Monday, February 23, 2026

অবৈধ ঘোষিত পাল্টা শুল্ক আদায় বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা

আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক আদায় মঙ্গলবার রাত থেকে বন্ধ করে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১২টা ১ মিনিট (ইএসটি) থেকে এই শুল্ক আদায় বন্ধ করা হবে। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট এই শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার তিন দিনের বেশি সময় পর সংস্থাটি এ সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

সংস্থাটি কার্গো সিস্টেম মেসেজিং সার্ভিসে (সিএসএমএস) জাহাজ ও আমদানিকারকদের জন্য পাঠানো বার্তায় জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের আইইইপিএ–সংক্রান্ত সব শুল্ক কোড নিষ্ক্রিয় করা হবে।

জরুরি আইনে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পরও থেমে যাননি ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর ট্রাম্প প্রথমে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ভিন্ন আইনে তিনি এই শুল্ক আরোপ করেছেন।

সিবিপি অবশ্য কারণ উল্লেখ করেনি, কেন তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক দিন পরও বন্দরে শুল্ক আদায় চালিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যে যে শুল্ক আদায় করা হয়েছে, তা আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা–ও জানায়নি সংস্থাটি।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই শুল্ক আদায় বন্ধের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের আরোপিত অন্যান্য শুল্কে প্রভাব ফেলবে না, যেমন ২৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা শুল্ক এবং ৩০১ ধারা অনুযায়ী অন্যায় বাণিজ্য শুল্ক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে বণিক সম্প্রদায়কে অতিরিক্ত নির্দেশিকা দেওয়া হবে।

রয়টার্স শুক্রবার জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কারণে আইইইপিএ শুল্ক থেকে আয় হওয়া প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন বা ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ফেরত দিতে হতে পারে। এক গবেষণা অনুযায়ী, আইইইপিএ থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সবচেয়ে বড় বিদেশি বোঝা: মার্কিন সাংবাদিক

পার্সটুডে- যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আমেরিকার ইসরায়েলপ্রীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ইসরায়েল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি বোঝা। মার্কিন টক শো উপস্থাপক টাকার কার্লসন সৌদি চ্যানেল 'রোতানা'-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বর্তমানে ওয়াশিংটনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ তেল আবিবের স্বার্থে ব্যয় হচ্ছে।

কার্লসন আরও বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে তেল আবিবের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে যাতে পশ্চিম এশিয়ায় আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার জন্য নিজেদের সম্পদ ব্যবহার করা হয়।

ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন নেতাদের আনুগত্যের সমালোচনা

কার্লসন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, যখন দেশটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জাতীয় ঐক্যের সংকট এবং অভিবাসন–সংকটে ভুগছে, তখন নেতাদের উচিত নেতানিয়াহুর আহ্বানের দিকে মনোযোগ না দিয়ে বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

তিনি সেদেশের এমন কিছু সিনেটরের সমালোচনা করেন যারা ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। এদের মধ্যে বিশেষভাবে টেড ক্রুজ ও লিন্ডসে গ্রামের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে।

কার্লসনের মতে, এসব রাজনীতিবিদ আমেরিকার জনগণের স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজ দেশের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

কার্লসনের এই মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিফলন বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি করছে এবং এ বিষয়ে মার্কিন রাজনীতিবিদদের জবাবদিহি করা উচিত।

টাকার কার্লসন
টাকার কার্লসন

অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের মৃত্যুদণ্ড নয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড নয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। কঠোর নিরাপত্তায় তাকে আদালতে হাজির করা হয় বৃহস্পতিবার। এ সময় পথে পথে, আদালতের বাইরে হাজার হাজার সমর্থক তার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক শাসন জারি করার মধ্য দিয়ে তিনি বিদ্রোহ করেছিলেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে এই মামলার রায় দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয় প্রসিকিউটররা ইয়োলের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক শাসন জারি করার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে তিনিই মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় না, তাই এমন রায় হলে তা কার্যত আজীবন কারাদণ্ডে পরিণত হবে বলে রিপোর্টে বলা হয়। ইয়ুন সুক ইয়োলের জারি করা সামরিক শাসনের আদেশ মাত্র ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। সরকার কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী নির্বাচনে তার দল পরাজিত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটি গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

ইয়ুন ইতিমধ্যেই ব্যর্থ সামরিক আইন জারির আরেক মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আজকের রায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিউলের একটি আদালত আজ স্থানীয় সময় বিকেলে ৩টায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিদ্রোহ মামলার দেয়া শুরু হবে। শেষে রায় ঘোষণা করবে। এই রায় দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ অবস্থায় সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বাইরে ডজনখানেক পুলিশ বাস দিয়ে নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি মূলত শান্ত থাকলেও ইয়ুন-সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ছোটখাটো ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া গেছে। ইয়ুন সমর্থকরা আদালতকে আজ ‘অভিযোগ খারিজ’ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বিদ্রোহের নেতা ইয়ুনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবি তুলেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ফৌজদারি আইনে বিদ্রোহ বলতে বোঝায়, সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় অঙ্গকে উৎখাত করা বা তাদের কার্যক্রম বলপ্রয়োগে অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত দাঙ্গা বা সহিংস কর্মকাণ্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত ফৌজদারি মামলায় দায়মুক্ত থাকেন। তবে বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য নয়।

এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত

সিউল সংবাদদাতা জেক কোয়নের মতে, আজকের রায় দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এক বিশাল ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ইয়ুন ইতিমধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামরিক আইন জারির অপচেষ্টার দায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। তবে বিদ্রোহের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর। প্রসিকিউটরদের মতে, কঠোর শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে কেউ সামরিক শাসন জারির মতো পদক্ষেপ নেয়ার সাহস পেতে পারে। ইয়ুনকে সেই একই আদালতকক্ষে রায় শোনানো হবে, যেখানে প্রায় ৩০ বছর আগে সাবেক সামরিক শাসক চুন ডু-হওয়ান’কে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরে তাকে দুই বছর কারাভোগের পর ক্ষমা করা হয়।

বিভক্ত দেশ

ইয়ুনের সামরিক আইন জারি মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। কিন্তু তা দেশকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে। নেতৃত্বের শূন্যতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ এখনো কাটেনি। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ২০-৩০ ভাগ ভোটার মনে করেন ইয়ুন বিদ্রোহে দোষী নন। ফলে রায় যা-ই হোক না কেন, দেশকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের মৃত্যুদণ্ড নয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে

প্রকাশ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর আলোচনায় এসেছে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তাঁর স্ত্রী অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশার নাম। এক বছরের ব্যবধানে যেখানে ফারুকীর মোট সম্পদ কমেছে, সেখানে তিশার সম্পদ বেড়েছে দেড় কোটি টাকার বেশি।

প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সম্পদ বিবরণী গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের স্ত্রী অথবা স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী প্রায় আট মাসের হিসাব এখানে দেওয়া হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। প্রজ্ঞাপন মতে, এক বছরে তিশার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা।

অন্যদিকে একই সময়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তাঁর মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে ফারুকীর সম্পদের পরিমাণ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও নুসরাত ইমরোজ তিশা
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও নুসরাত ইমরোজ তিশা। ফেসবুক