Sunday, September 15, 2024
অতীত বিবেচনায় ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বার্তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিনিধিদল ঢাকায় by মিজানুর রহমান
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার বিশেষত ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ওয়াশিংটন কীভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনাই লু’র এবারের সফরের মুখ্য উদ্দেশ্যে। দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে এরইমধ্যে খবর বেরিয়েছে, গত ৩ দিনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিরিজ আলোচনা হয়েছে সফরকারী মার্কিন প্রতিনিধিদলের। ছাত্র-জনতার সর্বাত্মক আন্দোলনে ভারতের বর্ডার লাগোয়া বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশে যে অভাবনীয় রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, সেটি তাদের আলোচনার বাইরে ছিল না। যদিও এ নিয়ে এখনো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকে দিল্লি পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু কাজ হয়নি। বিরোধী দলকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচন নিয়ে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের অবস্থানে ভিন্নতা ছিল সেটি তাদের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের সফরে প্রমাণ হয়। অনেকে এখন বলছেন, সেই সময়ে বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে আজ শেখ হাসিনার এই পরিণতি হতো না। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনাসহ নানা কারণে সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ অঞ্চলে ভারতকে তাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনে করে। লু’র দিল্লি সফরে তার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির কেন্দ্রস্থলে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের স্বাতন্ত্র্যতা রয়েছে সেটি ট্রাম্প আমল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দফায় দফায় স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন। এটা প্রতিষ্ঠিত যে, এক সময় দিল্লির চোখেই বাংলাদেশকে দেখতো যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু না, গত ক’বছরে সম্পর্কের চরম টনাপড়েনের মধ্যেও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ডিল করেছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে ২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফরের পর থেকে। পর্যবেক্ষকরা বলছে, নানা কারণে মার্কিন ফরেন পলিসিতে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে। গণতন্ত্রকামী বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানই এখানে মুখ্য। বাংলাদেশের পট পরিবর্তনে নানা কথা চাউর রয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটন এটা স্পষ্ট করেছে যে, যেটুকু পরিবর্তন এসেছে তা বাংলাদেশের দেশের মানুষই ঘটিয়েছে। পরিবর্তিত বাংলাদেশ তথা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোতভাবে প্রস্তুত, সেটি স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিফ্রিংয়ে বারবার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অতীতের টানাপড়েন বিবেচনায় নিয়ে অর্থাৎ নিকট অতীতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ছায়া ফেলেছ। সেটি মনে রেখেই পরিবর্তিত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই বার্তা দিতেই নতুন সরকারের এক মাসের মাথায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের এবারের সফর হচ্ছে।
সফর নিয়ে মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিজের মূল্যায়ন: এদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের সম্ভাব্য দিক বিশ্লেষণ করেছেন স্বাধীন বৈদেশিক নীতি বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ফরেন সার্ভিস অফিসার জন ড্যানিলোভিজ। একযুগ আগে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি। একটি নিবন্ধে তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসনের আন্তঃএজেন্সি প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এই সাক্ষাৎ। মার্কিন ট্রেজারির ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এখন ঢাকায়। বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের পর থেকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হতে চলেছে, তথাপি এই বৈঠক পরবর্তী মাসগুলোর জন্য একটা দিশা দেখাতে পারে (অন্তত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নতুন মার্কিন প্রশাসন দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত)। যদিও বৈঠকের ফোকাস থাকবে সামনের দিকে, তবে উভয়পক্ষই সামপ্রতিক ইতিহাস সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। ইতিবাচক দিক হলো, সামপ্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র (বিশেষ করে সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্) বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সমর্থনে সোচ্চার ছিল। একই সময়ে, মার্কিন নীতির সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াশিংটন তার বক্তব্যের সমর্থনে আরও কিছু করতে পারতো, বিশেষ করে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের ঠিক আগে এবং পরের মাসগুলোতে। তা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং প্রধান উপদেষ্টা পদে অধ্যাপক ইউনূসের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
ঢাকায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্তটি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে জড়িত থাকার ওয়াশিংটনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এর থেকে বোঝা যায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দু-দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে মনোনিবেশ করতে চাইছে। একটি ইস্যু যা এই সফরে বড় হয়ে উঠবে তা হলো ভারতের নজরে না দেখে বাইডেন প্রশাসন কি তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশের সমস্যার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত? ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বেশকিছু রিপোর্ট প্রমাণ করে যে বিষয়টি নিয়ে কিছু সংশয় রয়েছে। আসলে বাংলাদেশ সফরের আগে মার্কিন প্রতিনিধিদলের ভারতে পা রাখার বিষয়টি এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে যে দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য কীভাবে রাখতে হয় সেই পাঠ এখনো শেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিনপক্ষের তরফে তাদের বাংলাদেশি প্রতিপক্ষদের আশ্বস্ত করা গুরুত্বপূর্ণ যে তারা অন্য কারও সুরে কথা বলছে না। সামপ্রতিক বছরগুলোতে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সংলাপের বেশির ভাগই চীন এবং ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। চীনের কথা মাথায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। হাসিনা সরকার এবং তার সমর্থকরা বেইজিংয়ের কাছাকাছি যাওয়ার কৌশল নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের প্রতি আমেরিকার মনোযোগ সরাতে চেয়েছিলেন। কখনো কখনো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই ফাঁদে পা দিয়েছিল বলেও মত বিশেষজ্ঞদের। ৫ই আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে বাংলাদেশের ভূমিকাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে। বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকার দিকে মনোনিবেশ করার পরিবর্তে, চীনকে ঠেকাতে জুলাই বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা একটি শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। একটি পারস্পরিক অংশীদারিত্বের বিকাশে প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের জন্য উভয়পক্ষের কাছে বেশ কয়েকটি সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, গত পনেরো বছরে সংঘটিত অপরাধের জন্য বাংলাদেশের জবাবদিহিতার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে (জুলাই/আগস্টে বিশেষ ফোকাসসহ)। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি আর্থিক অপরাধের জন্য দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়ার প্রচেষ্টা। সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে সমর্থন (দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় সংস্থার মাধ্যমে) অন্তর্ভুক্ত। নিঃসন্দেহে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার আরও টেকসই সমাধান নিয়ে উভয় দেশ আলোচনা করবে।

Wednesday, December 12, 2018
সব দলকে অবাধ প্রচারের সুযোগ দিতে হবে -ইসিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

গত ২৯শে নভেম্বর প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিলেও এই প্রথম বাংলাদেশের রাজনীতি এবং নির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন আর্ল রবার্ট মিলার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে ৪০ মিনিটের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেন নয়া দূত। সিইসি’র সঙ্গে মার্কিন দূতের বৈঠকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতিসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখের মতো বাংলাদেশি বিশাল গণতান্ত্রিক এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছেন।
যা যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনে তার উৎসাহ যুগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, জোট বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না বরং তার দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, আসন্ন নির্বাচনে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহিত করছে। এ সময় নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) নির্বাচনটি পর্যবেক্ষক করছে।
ইতিমধ্যে গত অক্টোবরে এনডিআইয়ের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে গেছে। সেই সঙ্গে চলতি ডিসেম্বরে সংস্থাটির দ্বিতীয় টিম নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষণে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এনডিআইয়ের সহ অংশীদার ‘এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন’। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন ২ জন নির্বাচনী বিশ্লেষক ইতিমধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রেরণ করেছে। সেই সঙ্গে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি আরো কিছু আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। রবার্ট মিলার জানান, মার্কিন দূতাবাস থেকে সারা দেশে পৃথক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ করা হবে। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা নিয়ে তারা ১৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষকের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অর্থায়ন করবেন। সুশীল সমাজের সহযোগিতায় এই পর্যবেক্ষকরা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) হয়ে কাজ করবেন। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার তাগিদ দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সকলের অবাধ এবং পূর্ণ অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকতে হবে। প্রত্যেকের রাজনৈতিক মত মুক্তভাবে প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক দল ও জোটের প্রচারণার সমান সুযোগ থাকতে হবে। সেই সঙ্গে ভোটারদের কাছে তাদের পৌঁছাতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দিতে হবে। মার্কিন দূত বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র বিকশিত হয় প্রতিনিয়ত প্রাণবন্ত বিতর্কের মাধ্যমে। সেই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যেটি গণতন্ত্রের জন্য জরুরি।
বিশেষ করে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিরোধী দলের রাজনীতিকদের নিজেদের মতপ্রকাশ এবং নীতি পরিবর্তনে সহযোগিতার জন্য। প্রত্যেক দলকে, যে যে রাজনৈতিক মতাদর্শের হোক না কেন, সকলকে শান্তিপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সকল পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করতে হবে। এ সময় সহিংসতার কুফল সম্পর্কেও সতর্ক করেন মার্কিন দূত। বলেন, সহিংসতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং তাদের উদ্দেশ্য সম্পন্ন করে যারা গণতন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে।
Thursday, October 25, 2018
অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বার্তা দিয়েছি -সংবাদ সম্মেলনে এলিস ওয়েলস

সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা। সম্প্রতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিচ্ছে এমন ধারণা আছে এ ধরনের প্রশ্নে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক ফ্রন্টকে সমর্থন করছি না। বরং, যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে। পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি এও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হোক।
সব রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণভাবে এবং স্বাধীনভাবে তার রাজনৈতিক ভিশন ও নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের সামনে প্রদর্শন করতে পারে। সরকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত যারা তারা যেন এ সুযোগ নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশের মানুষই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে কোন দল বা জোট তার নেতৃত্ব দেবে। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে এমন একটা নির্বাচন হোক যার মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত বা সত্যিকার প্রতিফলন ঘটে। তার কাছে প্রশ্ন ছিল, নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে কিনা এ নিয়ে বিতর্ক আছে। সংসদের বাইরে থাকা প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে আছেন। এ অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে আগের বক্তব্যের পুনরুল্লেখ করে বলেন, আমরা এমন একটা পরিবেশ দেখতে চাই যাতে সব রাজনৈতিক দল মুক্তভাবে তার দলের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটির ক্ষেত্রে সুরক্ষা জরুরি। একই সঙ্গে ভাবতে হবে এটা যেন মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন না করে।
এই আইনের ব্যাপারে বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটি যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেটা তারা দেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করে এ উদ্বেগ নিরসনের জন্য সরকার এবং সিভিল সোসাইটির মধ্যে সংলাপ হওয়াটা জরুরি। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল চীনের আধিপত্য রোধ বিশেষ করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং রোড অ্যান্ড বেল্ট ইনিশিয়েটিভ এর মোকাবিলায় পাল্টা কৌশল কিনা জবাবে তিনি বলেন, তাদের কৌশলটা হচ্ছে একটা বিস্তৃত এবং সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি। এর আওতায় ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। যে পরিকল্পনা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শেয়ার করেছে। তার এই সফরে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপের ব্যাপারে কাছাকাছি অবস্থানে আছে।
সম্প্রতি ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অধীনে বাংলাদেশে ৪ কোটি ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রসঙ্গে এলিস ওয়েলস বলেন, বৈদেশিক সামরিক সহায়তা হিসেবে দেয়া এ অর্থে বাংলাদেশের উপকূলীয় রাডারের ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, টহল নৌযান বহরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং সম্প্রসারিত সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ সবগুলোই আমাদের ‘বঙ্গোপসাগর উদ্যোগ’ এর অংশ। তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সন্ধিস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভারত-প্রশান্ত মহসাগরীয় কৌশলের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকগুলোতে এটা স্পষ্ট ছিল যে, একটি অবাধ, মুক্ত, বিধিসম্মত ও আন্তঃসংযুক্ত অঞ্চলের রূপকল্পের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই কাছাকাছি। সফরকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের মাত্রা ও বিশালতা গভীরভাবে অনুভব করেছি আমি। এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় অব্যাহতভাবে সহৃদয়তা দেখানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও এদেশের জনগণকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি। সংকটের একেবারে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নতুন শরণার্থীদের গ্রহণ, খাবার বিতরণ এবং রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুগিয়ে যাওয়াসহ অনেক দায়িত্ব পালন করা জাতিসংঘ ও অন্যান্য বেসরকারি সংগঠনের কাজেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বেহাল অবস্থায়ও রোহিঙ্গারা নিজেদের আত্মপরিচয় ও ঐক্য ধরে রাখায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এলিস ওয়েলস। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজেদের শক্তি ও অদম্য চেতনা দেখেও আমি বিস্মিত। তারা নিজেরা মারাত্মক নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে বা প্রত্যক্ষ করেছে। এরপরও তারা আত্মপরিচয় ও ঐক্য ধরে রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যেতে পারে সেরকম অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানানো অব্যাহত রেখেছে বলে জানান মার্কিন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আনান কমিশনের সুপারিশ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশটির সরকারকে তাগিদ দিয়ে আসছি আমরা।
বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়া ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার সংক্রান্ত সুপারিশগুলো। আর তা করতে আমরা সাহায্যেরও আশ্বাস দিয়েছি। আমরা বার্মার নিরাপত্তা বাহিনীর যে সদস্যরা সহিংসতার জন্য দায়ী তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনারও তাগিদ দিয়ে যাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনের পরে মার্কিন মুখ্য উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ভোজ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও তার পৃথক বৈঠক হয় বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার বিকালে বাংলাদেশ সফরে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখ্য উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। সোমবার মধ্যরাতে তার ছেড়ে যাওয়ার কথা। এ সফরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মার্কিন মন্ত্রী। এ ছাড়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন তিনি।
Wednesday, May 2, 2018
বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের by শেখ শাহরিয়ার জামান

সোমবার (৩০ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট তার বাসায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লিসা কার্টিস বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলামসহ দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রহ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জমির, যিনি মার্শা বার্নিকাটের বাসায় ওইদিন উপস্থিত ছিলেন, বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সবসময়ে বলেছি— যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসে, তবে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে সুশাসনের জন্য দুটি জিনিস দরকার। সেগুলো হচ্ছে— স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবসময় সহায়তা করেছে।’
সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যে সহায়তা করে, তার প্রশ্ন করার অধিকার আছে। প্রশ্ন করলে জবাবদিহিতা থাকে। আমরা প্রশ্নের উত্তর দিতে ভয় পাই না।’ মোহাম্মাদ জমির বলেন, ‘আমরা চাই, বহির্বিশ্বে যারা আছেন, তারা বুঝুক বাংলাদেশের জনগণ সবাই একত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে।’
সাধারণভাবে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা কী বিষয়ে আলোচনা করেন, জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখন বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিষয়টিকে। আবার এদের মধ্যে অগ্রাধিকার পায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা।’
বাংলাদেশ সরকারের কাছে নির্বাচনের প্রস্তুতি সর্ম্পকে যুক্তরাষ্ট্র জানতে চায়। আবার বিরোধীদের মনোভাবও তারা বুঝতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘তারা নিশ্চিত হতে চায় আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ ও শান্তির্পূণ হবে কিনা। আবার বিরোধীদের কাছে জানতে চায়, তারা অংশগ্রহণ করবে কিনা এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে কিনা।’
এছাড়া, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগ্রহ বাড়ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, এমনকি চীনসহ বিভিন্ন দেশ অবাধ, সুষ্ঠু, বিরোধহীন সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে জনসমক্ষে মন্তব্য করার পাশাপাশি তারা দেশের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাইভেট বৈঠকও করছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (৩০ এপ্রিল) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদাক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের বাসায় বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, নৈশভোজ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মার্শা বার্নিকাটের পাঁচ মিনিট একান্ত বৈঠক হয়। বৈঠকে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাম্বাসেডর মো. জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়াস সেকেন্ড সেক্রেটারি কাজী রহমান দস্তগীর ও জ্যাকব জে লেভিনসহ দূতাবাসের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Monday, March 12, 2018
সরব ভোট কূটনীতির পরও সংশয় বাড়ছে

অন্যদিকে, যেকোনো পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে বিএনপির ভেতরে একটি অংশের অবস্থান রয়েছে। কিন্তু দলটি সে সুযোগ পায় কি-না সে প্রশ্ন বড় হচ্ছে। সরকারি দলের একাধিক নেতা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে খালেদা জিয়ার আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ কম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনের সময় তিনি কোথায় থাকবেন? কারাগারে থাকলে দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাতেও অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন না তিনি। এক্ষেত্রে প্রচারণার ক্ষেত্রেই বিএনপি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। কারণ দলটির অন্য কোনো নেতারই খালেদা জিয়ার মতো ক্যারিশমা নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানেরও নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেয়ার সম্ভাবনা নেই। তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান পরিস্থিতির উদ্ভব হলে রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন- এমন একটি আভাস তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি দেশে আসার সুযোগ পান কি-না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন, খালেদা জিয়াসহ বিএনপিকে সরকার নির্বাচনে চায় না। খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে চায় কি-না সে বার্তাও এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ৫ই জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর হবে না। এবার নতুন কিছু হবে। তবে সেটা কী তা এখনই হলফ করে বলা যায় না। গত নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলো। কিন্তু ভারতের অবস্থান ছিল বিপরীত। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর অন্য বিদেশি শক্তিগুলোও আর হার্ডলাইনে থাকেনি। তারা ক্রমশ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সমর্থন দিয়ে গেছে। অংশগ্রহণও করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের আন্দোলন অভিযুক্ত হয়েছে সহিংসতার দায়ে।
এবার কী হবে? গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদারে পরিণত হয়েছে চীন। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-ভারতের ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ এখন অনেকটাই স্পষ্ট। যদিও চীনের মূল নজর অর্থনীতির দিকে। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে দেশটির ভূমিকার দিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এখন সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি নিশ্চিতভাবেই ভারতের দিকে। আওয়ামী লীগের কিছু কিছু ভূমিকার ব্যাপারে ভারতের মিডিয়ায় প্রশ্ন রয়েছে। তবে সার্বিক বিবেচনায় দেশটির সমর্থন সরাসরি সরকারের প্রতিই রয়েছে। এ অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যদিও সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে একটি বার্তা পরিষ্কার করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো বিশেষ দলের সঙ্গে নয়, ভারত এ দেশের জনগণের সঙ্গেই সম্পর্কে জোর দেয়। এখন আগামী নির্বাচন প্রশ্নে তাদের অবস্থান কী হয় তাই হবে দেখার। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রশ্নে সরব রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা লিসা কার্টিস সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টি তোলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও তিনি বিষয়টি উপস্থাপন করেন। জবাবে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কয়েক দিন আগেই ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট এবং বৃটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেন। জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তবে এটি যে সরকারের অবস্থান নয় দুই/এক দিন পরই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। যখন লিসা কার্টিসের সফরের সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মার্কিন ভূমিকার সমালোচনা করেন। সরকারকে উপদেশ না দেয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। সরকারের আরেক জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন গ্রহণ করতে পারেনি। তাতে কী হয়েছে। তারপরও সরকার আছে।
যথারীতি হার্ডলাইনে সরকার। নির্বাচনী মাঠে যেকোনো মূল্যে টিকে থাকার লড়াইয়ে বিরোধী দল। অনিশ্চিত এক পথে রাজনীতি।
Monday, March 5, 2018
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র : পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিসা কার্টিস

ভারত সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে
দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সাথে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি সারা বিশ্বের সঙ্কট। প্রতিবেশী হিসেবে ভারত এ সঙ্কট উত্তরণে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য সারা বিশ্বের অনেক কিছু করার আছে। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, আগামী বর্ষায় ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কী ধরনের সহযোগিতা ভারত সরকার দিতে পারে তা নিয়ে হাইকমিশনারের সাথে আলোচনা হয়েছে। আমাদের চাহিদার কথা বলেছি। তিনি দিল্লি গিয়ে তার সরকারের সাথে আলোচনা করে কী দিতে পারবেন তা ঠিক করবেন। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, শরণার্থীদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ শিশু ও ৩০ হাজার গর্ভবতী নারী রয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়েছি। বর্ষা মৌসুমে রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠের স্বল্পতা দেখা দেয়। এ জন্য রোহিঙ্গাদের জন্য বিকল্প জ্বালানি সরবরাহে সহযোগিতা চেয়েছি। এ মৌসুমের জন্য শুকনা খাবার সরবরাহেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
Friday, March 2, 2018
সব দলকে নির্বাচনে আনতে বার্নিকাটের ভূমিকা চান তোফায়েল: নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে

মেলা পরিদর্শন শেষে তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের বিষয়ে বার্নিকাটের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের শর্তগুলো কেবল ভোটের দিন নয়, সব সময়ই নিশ্চিত করতে হয়। তিনি বলেন, সবাই যাতে অংশ নিতে পারে, সবাই যাতে সভা, সমাবেশ, বৈঠক করতে পারে, সবাই যেন নির্বিঘ্নে তাদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে- সেটাও নিশ্চিত করতে হয়।
বুধবার বার্নিকাটের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আমরা সবাই চাই। সকল দল যাদের নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন আছে তারা সকলেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু নির্বাচনটা হতে হবে সংবিধান অনুযায়ী। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অধীনে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে, সরকার তার দৈনন্দিন কাজ করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকার্টের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সকল দল যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে আমি মান্যবর রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেছি।
বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসতে অনেকের আপত্তি আছে- এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আপত্তি আছে কার? সংবিধানের বাইরে তো কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আমরা তো কাউকে নিশ্চিত করে দিতে পারবো না যে আপনি ক্ষমতায় চলে যান। বিএনপি’র দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তারা ভুল করেছে, আশা করি আগামী নির্বাচনে সকলে অংশগ্রহণ করবেন। আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল বলেন, আমি জানি না, মন্তব্য করা আমার ঠিক হবে কি না। আমি আশা করবো, আপনি (বার্নিকাট) এমন একটি ভূমিকা নেবেন, যাতে সব দল সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করা বৃটিশ হাইকমিশনারকেও একই আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য) অনুরোধ করব, তারা যেন সব দলকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে বলেন। এই নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহযোগিতায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ-অ্যামচেম ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশে ইউএস ট্র্রেড শো’র আয়োজন করে আসছে। সে সময় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র এক বিলিয়ন ডলার যা গত আড়াই দশকে বেড়ে হয়েছে সাত বিলিয়ন ডলার। তিনদিনের এ মেলায় দেশি-বিদেশি ৪৩টি স্টলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০টি কোম্পানির পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। কৃষি থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্য, এমনকি গাড়ি নির্মাতাদেরও অংশগ্রহণ রয়েছে এ প্রদর্শনীতে। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীতে ঢুকতে ৩০ টাকা দিয়ে টিকেট কিনতে হবে। তবে স্কুল ইউনিফর্মে বা স্কুলের পরিচয়পত্র নিয়ে গেলে টিকেট কাটতে হবে না।

ওই ভোজ-বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে। পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় থাকছেন না। বিধায় রোববার তার সাক্ষাৎ পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সূচি নিশ্চিত হয়নি বলে জানায় সেগুনবাগিচা। তবে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অব তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তার বৈঠক হবে। এছাড়া দূতাবাসের আয়োজনে নাগরিক সমাজের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রতিনিধির সফরে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সহযোগিতা জোরদার করা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুটি শুরুত্ব পাবে। এ নিয়ে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। এ বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর আমাদের কঠিন চাপ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন, হোয়াইট হাউস, মার্কিন আইন প্রণেতারা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সরব রয়েছেন। তিনি বলেন, রাখাইনে জাতিগত নিধন বন্ধে আমরা সোচ্চার। আমরা বাস্তুচ্যুতদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন চাই।
এদিকে ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত খবরে জানানো হয়েছে- হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা লিসা কার্টিস তার সপ্তাহব্যাপী দক্ষিণ এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশে পৌঁছাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র সময় গত রোববার পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করার মাধ্যমে লিসা কার্টিস এ সফর শুরু হয়েছে। মূলত গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে কাবুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন আফগানিস্তান’-এ অংশগ্রহণের জন্য দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার চলমান দক্ষিণ এশিয়া সফর। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিশ্বের মোট ২৫টি দেশ অংশ নেয়। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই প্রচেষ্টা ‘কাবুল প্রসেস’ নামে পরিচিত। এর আগে গত বছরের জুন মাসে ‘কাবুল প্রসেস-১’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লিসা কার্টিস প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের আফগান নীতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সফরে লিসা কার্টিস-এর আলোচনায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলবেন লিসা। এতে রোহিঙ্গা সংকট, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি, সন্ত্রাসবাদ, সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো উঠবে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরেও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী নিয়েও আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলছে, আগামী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরবেন লিসা। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে লিসা কার্টিস একমাত্র পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক, বাংলাদেশ নিয়ে যার পেশাগত গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে। লিসা কার্টিস আমেরিকার কনজারভেটিভ থিংক ট্যাংক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছর দক্ষিণ এশিয়া গবেষণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করেছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান পদে যোগদানের আগে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি গবেষকদের পাবলিক পলিসি থিঙ্ক ট্যাংক ‘আর্চার ব্লাড সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি’ কর্তৃক কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক সেমিনারে মূলবক্তা হিসেবে কথা বলেন লিসা। এটি ছিল লিসার সর্বশেষ বেসরকারি প্রোগ্রাম। ওই সেমিনারে লিসা বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গণতন্ত্রের অভাবে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।’
Thursday, March 1, 2018
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র -ব্রিফিংয়ে বার্নিকাট

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের কাউন্সিলের পরে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি আগামী নির্বাচনকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে চান। আমরা তার অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমরা বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। সেখানে সব দলের অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকা উচিত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিরোধীরা যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে তা ‘প্রশংসনীয়’ মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচনকে ঘিরেও যেন এখানে কোনো সহিংসতা না হয় আমরা সেদিকেই সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি এটি কেবল সরকার নয়, জনগণের জন্য জরুরি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যেকোনো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, র্যালি, সভা-সমাবেশের সুযোগ অবাধ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মার্কিন দূত বলেন, নির্বাচনের ওপর এসব কর্মসূচির বিরাট প্রভাব রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে এমন কোনো অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি বিশেষ করে ধর্মীয় সংঘাত যেন না হয় সে জন্য সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের বন্ধু অন্যরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বিশেষ করে বড় দুই দলের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। আমরা নির্বাচন নিয়ে তাদের মনোভাব জানার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে উৎসাহ দিচ্ছে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে যাতে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পেইন হয়। সেখানে কোনো পক্ষই যেন সহিংসতাকে প্রশ্রয় না দেয়। ক্যাম্পেইন যে সংঘাতপূর্ণ না হয় এবং সমস্যা সংকুল না হয় সেটিই আমরা আশা করছি। রাষ্ট্রদূত বলেন, পরিবেশটি এমন রাখতে হবে যাতে জনগণ সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারে। এ জন্য শান্তিপূর্ণ যেকোনো কর্মসূচি করার অবাধ সুযোগ রাখা উচিত। গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন এক এবং অভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, বাক- স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যম উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। সম্প্রতি মার্কিন সরকার সাতটি সন্ত্রাসী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ‘আইএস-বাংলাদেশ’ নামেও একটি সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশে এমন সংগঠনের অস্তিত্ব বরাবরই অস্বীকার করেছে সরকার এবং বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জবাবে তিনি বলেন, এখানে আইএসআইএস আছে আমরা তা বলছি না। তাদের শাখা আছে তাও বলছি না। এরা শাখা খুলে না। তবে আমরা বলেছি আন্তর্জাতিক ওই সন্ত্রাসী সংগঠনটির সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু লোকজন নানা ভাবে জড়িত আছে। এরা নানাভাবে লিংকড। অর্থকড়ি থেকে শুরু করে অস্ত্রসহ নানাভাবে তারা সহায়তা পায়।
লিসা কার্টিস আসছেন: এদিকে মার্কিন দূত আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আগামী শুক্রবার দুদিনের সফরে বাংলাদেশ আসছেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা লিসা কার্টিস। তিনি একদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাটাবেন। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তার আলোচনা হবে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সহযোগিতা নিয়ে তার সফরে আলোচনা হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাবে। বার্নিকাট বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। এ নিয়ে মিয়ানমারের ওপর আমাদের কঠিন চাপ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন, হোয়াইট হাউস, মার্কিন আইন প্রণেতারা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সরব রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, রাখাইনে জাতিগত নিধন বন্ধে আমরা সোচ্চার। আমরা বাস্তুচ্যুতদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন চাই।
Sunday, March 5, 2017
‘যুক্তরাজ্য সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়’ -খালেদা-অলোক বৈঠক

Saturday, April 2, 2016
যে বার্তা ছিল মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সফরে by মিজানুর রহমান
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে এ বিষয়গুলোই দেখভাল করেন ড. সারাহ। বাংলাদেশে আসার আগে ব্যাংককে তিন দিন কাটিয়ে এসেছেন তিনি। এখান থেকে বৃহস্পতিবার সরাসরি ওয়াশিংটনে ফিরে গেছেন। ড. সারাহ যখন ঢাকায় ব্যস্ত ঠিক সেই সময়ে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এলান বার্সিনের নেতৃত্বাধীন আরেকটি টিম আসে। ওই টিমের সদস্যরা এখানে নিরাপত্তা, বিশেষ করে এভিয়েশন সিকিউরিটি নিয়ে আলোচনা করছেন। এটা এ মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। তিনি যেদিন বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সেদিনই বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে বৃটেন তথা পশ্চিমা দুনিয়ার বেঁধে দেয়া ডেটলাইন শেষ হয়। অবশ্য সরকার পরিস্থিতি উন্নয়নে ত্বরিত ব্যবস্থা হিসেবে বৃটেনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগে চুক্তিবদ্ধ হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি এবং এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের কাছাকাছি সময়ে ঢাকা সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে বিস্তর আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে সফর দুটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কি বার্তার আদান-প্রদান হলো সেটিরও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বিশ্লেষকরা দুটি সফরকেই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। কারণ হিসেবে তারা মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির ঢাকার তৎপরতাকে বিবেচনায় নিচ্ছেন। আন্ডার সেক্রেটারি ড. সারাহ সরকারি পর্যায়ে বৈঠকের আগে তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একটি বক্তৃতা করেছেন। ওই বক্তৃতায় তিনি সন্ত্রাস বা উগ্রপন্থার উত্থানের সঙ্গে যে গণতন্ত্র চর্চা, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর যোগসূত্র আছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তিনি তার কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে ভিন্নমত বা বিরোধীদের ঘায়েল করা, কথায় কথায় জেলে পাঠানো এবং তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলে সাধারণ জনগণের মধ্যে উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এটি যে এই প্রথম, মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বললেন তা কিন্তু নয়। কাউন্টার টেরোরিজম নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বরাবরই এটি বলেন। সন্ত্রাস বা উগ্রপন্থা ঠেকানোর পাশাপাশি ওই বিষবৃক্ষ যেন নতুন নতুন সম্প্রদায়কে আক্রান্ত করতে না পারে সে জন্য সমাজ বা রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন ওবামা প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা।
তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ গণতন্ত্রচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারগুলোর দায়িত্বই বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। এটি যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লাড়াইয়ে সবচেয়ে কার্যকর দাওয়াই সেটি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। ঢাকা ছাড়ার পর তার বক্তৃতায় সেই অংশটিই টুইট বার্তায় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কিভাবে সহায়তা করে সেটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বলেছেন ড. সারাহ। তিনি তার ঢাকা সফর নিয়ে একাধিক টুইট করেছেন। সেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের একাধিক ছবিও পোস্ট করেছেন। তার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে করা টুইট বার্তায় মার্কিন ওই কর্মকর্তা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করেছেন। তবে তার উদ্বেগ সব ধর্মের লোকজনের সুরক্ষায় সমানভাবে আইন প্রয়োগের বিষয়ে। এক বার্তায় তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সমাজগুলোকে শক্তিশালী করে। কিন্তু এটার জন্য দরকার হচ্ছে সব ধর্মের লোকজনের সমান সুরক্ষা। বাংলাদেশের ব্লগার ও ধর্মীয় সমপ্রদায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনাগুলোর নিন্দা করেছেন তিনি।
তার মতে, এটি বাংলাদেশে ভিন্ন ধর্ম-বিশ্বাসের লোকজনের শান্তিপূর্ণ বসবাসের যে ঐতিহ্য রয়েছে তার ওপর কঠিন আঘাত। তিনি বাংলাদেশিদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের মূল্যায়ন জানতে চেয়েছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায়। সেই আলোচনায় ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গও ছিল। ওই নির্বাচনটি বিরোধী জোট ও দলগুলোর বর্জনের কারণে একতরফা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অনেক দেশ এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছিল। সরকারের সঙ্গে ওই দেশগুলো কাজ করলেও নির্বাচন প্রশ্নে তাদের সেই অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে এমন কোনো ঘোষণা এখনও নেই।
আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবশ্য সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও এখন তারা স্থানীয় সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আন্ডার সেক্রেটারি এ নিয়ে কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য না করে সরকারের ব্যাখ্যা শোনায় বেশি মনোযোগী ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই সব আলোচনায় অংশ নেয়া ঢাকার কর্মকর্তারা। সরকারি প্রতিনিধিরা এ সফরকে অতীতের যে কোনো সফরের চেয়ে ব্যতিক্রম এবং সম্পর্কের নতুন পথচলা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অতীতে মার্কিন কর্মকর্তারা বিরোধী দলের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করলেও এবার তারা সরকারের বাইরে নাগরিক সমাজ এবং সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে আলোচনায়ই সীমাবদ্ধ ছিলেন। এটি এবারের নতুনত্ব হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।
Wednesday, February 17, 2016
বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে ব্রিটিশ লেবার পার্টি উদ্বিগ্ন
বাংলাদেশের
গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পর্কে ব্রিটিশ লেবার পার্টি উদ্বিগ্ন
বলে জানিয়েছে বিএনপি। সেইসাথে ব্রিটিশ লেবার পার্টিকে বিএনপি জানিয়েছে,
গণতন্ত্র না থাকলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘হাউজ
হাউজ অব কমন্স’-এর বিরোধী দল লেবার পার্টির কয়েকজন আইন প্রণেতাসহ ১০
সদস্যের একটি প্রতিনিধি মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা
করতে গেলে তাদের কাছে এই বক্তব্য তুলে ধরে বিএনপি। বৈঠকে গণতান্ত্রিক
পরিবেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ছাড়াও একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের
ব্যাপারও আলোচনায় এসেছে। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল
মঈন খান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে গতকাল বিকেলে সফররত ব্রিটিশ লেবার পার্টির ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের এই প্রতিনিধি দলটির সাথে বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠকটি শেষ হয় বিকেল সোয়া ৪টায়। বৈঠকে ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান হওয়ার্ড ডবার ছাড়াও লেবার পার্টির এমপি কেইর স্টার্মার, এমপি স্টিফেন টিমস, এমপি স্টিভ রিড এবং লেবার ফ্রেন্ডস বাংলাদেশ সংগঠনে মহাসচিব মতিন উজ-জামান, ভাইস চেয়ারম্যান নাসিম আলি ও রবার্ট ইভান্স, নির্বাহী সদস্য রবার্ট ল্যাথাম, আব্দুল হাই ও সৈয়দ আবুল বাশার, কোষাধ্যক্ষ ক্রিস ওয়েভার্স ছিলেন। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর ড. মঈন খান বলেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এখন যারা বিরোধী দলের রয়েছেন তারা লেবার পার্টি। তাদের একটি সংগঠন রয়েছেন- ‘লেবার ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ’। সেই সংগঠনের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আমাদের কাছে দেখা করতে এসেছিলেন। তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়েছেন। তারা সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তারা বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলতে আমাদের এখানে এসেছেন। আমরা তাদের কথা বলেছি।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যুক্তরাজ্যের বিশেষ ভুমিকা ছিলো। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও বিবিসি তথা বিলাতে যে লেবার পার্টি তারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলো। গুরুত্ব ভুমিকা পালন করেছিলেন এই কারণে যে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে মূল উপজীব্য ছিলো গণতন্ত্র। সেই কারণে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র সর্ম্পকে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের আগ্রহ। এটা খুবই স্বাভাবিক।
বৈঠকে উন্নয়নের কথাও উঠেছে। আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলেছি- গণতন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু বাংলাদেশের নয়, তৃতীয় বিশ্বের কোথাও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না আজকের পশ্চিমা বিশ্বও বিশেষ করে বৃটেন তারা যেমন উন্নয়নের শেখরে আজকে আছে, তার পেছনে যে সত্যটি কাজ করেছে, সেটা হচ্ছে এই তারা নিজেদের দেশে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং মানুষের অধিকার তারা রক্ষা করেছে। বিষয়গুলো আমরা জোর দিয়ে বলেছি আজকে বাংলাদেশের বেলায় এসব প্রযোজ্য হচ্ছে না।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে বিএনপি নেতা মঈন খান বলেন, আমরা এ কথাটিও জোর দিয়ে বলেছি, আমরা একাত্তর সালে যে আর্দশের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, তখন ব্রিটেন আমাদের প্রবলভাবে সহায়তা করেছিলো। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি এখানে আজকে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে আমরা কী জন্য তারা সাহায্য করেছিলো। সম্প্রতি আপনারা দেখতে পেয়েছেন- ভারতের প্রথিতযশা সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার তিনিও একই কথা বলেছেন।
১৯৭১ সালে যে মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিলো, সেই মূল্যবোধগুলো আজ বাংলাদেশে নেই, সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। একথাটি আজকে বিশ্বের অনেকে দেশই জোর দিয়ে বলছে যে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় স্বাধীন দেশ হিসেবে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে এই স্বাধীনতা কিন্তু সত্যিকার অর্থে গণমানুষের জন্য অর্থবহ হবে না।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিষয়গুলো আমরা বার বার আলোচনা করছি, বার বার আলোচনায় আসছে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগুলো আমাদের দেশে আসছেন, তারা বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় বিরোধীদল হিসেবে আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন, তখন গণতন্ত্রের বিষয়গুলো নিয়ে তারা প্রশ্ন করছেন।
দেশে বিভিন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে মঈন খান বলেন, সাম্প্রতিককালে যেসব নির্বাচন হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশ, উপজেলা, পৌর সভা নির্বাচন ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এসব সম্বন্ধে এবং নির্বাচন কমিশনের কী ভুমিকা আলোচনায় উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের সহায়তা প্রকল্প থেকে সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সহযোহিতার হাত যেভাবে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবে তুলে নিয়েছে- এই বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। কারণ যুক্তরাজ্যও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী সদস্য। শুধু তাই নয়, আজকে ব্রিটিশ লেবার পার্টি পার্লামেন্টের বিরোধী দলে আছে। তারা বিরোধী দলে আছে বলেই কিন্তু তারা এর গুরুত্ব আরো বেশি করে উপলব্ধি করছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি।
কীভাবে দেশের পরিস্থিতি উত্তরণ ঘটানো যায়? এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ইতিহাসের সামনে দিকে তাকাতে চাই। আমরা বলেছি, এটা করতে হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নতুন করে শুরু করতে হবে। এখানে গণতান্ত্রিক কার্যক্রম নতুন করে পরিচালিত হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আজকে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সরকারি দল ও বিরোধী দল মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে আমরা আমাদের দ্বন্দ্ব যেন নিরসন করতে পারি। মূল উদ্দেশ্য হবে এদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। সেখানে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক মতামত দিতে পারবে এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার এদেশে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
লেবার পার্টির প্রতিনিধি দলটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিলো বলে গণমাধ্যমকে আগেই জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই সাক্ষাতটি না হয়ে কেনো বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হয়েছে, প্রশ্ন করা হলে মঈন খান বলেন, তারা (লেবার পার্টি) একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। আমরা একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে আমরা সবাই কথা বলেছি। এখানে বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে কারা উপস্থিত থাকবেন তা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াই ঠিক করে দিয়েছেন।
Saturday, February 13, 2016
নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন -সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দল
![]() |
| রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) প্রতিনিধি দলের সংবাদ সম্মেলন৷ ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন, প্রথম আলো |
তিনি বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ২০১৯ সালে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেখতে চায়। আর এ জন্য নির্বাচন কমিশনের শক্তিশালী ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
লেম্বার্ড বলেন, নির্বাচনী পদ্ধতি কি হবে তা বাংলাদেশের মানুষকেই নির্ধারণ করতে হবে। আমরা এতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারি।
বাংলাদেশে তিনদিনের সফর শেষে শুক্রবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লেম্বার্ড একথা বলেন।
তিনি চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের সাথে সাক্ষাত করেছে।
এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বিজিএমইএর সাথে প্রতিনিধি দলটি মতবিনিময় করেছে।
লেম্বার্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় আমরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। এ সময় ব্লগারদের হত্যার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান। এসব হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চরমপন্থার উত্থানের মূল কারণ চিহ্নিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে যৌথভাবে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতিকে প্রতিনিধি দল স্বাগত জানায়। ওআইসিতে বাংলাদেশের ভূমিকা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
লেম্বার্ড বলেন, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা মুক্ত গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদকদের নিয়ে যা ঘটছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। গণমাধ্যমের সমালোচনাকে রাজনীতিকরা সব সময় ভালোভাবে নেন না। রাজনীতিবিদ হিসেবে এই মূল্যটা আমাদের দিতে হয়। চলমান ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারার সক্ষমতাটা গণতন্ত্রের অংশ।
বাংলাদেশের সাথে ইইউর অর্থনেতিক সহযোগতা জোরদার করার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বিজনেস কাউন্সিল সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
কেবলমাত্র জামায়াতে ইসলামী নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ইইউ উদ্বেগ জানায় কেন- প্রশ্ন করা হলে লেম্বার্ড বলেন, ইইউ নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। তাই এক্ষেত্রে ব্যক্তির চেয়ে নীতিটা গুরুত্বপূর্ণ। সব মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রেই ইইউর উদ্বেগ জানানো উচিত।
বাংলাদেশে মিয়ানমার উদ্বাস্তু নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে উদ্বাস্তু নিয়ে আলোচনার নতুন সুযোগ আসবে। তবে খুব জলদি যে কিছু ঘটে যাবে এমনটা নয়।
লেম্বার্ড বলেন, রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর নেয়া পদক্ষেপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রম অধিকার ও কারখানা নিরাপত্তায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আরো অগ্রগতির অবকাশ রয়েছে। বাংলাদেশের শ্রম আইন রফতানি প্রক্রিয়াকরন অঞ্চলের (ইপিজেড) জন্যও প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা সফরকালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দলটি হাজারিবাগে একটি ট্যানারি ও গণকতলীর দলিত কলনীতে ইইউর অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু উপস্থিত ছিলেন।
Sunday, December 13, 2015
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উন্নয়নে সহযোগিতায় প্রস্তুত ভারত
সরকারের সঙ্গে সব সময় ডিল করে ভারত: মতবিনিময়কালে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা এবং ভারতের বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যোগাযোগের চেষ্টার বিষয়ে হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে সব সময় ‘ডিল’ করে ভারত। তার ভাষায়, যখন যে সরকারে থাকে তার সঙ্গেই আমরা ডিল করি। এটাই আমাদের পলিসি, আমরা এই নীতিতে চলি। ভারত সব সময় সরকারগুলোর সঙ্গে ডিল করে। ভারত মনে করে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল, আজকের দিনেও এ অবস্থানে কোনো পরিবর্তন নেই। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বর্তমান ব্যবস্থায় ভারত খুশি কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কিভাবে তার লিডারশিপ নির্বাচন করবে এবং এখানে শাসনব্যবস্থা কিভাবে চালাবে- এ ব্যাপরে ভারত কোনো প্রেসক্রাইব করে না। তিনি বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা গণতন্ত্রকে সমর্থন করি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। একটি স্বাধীন দেশ কিভাবে চলবে তা তার দেশের জনগণই নির্ধারণ করবেন। নিরাপত্তা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে শরণ বলেন, আইএস বা আইএসআইএলের হুমকি একটি বৈশ্বিক বিষয়। ভারতও এ থেকে ব্যতিক্রম নয়। এদের মোকাবিলায় যেখানে যা প্রয়োজন ভারত সেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। হাইকমিশনার বলেন, আমার ধারণা বাংলাদেশ সরকারও একই কাজ করছে। দৈনন্দিন নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৪ সালের বর্ধমান বিস্ফোরণ নিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, আমরা একে-অপরকে সহযোগিতা করছি। বাংলাদেশে বিদেশিদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব দিতে চাননি। এখানে যা ঘটছে সে বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কারণীয় ঠিক করতে সমর্থ হবে বলে আশা করেন তিনি।
একই নৌকায় বাংলাদেশ-ভারত: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গত কয়েক বছরে ‘নতুন ধরনের আস্থা ও বোঝাপড়া জন্মেছে’ বলে মনে করে পঙ্কজ শরণ। এর ফলে অনেক ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান সহজতর হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। শরণ বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি (এলবিএ) দেখিয়েছে যে, দুই দেশ সবচেয়ে কঠিন ইস্যুসমূহও সমাধান করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এলবিএ সমস্যা নিষ্পত্তিতে অটল কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য কৃতিত্ব দেয়া হয়ে থাকে পঙ্কজ শরণকে। বাংলাদেশে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বহু উচ্চপর্যায়ের সফর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করাটা ছিল ‘সত্যিকারের সম্মান’। তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল এটি। আমি সৌভাগ্যবান যে, এমন এক সময় আমি উপস্থিত ছিলাম, যখন সম্পর্ক বিভিন্ন দিক থেকে উন্নতি হয়েছে। কয়েক দশক ধরে আটকে থাকা ইস্যুর বিষয়ে অগ্রগতিও আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। এ সময়ে আমাদের দুই দেশের পার্থক্য কমিয়ে আনা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি। আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে এটি ছিল খুবই সন্তোষজনক সময়। তিনি বলেন, এ সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, ভারতের জন্যও ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’।
এ সম্পর্কের ভবিষ্যত সম্পর্কে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিকগুলো বের করতে চাই আমরা। বিভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের বিষয়টি দুই দেশের জন্যই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ইস্যু সমাধানে সংলাপই একমাত্র উপায়। আবার তিনি এ-ও বলেন, বাস্তবতাকেও আমাদের মেনে নিতে হবে। আমাদের উভয়ই পানি স্বল্পতায় ভুগছে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিজের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তিনি বলেন, প্রায় প্রত্যেক খাতেই দুই দেশের সম্পর্ক উঁচু পর্যায়ে রূপান্তরের বিষয়টি আমি প্রত্যক্ষ করতে পেরেছি। তার মতে, বাংলাদেশ এখন পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় ‘অনেক বেশি পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী’। বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বে স্বীকৃত। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রতিটি শক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবের ব্যাপারে তিনি বলেন, ভারত সম্পর্কে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। তবে সেসব মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। কথা বলতে হবে, নিজেদের বার্তা পৌঁছাতে হবে। তার মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের গন্তব্য অভিন্ন। তার ভাষায়, পছন্দ করি অথবা না করি, আমরা একই নৌকায় চড়েছি। হয় আমরা একসঙ্গে চলবো, নয়তো একসঙ্গে ডুববো।
Tuesday, December 8, 2015
‘বাদামি বাক্সে বন্দি জীবন’
Wednesday, August 5, 2015
গিবসন কূটনৈতিক কোরের নতুন ডীন: ‘সম্মানিত হয়েছি’ -গিবসন
Saturday, August 1, 2015
গোলযোগের মধ্যে বাংলাদেশ -মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
Friday, July 3, 2015
৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত
Friday, June 12, 2015
সিটি নির্বাচনে অনিয়ম তদন্ত না হওয়া লজ্জাজনক
Sunday, May 3, 2015
মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনা
তারা সতর্ক করেছেন যে, অচলাবস্থা দীর্ঘ হতে পারে আবার সহিংসতা তীব্রতর হলে ২০০৭ সালের মতো আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে। এর মধ্যে বাস্তবে যেটিই ঘটুক আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া, সহিংসতার কোন কিনারা না হলে বাংলাদেশ উগ্র ধর্মীয় সহিংসতা ও জঙ্গিবাদের শিকার হতে পারে।
৩০শে এপ্রিলের এ শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন সাব-কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান ম্যাট স্যালমন। এতে অংশ নেন লিসা কার্টিজ, প্রফেসর আলী রিয়াজ, জেই কানসারা, স্টিভেন ডি. ফ্লেশলি ও আলিসা অ্যারিস। এই শুনানির একটি সংক্ষিপ্তসার নিচে তুলে ধরা হলো।
লিসা কার্টিজ
সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, এশিয়া স্টাডিজ সেন্টার, দি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ওয়াশিংটন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলকে রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসন ও সংলাপের টেবিলে বসতে উৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই অধিকতর সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ...আরও রাজনৈতিক অস্থিরতা যাতে না ঘটে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ এর ফলে সহিংস রাজনৈতিক গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে পারে। ...‘প্রলম্বিত রাজনৈতিক অচলাবস্থা কিংবা রাজপথের সহিংসতা তীব্রতর হলে ২০০৭ সালের মতো আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে। এবং এই দুটোর যে কোনটি ঘটলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ে দুর্ভোগ পোহাবে।
আর এসব এড়াতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে যা করতে হবে।
প্রথমত, সমমনা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নেয়। একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে একটি খাঁটি সংলাপ শুরু করতে শেখ হাসিনাকে রাজি করানোর লক্ষ্যে অন্য দেশগুলো যেমন: যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে কাজ করতে হবে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নিতে, যদিও নয়া দিল্লি এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতায় বসতে প্রভাব খাটানোর ইচ্ছা থেকে দূরে রয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ভারতের নেতারা দৃশ্যত তাদের স্বার্থের হিসাব কষছেন যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই তাদের লাভ বেশি হবে। আর সে কারণেই বিএনপির জন্য একটি জায়গা করে দিতে শেখ হাসিনাকে চাপ দেয়ার ব্যাপারে দিল্লি শিথিল মনোভাব দেখিয়ে চলছে। তবে দিল্লির এ অবস্থান অদূরদর্শী হতে পারে। যদি শেখ হাসিনা তার ক্রমবর্ধমান একনায়কোচিত শাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কোন বাধার মুখোমুখি না হন বা সামান্যই বাধা আসে, তাহলে বাংলাদেশী রাজনীতির সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এতে ইসলামপন্থি কট্টর গ্রুপগুলোর দ্বারা নতুন নিয়োগ সহজ হবে।
দ্বিতীয়ত, বিরোধী দল যে সহিংস কৌশল নিয়েছে এবং বিরোধী দলকে জায়গা করে দিতে সরকারের যে ব্যর্থতা- এ দুই বিষয়েই আরও উচ্চকণ্ঠে সমালোচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমশ চাপ দিতে হবে যে, হয় তারা বিরোধী দলের শত শত নেতাকর্মীকে জেল থেকে ছেড়ে দেবে অন্যথায় আইনের যথা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। যারা নিরীহ পথচারী বিশেষ করে পেট্রলবোমা মেরে যারা হত্যা করেছে, তাদের অবিলম্বে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিখোঁজ থাকা সালাউদ্দিনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে হবে, যাতে তিনি তার পরিবারের মাঝে অবিলম্বে ফিরে আসতে পারেন।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য সুশীল সমাজের মধ্যে সংলাপকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে জড়িত থাকবে উঠতি প্রজন্ম। এর লক্ষ্য হবে স্থানীয় গ্রুপগুলোকে অহিংস রাজনীতির বিষয়ে আগ্রহান্বিত করে তোলা। এ সংলাপে জামায়াতের তরুণ কর্মীদের আকৃষ্ট করতে হবে যারা দলের সহিংস কর্মসূচিকে দৃঢ়তার সঙ্গে বিরোধীতা করে দল সংস্কারে ব্রতী হবে।
চতুর্থত, বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে হবে। যার ফলে রাজনৈতিক স্থিতির ব্যাপারে শেখ হাসিনাকে রাজি করাতে প্রণোদনা দেয়া যায়।
...মিডিয়া রিপোর্ট মতে ৭ হাজার বিরোধীদলীয় কর্মীকে অন্তরীণ ও প্রায় ২০ জন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্মুখীন হয়েছেন।
...২০০৭ সালে সামরিক কবাহিনী যেভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল, সেভাবে এখনও পর্যন্ত তারা হস্তক্ষেপ করে রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাবে বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু যদি লক্ষণীয়ভাবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তাহলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে। শেখ হাসিনা কথিত মতে সামরিক বাহিনীকে অর্থনীতিতে বৃহত্তর ভূমিকা রাখতে গিয়ে রাজনীতিতে তাদের জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছেন। সামরিক বাহিনীর রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আরেকটি কারণ হলো ২০০৭ ও ২০০৮ সালে তারা ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর এশিয়া ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় দেখা যায় ৭৭ ভাগ মানুষ কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।
...গত ফেব্রুয়ারিতে ৩৭ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার সম্মুখীন হয়। এর বেশির ভাগ ঘটেছে পুলিশ হেফাজতে। আরেকটি সংগঠনের বরাতে তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারি থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৩২ জন নিহত হয়, এর মধ্যে ২২ জন মারা যান ক্রসফায়ারে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে জামায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানিদের পক্ষ অবলম্বনের কারণে তাদের নেতাদের অনেকের ফাঁসি হয়েছে, কেউ মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। ...আগের সরকারগুলো যুদ্ধাপরাধের বিচার এড়িয়ে গেছে কারণ তারা এর অনুমান অযোগ্য প্রতিক্রিয়া হওয়ার ভয়ে ছিলেন। ...আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যে, শেখ হাসিনা একে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন কিনা। শহুরে তরুণ মধ্যবিত্তসহ দেশের একটি বড় অংশ এ বিচারকে সমর্থন করছে। ২০১৩ সালের আগস্টে হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধনকে অবৈধ ঘোষণা করে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ ঘোষণা দেন, জামায়াত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আন্তর্জাতিক মানকবাধিকার সংগঠনগুলো কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড রদ চেয়েছিল এই যুক্তিতে যে যেভাবে বিচার হয়েছে তা আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে পারেনি।
...গ্রাম এলাকায় জামায়াতের ছোট সমর্থন ভিত্তি আছে। ৪ থেকে ৫ ভাগ ভোট পায় তারা ২০০৮ সালের নির্বাচনে। ছাত্র শিবিরের জঙ্গিত্বের বদনাম আছে, তারা প্রতিপক্ষের সঙ্গে সহিংস বিরোধে লিপ্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুর ওপর হামলার সঙ্গেও তারা জড়িত।
...রাজনৈতিক ডামাডোল ও চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে ইসলামী জঙ্গিত্বের হুমকির মুখে রয়েছে। এমনটাও অনুমেয়, উগ্রপন্থিরা রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে পারে। ব্লগার অভিজিৎ ও ওয়াশিকুরের হত্যাকাণ্ড ইঙ্গিতবহ। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের উত্থান ইংগিত দিচ্ছে, আল কায়েদা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অস্থির রাজনীতির সুযোগ নিতে শুরু করেছে কিনা। শেখ হাসিনা সাফল্যের সঙ্গে জেএমবিকে ভোঁতা করেছে। আইন প্রয়োগকারী ও গোায়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয়তার সঙ্গে জঙ্গিদের গ্রেপ্তার ও তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।
...জামায়াতের সহিংস অতীত বিবেচনায় তাকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ সমর্থনযোগ্য। কিন্তু তাদের বিবেচনায় নেয়া উচিত যে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সুযোগ সীমিত করে দেয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুনরায় সহিংস কাজে জড়িত হতে তারা নিজদের ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। তখন সমস্যা আরও নিকৃষ্ট হতে পারে।
...দেশটির রাপ্তানির ৭৫ ভাগের হিস্যা পোশাক খাতে এবং সেটি আঘাত পেতে শুরু করেছে। অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কারণে গার্মেন্টস ক্রেতারা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে তাদের ফরমায়েশ আদেশ স্থানান্তর করছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, অবরোধকালীন অস্থিরতা ২.২ বিলিয়ন ডলার খেয়ে ফেলছে যা জিডিপির ১ ভাগ। তবে বাংলাদেশ আগামী দশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে আছে। ২০২০ সালের মধ্যে দেশটি খাদ্যে স্বয়ম্ভর হবে। দেশটির সাফল্য যখন প্রশংসনীয় তখন এটাও দেখার বিষয়, জনসংখ্যার ৩০ ভাগ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে, যার মধ্যে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা পালনকারী গার্মেন্ট কর্মীরাও রয়েছে।
আলী রীয়াজ
প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি
...এরশাদকে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। বিএনপি তার সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জামায়াত নির্ভরতার কারণে ওই নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। ...সংসদ কার্যত একটি একদলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ...গত বছর ৫ ধাপে উপজেলা নির্বাচন হয়। এর প্রথম দুধাপে সরকার বড় হস্তক্ষেপ করেনি। ২১২টি উপজেলার মধ্যে বিএনপি ৯৩, আওয়ামী লীগ ৭৮ ও জামায়াত সমর্থকরা ২১টিতে জয়লাভ করে। এরপরে ব্যাপক কারচুপি ঘটলে ২৪৫ আসনের মধ্যে বিএনপি ৬৫, আওয়ামী লীগ ১৪৫ ও জামায়াত সমর্থকরা ১৫টিতে জয় পায়।
...পেট্রলবোমা হামলার জন্য সরকার ও বিএনপি পরস্পরকে দায়ী করেছে। তবে কয়েকটি ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকৃত হয়। কিন্তু বেশির ভাগই এটা বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা করেছে। বিএনপির অবরোধের কৌশল জনগণের কাছে আবেদন হারিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, অন্তত ১৫ হাজার ব্যক্তি যাদের বেশির ভাগই বিরোধীদলীয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত তিন বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নাগরিক নিরাপত্তায় বিরাট হুমকি সৃষ্টি করেছে। ২০১০ থেকে নাটকীয়ভাবে গুম বেড়েছে। আসকের মতে, গত জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ২৫ জন গুম হয়েছেন। এ বিষয়ে ভাল দালিলিক প্রমাণ থাকলেও সরকার অব্যাহতভাবে এর দায় অস্বীকার করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ উচ্চপদস্থরা দেখামাত্র গুলির নির্দেশকে দায়মুক্তি দেয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য প্রকাশ্য করেছেন।
...বাংলাদেশে সহিংসতা সব সময় ছিল। কিন্তু গত দেড় বছরে তা নতুন করে একটি নিকৃষ্ট মাত্রা পেয়েছে। কোন রাজনৈতিক সংস্রব নেই এমন ব্যক্তিও হামলার স্বীকার হয়েছেন। সংখ্যালঘুদের রক্ষায় রাষ্ট্র দুঃখজনকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। গত এক বছরে একনায়কসুলভ শাসনের সঙ্গে তুলনীয় একটি শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়ে গেছে, যেখানে বাকস্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিএনপি তার দাবি আদায়ে নিজেই সহিংসতায় অংশ নিচ্ছে বা উৎসাহিত করছে।
সরকার সমর্থকরা মালয়েশিয়ার মতো শাসনের পক্ষে আস্থা ব্যক্ত করছেন, যে দেশটিতে বহু বছর একনায়কসুলভ শাসন চলেছে, বিরোধী দলের জন্য কোন জায়গা ছিল না, কিন্তু প্রবৃদ্ধি অর্জন ঘটেছে।
সিটি নির্বাচন একটা আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু মিডিয়া ও পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট মতে তা প্রহসনে পরিণত হয়।
৫টি সুপারিশ
১. শাসনের জন্য একটি ন্যায্য ম্যান্ডেন্ট লাভ করা।
২. মৌলিক অধিকারের ক্ষয় বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক দলগুলোর জন্য গণতান্ত্রিক জায়গা তৈরি করতে হবে।
৩. অজবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো রাষ্ট্রীয় কঠোরতা বন্ধ করতে হবে।
৪. বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিরোধী দলকে রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলে সহিংসতার আশ্রয় নেয়ার বিষয়ে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় নিন্দা জানাতে হবে।
৫. ভোটাধিকারসহ যত ধরনের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আছে তাদের শক্তিশালী করতে হবে।
সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত থাকা সুযোগ যদিও আরও সীমিত হয়ে পড়েছে, তবুও একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপায় খুঁজে বের করার জন্য সব দল ও সিভিল সোসাইটি নিয়ে সংলাপ শুরু করতে হবে।
বর্তমানে বিরোধী দলের পিছুহটা এবং ক্ষমতাসীন দলের ‘সাফল্য’ যা প্রকারন্তরে একটি ডি ফ্যাক্টো একদলীয় রাষ্ট্র গড়ে তুলছে। সামনে আবারও সহিংসতা নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
জে কানাসারা
পরিচালক, গভর্নমেন্ট রিলেশনস, হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন
আওয়ামী লীগ সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে খাটো করার মধ্য দিয়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও তার সহযোগী জামায়াত প্রাথমিকভাবে সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য দায়ী।
হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের পক্ষে আমি এ বছরের গোড়ায় বাংলাদেশে আমি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনে গিয়েছিলাম। আমার ঢাকা ত্যাগের তিন সপ্তাহ পরে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অনেক বাংলাদেশীর মতো এটা আমার আশা যে,
১. বাংলাদেশ ও মার্কিন সরকারের উচিত হবে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে ফরেন সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে ঘোষণা দেয়া। কারণ তাদের তৎপরতা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও বাংলাদেশে মার্কিন স্বার্থের প্রতি হুমকিস্বরূপ।
২. মার্কিন আইনে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা আছে সে হিসেবে বাংলাদেশে তা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত সদস্যদের মার্কিন ভিসা না দেয়া।
৩. মার্কিন সরকারের উচিত হবে সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানানো।
৪. ভবিষ্যতে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্যের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অবস্থা, যার উন্নতি হয়েছে মর্মে দেয়া মার্কিন কংগ্রেসের মতামত বিবেচনায় নিতে হবে এবং তার সঙ্গে সাহায্যকে শর্তযুক্ত করতে হবে।
স্টিভেন ডি. ফ্লেশলি
কে-ফাউন্ডার অ্যান্ড প্রেসিডেন্ট
ইউএস-বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড রিলেশনস অ্যাসোসিয়েশন (ইউবিটিআরএ)
আমি ২০০৭ সালে প্রথম বাংলাদেশ সফর করি। দেশটির পোশাক খাতে ৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে এমন একটি কাজের সঙ্গে নিজেকে তখন যুক্ত করেছিলাম। ...২০১৭ সাল পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা চালু রাখার পক্ষে আমরা অভিমত রেখেছি। কিন্তু ওবামা প্রশাসন ঘোষিত অ্যাকশন প্ল্যান, ২০১৩ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা নবায়ন না করার জন্য সুপারিশ করেছি। ...২০১৪ ও ২০১৫ সালজুড়ে শ্রম খাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছেই। ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ ও ভীতি সামান্যই দূর করেছে। বরং তা মার্কিন-বাংলা বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্কের ক্ষতি করেছে। ...র্যাব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো রিপোর্ট দিচ্ছে। অথচ র্যাব সদস্যের অনেকেই বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োজিত রয়েছে।...
কয়েক বছর আগে আমি একটি মার্কিন ডিসকাউন্ট স্টোরের দলের সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছিলাম। একটি কারখানায় যাওয়ার পথে আমরা লক্ষ্য করি যে, র্যাব অফিসার দৃশ্যত এক নিরীহ ব্যক্তিকে প্রহার করছে। এ সহিংসতা আমার ক্লায়েন্টকে বিরক্ত করেছিল। এ ঘটনার কয়েক মাস পরে এই ডিসকাউন্ট চেইন স্টোর বাংলাদেশের কোন কারখানা আর পরিদর্শনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তারা তাদের ক্রয় ফরমায়েশ আদেশে পরিবর্তন আনে। তাদের পোশাক বাংলাদেশে নয় এখন তা তৈরি হচ্ছে চীনের কারখানায়।
রাজনৈতিক সহিংসতার নানামুখী ও ব্যাপকভিত্তিক নেতিবাচক প্রভাব এবং বাণিজ্য পরিবেশের ওপর তার অস্থিতিশীল দিক বিবেচনায় নিয়ে ইউবিটিআরএ বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচনের আহ্বানকে সমর্থন দিচ্ছে।
আলিসা অ্যারিস
সিনিয়র ফেলো ফর ইন্ডিয়া, পাকিস্তান অ্যান্ড সাউথ এশিয়া
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স
...সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ থেকে ভয়ঙ্কর সব খবর আসছে। ...এমন এক সময়ে বাংলাদেশে সহিংস ইসলামের উত্থান ঘটছে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম মেরূকরণ ঘটেছে এবং শাসনগত শূন্যতার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।...
...বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা সুফল দেয়নি। আওয়ামী লীগ উল্লেখযোগ্যভাবে বিরোধী দল ও মিডিয়ার ওপর ক্রাকডাউন চালাচ্ছে। ...কিন্তু এসবের কোন কিছুই সহিংস প্রতিবাদকে সমর্থন দেয় না। ...তবে কথা হলো দুই বছর আগেও যেটা ছিল না অথচ এখন দেখা যাচ্ছে সেটা হলো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিভিন্নভাবে অর্থনীতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশ রাজনীতি বিষাক্ত থেকেছে কিন্তু তা সত্ত্বেও তার পক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে চলা সম্ভব হয়েছে। দুই দশক ধরে মোটামুটিভাবে কমবেশি ৫ থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে।... কিন্তু চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে আইএমএফ প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের নিচে পূর্বাভাস করেছে, যা কিনা সরকারের ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। দেশটির অর্থমন্ত্রী নিজেই ৭.৩ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ...
সুপারিশ
১. বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও শাসনগত বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদানকারী কর্মসূচিসমূহকে সহায়তাদান অব্যাহত রাখা, এমনকি সেখানে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করা।
২. যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে ক্রমাগতভাবে সম্প্রসারিত করা। র্যাব যদিও মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের দায়ে অভিযুক্ত, তবুও এ সংগঠনটির সংস্কারে সহযোগিতা দিয়েই চলতে হবে। ...নিরাপত্তা সহায়তা বাংলাদেশকে এখন যা দেয়া হচ্ছে তা দ্বিগুণ করা হলেও তা পাকিস্তানকে দেয়া আর্থিক সহায়তার চেয়ে অনেক কম থাকবে।
৩. বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তাগত আলোচনা আরও গভীর করতে হবে।
৪. দেশটির দুই বিবাদমান রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটা আপস-রফার জন্য অব্যাহতভাবে উৎসাহ ও প্রণোদনা জুগিয়ে চলতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধই এ সংকটকে গভীরতর করছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা কোন কাজ দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে বাংলাদেশে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে সংকল্পবদ্ধ হওয়া। এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ একটি বিরাট সম্ভানাময় দেশ।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2388)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








