Monday, April 23, 2018

পাতায়ায় সেক্স পার্টি

থাইল্যান্ডের পর্যটন স্পট পাতায়া। সেখানেই এক হোটেলে সেক্স পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে যোগ দিয়েছিল কিছু বৃটিশ, মার্কিন, অস্ট্রেলিয়ান, রাশিয়ান ও চায়না যুবক। তাদের মনোরঞ্জনের জন্য ডেকে নেয়া হয়েছিল থাইল্যান্ডের সুন্দরী যুবতীদের। পাতায়ার টিউলিপ হোটেলে ওই পার্টির আয়োজন করা হয়। আর দলে ছিল মোট ১৮ জন যুবক। তারা ভিতরে প্রবেশের জন্য প্রতিজন ১৫০০ থাই বাথ দিয়েছে। এক সঙ্গে এত অর্থ পেয়ে হোটেল মালিকও মহাখুশি। কিন্তু বাধ সাধলো ওই বেরসিক থাই পুলিশ। তারা ওই হোটেল ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন কক্ষে বিবস্ত্র অবস্থায় আপত্তিকর দৃশ্যে মগ্ন থাকা যুগলদের দেখতে পায় তারা। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, মধ্য বয়সী বৃটিশ ওইসব যুবক জড়িয়ে আছেন থাই যুবতীদের। থাইল্যান্ডের পাতায়াকে বিশ্বের ‘সেক্স ক্যাপিটাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সেখানে রাতের চেহারা দিনের চেয়ে অনেক আলাদা। যেহেতু বিদেশীরা, ধনবানরা সেখানে যান বেড়াতে তাদেরকে টার্গেট করে দেহপসারিণীরা। চারদিকে তখন উচ্চস্বরে বাজতে থাকে হাইবিটের গান। সামান্য বসনে থাকা যুবতীরা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কেউবা হাত ধরে টেনে নিয়ে যান ভিতরে। কোনো কোনো বারের ভিতরের রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। অর্থ দিলেই সেখানে চলে শরীর নিয়ে খেলা। এমনই এক দেহলীলা জমে উঠেছিল টিউলিপ হোটেলে। পুলিশ হঠাৎ করে যখন তাতে অভিযান চালায় তখন মধ্যবয়সী বৃটিশ যুবকদের দেখতে পায় ঘর্মাক্ত অবস্থায়। তারা বিবস্ত্র। পুলিশ দেখে সঙ্গে সঙ্গে হাতের কাছে যা পেয়েছে তা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢাকার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাতে। পুলিশের অভিযোগ এমন সেক্স পার্টি অবৈধ। এ জন্য স্থানীয় সময় সাড়ে এগারটার দিকে তারা সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়। ওই হোটেলটির মালিক একজন চীনা। তাকে অবৈধভাবে হোটেলে দেহ ব্যবসা চালানোর কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওদিকে পাতায়ার বাঙলামাঙ এলাকার ডিস্ট্রিক্ট শেরিফ নারিস নিওয়াপানটাওয়াং বলেছেন, যেসব পুরুষ ওই পার্টি আয়োজন করেছিল তারা একই নারী সঙ্গীকে একজনের সঙ্গে আরেকজন বিনিময় করেছে। অর্থাৎ একই নারী একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। টিউলিপ হোটেল সম্পর্কে আগে থেকেই তাদের কাছে তথ্য ছিল। নারিস নিওয়াপানটাওয়াং বলেন, সপ্তাহান্তে ওই হোটেলে যে সেক্স পার্টি আয়োজন হচ্ছে আমাদের কাছে আগে থেকেই এ খবর ছিল। তাই যখন ওইসব যুবক ও যুবতী উত্তেজনাকর মুহূর্তে ছিল ঠিক তখনই আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করি। উল্লেখ্য, পাতায়ার নং প্রু জেলায় অবস্থিত টিউলিপ হোটেল। এটি একটি চারতলা বিশিষ্ট ভবন। এতে আছে মোট ৩০ টি রুম। একে ভাগ করা হয়েছে বিভিন্ন জোনে। একটি ফ্লোরের নাম দেয়া হয়েছে ‘প্লে জোন’। পুলিশ বলেছে, ওই অভিযানে যাদেরকে ধরা হয়েছে তারা সবাই অবস্থান করছিলো ‘প্লে জোনে’। সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেছে কনডম, লুব্রিকেন্ট ও সেক্স টয়। ওই হোটেলের মালিক শেং লিয়াও ইয়াং (৫৩)। লাইসেন্স ছাড়াই তিনি দেহ ব্যবসার বাণিজ্য খুলে বসেছেন এমন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষণ্নতা, বদলে যাচ্ছে মানুষের চরিত্র by পিয়াস সরকার

বিষণ্নতায় ভুগছে মানুষ। হঠাৎ বদলে যাচ্ছে মানুষের চরিত্র। কখনো কোনো কারণে মনে আঘাত পেয়ে, কখনো নিজের মনমতো কাজ করতে না পেরে। আবার কেউ বেকারত্বের বোঝায় বিষণ্নতায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বিষণ্নতাকে রোগ বললেও দেশের বেশিরভাগ বিষণ্নতায় ভোগা মানুষ ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছেন না। ফলে দিন দিন বিষণ্নতা রূপ নেয় মানসিক সমস্যায়, যা থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়ে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন আবিব আহসান। পরশু এসেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে। তিনি বলেন, আমার এক কলেজ সহপাঠীর সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ তার বিয়ে হওয়ার পর থেকে মানসিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ি। পড়ালেখায় মন বসে না, সবার সঙ্গে মনের অজান্তে খারাপ ব্যবহার করছি। ঘুমের সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
আরেক রোগী স্বস্ত্রীক এসেছেন ডাক্তার দেখাতে। বলেন, মানসিক সমস্যা নিয়ে এসেছি এটা মানুষ জানাজানি হলে খারাপ মন্তব্যের শিকার হতে পারি। তার স্ত্রী বলেন, সে বিয়ের আগ থেকেই ভালো একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত। বিয়ের সময় বেশ মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ করেছিল। মাথায় ঋণের বোঝা আবার বিয়ের তিন মাসের মাথায় চাকরি হারান। এটা মেনে নিতে পারেনি। এমনকি পরিবারকে জানায় নি। দেখতাম হঠাৎ হাসি খুশি মানুষটা একরোখা ও বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। একমাস পরে বিষয়টা আমরা জানলাম, খুব স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলাম। মন খারাপ হবার কারণে কক্সবাজার ঘুরতেও গিয়েছিলাম। কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি হয় না। কিছুদিন পর ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে আগের থেকেও অধিক বেতনে চাকরি হলেও মনের অবস্থার পরিবর্তন হয় না তার। তাই ডাক্তারের কাছে এলাম পরামর্শের জন্য।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাইকোথেরাপি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, মানসিক রোগ মানেই লজ্জার কোনো কারণ নয়। মানসিক রোগ শারীরিক রোগের মতোই অসুস্থতা। সব মানসিক রোগেরই বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা সম্ভব। বর্তমানে অনেক উন্নত ও কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর সুষ্ঠু ব্যবহারে রোগও পুরোপুরি সেরে যাচ্ছে। রোগীরা কর্মক্ষম থাকতে পারছে। কোনো কোনো রোগীকে দীর্ঘদিন ওষুধ খেতে হয়, যেমনটি খেতে হয় অনেক শারীরিক রোগীদেরও, যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ইত্যাদি রোগে প্রায় সারা জীবনই ওষুধ গ্রহণ করে যেতে হয়। আবার বেশিরভাগ মানসিক রোগীকেই দীর্ঘদিন ওষুধ খেতে হয় না। মানসিক চিকিৎসাসেবার মান এমনিভাবে নানা আঙ্গিক থেকে সফলতার দিকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মনোচিকিৎসার পদ্ধতিগুলোও অনেক উন্নততর হয়েছে। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের মনোবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রবিন বলেন, সমাজে অন্য রোগকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হলেও মনের রোগ হলে ভাবা হয় পাগল। এই ‘পাগল’ শব্দটা না শুনতে চাওয়ার কারণেই ডাক্তার বিমুখী তারা। তবে, এখন ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা বাড়ছে। আরো সুখবর হচ্ছে খুব অল্প কারণেও আসছে আমাদের কাছে। তবে, সংখ্যায় বৃদ্ধি ঘটলেও মোট জনসংখ্যার তুলনায় তা খুবই কম।
২০০৬ সালের এক জরিপে দেখা যায় ১৬.১ শতাংশ পূর্ণবয়স্ক মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত। ২০০৯ সালের শিশু-কিশোরদের মাঝে করা এক জরিপে উঠে আসে ১৮.৪ শতাংশের কোনো না কোনো মানসিক সমস্যা আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০১৬ সালের প্রকাশিত হেলথ বুলেটিনে প্রকাশ করে ২০১৫ সালে বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন ৪২ হাজার ৭০৩ জন যা ২০১৪ সালের তুলনায় ৭ হাজার ৬৮৯ জন বেশি। ২০১৩ সালে যার সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৯৭৬ জন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে প্রতিদিন ১০ টাকায় টিকিট কেটে রোগীরা সুযোগ পাচ্ছেন ডাক্তার দেখাবার। হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী আসেন এখানে। তেমন কোনো চাপ নেই আবার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রয়েছেন চার জন চিকিৎসক। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এর সহকারী অধ্যাপক আবদুল ওহাব বলেন, বেশিরভাগ রোগী আসেন সাধারণত বিষণ্নতা নিয়ে। আগের কোনো ঘটনার ফলে মানসিক আঘাতের কারণে মূলত বিষণ্নতার সূত্রপাত ঘটে। সাধারণত সমস্যা খুব সাধারণ হলেও অন্যের সঙ্গে শেয়ার না করতে পারা এবং অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আবার মানসিক চাপে অনেকে হয়ে পড়ছেন মাদকাসক্ত।
বিষণ্নতার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা চলে আসতে পারে রোগীদের মাঝে। কর্মহীনতা এর সবথেকে ক্ষতির কারণ। একজন মানুষের মন খারাপ থাকার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম যদি ব্যাহত হয় সেটিই আসলে বিষণ্নতা। মন খারাপ, খাবারে অরুচি এবং কর্মহীনতা যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে তবে সেটিই বিষণ্নতা। কোনো একদিন আপনার মন খারাপ থাকলে তাকে বিষণ্নতা বলা যাবে না। কোনো কারণে দু’একদিন মন খারাপ থাকতেই পারে। বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শামসুল আহসান মাকসুদ। ঢাকাজুড়ে বিষণ্নতা বাড়ছে কেন? এই প্রশ্নের জবাবে নিউ মুক্তি ক্লিনিক কল্যাণপুরের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শামসুন নাহার বলেন, ঢাকার অধিক জনসংখ্যা, কর্মহীনতা, অবকাশ যাপনের স্থান সংকট, মাদকাসক্ত, অনৈতিক সম্পর্ক, বন্ধুহীনতা, পূর্বের কোনো ঘটনা ভুলতে না পারা ইত্যাদির জন্য বাড়ছে বিষণ্নতা। তবে, বিষণ্নতা মুক্তির জন্য ডাক্তারের পরামর্শ, কাউন্সিলিংয়ে মুক্তি মিলতে পারে এই সমস্যার।

রনিকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ! পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রাশেদ

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। কিন্তু রনির হুমকিতে প্রাণভয়ে সপরিবারে পালিয়ে   বেড়াচ্ছেন মামলার বাদী ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক মো. রাশেদ মিয়া।
বৃহস্পতিবার রাতে রাশেদ মিয়ার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। এর আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত ফি ফেরতের জন্য চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহিদ খানকে বেদম মারধর করেন নুরুল আজিম রনি। মারধরের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এ ঘটনায় নগরীর চকবাজার থানায় চাঁদাবাজি ও প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা  করেন অধ্যক্ষ ড. জাহিদ খান। এই দুই মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য চকবাজার থানা পুলিশ এবং পাঁচলাইশ থানা পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে নুরুল আজিম রনিকে। পুলিশের ভাষ্য, কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না রনিকে।
কিন্তু ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়া বলছেন, মামলার পর রনি তাঁকে খুঁজতে সদলবলে তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে না পেয়ে কোচিং সেন্টারে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেছে। সেখানে না পেয়ে তারা হুমকি দিয়ে আসে। এরপর বিভিন্ন অপরিচিত নাম্বার থেকে তাঁকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন।
রাশেদ মিয়া এ প্রসঙ্গে দৈনিক মানবজমিনকে মুঠোফোনে বলেন, আগেই আঁচ করেছিলাম যে, মামলা হলে রনি ও তার সহযোগীরা আমাকে প্রাণে হত্যার চেষ্টা চালাবে। তাই সপরিবারে আমি বাসা ছেড়ে আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি।
তিনি বলেন, নুরুল আজিম রনি সদলবলে বুক ফুলিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর দাপিয়ে বেড়ালেও পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না তাকে। আমাকে খুঁজতে রনি বাসা ও কোচিং সেন্টারে যাওয়া এবং মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে আমি পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছি।
জিডিতে রনি ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত-আটজন জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেছি। এ ছাড়া রনি সদলবলে দাপিয়ে বেড়ানোর বিষয় নিয়ে পুলিশকে বারবার ইনফরমেশন দেয়া সত্ত্বেও পুলিশ রনি ও তার সহযোগীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পুলিশের এই ভূমিকাকে রহস্যজনক উল্লেখ করে রাশেদ মিয়া বলেন, মারধর খেয়ে প্রাণে তো কোনোরকমে বেঁচে আছি। এবার মামলা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রাণ হারানোর শঙ্কায় আমি চরম উৎকণ্ঠায় মানবেতর দিন যাপন করছি।
একই কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহিদ খানও। তিনি বলেন, আমাকে মারধর ও চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করা হলেও চকবাজার থানার পুলিশ নুরুল আজিম রনিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। রনিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ নাকি অভিযানও চালিয়েছে। অথচ আমাকে মারধরের ঘটনার ১৬ দিন পর কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে মারধর ও চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটিয়েছে রনি।
এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা বলেন, মামলা দায়েরের পর রনিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ একাধিক অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি। একই ভাষ্য পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদের। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে নুরুল আজিম রনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। রাশেদ মিয়াকে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে রাশেদ মিয়া একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যা আমরা তদন্ত করে দেখছি।

