Wednesday, October 2, 2024

তিন দশকে জাকির নায়েকের প্রথম পাকিস্তান সফর

দীর্ঘ এক মাসের সফরে পাকিস্তানে গেছেন বহুল আলোচিত ইসলামী বক্তা ডা. জাকির নায়েক। এ সময় তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত শহরগুলোতে তার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে করাচি, লাহোর ও ইসলামাবাদ।

গেল তিন দশকে এটি জাকির নায়েকের প্রথম পাকিস্তান সফর। এর আগে ১৯৯২ সালে তিনি পাকিস্তানে গিয়েছিলেন, সে সময় ভারতে ফেরত যাওয়ার আগে লাহোরে ইসলামিক বিশেষজ্ঞ ড. ইসরার আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন।

ভারতীয় নাগরিক হলেও জাকির নায়েক বর্তমানে মালয়েশিয়াতে বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে নিজ দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা করা হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে উসকানির অভিযোগও তুলেছে ভারত সরকার। এবারের সফরে জাকির নায়েক ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী রানা মাশহুদ অভ্যর্থনা জানান। সফরকালে ডাক্তার নায়েক ৫ অক্টোবর করাচি অনুষ্ঠিতব্য এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। তারপর ১২ অক্টোবর লাহোরে এবং ১৯ অক্টোবর ইসলামাবাদে বক্তব্য দেবেন।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখা ছাড়াও তিনি পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, জাকির নায়েক পাক সরকারের আমন্ত্রণে পাকিস্তান সফরে করেন এবং মাসব্যাপী সফরের সময় তাকে পুরোপুরি নিরাপত্তা দেওয়া হবে। 

পাকিস্তানের জাকির নায়েক। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের জাকির নায়েক। ছবি : সংগৃহীত

২০০৬-এর পুনরাবৃত্তি? কেন লেবাননে ইসরাইলের স্থল আক্রমণ সহজ হবে না

২০০৬-এর জুলাইতে শুরু হওয়া মাসব্যাপী যুদ্ধে ইসরাইলি সৈন্যরা প্রচণ্ড লড়াইয়ে মগ্ন ছিল। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারাও এক চিলতে জমি ছাড়তে নারাজ ছিল। তখনকার সংঘাতে কমপক্ষে ২০টি ট্যাংক ধ্বংস করে হিজবুল্লাহ এবং এতে ১২১ জন ইসরাইলি সৈন্য মারা যায়। যুদ্ধের ফলাফল মূল্যায়নের জন্য সরকার-নিযুক্ত উইনোগ্রাড কমিশন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, ‘ইসরাইল একটি দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু করেছিল, যা তার সামরিক বিজয় ছাড়াই শেষ হয়েছিল’। ইসরাইলের – কোড-নাম অপারেশন চেঞ্জ অফ ডাইরেকশন –কে কমিশন ব্যর্থ বলে অভিহিত করে। তারা বলে, 'ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে হাইকমান্ড এবং স্থল বাহিনীর আচরণের কারণে। লেবাননের সামনে তারা একটি কার্যকর সামরিক প্রতিক্রিয়া প্রদান করতে পারেনি।'

প্রায় দুই দশক পর, মঙ্গলবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননে 'সীমিত, স্থানীয়  লক্ষ্যনির্ভর স্থল অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের অভিযানের জন্য সৈন্য ও ট্যাঙ্কের প্রকৃতি এবং মাত্রার উপর ভিত্তি করে অনুমান করা যায় যে দেশটি লেবাননে আরও দীর্ঘ আক্রমণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে।  গাজায় যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে তার দক্ষিণ প্রতিবেশীকে চাপ দেয়ার জন্য ৮ অক্টোবর ইসরাইল রকেট ছুড়তে শুরু করেছে। হিজবুল্লাহর বোমা হামলার ফলে উত্তর ইসরাইলের প্রায় ৬০,০০০ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। লেবানিজ গোষ্ঠী বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ইসরাইল যদি ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় বছরব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটায়, যার মধ্যে ইসরাইলে প্রায় ১১০০ জন নিহত হয়েছিল, তাহলে তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে। গাজার যুদ্ধে ৪১৬০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গত এক বছরে লেবাননে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গত সপ্তাহে ইসরাইল  বিমান হামলা চালিয়ে  হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের নেতা হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করে। গত সপ্তাহে এক মিলিয়ন লেবানিজ তাদের বাড়িঘর ও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন স্কুল, ক্যাম্প এবং রাস্তার ধারে কোনোমতে মাথা গুঁজে রয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্ধারিত লক্ষ্যটি পরিচিত:   হিজবুল্লাহ যাতে আর ইসরাইলিদের হুমকির কারণ না হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, লেবাননে আরও একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইসরাইল যে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে তা অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান স্টাফ হারজি হালেভি গত সপ্তাহে স্থল আক্রমণের আগে সাঁজোয়া ব্রিগেডকে ২০০৬ -এর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন। হালেভি সৈন্যদলকে বলেন, “আপনারা হিজবুল্লাহদের সাথে মুখোমুখি হলে দেখবেন যে একজন পেশাদার, অত্যন্ত দক্ষ এবং যুদ্ধ-অভিজ্ঞ বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার অর্থ কী। আপনাকে  তাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী এবং অনেক বেশি অভিজ্ঞ হতে হবে। ' সাঁজোয়া ব্রিগেডের পাশাপাশি, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তার বায়ু সৈন্যদের ৯৮তম ডিভিশনকে একত্রিত করেছে, যারা গাজায় কয়েক মাস ধরে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আল জাজিরার ডিফেন্স এডিটর অ্যালেক্স গ্যাটোপোলোস বলেছেন যে অভিজাত ইউনিট পাঠানোর মাধ্যমে, ইসরাইল হিজবুল্লাহকে এই বার্তাটি পৌঁছে দিচ্ছে যে এটিকে ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে তারা অটল। গ্যাটাপুলোস বলেন, ডিভিশনটিতে প্রায় ১২,০০০ থেকে ১৪,০০০ অভিজ্ঞ সৈন্য এবং কয়েক ডজন ট্যাঙ্ক ও অস্ত্র রয়েছে।' গ্যাটোপোলোস ইসরাইলি সেনাবাহিনী সম্পর্কে বলছেন, যখন আপনি মনে করেন যে আপনার প্রতিপক্ষ লড়াই করতে পারবে না, এর অর্থ আপনি তাদের অবমূল্যায়ন করছেন।'

গ্যাটোপোলোস বলছেন, '২০০৬ সালের তুলনায়, হিজবুল্লাহ দক্ষিণে মোতায়েন প্রায় ৫,০০০ সৈন্য থেকে কয়েক হাজার যোদ্ধায় পরিণত হয়েছে। এর অভিজাত রাদওয়ান ফোর্সের যোদ্ধা, যারা "দক্ষিণে প্রশিক্ষণ দেয় এবং  গোটা ভূখণ্ডকে হাতের তালুর মতো চেনে  তাদের সংখ্যাও প্রায় ৩,০০০। হিজবুল্লাহর কাছে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের অস্ত্রাগার রয়েছে বলে জানা যায়। ২০১৩ সাল থেকে বাশার আল-আসাদের শাসনের সমর্থনে হস্তক্ষেপ করার সময় এই গোষ্ঠীটি সিরিয়ায় যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে। যদিও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এখন হিজবুল্লাহর অতর্কিত আক্রমণগুলি প্রতিরোধ করার জন্য নজরদারি ড্রোনগুলির একটি শক্তিশালী বহরের উপর নির্ভর করতে পারে, ভূগর্ভস্থ যুদ্ধের টানেলগুলি এখনও লেবানিজ গ্রুপকে হোম টার্ফে সামরিক সুবিধা দিতে পারে।

প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক এবং ওয়াশিংটন ডিসির আরব সেন্টারের সিনিয়র ফেলো নাবিল খুরি আল জাজিরাকে বলেছেন যে, সামরিকভাবে ইসরাইল হয়তো কিছু লোককে হত্যা করতে পারে। তবে তাদের লক্ষ্য তার চেয়ে অনেক বেশি । তারা গাজা, পশ্চিম তীর এবং এখন স্পষ্টভাবে লেবাননের জন্য একটি বিস্তৃত নকশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। 'শেষ পর্যন্ত, হিজবুল্লাহর হুমকিকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী একটি "সীমিত" অপারেশন পরিচালনা করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যদিও সেই লক্ষ্য পূরণ করতে তারা  বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলের প্রথম অভিযানকে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) দ্বারা সৃষ্ট হুমকিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি সংক্ষিপ্ত মিশন হিসাবে উল্লেখ  করা হয়েছিল, যার ফল দক্ষিণ লেবাননে ১৮ বছরের দখলদারি। সাবরা এবং শাতিলার ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলের স্থল আগ্রাসন এবং ৩৫০০ জন লোকের গণহত্যাও শেষ পর্যন্ত লেবাননে একটি নতুন শক্তির উত্থানে অবদান রেখেছিল- হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর একটি বৃহৎ অস্ত্রাগার রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে লেবাননের যেকোনো স্থান থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। বিশ্লেষকরা বলেছেন, নৈতিকভাবে এবং ভৌগোলিকভাবে - ইসরাইল তার রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলি সুরক্ষিত করতে কতদূর যেতে ইচ্ছুক তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গ্যাটোপোলোস বলছেন, ইতিহাস বলছে এটি একটি খুব অগোছালো অপারেশন হতে চলেছে।

সূত্র : আলজাজিরা

mzamin

ইলেক্টোরাল ভোট: আমেরিকান গণতন্ত্রের সৌন্দর্য by হেলাল উদদীন রানা

বিশ্বের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রমী নির্বাচনী ব্যবস্থা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। পৃথিবীতে এই ইলেক্টোরাল ভোট পদ্ধতি আর কোথাও নেই। এই ব্যবস্থার পক্ষে বিপক্ষে নানা মত থাকলেও ইলেক্টোরাল ভোট ব্যবস্থা আমেরিকার গণতন্ত্রকে সুসংহত ও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখে চলেছে বলে মনে করা হয়। ইলেক্টোরাল ভোট পদ্ধতিকে তাই আমেরিকান গণতন্ত্রের বিউটিও বলা হয়। তবে এই ইলেক্টোরাল ভোট পদ্ধতি আমেরিকান সাধারণ মানুষসহ অনেকের কাছেই পরিস্কার নয়। কেউ কেউ ইলেক্টোরাল ভোটকে জটিল একটি পদ্ধতি এমন ধারণা করে থাকেন।

১৭১৭ সালে পেনসেলভেনিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত এক কনস্টিটিউশন কনফারেন্সে ইলেক্টোরাল সিস্টেমের দুরদর্শী এই ধারণাকে আইনে রূপান্তর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সংযুক্ত করা হয়। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সকলের সম-অধিকার নিশ্চিত ও বড় রাজ্যগুলোর আধিপত্য ঠেকাতে এই ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়।

যার ফলে আমেরিকা আরকানসা, ইলিনয় আর ডেলাওয়ারের মত অপেক্ষাকৃত ছোট রাজ্যগুলো থেকে বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেন এর মত প্রেসিডেন্ট পেয়েছে। তা নাহলে ক্যালির্ফনিয়া, নিউইয়র্কের মত জনবহুল রাজ্যের মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্সি ঘুরপাক খেত।ইলেক্টোরাল ভোট আইনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে এটির উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের ১২তম সংশোধনী হিসাবে তা গৃহীত হয়। এটি একটি পরোক্ষ ভোটের প্রক্রিয়া। ইলেক্টোরাল ভোট পদ্ধতি বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভাকে বুঝতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে দুইকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থা বিদ্যমান। উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বা কংগ্রেস। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের ছোট বড় প্রত্যেকটি রাজ্যে সমানভাবে দুটি করে সিনেটে প্রতিনিধি আসন আছে। সে অনুযায়ী সিনেটের মোট আসন সংখ্যা একশ। অর্ধশত রাজ্যে রয়েছে মোট ৪শ ৩৫টি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বা কংগ্রেসের আসন, তাও আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত। ৫০টি রাজ্যের বাইরে আছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি বা ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া। রাজধানী ওয়াশিংটনে আছে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ৩টি আসন। ৫০টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি মিলিয়ে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের এই ৪শ ৩৮ জন এবং ১শ সিনেটর হচ্ছেন আমেরিকার আইন প্রণেতা। এই মোট ৫শ ৩৮ কংগ্রেশনাল আসন হচ্ছে ইলেক্টোরাল ভোট।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রত্যেকটি রাজ্যে জিতে আসতে হয়।

নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের আসন সংখ্যা রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে নির্ধারণ হয়ে থাকে। এটি রাজ্য ভেদে বাড়ে কমে প্রতি দশ বছর পর পর ইউএস সেনসাসের ভিত্তিতে। সিনেটে নির্বাচিতদের সিনেটর এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের কংগ্রেসম্যান বা কংগ্রেস উইমেনস বলা হয়। উভয় কক্ষে সিনেটর ও কংগ্রেসম্যান জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রাজ্যে জনগণের ভোটে জয়লাভ করলে তবেই তিনি সেই রাজ্যের ইলেক্টোরাল ভোটের অধিকারী হন।

উদাহরণস্বরূপ সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল ভোট একক রাজ্য হিসাবে ক্যালির্ফনিয়ার ৫৪টি। যিনি ক্যালির্ফনিয়ায় জয়লাভ করবেন তিনি এই ৫৪টি ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন। আবার সবচেয়ে কম ইলেক্টোরাল ভোট ৩টি করে রয়েছে ৫টি রাজ্যের এবং ওয়াশিংটন ডিসির। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে সর্বনিম্ন ২শ ৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট প্রয়োজন হয়।

মূলত বৃহত দুইদল ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান ভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ কোনো নির্বাচনেই কোনো প্রকার মার্কা বা প্রতীক ব্যবহার করা হয়না বা প্রচলন নেই। ব্যালটে কেবল প্রার্থীর নাম এবং কোন দল থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন সেটা উল্লেখ থাকে। তারপরও ডেমোক্রাটদের প্রতীক হচ্ছে গাধা এবং রিপাবলিকানদের প্রতীক হাতি।  যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ রাজ্য লাল বা নীলে বিভক্ত হলেও প্রতি ৪ বছর অন্তর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কিছু কিছু রাজ্য কালার বদলাতে শুরু করে। অর্থাৎ দল বদলানো এই রাজ্যগুলোকে সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এসবের বেশির ভাগ রাজ্য যে দিকে ঝুঁকে পড়ে প্রেসিডেন্সি সে দিকেই যায়। এবার এরকম ৭টি সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্য রয়েছে। এগুলো হচ্ছে পেনসেলভেনিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, নেভাদা ও অ্যারিজোনা। এই সাতটি রাজ্যের রয়েছে মোট ৯৩ ইলেক্টোরাল ভোট।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন ইলেক্টোরাল ভোটের যে প্রজেকশান করেছে এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রাট প্রার্থী কমালা হ্যারিস ২শ ২৬ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প ২শ ১৯ ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন এমনটা প্রায় নিশ্চিত। তবে ২শ ৭০ ইলেক্টোরাল ভোট জোগাড় করতে হলে
এই সাতটি রাজ্যের বেশির ভাগের জনরায় লাগবে। আর উভয় প্রার্থী ও তাদের ক্যাম্পেইনের দৃষ্টি এখন সে দিকেই নিবদ্ধ।

mzamin

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক: মধ্যপ্রাচ্য সংকট এড়িয়ে গেলেন ওয়ালজ ও ভ্যান্স

নির্বাচনের মাত্র ৩৫ দিন আগে ভাইস-প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে অংশ নিয়েছেন মার্কিন ভাসই প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের রানিং মেট টিম ওয়ালজ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রানিং মেট জেডি ভ্যান্স। উভয়ই মধ্যপ্রাচ্য সংকট এড়িয়ে গেছেন। তাদের কাছে ইরান-ইসরাইলের সমর্থনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা সরাসরি জবাব দেননি। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত সিবিএস টেলিভিশনের বিতর্কে অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ওই দুই রাজনীতিবিদ। বিতর্কে তারা অভিবাসন, কর প্রয়োগ, গর্ভপাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরস্পর বিরোধী অভিমত তুলে ধরেন। তবে তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে নিজেদের বিরত রেখেছিলেন। এ খবর দিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা।

এতে বলা হয়, এই দুজন প্রতিদ্বন্দ্বি নির্বাচনী প্রচারাভিযানে পরস্পরকে তীব্র ভাবে আক্রমণ করলেও, বিতর্কে তাদের মনোভাব ছিল উষ্ণ। তারা বরঞ্চ তীব্র আক্রমণের বিষয়টি যেন তাদের নির্বাচনী টিকেটের সর্বোচ্চ প্রার্থী ডেমোক্র্যাটিক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রেখে দিলেন।

নিউ ইয়র্কের সিবিএস ব্রডকাস্টিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কের শুরুতেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের অব্যাহত আক্রমণ এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংকট প্রসঙ্গটি আসে। ওয়ালজ বলেন ট্রাম্প অনেক বেশি ‘নড়বড়ে এ ব্যাপারে। তবে ভ্যান্স জোর দিয়েই বলেন, ট্রাম্প তার আমলে বিশ্বকে আরও বেশি নিরাপদ করে গেছেন।
ভ্যান্স প্রশ্ন করেন হ্যারিস কেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুদ্রাস্ফীতি, অভিবাসন ও অর্থনীতির দিকে নজর দেননি। ভ্যান্স বলেন, মধ্যবিত্তের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে কমালা হ্যারিসের যদি এত মহৎ পরিকল্পনা থাকে, তাহলে যে কাজটি তাকে আমেরিকান জনগণ সাড়ে তিন বছর আগেই দিয়েছিলেন তার উচিত ছিল এখনই তা সম্পন্ন করা।

ওয়ালজ ট্রাম্পকে অস্থিতিশীল নেতা বলে বর্ননা করেন যিনি কোটিপতিদেরই কেবল অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং অভিবাসন সম্পর্কে ভ্যান্সের সমালোচনা তাকে ফিরিয়ে দিয়ে এ বছর আরও আগে সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে দ্বিদলীয় প্রস্তাব পরিহার করতে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন।
অভিবাসন সম্পর্কে ওয়ালজ বলেন, আমরা, অধিকাংশ লোকই এর সমাধান করতে চাই। এটি করার জন্য ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চার বছর সময় ছিল, এবং তিনি আপনাদের, আমেরিকানদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিষয়টা কতখানি সহজ হবে।
যখন জানতে চাওয়া হয় যে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থন করবেন কীনা, জবাবে ভ্যান্স বলেন, বিষয়টি তিনি ইসরাইলের বিবেচনার জন্য রাখবেন, তবে ওয়ালজ এই প্রশ্নের কোন সরাসরি উত্তর দেননি। ৬০ বছর বয়সী ওয়ালজ হচ্ছেন মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের লিবারেল গভর্ণর ও হাই স্কুলের একজন সাবেক শিক্ষক এবং ৪০ বছর বয়সী ভ্যান্স হচ্ছেন একজন জনপ্রিয় লেখক এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেটর। তারা উভয়ই নিজেদের আমেরিকার মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের সন্তান হিসেবে তুলে ধরেন। তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি গভীর ভাবে পরস্পরবিরোধী।
৫ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই শেষ বিতর্কে উভয় প্রতিপক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্যবস্তু করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্টদের বিতর্ক খুব উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে কিন্তু তা নির্বাচনের ফলাফলে তেমন কোন পরিবর্তন আনে না। তবে তা সত্ত্বেও জনগণের মতামতে সামান্য পরিবর্তনও পাঁচ সপ্তাহ আগে এই তুমূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পাল্টে দিতে পারে।

mzamin

বিএনপি’র সঙ্গে দূরত্ব নেই সংস্কার ও নির্বাচন দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ -ডা. শফিকুর রহমান by মুনির হোসেন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিপ্লবের ফসল। ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই সরকারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা সকল নাগরিকের কর্তব্য। তারা যে সংস্কার কাজে হাত দিয়েছেন সেটার জন্য যৌক্তিক সময় দিতে হবে। তবে সেটি যেন কোনো ভাবেই আনলিমিটেড না হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সময়ের মধ্যে মৌলিক সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। যেন আগামীতে কেউ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। নিশ্চিত করেন বিএনপি’র সঙ্গে জামায়াতের জোট আর নেই। তবে জাতীয় স্বার্থে তাদের সঙ্গে ঐকমত্য রয়েছে।  আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও বিএনপি’র সঙ্গে ২০২২ সাল থেকে জোট নেই। সেটি দুই দলের বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার। বিএনপি’র সঙ্গে জামায়াতের কোনো টানাপড়েন নেই। দলটির সঙ্গে যোগাযোগ আছে। রাজনীতিতে দুইটা দলের দুইটা আদর্শ ও মত থাকবে স্বাভাবিক। পরস্পর সমালোচনার দ্বারা আমরা ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করবো।

জাতীয় স্বার্থের জায়গায় আমাদের কারও দ্বিমত নেই। এ সরকারকে সহযোগিতা করা, যৌক্তিক সময় দিয়ে সফল করা- এসব জায়গায় আমরা সবাই ঐকমত্য। রাজধানীর বড় মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমীর বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লব হয়েছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। বিগত সরকার ছলেবলে কৌশলে যে সকল নির্বাচন করেছে সেগুলোর কোনো নৈতিক বৈধতা ছিল না। এগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকেছে। সাড়ে ১৫ বছরে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন ও পুলিশকে দলীয়করণ করেছে। দলীয়করণের ফলে তারা বেপরোয়া হয়ে জনগণের ওপর জুলুম অত্যাচার করার সুযোগ পেয়েছে। যদি এসব জায়গা থেকে সমর্থন না পেতো তাহলে সরকার এত বেপরোয়া হতে পারতো না। এগুলোর মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নয়নের মডেল বানিয়েছে দাবি করলেও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারেই বিধ্বস্ত। উন্নয়নের কথা বলে প্রচারণা ছিল ফাঁকা বুলির মতো। মানুষ এখন সব বুঝেছে। সাড়ে ১৫ বছরের এ বিশাল জঞ্জাল পরিষ্কার করতে অবশ্যই সময় লাগবে। তবে সময় অপরিসীম হওয়া উচিত নয় এবং সংস্কারের বিষয় অনেক বেশি হওয়া উচিত হবে না। তাহলে সমস্যা হবে। এখানে মৌলিকভাবে বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে বিধি প্রো-বিধি এ জায়গাগুলোতে কিছু সংস্কার করতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। বিচার বিভাগকে সাজাতে হবে। আপিল বিভাগ ছাড়া বাকি সব আগের জায়গায়ই রয়ে গেছে। এসবের জন্য সময় প্রয়োজন আছে। এ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন সেটার অনেকগুলোই ফলপ্রসূ আবার কিছু পদক্ষেপ জনগণ ইতিবাচকভাবে নেয়নি। এটা হতেই পারে। মানুষ ভুল করতেই পারে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের লোক না, বেশির ভাগই সিভিল সোসাইটির মানুষ। ত্রুটি-বিচ্যুতি হবেই, তবে তাদের উদ্দেশ্যটা দেখতে হবে। তারা যদি ভালো উদ্দেশ্যে কিছু করেন তাহলে অবশ্যই জনগণকে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন। তাহলে তাদের সম্মানের জায়গাটাও বহাল থাকবে দেশও উপকৃত হবে। আমরা সেটাই আশা করি।

তিনি বলেন, মৌলিক জায়গাগুলো তারা করলে কমিশন একাধিক গঠিত হলে অসুবিধা নেই। কমিশন কমিশনের কাজ করবে। এ বেসিক জায়গাগুলো ঠিকঠাক করে নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী তারা যেতে পারেন। আমরা দুটা রোডম্যাপের কথা বলছি। একটা নির্বাচনের রোডম্যাপ, অন্যটা সংস্কারের। সংস্কারের রোডম্যাপে কী কী বিষয়ে সংস্কার করবেন আর কতো সময়ের মধ্যে করবেন এটা থাকবে। এজন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন অংশীজনের সঙ্গে ডায়ালগে বসেন। তারা সেটা করবেন। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে সমাধান বের হয়ে আসবে। আমরাও সে ব্যাপার নিয়ে কাজ করছি। আমরা যৌক্তিক সময়টা কেমন হতে পারে সেটা তাদের কাছে তুলে ধরবো। আপনাদেরও ব্রিফ করবো।

সংস্কারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন হতেই হবে। তবে মৌলিক সংস্কারগুলো করে নির্বাচন হলে সেটি ফলপ্রসূ হবে। তা না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। নির্বাচনে বিএনপি’র সঙ্গে জোট করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যে সিদ্ধান্তই নিই না কেন সেটি জনগণের প্রত্যাশা, দেশের প্রয়োজন, জাতীয় স্বার্থ গুরুত্ব পাবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু ইসলামিক দল নয়, ১২ দল, ৫ দলসহ অনেকের সঙ্গে আমরা বসেছি। সুতরাং যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছিলেন, দেশপ্রেমিক শক্তি সেসব দলের সঙ্গে মানসিক ঐক্য থাকতে পারে। সে জায়গা থেকে আমরা মতবিনিময় করেছি। যেটি আগামী দিনে বৃহত্তর ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। যার যতটুকু ভূমিকা আছে তাকে সম্মান ও গুরুত্ব দেয়া হবে। নির্বাচনে আগামীতে কেমন সরকার চান এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতপ্রধান বলেন, এদেশের মানুষের জোট এবং একক দলের সরকার দেখার সুযোগ হয়েছে। আমরা জোট বা একক সরকারে না গিয়ে বলতে চাই সরকারটা হবেন যিনি প্রকৃতপক্ষেই জনগণের সরকার হবেন। যারা সরকারে বসে দেশের মালিক হবে না। সব জায়গা দখলে নিতে হবে, আধিপত্য বিস্তার করতে হবে, সব জায়গায় আমার লোক থাকতে হবে- এটা করতে গেলে আবার দুর্বৃত্তায়নে দেশ পড়ে যাবে। এ জায়গাটা পরিষ্কার করতে হবে। সরকার দুর্নীতিমুক্ত এটা মুখের কথায় নয়, বাস্তবে রূপ দিতে হবে। নিজে দুর্নীতিমুক্ত থাকবেন, দেশের সম্পদকে আমানত মনে করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। অর্থ-আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি, দখলদারি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ সকল দুর্বৃত্তায়ন থেকে বের হয়ে একটা সরকার কায়েম হোক সেটাই আমরা চাই। একই সঙ্গে আদালতকে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। বিচার বিভাগ যেন স্বাধীন থাকে। প্রধান বিচারপতি আদালতের সচিবালয় আলাদা করার যে প্রস্তাব করেছেন, আমরা সেটিকে পূর্ণ সমর্থন করি। কে ক্ষমতায় যাবে সেটা বড় কথা না। ক্ষমতায় যেন জনগণের সরকার যায়। যারা জনগণকে বুঝবে ও সম্মান করবে। আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের আগে বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীও ধারণা করেনি এমন একটি ঘটনা ঘটবে। তবে এটা বোঝা যাচ্ছে যে স্বৈরাচারী সরকার আর টিকবে না। যে সরকার যুবসমাজের গায়ে হাত দিয়েছে তারা অতীতেও টিকেনি। সকলে এটা স্বীকার করতে বাধ্য যে এটা আল্লাহর একটা সিদ্ধান্ত। এটার মূল কৃতিত্ব তার। জমিনে নিঃসন্দেহে পুরো দেশবাসীর অংশগ্রহণ ছিল। মাস্টারমাইন্ড শব্দটি না নিলেই ভালো। কে মাস্টারমাইন্ড বা কে অন্য কিছু সেটি বড় কথা নয়। আমরা বলবো ছাত্রসমাজ মুখ্য নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিল। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই। মাস্টারমাইন্ড নিয়ে যেন কোনো কাটাছেঁড়া না হয় এবং বিপ্লবের চেতনা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় আমরা সেটাই চাই। একজনকে মাস্টারমাইন্ড করা হলে অন্যদের আন্ডারমাইন্ড করা হবে। যারা জীবন উৎসর্গ করেছে তাদের যেন আমরা সর্বোচ্চ সম্মান জানাই। আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা সর্বোচ্চ থাকে। দেশের জনগণ ও প্রবাসী সবার মুখ্য ভূমিকা ছিল আন্দোলনে। সুতরাং কাউকে খাটো করে দেখার পক্ষে নয়। আমরাও দলগতভাবে জনগণের সঙ্গে একাকার ছিলাম। তিনি আরও বলেন, বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে আমিই প্রথম তরুণদের স্বীকৃতি দিয়েছি। আর তো কেউ দেয়নি। সেদিন আমি আশা করছিলাম সবাই করবেন। পরে অবশ্য অনেকে করেছেন। ওইদিন এ স্বীকৃতি তাদের পাওনা ছিল। কারণ নেতৃত্বটা তাদের ছিল। সাড়ে ১৫ বছর আমরা আন্দোলন করেছি। যার ধারাবাহিকতায় এখানে সফলতা এসেছে। তাই তাদের স্বীকৃতি পাওয়া বাড়তি কিছু না। আমরা আগেও শ্রদ্ধা দেখিয়েছি, আগামীতেও দেখাতে থাকবো। তবে তারাও যেন শ্রদ্ধার মূল্যটা বুঝে সেটা প্রত্যাশা করবো। এটি দলের জন্য না জাতির জন্য বলছি। এ সম্মান রেখে নিজেদের মর্যাদা তারা আরও বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করি।
ছাত্রদের দল গঠন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমীর বলেন, শুরুতে একজন সমন্বয়ক দুই মাসের মধ্যে দল গঠন করবেন বলেছিলেন। এরপর একাধিক সমন্বয়ক বলেছেন আমরা এরকম সিদ্ধান্ত নেইনি। এরপর তারা নাগরিক কমিটি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে এটা কী দল গঠনের প্রথম পদক্ষেপ কিনা- তারা বলেছেন প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবেন। যাতে যে সরকারই আসুক তারা যেন সঠিক রাস্তায় থাকে। জনগণের সঙ্গে যেন প্রতারণা, ধোঁকা, অত্যাচার, জুলুম, বৈষম্য না করে সেজন্য তারা প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে। তাদের বক্তব্য যদি এতটুকু হয় তাহলে এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই। দল গঠন দৃশ্যমান হলে আমরা আমাদের বক্তব্য দেবো। আর কেউ যদি দল গঠন করতে চায় তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। বাংলাদেশে অনেক দল আছে আরেকটা হবে। তাদের বক্তব্য, আদর্শ, কৌশল মানুষ পছন্দ করলে তাতেও আমার আপত্তি থাকার কথা না। তবে যেহেতু তাদের একটা অংশ সরকারে আছেন তাহলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। দুইদিকে থাকলে নৈতিকতার সঙ্গে ঠিক হবে না। এ সময় জামায়াতের নাম পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাদের যেসব পরামর্শ দেয় সেগুলো আমরা গুরুত্ব দেই। আমাদের সংবিধান অনেকবার সংশোধন হয়েছে। তা না হলে তো আমরা এক জায়গায় পড়ে থাকতাম। দেশ ও মানবতার জন্য যেখানে সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে সেটাতো আমরা গ্রহণ করেছি। জামায়াতের নাম পরিবর্তনের বিষয়টা আসে মূলত ১৯৭১’র ভূমিকা নিয়ে। এখন হলো ২০২৪। তারও ২৩ বছর আগে বৃটিশরা এ দেশ শাসন করে গেছে ১৯০ বছর। তাদের নিয়ে কোনো আলোচনা কেউ করে না। তাহলে ৫৩ বছর আগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে আমরা  পেছনের দিকে যাবো। সামনের দিকে যেতে পারবো না। জাতি বিভক্ত হবে, ঐক্যবদ্ধ হবে না। জামায়াতে ইসলামী দেশ স্বাধীনের পর থেকে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটাও সিদ্ধান্ত নেয়নি। জাতি যখন পেছনের বিষয় নিয়ে পড়ে থাকে তাহলে তার ভবিষ্যৎ নেই। একটা জাতিকে বিভক্ত করে কী অর্জন করবো। ঐক্যবদ্ধ হলেই দেশ শক্তিশালী হবে। আওয়ামী লীগ একে খন্দকার, জিয়াউর রহমানসহ অনেককেই পাকিস্তানের রাজাকার, চর বলেছে। তারা ছাড়া সবাই খারাপ ছিল তাহলে? তাদের বিভাজনের রাজনীতি মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। যার কারণে তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ারও সাহস হয়নি। নাম পরিবর্তনের বিষয়টা আসে মূলত জামায়াতকে খারাপভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাই। দল হিসেবে আমাদের প্রতি তারা জুলুম করেছে। হ্যাঁ, জামায়াত যদি মনে করে প্রয়োজনে নতুন কোনো নামে রাজনৈতিক অবস্থান নেবে, সেটা নিতে পারে। অসুবিধা নেই। বহু দেশে এমন উদাহরণ আছে। মূল দল মূল দলের জায়গায় আছে, আরেকটা রাজনৈতিক উইং আছে। প্রয়োজন হলে সেটা আমরাও করবো।

জামায়াত কেমন রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইসলামী রাষ্ট্র ও কল্যাণ রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দল, মত, ধর্মের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও মদিনাকেন্দ্রিক যে রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল সেটি কল্যাণ রাষ্ট্র ছিল। সমস্ত মানুষের জন্য ছিল সেটি কল্যাণ রাষ্ট্র। ইসলামের নামে সমাজে চলা চলমান অসহিষ্ণুতার প্রশ্নে তিনি বলেন, কাউকে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেয়া, আইন হাতে তুলে নেয়া উচিত না। আমার যদি কোনো আপত্তি থাকে সেটি নিয়মতান্ত্রিক পন্থা তুলে ধরবো। কিন্তু নিজে আইন হাতে তুলে নিয়ে কোনো কাজ করাকে সেটি আমরা সমর্থন করি না। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী লড়াইয়ে জামায়াত দেখতে চায় কিনা এমন প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই কি চাই না সেটি বড় কথা না। তারা চায় কিনা সেটিই প্রশ্ন। নির্বাচনে আসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি যাদের সম্মানবোধ আছে তারা। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি গত সাড়ে ১৫ বছরে সেটির পরিচয় দিয়েছে? তিনটা নির্বাচনে সামান্য দেখাতে পেরেছেন। তাহলে সেই মানসিকতা নিয়ে তারা কীভাবে নির্বাচনে আসবেন। তারা তো নির্বাচন চান না, সিলেকশন চান। তারা সিলেকশনের অপেক্ষায় থাকতে পারেন তবে ইলেকশন তো তাদের সঙ্গে মানায় না। তারা যেটি নিজেদের জন্য চান না সেটি আমরা কেন চাইবো। আগে তারা তাদের অবস্থান ঠিক করুক। জামায়াত আমীর বলেন, দেশটা আমাদের সবার। আর যেন কেউ আমাদের দেশটাকে আবার বিভক্ত করতে না পারে। জাতি হিসেবে আমরা যেন জাতীয় স্বার্থের জায়গায় ঐক্যবদ্ধ থাকি। এখানে দল, মত, ধর্ম যেটাই থাকুক আমাদের ঐক্যটা যেন একদম ইস্পাত কঠিন সুদৃঢ় থাকে। এ সরকার একটা বিপ্লবের ফসল। ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরা তাদের দায়িত্ব দিয়েছি। দায়িত্ব যেহেতু আমরা দিয়েছি কাজেই সহযোগিতা করার দায়িত্ব আমাদের। তবে অন্ধভাবে বিনাশর্তে নয়। তারা যদি অসঙ্গত বা দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেন তাহলে অবশ্যই তাদের সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের রাস্তায় না এলে প্রতিবাদ করতে হবে। আর সঠিক পথে থাকলে আমাদের উচিত তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা করা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট গত সরকারের। তার নৈতিক ও আইনগত জায়গা থাকে। দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসন। এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দৃশ্যমান কোনো বিপর্যয় দেখি নাই। তারপরও জনগণের একটা মত আছে। বিপর্যয়ের সময় দেশকে শান্তি ও যৌক্তিক একটা জায়গায় আনার কোনো উদ্যোগ নেননি তিনি। তার চোখের সামনে হাজারের ওপর মানুষ হত্যা ও অনেক মানুষ পঙ্গু হলেন তখন তিনি কোনো উদ্যোগ নেননি। তিনি চাইলে প্রথম দিনই একটা উদ্যোগ নিতে পারতেন। কাজেই অভিভাবক হিসেবে সংকটকালীন সময়ে তিনি তার নৈতিক দায়িত্ব পালন করেননি। তিনিই সিদ্ধান্ত নিন কী করার, না করার। তিনি নৈতিকতার জায়গায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তার নীরব থাকাই স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন করা। এর বাইরে কোনো কিছু থাকলে তাকেই জাতির কাছে পরিষ্কার করতে হবে।

mzamin

ইসরায়েলের আগ্রাসনে সমর্থন দিয়ে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন যুক্তরাষ্ট্র

লেবাননে টানা কয়েক দিন বিমান থেকে নির্বিচার বোমা হামলার পর দেশটিতে ঢুকেছে ইসরায়েলের সেনারা। এই সামরিক আগ্রাসনে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনারা লেবাননে ঢোকার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। এতে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা থেকে পিছু হটার অনুরোধও আসছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে অন্য কথা। সীমিত পরিসরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে সেনা অভিযান চালানোকে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন।

সোমবার মধ্যরাত থেকে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননে ঢুকতে শুরু করে। ইসরায়েল যে লেবাননে স্থলপথে হামলা শুরু করতে যাচ্ছে, কয়েক দিন ধরেই অবশ্য এই গুঞ্জন চলছিল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও লক্ষ্যবস্তুতে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এই অভিযান’ চালাবে তারা।

তবে লেবাননে ইসরায়েলি সেনারা ঢোকার পর ইরান–সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তো রয়েছেই, পাশাপাশি এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই ইসরায়েলের সেনারা লেবানের ঢোকার পরপরই এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার ও জাপান।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। গ্যালান্টকে তিনি জানিয়েছেন, লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহকে তাড়িয়ে দিতে ইসরায়েল যে স্থল আক্রমণ শুরু করেছে তাতে সম্মতি আছে ওয়াশিংটনের।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটা স্পষ্ট করেই বলেছি, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’ এদিকে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে লেবাননে ইসরায়েলের সীমিত পরিসরে স্থল হামলার বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তবে বিবৃতিতে এ–ও বলা হয়েছে যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ছাড়া দেশটির অন্যত্র স্থল হামলার বিপক্ষে হোয়াইট হাউস। লেবানন সীমান্তে স্থিতিশীলতা একমাত্র কূটনৈতিক সমধানের মাধ্যমেই সম্ভব।  
‘ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপদ’

লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি সতর্ক করে বলেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে রয়েছে লেবানন। বিগত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলার মুখে দেশটিতে উদ্বাস্তু ১০ লাখ মানুষকে ত্রাণসহায়তা দিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি বলেন, ‘উদ্বাস্তু লোকজনকে আমরা ত্রাণসহায়তা দিচ্ছি। আরও জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

এদিকে লেবাননে জাতিসংঘের ত্রাণসহায়তা–বিষয়ক সমন্বয়ক ইমরান রিজা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে জরুরি ত্রাণসহায়তা দিতে ৪২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ত্রাণসহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ত্রাণসহায়তা পৌঁছানো পর্যাপ্ত কিছু করা না গেলে জরুরি সহায়তা না পেয়ে পুরো দেশের মানুষ চরম সংকটের মধ্যে পড়বে। বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করে যদি হামলা চলতে থাকে তাহলে যত ত্রাণসহায়তা দেওয়া হোক না কেন, এটা সব মানুষের চাহিদা মেটাতে পারবে না।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সমন্বয়কের কার্যালয়ের মুখপাত্র লিজ থ্রসেল ইসরায়েলের স্থল হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, স্থল হামলার পরিসর যত বাড়বে ততই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।
‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা’

গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লেবাননে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। সাম্প্রতিক সময়ে হামলা জোরদার করলে ইতিমধ্যে কয়েক শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনারা লেবাননে ঢুকে হামলা শুরু করার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত একটি নতুন মোড় নিল। ইসরায়েলি সেনারা লেবাননে ঢোকায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে।

লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের স্থল হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থল হামলার মধ্য দিয়ে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি বাহিনীর লেবানন আগ্রাসনের গভীর নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, লেবাননের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত তার আগের অবস্থানে অবিচল রয়েছে। এই সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষার গুরুত্বের বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুলাজিজ আল–খুলাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, লেবাননের ওপর আগ্রাসন সবচেয়ে খারাপ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

আব্দুলাজিজ আল-খুলাফি বলেছেন, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন সবচেয়ে বেশি জরুরি। লেবাননের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয়, একই সঙ্গে এর অপরিহার্যতা দেখা দিয়েছে।’    

মঙ্গলবারই ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ১৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েলি বাহিনী সেগুলোর বেশির ভাগ লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পেরেছে। তবে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে। তাতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’

লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের স্থল হামলা শুরুর পর সব দেশই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। পাশাপাশি সতর্ক করে বলছে, এই সংঘাত যদি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

লেবানন সংঘাত যাতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়, সে জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও বিবদমান সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাপান। এদিকে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, সংঘাতের পরিসর বাড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং উত্তেজনা বাড়বে।

লেবাননে স্থল হামলা থেকে ইসরায়েলকে সরে আসার দাবি জানিয়েছে স্পেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েল যদি স্থল হামলা বন্ধ না করে তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে।

শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি–৭–এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইতালির পক্ষ থেকেও সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যে কাজ করছে রোম। সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর নবনির্বাচিত প্রধান মার্ক রুট্টে। তিনি বলেছেন, লেবাননের চলমান ঘটনাপ্রবাহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। তাঁর আশা যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাত থেমে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক যুদ্ধ হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে। উত্তেজনা প্রশমনে লন্ডনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে লন্ডনের কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।      
‘উত্তরের তীর’

এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালের যুদ্ধের সময় লেবাননে ঢুকে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনারা। স্থল হামলা শুরুর আগে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিমান থেকে নির্বিচার বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবাননে এবারের স্থল হামলার নাম দেওয়া হয়েছে নর্দার্ন অ্যারোস বা উত্তরের তীর।

লেবাননে গত এক সপ্তাহের টানা ও নির্বিচার বিমান হামলায় কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার বৈরুতের উপকণ্ঠে এক বিমান হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। এ ছাড়া এই কয়েক দিনে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহকে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত থেকে তাড়িয়ে লিতানি নদীর উত্তর তীরে পাঠাতেই এই স্থল হামলা শুরু করেছে তারা। ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত থেকে এলাকাটি প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে।

লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের সামরিক যান
লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের সামরিক যান। ছবি: রয়টার্স

ভারতীয় বিমান বিধ্বস্তের ৫৬ বছর পর মিলল ৪ আরোহীর মরদেহ

৫৬ বছর আগে শতাধিক আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া একটি উড়োজাহাজের চার আরোহীর মরদেহ পাওয়া গেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর ওই বিমান এন-১২ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর নিখোঁজ হয়। এরপর রোটাং পাসের কাছে ভয়ানক বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

এত বছর পর গেল রোববার ওই চার আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করে ভারতের সেনাবাহিনী। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি হিমাচল প্রদেশের চণ্ডীগড় থেকে ১০২ জন আরোহী নিয়ে ওই বিমান উড্ডয়ন করেছিল। এসব তথ্য জানা যায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের দোগরা স্কাউট ইউনিটের নেতৃত্বে এই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে সহায়তা করছেন তিরাঙ্গা মাউন্টেন রেসকিউর প্রতিনিধিরা।

২০০৩ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ী ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ের পর্বতারোহীরা প্রথম বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। পরে কয়েক ধাপে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এসব অভিযানেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন দোগরা স্কাউটের সদস্যরা।

সবশেষ ২০১৯ সালে ৫টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। রোববার চারটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সেই সংখ্যাটা ৯ এ গিয়ে দাঁড়াল। 

ফাইল ছবি

রায়ের বিবরণ: কোন যুক্তিতে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাতকে চট্টগ্রামের মেয়র ঘোষণা by গাজী ফিরোজ

তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে (চসিক) পূর্বপরিকল্পিত তামাশার, প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে বিচারক বলেছেন, সরকারদলীয় মনোনীত প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা দেওয়া কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতামাত্র। আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমীনের দেওয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে এই মন্তব্য করা হয়।

বাদীর আইনজীবী মফিজুল হক ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ পেয়েছেন আদালত। এ জন্য বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে চসিকের মেয়র ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচিত হওয়ার ফলাফল বাতিল ঘোষণা করেন আদালত। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির আদেশও দিয়েছেন।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান। একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ৯ জনকে বিবাদী করে মামলাটি করেছিলেন পরাজিত মেয়র প্রার্থী নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন।

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আর কার্যালয়ে আসেননি। মেয়রকে অপসারণ করে ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এরপর আদালত থেকে আজ এ রায় এল।
‘পূর্বপরিকল্পিত তামাশার নির্বাচন’

আদালত সূত্র জানায়, রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমীন বলেছেন, নির্বাচনের দিনের নির্বাচনী চিত্র, ঘটনা ও অনিয়ম এবং স্থানীয়, জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব প্রকাশিত অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগে প্রতীয়মান হয় যে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০২১ একটি পূর্বপরিকল্পিত তামাশার, প্রহসনের এবং সরকারি দল মনোনীত প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা দেওয়ার কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতামাত্র।’

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সব ভোটারের অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাদী (শাহাদাত হোসেন) বিপুল ভোটের ব্যবধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র নির্বাচিত হতেন বিবাদীর (রেজাউল করিম) বিপক্ষে। বাদীর ফলাফলের পার্থক্য সম্পূর্ণরূপে অবিশ্বাস্য ও অযৌক্তিক এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটের ফলাফলে সই করেন। কিন্তু কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশে জালজালিয়াতি ও চরম অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়। বিবাদীরা নির্বাচনী আইন ও বিধিমালাকে কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে ১ নম্বর বিবাদী রেজাউল করিমের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়ে অন্যায় ও অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, বাদী বেআইনি ভোটারবিহীন তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফলের প্রজ্ঞাপন বাতিল ঘোষণার প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে বাদীকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ অনুসারে মেয়র পদে বিজয়ী ঘোষণার প্রার্থনা করেন। বাদীর উল্লেখিত দাবির সত্যতা পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়। এমতাবস্থায় নির্বাচনী বিধিবিধান প্রতিপালন না করে সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে রেজাউল করিমকে বিতর্কিতভাবে নির্বাচিত করে বিগত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

আগের ফলাফল বাতিলের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০–এর ৬১(৫) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে রায়ে। এ ধারায় বলা হয়, ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নির্বাচনী দরখাস্ত শুনানির পর কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করতে পারবে, যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ বা বেআইনি আচরণ দ্বারা নির্বাচনী ফলাফল অর্জন করা হয়েছে বা উক্তরূপ ফলাফল অর্জনের জন্য উক্ত কার্যকলাপ বা আচরণ করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক পরস্পর যোগসাজশে কোনো দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ বা বেআইনি আচরণ করা হয়েছে।’

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১ নম্বর বিবাদী (রেজাউল করিম) নির্বাচিত ঘোষণা করার নিমিত্তে রিটার্নিং অফিসারসহ বিবাদীর নির্বাচনী এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০, সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) বিধিমালা ২০১৯ চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বেআইনি ও যোগসাজশমূলক কার্যকলাপ এবং আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন।

রায় ঘোষণার পর চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে শাহাদাত হোসেন। আজ দুপুরে
রায় ঘোষণার পর চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে শাহাদাত হোসেন। আজ দুপুরে। প্রথম আলো

জামায়াত তাদের রাজনীতি করবে কৌশলও আলাদা -গয়েশ্বর চন্দ্র রায় by কিরণ শেখ

নির্বাচনের দাবির বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ভিন্ন অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, জামায়াত তাদের রাজনীতি করে। তাদের কৌশলও আলাদা। এখানে বিএনপি ও জামায়াতের দাবি এক হতে হবে- তা কিন্তু নয়। তবে যেসব রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, তাদেরসহ ছাত্র-জনতার প্রতি বিএনপি সব সময় সম্মান দেখাবে। মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা, বিএনপি’র নির্বাচন প্রস্তুতি ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণ যে আন্দোলন করেছে তার  আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত হবে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সরকারকে উপলদ্ধি করতে হবে জনগণ কেন রক্ত দিলো। কেন গুম হলো, মারা গেল, কেন এতো নির্যাতিত হলো, কেন এতো জেল-জুলুমের শিকার হলো- আসলে তারা কী চায়। সেই জনআকাঙ্ক্ষাকেই কিন্তু বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে হবে। একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই কিন্তু আগামীদিনের পথ চলাটাকে আমাদের সুগম করতে হবে।
বিএনপি নির্বাচন-বিমুখ না উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গত নির্বাচনের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল, তাদের আগামী নির্বাচনে বাইরে রেখে নতুন করে সবকিছু তৈরি করলে এবং আস্থা আনলে জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে, কারও অপেক্ষায় তারা থাকবে না। আর আমরা তো নির্বাচনের জন্যই আন্দোলন করছি, একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি কতো আসন পেতে পারে এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, সে বিষয়টি ভোটারদের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালে বলেছিলেন- বিএনপি ১০টি আসনও পাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কপালে কী জুটেছে। সুতরাং জনগণ কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা সাধারণ জনগণের ব্যাপার। আমি কয়টা আসন পাবো, আমি তো সব আসন পেতে চেষ্টা করবো। কয়টা আসন পাবো, সেটা সাধারণ জনগণ চিন্তা করবে যে, কাকে আমি ভোট দিবো।

জামায়াত কৌশলগতভাবে এই মুহূর্তে নির্বাচন চাচ্ছে না, তারা মনে করছে দেরিতে নির্বাচন হলে তাদের লাভ এমনটা অনেকে বলছেন, এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোট ছোট যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে, আন্দোলন ও সংগ্রামে তাদের যে ভূমিকাটা আছে- সেজন্য আমরা তাদেরকে সম্মান করি। কিন্তু কৌশলগত দিক থেকে কে নির্বাচন আগে চায় এবং পরে চায়- এটা যার যার বিষয়। কিন্তু কোন কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে মনে হয় যে, এটা একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০০ রাজনৈতিক দল আছে, নিবন্ধন আছে বেশ কয়েকটি দলের। এই নিবন্ধন পাওয়া দলগুলোর মধ্যে অনেক দলে সভাপতি আছে কিন্তু সাধারণ সম্পাদক নাই। এখন তৎপর যারা, ক্ষমতায় ছিল এবং ক্ষমতায় আসতে পারে- এই  দল, যাদের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে, সাংগঠনিক শক্তিসহ সবকিছু আছে, তাদের ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করা মানে মানুষের ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করা। আর এখানে ভোটের রাজনীতি কিন্তু অন্যরকম। জামায়াতের রাজনীতি জামায়াত করবে, আর তাদের কৌশলও তাদের।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তারেক রহমান যেকোনো মুহূর্তে দেশে ফিরতে পারেন। ১/১১’তে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে তা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। এই ষড়যন্ত্রটা যে থেমে গেছে, এটা তো মনে করি না। উনি আমাদের ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। উনি মাঠের আন্দোলনটা কীভাবে চাঙ্গা করেছেন, তার যে দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা- এটা তিনি প্রমাণ করেছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে তো ইতিহাসে অনেক ঘটনা আছে। সুতরাং তাকে (তারেক রহমান) যদি আমরা দেশে নিরাপদবোধ মনে না করি, আমরা উনাকে আসতে বলবো না। আমরা আগে তার নিরাপত্তাটা ঠিক করি, রাজনৈতিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক করি। আর উনি তো আছেন। উনি তো আমাদের দূর থেকেই চালাতে পারছেন। আজকেই তাকে ঢাকায় লাগবে- এমন তো না। দ্বিতীয় হলো, দেশে থাকলে হয়তো আমরা আরও বেশি চাঙ্গা হবো। কিন্তু দূর থেকেও উনি আমাদের কাছে আছেন। প্রতিনিয়তই কথা বলছেন। সুতরাং জাতীয় রাজনীতির অনেক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই এবং জটিল বিষয়গুলো সহজ করেই আমাদের চিন্তা করতে হবে।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে উপস্থিত রেখেই দলের জাতীয় কাউন্সিল করা হবে বলেও জানান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কার সমাজ, রাষ্ট্র সবকিছুতেই একটা চলমান প্রক্রিয়া। আজকে যে সংস্কারটা প্রযোজ্য, আগামীতে সেই সংস্কারটার পরিবর্তে নতুন কিছুর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। দেশ এবং জাতির প্রয়োজনে সংস্কার অনিবার্য। আজকে যে সংস্কার দেশ ও জাতির জন্য হচ্ছে, হয়তো একবছর কিংবা দুই বছর পর দেখা দিবে যে, ওটাকে আবার সংস্কার করতে হবে। আর সংস্কার এক জায়গায় থেমে থাকে না। সংস্কার শব্দটি রাষ্ট্রীয় এবং সমাজ জীবনে, ব্যক্তি জীবনে এটি চলমান প্রক্রিয়া।
১/ ১১’তে যে সংস্কারের কথা বলা হলো সেটাকে তো পরে কুসংস্কারে পরিণত করা হয়। একটা বিরাজনীতিকরণ, যেটা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। যেটা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হেয় করা হয়েছে, যেটা কাম্য ছিল না। যার ফলাফলটা নেতিবাচক হয়েছে, ইতিবাচক হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের কথা বলছে, এই সংস্কারগুলো যদি রাষ্ট্রীয় হয়, তবে সাংবিধানিকভাবে এই সংস্কারটা আনতে হবে, সেটা না পারা গেলে  নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। কারণ যেকোনো রাষ্ট্রীয় কিংবা সংবিধানের সংস্কার সংসদ ছাড়া সম্ভব না। বর্তমান সরকার  অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তারা সংস্কারের প্রস্তাব দিতে পারে, জনগণের মধ্যে একটা উৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে- জনগণ এটাকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু এটাকে কার্যকর করতে গেলে নির্বাচিত সংসদ দরকার। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এখন এই সরকারের যেটা দরকার, একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার জন্য- নির্বাচনের নিয়ম আছে, আরও বিভিন্ন বিষয়গুলোতে তারা পরিবর্তন আনতে পারে। যেটা জনগণ  গ্রহণ করবে। এছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটাও তারা করবেন।

mzamin

ভারত সীমান্তের কাছে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, দিল্লির জন্য সতর্ক বার্তা

সীমান্তের কাছে অতি উচ্চতায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতকে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে চীন। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই পরীক্ষা চালিয়ে বেইজিং তার সামরিক পেশিশক্তি প্রদর্শন করেছে। এটা নয়া দিল্লির জন্য তাদের পরিষ্কার সতর্কতা। ভারতের প্রভাবশালী টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ভারত সীমান্তের কাছে কারাকোরাম মালভূমিতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রথমবারের মতো ১৭,৩৯০ ফুটের কিছু ওপরে সাবসনিক গতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল এটা।  এটার মধ্য দিয়ে চীন তার সামরিক শক্তি জানান দিয়েছে। তারা এটা জানান দিয়েছে যে কঠোর পরিস্থিতিতেও সবচেয়ে উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্রকে তারা ভূমিতে নামিয়ে আনার ক্ষমতা রাখে, যেমন ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের হাতে আছে বা থাকতে পারে। তবে সীমান্তের কাছে কারাকোরামের কোন স্থানে এই পরীক্ষা করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন ভারত সীমান্তের খুব কাছে এটা করা হয়ে থাকতে পারে, যেসব স্থান স্পর্শকাতর। চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বিষয়ে ৩১তম মিটিং যেদিন চলছিল, সেদিনই এই পরীক্ষা চালিয়েছে তারা।

ওদিকে ওই বৈঠকে তারা সীমান্ত বিষয়ে সংলাপ ও শান্তি বজায় রাখতে একমত হয়। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট একজন চীনা বিশ্লেষককে উদ্ধৃত করে বলেছে, ২০২০ সালে গালওয়ান সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন সীমান্তে সমস্যা দেখা দেয়। তারপর সীমান্তের কাছে মালভূমিতে এমন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। ফুদান ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের উপপরিচালক লিন মিনওয়াং বলেন, এর মধ্য দিয়ে অবশ্যই একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দেয়া হয়েছে। যুদ্ধ এড়াতে আমাদেরকে সবার আগে লড়াই করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভারতের দাবি মেনে নেয়া চীনের জন্য অসম্ভব, যদিও উভয় পক্ষ শিগগিরই সীমান্ত বিষয়ক ইস্যুগুলোতে একমত হতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভারতের কাছে একটি জোর বার্তা গেছে। তা হলো, চীনের সেনাবাহিনী সামরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে এখন ভারতকে তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চীনের অন্য একজন সামরিক ভাষ্যকার সং ঝোংপিং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ভারতের জন্য পরিষ্কার সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করেন। পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আলোচনায় চীনের অবস্থান শক্তিশালীভাবে জানান দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো চীনের ভিতরে আসা সব হামলাকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে চীন, সেটা হোক সাবসুপারসনিক বা সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।

mzamin

পুরনো অবস্থায় ফিরে যেতে হলে এত প্রাণ দেয়ার মানে কী -এনপিআরকে ড. ইউনূস

যদি পুরনো অবস্থায় ফিরে যেতে হয় তাহলে এত প্রাণ দেয়ার মানে কী দাঁড়ালো! মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, আমরা পুরনো অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। তাহলে এত প্রাণ দেয়ার মানে কী দাঁড়ালো! এর কোনো মানে হয় না। তাই আমাদের নতুন দেশ গড়ার কাজ শুরু করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ জাতি সবচেয়ে বড় একটি সুযোগ পেয়েছে। এর আগে কখনোই সব মানুষ একটি বিষয়ে এতটা ঐক্যবদ্ধ হয়নি যে, আমাদের পরিবর্তন দরকার।

এনপিআরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কতো দিন হবে, তা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। কেউ বলছে, দ্রুত নির্বাচন দেয়া উচিত। কেউ বলছেন, সংস্কার শেষ করার পরই নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে জনগণ আগের মতো অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না, পরিবর্তন চায়।
নির্বাচন নিয়ে ড. ইউনূসের কাছে সাংবাদিক জানতে চান, সামরিক নেতারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকা উচিত। আর বিরোধী দলগুলো নভেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিল। আপনার যা করতে হবে, তার জন্য ১৮ মাস সময় কি যথেষ্ট? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, কেউ কেউ বলছে, যত দ্রুত সম্ভব সংস্কার করার জন্য, না হয় আপনি (ড. ইউনূস) যত দেরি করবেন, তত অজনপ্রিয় হয়ে পড়বেন। সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাবে। আবার কেউ কেউ বলছে, না, আপনাকে অবশ্যই এই সংস্কার শেষ করতে হবে। তাই আপনাকে এই দীর্ঘ সময় থাকতে হবে। কারণ, সবকিছুর সংস্কার না করে আমরা বাংলাদেশ ২.০-তে যেতে চাই না। তাই এই বিতর্ক চলছে।
বিভিন্ন সমপ্রদায়ের ওপর হামলা, মাজারে হামলা ও মব জাস্টিসের (উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে বিচার) শিকার হয়ে মৃত্যু বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, লোকজন বিপ্লবের আবহে ছিল। বিপ্লবী পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। অনেকে খুন হয়েছে। যাদের কারণে তাদের সহযোদ্ধাদের প্রাণ গেছে, তাদের খুঁজছিলেন তারা। এ জন্য তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলের সমর্থকদের আক্রমণ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যখন সংখ্যালঘুদের কথা বলছেন। এই সংখ্যালঘুরা বিশেষ করে হিন্দু সমপ্রদায়, তার (শেখ হাসিনা) দলের সঙ্গে যুক্ত। তাই আপনি এটা আলাদা করতে পারবেন না যে, তারা শেখ হাসিনার অনুসারী হওয়ার কারণে নাকি হিন্দু হওয়ার কারণে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এটা নিশ্চিত যে, তারা আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু যখনই আমরা সরকারের দায়িত্ব নিই, শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি। সবাই বলতে থাকি, আমাদের ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, একে অপরকে আক্রমণ করতে হবে।

প্রতিশোধপরায়ণতার মানসিকতা থেকে সংস্কারের দিকে মানুষের নিয়ে যেতে পারবেন কিনা- এমন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রতিশোধ নেয়ার ঘটনাটি মাত্র সপ্তাহ দুয়েকের মতো হয়তো ছিল। এরপর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করে। তবে বিক্ষোভ হচ্ছে, প্রতিশোধমূলক বিক্ষোভ নয়। বেশির ভাগ বিক্ষোভই মজুরি বাড়ানো, চাকরির দাবি নিয়ে, যারা আগের সরকারের সময় চাকরি হারিয়েছিলেন। তারা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন অন্য কিছুর জন্য নয়, শুধু অন্য রাজনৈতিক দল করার কারণে। ফলে সবাই তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের চেষ্টা করছেন। কারণ, তারা বঞ্চিত হয়েছেন। ড. ইউনূস বলেন, আমরা তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছি। দেখুন, আপনাদের ১৫ বছরের দুঃখ-দুর্দশা আমরা ১৫ দিনে সমাধান করতে পারবো না। বিষয়টি সুরাহা করতে আমাদের কিছু সময় দিন। আপনারা কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে গেছেন। আমাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এটা সমাধান করতে হবে।

mzamin

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ওরা: সরজমিন চক্ষু-বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট by সুদীপ অধিকারী

জুলাই-আগস্টে দেশ জুড়ে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। যে আন্দোলনে সহস্র শহীদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এদের মধ্যে অনেকের চোখে গুলি লেগেছে। আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। তবে চোখে গুলিবিদ্ধ অন্তত ৩৪ জন এখনো জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বেডে কাতরাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই সারা জীবনের মতো দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আহতদের অনেকে ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় এসব ব্যক্তি। গতকাল সরজমিন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আগে শত শত রোগী আন্দোলনে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসা নিলেও বর্তমানে হাসপাতালটির ৪র্থ তলার ৫টি রুমে চিকিৎসা নিচ্ছেন মোট ৩৪ জন। মূলত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের জন্য ৪তলায় ডেডিকেটেড কেয়ার ইউনিট নামে বিশেষ ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বিনা খরচে শুধু আন্দোলনে আহতদেরই চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। তাদের একজন সিলেটের সুজন আহমেদ। ২২ বছরের এই যুবক প্রথম থেকেই সিলেটের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। গত ২৪শে জুলাই সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হন। ডান চোখে গুলি লাগে। এরপর তার সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পাঁচদিন হাসপাতালটিতে থাকলেও চিকিৎসা সেবায় খুশি নন তিনি। সুজন বলেন, আমি পাঁচদিন ব্যথায় কাতরালেও আমাকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। সেখান থেকে বলা হয়- আপনার চোখের মধ্যে গুলি ঢুকে গেছে। এখান থেকে সেটা বের করা সম্ভব নয়। আপনি ঢাকায় যান। এরপর আমি ঢাকায় চলে আসি। এখনে আসার পর ডাক্তাররা আমাকে জানান, আমার চোখের গুলি বের করা যাবে না। যদিও যায় তাও কোনোদিন চোখে দেখতে পারবো না। তখন থেকেই হাসপাতালে হাসপাতালে। একবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। আরও একবার লাগবে। কিন্তু ডান চোখে আর কোনোদিনও দেখতে পাবো না। ছেলে সুজন যখন এসব কথা বলছেন তখন তার বেডের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন মা নাজমা বেগম। নাজমা বেগম বলেন, আমাদের বাড়ি সিলেটের শিবগঞ্জে। আমার স্বামী তারিফ আহমেদ পেশায় একজন বাবুর্চী। তার আয়ে সংসার চলে না বলে বড় ছেলে সুজনকে স্থানীয় একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে কাজে দিয়েছিলাম। এখন আন্দোলনে তার চোখটা চলে গেল। আমাদের কথা না হয় বাদই দিলাম, ওর সারাটা জীবন পড়ে রয়েছে। ওর কী হবে। চোখে না দেখলে তো ওকে আর কেউ কাজেও নিবে না। আমাদের তেমন সামর্থও নেই। এখন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না করলে ওর জীবন শেষ হয়ে যাবে। সুজনের পাশের বেডেই চিকিৎসা নিচ্ছেন চট্টগ্রামের সমজান মিয়া। এই নির্মাণ শ্রমিক বলেন, চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় একটি বহুতল ভবনে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলেন তিনি। গত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আমি অবস্থা বেগতিক দেখে বাসায় ফিরে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পুলিশ গুলি ছোড়া শুরু করে। সেই শটগানের ছররা গুলি এসে আমার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাগে। আমি তখনো বুঝতে পারিনি আমার চোখের মধ্যে গুলি ঢুকে গেছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে প্রথমে আমাকে তখন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি স্থানীয় হাসপাতালে যাই। সেখান থেকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয় না। এরপর ফৌজদারহাটের একটি মেডিকেলে যাই। সেখান থেকে সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর গত ৯ই আগস্ট আমি চট্টগ্রাম মেডিকেলে যাই। সেখানে একেক জন ডাক্তার একেক বার এসে আমার চোখের ছবি দেখে চলে যায়। এর একদিন পর আমাকে জানানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেলে আমার চিকিৎসা হবে না। ঢাকায় যেতে হবে। পরে আমি ঢাকায় এসে এখানে ভর্তি হই। এখানে আসার পর আমার চোখে একবার অপারেশন হয়েছে কিন্তু এখনো গুলি বের হয়নি। ডাক্তার জানিয়েছেন, আমি কোনোদিন আর ডান চোখে দেখতে পাবো না। সমজান মিয়া বলেন, আমার ছোট ছোট তিনটে ছেলেমেয়ে। আমি এই নির্মাণ শ্রমিকের কাজ ছাড়া আর কোনো কাজ জানি না। এখন চোখে না দেখলে সেই কাজ করতে পারবো না। আমি আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।  এতদিন চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়েই আমার সব শেষ। থাকা-খাওয়া সব ধারদেনা করে চালাচ্ছি। আমার বাচ্চাদের নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটাবো তাই নিয়ে চিন্তায় আছি।

এদিকে গত ১৯শে জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হন রিপন আহমেদ। দশমাসের সন্তান আয়াত ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনিও দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ৪ তলায়। রিপন জানান, আন্দোলন যখন তুঙ্গে সকলে ঘর থেকে রাস্তায় নেমে এসেছে তখন আমিও আর বসে থাকতে পারিনি। আমিও তাদের সঙ্গে যোগ দেই। সেদিন পুলিশের গুলিতে একের পর এক নিহতের খবর আসছিল। পুলিশ নির্বিচারে গুলি করছিল। আমরাও রাস্তা ছাড়িনি। এরই মধ্যে হঠাৎ একটি গুলি এসে লাগে আমার চোখে। চোখে ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়ছিল। আমি রাস্তায় লুটিয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে আমার সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলি। যখন জ্ঞান ফেরে আমি তখন হাসপাতালে। এরপর সেখান থেকে আমাকে এই চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেদিন প্রাণে বাঁচলেও চোখের দৃষ্টি হারিয়ে গেছে সারাজীবনের মতো। আমার এই দশ মাসের বাচ্চা ও স্ত্রীর আমি ছাড়া কেউ নেই। আমার পারিশ্রমিকেই তাদের মুখে অন্ন জুটতো। এখন তো কাজও করতে পারবো না। অন্ধ লোককে কেউ কাজেও নিবে না। আমার বাচ্চাটাকে কীভাবে বড় করে তুলবো, কীভাবে সংসারের খরচ মেটাবো কিছুই বুঝতে পারছি না। ১৯শে জুলাই একইদিনে রাজধানীর বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় চোখে গুলিবিদ্ধ হন মো. সাজ্জাদ হোসেন। সাজ্জাদ বলেন, সেদিন জুমার পর অন্যদের সঙ্গে আমি বাড্ডার আন্দোলনে যোগ দেই। পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছুড়ছিল। সেই গুলির একটি এসে লাগে আমার ডান চোখে। তারপর থেকে আমি আর এই চোখটা দিয়ে কিছুই দেখতে পারছি না।

সিলেটের গোলাপগঞ্জের সামাদ আহম্মেদও একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনিও একটি চোখের জ্যোতি হারিয়েছেন। গতকাল সকালে তার চোখে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা। তাই হাসপাতালের বেডে বসে হিসাব মিলাচ্ছেন বাকি জীবনের। সামাদ বলেন, আমি একটি ওয়ার্কশপে ওয়েল্ডিং এর কাজ করতাম।  গত ৪ঠা আগস্ট পুলিশের গুলিতে আমি আহত হই। এরপর ওসমানী মেডিকেলে যাই। সেখান থেকে আমাকে ঢাকায় আসতে বলা হয়। সামাদ বলেন, বছর দুয়েক বিয়ে করেছি। ছয় মাস বয়েসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এখন আমি এক চোখে আর কোনোদিন দেখতে পাবো না। কাজ ছাড়া আমি পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচবো। 

mzamin

সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ বাবা দুর্বিষহ জীবন by ফাহিমা আক্তার সুমি

পঞ্চান্ন বছর বয়সী হামিদ আলী। ফেরি করে হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতেন। পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পাইনদী নতুন মহল্লার একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০শে জুলাই শনিবার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চালাকালীন সময়ে বিকালে সন্তানের খোঁজে যান। এ সময় চারিদিকে ভয়াবহ গোলাগুলি চলছিল। উপর থেকে টহল দিচ্ছিল হেলিকপ্টার। ঢাকা-চিটাগাং রোডের মূল সড়কে ওঠার আগেই একটি গুলি এসে বিদ্ধ হয় হামিদের হাতে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার হাতে একটি অপারেশন হয়। জীবনে বেঁচে ফিরলেও অচল হয়েছে হামিদের বাম হাতটি। অচল হাত নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটছে তার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

হামিদ আলী মানবজমিনকে বলেন, পেটের মধ্যে গুলিটা বিদ্ধ হলে হয়তো আমি আর বেঁচে ফিরতাম না। আমার সংসারে আমিই ছিলাম একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। সতেরো বছর বয়সী একমাত্র ছেলে অন্তরকে খুঁজতে গিয়ে আমার হাতে গুলি লাগে। সে আগে বেকার ছিল। আমি অসুস্থ থাকায় সংসার চলে না দেখে একটি পাখির দোকানে কাজ শুরু করেছে। আমি ঘুরে ঘুরে ফেরি করে হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতাম। এখানে চার হাজার টাকা দিয়ে টিনের চালের একটি রুম ভাড়া করে থাকি। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা থানায়। অভাবের কারণে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে আসি। পাঁচ বছর ধরে থাকি ঢাকায়। গ্রামে কোনো জায়গা-জমি নেই যে কিছু উপার্জন করে সংসারের খরচ চালাবো। আমার স্ত্রী বাসা বাড়িতে কাজ করেন। সে শারীরিক প্রতিবন্ধী, চোখে কম দেখে। প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই হাত আবার অপারেশন করে সোজা করতে হবে। হাতের রগ কাটায় বাঁকা হয়ে থাকে সবসময়। চিকিৎসক বলেছেন আরেকটি অপারেশন করা লাগবে। তবে কখনো সচল হবে কিনা সেটির নিশ্চয়তা নেই।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ২০শে জুলাই আমার ছেলে প্রতিদিনের মতো আন্দোলনে যায়। সেদিন বাইরের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল। চারদিকে বৃষ্টির মতো গুলি। হেলিকপ্টার থেকেও ছোড়া হচ্ছিল গুলি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। নিজের জীবনের মায়া ভুলে সন্তানের খোঁজে বিকাল পাঁচটার দিকে বাইরে যাই। ঢাকা-চিটাগাং রোডে উঠতে না উঠতেই একটি গুলি এসে আমার হাতে লাগে। প্রথমে আমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায় মানুষ। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে একটি এক্সেরে করা হয়। রিপোর্টে দেখা যায় হাত ঠিক আছে। পরে সেখান থেকে চিকিৎসকরা অন্য হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে হাতের একটি অপারেশন হয়। হাতের রগ কেটে ফেলতে হয়। গুলিটা হাতে লাগার পর পেট ঘেঁষে চলে যায়। পেটে খুব একটা ক্ষত না হলেও হাতের পরিস্থিতি খারাপ হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। সেদিন আমার সামনে কয়েকজন মারা গিয়েছে। ভেবেছিলাম তাকে বাসায় নিয়ে আসি না হলে কিনা কী হয়। রাজু নামে পাশের বাসার একজন মারা গেছে তাকে আমি ছেলেকে খুঁজতে যাওয়ার আগে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরে নিয়ে আসি।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনদী নতুন মহল্লার ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তার স্ত্রী রিনা বেগম চোখেমুখে হতাশা নিয়ে দরজার সামনে বসে আছেন। ঘরের ভেতরে বিছানায় শুয়ে হাতের ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন হামিদ। সেখানে দুই সন্তানকে নিয়ে টিনের চালের একটি রুমে ভাড়া থাকেন। হামিদ আলীর স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, ঘটনা শুনে গিয়ে দেখি তার হাতের অবস্থা খুবই খারাপ। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল জামা-কাপড়। এটি দেখে আমি ভেবেছিলাম সে আর বাঁচবে না। আমার স্বামীর জীবনটা ফিরে পেয়েছে। রাত হলে তার হাতের মধ্যে অনেক জ্বালা-যন্ত্রণা করে। মেডিসিন খেয়ে ব্যথা কমাতে হয়। দুইটা আঙ্গুল ছাড়া পুরো হাতটিই অচল। হাতটি সোজা করতে পারে না সবসময় বাঁকা হয়ে থাকে। যখন হাতের মধ্যে ব্যথা শুরু হয় তখন সহ্য করতে না পেরে বটি নিয়ে হাত কেটে ফেলতে যায়। ঘর থেকে দা-বটি লুকিয়ে রাখতে হয়েছে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটায় সেজন্য। বাসা-বাড়িতে মাঝে মাঝে কাজ করি। একমাত্র ছেলেকে একটি পাখির দোকানে কাজ দিয়েছি। আমি নিজে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার একটা কার্ড করতে পারলে অনেক ভালো হতো। এখনো অনেক ওষুধ খেতে হয়। আরেকটি অপারেশন করতে হবে। আমার স্বামীর এক হাত তো অচল হয়ে কখনো ঠিক হবে কিনা জানি না। কীভাবে চলবে আমাদের সংসার।  

mzamin

ঘুমধুমে অবৈধ করাত কল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে অবৈধ করাত কল বা স’মিল। এসব করাত কলের দাপটে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ ও বন বিভাগের ছাড়পত্র কিংবা লাইসেন্সও নেই বেশির ভাগ করাত কলের। উপজেলা বন বিভাগের তথ্যমতে ২৫টি করাত কল রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। এরমধ্যে ১৪টির লাইসেন্স থাকলেও ১১টির কোনো লাইসেন্স নেই।

নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা নঈমুল ইসলাম বলেন, বন আইন অনুযায়ী কোনো করাত কল মালিক লাইসেন্স না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। লাইসেন্স নেয়ার পর প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে। করাত কল স্থাপনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকেও ছাড়পত্র নিতে হয়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছেন বলে জানান তিনি। উপজেলার বিভিন্ন করাত কল ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই চলছে অনেক করাত কল। এসব করাত কল চত্বরে গেলে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মজুত করে রাখা হয়েছে। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব করাত কলে বিরামহীন চলে কাঠ কাটার কাজ। জানা গেছে, অবৈধ করাত কলগুলোতে সরকার নির্ধারিত কোনো আইন ও নীতিমালা মানার কোনো বালাই নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার লাইসেন্স করতে বলা হলেও প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদারছে চলছে অবৈধ করাত কল। সীমান্তঘেঁষা পাহাড় থেকে শুরু করে সমতল ভূমিতে লাগানো সব ধরনের গাছ কেটে সাবাড় করছে করাত কলের মালিক ও অসাধু ফড়িয়া কাঠ ব্যবসায়ীরা। এতে কমছে অক্সিজেনের ভারসাম্য। এ কারণে দ্রুত এ সকল অবৈধ করাত কল বন্ধের দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল। স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে করাত কল স্থাপন করে কাঠের ব্যবসা করছে। ঘুমধুমের ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, করাত কলে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়ি গাছ। অবৈধ ও লাইন্সেসবিহীন করাত কলগুলো বন্ধ করা হোক। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমত জাহান ইতু বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বন, বন্যপ্রাণী ও বনভূমি সংরক্ষণ অপরিহার্য। অবৈধ মালিকদের দ্রুত লাইসেন্স করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স না করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

mzamin

অতীত ভুলতে চান সামান্থা

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা জুটি নাগা চৈতন্য ও সামান্থা রুথ প্রভু। ভালোবেসে ঘর বাঁধার পরও ২০২১ সালে সংসার ভাঙে তাদের। সংসার ভাঙার পর মায়োসাইটিস নামে এক জটিল রোগে আক্রান্ত হন সামান্থা। সবকিছু মিলিয়ে আড়ালে চলে যান এই অভিনেত্রী। তবে সবকিছুই সামাল দিয়ে ফের কাজে ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, জীবনের কোন স্মৃতি মুছে ফেলতে চান? সামান্থা বলেন, আপনি কি সম্পর্কের কথা বলছেন? আমি কোনো কিছুই ভুলতে চাই না। তবে অতীতটা ভুলতে চাই। যেটা খারাপ অতীত। যেটা সুখের ছিল না। আমার জীবনে সবকিছুই কিছু না কিছু শিক্ষা দিয়েছে। সুতরাং আমি সেই অংশ ছাড়া আর কিছু ভুলতে চাই না। সম্ভবত! আমাকে কি এটা জোরে বলতে হবে? না আমি সমস্যায় পড়িনি। আসলে, আমি এই প্রশ্নের উত্তরই দিতে চাই না। সামান্থার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর অভিনেত্রী শোবিতা ঢুলিপালারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান নাগা চৈতন্য। গত ৮ই আগস্ট বাগদানও সেরেছেন তারা। তবে সামান্থা রুথ প্রভু এখনো একাই জীবনযাপন করছেন।
mzamin

আরজিকরের প্রতিবাদ মিছিলে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান! রিপোর্ট তলব by সেবন্তী ভট্টচার্য্য

আরজিকরে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিলে নেমেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। যাদবপুরে সেই প্রতিবাদ মিছিল থেকে স্লোগান উঠল ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’। দায়ের হয়েছে এফআইআর। জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই ঘটনাটির প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, মিছিলের উদ্যোক্তাদের পরিচয়, স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিরা কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না বিক্ষিপ্ত ভাবে ওই স্লোগান— এ রকম কয়েকটি বিষয় জানতে চাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে যাবতীয় রিপোর্ট সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। তবে এই বিষয়ে আরও তদন্ত করে দেখে ফের কিছু রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলার শুনানির আগে রবিবার সন্ধেয় পাড়ায় পাড়ায় মশাল মিছিলের ডাক দিয়েছিল জুনিয়র ডাক্তাররা। কলকাতার মোট সাত জায়গায় হয় এই মিছিল। যেগুলি হল, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, সাগরদত্ত, আর জি কর এবং যাদবপুরের কেপিসি। এদিন যাদবপুরের এই মিছিলের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে দেখা গিয়েছে, কেউ মোমবাতি তো কেউ হাতে মশাল নিয়ে মিছিল করছেন। সামনের সারিতে যারা রয়েছেন তাঁদের হাতে রয়েছে ফ্লেক্স। যেখানে লেখা, ‘তিলোত্তমা ভেবো না, আগুন নিভতে দেবো না’। নীচে ডানদিকে ইংরেজিতে লেখা- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।

অভিযোগ, এই মিছিল থেকেই স্লোগান ওঠে ‘কলকাতা মাঙ্গে আজাদি’, ‘আর জি কর মাঙ্গে আজাদি’, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই স্লোগানের নেপথ্যে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৫-২০ জনকে চিহ্নিত করে ছবি সমেত বিস্তারিত তথ্য শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠিয়ে দিয়েছেন গোয়েন্দারা। তালিকায় রয়েছেন যাদবপুরের কয়েক জন প্রাক্তনীও, যাঁদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে পশ্চিমবঙ্গে দেশবিরোধী আন্দোলনে সরব হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরে তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণের সময়েই কলকাতায় এমন স্লোগান ওঠায় কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্বেগ বেড়েছে। তদন্তকারীরা যাচাই করছেন, এই স্লোগানের পেছনে কোনও কাশ্মীরি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না। কারণ ৩৭০ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীরে প্রথমবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আর এই সময় পশ্চিমবঙ্গে এমন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান কেন্দ্রকে ভাবিয়ে তুলেছে।

mzamin

ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ -অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও এর জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রমাদান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থন, গাজায় গণহত্যা ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বলেন, আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবো। ফিলিস্তিন কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন রাষ্ট্র পাবে। এ সময় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, বক্তব্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এটি ফিলিস্তিনি ইস্যুতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আলোকপাত তৈরি করেছে। আপনি সেখানে সঠিক কথাটি স্পষ্টভাবে বলেছেন। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষাগ্রহণকারী প্রায় ৬০ ফিলিস্তিনি চিকিৎসক এখন গাজায় রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। আরও দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় প্রধান উপদেষ্টা ফিলিস্তিনি জনগণকে বর্বরতা থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে সেখানে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং যারা ফিলিস্তিনে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী তাদের বিচারের আওতায় আনতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ও নিন্দা সত্ত্বেও গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি কেবল আরব বা মুসলিম নয়, বরং সমগ্র মানবতাকেই যেন বিচলিত করছে না। কিন্তু ফিলিস্তিনি মানুষের জীবন ফেলনা নয়। ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী সকলকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণকে বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের বিরুদ্ধে বর্বরতা থেকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ অবিলম্বে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনের একমাত্র পথ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।
mzamin

দ্বিগুণ খরচে ২৭৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প ফিরিয়ে দিলো পরিকল্পনা কমিশন by মো. আল-আমিন

মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদায়ী সরকারের আমলে ২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। প্রকল্পটির মাধ্যমে ৮তলাবিশিষ্ট ৬২টি নতুন মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সমপ্রসারণ এবং প্রতিটি হাসপাতালে মেডিক্যাল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের কাজ ছিল। এই প্রকল্পে প্রতি বর্গফুট ভবন নির্মাণে ব্যয় প্রস্তাব করা হয় ৬ হাজার ৬৫৪ টাকা। অথচ সরকারেরই বিভিন্ন প্রকল্পে নতুন ভবন নির্মাণে প্রতি বর্গফুটে ব্যয় পড়ে ২ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকার মতো। অন্যদিকে বেসরকারি ভবন নির্মাণেও প্রতি বর্গফুটে ব্যয় পড়ে ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। এজন্য নির্মাণ ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ সূত্র জানায়, অত্যধিক ব্যয় প্রস্তাবের কারণে ডিপিপি সংস্কার করে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৮তলা বিশিষ্ট ৬২টি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এ নির্মাণকাজে ২ হাজার ১৪২ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৮৪ শতাংশ। প্রকল্পটির ভবন নির্মাণের জন্য প্রতি বর্গফুটে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫৪ টাকা। অথচ বিভিন্ন প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন ভবন নির্মাণে প্রতি বর্গফুটে ব্যয় হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ ভবন নির্মাণে দ্বিগুণ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় ২৫ হাজার ৫৩৬টি আসবাবপত্র বাবদ ৪৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার প্রস্তাব রয়েছে। আসবাবপত্রের সংখ্যা ও ব্যয় প্রাক্কলন অত্যধিক মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়া প্রাধিকার ভিত্তিতে আসবাবপত্র নির্ধারণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে ১জন বহিঃসদস্যসহ কমপক্ষে ৩ সদস্যের একটি বাজারদর কমিটির মাধ্যমে পুনরায় প্রাধিকার বিবেচনায় আসবাবপত্রের সংখ্যা/পরিমাণ ও ব্যয় প্রাক্কলন করার পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এদিকে প্রকল্পের জন্য ৪ দশমিক ৪০ একর ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ১৮ কোটি ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিপত্র অনুসারে প্রস্তাবিত জমির স্থিরচিত্র ডিপিপিতে রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের বিভিন্ন ভবন সংস্কার/পুনঃনির্মাণে অত্যধিক ব্যয় ধরা হয়েছে।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে জেলা পর্যায়ে মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই কার্যক্রম পরিচালনায় যে সমস্যাগুলো সামনে আসে তার মধ্যে কয়েকটি হলো- পুরাতন ভবনগুলো অধিকাংশই ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুরনো এবং জরাজীর্ণ। এছাড়া ভবনগুলো সর্বোচ্চ ১০ বা ২০ শয্যাবিশিষ্ট, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ডাক্তারের সংখ্যা কম এবং অন্যান্য সাহায্যকারীর সংখ্যা নিতান্তই অপর্যাপ্ত। জরুরি যন্ত্রপাতি ও প্যাথলজি ল্যাবেরও অভাব রয়েছে। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট (৫০ শয্যায় উন্নতীকরণযোগ্য) মা ও শিশু হাসপাতালে রূপান্তর প্রকল্প নামক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে স্বল্পমূল্যে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় অত্যাধিক বলে মনে করছেন নির্মাণ খাত সংশ্লিষ্টরাও। তারা বলছেন, বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রতি বর্গফুটে ব্যয় হয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মতো। সেক্ষেত্রে এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় অত্যধিক। বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জিনিসের গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে ব্যয়ের পার্থক্য থাকতে পারে। তবে প্রতি বর্গফুট ভবন নির্মাণে ৬ হাজার ৬৫৩ টাকা খরচ হওয়ার কথা না। ঢাকায় ভবন নির্মাণেও এত টাকা খরচ হয় না বলে জানান তিনি।   

এ বিষয়ে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় অত্যধিক। এছাড়া আসবাবপত্রের সংখ্যা ও ব্যয় প্রাক্কলনও অত্যধিক মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। এজন্য পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। উদ্যোগী মন্ত্রণালয়কে সংস্কার করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) রেহানা পারভীন বলেন, সব প্রকল্পের ভবন নির্মাণ ব্যয় একই হবে তা ঠিক নয়। ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে এক্ষেত্রে গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট শিডিউল অনুসরণ করতে হবে। 

mzamin

ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, চরম উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

চরম উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলে বেশ কয়েক ডজন রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইসরাইলের দাবি, শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ওদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, তাদের অভিযান হবে সীমিত। কিন্তু হিজবুল্লাহ ইসরাইলি সেনাদের এ দাবিকে অস্বীকার করেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি বলেছেন, ইতিহাসে সবচেয়ে বিপজ্জনক একটি সময়ের মুখোমুখি তার দেশ। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগেই হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলকে সুরক্ষিত রাখতে প্রস্তুত। হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক, ইরাক, সিরিয়া। এসব দেশ যদি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ এক যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ওদিকে গাজায় উপত্যকায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। সেখানে মঙ্গলবার তারা কমপক্ষে ২৯ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এ নিয়ে গত বছর ৭ই অক্টোবর থেকে গাজায় নিহতের  সঙখ্যা কমপক্ষে ৪১,৬৩৮।  জর্ডান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নিলস আদলার বলছেন, দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। আম্মানের আকাশের ওপর দিয়ে তা উড়ে যায়। তবে এবার তার অনেকগুলোকে আকাশে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, গাজা, হিজবুল্লাহ ও লেবাননের মতোই শোচনীয় পরিণতি ভোগ করতে হবে ইরানকে। এমন অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নিরাপদ রাখতে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে ইসরাইলকে সমর্থন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের কাছে রাস্তায় গোলাগুলি হয়েছে। তাতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। তাদের সংখ্যা জানানো হয়নি।
mzamin