Thursday, October 3, 2024

চীন+১: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কেন ভারতকে পেছনে ফেলে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে? by সুব্রত মজুমদার

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র ১০ বছরের সাফল্য তুলে ধরে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল তার দেশকে চীন+১ কৌশলের চেয়ে বেশি ‘যোগ্য’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারত প্রতিযোগিতা পছন্দ করে।  চীন+১-এর মতো কারোর উপর নির্ভরশীল নয়।’

ঘটনাচক্রে, বাণিজ্যমন্ত্রীর দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । কারণ চীন+১ কৌশলের আবির্ভাবের মাধ্যমে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইউরেশিয়া রিভিউ-তে নয়া দিল্লির ‘জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর একজন প্রাক্তন উপদেষ্টা সুব্রত মজুমদার লিখছেন, চীন থেকে বড় মাপের বিনিয়োগের সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (আসিয়ান ১০) বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। বিপরীতে ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ আকর্ষণ হারিয়েছে। যার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। আসিয়ান-এর রপ্তানি যখন দ্বিগুণ অঙ্কে বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন ভারতের রপ্তানি একটি অনিয়মিত প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করে। ভারত বেকারত্বের শীর্ষে রয়েছে, যখন আসিয়ান বেকারত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা জারি রেখেছে।

চীন+১ হল একটি সাপ্লাই চেইন কৌশল। এটি ২০১৪ ও ২০১৫-এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চীনে শ্রমের পেছনে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলোর চাহিদা বাড়ছে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য বাড়ছে। লক্ষ্য সোর্সিং ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের জন্য একক দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি হ্রাস করা। আর তাই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কোভিড-১৯ এর পর ‘চীন +১’  বিশ্বের নজর কেড়েছে। ‘চীন +১’ মানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চীনে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র পাবার পাশাপাশি একাধিক দেশে তাদের ব্যবসা ছড়িয়ে দেবে, যেগুলোকে ‘প্লাস ওয়ান’ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।  

দুঃখজনকভাবে মেক ইন ইন্ডিয়ার সাফল্যের গল্প ব্যর্থ হয়েছে। এটি তার লক্ষ্য হারিয়েছে। মেক ইন ইন্ডিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল জিডিপিতে উৎপাদনের অংশ ২০১৪ সালে ১৭-১৮ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ২২ শতাংশে উন্নীত করা। তবে এটি ২০১৫-১৬ সালে ১৮.২ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ১৭.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ তিন বছরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ১৯.৫ শতাংশ কমেছে। ফলস্বরূপ বেকারত্ব আকাশচুম্বী। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের শীর্ষে ভারত। এটি ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ এর মধ্যে প্রায় ৭-৮ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যে সময়টিতে মেক ইন ইন্ডিয়ার সাফল্য ঘোষণা করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আসিয়ানের বেকারত্বের হার ক্ষীণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে থাইল্যান্ডে ০.৯৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১.৬ শতাংশ ও চীনে ৫.২শতাংশ।

২০২৪ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বেকারত্ব মূল সমস্যা হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্যারিশমা হারানো এবং লোকসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আসে। এটি বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি মেক ইন ইন্ডিয়ার সাফল্যের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অবশেষে সরকার ২০২৪-২৫ সালের আর্থিক বাজেটে চাকরি সৃষ্টিতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে।   কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য নিয়োগকর্তাদের এই প্রণোদনা দেওয়া হবে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যে কীভাবে একজন নিয়োগকর্তা উৎপাদনের সম্প্রসারণ ছাড়াই কর্মসংস্থান বাড়াতে পারেন। কার্যত, ভারতই হবে বিশ্বের প্রথম দেশ যারা চাকরি সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রণোদনা চালু করবে।

বিপরীতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া চীন+১ কৌশলের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে আসিয়ানে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১০.৭ শতাংশ বেড়েছে। এফডিআই-এর ট্রিগার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিনিয়োগ পরিবর্তনের কারণে হয়েছিল। এটি ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ১২৫.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আসিয়ানে মার্কিন বিনিয়োগের মেগা শেয়ার চীন+১ কৌশলের অধীনে বিনিয়োগে বৈচিত্র্য এনেছে।

অবশেষে, কোভিড ১৯ সত্ত্বেও আসিয়ানে বিশ্বব্যাপী রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে আসিয়ান রপ্তানি ১৪.৯ শতাংশ বেড়েছে। এখানেও সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারপরে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তারপরে ইইউতে রপ্তানি হয়েছে। যা একই সময়ের মধ্যে ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাহলে, ভারত কেন চীন+১ কৌশলের সুফল পেতে ব্যর্থ হয়েছে? গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রতিযোগিতায় ভারতের ব্যর্থ হওয়া এবং চীনা বিনিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা। দশ বছর মেয়াদে সাপ্লাই চেইন প্রধান বৈশ্বিক উৎপাদনের মূল ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি বিশ্ব বাণিজ্যের ৪০ শতাংশের জন্য দায়ী। কোভিড-১৯ এর কারণে সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বব্যাপী উৎপাদনে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।

চীন সাপ্লাই চেইন উৎপাদনের মূল কারিগর এবং বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্র। কোভিড ১৯ মহামারি চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরকে আঘাত করেছে , যার ফলে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২২ সালে ৩.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২১ সালে ছিল ৬ শতাংশ। কোভিড-১৯ পর্যন্ত, ভারত মেক ইন ইন্ডিয়ার দিকে মনোনিবেশ করেছিল। কিন্তু বৈশ্বিক প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ চেইন উৎপাদনের অগ্রাধিকারকে উপেক্ষা করে এসেছে। কিন্তু চীন সাপ্লাই চেইন ম্যানুফ্যাকচারিং এবং গ্লোবাল ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।

এছাড়া চীনা বিনিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা চীন থেকে ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের বহুমুখীকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণে ভারতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আকস্মিক পতন ঘটেছে। চীনের ইউএসএ এমএনসি ভারতে স্থানান্তর করতে অনিচ্ছুক ছিল যেহেতু তাদের চীনা সরবরাহ শৃঙ্খল নির্মাতাদের ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমারা ভারতকে চীনের চেয়ে উৎপাদনের জন্য একটি ভালো গন্তব্য হিসেবে দেখে এসেছে। যদিও ভারত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে চীনের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে, তবুও তারা দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার জন্য ভারতকে পছন্দ করে।

এই লক্ষ্যে, চীনা বিনিয়োগের প্রতি ভারতের আগ্রহ বিদেশি বিনিয়োগের গন্তব্যের ক্ষেত্রে ভারতের পুনরুত্থানের আশা জাগিয়েছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩-২৪-এ ভারতে চীনা বিনিয়োগের উপর ফোকাস করার জন্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পরামর্শকে সমর্থন করেছিলেন ।ভারতের ইলেকট্রনিক এবং অটোমোবাইল শিল্প বৃদ্ধির মুখ দেখেছে। তবে প্রবৃদ্ধি নির্ভরশীল চীন থেকে আমদানির উপর। ভারতে চীনা বিনিয়োগ সহজ হওয়ায় আমদানির উপর কম নির্ভরতাসহ ভারত এই শিল্পগুলো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।

তবে সবশেষে একটি প্রশ্ন ওঠে, নিরাপত্তা উদ্বেগের যুক্তিকে সরিয়ে রেখে চীনা বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে ভারতের কি এক ধাপ এগোনো উচিত?

লেখক: সুব্রত মজুমদার; জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), নয়া দিল্লি’র একজন প্রাক্তন উপদেষ্টা। ভারতীয় মিডিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি মিডিয়া যেমন, এশিয়া টাইমস অনলাইন ও ইউরেশিয়া রিভিউতে নিবন্ধের লেখক।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

দীর্ঘদিন যাবৎ ইরান ও ইসরাইলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি। সেই ঝুঁকি রীতিমতো হুমকিতে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলে মঙ্গলবার রাতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হুমকিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া ইসরাইল এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে ইরান বলেছে, ইসরাইল জবাব দিলে এর পাল্টা জবাব হবে আরও ভয়াবহ। এমনিতেই গাজায় এ শতাব্দীর সবচেয়ে নৃশংসতম হামলা চালিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে ইসরাইল। তাতে বিবেকসম্পন্ন মানুষসহ মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। তার ওপর পাশের দেশ লেবাননে হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরাইল।সেখানেও তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে। এতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর ওপর স্থল হামলা শুরু করেছে। ফলে এই উত্তেজনা আকস্মিকভাবে দাবানলের মতো গ্রাস করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যকে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এখান থেকে শুরু হয়ে যেতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ক্ষোভে ফুঁসছে ইয়েমেনের হুতিরা। ইরাকের রয়েছে কড়া বার্তা। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সাবধান করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁকে ইসরাইলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল। তাকে সেখানে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জাতিসংঘ মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, জাতিসংঘের ইতিহাসে তিনি কলঙ্কিত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাকে আমি ইসরাইলে  অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। আমাদের দেশে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ। যেকোনো ব্যক্তি, যারা ইরানের হায়েনার মতো হামলায় দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানাবে না, তারা ইসরাইলের মাটিতে পা রাখার অধিকার রাখতে পারেন না।  তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরাঁ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি এবং এখন ইরানের সন্ত্রাসী, ধর্ষক ও খুনিদের সমর্থন দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলেছে রাশিয়া। বুধবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দমিত্রি পেসকভ বলেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। যা ঘটছে তার প্রেক্ষিতে আমরা সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এ নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রাশিয়া। যেসব হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হন, তার নিন্দা জানিয়েছে তারা। ওদিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের সাবেক দু’জন প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন- নাফতালি বেনেট এবং ইয়াইর লাপিদ। এর মধ্যে ইয়াইর লাপিদ সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, লেবানন, গাজা ও ইরানকে সন্ত্রাসীদের আস্তানা বলে অভিহিত করেন।

জরুরি বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ
মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসার কথা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের। ইসরাইলের অভ্যন্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বৈঠকটি হওয়ার কথা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল-জাজিরা। এতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানান, ইসরাইলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ইরান। এই অভিযোগ তুলে ইরানের নিন্দা এবং দেশটির ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তবে ইরানের দাবি, গাজা উপত্যকায় ও লেবাননে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ এবং হামাস, হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসি’র নেতাদের গুপ্তহত্যার জবাবে তারা ইসরাইলে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

‘মাশুল দিতে হবে ইরানকে’
‘ইরান মঙ্গলবার রাতে একটি বড় ভুল করেছে- এর জন্য তারা মাশুল দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক নিরাপত্তা বৈঠকে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইরান সরকার নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমাদের সংকল্প এবং আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের সংকল্প বুঝতে পারেনি। হামাস, হিজবুল্লাহ সংগঠনের প্রধান এবং ইরানের এক কমান্ডারকে হত্যার দায়ে ইসরাইলে এ হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। হামলার পর  তেহরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া তিনি ইরানের হামলার প্রতিশোধ নেয়ারও অঙ্গীকার করেছেন।

ইসরাইল প্রতিশোধ না নিলে হামলা এখানেই শেষ: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসরাইল পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। কিন্তু তেলআবিব যদি পাল্টা হামলা চালায় তাহলে তার জবাব আরও কড়াভাবে দিতে প্রস্তুত তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বুধবার এক্সের এক পোস্টে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইসরাইলি সরকার আরও প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত না নিলে আমাদের পদক্ষেপ শেষ। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী এবং ভয়াবহ হবে।

এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ১৮০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এর বিপরীতে তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। অবশ্য ইসরাইলের কড়া বার্তার পর ইরানও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। মূলত এই অবস্থা এড়াতে আপাতত ইসরাইলে আর কোনো হামলা না করার কথা জানিয়েছে তেহরান। এদিকে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও এখনো হিজবুল্লাহ-ইসরাইলের মধ্যে তুমুল লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার সকালে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ’র বৈরুতে অবস্থিত শক্তিশালী একটি ঘাঁটিতে নতুন করে বোমা হামলা করে ইসরাইল। হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে এই কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। হামলার পরপরই ওই এলাকার কিছু অংশে ধোঁয়ার বড় ফোয়ারা উঠতে দেখা গেছে। ইসরাইল এই অঞ্চলে কঠিন সতর্কতা জারি করেছে। এতে তেলআবিবের কয়েকদিনের ভারী হামলায় অঞ্চলটি খালি হয়ে পড়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহ’র দাবি তারা বুধবার সকালে লেবাননের আদাইসেহ শহরে অনুপ্রবেশকারী ইসরাইলি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

ইরান ইসরাইলের ওপর মঙ্গলবারের হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তিনটি ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, তাদের নেতাদের হত্যা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং গাজায় আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইলে গত মঙ্গলবার রাতে হামলা চালিয়েছে ইরান।

পাল্টা হামলা চালালে ইসরাইলের প্রতিটি স্থাপনাকে টার্গেট করবে তেহরান
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারির পর এবার পাল্টা হামলার সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি তেলআবিবকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইসরাইল পাল্টা হামলা চালায় তাহলে তাদের প্রতিটি স্থাপনাকে টার্গেট করবে তেহরান। ইরানের ওই সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেছেন- যদি ইসরাইল তাদের অপরাধ অব্যাহত রাখে এবং আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কিছু করতে চায় তাহলে পরবর্তী হামলা মঙ্গলবার রাতের হামলার কয়েকগুণ শক্তিশালী হবে। তেলআবিবের সমস্ত অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।  মোহাম্মদ বাঘেরি বলেছেন, ইসরাইলকে মোকাবিলা করতে ইরানের বিপ্লবী রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে যে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরাইলে হামলা করা হয়েছিল তার চেয়েও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে ময়দানে প্রস্তুত আছে ইরানের ওই বিশেষ বাহিনী। ইরানের হামলার পর এক নিরাপত্তা বৈঠকে তেহরানকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘ইরান ওই রাতে একটি বড় ভুল করেছে- এর জন্য তারা মাশুল দেবে।’

ইসরাইলি সেনা নিহত: গাজার দক্ষিণে এক লড়াইয়ে নিহত হয়েছে ইসরাইলের চার সেনাসদস্য। বুধবার এ কথা স্বীকার করেছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। নিহত চার সেনাসদস্য হলো- গিভাতি ব্রিগেডের ডেপুটি কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপটেন ডানিয়েল মিমোন  তোয়াফ (২৩), ৪০১ আর্মার্ড ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের প্যারামেডিক স্টাফ সার্জেন্ট আগাম নাইম (২০), স্টাফ সার্জেন্ট অমিত বকরি (২১) ও স্টাফ সার্জেন্ট ডোতান শিমোন (২১)। ওদিকে  লেবাননের হিজবুল্লাহও দাবি করেছে তারা ইসরাইলি কয়েকজন সেনাকে হত্যা করেছে। কতোজন সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি তারা। লেবানন সীমান্তের কাছে একটি টানেল থেকে হিজবুল্লাহ ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালায়। তাতে বেঁচে যাওয়া একজন অবশ্য বলেছেন, তার ইউনিটের সবাই আহত হয়েছেন। তবে তারা সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন। ইসরাইলি সেনাদেরকে লেবাননের ওদাইসিয়ে শহরের কাছে অ্যাম্বুস বা ঘেরাও করে এই হামলা চালানো হয়।

ইসরাইলি দূতাবাসে হামলা: লেবাননে স্থল আগ্রাসন শুরুর পর কোপেনহেগেন ও স্টকহোমে ইসরাইলি দূতাবাসে হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় প্রায় ৬টার দিকে স্টকহোমে ইসরাইলি দূতাবাসে কমপক্ষে এক রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। এর প্রায় ৯ ঘণ্টা পর ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে দু’টি বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে কোনো ঘটনায় কেউ আহত হননি।  সন্দেহভাজনদের এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা হয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে দুটি দেশই।

নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া: পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। তাই লেবানন থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নেয়া শুরু করছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার চীন বলেছে, লেবানন থেকে তারা কমপক্ষে ২০০ নাগরিককে সরিয়ে নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া অবিলম্বে ইসরাইল ও লেবানন সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অংশ থেকে তাদের নাগরিকদের উদ্ধারে সামরিক বিমান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বৃটেন। 

mzamin

ইসরায়েলের তিন ট্যাংক গুঁড়িয়ে দিল লেবাননের যোদ্ধারা

ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দফায় লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন সেনা হতাহত হয়েছেন। কেবল সেনাদের ওপর হামলা নয়, ইসরায়েলি বাহিনীর তিনটি ট্যাংক গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিজবুল্লাহ।

বুধবার (০২ অক্টোবর) এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের তিনটি ট্যাংক গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ট্যাংকগুলো লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রামের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। বুধবার এগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরান-সমর্থিত এ গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা রকেটসহ তিনটি মারাকোভা ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছে। এসব ট্যাংক মারুন আল-রাস গ্রামের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এলাকাটিতে সকাল থেকেই ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ হয়ে আসছে।

এর আগেলেবানেনের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেনাদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সংঘর্ষে এক দিনে আট সেনা হারিয়েছে ইসরায়েল। টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইডিএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত আট সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন ও সার্জেন্ট পদমর্যাদার সেনারাও রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত সেনাদের মধ্যে দুজন ক্যাপ্টেন, তিনজন প্রথম শ্রেণির সার্জেন্ট এবং দুজন স্টাফ সার্জেন্ট রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন কমান্ডো ও একজন ইঞ্জিনিয়ার ইউনিটের সেনা রয়েছেন।

এর আগে আলজাজিরা জানায়, লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর সেনাদের হামলায় ইসরায়েলের অন্তত দুই সেনা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮ জন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ ভোরে লেবাননের সীমান্তবর্তী ওদাইশেহ শহরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই সেনা নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইসরায়েল লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর এটি প্রথম মুখোমুখি সংঘর্ষ।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের জন্য দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান গাজায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাসের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কেননা হিজবুল্লাহ একটি শক্তিশালী শত্রুপক্ষ, যারা দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং তাদের সৈন্যরা সিরিয়ায় বহু বছর ধরে যুদ্ধ করেছে। 

ইসরায়েলি বাহিনীর ট্যাংক। পুরোনো ছবি
ইসরায়েলি বাহিনীর ট্যাংক। পুরোনো ছবি

ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আহমাদিনেজাদের বিস্ফোরক মন্তব্য

ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার যে ইউনিট ইসরায়েলবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তার প্রধান মোসাদের এজেন্ট বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তিনি বলেন, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার যে ইউনিট মোসাদ এজেন্টদের শনাক্ত করার জন্য বিশেষভাবে নিযুক্ত, সেই ইউনিটের প্রধান ২০২১ সালেই নিজেকে ডাবল এজেন্ট হিসেবে প্রকাশ করেছিলেন। আরও ২০ জন মোসাদ এজেন্ট পরিচালনা করতেন।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ ধরনের একটি অপারেশনের আওতায় ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির নথি চুরি করে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গণমাধ্যমে প্রকাশও করেছিলেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে থাকা পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান।

আহমাদিনেজাদের দাবি, এই ডাবল এজেন্টরা কয়েক বছর ধরে ইরানের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করেছে। তেহরানের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক ব্যর্থতার অন্যতম কারণ এটি। অভিযুক্ত এসব মোসাদ এজেন্টরা তাদের অপারেশন শেষ করে বর্তমানে ইসরায়েলে বসবাস করছে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২০০৬ সালে যুদ্ধের পর ইসরায়েল লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। গোপন তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা বিভিন্নভাবে গুপ্তচর নিয়োগ করে। গোয়েন্দাদের নতুন দলটি তৈরি করা হয় সেনাবাহিনীর মধ্যে থেকে। যেন সেনা এবং বিমানবাহিনীর কাছে তারা সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারে।

পাশাপাশি ইসরায়েলি সিগন্যাল গোয়েন্দা এজেন্সি ইউনিট অনেক অত্যাধুনিক সাইবার টুলস তৈরি করেছে। যেগুলো দিয়ে খুব সহজেই ইরানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ডিভাইসে আঁড়ি পাতা যায়।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রধান ইসমাইল হানিয়া, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ ইরানপন্থি বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। সর্বশেষ হাসান নাসরুল্লাহের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ প্রধানের অবস্থান সম্পর্কে গোপন তথ্য জানিয়ে দেয় এক ইরানি গুপ্তচর। এরপরই তাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।

সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানপন্থি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যেসব সাফল্য পেয়েছে সেগুলো এসেছে মূলত গোয়েন্দা কার্যক্রমের কল্যাণেই।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ছবি : সংগৃহীত


হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে ইসরায়েলের ৮ সেনা নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সেখানে দেশটির সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে আইডিএফের লড়াই চলছে। এরই মধ্যে ইসরায়েল তাদের আট সেনাকে হারিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে; আহত হয়েছেন সাতজন।

আইডিএফ জানায়, নিহত সেনাদের মধ্যে চারজন ইগোজ ইউনিটের সদস্য। আজ বুধবার লড়াইয়ে প্রথম যে ইসরায়েলি সেনা নিহত হন, তিনিও এই ইউনিটেরই একজন ক্যাপ্টেন। ২২ বছর বয়সী ক্যাপ্টেনের নাম ইতান ইতঝাক ওস্তার। তিনি ছিলেন ইগোজ ইউনিটের টিম কমান্ডার। গেরিলা হামলার জন্য বাছাই করা কমান্ডোদের নিয়ে ইগোজ ইউনিটটি গঠিত।

এরই মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে এইতারাউন শহরে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন শহরের বাসিন্দা ও ইসলামিক হেলথ অথরিটির প্যারামেডিক। নিখোঁজ আছেন একজন।

এনএনএ এই হামলাকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো শহরের ইসলামিক হেলথ অথরিটি কেন্দ্রে আঘাত হেনে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দিয়েছে। পাশাপাশি একটি ক্লিনিকও ধ্বংস করে দিয়েছে।
বার্তা সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল, ভোরে ইসরায়েলি সীমান্তের কাছে দেবেল গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক চলছে। সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আবারও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’ বলে সতর্ক করেছেন।

গত সপ্তাহ থেকে রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে জোরালো হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত শুক্রবার বৈরুতের দক্ষিণে হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। এসব হামলার মধ্যে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ এই প্রথম জানাল, তাদের মাটিতে লড়াই চলছে।

এএফপির খবরে বলা হয়, হিজবুল্লাহর মুখপাত্র মোহাম্মদ আফিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রুখে দাঁড়ানোর মাত্র শুরু হলো।’ নিজেদের সংগঠনের যোদ্ধাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দক্ষিণে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে।

এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা লঙ্ঘন করেছে। সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছে, ইসরায়েলের শত্রু বাহিনী ব্লু লাইন অতিক্রম করে লেবাননে প্রায় ৪০০ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তবে পরে ‘অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সরে যায়’।

আজ ভোরের দিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্থল অভিযান চালানো হবে বলে দক্ষিণ লেবাননের ২০টির বেশি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলে। পরে আরও কিছু এলাকার বাসিন্দাদেরও সরে যেতে বলে। এর আগের দিনও সামরিক বাহিনী স্থল অভিযান চালানো হবে বলে একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছিল।

ক্যাপ্টেন ইতান ইতঝাক ওস্তার
ক্যাপ্টেন ইতান ইতঝাক ওস্তার। ছবি: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী

ভূমিও যৌন হয়রানির শিকার, সেই কষ্ট পুষে রেখেছেন দিনের পর দিন

২০১৪ সালে ‘দম লাগাকে হ্যায়সা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ওজন বাড়িয়েছিলেন তখনকার নবাগত নায়িকা ভূমি পেড়নেকর। সেই সিনেমার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি যে পরিশ্রমী, সেটি যেমন পর্দায় প্রমাণ করেছিলেন, তেমনি স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও। পরবর্তী সময় খুব দ্রুতই কমিয়ে ফেলেছেন ওজন। এরপর একের পর এক সিনেমায় বাজিমাত করেছেন তিনি। বর্তমানে আর জি করের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে উত্তাল পুরো ভারত। একে একে নিজেদের সঙ্গে যৌন হেনস্তা নিয়ে মুখ খুলছেন টলিউড থেকে বলিউড তারকারা। এই তালিকা থেকে বাদ পড়েননি ভূমি পেড়নেকরও। আর জি করের ঘটনার পর নতুন করে নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন সব মহলে। এবার সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন অভিনেত্রী ভূমি।

সোমবার কলকাতায় গিয়ে লিঙ্গবৈষম্য ও নারী নির্যাতনের মতো প্রসঙ্গ নিয়ে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলেন ভূমি। যুগ যুগ ধরে চলে আসা অত্যাচারে জর্জরিত নারীর কষ্ট নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

ভূমির ভাষ্য, এককথায় সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু মেয়েদের এবার মুখ খোলার তাগিদ দিলেন অভিনেত্রী। নারীদের সঙ্গে হওয়া প্রতি মুহূর্তে ঘটে যাওয়া অত্যাচারের কথা সমাজকে জানানোর আহ্বান জানান অভিনেত্রী।

নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের উদাহরণ টেনে ভূমি বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের মেয়েরা কোনো না কোনোভাবে হেনস্তার শিকার। আমিও আক্রান্ত হয়েছি, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলাম। দিনের পর দিন সেই ঘটনা মনের মধ্যে পুষে রেখেছি। যার ছাপ পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। তাঁর মতে, একে তো হেনস্তার শিকার, তার ওপর লোকলজ্জার ভয়ে নীরব থাকা। মেয়েদের ওপর এ যেন সাঁড়াশি আক্রমণ! যার ভারে মেয়েরা জর্জরিত ও ক্লান্ত। তবু তার সমাধান নেই।

ভূমি বলেন, সমস্যা যেমন আছে, তার সমাধানও রয়েছে। ঘর থেকেই দিনবদল ঘটাতে চান তিনি। বলেন, নারী যেমন পুরুষকে সম্মান করবে, তেমনি নারীকে সম্মান করা শিখতে হবে পুরুষকেও। এতেই লিঙ্গবৈষম্য দূর হবে। তাঁর দ্বিতীয় পরামর্শ, কর্মক্ষেত্রেও লিঙ্গসমতা ফেরাতে হবে। টেকনিশিয়ানদের থেকে শুরু করতে হবে, শেষ হবে পরিচালনার স্তরে। মেয়েরা যেমন বলবেন, তাঁদের বক্তব্যও শুনতে হবে। পোশাক থেকে আচরণ—মেয়েদের সবকিছু নিয়ে সারাক্ষণ সমালোচনা চলে। ভূমির মতে, এটাও নারী হেনস্তার অন্যতম কারণ।

পাশাপাশি শিশুদের মানবিক বিকাশের ওপরও জোর দেন ভূমি পেড়নেকর। কারণ, এখনকার শিশুরা আগের তুলনায় অনেক বেশি অমানবিক। আফসোস করে অভিনেত্রী বলেন, তারা কুকুরের লেজে বাজি বেঁধে জ্বালায়! শিশুদের মধ্যে মানবিকতার শিক্ষা থাকলে ভবিষ্যতে তারা মান ও হুঁশ সম্পন্ন মানুষ হবে।

ভূমি পেড়নেকর
ভূমি পেড়নেকর। শিল্পীর ফেসবুক

জাতিসংঘে ইউনূসের সফল দৌত্যে চিন্তায় নয়াদিল্লি

বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন রুখতে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ বাড়ছে সাউথ ব্লকে। সে কারণে মুহাম্মদ ইউনূস চাইলেও জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে মোদীর সঙ্গে বৈঠক না হলেও আমেরিকার সিলমোহর নিয়ে সফল ভাবেই আন্তর্জাতিক দৌত্য সারলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। যা দিল্লির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সাধারণ সম্মেলনে নিজে বক্তৃতা দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউনূস। পাশাপাশি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধান এবং এডিবি-র শীর্ষকর্তার সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা হয়েছে তাঁর। এই সব আলোচনার মূল সূর একটাই। শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সরকারি নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমি দুনিয়া এবং আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা থাকবে ভবিষ্যতে। যে সহায়তার কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। এক কথায়, ভারতের প্রতি দ্বিপাক্ষিক নির্ভরতার জায়গা সঙ্কুচিত করাই এই মুহূর্তে ইউনূস সরকারের লক্ষ্য কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে কূটনৈতিক মহলে।

সাউথ ব্লকের চিন্তা বাড়িয়ে নিউ ইয়র্কে ইউনূসের দৌত্য তালিকা প্রসারিত হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গেও। সূত্রের খবর, সার্ক-কে জাগিয়ে তোলা ও বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে কথা হয় ইউনূস-শরিফের। কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিদেশ মন্ত্রক গত ১০০ দিনে কাজকর্মের খতিয়ানে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ না রাখলেও এই মুহূর্তে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের কৌশল রচনাই মোদী সরকারকে অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখতে হবে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বার্তা থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশ এখন তার নীতির কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীকে আরও বেশি করে রাখতে চাইছে। যা স্বস্তির নয় নয়াদিল্লির কাছে। আপাতত দু’টি বিষয় স্পষ্ট। এক, এই অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে গিয়েছে সে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে। দুই, ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আগামী দিনে এগোলে তা নিয়ন্ত্রণ করার মতোকূটনৈতিক অস্ত্র এখনও ভারতের হাতে নেই। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, জাতিসংঘে বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছেন ইউনূস। এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন, ক্ষমতার বদল হলেও তাঁকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশের জাতিসত্তার স্বকীয়তাতেই তিনি বিশ্বাসী।

সূত্র- আনন্দবাজার

mzamin

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক: মধ্যপ্রাচ্য সংকট এড়িয়ে গেলেন ওয়ালজ ও ভ্যান্স

নির্বাচনের মাত্র ৩৫ দিন আগে ভাইস প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে অংশ নিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের রানিংমেট টিম ওয়ালজ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রানিংমেট জেডি ভ্যান্স। উভয়ই মধ্যপ্রাচ্য সংকট এড়িয়ে গেছেন। তাদের কাছে ইরান-ইসরাইলের সমর্থনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা সরাসরি জবাব দেননি। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত সিবিএস টেলিভিশনের বিতর্কে অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ওই দুই রাজনীতিবিদ। বিতর্কে তারা অভিবাসন, কর প্রয়োগ, গর্ভপাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী অভিমত তুলে ধরেন। তবে তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে নিজেদের বিরত রেখেছিলেন। এ খবর দিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা।

