Monday, May 13, 2019

‘আল্লাহর তরফ থেকে জেলেদের পাঠানো হয়’ -বেঁচে ফেরাদের মুখে মর্মস্পর্শী বর্ণনা

ভূমধ্যসাগরে বড় বোট থেকে ছোট একটি প্লাস্টিকের বোটে তোলা হলো প্রায় ৭৫ জন অভিবাসীকে। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশের সিলেট জেলার বাসিন্দা আহমেদ বিলাল। বোটটি এতই ছোট ছিল যে, একসঙ্গে এত মানুষের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না তাতে। গাদাগাদি করে তাতেই উঠতে হয় বিলালদের।
বোটে ওঠার   মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ডুবে যায় এটি। আর চোখের সামনে একে একে মানুষ নির্মমভাবে মরতে থাকে। বিলালেরও ঠাণ্ডা পানিতে ডুবে মরার উপক্রম হয়েছিল। তবে ঠিক তখনই একটি জেলে নৌকা তাদেরকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে।
জেলে নৌকায় উঠে এ যাত্রায় কোনোমতে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছেন বিলাল।
তবে বোটে থাকা বেশির ভাগেরই ভাগ্য সহায় হয়নি। জেলেরা মাত্র ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বিলাল তাদের মধ্যে একজন। কিন্তু সাগরে ডুবে মরতে হয়েছে বাকি ৬০ অভিবাসীর। সাহায্যের জন্য করুণ আকুতি তখন সমুদ্রপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়েছে। দূরে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে এসেছে সেই আহাজারি। কিন্তু শূন্য সমুদ্রে তাকিয়ে স্বজনের মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না ৩০ বছর বয়সী বিলালের। এমন মৃত্যু আর ভয়াবহতা দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেছিলেন। বলেছেন, বয়সে ছোট আমার দুই নিকট আত্মীয় পানিতে হারিয়ে গেল। তাকিয়ে দেখলাম আর চিৎকার করলাম। কান্না থামাতে পারছিলাম না কোনোভাবেই।
সেই ভয়াবহ দৃশ্যকে কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না বিলাল। এখনো হাউমাউ করে কাঁদছেন তিনি। মৃত্যুবিভীষিকা তার বুকে সৃষ্টি করেছে এক আতঙ্ক।
তিউনিশিয়া উপকূলে নৌ-ডুবিতে মারা গেছেন কমপক্ষে ৬০ অভিবাসী। এর বেশির ভাগই বাংলাদেশি। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ জনকে। তার মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশি বলে জানাচ্ছে রেডক্রিসেন্ট। তাদের অন্যতম আহমেদ বিলাল। তিনি বলেছেন, ৬ মাস আগে থেকে তার ইউরোপ যাত্রার মিশন শুরু হয়েছিল। অন্য তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চলে যান দুবাইয়ে। সেখান থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। ইস্তাম্বুল থেকে তারা একটি ফ্লাইটে করে চলে যান লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি। বিলাল বলেন, সেখানে আরো প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশির সঙ্গে যোগ দেই আমরা। আমাদেরকে তিন মাস লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে একটি রুমে আটকে রাখা হয়েছিল। এ অবস্থায় মনে হয়েছিল, ওই লিবিয়াতেই বুঝি মারা যাবো। দিনে মাত্র একবার আমাদেরকে খাবার দেয়া হতো। তাও পরিমাণে কম। এই ৮০ জন মানুষের ব্যবহারের জন্য ছিল মাত্র একটি টয়লেট। আমরা গোসল করতে পারতাম না। পারতাম শুধু মুখ ধুতে। দিন-রাত শুধু কাঁদতাম আমরা। খাবার চেয়ে কান্নাকাটি করতাম।
আহমেদ বিলাল যখন বাড়ি ছাড়েন তখন আন্দাজ করতে পারেন নি এই সফরের পরিণতি কি হতে পারে। সিলেটে থাকা অবস্থায় তিনি দেখেছেন বহু মানুষ ইউরোপে বসবাস করছেন। তারা উন্নত জীবনযাপন করছেন। তা দেখে তিনি প্রলুব্ধ হয়েছিলেন। তাই জমি বিক্রি করেছেন। ‘গুড লাক’ ডাকনামের এক বাংলাদেশি পাচারকারীর হাতে এই সফরের জন্য দুই সন্তানের জনক বিলাল তুলে দিয়েছেন প্রায় ৭ হাজার ডলার। তিনি বলেন, ওই পাচারকারী বলেছিল, আমার জীবন উন্নত হবে। সব পাল্টে যাবে। আমরা তাই বিশ্বাস করেছিলাম। আমি নিশ্চিত তিনি এই পথে যত মানুষ পাঠিয়েছেন তার বেশির ভাগই মারা গেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিলাল জানিয়েছেন,  ছয় মাস আগে তাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে তারা যান দুবাই। সঙ্গে ছিল আরো দুজন। সেখান থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। পরে আরেকটি ফ্লাইটে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে। ত্রিপোলিতে আরো প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশি তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর পশ্চিম লিবিয়ার কোনো একটা জায়গায় একটি রুমে তাদের তিন মাস আটকে রাখা হয়। তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছিল আমি লিবিয়াতেই মারা যাবো। আমাদের দিনে মাত্র একবার খাবার দেয়া হতো। অনেক সময় তারও কম। আশি জন মানুষের জন্য সেখানে টয়লেট ছিল একটি। আমরা শৌচকর্ম পর্যন্ত করতে পারতাম না। আমরা খাবারের জন্য কান্নাকাটি করতাম। এরপর একদিন তাদেরকে উত্তর-পশ্চিম লিবিয়া থেকে একটি বড় নৌকায় তোলা হয়। সেখান থেকে সাগরের মাঝে তাদের ওই ছোট নৌকায় তোলা হয়।
আহমেদ বিলালের সঙ্গে ঐ একই নৌকায় ছিলেন একজন মিশরীয় নাগরিক মনজুর মোহাম্মদ মেতওয়েলা। তিনি জানান, এই ছোট নৌকাটি সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যেতে শুরু করে। তিনি বলেন, আমাদেরকে বড় বোট থেকে ছোট বোটে নামানো হলো। এর পরপরই তা ডুবে যেতে শুরু করে। আমরা সারারাত সাঁতার কাটতে থাকি হিম ঠাণ্ডা পানিতে। এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন সিলেটের বিলালও। তিনি বলেছেন, এক পর্যায়ে বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহর তরফ থেকে আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে ওই জেলেদের। তাদের বদৌলতে আমরা জীবন ফিরে পেয়েছি। জেলেরা উদ্ধার করেছেন ১৪ জন বাংলাদেশি, মরক্কোর একজন নাগরিক ও মিশরের মেতওয়েলাকে। এ জীবনকে তারা দ্বিতীয় জীবন বলে আখ্যায়িত করছেন। এ জীবনেও এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ বিলালের সামনে। তিনি বলেন, আমি সবকিছু হারিয়েছি। এখন আমার আর সম্বল বলতে কিছুই নেই। তাই জীবন বাঁচাতে, পরিবারকে বাঁচাতে এখনো আমি অর্থ উপার্জনের জন্য ইউরোপে যেতে চাই। যে ঝুঁকি নিয়েছি, সেভাবে আর যেতে চাই না।
দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)-এর হিসাবে লিবিয়ায় ৬০০০ অভিবাসীকে আটক করে রাখা হয়েছে এমন এক অবস্থায় যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে অনেক নিচে। পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার খলিফা হাফতার গত মাসে ত্রিপোলিকে দখলে নেয়ার অভিযান শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ লড়াইয়ে কমপক্ষে ৪৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।

নাকবা: লন্ডনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে লন্ডনে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। ফিলিস্তিনিদের নাকবা বা ধ্বংসযজ্ঞ দিবসের ৭১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার (১১ই মে) ওই বিক্ষোভ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নাকবার পাশাপাশি চলতি বছর প্রকাশিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রা¤প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেন তারা। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
খবরে বলা হয়, বিক্ষোভটির আয়োজন করেছিল প্যালেস্টেনিয়ান ফোরাম ইন বৃটেন (পিএফবি), প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্প্যেইন (পিএস), মুসলিম এসোসিয়েশন অব বৃটেন (এমএবি) ও স্টপ দ্য ওয়ার ক্যা¤েপইন (এসটিডব্লিউ)।
বিক্ষোভকারীরা ‘ফিলিস্তিন মুক্ত কর’ ও ‘গাজায় অবরোধ শেষ কর’ সেøাগান দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। সাথে ছিল ফিলিস্তিনপন্থি প্ল্যাকার্ড।
এদিকে, বিক্ষোভটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। এক টুইটে তিনি লিখেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিনিয়ত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা নীরবে তা দেখে যেতে পারি না।
বিক্ষোভ পদযাত্রাটির শুরু হয় শহরের পোর্টল্যান্ড প্লেস থেকে।
সেখান থেকে বিক্ষোভকারীরা অক্সফোর্ড সারকাস ও ট্রাফালগার স্কয়ার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে এসে থামে।
বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প-বিরোধী প্ল্যাকার্ড নিয়ে তার মধ্যপ্রাচ্য শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। পাশাপাশি বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশন (বিডিএস) আন্দোলনের পক্ষেও বিক্ষোভ করেছে।
অলিভ ফর প্যালেস্টেনিয়ান ইয়ুথ এর পক্ষে বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন বৃটিশ-ফিলিস্তিনি হানেন খলিল। তিনি বলেন, যতদিন না ইসরাইল সকল বিতাড়িত ফিলিস্তিনিদের তাদের পূর্ব পুরুষের ভূখন্ডে ফেরার অধিকার না দেবে ততদিন তাদের সঙ্গে সকল প্রকারের আলোচনা বন্ধ রাখা উচিত।
শনিবারের বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভের প্রতীক আহেদ আল-তামিমিও ছিলেন। ২০১৭ সালে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এক সেনাকে চড় মারার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আট মাসের কারাদ-ও দেয়া হয় তামিমিকে।
তামিমি বিক্ষোভে বলেন, আমাদেরকে শিকারে পরিণত করা যাবে না! আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবো।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ট্রা¤প প্রশাসনের চুক্তির একটি খসড়া ফাঁস হয়েছে এক ইসরাইলি পত্রিকায়। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুসারে, ফিলিস্তিনিদের আলাদা রাষ্ট্র দেয়া হবে তবে এর প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে ইসরাইলই। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ যদি এ চুক্তি মেনে নিতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান বন্ধ করে দিবে যুক্তরাষ্ট্র। আর যদি গাজা শাসন করা দল হামাস চুক্তিটি না মানে তাহলে গাজায় যুদ্ধ চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ চুক্তিটি মানবে না বলে জানিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত। শনিবার এই চুক্তির বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেন বিক্ষোভকারীরা।
পিএফবি সভাপতি হাফিজ আল-কারমি এক বক্তব্যে  যুক্তরাজ্য সরকারকে বালফোর ঘোষণা দেয়ার ভুল স্বীকার করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ওই ঘোষণার পরই ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূখ- থেকে বিতাড়িত করে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল।
পিএফবি’র এক মুখপাত্র আদনান হুমাইদান বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরাইলের অপরাধ অগ্রাহ্য করে তাদের অস্ত্র দেয়া ও দখলীকরণকে সমর্থন করা বন্ধ করুন। তারা সাবা আবু আরারের মতো শিশুদের হত্যা করছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক ইসরাইলি বোমা হামলায় প্রাণ হারায় এক বছর বয়সী শিশু সাবা মাহমুদ আবা আরার ও তার প্রসূতি মা।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে সহজেই আঘাত হানতে পারবে ইরান: আইআরজিসি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ বলেছেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে' রয়েছে ৪০ থেকে ৫০টি বিমান এবং ছয় হাজার সেনা। এ ধরণের রণতরী এর আগে আমাদের জন্য হুমকি হিসেবে গণ্য হতো, কিন্তু এখন তা আমাদের জন্য 'টার্গেট বোর্ডে'র মতো।
লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে গুলি বা তীর নিক্ষেপের অনুশীলনের জন্য যে বোর্ড ব্যবহৃত হয় সেটাকে টার্গেট বোর্ড বলা হয়।
তিনি বলেন, অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও রণতরীগুলো আমাদের জন্য হুমকি হিসেবে গণ্য হলেও সেগুলো এখন আমাদের জন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাজিজাদেহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অবস্থান এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনীদের অবস্থানটা এমন যে তারা আমাদের দুই পাটি দাঁতের মাঝখানে মাংসের মতো। নড়লেই সঙ্গে সঙ্গে আঘাত হানব আমরা।
মার্কিনীরা কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কথা মুখে আনছে না-এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে আমেরিকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পারস্য উপসাগরে তাদের রণতরীগুলো আমাদের নৌযানগুলোর অবস্থানস্থল থেকে খুব দূরে নয়। ইরানের নৌযানগুলোতে তিনশ' কিলোমিটার দূরে আঘাত হানার মতো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। নৌযান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়িয়ে এখন ৭০০ কিলোমিটার করা হয়েছে।
ইরানকে বার্তা দিতে পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' পাঠানো হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেওয়ার পর তেহরানের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বদলা নেয়ার হুঁশিয়ারি মমতার

‘লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। অনেক মুখ বুজে সহ্য করে আছি। অনেক ভদ্রতা করছি। আমাদের ভদ্রতাকে কেউ যেন দুর্বলতা মনে না করে। একদিন আসবে যারা আজকে এ কাজগুলো করছে প্রত্যেকটার ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বদলা নেব।’ এভাবেই রোববার কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি আজ পশ্চিমবঙ্গের বাসন্তীতে দলীয় সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় আরও বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি হেরে যাচ্ছেন। যা ভোট এ পর্যন্ত হয়ে গেছে তাতে উনি এরইমধ্যে হেরে গেছেন। সারা ভারতে আর কোথাও যেতে পারে না। বলে বাংলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাঁর কারণ ওদের বিরুদ্ধে আওয়াজটা আমিই তুলেছিলাম। সেজন্য  আমার বিরুদ্ধে রাগ। সেজন্য বাংলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ভাবছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওখান থেকে যদি দু’একটা সিট পাই। কিন্তু ওরা গোল্লা পাবে। বড় বড় গোল্লা পাবে।’
মমতা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যা দেখিয়েছেন, তাই দেখবেন আয়নাতে। মনে রাখবেন ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বদলা নেব। অনেক অপমান বাংলাকে আপনারা করেছেন, আমাকে অনেক অপমান করেছেন, অনেক অসম্মান করেছেন। আমাকে সরকার চালাতে দেন না! কে আপনি? আইনশৃঙ্খলাতে হস্তক্ষেপ করেন!’
মমতা বলেন, ‘আমার লজ্জা লাগে! আমাদের দেশে একটা প্রধানমন্ত্রীর নাম নরেন্দ্র মোদি! ভাগ্যিস চলে গেছে! এখন তো এক্সপায়ারি, তাও তেল কমছে না! তাও রোজ প্লেনে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনটে করে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক্সপায়ারি প্রধানমন্ত্রী। না আছে লজ্জা, না আছে ঘৃণা, না আছে ভয়। সব কুকর্মগুলো করেছে।’  ‘ওরা যা ইচ্ছে করুক। পশ্চিমবঙ্গে ৪২ টা আসনের মধ্যে ৪২টি নিয়েই আমরা ছাড়ব এবং মোদিকে আমরা রাজনৈতিকভাবে ভারত থেকে তাড়াবোই’ বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রস্তুতি কেন

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও একটি যুদ্ধজাহাজ এবং পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। খবর বিবিসির।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আরলিংটনের মধ্যপ্রাচ্যের দিকেই যাওয়ার কথা ছিল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুসারেই। কিন্তু ইরানের সাথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতে এখন এই জাহাজটি সেখানে অনেক আগেই পাঠানো হচ্ছে। এই জাহাজে উভচর সামরিক যান এবং যুদ্ধবিমান পরিবহন করা যায়।
ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে আরও একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মাত্রই সুয়েজ খাল অতিক্রম করে উপসাগরীয় অঞ্চলের পথে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন সেখানে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে চলেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র আন্ত-মহাদেশীয়, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও বিমান হামলা রুখতে সক্ষম।
কেন এখন এই যুদ্ধের প্রস্তুতি ?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বলছে, তারা ইরানের সাথে সংঘাত চায়না, কিন্তু মার্কিন সৈন্যদের বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঠিক কী ধরণের হুমকির মুখোমুখি মার্কিন সৈন্যরা হয়েছে- তা খোলাসা করে বলা হচ্ছেনা।
ইরাকে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফা-ভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স এখনও ইরানের সাথে করা চুক্তি বজায় রেখেছে।
বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশ্লেষক জনাথন মার্কাস বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন চান ইরানের সাথে করা এই পরমাণু চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যাক।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তার ফলে ইরানের অর্থনীতি দিনে দিনে সঙ্কটে নিমজ্জিত হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য যেন ইরান তাদের তেল অন্যদেশের কাছে বিক্রি করতে না পারে।
এছাড়া গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সবচেয়ে সুসজ্জিত বাহিনী রেভলিউশনারী গার্ডকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ইরানের পাল্টা হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর প্রস্তুতিকে মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না ইরান। তারা বলছে আমেরিকা 'মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ' শুরু করেছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের পাল্টা হিসাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে।
বিশ্বে প্রতি বছর যত জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়, তার এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ যায় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
ইরানের ক্ষমতাধর একজন ধর্মীয় নেতা ইউসেফ তাবাতাবাই-নেজাদকে উদ্ধৃত করে আধা-সরকারি ইরানি সংবাদ সংস্থা ইসনা বলছে, "একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজের বহর ধ্বংস হয়ে যাবে।"

যুদ্ধের জন্য মিথ্যা ঘটনা সাজাচ্ছে আমেরিকা-ইসরাইল: সিআইএ কর্মকর্তা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য মিথ্যা ঘটনা সাজাচ্ছে আমেরিকা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইল। এ কাজে ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সহযোগিতা নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা।
আমেরিকার সাবেক কাউন্টার-টেরোরিজম বিশেষজ্ঞ ও সিআইএ’র সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলিপি জিরাল্ডি এক কলামে এসব কথা বলেছেন। গত শুক্রবার তার ওই কলাম প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ বাধানোর জন্য আমেরিকা বিপজ্জনকভাবে এগুচ্ছে। ইসরাইলের যোগান দেয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
ফিলিপি জিরাল্ডি বলেন, “পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে বলে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যে দাবি করেছেন তা অনিবার্যভাবে একটি মিথ্যা বক্তব্য। বোল্টন ইচ্ছাকৃতভাবে এ বক্তব্য দিয়েছেন এবং এতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সহযোগিতা রয়েছে।” 
তিনি আরো বলেন, পারস্য উপসাগরে যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বোমারু বিমান পাঠানো হয়েছে তার যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য আমেরিকার কর্মকর্তারা এমন উসকানি দিচ্ছেন যাতে ইরান হামলা চালায় এবং মার্কিন সেনারা পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার অজুহাত পেয়ে যায়। কিন্তু বোল্টন, পম্পেও এবং ইলিয়ট আব্রাহাম সবাই জানেন যে, ইরান অবশ্যই কোনো হুমকি নয়। মার্কিন এ বিশ্লেষক বলেন, আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির ওপর ইসরাইলের প্রভাব খুবই পরিষ্কার। এখন মার্কিন প্রশাসন বলছে, ইসরাইলকে যারা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করবে না আমেরিকা তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবে।

সাগরে স্বপ্নের সমাধি সিলেটে আহাজারি

মর্মান্তিক, হৃদয় বিদারক। স্বপ্নের ঠিকানা ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টায় ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হলো ৩৭ বাংলাদেশির। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, ইন্টান্যাশনাল রেডক্রিসেন্ট, লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব সূত্রই বলছে, শুক্রবার ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া নৌকায় প্রায় ৭৫ জন অভিবাসন  প্রত্যাশীর মধ্যে ৫১ বাংলাদেশী ছিলেন। তাদের মধ্যে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১৬ জন, যার মধ্যে ১৪জন বাংলাদেশি। বাকী বাংলাদেশি ৩৭ জন নিখোঁজ। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বলছে, নিখোঁজ সবাই মারা গেছেন এবং এদের মাত্র ৩ জনের লাশ মিলেছে। বাকীদের সাগর বুকেই সমাধি হয়েছে। এদিকে এ খবরে সিলেটে বইছে শোকের মাতম।
সিলেটের ৬ যুবক এ ঘটনায় নিহত হয়েছে।
গতকাল দুপুরে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানান, দূতাবাসের একটি টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। জীবিতদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। যাদের সলিল সমাধি হয়েছে তাদের ব্যাপারে কিছু করার নেই। তবে বাংলাদেশি কারো মৃতদেহ পাওয়া গেলে তা-ও দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে তারা যে তথ্য পেয়েছেন তাতে ৭৫ জন অভিবাসী নিয়ে বৃহস্পতিবার ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকাটি তিউনিশিয়া উপকূলে ডুবে যায়। জীবিত উদ্ধার করা অভিবাসীরা জানিয়েছে, ৭৫ জন অভিবাসীর সবাই ছিলেন পুরুষ। রেডক্রসের বরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৪ বাংলাদেশি রেডক্রসের তত্বাবধানে রয়েছেন।
দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সেলর এএসএম আশরাফুল ইসলাম মিডিয়াকে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া সবার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তারা যে বাংলাদেশি এটি প্রায় নিশ্চিত। অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এ ঘটনাকে জানুয়ারির পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তিউনিশিয়ার রেডক্রিসেন্ট বলছে, ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে ওই অভিবাসীরা লিবিয়ার জুয়ারা ছাড়েন একটি বড় বোটে করে। এ সময় তাতে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭৫ জন অভিবাসী ছিলেন। পরে তাদের একটি ছোট্ট বোটে তোলা হয়। গাদাগাদি করে তাতে অবস্থান করছিলেন তারা। এর ১০ মিনিট পরেই ওই বোটটি প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায় বলে জানিয়েছেন তিউনিশিয়া রেডক্রসের কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিম। আশপাশে থাকা তিউনিশিয়ার জেলেরা উদ্ধার করেন ১৬ জনকে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় জারজিস উপকূলে।
এ সময় জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা বলেছেন, তারা সমুদ্রের প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পানিতে পড়ে ছিলেন ৮ ঘণ্টা। তারপর তাদের দেখতে পান জেলেরা। তারাই তিউনিশিয়ার কোস্ট গার্ডদের এলার্ট করেন। জীবিত ওই সব অভিবাসী তিউনিশিয়ার রেডক্রিসেন্টকে বলেছেন, তাদের মধ্যে ৫১ জন বাংলাদেশি ছাড়াও তিনজন মিশরীয়, মরক্কোর বেশ কয়েকজন নাগরিক, কানাডিয়ান ও অন্যরা আফ্রিকার। রেডক্রিসেন্ট বলছে, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। মঙ্গি স্লিম বলেন, যদি জেলেরা জীবিত অভিবাসীদের দেখতে না পেতেন তাদেরও সলিল সমাধি হতো। সেখানে যে নৌডুবি হয়েছে, এ কথা আমরা কখনো জানতেও পারতাম না।
ওদিকে ইতালিতে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি। তিনি আরোপ করেছেন ‘ক্লোজড পোর্টস’ পলিসি। এর অর্থ হলো, সমুদ্রে উদ্ধার হওয়া কোনো অভিবাসীকে তার দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।  শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইচসিআর ভূমধ্যসাগরে এমন ভবিষ্যৎ ট্রাজেডি এড়ানোর জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। ভূমধ্যসাগর বিষয়ক ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত ভিনসেন্ট কোচেটেল বলেছেন, ওই অঞ্চলে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা জরুরি। যদি এখনই আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিই তাহলে কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে আরো এমন ট্র্যাজেডি দেখতে হবে আমাদের।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেন যা বললেন- সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে আবদুল মোমেন গতকাল বলেন, অনেকদিন ধরেই দালালরা সাগরপথে লোকজনকে ইউরোপে পাচার করতে সক্রিয় রয়েছে। ত্রিপোলির অস্থিরতার কারণে দালালরা এই সুযোগ নিচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনভাবেই যেনো বাংলাদেশিরা  লিবিয়াতে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তবে দালালরা নানা কৌশলে ও প্রলোভনে অনেককে ফাঁদে ফেলছে। মন্ত্রী জানান, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় হতাহত বাংলাদেশিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে এবং জীবিতদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিউনিসিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি ওই নৌকায় ৫১ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এরমধ্যে ১৪ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। সে হিসাবে ৩৭ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার কথা জানতে পেরেছি। তবে এই সংখ্যার বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। সরেজমিনে অবস্থা দেখতে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আমরা তিউনিসায় প্রতিনিধি পাঠাচ্ছি। রাষ্ট্রদূত একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তিনিও ৩৭ জন নিহত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছেন। তবে তার রিপোর্টে জীবিত উদ্ধারের কোন তথ্য ছিল না। মন্ত্রী আরও বলেন, সমপ্রতি পাঁচ বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইরাকে গিয়ে আটকা পড়েছেন। তারা জেল-জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন। এখন তাদের ফেরানোর জন্য স্বজনরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছে, মিশন বার্তা পাঠিয়েছে। আমরা তাদের ফেরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
আদম ব্যবসায়ীরা লিবিয়াতে মানুষ পাঠিয়ে তাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানব পাচার রোধে অভিবাসন বিভাগকে আরও শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিউনিসিয়াতে শরণার্থীদের আশ্রয় সংক্রান্ত কোনও আইন নেই। বেঁচে যাওয়া এসব শরণার্থীরা এখন বাড়ি ফিরবেন নাকি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে ৬০ দিন পাবেন তারা। এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে লিবিয়াতে লোক পাঠানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সেকারণে অভিবাসন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে অন্য দেশ হয়ে লিবিয়াতে যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিউনিসিয়ার স্থানীয় রেডক্রিসেন্ট আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। লিবিয়াতে আমাদের মাত্র একজন লেবার কাউন্সিলার কাজ করছেন এবং তার পক্ষে এতজন লোকের দেখভাল করাটা মুশকিলের বিষয়।
ইউরোপ যাত্রা এবং কিছু সর্বনাশা তথ্য:  বিদেশে লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ২০১৭ সালে নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। ওই বছর ১০ লাখ আট হাজার ৫২৫ জন বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন।  আবার ওই বছরেরই ৫ই মে বৃটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট একটি সংবাদ প্রকাশ করে। যার শিরোনাম ছিলো ‘বাংলাদেশ ইজ নাও দ্য সিঙ্গেল বিগেস্ট কান্ট্রি অফ অরিজিন ফর রিফিউজিস অন বোটস অ্যাজ নিউ রুট টু ইউরোপ এমারজেস।’ ওই সংবাদে লিবিয়া থেকে সমুদ্র পথ পাড়ি দেয়াসহ ইউরোপে কীভাবে অবৈধ বাংলাদেশিরা প্রবেশ করছে, তার ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরা হয়। সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বা অবৈধভাবে বাংলাদেশিরা যেমন ইউরোপে প্রবেশ করছেন, তেমনি দেশটিতে গিয়ে আশ্রয় চাওয়ার সংখ্যাও কম নয়।
ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য মতে, গত এক দশকে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি ইউরোপে আশ্রয় চেয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৮ হাজার আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন ২০১৫ সালে। আগের বছরগুলো ধরলে এই সংখ্যা লাখ দেড়েক হয়ে যাবে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর পরিসংখ্যান বলছে, ভূমধ্যসাগর দিয়ে যতো মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, সেই তালিকার শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বরাবরই বাংলাদেশও থাকছে। চলতি বছর ওই তালিকায় থাকা শীর্ষ দেশগুলো হলো: আফগানিস্তান, গায়েনা, মরক্কো, সিরিয়া, মালি, ইরাক, ফিলিস্তিন, আইভরি কোস্ট এবং সেনেগাল।
ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাট-এর পরিসংখ্যান মতে, ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। এইতো বছর দুয়েক আগেও সাগরপথ দিয়ে হাজারো মানুষের মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে খবর হয়েছিলো। মালয়েশিয়ার সেই গণকবরগুলোর স্মৃতি আজ ভাস্মর। প্রশ্ন ওঠেছে, কেন এতো লোক এভাবে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়া, লিবিয়ায় না হয় যুদ্ধ চলছে, তাই সেখানকার নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুমদ্রপথ পাড়ি দিতে হয়ত বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু, বাংলাদেশিরা কেন জীবনের এতো ঝুঁকি নিচ্ছেন? শুধুই কি ভাগ্য অন্বেষণ, নাকি যে কোনোভাবে বিদেশে যাওয়ার নেশা? বিশ্লেষকরা নানা তথ্য টানছেন। তাদের বিশ্লেষণে অনেক কিছু বেরিয়ে এসেছে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সমপ্রতি তরুণদের নিয়ে যে জরিপ করেছে সেটাও রেফারেন্স হিসাবে আনছেন তারা। ওই জরিপ বলছে, আরও ভালো জীবনযাপন এবং পেশার উন্নতির জন্য বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৮২ শতাংশ তরুণই নিজের দেশ ছেড়ে চলে যেতে চান। এসব তরুণ মনে করেন না যে নিজের দেশে তাদের ভবিষ্যৎ আছে? তাছাড়া এমনিতেই বাংলাদেশিদের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভয়াবহ। ইউরোপ ফেরত লোকজন নিয়ে কাজ করেন দীর্ঘ দিন সাংবাদিকতা করা ব্র্যাকের শরীফুল হাসান। তিনি এ নিয়ে গতকালই একটি নিবন্ধ লিখেছেন। সেখানে তিনি যে তথ্য দিয়েছেন তা হল- ঢাকা থেকে লিবিয়া বা তুরস্ক যেতে একজনকে দশ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দিতে হয়। এরপর একটি চক্র ঢাকা থেকে তাদের দুবাই বা তুরস্কে নেয়। পরে বিমানে করে লিবিয়ায় পৌঁছান তারা। সেখান থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এছাড়া লিবিয়ায় অনেকদিন ধরে আছেন এমন লোকজনও পরবর্তীতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছেন ইউরোপে যাওয়ার নেশায়। মূলত ইউরোপে গেলেই ভাগ্য ফিরবে, এমন আশাতেই লোকজন যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করে ফ্রন্টেক্স নামের একটি সংগঠন। তারা বলছে, ইউরোপ অভিমুখে শরণার্থীদের যে স্রোত, তাতে অসংখ্য বাংলাদেশি রয়েছেন। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালি (সেন্ট্রাল মেডিটেরিয়ান রুট) যাচ্ছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। এভাবে যেতে গিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ট্রলার ডুবি হচ্ছে। ইউরোপের জেলে বন্দি রয়েছেন অনেকে। কেউবা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তুরস্কে। ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১২৬ জন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছেন? এভাবে সাগরপথে আসতে গিয়ে অন্তত ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু, তবুও ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা থেমে নেই। নিশ্চিভাবে ওই মৃত্যুর মিছিলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন।
সিলেটের ৬ যুবকের মৃত্যু নিখোঁজদের ঘিরে উৎকণ্ঠা
ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে জানান, স্বপ্নের ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে তিউনিশিয়ার কাছাকাছি ভূমধ্যসাগরে তলিয়ে গেল অনেক সিলেটি যুবক। এদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই। এ ঘটনায় সিলেটে কান্নার রোল পড়েছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে নিখোঁজদের ঘিরে। স্বজনদের প্রত্যাশা- শেষ মুহূর্তে যেনো তাদের লাশ ফিরে পান।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া খবরে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ৪, গোলাপগঞ্জের ১ ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ১ যুবকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পরিবার। গতকাল সন্ধ্যায় ফেঞ্চুগঞ্জের নিখোঁজ দুই যুবককে খুঁজে পাওয়া গেছে। স্থানীয় জেলেরা তাদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছিলো।
সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া সিলেটের অপর যাত্রীরা টেলিফোনে দেশে থাকা স্বজনদের কাছে মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। মৃতরা হলেন- ফেঞ্চুগঞ্জের মুহিদপুর গ্রামের হারুন মিয়ার পুত্র আব্দুল আজিজ, মন্টু মিয়ার পুত্র আহমদ হোসেন এবং সিরাজ মিয়ার পুত্র লিটন। নিহতরা সবাই একে অন্যের আপন চাচাতো ভাই। এ ছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জের নিদনপুর গ্রামের আফজাল রহমান নামের আরো মপল যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর বাইরে কুলাউড়ার ভুকশিমইল এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব শামীম ও সিলেটের গোলাপগঞ্জের কামরান আহমদ মারুফ নামের আরো দুই যুবক মারা গেছে। শামীম সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের ছোট ভাই ও মারুফ হচ্ছে সামাদের শ্যালক।
স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রায় ৬ মাস আগে ইউরোপের দেশ ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে সিলেটের কয়েকটি অনুমোদনহীন ট্র্যাভেল এজেন্সিতে পাসপোর্ট জমা দেন। এর মধ্যে  বেশির ভাগ যাত্রীই যান সিলেটের জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনের ইয়াহিয়া ওভারসিজের মাধ্যমে। প্রতিজন ৮ লাখ টাকা চুক্তিতে তারা ইউরোপ যাওয়ার জন্য প্রায় ৫ মাস আগে ঘর থেকে বের হন। সেখান থেকে তাদের প্রথমে দুবাই এরপর আরো তিনটি দেশ ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম লিবিয়ায়। সেখানে একটি ঘরে তাদের বন্দি রাখা হয়। প্রায় ৭৫ জন অভিবাসীকে একটি কক্ষে বন্দিদশায় রাখা অবস্থায়ই তারা কাহিল হয়ে পড়েন। সেখানে তাদের এক বেলা খাবার দেয়া হতো। গত বৃহস্পতিবার তাদের ইউরোপ নিয়ে যেতে বের করা হয়। সেখান থেকে একটি ট্রলারে করে ভূমধ্যসাগরে যাত্রা শুরু করে। গভীর রাতে সেখান থেকে আরো কয়েক জনকে একটি ছোট ট্রলারে তুলে। আর ট্রলারে ওঠার ১০ মিনিটের মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়।
প্রাণে ফিরে আসা যাত্রীরা সিলেটের স্বজনদের জানিয়েছেন, তারা দেখেছেন তাদের চোখের সামনেই স্বজনরা হারিয়ে গেছে ভূমধ্যসাগরের বুকে। শুক্রবার গোটা দিন সিলেটে এ সংক্রান্ত কোনো খবর আসেনি। তবে শনিবার বিকাল থেকে এ খবর সিলেটে পৌঁছতে থাকে। প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা টেলিফোনে দেশে থাকা স্বজনদের এ খবর জানালে সিলেটজুড়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মুহিদপুর গ্রামের একই পরিবারে মারা যান তিন ভাই। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই। ওই ট্র্যাজেডি থেকে প্রাণে বেঁচে যান তিন জনের আরেক স্বজন ইতালি যাত্রী বেলাল আহমদ।
নিহত আব্দুল আজিজের ভাই মুফিজুর রহমান গতকাল দুপুরে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ৩টার দিকে তিউনিশিয়া থেকে তার আপন চাচা ইতালি যাত্রী বেলাল আহমদ টেলিফোন করেন। আর এই টেলিফোনে বেলাল আহমদ জানান, ‘আমি দীর্ঘ সময় সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। স্থানীয় জেলেরা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করলেও আমার ভাগ্নে আহমদ এবং ভাতিজা আব্দুল আজিজ বেঁচে নেই।  দীর্ঘ ৪ মাস বিভিন্ন দেশ ঘুরে লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন তারা। গত বৃহস্পতিবার সেখান থেকে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করে যাওয়ার পর তারা তিউনিশিয়া উপকূলে এসে তাদের ছোট একটি নৌকায় জোর করেই  তোলা হয়। ওই নৌকায় ওঠার ১০ মিনিটের মধ্যেই নৌকাটি হিমশীতল সাগরে ডুবতে থাকে। তখন সাগরে হাবুডুবু খেয়ে মৃত্যু হয় বলে জানান বেলাল আহমদ।
এ খবর শোনার পর ফেঞ্চুগঞ্জে কান্নার রোল পড়ে। রাতে আরো কয়েক বার যোগাযোগের পর তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের হাওরতলা গ্রামের মৃত রফিক মিয়ার পুত্র আফজাল রহমান নিখোঁজ ছিলেন। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জের দিনপুর তার ফুফুর বাড়িতে থাকতেন। ট্রলারডুবিতে মারা যাওয়া ফেঞ্চুগঞ্জের যুবক লিটন আহমদ সিলেটের একটি অনলাইন পোর্টালে কাজ করতেন। ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি স্বপ্নের ইউরোপে যেতে ৫ মাস আগে যাত্রা শুরু করেন। তার মৃত্যুর খবরে ফেঞ্চুগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে।
গতকাল সকালে বাড়িতে গিয়েও দেখা গেল মাতম চলছে। পিতা সিরাজ উদ্দিন ছেলের মৃত্যুর খবরে কাঁদছেনই। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে ঘটনা ঘটলেও তারা জেনেছেন শনিবার সন্ধ্যার আগে। ওখানকার রেড ক্রিসেন্টের হেফাজতে থাকা স্বজনরা টেলিফোনে তাদের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। সিরাজ মিয়া জানান, আমরা ছেলেদের হারিয়েছি। একবার হলেও আমরা লাশের মুখ শেষবারের মতো দেখতে চাই। এ জন্য তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে ট্রলারডুবিতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের ছোট ভাই হাফিজ আহসান হাবিব শামীম প্রথমে নিখোঁজ ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় তার শ্যালক কামরান আহমদ মারুফও নিখোঁজ হন। তবে শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা দুজনই মৃত্যুবরণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের দুজনের মৃত্যুর খবরে শোক অব্যাহত রয়েছে। এই দুজনের মৃত্যুতে কুলাউড়া ও গোলাপগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছেন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় নিখোঁজ আরো দুজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। এরা হলেন- ফেঞ্চুগঞ্জের মহিদপুরের মাঝপাড়া গ্রামের হাজী তজম্মুল আলীর ছেলে বিলাল আহমদ ও দিনপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে শিজুর মিয়া। তারা নিউনিশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই দুজনের বাইরে আরো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রপ্তানিমুখী খাতে প্রণোদনা দেয়া হবে -সালমান এফ রহমান

দেশের রপ্তানিমুখী সকল খাতকে তৈরি পোশাক খাতের মতো আগামী বাজেটে প্রণোদনা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান  । গতকাল রাজধানীর বনানীতে গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) কনফারেন্স সেন্টারে- ’প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া, কনসালটেন্ট প্রিয়া মাথুর ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়ার (এনইআই) মধ্যে সংযোগ উন্নত করা, ভোক্তাকল্যাণ উন্নতির জন্য আঞ্চলিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি ও সুদৃঢ় করা এবং ট্রানজিট-অবকাঠামোর সেবা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সালমান এফ রহমান বলেন, এ বছরই ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬ থেকে ১২৫ এ উন্নীত হবে। এই অবস্থান আগামী বছর দুই অঙ্কের ঘরে আসবে বলেও আশা করেন তিনি। বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই বিদেশিরাও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে সব প্রতিষ্ঠানেরই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
এ সময় তিনি রপ্তানি বহুমুখীকরণে সরকারের সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল- এই চার জাতির মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বিবিআইএন উদ্যোগ অনেক দূর এগিয়েছে। দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বাণিজ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেছেন যে খাত নির্ভর প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। এ কারণে সরকার সেই দিকে নজর দিয়েছে বলে জানান তিনি।
সালমান এফ রহমান বলেন, সরকার সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দেবে। আর এই সুযোগ গ্রহণ করবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। দেশের উন্নয়নে তারাই মূল ভূমিকা পালন করবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের মন্ত্রী বানিয়েছেন।
সালমান এফ রহমান বলেন, ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। প্রবৃদ্ধি ৮থেকে ১০ শতাংশে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো অজর্ন করতে হলে বেসরকারি খাত ছাড়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার বেসরকারি টেলিভিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বিদ্যুৎ ও মোবাইল অপারেটরদের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বেকার ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সব খাতে সমান সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত আসবে এবারের বাজেটে। পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টি করতে এবং রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে সরকার কাজ করছে।
পিআরআই আয়োজিত সেমিনারে বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় বলা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতে সক্ষমতার অর্ধেক পণ্যও রপ্তানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। একইভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও নিজেদের মধ্যে সক্ষমতার দুই তৃতীয়াংশ বাণিজ্য করতে পারছে না। আর এতে ব্যাহত হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নতি। ২০১৫ সালে ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রায় সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা বলছে, বাধা না থাকলে এর পরিমাণ হতো ১৯ বিলিয়ন ডলার। গবেষণায় নানা রকম বাধার উদাহরণও তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক।
খরচ বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাংক বলছে, আফ্রিকা ও ব্রাজিলে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে বাংলাদেশকে খরচ করতে হয়েছে একশ ৫৯ ভাগ, সেখানে নেপালে খরচ করতে হয়েছে প্রায় আড়াইশ ভাগ। এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই নিজেদের মধ্যে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে এমন বাধায় পড়ে। আর তাই সক্ষমতার ৩৩ ভাগ বাণিজ্য হচ্ছে নিজেদের মধ্যে। যা মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫ ভাগ। অথচ ইউরোপীয় দেশগুলো বাণিজ্যের ৬০ ভাগই করে নিজেদের মধ্যে, আসিয়ানে হয় ২৬ ভাগ।

চীনা মুসলিমদের রোজা রাখায় বিধিনিষেধ

পবিত্র রমজানেও দমনপীড়নের শিকার চীনের মুসলিমরা। পর্যায়ক্রমে সেখানে মসজিদগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। রোজা রাখা বেশির ভাগই নিষিদ্ধ। এমন অবস্থায় সিনজিয়াং উইঘুর অটোনমাস রিজিয়ন, যা ইস্ট তুর্কিস্তান বলে পরিচিত, সেখানকার প্রায় এক কোটি উইঘুর ও অন্য সম্প্রদায়ের মুসলিম নৃশংস দমনপীড়নের শিকার। এতে তাদের রোজা রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এসব মুসলিমের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চীনের সমালোচনা হয়েছে। ইস্ট তুর্কিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক হলো টার্কিচ মুসলিম। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো কড়াকড়ি হয়েছে।
ওই অঞ্চলে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। আগের বছরগুলোর মতো এ বছরও ইস্ট তুর্কিস্তানে রোজা রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।  এ খবর দিয়েছে অনলাইন টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
এ বছর পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ইস্ট তুর্কিস্তানের মুসলিমরা রমজানের রোজা রাখার ক্ষেত্রে মুক্ত। কিন্তু তিনি পরে টুইটারে বলেছেন, ওই নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল আছে। তিনি লিখেছেন, এই বিধিনিষেধ (শুধু প্রয়োগ হবে) কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের ক্ষেত্রে, যারা নাস্তিক, সরকারি কর্মকর্তা ও ছাত্রছাত্রী। তার এই টুইটের ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়েছে।
মেঘা রাজগোপালান নামে একজন সাংবাদিক টুইটে বলেছেন, ধন্যবাদ ইসলামাবাদে চীনের দূতাবাসকে সরাসরি এটা বলে দেয়ার জন্য যে, সিনজিয়াংয়ের মুসলিমরা রমজানের রোজা রাখার অনুমতি পাবেন না। ওদিকে উইঘুর মুসলিমরা বলছেন, সরকারি ঘোষণায় যে সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বিস্তৃত। লোকজনকে বলে দেয়া হয়েছে, কেউ রোজা রাখছেন কিনা তা লক্ষ্য রাখতে। তাদেরকে শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। এমনটা বলেছেন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের মুখপাত্র দিলসাত রাসিদ।

এক ভয়ঙ্কর তরুণীর ৬৭ মিলিয়ন ডলারের কাহিনী

আসল নাম আনা সোরোকিন৷ বয়স ২৮৷ জন্ম মস্কোতে৷ ১৬ বছর বয়সে জার্মানিতে আসেন৷ প্রায় ৯ মাস তিনি নিউইয়র্কের ব্যাংক, অভিজাত হোটেল আর বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন৷ এখন যেতে হচ্ছে কারাগারে৷
আনা সোরোকিন প্রতারণার সময় নিজের নাম হিসেবে আনা ডেলভি ব্যবহার করেন৷ আশেপাশের সবাইকে জানিয়েছিলেন যে, উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি প্রায় ৬৭ মিলিয়ন ডলারের মালিক৷ তার বাবা একজন কূটনীতিক বলেও সবাইকে জানান তিনি৷ যদিও এখন জানা যাচ্ছে, তার বাবা আসলে একজন সাবেক ট্রাকচালক, যিনি এখন ছোটখাটো একটি ব্যবসা করছেন৷
যা যা করেছেন
২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিউইয়র্কের অভিজাত এলাকায় থেকে সবার সঙ্গে প্রতারণা করেন সোরোকিন৷ এই সময় তিনি বেশ কিছুদিন অভিজাত হোটেলে থেকেছেন, তারকাদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছেন, দামি পোশাক পরে শিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে গেছেন৷ শুধু তাই নয়, নিজে একটি ভিজ্যুয়াল আর্ট সেন্টার গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে ২২ মিলিয়ন ডলারের ঋণ পাওয়ারও চেষ্টা করেছেন৷ তবে সফল হননি৷ অবশ্য আরেকটি ব্যাংক থেকে ঠিকই এক লক্ষ ডলারের ঋণ পেতে সমর্থ হন তিনি - যা পরে ফেরত দিতে পারেননি৷
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কায় বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী ওয়ারেন বাফেটের সম্মেলনে যোগ দিতে প্রাইভেট জেট ব্যবহার করেন আনা সোরোকিন৷ এই বিমানযাত্রার ভাড়া ৩৫ হাজার চার শ' ডলারও তিনি পরিশোধ করেননি৷
সোরোকিনের প্রতারণা থেকে তার বন্ধুরাও বাদ পড়েননি৷ রাচেল ডেলোয়াচ উইলিয়ামস নামের এক বান্ধবীকে তিনি মরক্কো সফরে নিয়ে গিয়েছিলেন৷ কথা ছিল, পুরো সফরের টাকা সোরোকিন বহন করবেন৷ অথচ বান্ধবী উইলিয়ামসকেই ৬২ হাজার ডলার বিল পরিশোধ করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল৷ অবশ্য আদালত সোরোকিনকে এই অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে৷
তবে অন্যান্য অভিযোগে সোরোকিনকে চার থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে নিউইয়র্কের একটি আদালত৷ ২০১৭ সালের অক্টোবরে ধরা পড়ার পর গত মাসে সোরোকিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়৷ এরপর বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করা হয়৷
আইনজীবীরা সোরোকিনের বিরুদ্ধে দুই লক্ষ ৭৫ হাজার ডলার চুরির অভিযোগ এনেছিলেন৷ রায়ে কারাদণ্ড ছাড়াও সোরোকিন যাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন তাদের দুই লক্ষ ডলার ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে৷ এছাড়া তাকে ২৪ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে৷
শাস্তি ঘোষণার সময় বিচারক ডিয়ানে কিসেল বলেন, সোরোকিন নিউইয়র্কের ঝলমলে জীবন দেখে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন৷ তবে সোরোকিনের প্রতারণার ধরন দেখে তিনি চমকে গেছেন বলে জানান৷
এদিকে, সোরোকিনের আইনজাবী বলছেন, সোরোকিন কোনো দাগী অপরাধী নন, ‘সমাজের জন্য হুমকি’ও নন, তিনি শুধু কতগুলো ভুল করেছেন৷
যুক্তরাষ্ট্রে কারাদণ্ড ভোগের পর সোরোকিনকে জার্মানিতে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানা গেছে৷
নেটফ্লিক্সে সোরোকিনের গল্প
‘স্ক্যান্ডাল’ নামে জনপ্রিয় একটি টিভি শো'র পরিকল্পনাকারী শোন্ডা রিমেস জানিয়েছেন, সোরোকিনের গল্প নিয়ে তিনি নেটফ্লিক্স সিরিজ তৈরি করবেন৷ এছাড়া লেনা ডানহাম নামের আরেকজন জানিয়েছেন, তিনিও সোরোকিনের গল্প নিয়ে নেটফ্লিক্সে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছেন৷
এদিকে, মরক্কোতে নিয়ে গিয়ে সোরোকিন যে বান্ধবীর সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন সেই বান্ধবী সোরোকিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে একটি বই লিখেছেন৷ বইয়ের চুক্তি থেকে তিনি তিন লক্ষ ডলার আয় করবেন৷ এছাড়া তিনি এইচবিও-র কাছে ৩৫ হাজার ডলারে তার গল্পটি বিক্রি করেছেন৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে