Wednesday, August 11, 2010

লাঠ্যৌষধি ও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া by আনিসুল হক

সরকার কি সব বিক্ষোভের দাওয়াই হিসেবে বেছে নিয়েছে লাঠ্যৌষধিকে? কিছুদিন আগে বিরোধী দল মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল; পরের দিন সংবাদপত্রগুলোয় শিরোনাম হলো, বিএনপি দাঁড়াতেই পারেনি। পুলিশ তাদের দাঁড়াতেই দেয়নি। অবশ্য তার আগে বিএনপির একটা পদযাত্রা ছিল, নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি ছিল, সেটায় পুলিশ বাধা দেয়নি, তাতে বিক্ষোভকারীরা হতোদ্যম হয়ে পড়ে। তারা ভেবেছিল, পুলিশ বাধা দেবে মৎস্য ভবনের কাছে, কিন্তু সেখানে এসে তারা দেখল কোনো ব্যারিকেড নেই, তারা হেঁটে হেঁটে এল শাহবাগের মোড় পর্যন্ত, ততক্ষণে একজন একজন করে নেতা-কর্মী কেটে পড়ছে, এই গরমের মধ্যে কেই বা হাঁটতে চায়! শাহবাগের মোড়েও কোনো বাধা না পেয়ে তাদের কর্মসূচির নটে গাছটি আপনাআপনিই মুড়িয়ে গেল। এ থেকে একটা শিক্ষা সরকারি নীতিনির্ধারকেরা লাভ করতে পারেন, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দিলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, বাধা না দিলে আন্দোলন আপনাআপনিই মন্দীভূত হয়। অবশ্য সেই আন্দোলন বা বিক্ষোভের পেছনের কারণটা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত হতে হয়। অযৌক্তিক আন্দোলনকে বেগবান করা খুব মুশকিল।
কিন্তু সরকারে যাঁরা থাকেন, তাঁদের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণ মানেই পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ। আজকে কোথাও ছাত্র বা শ্রমিক বিক্ষোভ হতে পারে, প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে, এই কথার মানে হলো, পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে, এই কথার মানে হলো, পুলিশের লোকবল আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কিন্তু পুলিশ দিয়েই কি সব বিক্ষোভ দূর করা যায়? পুলিশি ব্যবস্থাই কি সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা? আর সব ওষুধের সেরা কি লাঠ্যৌষধি?
সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনায় পুলিশ বেধড়ক পিটিয়েছে বিক্ষোভকারীদের। পোশাককর্মীদের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিবিরোধী আন্দোলন দমনে পুলিশের লাঠি ছিল খুবই সক্রিয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর পুলিশ চড়াও হচ্ছে, সেসব ছবি কেবল বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়নি, ফেসবুকসমেত ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে ছাত্রছাত্রীরা সেসব ছড়িয়ে দিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া হলে তার কিছু সুবিধা ক্ষমতার বাইরে থাকা মানুষও যে পাবে, এটা হলো তার প্রমাণ। শুধু যে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমনে পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে তা-ই নয়, বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলা দেওয়া, তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া, একযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে মামলা দিয়ে হেনস্তা করা—নানা রকমের ওষুধই সরকার বা তার দল প্রয়োগ করে চলেছে।
বিক্ষোভ দমনের এই ধন্বন্তরি প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্রটা এই সরকার সম্ভবত গত জোট সরকারের প্রেসক্রিপশন থেকেই নকল করছে। ওই সময়ে আওয়ামী লীগকে জোট সরকার রাজপথে নামতেই দিতে চায়নি। আমাদের মনে আছে, সাবের হোসেন চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূরের মতো নেতারা ওই সময়ে পুলিশের লাঠিপেটা খেয়ে হাসপাতালে নীত হয়েছিলেন। সাবের হোসেন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। খুবই হাস্যকর যে ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণের পর অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবিরের মতো মানুষদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুঃখজনক ঘটনাটাকে হাস্যকর বললাম, কারণ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার এই দুজন লেখককে আটক করেছিল তারাই, যাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এখন বেশ পাকাপোক্তভাবেই উঠে আসছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বিএনপি সরকারের শুরুর দিকেই হঠাৎ একবার করে দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিয়ে বলেছিলেন, অমুক দিনের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটবে। সেই সরকার পতনের লক্ষ্যে তাঁরা রাজপথে নামার যে চেষ্টা করেছিলেন, পুলিশের লাঠির বাড়িতে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
এখন বিএনপি তথা জোট সরকারের আচরিত, প্রদর্শিত ও শেখানো পথেই আওয়ামী লীগ সরকার পা বাড়িয়েছে। কঠোরভাবে সব আন্দোলন গোড়াতেই দমনের তারা চেষ্টা করছে। কিন্তু এত কিছু করেও কি বিএনপি-জামায়াতের শেষ রক্ষা হয়েছে? ভোটটাও তো তারা পুরোটাই হাইজ্যাক করার চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু শেষে আম ও ছালা দুটোই তারা হারিয়েছে।
আসলে বিক্ষোভ দমন করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বিক্ষোভের কারণটা দূর করা। যেমন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বেতনের ওপর করারোপ করার ফলে তাদের মনে ক্ষোভ দেখা দেয়। অর্থমন্ত্রী দ্রুত ঘোষণা দেন, এই ভ্যাটটা তাঁরা আসলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর আরোপ করতে চেয়েছিলেন, ছাত্রদের ওপরে নয়; ঠিক আছে, ওটা প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। ওই বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ আর ছাত্ররা দেখাবে না বলেই এরপর আশা করা যায়।
কিন্তু এখানে দুটো কথা বলার আছে। যেকোনো বিক্ষোভের কারণ সৃষ্টি হলেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীদের প্রধান ও প্রথম কাজ হয় গাড়ি ভাঙচুর ও আশপাশের কাচের ভবনগুলোয় ঢিলপাটকেল নিক্ষেপ। কোনো বিক্ষোভই শান্তিপূর্ণ থাকে না। এমনকি স্কুলের বাচ্চা ছেলেমেয়েরাও এ দেশে রাস্তায় নেমে বাস ভাঙচুর করে থাকে! এখন মানুষের জানমাল রক্ষা করা, জনজীবন স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বও তো সরকার ও প্রশাসনকে পালন করতে হবে। তারা সেটা করার জন্য পুলিশ নামায়। পুলিশ নেমেই রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য লাঠিপেটা করা শুরু করে দেয়। পুলিশের মৃদু লাঠির ছোঁয়াও যাঁর পিঠে একবার পড়েছে, তিনি তাঁর জীবদ্দশায় সেটা আর ভুলতে পারবেন না। প্রতি পূর্ণিমা-অমাবস্যায় ৬০ বছর পরও তার পিঠে ব্যথা অনুভূত হবে। শুধু ব্যথা নয়, বেদনাও তিনি অনুভব করবেন। আমাদের মরহুম সহকর্মী লতিফ সিদ্দিকী কিছুতেই আওয়ামী লীগ বা বিএনপির জোটে এরশাদের জাতীয় পার্টির অন্তর্ভুক্তি মেনে নিতে পারতেন না; বলতেন, ভাই রে, পিঠে তো এরশাদের (পুলিশের) লাঠির বাড়ির দাগ এখনো আছে।
বলার কথা হলো, সব সমস্যার সমাধান যেমন ভাঙচুর-অবরোধ নয়, তেমনি বিক্ষোভের দাওয়াই পুলিশের লাঠি নয়। সেটা ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে এই দেশে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রচণ্ড আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলন কিছুদিনের মধ্যেই শ্লথ হয়ে পড়েছিল, কারণ তখন প্রাদেশিক সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিল, দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কথা বলেছিল। আর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন সারা বাংলায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। কারণ তাতে পুলিশ বাধা দিয়েছিল, গুলি করেছিল, রক্ত ঝরিয়েছিল।
কোথাও কোনো বিক্ষোভ দেখা দিলে, সেই বিক্ষোভের কারণটি যদি বাস্তব ও খাঁটি হয়, পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে সেই বিক্ষোভ দূর করা যায় না। বরং যত বেশি বাধা আসে, আন্দোলন ততই বেগবান হয়। হরতালে, মিছিলে, জনসভায় বাধা এলেই আন্দোলনটা জমে ওঠে, ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি আসতে থাকে। বাধা না দিলে বিএনপির ওই পদযাত্রার মতোই সেটা আপনাআপনিই স্তিমিত হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, বিক্ষোভের কারণ দূর করা।
এটা ক্ষমতাসীনেরা আর ক্ষমতাবানেরা বুঝতে চান না। ফিলিস্তিনের মানুষের মনে কেন এত বিক্ষোভ, এটা যদি আমেরিকা বুঝত আর তা নিরসনে কাজ করত, তাদের এত কষ্ট করে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ পরিচালনা করতে হতো না, যে যুদ্ধে এখন দেখা যাচ্ছে, আমেরিকানরা জয়লাভ করতে পারছে না।
আওয়ামী লীগ তার দীর্ঘ ইতিহাসে বেশির ভাগ সময়ই বিরোধী দলে ছিল। তারা খুব ভালো করে জানে, সব সমস্যার সমাধান শক্তি প্রয়োগে নিহিত নয়। বহু সমস্যার সমাধান করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। উল্টোপাল্টা শক্তি প্রয়োগ করতে গিয়ে বিএনপি জোট জন্ম দিয়েছিল কানসাট বিদ্রোহ, সায়েদাবাদ এলাকায় মানুষের আন্দোলন, যার পরিণতি হলো ‘দৌড়’ সালাহ উদ্দিনের সেই ঐতিহাসিক পৃষ্ঠ প্রদর্শন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটা রাজনৈতিক সরকারের হাতে অনেক রকমের কৌশল থাকে। রাজনৈতিক সমাধানের সঙ্গে তুলনা করে দেখলে লাঠিপেটা, মামলা, রিমান্ড—এসব কোনো ওষুধই নয়; বরং ক্ষমতার নিষ্ঠুর প্রয়োগ নামের ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বড় বেশি। একটা মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পরিণামে আসে অনেক মিছিল। তারপর হরতাল-ধর্মঘট। তারপর লাঠি-গুলি-টিয়ারগ্যাস। তারপর আবার হরতাল। এ এক দুষ্টচক্র। এই দুষ্টচক্রে পড়ে আমরা বহু বছর পিছিয়ে গেছি। ১৯৪৭ সালে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, চীন ছিল আমাদের চেয়েও পশ্চাৎপদ, অনুন্নত, মালয়েশিয়া তো সেদিনও ছিল পিছিয়ে পড়া, আর আজকে তারা কোথায় আর আমরাই বা কোথায়। আমরা আর হরতাল-ভাঙচুরের যুগে ফিরে যেতে চাই না। তাই বলি, কেবল সব বুদ্ধি লাঠিতে নামিয়ে না এনে বুদ্ধির বিকল্প চর্চাও করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী যে বিরোধী দলের নেত্রীকে ইফতারের দাওয়াত দিয়েছেন, এটা একটা শুভ লক্ষণ। আর গতকালের বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিটা যে নির্বিঘ্নে হতে পেরেছে, এটাও সরকারের পরিপক্বতার প্রমাণ। দেশটা আমাদের সবার, আমরা সবাই দেশটাকে ভালোবাসি। আসুন, সবাই মিলে দেশটাকে একটু এগিয়ে নিই। আমাদের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে নিয়ে যাই, দেশটাকে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত করি। আর ঢাকা শহরটা এমনিতেই চলছে না, মানুষ আর যানবাহনের চাপে এটা অচলই হয়ে আছে, ঘন ঘন কর্মসূচি দিয়ে এটাকে পুরোটাই পরিত্যক্ত করার বিলাসিতা এখন বর্জনই করা উচিত।
তবে বিরোধী দলকে শ্বাস নিতে দিতে হবে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তারা বাধ্য হবে পথে নামতে। তাদের যেন সরকার বাধ্য না করে। অন্যদিকে ‘ভারত সব নিয়ে গেল, হায় হায় দেশ বিক্রি হয়ে গেল’-জাতীয় বস্তাপচা স্লোগানের রাজনীতি থেকে কি বিএনপি বেরোবে না? অকারণ বিরোধিতার জন্য রাজপথে নেমে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করলে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়বে না।
মনে রাখতে হবে, যে যা-ই করুন না কেন, জনগণ হিসাব রাখছে। ভোটের দিনে পর্দাঘেরা ঘরে ঢুকে জনগণ এই দুই দলকে তাদের কৃতকর্মের ফল স্বাধীনভাবে ও নির্ভুলভাবে দেবে। সেই সময় কে কত আন্দোলন করেছে, সে কথা কেউ খেয়াল রাখে না। জনগণকে কে কতটা অপমান করেছে, সেটা কিন্তু মানুষ ভোলে না।
বাড়াবাড়ি কারও জন্য শুভ হয় না এবং শেষ পর্যন্ত মধ্যপন্থাই শ্রেষ্ঠ পন্থা বলে এ দেশের মানুষের কাছে সমাদৃত ও বিবেচিত হয়ে আসছে।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

নাগাসাকির স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

গতকাল ৯ আগস্ট ছিল নাগাসাকি দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাপানের নাগাসাকি শহরে যুক্তরাষ্ট্র আণবিক বোমা ফেলে। এতে ৭০ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়।
হিরোশিমায় বোমা হামলার ৬৫ বছর পূরণের স্মরণ অনুষ্ঠানে এ বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো যোগ দিলেও গতকাল সোমবার নাগাসাকির স্মরণ অনুষ্ঠানে তাদের কোনো প্রতিনিধি যোগ দেননি। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ব্রিটেন ও ফ্রান্স নাগাসাকির স্মরণ অনুষ্ঠানে তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। গতকালের অনুষ্ঠানে কোনো মার্কিন প্রতিনিধি না থাকায় নাগাসাকির বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

হিরা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন নাওমি

মার্কিন অভিনেত্রী মিয়া ফারাও বলেছেন, লাইবেরিয়ার সাবেক শাসক চার্লস টেলরের কাছ থেকে ‘ব্লাড ডায়মন্ড’ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ব্রিটিশ সুপার মডেল নাওমি ক্যাম্পবেল।
গতকাল সোমবার দ্য হেগে চার্লস টেলরের যুদ্ধাপরাধ আদালতে সাক্ষ্যদানকালে ফারাও বলেন, ১৯৯৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলার বাসভবনে নৈশভোজ শেষে নাওমি নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে টেলরের পাঠানো কয়েকজন লোক এসে তাঁর দরজায় নক করেন। তিনি দরজা খুলে দেওয়ার পর ওই লোকেরা তাঁকে একটি উপহারের থলি তুলে দেন।
ফারাও বলেন, পর দিন ক্যাম্পবেল ওই উপহার সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি তখন উপহারটি নেলসন ম্যান্ডেলার শিশুদাতব্য প্রতিষ্ঠানকে দান করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শাভেজ-সান্তোস বৈঠক আজ

কলম্বিয়া ও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দুই দেশের কূটনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আজ মঙ্গলবার এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা। কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। এদিকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট জোয়ান মানুয়েল সান্তোসের সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁদের সব বন্দীকে মুক্তি দিতে কলম্বিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
দুটি দেশের কূটনৈতিক বিরোধের ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে কলম্বিয়া ও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট আজ এক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠক কোথায় হবে, ঠিক করা না হলেও তা কলম্বিয়ার কোথাও অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রোববার বোগোটায় উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করেন। এতে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট জোয়ান মানুয়েল সান্তোস গত শনিবার শপথ নেন।
ভেনিজুয়েলা গত ২২ জুলাই কলম্বিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এর এক সপ্তাহ আগে মানুয়েল সান্তোসের পূর্বসূরি আলভারো ইউরিব কলম্বিয়ার রেভলুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া (ফার্ক) ও ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (ইএলএন) প্রায় দেড় হাজার বামপন্থী বিদ্রোহীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনেন ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ অস্বীকার করে শাভেজ কলম্বিয়ার সঙ্গে তাঁর দেশের সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সৈন্য প্রেরণ করেন। কারাকাসে তিনি বলেন, পুরোনো সবকিছু ভুলে তিনি কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করতে চান।

অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী প্যাট্রিসিয়া আর নেই

অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী প্যাট্রিসিয়া নীল মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি গত রোববার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য দিয়েছে। অভিনেত্রী প্যাট্রিসিয়া নীল দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে তিনবার স্ট্রোক করেন তিনি। স্ট্রোকের পর বেশ কয়েক দিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন তিনি। তখন নড়াচড়া ও কথাবার্তা বলতে পারতেন না।
অভিনয়-জীবনের শুরুতে অ্যানাদার পার্ট অব দ্য ফরেস্ট নাটকে অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে মার্কিন এ অভিনেত্রী লাভ করেন সম্মানজনক টনি অ্যাওয়ার্ড। তখন তিনি ২১ বছরেও পা দেননি। তিনি ১৯৪৯ সালে জন লাভস ম্যারি চলচ্চিত্রে প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের বিপরীতে অভিনয় করেন। হাড চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ১৯৬৪ সালে লাভ করেন চলচ্চিত্রের গৌরবময় একাডেমি অ্যাওয়ার্ড।

পাকিস্তানে বন্যাকবলিত এলাকায় ভূমিধস

পাকিস্তানে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন ও ভূমিধস দেখা দেওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভূমিধসের কারণে গোটা সোয়াত উপত্যকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ভারী বর্ষণের কারণে অনেক হেলিকপ্টারও উড়তে পারছে না।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া রাজ্যে গতকাল আরও নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার ভারী বর্ষণে গিলিত-বালতিস্তান রাজ্যে কয়েকটি বাড়ি ধসে গেলে সেখান থেকে ২৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, রাজ্যের স্কারদু শহরে পাহাড়ের ওপরের কয়েকটি বাড়ি ধসে ৪০ জন মারা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি গত রোববার বন্যাকবলিত সিন্ধু প্রদেশ সফর করেছেন।
এ সময় আরও আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় সব চেষ্টাই করছি। তবে পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের সহযোগিতা করতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথা বলা হলেও জনগণ বলছে ভিন্ন কথা। পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা না পাওয়ায় তাদের ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে।

অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে নমনীয় যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ধরপাকড়ে এখন নমনীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। আইনের কড়াকড়ির কারণে সে দেশ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপক হারে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের বৈধতা দিতে আলাদা একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৬ বছর বয়সের আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন—এমন অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের বৈধতা দিতে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপিত হয়েছে। এতে সাত লাখের বেশি অভিবাসী শিক্ষার্থীর স্থায়ীভাবে থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
অভিবাসন আইনজীবীরা জানান, প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা না থাকলেও অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে এখন শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। বৈধ অভিবাসনের কাগজপত্র না থাকলেও কর্তৃপক্ষের হাতে আটক লেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিভাগের প্রধান জন মরটন বলেন, অবৈধ অভিবাসনের সুযোগে যেসব অপরাধী বছরের পর বছর গা ঢাকা দিয়ে আছে, তাদের খোঁজে এখন বেশি সময় দেওয়া হচ্ছে।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওবামা ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়ন বেড়েছে। ১০ মাসে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় দেড় লাখ অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়ানো হয়েছে। অপরদিকে কোনো অপরাধ করেননি—এমন অবৈধ শিক্ষার্থী অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

হারিয়ে যাওয়া ব্যাঙের খোঁজে...

বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া ১০০ প্রজাতির ব্যাঙের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। শুধু ব্যাঙ নয়, বিশ্বের ক্রান্তীয় বনাঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন উভচর প্রাণীর অনুসন্ধানে কাজ চলছে। কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠন এ উদ্যোগ নিয়েছে।
ক্রান্তীয় বনাঞ্চলের সোনালি ব্যাঙ, কালো ও হলুদ বর্ণের গিরিগিটির মতো বিশেষ ধরনের অনেক প্রাণী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চোখে পড়ছে না। আবার এ জাতীয় উভচর এমন বেশ কিছু প্রজাতি রয়েছে, এক শতাব্দীর মধ্যে যেগুলোর দেখা মেলেনি। এমনই এক প্রজাতি তুর্কেস্তানিয়ান স্যালামান্ডার। এ স্যালামান্ডারের সর্বশেষ দেখা মিলেছিল ১৯০৯ সালে।
পরিবেশ রক্ষা-বিষয়ক সংগঠন কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল আশঙ্কা করছে, এ প্রাণীগুলো বিলুপ্তি পথে চলে গেছে। এ বিলুপ্তি রোধেই হারিয়ে যাওয়া ১০০ প্রজাতির ব্যাঙের অনুসন্ধানে একটি প্রকল্প হাতে নেয় কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল।
হারিয়ে যাওয়া ওই ১০০ প্রজাতির ব্যাঙের মধ্যে যেমন অস্ট্রেলিয়ান বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙ রয়েছে, তেমনি রয়েছে কলম্বিয়া, সিরিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাঙ। জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে অন্য অনেক প্রাণীর মতোই ব্যাঙের বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে রয়েছে।

মাওবাদীদের গণতান্ত্রিক পথে ফেরার আহ্বান মমতার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুরে এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসনেত্রী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাওবাদীদের খুন ও সন্ত্রাস বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে মাওবাদী-অধ্যুষিত লালগড় এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে মমতা বলেন, জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের দমনে যৌথ বাহিনীর যে অভিযান চলছে তাঁরা তার অবসান চান। একই সঙ্গে সেখান থেকে তাঁরা যৌথ বাহিনীর প্রত্যাহার চান। তিনি আরও বলেন, সিঙ্গুরে যেসব কৃষকের কাছ থেকে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তাঁরা ক্ষমতায় এলে এক দিনের মধ্যে সে জমি তাঁরা ফিরিয়ে দেবেন।
মমতা বলেন, জঙ্গলমহলে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা অরণ্য অধিকার বিল আনার উদ্যোগ নেবেন। তিনি মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় নেতা আজাদকে হত্যা করা ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন। মমতা আজাদের মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করেন।
মমতা বলেন পুলিশ, সিআরপিএফ এবং সেনার পোশাক পরে সিপিএম গ্রামে গ্রামে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মাওবাদীরা খুন করে থাকলে সেই খুনকে তাঁরা সমর্থন করেন না।
সন্ত্রাসবিরোধী গণতান্ত্রিক মঞ্চের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন মানবতাবাদী নেত্রী মেধা পাটেকর, স্বামী অগ্নিবেশ, লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী, কবি জয় গোস্বামী, নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী প্রমুখ। তবে কংগ্রেসের কোনো নেতা এতে যোগ দেননি।
এত দিন জঙ্গলমহলে জনসভা করার ওপর রাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও মমতার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার তাঁকে সেখানে সভা করার অনুমতি দেয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এই সভা।
প্রসঙ্গত, মমতার জনসভাকে সমর্থন জানায় মাওবাদী নেতা কিষানজি। এ ছাড়া মাওবাদীদের পুষ্ঠপোষকতায় গড়া ‘পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটি’র পক্ষ থেকে সম্পাদক মনোজ মাহাতও এ সভার প্রতি সমর্থন জানান

ইন্দোনেশিয়ার কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা আবু বকর গ্রেপ্তার

সন্ত্রাসবাদের অভািযোগে ইন্দোনেশিয়ার কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা আবু বকর বশিরকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের পুলিশ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আচেহ প্রদেশে একটি ইসলামিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পশ্চিম জাভা থেকে আবু বকরকে গ্রেপ্তার করেছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ তাঁকে এক সপ্তাহ আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।
তবে ইন্দোনেশিয়ার সন্ত্রাসবাদবিরোধী সংস্থার প্রধান আনসায়েদ এমবায় জানিয়েছেন, আবু বকরকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এমবায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আচেহ প্রদেশে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে আবু বকরের যোগাযোগ আছে। আমরা যতটা জানি, আচেহর সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে জেমাহ ইসলামিয়া এবং দেশের আরও অনেক সন্ত্রাসী সংগঠনের সম্পর্ক রয়েছে।’
এমবায় আরও বলেন, আবু বকরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ হলো, তিনি আচেহর একটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরের জন্য অর্থ সরবরাহ করেছেন।
জাকার্তা থেকে বিবিসির প্রতিনিধি কৃষ্ণা ভাসানি পুলিশের বরাত দিয়ে বলেন, জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপনের ক্ষেত্রে বাশার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ওই শিবিরের প্রধান প্রধান ব্যক্তিদের তিনি নিয়োগ দেন।
গ্রেপ্তারের পর আবু বকরকে জাকার্তায় পুলিশের সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আবু বকর বলেন, এর পেছনে আমেরিকার হাত আছে।
আবু বকরের ছেলে আবদুল রহিম তাঁর বাবার প্রতি সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর মাকেও আটক করা হয়েছে।
রহিম বলেন, ‘পুলিশের প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যেন আমার বাবার সঙ্গে অন্যায় আচরণ না করে। আমার বাবা নির্দোষ। তিনি শুধু মুসলিম হিসেবে তাঁর দায়িত্বগুলো পালন করছেন।’
২০০২ সালে বালিতে বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এর আগে দুই বছরের বেশি কারাভোগ করেছেন ৭১ বছর বয়সী বশির। ২০০৬ সালে তিনি মুক্তি পান। বালি হামলায় নিহত হয়েছিল ২০২ জন।
আবু বকরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠন জেমাহ ইসলামিয়ার অন্যতম পরামর্শদাতা। তবে বশির এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
এ ছাড়া বশির কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠন জেমাহ আনসারুত তওহিদের (জেএটি) নেতৃত্বে আছেন বলে ধারণা করা হয়। গত মে মাসে পুলিশ জাকার্তায় এই সংগঠনের সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়ে বশিরের তিন অনুসারীকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আচেহতে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল জেএটি। ওই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট যোগ দেবেন।

কাদায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গনশু প্রদেশে ভূমিধস ও বন্যায় নিখোঁজ এবং আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা। ভারী বর্ষণের কারণে ওই ভূমিধসে কমপক্ষে ১২৭ জন মারা গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছে প্রায় এক হাজার ৩০০ জন।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়ার ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসে ঝকু কাউন্টির একটি গ্রাম পুরোপুরি কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য ওই তিব্বতি এলাকায় চার হাজারের বেশি সেনা, পুলিশ, উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসক পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে রাস্তাঘাট ও ধ্বংসস্তূপের ওপর পুরো কাদার স্তর জমা হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো স্থানে রাস্তার ওপর দুই মিটার পুরো কাদা জমা হয়েছে। বাড়িঘর ডুবে আছে কাদার নিচে। ধ্বংস হয়ে গেছে সেতু ও রাস্তাঘাট।
প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও গত রোববার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সফর করেন। এ সময় তিনি উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত করার জন্য উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
জিয়াবাও বলেন, যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, তাদের জীবন রক্ষার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি আরও বলেন, একজনকেও জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য আশা যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকবে।
ঝকু কাউন্টির প্রধান দাইমুজিয়াংটাং বলেন, এখনো অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছে। কিন্তু কাদার জন্য তাদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যভিচারের অভিযোগে আফগান নারীকে প্রকাশ্যে হত্যা

আফগানিস্তানে ব্যভিচারের অভিযোগে প্রকাশ্যে এক নারীকে হত্যা করেছে তালেবান জঙ্গিরা। গত রোববার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাদগিস প্রদেশের কাদেস জেলায় এ ঘটনা ঘটে। গত নয় বছরে প্রকাশ্যে নারী হত্যার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক নারীকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়।
প্রদেশের একজন কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ ছাড়াই ওই নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

কাশ্মীরে ফের কারফিউ

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে গতকাল সোমবার পুনরায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। গত রোববার রাতে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর সহিংসতা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুতে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ঠেকাতে আবার আমাদের কারফিউ জারি করতে হয়েছে। শ্রীনগরের বাসিন্দা এই বিক্ষোভকারী গত সপ্তাহে সংঘর্ষ চলাকালে আহত হন। একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তিনি মারা যান।
দুুই সপ্তাহ শ্রীনগরে অচলাবস্থা বিরাজ কারার পর গত রোববার দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হয়েছিল। এক দিন পরই আবার কারফিউ জারি করা হলো।
গত জুনে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরের মুসলিম-অধ্যুষিত ওই উপত্যকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকে বিক্ষোভকারীদের দমনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে প্রায় ৫০ জন নিহত হয়।

পুরুষের মতোই ক্ষমতা পাচ্ছেন মালয়েশিয়ার নারী বিচারকেরা

মালয়েশিয়ার ইসলামিক আদালতের প্রথম নারী বিচারকেরা পুরুষ বিচারকদের মতোই সমান ক্ষমতা পাবেন। তাঁদের ক্ষমতা কাটছাঁট করা হতে পারে—এ খবর ছড়ানোর পর গতকাল সোমবার দেশটির এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। ইসলামিক আইনব্যবস্থা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি হিসেবে সরকার গত মাসে শরিয়াহ্ বেঞ্চে দুজন নারী বিচারককে নিয়োগ দিয়েছে। এই আদালত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ায় বেসামরিক আদালতের পাশাপাশি চলছে।

রাশিয়ায় দাবানলে হুমকির মুখে পরমাণু স্থাপনা

রাশিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির একটি অন্যতম পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। এদিকে দাবানলের ধোঁয়ার কারণে মস্কোতে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার বিদেশি।
রাশিয়ার জরুরি অবস্থাবিষয়ক মন্ত্রী সের্গেই সইগু গত রোববার দমকলকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আগুন নেভানোর জন্য তাঁদের কর্মকাণ্ড দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে। দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত রোববার বৈঠকের সময় তিনি বলেন, ‘স্নেজহিনস্ক এলাকায় আগুন নেভাতে আপনারা রাতভর কাজ করবেন।’
স্নেজহিনস্ক মস্কো থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রটি এখানে।
মন্ত্রী সইগু বলেন, ‘পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র থেকে আগুন আর মাত্র সাত হেক্টর দূরে আছে। এটা খুবই বিপদের। আমি আশা করছি আপনারা আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হবেন।’
সারোভ ও নিঝনি নভগরোদ এলাকায় রাশিয়ার আরও দুটি পরমাণু কেন্দ্র দাবানলের কারণে হুমকির মুখে আছে। তবে মন্ত্রী সইগু গত রোববার জানিয়েছেন, ওইসব এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ এর আগে বারবার বলে এসেছে দাবানলের কারণে পরমাণু স্থাপনাগুলোর জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি হয়নি। তবে অবশেষে তারা স্বীকার করল ওইসব স্থাপনা থেকে সব পরমাণু ও বিস্ফোরক দ্রব্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে এই দাবানলের কারণে এ পর্যন্ত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে দাবানলের প্রচণ্ড ধোঁয়ায় মস্কোতে আটকা পড়েছে কয়েক হাজার বিমানযাত্রী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, মস্কোর দমোদেদোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছে প্রায় দুই হাজার যাত্রী। তাদের ফ্লাইট বিলম্বিত হচ্ছে। যাত্রীরা বিমানবন্দরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। সেখানে খাবার ও পানীয় কমে আসছে।
দাবানলের ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে মস্কো। বড় বড় ভবনগুলোও ভালোভাবে দেখা যায় না। সেন্ট পিটার্সবাগ এবং প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডেও ধোঁয়া পৌঁছে গেছে।
এদিকে দাবানলের কারণে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় মস্কোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রতিদিনের মৃত্যুর হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। শহরের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আন্দ্রেই সেলসোভস্কি গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।
সেলসোভস্কি বলেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ৩৬০ থেকে ৩৮০ জনের মৃত্যু হয়। এখন প্রতিদিন গড়ে ৭০০ জনের মতো মারা যাচ্ছে।’

ত্রাণবাহী নৌবহরে হামলা আইনসিদ্ধ ছিল: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ফ্রিডম ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি কমান্ডোদের হামলা আইনসিদ্ধ ছিল। গতকাল সোমবার তুরকেল কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এ দাবি করেন তিনি। ওই হামলার ঘটনা তদন্তে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের অবসারপ্রাপ্ত বিচারক জ্যাকব তুরকেলের নেতৃত্বে এই তদন্ত কমিশন গঠন করে।
কমিশনের সামনে ওই ঘটনার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, তদন্ত শেষে আপনারা জানতে পারবেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করেছে। আমি মনে করি, সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে আপনারা আসল সত্যটা জানতে পারবেন।’
নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও ছয়টি জাহাজের ওই বহর ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি তুরস্ক সরকার। অথচ এর আয়োজন করেছিল তুরস্কের হামাস সমর্থকগোষ্ঠী আইএইচএইচ।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, কোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। গাজায় ইসরায়েলের অবরোধের নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, গাজায় কোনো ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই।

হেঁটে হেঁটে আমাজন জয়

হিংস্র জন্তু-জানোয়ার, অ্যানাকোন্ডা সাপ, কুমির, বিষাক্ত কুঁচে, বিচ্ছু, ভয়ংকর আদিবাসী—এসবের কিছুই আটকাতে পারেনি তাঁকে। প্রতি পদে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে জেনেও আড়াই বছর ধরে তিনি হেঁটে চলেছেন মহাবিপদসংকুল আমাজন নদীর পাড় ধরে। অ্যাডওয়ার্ড স্ট্যাফোর্ড নামের ওই ব্যক্তি একজন সাবেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা। পেরু থেকে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল হাঁটা শুরু করেছিলেন। ৮৫৯ দিন টানা হেঁটে গত সোমবার তিনি উত্তর ব্রাজিলে এসে পৌঁছান। আর মাত্র কয়েক মাইল। এটুকু পথ পাড়ি দিলেই তিনি হবেন বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি, যিনি একা ছয় হাজার ৪০০ কিলোমিটার আমাজনের তীর হেঁটে এসেছেন।
৩৪ বছর বয়সী স্ট্যাফোর্ড গত সোমবার বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘এর আগে কেউ এ ধরনের অভিযানে নামেনি। সে কারণে আমি এটা করছি।’ তবে এ অভিযানের মধ্য দিয়ে আমাজনের জঙ্গল ধ্বংস প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি হবে বলে তিনি আশা করেন।
স্ট্যাফোর্ড বলেছেন, তিনি এবং তাঁর এক বন্ধু ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল পেরুর দক্ষিণ উপকূল এলাকা থেকে হাঁটা শুরু করেন। কিন্তু তিন মাসের মাথায় তাঁর সঙ্গী রণে ভঙ্গ দেন। দমে না গিয়ে স্ট্যাফোর্ড একাই হাঁটতে থাকেন। মাঝে মাঝেই তাঁকে ভয়ংকর সব জলাভূমি সাঁতরে পাড়ি দিতে হয়েছে। এসব এলাকার জলায় অজস্র প্রজাতির সাপ ও বিষাক্ত প্রাণী রয়েছে। পেরুর জঙ্গল পথে হাঁটতে হাঁটতে স্ন্যাচেজ রিভেরা নামের এক বনকর্মীর সঙ্গে স্ট্যাফোর্ডের পরিচয় হয়। এরপরই রিভেরা তাঁর সফরসঙ্গী হন।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁরা পেরুর এক আদিবাসী গোত্রের হাতে আটক হন। ‘সাদা চামড়ার বিদেশি’ বলে তারা তাঁদের হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে শর্ত সাপেক্ষে ছাড়া পান।
স্ট্যাফোর্ড বলেছেন, এই অরণ্যসংকুল দীর্ঘ পথে যেখানেই রাত নেমেছে, সেখানেই তিনি তাঁবু ফেলে ঘুমিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তাঁকে প্রায় ৫০ হাজার মশার কামড় খেতে হয়েছে। মাঝে মাঝেই খাবার ফুরিয়ে যাওয়ায় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে বিপদে পড়তে হয়েছে।
স্ট্যাফোর্ড আরও বলেছেন, আড়াই বছর ধরে হাঁটা ছাড়া তিনি কোনো কাজই করেননি। এই পদযাত্রায় তাঁর খরচ হয়েছে এক লাখ ডলার। অবশ্য বিভিন্ন কোম্পানি স্পন্সর হিসেবে এ খরচ বহন করেছে। তিনি বলেছেন, যাত্রাপথে তিনি আমাজন জঙ্গলের বহু জায়গায় বন উজাড় করার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্ট্যাফোর্ড বলেন, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি আরেকটি অভিযান শুরু করবেন। তবে সেই অভিযানের ধরন কী হবে তা তিনি এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি।

যত দোষ ইনজামামের

সব দোষ তাহলে ইনজামাম-উল হকের! পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আমির সোহেলের দাবি এ রকমই। পাকিস্তান দল যে এখন ভালো ব্যাটসম্যানের জন্য হাহাকার করছে, সে দায় নাকি ইনজামামকেই নিতে হবে।
‘অবসর নেওয়ার সময় ইমরান খান একগুচ্ছ ভালো বোলার রেখে গেছেন। জাভেদ মিয়াঁদাদ যাওয়ার সময় দলে ছিল ব্যাটিং গভীরতা। কিন্তু ইনজামাম কিছুই রেখে যায়নি’—বলেছেন সোহেল। তাঁর দাবি, ইনজামামের অধিনায়কত্বের সময় কোনো ব্যাটসম্যানকেই দলে স্থির হতে দেওয়া হয়নি, এমন কাউকে তৈরি করা হয়নি যাঁর কিনা বড় খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি ঢাকার সামর্থ্য ছিল।
একটা টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির সোহেল উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘ইয়াসির হামিদ, আসিম কামাল, ফয়সাল ইকবাল, তৌফিক উমর কিংবা হাসান রাজার মতো খেলোয়াড়েরা সুযোগ পেয়ে ভালো করছিল। কিন্তু তাদের কখনোই দলে স্থির হতে দেওয়া হয়নি। সে কারণেই আজ সিনিয়রদের জায়গা নেওয়ার মতো ব্যাটসম্যান দলে নেই। দলের এই সংকটের জন্য আমি ইনজামামকেই দায়ী করব।’
১২০ টেস্ট আর ৩৯৮ ওয়ানডে খেলা ইনজামাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন ২০০৭ সালে। ২০০৩ সাল থেকে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি

মরিনহো-মাইকন মিলন হচ্ছে না

দুজনই স্বপ্ন দেখছিলেন আবার মিলিত হবেন। হোসে মরিনহো বলেছিলেন তাঁর পুরোনো শিষ্যকে চান। মাইকনেরও ইচ্ছে ছিল মরিনহোর পথ অনুসরণ করে রিয়াল মাদ্রিদকে ঠিকানা বানানোর। কিন্তু আপাতত তাঁদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। ফিফার এজেন্ট এবং রিয়াল মাদ্রিদের উপদেষ্টা আর্নেস্তো ব্রনজেত্তি জানিয়েছেন, ‘মাইকনের রিয়াল মাদ্রিদ ট্রান্সফার-নাটক শেষ।’
ইন্টার মিলান ছেড়ে মাইকনের রিয়ালে যাওয়ার কথাটা উঠেছিল মরিনহোর রিয়ালে যাওয়ার পরই। রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর মরিনহো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, মাইকনকে রিয়ালে পেলে ভালোই লাগবে তাঁর। ব্রাজিলের ব্যর্থ বিশ্বকাপ মিশনে মাইকন আলো ছড়ানোর পর রিয়াল কর্মকর্তারাও মরিনহোকে মাইকনের পেছনে ছুটতে ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছিলেন।
রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয় ইন্টার মিলানের কাছে। মাইকন যখন বিশ্বকাপ-পরবর্তী ছুটি কাটাচ্ছিলেন, প্রস্তাব নিয়ে কথাবার্তা চলছিল দুই পক্ষে। তারই এক ফাঁকে মাইকনের বাবা ঘোষণার মতো করেই বলেছিলেন—সবকিছু ঠিকভাবে এগোচ্ছে, আমার ছেলে রিয়াল মাদ্রিদেই যাচ্ছে। তখন তো সবাই ধরেই নিয়েছিল, গুরু-শিষ্যে মিলন হচ্ছে আবার।
ব্রনজেত্তি জানালেন সব ধারণা ভুল। সেটা আর হচ্ছে না। বাদ সেধেছে আসলে ইন্টার মিলানই। তারা মুখে কখনো বলেনি যে, মাইকনকে বিক্রি করবে না। তবে এমন একটা মূল্য মাইকনের জন্য বেঁধে দিয়েছে, যে মূল্যে মাইকনকে কিনতে চায় না রিয়াল। মাইকনের জন্য ২ কোটি ৮০ লাখ ইউরো হেঁকে বসেছে ইন্টার মিলান।
আসলে দামটাম কিছু নয়, ইন্টার মিলানের নতুন কোচ রাফায়েল বেনিতেজ মাইকনকে ছাড়তেই চাইছেন না। এ কারণেই এমন উল্টাপাল্টা দাম হেঁকে মাইকনকে দলবদলের বাজার থেকেই তুলে নিয়েছে ‘নেরাজ্জুরি’রা। ব্রনজেত্তি বলেছেন, ‘আমি রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনেই হয়েছিল ইন্টার মিলান যে মূল্য ধরেছে, তা দিয়ে মাইকনকে রিয়াল কিনবে না।’
রিয়ালের পক্ষ থেকে ইন্টার মিলান আর মাইকনের এজেন্টের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন হোর্হে ভালদানো। আলোচনা শেষ করে তিনি নাকি জানিয়েছেন, ‘দামটা আসলে একটু বেশিই। সত্যি বলতে কি, পেরেজ মাইকনকে চুক্তিবদ্ধ করার পরিকল্পনা বাতিল করেছে।’ আর এখন নাকি ইতালিয়ান লিগের বাইরের খেলোয়াড়ের দিকেই চোখ রিয়ালের।
এদিকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের আরেক সদস্য রামিরেসের চেলসিতে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার। শুধু কাগজে সই করতেই বাকি।

দরকার সেই তেভেজকেই!

তিন বছর ধরেই দলবদলে দেদার টাকা ঢালছে ম্যানচেস্টার সিটি। উদ্দেশ্য একটাই, ইউরোপে এক ফুটবল-দানব হয়ে ওঠা। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলার যোগ্যতা অর্জন করার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। দমে না গিয়ে এবার আরও কোমর বেঁধে নেমেছে মাঠে। ইয়াইয়া তোরে, জেরম বোয়াটেং, আলেক্সান্দার কলারোভদের দলে টানায় এবার লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে আরও বড়—চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন, সঙ্গে লিগ শিরোপাও।
নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে ম্যানসিটির ইতালিয়ান কোচ রবার্তো মানচিনি খুবই উচ্ছ্বসিত। তবে ম্যানসিটির পুরোনো যোদ্ধা আর্জেন্টাইন তারকা কার্লোস তেভেজ বলছেন, ম্যানসিটির বিপ্লবে তাঁর জাদুকরি ছোঁয়া লাগবেই। তেভেজও মনে করেন, ইউরোপিয়ান পরাশক্তি হতে যাচ্ছে ম্যানসিটি।
ক্লাবের নতুন যাত্রায় তেভেজ চান কোচ মানচিনি ইস্টল্যান্ডেই থাকুন, ‘আমি সত্যিই চাইব, তিনি (মানচিনি) এখানে চালিয়ে যাবেন। আমি এটাও চাইব, আমরা সবাই এখানে থেকে তাঁর শুরু করা উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটা চালিয়ে নেব।’
কোচ মানচিনির প্রতি তেভেজের হঠাৎ এমন শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের কারণও আছে। ওয়েস্টহাম থেকে ধারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলতে গেলেও নিয়মিত মাঠে নামা হয়নি। ২০০৯ সালে ম্যানইউ ছেড়ে ম্যানসিটিতে এলেও শুরুতে অনিয়মিতই ছিলেন। কিন্তু মানচিনি কোচ হয়ে আসার পরই দলে তিনি নিয়মিত। আর্জেন্টাইন তারকার কণ্ঠেও সেই স্বীকারোক্তি, ‘কোচ আমাকে ধারাবাহিকতা দিয়েছেন। সেরা খেলোয়াড় হতে যেটা প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই খুব প্রয়োজন। তিনি আমাকে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করেছেন। কোচ এবং সতীর্থদের ধন্যবাদ। তাঁরা আমার জন্য ভালো কাজ করেছেন। আর এ কারণেই আমি এমন উঁচু পর্যায়ে আসতে পেরেছি। দল হিসেবে গড়ে উঠছি আমরা। আমরা যতটা অর্জন করতে পেরেছি তাতে খুশি, তবে এটাও জানি, এই মৌসুমটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এবারও শাস্তি কমই পেলেন ব্রড

সুনীল গাভাস্কার বলতে পারেন, ‘দেখলেন তো, আমার কথাই সত্যি’! পরশু এজবাস্টন টেস্টের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান জুলকারনাইন হায়দারের শরীরে বল ছুড়ে মেরে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হচ্ছে ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডকে। এই ধরনের অপরাধে এটাই সর্বনিম্ন শাস্তি। গাভাস্কার এ ব্যাপারে আগেই বলেছিলেন, বাবা ক্রিস ব্রড ম্যাচ রেফারি হওয়ায় সব সময় কম শাস্তি পান ব্রড।
স্টুয়ার্ট ব্রড কখনোই শান্তশিষ্ট ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত নন। মাঠে টুকটাক অখেলোয়াড়োচিত আচরণ করে থাকেন। কিন্তু ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান গাভাস্কারের দাবি, সে তুলনায় শাস্তি খুব কমই পান ব্রড। কারণ তাঁর বাবা ক্রিস ব্রড একজন ম্যাচ রেফারি।
পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্টে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করছিলেন ক্রিস ব্রডদের ‘নেতা’ আইসিসির প্রধান ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে। স্টুয়ার্ট ব্রডকে শাস্তি দিয়ে মাদুগালে অবশ্য বলছেন, ঘটনার পরপরই ক্ষমা চাইলেও ব্রডের ওপর তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ, ‘ব্রডের আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। রাগের মাথায় হতাশ হয়ে কিছু একটা করার ব্যাপারটা আমি বুঝি। কিন্তু পরিস্থিতি যা-ই হোক, আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান দিতে শিখতে হবে। ক্ষমা চেয়ে স্টুয়ার্ট অবশ্য বুঝিয়েছে, ও ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে ও আর এমনটা করবে না।’
সে করুন আর না-ই করুন, ব্রড এত সহজে সমালোচনা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান বাট বলছেন, ক্ষমা চাইলেও ব্রডের কাজটা কোনোক্রমেই ভালো হয়নি, ‘ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। কিন্তু ওরা মনে হয় হতাশ হয়ে গিয়েছিল। ইচ্ছে করে একজন খেলোয়াড় আরেকজনের শরীরে বল ছুড়ে মারছে, এটা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য ব্যাপার না; তা সে ক্ষমা চাইলেও না।

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলে কাল মহাখালী একাদশ ৩-১ গোলে হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংককে। গোল করেছেন মহাখালীর আলী ২টি ও সাচ্চু ১টি। অগ্রণী ব্যাংকের গোলটি রিপনের। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ওয়ারী ক্লাব ও উত্তর বারিধারার ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। ওয়ারীর শাহিন ও তানজিম ২টি গোল করেছেন। উত্তর বারিধারার গোল দুটি দুলাল ও স্বপনের।

আবার চোট পেপের

চোট যেন পেপের নিত্যসঙ্গী। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে না-ফিরতেই আবার চোটের শিকার রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ ডিফেন্ডার। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছে রিয়াল। সেখানেই বাঁ পায়ের পেশিতে চোট পেয়েছেন তিনি। এই চোট তাঁকে মাঠের বাইরে রাখবে তিন সপ্তাহ। ২০০৯-এর শেষ দিকে চোট পেয়েছিলেন ডান হাঁটুতে। যে কারণে গত মৌসুমের শেষ ভাগটা মাঠের বাইরেই কাটিয়েছেন ২০০৭ সালে ৩ কোটি ইউরো চুক্তিতে পোর্তো থেকে রিয়ালে আসা ডিফেন্ডার।

খরচে সবার ওপরে রিয়াল

বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলের মতোই উদার হস্তে টাকা খরচ করে রিয়াল মাদ্রিদ। এটা কার না জানা! তাই বলে এতটা? মাঠে আর পাঁচটা প্রতিদ্বন্দ্বী থাকতে পারে; কিন্তু দলবদলের বাজারে টাকা ঢালায় রিয়ালের একচ্ছত্র আধিপত্য!
মোটা অঙ্কের চুক্তিতে খেলোয়াড় কেনায় প্রতি মৌসুমেই শিরোনামে থাকা রিয়াল গত দশকে দলবদলের বাজারে বিনিয়োগ করেছে ৮৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড (১০০ কোটি ইউরো)! এই গ্রহে আর একটি ক্লাবও নেই, যারা খরচে রিয়ালের কাছাকাছি! তবে সামনে হয়তো এখানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে যাচ্ছে রিয়াল। রোমান আব্রামোভিচের চেলসি এবং ম্যানচেস্টার সিটি টাকার বস্তা নিয়েই মাঠে নামছে দুই-তিন বছর ধরে।
দুই দফা দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজই রিয়ালকে শিখিয়েছেন টাকা খরচের উদারতা। যদিও এবার নামের প্রতি সুবিচার করছে না রিয়াল। সামি খেদিরা, সার্জিও ক্যানালেস, পেদ্রো লিওন ও অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াকে কিনে এ মৌসুমে খরচ ৪ কোটি ১৫ লাখ পাউন্ড! গত দশকে ৪৮ জন ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করেছে রিয়াল, যার তিনটি চুক্তি ছিল মোটা অঙ্কের—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৮ কোটি পাউন্ড), জিনেদিন জিদান (৫ কোটি পাউন্ড) ও কাকা (৫ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড)।
প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তবে তালিকা যেহেতু, দ্বিতীয়-তৃতীয় তো থাকবেই। মার্কা জানিয়েছে, গত দশকে খরচের দিক দিয়ে রিয়ালের পরই বার্সেলোনা, তাদের বিনিয়োগ ৫৯ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। তৃতীয় চেলসির খরচ ৫৪ কোটি পাউন্ড। আর ম্যানচেস্টার সিটি গত তিন বছরেই ঢেলেছে ৩১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড।

আইজ্যাককেই সহসভাপতি মেনে নিল আইসিসি

অনেক বিতর্কের পর নতুন সহসভাপতির নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সভাপতি অ্যালান আইজ্যাক হয়েছেন আইসিসির নতুন সহসভাপতি। আইসিসির বর্তমান সভাপতি শারদ পাওয়ার দুই বছর পর দায়িত্ব ছাড়লে তিনিই বসবেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির প্রধানের চেয়ারে।
সহসভাপতি পদে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড মিলে মনোনয়ন দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ডকে। এর পরেই ছিলেন আরেক নিউজিল্যান্ডার জন অ্যান্ডারসন। কিন্তু হাওয়ার্ড আইসিসিতে পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় এবং নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে আইজ্যাকের পূর্বসূরি অ্যান্ডারসন নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোয় তৃতীয় পছন্দকেই বেছে নিয়েছে আইসিসি।

বিশ্বকাপের পর আবার মাঠের ডাক

বিশ্বকাপ উন্মাদনা থিতিয়ে এসেছে। আফ্রিকায় বড় দলগুলোর সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর্বটা একটু একটু করে শেষবিন্দুতে পৌঁছে যাচ্ছে। এখন সময় নতুন করে পথ চলার। কারও সামনে কোপা আমেরিকা, কারও সামনে ইউরো আবার কারও লক্ষ্য আফ্রিকান নেশনস কাপ। লক্ষ্য যেমনই হোক, আজ থেকেই ফুটবলের আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো মাঠে নামছে।
ফিফার হিসাবমতে, আজ ও আগামীকাল দুনিয়ার নানা প্রান্তে সব মিলিয়ে ৩৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে! ৭৪টি দলের মধ্যে দুনিয়ার চোখ টানতে মাঠে নামবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ইতালি, হল্যান্ড, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের মতো পরাশক্তিরা।
তারুণ্যে ভরা দল নিয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলতে নামছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দুঙ্গার দলের মাত্র চার খেলোয়াড় ঠাঁই পেয়েছেন মানো মেনেজেসের দলে—রবিনহো, থিয়াগো সিলভা, দানি আলভেজ ও রামিরেস। এসি মিলানের আলেক্সান্দ্রে পাতো, সান্তোসের নেইমার, লিভারপুলের লুকাস, ম্যানইউর রাফায়েল ডা সিলভা ও রিয়াল মাদ্রিদের মার্সেলোর মতো ‘ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ’রা ডাক পেয়েছেন।
ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচটি হয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কোচ বব ব্র্যাডলির শেষ ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্র দলে অবশ্য বলার মতো কোনো পরিবর্তন নেই।
বিশ্বকাপ খেলা দলটিকে প্রায় অপরিবর্তিত রেখেই নামছে আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার রেখে যাওয়া দল নিয়েই আগামীকাল ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ‘সার্জিও বাতিস্তা’র আর্জেন্টিনা। এটি বিশ্বকাপ নয়, তবে আয়ারল্যান্ড ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে বাতিস্তার ভবিষ্যৎ। এতে ভালো করতে পারলে মেয়াদটা তাঁর বাড়তেই পারে।
আর্জেন্টিনাকে যে জার্মানি পর্যুদস্ত করেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, পুরো সেই দলটাকেই আগামীকাল কোপেনহেগেনে সামনে পাবে না ডেনমার্ক। এই ম্যাচে অনেকগুলো নতুন মুখ উপহার দেবেন কোচ জোয়াকিম লো। লো বিশ্রাম দিয়েছেন টমাস মুলার, মেসুত ওজিল, ফিলিপ লাম, লুকাস পোডলস্কি, মিরোস্লাভ ক্লোসার মতো খেলোয়াড়দের।
এদিক থেকে ইংল্যান্ড দল অনেকটাই স্থিতিশীল। বিশ্বকাপের পর তাদের কোচ যেমন অপরিবর্তিত রয়েছে, আগামীকাল হাঙ্গেরির বিপক্ষে লন্ডনে খেলতে যাওয়া দলেও নেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। রুনি, কোল, ল্যাম্পার্ড, জেরার্ডরাই ক্যাপেলোর ভরসা।
অবশ্য লন্ডনে ইতালি ও আইভরিকোস্ট ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় আজ রাতেই হয়ে যাওয়ার কথা। বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই ছিটকে পড়া এই দুই দলই নতুন কোচ নিয়ে খেলতে নামবে। সভেন গোরান এরিকসনের বদলি ফরাসি কোচ জেরার্ড গিলি যে দল মাঠে নামাবেন, তাতে খুব বেশি নতুনত্ব থাকবে না। চোটের কারণে দিদিয়ের দ্রগবা ও কাদের কেইটা খেলতে পারছেন না।
তবে বিশ্বকাপে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করা ইতালি একেবারে খোলনলচে বদলে মাঠে নামছে। দলে তরুণদের প্রাধান্য। এবং নতুন কোচ সিজারে প্রান্দেল্লি বলছেন, তিনি তরুণদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মতোই বিবেচনা করবেন।
খোলনলচে বদলে ফেলেছে ফ্রান্সও। বিশ্বকাপে মহা কেলেঙ্কারি করা প্রায় কেউই নেই নরওয়ের বিপক্ষে অসলোতে মাঠে নামতে যাওয়া দলে। রেমন্ড ডমেনেখ-পর্ব শেষ করে আগামীকাল নতুন যুগ শুরু করতে যাচ্ছেন লরাঁ ব্লাঁ।
নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে আগামীকাল মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ভিসেন্তে দেল বস্কের এই দলে বিশ্বকাপের তিন তারকা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস ফ্যাব্রিগাস ও ফার্নান্দো তোরেস থাকছেন না। বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ইনিয়েস্তা আছেন বিশ্রামে এবং ফ্যাব্রিগাস ও তোরেস যথারীতি ইনজুরিতে। এএফপি, ওয়েবসাইট।
প্রীতি ম্যাচের মেলা
১০ আগস্ট
ইতালি-আইভরিকোস্ট লন্ডন
ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র নিউইয়র্ক
১১ আগস্ট
হল্যান্ড-ইউক্রেন দোনেৎস্ক
জার্মানি-ডেনমার্ক কোপেনহেগেন
আর্জেন্টিনা-আয়ারল্যান্ড ডাবলিন
নরওয়ে-ফ্রান্স অসলো
ইংল্যান্ড-হাঙ্গেরি লন্ডন
স্পেন-মেক্সিকো মেক্সিকো সিটি

ভারতকে ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাল নিউজিল্যান্ড

জয় দিয়েই ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ভারতকে ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক রস টেলর। শুরুতেই নিউজিল্যান্ডকে চাপের মুখে ফেলে দেন দুই ভারতীয় পেসার প্রবীন কুমার ও আশিস নেহরা। তৃতীয় ওভারেই মার্টিন গুপ্তিলের উইকেট তুলে নেন প্রবীন কুমার। দুই ওভার পরই আরেক ওপেনার পিটার ইনগ্রামকে ফিরিয়ে দেন আশিস নেহরা। অভিষেক ম্যাচে কোনো রান না করেই বিদায় নেন কেইন উইলিয়ামসন। ৭ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৮ রান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে স্কট স্টাইরিসকে সঙ্গে নিয়ে ১৯০ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান অধিনায়ক টেলর। ৮৯ রান করে প্রজ্ঞান ওঝার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান স্টাইরিস। টেলর করেন ৯৫ রান। এক ওভার বাকি থাকতেই ২৮৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। আশিস নেহরা ৪টি ও প্রবীন কুমার নেন ৩টি উইকেট।
২৮৯ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভারত। প্রথম উইকেট জুটিতে শেবাগ আর দিনেশ কার্তিকের করা ৩৯ রানই ভারতীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের মধ্য দিয়ে ৩০ ওভারের মধ্যেই মাত্র ৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৩ উইকেট পেয়েছেন ড্যারিল টাফি। ৯৫ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন রস টেলর।