এতে বলা হয়, এই দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনী প্রচারাভিযানে পরস্পরকে তীব্র ভাবে আক্রমণ করলেও, বিতর্কে তাদের মনোভাব ছিল উষ্ণ। তারা বরঞ্চ তীব্র আক্রমণের বিষয়টি যেন তাদের নির্বাচনী টিকিটের সর্বোচ্চ প্রার্থী ডেমোক্রেটিক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রেখে দিলেন।
নিউ ইয়র্কের সিবিএস ব্রডকাস্টিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কের শুরুতেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের অব্যাহত আক্রমণ এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংকট প্রসঙ্গটি আসে। ওয়ালজ বলেন ট্রাম্প অনেক বেশি ‘নড়বড়ে’ এ ব্যাপারে। তবে ভ্যান্স জোর দিয়েই বলেন, ট্রাম্প তার আমলে বিশ্বকে আরও বেশি নিরাপদ করে গেছেন।
ভ্যান্স প্রশ্ন করেন হ্যারিস কেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মুদ্রাস্ফীতি, অভিবাসন ও অর্থনীতির দিকে নজর দেননি। ভ্যান্স বলেন, মধ্যবিত্তের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে কমালা হ্যারিসের যদি এত মহৎ পরিকল্পনা থাকে, তাহলে যে কাজটি তাকে আমেরিকান জনগণ সাড়ে তিন বছর আগেই দিয়েছিলেন তার উচিত ছিল এখনই তা সম্পন্ন করা।
ওয়ালজ ট্রাম্পকে অস্থিতিশীল নেতা বলে বর্ণনা করেন যিনি কোটিপতিদেরই কেবল অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং অভিবাসন সম্পর্কে ভ্যান্সের সমালোচনা তাকে ফিরিয়ে দিয়ে এ বছর আরও আগে সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে দ্বিদলীয় প্রস্তাব পরিহার করতে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন। অভিবাসন সম্পর্কে ওয়ালজ বলেন, আমরা, অধিকাংশ লোকই এর সমাধান করতে চাই। এটি করার জন্য ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চার বছর সময় ছিল, এবং তিনি আপনাদের, আমেরিকানদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিষয়টা কতোখানি সহজ হবে।
যখন জানতে চাওয়া হয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থন করবেন কিনা, জবাবে ভ্যান্স বলেন, বিষয়টি তিনি ইসরাইলের বিবেচনার জন্য রাখবেন, তবে ওয়ালজ এই প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দেননি। ৬০ বছর বয়সী ওয়ালজ হচ্ছেন মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের লিবারেল গভর্নর ও হাই স্কুলের একজন সাবেক শিক্ষক এবং ৪০ বছর বয়সী ভ্যান্স হচ্ছেন একজন জনপ্রিয় লেখক এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেটর। তারা উভয়ই নিজেদের আমেরিকার মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের সন্তান হিসেবে তুলে ধরেন। তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি গভীর ভাবে পরস্পরবিরোধী।
৫ই নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই শেষ বিতর্কে উভয় প্রতিপক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্যবস্তু করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্টদের বিতর্ক খুব উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে কিন্তু তা নির্বাচনের ফলাফলে তেমন কোনো পরিবর্তন আনে না। তবে তা সত্ত্বেও জনগণের মতামতের সামান্য পরিবর্তনও পাঁচ সপ্তাহ আগে এই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পাল্টে দিতে পারে।

mzamin

লালমনিরহাটে দুর্নীতির ফাইল গায়েব by মিলন পাটোয়ারী

লালমনিরহাটে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দুর্নীতির ফাইল উধাও হয়েছে। লুটপাট ঢাকতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ফাইল গায়েব করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরের দিনেই ফাইল গায়েবের ঘটনা ঘটে। ওই ফাইলে সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয়স্বজনের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের তালিকাও ছিল বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাট কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অফিস সহকারী পারভীন বেগম ফাইল হারানো নিয়ে থানায় জিডি করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকার অধিক হিসাবও রয়েছে তালিকায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন আরও ৩৫ কোটি টাকার বেশি হিসাব মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের কাগজপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ তালিকা রয়েছে ওই ফাইলে। সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ দুর্নীতি ঢাকতে ফাইল গায়েব হয়েছে বলে জানিয়েছে সনাক। ওদিকে এ ঘটনায় সমাজসেবা উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমানকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন হয়েছে।

সূত্র মতে ফাইল গায়েবের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অফিস সহকারী সাবেক মন্ত্রীর নিকটতম মোছাঃ পারভীন বেগম। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ তাকে চাকরি দিয়েছিল। তার বাড়ির পাশে থাকেন ওই অফিস সহকারী। সরকার পতনের পর দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসার আগেই মন্ত্রীর বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় সরিয়ে ফেলে দুর্নীতির ফাইল। পারভীনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে সদর অফিসে করা হয়েছে বদলি। ওই ফাইলে অর্থ বিতরণ, বরাদ্দ তালিকা, নোট, রেজ্যুলেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার উপরে রয়েছে হিসাব ও তালিকা। আরও জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ, তার জামাই জিল্লুর রহমান, এপিএস মিজানের দুর্নীতি সরকারি অর্থ লুট ঘটনায় সরকারের যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে সরকার। দুদকও তদন্ত করছে। এই মুহূর্তে সরকারি ফাইল গায়েব হওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে দাবি অনেকের। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ কবীর মানবজমিনকে বলেন, সমাজসেবা অফিসের অফিস সহকারী মোছাঃ পারভীন বেগম সরকারি অফিসের ফাইল হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জিডি করে। জিডি নম্বর ২২০ গত ৫ই সেপ্টেম্বর দায়ের করেন। জিডিতে উল্লেখ করেন ৬ই আগস্ট ফাইল তুষভাণ্ডার ইউনিয়ন পথে তুষভাণ্ডারে হারিয়েছে। এতে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদের বরাদ্দের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তালিকাসহ বিভিন্ন ফাইল ছিল। থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, বিষয়টি এখন শোনা যাচ্ছে সরকারি টাকার হিসাব ও তালিকা ছিল। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অফিস সহকারী পারভীন বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একবার জানান ফাইল হারিয়েছে। আবার জানান অফিসে থাকতে পারে খুঁজতে হবে। আরও বলেন ৬ই আগস্ট অফিসে হামলা করে ফাইল নিয়ে গেছে। ওদিকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হারিয়েছে ৬ই আগস্ট। ৫ই সেপ্টেম্বর এক মাস পর জিডি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সাবেক মন্ত্রীর দুর্নীতি ঢাকতে ফাইল হারানো নাটক ছাড়া আর কিছু না। তাই ফাইল উদ্ধার করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। সনাক লালমনিরহাটের সহ-সভাপতি ডা. আশিক ইকবাল জানালেন, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদের দুর্নীতি লুটপাটের চিত্র পত্রিকায় আসছে তা গোপন করতে ফাইল গায়েব করেছে। অফিসের ফাইল এক মাস পূর্বে হারিয়েছে আর এক মাস পরে জিডি এটি নাটকীয় ওই অফিস সহকারী পারভীন বেগমকে রিমান্ড নিলে বেরিয়ে আসবে আরও তথ্য। লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান জানান, ফাইল হারিয়ে যাওয়ার বিষয় পত্রিকায় জানতে পারি। সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

mzamin

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট: বিএফআইইউ’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দুর্নীতি, অনিয়ম আর অপরাধের মাধ্যমে গত ১৫ বছরে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রভাবশালীরাই অর্থ পাচার করেছেন বিদেশে। এসব খবর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও দেশের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ দৃশ্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং বরাবরই রহস্যজনক কারণে নীরব ছিল বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিদিনই সংস্থাটি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে, আটকে দিচ্ছে ব্যাংকে থাকা লকার আর তলব করছে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য। কিন্তু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নেটিজেনরা। তাদের মতে, এসব অ্যাকাউন্টে কি বড় অঙ্কের টাকা ছিল? অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানোর পর জব্দ করলে তো কোনো লাভ হবে না? এ নিয়ে সামাজিক সাইটেও বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিগত সরকারের সময় ফুলেফেঁপে ওঠা অনেকের বিদেশে সম্পদের তথ্য সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাচার করা অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা চেয়েছে সরকার। পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে এরই মধ্যে নতুন করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, জব্দ করা অ্যাকাউন্টগুলো যাদের নামে, তাদের বড় অংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আছেন শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্য, খেলোয়াড়, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও পুলিশ কর্মকর্তাও। এসব ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের উৎস ও আয়ের নথি খতিয়ে দেখছে বিএফআইইউ। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে সমালোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের বিরুদ্ধে। গত সাত বছরে এস আলম গ্রুপ শুধু ইসলামী ব্যাংকিং সিস্টেম থেকেই নামে-বেনামে লুট করেছে ২ লাখ কোটি টাকার উপরে, যার বেশির ভাগ অংশই সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে।

