Saturday, September 3, 2016

পাকিস্তানে আদালতে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৪

পাকিস্তানের মারদান শহরে আদালতে বোমা হামলার পর
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। এএফপি
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গতকাল শুক্রবার আদালত ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের আবাসে দুই সন্ত্রাসী হামলায় হামলাকারীসহ মোট ২০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। জামাতুল আহরার নামের একটি জঙ্গি সংগঠন দুটি হামলারই দায় স্বীকার করেছে। গত মাসে কোয়েটার হাসপাতালে যে হামলায় ৭৩ জন নিহত হন, তারও দায় স্বীকার করেছিল সংগঠনটি। গতকাল দুপুরে পেশোয়ারের কাছের মারদান শহরে আদালত ভবনে আত্মঘাতী হামলায় হামলাকারীসহ কমপক্ষে ১৪ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হন। আহত লোকজনের মধ্যে চারজন আইনজীবী ও পুলিশের তিনজন সদস্য রয়েছেন। এর আগে ভোরে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের খ্রিষ্টান কলোনিতে চার বন্দুকধারী হামলা চালায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের গুলিবিনিময়ের সময় বন্দুকধারী চারজনই নিহত হয়। দুপক্ষের বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে মারা যান আরও দুই বেসামরিক লোক। জামাতুল আহরারের হামলায় কোয়েটার হাসপাতালে নিহত ৭৩ জনের বেশির ভাগই ছিলেন আইনজীবী। গত মাসের ওই হামলার পর আইনজীবী ও বিচারকেরা জামাতুল আহরারের নিশানায় রয়েছেন বলে জনমনে যে ধারণা তৈরি হয়, গতকাল আদালত ফটকে হামলার পর সেই ধারণা আরও জোরালো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মারদান জেলার পুলিশপ্রধান ফয়সাল শেহজাদ বলেন,
দুপুরের দিকে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী জেলা আদালতের ফটকের সামনে এসে গ্রেনেড ছুড়ে মারে। আতঙ্কে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করলে সে ফটক দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের একজন সদস্য তাকে বাধা দেন ও গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হয়েও হামলাকারী আদালত ভবনের বাইরের দিকের এক কক্ষে তার শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ফয়সাল শেহজাদ বলেন, হামলাকারীর শরীরে আট কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল। তিনি বলেন, পুলিশের ওই সদস্য হামলাকারীকে না ঠেকালে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ত। এর আগে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পেশোয়ারের খ্রিষ্টান কলোনিতে চার বন্দুকধারী ঢুকে পড়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তবে পুলিশ তাদের শেষ পর্যন্ত হত্যা করতে সক্ষম হয়। ‘পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় চলমান জঙ্গিবিরোধী অভিযানে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে এবং জঙ্গিরা চাপের মুখে রয়েছে’ বলে বৃহস্পতিবার দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক আসিম বাজওয়া বিবৃতি দেন। এর পরদিনই এই দুটি হামলার ঘটনা ঘটল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, জঙ্গিরা এখন পিছু হটছে। নিরস্ত্র মানুষের ওপর এই হামলা তাদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট কারিমভ মারা গেছেন

ইসলাম কারিমভ
মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট স্বৈরশাসক ইসলাম কারিমভ (৭৮) মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইসলাম কারিমভ কোনো উত্তরসূরি নির্বাচন করে না যাওয়ায় দেশটির দায়িত্ব কার ওপর অর্পিত হবে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে মতানৈক্য হলে দেশটিতে সংঘাত দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারিমভের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে গতকাল বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে সংশয় ছিল। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাচ্ছিল না। একপর্যায়ে সরকারি বিবৃতির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক ঘোষণা করেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের প্রিয় প্রেসিডেন্ট আর নেই।’ আর বাবার মৃত্যুর খবর দিয়ে কারিমভের ছোট মেয়ে লোলা ফেসবুকে লেখেন,
‘তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন, আমি এটা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না।’ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ শনিবার কারিমভের নিজের শহর সমরখন্দে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ইসলাম কারিমভ গত শনিবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি উজবেকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে। প্রথমে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে এবং পরে ১৯৯১ সাল থেকে নব্য স্বাধীন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে একনায়কের মতোই দেশ শাসন করছিলেন তিনি। পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রায়ই তাঁর সমালোচনায় মুখর হয়েছে। উজবেকিস্তানের কূটনৈতিক কয়েকটি সূত্র জানায়, কারিমভ কোনো উত্তরসূরি নির্বাচন করে না যাওয়ায় দেশটির দায়িত্ব কার ওপর অর্পিত হবে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

