Showing posts with label অরণ্যে রোদন. Show all posts
Showing posts with label অরণ্যে রোদন. Show all posts
Wednesday, June 16, 2010
আমার মতন সুখী কে আছে by আনিসুল হক
সেদিন সকালবেলা বিবিসি বাংলা শুনছিলাম রেডিওতে। সেদিনের পত্রিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আলোচকেরা কথা বলছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালিত বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম শীর্ষক জরিপ নিয়ে। ওই জরিপে বলা হয়েছে, ৮৮ ভাগ তরুণ নিজেদের মনে করে সুখী বা খুব সুখী। আবার ৪১ শতাংশ তরুণ বিদেশে যেতে চায়। বিদেশে যেতে চাওয়ার কারণ, বিদেশে বেশি আয় বা শিক্ষার সুযোগ আছে আর তার বিপরীতে দেশে রয়েছে চাকরি-স্বল্পতা। আলোচকদের চিন্তা ছিল, সুখীই যদি হবে, তবে তারা বিদেশে যেতে চায় কেন?
সুখী মানুষেরা বিদেশে যেতে চাইতে পারবে না, সে কথা অবশ্য কোনো পুস্তকে লেখা আছে বলে আমার জানা নেই। বরং বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নটা হূদয়ে ধারণ করার সুযোগ থাকাটাও হয়তো ওই ৪১ ভাগের অনেকের সুখের কারণ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিদেশে যেতে চায় না, এ রকম একটা বিরাট অংশও সুখী। অন্যদিকে ৫৯ ভাগ তরুণ তো বিদেশেও যেতে চায় না।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের জরিপের ফল সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। বাংলাদেশের তারুণ্যের ওপর পরিচালিত এই জরিপের ফল অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও আমার কাছে মোটেও অভাবনীয় কিছু বলে মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে, অনেক ইতিবাচক, দারুণ আশাপ্রদ।
প্রথম কথা, এই তরুণেরা অসুখী নয়। নিশ্চয়ই এই সুখের পেছনে কাজ করে বিরাট আশাবাদ যে, বাংলাদেশটার হবে। কিছুই হবে না, এটা বৃদ্ধদের মুখে শোনা যেতে পারে, তরুণেরা কেন এই রকম বলবে বা ভাববে? কিছুই হবে না, এই রকম পরিস্থিতিতে তারা বলবে, আপনাআপনিই কিছুই হবে না, না হোক, আমরা না-টাকে হ্যাঁ বানিয়ে ফেলব। এই কারণেই তো আমরা তরুণ।
আর এই আশাবাদ, এই ইতিবাচকতা যাদের মধ্যে আছে, তারা তো সুখীই হবে। ইতিবাচক মানুষ কেন অসুখী হবে? তারা অসন্তুষ্ট হতে পারে, বিক্ষুব্ধ হতে পারে, কিন্তু তারা অসুখী হয় না। পথে-প্রান্তরে মুক্তির সংগ্রামে স্টেনগানে হাতরাখা তরুণও অসুখী নয়, দাবি আদায়ের মিছিলে সোচ্চার মানুষটিও নিজেকে অসুখী ভাবে না।
এই জরিপ থেকেই দেখা যাচ্ছে, ৭০ ভাগ তরুণ মনে করে, দেশ ঠিক পথেই এগোচ্ছে। সার্বিক দিক থেকে দেখলে, দেশ অবশ্যই ঠিক পথে এগোচ্ছে। প্রথম কথা, বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ। নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও গণতন্ত্রের পথ থেকে এই দেশ সরে যায়নি। গণতন্ত্রের প্রতি এই দেশের মানুষের যে অঙ্গীকার, তা নানা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত। ৬৪ শতাংশ তরুণ মনে করে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের মৌলবাদী রাষ্ট্র হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমরাও মনে করি, অদূর ভবিষ্যতেও এই দেশের মৌলবাদী হয়ে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এই দেশের মানুষ মোটের ওপর মধ্যপন্থী, নরম প্রকৃতির, পরমতসহিষ্ণু। তারা সহজেই নতুনকে গ্রহণ করতে পারে। সহজে খাপ খাইয়েও নিতে পারে। জরিপ থেকে দেখছি, ৭৩ ভাগ তরুণ-তরুণীর হাতে মুঠোফোন আছে, আর ইন্টারনেট ব্যবহার করে ১৫ ভাগ। সাড়ে পাঁচ কোটির ১৫ ভাগ কিন্তু সংখ্যায় কম নয়। আমরা যদি আমাদের প্রতিদিনের ছোটখাটো রাজনৈতিক বাগিবতণ্ডা ভুলত্রুটির হিসাব না কষে বড় একটা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই সঠিক পথেই আছে। থাকার মতো কতগুলো প্রাকৃতিক সুবিধাও আছে। আগেই বলেছি, এই দেশের মানুষ নরম, উদার, আধুনিক, সমন্বয়বাদী ও মুক্তমনা। সংকীর্ণতার মধ্যে তারা নেই, ডান বা বাম কোনো চরম পন্থার সঙ্গেই তারা নেই। গোষ্ঠীগত জাতিগত প্রদেশগত দাঙ্গাহাঙ্গামার অবকাশ এই দেশে নেই। আজকে মাওবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমস্যায় আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘুম হারাম, পাকিস্তানে রোজ বোমা ফুটছে। নেপাল বা শ্রীলঙ্কা যেকোনো দেশের তুলনায়ই আমরা রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভালো আছি। সত্য বটে, তরুণদের ৬০ ভাগ মনে করে, আগামী পাঁচ বছরে দুর্নীতি আরও বাড়তে পারে। সেটা না মনে করার মতো কোনো কারণ তো ঘটেনি। এই জায়গায় সরকারের করণীয় আছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি তাই সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক যে জিনিসটা আমাদের সবচেয়ে অনুপ্রাণিত করে, তা হলো, ৯৮ ভাগ মনে করে তাদের সমাজসেবা করা উচিত। ৯৫ ভাগ তরুণ নিজের এলাকা আর স্থানীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চায়। ৭৯ ভাগ তরুণ উন্নয়নের বিষয়ে আগ্রহী। ৭৬.৫ ভাগ তরুণ মনে করে, স্থানীয় এলাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা আরও বড় হওয়া উচিত। তার মানে এই তরুণেরা একদম ঠিক লাইনে চিন্তা করছে। তারা ইতিবাচকভাবে ভাবছে, কাজে অংশ নিতে চাইছে। কিন্তু তাদের সামনে করণীয় কিছু নেই। ৯৪ ভাগ তরুণ-তরুণী বলছে, তরুণদের দ্বারা পরিচালিত বা তরুণদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনের নাম তারা জানে না।
এই শূন্যতাটা যে আছে, সেটা আমরা বারবার বলছি। আমাদের তারুণ্যে যেন পাহাড় থেকে নেমে আসা এক অমিত বৈভবসম্পন্ন শক্তি। এই বাঁধভাঙা তারুণ্য সবকিছু তছনছ করে দিতে পারে, আবার বহু অসাধ্য সাধন করতে পারে। বহু কিছু গড়ে তুলতে পারে। সেই স্বপ্নটা সেই কাজটা সেই সংগঠনটা তাদের দিতে হবে।
সরকারি ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা যে টেন্ডারবাজি অস্ত্রবাজি চাঁদাবাজি করে, তার মূলেও আছে, তাদের সামনে বড় স্বপ্ন সৃষ্টি না করা। তাদের দেশ গঠনে সমাজ গঠনে বড় কোনো কাজে উদ্বুদ্ধ করতে না পারা। তাদের কোনো কাজ নেই। কী করবে তারা? কাজেই অপকর্ম করে।
এই জায়গাতেই আমরা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বা মুহম্মদ জাফর ইকবালদের মতো মানুষের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। একজন তরুণদের উদ্বুদ্ধ করছেন বই পড়তে, আরেকজন গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির পক্ষ থেকে অন্যদের সঙ্গে মিলে উদ্বুদ্ধ করছেন গণিত চর্চা করতে আর বড় স্বপ্ন দেখতে।
প্রথম আলো বন্ধুসভার মাধ্যমেও আমরা তরুণদের সামাজিক মানবিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি নানা সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে একটা জাগরণ তৈরি করতে।
আমাদের তরুণদের স্বরূপ নির্ধারণ করছে কোন দুটো জিনিস? ছেলেরা বলেছে, জাতীয় ও পেশাগত ব্যাপার নিয়ে তারা ভাবিত। আর মেয়েরা বলেছে, তাদের স্বরূপ নির্ধারিত হয় পরিবার দিয়ে আর জাতীয়তা দিয়ে। তরুণ-তরুণী নির্বিশেষে তাদের ভাবনার মধ্যে একটা সাধারণ বিষয় রেখেছে, সেটা তার দেশ, তার জাতীয়তা।
রাজনীতি নিয়ে হ্যাঁ আর না-র পাল্লা দেখা যাচ্ছে সমানে সমান। ৩০.৫ শতাংশ মনে করে, তাদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া কিছুতেই উচিত নয়, ৩০.৫ শতাংশ মনে করে, তাদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়া উচিত। এর ব্যাখ্যা কোনো কোনো কাগজে দেখলাম, বলা হচ্ছে তরুণেরা রাজনীতিবিমুখ। আমার মনে হয় না, ৩০ ভাগের বেশি মানুষের সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অবকাশ আছে। বরং ওই সংখ্যাটাও অনেক বড়। সবাই রাজনীতি করবে নাকি একটা দেশে? তবে ৭৪ ভাগ তরুণ রাজনীতিবিমুখ, এই তথ্যটাও উঠে আসছে জরিপে। খুব হতাশার কথা কি এটা? আমাদের প্রজন্মের সঙ্গে এই প্রজন্মের এই পার্থক্যটা তো থাকবেই। ভাষা আন্দোলনের কাল, স্বাধীনতা সংগ্রামের কাল গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের কাল আমরা অতিক্রম করে এসেছি। এখন একটু থিতু তো হতে হবে, নাকি? কিন্তু দরকার হলে আজকের তারুণ্যও যে রাজপথে নেমে আসতে পারে, সে বিষয়ে যেন কারও মনে কোনো সন্দেহ না থাকে।
তবে হ্যাঁ, রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে হবে, মেধাবীদের, শিক্ষিতদের, সৎ ও সাহসীদের আসতে হবে রাজনীতিতে।
সবটা মিলিয়ে এই জরিপের ফল আমাদের তরুণদের সম্পর্কে আমাদের আশাবাদকে জোরদার করেছে। তারা লেখাপড়া করতে চায়, তারা বিদেশে যেতে চায়, তাদের প্রায় সবাই সমাজের কাজে লাগতে চায়। তাদের প্রায় সবাই মনে করে, তাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তাদের জাতীয়তা। এ রকম একটা দেশপ্রেমিক কর্মোদ্যোগী তরুণ প্রজন্ম আগামী ১০ বছর পরে এই দেশটাকে চালাবে। তখন দেশটা নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর হবে, উন্নত হবে।
আমাদের তারুণ্যের সৃজনশীলতা এই জরিপের আওতায় ছিল না। কিন্তু কত কী করছে তারা। কত বিচিত্রমুখী উদ্যোগই না তারা গ্রহণ করছে। কিন্তু উদ্যোক্তা বলতে যা বোঝায়, সেটা কিন্তু এই জরিপই বলছে, আমাদের তরুণদের মধ্যে এখনো কম। শ্রমবাজারে মাত্র এক ভাগ তরুণ ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা। আমাদের উদ্যোক্তা দরকার। কেবল চাকরি খোঁজা তরুণ দিয়ে আর চলবে না। আমাদের অর্থনীতির একটা বড় শক্তি আমাদের প্রবাসী জনশক্তি। আমাদের তরুণেরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে এ থেকে জাতীয়ভাবে আমরা কীভাবে সর্বাধিক লাভবান হতে পারি, সে বিষয়ে সরকারের অতি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আমাদের বহির্মুখী জনশক্তির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, অদক্ষ জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার বাস্তব উদ্যোগ চাই। সেই উদ্যোগের অভাবের কথাও এই জরিপে ফুটে উঠেছে।
আমাদের অপরাজেয় তারুণ্যকে আরেকবার সালাম দিই। এরাই বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে, এরাই অর্থনৈতিক বাধা প্রাকৃতিক বাধা অতিক্রম করে এভারেস্টে উঠেছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে যে বৃদ্ধরা বা অকালবৃদ্ধরা ‘কিছুই হবে না’ বলে চোখের পানি ফেলছেন, তাঁদের এই তরুণেরা এই বলে কাছে ডাকতে পারে:
আমার মতন সুখী কে আছে। আয় সখী আয় আমার কাছে—
সুখী হূদয়ের সুখের গান শুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ।
প্রতিদিন যদি কাঁদিবি কেবল একদিন নয় হাসিবি তোরা—
একদিন নয় বিষাদ ভুলিয়া সকলে মিলিয়া গাহিব মোরা\
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
সুখী মানুষেরা বিদেশে যেতে চাইতে পারবে না, সে কথা অবশ্য কোনো পুস্তকে লেখা আছে বলে আমার জানা নেই। বরং বিদেশে যাওয়ার স্বপ্নটা হূদয়ে ধারণ করার সুযোগ থাকাটাও হয়তো ওই ৪১ ভাগের অনেকের সুখের কারণ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিদেশে যেতে চায় না, এ রকম একটা বিরাট অংশও সুখী। অন্যদিকে ৫৯ ভাগ তরুণ তো বিদেশেও যেতে চায় না।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের জরিপের ফল সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। বাংলাদেশের তারুণ্যের ওপর পরিচালিত এই জরিপের ফল অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও আমার কাছে মোটেও অভাবনীয় কিছু বলে মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে, অনেক ইতিবাচক, দারুণ আশাপ্রদ।
প্রথম কথা, এই তরুণেরা অসুখী নয়। নিশ্চয়ই এই সুখের পেছনে কাজ করে বিরাট আশাবাদ যে, বাংলাদেশটার হবে। কিছুই হবে না, এটা বৃদ্ধদের মুখে শোনা যেতে পারে, তরুণেরা কেন এই রকম বলবে বা ভাববে? কিছুই হবে না, এই রকম পরিস্থিতিতে তারা বলবে, আপনাআপনিই কিছুই হবে না, না হোক, আমরা না-টাকে হ্যাঁ বানিয়ে ফেলব। এই কারণেই তো আমরা তরুণ।
আর এই আশাবাদ, এই ইতিবাচকতা যাদের মধ্যে আছে, তারা তো সুখীই হবে। ইতিবাচক মানুষ কেন অসুখী হবে? তারা অসন্তুষ্ট হতে পারে, বিক্ষুব্ধ হতে পারে, কিন্তু তারা অসুখী হয় না। পথে-প্রান্তরে মুক্তির সংগ্রামে স্টেনগানে হাতরাখা তরুণও অসুখী নয়, দাবি আদায়ের মিছিলে সোচ্চার মানুষটিও নিজেকে অসুখী ভাবে না।
এই জরিপ থেকেই দেখা যাচ্ছে, ৭০ ভাগ তরুণ মনে করে, দেশ ঠিক পথেই এগোচ্ছে। সার্বিক দিক থেকে দেখলে, দেশ অবশ্যই ঠিক পথে এগোচ্ছে। প্রথম কথা, বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ। নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও গণতন্ত্রের পথ থেকে এই দেশ সরে যায়নি। গণতন্ত্রের প্রতি এই দেশের মানুষের যে অঙ্গীকার, তা নানা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত। ৬৪ শতাংশ তরুণ মনে করে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের মৌলবাদী রাষ্ট্র হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমরাও মনে করি, অদূর ভবিষ্যতেও এই দেশের মৌলবাদী হয়ে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এই দেশের মানুষ মোটের ওপর মধ্যপন্থী, নরম প্রকৃতির, পরমতসহিষ্ণু। তারা সহজেই নতুনকে গ্রহণ করতে পারে। সহজে খাপ খাইয়েও নিতে পারে। জরিপ থেকে দেখছি, ৭৩ ভাগ তরুণ-তরুণীর হাতে মুঠোফোন আছে, আর ইন্টারনেট ব্যবহার করে ১৫ ভাগ। সাড়ে পাঁচ কোটির ১৫ ভাগ কিন্তু সংখ্যায় কম নয়। আমরা যদি আমাদের প্রতিদিনের ছোটখাটো রাজনৈতিক বাগিবতণ্ডা ভুলত্রুটির হিসাব না কষে বড় একটা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই সঠিক পথেই আছে। থাকার মতো কতগুলো প্রাকৃতিক সুবিধাও আছে। আগেই বলেছি, এই দেশের মানুষ নরম, উদার, আধুনিক, সমন্বয়বাদী ও মুক্তমনা। সংকীর্ণতার মধ্যে তারা নেই, ডান বা বাম কোনো চরম পন্থার সঙ্গেই তারা নেই। গোষ্ঠীগত জাতিগত প্রদেশগত দাঙ্গাহাঙ্গামার অবকাশ এই দেশে নেই। আজকে মাওবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমস্যায় আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘুম হারাম, পাকিস্তানে রোজ বোমা ফুটছে। নেপাল বা শ্রীলঙ্কা যেকোনো দেশের তুলনায়ই আমরা রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভালো আছি। সত্য বটে, তরুণদের ৬০ ভাগ মনে করে, আগামী পাঁচ বছরে দুর্নীতি আরও বাড়তে পারে। সেটা না মনে করার মতো কোনো কারণ তো ঘটেনি। এই জায়গায় সরকারের করণীয় আছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি তাই সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক যে জিনিসটা আমাদের সবচেয়ে অনুপ্রাণিত করে, তা হলো, ৯৮ ভাগ মনে করে তাদের সমাজসেবা করা উচিত। ৯৫ ভাগ তরুণ নিজের এলাকা আর স্থানীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চায়। ৭৯ ভাগ তরুণ উন্নয়নের বিষয়ে আগ্রহী। ৭৬.৫ ভাগ তরুণ মনে করে, স্থানীয় এলাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা আরও বড় হওয়া উচিত। তার মানে এই তরুণেরা একদম ঠিক লাইনে চিন্তা করছে। তারা ইতিবাচকভাবে ভাবছে, কাজে অংশ নিতে চাইছে। কিন্তু তাদের সামনে করণীয় কিছু নেই। ৯৪ ভাগ তরুণ-তরুণী বলছে, তরুণদের দ্বারা পরিচালিত বা তরুণদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনের নাম তারা জানে না।
এই শূন্যতাটা যে আছে, সেটা আমরা বারবার বলছি। আমাদের তারুণ্যে যেন পাহাড় থেকে নেমে আসা এক অমিত বৈভবসম্পন্ন শক্তি। এই বাঁধভাঙা তারুণ্য সবকিছু তছনছ করে দিতে পারে, আবার বহু অসাধ্য সাধন করতে পারে। বহু কিছু গড়ে তুলতে পারে। সেই স্বপ্নটা সেই কাজটা সেই সংগঠনটা তাদের দিতে হবে।
সরকারি ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা যে টেন্ডারবাজি অস্ত্রবাজি চাঁদাবাজি করে, তার মূলেও আছে, তাদের সামনে বড় স্বপ্ন সৃষ্টি না করা। তাদের দেশ গঠনে সমাজ গঠনে বড় কোনো কাজে উদ্বুদ্ধ করতে না পারা। তাদের কোনো কাজ নেই। কী করবে তারা? কাজেই অপকর্ম করে।
এই জায়গাতেই আমরা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বা মুহম্মদ জাফর ইকবালদের মতো মানুষের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। একজন তরুণদের উদ্বুদ্ধ করছেন বই পড়তে, আরেকজন গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির পক্ষ থেকে অন্যদের সঙ্গে মিলে উদ্বুদ্ধ করছেন গণিত চর্চা করতে আর বড় স্বপ্ন দেখতে।
প্রথম আলো বন্ধুসভার মাধ্যমেও আমরা তরুণদের সামাজিক মানবিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি নানা সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে একটা জাগরণ তৈরি করতে।
আমাদের তরুণদের স্বরূপ নির্ধারণ করছে কোন দুটো জিনিস? ছেলেরা বলেছে, জাতীয় ও পেশাগত ব্যাপার নিয়ে তারা ভাবিত। আর মেয়েরা বলেছে, তাদের স্বরূপ নির্ধারিত হয় পরিবার দিয়ে আর জাতীয়তা দিয়ে। তরুণ-তরুণী নির্বিশেষে তাদের ভাবনার মধ্যে একটা সাধারণ বিষয় রেখেছে, সেটা তার দেশ, তার জাতীয়তা।
রাজনীতি নিয়ে হ্যাঁ আর না-র পাল্লা দেখা যাচ্ছে সমানে সমান। ৩০.৫ শতাংশ মনে করে, তাদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া কিছুতেই উচিত নয়, ৩০.৫ শতাংশ মনে করে, তাদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়া উচিত। এর ব্যাখ্যা কোনো কোনো কাগজে দেখলাম, বলা হচ্ছে তরুণেরা রাজনীতিবিমুখ। আমার মনে হয় না, ৩০ ভাগের বেশি মানুষের সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অবকাশ আছে। বরং ওই সংখ্যাটাও অনেক বড়। সবাই রাজনীতি করবে নাকি একটা দেশে? তবে ৭৪ ভাগ তরুণ রাজনীতিবিমুখ, এই তথ্যটাও উঠে আসছে জরিপে। খুব হতাশার কথা কি এটা? আমাদের প্রজন্মের সঙ্গে এই প্রজন্মের এই পার্থক্যটা তো থাকবেই। ভাষা আন্দোলনের কাল, স্বাধীনতা সংগ্রামের কাল গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের কাল আমরা অতিক্রম করে এসেছি। এখন একটু থিতু তো হতে হবে, নাকি? কিন্তু দরকার হলে আজকের তারুণ্যও যে রাজপথে নেমে আসতে পারে, সে বিষয়ে যেন কারও মনে কোনো সন্দেহ না থাকে।
তবে হ্যাঁ, রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে হবে, মেধাবীদের, শিক্ষিতদের, সৎ ও সাহসীদের আসতে হবে রাজনীতিতে।
সবটা মিলিয়ে এই জরিপের ফল আমাদের তরুণদের সম্পর্কে আমাদের আশাবাদকে জোরদার করেছে। তারা লেখাপড়া করতে চায়, তারা বিদেশে যেতে চায়, তাদের প্রায় সবাই সমাজের কাজে লাগতে চায়। তাদের প্রায় সবাই মনে করে, তাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তাদের জাতীয়তা। এ রকম একটা দেশপ্রেমিক কর্মোদ্যোগী তরুণ প্রজন্ম আগামী ১০ বছর পরে এই দেশটাকে চালাবে। তখন দেশটা নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর হবে, উন্নত হবে।
আমাদের তারুণ্যের সৃজনশীলতা এই জরিপের আওতায় ছিল না। কিন্তু কত কী করছে তারা। কত বিচিত্রমুখী উদ্যোগই না তারা গ্রহণ করছে। কিন্তু উদ্যোক্তা বলতে যা বোঝায়, সেটা কিন্তু এই জরিপই বলছে, আমাদের তরুণদের মধ্যে এখনো কম। শ্রমবাজারে মাত্র এক ভাগ তরুণ ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা। আমাদের উদ্যোক্তা দরকার। কেবল চাকরি খোঁজা তরুণ দিয়ে আর চলবে না। আমাদের অর্থনীতির একটা বড় শক্তি আমাদের প্রবাসী জনশক্তি। আমাদের তরুণেরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে এ থেকে জাতীয়ভাবে আমরা কীভাবে সর্বাধিক লাভবান হতে পারি, সে বিষয়ে সরকারের অতি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আমাদের বহির্মুখী জনশক্তির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, অদক্ষ জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার বাস্তব উদ্যোগ চাই। সেই উদ্যোগের অভাবের কথাও এই জরিপে ফুটে উঠেছে।
আমাদের অপরাজেয় তারুণ্যকে আরেকবার সালাম দিই। এরাই বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে, এরাই অর্থনৈতিক বাধা প্রাকৃতিক বাধা অতিক্রম করে এভারেস্টে উঠেছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে যে বৃদ্ধরা বা অকালবৃদ্ধরা ‘কিছুই হবে না’ বলে চোখের পানি ফেলছেন, তাঁদের এই তরুণেরা এই বলে কাছে ডাকতে পারে:
আমার মতন সুখী কে আছে। আয় সখী আয় আমার কাছে—
সুখী হূদয়ের সুখের গান শুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ।
প্রতিদিন যদি কাঁদিবি কেবল একদিন নয় হাসিবি তোরা—
একদিন নয় বিষাদ ভুলিয়া সকলে মিলিয়া গাহিব মোরা\
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
Saturday, May 29, 2010
কেন রুখে দাঁড়াতে হয় by আনিসুল হক
গত ১৪ মে ২০১০ ডেইলি স্টার-এর ম্যাগাজিনে আনুশকা ইউসুফের একটা লেখা ছাপা হয়েছে ‘মি মোই আমি’ শিরোনামে। তিনি শুরু করেছেন এইভাবে, ‘আমার মা এসেছেন ফ্রান্সের একটা চমৎকার ছোট্ট শহর থেকে, আর আমার বাবা এসেছেন বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী থেকে। এবং আমি জন্মেছি আমেরিকান হয়ে।’ তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছে, তিনি কোন সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলছেন, ‘কোনটা আমি? যে ইউরোপীয় ফরাসি মেয়েটি সকালবেলা ক্রয়সাঁ খায়, যে বাংলাদেশি মেয়েটি সপ্তাহান্তে ভারতীয় ছবি দেখে, নাকি ওই সর্ব-আমেরিকান কিশোরী যে স্কুল শেষে ম্যাগনোল্ডসে যায়?’ তিনটা দেশের তিনটা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির চিহ্ন হিসেবে লেখিকা তিনটা জিনিসকে বেছে নিয়েছেন, ফরাসি সংস্কৃতি থেকে নিয়েছেন ক্রয়সাঁ, আমেরিকা থেকে নিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ডস, আর বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছেন তিনি ভারতীয় ছবিকে।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি আবিষ্কার করেছি যে বাঙালি জীবনচর্যা একজন বালিকার জন্য অনেক উদ্দীপনাময়।...সব সময় টেলিভিশনে একটা বলিউডের ছবির আনন্দপূর্ণ মিউজিক ভিডিও চলবে, মহিলারা পরচর্চা করবে, ডাল ঘোঁটার শব্দ ভেসে আসবে, একজনের কথার ওপরে গলা চড়িয়ে চুটকি বলবে আরেকজন। এটার সঙ্গে নির্ভুলভাবে আমাকে মানিয়ে নিতে হবে, তাই তো?’ মানিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি কষ্ট স্বীকার করলেন। সেটা কী? ‘আমি আমার ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে ভারতীয় নাচ শিখতে শুরু করলাম এবং নিয়মিতভাবে হিন্দি সিনেমা দেখা শুরু করলাম।...বিয়ের আগের অনুষ্ঠানে বলিউড নাচে অংশ নেওয়ার জন্য অনুশীলন করতে শুরু করলাম।’
বাংলাদেশের সংস্কৃতি হিসেবে, বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে তিনি যা কষ্ট করে শিখেছেন তা হলো বলিউডের নাচ। বিয়ের আগে বলিউডের নাচকেই তিনি ভাবছেন বাংলাদেশের বাঙালির সংস্কৃতি। আনুশকাকে দোষ দেব না। এটাই এখন প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। সারা বিশ্বভুবনে হিন্দি সংস্কৃতির কাছে বাঙালি সংস্কৃতির চিহ্নগুলো অপসারিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও বহু জায়গায় বহুভাবে এটা ঘটেছে। ঘটানোর জন্য বাস্তব চেষ্টা চলছে।
ভারত নামের বিশাল বহুভাষী রাষ্ট্রের সংহতির জন্য, ঐক্যের জন্য হিন্দির বন্ধন দরকার। তারা চাইবেই সারা ভারতের সব মানুষ, সে বাঙালি কিংবা তামিল যেই হোক না কেন, হিন্দি সংস্কৃতির দ্বারা আবিষ্ট হোক। বাঙালি সংস্কৃতি অনেক শক্তিশালী, তার শেকড় বহু গভীরে প্রোথিত। কিন্তু হিন্দির সঙ্গে বাংলার জনপ্রিয় সংস্কৃতির যে লড়াইটা, তা অসম। কারণ ভারতের জনসংখ্যা এক শ কোটির বেশি। হিন্দি জনপ্রিয় সংস্কৃতির পণ্যগুলো নির্মিত হয় সেই বিশাল বাজারের জন্য, ফলে তার পেছনে কেবল ভারত রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা থাকে না, থাকে বিশাল অঙ্কের পুঁজি। তাই তার সঙ্গে একটা ১০ বা ১৫ কোটি ভোক্তার জন্য বানানো জিনিসের প্রতিযোগিতাটা অসম হতে বাধ্য। ভারত একটা বৃহৎ শক্তি, হিন্দিও একটা বৃহৎ শক্তি। তার কাছে পশ্চিমবঙ্গের লেখক-সাহিত্যিকেরা তাঁদের অসহায়ত্ব নানা লেখায়, নানা সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করে চলেছেন। তাঁরা বলছেন, বাঙালি সংস্কৃতি যদি বেঁচে থাকে, যদি আলো-হাওয়া-জল দিয়ে পরিপুষ্ট হয়, তবে তা হবে বাংলাদেশে। কলকাতার মধ্যবিত্ত ছাত্রটি ইংরেজি শিখছে-বিশ্বনাগরিক হওয়ার জন্য, হিন্দিতে চোশত হচ্ছে-সর্বভারতীয় হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে এই হুমকির কোনো কারণ ছিল না। বাংলাদেশের বাংলা মাধ্যম থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ ছেলেমেয়ে বেরোচ্ছে মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে, যারা বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, আমাদের রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-শরৎচন্দ্র-জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান-হুমায়ূন আহমেদ-প্রথম আলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে, ধারণ করছে, চর্চা করছে।
কিন্তু মুম্বাইয়া সংস্কৃতির পণ্যগুলোর পেছনে আছে বড় বাজেট, আছে বাজারজাত করার আধুনিকতম সব উপায় ও আয়োজন। বাংলাদেশে আমরা হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে অবাধ করে দিয়েছি। বাসার ছোট্ট মেয়েটি হিন্দি চ্যানেলে কেশ-প্রসাধনীর বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে—লম্বি লম্বি বাল হ্যায় আচ্ছি আচ্ছি বাল হ্যায়। সুন্দর বাংলা শব্দ ‘ঐশ্বযর্’ তার কাছে ‘ঐশ্বরিয়া’। ‘অভিজিৎ’ তার কাছে ‘আবহিজিৎ’। এমনকি ‘মন্ত্র’র মতো সুন্দর শব্দ তার কাছে ‘মান্ত্রা’। বাংলা শব্দ তার কাছ থেকে অপসারিত হয়ে যাচ্ছে হিন্দি শব্দ ও উচ্চারণ দ্বারা। তবু আরেকটা ভাষা, সে হিন্দিই হোক, উর্দুই হোক, শেখাটা যে কারোর জন্যই ভালো। কিন্তু সংস্কৃতির চিহ্নগুলো যদি অপসারিত হয়ে যায়?
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে সৈয়দ শামসুল হক একটা চমৎকার প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যেটা প্রচারপত্রের আকারে হাতে হাতে বিলি হয়েছিল। লেখাটার শিরোনাম ছিল, ‘কেন রুখে দাঁড়াতে হয়’। সৈয়দ শামসুল হকের উদ্বেগ ছিল, আমাদের সংস্কৃতির চিহ্নগুলো, আমাদের শাড়ি, মেয়েদের কপালের টিপ যেন অপসারিত না হয়ে যায়! আমরা যে হাত দিয়ে ভাত খাই, ওই ভাতই আমাদের সংস্কৃতি, যেমন আনুশকা ইউসুফের ফরাসি মায়ের কাছে ক্রয়সাঁ, আমেরিকান কিশোরীর জন্য ম্যাগডোনাল্ডস, আমার কাছে তেমনি ভাত। ওটা আমি দোসা দিয়ে, ইদলি দিয়ে অপসারিত হতে দিতে পারি না।
সেই কবে শরৎচন্দ্র খোট্টা বেটাদের নিয়ে রসিকতা করেছেন (খোট্টা শালার ব্যাটারা আমাকে কিলায়া কাঁঠাল পাকায়া দিয়া)। জীবনানন্দ দাশ কিছু দিন দিল্লিতে ছিলেন মাস্টারি চাকরি নিয়ে, তাঁর জীবন শুকিয়ে এসেছিল। কলকাতার কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌতুক আছে, সকালবেলা ফোন গেছে একটা মেড়োর কাছে, সে কিছুতেই ভানুর কথা বুঝছে না, তাকে তিনি গালি দিচ্ছেন, ওপাশ থেকে বলছে, কী, হামকো গালি দিয়া? ভানু বলছেন, না তোমারে গালি দিব না, চুমা দিব, শালা হিন্দুস্তানি মাউড়া, বোঝে না কিছু।
আমি জাতিবৈর নই। ভাষাবৈরও নই। হিন্দি ভাষা শিখতে আমার আপত্তি নেই। আমি নিজে ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিটা দেখতে বলেছি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের। তবু নিজের সংস্কৃতি—আমাদের ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি, আমাদের রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ দাশের জন্য খুব মায়া হয়! এর আগে এই প্রথম আলোতেই আমি লিখেছি, হিন্দির সঙ্গে বাংলার লড়াইয়ে আমরা হেরে গেছি। আমি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছি। আমাদের বানানো টিভি অনুষ্ঠান আর কেউ দেখে না। কেবল গরিব মানুষ, গ্রামগঞ্জে যেখানে স্যাটেলাইট নেই, তারা দেখে। তবু সেই সংখ্যাটা অনেক বেশি। ছয় কোটি লোক বিটিভি দেখে, এক কোটি দেখে স্যাটেলাইট। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, বাংলা ভাষাটা বাঁচায়া রাখছে কৃষক-শ্রমিক সাধারণ মানুষরা, কারণ তারা বাংলায় কথা কয়। এখন আমরা এই কৃষক-শ্রমিকদের মুখেও হিন্দি তুলে দিতে চাইছি, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক যে কৃষক-শ্রমিককে কৃতিত্ব দিয়েছেন এই ভাষাটা বাঁচায়া রাখার। যাদের হিন্দি টিভি চ্যানেল বা ভিসিআর দেখার সুযোগ নেই, তাদের জন্য কাঁধে বয়ে বয়ে হিন্দি ফিল্ম নিয়ে যাওয়ার জন্য বায়না শোনা যাচ্ছে!
কী লাভ বা ক্ষতি হবে তাতে? রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন, পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর, তখন তিনি ঢাকাই শাড়ির বিজ্ঞাপন করেন। আর যখন দিল্লি ৬ ছবিতে মাসাক কালির কথা বলা হয়, আর আমাদের ঈদের মার্কেট ভেসে যায় মাসাক কালি শাড়িতে, তখন আমরা সরাসরি ভারতীয় পোশাকের বিজ্ঞাপন করি। আজকে লেহেংগা এসে শাড়িকে প্রতিস্থাপিত করতে চায়। তাতে আমরা কেবল আমাদের সংস্কৃতির চিহ্নই হারাই না, আমরা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমার ঢাকাই শাড়ির কারিগরটাকে বঞ্চিত করি। সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য কেবল সংস্কৃতির জন্য দরকার হয় না, সেটা অর্থনীতির জন্যও দরকার, সেটাই এই সময়ে বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্তা। নইলে বড়লোক দেশগুলো সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বানায় ও পোষে কি নিতান্তই শখে? সেদিন টেলিভিশনে শিল্পী আনুশেহ একটা অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করছিলেন, অনুষ্ঠানটার নাম ছিল ‘আমার পণ্য আমার দেশ’। তাঁর মা, শিল্পী লুবনা মরিয়ম ফোন করে বললেন, ‘আমি বলব, আমার সংস্কৃতি আমার দেশ’। দুটোই সত্য। আমার পণ্যই আমার দেশ, আমার সংস্কৃতিও আমার দেশ। কথাটা যেন আমরা ভুলে না যাই।
সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, একদল মানুষ যেন বলতে চাইছে, আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিন্দি ছবি দেখে, গরিব মানুষ দেখার সুযোগ পায় না, হিন্দি ছবি দেখার মৌলিক অধিকার থেকে গরিব মানুষকে বঞ্চিত রাখা রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অন্যায়। বাংলাদেশের নির্মাতারা যদি গরিব মানুষকে ভালো ছবি দেখাতে না পারে, তাহলে আমরা কেন তাদের হিন্দি ছবি দেখতে দেব না? তারা চাইছেন, এখন একই সঙ্গে বোম্বে, মাদ্রাজ, ভুবনেশ্বর, কলকাতা, গুয়াহাটি, জয়পুর ও আগ্রার সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, গলাচিপায় হিন্দি ছবি মুক্তি পাক। শাহরুখ খান-ঐশ্বরিয়া আসবেন তাঁদের ছবির প্রচারণার কাজে। ওই বিজ্ঞ মানুষদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, হিন্দি ছবি হচ্ছে সর্বভারতীয় সংস্কৃতির সবচেয়ে উন্নত সৃষ্টি, যেটা না দেখলে মানবজনমই বৃথা! এমন মানবজনম আর কি হবে! ওরে মরার আগে সব বাঙালি প্রতি বছরে গোটা ৫২ হিন্দি ছবি দেখে নিয়ে তারপর চোখ বুজিস। নইলে মরার পরে কী বলবি, জীবনে কী দেখেছিস!
সিনেমা যে কত বড় মাধ্যম, কত শক্তিশালী মাধ্যম, বড় পর্দার প্রভাব যে কত ব্যাপক ও কত গভীর, সেটাও যদি বলে বোঝাতে হয়! এখনই ঢাকার উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে হিন্দি নাচগানের আয়োজন করে, তখন যে কী হবে! আর আনুশকা ইউসুফ তো সেটাকেই বাংলাদেশি ও বাঙালি সংস্কৃতি বলে ধরে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের হলে হলে হিন্দি ছবি দেখানোর দাবি যাঁরা করছেন, তাঁদের যুক্তিটা আমি বোঝার চেষ্টা করছি। তাঁরা বলছেন, যেহেতু এত দিন ধরে বাংলা ছবিকে সুরক্ষা দিয়ে কোনো লাভ হয়নি, আমরা ভালো ছবি ঢাকায় নির্মিত হতে দেখিনি, কারণ বাংলা ছবিওয়ালাদের কোনো প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়নি, তাই হিন্দি ছবি আনতে হবে, তাহলে প্রতিযোগিতা হবে, তখন বাংলাদেশের ছবির নির্মাতারা হিন্দি ছবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এমন ছবি বানাতে বাধ্য হবেন। প্রটেকশন দিয়ে যদি অন্য কোনো লাভ হয়ে না থাকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতির চিহ্নগুলো হিন্দি সংস্কৃতির চিহ্ন দ্বারা পুরোপুরি অপসারিত হয়ে যায়নি, এই একটা লাভ তো হয়েছে। আর সূর্য দীঘল বাড়ি কি দিল তো পাগল হ্যায়-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে? মাটির ময়না প্রতিযোগিতা করবে কুচ কুচ হোতা হ্যায়-এর সঙ্গে? এটাকে প্রতিযোগিতা বলে? সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ছবিগুলো আনুন—ইরান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এমনকি ভারতের, কোনোই আপত্তি নেই, তবে তা আন্তর্জাতিক বিচারে ভালো ছবি হতে হবে এবং ভারতে হলিউডি ছবির ক্ষেত্রে যে রকম স্থানীয় ভাষায় ডাবকৃত হওয়া বাধ্যতামূলক, আমাদের দেশেও তাই করতে হবে, এই দেশে বিদেশি ছবি অবশ্যই বাংলায় ডাব করে চালাতে হবে। আর একটা প্রশ্ন, আমরা কেন হিন্দি চ্যানেলগুলোকে এই দেশের টিভিতে এমন অবাধ করে দিয়েছি, যখন ভারতে আমাদের চ্যানেলগুলো দেখানো হয় না বললেই চলে! প্রতিটা হিন্দি চ্যানেলের জন্য বাড়ি-প্রতি অন্তত পাঁচ টাকা করে কর নিলেও তো সরকারের কোষাগারে কিছু জমা হয়!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি আবিষ্কার করেছি যে বাঙালি জীবনচর্যা একজন বালিকার জন্য অনেক উদ্দীপনাময়।...সব সময় টেলিভিশনে একটা বলিউডের ছবির আনন্দপূর্ণ মিউজিক ভিডিও চলবে, মহিলারা পরচর্চা করবে, ডাল ঘোঁটার শব্দ ভেসে আসবে, একজনের কথার ওপরে গলা চড়িয়ে চুটকি বলবে আরেকজন। এটার সঙ্গে নির্ভুলভাবে আমাকে মানিয়ে নিতে হবে, তাই তো?’ মানিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি কষ্ট স্বীকার করলেন। সেটা কী? ‘আমি আমার ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে ভারতীয় নাচ শিখতে শুরু করলাম এবং নিয়মিতভাবে হিন্দি সিনেমা দেখা শুরু করলাম।...বিয়ের আগের অনুষ্ঠানে বলিউড নাচে অংশ নেওয়ার জন্য অনুশীলন করতে শুরু করলাম।’
