Monday, September 16, 2013
বাংলাদেশে কর আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা by ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ
২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো বৃত্তাবদ্ধ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কর রাজস্ব আহরণের সাফল্য লাভের পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি এনবিআরকে। গত পাঁচ অর্থবছরে সার্বিক রাজস্ব আয় প্রায় শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়কর রাজস্ব বৃদ্ধির পেছনে অন্যান্য কারণের সঙ্গে এডিপির আকার বৃদ্ধিজনিত প্রবৃদ্ধিও সহায়ক ভূমিকায় এসেছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাস্তবায়িত এডিপির পরিমাণ ছিল মাত্র ১৮,৪৫৫ কোটি টাকা আর ২০১১-১৩ তে তা ৫০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এডিপির বাস্তবায়ন পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সমানুপাতিক হারে অধিক পরিমাণে শুল্ক ও কর রাজস্ব আহরণের একটা অবারিত সুযোগ ও সম্পর্ক আছে। দেখা যাচ্ছে, এ পাঁচ অর্থবছরে কোম্পানি ও কোম্পানি ব্যতীত করের অনুপাত ৫৯:৪১ থেকে ৫৫:৪৫-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে এবং সার্বিক কর রাজস্বে আয়করের হিস্যা ২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে রয়েছে। তবে বলে রাখা ভালো, এখনও আয়কর কর রাজস্ব প্রাপ্তির পরিবারে তৃতীয় শরিক, অর্থনীতির আকার, অবয়ব, চেহারা ও চরিত্র অনুযায়ী আমদানি শুল্ক (আশু) ও মূল্য সংযোজন করকে (মূসক) টপকে আয়করের অবস্থান এক নম্বর হওয়া বাঞ্ছনীয় নয় কি? সার্বিক রাজস্ব আয়ে অধিক পরিমাণে মূসক হিস্যা এখনও শতকরা ৩৭ আর আশু ৩৩। সামষ্টিক অর্থনীতিতে আয়করের অবদানকে অগ্রগামী গণ্য হতে হলে আরও জোরে চালাতে হবে পা, হতে হবে আরও গতিশীল, চাই অধিকতর সমন্বিত উদ্যোগ।
মোট কর রাজস্বে আমদানি শুল্কের হিস্যা ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ৪২ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২৭%, ০৫%, ০৯%, ২২% ও ১১% অর্থাৎ বড় এলোমেলো এবং অপরিকল্পিত প্রয়াস পরিস্থিতি নির্দেশ করে। ডব্লিউটিওর অনুশাসন মেনে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় যে পরিবর্তন আসছে তাতে ক্রমান্বয়ে আমদানি শুল্ক হ্রাস পেতে থাকবে এমন একটা ধারণা বা যুক্তি বিদ্যমান থাকলেও ক্রমান্বয়ে উচ্চ শুল্কায়নযোগ্য সামগ্রীর আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে শুল্ক আয় সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধির কার্যকরণ সম্পর্কটিও পরীক্ষা পর্যালোচনার অবকাশ থেকে যাচ্ছে। মূল্য ওঠানামার সঙ্গে ট্যারিফ স্ট্রাকচারের সমন্ব^য় সাধন, ভ্যালুয়েশনসহ শুল্কায়নে অধিকতর একাগ্রতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও প্রকৃষ্ট প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়ার আবশ্যকতা অনস্বীকার্য থেকে যায়। স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর আয়ের হিস্যা ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ৩৩ শতাংশ থেকে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে যা অর্থনীতির সার্বিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে আয়কর আয়ের সামঞ্জস্যহীন পরিস্থিতি নির্দেশ করে। মূসক আয়ের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির মিশ্র হারও যথাক্রমে ২৩%, ১৩%, ২৫%, ২৯% ও ২৩% যা মূসক আয়ের টেকসই ও ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা পূরণ করে না। এ সময়ের (২০০৬-১২) গড় প্রবৃদ্ধি আমদানি (২২%), জিডিপি (৫-৭%) ও মূল্যস্ফীতির (৭-৯%) হিসাব এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় আনলে স্থানীয় পর্যায়ে পরোক্ষ কর থেকে আয়ের প্রবৃদ্ধি ন্যূনতম ২৫ শতাংশের বেশি হওয়া যুক্তিযুক্ত প্রতীয়মান হয়। মোট কর রাজস্বে আয়করের হিস্যা ২০০৭-০৮-এর ২৫ শতাংশ থেকে ২০১১-১২তে ৩০-এ উন্নীত হয়েছে যা পূর্ববর্তী সময়গুলোর তুলনায় বেশ সন্তোষজনক অগ্রগতি, এ ধারা আরও বেগবান হওয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে আয়করের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ২৭%, ১১%, ১৮%, ২৮% এবং ১৯% অর্থাৎ সুস্থিরভাবে ঊর্ধ্বগামী হতে পারেনি। আয়কর দাতার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত, তা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে। লোকবলের সমাহার ঘটিয়ে সাংগঠনিক কাঠামোর দুর্বলতা দূর করতে পারলে মোট রাজস্বে আয়কর খাতের হিস্যা বাড়ানো সহজতর হবে। কর জিডিপি রেশিও উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বাগ্রে তাই প্রয়োজন সবার সমন্বিত প্রয়াস। দেখা যাচ্ছে বিগত কয়েকটি বছরের পূর্বপর্যন্ত আয়কর আয়ের প্রবৃদ্ধির মাত্রাও ছিল অত্যন্ত ধীর, মিশ্র ও নৈরাশ্যজনক, অথচ অর্থনীতির সার্বিক প্রবৃদ্ধির মাত্রা অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রত্যক্ষ করের মুখ্য ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ক্রমশ কোম্পানি ও কোম্পানি ব্যতীত কর আয়ের অনুপাত ৭০:৩০ থেকে ৫৮:৪২-এ পৌঁছেছে। দেশে কর্পোরেট ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলেও কোম্পানি প্রদত্ত আয়করের প্রবৃদ্ধি সেভাবে বা সে হারে বাড়েনি বলে প্রতীয়মান হয়। অন্যদিকে কোম্পানি ব্যতীত করদাতার মধ্যে ব্যক্তি করদাতা, পার্টনারশিপ ফার্ম, অ্যাসোসিয়েশন অব পারসন, আর্টিফিশিয়াল জুরিডিক্যাল পারসনস রয়েছেন, তাদের করনেটের আওতায় আনার উদ্যোগ আরও জোরদারকরণের অবকাশ রয়েছে। ব্যক্তি করদাতার সংখ্যা (টিআইএনধারীর হিসাব অনুযায়ী) নিকট অতীতেও যথাযথভাবে শুমার ও সংরক্ষণ করা না হলেও যখন থেকে এসবের অগ্রগতির পরিসংখ্যান পর্যালোচিত হচ্ছে তখন থেকে অগ্রগতির ধারা বেগবান করার প্রয়াস চলছে। যারা আয়কর নথি খুলেছেন তাদের মধ্যে শতকরা মাত্র ২৫-৩০ ভাগ করদাতা নিয়মিত কর দিচ্ছেন, বাকিদের উপযুক্ত অনুসরণের উদ্যোগ জোরদার করার আবশ্যকতা রয়েছে। আয়কর বিভাগের লোকবল বাড়ানো ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান লোকবল ও কাঠামোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এবং দেশিক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ কর প্রশাসন-ব্যবস্থাপনা-প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। ধার্য ও আদায়কৃত আয়কর যথাসময়ে ও প্রকৃত পরিমাণে কোষাগারে আসার ব্যাপারে নজরদারি ও পরিবীক্ষণ যেমন জরুরি, তেমনি করারোপ, হিসাবায়ন ও জমাদান পদ্ধতি প্রক্রিয়াকে যতটা করদাতাবান্ধব বা সহজীকরণ করা যাবে তত দূরত্ব কমবে করদাতা ও আহরণকারীর মধ্যে। আর এভাবে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হলে করনেটের সম্প্রসারণ ঘটতে থাকবে। দেশের কর জিডিপি রেশিও উপযুক্ত পর্যায়ে উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে একথা অনস্বীকার্য যে, সার্বিক রাজস্ব আয়ের পরিবারে প্রত্যক্ষ করকেই মোড়লের ভূমিকায় আসার যথেষ্ট অবকাশ ও সুযোগ রয়েছে।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ : সমস্যা ও সম্ভাবনা

(গতকালের পর)
উপজাতি সম্প্রদায় বিশ্বাস করে জমি, বন ও পাহাড় হচ্ছে যৌথ সম্পত্তি। তাই সরকারিভাবে প্রচলিত ভূমি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আর উপজাতিদের বংশানুক্রমিকভাবে প্রচলিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে তফাৎ রয়েছে। চাকমারা মনে করে এ অঞ্চলের ভূমি তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। তাদের আবাসভূমি ছাড়া বাকি সব জমির ওপর যৌথ মালিকানা বহাল। চাকমা সম্প্রদায় মনে করে, যে কেউ যে কোনো জমিতে আবাস করতে পারবে এবং এর জন্য কোনো চুক্তি বা কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই। ভূমির মালিকানা এবং ব্যবহার সম্পর্কে বিভিন্ন উপজাতি বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে থাকে। চাক উপজাতি মনে করে অন্য কেউ আগে ব্যবহার না করলে, যে কোনো জমি চাষাবাদের জন্য ব্যবহার করা যাবে। খিয়াং জনগোষ্ঠী মনে করে সন্তান ও জমি হচ্ছে প্রকৃতির দান এবং প্রত্যেকের জমির ওপর সমান অধিকার রয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির উন্মেষ ঘটলেও উপজাতি সম্প্রদায় এখনও জমির ব্যাপারে তাদের সনাতনী চিন্তাভাবনা আঁকড়ে ধরে আছে। এছাড়া CHT Regulation এর ৪২ ধারা অনুযায়ী জুম চাষের জন্য মালিকানার দরকার হয় না। ফলে উপজাতীয়রা নিবন্ধন ছাড়াই জমিতে বসবাস এবং চাষাবাদ করতে পারে এবং সার্কেল প্রধানকে খাজনা দিয়ে তারা নতুন জমির মালিকানা লাভ করে। বাস্তবতার নিরিখে উপজাতি সম্প্রদায়ের এ উপলব্ধি আধুনিক সময়োপযোগী মাত্রা পাবে এটাই কাম্য।
যেহেতু সাম্প্রতিককালে পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো ভূমি জরিপ হয়নি, তাই এ অঞ্চলের মোট ভূমির পরিমাণ নিরূপণ করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য এলাকার মোট জমির পরিমাণ ৫ হাজার ৯৩ বর্গমাইল। এর মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৭৭৫.৬৩ বর্গমাইল, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ১ হাজার ৪২৩ বর্গমাইল এবং অশ্রেণীভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন ২ হাজার ৮৯৪.৩৭ বর্গমাইল। উল্লেখ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, কর্ণফুলী পেপার মিল এবং সরকারি অধিভুক্ত জমি শান্তিচুক্তির আওতাধীন নয়। তিন জেলার ব্যক্তিমালিকানাধীন সর্বমোট জমির পরিমাণ হচ্ছে ১ হাজার ৪২৩ বর্গমাইল। বাকি ৩ হাজার ৬৭০ বর্গমাইল এলাকা সরকার নিয়ন্ত্রিত সম্পত্তি। শান্তিচুক্তির ৬৪ ধারা অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদকে ভূমি লিজ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবর্তনের জন্য ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যা মহামান্য হাইকোর্টের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের কার্যবিধি চূড়ান্তকরণে বিলম্ব এবং চেয়ারম্যানের অনাগ্রহের কারণে এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে একসঙ্গে জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সার্কেল প্রধান নিয়ন্ত্রিত প্রচলিত পদ্ধতি দ্বারা ভূমি ব্যবস্থাপনা চলছে। জেলা প্রশাসক সার্কেল প্রধানের পরামর্শক্রমে হেডম্যান নিয়োগ দেন। সার্কেল প্রধানের অধীনে থেকে হেডম্যান তার মৌজার ভূমি এবং জুম চাষ থেকে রাজস্ব আদায় করে। ভূমি প্রশাসন বিশেষত ভূমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যার ফলে দেখা যায়, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অনেকে মৃত্যুবরণ করে বা ক্ষেত্র বিশেষে আবেদনপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে অনেকেই অবৈধভাবে ক্রয়-বিক্রয়সহ অননুমোদিতভাবে ভূমির মালিক হয়ে থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী ও প্রতারক নিজ নামে ভূমি নিবন্ধন করে নিরীহ জনগোষ্ঠীকে প্রতারিত করছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত দাঙ্গার জন্ম দিচ্ছে। অবৈধভাবে জমি দখল না করলে জমির মালিক হওয়া কঠিন- এমন বাস্তবতা পার্বত্যাঞ্চলে বিতর্ক এবং সংঘর্ষের জন্ম দিচ্ছে। এ ধরনের জটিল প্রক্রিয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি জটিলতা দীর্ঘসূত্রতা লাভ করছে।
এ অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে ভূমি সমস্যা সমাধান অতীব জরুরি। ভূমি কমিশনকে অবৈধভাবে দখলকৃত জমি এবং পাহাড়ের মালিকানা বাতিল করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বাস্তবিক সমস্যার কারণে কমিশন আশানুরূপভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। ২৭ জানুয়ারি ২০১০ সালে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত প্রথম ভূমি কমিশনের সভায় ভূমি সমস্যা সমাধানের আগে ভূমি জরিপের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচিত হয়। কিন্তু কমিশনের উপজাতীয় সদস্যরা সর্বপ্রথমে ‘CHT Land Dispute Settlement Commission Act 2001’ সংশোধনের দাবি জানান। সে মোতাবেক আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ১৯টি ধারা সংশোধনের দাবি করেন। অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি প্রথমে ২৩টি ধারা সংশোধন করার কথা বললেও পরে ১৩টি ধারা সংশোধনের দাবি জানান। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন এবং পর্যালোচনা কমিটি ২২ জানুয়ারি ২০১২ সালে ১২টি ধারা সংশোধনী করার পরামর্শ প্রদান করে। ২৮ মার্চ ২০১২ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় উল্লেখিত আইন সংশোধনের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আহ্বান করে। ভূমি মন্ত্রণালয় ৬টি সংশোধনের জন্য সর্বসম্মতভাবে একমত হয় এবং বাকি ৭টি সংবিধানের পরিপন্থী বলে অনুমোদন পায়নি। এ সংশোধনগুলোর কিছু পদ্ধতিগতভাবে বেশ জটিল, কিছু অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভবিষ্যতের জন্য হুমকি স্বরূপ, কিছু সংশোধন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে অন্তরায় ও কয়েকটি নীতিগতভাবে কার্যপ্রণালীর পরিপন্থী। এটা ধরে নেয়া যায় যে, শান্তিচুক্তির আগে উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় না থেকে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন কর্মপন্থা নির্ধারণের ব্যাপারে একমত হয়েছে। আনীত সংশোধনীগুলো সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কতটা সঙ্গত ও শান্তিচুক্তির মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা জুতসই তা যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা প্রয়োজন।
দীর্ঘ সময় ধরে কমিশনের স্থবিরতার জন্য মূলত কমিশনের উপজাতীয় সদস্যরা কমিশনকে তার কাজকর্মে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের ব্যাপারে অনাগ্রহই দায়ী। এছাড়া কিছু গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীর উপস্থাপনায় বস্তুনিষ্ঠতার অভাব মৌলিক বিষয়গুলোকে আড়াল করে রেখেছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, শান্তিচুক্তির পর থেকে এপ্রিল ২০১২ পর্যন্ত সর্বমোট ৫১৭ জন নিহত, ৮৭৭ জন আহত আর ৯৫৯ জন অপহৃত হয়েছে। অথচ আঞ্চলিক নেতারা বিরাজমান আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির যথাযথ মূল্যায়ন ব্যতিরেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সব সামরিক ক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এমনকি সিএইচটি কমিশন, United Nations Permanent Forum on Indegenous Issue (UNFPII), ইউরোপীয় ইউনিয়ন উপজাতীয়দের প্রতি অযৌক্তিকভাবে সমর্থন ব্যক্ত করে বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিভিন্ন বিদেশী ব্যক্তি ও সংস্থা পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে উপজাতি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে, যা পার্বত্য অঞ্চলকে একটি আলাদা রাষ্ট্র তৈরির বুনিয়াদ সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান Lord Eric Avebury একজন অভিজ্ঞ ব্রিটিশ সংসদ সদস্য। বৈশ্বিক নানা বিষয়ে তার প্রচুর অভিজ্ঞতা আছে; যেমন