্ল্যাটে গ্যাসের পাইপে বিস্ফোরণে বাসায় আগুন ধরে যায়। এতে পুড়ে যায় পরিবারের সব সদস্য।
প্রতিবেশী ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন প্রকৌশলী পরিবার। শুক্রবার খুব ভোরে ছোট ছেলেকে নিয়ে পায়েচারি করছিলেন শাহনেওয়াজ। এ সময় স্ত্রী সুমাইয়া রান্না ঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে ম্যাচের কাঠি জ্বালানোর সাথে সাথে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ৮শ’ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে। এতে দগ্ধ হন তিন সন্তানসহ বাবা-মা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। নতুন ফ্ল্যাটে সংসার গোছগাছের আগেই সব শেষ।
প্রকৌশলীর স্বজন ও পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার পর বাড়িওয়ালা দেলোয়ার হোসেনের কাছে গ্যাস লাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস বের হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গ্যাস লাইনের কাজ করানো হলে হয়তো এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতো না।
প্রকৌশলী শাহনেওয়াজের ভাগনে নাজমুস সাকিব জানান, মামী সুমাইয়া বলেছেন, মারা গেলে তাকে যেন বরিশালে দাফন করা হয়। তারা জানেন না আরো লাশ তাদের দেখতে হবে কি না। কীভাবে কী করবেন, কিছুই বুঝতে পারছেন না।
বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বলেন, শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ মারা যান। তার স্ত্রীর অবস্থাও সঙ্কটাপন।
তিনি বলেন, এ ধরনের রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে থাকে। সাধ্যমতো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জারিফের অবস্থা ভালো। তার শরীরের ছয় শতাংশ পুড়েছে। সে আশঙ্কামুক্ত।
দগ্ধ শাহনেওয়াজের ভাই কামরুল আহসান বলেন, নিহত দুই ভাই সারলিন বিন নেওয়াজ (১৫) ও ১৪ মাস বয়সী জায়ান বিন নেওয়াজের লাশ ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় নেয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে তাদের লাশ নানার বাড়ি বরিশালে নেয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত হোক। তারপর তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
এদিকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ভাই জারিফ বিন নেওয়াজ শারীরিকভাবে অন্যদের চেয়ে ভালো। তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় আছে। তবে সে মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে বলে জানান ভাগনে নাজমুস সাকিব। তিনি বলেন, তার কথাবার্তা এলোমেলো।
বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক মুন্নী মমতাজ আজ সাংবাদিকদের বলেন, চারজনেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। শাহনেওয়াজের শরীরের ৯৫ শতাংশ ও তার স্ত্রীর শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়েছে। সারলিনের ৮৮ শতাংশ ও জায়ানের শরীরের ৭৪ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। জারিফের পুড়েছে ৬ শতাংশ।
এদিকে চুলার গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য দগ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ির মালিক মির্জা দেলোয়ার আটক করেছে পুলিশ।
উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় বাড়ির মালিক মির্জা দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

‘কোন স্বৈরাচার দেশ চালাচ্ছে, প্রশ্ন এরশাদের’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমাকে স্বৈরাচার বলা হয়, এখন কোন স্বৈরাচার দেশ পরিচালনা করছে। কি ভাবে দেশ পরিচালনা করছে সবাই জানেন। আমি কোন মানুষের ক্ষতি করিনি, হত্যা করিনি, আমার সময় কোন মানুষ গুম হয়নি, সংবাদপত্র আমার বিরুদ্ধে মুক্ত ভাবে লিখেছে। কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেই নি। এখন কেউ কিছু লিখতে পারে না, বলতে পারেনা। সব কিছু এখন বন্ধ। আমরা বন্ধ কারাগারে বাস করছি। মুক্ত হতে হবে একদিন। নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্ত হতে হবে। আমরা সে জন্য প্রস্তুত আছি। বিএনপি আমাকে জেলে দিয়েছিল। তারা ১৪ বছর ৯মাস পর আমার বিরুদ্ধে মঞ্জু হত্যার মামলা দিয়েছে। ২৫ বছর ধরে এ মামলা চলছে। ২৫ বছর একটি মামলা চলতে পারেনা। আমি মুক্ত মানুষ নই, মুক্ত রাজনীতিবিদ নই। আমার মনে যে জোর আছে তাতে আমাকে কেউ বন্দি করে রাখতে পারবেনা। তিনি শনিবার বিকালে গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, যে দলটি আমকে জেলে পাঠিয়েছিল তাদের অস্তিত্ব আজ টলটলয়মান। তাদের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয়না। তাদের অস্তিত্ব কেবল টিভিতে একটি বয়ান দেয়া। এর বাইিরে কিছু নেই। তিনি বলেন,  জাতীয় পার্টিতে কোন বিভক্তি নেই। পার্টির জন্য আমার মতো কষ্ট আর কেউ করেনি। জেলখানায় থেকে সে সময় ৩৫টি আসনে নির্বাচিত হয়েছি। আমি একা ৫টিতে জয়ী হয়েছি। এতে প্রমাণিত হয় আমি নিন্দিত ছিলাম না। আমি নন্দিত ছিলাম। এরশাদ আরো বলেন, ১/১১ কুশিলবদের বিচারের ব্যাপারে বিএনপি-আওয়ামীলীগ এক। মাইনাস টু এর ব্যাপারে বিএনপি আওয়ামীলীগ এক। এখানে মাইনাস থ্রি করা হয়েছিল এক কথা কেউ বলেনা। আমি মাইনাস থ্রি’র বলি। সে সময় আমি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান থাকতে পারেনি। পার্টির কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছিল ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলামকে। ষড়যন্ত্র করে আমাকে সরিয়ে দিয়ে তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। হাসিনা - খালেদাকে কেউ সরায়নি। আমাকে সরানো হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে আমার দলের লোক ষড়যন্ত্র করেছিল। তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা আমাকে সরিয়ে দিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান হয়েছিল তাদের সঙ্গে হাত মিলানো উচিত না। জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও  মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়ার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ.বি.এম রুহুল আমিন হাওলাদার, পার্টির প্রেডিসিয়াম সদস্য এস.এম ফয়সাল চিশ্তী,  শ্রী সুনীল শুভ রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।

শিশুদের গায়ে সিরিঞ্জ বিদ্ধ করায় চীনে শিক্ষিকা কারাগারে

সিরিঞ্জ ফুটিয়ে শিশুদের শাস্তি দেওয়ার অভিযোগে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি কিন্ডারগার্টেনের এক শিক্ষিকাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে দেশের সরকারি পত্রিকা এ তথ্য দিয়েছে।
চায়না ডেইলি জানিয়েছে, ইউনান প্রদেশের জিয়ানশুই এলাকায় গত সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, সানু কিকি (২৪) নামের ওই শিক্ষিকা ২০ জনেরও বেশি শিশুর গায়ে সিরিঞ্জ বিদ্ধ করেন। শিশুদের শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার নাম করে তিনি এ ধরনের শাস্তি দেন। চার বছর বয়সী এক মেয়েশিশুর মা বলেন, গেল সপ্তাহে ওই শিক্ষিকা তাঁর মেয়ের বাঁ হাতে একাধিকবার সিরিঞ্জ ফুটিয়ে দেন। ওই সিরিঞ্জ দিয়ে শরীরের জন্য ক্ষতিকর কিছু ঢোকানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করে এইচআইভির সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শিশুদের অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সানু কিকিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্ডারগার্টেনের প্রিন্সিপাল বলেছেন, তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

কাফি কামালের ‘আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

দৈনিক মানবজমিন-এর সিনিয়র রিপোর্টার কাফি কামালের ‘আত্মীয়তার বন্ধনে রাজনীতি’ গ্রন্থের বর্ণাঢ্য মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর পরীবাগের সাংস্কৃতিক বিকাশ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। বিপরীত মেরুর রাজনীতিবিদদের আত্মীয়তার বন্ধন নিয়ে লেখা আলোচিত এই গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত গীতিকার গাজী মাযহারুল আনোয়ার। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সভায় গ্রন্থটির সাফল্য কামনা করে বক্তারা বলেন, রাজনীতিকদের সামাজিক জীবনের একটি অনাস্বাদিত অধ্যায় সবার সামনে তুলে এনেছেন সাংবাদিক কাফি কামাল। যা বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্লেষণ ও উপলব্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। রাজনীতিবিদদের মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক এটা সবসময় নেতিবাচক নয়, এর মধ্যদিয়ে সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাবি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, গাজী মাযহারুল আনোয়ার, বিএনপির সহদপ্তর আসাদুল করিম শাহীন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হেলাল খান, অধ্যাপক ডা. আবদুস শাকুর, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন ও কাফি কামাল। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, রাবেয়া সিরাজ, ছড়াকার আবু ছালেহ, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির হোসেন, বিএনপি নেতা গোলাম রাব্বানি, বীমা ব্যক্তিত্ব জাকির হোসেন, এডভোকেট জয়নাল আবদনি মেজবাহ, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, যুবদল নেতা আবদুল আওয়াল প্রমুখ। সতীর্থ স্বজন নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন জাহিদুল আলম হিটো। ওদিকে ওই অনুষ্ঠানে কবি রেজাউদ্দিন স্টালিনের কাব্যগ্রন্থ ‘জ্যামিতি বক্সের গল্প’ ও আরটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মাইদুর রহমান রুবেলের ‘টেলিভিশন সংবাদ ও সাংবাদিকতা’ দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।