Thursday, August 22, 2024
নগদ এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বহাল থাকবে সব গ্রাহক সুবিধা : গভর্নর
তিনি বলেন, ডাক বিভাগের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক এটি পরিচালনা করবে। আগের সব ধরনের গ্রাহক সুবিধা বহাল থাকবে, তাই গ্রাহকদের বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই। বরং এখন নগদ আরো স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, ‘যেহেতু নগদ নিয়ে জনস্বার্থ রয়েছে, এর মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন আছে, আইনগত সমস্যা রয়েছে এবং বছরের পর বছর আইনের সমস্যা নিয়েই চলছে; তাই এটিকে সরকার অধিগ্রহণ করেছে। একটি প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না, যেখানে সাধারণ গ্রাহকের অনেক টাকা আছে। জনগণের আমানত যাতে সমস্যা না হয় তাই আমরা হস্তক্ষেপ করলাম। এটিকে ডাক বিভাগের পক্ষে আমরা নিলাম।’
তিনি বলেন, আমরা নগদকে ধ্বংস করতে চাই না। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা চাই নগদও বিকাশের মতো হোক। প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে এবং সেটি হতে হবে যোগ্য প্রতিযোগিতা। সরকারিভাবে নগদকে অনেক সুবিধা দেয়া হতো, বিশেষ করে সরকারের অধিকাংশ ভাতা নগদের মাধ্যমে দেয়া হতো; এরকম পক্ষপাতিত্ব যাতে না হয়, যাতে সমান্তরাল প্রতিযোগিতা হয় আমরা সেটি নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম আগে যেমন ছিল সেভাবেই থাকবে, কোন পরিবর্তন হবে না বরং আরো বৃহত্তর পরিসরে আরো বড় আকারে আসবে। বিকাশের মতো সু-প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান হবে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। বর্তমানে এমএফএসে পাঁচ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি ট্রানজেকশন হয়। সেই হিসাবে মাসিক লেনদেন দেড় লাখ কোটি টাকা এবং বছরে ১৮ লাখ কোটি টাকা। আমরা মনে করি সামনে এটি আরো ১০ গুণ বাড়বে। প্রতিযোগিতা হলে সেবা বাড়বে খরচ কমবে।
গভর্নর বলেন, অনলাইন ট্রানজেকশনকে আমরা এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যাতে টাকা ক্যাশ আউট করা না লাগে। আমরা ক্যাশআউট সিস্টেমকে মিউজিয়ামে পাঠাতে চাই। টাকা একবার ঢুকবে এবং সেখান থেকেই সবাই খরচ করবে; তাহলে ক্যাশ আউটের অপশন আসবে না এবং খরচ কমবে।
তিনি বলেন, বেআইনিভাবে ইলেকট্রনিক মানি সৃষ্টি এবং নানা ধরনের যেসব প্র্যাকটিস ছিল তা সঙ্গত ছিল না । তবে নগদই একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয় যেখানে অনিয়ম হয়েছে; এরকম আরো অনেক প্রতিষ্ঠানেই অনিয়ম হয়েছে। আমরা পেছনে তাকাতে চাই না, আমরা চাই সামনের দিকে ভালো কিছু করতে।
নগদ থেকে অর্থপাচার হয়েছে, বলা হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকার গরমিল রয়েছে; এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখন অডিট করে দেখব কতটুকু অনিয়ম হয়েছে। অর্থ পাচার হয়েছে কিনা, লাভ-লোকসানের পরিস্থিতি কি। এরপর পরবর্তী বোর্ড অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা এসব অনিয়ম দুর্নীতিতে সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর বলেন, অনেকেই চাকরির ভয়ে অনেক কিছু করেছেন, তারা নির্দেশিত হয়েছিল। আমরা যদি তাদের জেলে ভরে দেই তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে না। তাই আমরা এটি নিশ্চিত করতে চাই যে যাতে কেউ নির্দেশিত হয়ে অনিয়ম করতে বাধ্য না হন। আমরা সামনের দিকে যেতে চাই পেছনে খুব একটা তাকাতে চাই না। ’
এক প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর বলেন, নগদের ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে। আমরা এটি রিভিউ করব। তখন যদি শর্ত পূরণ করে আসতে পারে তখন দেখা যাবে।
সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সারের ঘাটতি যাতে না হয় আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি। যাতে বন্যা পরিস্থিতি উত্তরণের পর ফসল উৎপাদন করতে সারের অভাব না হয়। ফলন যাতে ভালো হয় আমরা আগে থেকেই সেটি নিয়ে কাজ শুরু করছি।
বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম দুর্নীতি এবং বোর্ড নিয়ে অস্থিরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যাংকিং কমিশন হচ্ছে তারা অডিট করবে ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। সেক্ষেত্রে বিদেশে যেগুলো পাচার করা হয়েছে এবং দেশে তাদের যে সমস্ত সম্পদ রয়েছে সেগুলো উদ্ধার করে দায় সমন্বয় করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মাথায় বন্দুক ধরে মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। সেক্ষেত্রে আইন মেনে আমরা পদক্ষেপ নেব। এস আলমের শেয়ারগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং সেগুলো বিক্রি করে ব্যাংকের দায় সমন্বয় করা হবে। যারা আগে মালিক ছিল তারা যদি শেয়ার নিয়ে আসতে পারে অথবা অন্য যে কেউ পর্যাপ্ত শেয়ার নিয়ে আসলে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদেরকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেব। তবে যে সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অনিয়ম দুর্নীতি এবং অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত ছিল তাদেরকে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখব।
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে নতুন ঋণ প্রশ্নে তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থের চাহিদা রয়েছে তাই আমরা আইএমএফ, এডিবি এবং বিশ্ব ব্যাংকের কাছে বিদ্যবান ঋণ কর্মসূচিগুলোর আওতা বাড়ানোর আবেদন করব। আমরা আইএমএফের কাছে বলব, পাকিস্তানকে ৭ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেয়া হচ্ছে; আমাদের প্যাকেজটিও যাতে ৭ বিলিয়ন করা হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে ফেনী
ফেনীর অধিকাংশ বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ। উপজেলাগুলোর পৌর শহরগুলোও এখন পানির নিচে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দ্রুত স্পিডবোট ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে সহযোগিতার জন্য সেখানে সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড পৌঁছেছে।
বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেকের মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। এজন্য জেলার বাইরে থাকা বিভিন্ন মানুষ তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এদিকে কিছু মোবাইল টাওয়ার বিকল্প উপায়ে চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু নেটওয়ার্কে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সোনাগাজী উপজেলার বড় ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মুহুরী রেগুলেটরের ৪০টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফেনী থেকে ফাজিলপুর পর্যন্ত রেললাইন পানিতে ডুবে গেছে। এজন্য চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেনীতে রেললাইন ও রেলসেতুর ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই অবস্থায় ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। তাই আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’
পানি উন্নয়নের বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ফেনীর রামগর পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। পানি বিপৎসীমার ২১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে বন্যাকবলিত ৬ জেলার ৪৩ উপজেলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৪৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১ লাখ ৯০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই জেলাগুলো হলো-কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও মৌলভীবাজার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনাকে ডুবিয়েছেন চারজন: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে আওয়ামী লীগ নেতারা
এগুলো ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ তাঁর দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী ও সাবেক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সদস্যদের পাঠানো কিছু বার্তা; যা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পেয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গত এক সপ্তাহে এই ব্যক্তিদের কারও কারও সঙ্গে অজ্ঞাত স্থানে দেখা করতে এবং বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশোধের শিকার হওয়ার শঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে।
এই ব্যক্তিদের অভিন্ন কথা, ‘শেখ হাসিনা দল ও জনগণকে পরিত্যাগ করেছেন।’ তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘আপা (হাসিনা) আমাদের ছেড়ে গেছেন।’
নেতা–কর্মীদের পরিত্যাগ করে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার একই অনুভূতি শেয়ার করছেন আরও অনেকেই। ৫ আগস্টের ঘটনাবলি তাঁরা আগে থেকে আঁচ করতে পারেননি। সেদিন শেখ হাসিনা তাঁর বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ভারতে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, এমনকি ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরও ‘পুরোপুরি বিস্মিত’ করেছে। এক নেতা বলেন, ‘আমরা টেলিভিশনের খবর থেকে এটা জানতে পারি।’
শেখ হাসিনার দেশত্যাগে বিপদে নেতা–কর্মীদের জীবন
এভাবে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার ঘটনা আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের জীবন বিপদের মধ্যে ফেলেছে। ‘বিক্ষোভকারী, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং সুযোগসন্ধানীরা’ আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়গুলো নিশানা বানান। করা হয় অগ্নিসংযোগ, লুট; চালানো হয় ভাঙচুর।
আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘(৫ আগস্ট শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর) আমরা একটা সময়ই শুধু বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাই। সেটি সেনাপ্রধান যখন বেলা তিনটার দিকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ও মানুষ তা শুনতে টেলিভিশনের পর্দায় নজর রাখছিলেন।’
আত্মগোপনে থাকা একজন আওয়ামী লীগ নেতা
আরেক নেতা ও মন্ত্রী (সাবেক সরকারের) বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা ধরা পড়লে লোকজন আমাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারতেন।’
আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী দলের নেতাদের নিশানা করে, কারাগারে পাঠায়, মারধর করে, ভয়ভীতি দেখায় ও হয়রানি করে। কিন্তু পরে হঠাৎই পরিস্থিতি উল্টে যায়।
সাম্প্রতিকতম ঘটনার (শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ) খানিকটা পেছনে তাকালে দেখা যাবে, ঘটনাপ্রবাহে কেউ কেউ (হাসিনা সরকারের) বিশেষ করে গত জুলাইয়ে শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরে ৩–৪ আগস্ট ছাত্র–জনতা রাস্তায় নেমে আসেন। ৫ আগস্ট বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভাঙেন। সেদিনই সরকারের পতন ঘটে।
‘গ্যাং অব ফোর’
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের জন্য আত্মগোপনে থাকা ওই নেতাদের একজন দলের অভ্যন্তরীণ একটি স্বার্থগোষ্ঠীকে দায়ী করে বলেছেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) আমাদের কথা শোনেননি।’ এই গোষ্ঠীকে ‘গ্যাং অব ফোর’ বলে আখ্যায়িত করেন নেতাদের একজন। তিনি বলেন, গোষ্ঠীটি শেখ হাসিনাকে বাস্তব অবস্থা বুঝতে দেয়নি।
এই চার নেতা হলেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ (জয়), বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেন, ‘চারজনের এই দল তাঁর (হাসিনা) পতনে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই ব্যক্তিদের ওপর তাঁর ছিল অন্ধবিশ্বাস। তাঁর যে সহজাত রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল, তা তিনি তাঁদের কারণে হারিয়েছেন।’
বিএনপিকে নির্বাচনে না আনা ‘বড় ভুল’
এ বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপিকে না আনা শেখ হাসিনার একটি ‘বড় ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলেছে, আওয়ামী লীগের কিছু নেতা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লন্ডনে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।
একটি সূত্রের ভাষ্যমতে, ‘আড়ালে থাকা একটি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রস্তাবও দেওয়া হয় (বিএনপিকে নির্বাচনে আনার)। আমাদের ধারণা, তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় চ্যানেলটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের এক বছর আগেই ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়...কিন্তু শেখ হাসিনা ওই প্রস্তাবে সবুজসংকেত দেননি।’
আওয়ামী লীগের একজন নেতার বক্তব্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার বিষয়টি শেখ হাসিনার প্রত্যাখ্যান করা ছিল ‘সাংঘাতিক ভুল’। কেননা, একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিএনপিকে নির্বাচনে আনা গেলে বিরোধীদের রাগ–ক্ষোভ হয়তো মিটে যেত।
ওই নেতা আরও বলেন, ‘দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, নির্যাতন, পুলিশের নিষ্ঠুরতায় জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা আমরা বুঝছিলাম। বিএনপিকে নির্বাচনী তরিতে ওঠানো গেলে সেই ক্ষোভ হয়তো থামানোও যেত। তাতে আমরাই আবার জিততে পারতাম এবং দল ক্ষমতায় থাকত।’
নেতা–কর্মীরা মনে করেন, বিশেষ করে গত জানুয়ারির নির্বাচনে জেতার পর শেখ হাসিনা আরও একগুঁয়ে হয়ে ওঠেন ও কোনো পরামর্শ শোনেননি। এ প্রসঙ্গে ওই নেতা বলেন, ‘টানা চতুর্থবার জিতে তিনি (হাসিনা) অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং কোটা সংস্কার নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে সৃষ্ট ক্ষোভের মাত্রা বুঝতে ব্যর্থ হন।’
সূত্রগুলো বলেছে, কৌশলে কিছু নেতা শেখ হাসিনাকে জুলাইয়ের শুরুতে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। (হাসিনা সরকারের) কফিনে শেষ পেরেকটি বসে তখন, যখন একই মাসে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা ছাত্রনেতাদের তুলে নিয়ে যান এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ও আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারে জোরপূর্বক প্রতিশ্রুতি আদায় করে ছেড়ে দেন।
এ কৌশল হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। কর্মসূচি প্রত্যাহারে কীভাবে জোরপূর্বক প্রতিশ্রুতি আদায় করা হয়েছে, ছাত্রনেতারা সেই বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেন। এটি পরপর কিছু ঘটনার সূত্রপাত ঘটায় এবং শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
শেখ হাসিনার পতনের পর জীবনাশঙ্কায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা–কর্মী ও বুদ্ধিজীবী দেশজুড়ে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন।
আশ্রয় নেওয়া এই ৬২৬ জনের মধ্যে ছিলেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতা, ৫ জন বিচারক, বেসামরিক প্রশাসনের ১৯ কর্মকর্তা, ২৮ পুলিশ কর্মকর্তা, বিভিন্ন পদের ৪৮৭ জন পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ নানা পেশার ১২ জন ও ৫১টি পরিবার।
ঘটনাচক্রে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টাকালে আটক হন শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা আত্মগোপন করেছেন, কেউবা গ্রেপ্তার হয়েছেন। নেতারা বলছেন, ৭৫ বছরের পুরোনো যে দল টানা ১৫ বছরের বেশি দেশ শাসন করেছে, তারাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।
এদিকে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের প্রথম পদক্ষেপ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের একজন বলেন, ‘দলকে পুনর্গঠনে তাঁকে (হাসিনা) তৃণমূল পর্যায়ের লোকজন বাছাই করতে হবে, তাঁদের মধ্যে থাকবেন কিছু তরুণ আওয়ামী নেতা; মাঠপর্যায়ে যাঁদের ব্যাপারে মানুষের আস্থা আছে, লোকজনের সঙ্গে যাঁদের যোগাযোগ আছে এবং অবশ্যই পরিবারের (হাসিনা) প্রতি অনুগত...এ যাত্রা দীর্ঘ হবে।’
এ নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের শক্ত ঘাঁটি ও কর্মী বাহিনী রয়েছে। অনেকে বিপথগামী হয়েছেন, যেমনটা ঘটেছে সুবিধাবাদীদের ক্ষেত্রে। সমর্থকদের মধ্যেও এমনটা থাকবে। কিন্তু আমাদের অন্তত এমন কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী থাকা দরকার; যাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ও নির্বাচন যখনই হোক, তাতে অংশ নেবে। এখন এটাই প্রয়োজন।’
এ পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভীর মতো কয়েকজন নেতার ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি। বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাকালে ও তারেক রহমান বিদেশে অবস্থানকালে বিএনপির দুর্গ সামলেছেন তাঁরা।
দেশে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগবিরোধী মনোভাব বিরাজ করায় শেখ হাসিনার পরিবার ও এর উত্তরসূরি সজীব ওয়াজেদ জয়ের খুব কম বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন দলটির নেতারা।
আওয়ামী লীগের নেতাদের একজন বলেন, ‘লোকজন এখনো ক্ষেপে আছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের সময় দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার বা বিএনপি কিংবা জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সরকার যে–ই কয়েকটা বছর ক্ষমতায় থাকুক, আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের আবার সংগঠিত হওয়ার কথা ভাবতে হবে।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যা: মুখ খুললেন আর জি করের এক নারী চিকিৎসক
৯ আগস্ট উত্তর কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সভাকক্ষে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, ওই নারী চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর শরীরের বাইরের অংশে ১৬টি ও ভেতরে ৯টি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতনেরও আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে সঞ্জয় রায় নামের কলকাতা পুলিশের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
সরকার পরিচালিত ওই হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধারের দিন থেকেই বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন চিকিৎসকেরা। পরে সমাজের সব স্তরের মানুষ ওই বিক্ষোভে যোগ দেন।
নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও ওঠে।
রাধিকা বলেন, ‘এই ঘটনা ঘটার মাত্র দুই দিন আগে আমি রাতের পালায় কাজ করেছিলাম। ‘তিনি (নিহত নারী চিকিৎসক) যা করেছেন, আমাদের যে কেউই ওই কাজই করবেন...আমরা সুযোগ পেলে হাসপাতালে একটু বিশ্রাম নিই।’
নিহত ওই নারী চিকিৎসকের নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিক্ষোভকারীরা তাঁর নাম দিয়েছেন ‘অভয়া’।
ওই নারী চিকিৎসক দীর্ঘ সময় ধরে টানা দায়িত্ব পালন করছিলেন। কাজের ফাঁকে সামান্য বিশ্রাম নিতে তিনি সেই রাতে হাসপাতালের সভাকক্ষে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তার শঙ্কায় নিজের আসল নাম প্রকাশ না করা রাধিকা বলেন, যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা টানা কাজ করে যেত হয়...খাওয়ার সময় বা বিশ্রামের সুযোগ বলতে গেলে পাওয়াই যায় না...সেই পরিস্থিতিতে ফাঁকা জায়গায় একটু বিশ্রাম নিতে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
রাধিকা বলেন, ‘এটা আমাদের যে কারও সঙ্গে ঘটতে পারত এবং এখনো যে কারও সঙ্গে ঘটতে পারে।’
সমাজকল্যাণমূলক কাজ করা সংস্থা দশরার তথ্যানুযায়ী, ভারতে প্রায় ৩০ শতাংশ চিকিৎসক নারী। আর নার্সদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী।
ভারতে নারী চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা খুবই সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
অভয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, ‘চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাজনিত বিধিবিধানের অভাব রয়েছে, চিকিৎসাকর্মীদের ওপর সহিংসতা এবং যৌন সহিংসতা উভয়ই গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।’
বেঙ্গালুরুর কে সি জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ইন্দিরা কাবাদে বলেন, তাঁর হাসপাতালের নারী কর্মীরা নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পারলেন কি না, সেটা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন থাকেন।
ইন্দিরা বলেন, ‘হাসপাতাল থেকেই কেউ তাঁকে অনুসরণ করছেন কি না, আমরা তা–ও জানতে পারব না’।
মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ও তাঁর অনেক নারী সহকর্মী তাই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ‘বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তা তল্লাশি’ এবং ভেতরে ‘পুলিশ পোস্টিং’ চান।
ইন্দিরা বলেন, ‘আমরা জীবন বাঁচাতে বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাওয়া সত্ত্বেও কাজের জায়গায় নিরাপত্তা নিয়েও আমাদের ভাবাও প্রয়োজন।’
১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে ২০২২ সালে দিনে গড়ে প্রায় ৯০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালগুলোয় নারী কর্মীদের বেহাল চিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে রাধিকা বলেন, বিরতিহীন কাজের চাপে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত চিকিৎসকেরা যেখানে পারেন, সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁরা চেয়ারে, এমনকি মেঝেতেও ঘুমিয়ে যান।
রাধিকা বলেন, তাঁরা এতটাই ক্লান্ত থাকে যে তাঁদের শরীর আর এক পাও চলতে চায় না।
অনেক হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের জন্য আলাদা বিশ্রামের ঘরও থাকে না। নারী-পুরুষ উভয়ই বিশ্রামের জন্য একই কক্ষ ব্যবহার করে। কোনো কোনোটিতে তো দরজা আটকানোর ব্যবস্থাও থাকে না।
নিজের এমন একটি অভিজ্ঞতার বর্ণনা করতে গিয়ে রাধিকা বলেন, ‘একবার আমি বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ দুজন পুরুষ ওই কক্ষে ঢুকে পড়েন। আমি খুবই ভয় পেয়েছিলাম।’
এমনকি কোনো কোনো হাসপাতালে নারী ও পুরুষ চিকিৎসকদের একই শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়।
নারী চিকিৎসকদের প্রতিদিনই নিপীড়নের শিকার হতে হয় বলে জানান কেরালা রাজ্যের একজন নারী চিকিৎসক। বলেন, তাঁকে ও তাঁর নারী সহকর্মীদের ‘কথায় কথায় অপমান করা হয়, শারীরিক নিপীড়ন করা হয়।’
‘এসবের যেন কোনো শেষ নেই। কেউ কেউ চিকিৎসকদের ঈশ্বর বা ফেরেশতা বলেন। তাই আমরা ভাবি অপরাধ বুঝি চিকিৎসকদের ছুঁতে পারে না। আর যখন এসব অপরাধ আমাদের কর্মক্ষেত্রে ঘটে, যেটিকে আমরা সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা বলে ভাবি, আমরা সত্যিই তখন আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’—বলেন রাধিকা
নিরাপত্তা নিয়ে এত উদ্বেগের পরও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাওয়ার পণ করেছেন রাধিকা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৬ বছর কথা বলার সাহস করেননি, ১৬ দিনে সব সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন -চট্টগ্রামে সারজিস আলম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে আহত ব্যক্তিদের দেখতে গিয়ে আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ কথা বলেন সারজিস আলম। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন ও বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে আন্দোলন-বিক্ষোভ হচ্ছে, দাবি করে সারজিস আলম বলেন, এত বড় একটি ক্ষতপূর্ণ রাষ্ট্রের সংশোধনের জন্য সময় প্রয়োজন। সেই সময়টুকু না দিয়ে যদি বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ করা হয়, এর মানে হচ্ছে রাষ্ট্রের স্থিতিশীল অবস্থা হওয়ার জন্য যে গতি দরকার, তাতে তাঁরা বাধা দিচ্ছেন। তাঁদের অবশ্যই ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।