বিএফআইইউ’র কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক বছরে দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করেছে এস আলম গ্রুপ। তার অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংস্থাটির কাছে আছে। এস আলমসহ অন্য অনেকের তথ্য রয়েছে। এরপরও অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান দুদকের জালে: বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। দুদকে জমা দেয়া অভিযোগে বলা হয়, বিএফআইইউ’র পদত্যাগ করা মাসুদ বিশ্বাস বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের থেকে ঘুষের মাধ্যমে অনিয়মে সহায়তা করেছেন। বিগত দিনে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ সহ ২৪টি বড় ঘটনায় ৯২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে অর্থ পাচারে নীরব ভূমিকা পালন করেছিল মাসুদ বিশ্বাসের বিএফআইইউ।

যেসব দেশে পাচার হয়েছে: বিএফআইইউ গত বছরের জানুয়ারিতে উচ্চ আদালতে অর্থ পাচার, উদ্ধার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ৪৯ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট দাখিল করে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে নেয়া বিশেষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া সামপ্রতিক সময়ে অনেকেই মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকং, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভারত, শ্রীলঙ্কা, কুয়েত, বেলজিয়াম, তাঞ্জানিয়ায় পাচারের তথ্য রয়েছে। এসব দেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সব মিলিয়ে ৫৯টি মামলার চার্জশিট হয়েছে।

জানা গেছে, ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বিভিন্ন দুর্নীতির ফাইল টেবিলের ড্রয়ারে আটকে রেখে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তারা। বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন বিএফআইইউ প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস। পাশাপাশি বিএফআইইউকেও ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়। এজন্য দীর্ঘ দিনে এ সংস্থায় কাজ করা ও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হয়। কিন্তু এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিএফআইইউ ডেপুটি হেড রফিকুল ইসলাম। তিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করতেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার পতনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে সাবেক মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিবিদ, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বিএফআইইউ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে টাকা পাচারের তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য সরকারের অন্য সংস্থাগুলো যে গতিতে কাজ করছে, তার ধারে কাছেও নেই বিএফআইইউ। তাদের মতে, যেখানে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় বিএফআইইউ প্রধান পদত্যাগ করেছে, সেখানে ডেপুটি হেড কীভাবে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থপাচারে মূল অভিযুক্তদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিশেষ করে এস আলমের ক্ষেত্রে একেবারেই রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে বিএফআইইউ।

এদিকে এসব বিষয় নিয়ে খোদ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারাও প্রশ্ন তুলেছেন। গত ২১শে আগস্ট বিএফআইইউতে অনুষ্ঠিত এক সভায় অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না; তা নিয়ে একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেন।

সূত্র জানিয়েছে, ওইদিন বিএফআইইউ’র ডেপুটি হেড রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন, এস আলম গ্রুপ, সামিট, নাসা গ্রুপ, ব্যাংক খাতের সমালোচিত চৌধুরী নাফিজ সরাফতসহ অনেকের অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য বিএফআইইউতে আছে। বিভিন্ন সময়ে এদের অনিয়ম নিয়ে সংবাদপত্রে রিপোর্ট হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এতদিন বলা হতো চাপের কারণে কিছু করা যাচ্ছে না। কিন্তু এখন তো আর সেই চাপ নেই। কিন্তু এখন কেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নাই? এমন প্রশ্ন তুললে বিএফআইইউ’র উপপ্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বেশি টাকা নাই। এস আলম গ্রুপ সব করেছে বেনামী অ্যাকাউন্টে। আমরা এখন তাদের বেনামী অ্যাকান্টগুলো খুঁজে বের করছি।
বিএফআইইউ’র একজন কর্মকর্তা বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য প্রথমে দেশের আদালতে প্রমাণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে অর্থ ফেরত আনতে তৎপরতা চালাতে হবে। আবার দেশের বাইরেও আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগসহ লেগে থাকতে হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এসব নিয়ে দাবি তুলতে হয়। তবে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, এ ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি দেখা যায়। যে কারণে অর্থ উদ্ধার কার্যকর হয় না। এখন একটি অরাজনৈতিক সরকার রয়েছে। ফলে তারা চাইলে উন্নতি সম্ভব।

বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, আইনে বিএফআইইউকে কাজের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তবে পরিবেশ অনুকূলে না থাকা, ঝুঁকি না নেয়া এবং ওপর থেকে বাধা আসায় এটি কাজ করতে পারেনি। বিএফআইইউ সক্রিয় থাকলে অনেক আর্থিক অপরাধ ঘটতো না বা রোধ করা যেতো।

নয়ন নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ব্যাংক থেকে সব টাকা তোলার পর অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হচ্ছে। বাহ! বাহ! বিষয়টা খুবই সুন্দর। তার মতো আরও অনেকেই বিএফআইইউ’র কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

mzamin

লেবাননে ৮ ইসরাইলি সেনা নিহত

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের আটজন সৈন্য মারা গেছে। এসময় আরও সাত জন সৈন্য আহত হওয়ার খবরও দিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, যে সব সৈন্য মারা গেছে তাদের মধ্যে তিনজন ইগোজ ইউনিটের। লেবাননে আক্রমণ শুরু করার পর ইসরাইলি সৈন্য মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম। লেবাননের হেজবুল্লাহ ইরানের একটি প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবে কাজ করে আসছিল।

ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো আক্রান্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে, হেজবুল্লাহর ভাণ্ডারে থাকা অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো প্রতিরোধের কাজে লাগানো যেতো।

কিন্তু, মার্কিন এবং ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে সশস্ত্র সংগঠনটির অর্ধেক অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব শেখ হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হয়েছেন, লেবাননে প্রবেশ করেছে ইসরাইলি সেনারা।

তবে, লেবাননে সম্মুখ যুদ্ধে ইসরাইলি সেনাদের প্রতিহত করার দাবি করছে হেজবুল্লাহ। বুধবার দুইবার মুখোমুখি লড়াই হয়েছে বলে জানায় তারা। সংগঠনটির বক্তব্য, এগুলো যুদ্ধের প্রথম পর্যায়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