বাংলাদেশের সংস্কৃতি হিসেবে, বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে তিনি যা কষ্ট করে শিখেছেন তা হলো বলিউডের নাচ। বিয়ের আগে বলিউডের নাচকেই তিনি ভাবছেন বাংলাদেশের বাঙালির সংস্কৃতি। আনুশকাকে দোষ দেব না। এটাই এখন প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। সারা বিশ্বভুবনে হিন্দি সংস্কৃতির কাছে বাঙালি সংস্কৃতির চিহ্নগুলো অপসারিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও বহু জায়গায় বহুভাবে এটা ঘটেছে। ঘটানোর জন্য বাস্তব চেষ্টা চলছে।
ভারত নামের বিশাল বহুভাষী রাষ্ট্রের সংহতির জন্য, ঐক্যের জন্য হিন্দির বন্ধন দরকার। তারা চাইবেই সারা ভারতের সব মানুষ, সে বাঙালি কিংবা তামিল যেই হোক না কেন, হিন্দি সংস্কৃতির দ্বারা আবিষ্ট হোক। বাঙালি সংস্কৃতি অনেক শক্তিশালী, তার শেকড় বহু গভীরে প্রোথিত। কিন্তু হিন্দির সঙ্গে বাংলার জনপ্রিয় সংস্কৃতির যে লড়াইটা, তা অসম। কারণ ভারতের জনসংখ্যা এক শ কোটির বেশি। হিন্দি জনপ্রিয় সংস্কৃতির পণ্যগুলো নির্মিত হয় সেই বিশাল বাজারের জন্য, ফলে তার পেছনে কেবল ভারত রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা থাকে না, থাকে বিশাল অঙ্কের পুঁজি। তাই তার সঙ্গে একটা ১০ বা ১৫ কোটি ভোক্তার জন্য বানানো জিনিসের প্রতিযোগিতাটা অসম হতে বাধ্য। ভারত একটা বৃহৎ শক্তি, হিন্দিও একটা বৃহৎ শক্তি। তার কাছে পশ্চিমবঙ্গের লেখক-সাহিত্যিকেরা তাঁদের অসহায়ত্ব নানা লেখায়, নানা সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করে চলেছেন। তাঁরা বলছেন, বাঙালি সংস্কৃতি যদি বেঁচে থাকে, যদি আলো-হাওয়া-জল দিয়ে পরিপুষ্ট হয়, তবে তা হবে বাংলাদেশে। কলকাতার মধ্যবিত্ত ছাত্রটি ইংরেজি শিখছে-বিশ্বনাগরিক হওয়ার জন্য, হিন্দিতে চোশত হচ্ছে-সর্বভারতীয় হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে এই হুমকির কোনো কারণ ছিল না। বাংলাদেশের বাংলা মাধ্যম থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ ছেলেমেয়ে বেরোচ্ছে মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে, যারা বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, আমাদের রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-শরৎচন্দ্র-জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান-হুমায়ূন আহমেদ-প্রথম আলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে, ধারণ করছে, চর্চা করছে।
কিন্তু মুম্বাইয়া সংস্কৃতির পণ্যগুলোর পেছনে আছে বড় বাজেট, আছে বাজারজাত করার আধুনিকতম সব উপায় ও আয়োজন। বাংলাদেশে আমরা হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে অবাধ করে দিয়েছি। বাসার ছোট্ট মেয়েটি হিন্দি চ্যানেলে কেশ-প্রসাধনীর বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে—লম্বি লম্বি বাল হ্যায় আচ্ছি আচ্ছি বাল হ্যায়। সুন্দর বাংলা শব্দ ‘ঐশ্বযর্’ তার কাছে ‘ঐশ্বরিয়া’। ‘অভিজিৎ’ তার কাছে ‘আবহিজিৎ’। এমনকি ‘মন্ত্র’র মতো সুন্দর শব্দ তার কাছে ‘মান্ত্রা’। বাংলা শব্দ তার কাছ থেকে অপসারিত হয়ে যাচ্ছে হিন্দি শব্দ ও উচ্চারণ দ্বারা। তবু আরেকটা ভাষা, সে হিন্দিই হোক, উর্দুই হোক, শেখাটা যে কারোর জন্যই ভালো। কিন্তু সংস্কৃতির চিহ্নগুলো যদি অপসারিত হয়ে যায়?
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে সৈয়দ শামসুল হক একটা চমৎকার প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যেটা প্রচারপত্রের আকারে হাতে হাতে বিলি হয়েছিল। লেখাটার শিরোনাম ছিল, ‘কেন রুখে দাঁড়াতে হয়’। সৈয়দ শামসুল হকের উদ্বেগ ছিল, আমাদের সংস্কৃতির চিহ্নগুলো, আমাদের শাড়ি, মেয়েদের কপালের টিপ যেন অপসারিত না হয়ে যায়! আমরা যে হাত দিয়ে ভাত খাই, ওই ভাতই আমাদের সংস্কৃতি, যেমন আনুশকা ইউসুফের ফরাসি মায়ের কাছে ক্রয়সাঁ, আমেরিকান কিশোরীর জন্য ম্যাগডোনাল্ডস, আমার কাছে তেমনি ভাত। ওটা আমি দোসা দিয়ে, ইদলি দিয়ে অপসারিত হতে দিতে পারি না।
সেই কবে শরৎচন্দ্র খোট্টা বেটাদের নিয়ে রসিকতা করেছেন (খোট্টা শালার ব্যাটারা আমাকে কিলায়া কাঁঠাল পাকায়া দিয়া)। জীবনানন্দ দাশ কিছু দিন দিল্লিতে ছিলেন মাস্টারি চাকরি নিয়ে, তাঁর জীবন শুকিয়ে এসেছিল। কলকাতার কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌতুক আছে, সকালবেলা ফোন গেছে একটা মেড়োর কাছে, সে কিছুতেই ভানুর কথা বুঝছে না, তাকে তিনি গালি দিচ্ছেন, ওপাশ থেকে বলছে, কী, হামকো গালি দিয়া? ভানু বলছেন, না তোমারে গালি দিব না, চুমা দিব, শালা হিন্দুস্তানি মাউড়া, বোঝে না কিছু।
আমি জাতিবৈর নই। ভাষাবৈরও নই। হিন্দি ভাষা শিখতে আমার আপত্তি নেই। আমি নিজে ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিটা দেখতে বলেছি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের। তবু নিজের সংস্কৃতি—আমাদের ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি, আমাদের রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ দাশের জন্য খুব মায়া হয়! এর আগে এই প্রথম আলোতেই আমি লিখেছি, হিন্দির সঙ্গে বাংলার লড়াইয়ে আমরা হেরে গেছি। আমি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছি। আমাদের বানানো টিভি অনুষ্ঠান আর কেউ দেখে না। কেবল গরিব মানুষ, গ্রামগঞ্জে যেখানে স্যাটেলাইট নেই, তারা দেখে। তবু সেই সংখ্যাটা অনেক বেশি। ছয় কোটি লোক বিটিভি দেখে, এক কোটি দেখে স্যাটেলাইট। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, বাংলা ভাষাটা বাঁচায়া রাখছে কৃষক-শ্রমিক সাধারণ মানুষরা, কারণ তারা বাংলায় কথা কয়। এখন আমরা এই কৃষক-শ্রমিকদের মুখেও হিন্দি তুলে দিতে চাইছি, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক যে কৃষক-শ্রমিককে কৃতিত্ব দিয়েছেন এই ভাষাটা বাঁচায়া রাখার। যাদের হিন্দি টিভি চ্যানেল বা ভিসিআর দেখার সুযোগ নেই, তাদের জন্য কাঁধে বয়ে বয়ে হিন্দি ফিল্ম নিয়ে যাওয়ার জন্য বায়না শোনা যাচ্ছে!
কী লাভ বা ক্ষতি হবে তাতে? রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন, পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর, তখন তিনি ঢাকাই শাড়ির বিজ্ঞাপন করেন। আর যখন দিল্লি ৬ ছবিতে মাসাক কালির কথা বলা হয়, আর আমাদের ঈদের মার্কেট ভেসে যায় মাসাক কালি শাড়িতে, তখন আমরা সরাসরি ভারতীয় পোশাকের বিজ্ঞাপন করি। আজকে লেহেংগা এসে শাড়িকে প্রতিস্থাপিত করতে চায়। তাতে আমরা কেবল আমাদের সংস্কৃতির চিহ্নই হারাই না, আমরা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমার ঢাকাই শাড়ির কারিগরটাকে বঞ্চিত করি। সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য কেবল সংস্কৃতির জন্য দরকার হয় না, সেটা অর্থনীতির জন্যও দরকার, সেটাই এই সময়ে বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্তা। নইলে বড়লোক দেশগুলো সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বানায় ও পোষে কি নিতান্তই শখে? সেদিন টেলিভিশনে শিল্পী আনুশেহ একটা অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করছিলেন, অনুষ্ঠানটার নাম ছিল ‘আমার পণ্য আমার দেশ’। তাঁর মা, শিল্পী লুবনা মরিয়ম ফোন করে বললেন, ‘আমি বলব, আমার সংস্কৃতি আমার দেশ’। দুটোই সত্য। আমার পণ্যই আমার দেশ, আমার সংস্কৃতিও আমার দেশ। কথাটা যেন আমরা ভুলে না যাই।
সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, একদল মানুষ যেন বলতে চাইছে, আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিন্দি ছবি দেখে, গরিব মানুষ দেখার সুযোগ পায় না, হিন্দি ছবি দেখার মৌলিক অধিকার থেকে গরিব মানুষকে বঞ্চিত রাখা রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অন্যায়। বাংলাদেশের নির্মাতারা যদি গরিব মানুষকে ভালো ছবি দেখাতে না পারে, তাহলে আমরা কেন তাদের হিন্দি ছবি দেখতে দেব না? তারা চাইছেন, এখন একই সঙ্গে বোম্বে, মাদ্রাজ, ভুবনেশ্বর, কলকাতা, গুয়াহাটি, জয়পুর ও আগ্রার সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, গলাচিপায় হিন্দি ছবি মুক্তি পাক। শাহরুখ খান-ঐশ্বরিয়া আসবেন তাঁদের ছবির প্রচারণার কাজে। ওই বিজ্ঞ মানুষদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, হিন্দি ছবি হচ্ছে সর্বভারতীয় সংস্কৃতির সবচেয়ে উন্নত সৃষ্টি, যেটা না দেখলে মানবজনমই বৃথা! এমন মানবজনম আর কি হবে! ওরে মরার আগে সব বাঙালি প্রতি বছরে গোটা ৫২ হিন্দি ছবি দেখে নিয়ে তারপর চোখ বুজিস। নইলে মরার পরে কী বলবি, জীবনে কী দেখেছিস!
সিনেমা যে কত বড় মাধ্যম, কত শক্তিশালী মাধ্যম, বড় পর্দার প্রভাব যে কত ব্যাপক ও কত গভীর, সেটাও যদি বলে বোঝাতে হয়! এখনই ঢাকার উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে হিন্দি নাচগানের আয়োজন করে, তখন যে কী হবে! আর আনুশকা ইউসুফ তো সেটাকেই বাংলাদেশি ও বাঙালি সংস্কৃতি বলে ধরে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের হলে হলে হিন্দি ছবি দেখানোর দাবি যাঁরা করছেন, তাঁদের যুক্তিটা আমি বোঝার চেষ্টা করছি। তাঁরা বলছেন, যেহেতু এত দিন ধরে বাংলা ছবিকে সুরক্ষা দিয়ে কোনো লাভ হয়নি, আমরা ভালো ছবি ঢাকায় নির্মিত হতে দেখিনি, কারণ বাংলা ছবিওয়ালাদের কোনো প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়নি, তাই হিন্দি ছবি আনতে হবে, তাহলে প্রতিযোগিতা হবে, তখন বাংলাদেশের ছবির নির্মাতারা হিন্দি ছবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এমন ছবি বানাতে বাধ্য হবেন। প্রটেকশন দিয়ে যদি অন্য কোনো লাভ হয়ে না থাকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতির চিহ্নগুলো হিন্দি সংস্কৃতির চিহ্ন দ্বারা পুরোপুরি অপসারিত হয়ে যায়নি, এই একটা লাভ তো হয়েছে। আর সূর্য দীঘল বাড়ি কি দিল তো পাগল হ্যায়-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে? মাটির ময়না প্রতিযোগিতা করবে কুচ কুচ হোতা হ্যায়-এর সঙ্গে? এটাকে প্রতিযোগিতা বলে? সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ছবিগুলো আনুন—ইরান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এমনকি ভারতের, কোনোই আপত্তি নেই, তবে তা আন্তর্জাতিক বিচারে ভালো ছবি হতে হবে এবং ভারতে হলিউডি ছবির ক্ষেত্রে যে রকম স্থানীয় ভাষায় ডাবকৃত হওয়া বাধ্যতামূলক, আমাদের দেশেও তাই করতে হবে, এই দেশে বিদেশি ছবি অবশ্যই বাংলায় ডাব করে চালাতে হবে। আর একটা প্রশ্ন, আমরা কেন হিন্দি চ্যানেলগুলোকে এই দেশের টিভিতে এমন অবাধ করে দিয়েছি, যখন ভারতে আমাদের চ্যানেলগুলো দেখানো হয় না বললেই চলে! প্রতিটা হিন্দি চ্যানেলের জন্য বাড়ি-প্রতি অন্তত পাঁচ টাকা করে কর নিলেও তো সরকারের কোষাগারে কিছু জমা হয়!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
Wednesday, March 24, 2010
এই মার্চ ওরা কীভাবে পালন করছে by আনিসুল হক
সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পলান সরকারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ সুধীজন পাঠাগার এই বইপ্রেমী মানুষটাকে সংবর্ধনা ও পদক দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করে এনেছিল। সেখানেই, এই মার্চ মাসেই দেখা পলান সরকারের সঙ্গে। বর্তমানে তাঁর বয়স নাকি ৯০ বছর। পলান সরকার তাঁর এলাকার মানুষদের হেঁটে হেঁটে বই বিতরণ করেন। হাঁটেন বলেই তাঁর শরীরটা ভালো আছে। রাজশাহী থেকে ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ এসেছেন, দিব্যি কথাবার্তা-চলাফেরায় বলিষ্ঠতা আছে।
একজন ৯০ বছরের মানুষ দিব্যি চলতে-ফিরতে পারছেন, দেখে ভালো লাগে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি বেঁচে থাকতেন, তাঁর বয়সও ৯০ বছর হতো। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল। এ বছর ১৭ মার্চ ছিল সরকারি ছুটির দিন। ১৭ মার্চের পত্রপত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ তাঁর জন্মদিনের খবর ছিল। ১৮ মার্চের পত্রিকায় ছিল তাঁর জন্মদিন পালনের খবর।
কিন্তু জন্মদিনের খবরের পাশেই ছিল ছাত্রলীগের আরও কিছু খবর। ১৭ মার্চের সংবাদপত্রের শিরোনাম: ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ। আহত ১০। ১০ জন আটক। ওই দিনের সব কাগজে ছিল আরেকটা খবর: এবার প্রথম হয়ে কাঁদালেন বকর। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে আহত হয়েছিলেন আবু বকর। ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তিনি কোনো দল করতেন না। নিম্নবিত্ত ঘরের এই ছেলের সাধনা ছিল লেখাপড়া। জীবনটা ছিল ঘামঝরা পরিশ্রমের। তিনি মারা গেছেন। এবার বেরিয়েছে তাঁর পরীক্ষার ফল। আবু বকর প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ১৮ মার্চ তারিখের সংবাদপত্র আকীর্ণ ছিল ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সংঘর্ষ আর ৫৮ জন কর্মী গ্রেপ্তারের খবরে। প্রথম আলো আরেকটা খবরে ওই দিন লিখেছে: প্রান্ত থেকে কেন্দ্র একই অবস্থায় ছাত্রলীগ। ‘ইডেন কলেজে ভর্তি-বাণিজ্য, যশোর জেলা সম্মেলনে গুলি-বোমা, হবিগঞ্জে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন, ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে আবারও উল্টো পথে ছাত্রলীগ।’ যশোরে ছাত্রলীগের নেতা হত্যা সম্পর্কিত খবরের বলা হয়েছে, ‘জড়িত পাঁচ ভাড়াটে খুনি, আ.লীগের দুই পক্ষ একে অপরকে দুষছে।’ ১২ মার্চের প্রথম আলোর খবর, চট্টগ্রাম মেডিকেল, দালালদের দৌরাত্ম্যের পেছনে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি। সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ নামধারীরা যা করছে, এই কটা খবর তার সামান্য নিদর্শন মাত্র। এবং এই যে ছাত্রলীগের কোন্দল, দ্বন্দ্ব, সংঘাত, তার পেছনে আছে চাঁদাবাজি, ভর্তি-বাণিজ্য অর্থাৎ টাকার খেলা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এই দুষ্কর্মগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই, বরং আছে দুস্তর ব্যবধান।
মার্চ মাস বঙ্গবন্ধুর জন্মমাস। মার্চ মাস বাংলাদেশেরও জন্মমাস। স্বাধীনতার মাস মার্চে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি বলে গণ্য ছাত্রলীগাররা, আওয়ামী লীগাররা যদি পত্রপত্রিকার পাতাকে দুঃসংবাদে কণ্টকিত-রক্তাক্ত করে রাখে, সেই দুঃখ কোথায় রাখি?
এসব খবর পড়ে মনটা ভীষণ দমে যায়। বেশ কিছুদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন ছাত্রলীগের নেতা নিহত হয়েছিলেন সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে, তার পেছনে ছিল মেডিকেল হাসপাতাল চত্বরে চাঁদাবাজির লাখ লাখ টাকার নিয়ন্ত্রণের লড়াই। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে এসেছে, ক্যান্টিনের ইজারাদারের কাছে চাঁদা দাবি করায় ক্যান্টিন বন্ধ। কারা দাবি করেছে? ছাত্রলীগের নেতারা। আমি নিজে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সেও যে খুব বেশি দিন আগে, তা নয়। আমাদের সময় এটা তো আমাদের চিন্তারও অতীত ছিল যে কেউ ক্যান্টিনের ম্যানেজারের কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্ররা, তারা কেন এই রকম অবৈধ আয়ের পেছনে ছুটবে। রাজনীতি আমাদের কালে আমরা করতাম আদর্শের জন্য, একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার বড় স্বপ্ন আমাদের ছাত্রকর্মী ও নেতাদের চোখমুখে টগবগ করত, একে মেরে ওকে ধরে দুটো টাকা পকেটে পোরার কথা তখন ছিল অকল্পনীয়।
এরা এতটা বিপথগামীই বা কেন হলো? আর এরা এতটা আশ্রয়-প্রশ্রয়ই বা পাচ্ছে কোথা থেকে? আমি বিশ্বাস করি না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান যে সারা দেশে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কর্মীরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, গুণ্ডামিতে জড়িয়ে পড়ুক। পত্রিকান্তরে পড়লাম, আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পেছনে আছে বড় আওয়ামী লীগের নেতা ও কোনো কোনো মন্ত্রীর ইন্ধন। হায় হায়, এটা কী শুনলাম! অবশ্য খুব যে বিস্ময়কর খবর এটা, তা নয়। অতীতে এসব কাণ্ড এই দেশে বহু ঘটেছে। সেই রেওয়াজই চলছে আসলে। দিনবদল খুব সহজ কাজ নয়। এসব চাঁদাবাজি থেকে হাতবদল হয় লাখ লাখ টাকা, আর তার বখরা নাকি বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছায়।
মার্চ মাসে এসব খবর পড়তে ভালো লাগে না। টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারিত হচ্ছে। সাতই মার্চের ভাষণ যতবার প্রচারিত হয়, ততবারই থমকে দাঁড়াই। এতবার শোনা হলো, এত দিন পরও শরীর রোমাঞ্চিত হয়। কী এক মহান নেতাই না আমরা পেয়েছিলাম আমাদের ইতিহাসে! আজকে যারা হাঙ্গামা, চাঁদাবাজি, খুনোখুনি করে বেড়াচ্ছে, তাদের মুখে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও কি বেমানান নয়?
বারবার মনে পড়ে বঙ্গবন্ধুর লেখা একটা চিঠির কথা। ১৯৫৮ সালের নভেম্বর মাসে শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা কারাগার থেকে এই চিঠিটা লিখেছিলেন তাঁর আব্বাকে। আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছেন, সামরিক আইন জারি করা হয়েছে, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার নামে নানা ধরনের মামলা করা হচ্ছে। বেশির ভাগ নেতাই তখন কারাবন্দী। শেখ মুজিবুর রহমানের নামেও একটা দুর্নীতির মামলা করা হয়েছিল। চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ে শেখ মুজিব বেকসুর খালাস পান। ওই মামলা দেওয়ার পরে শেখ মুজিব তাঁর বাবাকে এই চিঠিটা লিখেছিলেন।
চিঠিটা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, তাই এখনো সরকারি আর্কাইভে রয়ে গেছে।
ঢাকা জেল, ১২-১১-৫৮
আব্বা,
আমার ভক্তিপূর্ণ ছালাম গ্রহণ করবেন ও মাকে দিবেন। মা এবার খুব কষ্ট পেয়েছিলেন, কারণ এবার তাঁর সামনেই আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। দোয়া করবেন মিথ্যা মামলায় আমার কিছুই করতে পারবে না। আমাকে ডাকাতি মামলার আসামিও একবার করেছিল। আল্লাহ আছে, সত্যের জয় হবেই। আপনি জানেন, বাসায় কিছুই নাই। দয়া করে ছেলেমেয়েদের দিকে খেয়াল রাখবেন। বাড়ি যেতে বলে দিতাম। কিন্তু ওদের লেখাপড়া নষ্ট হয়ে যাবে। আমাকে আবার রাজবন্দী করেছে, দরকার ছিল না। কারণ রাজনীতি আর নাই এবং আর রাজনীতি করব না। সরকার অনুমতি দিলেও করব না। যে দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে পারে যে আমি ঘুষ খেতে পারি, সে দেশে কাজই করা উচিত না। এ দেশে ত্যাগ ও সাধনার কোনো দামই নাই। যদি কোনো দিন জেল হতে বের হতে পারি, তবে কোনো কিছু একটা করে ছেলেমেয়ে ও আপনাদের নিয়ে ভালোভাবে সংসার করব। নিজেও কষ্ট করেছি, আপনাদেরও দিয়েছি। বাড়ির সকলকে আমার ছালাম দিবেন। দোয়া করতে বলবেন। আপনার ও মায়ের শরীরের প্রতি যত্ন নিবেন। চিন্তা করে মন খারাপ করবেন না। মাকে কাঁদতে নিষেধ করবেন। আমি ভালো আছি।
আপনার স্নেহের মুজিব
শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের ঝানু গোয়েন্দারা এর আগে অনেকবার কারাগারের ভেতরে চাপ দিয়েছেন, আর রাজনীতি করব না, এই মুচলেকায় সই করলে মুক্তি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছেন, কোনো দিনই তাঁকে নোয়াতে পারেননি। এই সরকারি গোয়েন্দারা তাঁদের প্রতিবেদনে বলেছেন, এই বন্দীর মনোবল খুব দৃঢ়, তাঁকে বশীভূত করা যায় না। সেই ইস্পাতদৃঢ় মানুষটা এই চিঠিতে কত অভিমানই না প্রকাশ করেছেন! কেন? হয়তো কারও কাছে শুনেছেন, কেউ বিশ্বাস করেছে যে শেখ মুজিব ঘুষ গ্রহণ করতে পারেন। যে দেশের মানুষ এ কথা বিশ্বাস করতে পারে, সেই দেশে তিনি রাজনীতি করতে চান না। কারণ তিনি সারাটা জীবন তো আত্মত্যাগ আর স্বার্থত্যাগই করেছেন।
সেই বঙ্গবন্ধুর নামে জয়ধ্বনি দিয়ে, সেই শেখ মুজিবের ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চারদিকে এরা কী করছে? আর সেসব খবর পড়তে হচ্ছে ১৭ মার্চের সংবাদপত্রে? ১৮ মার্চের সংবাদপত্রে?
এর প্রতিবিধান কে করবে? শেখ হাসিনাকেই নির্দেশনা দিতে হবে। ছাত্রলীগকে অবশ্যই শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। ছাত্রদের সামনে অবশ্যই নগদ চাঁদার লোভ নয়, মহত্তর মানবিক স্বপ্ন ও আদর্শ তুলে ধরতে হবে, তাদের ব্যাপৃত করতে হবে দেশগড়ার কোনো একটা কর্মযজ্ঞে। মন্ত্রী, এমপি, নেতা, যুবনেতা, ছাত্রনেতা, তাঁদের আত্মীয়-পরিজন-ক্যাডারদের সংযত করতে হবে, আইনকানুনের আওতায় রাখতে হবে। দলীয়করণ, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ-বাণিজ্য-টেন্ডার প্রদান ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে। এটা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদাও বটে।
দেশে অনেক সমস্যা। গরম বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুৎ-সংকট, পানিসংকট। জনশক্তি রপ্তানির হার কমছে। দেশে বিনিয়োগ কম। বেকার সমস্যা প্রকট। তবু বলব, সরকার আওয়ামী লীগ খারাপ চালায় না। এবং আওয়ামী লীগের সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের মধ্যে গ্রাম, কৃষক, গরিব মানুষ, খেটেখাওয়া মানুষের প্রতি পক্ষপাতও প্রকাশ পায়। এসবই ভালো। কিন্তু আওয়ামী লীগের সমস্যা তার আচরণে। দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয় এই আচরণের অতি-আচারে। সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দল-কর্মী-নেতাদের আচরণে লাগাম টেনে ধরার কাজটাও একটা বড় কাজ। এবং খুবই জরুরি কাজ। এটা কেবল প্রশাসনিক বা পুলিশি পদক্ষেপ দিয়ে সম্ভব নয়, এটা করতে হবে একটা রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে। সরকারি দলের সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই, সে ব্যাপারে কোনো উপলব্ধি নেই, কোনো গরজ নেই, এটাকে তারা প্রয়োজন বলে আদৌ মনেও করে কি না সন্দেহ। এ রকম চলতে থাকলে দল ও তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনগুলোর কারণেই সরকার দ্রুত তার জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলবে। দল সরকারের জন্য সম্পদ না হয়ে হয়ে উঠবে বিপদ। মার্চ মাসের সংবাদপত্রের পাতাগুলো সেই বিপদের সংকেতই যেন ঘোষণা করছে।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
একজন ৯০ বছরের মানুষ দিব্যি চলতে-ফিরতে পারছেন, দেখে ভালো লাগে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি বেঁচে থাকতেন, তাঁর বয়সও ৯০ বছর হতো। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল। এ বছর ১৭ মার্চ ছিল সরকারি ছুটির দিন। ১৭ মার্চের পত্রপত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ তাঁর জন্মদিনের খবর ছিল। ১৮ মার্চের পত্রিকায় ছিল তাঁর জন্মদিন পালনের খবর।
কিন্তু জন্মদিনের খবরের পাশেই ছিল ছাত্রলীগের আরও কিছু খবর। ১৭ মার্চের সংবাদপত্রের শিরোনাম: ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ। আহত ১০। ১০ জন আটক। ওই দিনের সব কাগজে ছিল আরেকটা খবর: এবার প্রথম হয়ে কাঁদালেন বকর। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে আহত হয়েছিলেন আবু বকর। ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তিনি কোনো দল করতেন না। নিম্নবিত্ত ঘরের এই ছেলের সাধনা ছিল লেখাপড়া। জীবনটা ছিল ঘামঝরা পরিশ্রমের। তিনি মারা গেছেন। এবার বেরিয়েছে তাঁর পরীক্ষার ফল। আবু বকর প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ১৮ মার্চ তারিখের সংবাদপত্র আকীর্ণ ছিল ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সংঘর্ষ আর ৫৮ জন কর্মী গ্রেপ্তারের খবরে। প্রথম আলো আরেকটা খবরে ওই দিন লিখেছে: প্রান্ত থেকে কেন্দ্র একই অবস্থায় ছাত্রলীগ। ‘ইডেন কলেজে ভর্তি-বাণিজ্য, যশোর জেলা সম্মেলনে গুলি-বোমা, হবিগঞ্জে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন, ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে আবারও উল্টো পথে ছাত্রলীগ।’ যশোরে ছাত্রলীগের নেতা হত্যা সম্পর্কিত খবরের বলা হয়েছে, ‘জড়িত পাঁচ ভাড়াটে খুনি, আ.লীগের দুই পক্ষ একে অপরকে দুষছে।’ ১২ মার্চের প্রথম আলোর খবর, চট্টগ্রাম মেডিকেল, দালালদের দৌরাত্ম্যের পেছনে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি। সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ নামধারীরা যা করছে, এই কটা খবর তার সামান্য নিদর্শন মাত্র। এবং এই যে ছাত্রলীগের কোন্দল, দ্বন্দ্ব, সংঘাত, তার পেছনে আছে চাঁদাবাজি, ভর্তি-বাণিজ্য অর্থাৎ টাকার খেলা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এই দুষ্কর্মগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই, বরং আছে দুস্তর ব্যবধান।
মার্চ মাস বঙ্গবন্ধুর জন্মমাস। মার্চ মাস বাংলাদেশেরও জন্মমাস। স্বাধীনতার মাস মার্চে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি বলে গণ্য ছাত্রলীগাররা, আওয়ামী লীগাররা যদি পত্রপত্রিকার পাতাকে দুঃসংবাদে কণ্টকিত-রক্তাক্ত করে রাখে, সেই দুঃখ কোথায় রাখি?