মাদকের মরণছোবল: মাদকসেবী শিশু-কিশোর ৪ লাখ by রুদ্র মিজান

ঢাকার পথে-ফুটপাথে, পরিত্যক্ত স্থানে নেশা করে শিশু-কিশোররা। মূলত ড্যান্ডি নেশা। এটা পুরনো কথা। সাম্প্রতিক অবস্থা আরো ভয়াবহ। যোগ হয়েছে মরণ নেশা ইয়াবা। চার লাখেরও বেশি শিশু মাদকাসক্ত। শিশুদের বিপথগামী করতে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী চক্র। টার্গেট শিশুদের মাদকাসক্ত করে এই মাদক বাণিজ্যে জড়ানো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। প্রথমে মাদকাসক্ত করা হচ্ছে কৌশলে। তারপর মাদকাসক্ত শিশু-কিশোররা ছাড়ছে পরিবার। মা-বাবা ছেড়ে তারা পা দিচ্ছে অন্ধকার জগতে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মা-বাবাহীন এতিম-পথশিশুদের জড়ানো হচ্ছে বাণিজ্যে। মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা থেকে শিশু উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হচ্ছে শিশু মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে মাদকাসক্ত চার লাখেরও বেশি শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ পথশিশু। তারা মূলত ড্যান্ডির নেশা করে। এছাড়াও সম্প্রতি ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে শিশু-কিশোরদের একটা অংশ।
যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, তেজগাঁও, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর এলাকায় শিশু-কিশোরদের প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ী চক্র তাদের সুবিধার্থে এই শিশুদের মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করছে। মিরপুর-১১ এর এডিসি ক্যাম্প এলাকায় সিটি করপোরেশনের একটি নির্মাণাধীন মার্কেটের সামনে বেশিরভাগ সময় কয়েক শিশুকে অবস্থান করতে দেখা যায়। দিনভর তারা ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। এরমধ্যেই বিভিন্ন বয়সের ব্যক্তিরা তাদের সঙ্গে কথা বলেন। মানিব্যাগ বের করে টাকা দেন। শিশুরা এগিয়ে দেয় পলিথিনের ভাঁজ করা ব্যাগ। তারপর দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে মাদক ক্রেতারা। ওই শিশুদের একজনের নাম শান্ত। ১৫ বছর বয়সের ওই কিশোরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই এলাকায় থাকে। তাকে আশ্রয় দিয়েছে বাবর নামে এক ব্যক্তি। বাবর তাকে তিনবেলা খেতে দেয়, থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। লেখাপড়া করে না শান্ত। তার ভাষায়, লেখাপড়া করি না। কোনো কাজও করি না। খাই আর ঘুমাই।
তার মা-বাবা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো জবাব না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। জানা গেছে, মিরপুর-১২ এলাকার বাসিন্দা এক দরিদ্র দম্পতির সন্তান শান্ত। আশেপাশের ছেলেদের সঙ্গে খেলা করতে গিয়েই ড্যান্ডিতে আসক্ত হয়। তার প্রতি নজর পড়ে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, একাধিক মামলার আসামি ফারদিন বাবরের। বাবর তাকে ফ্রি ইয়াবা সেবন করতে দেয়। এভাবেই আসক্ত করে তাকে। ১০টি ইয়াবা বিক্রি করে একটি ফ্রি এমন চুক্তিতে তাকে দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করানোও শুরু করে বাবর। শান্তর মতোই ১৬ বছর বয়সী রুবেলসহ অর্ধশত শিশুকে দিয়ে ওই এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে চক্র। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলেও বাবর থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
মাদক বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে গত ৩১শে মার্চ রাতে নির্মাণাধীন ছয়তলা মার্কেটে হত্যা করা হয় রুবেল মিয়া নামে আরেক কিশোরকে। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে পরিত্যক্ত এই ছয়তলা ভবনের ভেতরে চারটি খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছে, নওশাদ ওরফে কানা নওশা, সোহেল, শিমুল ও সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে রুবেল মিয়া।
পল্লবী এলাকায় শিশু-কিশোরদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে সেলিনা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিজের বাসায় রেখে খুচরা মাদক বিক্রি করায় এই নারী। প্রায় সময়ই ১০-১২ শিশু-কিশোরকে দেখা যায় তার বাসায়। তাদের মধ্যে একজন ১৪ বছর বয়সী আল আমিন। গত ৮ই মার্চ সেলিনার বাসা থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আল আমিনের মা রানু আক্তার জানান, তার ছেলেকে মাদকাসক্ত করে নিজের বাসায় রাখতো সেলিনা। বাসায় রেখে তাকে দিয়ে মাদক বিক্রি করাতো। কোনোভাবেই ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পারছিলেন না তিনি। গত ২রা মার্চ ছেলেকে আনতে গেলে এ নিয়ে রানু আক্তারকে হুমকি-ধমকি দেয় সেলিনা। পরদিন পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন রানু। ৮ই মার্চ রাত ১২টায় অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে বর্তমানে একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে সেলিনা দাবি করেছে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিজের কাছে রেখে লালনপালন করে সে।
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, তরুণদের পাশাপাশি পলিথিনে করে ক্রেতাদের কাছে মরণনেশা ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে শিশু-কিশোররা। ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন বাচ্চুর পরিবারের ছোট-বড় সবাই মাদক ব্যবসায় জড়িত। তার ভাতিজি কিশোলয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর কাছ থেকে অর্ধশত ইয়াবা উদ্ধার করার ঘটনা ঘটেছে। মূলত ক্রেতার কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেয়ার জন্য মাদক ব্যবসায় শিশুদের ব্যবহার করা হয়। ওই এলাকায় মাদক বিক্রিতে জড়িত রয়েছে এরকম অর্ধশত শিশু-কিশোর। তেজগাঁও রেললাইন এলাকায় ডালায় সাজিয়ে গাঁজা, ইয়াবা বিক্রি করছে নারীরা। পাশাপাশি ফোনে যোগাযোগ করে যারা মাদক ক্রয় করতে যান তাদের কথানুসারে যথাস্থানে পৌঁছে দেয় শিশুরা। আনু, রহিমা, বাবুল, রফিক, ইদ্রিসসহ অনেক শিশুকে মরণনেশা বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (দক্ষিণ) মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে দেশে চার লাখেরও বেশি শিশু-কিশোর মাদকাসক্ত। তাদের একটি বড় অংশ মাদক বিক্রি-পরিবহনে জড়িত। বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য শিশুদের ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। মূলত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিপথগামী করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভারতে শিশু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

ভারতে শিশু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। শনিবার এ শাস্তির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিল পাস করার পর প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোভিন্দ এই অর্ডিন্যান্সে স্বাক্ষর করেছেনরোববার। এ শাস্তি গতকাল থেকেই কার্যকর হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়েছে, যদি ১২ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো শিশুকে কেউ ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয় তাহলে এ অর্ডিন্যান্সের অধীনে তাকে দেয়া হবে মৃত্যুদণ্ড। এ বিধান কার্যকর হবে রোববার থেকেই। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে এই অর্ডিন্যান্স পাস হয়। যদি ১৬ বছরের নিচে কোনো বালিকাকে ধর্ষণের জন্য কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে তার সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। যা বর্ধিত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত করা যাবে। ১২ বছর বয়সের নিচের কোনো বালিকাকে ধর্ষণে অভিযুক্ত হলে ধর্ষকের সর্বনিম্ন জেল ২০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি ধর্ষণ মামলা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তার পরেই এমন অর্ডিন্যান্স জারি হলো ভারতে। এর আগে যৌন সহিংসতা থেকে শিশুকে সুরক্ষা বিষয়ক আইনের অধীনে একজন ধর্ষক বা যৌন নিপীড়নকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর সর্বনিম্ন শাস্তি ছিল ৭ বছরের জেল। এসব আইন পরিবর্তনের কথা শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টকে অবহিত করে ভারত সরকার। তারা জানায়, ধর্ষণ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। তাতে ধর্ষকের জন্য মৃত্যুদণ্ড রাখা হচ্ছে। ওদিকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে নির্ভয়া ধর্ষণ ঘটনার পর ধর্ষণ সংক্রান্ত ফৌজদারি আইনকে সংশোধন করা হয়। জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়াকাণ্ডের পরই ধর্ষণের শাস্তির ক্ষেত্রে আইনের বদল আনার জন্য গত সপ্তাহেই প্রস্তাব রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী মানেকা গান্ধী। এ দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে শিশু ধর্ষণের চূড়ান্ত শাস্তি কী হতে পারে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। শেষমেশ, মৃত্যুদণ্ডতেই সিলমোহর দিয়ে দেয় মন্ত্রিসভা। অর্ডিন্যান্সটি গতকাল প্রেসিডেন্ট অনুমোদন করেছেন।

অদ্ভুত উটের পিঠে ঢাবি প্রশাসন by সাজেদুল হক

ইতিহাসের সব পিঠই দেখা আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তবে অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে রীতিমতো বিস্ময় তৈরি হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে প্রতিদিনই কোনো না কোনো নাটকীয়তার জন্ম দিচ্ছে প্রশাসন। কেউ কেউ বলছেন, এতো রীতিমতো তামাশা। আর এতে ফ্রন্টলাইনেই রয়েছেন ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। সর্বশেষ নাটকীয়তা কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে তিন ছাত্রীকে বের করে দেয়াকে ঘিরে। স্থানীয় অভিভাবক ডেকে মধ্যরাতে তাদের হল থেকে বিতাড়ন করা হয়। আরেকজন ছাত্রীর অভিভাবককে ডাকলেও তাকে অবশ্য শেষ পর্যন্ত হল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের ভাষায় ওই অভিভাবক খুবই সাধারণ পরিবারের মানুষ। এ কারণেই কিনা ওই মেয়েকে হয়তো বের করে দেয়া হয়নি। যে অনুগ্রহের ভাষায় এক পিতাকে নিয়ে কথা বলা হয়েছে তা অনেক মানুষকেই কষ্ট দিয়েছে, লজ্জিত করেছে। তিন শিক্ষার্থীকে রাতের আঁধারে হল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় চারদিকে যখন তোলপাড় তৈরি হয় তখন তাদের আবার হলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের কাউন্সেলিং এতো দ্রুত কীভাবে শেষ হলো তা অবশ্য অনেক পর্যবেক্ষকই বুঝতে অক্ষম। যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সাবিতা রেজোয়ানা হয়তো সেটা পরিষ্কার করে বলতে পারবেন।
কবি সুফিয়া কামাল হলের এপিসোডে সকাল-বিকাল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এরআগে ছাত্রলীগের হল নেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে ঘিরে এর ভালোই মহড়া দেখা গেছে। সেটাও মধ্যরাতের ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন তখন তুঙ্গে। ক্যালেন্ডারে তারিখ ১০ই এপ্রিল। আন্দোলনে যোগ দেয়ায় এশার নির্যাতনের শিকার হন কয়েক ছাত্রী। রক্তের দাগ দেখা যায়। রগ কাটার গুজব রটে। নির্যাতন অবশ্য মিথ্যা নয়। এ ঘটনায় চরম প্রতিক্রিয়া দেখান হলের ছাত্রীরা। এশাকে লাঞ্ছিত করেন তারা। যা সাধারণ ভব্যতার সীমা ছাড়িয়েছে। রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এশাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। কোনোরকম তদন্ত ছাড়া গভীর রাতে তাকে কীভাবে বহিষ্কার করা হলো তা পরিষ্কার নয়। ছাত্রলীগও তাকে বহিষ্কার করে। দৃশ্যপট বদলাতে অবশ্য সময় লাগেনি। দ্রুতই ফুলের মালা পান এশা। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ছাত্রলীগ। উল্টো তাকে হেনস্তার কারণে ২৬ কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রলীগ যে পথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উল্টো পথে হাঁটবে তা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ও এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। তাকে সম্মান দেয়ার কথাও জানায়। এখন তিন ছাত্রীকে কয়েক ঘণ্টার বিতাড়নের বাইরে ২৬ ছাত্রীকে শোকজের কথা শোনা যায়। কিন্তু কাদের শোকজ করা হয়েছে তা জানা যায় না। সব যেন অন্ধকার। আলোতে যেন ভয়। তুঘলকি সব সিদ্ধান্ত।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ফেসবুকে লিখেছেন, নামতে নামতে কোথায় যে নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্রেণির শিক্ষক! ভাঙতে ভাঙতে কি যে মেরুদণ্ডহীন হয়ে গেছে বাকি অনেক শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দু’হাজার শিক্ষকের মধ্যে কতজনকে প্রতিবাদ করতে দেখেছেন কোটাসংস্কার আন্দোলনের ওপর পুলিশ, ঢা. বি. প্রশাসন আর ছাত্রলীগের নানামুখী আক্রমণের? অথচ আমরা নাকি ‘জাতির বিবেক’!
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষক অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন অবশ্য বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন একটু অন্যভাবে। ফেসবুকেই তিনি লিখেছেন, আমি ভাবছিলাম ভিন্ন কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করছে হল প্রশাসন। কী সাংঘাতিক কথা রে বাবা! খুব ছোটবেলায় একটা বাক্সে চিঠি-কাগজ-পয়সা-ঝিনুক-কড়ি আরো কত কী জমা রাখতাম! সেই বাক্সে কেউ হাত দিয়েছে, এটা তো ভাবতেই পারতাম না! ব্যক্তিগত পরিসর বলে তো একটা জিনিস আছে! সেখানে ধরে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মোবাইল চেক! হল প্রশাসন তো দূরের কথা মা-বাবাও এমনটা করতে পারেন না। প্রেমিক-প্রেমিকাও না। হল প্রশাসন কতটা ক্ষমতার চর্চা করলে এমনভাবে ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘন করতে পারে! কারো পোস্ট ক্ষতিকর মনে হলে সেটার ব্যবস্থা নেয়ার আইনি পথ আছে। ব্যক্তিগতভাবে কারো মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার অধিকার হল প্রশাসনের থাকতে পারে কি? ভাবছিলাম, মেয়েরা যত বড়ই হোক, তাদের মোবাইল ফোন চেক করা, মা-বাবাকে ডেকে রাত-বিরাতে তাদের হাতে তুলে দেয়ার মতো কাজ আজও ঘটতে পারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্রেফ কৌতূহল থেকে ভাবছি, ছেলেদের হলে কোনো ছেলের মোবাইলও কি এভাবে পরীক্ষা করতে পারতো হল প্রশাসন! তারপর তাদের মা-বাবাকে ডেকে তাদের হাতে তুলে দিতে! আমার ধারণা, এমন কথা মাথাতেই আনা সম্ভব হতো না। মেয়েদের ব্যক্তিগত পরিসরে হানা দেয়ার সাহস যে কেউ যেকোনো জায়গায় করতে পারেন বোধহয়। সেই হানা দেয়ার কথা ফলাও করে বলাও যায়! শিক্ষার্থী হল কোনো কন্সেট্রেশন ক্যাম্প নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ধারণাটি মুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, বলপ্রয়োগের সঙ্গে নয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের পুরোটা সময় বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার শুরু ৮ই এপ্রিল দিনের মধ্যভাগে। রাতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ যখন দফায় দফায় ছাত্রদের ওপর টিয়ারশেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ওই সময় সংঘাত থামাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অনেকেই মনে করেন, সেসময় প্রশাসন যদি শক্ত পদক্ষেপ নিতো তবে পরিস্থিতি এড়ানো যেতো। রাতেই ভিসির বাসায় নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, সে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা ধরনের শেয়ার হোল্ডারদের উপস্থিতি ছিল। পরে পুরো আন্দোলনের সময়ই ক্ষণে ক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। কোটা বাতিলের ঘোষণার পরও বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আন্দোলনকারী ছাত্ররা যখন ছাত্রলীগের কাছ থেকে নানামুখী আক্রমণের শিকার তখনও তাদের রক্ষায় তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
প্রয়াত বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আবারো বলি, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানদায়িনী ‘মা’। এ বিশ্ববিদ্যালয় তার সন্তানদের প্রতি পক্ষপাতপূর্ণ আচরণ করতে পারে না। প্রতিটি সন্তান যেন সম্মানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস করতে পারে তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব।

গ্রেপ্তার: উপেক্ষিত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা by উৎপল রায়

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে। গ্রেপ্তার বিষয়ে সাম্প্রতিক বেশকিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের নির্দেশনা না মানার অভিযোগ উঠেছে। সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী, পুলিশের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ বা নির্দেশনা অবজ্ঞা করা আদালত অবমাননার শামিল। আর যারা আদালতের নির্দেশনা পালন করছেন না তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও ১৬৭ ধারায় রিমান্ড বিষয়ে ২০০৩ সালের এপ্রিলে হাইকোর্টের দেয়া রায় ২০১৬ সালের ২৪শে মে বহাল রাখে আপিল বিভাগ। পরে ওই বছরের ১০ই নভেম্বর এর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের জন্য সাত দফা সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আদালত বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে রায়ে উল্লেখ করেন, আইন সংশোধনের আগে এইসব  নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নির্দেশনার মধ্যে ছিল, আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না, কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে তার পরিচয়পত্র দেখাবে। এছাড়া গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকট আত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি জানাতে হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার পছন্দ অনুযায়ী আইনজীবী ও আত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে। অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা বার বারই অবজ্ঞা করা হচ্ছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী তিন নেতাকে সোমবার (১৬ই এপ্রিল)  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটক থেকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরে ওই তিন নেতা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তাদেরকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। যদিও ডিবি পুলিশ দাবি করে, ওই তিনজনকে চোখ বেঁধে তুলে নেয়া হয়নি। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।  জানা গেছে, এ ঘটনার পর কোটা সংস্কার আন্দোলকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক মানবজমিনকে বলেন, এসব ঘটনা এবং অন্যান্য অনেক ঘটনায় এটি স্পষ্ট যে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বা নির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমলে নেয় না বললেই চলে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে ডিবি পুলিশ যেভাবে ধরে নিয়ে গিয়েছিল এটাতো আইনের শাসন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো হয়েছে।
গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার আগে ও পরে রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ ওঠে গ্রেপ্তারের অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পালন করা হয়নি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালনের সময় বিভিন্ন সময়ে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম মিজানুর রহমান ও সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও তেজগাঁও ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে গত ৬ই মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তিনদিনের  রিমান্ড শেষে ১১ই মার্চ আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন (১২ই মার্চ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান জাকির হোসেন মিলন। পরে এই চার নেতার গ্রেপ্তারের বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তাদের গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২৯শে মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ২রা এপ্রিল রুল জারি করেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই চার নেতাকে জবরদস্তিমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। একই সঙ্গে ওই চার নেতাকে গ্রেপ্তারে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। রাজধানীর কাপ্তানবাজারে কিশোর রাকিব হাওলাদার (১৫)কে  ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ওয়ারী থানার ওসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত ১১ই এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে মামলা দায়ের করেন রাকিবের মা রীতা আক্তার। নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা এই মামলায় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। এ মামলার আসামিরা হলেন, ওয়ারী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম, এসআই জ্যোতি ও সোর্স মোশারফ। বাদী রীতা আক্তারের অভিযোগ গত ৪ঠা এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার ছেলে রাকিব হাওলাদারকে (১৫) কাপ্তানবাজার এলাকা থেকে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করে ওয়ারী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর রাকিবের সঙ্গে তাকে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ৬ই এপ্রিল সকাল ১১টায় বাদীর পিতাকে (রাকিবের নানা) থানা থেকে ফোন করে জানানো হয় তার নাতি (রাকিব) ক্রসফায়ারে মারা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। পরে রীতা আক্তার ঢামেকের মর্গে গিয়ে ছেলের লাশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে আর্জিতে অভিযোগ করেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক মানবজমিনকে বলেন, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে তা মানা উচিত। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পালন তো করতে হবে। যদি পালন করা না হয় সেটি তো অপরাধ হলো। যারা তা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে তাদের ডিপার্টমেন্ট ব্যবস্থা নেবে। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন মানবজমিনকে বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই পিছিয়ে যাচ্ছি। যেসব বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেছে সেই সব নির্দেশনা বার বার উপেক্ষিত হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে কিছু ঘটনার বর্ণনায় তা আমরা পাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন নিজেদেরকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভাবে তখনই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলো শুধু উদ্বেজনকই নয়, দুঃখজনক এবং ভয়াবহ। তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী তিন নেতার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। কিন্তু আদালতের নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খোঁজ নেয়া এবং দোষীদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নূর খান লিটন বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো সুশাসন, স্বচ্ছতা এগুলোকে অবজ্ঞা করে আমরা শুধু উন্নয়নের ঢেঁকুর তুলছি। আইনের শাসনকে যদি সমুন্নত রাখা না যায় তাহলে তা কারো জন্যই ভালো হবে না।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মো. নুরুল হুদা মানবজমিনকে বলেন, যেহেতু এসব বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, তাই এসব নির্দেশনা মানতে হবে। এক্ষেত্রে যদি আদালত অবমাননা হয় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ক্ষেত্র বিশেষে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া যায়। এ ধরনের উদ্যোগের অভাব কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, উদ্যোগ থাকা উচিত। মানুষের ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে। আর যেখানে ক্ষমতা আছে, সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারও থাকে। অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সেজন্য এ সমস্ত (বিভাগীয় ও ফৌজদারি  ব্যবস্থা) প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

জাপান অলিম্পিক গেমসে মেইড ইন বাংলাদেশ জার্সিতে চার হাজার কোটি টাকা আয়ের আশা by এমএম মাসুদ

২০২০ সালে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসে খেলোয়াড়দের পোশাক রপ্তানি করে ৪০০০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। নিট খাতের উদ্যোক্তারা জানান, এই আয়োজনে জাপানে প্রচুর ভিজিটর আসবে এবং একই সঙ্গে তাদের বিশাল পরিমাণ নিটওয়্যারের বেসিক পণ্যের (টি-শার্ট, পলো শার্ট, সুয়েটার ইত্যাদি) প্রয়োজন হবে। এজন্য এখন থেকেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের মতে, সম্প্রতি বিকেএমইএ‘র একটি প্রতিনিধি দল জাপান সফর করেছেন এবং একটি মেলায় অংশ নিয়েছেন। সফরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি মেলায় ২৫ মিলিয়ন ডলারের স্পট রপ্তানির অর্ডার পাওয়া গেছে। এ কারণে অলিম্পিক খেলাকে কেন্দ্র করে জাপানের বাজারে প্রায় ২৫ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিকেএমইএ সূত্র জানায়, জাপান প্রতি বছর সারাবিশ্ব থেকে ১২.৯ বিলিয়ন ডলারের নিটপণ্য আমদানি করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই ৪০০ মিলিয়ন ডলারের নিটওয়্যার পণ্য আমদানি করে দেশটি, যা মোট আমদানির ৩ শতাংশ। তাই এই বিশাল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে ৪০০ থেকে বেড়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানির আদেশ দাঁড়াবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। বিকেএমইএ মনে করে, সামার অলিম্পিক গেমসের অর্ডার আমরা শিগগিরই পেতে যাচ্ছি এবং অর্ডারের বিপরীতে রপ্তানি চলতি বছর থেকেই শুরু হবে। আর জাপানের সঙ্গে যে বাণিজ্যিক ঘাটতি রয়েছে সেটাও হ্রাস করতে সহায়তা করবে।
বিকেএমইএ সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জাপানে বাংলাদেশের নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি বেড়েই চলেছে। এছাড়া সেখানকার ক্রেতারাও চাইছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে। তিনি বলেন, সামনে জাপানে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেম অনুষ্ঠিত হবে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে সে দেশে টি-শার্ট ও পলো শার্টের চাহিদা বাড়বে। সে হিসাবে বাংলাদেশে রপ্তানি বাড়বে প্রায় ২০ শতাংশ; যা আমাদের দেশের জন্য বিশাল পাওয়া। সেই পরিমাণটা হবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে আমরা রপ্তানি করছি ৪০০ মিলিয়ন ডলার।
বিকেএমইএ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা গেছে, প্রতি বছর জাপানে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েই চলেছে। তবে দেশটিতে গত ছয় বছরের মধ্যে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে জাপানে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১৬ কোটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। যার প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছিল ৭৪ শতাংশ। আর গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৩৯ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যার প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থের পরিমাণে রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধি কমেছে। এছাড়া ২০১২-১৩ অর্থবছরে জাপানে নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৯ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার ডলার। যার প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২৫ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। যার প্রবৃদ্ধি ছিল ২৮ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জাপানে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৭ কোটি ৯ লাখ ৭৮ হাজার ডলার। যার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩৮ কোটি ৩ লাখ ৪ হাজার ডলার। যার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৭ শতাংশ। বছর বছর প্রবৃদ্ধি কমলেও এবার গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেম সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছে বিকেএমইএ। এবারের এই খেলায় ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানির আদেশ পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।
এদিকে গত ৪ই এপ্রিল জাপানের টোকিও’র ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও মেলায় বিকেএমইএ সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এমপি’র নেতৃত্বে ৮১ জনের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। মেলায় ৩০টি স্টল ছিল বিকেএমইএ‘র। বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতি নির্ভরতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জাপানের নিটওয়্যার বাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চীনের ক্যাপিট্যাল-ইনটেনসিভ শিল্পে অধিক মনোযোগ এবং জাপানের চীন পলিসি গ্রহণের কারণে জাপানের বিশাল নিটওয়্যার বাজারে বাংলাদেশের নিটপণ্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও জাপান ভিয়েতনামসহ ৯টি দেশের সঙ্গে সিপিটিপিপি স্বাক্ষরের কারণে ভিয়েতনামের তৈরি পোশাক জাপানের বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তবুও বাংলাদেশের নিট শিল্প খাতের ধারাবাহিক ক্রমবিকাশ, বিশাল ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প এবং পোশাকের গুণগতমানের কারণে ভিয়েতনামকে পিছনে ফেলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশ এক নম্বর নিটওয়্যার রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান তৈরি করে নিতে পারে বলে আশা করেন তিনি।
বিকেএমইএ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলভ চৌধুরী বলেন, গত ৬ই এপ্রিল জাপানের মিনিস্ট্রি অব ইকোনমি, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (মেটি) সঙ্গে বিকেএমইএ’র আলোচনা সভায় মেটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নিটওয়্যার পণ্যের জন্য বিদ্যমান ওয়ান স্টেজ জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার নিশ্চয়তা দেন, যা সিপিটিপিপি স্বাক্ষরের কারণে তৈরি হওয়া সংশয়কে (জাপানের বাজারে বাংলাদেশের নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানি কমে যাবে কি না) সম্পূর্ণভাবে দূরীভূত করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে জাপানের বাজারে প্রায় ২৫ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আর মেলায় অংশগ্রহণ করে ২৫ মিলিয়ন ডলার স্পট রপ্তানির অর্ডার পাওয়া গেছে, যা বেশ সম্ভাবনার। এছাড়া মেলা চলাকালে ‘নিটওয়্যার পণ্যের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। যেখানে জাপানের ১১৩ জন টেক্সটাইল বিষয়ক প্রতিনিধি অংশ নেন। সেখানে তারা সবাই জাপানের বাজারে বাংলাদেশের নিটওয়্যার পণ্যের বিপুল সম্ভাবনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই), টোকিও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (টিসিসিআই), জাপান টেক্সটাইলস ইমপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (জেটিআইএ) এবং জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর সঙ্গে বিকেএমইএ’র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং জাপানের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ সফর করবে এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিকেএমইএ’র জয়েন্ট ভেনচার ইভেন্টে বিনিয়োগের প্রস্তাবে তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এমনকি চলমান ফ্যাক্টরিতেও তারা বিনিয়োগে আগ্রহী।

বার কাউন্সিল সনদ জটে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা by রাশিম মোল্লা

মুন্সীগঞ্জের মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিসিএস, ব্যাংক কিংবা নন ক্যাডার কোনো পরীক্ষাতেই চেষ্টা করেননি তিনি। আইনজীবী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মোয়াজ্জেম ভর্তি হন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি আইন কলেজে। ২০১৫ সালে আইন পাস করেন। এরপর শুরু হয় বার কাউন্সিল সনদ অর্জনের লড়াই। সনদের জন্য জজ কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন। টানা তিন বছর ধরে আদালতের বারান্দায় যাওয়া-আসা করছেন। কিন্তু এখনো নামের আগে লিখতে পারেননি ‘অ্যাডভোকেট’ পদবি। এর কারণ, বার কাউন্সিল ২০১৫ সালে আইন পাস করা শিক্ষার্থীদের অ্যাডভোকেট সনদ প্রদান করতে পারেনি। গত বছরের ১৪ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল এখনো প্রকাশ করতে পারেনি। ফলে সনদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী। পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, সনদ পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন হাইকোর্টের বিচারপতিরা। প্রতিটি খাতা দু’বার করে মূল্যায়ন করতে হয়। এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক বেশি। তাই ফলাফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে। তাছাড়া, এনরোলম্যান্ট কমিটির সভাপতি ছিলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর এখনো সেই কমিটি পুনর্গঠিত হয়নি। বর্তমান কমিটির মেয়াদে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে পারবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়াদ শেষ হতে আরো সময় আছে। দ্রুত লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য জজ কোর্টের কিছু বিচারপতি খাতা মূল্যায়ন করেছেন । তারপরও দেরি হচ্ছে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ফল প্রকাশে এত সময় মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। তবে এক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। এর দায়িত্ব মূলত এনরোলমেন্ট কমিটি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের। তবে শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার কোনো নির্দিষ্ট তারিখের কথা জানা না গেলেও ১৪ই মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বার কাউন্সিলের নির্বাচন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইতিমধ্যে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্রও দাখিল করেছেন। সূত্র জানায়, বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষা তিন ধাপে হয়ে থাকে। প্রথম ধাপে একজন শিক্ষার্থীকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। প্রিলিমিনারিতে যারা পাস করেন তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। লিখিত পরীক্ষায় যারা পাস করবেন তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। এরপর আইনজীবী তালিকাভুক্তির চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২১শে জুলাই ৩৪৫০০ শিক্ষার্থী নৈর্ব্যক্তিক (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ১১ হাজার ৮৪৬ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হন। পরে ওই বছরের ১৪ই অক্টোবর তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু গত ৬ মাসেও প্রকাশ হয়নি লিখিত পরীক্ষার ফলাফল। আগামী ২ মাসেও ফলাফল প্রকাশ হবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে মোয়াজ্জেমের মতো হাজারো শিক্ষানবিশের দিন কাটছে চরম হতাশা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। বরিশালের জাকির হোসেন বলেন, ২০১২ সালে আইন পাস করে ঢাকা বারে প্র্যাকটিস করছি। গ্রামের লোকজন জানে আমি বড় উকিল। বেশ আয়-রোজগার করি। কখনো কখনো মা-বাবাও তাই মনে করেন। অথচ এই বৈশাখেও মা-বাবাকে একটি নতুন কাপড়ও দিতে পারিনি। এজন্য ছুটি থাকা সত্ত্বেও গ্রামে যাইসি। আরেক ভুক্তভোগী সাব্বির হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছর যে সংখ্যক আইনের ছাত্র পাস করছে সেই অনুপাতে আইনজীবী হওয়ার সংখ্যা একেবারেই কম। যার ফলে আইনে পাস করা শিক্ষার্থীদের বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। পেশা জীবনে প্রবেশ করতে না পেরে এখন জীবনের প্রতি হতাশা কাজ করছে। আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করবো বলেই অন্য কোনো চাকরিতেও চেষ্টা করিনি।’ শিক্ষানবিশ আইনজীবী ফারিয়া ইসলাম বলেন, ‘আইন পড়া শেষ করেছি ২০১৩ সালে, এখন চলে ২০১৮। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে ৬ মাসের বেশি। কিন্তু এখনো ফল প্রকাশ হয়নি। পরীক্ষায় পাস না করলে আবার প্রস্তুতি নিতে হবে। সেটাও হচ্ছে না।’ এদিকে অ্যাডভোকেট সনদপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতার জন্য বর্তমানে বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতিকেও দায়ী করছেন অনেক পরীক্ষার্থী। তাদের মতে অন্য পেশায় সনদের জন্য এত পরীক্ষার প্রয়োজন না হলে আইন পেশায় কেন তা হবে? তরুণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইবরাহিম আবীর ইবু বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে ৪ বছর আইন পড়ার পর সনদের জন্য এতগুলো পরীক্ষা দেয়ার কোনো মানে নেই। হয় নৈর্ব্যক্তিক না হয় সৃজনশীল লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা দূর করা সম্ভব। সিলেটের কামাল হোসেন গত বছর লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন। নবীন এই আইনজীবী বলেন, অন্য কোনো পেশার লোকজনকে আমাদের মতো সনদের জন্য এতসব পরীক্ষা দিতে হয় না। একজন চিকিৎসক এমবিবিএস পাস করার পর ৬ মাস ইন্টার্নি করার পর তিনি ডাক্তারি করতে পারেন। একজন শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করার পর সিনিয়র প্রকৌশলীর সঙ্গে প্র্যাকটিস করার পর সেও ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে। তাহলে আমরা কেন নয়? ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করেন হাইকোর্টের বিচারপতিরা। স্বল্প বিচারপতির কারণে হাইকোর্টে অনেক মামলাই পেন্ডিং অবস্থায় রয়েছে। তাই খাতা মূল্যায়নের জন্য জজ কোর্টের বিচারপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকেও দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

অভিযোগ করে অর্থ পেয়েছেন ৩,২৫৫ ভোক্তা by মহিউদ্দিন অদুল

বাজারে নিত্যপণ্য ক্রয়ে প্রতিনিয়ত ঠকছেন গ্রাহক বা ভোক্তারা। প্রতারিত হচ্ছেন নানাভাবে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ব্যবসায়ীদের বেশি দাম আদায়। ওজনে কম দেয়া। পণ্যে ভেজাল। এমন বহু কায়দায় অসহায় ভোক্তাদের পকেট হাতাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তা রোধে রয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রয়েছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯। এ আইনে ভোক্তা ঠকানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি হিসেবে আদায়কৃত জরিমানার ২৫ ভাগ অর্থ তাৎক্ষণাৎ অভিযোগকারীকে প্রদানের বিধানও রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ভোক্তাই জানেন না তাদের এ রক্ষাকবচ সম্পর্কে। তবে হাতেগুনা স্বল্পসংখ্যক প্রতারিত সচেতন গ্রাহক ওই অধিদপ্তরের অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ করছেন। গত প্রায় ৭ অর্থবছরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এমন ৩ হাজার ২৫৫ অভিযোগকারী পেয়েছেন ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ। আইনটির এই বিধানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে আশার প্রতীক হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর মানবজমিনকে বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে এখনো অধিকাংশ গ্রাহক জানেনই না। তবে ধীরে ধীরে সচেতনতা বাড়ছে। বাড়ছে আমাদের সক্ষমতাও। রাজধানীতে ভোক্তারা প্রতারিত হলে তাদের কেউ কেউ এখন অভিযোগ নিয়ে আসছেন। ভোক্তাকে ঠকানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদায়কৃত জরিমানার ২৫ ভাগ অর্থ অভিযোগকারীকে প্রদানের বিধান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারা সে হিসেবে নগদ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যাচ্ছেন। এতে আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রতিবছর অভিযোগের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রকৃতপক্ষে দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের সবাই ভোক্তা। প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে তাদের সিংহভাগ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বিভিন্নভাবে ঠকছেন। নেয়া হচ্ছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা। মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে না। অতি লাভের জন্য পণ্যে ভেজাল মেশানো হচ্ছে। অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। পণ্যে মোড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে না। ওজনে কম দেয়া হচ্ছে। প্রতারিত করা হচ্ছে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে। প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা। নকল পণ্য উৎপাদন। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়। কিন্তু ভোক্তা অধিকারের রক্ষাকবচ আইন ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অধিকাংশ গ্রাহক না জানায় এবং বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিযোগ গ্রহণের সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা না থাকায় প্রতারিত গ্রাহকরা অভিযোগ করতে পারছে না। তবে রাজধানীর কাওরান বাজারের টিসিবি ভবনে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তরে রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র। কোন গ্রাহক ঠকলে বা প্রতারিত হলেই পণ্য ক্রয়ের রশিদসহ বা অন্যান্য প্রমাণসহ নিজের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করে নির্ধারিত ফরমে সেখানে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণ হলেই আদায় করা হয় জরিমানা। জরিমানার ৭৫ ভাগ অর্থ জমা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। বাকি ২৫ ভাগ অর্থ নগদে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে প্রদান করা হচ্ছে। বিগত ২০১১-১২ অর্থ বছরে এমন অভিযোগ গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রমেই তা বাড়ছে। ওই অর্থবছরে ৮ অভিযোগকারীকে আদায়কৃত জরিমানার ২৫ ভাগ হিসেবে প্রদান করা হয় ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ২৯ গ্রাহকের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তারা জিতে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫০ টাকা। পরের বছর তথা ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১৭ গ্রাহক পায় ৫১ হাজার ৫০০। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে জরিমানার অর্থে ভাগ বসানো অভিযোগকারীর সংখ্যা কয়েকগুণে দাঁড়ায়। সে অর্থ বছরে ১০৭ অভিযোগকারী ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা পকেটে নেন। এর পরের বছর ২০১৫-১৬ এ ১৯২ ভোক্তা অভিযোগ প্রমাণ করে নেন ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৫ টাকা। সর্বশেষ দু’অর্থ বছরে প্রায় তিন হাজার অভিযোগকারী তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হন। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪১৬ অভিযোগকারী ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৭৭ টাকা পান। আর চলতি অর্থ বছরের গত ১২ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮৬ অভিযোগকারীকে দেয়া হয় ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫ টাকা। অর্থাৎ গত ৭ অর্থ বছরের কম সময়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ প্রমাণ করে ৩ হাজার ২৫৫ ভোক্তা ৫০ লাখ ৯১ হাজার ৮৭৭ টাকা পেয়েছেন। অন্যদিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে যাত্রা ও কার্যক্রম শুরুর পর থেকে বিগত প্রায় ৯ অর্থবছরে বাজার অভিযান এবং ভোক্তাদের অভিযোগ প্রমাণ থেকে প্রতিষ্ঠানটি ২৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এর মধ্যে গত প্রায় ৭ অর্থবছরে ওই তিন সহস্রাধিক ভোক্তাকে অর্ধকোটির বেশি টাকা জরিমানার অর্থ দেওয়ার পর বাকি ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৯২ হাজার ৪২৩ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে। দিন দিন গ্রাহকের অভিযোগ দায়ের ও প্রমাণের সংখ্যা বাড়ায় আগামি অর্থবছরগুলোতেও জরিমানা আদায় এবং ভোক্তাদের টাকা পাওয়ার অঙ্ক বাড়বে বলে মনে করছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে আইনি বিধানটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে প্রতারিত ভোক্তাদের এগিয়ে আসায় উৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন তারা।

কেমন আছেন আশিকুর রহমান? by মরিয়ম চম্পা

বেড নম্বর ১১-এ। কালো টি শার্ট ও থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরে অনেকটা চুপচাপ বিছানায় বসে মোবাইল ফোনের বাটনে ক্লিক করছিলেন আশিকুর। বেলা ১টা ২৫ মিনিট। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের তিন তলার ১১ নম্বর কেবিনে ঢুকতেই মৃদু হাসি দিয়ে অভ্যর্থনা জানালেন আশিকুর রহমান। পাশের ১১-বি বেডে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. শাহরিয়ার হোসেন। পুরো রুম জুড়ে যেন সুনসান নীরবতা। যেন একজনের কথা অন্যজনই ভালোভাবে শুনতে পাচ্ছেন না। এরই মাঝে দুইবার বাইরে অপেক্ষা করা আনসার সদস্য এসে প্রতিবেদকের নাম-পরিচয় জানতে চান। তৃতীয় দফায় এসে নাম এন্ট্রি করে নেন। এরইমধ্যে টুকটাক কথা চলে আশিকুরের সঙ্গে।
তার চেহারায় এখনো ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। কথা বলতে গিয়ে থেমে যাচ্ছিলেন বারবার। আশিকুরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক বন্ধু রাফি রয়েছেন হাসপাতালে। হাসপাতালের খাবার খেতে পারেন না আশিকুর। তাই সাভারে মামার বাসা থেকে তার মা দুপুর ও সকালের খাবার নিয়ে আসেন। আশিকুর জানায়, ডাক্তার বলেছে, বুকে বিদ্ধ বুলেট শরীরের অন্য কোথাও মুভ করছে কিনা তা অবজারভেশনের জন্যই তাকে আবারো হাসপাতালে ডাকা হয়েছে। বর্তমানে শরীরে কোনো সমস্যা অনুভূত হচ্ছে না বলে জানান তিনি। একমাস পরে আশিকুরের পরীক্ষা। পরীক্ষার প্রস্তুতি খুব একটা নেই বলে জানান তিনি। বুকের কোন পাশটায় বুলেটবিদ্ধ আছে জানতে চাইলে, হাত দিয়ে বুকের ডানপাশটা দেখিয়ে বলেন- এই যে এখানেই বুলেটটি রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, আশিকুরের শরীরের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ইম্প্রুভ হয়েছে। রোববার সকালেও একটি রেগুলার এক্সরে করা হয়েছে। তবে তাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি কনফিডেন্ট মনে হচ্ছে। পাশের বেডের শাহরিয়ারের শরীরের অবস্থাও ভালো। আরো ৩-৪ দিন অবজারভেশন শেষে তাদের দুজনকে একই সঙ্গে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে বলে জানান তিনি।
কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় বুকে গুলি লাগে আশিকুর রহমানের। ৮ই এপ্রিল দিবাগত রাত দুইটার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে তার যকৃৎ ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনো তার বুকের ভেতরে রয়ে গেছে বুলেটটি। আশিকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। আশিকুরের বন্ধুরা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের একটি পক্ষ রাতে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে, তখনই গুলিবিদ্ধ হন আশিকুর। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা শিখ সমপ্রদায়ের উপাসনালয় গুরুদুয়ারা নানক শাহীর ঠিক সামনে হঠাৎ তিনি ঢলে পড়েন। আশিকুর রহমানকে গত বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেন ডাক্তাররা। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ির উদ্দেশে কল্যাণপুর যেতে না যেতেই হাসপাতাল থেকে তাকে আবার ফোন দিয়ে ডেকে নেয়া হয়।

বাঙ্গালি হিসেবে স্বীকার করলেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে বার্মা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন এক জঠিলতা সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গারা যদি নিজেদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে স্বীকার না করে তাহলে বার্মা সরকার তাদেরকে স্বদেশে ফেরত নেবেনা।
রোহিঙ্গারা বলছেন তারা শত শত বছর ধরে বার্মায় বসবাস করে আসছে তারা কেন নিজেদেরকে বাঙ্গালি হিসেবে পরিচয় দিবে। অন্যদিকে বার্মা সরকার রোহিঙ্গাদের বার্মায় ফেরত নিবে যদি রোহিঙ্গারা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে। আর এনভিসি হচ্ছে এমনি একটি ভেরিফিকেশন কার্ড যা কার্ডহোল্ডারকে অভিবাসী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।
সম্প্রতি সীমান্তের জিরো লাইন থেকে ফিরে গিয়ে একটি পরিবার এনভিসি নিয়ে আরাকানে বসবাস করছে। বার্সা কর্তৃপক্ষ অন্যান্য রোহিঙ্গাদেরও একই পদ্ধতিতে ফিরে আসার জন্য উৎসাহিত করছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা বলছে, বার্মা সেনাবাহিনীর সাথে যোগসাজসের মাধ্যমেই পরিবারটি আরাকানে ফিরেছে। পরিবারটিকে বার্মা সরকারের গুপ্তচর হিসেবে অভিহিত করেছে অনেকেই। তারা এনভিসি নয়, বার্মার নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা চায়।
বার্মার সমাজকল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে গত ১১ এপ্রিল তিনদিনের বাংলাদেশ সফরে এলে শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত একদল রোহিঙ্গার সাথে আলাপকালে উইন মিয়াত আয়ে এনভিসি ফরম পূরণের জন্য তাদের উদ্ভুদ্ধ করেন। কিন্তু রোহিঙ্গারা এনভিসি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে নাগরিকত্বসহ ১৩ দফা দাবি পেশ করে। অন্যদিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের তালিকা প্রণয়নের জন্য নতুন একটি ফরম দেয় বার্মা।
বাংলাদেশ সফরের ওপর শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উইন মিয়াত আয়ে বলেন, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুরা বার্মায় ফিরতে চায়, কিন্তু এনভিসি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না যাওয়ায় তারা ফিরতে পারছে না। এনভিসির জন্য ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্যসহ ফরম পূরণ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এনভিসি পেলে উদ্বাস্তুরা চলাচলের স্বাধীনতা, বাড়িঘর, কারিগরি প্রশিক্ষন এবং সহজে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা পাবে।
আসলে এইসব কথাবার্তা কিন্তু এনভিসি গ্রহণ করার জন্যই বলা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত এক নাগরিকত্ব আইনে রোহিঙ্গাদের বার্মার নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। এরপর তাদের জন্য হোয়াইট কার্ড চালু হয়। ২০১৫ সালে হোয়াইট কার্ডের বদলে এনভিসি চালু করা হয়। কিন্তু এনভিসিতে বাঙ্গালী পরিচয়ের বাধ্যবাধকতা থাকায় খুব অল্প সংখ্যক রোহিঙ্গা হোয়াইট কার্ড জমা দিয়ে তা গ্রহণ করেছে। এখনো রাখাইনে অবস্থান করছেন এমন ২৬ হাজার রোহিঙ্গাকে গত দুই মাসে জোর করে নানারকম অত্যাচার নির্যাতন করে এনভিসি দেয়া হয়েছে।