নিহত ইসরায়েলি সেনারা। ছবি : সংগৃহীত
নিহত ইসরায়েলি সেনারা। ছবি : সংগৃহীত

mzamin

তিন দিন পর সচল আশুলিয়া মহাসড়ক

সাভারের আশুলিয়ায় সার্ভিস বেনিফিট ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত সোমবার থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত টানা ৫৪ ঘণ্টা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বার্ডস গ্রুপের শ্রমিকরা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে যৌথবাহিনীর আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিক্ষুব্ধ  শ্রমিকরা। এর আগে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দফায় দফায় অবরোধকারী শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কারখানা মালিককে আটক করে পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা রাস্তা ছেড়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। সোমবার সকাল ৯টার দিকে পাওনাদী পরিশোধের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকরা। এই অবরোধের কারণে পার্শ্ববর্তী বাইপাইল আব্দুল্লাহপুর সড়ক ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিলো। যানজটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বার্ডস গ্রুপের মালিককে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর সড়কটি যান চলাচল শুরু হয়েছে। অবরোধকারী শ্রমিকরা জানায়, আমরা টানা ৫৪ ঘণ্টা ধরে সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছি পাওনা পরিশোধের জন্য। কিন্তু কোনো পক্ষই আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি। বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয় বার্ডস গ্রুপের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যানজটের কারণে তাকে কারখানায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। রাস্তা ফাঁকা করতে হবে। এমন খবরে আমরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার লে-অফ করা বার্ডস গ্রুপের শ্রমিকদের সার্ভিস বেনেফিট ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার দিন ধার্য করা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ কোনো ধরনের পাওনাদী পরিশোধ না করে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি তিন মাস সময় চেয়ে কারখানার গেটে একটি নোটিশও সাঁটিয়ে দেন। সকল শ্রমিক পাওনাদী পাওয়ার আশায় সকালে কারখানায় গেলে নোটিশে আরও তিন মাস সময় চাওয়ার বিষয়টি দেখতে পায় শ্রমিকরা। এ সময় উত্তেজিত হয়ে সকল শ্রমিক নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বুড়িরবাজার রোড এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। অবরোধের টানা ৫৪ ঘণ্টা পর মালিককে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে সড়ক ছেড়ে দেয় শ্রমিকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্ডস গ্রুপের এক শ্রমিক বলেন, আমাদের চুক্তির দিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিশ্বাসযোগ্য লোকজন ছিলেন। কিন্তু সেই চুক্তিও ভঙ্গ করেছে মালিকপক্ষ। ফলে আমরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমাদের অনেক শ্রমিক চাকরি না পেয়ে গ্রামে চলে গিয়েছিলেন। তারা বকেয়া পাওনাদীর জন্য গ্রাম থেকে আশুলিয়ায় এসেছেন। কিন্তু এখানে থাকা খাওয়ার কোনো জায়গা না থাকায় আমরা গত দুইদিন খেয়ে না খেয়ে রাস্তায় অবস্থান করি। এদিকে টানা তিন দিন পর নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক, বাইপাইল, আব্দুল্লাহপুর সড়ক ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটে আটকে থাকা হাজার হাজার যানবাহন সীমিত আকারে চলাচল শুরু করেছে। বিকাল নাগাদ যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে? আসবে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক বিভাগ। সকালে বাইপাইল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অবরোধের কারণে পার্শ্ববর্তী বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে ৩ সড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক। এসব সড়কে বেশির ভাগই মালবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ব্যাংক ও স্বল্প সংখ্যক যাত্রীবাহী বাস রয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, চুক্তিমতো শ্রমিকদের বেতনের টাকা পরিশোধ করলেও ৩০শে সেপ্টেম্বর সার্ভিস বেনেফিটসহ ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে আরও তিন মাস সময় চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এদিকে শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ না করলেও শ্রমিক নেতাদের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা উৎকোচ হিসেবে প্রদান করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।   অবরোধকারী শ্রমিকরা আরও জানায়, কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের পাওনা পরিশোধের তারিখ দিয়ে সেই তারিখ আবার পরিবর্তন করে ৩ মাস সময় বর্ধিত করেছে। এরইমধ্যে মালিক পক্ষের লোকজন কারখানার বিভিন্ন মেশিনারিজ ও ঝুটসহ মূল্যবান মালামাল বিক্রি করে দিয়েছে। এখনো কোটি কোটি টাকার মেশিন ভেতরে রয়ে গেছে। সেখানে আমাদের পাওনা মাত্র ২৬ কোটি টাকা। আমাদের বেতন পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ দেয়ায় আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আশুলিয়ায় এসেছিলাম। এখানে আমাদের থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রোদে পুড়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে মহাসড়কেই অবস্থান করেছি। অনেকেই ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে এখানে এসেছি। শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, একজন লোকের জন্য আমরা ছয়-সাত হাজার শ্রমিক তিন দিন ধরে রাস্তায়। সড়ক অবরোধের কারণে গাড়ি বন্ধ থাকায় আটকে পড়া পরিবহনে থাকা কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা রাস্তা অবরোধ করে রাখতে চাই না। অবিলম্বে বার্ডস গ্রুপের মালিক মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে আমাদের পাওনা পরিশোধ করা হোক। ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহীনুর কবির বলেন, পুলিশ বিজিবি, র?্যাব ও সেনাবাহিনীর চেষ্টায় সড়কটিতে যান চলাচল শুরু হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ শুরু করছে। কিছু সংখ্যক কারখানা ব্যতীত সকল কারখার উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল। 
mzamin

দুই পুত্রকে নিয়ে লুটপাটের সাম্রাজ্য গড়েন মকবুল by রাজিউর রহমান রুমী ও মো. মনিরুজ্জামান ফারুক

পাবনা-৩ আসনের চার বারের সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেন। নিজ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। হামলা-মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে করেছিলেন নাস্তানাবুদ। অস্বস্তিকর পরিবেশে ফেলে দখল বাণিজ্য ও অনৈতিকভাবে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেন। তার এই অনৈতিক কাজের সহযোগী ছিলেন দুই পুত্র সাবেক ভাঙ্গুড়া পৌর ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হাসনাইন রাসেল এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইবনুল হাসান শাকিল। গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মকবুলের দুই পুত্র লাপাত্তা।

একসময় জাতীয় পার্টির নেতা ছিলেন মকবুল। সুযোগ বুঝে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। জাপা থেকে পরপর দু’বার উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। সুবিধাবাদী এই নেতা দল বদল করে এমপি হয়েই চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরে গড়ে তোলেন ত্রাসের রাজত্ব। এলাকায় কায়েম করেন নিজের আইন। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরে মানুষের কাছে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। জাতীয় নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, দোকান দখল ও বাড়ি ভাঙচুরসহ পুলিশ দিয়ে নানা হয়রানি করেন। নির্বাচন এলে তিন উপজেলায় তার আশীর্বাদপুষ্ট নেতারাই নির্বাচিত হতেন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ালে তাকে চরম মূল্য দিতে হতো।

সূত্র মতে, এক সময় বিদেশে শ্রমিকের কাজ করতেন এমপি পুত্র রাসেল। পরে নৌকার মনোনয়নে পিতা মকবুল হোসেন এমপি নির্বাচিত হলে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বনে যান তিনি। এরপর আর  পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পিতার আশীর্বাদে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন। এদিকে বড় ভাইয়ের এমন উত্থানে বসে থাকেনি ছোট ভাই শাকিল। তিনিও এক লাফে হয়ে যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সামনে পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার কথা ছিল তার।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৬ বছর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল রাসেল-শাকিল ও তাদের কিছু আত্মীয়স্বজন। তাদের ক্ষমতার দাপটে এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিল অসহায়। এমনকি নিজ দলের একটি অংশকে আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত করার মিশন চালায় তারা। আর বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে তাদের জেলে ভরার মূলহোতা ছিলেন তারা। তিনটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ ছাড়া পশুরহাট, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পৌর শহরের সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আদায় করতেন লাখ লাখ টাকা। দরবার-সালিশের নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের টাকা। আর তাদের এসব কাজের বুদ্ধিদাতা ও প্রধান সহযোগী হিসেবে সহযোগী কাজ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান আরিফ। সাইদুল ও আরিফ দু’জনেই এমপি মকবুলের আস্থাভাজন হওয়ায় কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন তারা।   আরিফ এখনো আত্মগোপনে থাকলেও সমপ্রতি এলাকায় ফিরেছেন সাইদুল ইসলাম। এমপি’র খুব আস্থাভাজন হওয়ায় তিনি স্থানীয় বিবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদে চাকরি বাগিয়ে নেন। এদিকে এমপিপুত্র রাসেল-শাকিল ও আওয়ামী লীগ নেতা আরিফসহ ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।
চরভাঙ্গুড়া গ্রামের আব্দুল আলীম ও ভবানীপুরের আবুল কাশেম জানান, তিন উপজেলার ঠিকাদারি কাজ থেকে শুরু করে দখল আর বিরোধীদের হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। এসব কাজের সহযোগী ছিলেন বিবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম এবং ভাঙ্গুড়া ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহসান আরিফ। ছাত্রলীগের পাশাপাশি আরিফ পৌরসভায় উচ্চমান সহকারী হিসেবেও চাকরি করেন। এই আরিফের মাধ্যমে ঠিকাদারি সহ সকল অপকর্ম করতেন এমপি মকবুল এবং তার ছেলেরা।  

চড় ভাঙ্গুড়ার আলতাফ হোসেন খান জানান, ভাঙ্গুড়া থানার সামনে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছেন এমপি ছেলের নামে ইবনুল অ্যান্ড বিশ্বাস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যাণ্ডের জায়গা দখল করে বানিয়েছেন দোকান। শরৎনগর বাজারে রেলের জায়গা দখল করে বানিয়েছেন মার্কেট। সেখানে শতাধিক দোকান পজিশন বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শরৎনগর বাজারে খাসজমি দখল করে নির্মাণ করেছিলেন বহুতল ভবন। যার এখন নির্মাণকাজ বন্ধ।

ভবানীপুর এলাকার জাহিদ হাসান জয় ও নৌবাড়িয়ার আঁখিরুজ্জামান মাসুম জানান, ভাঙ্গুড়া স্টেশন বাজারে মহিলা মাদ্রাসার জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলেন রাসেল শিশুপার্ক। যা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

চৌবাড়িয়া বাংলাদেশ জুট বেলিং করপোরেশনের জায়গা দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করে দিয়েছেন এই দখলবাজরা। সেখান থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। মকবুল ও তার ছেলেরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

mzamin

সিলেটে ওদের ঘিরে যে বিতর্ক by ওয়েছ খছরু

সিলেটকে বলা হয় রাজনৈতিক সম্প্রীতির শহর। স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে এখানে রাজনীতিতে সোহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান। কিন্তু ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপটের পর রাজনৈতিক সম্প্রীতিতে চিড় ধরেছে। এ নিয়ে বোদ্ধা মহলে তুমুল আলোচনা। কেন এমন হলো পরিস্থিতি- এ প্রশ্নের উত্তর নেই। রাজনীতিবিদদের মতে; এবার সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতি নষ্ট করে দিয়েছে ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতিক নেতারা। তাদের কারণেই ৫ই আগস্টের আগে সিলেটে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ‘গণহারে’ রাজনীতিকরা হয়েছেন মামলার আসামি। বাদ যাননি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনও। একদফা দাবিতে সিলেটে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় নগরীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হয়ে ক্যাডাররা সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। শুধু মহড়াই নয়, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা গুলিও ছুড়েছে। ‘ওয়ার্মআপ অপারেশন’ নামে ম্যাছাকার চালিয়েছে সম্প্রীতির এ নগরে। ২রা আগস্ট। সিলেটের মদিনা মার্কেট থেকে তেমুখী এলাকায় ছাত্র-জনতা ছিল বিস্ফোরণ্মুখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল গোটা এলাকা। নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সিআরটি টিম হিমশিম খাচ্ছিলো। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছেড়ে দিয়েছে ছাত্রলীগ। এই অবস্থায় পুলিশকে ‘ব্যাকআপ’ দিতে নামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। ওই এলাকা হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নগর সভাপতি আপ্তাব হোসেন খানের পার্শ্ববর্তী এলাকা। সাবেক যুবলীগ নেতা আব্দুল হান্নানেরও অবস্থান ওই এলাকায়। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডারদের নিয়ে আপ্তাব ও হান্নান মাঠে নামেন। ওই সময় তাদের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে থাকা পুলিশ যখন ক্লান্ত তখনই শিক্ষার্থীদের পিছু হটাতে তারা পুলিশের পাশ থেকে করে গুলিবর্ষণ। এতে ভয় পায় আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা। তারা তটস্থ হয়ে পড়ে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- সশস্ত্র ক্যাডারদের গুলিবর্ষণের মুখে তারা আখালিয়াস্থ সুরমা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অবস্থান নেয়। ৩রা আগস্ট একইভাবে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। সড়কে আন্দোলনে টিকতে না পেরে শিক্ষার্থীরা বাসা-বাড়িতে অবস্থান নেয়। তবে ওইদিন বিকাল থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সশস্ত্র ক্যাডাররা সুরমা আবাসিক এলাকার বাসা বাড়িতেও হানা দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মেস ও বাসা ছেড়ে নিরাপদে ছুটতে থাকে। সিলেট নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় আগস্টের প্রথম থেকেই ছাত্র-জনতা তীব্র আন্দোলনে নামে। দিন দিন আন্দোলনের মাত্রা তীব্র হতে থাকে। রাজপথে বেশি সংখ্যক ছাত্র-জনতার উপস্থিতি থাকার কারণে মোকাবিলায় থাকা পুলিশ দল হাঁপিয়ে উঠেছিলো। দফায় দফায় সংঘর্ষ করলেও বন্দরবাজার এলাকা ছাত্র-জনতা দখলে রাখে। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কগুলো মুক্ত করতে ৪ঠা আগস্ট রাজপথে আওয়ামী লীগের নেতাদের নেতৃত্বে নামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। ওইদিন নগরের কোর্ট পয়েন্টে ছাত্র-জনতা অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিলো। সকাল থেকে সেখানে ছাত্র-জনতার ব্যানারে অবস্থান নেন বিরোধী বলয়ের নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ অ্যাকশনে নেমে ছাত্র-জনতাকে সরিয়ে দেয়। এর পরপরই কোর্ট পয়েন্ট দখলে নেয় যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর হাতে এদিন আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ফ্রন্টলাইনে ছিলেন সিলেটের দুর্ধর্ষ ক্যাডার পীযূষ কান্তি দে ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নগরের পূর্ব অংশের আলোচিত নেতা। আর পীযূষ এর আগেও একাধিকবার অস্ত্রবাজির ঘটনায় সিলেটে আলোচনায় এসেছিলো। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন সাবেক কাউন্সিলর আপ্তাব হোসেন খান, আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে সশস্ত্র ক্যাডাররা। দুপুরের পরপরই তারা নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজারসহ আশপাশের এলাকায় অ্যাকশন শুরু করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন; সিলেটে রাজপথে এত আগ্নেয়াস্ত্র কখনোই প্রদর্শিত হয়নি। কারও হাতে স্নাইপার, কারও হাতে একে ফোরটি সেভেনের মতো মরণাস্ত্র ছিল। ওইদিন মূলত ছিল সিলেটে টিকে থাকার লড়াই। পুলিশ মাঠে ছিল না। এ কারণে সশস্ত্র অস্ত্রবাজরা রক্তের হুলি খেলায় মেতে ওঠে। আন্দোলনে থাকা কয়েকশ’ ছাত্র-জনতা আহত হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগী ভর্তি জায়গা ছিল না। ৪ঠা আগস্ট রাজপথে অস্ত্রবাজির কথা সিলেটের মানুষের মনে দাগ কেটেছে। আর এই অস্ত্রবাজির নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির আলোচিত চার নেতা। মূলত তাদের শেল্টারে থাকা অস্ত্রবাজরা এদিন সিলেটের সম্প্রীতিকে নষ্ট করে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক নেতারা। ফলে ছাত্র-জনতার বিজয়ের পর সিলেটের এসব নেতাদের বাসায় ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে। একবার নয়, একাধিকবার করে তাদের বাসা জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। চলছে যৌথ অভিযান। কিন্তু অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সিলেট জুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছাত্র-জনতা। বারবারই ঘুরে ফিরে আলোচিত হচ্ছে তাদের নাম। পুলিশ জানিয়েছে; গত সোমবার যৌথবাহিনীর একটি টিম নগরের পীরমহল্লা এলাকায় আপ্তাব হোসেন খানের বাসায় অভিযান চালিয়েছিলো। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র না পেলে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র পেয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আপ্তাব হোসেন খানকে একমাত্র আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা হয়েছে।
mzamin