বিগত সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতির দেশে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন,‘আমরা বৈষম্যর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। কোনো একক বৈষম্য নয়। পুরো বাংলাদেশের সব সেক্টরের বৈষম্য। ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে দুর্নীতির বাংলাদেশে পরিণত করেছে। আমরা যদি এতে কাজ করতে যাই, মাথা থেকে গোড়া পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে। এখন মাথাগুলো শুরু হয়েছে, দিন দিন প্রতিটি ধাপে যাওয়া হবে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘আপনারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সময় দিন। আপনার জায়গা থেকে সমালোচনা করুন। আমাদের কাছে আসুন। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হোক কিংবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন—এই প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আপনাদের বসার ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু পূর্বশর্ত হচ্ছে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনার জন্য তিন থেকে ছয় মাস অবশ্যই সময় দিতে হবে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘এত দিন যে কথাগুলো বলা উচিত ছিল, আপনারা বলতে পারেননি। কিংবা আপনাদের বলতে দেওয়া হয়নি। এটিই সত্য। যে ঘটনাগুলো দেখেছেন, কিন্তু প্রকাশ করতে পারেননি, সে বিষয়গুলো প্রকাশ করুন। কারণ, এটি আপনাদের দায়বদ্ধতা।’
হাসপাতালে পরিস্থিতি নিয়ে সারজিস বলেন, ‘প্রতিটি হাসপাতালে গত ১৬ বছরে সিন্ডিকেট নামধারী মধ্যস্থতাকারী কিছু রক্তচোষা মানুষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্য বলছি, আপনাদের টাকা খাওয়ার যে ব্যবসা, আপনারা যদি বন্ধ না করেন, তাহলে আপনার সিন্ডিকেট কীভাবে বন্ধ করতে হয়, সেটি ছাত্রসমাজ খুব ভালো করে জানে। আসুন, আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াই। ব্যক্তিগত জায়গা থেকে যদি আমরা সৎ না হই, তাহলে রাষ্ট্রের কাছে অনেক কিছু আশা করে কোনো লাভ নেই। আমরা যদি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে প্রত্যককে কাজ করতে হবে।’
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ, আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ আহমদ উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিতা ও কন্যার পরিণতি by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং তার কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী বা অবিনশ্বর করার জন্য যেকোনো পন্থা গ্রহণ করতে আপসহীন ছিলেন কিন্তু সেই ক্ষমতা কীভাবে পরিসমাপ্তি হবে তা উপলব্ধি করতে পারেননি। আদিগন্ত শক্তিশালী পরাক্রান্ত ক্ষমতার অহমিকাবোধ বা নগ্ন-কদর্য ক্ষমতার বোধ থেকে বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা কোনো দিন সতর্ক হওয়া জরুরি মনে করেননি। দু’জনেই গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াই করেছেন। কিন্তু ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য দু’জনেই গণতন্ত্রকে ছুড়ে ফেলেছেন, রাজনীতি থেকে নৈতিকতাকে উচ্ছেদ করেছেন, সংবিধানকে ক্ষমতার খেলনা করে ফেলেছেন। পিতা এবং কন্যার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ঐতিহাসিক ভুল বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে রাষ্ট্রকে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভুল ছিল গণতন্ত্র হত্যা করে এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা। অথচ তিনি ৫৫ বছরের জীবনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ৪৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন। এমনকি স্কুলে পড়াকালীন বৃটিশ আমলেও সাত দিন কারাভোগ করেন। বাকি ৪৬৭৫ দিন পাকিস্তান কারাগারে। গণতন্ত্র, সংসদীয় ব্যবস্থা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, আইনের সমতা ইত্যাদি নিশ্চিত করে ’৭২ সালের সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর।
’৭৩ সালের মার্চে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মাত্র এক বছর ৯ মাস পর অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনী পাস হয়, যার মাধ্যমে ’৭২ সালের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করা হয়। এই ভয়াবহ সংশোধনী বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় অল্প সময়ে বিনা তর্কে সংসদে গৃহীত হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় মন্ত্রিপরিষদ সরকারের বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। বিচারপতি নিয়োগ এবং বরখাস্তের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছে ন্যস্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতির অপসারণের জন্য সংসদের তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের ভোটে পাস হওয়ার শর্তযুক্ত করা হয়। সংবিধানে ষষ্ঠ (ক) ভাগ সংযুক্তিপূর্বক সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একটি রাজনৈতিক দল চালু করার ব্যবস্থা করা হয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের একদলীয় শাসন ব্যবস্থার জাতীয় দলে সদস্য হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। একদল ছাড়া অন্য সকল দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই সংশোধনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ উল্লেখ করা হয় এবং বিনা নির্বাচনে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গবন্ধুকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই চতুর্থ সংশোধনীতে সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সরকার কাঠামোর পরিবর্তন, সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধি ইত্যাদি প্রশ্নে জনগণের মতামত নেয়ার কোনো প্রয়োজনবোধ করেনি।
চতুর্থ সংশোধনী জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলেছে, জাতীয় রাজনীতির গতিপথ কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তা বলার জন্য বড় পরিসর প্রয়োজন। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমেই সংবিধান কতোটা অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি দলের আজ্ঞাবাহী তা প্রমাণিত হয়েছে। এই সংবিধান যে কাঠামো গত ভাবেই গণবিরোধী, তা ’৭৫ সালেই উন্মোচিত হয়েছে। একদলীয় বাকশাল এবং চতুর্থ সংশোধনীর ফলে ’৭২-এর সংবিধানের মৃত্যু সংঘটিত হয়।
বঙ্গবন্ধুকে বিনা নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি করা এবং সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যে বঙ্গবন্ধুর জন্য মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা, এটা বাংলাদেশের জনগণ উপলব্ধি করলেও আওয়ামী লীগ করতে পারেনি। ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক পথ রুদ্ধ হলে রক্তপাতের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। কালের অমোঘ বিধানে বঙ্গবন্ধুর পতন আসন্ন, সমগ্র দেশবাসী বুঝতে পেরেছিলেন শুধু বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারেননি। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলের ব্যর্থতা, ঐতিহাসিক দূরদৃষ্টির অভাব ও ইতিহাসের অন্তর্নিহিত শক্তি বুঝতে অক্ষম। বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে পর্যালোচনা করে সত্য অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগের কোনো আত্ম সমালোচনা নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডকে শুধুমাত্র ফৌজদারি হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখেছে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে পারেনি। তাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকে কেবল ‘ষড়যন্ত্র’ ও ‘চক্রান্ত’ হিসেবেই মূল্যায়ন করেছে, গভীর সত্য গভীরেই থেকে গেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং শাসক হিসেবে তার ব্যর্থতাকে আলাদা করতে পারেনি। ফলে দলগতভাবে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী বুদ্ধিজীবীগণ অন্ধ বিশ্বাসের শিকারে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে রক্ষীবাহিনী গঠন, সিরাজ সিকদারসহ অগণিত হত্যা, দুর্ভিক্ষ, জরুরি অবস্থা, একদলীয় বাকশালসহ সকল অপকর্মের ওপর অন্ধবিশ্বাস স্থাপন করে। বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে স্বাধীনতা, ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত শাসনের সোনালী অধ্যায় নিয়ে রসঘন মুখরোচক ইতিহাস লিখে অজস্র বই ছাপানো হয়েছে, পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু সত্য লুকায়িত থাকে না। নতুন প্রজন্মের দূরদর্শীদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সেইসব মনগড়া ইতিহাসের অসারতাকে সহজেই আবিষ্কার করে সত্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এককালে যিনি ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা তিনি ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পর থেকেই জনবিচ্ছিন্ন হতে শুরু করলেন, ফলে আওয়ামী লীগের একাংশের সহায়তায় বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন এবং ৩২ নম্বরে লাশ পড়ে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সরকার গঠিত হয়। সংসদ চালু থাকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরও একজন সংসদ সদস্য প্রতিস্বরূপ পদত্যাগ করেনি। এরপরও আওয়ামী লীগ অন্যদের দায়ী করে রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে চায়। আওয়ামী লীগের চরম দুর্ভাগ্য এই যে, তারা কোনো দিন ঐতিহাসিক সত্যকে উদ্ঘাটন করতে চায়নি। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা আন্দোলনের সমসাময়িক ইতিহাস লিখতে গিয়ে একক ব্যক্তির অবদানে ইতিহাসকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। বাংলাদেশে ’৭৫-এর পর একঝাঁক লেখকের আবির্ভাব ঘটলো, যারা মানসিক দিক থেকে অনুদার এবং বিশ্বাসের দিক থেকে অন্ধ। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীগণ অতীতের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে সবার অবদান আত্মসাৎ করে শুধুমাত্র এক ব্যক্তি বা এক পরিবারের স্বীকৃতি প্রদান করে, যে অজ্ঞানতার পরিচয় দিয়েছেন তার সমুদয় অংশই এখন সমর্থনের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে তাদের বিবৃত ইতিহাস ঐতিহাসিক দূরদৃষ্টির অভাবে সম্পূর্ণ অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়েছে। গত ১৫ বছরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে হাজার হাজার বই লিখেছেন, লাখ-লাখ পৃষ্ঠা সাজিয়েছেন, পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন কিন্তু বিষয়গুরুত্ব বলতে কিছুই নেই। আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাষ্ট্রের বিবরণ দিতে গিয়ে যান্ত্রিকভাবে স্তাবকতার আশ্রয় নিয়েছেন, কার্যকারণ বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনটুকু বোধ করেননি। এ কারণে তাদের স্বরচিত ইতিহাস সম্রাটদের নামের তালিকা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ঐতিহাসিক সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে মহান করতে গিয়ে কেবল ছোট করা হয়েছে, মন থেকে মুছে দেয়ার আয়োজন করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েকদিন আগেও বলেছিলেন-
‘আমাকে কেন পদত্যাগ করতে হবে, আমার অপরাধ কী’? নির্বাচনে প্রতারণা করা, প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনকে দলীয়করণ করা, সংবিধানকে ইচ্ছাধীন করা, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত করা সর্বোপরি ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যাকে তিনি অপরাধ হিসেবে বিবেচনাই করতে পারেননি। বিশ্বের এমন কোনো সম্রাট নেই, এমন কোনো রাজা নেই যার শাসনামলে কোনো ত্রুটি বা অপরাধ নেই। শেখ হাসিনা বিশ্বাস করতেন, তিনি এবং তার বাবা দোষ-ত্রুটি ও অন্যায়ের ঊর্ধ্বে। তিনি আরও বিশ্বাস করতেন, তিনি মুখে যা বলবেন তাই সত্য। এর বাইরে সত্য থাকতে পারে না। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে শেখ হাসিনা নিজের জীবন দিতেও কুণ্ঠিত ছিলেন না কিন্তু সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে অজস্র প্রাণ নিতেও তিনি কুণ্ঠিত হননি। কোনো এক সুদূর অতীতে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এই জন্য প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেনে নিতে পারেননি শেখ হাসিনা। বরং রক্তপাতের মাধ্যমে ১/১১ সরকার ক্ষমতায় এনেছিলেন। অথচ তিনি ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতি, তার অধীনে বিরোধী দলকে নির্বাচনে আসতে আহ্বান জানান। এতে শেখ হাসিনা বিন্দুমাত্র বিব্রত বোধ করেন না। শেখ হাসিনা তার বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার কোনো নৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি মনে-প্রাণে জানেন, জনগণ তাকে ভোটে নির্বাচিত করবে না। এজন্য ভোট দানের পদ্ধতিটিই বিলুপ্ত করে দিয়েছেন, অথচ সারা বছর বলে বেড়াতেন- ‘জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, আওয়াম লীগ ক্ষমতায় থাকলে গণতন্ত্র থাকে’। তিনি ক্ষমতার স্বার্থে সত্যকে আড়াল করার জন্য অভিনব-অভিনব পন্থা উদ্ভাবন করতেন।
বিএনপি যখন আওয়ামী লীগের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে তখন তিনি আবিষ্কার করলেন জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং রাজাকার। রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সংস্কৃতির পরিসরে আওয়ামী লীগ অব্যাহতভাবে ঘৃণা ও বিষ ছড়াচ্ছে। এতে যে, সমগ্র মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করা হয়, সমাজ নিদারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা তার বিবেচনায় স্থান পায়নি। ক্ষমতার বর্তমান দ্বন্দ্বে অতীতের বীরত্বকে অস্বীকার করার সংস্কৃতি এখন বঙ্গবন্ধুর বেলায় প্রযোজ্য হচ্ছে। কন্যার অপশাসনের দায়ে পিতার ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
’৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী শাসনের যাঁতাকলে পৃষ্ট হচ্ছে স্বাধীনতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর অবদান। বিরোধী দলে থাকলে গণতন্ত্রী আর ক্ষমতায় থাকলে স্বৈরাচার- এই দ্বিমুখী নীতিতে প্রমাণ হয়, আওয়ামী লীগের ডিএনএ (উঘঅ)তে নৈতিকতার কোনো উপাদান অবশিষ্ট নেই। শুধু অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে ছাত্রদের কোটা আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতা হত্যা করার উন্মত্ততায় প্রমাণ হয়, রাষ্ট্রকে কসাইখানা হিসেবে বিবেচনা করছে আওয়ামী লীগ। স্বজন হারানোর ব্যথা জুলাই হত্যাকাণ্ডে রূপান্তর করে জনগণের আয়নায় প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগের বিবেকবোধ ধ্বংস হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের কয়েকশ’ নাগরিক হত্যার পর শোক প্রকাশে বিভিন্ন স্থাপনা প্রাধান্য পায়, এই ঘটনায় ক্ষমতা উদ্যাপনের ভয়াবহ দৃশ্যকল্প উন্মোচিত হয়ে পড়ে। এরপর ছাত্র-জনতা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে ফেলে, মৃত্যুকে তারা গৌরবের অংশীদার করে পরাক্রমশালী শেখ হাসিনা সরকারের পতন অনিবার্য করে তোলে। কারণে-অকারণে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করে পিতাকে ’৭৫ সালের মতো পুনরায় হত্যা করেছেন শেখ হাসিনা। অবশ্য এত নির্মম সত্য বিবেচনা করার মতো বিবেকের কোনো বিচারালয় নেই আওয়ামী লীগের।
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন হাতছাড়া হয় আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের কারণে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এবং দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করে। সংবিধান ও গণতন্ত্র হত্যার পাশাপাশি জুলাই গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ। তারা নিজেদের দলকে অজেয়, অভেদ্য দুর্গ বলে যেসব মিথ্যা বয়ান প্রচার করতো তা এবার চুরমার হয়ে গেছে। এটা ভয়ঙ্কর নজির। ক্ষমতার কারণে পিতা খুন হয়েছেন, কন্যা দেশ ছেড়েছেন। এতে শেখ হাসিনা অনুতপ্ত এটা প্রতীয়মান হয় না। কালের অমোঘ বিধানে পিতা ও কন্যার ভাগ্য সুনির্দিষ্ট ও সুনির্ধারিত হয়েছে। এবার আওয়ামী লীগ চরম বিপর্যয়ে পড়ে হয়তো বুঝতে পারবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং দীর্ঘস্থায়ী করাও জরুরি নয়। শেখ হাসিনার হাতেই আওয়ামী লীগের সর্বনাশ হয়ে গেছে, নৈতিকতায় ধস নেমেছে। অদূরদর্শিতা ও দম্ভের কারণে শেখ হাসিনা নিজেই পিতা এবং দলকে বলি দিয়েছেন। রাষ্ট্রকে ধ্বংস ও গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠছে। এতেও আওয়ামী লীগের কোনো আত্মজিজ্ঞাসা নেই, আত্ম-সমালোচনাও নেই। ইতিহাসের বৈরী দ্বন্দ্ব কীভাবে মীমাংসা হবে তা আওয়ামী লীগ জানে না। পিতার দেশ থেকে কন্যার পলায়ন কারও আত্মমর্যদাকে সুরক্ষা দেয়নি বরং দলের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে সমাহিত করা হয়েছে।
পিতা এবং কন্যা রাষ্ট্র ক্ষমতা বুঝলেও, কী অপূরণীয় মূল্যে ক্ষমতা থেকে অপসারিত হবে সে পরিণতি বুঝতে অক্ষম।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনাকে নিয়ে বহুবিধ চ্যালেঞ্জে ভারত: আউটলুক ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন
যে উত্তাল পরিস্থিতি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে অথবা ছাত্রদের আন্দোলনের যে শক্তি তা আগেভাগে অনুমান করতে অক্ষমতা দেখিয়েছে নয়াদিল্লি। এটা শুধু ভারতের কূটনীতির দুঃখজনক পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটায় এমন না। রাজপথের ভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাও। ভারত আত্মতুষ্টিতে হয়তো ভুগছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে, শেখ হাসিনা শক্তি খাটিয়ে অতীতের মতো সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। শেখ হাসিনা ক্রমশ তার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিলেন। এর যেকোনো লক্ষণ দেখা যায়নি, বিষয়টি এমন নয়। সাবেক রাষ্ট্রদূত অনীল ওয়াধা বলেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্রমশ শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণ এবং আওয়ামী লীগের দুর্বলতা বাকি বিশ্বের মতো ভারতও দেখেছে। তা সত্ত্বেও চীনকে মোকাবিলা এবং ইসলামপন্থিদের দূরে সরিয়ে রাখার জন্য তারা তাকে (শেখ হাসিনা) সমর্থন দেয়ার পথ বেছে নেয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকার কারণে ভারতের সঙ্গে হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সবসময়ই চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের সমীকরণ সবার জানা। কিন্তু তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধন তৈরি করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। বাংলাদেশি কথিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এবং ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য বা প্রতিবাদ প্রকাশ্যে জানাননি হাসিনা। যখন আসামে নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) আপডেট করা হলো এবং বলা হলো অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে- তখনও তিনি ভারত সরকারের ওপর আস্থা রাখাকেই বেছে নেন। বাংলাদেশের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিশ্চিত করেন যে, এনআরসি তাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। এতে বাংলাদেশ বা ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।
২০০৯ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। তারপর তিনি উলফার যেসব নেতা বাংলাদেশে ছিলেন তাদের ভারতের হাতে তুলে দেন। এর মধ্যদিয়ে ভারতের নিরাপত্তার প্রতি তার সংবেদনশীলতার কারণে ভারতের সরকার এবং বিরোধীদের কাছে যথেষ্ট প্রশংসা পান তিনি।
কূটনৈতিকভাবে শেখ হাসিনার ‘রাজনৈতিক মৃত্যু’ হলো ভারতে মোদি সরকারের জন্য একটি বড় আঘাত। ক্ষমতায় থাকা গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার পেছনে পুরোটা সময়, শক্তি এবং সম্পদ (রিসোর্সেস) ব্যয় করার পর এখন (বাংলাদেশে) অনুসরণ করার মতো কোনো নেতা নেই (ৎঁফফবৎষবংং)। নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন দায়িত্বে। এতে নয়াদিল্লি কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক মর্যাদা আছে ড. ইউনূসের। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে আছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি এরই মধ্যে যথার্থ বার্তা দিয়েছেন। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষিত রাখা ও আইনশৃঙ্খলা ফেরানোর নিশ্চয়তা দিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের আতঙ্কিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছেন। পরিস্থিতি এখনো ঘোলাটে থাকায় ড. ইউনূস এসব কাজ করতে সক্ষম হবেন কিনা তা নিয়ে নয়াদিল্লি এখনো নার্ভাস।
ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মধ্যে কখনোই সম্পর্ক বন্ধুর ছিল না। এর প্রেক্ষাপট স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। গত কয়েকটি বছর গণতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকার পশ্চাৎপদ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর জানুয়ারিতে বিতর্কিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের দাবি করা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে সমর্থন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ নিয়ে বিপরীত অবস্থানে থাকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। নয়াদিল্লি শেখ হাসিনার জন্য লড়াই অব্যাহত রাখে। তবে এই বিরোধ ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ক্ষতি করতে পারেনি। নির্বাচনের পর হাসিনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়াদিল্লির অনুরোধে তারা সুর নরম করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে এত উদ্বিগ্ন নয় ভারত, কিন্তু যখনই হোক নির্বাচনের ফলের দিকে দৃষ্টি রাখবে ভারত। অনীল ওয়াধা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি ও তার মিত্রদেরকে ভারত দেখে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের প্রভাবের অধীনে, যারা ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে এখন একটি ভয়ঙ্কর কূটনেতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি নয়াদিল্লি। সম্পর্কটি নিকট ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। উপরন্তু জামায়াতে ইসলামী অব্যাহতভাবে ভারতের জন্য উদ্বেগের। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে অদম্য সমর্থন দেয় ভারত। এতে যে তিক্ততা ও ক্ষোভ রয়েছে তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত খুব সহজ হবে না। এ অঞ্চলের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন সাবেক কূটনীতিক রাজীব ভাটিয়া। তিনি বলেন, এটা করতে হবে ধীরে ধীরে স্টেপ বাই স্টেপ। পার্লামেন্টে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে ঢাকায় অসন্তোষ আছে। প্রকৃতপক্ষে জয়শঙ্কর তার বক্তব্যে পুলিশের হাতে নিহত বিপুল সংখ্যক প্রতিবাদকারীর কথা উল্লেখ করেননি। ফলে শেখ হাসিনার কূটনৈতিক মৃত্যু মোদি সরকারের জন্য বড় আঘাত।
কিন্তু ড. ইউনূস তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উচ্চ পর্যায়ের ফোনকল করেছেন। তিনি মোদিকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তার সরকার বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে। এতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করতে প্রস্তুত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ১৭ই আগস্ট ভারতের আয়োজনে গ্লোবাল সাউথ সামিটেও যোগ দিয়েছেন ড. ইউনূস। ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভকালে নিহতদের একজনের পিতা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ফলে শেখ হাসিনাকে এখন ফেরত চাইতে পারে ঢাকা। যদি এমন হয়, তাহলে নতুন এক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে নয়াদিল্লি। এই অঞ্চলে ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজনকে যদি হস্তান্তর করা হয় তাহলে বাকি প্রতিবেশীদের কাছে একটি ভয়ানক বার্তা যাবে। তা হলো তারা ভারতকে একটি অবিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে চিহ্নিত করবে। এ প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। ফলে যত তাড়াতাড়ি শেখ হাসিনা বাইরে চলে যান এবং অন্য একটি দেশে আশ্রয় নেবেন ততই ভালো। অন্যদিকে অতীতের সম্পর্ক ভেঙে ঢাকায় ক্ষমতার সঙ্গে নতুন করে কাজ শুরু করা ভারতের জন্য এক চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে নয়াদিল্লি একটি বার্তা পাঠাবে। তা হবে, তারা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আছে। সরকারের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক হবে। হাসিনা আমলে যা ছিল, তা কাজে আসবে না। এটা হবে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক। সেটাই চূড়ান্তভাবে সম্পর্ককে নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে।
(আউটলুক ইন্ডিয়া থেকে সংক্ষেপিত)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্যারাসাইট ও গিরগিটি সংবাদ! by ডাঃ আলী জাহান
২. ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে যে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে, সেখান থেকে অটো পাশের মতো এমপি হয়েছেন এমন লোকজনকে বিলেতের মাটিতে তার দলীয় লোকজন সংবর্ধনা দেবেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম আমারই কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব বা জুনিয়র যারা এই নির্বাচনকে মেনে নিতে পারেনি, তারাই এই অবৈধ নির্বাচনের নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। কিছু দাওয়াত পত্র আমার মোবাইলেও চলে আসে। কপাল ভালো যে বিনা ভোটের এমপি এবং মেয়রদের যে সম্বর্ধনা বৃটেনে দেওয়া হয়েছে সেখানে আমার যাওয়ার হিম্মত হয়নি। যাওয়ার রুচি হয়নি।
৩. এখন আবার নতুন রোগের আবির্ভাব হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিংবা নতুন উপদেষ্টাদের সাথে কোনো এক সময় কারো হয়তো দেখা হয়েছে, ছবি তোলা হয়েছে। এখন সেই লোকগুলো প্রধান উপদেষ্টা বা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টা অথবা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে তোলা অতীতের ছবিগুলো ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কিছু মানুষ বলতে চায় ‘উনি কিন্তু আমার জানি দোস্ত ছিলেন’! আমি কিন্তু শুধুমাত্র কটাই মিয়া বা মজর আলী নই! পরিতাপের বিষয় হলো যে অনেক শিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত লোকজনকে এমন কর্ম করতে দেখেছি।
৪. উপরের ঘটনাগুলো দেখে আপনার কাছে মনে হবে কিছু মানুষ আসলেই পরজীবী বা প্যারাসাইট। তাদের নিজস্ব কিছু দেবার নেই। নিজস্ব কোনো অবলম্বন নেই। অন্যের খ্যাতি বা প্রতিষ্ঠাকে নিজের নামের বা ছবির সাথে জুড়ে দিয়ে একটু বাজার পাবার চেষ্টা করছেন। এই মানুষগুলো হচ্ছে পরজীবী বা প্যারাসাইট। সমস্যা হচ্ছে যে পরজীবী বা প্যারাসাইটকে আমরা বাগানে বাড়তে দিই না। কিন্তু মানুষ নামক এর পরজীবী গুলোকে বাড়তেই দিচ্ছি। মনে রাখবেন, এই পরজীবীগুলো এক সময় কিন্তু আসল গুলোকে খেয়ে ফেলবে!
৫. সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে (০৫.০৮.২৪) আরেক গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে। সে গোষ্ঠীকে বলা যেতে পারে গিরগিটি গুষ্টি। গিরগিটি হচ্ছে এমন সরীসৃপ প্রাণী যারা নিজেদের রং সহজেই পরিবর্তন করতে পারে। আমার দেখাশোনা অনেক কট্টর এবং অন্ধ প্রাক্তন সরকারের সমর্থক এখন রঙ বদলিয়েছেন। ফেসবুক থেকে আগের সব পোস্ট ডিলিট। এখন সুন্দর সুন্দর বাণী দিচ্ছেন। ‘এমন স্বাধীনতা তো আমাদের কাম্য ছিল না! আমি সব সময় রক্তপাতের বিরুদ্ধে! দেশের শান্তির পায়রারা ডানা মেলে উড়ুক।’ এমন সব হাবিজাবি কথা তাদের পোস্টে দেখবেন। নিজের পিতা মাতা এবং অভিভাবককে নিয়ে কোনো পোস্ট না দিলেও রাজনৈতিক পিতা-মাতা এবং অভিভাবকদের নিয়ে তারা নিয়মিত পোস্ট দিতেন। এই লোকগুলো এখন রঙ বদলিয়েছে। আগের অভিভাবকদের নিয়ে কোনো লেখালেখি না নেই। সবগুলো পোস্ট ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দিয়েছেন। এখন শুধু অপেক্ষায় আছে কোথাও সামান্য ভুল ত্রুটি বা ফাঁক ফোকর পাওয়া যায় কিনা। আমার এক বন্ধু এদের নাম দিয়েছে ‘আফসোস পার্টি’!
৬. খেয়াল করে দেখবেন গত ১৪ বছরে আপনার/আমার পরিচিত অনেক মানুষই দানবে পরিণত হয়েছে। এক সময় যে এদের চলে যেতে হবে, বা মরে যেতে হবে তা কখনো চিন্তা করেছেন কিনা সন্দেহ হয়। বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করেছে এরা। সেই হত্যাকারীদের কেউ কেউ এখন গিরগিটি হয়েছে। তাদের বন্ধুবান্ধবদের কেউ কেউ প্যারাসাইট হয়েছে। সময় হয়েছে এই গিরগিটি এবং পরজীবীদের সাথে সম্পর্ক ছেদ করার, এদের চিনে রাখার। আপনি না করলেও এই রাষ্ট্র কিন্তু তা করবে। গিরগিটি এবং পরজীবীদের বলি, আপনারা মানুষ হোন। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকুন। মনুষ্যত্ব নিয়ে বেঁচে থাকলে আপনাকে গিরগিটি বা পরজীবীদের মুখোশ নিতে হবে না। অভিশপ্ত জীবন নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে না। এখানেই থাকতে পারবেন। মানুষ হয়ে। গিরগিটি বা প্যারাসাইট হয়ে নয়।
লেখক-
কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট, যুক্তরাজ্য
প্রাক্তন পুলিশ সার্জন, যুক্তরাজ্য পুলিশ
alijahanbd@gmail.com
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এনটিএমসি যেভাবে নজরদারি করতো by কাজী সোহাগ
২০০৮ সালে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মোবাইল অপারেটরদের অর্থায়নে ডিজিএফআই ভবনে ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টার (এনএমসি) গঠিত হয়। পরে ২০১৩ সালের ৩১শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে এনএমসি পরিবর্তিত হয়ে ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)’ নামে নবরূপে আত্মপ্রকাশ করে। সংস্থাটি ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কার্যক্রম শুরু করে। ২০২২ সাল থেকে এনটিএমসি’র মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।
অভিযোগ রয়েছে- এনটিএমসি’র দায়িত্বে থাকাকালীন একের পর এক কল রেকর্ড ফাঁস করেন তিনি। রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য হুমকি এমন সব ব্যক্তির স্পর্শকাতর কল রেকর্ড তার নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে ছড়িয়ে দেয়া হতো। এসব কল রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে অনেক সুশীল সমাজের লোকজনকে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতো। ৭টি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এনটিএমসি গঠন করা হলেও মূলত সরকার বিরোধীদের দমনে সংস্থাটি কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় সরকারের নির্দেশক্রমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থাসমূহকে আইনানুগ ইন্টারসেপশন সুবিধা প্রদান এবং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে যোগাযোগ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা প্রদান। ৭ উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে- সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সকল প্রকার ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আইনানুগ ইন্টারসেপশন এর কাঠামো তৈরি করা, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সংস্থাসমূহকে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে প্রচলিত ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমগুলোতে মনিটরিং ও নজরদারি করার ব্যবস্থা করে দেয়া, যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত সংস্থাসমূহকে সরবরাহ করা হয়, ল’ফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেমের সচলতা ও কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৪/৭ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলায়মান রাখা, এনটিএমসি ও এনটিএমসি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের জনবলের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, যোগাযোগমাধ্যম ও তথ্য প্রযুক্তিগত বিষয়ে সার্বক্ষণিক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রাখা এবং এনটিএমসি’র সকল প্রযুক্তি যুগোপযোগী করার মাধ্যমে চলমান ও ভবিষ্যৎ টেকনোলজির সঙ্গে বাংলাদেশের ইন্টারসেপশন সিস্টেমের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধন করে ল’ফুল ইন্টারসেপশন কার্যক্রম গতিশীল রাখা।
বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের কাজের সঙ্গে খুব কমই সম্পৃক্ত ছিল। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এই সংস্থার কার্যক্রম সংবিধান পরিপন্থি। সংবিধানের ৪৩ (খ) অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের সকল মাধ্যমের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অথচ এই সংস্থাটি গঠন করা হয় বিতর্কিত বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের পরামর্শে। মূলত নাগরিকের যোগাযোগে আড়িপাতা এবং নজরদারিতে রাখার জন্য সেইসঙ্গে ফোন কল, ফোনালাপ রেকর্ড, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন অ্যাপে আড়িপাতা ছাড়া অন্য কোনো কাজই করেনি এই সংস্থাটি। মোবাইল অপারেটরদেরও বাধ্য করতো বিভিন্ন ধরনের মেসেজ গ্রাহকদের মাঝে প্রদান করতে। ফোনালাপ রেকর্ড এমনকি ভিডিও কলিং রেকর্ড করে অনেক সম্ভ্রান্ত নাগরিককে হেনস্তা করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, বিক্যাল মাউন্টেন ডাটা ইন্টার সেপ্টর এর মতো ভয়ানক যন্ত্র ব্যবহার করে আসছিল সংস্থাটি। এমনকি বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন বিতর্কিত ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এর কাছ থেকে পেগাসাস স্পাই ওয়ার কেনা হয়েছিল বলে দেশ ও বিদেশের স্বনামধন্য গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছিল। আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম এবং তদন্ত চেয়েছিলাম। যদিও ওই সময়ের সরকার এ বিষয়ে বক্তব্যে বলেছিলেন- এই ধরনের যন্ত্রপাতি ইসরাইলের কাছ থেকে কেনা হয়নি।
পেগাসাস স্পাইবার অ্যাপটি গ্রাহকের কাছে ম্যালওয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হতো সংস্থার পক্ষ থেকে। অনেক গ্রাহক না বুঝেই ইন্সটল করলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের ব্যবহৃত ডিভাইসটি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে চলে আসতো। এইভাবে নাগরিকদের সকল কার্যক্রমের তথ্য হাতিয়ে নিতো এই বিতর্কিত সংস্থাটি। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং সংবিধান পরিপন্থি। সেইসঙ্গে মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তাই দেশ জাতি এবং এবং সংবিধানকে সমুন্নত রেখে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা দেয়ার নিমিত্তে এ ধরনের সংস্থা বিলুপ্তি সময়ের দাবি এবং আবশ্যক। তাছাড়া এই সংস্থার অবৈধ যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। আমরা নাগরিকদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ও সুরক্ষার স্বার্থে এই সংস্থার বিলুপ্তি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি করছি। এদিকে এনটিএমসি’র ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- বিশ্বব্যাপী অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রিক অপরাধ সংঘটনের মাত্রা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এতে আরও বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ বলে এনটিএমসি’র অধীনে ৪৪ জন জনবল (২৩ জন কর্মকর্তা ও ২১ জন অন্যান্য পদবি) এর পদ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হতে জনবল সমন্বয় করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইবনে ফজল সায়েখুজ্জামান।
অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলা হয়, এনটিএমসি বিভিন্ন পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে ডিজিএফআই ভবনের সীমিত পরিসরে বিভিন্ন অবকাঠামোগত অসুবিধার সম্মুখীন হয়। যার ফলশ্রুতিতে জাতীয় নিরাপত্তায় এনটিএমসি’র ভূমিকার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ইং তারিখে নিজস্ব বিশেষায়িত ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়। এনটিএমসি’র অফিস বিল্ডিং এর জন্য তেজগাঁও বিমানবন্দরস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ত্রাণভাণ্ডার সংলগ্ন ০.৯৪ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রযুক্তির আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ ইন্টারনেট ভিত্তিক অপরাধ কার্যক্রম তদন্তে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয় । উক্ত সমস্যা বিবেচনা করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিসরে এনটিএমসি’র সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনার সংবিধান বাদ দিতে হবে
বিএনপি নেতাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, রাজনৈতিক দল কীভাবে নির্বাচনে আসবে, সেই গঠনতন্ত্র তৈরি হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের দাবি তোলা যাবে না। বিএনপিকে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারা এই জনগণের মধ্যেই আছে। দলকে সামনে আনা যাবে না। আগে রাষ্ট্র গোছাতে হবে। শত্রুকে মোকাবিলা করতে হবে।
ফরহাদ মজহার বলেন, বর্তমান সংবিধানের জন্য লড়াই হয়নি। সংবিধান উৎখাত করার জন্য লড়াই হয়েছে। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের মনের অভিপ্রায় লিখিত হওয়া পর্যন্ত সরকারকে সময় দিতে হবে। নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের পরপরই বিএনপি’র সমাবেশের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, এতে ভুল বার্তা গেছে। তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন চাইলেন, কেন করলেন? উদ্দেশ্যটা কী? বিএনপি কিন্তু পারেনি এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ঠেকাতে। তারা ছাত্রদের পেছনে ছিল। ছাত্ররা সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশও করে। কিন্তু লন্ডন থেকে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিলে তরুণদের ক্ষতি হবে। প্রয়োজনে তারেক রহমান চাইলে আমি লন্ডনে গিয়ে কথা বলবো। লন্ডনে কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, কোন আইনজীবীর কাছে যেতে হবে, প্রয়োজনে সে ব্যবস্থা করা হবে।
বিএনপি’র দলীয় বিভেদ বাইরে আসবে না- এমন আশা প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার বলেন, দলের মধ্যে বিরোধ করা যাবে না। বিএনপি’র দুটি ধারা। একটি ধারা এ সরকারের পক্ষে। আরেকটি ধারা এরা বিরক্ত করছে। নানা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিএনপিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, বিএনপিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ভারত জানে যে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে যেকোনো সময় খুনি হিসেবে বাংলাদেশ চাইতে পারে। তারা দিতে বাধ্য। ১৫ ও ২১শে আগস্ট একটা গণহত্যার পরিকল্পনা ছিল। এসব রুখে দেয়া গেছে। যেকোনো মুহূর্তে ভারত কিন্তু এখানে গণহত্যা করতে পারে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা যাবে না।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা, জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার করা, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখা, গণমুখী শিক্ষানীতি তৈরি ও দুর্নীতি দূর করতে দায়িত্ব নেয়ার কথাও বলেন। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবদুল লতিফ মাসুম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
August
(446)
-
▼
Aug 22
(10)
- নগদ এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বহাল থাকবে সব গ্রাহক সু...
- স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে ফেনী
- শেখ হাসিনাকে ডুবিয়েছেন চারজন: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে...
- চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যা: মুখ খুললেন আর জি করের এক না...
- ১৬ বছর কথা বলার সাহস করেননি, ১৬ দিনে সব সমস্যার সম...
- পিতা ও কন্যার পরিণতি by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
- শেখ হাসিনাকে নিয়ে বহুবিধ চ্যালেঞ্জে ভারত: আউটলুক ই...
- প্যারাসাইট ও গিরগিটি সংবাদ! by ডাঃ আলী জাহান
- এনটিএমসি যেভাবে নজরদারি করতো by কাজী সোহাগ
- শেখ হাসিনার সংবিধান বাদ দিতে হবে
-
▼
Aug 22
(10)
-
▼
August
(446)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...