জনগণের অধিকার আদায়ে এর আগে তিনি পেরু, ক্যামেরুন এবং ইরানে কাজ করেছেন। তিনি সুদান এবং পূর্ব তিমুরে আলাদা খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বেশ পরিচিত। পার্বত্য চট্টগ্রামে এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক উপজাতীয়দের খ্রিস্টান ধর্র্মে দীক্ষিত করার তথ্য রয়েছে, যা এ এলাকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কমিশনের অপর সদস্য সুইডেনের নাগরিক Mr Lars Anders Bear বিভিন্ন দেশের আদিবাসী ইস্যু নিয়ে কাজ করেন। তিনি UNFPII-এ স্পেশাল রেপোর্টিয়ার হিসেবে নিয়োজিত। UNFPII এর ১০ম অধিবেশনে Mr Lars Anders Bear উপস্থাপিত ‘Status of the Implementation of CHT Peace Accord of 1997’ যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক কমিশনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেন এবং তার সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত টঘঋচওও এর স্বার্থে ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন। শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসামান্য অবদানের পরও তিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছেন। সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা, ব্যক্তিরা পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি ইস্যুটি বহির্বিশ্বে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ব্যবহার করছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আদিবাসী জনগণের নিরাপত্তার জন্য জাতিসংঘ ১৯৫৭ সালে আইএলও ১০৭ প্রণয়ন করে। এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং কোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে খাটো করেনি, তাই বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে আইএলও ১০৭ চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। কিন্তু বাংলাদেশ ১৯৮৯ সালে প্রণীত উপজাতিদের নিরাপত্তাবিষয়ক আইএলও ১৬৯ সনদ স্বাক্ষর করা থেকে বিরত রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২২টি দেশ এ সনদে স্বাক্ষর করলেও এশিয়ার নেপাল ছাড়া বাকি কোনো দেশ স্বাক্ষর করেনি। আইএলও ১৬৯-এর সনদ অনুযায়ী ঐতিহ্যগত, ব্যক্তিগত এবং সাম্প্রদায়িক মালিকানা ছাড়াও রাষ্ট্র ভূমি রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারের ক্ষমতা রাখে। আশ্চর্যজনকভাবে এ সনদে সরকারি খাসজমির ব্যাপারে কিছু উল্লেখ নেই। অথচ এ খাসজমিতে বাঙালিদের অভিবাসনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ভূমি সমস্যার জটিলতা বৃদ্ধিসহ নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সনদ মোতাবেক স্থানীয় অধিবাসীদের অনুমতিক্রমে সামরিক অভিযানসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যেন, বহিরাগত কেউ জমির মালিক হতে না পারে। সার্বিক প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ ইস্যুটি আজ আর কোনো আলাদা বিষয় নয়। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়াও উপজাতি সম্প্র্রদায়গুলো ‘আদিবাসী’ শব্দটি ভূমি অধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে ব্যবহার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। মরহুম বোমাং সার্কেল প্রধান অং সাং প্র“ পরিষ্কারভাবে বলে গেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো আদিবাসীর অস্তিত্ব নেই। ২০০৮ সালে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় যখন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও এমন দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও আদিবাসী শব্দটির ব্যবহার নেই। ভারতীয় সংবিধানের ৩৪১ ও ৩৪২নং ধারা অনুযায়ী ভারতে Scheduled Caste ও Scheduled Tribes রয়েছে। ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর শতকরা ২৪ ভাগ লোক বিভিন্ন গোত্রের হলেও তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে একসঙ্গে বসবাস করছেন। মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত ভূমি বিরোধ সংশোধন আইন এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হবে। তবে এতদসঙ্গে বাঙালিদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা ব্যতিরেকে এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটা সহায়ক হবে তা সময়ই বলে দেবে। অন্তত পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন বাঙালি সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া থেকে এমনটিই লক্ষণীয়।
স্বাধীনতার ৪২ বছর পর জাতি সফলভাবে সামাজিক অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিদিনই জমি এবং সম্পদ সংকুচিত হয়ে আসছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাই পার্বত্যাঞ্চলে বিরাজমান পরিস্থিতির সমাধানে কালক্ষেপণ বৈশ্বিক বাস্তবতায় কাম্য নয়। উপজাতি বিষয়ে আমাদের সুষমভাবে তাদের অধিকার এবং উত্তরাধিকার নিশ্চিতকরণসহ বাঙালিদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা জরুরি। পুনর্বাসিত বাঙালিদের অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্বটি সরকারকেই পালন করতে হবে। পার্বত্য এলাকার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক বাঙালি। সময়ের পরিক্রমায় পার্বত্য এলাকায় বাঙালিদের আগমন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যার সুষ্ঠু সমাধান বাঙালিদের ফিরিয়ে নেয়ার মধ্যে নয়, বরং উভয় সম্প্রদায়ের স্বার্থ নিশ্চিতকরণসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। এখনই সময় যেন সরকার গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ এবং সর্বস্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করে চুক্তি বাস্তবায়নের বাকি কাজ সম্পন্নের জন্য এগিয়ে যায়। এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে এখানকার অধিবাসীকে দেশের মূল স্রোতধারার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রেখে সরকারের পাশাপাশি উপজাতীয় নেতাদের এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সামনের দিনগুলোতে এ অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একযোগে কাজ করতে পারলেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম হবে। (শেষ)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সরোয়ার হোসেন, এইচডিএমসি, পিএসসি : পার্বত্য এলাকায় ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে কর্মরত
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অশুভ শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত করা উচিত নয় by মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন

রাজনীতিকরা যদি রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রাকৃতিক নিয়মেই রাজনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে; কেননা রাজনীতিতে ‘পারব না’, ‘হবে না’, ‘করব না’ বলতে কোনো শব্দ নেই, পারতে হয় এবং সেটা রাজনীতিকদেরই। সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। আজ একেকজন একেকভাবে সংবিধানের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যখন তত্ত্বাবধায়কের দাবি তুলেছিল, তখন এটা অসাংবিধানিক দাবিই ছিল; এ দাবির জন্য হেন কোনো আন্দোলন নেই যা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল করেনি। তাদের আন্দোলনের একপর্যায়ে তৎকালীন বিএনপি সরকার এটাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে।
কিন্তু বর্তমান সরকার উচ্চ আদালতের মতামত, অ্যামিকাস কিউরি, সংসদীয় বোর্ড ও সুশীল সমাজসহ সব মহলের দাবি উপেক্ষা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে এবং দেশে একটা রাজনৈতিক সংকটেরও জন্ম দিয়েছে। এ সংকট এখন প্রান্তসীমায় এসে পৌঁছেছে। দেশ এক অস্থির সময় অতিক্রম করছে। বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষী রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
বলা হচ্ছে, নির্বাচনের সময় ভূমিকা রাখবে মন্ত্রিপরিষদ। প্রশ্ন হল, যেখানে সুনির্দিষ্টভাবে সাংবিধানিক বা আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে কিভাবে নির্বাচনের সময় মন্ত্রিপরিষদ ভূমিকা রাখবে? আর সংসদ বহাল থাকলে নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষে কতটুকু নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব হবে, তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। এতসব বিতর্কের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী কেন আকস্মিক এ ঘোষণা দিলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দেশ জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি দিকে এগোচ্ছে বলেও অনেকে মনে করছেন। গত সাড়ে ৪ বছরে নানা কারণে সরকারের ওপর মানুষের ভেতর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু, শেয়ার মার্কেট কেলেংকারি নিয়ে মানুষের ভেতর চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়ে আছে। শেয়ার মার্কেটে ধস নামায় জাতীয় অর্থনীতিতে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ মন্দা, সমাজ হয়ে পড়েছে পুঁজি শূন্য। প্রায় ৩৫ লাখ মধ্যবিত্ত পরিবার শেয়ার মার্কেটের মাধ্যমে নিঃস্ব হয়েছে।
রেলের কেলেংকারি নিয়েও মানুষের মনে ক্ষোভ আছে। ক্ষোভ আছে হলমার্ক, ডেসটিনি, ইউনিপে-টু-ইউ’র কেলেংকারি নিয়েও। কারণ এসবের দ্বারা সাধারণ মানুষ নজিরবিহীন ক্ষতির শিকার হয়েছে। অন্যদিকে গত সাড়ে চার বছরে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন কাজ সরকার করতে পারেনি, পদ্মা সেতু যার উদাহরণ। তাছাড়া সরকার তার নির্বাচনী ওয়াদাও পূরণ করতে পারেনি। দিনবদল হয়নি, মানুষ ঘরে ঘরে চাকরি পায়নি; বিনা পয়সায় সার ও ১০ টাকা কেজি চাল পাওয়া স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। তাই সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মনেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দেশের রাজনীতিতে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে, তার সুফল বিরোধী দলের ঘরে যাচ্ছে। ভেতরে ভেতরে জনমত সংগঠিত হচ্ছে বিরোধী দলকে ঘিরে। নীরব সমর্থকরা সরব হতে শুরু করেছে।
কার্যত দলের নীরব সমর্থকরা যখন সক্রিয় হয় এবং রাস্তায় নেমে আসে, ঠিক তখনই রাজনীতিতে গণবিস্ফোরণ বা গণঅভ্যুত্থান অবিশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর নীরব সমর্থকরা এখন সক্রিয় কর্মীতে পরিণত হচ্ছে। তারা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ফলে দেশে-বিদেশে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হচ্ছে যে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে পক্ষপাতহীন নির্বাচন দিতে সরকার ভয় পাচ্ছে। তাই সরকার কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। তারা যেনতেনভাবে একটি নির্বাচন করতে চায়। এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি কারও জন্যই শুভ হবে না।
সরকারকে বুঝতে হবে, এভাবে রাজনীতিতে অশুভ শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত করা বাঞ্ছনীয় নয়। রাজনীতিতে একগুঁয়েমি ও গোঁয়ার্তুমির কোনো স্থান নেই। গোঁয়ার্তুমি করে অতীতে কোনো শাসক রেহাই পায়নি। শেষ পর্যন্ত জনতার শক্তির কাছে মাথানত করতে তারা বাধ্য হয়েছে।
জনরোষে সরকারের পতন ঘটুক এটা প্রত্যাশিত নয়। প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন ঘটুক। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। জনতার মুখের ভাষা বুঝতে পারলে জনরোষে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। জনতা চায় নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন নির্বাচনের পরিবেশ দেশে তৈরি হোক। জনগণের এ যৌক্তির দাবি মানা সরকারের কর্তব্য। জনতার দাবি মানার মধ্যে কোনো দোষের কিছু নেই, বরং গর্ব আছে। কাজেই জনতার দাবি মেনে নিলে আগামীতে আর কিছু না হোক, অন্তত বিরোধী দলের স্থানটি তারা ধরে রাখতে পারবে। আর অশুভ শক্তির উত্থান ঘটলে বিরোধী দলের স্থানটিও তাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে বিজ্ঞজনরা বলছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, সংকট সমাধানে আলোচনায় দ্বার তিনি খোলা রেখেছেন। তার কথায় মনে হচ্ছে, সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও দেশের স্বার্থে তিনি সংকটের একটি সমাধান চান। এখন সমঝোতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে। সরকার এগিয়ে এলেই সমাধান দোরগোড়ায়। রাজনীতিকরা যদি রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে ব্যর্থ হন, তাহলে অবধারিত বিপর্যয় নেমে আসবে রাজনীতিতে। সংকটে পড়বে গণতন্ত্র। সংকটে পড়বেন রাজনীতিকরাও।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়া : আমেরিকার সাফল্যজনক পশ্চাদপসরণ by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

একমাত্র ইরান শক্তভাবে পশ্চিমা দেশগুলোকে জানিয়েছিল, সিরিয়ায় কোনো হামলা হলে তারা নিশ্চুপ থাকবে না। ইরান জানে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুদ রাখার মিথ্যা অজুহাত দিয়ে আমেরিকা যেমন ইরাক আক্রমণ এবং সাদ্দামকে বিচার প্রহসনে হত্যা করেছে, তেমনি সিরিয়ার বিরুদ্ধেও একই অজুহাত তুলে প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত এবং সাদ্দাম ও গাদ্দাফির পরিণতি বরণে বাধ্য করতে চায়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে ইরান। ইরান মার্কিন তাঁবেদার নয়। আমেরিকা ও ইসরাইল চায় ইরানের ধ্বংস। কিন্তু ইরানে হামলা চালানোর আগে তার একমাত্র মিত্র সিরিয়াকে ধ্বংস করা প্রয়োজন।
ধরে নেয়া যাক, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছিল। এ গণঅভ্যুত্থানের শুরুতেই আমেরিকা ও ন্যাটোর বিদ্রোহীদের পক্ষালম্বন, তাদের অস্ত্র সাহায্যদান এবং গণ-অভ্যুত্থানকে গৃহযুদ্ধে পরিণত করার পেছনে ওবামা প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্যটা কী ছিল?
ইসরাইলের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ইরানকে ধ্বংস করা নয় কি? মধ্যপ্রাচ্যে এখন একমাত্র সিরিয়াই ইরানের মিত্র দেশ। সিরিয়া ও ইরানই প্যালেস্টিনিদের ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে রক্ষার জন্য সাহায্য জুগিয়ে আসছে।
মজার ব্যাপার এই যে, সিরিয়া ও ইরানে হামলা চালানোর জন্য শুধু ইসরাইলই আমেরিকার ওপর চাপ দিচ্ছে না, সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতের মতো মুসলিম দেশগুলোও এই চাপ দিচ্ছে। শুধু চাপ দেয়া নয়, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের তারা ক্রমাগত অস্ত্র সাহায্য জোগাচ্ছে। কিছুদিন আগে ইরানে বোমা হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবের বাদশা ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ওবামা প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়েছিল। ইরান রাজতন্ত্র ধ্বংস করে প্রজাতন্ত্র স্থাপন করেছে ও ধর্মীয় পরিচয়ে তারা শিয়া এই কারণে সৌদি বাদশারা ইরানকে ধ্বংস করতে চান এবং এই উদ্দেশ্যে ইসরাইলের সঙ্গে হাত মেলাতে দ্বিধা করেননি। সাদ্দামকে ধ্বংস করার জন্য সৌদি আরব আমেরিকার সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে, এখন সিরিয়া ও ইরানের মতো দুটি মুসলিম দেশকে ধ্বংস করতে চায়। এটাই হচ্ছে ‘ইসলামের রক্ষক’ সৌদি রাজতন্ত্রের বর্তমান ভূমিকা। সেই সঙ্গে রয়েছে মার্কিন স্বার্থ ও আধিপত্য রক্ষাও।
সৌদি আরব দেদার অস্ত্র ও অর্থ দিচ্ছে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের। তার মধ্যে আমেরিকার কাছ থেকে বা অন্যভাবে পাওয়া রাসায়নিক অস্ত্রও আছে কিনা তা কে বলবে? মধ্যপ্রাচ্যের একটি আরব দৈনিকের সন্দেহ, এই অস্ত্র বিদ্রোহীদের দেয়া হয়েছে। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানকে ধ্বংস করার জন্য আমেরিকা সাদ্দাম হোসেনকে এই বিষাক্ত অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। পরে এই অস্ত্র রাখার অভিযোগেই সাদ্দামের বিরুদ্ধে একটি অবৈধ যুদ্ধ করেছে। যদিও প্রমাণিত হয়েছে, সাদ্দামের কাছে তখন এ ধরনের কোনো অস্ত্র ছিল না।
বর্তমান সিরিয়া যুদ্ধেও পশ্চিমা অস্ত্রে সজ্জিত সিরিয়ান বিদ্রোহীরা এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে- না, আমাদের সৈন্যরা করেছে, তা আগে সংশয়াতীতভাবে নির্ণীত হওয়া প্রয়োজন। তার আগেই সিরিয়ায় আমেরিকার মিসাইল হামলা চালানোর এবং প্রেসিডেন্ট আসাদকে শাস্তি দেয়ার নামে সিরিয়ার শত শত নিরীহ নর-নারী শিশু হত্যার পরিকল্পনা কি সমর্থনযোগ্য? ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এই তিনটি দেশকেই ড্রোন হামলা চালিয়ে কার্যত ধ্বংস করে আমেরিকার আধিপত্যবাদের ক্ষুধা মেটেনি। এখন সিরিয়া ও ইরানকে ধ্বংস করতে হবে? সিরিয়ায় আসাদ সরকার কেমিক্যাল অস্ত্র নিজ জনগণের ওপর ব্যবহার করেছে এই অভিযোগ যদি সঠিকও হয়, তাহলে প্রথমে জাতিসংঘের মাধ্যমে আসাদ সরকারকে এই অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত করা এবং কোনো ধরনের পিউনিটিভ ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই আরও ধ্বংসাত্মক মিসাইল হামলা চালানোর এই হুংকার কেন? অপর দেশের জনগণকে রক্ষার নামে সেই জনগণের ওপর বর্বর সামরিক হামলা চালানোর অধিকার আমেরিকাকে কে দিয়েছে?
আমেরিকা এখন ইউনিপোলার বিশ্বের অধীশ্বর হলে কী হবে, সে একা যুদ্ধ করতে ভয় পায়। চল্লিশের দশকে আমেরিকার একক হাতে যখন অ্যাটম বোমা ছিল, তখনও কোরিয়ার যুদ্ধে সে একা নামেনি। অধিকাংশ মিত্রদেশকে (তুরস্কসহ) নামিয়েছিল এবং জাতিসংঘের বিনা অনুমোদনে জাতিসংঘের নাম ও পতাকা ব্যবহার করেছে। দু-দুটো গালফ যুদ্ধে শক্তিগর্বে স্ফীত আমেরিকা বারবার জাতিসংঘকে উপেক্ষা করেছে বটে, কিন্তু ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র ও তাঁবেদার দেশগুলোকে যুদ্ধে জড়িত করেছে।
কিন্তু কোনো (কোরিয়া থেকে গালফ যুদ্ধ) যুদ্ধেই আমেরিকা সুপিরিয়র অস্ত্র ব্যবহার করেও সার্বিক জয়ের অধিকারী হতে পারেনি। ইরাক যুদ্ধ শেষ হয়েও হচ্ছে না। আফগানিস্তানে তাদের লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে। এসব অবৈধ যুদ্ধের ব্যয় বহন করতে গিয়ে শুধু আমেরিকার নয়, গ্লোবাল অর্থনীতিতেই ত্রিশের মন্দার চাইতেও বড় মন্দা বা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ওবামা আর নতুন যুদ্ধে জড়াতে চান না একথা সত্য। কিন্তু তার ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো দৈত্যের মতো মার্কিন এস্টাবলিশমেন্টের যুদ্ধবাজ অংশটি চেপে বসে আছে। তিনি কোন্ দিকে যাবেন? তার জন্য ডাঙায় বাঘ, জলে কুমির।
অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং সামরিক শক্তির সাহায্যে একাধিক যুদ্ধে সাফল্য অর্জনে ব্যর্থতাই পশ্চিমা শক্তি- বিশেষ করে আমেরিকাকে ইরাক যুদ্ধের পরই সরাসরি সিরিয়া ও ইরান আক্রমণে বিরত রেখেছে। নইলে এতদিনে এই দুটি দেশ- বিশেষ করে ইরান আক্রান্ত হতো। সিরিয়ায় ওবামা রেজিম চেঞ্জ চান না বলে যতই কথা বলুন, আসলে বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য জুগিয়েছে সিরিয়ায় রেজিম চেঞ্জ দ্বারা ইরানেও রেজিম চেঞ্জের পথ প্রশস্ত করাই ছিল ওয়াশিংটনের লক্ষ্য। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে এই লক্ষ্য অর্জনের দিকেই ওবামা প্রশাসন ক্রমশ এগুচ্ছিল।
কিন্তু সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সাফল্য অর্জনে ব্যর্থতা এবং ইরান, চীন ও রাশিয়া শক্তভাবে সিরিয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় পশ্চিমা দেশ- বিশেষ করে ওবামা প্রশাসনের পক্ষে যুদ্ধে সরাসরি নামা ছাড়া এস্টাবলিশমেন্টের যুদ্ধবাজ অংশের চাপ উপেক্ষা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওবামা তাই ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে (সঙ্গে পরোক্ষভাবে ইসরাইল) সঙ্গে নিয়ে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ধুয়া তুলে সিরিয়ায় হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাদ সেধেছে যুদ্ধক্লান্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত মার্কিন ও ব্রিটিশ জনমত। যুদ্ধবিরোধী বিরাট মিছিল হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সরকারের যুদ্ধে নামার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
এরপর আমেরিকা একা যুদ্ধে নামবে এমন হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছিল। আমি আগেই বলেছি, আমেরিকার একা যুদ্ধে নামার সাহস দেখানোর অতীতের কোনো রেকর্ড নেই। ব্রিটেন যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার পর নিজের মুখ রক্ষার জন্য ওবামা তার আগেকার প্রেসিডেন্ট বুশের মতো রণহুংকার দিতে থাকলেও যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবেন এই অজুহাত তুলে সিরিয়ায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকেন। কংগ্রেসের এই অনুমোদন দানও এখন পর্যন্ত ঝুলে আছে।
এই ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার বিদেশমন্ত্রী জন কেরিকে লাগিয়েছিলেন সিরিয়ায় কোনো ধরনের হামলা চালানোর ব্যাপারে রাশিয়ার সম্মতি আদায়ের জন্য। রাশিয়া সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালানোর প্রচণ্ড বিরোধী। জেনেভায় রুশ বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জন কেরি অনেক আলাপ-আলোচনা করে যেটুকু সাফল্য অর্জন করেছেন (যদি একে সাফল্য বলা যায়) তা হল- আসাদ সরকারকে যুক্তভাবে একটি চরমপত্র দেয়া, যাতে রাসায়নিক অস্ত্রের ঘাঁটিগুলোর সন্ধান সিরিয়া পাঁচদিনের মধ্যে দেয় এবং এই অস্ত্র সম্পর্কে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের আগামী নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করতে সহযোগিতা জোগায়।
রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার এই সমঝোতার ফলে সিরিয়া আশু মার্কিন হামলা থেকে বেঁচে গেল। ওবামা প্রশাসনের মুখ কিছুটা রক্ষা পেল। কিন্তু সিরিয়াকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষার ব্যাপারে রুশ কূটনীতি সফল হল। আমেরিকার যুদ্ধবাজ চক্র এবং ইসরাইল ও সৌদি বাদশাদের চাপ থেকেও ওবামা আপাতত মুক্ত হলেন।
প্রেসিডেন্ট ওবামা রাশিয়ার সঙ্গে এই সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিনন্দন জানালেও তিনি এবং তার ইউরোপিয়ান ও আরব মিত্ররা জানেন, এই সমঝোতার ফলে আমেরিকার যুদ্ধনীতি একটা বড় ঘা খেয়েছে, রাশিয়া কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে এবং আমেরিকার নীতিকে সাফল্যজনক পশ্চাদপসরণ আখ্যা দেয়া যায়। লন্ডনের সানডে টাইমস পত্রিকার (১৫ সেপ্টেম্বর) খবর, সিরিয়ার সাধারণ মানুষ এই সমঝোতাকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং মার্কিন বোমা হামলা থেকে বাঁচানোর জন্য রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
পশ্চিমা মিডিয়া এবং যুদ্ধবাদী মহল এই সমঝোতার আসল তাৎপর্য বুঝতে পারেননি তা নয়। তারা অনেকেই প্রকাশ্যে অভিমত প্রকাশ করেছেন, সিরিয়ায় আসাদ সরকার টিকে গেল। প্রত্যক্ষ মার্কিন মদদ ছাড়া বিদ্রোহীদের জয়ের আশা নেই। এই সমঝোতায় শনিবারের চরমপত্র অগ্রাহ্য করলে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং আসাদ ক্ষমতায় টিকে গেলেন এবং তার সাদ্দাম ও গাদ্দাফির পরিণতি বরণের আশংকা অনেকটাই কমে গেল।
সিরিয়ার বিদ্রোহীরাও এই সমঝোতায় হতাশ এবং বিরক্ত। তারা হুমকি দিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র অনুসন্ধান সম্পর্কে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেবে। তাদের তারা সিরিয়ায় ঢুকতে দেবে না। এই হুমকি তারা কতটা কার্যকর করতে পারবে সে সম্পর্কে পশ্চিমা মিডিয়ায় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
কেউ কেউ বলেছেন, এবার যুদ্ধের হুংকার দিয়ে সাফল্যজনক পশ্চাদপসরণের দ্বিতীয় নজির স্থাপন করেছে আমেরিকা। মার্কিন হামলার হুমকির মুখে রাশিয়া কিউবাকে মিসাইল অস্ত্রসজ্জিত করার জন্য মিসাইলবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিল কিউবায়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন কেনেডি হুমকি দিয়েছিলেন কিউবাগামী মিসাইলবাহী রুশ রণতরীর ওপর তিনি হামলা চালাবেন। তখন তৃতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হয় হয় এমন আশংকা দেখা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট কেনেডি ঘোষণা করেন, তিনি কিউবায় হামলা চালাবেন না এবং রাশিয়াও তার মিসাইলবাহী জাহাজ সমুদ্রবক্ষ থেকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়। কেউবায় ক্যাস্ট্রো রেজিম টিকে যায় এবং বিশ্ব আরেকটি যুদ্ধের বিপর্যয় থেকে বেঁচে যায়।
তাই বিশ্বের বর্তমান পর্যবেক্ষকদের অনেকের ধারণা, কিউবা সংকটের মতো সিরিয়া সংকটেও আমেরিকায় সাফল্যজনক পশ্চাদপসরণ এবং রাশিয়ার কূটনৈতিক সাফল্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বড় কথা, আরেকটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের বিপর্যয় বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ হয়তো এড়াতে পেরেছে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ▼ 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...