Showing posts with label মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান. Show all posts
Showing posts with label মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান. Show all posts

Tuesday, January 14, 2014

বিবেকের কণ্ঠস্বর চিরনিদ্রায়

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের প্রতি জাতির শেষ শ্রদ্ধা
(সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ) ভাষাসংগ্রামী, সাবেক প্রধান বিচারপতি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। সোমবার বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। আজ বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে তার মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে নেওয়া হয়। সকালেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন এবং সুরা ফাতেহা পাঠ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবরেণ্য এই ব্যক্তিত্বের স্ত্রী ইসলামা রহমানসহ তার তিন মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। এর পর তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তচিন্তা, অদ্ভুত সারল্য আর দৃঢ় ব্যক্তিত্বে জাতির অন্যতম অভিভাবক হয়ে ওঠা এই মহান মানুষের প্রতি। পরে তার মরদেহ নেওয়া হয় বাংলা একাডেমিতে। সেখানে দোয়া মাহফিলের পর মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘ সময়ের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। এখানেই তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।তবে ভাষাসংগ্রামী, সাবেক এই প্রধান বিচারপতি ও  সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়নি। এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সমকালকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার আদেশ রয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়।
শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা :ভাষাশহীদদের স্মৃতির বেদি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। সোমবার সেখানে এসেছিলেন ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষার লড়াইয়ের সেই দামাল ছেলেদের একজন। আগেও অনেকবার এসেছেন প্রভাতফেরির মিছিলে, নাগরিক কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা বন্ধু, স্বজন বা জাতির কোনো কৃতী সন্তানকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। তাকে বারবার দেখেছে সবাই, মৃদু হাসির দৃঢ় ব্যক্তিত্বের সৌম্য পুরুষকে। এবার তিনি কফিনে বন্দি হয়ে এলেন, শেষ শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ছেয়ে গেল তার কফিন। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সত্যিই শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু-স্বজনের ঢল নেমেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সকাল ১১টার কিছু সময় পর তার মরদেহ পেঁৗছায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এর আগে থেকেই শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিপুল মানুষ অপেক্ষমাণ ছিলেন এখানে। সবার আগে শ্রদ্ধা জানান ভাষার লড়াইয়ে তার সহযোদ্ধা রওশন আরা বাচ্চু। শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের কয়েকজন তার সামনে দাঁড়ালে তিনি চোখ মোছেন। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলেন, 'শেলী ভাই অনেক বড় মানুষ। তার মতো মানুষ হয় না।' প্রয়াত বিচারপতির বড় মেয়ে রুবাবা রহমান বুশরা বলেন, 'বাবা একজন বড় মানুষ ছিলেন, খুব ভালো পিতা ছিলেন। দেশের মানুষ তার প্রতি যে বিপুল ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছে, তার জন্য আমার পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞ।
এর পর একে একে আসেন নতুন সরকারের মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, নুরুল ইসলাম নাহিদ ও আসাদুজ্জামান নূর, প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। বিশিষ্টজনের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি মাহফুজা খানম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, শিল্পী রফিকুন নবী, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী, সিপিডির ডিস্টিংগুইসড ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর রশীদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, সমকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, কর্মজীবী নারীর শিরীন আখতার, সাবেক এমপি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ নানা শ্রেণী-পেশার অসংখ্য মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ওয়ার্কার্স পার্টি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, গণজাগরণ মঞ্চ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, নজরুল চর্চা কেন্দ্র, এশিয়াটিক সোসাইটি, পদাতিক, একুশে চেতনা পরিষদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্ট, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৈত্রী, বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। তিনি বলেন, মেধায়, মননে, প্রকাশে একজন প্রকৃত বাঙালি ছিলেন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। নিষ্ঠায়, সততায়, ব্যক্তিত্বে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জাতির অভিভাবক। অদ্ভুত সারল্যের দৃঢ়চিত্তের এই বাঙালি সন্তানকে জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
শোকবইতে বিশিষ্টজন যা লিখলেন :কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সেখানে রাখা শোকবইতে স্মৃতিচারণ করে স্বাক্ষর করেন অনেকেই। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান লেখেন, তিনি ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের অনুরাগী ছিলেন; লিখেছেন গবেষণাধর্মী অনেক বই। তিনি মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগী ছিলেন, ১৯৫২ সালে ভাষার লড়াইয়ে তিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলেও নেমেছিলেন। প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন লিখেন, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মতো একজন বড় মাপের মানুষকে আমরা আমাদের মধ্যে পেয়েছিলাম। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে তার লেখনীর মাধ্যমে প্রেরণা দিয়েছেন। জাতি তাকে আজীবন মনে রাখবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, বিচার বিভাগে যেমন তার অবদান অসামান্য, তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবেও তার ভূমিকা গৌরবোজ্জ্বল ছিল। সবকিছু ছাপিয়ে মননশীল লেখক হিসেবে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়।
বাংলা একাডেমিতে কিছুক্ষণ :কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। এখানে তাকে শ্রদ্ধা জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এখানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বড় মেয়ে রুবাবা রহমান বুশরাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ছাড়াও বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহীদা খাতুন, আবদুল হাইসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা :বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের। জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিএনপির সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হক তালুকদার রাজাসহ আইনজীবীরা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এ কে এম শামসুল ইসলামসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। জানাজা শেষে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুপুর ২টা থেকে দিনের পরবর্তী সময় পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে ছুুটি ঘোষণা করেন।

Monday, January 13, 2014

অভিভাবকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা আজ

জাতি আজ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবে পেশায়, কর্মে, মননে অসামান্য ব্যক্তিত্ব, বিবেকের কণ্ঠস্বর, অভিভাবকতুল্য, সদ্যপ্রয়াত বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা হবে। এর পর দুপুর ১২টায় নেওয়া হবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। সেখান থেকে বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে দৃঢ়চিত্তে সামনের সারিতে থেকে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার পরিচয় দেন। পেশাগত জীবনে বিচারাঙ্গনে, সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে পালনে প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়। সততা, নিষ্ঠা আর দল-মত-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে প্রজ্ঞায় মানুষের পরম শ্রদ্ধার আসনে স্থান করে নিয়েছিলেন দৃঢ়চিত্ত এই ব্যক্তিত্ব। একই সঙ্গে মননশীল লেখক হিসেবে জাতিকে দিয়েছেন অযুত বছরের আলোর ঠিকানা। শিখিয়ে গেছেন বেঁচে থাকার দর্শন_ 'বেঁচে থাকার অধিকার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার।' বিশ্বে যত ভাষায় মাতৃভাষা নিয়ে কবিতা রচিত হয়েছে, তার প্রায় সবই বাংলা ভাষায় অনুবাদ করার দুরূহ কাজটিও সম্পাদন করেছেন অমিত পরিশ্রমী এ মানুষটি। শনিবার রাতে সবাইকে শোকাচ্ছন্ন করে হঠাৎ চলে যান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে হাসপাতালে গেছেন ঠিকই, কিন্তু শেষ চিকিৎসার কোনো সুযোগই তিনি দেননি। কর্তব্যরত চিকিৎসক সবাইকে কাঁদিয়ে জানিয়ে দেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মুহূর্তেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে জাতি। প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক চৌধুরীসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকে রাতেই ছুটে যান ইউনাইটেড হাসপাতালে। রাতে তার শ্যালক আলী ইফতিয়ার চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সোমবার ভোরে তার মেয়ে নুসরাত হাবিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসবেন। সে পর্যন্ত তার মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।
সর্বস্তরের মানুষের শোক :মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ শোকগ্রস্ত। রোববার এই মহান ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দেশি-বিদেশি সংস্থা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে হারিয়ে জাতি সত্যিকারের অভিভাবককে হারিয়েছে। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। বিবৃতিতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক সংকটে তার সুচারু মন্তব্য তাকে জাতির অভিভাবকের আসনে বসিয়েছিল। তার মৃত্যুতে জাতি প্রকৃত একজন বাঙালি ও সংস্কৃতিমনা অভিভাবককে হারাল। জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দশম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এক বিবৃতিতে গভীর শোক জানিয়ে বলেন, দর্শন ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান দেশের বিচারিক অঙ্গনে তাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তার মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছিলেন একাধারে বিচারপতি, গবেষক, ভাষাবিদ ও শিক্ষক। 'বেঁচে থাকার অধিকার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার'_ তার এই দর্শন জাতির কাছে অনন্য হয়ে থাকবে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক শোকবার্তায় বলেন, যারা তাকে কাছে থেকে দেখেননি, তারা বুঝতে পারবেন না কত চমৎকার মানুষ ছিলেন তিনি। জাতির এই দুর্দিনে তাকে হারিয়ে সবাই খুবই অসহায় বোধ করছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক এক শোকবার্তায় বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থায় অবদান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতির সংকটময় মুহূর্তে দৃঢ়চিত্তে সাহসী দায়িত্ব পালনের জন্য বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জাতি যেমন একজন অভিভাবক হারিয়েছে, তেমনি টিআইবি একজন অকৃত্রিম বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীকে হারিয়েছে। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর শোকবার্তায় বলা হয়, বিচার বিভাগের অন্যতম নক্ষত্র সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে অনুকরণীয় বিচক্ষণতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। তার মৃত্যুতে আদর্শবান শিক্ষক, খ্যাতনামা লেখক এবং প্রগতিশীল কৃতী সন্তানকে হারিয়েছে জাতি।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে রোববারও শোকবার্তা পাঠায় বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, গণসংহতি আন্দোলন, ন্যাপ, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, সুশাসনের জন্য নাগরিক, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাগরিক উদ্যোগ, মহিলা পরিষদ, জাকের পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, যুবমৈত্রী, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ফেডারেশন। রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর কৃতী সন্তান, দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল খালেক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান, রাজশাহী লেখক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আবুল হোসেন।

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান :বিচক্ষণ ও দায়িত্ববান একজন বুদ্ধিজীবীর প্রস্থান by ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান একজন বহুমাত্রিক মানুষ ছিলেন। নিজের কাজের সব এলাকাতেই তার সাফল্য ছিল অসামান্য। হাবিবুর রহমানকে প্রথম দেখি ছাত্রনেতা হিসেবে। ছাত্রনেতা বলতে এখন যা বোঝায়, সে অর্থে নয়। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সহ-সভাপতি। সেকালে ছাত্র সংসদে নির্বাচিত তারাই হতেন, যারা ছাত্র হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী হতেন। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখনকার দিনের হলের বার্ষিক নির্বাচন ছিল উৎসবের মতো। আমরা তখন থাকতাম আজিমপুরের সরকারি আবাসনে। তখনও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে উঠিনি। কিন্তু তাকে আমি ছাত্রনেতা হিসেবে নির্বাচন করতে ও নির্বাচিত হতে দেখেছি। বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা যে ১০ জন ১০ জন করে রাজপথে বের হয়েছিল, তিনি তাদের প্রথম দলেই ছিলেন। বস্তুত তাকে দূর থেকে দেখলেই চেনা যেত। লম্বায় উঁচু ছিলেন এবং মনে হতো নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই যেন এসেছেন।
এরপর হাবিবুর রহমানকে জানবার সুযোগ হয়েছিল আরেকটি ঘটনায়। সেটি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে এমএ পাস করে তিনি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তখনকার দিনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ সম্পন্ন করতে পুলিশের ছাড়পত্র দরকার হতো। হাবিবুর রহমান যেহেতু বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে কিছুটা জড়িত ছিলেন, তাই সেই ছাড়পত্র পাননি। ফলে শিক্ষক হিসেবে তার নিয়োগ বাতিল হয়ে যায় এবং এর পরে যে কাজটি তিনি করলেন, সেটি কেবল তার পক্ষেই সম্ভব ছিল। যে সলিমুল্লাহ হলের তিনি সহ-সভাপতি ছিলেন, সেই হলেরই প্রধান ফটকে একটি ট্রেতে পান ও সিগারেট সাজিয়ে একটা দোকানদারি শুরু করেন। ভ্রাম্যমাণ 'দোকান' বা ট্রেটি তার গলায় ঝোলানো ছিল। তাতে লেখা ছিল_ 'শেলী'স ওউন স্টল'। শেলী তার ডাক নাম। পরের দিন তখনকার প্রধান ইংরেজি সংবাদপত্র দৈনিক পাকিস্তান অবজারভারে তার বন্ধুরা খবরটি ছবিসহ ছেপেছিল। খবরটি কলকাতার পত্রিকাতেও প্রকাশ পায় এবং মন্তব্য করা হয়, পাকিস্তানে বেকারত্ব এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে ইতিহাসে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকারী এক তরুণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পেরে পানের দোকান দিয়েছে। পরে অবশ্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
এই ঘটনার মধ্যে যে মৌলিকত্ব, কৌতুকবোধ ও সাহস আমরা দেখেছিলাম, সে গুণগুলো ছিল তার চরিত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তিনি কমবেশি ৭০টি বই লিখেছেন। প্রত্যেক বছরই নতুন নতুন বই বের হতো। পাঠক সেই বইয়ের জন্য প্রতীক্ষায় থাকত। এসব বইতে যেমন গবেষণা পাওয়া যেত, তেমনই থাকত মৌলিকত্ব। আর তার কথাবার্তায় সবসময়ই আমরা একটি প্রসন্নতা দেখতাম। এই প্রসন্নতার সঙ্গে কৌতুকবোধেরও মিশ্রণ থাকত। এই প্রসন্নতা তার লেখার মধ্যেও আমরা দেখেছি। কঠিন কথা তিনি সরল প্রসন্নতার সঙ্গে লিখতেন। তার বক্তৃতা আমি শুনেছি। যেসব বক্তৃতাতে যেমন গভীর বক্তব্য থাকত, তেমনই থাকত প্রকাশের সাবলীলতা। সংকটের মুহূর্তে দেখেছি যে তিনি সাহসের সঙ্গে সত্য কথা বলেছেন। প্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের অনেক সময় হয়তো তা পছন্দ হয়নি; কিন্তু মানুষ তার বক্তব্যকে সাদরে গ্রহণ করেছে।
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ইতিহাস পড়েছেন, আইনও পড়েছেন। বৃত্তি নিয়ে গিয়ে তিনি অক্সফোর্ড থেকে ইতিহাসে এমএ ডিগ্রি লাভ করেছেন। একই সঙ্গে আবার ব্যারিস্টারিও পাস করে এসেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি আইনে ডিগ্রি নিয়েছেন। বোঝা যায়, ইতিহাস ও আইন_ দুই বিষয়েই তার আগ্রহ ছিল। তার রচনাতেও আমরা ইতিহাস অধ্যয়নের পরিচয় যেমন পেতাম, তেমনই একজন আইন বিশেষজ্ঞের যুক্তিবাদিতাও লাভ করতাম।
বিলেত থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ফিরে এসে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু কিছুদিন পরে ঢাকায় চলে এসে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে যোগ দেন উচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে। মনে আছে, সেই সময় আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক, তাদের মনে হয়েছিল তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকলেই ভালো হতো। কিন্তু পরে দেখেছি যে, একটা বিস্তৃত ক্ষেত্রে চলে এসে সেখানে যে কাজ করেছেন, সেও খুব প্রয়োজনীয় ছিল। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ক্রান্তির একটি লগ্নে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে যে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, সেটা আইন পেশায় না থাকলে তিনি করতে পারতেন না। তার ওই ভূমিকা আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই জরুরি ছিল।
বিচারপতি হাবিবুর রহমানের জীবন ছিল কর্মমুখর। আমার ধারণা, তিনি আলস্যকে কখনোই প্রশ্রয় দিতেন না এবং সময়ের অপচয় করতেন না। বিচারপতি হিসেবে অবসর গ্রহণের পর তাকে আমরা লেখক ও গবেষক হিসেবে পেয়েছি। তার লেখার ভেতর একটি স্বাভাবিকতা ও সাবলীলতা থাকত। তিনি শব্দের ব্যবহার করতেন খুব যত্নের সঙ্গে। ভাষার ব্যবহারে তার এই সচেতনতার কারণেই তিনি 'যথাশব্দ' নামে একটি অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ রচনা করে যেতে পেরেছেন। হঠাৎ করে মনে হতে পারে, তার কাছ থেকে এমন বই অপ্রত্যাশিত; কিন্তু শব্দের ব্যবহারে তার যে সতর্কতা, তারই স্বাভাবিক প্রতিফলন এই গ্রন্থ প্রণয়নে ঘটেছে। তিনি আইনের বিষয়েও বই লিখেছেন। তার বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র ছিল রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এত অল্প সময়ে এত গবেষণা করাটা যে কোনো রবীন্দ্র গবেষকের জন্যই ঈর্ষণীয় বিষয়। এ ক্ষেত্রেও তার মৌলিকত্ব আমরা দেখতে পাই। চীন দেশ সম্পর্কে তিনি গবেষণা করে যে রচনা আমাদের উপহার দিয়েছেন, তাও অসামান্য।
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সামাজিক দায়িত্ববোধে অনুপ্রাণিত ছিলেন। সে ব্যাপারটা তার লেখার মধ্যে প্রকাশ পেত। বক্তৃতাতেও থাকত। আমরা দেখেছি যে, তিনি লিখিত বক্তব্য দিতেন এবং সেগুলো মূল্যবান প্রবন্ধ হিসেবে গৃহীত হতো। তাতে বক্তব্য থাকত স্পষ্ট, সাবলীল ও তাৎপর্যপূর্ণ। হেলাফেলা করে কোনো কাজই তিনি করতেন না; যদিও সব কাজই তিনি অত্যন্ত সহজভাবে করছেন বলে মনে হতো।
তার অসুখের খবর আমরা শুনতাম। কিন্তু অসুখ নিয়ে তাকে কখনও বিব্রত হতে দেখিনি। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্ব ছিল। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র সংসদের যে কমিটির সহ-সভাপতি হন, জিল্লুর সেটার সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে তারা দু'জনে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সেখানে হাবিবুর রহমান হোঁচট খেয়ে পড়ে যান এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সেই চিকিৎসা সামান্য ছিল না। পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় সেখানে ইস্পাতের পাত বসাতে হয়েছিল। কিন্তু এর পরেও চলাফেরায় তার স্বাচ্ছন্দ্যের অভাব দেখিনি। বরঞ্চ হাড় জোড়া দেওয়া নিয়েও কৌতুক করতে দেখেছি। মনে আছে তাকে বলতে শুনেছি_ 'আই অ্যাম এ স্টিলম্যান।' তখন এ মন্তব্য শুনে তার যে কৌতুক মিশ্রিত প্রসন্নতা ছিল, সেটার কথাই মনে পড়েছে।
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান নানা কারণেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি গ্রন্থ লিখেছেন, সভা ও সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য বক্তব্য রেখেছেন, তার লেখা ও বক্তৃতা দুটিই ছিল অত্যন্ত বিশিষ্ট ধরনের। তাতে ছিল আড়ম্বরহীন স্বাভাবিকত্ব অথচ গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞার পরিচয়। জ্ঞান ও বিচার-বুদ্ধিকে অতি সহজে নিজের সঙ্গে বহন করতেন এবং নিজের মধ্যে ধরে না রেখে অন্যের জন্য প্রকাশ করতেন। একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার দায়িত্বপরায়ণতা ও সমাজমনস্কতা ছিল দৃষ্টান্তস্বরূপ। আমাদের সমাজে উজ্জ্বল এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের বড় অভাব। সেই অভাব তিনি তার নিজের মতো করে মিটিয়েছিলেন। তার চলে যাওয়াতে আমরা ওই অভাবটা বিশেষভাবে অনুভব করছি।
জীবনে যেমন ছিলেন মৃত্যুতেও দেখলাম তেমনই স্বাভাবিকতার ব্যত্যয় ঘটালেন না। খুব সহজভাবেই চলে গেলেন। তার রচনা ও আচরণে যে আড়ম্বরহীনতা ছিল, মৃত্যু মুহূর্তেও সেটি তিনি পরিত্যাগ করেননি। এটিও একটি অসাধারণ ঘটনা। তাকে আমরা অনেককাল মনে রাখব, আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই।

একজন অভিভাবকের বিদায় by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আকস্মিক প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত। তিনি ছিলেন সমকাল পরিবারের ঘনিষ্ঠ সুহৃদ। যদিও তার মৃত্যু অকাল নয়; বরং জীবন ও কর্মে সাফল্যের অনেক সোপান পেরিয়েই তিনি না-ফেরার দেশে চলে গেলেন; তাকে আমাদের আরও অনেক দিন প্রয়োজন ছিল। তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় জীবনে যে শূন্যতা অনুভূত হবে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিএনপি প্রধানের শোকবার্তায় জাতীয় বেদনাই প্রতিফলিত হয়েছে। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান কর্মজীবনে রাষ্ট্রীয় দুই শীর্ষস্থানীয় পদে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তো বটেই; ব্যক্তিজীবনেও আমাদের যে বহুমাত্রিকতা তিনি উপহার দিয়েছেন, তার নজিরও বিরল। আমরা দেখেছি, নিজের তারুণ্যে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাঙালির আত্মপরিচয়ের সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৯৬ সালে এক সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং বিচক্ষণতা ও সাহসের সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব করেন। এই গুরুদায়িত্ব পালন তাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। সে সময় একটি সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টা তিনি যেভাবে রুখে দিয়েছিলেন এবং রক্তপাত ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পেরেছিলেন তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ অধ্যায় হিসেবে যুক্ত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ব্যক্তিজীবনও বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। ইতিহাস গবেষণা ও আইনি ব্যাখ্যার মতো গুরুগম্ভীর বিষয়ই কেবল নয়, তিনি যেভাবে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে গবেষণা করেছেন, বিভিন্ন বিষয়ে সুখপাঠ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন, তা অতুলনীয়। সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় পাতায় রাজনৈতিক কবিতা যুক্ত করে তিনি যেন সাহিত্য ও সাংবাদিকতার একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টিরও প্রয়াসী হয়েছিলেন। বাংলাদেশের তারিখ কিংবা যথাশব্দের মতো গ্রন্থ সাংবাদিকতা ও সাহিত্য চর্চায় প্রয়াসীদের কাছে মহার্ঘ হয়ে আছে। আর ধর্ম চর্চা প্রশ্নে ঐতিহ্যবাদ ও ঔদার্যবাদের যে মিশ্রণ তিনি ব্যক্তিজীবনে চর্চা করে গেছেন, তাও কম আকর্ষণীয় নয়। তার রচিত 'কোরআনসূত্র' আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেভাবে লেখায়, বক্তৃতায়, গবেষণায় এবং সামাজিক উপস্থিতিতে সক্রিয় থেকেছেন, তা অনেকের জন্য ঈর্ষার বিষয় হতে পারে। বস্তুত সদা হাসিখুশি ও আশাবাদী মানুষটি অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন জাতির অভিভাবকের আসনে। কারও মুখের দিকে না তাকিয়ে তিনি যা সত্য ও সঠিক মনে করেছেন, অকপটে বলেছেন। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের গ্রন্থ, প্রবন্ধ, বক্তৃতা, জীবনবোধ, কর্ম আমাদের জাতীয় ও সামাজিক জীবনে ভাস্বর হয়ে থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সন্দেহ নেই, শনিবার তার মৃত্যুতে জাতি একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়েছে; কিন্তু এটাও সত্য যে, তার জীবন ও কীর্তি আগামী দিনগুলোতেও আমাদের পথ দেখিয়ে যেতে থাকবে। আমরা তার স্মৃতি ও কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের সমমর্মিতা।

Monday, December 9, 2013

উচ্চশিক্ষা- সুনাগরিকত্বের পুঁজি শক্তিশালী করো by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

আমার দাদার বাবা ছিলেন একজন কৃষক, আমার দাদা কৃষক-কাম-সিল্ক ব্যবসায়ী এবং আমার বাবা একজন আইনজীবী। শিক্ষাই ছিল আমার একমাত্র পুঁজি।

Friday, November 8, 2013

মানুষের উদ্যোগ- আশার আলোয় উদ্ভাসিত দেশ by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশ! সেই তলাবিহীন ঝুড়ির দেশটা! সেই দেশটাকে সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিদেশি সওদাগর-বণিকেরাই না বলত নিতল দেশ, এমন এক দেশ যার সোনা-রুপার খাঁই-খাকতির শেষ ছিল না। বিদেশি আমদানিকারক-সওদাগরেরা সোনা-রুপা পাওনায় পরিশোধ করতে হালাকান ছিলেন।

Tuesday, October 1, 2013

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

দুই-তিন দশক আগে গভর্ন্যান্সকে গভর্নমেন্টের সমার্থক শব্দ হিসেবে গণ্য করা হতো। এখন ‘গভর্নমেন্ট’কে ‘গভর্ন্যান্স’-এর একটি অংশ হিসেবে ধরা হয়, সে অংশটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বটে। আমাদের সংবিধানে ‘গভর্ন্যান্স’ শব্দটি সংবিধানের ইংরেজি পাঠে একবার মাত্র ব্যবহূত হয়েছে। তার বাংলা করা হয়েছে ‘পরিচালন’। আজকাল ‘গুড গভর্ন্যান্স’-এর বাংলা ‘সুশাসন’ করা হয়েছে। অনুবাদ খারাপ নয়, বরং অনুপ্রাসপ্রিয় বাঙালির কাছে শ্রুতিমধুর মনে হতে পারে। একসময় ‘গভর্নমেন্ট’-এর বাংলা ‘শাসন’ বেশ প্রচলিত ছিল। ‘গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট’-এর বাংলা ছিল ‘ভারত শাসন আইন’। এখন আমরা ‘গভর্নমেন্ট’-এর বাংলা ‘সরকার’ করেছি। জনপ্রিয়তার দৌড়ে ‘সুপরিচালন’-এর চেয়ে ‘সুশাসন’ শব্দটি টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

ইংরেজি ‘গভর্ন্যান্স শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘কুবেরনাও’ থেকে উদ্ধৃত। এর মানে ‘চালনা’। প্লেটো এটি রূপক অর্থে প্রথম ব্যবহার করেন। শব্দটি গ্রিক থেকে ল্যাটিনে এবং ল্যাটিন থেকে বিশ্বের বহু ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। শব্দটি প্রিজম বা ত্রিপার্শ্ব কাচের মতো বহু বর্ণের সমাহার। প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের কাল থেকে সরকার ও প্রশাসন পরিচালনাই গভর্ন্যাস। এর অর্থ গভর্ন্যান্স সরকার ও প্রশাসনের উভয়ের চেয়ে ব্যাপকতর। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি প্রসঙ্গে অনুচ্ছেদ ৮(২)-এ বলা হয়েছে, ‘এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূল সূত্র হইবে। আইন প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকের কার্যের ভিত্তি হইবে। তবে এসব নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না।’
আফ্রিকার নিম্ন সাহারা অঞ্চলের উন্নয়ন সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে গিয়ে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম গভর্ন্যান্স সম্পর্কে একটা পর্যালোচনা করে। সেই প্রতিবেদনের দলিলে সুপরিচালনকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহি, উন্নয়নের জন্য একটি আইনি কাঠামো, তথ্য পরিবেশন ও স্বচ্ছতাকে সুপরিচালনের চারটি মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অপর পক্ষে সরকারি ও ব্যক্তিগত খাতের মধ্যে পার্থক্য রক্ষা করার অপারগতা, যার ফলে ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারি সম্পদের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হয়নি, উন্নয়নের সহায়ক হিসেবে পূর্বানুমানযোগ্য আইনি ব্যবস্থা ও পরিচালন প্রতিষ্ঠার অভাবে অত্যধিক নিয়ন্ত্রণবিধির দরুন বাজারের স্বাভাবিক গতিক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি, সম্পদের অপব্যবহার এবং অস্বচ্ছ নীতিনির্ধারণ পদ্ধতিকে কুপরিচালন বা কুশাসনের কারণ হিসেবে সেই দলিলে শনাক্ত করা হয়।
১৯৯২ সালে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) সুপরিচালন সম্পর্কে এই থিসিস গ্রহণ করে উন্নয়নে শরিকানা, গণতন্ত্রের ও বহুদলীয় সমাজের পরিপোষণ, স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক, সুষ্ঠু ও কার্যকর জাতীয় সরকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, স্বাধীন যোগাযোগের মাধ্যম এবং সংবাদ বিকিরণ, দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা এবং অত্যধিক সামরিক ব্যয়ের সংকোচনের কথা সুপারিশ করে।
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১১ বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে আমি বলি, ‘আমাদের রাষ্ট্রচিন্তা অতি সাম্প্রতিক কালের। অনস্বীকার্য, তার অনেকখানি পশ্চিমা ভাবধারায় প্রভাবান্বিত। ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে তার অ-আ-ক-খ আমরা কিছু আয়ত্ত করেছি। পরাধীন পরিবেশে সেই অনুশীলন ছিল খণ্ডিত, কিছুটা প্রতিবন্ধকতাদুষ্ট। পশ্চিমা সভ্যতার মোকাবিলা করতে গিয়ে আত্মমর্যাদায় তাড়িত হয়ে আমরা বলেছি, পুরাকালে আমাদের দেশেও গণতন্ত্র ও নির্বাচন ছিল। ঠিক হুবহু হবস, রুশো বা লক-এর মতো না হলেও ব্রাহ্মণ্য পুরাণে ও বৌদ্ধ জাতকে প্রায় অনুরূপ সমান চুক্তির একটা নির্দশন আমরা আবিষ্কার করার প্রয়াস পেয়েছি। পৌরাণিক তত্ত্বে দেখি, মাৎস্যন্যায়ে উত্ত্যক্ত মানুষের প্রার্থনায় দেবতারা মনুকে রাজা করে পাঠালেন। ঠিক হলো, রাজা ধর্ম রক্ষা করবেন এবং প্রজারা তাঁকে ষষ্ঠাংশ কর দেবে। বৌদ্ধ মতের সঙ্গে এ তত্ত্বের তেমন ফারাক নেই। স্বর্ণযুগের অবসানে সমাজের অবক্ষয়রোধে ‘প্রকৃতি’কুল সবাই মিলে একজনকে রাজা নির্বাচিত করল এবং তাঁর ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য প্রজা এক-ষষ্ঠাংশ কর দিতে রাজি হলো। এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে ‘প্রকৃতি’ কর্তৃক রাজা গোপালের নির্বাচিত হওয়ার কথা প্রশস্তিকারেরা রচনা করেছেন। উভয় তত্ত্বে রাষ্ট্রের আগে সমাজ ছিল এবং রাষ্ট্রের পরও সমাজ বড় হয়ে থাকল। রাজার আসা-যাওয়ার মধ্যে সমাজ ছিল মানুষের একমত্র আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে আমাদের বাচনিক ঐতিহ্যে, বচন-প্রবচনে বাঁধনকর্ষণ ও বাধ্যকরণের যত প্রবাদবাক্যের প্রাদুর্ভাব দেখি, তাতে মনে হয় সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রশক্তিকে মাকিয়াভেলির দৃষ্টিতেই দেখে এসেছে বহুকাল ধরে। আমাদের তরুণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সম্মুখে এখন ছোট ও বড় অনেক কাজ। বিশ্বের জ্ঞান-ভান্ডারের সঙ্গে আমাদের পরিচয় এখনো অত্যন্ত সীমিত।’
ওই সম্মেলনে আমি আর বলি, ‘মানবেতিহাসের বৃহদংশ, প্রায় চতুর্পঞ্চাংশ স্বৈরশাসনের ইতিহাস। স্বাভাবিকভাবে তাই, রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বা শক্তিকেন্দ্রকে ঘিরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চিন্তা-ভাবনা বিবর্তিত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে, সেই অ্যারিস্টটলের যুগ থেকে। তার আগে মানুষের মনে রাষ্ট্র বিষয়ে প্রশ্ন ওঠেনি এমন নয়। তবে লেখনীরীতিতে প্রচলনের অভাবে সেই চিন্তা-চেতনার রীতিবদ্ধ রূপ গড়ে ওঠেনি।’
একটা স্বৈরশাসনের পতনের অব্যবহিত পরেই গণতন্ত্র আড়মোড়া ভেঙে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, এমন কোনো কথা নেই। স্বৈরশাসনের অবসান বহির্দেশীয়, অভ্যন্তরীণ বা উভয়ের কারণে ঘটতে পারে। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হয় এবং স্বীকৃতি বিধিবদ্ধতার মধ্যে যেভাবে ক্ষমতার হস্তান্তরণ ঘটে, সেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারীদের বৈধতা সম্পর্কে কোনো মৌলিক প্রশ্ন ওঠে না, নির্বাচনী উত্তেজনা থাকলেও বিস্ফোরণের আকস্মিকতা থাকে না। একটা স্বৈরশাসনের অবসানের পর হয় পুরোনো গণতান্ত্রিক কাঠামোর পুনরুদ্ধার বা সংস্কার বা একেবারে নবপর্যায়ে আমূল পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে। যখন কোনো অভ্যুত্থান রাষ্ট্রমূলে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সাংবিধানিকতার ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করে, তখন অনেক সময় সব কেঁচোগণ্ডূষ করে নতুন পথে হাঁটার প্রয়োজন হয়।
সমাজে রাজনীতিকরণ প্রয়োজন রয়েছে, এ ব্যাপারে তেমন মতদ্বৈধ নেই। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ইত্যাদি সরকারি কর্মকাণ্ড যদি প্রশাসনে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এখতিয়ারে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেখানে হাওয়া-বাতাস বন্ধ ও রুদ্ধ হয়ে যাবে। অন্যদিকে সমাজের সর্বস্তরে যদি রাজনীতিকরণ হয় এবং রাজনীতিকরণের নামে প্রশাসনের সর্বমুখী হস্তক্ষেপ ঘটে, তখন যেসব সংস্থার স্বাস্থ্যের কারণে স্বায়ত্তশাসিত থাকা উচিত, তাদের নাভিশ্বাস উঠবে।
কোনো দেশের সরকার যতই সহস্রচক্ষু-উৎকর্ণ হোক না কেন, প্রজার সব সুখ-দুঃখের কথা তার কর্ণে প্রবেশ করবে না। রাজনীতিকেরাই প্রজাতন্ত্রের প্রজার অপরিহার্য যথার্থ প্রতিনিধি। সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধি কেবল একটি নির্বাচনকেন্দ্রের অধিবাসীদের প্রতিনিধি নন, তিনি সারা দেশের প্রতিনিধি। তিনি রাজনৈতিক দলের নিয়মকানুন মেনে তাঁর কর্তব্য পালন করলে তাঁর কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ অবিধেয় হবে এবং গণতন্ত্র তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে।
আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, অনেক দল কেবল ব্যক্তিপরিচয়ে অস্তিমান। গরচল ও অচল দলগুলো কেবল জোটের শরিক হিসেবে বেঁচে থাকে। সমাজে কেষ্টবিষ্টু হতে হবে দলে থাকা বা দল করা ভালো এমন একটা হিসাবি মন কাজ করছে মনে হয়।
আমাদের দেশে দরিদ্র দিশেহারা মানুষের কাছে রাষ্ট্র হচ্ছে বাপ-মা। মানুষ কল্যাণকর রাষ্ট্রের কথা ভাবে। সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে যেসব মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, সে লক্ষ্য আমাদের আয়ত্তের বাইরে হলেও সে আমাদের স্বপ্ন। সে স্বপ্নের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে আমরা কিন্তু বেসরকারীকরণের প্রমোদে মন ঢেলে দিয়েছি। নিছক মুনাফাকেন্দ্রিক শিক্ষায়তন, রোগ নিদান-নিরাময়কেন্দ্র ও যোগাযোগের ব্যবস্থাগুলো অনিয়ন্ত্রিত রেখে দিয়েছি। আজ দেশের কেবল্-মোবাইল-ইন্টারনেট প্রযুক্তি কাদের সুবিধার জন্য বেহিসাব স্বেচ্ছাধিকার ভোগ করছে? নিয়ন্ত্রণের ভার জটিল ও ব্যয়বহুল বলে অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ আমলা তাঁর তদারকি করতে পারছেন না। সরকার তার নিয়ামকের দায়িত্ব পালনে যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তা ভয়াবহ।
উপনিবেশ-বিমুক্ত প্রতিটি দেশে আজ ব্যাপক দুর্নীতির প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। দুই হাজার বছরেরও আগে কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে মন্তব্য করেন, জলে চলাফেরা করার সময় মাছ জল খাচ্ছে কি না যেমন নিরূপণ করা সম্ভব নয়, সরকারে কর্মরত সরকারি কর্মচারী নিজেদের জন্য অর্থ গ্রহণ করছেন কি না, তেমনি নিরূপণ করা যায় না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি আজ সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশের প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতির ব্যাপকতা উপনিবেশ-বিমুক্ত দেশগুলোর উন্নয়নে আজ সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। আইনের জাল ছিঁড়ে বড় মাছগুলো বেরিয়ে যাচ্ছে, কেবল ছোট মাছেরা কখনোসখনো ধরা পড়ছে। দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের বিচার করা বড়ই কঠিন। অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি দলের লোক হলে প্রভাব বিস্তারের ফলে আইনের গতি শ্লথ বা একেবারেই রুদ্ধ হয়ে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি বিরোধী দলের হয়, তাহলে সাফাই গাওয়া হয় রাজনৈতিক হয়রানির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।
আজকাল প্রায়ই টেকসই উন্নতির কথা শুনতে পাওয়া যায়। এই আকর্ষণীয় স্লোগানের পঞ্চাশ রকম অর্থ করা হয়েছিল কয়েক বছর আগে। ইতিমধ্যে শব্দের ব্যঞ্জনা আরও বেড়ে থাকতে পারে। টেকসই উন্নতির উদ্দেশ্য কেবল উৎপাদন, ভোগ এবং কাঁচামালের সরবরাহের নিশ্চয়তা বিধান নয়, এর সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার বা ন্যায়ের যে সম্পর্ক রয়েছে, সে উৎকণ্ঠা-উদ্বেগ কি আমাদের জীবৎকালের দিকে লক্ষ রেখেই সীমিত থাকবে? আমাদের বংশধরদের প্রতি আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই? আমরা যেভাবে পৃথিবী ও পরিবেশকে পেয়েছিলাম, তার উন্নতি যদি করতে নাও পারি, তাহলে ঠিক সে অবস্থায় আমাদের উত্তরাধিকারীর জন্য রেখে যাওয়াই তো হবে আমাদের কর্তব্য।
যেকোনো সংঘবদ্ধতায় বা পেশায় আমরা জড়িত হই না কেন, যে পরিবেশে আমরা শ্বাসপ্রশ্বাস নিই, যে সমাজে আমরা বাস করি এবং যে অর্থনীতিতে আমরা জীবিকার সন্ধান করি, তাদের যথাযথ গুরুত্বদানের ব্যাপারে আমাদের সামান্য হলেও কিছু উদ্বেগ থাকা উচিত।
‘প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ’—সংবিধানের এই কথাগুলো বলতে ভাবাবেগে আমাদের গলা বুজে আসে। কিন্তু কাজকর্মে জনগণকে আমরা কাছে ভিড়তে দিই না। জনগণকে কোনো দলই যে ধর্তব্যের মধ্যে নেয় না এবং বিশ্বাস করে না, তার সহজতর প্রমাণ—আজও দেশে সংবিধান প্রদর্শিত পথে স্থানীয় সরকার গঠিত হলো না।
দি ইকোনমিস্ট পত্রিকার বিশেষ বিভাগ ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্তৃক ২০১০ সালের গণতন্ত্রের সূচকের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুত্ববাদ, জনগণের স্বাধীনতা, সরকারের কর্মপদ্ধতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি—এই পাঁচটি বিষয় বিবেচনা করে বলা হয়, পূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে ২৬টি দেশে। এ ক্ষেত্রে নরওয়ের স্থান শীর্ষে। সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গণতন্ত্রচর্চায় অবনতি ঘটেছে। ৫৩টি ত্রুটিযুক্ত গণতন্ত্রের মধ্যে ভারত একটি। বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে তৃতীয় শ্রেণীতে, সংকর শাসনব্যবস্থার দেশগুলোর মধ্যে। তবে ভরসার কথা, যেখানে বহু উন্নয়নশীল দেশ গণতন্ত্রের সূচকে পিছিয়ে পড়েছে, সেখানে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ৮৩তম স্থানে আছে।
আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশ ৯৩তম অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে ক্ষুদ্রতর আরও ১০১টি রাষ্ট্র রয়েছে—দাবি করার সময় জনসংখ্যার বড়াই করা যায়। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশে ১৬ কোটি লোকের প্রাণাচ্ছাদন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শান্তি-শৃঙ্খলার প্রয়োজন সে এক এলাহি ব্যাপার। সরকারের অদক্ষতার কথা বলে সেই বিরাট দায়িত্বকে যেমন খাটো করা যায় না, তেমনি রাষ্ট্র ক্ষুদ্র হোক, ধনী বা দরিদ্র হোক সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও তার ক্ষমতায়ন রাষ্ট্রের ওজনে যেন মাপা হয়, আজ পৃথিবীর সব দিশেহারা মানুষ সেই আশাই করে।
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির একাডেমিক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা। সাবেক প্রধান বিচারপতি।

Monday, February 11, 2013

বাংলাদেশের নানান ভাষাদেশে চালু আছে অনেক ভাষা এ নিয়ে বিশেষ আয়োজন- ফারসি by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

ফারসি ভাষার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই ফারসি ভাষার প্রচলন ছিল। ইরান থেকে আসা সুফি-দরবেশ, ব্যবসায়ী, সৈনিক ও রাজন্যরা এখানে ফারসি নিয়ে আসেন।

Saturday, February 9, 2013

বাংলাদেশের নানান ভাষা- দেশে চালু আছে অনেক ভাষা এ নিয়ে বিশেষ আয়োজন তঞ্চঙ্গ্যা by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে তঞ্চঙ্গ্যা উল্লেখযোগ্য। এদের বসবাস মূলত রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায়। ভাষা-সংস্কৃতি-শিক্ষা—এসব দিক থেকে চাকমা ও মারমাদের মতোই তঞ্চঙ্গ্যারা অনেক দূর এগিয়েছে।

Friday, February 8, 2013

বাংলাদেশে নানা কাজে নানা স্তরে চালু আছে অনেকগুলো ভাষা। সেসব ভাষা নিয়ে এই আয়োজন- চাকমা by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশের নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে জনসংখ্যা ও অবস্থান বিচারে চাকমা বা চাঙমা অন্যতম। চাকমারা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও ভারতের মিজোরাম, আসাম, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশে বাস করে।

Thursday, February 7, 2013

বাংলাদেশের নানান ভাষা- বাংলাদেশে নানা কাজে নানা স্তরে চালু আছে অনেকগুলো ভাষা। সেসব ভাষা নিয়ে এই আয়োজন চাক by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশে চাক জনগোষ্ঠীর বসবাস মূলত বান্দরবান জেলায়। এ ছাড়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেও তাদের বসবাস রয়েছে। চাকদের ভাষায় ‘চাক’ শব্দের অর্থ ‘দাঁড়ানো’।

Monday, February 4, 2013

হত্যার জন্য আত্মহত্যা by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

আত্মঘাতী সন্ত্রাসীকর্ম একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার। রোগে-শোকে-দুঃখে আত্মসম্মান বাঁচাতে বা মর্যাদাহানিতে মর্মবেদনায় মানুষ আত্মহত্যা করতে পারে। সম্রাটের মর্যাদা রক্ষায় জাপানি কামিকাজে পাইলটরা নিজের জীবন উৎসর্গ করে টার্গেটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন।

Wednesday, January 30, 2013

সন্ত্রাসীর মন by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

মানুষের ইতিহাসে সন্ত্রাসীর আবির্ভাব প্রায় তার জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই। খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে ইহুদি কদুৎসাহী শিকারির দেখা পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলমান আসাসিন সম্প্রদায় এবং সপ্তম থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারত উপমহাদেশে ঠগীদের কথা বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।

Thursday, January 10, 2013

নির্বাচন যথেষ্ট নয়, তবে নির্বাচন হতে হবে by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র শুধু অসম্ভব নয়, অকল্পনীয়ও। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ দোদুল্যমান থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না নিয়মিত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন বা ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত হচ্ছে।

নির্বাচন যথেষ্ট নয়, তবে নির্বাচন হতে হবে by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র শুধু অসম্ভব নয়, অকল্পনীয়ও। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ দোদুল্যমান থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না নিয়মিত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন বা ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত হচ্ছে।

Monday, January 7, 2013

গণতান্ত্রিক উত্তরণ-সুশাসনের বিকল্প নেই by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

একটি রাষ্ট্রের কিছু সার্বভৌম অধিকার আছে। ঐতিহ্যগতভাবে সেই অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়_ নির্বাহী ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতা। এই তিন ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পৃথক্করণের কথা বলা হয়েছে।

Sunday, January 6, 2013

গণতান্ত্রিক উত্তরণ- সুশাসনের জন্যক্ষমতার ভারসাম্য জরুরি by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

একটি রাষ্ট্রের কিছু সার্বভৌম অধিকার আছে। ঐতিহ্যগতভাবে সেই অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়—নির্বাহী ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতা। এই তিন ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পৃথক্করণের কথা বলা হয়েছে।

সুশাসনের প্রশ্নে... by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

একটি রাষ্ট্রের কিছু সার্বভৌম অধিকার আছে। ঐতিহ্যগতভাবে সেই অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়- নির্বাহী ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতা।

Tuesday, January 1, 2013

সব অবিশ্বাস-বিদ্বেষ ভুলে by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশ তিস্তা, সুরমা, কর্ণফুলী, গঙ্গা, যমুনা ও মেঘনার অববাহিকায় ২০ ডিগ্রি ৩৪ ইঞ্চি ও ২৬ ডিগ্রি ৩৮ ইঞ্চি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ডিগ্রি ০১ ইঞ্চি ও ৯২ ডিগ্রি ৪১ ইঞ্চি পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে অবস্থিত। আদি প্রাচীন প্রস্তর যুগে প্রায় ১০ লাখ বছর আগে বাংলাদেশের উঁচু মাটিতে আদমসন্তানের পদধূলি পড়েছিল।

সব অবিশ্বাস-বিদ্বেষ ভুলে by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশ তিস্তা, সুরমা, কর্ণফুলী, গঙ্গা, যমুনা ও মেঘনার অববাহিকায় ২০ ডিগ্রি ৩৪ ইঞ্চি ও ২৬ ডিগ্রি ৩৮ ইঞ্চি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ ডিগ্রি ০১ ইঞ্চি ও ৯২ ডিগ্রি ৪১ইঞ্চি পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে অবস্থিত। আদি প্রাচীন প্রস্তর যুগে প্রায় ১০ লাখ বছর আগে বাংলাদেশের উঁচু মাটিতে আদমসন্তানের পদধূলি পড়েছিল।