দেশত্যাগের প্রবণতা বাড়তে পারে by প্রতীক বর্ধন

পুলিশের অভিযানে তামিম চৌধুরী ও এর আগে কল্যাণপুরে নয় জঙ্গির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জঙ্গি তৎপরতার রাশ অনেকটাই টেনে ধরা গেছে বলে পুলিশ মনে করছে। হয়তো সে দাবির সত্যতা রয়েছে। কিন্তু বছর খানেক ধরে জঙ্গিদের এই ধারাবাহিক হামলার প্রভাব জনমনে দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হবে। এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। দেশের ভেতরেও মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তীব্র হয়েছে। এমনিতেই মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুশাসনের অভাব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অভিবাসনের কথা সব সময়ই কম-বেশি ভাবেন। এসব ঘটনার পর তাঁরা এ ব্যাপারে আরও সিরিয়াস হয়ে উঠেছেন। তাঁদের অনেকেই হয়তো শেষমেশ চলে যাবেন। আবার সরকার ব্লগারদের নিরাপত্তার ব্যাপারে একরকম ঔদাসীন্য দেখানোয় তাঁদের কেউ কেউ দেশ ছেড়ে গেছেন। অন্য অনেকেও এই সুযোগ নিয়েছেন বা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই অভিবাসনের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমত, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় থেকে এখানকার হিন্দু জনগোষ্ঠী পশ্চিম বাংলাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে চলে যাওয়া শুরু করে, যে ধারা এখনো শেষ হয়নি। তখন থেকে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক হামলার পর হিন্দুরা নীরবে দেশত্যাগ করে যাচ্ছে। দেশভাগের সময় পূর্ব বাংলা বা আজকের বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩১ শতাংশ,
আর এখন তা প্রায় ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। অবশ্য বিবিএসের এই হিসাব নিয়ে বিতর্ক আছে। সব সরকারের আমলেই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ হয়েছে, কিন্তু তার বিচার হয়নি। সেটা যেমন বিএনপির সরকারের ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি আওয়ামী লীগের সরকারের আমলেও। এ বছরের শুরুতে যেভাবে হিন্দুধর্মাবলম্বীসহ সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে হত্যা করা হলো, তাতে তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় বসে এটা টের পাওয়া না গেলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এর প্রভাব ঠিকই টের পাওয়া যাচ্ছে। হিন্দুদের দেশত্যাগের বিষয়টি রাজনৈতিক। কিন্তু এবার তার সঙ্গে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির বিজেপির সরকার ভারতের নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী এনেছে। ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে হিন্দুসহ যেসব সংখ্যালঘু প্রাণভয়ে ভারতে যাবেন, ভারত সরকার তাঁদের প্রথমে ১০ বছরের জন্য এবং পরে স্থায়ীভাবে নাগরিকত্ব দেবে। বর্তমানে ভারতে প্রায় দুই লাখ অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এই আইনের কারণে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠী আরও বিপদে পড়বে। নানা কারণে অনেকেই এই সুযোগ নিতে পারেন, কিন্তু যাঁরা নেবেন না, তাঁরা নানা বৈরী পরিবেশের সম্মুখীন হবেন। গত কয়েক বছরে দেশে নানা কারণেই ভারত-বিরোধিতা তীব্র হয়েছে, ভারত সরকারের এই পদক্ষেপে তা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা যায়।
সেটা শেষমেশ হিন্দু-বিরোধিতায় রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের হিন্দুদেরই তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের রাজনৈতিক জটিলতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সুশাসনের অভাবের কারণে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মধ্যে উন্নত দেশে অভিবাসনের ইচ্ছা সব সময়ই আছে। দেশের প্রায় এক কোটি লোক এখন প্রবাসী। এ পরিস্থিতিতে যাঁরা এত দিন অভিবাসনের ব্যাপারে দোটানায় ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন। অভিবাসন বর্তমান যুগের খুবই আলোচিত বিষয়। সিরিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের লোকেরা দেশত্যাগ করছে বাধ্য হয়ে। যুদ্ধের কারণে সেসব দেশে এখন বসবাস করা দায় হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশের পরিস্থিতি তেমন নয়। এখানকার তরুণেরা দেশান্তরি হন মূলত উন্নত জীবনযাপনের সন্ধানে। সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার জন্য আমাদের দেশের কত তরুণ জমি বিক্রি করে জীবন বাজি রেখেছিলেন, তার করুণ চিত্র আমরা দেখেছি। আবার যাঁরা অত্যন্ত মেধাবী মানুষ, তাঁদের কাজ করার সুযোগও দেশে নেই বললেই চলে। ফলে তাঁরাও অভিবাসন করতে চান। বাংলাদেশের নবীন ও শিক্ষিত লোকজনের মধ্যে অভিবাসন-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুক্তরাজ্যের গবেষক অ্যালেন ব্যাল একটি গবেষণা করেছেন, যার বঙ্গানুবাদ ত্রৈমাসিক প্রতিচিন্তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ, পরিবারগুলোর শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রভৃতি কারণে উদীয়মান মধ্যবিত্ত নবীনদের মধ্যে নতুন আধুনিক জীবনাচরণের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দেশে তাদের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে না। বিশ্বায়নের প্রভাবে অনেকেই এখন বিশ্বনাগরিক হতে চায়।
ফলে শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের মধ্যে উন্নত দেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, গুলশানের হামলায় বিদেশি নাগরিকেরা নিহত হওয়ায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দরপত্র কার্যক্রমের মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়েছে। তা ছাড়া হামলার পর থেকে বিদেশিরা মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজে যাচ্ছেন না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের নাগরিকদের জন্য সব জায়গাতেই নিরাপত্তা চেয়েছে। এমন হামলা আরও হলে বিদেশি বিনিয়োগ নিঃসন্দেহে ব্যাহত হবে। অনেকে ব্যবসাও গুটিয়ে নিতে পারেন। সেটা হলে দেশে নতুন করে বেকারত্বের সমস্যা সৃষ্টি হবে। এমনিতেই দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। এর সঙ্গে যদি নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়, তাহলে পরিস্থিতি যে জটিল আকার ধারণ করবে, তাতে সন্দেহ নেই। তবে জাপানিরা এখানে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে ইতিবাচক। তাদের এই আস্থার প্রতিদান আমাদের দিতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে অভিবাসন অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু সব ক্ষেত্রে নয়। একটি দেশের শিক্ষিত তরুণেরা যদি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে হরেদরে দেশান্তরি হতে শুরু করেন, সেটা ওই দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। বাংলাদেশ নানা কারণেই পৃথিবীতে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছিল, কিন্তু এসব কারণে আমাদের অর্জন ধূলিসাৎ হতে পারে। তাই তরুণদের এই হতাশা দূর করতে হবে। সে জন্য দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে হবে, তাদের আশ্বস্ত করতে হবে।
প্রতীক বর্ধন: সাংবাদিক ও অনুবাদক।
bardhanprotik@gmail.com

চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্রগতি

শিপিং-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তালিকা অনুযায়ী এক বছরে চট্টগ্রাম বন্দর ১১ ধাপ এগিয়েছে। এটি আনন্দের সংবাদ হলেও এই অগ্রগতি ধারাবাহিক নয়। ২০১৪ সালে যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর আগের বছরের চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে ৮৬তম স্থান করে নিয়েছিল, ২০১৫ সালে এক ধাপ কমে ৮৭-তে নেমে আসে। বন্দরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে এই বন্দর দিয়ে কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয় ২০ লাখ ২৪ হাজার ২০৭ একক (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার হিসাবে), যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। এ বছর আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন করা হয়েছে। বছর শেষে তা ২৩-২৪ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা যায়। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবার মান বাড়ানোর দিকেও কর্তৃপক্ষকে মনোনিবেশ করতে হবে। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হবে এগিয়ে থাকার এই ধারাটা অব্যাহত রাখা। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম পরিমাপক হলো বন্দরের পণ্য খালাসের পরিমাণ বাড়ানো।
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, যেখান দিয়ে নৌপথের ৯৭ শতাংশ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। আশার কথা, একদা প্রায় অচল হয়ে পড়া মংলা বন্দরে পণ্য খালাসের পরিমাণ বেড়েছে। তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা গত মাসে যাত্রা শুরু করেছে, যদিও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো গড়ে তোলা যায়নি। বন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ–ব্যবস্থাও করতে হবে মসৃণ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষও বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করতে উৎসাহী হবে। কনটেইনার পরিবহনে বরাবরের মতো এবারও এক নম্বরে চীনের সাংহাই। দ্বিতীয় অবস্থানে সিঙ্গাপুর বন্দর থাকলেও সেরা ১০টি বন্দরের সাতটিই চীনে অবস্থিত। অতএব, চট্টগ্রাম বন্দরের এই অগ্রগতি নিয়ে আত্মসন্তুষ্টির সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। আমাদের যেতে হবে আরও বহুদূর। গভীর সমুদ্রবন্দরের বিষয়েও যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

উষ্ণ সম্পর্ক গড়তে রাশিয়ায় আবে

জাপানের সঙ্গে জলসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাশিয়া সফরে আসেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনে অংশ নিতে এ দুই নেতা এখন অবস্থান করছেন রাশিয়ার বন্দর নগরী ভ­াদিভোস্তকে। শুক্রবার থেকে দুই দিনব্যাপী ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামের (ইইএফ) দ্বিতীয় এ সম্মেলন শুরু হয়। এএফপির খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত (রাশিয়া) সৈন্যদের মাধ্যমে জাপানের কুড়িল দ্বীপ দখলে নেয়ার পর থেকে টোকিও ও মস্কোর মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে। তবে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে সম্প্রতি অর্থনৈতিক বন্ধন দৃঢ় করার ওপর জোর দিচ্ছে জাপান। কিন্তু কয়েক দশকের আঞ্চলিক বিবাদে এটি কোনো পরিবর্তন আনবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। জাপানের সঙ্গে যুদ্ধকালীন বিভক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাধার উত্তেজনায় দু’দেশের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তিতেই সমাধান মিলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইইএফ সম্মেলনের ফাঁকে এই দুই নেতা পারস্পরিক জ্বালানি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও সমুদ্রবিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকে মিলিত হন। এটিই আবের দ্বিতীয় রাশিয়া সফর।
এই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় পুতিন আগামী ডিসেম্বরে জাপান সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন এক রুশ কর্মকর্তা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিনজো আবের ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি হবে পুতিনের প্রথম জাপান সফর। এর আগে ব্লমবার্গ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, কোনো কিছু বিনিময় বা কোনো কিছু বিক্রির জন্য আমরা এ আলোচনা করছি না। বরং আমরা আমাদের জাপানি বন্ধুদের সঙ্গে জলসীমানা বিরোধ মীমাংসার পন্থা খুঁজছি। এছাড়া তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যাপারে পুতিন আরও বলেন, তেলের উৎপাদন মজুদ রাখার প্রসঙ্গে জাপানের সঙ্গে এক সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় রাশিয়া। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের জন্য এটা একটি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছি আমরা। চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবেলা ও রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস পেতে জাপান পুতিন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধিতে আন্তরিক হয়েছে। এ লক্ষ্যেই শিনজো আবে তার সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী হিরোশিগে সেকোকে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালে পুতিনের জাপান সফরের পরিকল্পনা থাকলেও রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের কারণে তা পিছিয়ে যায়। পুতিন সরকারের ওই পদক্ষেপের পর মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে সমর্থন দিয়েছিল জাপান। জাপানের সাবেক এমপি মুনিও সুজুকি বলেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোর বিষয়ে আঞ্চলিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে, কারণ মস্কোর জ্বালানি সম্পদের বিপরীতে জাপানের প্রযুক্তি দক্ষতা ও বিনিয়োগ যথাযথ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আবেকে পরামর্শ দিয়ে সুজুকি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন জাপানের প্রযুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী। রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর উন্নয়নে জাপানের প্রযুক্তিগত সহায়তা চাওয়া হলে আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত। বর্তমানে জাপান মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করছে, যা ১০ হাজার কিলোমিটার দূরের পথ। কিন্তু রাশিয়ার ভ­াদিভোস্তক থেকে তা আনার ব্যবস্থা করলে রক্ষা হবে জাতীয় স্বার্থ। কারণ রাশিয়ার এই অঞ্চল আমাদের পাথর ছোড়া দূরত্বে।

‘যৌনকর্মী’ বলায় মেলানিয়ার মামলা

যৌনকর্মী হিসেবে অভিহিত করায় যুক্তরাজ্যের পত্রিকা ‘দ্য ডেইলি মেইল’ ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন ব্লগারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৃতীয় ও বর্তমান স্ত্রী তিনি। ট্রাম্পের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই সাবেক সুপার মডেল। বিবিসি জানায়, ১৯৯০-এর দশকে মেলানিয়া একজন যৌনকর্মী ছিলেন বলে ওই পত্রিকা এবং ব্লগার দাবি করেছেন। এর বিরুদ্ধে মেলানিয়া ১৫ কোটি ডলারের মানহানি মামলা করেছেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেলানিয়া নিউ ইয়র্কে খণ্ডকালীন যৌনসঙ্গী হিসেবে কাজ করতেন এবং সেই কাজের সূত্রেই স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়ে থাকতে পারে। এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন মেলানিয়ার আইনজীবী চার্লস হার্ডার। এ ঘটনার পর ডেইলি মেইল এবং ব্লগার টার্পলি তাদের ওয়েবসাইট থেকে মেলানিয়াকে নিয়ে বিতর্কিত লেখাগুলো সরিয়ে নিয়েছে। আইনজীবী হার্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তারা একাধিক বিবৃতিতে মিসেস ট্রাম্প সম্পর্কে শতভাগ ভুয়া কথা বলেছেন।
এসব অপপ্রচার ও সম্মানহানিকর কথাবার্তার কারণে ট্রাম্প দম্পতি ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষেত্রে ভীষণভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।’ বিবৃতিতে হার্ডার আরও বলেন, ‘আসামিদের কর্মকাণ্ড মিসেস ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত গুরুতর, বিদ্বেষপ্রসূত এবং ক্ষতিকর যা অংকের হিসাবে ১৫ কোটি ডলার।’ আইনজীবী হার্ডার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের মন্টোগোমারি কাউন্টির সার্কিট কোর্টে এই অভিযোগ দায়ের করেন। ৪৬ বছর বয়সী মেলানিয়া স্লোভেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি মডেল হিসেবে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০০৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সেই সূত্রে ধনকুবের ট্রাম্পের তৃতীয় স্ত্রী মেলানিয়া। তাদের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্লগার ওয়েবস্টার টার্পলি তার লেখায় দাবি করেছিলেন, অতীতকে জনসম্মুখে আনার ক্ষেত্রে মিসেস ট্রাম্পের ভীতি রয়েছে। আইনজীবী হার্ডার বলছেন, মেলানিয়া ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। ১৯৯৮ সালে কিট ক্যাট ক্লাবের একটি পার্টিতে তার থেকে ২৪ বছরের বড় ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে জানিয়েছে ‘দ্য গার্ডিয়ান’। ওই সময় ট্রাম্প তার দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলেসের থেকে আলাদা বাস করতেন।

প্রকৃত ইসলামী শিক্ষার অভাবে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটছে

ইসলামিক স্টেটের ফাঁস হওয়া নথি এবং সংস্থাটির পুরনো কিছু সদস্যের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রণীত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগদানকারী ৭০ শতাংশ সদস্যই ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখে না। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৪ শতাংশ আইএস সদস্যের ইসলাম সম্পর্কে ধারণা বা জ্ঞান মধ্যম পর্যায়ের। তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ পবিত্র কোরআনে হাফেজ। মূলত ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকার কারণে তাদের খুব সহজে ইসলামের কথা বলে বিভ্রান্ত করা যায়। উঠতি বয়সের তরুণরা সাধারণত এক ধরনের অ্যাডভেঞ্চারিজমে আচ্ছন্ন থাকে। ফলে তাদের ইসলামের কথা বলে সহজেই উগ্রবাদে দীক্ষিত করা যায়। ‘মরলে শহীদ আর বাঁচলে গাজি’ এ ধরনের রোমান্টিকতায় তাদের আপ্লুত করা হয়। কিন্তু প্রকৃত শহীদ কারা, বা কী কী শর্ত পূরণ করলে একজন মানুষ শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন, সে সম্পর্কে তাদের ধারণা একেবারেই সীমিত। ‘শহীদ’, ‘জিহাদ’ এ ধরনের শব্দের প্রকৃত ব্যাখ্যা তাদের কাছে অনুপস্থিত। ফলে তাদের শহীদ হওয়ার প্রলোভন দিয়ে সহজেই তথাকথিত জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা যায়। শহীদ হওয়াটা যেহেতু ইসলামের সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতীক, তাই যে কোনো ব্যক্তি শহীদ হতে চাইতে পারেন। কিন্তু ইসলামী পরিভাষায় শহীদ কাকে বলা হয় তা নিয়ে অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তি রয়েছে।
ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে যেনতেনভাবে মৃত্যুবরণ করলেই তাকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করা যায় না। ইসলাম বিপন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিলে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনক্রমে যদি কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা হয় এবং সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তাকে শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। তবে তাকে অবশ্যই পরিপূর্ণ ইমানদার হতে হবে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা হলে তাকে জিহাদ বলে মনে করার কোনো অবকাশ নেই। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিটি যুদ্ধেই রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ছিল। এছাড়া তিনি একবারের জন্য কোনো জাতি বা গোষ্ঠীকে আগে থেকে আক্রমণ করেননি। বরং শত্র“ দ্বারা আক্রান্ত হলেই কেবল আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধ করেছেন। শুধু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে মৃত্যুবরণ করলেই তিনি শহীদ হবেন, তা নয়। পানিতে ডুবে, কঠিন কোনো রোগে বা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু হলে তিনিও শহীদ হিসেবে গণ্য হতে পারেন। শহীদ হতে হলে তাকে পরিপূর্ণ ইমানদার এবং ইসলামে দাখিল হতে হবে, যিনি ধর্মীয় আচার-আচরণের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর অনুগ্রহ ও ক্ষমা পাওয়ার মতো যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারেন। অর্থাৎ যিনি আল্লাহর ক্ষমা লাভ করে বেহেস্তে দাখিল হওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন এমন ব্যক্তিই শহীদ হওয়ার আশা করতে পারেন। কথায় বলে,
প্রেম ও যুদ্ধ কোনো নিয়মনীতির ধার ধারে না। কিন্তু ইসলাম এ প্রচলিত ধারণায় বিশ্বাসী নয়। ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্রেও মানবিক নিয়মগুলো মেনে চলতে বলে। যেমন, ইসলামে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রেও কোনো মহিলা ও শিশুকে হত্যা করা যাবে না। এমনকি যুদ্ধকালীন অকারণে কোনো ক্ষেতের ফসল বা গাছের ফল নষ্ট করা যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ইসলাম কখনোই সন্ত্রাসবাদ বা যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বা সম্প্রসারিত হয়নি। ইসলাম সবসময়ই উদার মানবিকতার সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের কথা বলে। ইসলামের উদারতা দেখে অন্য ধর্মের মানুষ দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) যখন তায়েফে ইসলাম প্রচারের জন্য গমন করেন, তখন তায়েফবাসী নবীজীর প্রতি বিরূপ আচরণ করে। এমনকি তাঁর প্রতি ঢিল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে এক পর্যায়ে নবীজীর (সা.) দন্ত মোবারক শহীদ হয়। এ সময় হযরত জিরাইল (আ.) এসে নবীজীকে বলেন, আপনি অনুমতি দিলে আমি দুই পাহাড় দিয়ে তায়েফবাসীকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারি। তখন নবীজী বলেছিলেন, আমি ধ্বংসের জন্য আসিনি। আমি সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত হিসেবে এসেছি। এটাই হচ্ছে ইসলাম। ইসলাম কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার নীতি অনুসরণ করে না। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর প্রতি উদারতা প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।
যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে আত্মঘাতী হামলা চালায়, তারা কোনো দিনই বেহেস্তে যেতে পারবে না। কারণ ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ। তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হত্যাকারীর ফরজ-নফল কোনো ইবাদতই কবুল হবে না।’ অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মানুষ হত্যার বিচার হবে।’ মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে সাতটি জিনিস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে, তার প্রথম দুটি হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা এবং কাউকে হত্যা করা।’ ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিশ্বমানবতার শান্তিই ইসলামের একমাত্র কাম্য। এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা আবশ্যক- ইসলাম শুধু মুসলমানদের শান্তির জন্য আসেনি। ইসলামের লক্ষ্য হল বিশ্বের সব মানুষ ও সৃষ্টিকূলের জন্য শান্তির ব্যবস্থা করা। মহান আল্লাহ যেসব নিয়ামত দান করেছেন তা সব মানুষের জন্যই, কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর জন্য নয়। যেমন সূর্যের কিরণ, চাঁদের আলো, বাতাস, খাবার এগুলো মানুষের জন্য নিয়ামত হিসেবে দেয়া হয়েছে। যেখানে সামান্য একটি পিপঁড়াকেও অকারণে মারার কোনো অধিকার মানুষের নেই, সেখানে নিরীহ মানুষকে হত্যা করার অনুমতি ইসলাম কখনোই দেয় না। যারা মনে করছে, ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করলেই বেহেস্তে গমন করা যাবে তারা চরম ভুল করছে।
ইসলাম কখনোই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেয় না। ইসলাম চায় শান্তি। ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য মহানবীর (সা:) আদর্শ ও দৃষ্টান্তগুলো অনুসরণ করতে হবে। মহানবী (সা.) একজন বিধর্মীকেও জোর করে ইসলামে দীক্ষিত করেননি। ইসলাম তরবারির মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়নি। ইসলাম অনুকরণীয় মাধুর্য, উদারতা, মহানুভবতার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছে। এসব দেখেই মানুষ ইসলামের ছায়াতলে সমবেত হয়েছে। কাউকে জোর করে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার কোনো সুযোগ নেই। যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে, তারা কোনোভাবেই ইসলামের প্রকৃত বাহক হতে পারে না। তারা বরং সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইদানীং ইসলামিক স্টেট বা আইএসের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আইএস সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন সমর্থিত জোট কর্তৃক ইরাক দখলের পর। মার্কিন সমর্থিত ইরাক সরকার সেদেশের সেনাবাহিনীর বড় অংশকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এরা মূলত সাবেক ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সমর্থক ছিল। মনে করা হচ্ছে, এ বিলুপ্ত ঘোষিত সেনাদের একাংশই আইএস নামে তৎপরতা চালাচ্ছে। আবার অনেকের ধারণা, বাইরের একটি মহল ইসলামকে বিতর্কিত করার জন্য আইএস গঠন করেছে। কয়েক মাস আগে একটি ছবি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলি গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী আহত আইএস সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন। বিষয়টি রহস্যজনক নয় কি?
আইএস গঠন নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু এটা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করা যেতে পারে, আইএস কখনোই ইসলামের প্রতিভূ বা দৃষ্টান্ত হতে পারে না। কারণ ইসলাম কখনোই নিরীহ মানুষ হত্যা করে নির্মমতার মাধ্যমে বিস্তার লাভকে সমর্থন করে না। আইএস যা করছে তা ইসলামের নামে করা হলেও ইসলাম সমর্থিত নয়। তারা যে নির্মমতার পরিচয় দিচ্ছে তা কখনোই ইসলাম সমর্থিত হতে পারে না। আজকে বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং এতে যারা অংশ নিচ্ছে তারা প্রকৃত ইসলামের মাধুর্য সম্পর্কে মোটেও জ্ঞাত নয়। ইসলাম সম্পর্কে এদের চর্চাও তেমন একটা নেই। হেরা পর্বতের গুহায় নবী করিমের (সা.) ওপর প্রথম যে বাণী নাজিল হয়েছিল তা হচ্ছে, ‘ইকরা বিস্মি রাব্বুকা’ অর্থাৎ ‘পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃজন করেছেন।’ ইসলামে পড়াশোনা তথা জ্ঞানার্জনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই সন্ত্রাস দূর করা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী যুবসমাজ বর্তমানে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে। তাদের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। একজন তরুণ উচ্চশিক্ষা লাভ করার পর যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ না পায়, তাহলে তার পক্ষে হতাশ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বিভ্রান্ত তরুণদের খুব সহজেই উগ্রবাদী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা যায়। প্রকৃত শিক্ষার আলোয় এ বিভ্রান্তি দূর হতে পারে।
এম এ খালেক : কলাম লেখক

এ সমাজ কবে অভয়ারণ্য হবে?

লেখাটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। রিশা হত্যাকাণ্ড ইয়াসমিন থেকে শুরু করে তনু হত্যার ধারাবাহিকতা মাত্র, বিরোধিতা করার কোনো উপায় আছে কি? মোটেও নেই। এ দেশে সুসজ্জিত আইন আছে, প্রশাসন আছে, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, সুশীলসমাজ আছে, জাগ্রত চেতনার রাজনীতিক আছে, নেই কেবল দায়বদ্ধতা। নেই ব্যক্তি-গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে অবস্থান। আর সে কারণেই ইয়াসমিন, তনু, রিশারা নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়, তাদের এ জগৎ ছেড়ে যেতে হয়। রিশা এমন এক সময়ে দিনে-দুপুরে জনসম্মুখে বখাটের চাপাতির আঘাতে মৃত্যুবরণ করল, যখন গত পাঁচ মাসেও তনু হত্যার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। পারেনি তনুর পোশাক থেকে ধর্ষণের আলামতসহ যে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেছে, তা সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে মেলাতে, তনুর মা সন্দেহভাজনদের নাম বলার পরও! কী আজব দেশ! এ কালক্ষেপণ, ধীরগতিই বলে দিতে পারে আগামীতে আমাদের দেশে, সমাজে আর কোনো কিশোরী, তরুণী, নারী ধর্ষিত হবে কিনা, নিমর্মভাবে মৃত্যুবরণ করবে কিনা কিংবা এ তালিকা কত লম্বা হবে। এর জবাব কিন্তু আমরা তনু হত্যার পাঁচ মাস পরেই পেয়ে গেলাম। একজন তেরো-চৌদ্দ বছরের শিক্ষার্থী রিশা তনুদের তালিকাভুক্ত হল। কিন্তু কঠিন ও মর্মান্তিক সত্য হল, এ উত্তর কেউ সহজে খোঁজে না, খুঁজতে চায় না। এ উত্তর না খোঁজার পেছনে যেমন স্বার্থগত কারণ আছে, নৈতিক অবক্ষয় আছে, তেমনি আছে ভয়। ভয়টা হয়রানির, যার ধরন,
মাত্রা ও দীর্ঘসূত্রতা ভয়াবহ। অপরাধী প্রভাবশালী ও প্রতাপশালী হলে অপরাধের সাক্ষী থাকে না। কিংবা থাকলেও ভয়ে তারা নিষ্ক্রিয় থাকে। আবার এসব ক্ষেত্রে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে কাউকে কোনো কোনো সময়ে উপরের আদেশে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থাকতে হয়। এসব হয় অপরাধী ব্যক্তি-গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায়। না বলে উপায় নেই, একটি দেশে যখন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ সংস্থাটিকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তখন সংস্থার পবিত্র আদর্শ, উদ্দেশ্য বলে আর কিছু থাকে না, রাখা যায় না। আর তখনই আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। জনগণের নিরাপত্তাহীনতা তখন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ হয় দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে, নয় জাতির স্বার্থে। জাতির স্বার্থ নয়, দলীয় স্বার্থই তখন বড় হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা চাইতেও ভয় পায়, তারা পুলিশবিমুখ হয়। আবার পুলিশের অহেতুক ঘুষ প্রার্থনা ও দীর্ঘসূত্রতায় সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় অনেক সময়। সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যখন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এমন দৃষ্টান্ত যেমন আছে,
তেমনি এ দৃষ্টান্তও আছে যে এদের বিচারের আওতায় আনা যায় না সহজে। ফলে সমাজে নারী ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা সহজ ও মামুলি ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। বিচারহীনতার কারণেও অনেকে এমন অপরাধে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে যখন-তখন। তনু হত্যার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও ধীরগতি আজ রিশা হত্যার নেপথ্যে প্রশ্রয় হিসেবে কাজ করেছে বা ভূমিকা রেখেছে বললে অযৌক্তিক হবে কি? রিশা হত্যার বিষয়টি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, নারী নির্যাতন ঘটনার ধারাবাহিকতা মাত্র। বলতেই হয়, এ ধারাবাহিকতা বজায় আছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা, বিচারহীনতা এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক উদাসীনতা, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে। দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের উল্লেখ করার মতো এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যে তারা নারী নির্যাতনের ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছে, পরিস্থিতি বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার, প্রতিবাদী হয়েছে নির্যাতিত নারীর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সমগোত্রীয় সদস্য, মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষ। রিশা দিনে-দুপুরে নিজ স্কুলের সামনে জনসম্মুখে হামলার শিকার হয়েছে। তার আর্তচিৎকারে কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি। এটি বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তার দুর্বল দিকটিই তুলে ধরে। সাধারণ মানুষের দায় এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে। কারও উপকার করতে যেয়ে বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়ায় হয়রানির শিকার হওয়ার আশংকাও এর একটি কারণ, যা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সর্বসাধারণের অনাস্থার কথা বলে।
আজ যদি এ ধরনের অপরাধীদের প্রতিরোধে জনগণ এগিয়ে আসত, তাহলে রিশার মতো কেউ জনসম্মুখে এভাবে নৃশংস হত্যার শিকার হতো না। এ ধরনের অপরাধ ঘটাতে অপরাধীর ভেতর একটা ভয় কাজ করত। জনসম্মুখে এ ধরনের অপরাধ ঘটানো হলি আর্টিজানের বর্বরতার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। কারও উপকার করতে গিয়ে বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়ায় হয়রানির শিকার হওয়ার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে সাধারণ মানুষের। ফলে নিজের খেয়ে মানুষ নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করছে। এটা স্পষ্ট যে, সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে ‘পুলিশি হয়রানি’র ভয়ও বাধা হিসেবে কাজ করছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে। আইনি ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি; যা সম্ভব কেবল রাজনৈতিক উদ্যোগ ও সততার মাধ্যমে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা অপরাধীর দোষ যে লঘু করে দেয়, এমন দৃষ্টান্ত কম নেই। সুতরাং আইনকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে চলতে দেয়া জরুরি। তাহলে রিশার মতো কিশোরীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবেন অনেকেই। রিশা ও তনুর মতো কাউকে নির্মম হত্যা করার দুঃসাহস দেখাবে না কেউই। পরিশেষে বলব, নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ পথেঘাটে, সভা-সেমিনারে এতদিন সাধারণ মানুষ করেছে। এবার অন্তত একবার সরকার করুক, তার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।
স্বপ্না রেজা : কথাসাহিত্যিক

ওয়ালশের পর সামারাবীরা

আগেরদিন জানা গিয়েছিল, ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কোর্টনি ওয়ালশ। কাল জানা গেল ব্যাটিং পরামর্শক হয়েছেন থিলান সামারাবীরা। যিনি এ বছরের শুরুতে একই দায়িত্ব পালন করেছেন অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান অবশ্য শুক্রবার জানিয়েছেন, সামারাবীরা শুধু একটি সিরিজে থাকবেন। তবে তিনি আভাস দেন যে, তার চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে। এদিকে এ বছর নিউজিল্যান্ড সফরের আগে একজন স্পিন বোলিং কোচ নিয়োগ দেয়া হবে বলে বিসিবি সভাপতি জানান। নাজমুল হাসান বলেন, ‘ব্যাটিং বিশেষজ্ঞ সামারাবীরাকে পরামর্শক হিসেবে নেয়া হয়েছে শুধু ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য। দেখা যাক তার মেয়াদ বাড়ানো যায় কিনা। আমরা এখনও স্পিন বোলিং কোচ খুঁজছি। যাদের পাওয়া যাবে তাদের মধ্যে যিনি সেরা তাকেই নেয়া হবে। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে নতুন স্পিন বোলিং কোচ নিয়োগ দেয়া হবে।’
এদিকে ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসলকে সহকারী কোচ হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সামারাবীরাকে নিয়োগ দেয়ার খবর জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সামারাবীরা। টেস্ট অভিষেকে আট নম্বরে নেমে সেঞ্চুরির পর আস্তে আস্তে ঘুরে যায় ক্যারিয়ারের মোড়। হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান। টেস্টে ছিলেন লংকান মিডলঅর্ডারের অন্যতম ভরসা। সামারাবীরা ৮১ টেস্টে ১৪ শতকে ৫,৪৬২ রান করেছেন ৪৮.৭৬ গড়ে। ওয়ানডে খেলেছেন ৫৩টি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে শ্রীলংকা দল থেকে বাদ পড়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান সামারাবীরা। এরপর থিতু হন অস্ট্রেলিয়ায়। আপাতত থাকছেন মেলবোর্নে। তার কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুও অস্ট্রেলিয়ায়ই। গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে। শ্রীলংকা সফরের আগে কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সঙ্গেও। ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও।
বাংলাদেশ দলে তার দায়িত্ব পাওয়ায় বড় ভূমিকা থাকতে পারে চন্ডিকা হাথুরুসিংহেরও। বাংলাদেশের প্রধান কোচের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সামারাবীরা। এদিকে পদোন্নতি পেয়েছেন ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসল। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সহকারী হয়েছেন তিনি। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এ দায়িত্বে থাকবেন হ্যালসল। আগের সহকারী কোচ রুয়ান কালপাগের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর থেকে হ্যালসলকে পদোন্নতি দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল। কাল এ খবর নিশ্চিত করেছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান, ‘আমার কিছু ঘাটতি আছে কোচিং স্টাফে। এজন্য আমাদের ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসলকে আমরা সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছি।’ ২০১৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন জিম্বাবুয়েতে জন্ম নেয়া হ্যালসল। বাংলাদেশে দায়িত্ব নেয়ার আগে ছিলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ। ইংল্যান্ডেও পরে পদোন্নতি পেয়ে হন সহকারী কোচ। সেসময় অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অসুস্থতা ও বিশ্রামে মূল কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ছবি নির্মাণ করবেন সুবর্ণা মোস্তাফা

সুবর্ণা মোস্তাফা
অভিনয়ে তার জুড়ি মেলা ভার। টিভি পর্দায় সুবর্ণা মোস্তাফা মানেই যেন বাড়তি কিছু। নতুন প্রজন্মের অভিনয় শিল্পীদের বরাবরই অনুকরণীয় ব্যক্তি তিনি। টিভি পর্দায় এখনও দাপটে সঙ্গে নিয়মিত অভিনয় করছেন এ তারকা। সম্প্রতি ভিন্ন এ কথা শোনা গেল তার মুখ থেকে। নাচে-গানে ভরপুর সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণে নামতে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি এমন কথাই জানিয়েছেন এ তারকা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি বাণিজ্যিক ছবি বানানোর পরিকল্পনা আমার অনেক দিন আগের। নানা কারণে এটি হয়ে উঠছে না।
তবে যে কোনো সময়ে হুটহাট বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেব। যাতে বিনোদনবিষয়ক সবকিছুই থাকবে।’ সুবর্ণা মোস্তাফা শুধু যে নাটকেই অভিনয় করেন এমন নয়, আগে ছবিতেও অভিনয় করেছেন। কিন্তু নানা কারণে সেটি নিয়মিত হয়নি। নাটকে অভিনয় নিয়েই তার ব্যস্ততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন টিভির নানা অনুষ্ঠান নিয়েও। এরইমধ্যে ঈদের জন্য নির্মিত একটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। আরও কিছু নাটকে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।