Saturday, August 9, 2025

আল জাজিরাকে গাজাবাসী: জীবন যাবে, গাজা ছাড়বো না

গাজা সিটিতে প্রায় দশ লাখ মানুষ বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের সামনে আরও একবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে ভয় ও প্রতিরোধের মিশ্র অনুভূতি। কারণ ইসরাইল ঘোষণা করেছে তারা এ অঞ্চলের বৃহত্তম শহরটি সামরিকভাবে দখল করবে। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা দখল করে নেয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করার পর শুক্রবার শহরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এর অংশ হিসেবে বারবার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক দক্ষিণের তথাকথিত কেন্দ্রীভূত অঞ্চলগুলোতে সরিয়ে নেয়া হবে। পরিবারসহ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কমপক্ষে আটবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আহমেদ হিজ। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, আমি কমপক্ষে ১০০ বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। তাই আমার কাছে এখানেই মারা যাওয়া ভালো। আমি কখনো এখান থেকে যাব না। আমরা দুঃখ-কষ্ট, অনাহার, নির্যাতন আর দুর্বিষহ পরিস্থিতি সহ্য করেছি। আর আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো এখানেই মারা যাওয়া।

আল জাজিরার সঙ্গে অন্য যারা কথা বলেছেন তাদেরও অনুভূতি একই রকম। তাদের একজন রাজব খাদের বলেন, কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে রাস্তায় থাকবেন। তবু তিনি দক্ষিণ গাজায় যাবেন না। বলেন, আমরা অবশ্যই গাজা সিটিতে আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে থাকব। ইসরাইলিরা আমাদের দেহ ও আত্মা ছাড়া আর কিছুই পাবে না।

উত্তর-পূর্ব বেইত হানুন থেকে বাস্তুচ্যুত মাগজুজা সা’দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমগ্র গাজা উপত্যকায় কোথাও নিরাপদ নয়, অথচ আবারও স্থানান্তরের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ দিকটা নিরাপদ নয়। গাজা সিটি নিরাপদ নয়, উত্তরও নিরাপদ নয়। আমরা কোথায় যাব? আমরা কি নিজেদের সমুদ্রে ফেলে দেব?

ওদিকে গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর থেকে ইসরাইলের পরিকল্পিত জাতিগত নিধনের আশঙ্কায় বাসিন্দারা ‘আতঙ্কের মধ্যে’ আছেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ তাদের অবশিষ্ট সামান্য জিনিসপত্র গুছাতে শুরু করেছেন- কোথায় যাবেন তা জানেন বলে নয়, বরং শেষ মুহূর্তে আটকা পড়া এড়াতে। তারা প্রস্তুত থাকতে চান, যখন ইসরাইলি সেনারা জোর করে বের করে দেবে তার জন্য।

তিনি আরও বলেন, ভয়, উদ্বেগ, হতাশা- সবই বাড়ছে। ইসরাইলি সেনারা যে এলাকা ‘উচ্ছেদ অঞ্চল’ বলে ঘোষণা করে, সেখানেই মানুষ নিহত হয়। প্যালেস্টিনিয়ান এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ শাওয়া বলেন, বাসিন্দারা বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে হতে ক্লান্ত। এবার স্থানত্যাগ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন মানুষের জন্য কিছুই দেয়ার নেই, আর এটা ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের এমন প্রবীণদের সরাতে হবে যারা হাঁটতে পারেন না, রোগী ও আহতরা আছেন যারা নড়তে পারেন না। আমরা তাদের ফেলে যেতে পারি না, আর সেবা দেয়াও সম্ভব নয়।

ইসরাইলের বিতর্কিত এ পরিকল্পনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেনারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসা সূত্র জানায়, ভোর থেকে কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কমপক্ষে ২১ জন ত্রাণ সন্ধানকারী। দিনের অন্যান্য হামলার মধ্যে একটি ইসরাইলি ড্রোন দক্ষিণ গাজার বানি সুহেইলার পৌরসভায় (খান ইউনুসের পূর্বে) আঘাত হানে, যাতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে নাসের হাসপাতালের এক সূত্র আল জাজিরাকে জানায়। উত্তর গাজায় ত্রাণসন্ধানকারী একজনকে ইসরাইলি সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে। দু’জন নিহত হয়েছেন একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত বিতর্কিত জিএইচএফ পরিচালনা করে।

জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে আল জাজিরার হুদা আবদেল হামিদ জানিয়েছেন, এই কুখ্যাত সংস্থা বর্তমানে চারটি কেন্দ্র চালাচ্ছে। সেখানে খাদ্যের জন্য লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ১৩০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন মূলত ইসরাইলি বাহিনীর হাতে। আবদেল-হামিদ জানান, ইসরাইল এখনো গাজা সিটি দখলের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি। তবে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি চলছে, ইসরাইলের দক্ষিণ সীমান্তে সেনা চলাচল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জোরপূর্বক ৯ লাখ মানুষের উচ্ছেদে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরাইলের পরিকল্পনা যার অধীনে হামাস বা প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি নয়, বরং বিকল্প প্রশাসনের মাধ্যমে গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা বাস্তবায়নে কয়েক বছর লাগতে পারে।
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের তীব্র নিন্দার মাঝেও ইসরাইলের প্রধান সামরিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ পরিকল্পনা সম্পর্কে আগাম অবগত হওয়া বা না হওয়া নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেননি এবং বলেন, হামাস নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটনের বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ছাড়া গাজা সিটির পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অনেকেরই মনে আছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা- গাজাকে মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা বানানোর পরিকল্পনা। শুক্রবার হামাস এ পরিকল্পনাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এ সিদ্ধান্তই ব্যাখ্যা করছে কেন ইসরাইল হঠাৎ করে শেষ দফা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। টেলিগ্রামে দেয়া এক পৃথক বিবৃতিতে তারা জানায়, ফিলিস্তিনিরা যে কোনো দখলদার বা আগ্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলের জন্য ঢাল সরবরাহের অভিযোগ তোলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত বলে অভিযুক্ত করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এ সপ্তাহান্তে ইসরাইলের এ উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে জরুরি বৈঠক করবে।

mzamin

গাজায় গণহত্যার নিন্দা জানালেন ইসরাইলি লেখক ডেভিড গ্রসম্যান

ইসরাইলের জনপ্রিয় লেখক ও শান্তিকামী কর্মী ডেভিড গ্রসম্যান গাজা অভিযানকে স্পষ্টভাবে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, আমি এই শব্দটি বলছি এক ভাঙা হৃদয় নিয়ে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ইতালির দৈনিক লা রিপাবলিকা’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শুক্রবার গ্রসম্যান বলেন, অনেক বছর ধরে আমি গণহত্যা শব্দটি ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি। কিন্তু এখন, যেসব ছবি দেখেছি এবং যেসব মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি- তারপর আমি আর চুপ থাকতে পারি না। তিনি বলেন, আমি এই শব্দটি উচ্চারণ করছি সীমাহীন যন্ত্রণা ও এক ভাঙা হৃদয় নিয়ে। এই শব্দটি যেন এক ধ্বংসাত্মক তুষারধস- একবার বলা শুরু করলে এটা কেবল বড় হতে থাকে, আরও ধ্বংস, আরও কষ্ট তৈরি করে। এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো যখন কয়েকদিন আগেই ইসরাইলেরই প্রখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা বেতসেলেম গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বলে অভিহিত করে। চারদিকে যখন গাজার জনগণের ওপর ক্ষুধা ও অবরোধের ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন গ্রসম্যানের এই বিবৃতি তাৎপর্যপূর্ণ।

ডেভিড গ্রসম্যানের সাহিত্যকর্ম শতাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে তিনি ইসরাইলের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার ‘ইসরাইল প্রাইজ ফর লিটারেচার’ লাভ করেন তিন দশকেরও বেশি সময়ের সাহিত্য অবদানের জন্য। তিনি বলেন, হলোকাস্টের ইতিহাস এবং মানবজীবনের কষ্টের প্রতি আমাদের তথাকথিত সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করে- ‘ইসরাইল’ এবং ‘ক্ষুধামারী’ শব্দ দুটি একসাথে উচ্চারণ করা ধ্বংসাত্মক।

গ্রসম্যান আরও বলেন, আমরা যদি এখনো চোখ না খুলি, যদি এই অবর্ণনীয় কষ্টকে স্বীকার না করি- তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। গ্রসম্যান বরাবরই ইসরাইলি সরকারের কট্টর সমালোচক। তবে এবার তার নিজের দেশকে গণহত্যা সংঘটনকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করল। বিশ্লেষকদের মতে, ডেভিড গ্রসম্যানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নৈতিক চাপ আরও বাড়াবে- বিশেষত তাদের ওপর যারা এখনো ইসরাইলের নীতির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

mzamin

বিশ্বনেতাদের সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ইসরাইলের

গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা অনুমোদনের পর বিশ্ব নেতাদের তীব্র সমালোচনা ইসরাইল দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাট্জ বলেছেন, যারা ইসরাইলকে নিন্দা করছে ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে তারা আমাদের সংকল্প দুর্বল করতে পারবে না। আমাদের শত্রুরা আমাদের একতাবদ্ধ, শক্তিশালী মুষ্টি হিসেবেই পাবে, যা তাদের ওপর প্রবল আঘাত হানবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

গাজায় যুদ্ধ বিস্তৃত করার এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, বৃটেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ একাধিক দেশ। আর ইসরাইলে সামরিক রপ্তানি স্থগিত করেছে জার্মানি। ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার অনুমোদিত পরিকল্পনায় যুদ্ধ অবসানের জন্য পাঁচটি নীতিমালা উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো হামাসকে নিরস্ত্র করা, সব জিম্মিকে মুক্ত করা, গাজা উপত্যকাকে সামরিকভাবে নিরস্ত্রীকরণ, অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নেয়া, এবং হামাস বা প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি- কোনোটিই নয়- এমন একটি বিকল্প বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গাজা সিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়া ও সেখানে থাকা প্রায় এক মিলিয়ন বাসিন্দাকে দক্ষিণে সরিয়ে দেয়া অন্তর্ভুক্ত। সেনারা কেন্দ্রীয় গাজার শরণার্থী শিবির এবং যেসব এলাকায় জিম্মিদের থাকার আশঙ্কা রয়েছে সেগুলোও দখল করবে। কয়েক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ধাপের অভিযানে মানবিক সহায়তা কিছুটা বাড়ানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘাত বাড়ানোর এ পদক্ষেপ ইসরাইলের ভেতর থেকেও তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে আছেন সামরিক কর্মকর্তারা এবং গাজায় আটক জিম্মিদের পরিবার। হামাস বলেছে, গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা একটি নতুন যুদ্ধাপরাধ এবং এর জন্য ইসরাইলকে মূল্য দিতে হবে।

শুক্রবার বৃটেন, জার্মানি, ইতালি, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি গাজার ইতিমধ্যেই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিকে আরও অবনতি ঘটাবে। যে কোনো ধরনের সংযুক্তি বা বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও ব্যাপক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, হত্যাকাণ্ড, অসহনীয় দুর্ভোগ, নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ ও নৃশংস অপরাধ ডেকে আনবে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার এ পদক্ষেপকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি শুধু আরও রক্তপাত ঘটাবে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ইসরাইলকে এ পথে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি গাজার মানবিক বিপর্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেবে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ইসরাইলের এই পরিকল্পনা প্রতিরোধ করা যায় সেই ব্যবস্থা নিতে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, গাজা ফিলিস্তিনি জনগণের এবং এটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের কাছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জার্মানির অস্ত্র রপ্তানি স্থগিতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এটি হামাসের সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার শামিল। ইসরাইলের ভেতরে, গাজায় অবশিষ্ট জিম্মিদের পরিবার সতর্ক করে দিয়েছে যে, জীবিত বলে ধারণা করা ২০ জনের প্রাণ হুমকির মুখে পড়বে।

হোস্টেজেস ফ্যামিলিস ফোরাম সদর দপ্তর বলেছে, এই সিদ্ধান্ত জিম্মি ও আমাদের সেনাদের জন্য এক বিশাল বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখল করবে কি না, তা মূলত ইসরাইলের সিদ্ধান্ত।
বর্তমানে আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) গাজার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। আর প্রায় ২.১ মিলিয়ন নাগরিকের অধিকাংশ অবস্থান করছে সেই এক-চতুর্থাংশ এলাকায় যা সেনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। জাতিসংঘের হিসেবে, গাজার প্রায় ৮৭ ভাগ অঞ্চল হয় সামরিকায়িত, নয়তো উচ্ছেদ আদেশের আওতায়। কেন্দ্রীয় গাজা ও ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের কিছু এলাকা এখনো ইসরাইলের দখলে যায়নি। এর মধ্যে শরণার্থী শিবিরও রয়েছে, যেখানে ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর গাজার বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। যুদ্ধের ফলে গাজার অধিকাংশ জনগণ ইতিমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে, অনেকেই একাধিকবার।

জাতিসংঘ সমর্থিত বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজায় এখন মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, যার অধিকাংশ এলাকা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। ইসরাইলের আরোপিত কঠোর আমদানি নিষেধাজ্ঞার ফলে জনগণ মারাত্মক বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, জুলাই ছিল গাজার শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির সবচেয়ে খারাপ মাস। ৫ বছরের নিচে প্রায় ১২,০০০ শিশু এতে আক্রান্ত হয়েছে।

mzamin

সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও নারী কেন ক্ষমতার ন্যায্য হিস্যা পাবে না by মিল্লাত হোসেন

সাধারণভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনকেই গণতন্ত্র বলে। কোনো একটি বৃহৎ পরিসরে, যেমন রাষ্ট্রে জনমতের সংখ্যাগরিষ্ঠতা মাপা সহজ নয়। তাই বিভিন্ন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে মানুষ। মাপার নিক্তি যেমনই হোক না কেন, মূল প্রতিপাদ্য থাকে সবচেয়ে বেশি মানুষের মত ও তাঁদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়া। এর আলোকে সবচেয়ে প্রচলিত ও জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো দেশকে সংসদীয় আসনে বিভক্ত করে তাতে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের চর্চা।

সাধারণ হিসাবে যাদের কোনো কিছু পাওয়ার কথা নয়, সেটা তাদের জন্য সংরক্ষিত রাখাকেই কোটা বা ইতিবাচক বৈষম্য বলে। আর যেটা স্বাভাবিকভাবেই পাওয়ার কথা, সেটাকে বলে ন্যায্য হিস্যা। মোটকথা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য যা বরাদ্দ থাকে, তাকে কেউ কোটা বলে না, বলে অধিকার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত সর্বশেষ জনশুমারি অনুসারে দেশের নারী-পুরুষের অনুপাত হলো ৫০ দশমিক ৯৩ ও ৪৯ দশমিক শূন্য ৭। নিকটতম পূর্ণ সংখ্যায় দেখালে জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী ও ৪৯ শতাংশ পুরুষ। সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন, ন্যায্য হিস্যা আর দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাধিক্য—সবকিছু একত্রে বিবেচনায় নিলে দেশের ৫১ শতাংশ সংসদ সদস্য নারী হওয়াই স্বাভাবিক। সে হিসাবে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ সংসদ সদস্য নারী হওয়া উচিত ছিল!

সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক আধিপত্য ফলানোর রীতি অনুসারে যেহেতু জনসংখ্যায় নারী বেশি, সেহেতু কিছু ব্যতিক্রম বাদে ৩০০ আসনেই নারী ভোটারও বেশি হওয়ার কথা। এমন একটা দৃশ্যের কথা ভাবা যাক: কোনো এক ‘স্নিগ্ধ’ নির্বাচনী ভোরে দেশের নারীরা যদি নিজেদের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত বর্গ হিসেবে ধরে এই বলে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন যে তাঁরা কেবল একজন নারীকেই ভোট দেবেন। তাহলে আক্ষরিক অর্থেই পুরুষদের ‘হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়ে’ ৩০০ জন এমপিই নারী নির্বাচিত হবেন!

কিন্তু রাষ্ট্রের এই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে বাস্তবে কীভাবে দেখা হয় বা কতটুকু স্থান দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পরিসরে? সদ্য সমাপ্ত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে জাতীয় সংসদে নারীদের সরাসরি নির্বাচন বা প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে যা হলো, সেটাকে অনেকে উল্টো যাত্রার সঙ্গে তুলনা করেছেন। জাতীয় সংসদে শুধু পুরুষদের জন্য আইন প্রণয়ন করা হয় না, নারী-পুরুষনির্বিশেষে সব মানুষের জন্য। অথচ সেসব আইনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ, অর্থাৎ নারীর মতামত দেওয়ার সুযোগ না থাকা কোনো ইতিবাচক ঘটনা নয়।

সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছিল, স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আদলে প্রতি তিনটি সাধারণ আসনের জন্য একটি নারী আসন নির্ধারণ করে তা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের মতে, প্রতিটি আসনে একজন পুরুষের পাশাপাশি একজন নারীও নির্বাচিত হওয়া উচিত। অন্যদিকে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন সংসদে অতিরিক্ত ১০০ আসন সংযোজন করে সেগুলো নারীদের জন্য ঘূর্ণমানভাবে সংরক্ষণের প্রস্তাব দেয়।

সংসদে নারী আসনের ব্যাপারে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত যা চলছে, তা হলো ‘সংরক্ষিত আসন’, যা ক্রমে ক্রমে বেড়ে বর্তমানে ৫০টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে মনোনীত হন। এতে জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে এই নারী সদস্যদের নির্বাচিত করতে পারেন না। এটাকে নাগরিক সমাজ ও নারী অধিকারকর্মীরা বহুদিন ধরেই অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক বলে আসছেন। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যধারায় এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রশ্নে মতৈক্য তো দূরে থাক, এতই মতভিন্নতা দেখা গেল যে শেষে নারীদের পক্ষ থেকে জানাতে হয়, এই মতভেদের তোড়ে যেন বিদ্যমান সংরক্ষণব্যবস্থাও ভেস্তে না যায়!

এরপর কমিশন সর্বশেষ যে প্রস্তাব দেয়, তা হলো আগের ৫০ সংরক্ষিত আসন রেখেই সাধারণ আসনে আগামী নির্বাচনে কমপক্ষে ৫ ভাগ আসনে নারীকে মনোনয়ন দেওয়া এবং এভাবে তা ৩৩ ভাগে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত ৫ ভাগ হারে বাড়াতে হবে। কিন্তু এতেও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি দেওয়া হয়েছে। এটা নাগরিক ও নারী সমাজে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়। নারীনেত্রীরা ‘ভোট দেবেন না’ বলেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালে কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ ‘ভোট দেব না’কে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করার পরামর্শ দিতে দেখা গেছে। (প্রথম আলো, ২ আগস্ট ২০২৫)

এ ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বে আইনসভায় নারীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রথম দেশ রুয়ান্ডার অভিজ্ঞতা থেকে পাঠ নিতে পারি। সর্বশেষ নির্বাচনে সে দেশের নিম্নকক্ষ চেম্বার অব ডেপুটিজে ৬৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষ সিনেটে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ আসনে নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ প্রশ্নে এমা রুবাগুমিয়া ফুরাহা নামের রুয়ান্ডার একজন নারী আইনপ্রণেতা বলেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমরা নারীরা রুয়ান্ডার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি। এখন যদি আমাদের বাদ দেওয়া হতো, তবে কীভাবে আমরা উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কথা বলতাম? আজ আমরা যে আইনই বিবেচনা করি, তাতে লিঙ্গসমতার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়—পরিবার–সংক্রান্ত বিষয়ে তো বটেই, বাজেট ও দরপত্র আহ্বানেও।’ (ফরাসি সাময়িকী লা মদে, ২০২৪)

সাংবিধানিক সংরক্ষণের ভেতর দিয়েই এটা সম্ভব হয়েছে। হুতু-তুতসিদের মধ্যে সংঘটিত ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও গণহত্যার পর ২০০৩ সালে গৃহীত রুয়ান্ডার সংবিধানে সংসদীয় আসনসহ সব রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পদে নারীদের জন্য ৩০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। ২০০৩ সালের নির্বাচনে নারীরা সংসদের ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ আসন পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ এবং ২০১৩ সালে এটি বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করে, যা ছিল ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ। একটি প্রবলভাবে হিংসাবিদীর্ণ ও রক্ষণশীল রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করে একটি স্থিতিশীল, লিঙ্গসাম্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উন্নীত করার অভিযাত্রায় দেশটির নারীরাই প্রধান ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

নারীদের সরাসরি জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি দয়াদাক্ষিণ্য বা অনুরোধ-উপরোধের বিষয় নয়, গুরুতর রাজনৈতিক বিষয়। তাই এ প্রশ্নের ফয়সালা রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে। এখানে ন্যায্যতা কোনো গ্যারান্টি দিতে পারে না। কিন্তু রাজনীতি তো ক্ষমতা আর ক্ষমতা তো যুক্তি বা ন্যায্যতা দিয়ে চলে না। এখানে রাজপথে ক্ষমতা দেখাতে হয়। রাজনৈতিক দলগুলো কেবল রাজপথ থেকে দেখানো শক্তি বা শোডাউন আর ক্ষমতাকাঠামোর চাপ—এ দুই ক্ষমতাকেই পরোয়া করে। তাই প্রাথমিকভাব এ বিষয়ে সাংবিধানিক নিশ্চয়তা পাওয়ার প্রশ্নে নারীদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়া ভিন্ন কোনো পথ নেই।

এ ক্ষেত্রে একটি ন্যায্য প্রস্তাব এমন হতে পারে যে সংসদীয় আসনের মধ্যে নারী ভোটারসংখ্যা বিবেচনায় শীর্ষ ১০০ আসনে শুধু নারীরাই প্রার্থী হতে পারবেন। যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের মৌসুমে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে সব আসনের নারী ভোটারদের একটা সারণি করলেই বেরিয়ে আসবে, কোন ১০০ আসনে নারী ভোটার বেশি। পরবর্তী নির্বাচনী মৌসুমে একইভাবে তালিকা করে ১০০ নারী আসন চিহ্নিত হবে।

নারী আসন নিয়ে চলমান তর্কবিতর্কে সীমিত হলেও নারীদের যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তাতে একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে—দেশে গণতন্ত্রের পরিসর বাড়ছে এবং প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীদের জন্য সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা করা হলে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা আরও স্বীকৃতি পাবে, যা আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী ও টেকসই করবে। সংসদে নারীদের নিছক হাজির থাকা নয়; বরং সরাসরি নির্বাচিত, প্রকৃতভাবে ক্ষমতায়িত আইনপ্রণেতার সরব উপস্থিতি কাম্য; যাঁরা জবাবদিহি করবেন শুধু দল বা নেতৃত্বের কাছে নয়, সরাসরি নাগরিকদের কাছে।

* মিল্লাত হোসেন, আইন ও সংবিধানবিষয়ক লেখক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

নারী–পুরুষের সমতার দাবিতে সম্প্রতি ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়
নারী–পুরুষের সমতার দাবিতে সম্প্রতি ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রথম আলো

গাজায় আকাশ থেকে ত্রাণ নয়, ধোঁকা ফেলা হচ্ছে by মোহাম্মদ আল তাবান

গত সপ্তাহে আমি বা আমরা গাজার প্রাণকেন্দ্র আজ-জাওয়াইদার কাছে আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলতে দেখেছি। কিন্তু আমি বা আমার কোনো প্রতিবেশী তা কুড়াতে যাওয়ার সাহস পাইনি। কারণ, আমরা জানি, ওগুলো মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই লড়াই শুরু হবে। আকাশ থেকে পড়া ত্রাণ যদি কোনোভাবে প্রকৃত ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে পড়েও, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লুটেরাদের হাত থেকে তাঁরা রেহাই পাবেন না।

প্রায় প্রতিবারই একই দৃশ্য ঘটে। বিমান থেকে বাক্সগুলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। আগে থেকেই সশস্ত্র গ্যাংগুলো মাটিতে অপেক্ষা করে থাকে, যাতে জোর করে এই ত্রাণ দখল করা যায়। যিনি আগে পৌঁছান বা যে আগে গুলি চালান, তিনিই খাবার নিয়ে চলে যান। কিন্তু যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁরা কখনো পান না। পরে আমরা দেখি সেই ‘সাহায্যের বাক্সগুলো’ দেইর আল-বালাহর বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ভেতরের জিনিসগুলো আগুনের দামে বিক্রি হচ্ছে।

সম্প্রতি আমার ছোট ভাই বিস্কুট খেতে চাইছিল। আমি বাজারে একটি ত্রাণের প্যাকেট থেকে আসা বিস্কুট দেখলাম এবং দোকানিকে বিস্কুটের দাম জিজ্ঞাসা করলাম। জানলাম, এক পিস বিস্কুটের দাম ২০ শেকেল (৫ ডলার)। এই দামে সে বিস্কুট আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব ছিল না।

আকাশ থেকে ফেলা এই ত্রাণ শুধু ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদের পেট ভরাতে ব্যর্থ হয় না, তাঁদের হত্যা পর্যন্ত করে। এ সপ্তাহে আকাশ থেকে ফেলা একটি প্যালেট বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে গিয়ে পড়ে এবং তাতে আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের চিকিৎসক উদাই আল-কুরআন নিহত হন। এক সপ্তাহ আগে আরেকটি প্যালেট উত্তর গাজায় তাঁবুতে গিয়ে পড়লে ১১ জন আহত হন।

গত বছরও এয়ারড্রপে মানুষ মারা গেছেন। গাজা সিটির শাতি শরণার্থীশিবিরে একটি প্যালেটের প্যারাস্যুট না খোলায় পাঁচজন নিহত হন; সমুদ্রে পড়া ত্রাণের প্যাকেট আনতে গিয়ে ১২ জন ডুবে মারা যান; ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে এয়ারড্রপের স্থানে যাওয়ার সময় ৬ জন নিহত হন।

আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলার ধারণাটি এসেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকে। তিনি বিশ্বের দেশগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় গাজায় ত্রাণ দেওয়ার আহ্বান জানান। অনেক দেশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কিছু ইউরোপীয় দেশ এই ত্রাণকাজে যোগও দিয়েছে।

কিন্তু নেতানিয়াহু খুব ভালো করেই জানেন, আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণ ফিলিস্তিনিদের না খেয়ে থাকা অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে না। এ কারণেই তিনি গাজার স্থলপথের ক্রসিং খুলে না দিয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে নিয়মিত ও ন্যায়সংগতভাবে সাহায্য বিতরণের জন্য আকাশপথ বেছে নিতে বলেছেন।

বিশ্বের সাধারণ মানুষ হয়তো মনে করতে পারেন, এভাবে আকাশ থেকে খাবার ফেলে ফিলিস্তিনিদের ক্ষুধা মেটাতে কিছু করা হচ্ছে, কিন্তু গাজার ভেতরে এই এয়ারড্রপগুলোকে কেউ বাস্তব সমাধান বা মানবিক উদ্যোগ মনে করেন না।

আমরা এগুলোকে কেবল একটি প্রচারণা হিসেবেই দেখি। আসলে এটি ইসরায়েলের চলমান অপরাধকে আড়াল করার একটা উপায়। এখানে হাজারো ট্রাককে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে আর ক্যামেরার সামনে কয়েকটি বাক্স আকাশ থেকে ফেলা হচ্ছে। এটি আসলে ক্ষুধা দীর্ঘায়িত করার কৌশল এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর উপায়।

এভাবেই দুর্ভিক্ষ দ্রুত প্রকট হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সেখানে ক্ষুধায় মারা গেছেন ১৮০ জনের বেশি মানুষ, তাঁদের মধ্যে ৯২টি শিশুও রয়েছে।

শুধু গাজায় নয়, অন্য স্থানেও এয়ারড্রপকে অকার্যকর ও বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আকাশ থেকে ত্রাণের প্যাকেটের আদলে ক্লাস্টার বোমা ফেলা হয়েছিল। শিশুরা খাবার ভেবে দৌড়ে গিয়ে সেগুলো হাতে নিতেই বিস্ফোরণে মারা গিয়েছিল। সিরিয়াতেও অবরুদ্ধ এলাকায় আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বা আইএসের দখলে থাকা এলাকায় পড়েছিল। ফলে ক্ষুধার্ত মানুষেরা কিছুই পাননি।

‘প্যারাস্যুট দিয়ে মানবতা’ আসলে একটি অজুহাত। এটি দিয়ে বিশ্ব তার লজ্জা ঢাকার চেষ্টা করছে এবং ক্ষুধায় মৃত্যুকে চুপচাপ দেখে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে আড়াল করছে। যাঁরা চুপ করে থাকছেন, যাঁরা এই হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন করার মতো করে কথা বলছেন, যাঁরা হত্যাকারী আর ভিকটিমকে একইভাবে দেখছেন, তাঁরা সবাই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

* মোহাম্মদ আল তাবান, গাজার একজন ফিলিস্তিনি লেখক ও স্বেচ্ছাসেবক
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত

এই এয়ারড্রপগুলোকে কেউ মানবিক উদ্যোগ মনে করেন না
এই এয়ারড্রপগুলোকে কেউ মানবিক উদ্যোগ মনে করেন না। ছবি: রয়টার্স

ভারতের সঙ্গে আর কোনো বাণিজ্য আলোচনা নয়, জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প

ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েও ক্ষান্ত থাকলেন না আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকি, তিনি ভারতের সঙ্গে আর কোনো বাণিজ্য আলোচনাও করবেন না। বৃহস্পতিবার ওভাল হাউসে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এই কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি।

গত কয়েক মাস ধরেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে দর কষাকষি চালাচ্ছে আমেরিকা। কেন্দ্রের মোদি সরকার জানিয়ে দিয়েছে, কৃষি ও ডেয়ারি প্রোডাক্টের বাজার আমেরিকার জন্য দরজা খুলবে না ভারত। তাতেই ব্যাপক ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যের ওপরে প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তারপর গত বুধবার আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে।

মার্কিন আধিকারিকদের মতে, ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রথমে যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসেছিল, সেটি কার্যকর হচ্ছে ৭ আগস্ট থেকে। পরবর্তী ২৫ শতাংশ শুল্ক বসবে তারও ২১ দিন পর থেকে। তবে যেসব পণ্য ইতিমধ্যেই ভারত থেকে আমেরিকায় রওনা দিয়েছে তার ওপর শুল্ক বসাবে না মার্কিন প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। এরপরে কি আপনি আশা করেন যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা আরও বাড়বে? ট্রাম্পের জবাব, ‘না, যতদিন না এই সমস্যা মিটছে ততদিন আলোচনা হবে না।’ এই সমস্যা বলতে ট্রাম্প ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।

তবে বিশ্লেষকদের অনুমান, রুশ তেল কেনা বন্ধ করুক ভারত, এমনটাই চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাই ভারতের ‘শাস্তি’ বাড়াতেই এবার বাণিজ্য নিয়ে আলোচনাও বন্ধ করতে চাইছেন তিনি। অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতও। বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত। ভারত আগেও একাধিকবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাজারের পরিস্থিতি এবং ১৪০ কোটি ভারতবাসীর জ্বালানির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা হয়।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘কৃষকের স্বার্থ আমাদের কাছে সবার আগে।’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

mzamin

দেশে অনেক ছোট ছোট শামীম ওসমানের জন্ম হচ্ছে: আনু মুহাম্মদ

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শামীম ওসমানের মতো মাফিয়া চলে গেলেও দেশে অনেক ছোট ছোট শামীম ওসমানের জন্ম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, এই সরকারের এক বছর পূর্তি হলেও ত্বকী হত্যার বিচারের জন্য কথা বলতে হচ্ছে, এটা খুবই দুঃখজনক ও বিস্ময়কর।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার মিলনায়তন প্রাঙ্গণে ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৪৯ মাস উপলক্ষে মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচিতে আনু মুহাম্মদ এই মন্তব্য করেন।

প্রতি মাসের ৮ তারিখে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে এই মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

কর্মসূচিতে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ত্বকী, তনু, সাগর-রুনি, মুনিয়াসহ এই হত্যাকাণ্ডগুলো শেখ হাসিনা শাসনামলের একেকটা চিহ্ন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল মাফিয়াতন্ত্রের পরিবর্তন হবে, হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। এই সরকারের অনেক উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি ছিল বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলো তারা দ্রুত সমাধান করবেন। কিন্তু এক বছর পার হওয়ার পরও আমরা দেখছি একই জায়গায় আছি।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, শামীম ওসমানের মতো মাফিয়া চলে গেলেও অনেক ছোট ছোট শামীম ওসমানের জন্ম হচ্ছে দেশে। তিনি আরও বলেন, শামীম ওসমানের জন্ম হচ্ছে, মব সন্ত্রাস হচ্ছে, নারীর ওপর আক্রমণ হচ্ছে; সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যেও যারা দুর্বল, তাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জোরজবরদস্তি, মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নতুন নতুন মাফিয়াতন্ত্র তৈরি হচ্ছে, সরকারের মধ্য থেকে একধরনের নিষ্ক্রিয়তা, নির্লিপ্ততা ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে।

ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে গেছে। যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ রাজপথে দলে দলে নেমে এসেছে, দেড় হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ ও আহত হয়েছে, তাদের আকাঙ্ক্ষার কোনো বাস্তবায়ন নাই। বরং এর বিপরীত দিকটা আমরা লক্ষ করছি। ত্বকীর ঘাতক ওসমান পরিবার পালিয়ে গেলেও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসী ও খুনিরা বিএনপির বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ছে। প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় ওসমান পরিবারের সেই চাঁদাবাজি, হাট–ঘাট, মাঠ, মাদক এখন বিএনপির লোকেরা নিয়ন্ত্রণ করছে। ওসমান পরিবারের এই খুনিরা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন মাফিয়াতন্ত্র গড়ে তোলার তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার মিলনায়তন প্রাঙ্গণে
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার মিলনায়তন প্রাঙ্গণে। ছবি: প্রথম আলো

‘এক ইঞ্চি জমি ছাড়লে, এক মাইল নিয়ে নেবে!’

ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সরাসরি নাম না করলেও চীনা রাষ্ট্রদূতের নিশানায় রয়েছেন ট্রাম্প, তা নিয়ে সংশয় নেই অনেকেরই। শুধু তা-ই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নাম না করে ‘গুন্ডা’ বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘এক ইঞ্চি জমি ছাড়লে, এক মাইল নিয়ে নেবে!’ ভারতের ওপরে আমেরিকা প্রথমে শুল্ক চাপিয়েছিল ২৫ শতাংশ। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জরিমানাস্বরূপ আরও ২৫ শতাংশ কর আরোপ করেন।

ব্রাজিলের ওপরেও আমেরিকা কর চাপিয়েছে ৫০ শতাংশ। তার পরেই চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি সমালোচনা করেন মার্কিন নীতির! ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরই ব্রাজ়িল প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি কোনও রকম আলোচনা করবেন না। বরং ভারত, চীনের  মতো ‘বন্ধু’ দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলবেন। বৃহস্পতিবার রাতেই (ভারতীয় সময়) ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্টের থেকে ফোন পান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আলোচনা হয় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে।

উল্লেখ্য, এই আবহে চলতি মাসের শেষে আন্তর্জাতিক জোট ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন’ (এসসিও)-এর রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠকে যোগ দিতে চীনে  যাচ্ছেন মোদি। ২০১৯ সালের পর চীন সফর করবেন তিনি। ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের মধ্যে মোদির এই সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত অনেকের। কীভাবে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে মোকাবিলা করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভারত, চীন ও তুরস্ক হল রাশিয়ার তেলের তিনটি বৃহত্তম আমদানিকারক এবং ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে শুক্রবারের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ না হলে ‘দ্বিতীয় শুল্ক’ আরোপ করা হবে। এই বছরের শুরুতে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যেখানে আমেরিকা চীনের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধি করে।

তবে, চীন শুল্কের পরিমাণ ১২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রেখে বলেছিল, আমেরিকা যদি আরও উচ্চ স্তরে শুল্ক বৃদ্ধি করে, তবে এটি অর্থনৈতিকভাবে অর্থহীন হবে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে হাসির খোরাক হয়ে উঠবে।

সূত্র: এনডিটিভি

mzamin

‘একাত্তরের পক্ষে না বিপক্ষে’-এর ভিত্তিতে রাজনীতি গ্রহণ করতে কেউ আগ্রহী নয়: -নাহিদ ইসলাম

চব্বিশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা ও একটি নতুন প্রজন্ম আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা একাত্তরকে অতিক্রম করেছি এবং চব্বিশে পৌঁছেছি। একাত্তরের পক্ষে না বিপক্ষে—এই বাইনারির (দুই ধারার) ওপর ভিত্তি করে তৈরি রাজনীতিকে গ্রহণ করতে কেউ আগ্রহী নয়। যারা এখনো এই পুরোনো রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা দেশকে একটি অচল রাজনৈতিক কাঠামোতে ফিরিয়ে নিতে চায়।’

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। ‘৭১ এবং ২৪’ শিরোনামে ইংরেজি ভাষায় পোস্টটি লিখেছেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা নাহিদ ইসলাম।

পোস্টে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ লিখেছেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, চব্বিশ হচ্ছে একাত্তরের ধারাবাহিকতা। একাত্তরের আকাঙ্ক্ষা সাম্য, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার—এগুলোই চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী এবং গণতান্ত্রিক গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুনরায় ঘোষিত হয়েছে। যেখানে মুজিববাদ একাত্তরকে একটি ভারতীয় বয়ানের মধ্যে ঢুকিয়ে আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থকে বিপন্ন করেছিল, চব্বিশ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে পুনরুদ্ধার করেছে। এটা ছিল কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ লড়াই, যা একটি গণতান্ত্রিক ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশের প্রত্যাশায় পরিচালিত হয়েছিল।’

চব্বিশের পর নতুন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা ও একটি নতুন প্রজন্ম আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ লেখেন, ‘যাঁরা চব্বিশের লড়াইয়ে অংশ নিয়ে সেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন, আমরা একাত্তরকে অতিক্রম করেছি এবং চব্বিশে পৌঁছেছি। যারা এখনো ‘একাত্তরের পক্ষে না বিপক্ষে’—এই পুরোনো রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা দেশকে একটি অচল রাজনৈতিক কাঠামোতে ফিরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু আমরা চব্বিশ থেকে একটি নতুন সূচনা চেয়েছি, যা চব্বিশের অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।’

নাহিদ লিখেছেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক করার জন্য মুজিববাদ এবং সব ধরনের কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করাই আমাদের দায়িত্ব। এই প্রজন্ম ইতিমধ্যেই একাত্তরকে অতিক্রম করে এসেছে। ‘‘একাত্তরের পক্ষে না বিপক্ষে’’—এই বাইনারির ওপর ভিত্তি করে তৈরি রাজনীতিকে গ্রহণ করতে কেউ আগ্রহী নয়। একাত্তর ইতিহাসে থাকবে, রাষ্ট্রের একটি ভিত্তি, সম্মানজনক একটি নীতি হিসেবে, কিন্তু সেটি আর রাজনৈতিক বৈধতার ওপর আধিপত্য করবে না। সাতচল্লিশকেও একইভাবে ঐতিহাসিক মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হবে, কিন্তু এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কোনো হাতিয়ার হবে না। এর মানে এই নয় যে আমরা এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা বা বিতর্ক করবো না—বরং এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমরা আমাদের ঐতিহাসিক প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে পারি।’

‘এখন রাজনীতি হতে হবে চব্বিশের ভিত্তিতে’

এখন রাজনীতি হতে হবে চব্বিশের মূল্যবোধের ভিত্তিতে—এই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘যারা আবার একাত্তরে ফিরতে চায়, তারা চব্বিশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ অনেক রাজনৈতিক শক্তির জন্য ছিল একধরনের প্রায়শ্চিত্ত। কিন্তু সেই প্রায়শ্চিত্তের অর্থই হারিয়ে যাবে যদি তারা বা আমরা আবার পুরোনো মতাদর্শিক রাজনীতিতে ফিরে যাই। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পুরোনো বাইনারি কাঠামোর পুনরুত্থান রোধ করা আমাদের দায়িত্ব।’

চব্বিশ কখনোই প্রতিশোধের জন্য ছিল না–এমন মন্তব্য করে নাহিদ লিখেছেন, ‘যারা চব্বিশকে প্রতিশোধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তারা এর অন্তর্নিহিত মর্মকে ভুলভাবে অনুধাবন করেছে। চব্বিশ হলো জাতীয় ঐক্য ও রিকন্সিলিয়েশনের (পুনর্মিলন) একটি ক্ষেত্র। এর চেতনা এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিহিত, যা ঐকমত্য, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্বের মাধ্যমে গড়ে উঠতে হবে, প্রতিশোধের চক্রের মাধ্যমে নয়।’

নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি: প্রথম আলো

বাড়ি ভাড়া নিয়ে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ: মন্ত্রীর পদ থেকে রুশনারা আলীর পদত্যাগ by আরিফ মাহফুজ

স্বেচ্ছায় মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বৃটিশ সরকারের মন্ত্রী রুশনারা আলী এমপি। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী লন্ডনের বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি নির্বাচনী আসনে লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি। মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত বৃটেনের লেবার সরকারের হোমলেসনেস (গৃহহীনতা) মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তার পদত্যাগের বিষয়টি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট নিশ্চিত করেছে।

হঠাৎ করেই মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ কারণ হিসেবে জানা যায়, লন্ডনে নিজের মালিকানাধীন একটি বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ ওঠার পর বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর পদ্ধতি নিয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার প্রেক্ষিতে গৃহহীনতাবিষয়ক একাধিক দাতব্য সংস্থা এবং বিরোধী দলীয় রাজনীতিকরা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রুশনারা আলীর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনার ঝড় ওঠার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা পদত্যাগপত্রে আলী লিখেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমি বিশ্বাস করি, আমি আমার দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি এবং প্রমাণও তাই বলে। তবে স্পষ্ট যে, আমার অবস্থানে থাকা সরকারের কাজকে বিভ্রান্ত করছে।’

প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে রুশনারা আলীর কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘‘রুশনারা আলীর ‘পরিশ্রমী’ ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতেও তিনি ব্যাকবেঞ্চ থেকে সরকারের কাজকে সমর্থন দিয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।’’

ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট

‘দ্য আই পেপার’-এর অনুসন্ধানে উঠে আসে রুশনারা আলী পূর্ব লন্ডনের একটি বাড়ির ফিক্সড টার্ম কনট্র্যাক্ট বাতিল করে সেটি বিক্রির উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্ত করেন। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ওই বাড়িটি আবার ভাড়া দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়—এবার আগের চেয়ে প্রতি মাসে ৭০০ পাউন্ড বেশি ভাড়ায়।

সাবেক এক ভাড়াটে জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে চার মাসের নোটিশ দিয়ে বলা হয়, বাড়ির লিজ নবায়ন হবে না। তিনি ও বাকি তিন ভাড়াটে বাড়ি ছাড়ার পর সেই বাড়িটিই আবার নতুন করে ভাড়া দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, রুশনারা আলী নিজেই একটি আইনের (রেন্টারস রাইটস বিল) পক্ষে কাজ করছিলেন, যার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি—যেখানে বাড়ি বিক্রির কথা বলে ভাড়াটেদের তাড়িয়ে পরে সেটি আবার বেশি ভাড়ায় দেয়া হয়—নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া

লন্ডন রেন্টারস ইউনিয়নের মুখপাত্র সিয়ান স্মিথ বলেন, ‘‘রুশনারা আলীর কর্মকাণ্ড ‘অপমানজনক’ এবং ‘স্পষ্ট স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ তৈরি করেছে।’’ রেন্টারস রিফর্ম কোয়ালিশনের পরিচালক টম ডার্লিং বলেন, ‘‘তার পদত্যাগ ‘ঠিক সিদ্ধান্ত’ এবং ‘তার অবস্থান সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছিল, কারণ তিনি যে আইনের পক্ষে ছিলেন, সেটির বিরুদ্ধেই কাজ করেছেন তিনি।’’

কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হোলিনরেক বলেন, ‘এই ঘটনা লেবার পার্টির সরকারে দ্বিচারিতা এবং আত্মসেবামূলক আচরণের দৃষ্টান্ত।’

লিবারেল ডেমোক্র্যাটের এক মুখপাত্র বলেন, ‘তার দায়িত্ব ছিল গৃহহীনতা দূর করা, বাড়ানো নয়। তার এমন আচরণ রাজনৈতিকভাবে জনগণের প্রতি এক চরম অবহেলার বার্তা দেয়।’

আগেও বিতর্কে ছিলেন রুশনারা

এটাই প্রথম নয়—গত বছরও রুশনারা আলীকে তার মন্ত্রণালয়ের একটি অংশের দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছিল। তিনি একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন, যা গ্রেনফেল টাওয়ার ট্র্যাজেডিতে অভিযুক্ত এক কোম্পানির মূল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘ধারণা বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ’—এই যুক্তিতে তিনি বিল্ডিং সেফটি সংক্রান্ত দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

রুশনারা আলী বাংলাদেশের সিলেটি বংশোদ্ভূত প্রথম ব্রিটিশ এমপি। ২০১০ সালে লন্ডনের বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে বৃটেন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

mzamin
রুশনারা আলী।