এসব খবর পড়ে মনটা ভীষণ দমে যায়। বেশ কিছুদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন ছাত্রলীগের নেতা নিহত হয়েছিলেন সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে, তার পেছনে ছিল মেডিকেল হাসপাতাল চত্বরে চাঁদাবাজির লাখ লাখ টাকার নিয়ন্ত্রণের লড়াই। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে এসেছে, ক্যান্টিনের ইজারাদারের কাছে চাঁদা দাবি করায় ক্যান্টিন বন্ধ। কারা দাবি করেছে? ছাত্রলীগের নেতারা। আমি নিজে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সেও যে খুব বেশি দিন আগে, তা নয়। আমাদের সময় এটা তো আমাদের চিন্তারও অতীত ছিল যে কেউ ক্যান্টিনের ম্যানেজারের কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্ররা, তারা কেন এই রকম অবৈধ আয়ের পেছনে ছুটবে। রাজনীতি আমাদের কালে আমরা করতাম আদর্শের জন্য, একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার বড় স্বপ্ন আমাদের ছাত্রকর্মী ও নেতাদের চোখমুখে টগবগ করত, একে মেরে ওকে ধরে দুটো টাকা পকেটে পোরার কথা তখন ছিল অকল্পনীয়।
এরা এতটা বিপথগামীই বা কেন হলো? আর এরা এতটা আশ্রয়-প্রশ্রয়ই বা পাচ্ছে কোথা থেকে? আমি বিশ্বাস করি না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান যে সারা দেশে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কর্মীরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, গুণ্ডামিতে জড়িয়ে পড়ুক। পত্রিকান্তরে পড়লাম, আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পেছনে আছে বড় আওয়ামী লীগের নেতা ও কোনো কোনো মন্ত্রীর ইন্ধন। হায় হায়, এটা কী শুনলাম! অবশ্য খুব যে বিস্ময়কর খবর এটা, তা নয়। অতীতে এসব কাণ্ড এই দেশে বহু ঘটেছে। সেই রেওয়াজই চলছে আসলে। দিনবদল খুব সহজ কাজ নয়। এসব চাঁদাবাজি থেকে হাতবদল হয় লাখ লাখ টাকা, আর তার বখরা নাকি বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছায়।
মার্চ মাসে এসব খবর পড়তে ভালো লাগে না। টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারিত হচ্ছে। সাতই মার্চের ভাষণ যতবার প্রচারিত হয়, ততবারই থমকে দাঁড়াই। এতবার শোনা হলো, এত দিন পরও শরীর রোমাঞ্চিত হয়। কী এক মহান নেতাই না আমরা পেয়েছিলাম আমাদের ইতিহাসে! আজকে যারা হাঙ্গামা, চাঁদাবাজি, খুনোখুনি করে বেড়াচ্ছে, তাদের মুখে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও কি বেমানান নয়?
বারবার মনে পড়ে বঙ্গবন্ধুর লেখা একটা চিঠির কথা। ১৯৫৮ সালের নভেম্বর মাসে শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা কারাগার থেকে এই চিঠিটা লিখেছিলেন তাঁর আব্বাকে। আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছেন, সামরিক আইন জারি করা হয়েছে, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার নামে নানা ধরনের মামলা করা হচ্ছে। বেশির ভাগ নেতাই তখন কারাবন্দী। শেখ মুজিবুর রহমানের নামেও একটা দুর্নীতির মামলা করা হয়েছিল। চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ে শেখ মুজিব বেকসুর খালাস পান। ওই মামলা দেওয়ার পরে শেখ মুজিব তাঁর বাবাকে এই চিঠিটা লিখেছিলেন।
চিঠিটা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, তাই এখনো সরকারি আর্কাইভে রয়ে গেছে।
ঢাকা জেল, ১২-১১-৫৮
আব্বা,
আমার ভক্তিপূর্ণ ছালাম গ্রহণ করবেন ও মাকে দিবেন। মা এবার খুব কষ্ট পেয়েছিলেন, কারণ এবার তাঁর সামনেই আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। দোয়া করবেন মিথ্যা মামলায় আমার কিছুই করতে পারবে না। আমাকে ডাকাতি মামলার আসামিও একবার করেছিল। আল্লাহ আছে, সত্যের জয় হবেই। আপনি জানেন, বাসায় কিছুই নাই। দয়া করে ছেলেমেয়েদের দিকে খেয়াল রাখবেন। বাড়ি যেতে বলে দিতাম। কিন্তু ওদের লেখাপড়া নষ্ট হয়ে যাবে। আমাকে আবার রাজবন্দী করেছে, দরকার ছিল না। কারণ রাজনীতি আর নাই এবং আর রাজনীতি করব না। সরকার অনুমতি দিলেও করব না। যে দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে পারে যে আমি ঘুষ খেতে পারি, সে দেশে কাজই করা উচিত না। এ দেশে ত্যাগ ও সাধনার কোনো দামই নাই। যদি কোনো দিন জেল হতে বের হতে পারি, তবে কোনো কিছু একটা করে ছেলেমেয়ে ও আপনাদের নিয়ে ভালোভাবে সংসার করব। নিজেও কষ্ট করেছি, আপনাদেরও দিয়েছি। বাড়ির সকলকে আমার ছালাম দিবেন। দোয়া করতে বলবেন। আপনার ও মায়ের শরীরের প্রতি যত্ন নিবেন। চিন্তা করে মন খারাপ করবেন না। মাকে কাঁদতে নিষেধ করবেন। আমি ভালো আছি।
আপনার স্নেহের মুজিব
শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের ঝানু গোয়েন্দারা এর আগে অনেকবার কারাগারের ভেতরে চাপ দিয়েছেন, আর রাজনীতি করব না, এই মুচলেকায় সই করলে মুক্তি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছেন, কোনো দিনই তাঁকে নোয়াতে পারেননি। এই সরকারি গোয়েন্দারা তাঁদের প্রতিবেদনে বলেছেন, এই বন্দীর মনোবল খুব দৃঢ়, তাঁকে বশীভূত করা যায় না। সেই ইস্পাতদৃঢ় মানুষটা এই চিঠিতে কত অভিমানই না প্রকাশ করেছেন! কেন? হয়তো কারও কাছে শুনেছেন, কেউ বিশ্বাস করেছে যে শেখ মুজিব ঘুষ গ্রহণ করতে পারেন। যে দেশের মানুষ এ কথা বিশ্বাস করতে পারে, সেই দেশে তিনি রাজনীতি করতে চান না। কারণ তিনি সারাটা জীবন তো আত্মত্যাগ আর স্বার্থত্যাগই করেছেন।
সেই বঙ্গবন্ধুর নামে জয়ধ্বনি দিয়ে, সেই শেখ মুজিবের ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চারদিকে এরা কী করছে? আর সেসব খবর পড়তে হচ্ছে ১৭ মার্চের সংবাদপত্রে? ১৮ মার্চের সংবাদপত্রে?
এর প্রতিবিধান কে করবে? শেখ হাসিনাকেই নির্দেশনা দিতে হবে। ছাত্রলীগকে অবশ্যই শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। ছাত্রদের সামনে অবশ্যই নগদ চাঁদার লোভ নয়, মহত্তর মানবিক স্বপ্ন ও আদর্শ তুলে ধরতে হবে, তাদের ব্যাপৃত করতে হবে দেশগড়ার কোনো একটা কর্মযজ্ঞে। মন্ত্রী, এমপি, নেতা, যুবনেতা, ছাত্রনেতা, তাঁদের আত্মীয়-পরিজন-ক্যাডারদের সংযত করতে হবে, আইনকানুনের আওতায় রাখতে হবে। দলীয়করণ, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ-বাণিজ্য-টেন্ডার প্রদান ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে। এটা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদাও বটে।
দেশে অনেক সমস্যা। গরম বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুৎ-সংকট, পানিসংকট। জনশক্তি রপ্তানির হার কমছে। দেশে বিনিয়োগ কম। বেকার সমস্যা প্রকট। তবু বলব, সরকার আওয়ামী লীগ খারাপ চালায় না। এবং আওয়ামী লীগের সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের মধ্যে গ্রাম, কৃষক, গরিব মানুষ, খেটেখাওয়া মানুষের প্রতি পক্ষপাতও প্রকাশ পায়। এসবই ভালো। কিন্তু আওয়ামী লীগের সমস্যা তার আচরণে। দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয় এই আচরণের অতি-আচারে। সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দল-কর্মী-নেতাদের আচরণে লাগাম টেনে ধরার কাজটাও একটা বড় কাজ। এবং খুবই জরুরি কাজ। এটা কেবল প্রশাসনিক বা পুলিশি পদক্ষেপ দিয়ে সম্ভব নয়, এটা করতে হবে একটা রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে। সরকারি দলের সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই, সে ব্যাপারে কোনো উপলব্ধি নেই, কোনো গরজ নেই, এটাকে তারা প্রয়োজন বলে আদৌ মনেও করে কি না সন্দেহ। এ রকম চলতে থাকলে দল ও তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনগুলোর কারণেই সরকার দ্রুত তার জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলবে। দল সরকারের জন্য সম্পদ না হয়ে হয়ে উঠবে বিপদ। মার্চ মাসের সংবাদপত্রের পাতাগুলো সেই বিপদের সংকেতই যেন ঘোষণা করছে।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1887)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
দেশে দেশে
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
ইরান
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
চট্টগ্রাম
বিশাল বাংলা
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
কালবেলা
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
মুসলিম
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
সাক্ষাৎকার
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ইউরোপ
ছাত্রলীগ
ইতিহাস
প্রতিবেদন
সৌদি আরব
জামায়াতে ইসলামী
সোহরাব হাসান
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সংসদ
নারী ধর্ষণ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
তুরস্ক
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
ইউক্রেন
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
স্বাস্থ্য
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
গবেষণা
বাংলাদেশ
মিসর
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
Exclusive
কিশোরগঞ্জ
জীবনযাপন
আবদুল মান্নান
লেবানন
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
শিল্প
কুমিল্লা
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
চিকিৎসা
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
তথ্য প্রযুক্তি
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
ইয়েমেন
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
মসজিদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
জলবায়ু ও পরিবেশ
আশীষ-উর-রহমান
উত্তর কোরিয়া
একরামুল হক শামীম
তুহিন ওয়াদুদ
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
কালি ও কলম
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
জাতীয় নাগরিক পার্টি
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
নিবন্ধ
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
জনস্বাস্থ্য
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
প্রযুক্তি
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কাতার
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
জার্মানি
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আরব আমিরাত বা দুবাই
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
দক্ষিণ কোরিয়া
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
লিবিয়া
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
ইসলাম
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
জোহরান মামদানি
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মহাকাশচারী
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জলবায়ু পরিবর্তন
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
ইহুদি
কিশোর আলো
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
চুয়াডাঙ্গা
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গণমাধ্যম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
সোমালিয়া
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
ওমান
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সিঙ্গাপুর
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রিস
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট