Wednesday, January 19, 2011

বিপর্যয় ঠেকাতে চাই ধৈর্য ও বিচক্ষণতা by ফারুক মঈনউদ্দীন

আমাদের শেয়ারবাজারের হালচাল নিয়ে আশঙ্কা করতে করতেই একটা মহাধস পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল হঠাৎ। বিনিয়োগকারীদের বেপরোয়া আচরণ এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে নতুন নতুন বিনিয়োগকারীর বাজারে প্রবেশ পুরো ২০১০ সালকে করে রেখেছিল চাঙা। কিন্তু একই সঙ্গে বাজার বিশ্লেষকদের সাবধানবাণী উচ্চারণ এবং আশঙ্কাও বাড়ছিল। কারণ, বাজারের হালচাল, শেয়ারের মূল্যায়ন—সবকিছু মিলিয়ে বাজারকে খুব স্বাস্থ্যবান মনে হচ্ছিল না। গত শতাব্দীর বিশের দশকের শেষে (১৯২৯) আমেরিকার শেয়ারবাজারে যে বিশাল ধস নেমেছিল, তার আগে সেখানেও দেখা গিয়েছিল ঠিক এ রকম নব্য বিনিয়োগকারীর ভিড় এবং এর ফলে শেয়ারের অতিমূল্যায়ন। সেই দশকের বেশ কিছু প্রযুক্তিসফল আবিষ্কার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল বলে অর্থনীতিতে ছিল স্বাভাবিক তেজি ভাব। এর প্রভাব পড়েছিল শেয়ারবাজারেও। আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা শেয়ারে বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করতে অভ্যস্ত নন। হয়তো আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার একটা প্রবণতা থেকে বিনিয়োগকারীরা অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করে, শুধু গুজবের ওপর ভিত্তি করে স্বল্পমেয়াদি লাভের পেছনে ছুটতে গিয়ে পুরো বাজারকে করে তোলেন অস্থিতিশীল। কিন্তু ইতিহাস বলে, সে সময় আমেরিকার বিনিয়োগকারীরাও বাজারকে আর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছিলেন না। শেয়ারে বিনিয়োগ মানেই অবশ্যম্ভাবী দ্রুত অর্থশালী হওয়া—এটাই ছিল বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীর ধারণা। এখন যেমন সর্বত্র শেয়ারবাজারের আলোচনা শোনা যায়, সে সময় আমেরিকায়ও ঠিক তা-ই ঘটছিল। বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ কেউ কেউ হঠাৎ শেয়ারবাজার থেকে বিপুল লাভ ঘরে তুলে আনলে সংবাদপত্রগুলো ফলাও করে সেসব ছাপছিল, ফলে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে একধরনের উন্মাদনা পরিলক্ষিত হয়।
শেয়ারবাজারের একটা মূলনীতি হচ্ছে, ঋণের কিংবা নিত্যব্যবহারের অর্থ শেয়ারে লগ্নি না করা। শেয়ারে খাটানো উচিত সেই সঞ্চয়, যার কোনো ব্যবহার নিকট ভবিষ্যতে নেই। আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা যে রকম জুয়া খেলার মতো নিজের জীবন বাজি ধরে প্রায় সর্বস্ব বিনিয়োগ করে বসে থাকেন, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ, এমনকি অন্য ব্যবসার জন্য নেওয়া ব্যাংকঋণও নীতিবহির্ভূতভাবে দ্রুত লাভের হাতছানিতে শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকেন। ১৯২০ সালের শেষ ভাগে আমেরিকাতেও বিনিয়োগকারীরা এমনকি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছিলেন। কোনো কোনো ব্যাংক আমানতকারীদের না জানিয়েই তাঁদের টাকা শেয়ারবাজারে খাটিয়ে রেখেছিল।
১৯২৯ সালে কালো মঙ্গলবারই (২৯ অক্টোবর) যে কেবল ধস নেমে এসেছিল তা নয়, এটার বেশ কিছু আগাম সংকেত যে পাওয়া যায়নি, তা নয়। সে বছরের মার্চ মাসে একটা ধস নেমেছিল, সেটা হূদেরাগের মাইল্ড অ্যাটাকের মতো বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাসও দিয়ে গিয়েছিল। ব্রোকারেজ হাউস আর মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সে সময় তাদের দেওয়া মার্জিন লোন ফেরত দেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের নোটিশ দিলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দু-একটি ব্যাংক সে পরিস্থিতিতে লোন দেওয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে, বাজার আবার স্থিতিশীল হয়। তবে ঠিক এই কৌশল অক্টোবর মাসের মহাধসের সময় আবার প্রয়োগ করা হলেও তা কাজে আসেনি।
সেদিন বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্রুততম এবং বৃহত্তম ধসের পর বাজারকে অনেকটা কৃত্রিম উপায়ে চাঙা করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেগুলো হয়তো কিছুদিন আগেও নিষেধ করা হয়েছিল। ১৯২৯ সালের অক্টোবরেও ঠিক তেমনটিই করা হয়েছিল মহাধসের কয়েক দিন আগে। বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন দরপতন ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে শেয়ার কেনার জন্য নির্দেশ দিয়েছে, সেদিন আমেরিকাতেও বিক্রির চাপ বেড়ে গেলে কয়েকটি ব্যাংক তাদের নিজেদের বিপুল তহবিল খাটিয়ে শেয়ার কিনতে শুরু করে, ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে, চাপ কমে যায় বিক্রির। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। অক্টোবরের ২৯ তারিখ, কালো মঙ্গলবার স্টক মার্কেটের ইতিহাসের এক দুঃস্বপ্নের দিন। শেয়ার বিক্রির চাপের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিল না টিকার (স্টক মার্কেটের বাজারমূল্য মুদ্রিত করার জন্য টেলিপ্রিন্টারের একধরনের ফিতা), সাধারণত এটি বাজারের কেনাবেচার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। বাজারে ক্রেতা নেই, শুধু বিক্রেতা—আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা বিষাক্ত বস্তুর মতো হাতে থাকা শেয়ার ছুড়ে ফেলে দিয়ে কমাতে চাইছিলেন ক্ষতির পরিমাণ। ব্যাংকগুলো যেখানে বিনিয়োগকারীদের পড়তি বাজারে শেয়ার কেনার জন্য উৎসাহ জোগাচ্ছিলেন, সেখানে উল্টো গুজব রটে যে তারাও শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে যা হওয়ার তা-ই ঘটে। গুজব এবং আতঙ্ক—দুটোই শেয়ারবাজারের জন্য ক্ষতিকর হলেও এ দুটোরই কবলে পড়েন পুরো দেশের বিনিয়োগকারীরা। সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া কমপক্ষে ১১ জন বিনিয়োগকারী এক দিনেই ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন সুউচ্চ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়।
শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ, অসহিষ্ণু বিনিয়োগকারীদের ইচ্ছা বা চাহিদা অনুযায়ী, বাজার কেবল বেড়ে যেতে পারে না। অবশ্য কোনো কোনো অর্থনীতিবিদের মতে, পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে এ রকম উত্থান ও মন্দার একটা চক্র আছে এবং ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে এটা ঘটতেই থাকবে নির্দিষ্ট সময় পরপর। কথাটা হয়তো একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। শেয়ারবাজার শুধু নয়, অর্থনীতিতেও এই উত্থান-পতনের কালচক্র আবর্তিত হতে দেখা যায়, যার কোনোটা দৃষ্টিগ্রাহ্য হওয়ার মতো বিধ্বংসী, আবার কোনোটা নীরব।
বস্তুত বাজারের ধস দুভাবে আসতে পারে। একটি হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী অথচ বিধ্বংসী, যার সূত্রপাত ঘটে কোনো আকস্মিক বিপর্যয়, দুর্ঘটনা কিংবা নিছক গুজবসৃষ্ট আতঙ্ক থেকে। এ জাতীয় ধস ক্ষণস্থায়ী বলে কম ক্ষতিকারক। বিনিয়োগকারীরা বিচক্ষণতা, ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিলে সহজেই কাটিয়ে ওঠা যায় এগুলোকে। এ জাতীয় আকস্মিক ধসকে কেউ কেউ বাজার সংশোধন বলেও আখ্যায়িত করে থাকেন।
তবে ভয়াবহ হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী পতন। এ রকম ক্ষেত্রে দরপতনের গতিটা হয়তো দৃশ্যমান হয় না, মাঝেমধ্যে কিছুটা চাঙা ভাবও দেখা যায়, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে চোরাবালির মতো বিনিয়োগকারীর পায়ের নিচ থেকে সরিয়ে নেয় মাটি। এ রকম ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য কিংবা বিচক্ষণতা খুব বেশি একটা সাহায্য করতে পারে না। গত শতাব্দীতে এ রকম কিছু দীর্ঘস্থায়ী পতনের বিবরণ হয়তো বাজারের ইতিহাসে লেখা নেই, কিন্তু এতে নীরবে পুঁজি হারিয়েছিলেন বহু বিনিয়োগকারী। ১৯২৯ সালের কালো মঙ্গলবারের পর থেকে আমেরিকায় শোনা যাচ্ছিল মহামন্দার পদধ্বনি। সেই মহামন্দা যদিও চল্লিশের দশকে আমেরিকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত কাটেনি, শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী দরপতনের ঘটনাটা ঘটেছিল ১৯৩০-এর প্রথম দিক থেকে শুরু হয়ে পুরো ১৯৩১-১৯৩২ সালের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে। এই দীর্ঘ সময়, দুই বছরেরও বেশি সময়ে শেয়ারের অবমূল্যায়ন ঘটে ৮৬ শতাংশ, অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বরে ১০০ ডলারের শেয়ারের দাম ১৯৩২ সালের আগস্টে এসে দাঁড়ায় ১১ ডলারেরও কমে। এরপর বিভিন্ন সময়ে আমেরিকার শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদি দরপতন প্রত্যক্ষ করেছে, সেগুলোর কারণও ছিল বহুবিধ। ১৯৩৯ থেকে ’৪২ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, জাপান কর্তৃক পার্ল হারবার আক্রমণ, ১৯৭৩-৭৪ সালে পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, প্রেসিডেন্ট নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি আর ২০০০-০২ সময়ে ডটকম বুদ্বুুদের বিস্ফোরণ, টুইন টাওয়ার ধ্বংস—এ জাতীয় বিভিন্ন কারণে বারবার পুঁজি ক্ষয় করেছেন বহু বিনিয়োগকারী সরবে বা নীরবে।
দরপতনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে খুব কম সময়ই একটিমাত্র কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। সাধারণত ফাটকা বাজারির উদ্দেশ্যে যেসব বিনিয়োগকারী স্বল্প মেয়াদে বাজি ধরার মতো বিনিয়োগ করেন, তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য হয় ডিমের খোসার মতো পাতলা ও ভঙ্গুর, ফলে সামান্যতম ঘটনা এবং গুজব থেকে জন্ম নেয় আতঙ্কের।
তবে দরপতনের কিছু সাধারণ কারণ সব সময় একই রকম প্রভাব বিস্তার করে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে অতিমূল্যায়িত শেয়ার কেনা। একটা অতিচাঙা বাজারে বিনিয়োগকারীরা পূর্বাপর বিবেচনা না করে যেকোনো মূল্যে যখন কিনতে থাকেন, তখনই সৃষ্টি হয় একটা অবশ্যম্ভাবী পতনের কারণ। অনেক সময় গুজব, ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডও শেয়ারবাজারকে উসকে দেয়, যার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে একটা ভয়াবহ পতন। আমাদের দেশের বাজার নিকট অতীতে, ১৯৯৬ সালে ঠিক এমনটিই প্রত্যক্ষ করেছিল। মানুষের হাতে শেয়ার কেনার জন্য যথেষ্ট সঞ্চয় না থাকলে শেয়ারবাজার চাঙা থাকে না। তবে এর বিকল্প পন্থা হিসেবে মার্জিন ঋণের বিপরীতে শেয়ার কেনার টাকা যখন সহজলভ্য হয়, তখন মানুষ মূল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিবেচ্য বিষয়গুলো উপেক্ষা করে ক্রমাগত কিনতে থাকে, এতেও শেয়ারের চাহিদা বেড়ে গিয়ে বাজার অপ্রয়োজনীয় রকম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সে কারণে ১৯২০-৩০-এর দশকে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি কঠোর করেছিল, যাতে সহজলভ্য ঋণের টাকায় শেয়ারবাজার অতিমূল্যায়িত হয়ে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। একই উদ্দেশ্যে সে সময় ব্রোকার হাউসগুলোকে দেওয়া ব্যাংকঋণের সুদের হারও বাড়ানো হয়েছিল। বাংলাদেশেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তেজি বাজারকে শান্ত করার একটা প্রয়াস কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়েছিল। কিন্তু অনেক সমালোচনার মুখে (হয়তো সাময়িকভাবে) সে অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে আমাদের। ১৯২৯ সালের মহাধসের পর আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও এ রকম সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সে কারণে ধসের পর থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ক্রমেই সুদের হার কমিয়ে আনতে হয়েছিল প্রায় ২ শতাংশ, আর এর ফলে বাজারে অর্থ সরবরাহ বেড়ে যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্টক ব্রোকার এবং ডিলারদের আবারও ঋণ দেওয়া শুরু করে। বলা হয়, ১৯২৯ সালের মহাধসের পর প্রায় চার হাজার ব্যাংকে লালবাতি জ্বলে এবং এর মূল কারণ ব্যাংকগুলোর হাতে আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থের অভাব। সে কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের মধ্যে সুস্পষ্ট ভেদরেখা থাকা উচিত, আমেরিকান সরকার সে সময়ই এই মর্মে আইন প্রণয়ন করেছিল।
ওপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায় যে, জীবনের সর্বস্ব বাজি ধরে, নিত্যব্যবহার্য মূলধন দিয়ে অতিমূল্যায়িত বাজার থেকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের শেয়ার না কিনলে, কোনো সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা দেখাতে পারেন ধৈর্য ও বিচক্ষণতা, ফলে বাজারে দরপতনের আভাস দেখলেও আতঙ্কিত হয়ে বিক্রি করে দিয়ে পতনশীল বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করার প্রবণতা থেকে বিরত থাকা যায়। কারণ, একটি স্থিতিশীল বাজার বজায় রাখার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর যেমন রয়েছে দায়িত্ব, তেমনি বিনিয়োগকারীদের আচরণেও থাকতে হবে দক্ষতা ও পরিপক্বতার ছাপ। তা হয়তো আমরা ভবিষ্যতের যেকোনো সংকটের সময় দেখতে পাব।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার।
ই-মেইল: fmainuddin@hotmail.com

যানজট কমাতে স্কুলবাস - উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে

গত রোববার থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিআরটিসির তত্ত্বাবধানে রাজধানীর রাস্তায় নেমেছে স্কুলবাস। শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে মিরপুর-আজিমপুর রুটে ১৪টি বাস নিয়ে শুরু হয়েছে এই বিশেষ সেবা। জনবহুল এই মহানগরে স্কুলকেন্দ্রিক যানজটের দুঃসহ অভিজ্ঞতা কমবেশি সব নাগরিকেরই আছে। কার্যকরভাবে স্কুলবাস চালু রাখা গেলে যানজট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগও কমবে। সেই বিবেচনায় স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ। আমরা একে স্বাগত জানাই।
রাজধানীর শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ নিজস্ব গাড়িতে, কেউ ভাড়া বাসে, কেউ বা স্কুলের মাইক্রোবাস বা ভ্যানগাড়িতে কিংবা রিকশায় বা হেঁটে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। এতে যেমন যানজট বাড়ে, তেমনই শিক্ষার্থী-অভিভাবকের যাত্রাও হয় ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুলবাস চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সাধারণ বাসে চড়ার ঝক্কি-ঝামেলা লাঘব হবে। অভিভাবকদেরও দুশ্চিন্তা কমবে। চলাচল সহজ হবে।
তবে এই সেবা সফল করতে হলে সুশৃঙ্খলভাবে, সময়মতো ও নিরাপদে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া আবশ্যক। উদ্যোগটির সফলতাও এর ওপর নির্ভরশীল। স্কুলবাস চালুর প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বিশেষ সুখকর হয়নি। অনেকে স্বস্তি নিয়ে আসা-যাওয়া করতে পারলেও ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা-যাওয়া করা শিক্ষার্থীদের স্কুলবাস ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। সময়মতো স্কুলে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে না দিতে পারলে এই বিশেষ সেবার সুফল পাওয়া যাবে না।
ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকেরা তাঁদের সন্তানদের বাসে পাঠাতে চান না। কারণ সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের এই সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা না গেলে স্কুলকেন্দ্রিক যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। সেবার মানের ব্যাপারে যে সংশয় আছে, তা দূর করা গেলে ধীরে ধীরে সেসব অভিভাবকের মানসিকতা বদলাবে। অভিভাবকদেরও ভেবে দেখা উচিত, শিক্ষার্থীরা এ ধরনের সেবা ব্যবহার করলে তা তাদের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতিও গড়ে উঠবে, স্বাধীন ব্যক্তিত্ব বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্ব-উদ্যোগে নিজস্ব শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সেবা চালু করলে তাতে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া উচিত। রাজধানীর অন্যান্য রুটেও শিগগিরই স্কুলবাস চালু করা দরকার। কেননা একটি রুটে স্কুলবাস চালু করে যানজট কমানো যাবে না।
নগর পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার জন্য অতীতে নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। কিন্তু সেগুলো কিছুদিন পরই মুখ থুবড়ে পড়ে। স্কুলবাসের ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটতে দেওয়া যাবে না। এর কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

ভাড়াটে সন্ত্রাসী - যারা তাদের ব্যবহার করে, তাদেরও পাকড়াও করুন

সব দোষ ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে একমত। গত সোমবারের প্রথম আলোর খবর: গত ছয় মাসে এক হাজারেরও বেশি খুন-ডাকাতির আসামি ছাড়া পেয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে অনেক মামলা। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে এসব কারণ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কোন অদৃশ্য হাত সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে, কারা তাদের জামিনের ব্যবস্থা করে, কাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রেহাই পায়? অপরাধীরা আসলে কাদের কাদের স্বার্থে ভাড়া খাটে? এসব খুঁজে বের করতে হবে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধান বলছে, চলমান পৌরসভা নির্বাচন এবং আসন্ন ইউপি ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাজে লাগানোর জন্য মুখচেনা অপরাধীদের কারাগার থেকে বের করে আনার রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, একশ্রেণীর অপরাধী রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘নেতা’ সেজে বসেছে এবং তাদের অধীনে কাজ করছে আরেক দল সন্ত্রাসী। ব্যবসা-বাণিজ্যের আধিপত্য নিয়েও সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, সেখানেও সন্ত্রাসীদের ভাড়া খাটানো হয়ে থাকে। দৃশ্যত, সন্ত্রাসীদের হাতে অপরাধ ঘটলেও, তারা যাদের হয়ে কাজ করে, তারা আড়ালেই থেকে যায়। পুলিশ বেশি বড় জোর এসব ভাড়াটে অপরাধীকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে পারে। কিন্তু তাদের পৃষ্ঠপোষকেরা আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেলে, কিংবা আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের রক্ষা করে গেলে অপরাধের উৎসগুলো টিকেই থাকে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সেই উৎস পর্যন্ত যেতে পারে না। খুব কম ক্ষেত্রেই যাদের নির্দেশ, পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থে অপরাধ সংঘটিত হয়, তারা শাস্তি পায়। এই ‘তারা’ যখন রাজনৈতিক দলের অংশ, তখন রাজনীতির কর্ণধারদেরও দায় রয়ে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা পুলিশ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে অপরাধের এই প্রকৃত কারণটি না আসা দুঃখজনক। সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষের আগা কেটে গোড়ায় পানি ঢাললে অপরাধ কোনো দিনও কমবে না।
এ মাসের প্রথম ১৫ দিনে রাজধানীতে যে ২২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, এর বেশির ভাগই ঘটেছে রাজনীতি, স্বার্থ ও সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের হিসেবে। কোনো ব্যক্তিগত পরিসরে তথা হোটেলে, ঘরের ভেতর কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, কিংবা পরিকল্পনা করা হচ্ছে কোনো গুরুতর অপরাধের, তা পুলিশের পক্ষে কি আগাম জানা সম্ভব? সম্ভব তা ঠেকানো? একমাত্র তখনই এসবের বেশির ভাগ ঠেকানো সম্ভব, যখন অপরাধী চক্র সম্পর্কে, অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক সম্পর্কে পুলিশের স্পষ্ট ধারণা থাকে এবং সমস্যার গোড়ায় হাত দেওয়ার সদিচ্ছা ও স্বাধীনতা তারা অর্জন করে। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত ও রাজনীতিতাড়িত পুলিশ সদস্যদের পক্ষে সম্ভব নয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সরকার তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যতক্ষণ না অপরাধের হোতাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে, ততক্ষণ বাঁদরের তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ওঠার কাহিনির মতোই জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তার সূচক কেবল ওঠানামা করবে, স্থায়ী শান্তি আসবে না।

আমরা কি ব্যাঙের ভূমিকা নিতে যাচ্ছি? by আনিসুল হক

স্বর্ণকেশী বা স্বর্ণকেশিনীদের নিয়ে অনেক কৌতুক পশ্চিমে প্রচলিত আছে। এসব কৌতুকের একটাই বিষয়, প্রমাণ করার চেষ্টা যে, এদের মাথায় বুদ্ধি কম।
যেমন একজন স্বর্ণকেশিনী ইলেকট্রনিকসের দোকানে ঢুকে বলল, ওই টেলিভিশনটার দাম কত?
দোকানি উত্তর দিল, আমরা স্বর্ণকেশিনীর কাছে জিনিস বেচি না।
স্বর্ণকেশিনী দোকান থেকে বেরিয়ে সোজা গেল একটা বিউটি পারলারে। নিজের চুলের রং কালো কুচকুচে করল। চেহারারও পরিবর্তন ঘটাল। এমনকি পোশাকও পাল্টে ফেলল। না, এবার তাকে চেনাই যাচ্ছে না। সে ফিরে এল সেই দোকানে। বলল, ওই টেলিভিশনটার দাম কত?
দোকানি নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, আমরা কোনো স্বর্ণকেশিনীর কাছে জিনিস বেচি না।
স্বর্ণকেশিনী বিস্মিত। দোকানি বুঝল কী করে যে সে স্বর্ণকেশিনী! সে আবার বাইরে গেল। এবার সে এল একটা বোরকা পরে। গলার স্বর বদলে সে বলল, এই টেলিভিশনটার দাম কত?
দোকানির একটাই জবাব, স্বর্ণকেশিনীর কাছে আমরা কোনো কিছু বিক্রি করি না।
মেয়েটি তার মুখের ঢাকনা সরিয়ে বলল, আচ্ছা, বলুন তো, আপনি কী করে বুঝছেন যে আমি একজন সোনালি চুলের মেয়ে?
দোকানি অন্যমনস্কভাবে জবাব দিল, একমাত্র স্বর্ণকেশিনীরাই মাইক্রোওয়েভ ওভেনকে টেলিভিশন বলে থাকে।
একজন স্বর্ণকেশিনী গাড়ি চালাচ্ছে। তার গাড়ি গিয়ে ধাক্কা দিল একটা ট্রাককে। ট্রাকচালক খুব খেপে গেল।
ট্রাক থেকে নেমে সে স্বর্ণকেশিনীকে বলল, গাড়ি থেকে নামুন।
স্বর্ণকেশিনী এই আজ্ঞা পালন করল।
ট্রাকচালক চক দিয়ে একটা বৃত্ত আঁকল রাস্তায়। তারপর সোনালিচুলোকে বলল, তুমি এই বৃত্তের মধ্যে থাকবে। একদম নড়তে পারবে না।
তারপর ক্ষিপ্ত ট্রাকচালক মেয়েটির গাড়ির সামনের কাচ দিল ভেঙে।
মেয়েটি খিলখিল করে হাসতে লাগল।
ট্রাকচালক মেয়েটির গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে দিল। মেয়েটি হেসে উঠল আবারও। বিস্মিত ট্রাকচালক বলল, আপনি হাসছেন কেন?
স্বর্ণকেশিনী জবাব দিল, আপনি যখন আমার গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন, এই ফাঁকে আমি আপনার আঁকা বৃত্ত থেকে দুবার বাইরে বেরিয়েছিলাম। আপনি টেরও পাননি।
সম্মানিত পাঠক, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ব্লন্ড বা সোনালিচুলোদের বোকামি নিয়ে কী রকম নিষ্ঠুর রসিকতাই না চালু আছে।
একবার একটা রেস্তোরাঁয় একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ঘোষণা করল, আমি কি স্বর্ণকেশিনীদের নিয়ে একটা কৌতুক বলতে পারি।
তখন রেস্তোরাঁর একজন বেয়ারা বলল, শোনো। কৌতুকটা বলার আগে তোমার একটা তথ্য জানা উচিত। আমি এই রেস্তোরাঁর বেয়ারা, আমার চুল সোনালি, আমি একজন মুষ্টিযোদ্ধা, আমার ম্যানেজার তিনিও সোনালিচুলো, তিনি একজন কুস্তিগীর, আর দুজন খদ্দের উপস্থিত আছেন এখানে, এঁরা দুজনও সোনালি চুলের, একজন হকি খেলোয়াড়, তাঁর হকিস্টিকটা তাঁর হাতে আছে, আরেকজন শ্যুটার, তাঁর হাতে আছে পিস্তল। এবার তুমি চিন্তা করে দেখো, তুমি এখানে ব্লন্ড জোকস বলবে কি না।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী খদ্দেরটি তখন বলল, না, আমি কোনো কৌতুকই বলব না। আমার পক্ষে একই কৌতুক পাঁচবার পাঁচজনকে বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়।
আমি এতক্ষণ ধরে যে ভূমিকাটি পাড়ছি, তা-ও এই কথা বলার জন্য যে, আমি এই কলামে নানা কৌতুক পরিবেশন করে থাকি কোনো বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য থাকলে তা গল্পের ছলে পেশ করার জন্য। আশা করি, আমার পাঠকেরা স্বর্ণকেশী বা স্বর্ণকেশিনী নন।
এইবার যে একটিমাত্র কৌতুক বলার জন্য আমি এত বড় ভূমিকা পাড়লাম, সেটা বলি।
একটা পানশালা। একজন খদ্দের এল সেই রেস্তোরাঁয়। বেয়ারাকে বলল, তোমাকে একটা জাদু দেখাব। যদি তোমার ভালো লাগে, আমাকে একটা পানীয় দিয়ো বিনি পয়সায়।
আচ্ছা, আগে জাদুটা দেখি।
খদ্দেরটি তার পকেট থেকে একটা ছোট্ট ইঁদুর বের করল। আরেক পকেট থেকে বের করল একটা ছোট আকারের পিয়ানো। ইঁদুরটিকে সে পিয়ানোর ওপরে ছেড়ে দিল। ইঁদুরটি পিয়ানোর কি-বোর্ডের ওপরে লাফিয়ে লাফিয়ে একটা গান বাজাতে লাগল।
বেয়ারা বলল, ঠিক আছে, আমি আপনাকে এক গেলাস পানীয় বিনি পয়সায় দিচ্ছি।
সেই গেলাস খালি করে খদ্দের বলল, আমি আরেকটা জাদু দেখাই। এটা ভালো লাগলে তুমি আমাকে আরেক গেলাস পানীয় দিয়ো।
আচ্ছা, দেখান।
এবার ওই ইঁদুর আর পিয়ানোর সঙ্গে খদ্দেরটি বের করল একটা ছোট্ট ব্যাঙ। ইঁদুর পিয়ানো বাজানো শুরু করল, আর তার সঙ্গে ব্যাঙটি গান গাইতে শুরু করল।
এর মধ্যে আরেকজন খদ্দের ব্যাপারটা লক্ষ করে এগিয়ে এল। সে বলল, আপনি আপনার এই ইঁদুরটাকে বিক্রি করবেন?
জাদুকর বলল, না। ওটা বিক্রির জন্য নয়।
তাহলে ব্যাঙটাকে বিক্রি করবেন?
হ্যাঁ, যদি ভালো দাম পাওয়া যায়।
এক লাখ টাকা?
না, এত কম দামে বিক্রি করব না।
পাঁচ লাখ টাকা?
না, হবে না।
১০ লাখ?
আচ্ছা নিন।
১০ লাখ টাকা নগদ গুনে নিয়ে জাদুকর ব্যাঙটা তুলে দিল ক্রেতার হাতে। ক্রেতা চলে গেলে বেয়ারা বলল, এত সস্তায় কেন এ রকম একটা ব্যাঙ বিক্রি করে দিলেন। এটা এক কোটি টাকায় কেনার লোকও এই শহরে ছিল।
জাদুকর বলল, আরে ভাই, আসলে গান করে ইঁদুরটি। ওই ব্যাঙটা শুধু হাঁ করে শ্বাস নেয়। তাই মনে হয় ব্যাঙটা গান গাইছে।
ইঁদুরটা গান গাইছে, এটা বোঝা যায় না তো।
ইঁদুরটা হলো ভেন্ট্রিলকিস্ট। এর মানে হচ্ছে, ইঁদুরটা ঠোঁট না নড়িয়ে কথা বলতে পারে। তাই সে যখন গান করে, মনে হয়, পাশের কেউ গান করছে।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে বাংলাদেশে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বাইরে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে বলে শুনছি। সেখানে নাকি মুম্বাই থেকে বলিউডের তারকারা এসে নাচগান করবেন। আমাদের ভূমিকা কী হবে? আমরা কি ব্যাঙের মতো বলিউডি তারকাদের গানের সঙ্গে মুখ নাড়ব। ওই ব্যাঙের যে কোনো দাম নাই, এই কথা কিন্তু একজন ব্লন্ডও বুঝবে। আমাদের কর্তাব্যক্তিদের বুদ্ধি-বিবেচনা আশা করি তার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের শিল্পীদের কি শ্রীলঙ্কায় আর ভারতে গিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হবে?
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অলিম্পিক গেমস বা বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হওয়ার জন্য কী প্রাণান্ত চেষ্টাই না করে থাকে। কারণ, এ ধরনের আয়োজন সেই দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে, অর্থনীতির চেহারা পাল্টে দেয়। সারা পৃথিবীর কাছে নিজেদের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলো তুলে ধরার এই সুযোগ কেউই ছাড়তে চায় না। ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজক দেশ আর বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দেশ হওয়ার এই বিরল সুযোগটা পেয়ে আমরা কি একটা ব্যাঙের ভূমিকা নিতে যাচ্ছি?
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

একজন মা ও একটি সরকারি হাসপাতাল by জোবাইদা নাসরীন



সরকারি কর্মজীবী নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হলো। একজন নারী তাঁর কর্মজীবনে সর্বোচ্চ দুবার এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন। ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্য, পূর্ণ ছয় মাসই যেন একটি শিশু মায়ের দুধ পায় আর শিশুর মৃত্যুহার যাতে কমে। তবে এই ছুটি নারীর জন্য কল্যাণকর হবে, নাকি নারীর পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি করবে, সে বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। মাতৃত্বকালে নারী ছয় মাস ছুটিতে থাকবেন অর্থাৎ একটি বড় সময় শ্রম দিতে পারবেন না—এই অজুহাতে পিতৃতান্ত্রিক শ্রমদুনিয়ায় নারীর চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে এটি যেন কোনো অন্তরায় না হয়ে দাঁড়ায়। কোনো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা বৈষম্যের কারণে কোনো মা কিংবা সন্তান যেন অবহেলিত না হন, এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।
সেদিন প্রথম আলোর তৃতীয় পাতায় প্রকাশিত একটি খবরে দেখলাম, তাতে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে নারীর আপাত স্বস্তি হোঁচট খায়। সংবাদটি ছোট পরিসরে ছাপা হলেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক নবজাতক ও মাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে না রেখে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বারান্দায়। অপারেশন হওয়া মা ও নবজাতক কনকনে শীতের মধ্যে বারান্দাতেই কাটায়। রোগীর থাকার জায়গা পরিবর্তনের কারণ, সেখানকার চিকিৎসকেরা জানতে পেরেছিলেন, সদ্য মা হওয়া নারীটি একজন যৌনকর্মী। এই অমানবিক ঘটনটি ঘটেছে দেশের সবচেয়ে নামী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (প্রথম আলো ১২ জানুয়ারি)। বোঝা যায়, মায়েদের জন্য আন্তরিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও একজন মায়ের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিগত সমস্যা নানাভাবে নিরাপদ মাতৃত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিষয়টি অবগত ছিলেন। এই মাকে আলাদা রাখার কারণ হিসেবে তিনি হাজির করেছেন যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি/এইডসসহ যৌনবাহিত বিভিন্ন রোগ থাকার আশঙ্কাকে। অন্য শিশু ও প্রসূতি মায়েদের যাতে কোনো ঝুঁকিতে পড়তে না হয়, সে জন্য ওই মাকে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা। চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগীর প্রতি এমন অসংবেদনশীলতা একেবারে অগ্রহণযোগ্য।
হতে পারেন তিনি একজন যৌনকর্মী, তাতে সমস্যা কোথায়? তিনি একজন মা, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছেন। সুচিকিৎসা পাওয়া তাঁর মৌলিক অধিকার। একটি সরকারি হাসপাতাল তাঁর এই অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সব করবে—এ রকমই তো হওয়ার কথা। চিকিৎসক হয়ে কারও এইচআইভি/এইডস আছে কি না, তা পরীক্ষা না করেই সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক অচরণ করার কী ব্যাখ্যা থাকতে পারে? সেই মায়ের যদি এইচআইভি/এইডস থেকেও থাকে, তবু তো তাঁর প্রতি এমন আচরণ চলতে পারে না। এটা তো সবার আগে চিকিৎসকেরই জানার কথা।
একজন রোগীর পেশা নিঃসন্দেহে তাঁর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা কিংবা বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে না। চিকিৎসকেরা তাঁদের সাধ্যমতো সবাইকে চিকিৎসা দেবেন। যৌনকর্মী হলে তাঁর প্রতি বৈষম্য করা হবে—আইনের কোথাও এ রকম লেখা নেই। চিকিৎসক হিসেবে কীভাবে তিনি এমন ব্যবস্থা নিতে পারলেন! রোগের ধারণা করে কি কোনো চিকিৎসক রোগীকে ওষুধ দেন? আর নবজাতকের বেলায়? যৌনকর্মীর জঠরে জন্মেছে—এ-ই তার অপরাধ? জন্মেই বৈষম্যের শিকার। যে সন্তান মানুষের, তাকে কীভাবে ওয়ার্ড থেকে খোলা বারান্দায়, ঠান্ডা বাতাসে রাখার মতো সিদ্ধান্ত চিকিৎসক নিতে পারলেন? তাহলে কার সেবা করেন তাঁরা?
শিশুমৃত্যুর হার কমানো কিংবা নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সরকার যত আইনি ব্যবস্থাই করুক না কেন, তা বাস্তবায়ন করতে সামাজিক প্রতিবন্ধকতাগুলোকে সবার আগে চিহ্নিত করতে হবে। না হলে এসব পদক্ষেপ নারীর জন্য অর্থবহ হয়ে উঠবে না।
বাংলাদেশ সরকারের জন্য শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এমন ঘটনা সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথে বড় হুমকি। বাংলাদেশের জন্য সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের ৫ নম্বর লক্ষ্য, ২০১৫ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুহার প্রতি লাখে ৫৭০ (১৯৯০ সালের তথ্য) জন থেকে কমিয়ে ১৪৪ জনে নামিয়ে আনা। শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও মাতৃমৃত্যুহার তেমন কমেনি। এ লক্ষ্য অর্জনে বেশ অনেকটাই পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এখনো এক লাখ গর্ভবতী মায়ের মধ্যে ৩৫১ জনই প্রসবকালে মৃত্যুবরণ করেন। সেই হিসাবে দেশে প্রতিবছর প্রসবকালেই প্রায় ২০ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করেন এবং আরও প্রায় ছয় লাখ নারী প্রসবজনিত নানা সমস্যায় ভোগেন। এভাবে চললে ২০১৫ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুহার দাঁড়াবে প্রতি লাখে ৩১০ জন। মায়েদের প্রতি নানা ধরনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও এর পেছনে কাজ করছে, যার অনেকগুলো চিত্রের একটিমাত্র আমরা পত্রিকায় পড়েছি।
তাই আইন ও পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি এই বিষয়গুলো নিয়ে সবার সচেতনতা তৈরিতে সদা তৎপর থাকতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরই আগে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীলতার সঙ্গে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং নারীর নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য প্রয়োজন অধিক সচেতনতা ও সামাজিক পদক্ষেপ।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

নতুন এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে

একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক নর্তকী-যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের গুজব আবারও জোরালোভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি। তবে তিনি বলেছেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর নতুন এক নারীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর।
গত রোববার রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় বেরলুসকোনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে তিনি কখনোই কোনো নারীর সংস্পর্শে যাননি।
বিচারকেরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর।’ তিনি বলেন, ‘স্ত্রীর (ভেরোনিকা লারিও) সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আরেকজন নারীর সঙ্গে আমার স্থিতিশীল ও প্রেমময় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

২৫ বছর পর দেশে ফিরলেন দুভালিয়ের

হাইতির সাবেক একনায়ক জ্যাঁ ক্লদ দুভালিয়ের দীর্ঘ ২৫ বছর পর নির্বাসন থেকে গত রোববার দেশে ফিরেছেন। ‘বেবি ডক’ নামে পরিচিত সাবেক এই একনায়কের হঠাৎ দেশে আগমন দেশটির টালমাটাল রাজনৈতিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। দুভালিয়ের ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে দেশ ত্যাগ করেছিলেন।
৫৯ বছর বয়স্ক দুভালিয়ের ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরে বলেন, দেশে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতির পুনর্গঠনে তিনি সাহায়তা করতে চান।
দুভালিয়ের হঠাৎ কেন দেশে ফিরলেন, তা নিয়ে হাইতিতে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

সংগীতশিল্পী পিন্টু ভট্টাচার্যের জীবনাবসান

সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় আধুনিক বাংলা গানের শিল্পী পিন্টু ভট্টাচার্য আর নেই। গতকাল সোমবার সকাল সোয়া পাঁচটায় কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন।
দীর্ঘ দুই দশক তিনি তাঁর গানে মাতিয়ে রেখেছিলেন বাঙালিকে। তাঁর গাওয়া ‘চলো না দিঘার সৈকত ছেড়ে’, ‘এক তাজমহল গড়ো’, ‘আমি চলতে চলতে থেমে গেছি’ আজও সবাইকে নাড়া দেয়। তাঁর কণ্ঠে ‘মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা’ গানটি একসময় দুই বাংলাতেই অসম্ভব জনপ্রিয় হয়েছিল। গতকাল তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

পাকিস্তানে বোমায় নিহত ১৭

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গতকাল সোমবার একটি মিনিবাসে বোমা বিস্ফোরণে ১৭ জন নিহত ও অপর ১১ জন আহত হয়েছে। গোলযোগপূর্ণ হাঙ্গু শহরের কাছে জাওয়ারজাতে সময় নিয়ন্ত্রিত বোমার সাহায্যে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা এএফপিকে পুলিশ এসব কথা জানায়।
তবে এর আগে এক খবরে বলা হয়, গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, ওই মিনিবাসে ১০ কেজি বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল।
ঘটনাস্থল থেকে জেলা পুলিশের প্রধান আবদুল রশিদ জানান, একটি বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসের সিলিন্ডারের কাছে বিস্ফোরকগুলোর সঙ্গে সময় নিয়ন্ত্রক ডিভাইস যুক্ত ছিল। ফলে বিস্ফোরকের সঙ্গে গ্যাসের সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হয়।
পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাসুদ খান বলেন, এটি সন্ত্রাসী হামলা। তাঁরা ওই মিনিবাসের মালিককে খুঁজছেন।

শিগগির দেশে ফিরবেন সৌদি বাদশা

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহর শারীরিক অবস্থা এখন ভালো। শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন। গতকাল সোমবার আবদুল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে কুয়েত থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সংবাদপত্র আল সোয়াসার প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
৮৭ বছর বয়সী আবদুল্লাহ মেরুদণ্ডের এক জটিল চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের জন্য গত ২২ নভেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন।

ইরানে আরেক চেরনোবিলের আশঙ্কা রুশ বিজ্ঞানীদের

ইরানে বুশের পরমাণুকেন্দ্রে চেরনোবিলের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাশিয়ার পরমাণু বিজ্ঞানীরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে স্টুক্সনেট নামে যে কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করেছে, এর আক্রমণে ইরানের ওই পরমাণুকেন্দ্রের কম্পিউটার ব্যবস্থাপনা অচল হয়ে পড়তে পারে। আর এতে ওই দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ক্রেমলিনকে বিষয়টি অবহিত করেন। তাঁরা জানান, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুসারে চলতি গ্রীষ্মে ইরানের ওই কেন্দ্র চালুর ব্যাপারে যদি তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে চেরনোবিলের মতো আরেকটি বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণুকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এতে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। ওই কেন্দ্রের আশপাশের বিশাল এলাকা বিকিরণজনিত কারণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয়তা।
রুশ বিজ্ঞানীরা বুশের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছেন। এটির অনেক কিছুর তদারকিও করছেন তাঁরা। চলতি গ্রীষ্মে কেন্দ্রটি থেকে ইরানের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে চাইছে। তবে রুশ বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে ক্রেমলিনকে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ওই সময়ের মধ্যে ইরানের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের রি-অ্যাক্টরগুলো নিরাপদভাবে চালু করতে পারবেন কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পাছেন না। কারণ হিসেবে তাঁরা স্টুক্সনেট ভাইরাস-ভীতির কথা জানিয়েছেন।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, স্টুক্সনেট ভাইরাসটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দারা যৌথভাবে তৈরি করেছেন। সাইবার হামলার জন্য এটিকে এখন সবচেয়ে সফল ভাইরাস হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

গণবিক্ষোভের ধাক্কা আরব বিশ্বের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়তে পারে

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর ক্ষমতাচ্যুতির পর আরববিশ্বের সরকারগুলো উদ্বিগ্নভাবে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আরববিশ্বে এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে যে গণবিক্ষোভের ধাক্কা শেষ পর্যন্ত আরববিশ্বের অন্যান্য দেশেও লাগতে পারে।
দীর্ঘ ২৩ বছর লৌহকঠিন হাতে দেশ শাসনের পর গত শুক্রবার গণবিক্ষোভের কাছে নতি স্বীকার করে সৌদি আরবে পালিয়ে যান বেন আলী। এই প্রথম কোনো আরব নেতা গণবিক্ষোভের কাছে হার মেনে দেশ ছাড়লেন।
বেন আলীর ক্ষমতাচ্যুতি সম্পর্কে মন্তব্য করার ব্যাপারে সতর্ক মধ্যপ্রাচ্যের প্রশাসনগুলো। উত্তর আফ্রিকার ওই দেশটিতে গণ-অভ্যুত্থানের সুবিধা নিতে চাইছে বিরোধী পক্ষগুলো। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ক্রমবর্ধমান অস্বস্তিতে ভুগছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আরববিশ্বের ঘটনাবলি থেকে দূরে থাকতে পশ্চিমাবিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল ঘেইত। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন চলতি সপ্তাহে সংস্কারের জন্য জনগণের সঙ্গে কাজ করতে আরব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানোর পর তিনি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন।
এদিকে তিউনিসিয়ার মতো গণ-অভ্যুত্থান অন্যান্য আরব দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে—এই আশঙ্কাকে ‘অর্থহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অর্গানাইজেশন অব দ্য ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) তিউনিসিয়ার ঘটনাবলিকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে ও দেশের ভিত্তি দুর্বল করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার জন্য তিউনিসীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এদিকে বেন আলীর পতন ইয়েমেনি তরুণদের মনে সাহসের সঞ্চার করেছে বলেই মনে হচ্ছে। দেশটির প্রায় এক হাজার তরুণ নেমে আসেন রাজধানী সানার রাজপথে। নিজ নিজ নেতাদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার জন্য আরবদের প্রতি তাঁরা আহ্বান জানান।
সানা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের একটি শোভাযাত্রা তিউনিসিয়া দূতাবাস অভিমুখে যায়। নিজ নিজ ‘সন্ত্রস্ত ও কপট নেতাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের জন্য’ তাঁরা আরব জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ব্যানার বহন করেন। একটি ব্যানারে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর নাম উল্লেখ না করে বলা হয়, ‘ক্ষমতাচ্যুত করার আগেই ক্ষমতা ত্যাগ করুন।’ সিরিয়ার সরকারপন্থী দৈনিক আল-ওয়াতান-এ বলা হয়, তিউনিসিয়ার ঘটনাবলি এমন একটি শিক্ষা, যা কোনো আরব সরকারেরই উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
জর্ডানের শক্তিশালী ইসলামি সংগঠন সত্যিকারের সংস্কার সাধনের জন্য আরব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতির প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে আয়োজিত এক সমাবেশে ব্রাদারহুডের প্রধান হাম্মাম বলেন, ‘তিউনিসিয়ার জনগণ যেভাবে ভুগেছিল, জর্ডানে আমরাও একইভাবে ভুগছি।

গণবিক্ষোভের ধাক্কা আরব বিশ্বের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়তে পারে

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর ক্ষমতাচ্যুতির পর আরববিশ্বের সরকারগুলো উদ্বিগ্নভাবে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আরববিশ্বে এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে যে গণবিক্ষোভের ধাক্কা শেষ পর্যন্ত আরববিশ্বের অন্যান্য দেশেও লাগতে পারে।
দীর্ঘ ২৩ বছর লৌহকঠিন হাতে দেশ শাসনের পর গত শুক্রবার গণবিক্ষোভের কাছে নতি স্বীকার করে সৌদি আরবে পালিয়ে যান বেন আলী। এই প্রথম কোনো আরব নেতা গণবিক্ষোভের কাছে হার মেনে দেশ ছাড়লেন।
বেন আলীর ক্ষমতাচ্যুতি সম্পর্কে মন্তব্য করার ব্যাপারে সতর্ক মধ্যপ্রাচ্যের প্রশাসনগুলো। উত্তর আফ্রিকার ওই দেশটিতে গণ-অভ্যুত্থানের সুবিধা নিতে চাইছে বিরোধী পক্ষগুলো। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ক্রমবর্ধমান অস্বস্তিতে ভুগছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আরববিশ্বের ঘটনাবলি থেকে দূরে থাকতে পশ্চিমাবিশ্বকে সতর্ক করে দিয়েছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আবুল ঘেইত। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন চলতি সপ্তাহে সংস্কারের জন্য জনগণের সঙ্গে কাজ করতে আরব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানোর পর তিনি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন।
এদিকে তিউনিসিয়ার মতো গণ-অভ্যুত্থান অন্যান্য আরব দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে—এই আশঙ্কাকে ‘অর্থহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অর্গানাইজেশন অব দ্য ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) তিউনিসিয়ার ঘটনাবলিকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে ও দেশের ভিত্তি দুর্বল করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার জন্য তিউনিসীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এদিকে বেন আলীর পতন ইয়েমেনি তরুণদের মনে সাহসের সঞ্চার করেছে বলেই মনে হচ্ছে। দেশটির প্রায় এক হাজার তরুণ নেমে আসেন রাজধানী সানার রাজপথে। নিজ নিজ নেতাদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার জন্য আরবদের প্রতি তাঁরা আহ্বান জানান।
সানা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের একটি শোভাযাত্রা তিউনিসিয়া দূতাবাস অভিমুখে যায়। নিজ নিজ ‘সন্ত্রস্ত ও কপট নেতাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের জন্য’ তাঁরা আরব জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ব্যানার বহন করেন। একটি ব্যানারে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর নাম উল্লেখ না করে বলা হয়, ‘ক্ষমতাচ্যুত করার আগেই ক্ষমতা ত্যাগ করুন।’ সিরিয়ার সরকারপন্থী দৈনিক আল-ওয়াতান-এ বলা হয়, তিউনিসিয়ার ঘটনাবলি এমন একটি শিক্ষা, যা কোনো আরব সরকারেরই উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
জর্ডানের শক্তিশালী ইসলামি সংগঠন সত্যিকারের সংস্কার সাধনের জন্য আরব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতির প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে আয়োজিত এক সমাবেশে ব্রাদারহুডের প্রধান হাম্মাম বলেন, ‘তিউনিসিয়ার জনগণ যেভাবে ভুগেছিল, জর্ডানে আমরাও একইভাবে ভুগছি।’

মুম্বাইয়ের ৩১ তলা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ

ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি ৩১ তলা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, উপকূলীয় এলাকায় যে উচ্চতা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ বৈধ বলে বিবেচিত, সেই উচ্চতাসীমা লঙ্ঘন করায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ মোতাবেক তিন মাসের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলার কথা রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের বিধবা পত্নীদের পুনর্বাসনে ওই জায়গায় ছয় তলাবিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন গড়ে তোলার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে নির্মাণকাজও শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখানে ছয় তলার পরিবর্তে ‘আদর্শ সোসাইটি’ নামে ৩১ তলার একটি সুউচ্চ ভবন গড়ে তোলা হয়।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সরকারি টাকায় ভবনটি তুলে সেটির ফ্ল্যাট নামমাত্র মূল্যে রাজনীতিক ও আমলাদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ দুর্নীতি কেলেঙ্কারি নিয়ে হইচই পড়ে গেলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী অশোক চ্যাভান। এই সমালোচনার মুখে তিনি গত নভেম্বরে পদত্যাগ করেন।
পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ গত রোববার বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার ভবন নির্মাণবিধি না মানার কারণে আমি পুরো ভবনটিই ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তবে বিশ্লেষকেরা বলেছেন, নির্মাণবিধি লঙ্ঘনকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও মূলত দুর্নীতি কেলেঙ্কারি থেকে বাঁচতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আয়কর ও মূসক আইনের খসড়া প্রকাশ

আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইনের দুটি পৃথক খসড়া প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতিমধ্যে খসড়াটি এনবিআরের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে এবং এর ওপর মতামত আহ্বান করা হয়েছে।
আয়কর আইনের খসড়ায় নতুন করে সম্পদ কর, ভ্রমণ কর ও দান কর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভুয়া কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীদের (টিআইএন) দণ্ড আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে মূসক আইনে ছোট ব্যবসায়ীদের মূসকের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূসক নিবন্ধন না নিলে জেলজরিমানার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছর (২০১১-১২) থেকে মূসক বা ভ্যাট আইন কার্যকর করা হবে। তবে আয়কর আইনটি কার্যকর হবে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে। এর আগে আগামী মাস থেকে এই দুটি আইনের খসড়ার ওপর ব্যবসায়ী, ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করবে এনবিআর।
আয়কর আইন: আয়কর আইনের খসড়ায় ২২টি অনুচ্ছেদ ও ২৪৬টি ধারা রয়েছে। অনুচ্ছেদগুলোতে আয়ের খাত, ক্ষতির খাত, আয়কর প্রশাসন, অগ্রিম আয়কর, সম্পদ কর, ভ্রমণ কর, দণ্ড, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধি, দ্বৈতকর পরিহারসহ বিভিন্ন আলোকপাত করা হয়েছে।
সম্পদ কর, ভ্রমণ কর ও দান করকে আয়কর আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এতদিন ভ্রমণ কর অর্থবিলের সঙ্গে প্রতিবছর অন্তর্ভুক্ত করা হতো।
পুনরায় সম্পদ কর চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, নিজে বসবাস ব্যতীত বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট, পৌর এলাকার ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত খামার, পৌর এলাকার জমি, গাড়ি, হেলিকপ্টার ও এয়ারক্রাফট, দামি অলংকার, নৃতাত্ত্বিক নিদর্শন, চিত্র, ভাস্কর্য ও দেশের বাইরে কোনো ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত থাকলে সম্পদ কর দিতে হবে। এমনকি ৫০ হাজার টাকার বেশি দামি ঘড়ি ব্যবহার করলেও কর দিতে হবে। এ ছাড়া দুই হাজার টাকার বেশি নগদ অর্থ থাকলেও করের আওতায় আসবেন করদাতারা।
তবে কোনো করদাতা যদি কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে বছরের ৩০০ দিনের বেশি বসবাস না করেন, তাহলে তাঁকে ওই বাড়ির ওপর সম্পদ কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। বাণিজিক উদ্দেশ্যে নির্মিত ভবনও সম্পদ কর থেকে অব্যাহতি পাবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান আমলে সম্পদ কর চালু করা হয়। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে সম্পদ কর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
আয়কর আইনের খসড়ায় যেকোনো ধরনের দানের ওপর করারোপের বিধান রাখা হয়েছে। শুধু রাষ্ট্র ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দান করের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দান, ধর্মীয় উপাসনালয়ে দান, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দান করের আওতায় থাকবে না।
তবে স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, মা-বাবা, ভাই-বোন ছাড়া অন্য যেকোনো আত্মীয়স্বজনকে দান করলে তা করের আওতায় পড়বে।
সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তারা জানান, অতীতে দানের নামে বহু কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তাই এবার আয়কর আইনে দানকে করের আওতায় আনা হয়েছে। তবে কয়েক প্রকার দান প্রকৃত অর্থেই দান হিসেবে গণ্য করার সুযোগ্য রাখা হয়েছে।
খসড়ায় ভুয়া টিআইএনধারীকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো করদাতার কাছে টিআইএন চাওয়া হলে তা প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময় আয়কর প্রদানে ব্যর্থ হলে করদাতাকে পাঁচ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
এদিকে কোনো করদাতা যদি কোনো কোম্পানির শেয়ার টানা ৩৬৫ দিন (এক বছর) ধরে রাখেন, তবে সেই শেয়ার মূলধনী সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। সেই ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী করারোপ হবে।
মূসক আইন : ২১টি অনুচ্ছেদে ১৯৩টি শাখা রয়েছে প্রস্তাবিত মূসক আইনে। এসব অনুচ্ছেদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, মূসক আরোপ, আমদানি পর্যায়ে মূসক, সরবরাহ পর্যায়ে মূসক, মূসক নির্ধারণ কৌশল, সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার ট্যাক্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মূসক আইনের খসড়া অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি মূসক আরোপ যোগ্য হওয়ার পরও মূসক নিবন্ধন না নিলে জেল-জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আইনে। এমনকি পাঁচ বছরের জেল দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া মূসক কর্মকর্তারা কোনো ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে মূসক নিবন্ধন দেখতে চাইতে পারেন। ওই ব্যবসায়ী যদি মূসক নিবন্ধন সনদপত্র দেখাতে না পারেন, তবে ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার ক্ষমতা আইনে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ছয় মাস পর্যন্ত জেল দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
মূসক বিবরণী জমা না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। এমনকি সর্বোচ্চ এক বছর জেল দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
এই এনবিআরের সদস্য (মূসক) আবদুল মান্নান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘খসড়ায় নির্দিষ্ট পরিমাণ (ফ্ল্যাট রেট) মূসক আরোপের প্রবণতা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনের চেয়ে প্রস্তাবিত আইনে ‘মূসক ছাড়’ অনেক কম।’
তিনি আরও জানান, আধুনিক ও সময়োপযোগী একটি আইন করা হয়েছে। আইনটির খসড়া তৈরির সময় বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা হয়েছে।

মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের সক্রিয়তার তাগিদ

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে ভীত বা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করেন, সে জন্য ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
একই সঙ্গে এসইসি বলেছে, প্রয়োজনে বিনিয়োগকারীদের ভীত না হয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিতে হবে।
শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। গতকাল সোমবার সকালে এসইসির কার্যালয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার এতে সভাপতিত্ব করেন।
সকাল সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী শেখ মর্তুজা আহমেদ। এ সময় এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী শমসের মাহিম, আইডিএলসির মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং লংকা-বাংলা ফিন্যান্সসহ বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আর ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, লংকা-বাংলা, পিএফআই সিকিউরিটিজ, এবি সিকিউরিটিজসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উভয় বৈঠকে উপস্থিত সবার কাছ থেকে বাজারের বর্তমান অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে মতামত চাওয়া হয়।
মার্চেন্ট ব্যাংকার্স প্রতিনিধিরা বলেন, এসইসি এর আগে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচায় কোনো ধরনের পরামর্শ না দেওয়ার আদেশ জারি করেছিল। তাই এখন তাঁরা পরামর্শ দিতে গেলে আইনি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে এসইসির পক্ষ থেকে আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে এসইসির কর্মকর্তারা জানতে চান, কেন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা শেয়ার কিনছে না, কেন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন না। এ সময় গ্রাহকের ঋণসুবিধার বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে মার্চেন্ট ব্যাংকাররা তারল্য-সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, বর্ধিত হারে গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দিতে হলে অতিরিক্ত যে টাকার প্রয়োজন, তা ব্যাংকব্যবস্থা থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।
বৈঠক প্রসঙ্গে বিএমবিএর সভাপতি শেখ মর্তুজা আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করেন, সে জন্য তাঁদের পরামর্শ দিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে।
ডিএসইতে বৈঠক আজ: সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটায় ডিএসইর সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি বুধবার ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ডিএসইর।

ডিএসইতে লেনদেন ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখতে নেওয়া কোনো প্রণোদনা সেভাবে কাজে আসছে না। আর্থিক খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার কিনলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এর কোনো প্রভাব নেই।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৮৪৮ কোটি টাকা। এর আগে গত বছরের ১৫ এপ্রিলে লেনদেন ৭৭২ কোটি টাকায় নেমে গিয়েছিল। এভাবে লেনদেন কমার জন্য তারল্য পরিস্থিতিকেই দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বড় কথা, বিনিয়োগকারীরা একটা স্নায়ুচাপে রয়েছেন। পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ভিত্তি বড়, তারল্য-সংকটের কারণে তারা তেমন কোনো ভূমিকায় যেতে পারছে না। বাজারকে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে তারল্য আসতে হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমেদ অবশ্য এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল লেনদেন চালু হওয়ার প্রথম ১৫ মিনিটে মূল্যসূচক ৫০ পয়েন্টের বেশি বাড়ে। এর পরের মিনিটে ১৩৫ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর সূচক ৮০ পয়েন্ট বাড়লেও পরক্ষণেই আবার কমতে শুরু করে। এভাবে দিনভর ওঠা-নামার মধ্যে থাকায় মূল্যসূচক শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ৫৭ পয়েন্ট কমে সাত হাজার ৩৭৮ পয়েন্টে নেমে আসে।
বাজারের দরপতন ঠেকাতে ১০ জানুয়ারি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পর দুই দিনে সূচক এক হাজার ১৯০ পয়েন্ট বেড়েছিল। কিন্তু টানা তিন দিনের দরপতনে তা আবার ৩১৩ পয়েন্ট কমে গেছে।
বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের অনেকে বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেক বিনিয়োগকারীর ক্রয়ক্ষমতা থাকলেও তাঁরা বাজারের গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে নতুন করে বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। আবার অনেক বিনিয়োগকারী আরও দরপতনের আশঙ্কায় ক্ষতি কমাতে লোকসানেই শেয়ার বিক্রি করছেন। এসব কারণে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ছে, যা সার্বিক মূল্যসূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আগের দিনের মতো গতকালও রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক পৃথকভাবে মোট ২১১ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে।
এর মধ্যে আইসিবি নিজস্ব পত্রকোষ বা পোর্টফোলিওতে কিনেছে ৮১ কোটি টাকার শেয়ার। আর প্রতিষ্ঠানটির তিনটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকেরা মিলে কিনেছেন ৩৪ কোটি টাকার।
গতকাল তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক মিলে কিনেছে ৯৬ কোটি টাকার শেয়ার। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ৬০, অগ্রণী ব্যাংক ১৭ ও জনতা ব্যাংক ১৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে।
যোগাযোগ করা হলে আইসিবির মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার-উজ-জামান জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থন দিয়ে যাবেন তাঁরা।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের দিনের মতো গতকালও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে ফোন করে বিক্রির চাপ না বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাইম ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান কবির খান

প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আহসান কবির খান। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ আহসান কবির খানের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আক্তার হুসাইন সানামাতের স্থলেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নানা রঙের ফুটবল

ইউরোপের লিগগুলো জমে উঠেছে বেশ। কয়েকটি লিগে শিরোপার দাবিদার দলগুলো পরস্পরের গরম নিঃশ্বাস অনুভব করছে। কোথাও ‘ডেভিড’ আটকে দিচ্ছে ‘গোলিয়াথ’কে। কোথাও আবার বিশেষ কোনো খেলোয়াড়ে সওয়ার হয়ে কেউ উতরে যাচ্ছে অঘটন। ইউরোপিয়ান ফুটবলের পরশু রাতটি সাজানো ছিল এমন সব ঘটনায়
ইব্রার বিস্ময়-গোল
এসি মিলানের জয়েও ইব্রাহিমোভিচ, ড্রয়েও ইব্রাহিমোভিচ। এই সুইডিশ স্ট্রাইকারই যেন এসি মিলানের ত্রাতা। এসি মিলানে যোগ দিয়েই টানা চারটি ম্যাচ জিতিয়েছেন দলকে। আর বড়দিনের ছুটি কাটিয়ে এসে মিলান যখন জয়ের রাস্তা হারিয়ে ফেলছে তখন এই ইব্রাই ড্র দেখাচ্ছেন মিলানকে। পরশু লেচ্চের সঙ্গে মিলান ১-১ গোলে ড্র করতে পারল ইব্রাহিমোভিচের বিস্ময়কর এক গোলেই। আগের সপ্তাহে উদিনেসের সঙ্গে মিলান ৪-৪ গোলে ড্রটাও পেয়েছে তাঁর শেষ মুহূর্তের গোলে।
রোনালদিনহোর চলে যাওয়া, রবিনহো ও পিরলোর খেলতে না-পারা মিলানের আক্রমণভাগকে একটু নড়বড়েই করে দিয়েছে। লেচ্চের মাঠে প্রথমার্ধে স্পষ্ট কোনো গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেনি তারা। তবে ৪৯ মিনিটে ২২ গজি এক শটে দুর্দান্ত গোল করে মিলানকে এগিয়ে দেন ইব্রাহিমোভিচ। মিলান কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির কাছে এটি বিস্ময়কর এক গোল। কিন্তু হলে কী হবে, শেষে তো ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে অ্যালেগ্রিকে, ‘ম্যাচটা আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসার পরও হারতে হওয়ায় আমি দুঃখিত।’
স্পার্সে আটকে গেল ম্যানইউ
টটেনহামের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না—আগেই বলে রেখেছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন। ম্যানইউকে পরশু কঠিন এক ম্যাচই উপহার দিয়েছে স্বাগতিক স্পাররা। ম্যানইউর সঙ্গে লড়াই করে ড্র (০-০) তারা করেনি, একটি পয়েন্টের জন্য ম্যানইউকেই বরং করতে হয়েছে লড়াই। ম্যাচ শেষে তাই ম্যানইউ কোচ আরেকবার বললেন, ‘কঠিন ম্যাচ হয়েছে। টটেনহাম দুর্দান্ত ফর্মে আছে। ওরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছে এবং আমরা মোটেই কৃতিত্ব নেওয়ার মতো খেলিনি।’
দুটি পয়েন্ট তো গেছেই, ম্যানইউর রাতটি খারাপ গেছে রাফায়েল ডা সিলভা দুটি হলুদ কার্ড দেখে ৭৪ মিনিটে মাঠ ছেড়ে যাওয়ায়। তবে পয়েন্ট হারিয়েও পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেই আছে ম্যানইউ। যদিও তা নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার কারণে। দুই দলেরই পয়েন্ট ৪৫। তবে ম্যান সিটির চেয়ে দুটি ম্যাচ কম খেলেছে ম্যানইউ।
হায় লিভারপুল, হায় ডালগ্লিস!
খেলোয়াড় ডালগ্লিস লিভারপুলকে ৬টি লিগ জিতিয়েছেন। এফএ কাপ, লিগ কাপসহ জিতেছেন আরও অনেক ছোট-বড় শিরোপা। কোচ ডালগ্লিসও লিভারপুলকে লিগ জিতিয়েছেন তিনবার। দুর্দিনে তাই তাঁকেই আবার ডেকে এনেছে লিভারপুল। কিন্তু কেনি ডালগ্লিস কি ‘অল রেড’দের ত্রাতা হতে পারবেন?
রয় হজসনের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এফএ কাপে ম্যানইউর কাছে হেরেছেন। পরশু অ্যানফিল্ডের ডাগ-আউটে তাঁর পুনরাভিষেকে লিভারপুল এভারটনের বিপক্ষে ড্র করেছে ২-২ গোলে। মেরিলেসের গোলে প্রথমে অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল লিভারপুল। ডিস্টিন ও বেকফোর্ডের গোলে ২-১ এগিয়ে যায় ওয়েইন রুনির সাবেক ক্লাব। পরে পেনাল্টি গোলে ম্যাচ ড্র করে ডালগ্লিসের পুনরাভিষেক লগ্নটা একেবারেই বিস্বাদ হতে দেননি ডির্ক কিউট। এএফপি।
পুরোনো চাল...
১৮ বছর ধরে জুভেন্টাসের আক্রমণভাগে বটগাছের ছায়া হয়ে রয়েছেন আলেসান্দ্রে দেল পিয়েরো। বয়স ৩৬, আগের মতো সেই ক্ষিপ্রতা থাকার কথা নয়। ‘বুড়ো’ অপবাদটা প্রায়ই তাঁকে শুনতে হচ্ছে। তবে পুরোনো চাল যে ভাতে বাড়ে, দেল পিয়েরো পরশু সেটা আবার মনে করিয়ে দিলেন! বারির বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচটি জুভরা প্রথমে এগিয়ে যায় তাঁর গোলেই। জুভেন্টাসের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল (২৮১) করা দেল পিয়েরোর মৌসুমের অষ্টম গোলে একটি প্রতিশোধও নেওয়া হলো তুরিনের ‘ওল্ড লেডি’দের। এই বারির কাছে হেরে গিয়েই যে এবারের লিগ অভিযান শুরু হয়েছিল তাদের।

নিউজিল্যান্ডের বোলিং পরামর্শক ডোনাল্ড

বোলিং পরামর্শক হিসেবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে যোগ দেবেন অ্যালান ডোনাল্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই পেসার সাময়িকভাবে কিউই কোচ জন রাইটের অধীনে কাজ করবেন। তবে কত দিনের জন্য, সেটা এখনো জানায়নি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট।
নতুন কাজ পাওয়ার আগে ডোনাল্ড জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেট দল মাউন্টেনিয়ার্সের কোচ ছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী আরও কয়েক মাস সেখানে কাজ করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু দলটির সঙ্গে একটা সমঝোতা করে আগেভাগেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ৭২ টেস্টে ৩৩০ উইকেট নেওয়া ডোনাল্ড।

কার্লোসের অলিম্পিক গোল

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে আগেই। ক্লাব ক্যারিয়ারেরও অস্তাচল দেখছেন রবার্তো কার্লোস। কিন্তু এত দিনে যা পারেননি, পরশু সেটাই করে বসলেন আগামী এপ্রিলে আটত্রিশে পা রাখতে পাওয়া ব্রাজিলীয় এই ডিফেন্ডার—অলিম্পিক গোল!
এখন আবার অলিম্পিক কোথায় যে ‘অলিম্পিক গোল’ করলেন কার্লোস? কর্নার কিকের বল সরাসরি জালে জড়িয়ে গেলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে সেটিকে বলা হয় অলিম্পিক গোল। পরশু করিন্থিয়ানস ব্যাক এ রকম একটি গোলই করলেন পর্তুগুয়েসার বিপক্ষে, সাওপাওলো রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপে। ব্রাজিলীয় ফুটবলের নতুন মৌসুম সূচক ম্যাচে কার্লোসের দলকে ২-০ গোলে জিতিয়েছে এই অলিম্পিক গোল। ইনজুরির কারণে গত মৌসুমে করিন্থিয়ানসের অর্ধেকেরও বেশি ম্যাচ না খেলতে পারা রোনালদো এবার দলের অধিনায়ক।

নির্বাচকদের ওপর চটেছেন ইউসুফ

ধর্মান্তরিত হওয়ার পর থেকে মোহাম্মদ ইউসুফের জীবনদর্শনটা বদলে গেছে। ঢাকা লিগ খেলতে বাংলাদেশে এসে কদিন আগেও বলেছিলেন, কোনো কিছুই এখন তাঁকে খুব একটা ভাবায় না। সবকিছু ছেড়ে দিয়েছেন আল্লাহর হাতে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়ার পর ইউসুফ আর এতটা অদৃষ্টবাদী হয়ে থাকতে পারেননি। ফেটে পড়েছেন ক্ষোভে।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলে না থাকা মানে বিশ্বকাপের দলেও না থাকার আশঙ্কা। এ কারণেই ইউসুফের প্রতিক্রিয়াটা হয়েছে এমন তীব্র। একটা বিশ্বকাপ জিতে বিদায় নেওয়ার স্বপ্নটা যে তাঁর অনেক দিনের। না রাখার কারণ পরিষ্কার করে বলা হয়নি কিছুই। তবে নির্বাচকদের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, ইউসুফের ফিটনেসে সন্তুষ্ট নন নির্বাচকেরা। গত নভেম্বরে আরব আমিরাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে চোট নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন ইউসুফ। নির্বাচকদের ধারণা, ৩৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান এখনো শতভাগ ম্যাচ ফিট নন।
ব্যক্তিগত ট্রেনার নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন ইউসুফ, ঢাকা মোহামেডানের পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসও খেলেছেন। গত পরশুই পাকিস্তানের ঘরোয়া ওয়ানডে টুর্নামেন্টে ৫৫ বলে ৬১ করে জিতিয়েছেন তাঁর দল লাহোরকে। ওই ইনিংস শেষেই নির্বাচকদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন ইউসুফ। তাঁর ধারণা ফিটনেস নয়, সমস্যা পাকিস্তানের নির্বাচকদের এবং সেটি চিরাচরিত, ‘জানি না নির্বাচকদের দল নির্বাচনের মাপকাঠি কী। আমি পুরো ফিট ও ফর্মে আছি, এর বেশি আর কী-ই বা করতে পারি! দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে পেশিতে টান লেগেছিল, কিন্তু সেই সমস্যা এখন পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছি। যেভাবে আমি দু-তিন রান নিচ্ছি, কোনো আনফিট ব্যাটসম্যানের পক্ষে তা সম্ভব নয়। সেরা ফর্মে থাকতেই সিনিয়র ক্রিকেটারদের বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া পাকিস্তানি নির্বাচকদের একটা ‘‘সুন্নত’’ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
নিউজিল্যান্ডের দলে না থাকলেও বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে আছেন ওয়ানডেতে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী (৯৭২০) ইউসুফ। সর্বশেষ তিন বিশ্বকাপ খেলা ব্যাটসম্যান এখন রয়েছেন একটা স্বপ্ন পূরণের আশায়, ‘আশা করি, বিশ্বকাপে অন্তত নির্বাচকেরা আমাকে সুযোগ দেবে। কারণ দলকে অনেক কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আমার এখনো আছে। বিশ্বকাপ জয় আমার স্বপ্ন।’

টেন্ডুলকারকে রেখেই বিশ্বকাপ দল

জোহানেসবার্গে গত শনিবারের রুদ্ধশ্বাস জয়ের মধ্যেই ভারতকে ঘিরে ধরেছিল উদ্বেগের ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ। ব্যাটিংয়ের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে পরে আর ফিল্ডিংয়ে নামেননি শচীন টেন্ডুলকার। তাহলে কি অধরা বিশ্বকাপ জয়ের শেষ চেষ্টাটা করা হবে না ভারতের ‘ক্রিকেট দেবতার’?
উদ্বেগটা অবশ্য কখনোই কালো মেঘে রূপ নিতে পারেনি। আর কাল ভারতের প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত ১৫ সদস্যের যে দল ঘোষণা দিলেন, তাতে সব উদ্বেগই উধাও। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযানে শেষবারের মতো শিরোপা-স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাচ্ছেন টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মালিক। টেন্ডুলকার আছেন। আছেন তাঁর আগেই চোটের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া বীরেন্দর শেবাগ, গৌতম গম্ভীর ও প্রাভিন কুমারও।
‘আমি ইনজুরি নিয়ে একেবারেই উদ্বিগ্ন নই, এটি খেলারই অঙ্গ। আমি আত্মবিশ্বাসী, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সময় দল থাকবে পুরো ফিট’—চেন্নাইয়ে দল ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন শ্রীকান্ত, ভারতের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার।
অস্ট্রেলিয়ার পরে এবং শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের ওপর ভারতকে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে তোলা দলটির ওপরই আস্থা রেখেছেন নির্বাচকেরা। চমক বলতে মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও বাঁহাতি স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝার বাদ পড়া। অধিনায়ক ও উইকেটকিপার মহেন্দ্র সিং ধোনিসহ দলে ব্যাটসম্যান ৭ জন। অলরাউন্ডার হিসেবে ঢুকেছেন ইউসুফ পাঠান। চারজন পেসার—জহির খান, আশিস নেহরা, প্রাভিন কুমার ও মুনাফ প্যাটেল। বিশেষজ্ঞ স্পিনার তিনজন—হরভজন সিং, পীযূষ চাওলা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। খণ্ডকালীন স্পিনার হিসেবে যুবরাজ সিং, সুরেশ রায়না ও শেবাগ তো আছেনই।
২৮ বছর পর ভারতকে আবার বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে যোগ্যতম দলটিকেই বাছাই করেছেন বলে দাবিও জানিয়ে রেখেছেন শ্রীকান্ত। এএফপি।

ভারতের বিশ্বকাপ দল
মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, গৌতম গম্ভীর, যুবরাজ সিং, সুরেশ রায়না, বিরাট কোহলি, ইউসুফ পাঠান, হরভজন সিং, প্রাভিন কুমার, জহির খান, আশিস নেহরা, মুনাফ প্যাটেল, পীযূষ চাওলা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

ক্লাব কাপ ক্রিকেট ২২ জানুয়ারি থেকে

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের উত্তেজনার মাঝেই মাঠে গড়াচ্ছে আরেকটি ক্লাব টুর্নামেন্ট। ২২ জানুয়ারি থেকে দেশের ৮টি ভেন্যুতে শুরু হচ্ছে আন্তজেলা ক্লাব কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর। টুর্নামেন্টটি ঢাকা ছাড়া দেশের বাকি ৬৩ জেলার লিগ চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে নিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও এবার অংশ নিচ্ছে ৪৫টি জেলা। অন্য ১৮টি জেলায় ২০০৯-১০ মৌসুমে লিগ হয়নি।
ঢাকা বিভাগের খেলাগুলো হবে ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জে, চট্টগ্রাম বিভাগের সব খেলা চট্টগ্রামে, রাজশাহী বিভাগের খেলা দিনাজপুর ও পাবনায়, কুষ্টিয়ায় খুলনা বিভাগের, পটুয়াখালীতে বরিশাল বিভাগের আর হবিগঞ্জে হবে সিলেট বিভাগের খেলা। টুর্নামেন্টের মোট বাজেট ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতিটি দল অংশগ্রহণ ফি পাবে ৩০ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া প্রতি ম্যাচের উইনিং মানি ১০ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১ লাখ টাকা ও রানার্সআপ ৫০ হাজার। ম্যাচ-সেরা পুরস্কার দেওয়া হবে শুধু ফাইনালেই (৩ হাজার টাকা), টুর্নামেন্ট-সেরা পাবে ১৫ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার আছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান ও উইকেট সংগ্রহকারীর জন্যও।
ক্লাব কাপ ক্রিকেটের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নীলফামারীর ন্যাশনাল ক্লাব ও রানার্সআপ বরিশালের নজরুল পাঠাগার ক্লাব।

বার্সার রেকর্ডের রাতে রিয়ালের ড্র

প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে এগিয়ে চলেছে বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পে পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিকের পঞ্চম দল মালাগা পেপ গার্দিওলার দলের কাছে উড়ে যাবে, এমন ধারণাটাই ছিল স্বাভাবিক। ইনিয়েস্তা, ভিয়া, পেদ্রোর গোলে বার্সেলোনা শুধু ৪-১ ব্যবধানে জিতলই না, গড়ে ফেলল তিন-তিনটি রেকর্ড। ভিয়া করেছেন দুই গোল, ইনিয়েস্তা, পেদ্রো একটি করে। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে মালাগার পক্ষে একটি গোল ফিরিয়ে দিয়েছেন দুদা।
আগের ম্যাচে দেপোর্তিভো লা করুনিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ২৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আগের রেকর্ডটি ছুঁয়েছে বার্সেলোনা। পরশু রাতে গড়ে ফেলল টানা ২৮ ম্যাচে অপরাজিত থাকার নতুন রেকর্ড। এই জয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ১৯ ম্যাচে ৫২। লিগের ঠিক মাঝপথে এটাই সর্বোচ্চ পয়েন্ট প্রাপ্তির রেকর্ড। আগের রেকর্ডটিও ছিল বার্সেলোনার। ২০০৮-০৯-এ ট্রেবল জয়ের মৌসুমে ১৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ছিল ৫০। মালাগার বিপক্ষে ৪ গোলে ১৯ ম্যাচে বার্সেলোনার দেওয়া গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৬১, গোল খেয়েছে ১১টি। লিগের প্রথমার্ধে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের পাশে সর্বনিম্ন গোল খাওয়ারও নতুন রেকর্ড গড়ল বার্সেলোনা।
বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলা যখন এতগুলো রেকর্ডের সঙ্গে পুরো ৩ পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দে হাসছেন, ও পাশে হোসে মরিনহোর চোখমুখে উদ্বেগের ছাপ। পয়েন্ট তালিকার সবার নিচের দল আলমেরিয়াকে পেয়েও যে পরশু রাতে জিততে পারেনি তাঁর দল। বার্সেলোনার কাছে গত নভেম্বরে ৮ গোল খেয়েছিল আলমেরিয়া। আর সেই আলমেরিয়াকেই কিনা হারাতে পারল না রিয়াল, এমনকি ড্র করেছে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে (১-১)।
শুরুতেই আলমেরিয়ার খেলা দেখে মনে হয়েছে রিয়ালকে তারা ভোগাবে। রক্ষে, একটা পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে রিয়াল। তবে এটাও সত্যি, ভাগ্য সহায় থাকলে তিন পয়েন্টই আসত। শেষে যোগ হওয়া সময়ে রোনালদোর ফ্রি-কিক ফিরে এসেছে ক্রসবারে লেগে। এর আগে লিওনার্দো উল্লাওয়ার ৬০ মিনিটের গোলে এগিয়ে গিয়ে এই মৌসুমে নিজেদের মাঠে প্রথম জয়ের স্বপ্নই দেখতে শুরু করেছিল আলমেরিয়া। কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূরণ হতে দেননি রিয়ালের বদলি খেলোয়াড় এস্তেবান গ্রানেরো। ৭৭ মিনিটে গোল করে এই উইংব্যাক দলকে দিয়েছেন ১ পয়েন্টের স্বস্তি।
১৯ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৫২ আর ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল। লিগের মাঝরেখায় ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়া রিয়ালের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাকে বাতিল করতে বার্সেলোনা কোচের ঘোর আপত্তি। পেপ গার্দিওলার কথা, ‘এ অবস্থায় ৪ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা নিয়ে কথা বলাটা হাস্যকর। এটি তেমন কিছুই না। এখনো অনেক দূর যেতে হবে এবং আমরাও পয়েন্ট হারাতে পারি।’ রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোও বলেছেন, ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা মানে উন্মুক্ত লিগ। মৌসুমের প্রথমার্ধে আমরা ভালো করেছি, আশা করি, দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের উন্নতি হবে।’

মিসবাহর ১ রানের আফসোস

অধিনায়ককে অভিনন্দন জানাতে ড্রেসিংরুমের বাইরে বেরিয়ে এসেছিল পুরো পাকিস্তান দল। কিন্তু সেটি আর জানানো হলো কই! ক্রিস মার্টিনের ভেতরে ঢোকা বলে ৯৯ রানে এলবিডব্লু মিসবাহ-উল হক! হতাশ সতীর্থরা ঢুকে গেলেন ড্রেসিংরুমে, চোখেমুখে অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে থাকলেন ইউনুস খান।
এর ঘণ্টা দেড়েক আগেও ইউনুসের চোখমুখ অমন হয়ে গিয়েছিল। ভেট্টোরির বলে রড টাকার ব্যাট-প্যাড ক্যাচের আবেদনে আঙুল তুলে দেওয়ার পর। ইউনুসের বিস্ময়ের কারণ পরিষ্কার হলো টিভি রিপ্লেতে, বল ব্যাটের ধারে-কাছেও ছিল না! অন্তত টেস্টে রেফারেল পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার দাবি আরও জোরালো করছে এই টেস্ট। প্রথম তিন দিনে দুই অস্ট্রেলিয়ান টাকার ও ড্যারিল হার্পার মিলে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ৭টি!
আম্পায়ারের ভুলে আউট হওয়ার আগে দারুণ খেলছিলেন ইউনুস। মিসবাহর সঙ্গে তাঁর জুটিটি অসহায় করে ফেলেছিল কিউই বোলারদের। সাতসকালে আজহার আলী আউট হওয়ার পর দুজন সামলেছেন মার্টিনের রিভার্স সুইংয়ের ঝাপটা। ভেট্টোরির বৈচিত্র্য আর দ্বিতীয় নতুন বলও।
চা-বিরতির ঠিক আগের বলে এই জুটির অপমৃত্যুতে সর্বনাশ হলো পাকিস্তানেরও। একসময় বড় লিড নেওয়াটা নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। অথচ ৯০ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে লিডটা হলো মাত্র ২০ রানের। মার্টিন গাপটিল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম শেষ বিকেলের ৫ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে সেটি কমিয়ে এনেছেন ১১-তে। সিরিজে পিছিয়ে থাকায় কিউইরা চাইবে দ্রুত রান তুলে আজই পাকিস্তানকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে। আবার দ্রুত রান করতে চাওয়ার বিপদও আছে। আজই তাই হয়ে উঠতে পারে সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিন।
আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান আজহারকে কাল মার্টিন আউট করেছেন দুর্দান্ত বাউন্সারে। ‘মিস্টার ফিফটি’ খেতাবটা মনে হয় খুব শিগগির পেয়ে যাবেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ১০ টেস্টে ৬ বার ৫০ পেরিয়েও তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি। ইউনুস-মিসবাহর দৃঢ়তায় প্রথম সেশনে ওই একটা উইকেট হারিয়েই পাকিস্তান তোলে ৭৫। বর্তমান ও সাবেক অধিনায়ক মিলে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিচ্ছিলেন পরের সেশনটাও। কিন্তু আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে ভেঙেছে ১৪২ রানের জুটি। শেষ সেশনে রান হয়েছে সবচেয়ে বেশি (৯০), কিন্তু উইকেটও পড়েছে ৬টি। পাকিস্তানের শেষ জুটি যখন উইকেটে, ভেট্টোরি-মার্টিন দুজনেরই ৪টি করে উইকেট। কিন্তু ৫ উইকেট হয়নি কারোরই, শেষ উইকেটটি নিয়েছেন সাউদি।
ভেট্টোরি-মার্টিনের আক্ষেপ হতেই পারে, তবে মিসবাহর কাছে সেটি কিছুই নয়। অধিনায়ক হওয়ার পর ছয় ইনিংসে টানা পঞ্চম ফিফটি, ৯৯ রানে আউট হলে কি আর উদ্যাপনের মন থাকে!

হেনিনকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন সানিয়া

একজনের নামের পাশে ৭টি গ্র্যান্ড স্লাম। অন্যজনের গ্র্যান্ড স্লামে সেরা সাফল্য বলতে একবার মাত্র চতুর্থ রাউন্ডে ওঠা। একাদশ বাছাই জাস্টিন হেনিনের সঙ্গে অবাছাই সানিয়া মির্জার দ্বৈরথে ধুন্ধুমার লড়াই আশা করা যেত না। তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের উদ্বোধনী দিনে বর্তমান চ্যাম্পিয়নকে ভালোই ভুগিয়েছেন ভারতীয় টেনিস-কন্যা। প্রথম সেট ৭-৫ ব্যবধানে জিতে তো প্রথম দিনেই বড় এক অঘটনের আভাস দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় সেটেও দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন পাকিস্তানি-বধূ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেনিনের অভিজ্ঞতারই জয় হয়েছে।
৫-৭, ৬-৩, ৬-১ গেমে ম্যাচ জিতে বেলজিয়ান তারকা পা রেখেছেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে কোর্ট ছাড়তে পারাটা স্বস্তির। ম্যাচ শেষে হেনিনের কণ্ঠে শোনা গেল টেনিসেরই জয়গান। সেই ১২ বছর বয়সে মা মারা যাওয়ায় বেড়ে উঠেছেন মানসিক কষ্টের ভেতর দিয়ে। ২০০৭ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে কাটাচ্ছেন একাকী জীবন। হেনিন বললেন, টেনিসই তাঁর মানসিক যন্ত্রণার উপশম করেছে, ‘এটা আমার জীবনে অনেক সাহায্য করেছে।’
কাল প্রথম দিনে বাছাই খেলোয়াড়দের মধ্যে হেরেছেন শুধু নিকোলাই ডেভিডেঙ্কো আর যুক্তরাষ্ট্রের স্যাম কুরে। পঞ্চমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের আশায় আসা রজার ফেদেরার প্রথম রাউন্ডেই দেখিয়েছেন ফেদেরার-সুলভ মহিমা। স্লোভাক লুকাস ল্যাকোর বিপক্ষে প্রথম পয়েন্টটি তুলে নেন দুর্দান্ত ব্যাকহ্যান্ড ড্রপ ভলিতে। রড লেভার অ্যারেনায় মাত্র ৮৪ মিনিটেই সুইস মাস্টার তুলে নিয়েছেন ৬-১, ৬-১, ৬-৩ গেমের জয়। তৃতীয় বাছাই নোভাক জোকোভিচ ৬-১, ৬-৩, ৬-১ গেমে হারিয়েছেন মার্সেল গ্রানোলার্সকে।
মহিলা এককে দ্বিতীয় রাউন্ডে হেনিনের সঙ্গী শীর্ষ বাছাই ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, ভেনাস উইলিয়ামস, মারিয়া শারাপোভা। আর্জেন্টাইন জিসেলা দুলকোকে ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন ওজনিয়াকি। থাইল্যান্ডের তামারিন তানাসুগার্নের বিপক্ষে শুরুতে স্নায়ুচাপে ভুগলেও শারাপোভা জিতেছেন ৬-১, ৬-৩ গেমে। ছোট বোন সেরেনার অনুপস্থিতিতে এবার ভেনাসের কাঁধেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার ভার। সেই প্রত্যাশায় ভেনাস হাঁটা শুরু করলেন ইতালির সারা এরানিকে ৬-৩, ৬-২ গেমে হারিয়ে।
এ ছাড়া পুরুষ এককে অ্যান্ডি রডিক, ফার্নান্দো ভারদাস্কো, জাইলস মনফিলস, মহিলা এককে সভেৎলানা কুজনেৎসভা, লি না, ইয়ানিনা উইকমায়াররাও কেটেছেন দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট।

এবার হেরেই বসল শেখ জামাল

মাঝি ছাড়া নৌকার যে অবস্থা, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবেরও হয়েছে ঠিক তাই। নৌকার পাল তোলা, বাতাসও অনুকূলে কিন্তু গন্তব্য জানা নেই। জাতীয় দলের একগুচ্ছ ফুটবলার সমন্বিত কোটি টাকার দল—তবুও কেমন যেন ছন্নছাড়া। গ্রামীণফোন চতুর্থ বাংলাদেশ লিগের উদ্বোধনী দিনেই কোচবিহীন দলটির ড্র দিয়ে শুরু। একটি মাত্র জয়ের পর, গত ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে ড্র, কাল তো হেরেই বসল আরামবাগের কাছে। পেনাল্টি থেকে গোল করলেন গিনির মিডফিল্ডার বাঙ্গুরা ইসমাইল। কোচবিহীন দলের যে হাল হওয়ার সেটিই হলো। ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদেরের স্বেচ্ছাচারিতার ফলই যেন হাতেনাতে পেল বাংলাদেশ লিগের নবাগত দলটি।
ক্লাব সভাপতির সঙ্গে চূড়ান্ত একাদশ গড়া নিয়ে বিতর্কে চাকরি খোয়ান সার্বিয়ান কোচ জোরান কার্লেভিচ। এর পর থেকে চারটি ম্যাচে অনানুষ্ঠানিকভাবে কোচ থেকেছেন ক্লাব সভাপতি। কাল কোচ হিসেবে নিয়ে আসা হলো ঢাকার মাঠের একসময়ের দাপুটে ফুটবলার পাকির আলীকে। প্রথমার্ধে এই শ্রীলঙ্কান বসেছিলেন ভিআইপি গ্যালারিতে। দ্বিতীয়ার্ধে দলের করুণ অবস্থা দেখে চলে আসেন ডাগ-আউটে। তার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। পুরো তিন পয়েন্ট খুইয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আমিনুল-এনামুলকে। আর লিগে আরামবাগ পেয়েছে প্রথম জয়। চার ম্যাচে এক জয়, এক ড্র থেকে চার পয়েন্ট তাদের। বিপরীতে চার ম্যাচে এক জয়, দুই ড্র ও এক পরাজয়ে পাঁচ পয়েন্ট শেখ জামালের। এখন পর্যন্ত লিগে অপরাজিত রয়েছে একমাত্র শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র।
আগের তিন ম্যাচের একটিতেও গোল না পাওয়া এনামুল মরিয়া ছিলেন গোলের জন্য। প্রথম মিনিটেই আরামবাগের রক্ষণদুর্গ ভেঙে ঢুকে পড়েছিলেন বক্সে। কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি, বল পাঠিয়ে দেন মাঠের বাইরে।
তবে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে আরামবাগ। ৩৪ মিনিটে ইসমাইল বক্সে ঢুকতেই তাঁকে পেছন থেকে ট্যাকল করেন শেখ জামালের ক্যামেরুনিয়ান খেলোয়াড় মোডো। পেনাল্টি দেন রেফারি আবদুল হান্নান। পেনাল্টি থেকে গোল করতে পা কাঁপেনি ইসমাইলের (১-০)।
প্রথমার্ধে ১-০-তে এগিয়ে থাকা আরামবাগ দ্বিতীয়ার্ধে হয়ে পড়ে অতিরক্ষণাত্মক। আরামবাগকে আক্রমণে আক্রমণে চিড়েচ্যাপ্টা করেও শেখ জামাল গোল পায়নি গোলরক্ষক বিপ্লবের কারণে। অনেকগুলো সেভ করেছেন বিপ্লব। তবে কয়েকটি সুযোগও নষ্ট করেছেন এনামুল। কোচ পাকির আলীর ময়নাতদন্তে ধরা পড়েছে স্ট্রাইকারদের দুর্বলতা, ‘স্ট্রাইকিং সমস্যার কারণেই দল হেরেছে। তবে আমি আশাবাদী, এই দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারব।’ শেখ জামালের মতো বড় দলকে হারিয়ে আরামবাগ শিবিরে উল্লাস। কোচ মিলন মোল্লা সব কৃতিত্ব দিয়েছেন প্রথম ম্যাচে খেলতে নামা ইসমাইলকে, ‘আমি আশাবাদী ছিলাম নতুন খেলোয়াড় ইসমাইলকে নিয়ে। ও দারুণ খেলেছে।’
শেখ জামালের নিস্তব্ধ ড্রেসিংরুমে ওয়ালী ফয়সাল ও জাহিদ হোসেনকে (এমিলি) দেখা গেল বিষণ্ন মুখে। ইনজুরির কারণে তাঁরা খেলেননি। এক পাশে চুপচাপ বসে ছিলেন অধিনায়ক আমিনুল। কাছে যেতেই বললেন, ‘আমাদের সবাই ভালো খেলেছে। শুধু গোলই করতে পারিনি আমরা।’
আরামবাগ: বিপ্লব, ইমদাদুল, কাশেম, মোস্তফা কাবা, দীন মোহাম্মদ, শরীফ, ফয়সাল, সুবাইর মোহাম্মদ, জাহিদুল (রাশেদ), ইসমাইল, বেঞ্জামিন কুপার।
শেখ জামাল ধানমন্ডি: আমিনুল, আরিফুল, ড্রাগন, সুজন, মিশু, জাহিদ (আবদুল বাতেন), মোডো, মামুনুল, শাকিল (নাসির), তৌহিদুল, এনামুল।

হাসি আছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার চরম বিপর্যয়কর মুহূর্তগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেখা গেছে মাইক হাসিকে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ের আশা-ভরসার প্রতীকেও পরিণত হয়েছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। কিন্তু বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার ঠিক আগের দিনই তাঁর ইনজুরি বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল অসি সমর্থকদের। তবে শেষপর্যন্ত ‘মি. ক্রিকেট’কে নিয়েই বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পেয়েছিলেন হাসি। তাঁকে শেষপর্যন্ত দলে রাখা হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর ইনজুরি সম্পর্কে কোন মন্তব্য করে নি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড।
অস্ট্রেলিয়ার টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের এই মিশনে আছেন আগেরবারের বিশ্বকাপজয়ী দলের আট সদস্য। অধিনায়ক রিকি পন্টিং, সহ-অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক, ব্রেট লি, শন টেইট, শেন ওয়াটসন, মাইক হাসি, মিচেল জনসন ও ব্রাড হাডিন। এঁদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন হোয়াইটের মতো তরুন ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গড়া দলটি বিশ্বকাপে ভালো কিছু করবে বলেই আশা করছেন প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যে দলটা নির্বাচন করেছি, তাতে আমার মনে হয়, আমরা উপমহাদেশের কন্ডিশনে টানা চতুর্থ শিরোপাটি জিততে সক্ষম।’
শন টেইট ও ব্রেট লি বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় ভালো একটা পেস আক্রমণ গড়ে তোলা যাবে বলে আশাবাদী অস্ট্রেলিয়ান নির্বাচকরা। সেই সঙ্গে উপমহাদেশের স্পিনার-বান্ধব কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে দলে বেশ কিছু স্পিনার অন্তর্ভূক্ত করেছেন তারা। তবে দলে জায়গা হয় নি বাঁহাতি স্পিনার হাভিয়ের ডোহার্টির। তাঁর চেয়ে বরং লেগ স্পিনার নাথান হরিজকেই বেশি পছন্দ অসি নির্বাচকদের। এছাড়াও স্পেশালিস্ট স্পিনার ডেভিড হাসি ও স্টিভ স্মিথও উপমহাদেশের কন্ডিশনে ভালো করবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।
অস্ট্রেলিয়া দল: রিকি পন্টিং (অধিনায়ক), মাইকেল ক্লার্ক, ডগ বলিঞ্জার, ব্রাড হাডিন. জন হেস্টিংস, নাথান হরিজ, ডেভিড হাসি, মাইক হাসি, মিচেল জনসন, ব্রেট লি, টিম পেইন, স্টিভ স্মিথ, শন টেইট, শেন ওয়াটসন, ক্যামেরন হোয়াইট।

পাকিস্তানের জয়ের লক্ষ্য ২৭৪ রান

চরম হতাশা দিয়ে আজ ওয়েলিংটন টেস্টের চতুর্থ দিনটা শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের। পুরো একটি সেশন পাকিস্তানি বোলারদের হতাশায় পুড়িয়েছেন মার্টিন গাপটিল ও ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। উদ্বোধনী জুটিতেই ১২০ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু শুরুর দিকে কিউই শিবিরের এই উচ্ছ্বাসটা আর দিন শেষে থাকেনি। উমর গুল ও আবদুর রেহমানের অসাধারণ বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৩ রানেই বেঁধে ফেলে দ্বিতীয় টেস্ট জয়ের আশাটাও টিকিয়ে রেখেছে পাকিস্তান। কাল পঞ্চম দিনে ২৭৪ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নামবে পাকিস্তান।
গতকাল পাকিস্তানকে ৩৭৬ রানেই গুটিয়ে দিয়ে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন দুই কিউই ওপেনার। আজ ১২০ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে শক্ত অবস্থায় দাঁড় করিয়েছিলেন তাঁরা। বহু সাধ্য-সাধনার পর এ বিধ্বংসী জুটিটা ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রেহমান। ৬৪ রান করে ম্যাককালাম ফিরে গেলেও আরেক ওপেনার গাপটিল তখনো খেলে যাচ্ছিলেন বেশ সাবলিলভাবেই। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে উইলিয়ামসনকে নিয়ে যোগ করেছিলেন ৪৬ রান। কিন্তু এ জুটিকেও খুব বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে দেননি আবদুর রেহমান। সাজঘরে ফিরিয়েছেন ৭৩ রান করা গাপটিলকে। এক ওভার পরে উইলিয়ামসনের উইকেটটাও তুলে নিয়েছেন তানভির আহমেদ। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন তিন উইকেটে ১৬৬ রান। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জেসি রাইডার আর জেমস ফ্রাঙ্কলিনকে আউট করেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। ষষ্ঠ উইকেটে আবার ৬০ রানের জুটি গড়ে কিউই শিবিরে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন রস টেলর ও রিস ইয়ং। কিন্তু এবারও এই জুটি ভাঙেন আবদুর রেহমান। ২০ রান করে ফিরে যান ইয়ং। দিনের বাকি সময়টুকু পুরোটাই উমর গুলের। সাত ওভারের দুর্দান্ত এক স্পেলে তিনি রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের লোয়ার অর্ডার। মাত্র ২৬ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন টেলর (৫২), ভেট্টরি (১), আর্নেল (০) ও মার্টিনের (১) উইকেট। টিম সোউদি ২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৩৫৬
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ৩৭৬
নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস ২৯৩
মার্টিন গাপটিল ৭৩, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৬৪, রস টেলর ৫২
উমর গুল ২০.৫-৪-৬১-৪, আবদুর রেহমান ৩৯-৬-১১৯-৩

পীযূষ চাওলার সমর্থনে ধোনি

উপমহাদেশের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের দশম আসরে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে অনেকেই এগিয়ে রেখেছেন ভারতকে। নিজেদের মাটিতে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মরিয়া হয়েই লড়বে ভারত। কিন্তু বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দলটা অবাক করেছে অনেককেই। দলে জায়গা হয়নি রোহিত শর্মা, শ্রীশান্ত ও ইশান্ত শর্মার মতো নিয়মিত খেলোয়াড়দের। সবচেয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে পীযূষ চাওলার দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি। ২০০৮ সালের পর কোনো ওয়ানডে না খেলার পরও তাঁকে কেন বিশ্বকাপের মতো একটা বড় আসরে দলে জায়গা দেওয়া হলো, তা নিয়ে বেশ ভালো রকম সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতীয় নির্বাচকদের।
তবে সমালোচকদের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। চাওলা বিশ্বকাপে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলেই মনে করছেন তিনি। গতকাল দল ঘোষণার পর চাওলার সমর্থনে ধোনি বলেছেন, ‘পীযূষকে দলে পেয়ে খুব ভালো লাগছে, কারণ সে বোলিং আক্রমণে কিছুটা ভিন্নতা আনতে পারবে। এ ছাড়া সে কিছুটা ব্যাটিংও করতে পারে। রঞ্জি ট্রফি ও ঘরোয়া ক্রিকেটে সে ব্যাট হাতে ভালো পারফরমেন্স দেখিয়েছে। আমরা যদি পাঁচজন বোলার নিয়ে মাঠে নামতে চাই, তাহলে সে অনায়াসে আমাদের সাত বা আট নম্বর ব্যাটসম্যানের ভূমিকা পালন করতে পারবে।’
রোহিত শর্মা, শ্রীশান্ত ও ইশান্ত শর্মাদের মতো নিয়মিত খেলোয়াড়দের বাদ পড়া প্রসঙ্গে ধোনি বলেছেন, ‘আসলে শেষ পর্যন্ত শুধু ১৫ জনকেই দলে নেওয়া সম্ভব। তার মানে এই না যে এরা আর কখনোই সুযোগ পাবে না। অন্য দলগুলোর দিকে তাকালেও দেখা যাবে, অনেকেই শেষ মুহূর্তে দল থেকে বাদ পড়েছেন। ১৫ জনের চূড়ান্ত একটা দল ঘোষণা করতে হলে কাউকে না কাউকে তো বাদ দিতেই হবে। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, তারা যেখানেই খেলার সুযোগ পাবে সেখানেই যেন ভালো খেলার চেষ্টা করে।

চরম অস্থিরতায় সৌদি ফুটবল

এক সপ্তাহ আগের ঘটনা। এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই সিরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল সৌদি আরব। আর এই হারের কারণে চাকরি হারাতে হয় কোচ হোসে প্যাসিরোকে।
প্যাসিরোকে সরিয়ে নাসের আল জোহারকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু চাকরিটা টিকিয়ে রাখতে পারলেন না তিনিও। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই ম্যাচ পরই গতকাল মঙ্গলবার বহিষ্কৃত হতে হয়েছে জোহারকে। তাঁর অপরাধ, আগের দিন জাপানের কাছে ৫-০ গোলে হেরে যায় সৌদি আরব!
খেলায় হারজিত্ থাকবেই। তাই বলে একই প্রতিযোগিতায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই কোচ বহিষ্কৃত হবেন! সৌদি ফুটবলের অস্থিরতার তীব্রতা তুলে ধরতে এ দুটি ঘটনাই যথেষ্ট। তবে অস্থিরতার নমুনা আছে আরও।
এশিয়ান কাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে সৌদি আরব। এই ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন দলের ম্যানেজার ফাহদ আল-মিসাইবিহ—তবে তিনি একা নন, পুরো কোচিং স্টাফকে নিয়েই। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জর্ডানের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে প্রিন্স সুলতান বিন ফাহদকে সরিয়ে দেন বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ।