Monday, April 10, 2017

অনলাইনে কুমারিত্ব নিলাম করলেন মডেল! দাম উঠল ১৭ কোটি টাকা

অর্থের বিনিময়ে অনলাইনে নিজের কুমারিত্ব নিলাম করলেন রোমের মডেল! ১৭ কোটি টাকায় তা কিনেও ফেললেন হংকংয়ের এক ব্যবসায়ী! সম্প্রতি এক টেলিভিশন শো-এ কুমারিত্ব নিলাম করার কথা নিজেই জানান অ্যালেকজান্দ্রা কেফ্রেন নামে ওই মডেল। কেফ্রেনের কথা শুনে প্রথমে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন শো পরিচালক হলি উইলাফবি এবং ফিলিপ স্কলফিল্ড। কেফ্রেনের কথা ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়ে যায় দর্শকদের মধ্যে। কেফ্রেনের অনেক ভক্ত তাঁর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন তখনই। তবে সে সব নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ তিনি। অকপট ভাবেই শো-এ বলে গেলেন কুমারিত্ব নিলামের অভিজ্ঞতা।
১৮ বছরের অ্যালেকজান্দ্রা জানান, প্রথমে সিন্ডারেলা এসকর্ট নামে একটি অনলাইন সংস্থার সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। সিন্ডারেলা একটি জার্মান সংস্থা। ৩০০-র বেশি সদস্য রয়েছে এই সংস্থায়। সম্প্রতি সেই অনলাইন সংস্থার মাধ্যমেই তিনি নিজের কুমারিত্ব নিলাম করেন। চুক্তি অনুযায়ী ১৭ কোটির টাকার মধ্যে ২০ শতাংশ প্রাপ্য ওই জার্মান সংস্থার। খুব শিগগিরই জার্মানির একটি হোটেলে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তিনি দেখা করবেন বলেও জানান কেফ্রেন। উত্তেজিত কেফ্রেন ওই টিভি শো-তে বলেন, নিলামের পর একবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। ব্যবহার বন্ধুত্বপূর্ণ। এর আগে এমন কোনও অভিজ্ঞতা আমার হয়নি। আশা করছি ওই দিন দু’জনে খুব ভাল সময় কাটাব।
তবে মডেল থেকে এই পেশায় আসাটা মোটেই সহজ ছিল না। পরিবারের তীব্র আপত্তি ছিল এই বিষয়ে। আপত্তি তোয়াক্কা না করে এমন কাজ করলে তাঁকে পরিবারের সদস্য হিসাবে আর কোনওদিন গণ্য করা হবে না এই হুমকিও দেন তাঁর বাবা। কিন্তু কেফ্রেন নাছোড়বান্দা। তাঁর শরীরের উপর সম্পূর্ণ অধিকার তাঁরই। কী ভাবে তা কাজে লাগাবেন তা একমাত্র তিনিই ঠিক করবেন, সাফ জানিয়ে দেন পুলিশ কর্মী বাবাকে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

দেশ বেচে দিলাম নাকি নিয়ে ফিরলাম?

বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করেন। আজ সোমবার সকালে নয়াদিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সম্মেলনে দুই দেশের চার শতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে বাংলায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির দেশ বেচে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘এখানে আসার আগে কত কথাই শুনলাম। দেশ বেচে দেওয়ার কথা শুনলাম। যারা দেশ বেচে দেওয়ার কথা বলেন, তাঁরা অর্বাচীন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশীর সঙ্গে সমস্যা থাকবে। আলোচনার মাধ্যমে তা দূর করতে হবে। ঝগড়াঝাঁটি করে নয়। এখন আপনারাই ঠিক করুন। দেশ বেচে দিলাম, নাকি নিয়ে ফিরলাম, তা আপনারাই বলবেন।’ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাঁরাই এখানে আসতে চেয়েছেন, তাঁদের কাউকে আমি নিষেধ করিনি। এখন আপনারা ভালো পার্টনার খুঁজে নিন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের (বাংলাদেশ-ভারত) সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার না। আমাদের লক্ষ্য সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ ভারতের তিনটি ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা সম্মেলনে অংশ নেন।
সম্মেলনের আগে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রধান উপদেষ্টা সুশান্ত সেন ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিদের খুব ঘনিষ্ঠ মনে করি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা সহজ করতে পারলে আমরা খুশি হব।’ তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সফরের কোনো বিকল্প নেই। ভারতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে যাওয়া প্রয়োজন। তাঁরা চান, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও ভারতে আসুক। সুশান্ত সেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ভারতে বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ভারসাম্য প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করতে পারে। বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চাই। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।’ সিসিআইয়ের অর্থনৈতিক নীতি ও গবেষণা–বিষয়ক পরিচালক শোভা আহুজা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সিসিআইয়ের আঞ্চলিক পরিচালক মনীশ মোহন বলেন, সম্মেলনে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

‘কুছ তো মিল গেয়্যা’

ইংরেজি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যের একপর্যায়ে হঠাৎই হিন্দিতে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিস্তা ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দিদিকি সাথ বাত হুয়ি। পানি মাঙ্গা মাগার ইলেকট্রিসিটি তো মিলা। কুছ তো মিল গেয়্যা।’ (দিদির সঙ্গে তিস্তা নিয়ে কথা হয়েছে। পানি না পেলেও বিদ্যুৎ তো পেলাম। কিছু তো পেলাম।) আজ সোমবার ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের দেওয়া সংবর্ধনায় একপর্যায়ে লিখিত বক্তব্যের বাইরে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসেই ভরসা রাখার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তিস্তা চুক্তি সই হলে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক রূপান্তরের নতুন পর্যায় অতিক্রম করবে। চার দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি।

মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরের চিঠি কারাগারে

সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা ও তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকরের চিঠি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। আজ সোমবার সকাল ১০টার পর চিঠিটি গিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (প্রিজনস) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, চিঠি পৌঁছেছে। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ফাঁসির কার্যকরের সময় ঠিক করা হবে। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী যেদিন মৃত্যুপরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়, সেদিন থেকে ২১ দিনের আগে নয়, ২৮ দিনের পরে নয়, এমন হিসাব করে রায় কার্যকর করা হয়। গত ২১ মার্চ মুফতি হান্নান ও তাঁর দুই সহযোগীকে মৃত্যুপরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।
কারা সূত্র বলেছে, ২০০৪ সালের ২১ মে বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ফটকে গ্রেনেড হামলায় তিনিসহ ৭০ জন আহত হন এবং তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ হওয়ার পর মুফতি হান্নানসহ তিন আসামি শেষ সুযোগ হিসেবে গত ২৭ মার্চ কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন। তাঁর প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়েছে বলে গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান।

‘মা’ বলে ডেকে ঘনিষ্ঠতা, পরে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ?

ইজিবাইকে হঠাৎ পরিচয়; এরপর ‘মা’ বলে ডেকে ঘনিষ্ঠতা তৈরি। কিছুদিন পর বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ। এমন ঘটনার শিকার খুলনা নগরের এক কলেজছাত্রী এখন বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম এনামুল হক ওরফে টিটো (৫৫)। তিনি খুলনা নগরের মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ময়লাপোতা এলাকায় তাঁর ওষুধের একটি দোকান আছে। ধর্ষণের অভিযোগে গত ১৫ মার্চ এনামুলের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন নগরের একটি কলেজে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া মেয়েটি। পুলিশ এনামুলকে গ্রেপ্তারও করেছে। তবে প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি দ্রুত ছাড়া পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন ধর্ষণের শিকার ছাত্রী। মামলার এজাহার ও কলেজছাত্রীর ভাষ্যমতে, গত ১৬ জানুয়ারি কলেজ থেকে ইজিবাইকে চড়ে বাসায় ফেরার পথে এনামুলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। প্রথম পরিচয়েই এনামুল তাঁকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি মেয়েটিকে বলেন, কিছুদিন আগে তাঁর মা মারা গেছেন। এনামুল বয়স্ক মানুষ হওয়ায় বিষয়টি মেনে নেন ওই কলেজছাত্রী। এরপর কলেজে যাওয়া-আসার পথে দেখা হলেই খাতির করতেন এনামুল।
১৯ জানুয়ারি তিনি মেয়েটিকে বলেন, তাঁকে তিনি তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চান। এ কথা বলে মেয়েটিকে সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি বাসায় নিয়ে তিনি ধর্ষণ করেন। লজ্জায় এ ঘটনা প্রথমে কাউকে বলেননি কলেজছাত্রী। মেয়েটি বলেন, আত্মহত্যা করলে অপরাধী পার পেয়ে যেত। এ কারণে তিনি ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানান। কিন্তু কী করতে হবে, বুঝতে না পেরে প্রথমে যান পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিদ্রূপ করে তাড়িয়ে দেন। এরপর সদর থানায় গেলে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর এনামুলের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক বলেন, মামলার একমাত্র আসামি কারাগারে আছেন। মামলাটি তদন্তাধীন। মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন উল্টে যায় কি না, সেই শঙ্কায় রয়েছেন মেয়েটি। টাকার বিনিময়ে তাঁকে আপস করতে বলেছে একটি পক্ষ। ভয়ভীতিও দেখানো হয়েছে। কিন্তু মেয়েটি বিচার পেতে অনড়। তাই আদালত থেকে পুলিশ কমিশনার পর্যন্ত দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। ওই কলেজছাত্রী বলেন, ‘আমি চাই, যে করেই হোক অপরাধী সাজা পাক। পরবর্তী সময়ে যেন আর কোনো মেয়েকে এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়।’

বাল্যবিবাহের বিশেষ বিধান নিয়ে রুল

সদ্য পাস হওয়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধান প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এই রুল দেন। রুলে আইনের ১৯ ধারার বিশেষ বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক ও সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। শিশু অধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার (যেমন: অতিরিক্ত প্রটোকল সিআরসি, সিডও, এসডিও) ও দেশের আইনের সঙ্গে এই বিধান অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে কেন ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। আইনসচিব এবং নারী ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। চলতি বছরের ১৭ মার্চ আইনটি করা হয়।
আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ ও পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে, বিয়ে সম্পাদিত হলে তা এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না। আইনের ১৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও নারীপক্ষের পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়। আজ রিট আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতে ওঠে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

ঐশীর বক্তব্য শুনলেন হাইকোর্ট

মালিবাগে স্ত্রীসহ পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া তাঁদের মেয়ে ঐশী রহমানকে আজ সোমবার হাইকোর্টে হাজির করা হয়। খাসকামরায় তাঁর বক্তব্য শোনেন আদালত। পরে তাঁকে নিয়ে যায় কারা কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্টের নির্দেশে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঐশীকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। ঐশীর করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ওপর এই বেঞ্চে শুনানি চলছে। আজকের শুনানির শুরুতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম বলেন, এই মামলায় মানবাধিকারকর্মীরা একটি রিট করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার আগে-পরে ঐশীর মানসিক অবস্থা বিষয়ে চিকিৎসকেরা প্রতিবেদন দিয়েছেন। বিচারিক আদালতে ওই প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে। আসামিপক্ষ ওই প্রতিবেদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ঐশীর সঙ্গে বিশেষভাবে কথা বলা হবে। এ সময় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষর একজন করে আইনজীবী উপস্থিত থাকবেন। আদালতের এই বক্তব্যের পর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ঐশীকে খাসকামরায় নেওয়া হয়। দুই বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। বেলা ১১টার পর ঐশীকে কারা কর্তৃপক্ষ খাসকামরা থেকে নিয়ে যায়। ঐশীর আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী প্রথম আলোকে বলেন, খাসকামরায় প্রায় ১৫ মিনিটের মতো ঐশীর বক্তব্য শুনেছেন আদালত। তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন।
স্ত্রীসহ মাহফুজুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া তাঁদের সন্তান ঐশীকে আজ (১০ এপ্রিল) আদালতে হাজির করতে ৩ এপ্রিল নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আইজি প্রিজনের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ঐশীর করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানিকালে আইজি প্রিজনের প্রতি ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ মার্চ ঐশীর আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট মালিবাগের বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন মাহফুজের ভাই মশিউর রহমান এ ঘটনায় পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করেন। ওই মামলায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। রায়ে ঐশীকে মৃত্যুদণ্ড ও তাঁর বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই বছরের ১৯ নভেম্বর নিম্ন আদালতের রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে আসে। পরে তা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন ঐশী। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক (মামলাবৃত্তান্ত) প্রস্তুত করা হয়।

আস্থা ও স্বার্থ রক্ষায় জোর দেওয়া উচিত

২০১০ সালের পর এই প্রথম শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি গেলেন। ২০১৪ সালের মে মাসে নরেন্দ্র মোদির অভিষেক অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের অনেক নেতা উপস্থিত থাকলেও শেখ হাসিনা যেতে পারেননি। কারণ, তখন তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে যাওয়ার কথা ছিল। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে ধারাবাহিক ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের ধারাটা সূচিত হয়েছিল ২০১০ সালে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় প্রদত্ত যৌথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে। ওই ঘোষণায় অতীতের দ্বিপক্ষীয় উদ্বেগ কাটিয়ে উঠে দুই দেশ ভবিষ্যৎ অংশীদারির রূপরেখা ঘোষণা করে। পরের বছর তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় যে ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন স্বাক্ষরিত হয়, তার মাধ্যমেই সহযোগিতার সনদ প্রণীত হয়। তিস্তা নিয়ে জটিলতার মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়। ২০১৫ সালে মোদির সফরের সময়ও এই চেতনা অক্ষুণ্ন ছিল, যার মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হয়। ওদিকে চীন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভারতের প্রান্তস্থ অঞ্চলে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্প ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সক্রিয় হয়েছে। মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কায় তারা ধাক্কা খেয়েছে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে তারা নিজ লক্ষ্য পূরণে সওয়ার হবে। আবার চীনের ভারত সামলাও নীতিতে পাকিস্তান স্বেচ্ছায় যোগ দিচ্ছে। নেপাল দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে বোধগম্য সম্পর্ক বজায় রাখলেও সম্প্রতি কে পি ওলির সরকারের সময় তারা কিছুটা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
এরপর তাঁর উত্তরসূরি চীন সফর করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক স্থিতিশীল। তারা বাংলাদেশের প্রধান সমরাস্ত্র সরবরাহকারী। কিছুদিন আগে সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দেশ দুটির মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বড় অঙ্কের ঋণ ও অনুদানও এর মধ্যে আছে। ঢাকা-বেইজিংয়ের সম্পর্ক ভারত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করলেও বাংলাদেশে চীনকে দেখলেই ভারতের প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত নয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগ সরকার এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে যে বাংলাদেশের মাটি থেকে যেন ভারতবিরোধী তৎপরতা পরিচালিত না হয়। এটা সহজ কাজ ছিল না। কারণ, সাবেক সরকার প্রশাসনের মধ্যে সে রকম মানুষ বসিয়ে গিয়েছিল, যাঁরা ভারতবিরোধী তৎপরতায় হাওয়া দিয়ে গেছেন। ভারত ও আওয়ামী লীগ উভয়ই জামায়াত ভাবাদর্শ প্রভাবিত ও পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু ছিল। সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সরকার অনেক চেষ্টারত থাকা অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে পিছপা হয়নি। এই ব্যাপারে শেখ হাসিনা ভোটারদের দেওয়া কথা রেখেছেন। কিন্তু এর জন্য তাঁকে পশ্চিমাদের মারাত্মক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমনকি এ রকম হাস্যকর যুক্তিও দেওয়া হয়েছে যে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কারণে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এক প্রখ্যাত ভারতীয় সাংবাদিক লিখেছেন, ‘যে গুলশানে সন্ত্রাসীরা ২০ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল, সেই গুলশানের রাস্তা থেকে বহু দূরে এই সন্ত্রাসবাদের হাতে গোনা কয়েকজন পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও যুদ্ধাপরাধের বিচারে হাসিনার প্রচেষ্টার সুনামহানি করতে ব্রিটিশ ও মার্কিন লবিস্টদের কাজে লাগাচ্ছে।’ জামায়াত বাংলাদেশের সব সন্ত্রাসীর হোতা। তা সত্ত্বেও বিদেশে এদের লবিস্টরা প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে যাতে বাংলাদেশ একটি উদার, ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে স্থিতিশীল না হয়। এর মধ্যে মার্কিন সরকারের একটি অংশও ছিল, যারা পাকিস্তানি বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
জন কেরির সময় এটা হয়েছে। এখন ট্রাম্পের জমানায় অবস্থা বদলায় কি না, তা-ই দেখতে হবে। ব্যাপারটা হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সম্প্রতি পরিপক্বতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে। হ্যাঁ, এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আমাদের অনেক কিছু করতে হবে। কিন্তু বর্তমানকে আমাদের অতীতের পাটাতনে দেখতে হবে। এই এক দশক আগেই এই সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কাঠামোটা অসম্ভব মনে হতো। তারপর তো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সমুদ্রসীমার সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশের পক্ষে যে রায় দিয়েছেন, ভারত সেটাকে মর্যাদা দিয়ে মেনে নিয়েছে। স্থলসীমান্ত চুক্তির অবস্থাও একই রকম ছিল, আমরা এখন সেটিও পার করে এসেছি। খুব বেশি মানুষ খেয়াল না করলেও ছিটমহলে কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের স্থানান্তর হয়নি। মানুষ ভিন্ন জাতীয়তা নিয়ে নিজের ভূমিতেই থেকে যায়। অন্যদিকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। তেমনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণও বেড়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ আসছে তা দেশটির অনেক মানুষের জীবনেই পরিবর্তন বয়ে আনছে। সর্বোপরি, বাংলাদেশ এখন আর ভারতবিরোধী শক্তির আশ্রয়স্থল নয়। তবে ভারতের পক্ষে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করার অক্ষমতাই এই সম্পর্কের মধ্যে একমাত্র ফাঁক। চুক্তি ছাড়াও আলোচনায় বাংলাদেশের যে পরিমাণ পানি পাওয়ার কথা, সেটা সে পেতে পারে। ব্যাপারটা যেমন পানির পরিমাণের, তেমনি বাংলাদেশের পানি পাওয়ার অধিকারের। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পূর্বসূরি জ্যোতি বসুর কথা স্মরণ করতে পারেন। দুই দশক আগে ফারাক্কা চুক্তি করার ক্ষেত্রে তিনি একক ভূমিকা পালন করে প্রশংসিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি এক বক্তৃতায় শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ঢাকায় ভারতীয় গোয়েন্দারা মার্কিন দূতাবাসে বসে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগকে হারানোর ফন্দি করেছেন। এটার সত্যাসত্য নিয়ে মাথা না ঘামিয়েই বলা যায়, বন্ধুপ্রতিম দেশের সরকারপ্রধানের এই অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এটা যদি সত্য হয় তাহলে ব্যাপারটা দুঃখজনক, বিশেষত বিএনপি সরকারের মারাত্মক ভারত বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিতে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারত, যে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। ভারত বিভিন্ন দেশে গিয়ে দেনদরবার করে এটা নিশ্চিত করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নির্বাচন যেন বাতিল না হয়। শেখ হাসিনা ভারতের বন্ধু। তিনি দ্ব্যর্থহীন দৃঢ়তার সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা সমস্যা আমলে নিয়েছেন। হাসিনা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপ ধর্তব্যে নিয়েও ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক লালন করেছেন। তাই এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পারস্পরিক আস্থা ও স্বার্থ রক্ষায় জোর দেওয়া উচিত।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
দেব মুখার্জি: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার।

আট লাখ টাকার জাটকা আটক

দরজায় কড়া নাড়ছে পয়লা বৈশাখ। আর এ দিনকে ঘিরে বেড়ে যায় ইলিশের চাহিদা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু নদীতে মিলছে না ইলিশ। তাই হিমাগারে মজুত করা ইলিশই এখন বাঙালির বড় ভরসা। তবে বসে নেই অসাধু ব্যবসায়ীরা। বড় ইলিশ না পেলেও জেলেদের দিয়ে তাঁরা জাটকা শিকার করাচ্ছেন। অবৈধভাবে শিকার করা ১ হাজার ৬০০ কেজি জাটকার চালান আটক করেছে র‍্যাব। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী পূবালী মৎস্য খামারের দুই মালিক আনোয়ার হোসেনকে (৩০) দুই বছর ও আবদুস সালামকে (৩৭) এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই আড়তের দুই কর্মচারী আলাল হোসেন (২০) ও রাজু মিয়াকে (৩০) পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
আজ সোমবার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে পূবালী মৎস্য আড়তে র‍্যাব-১০-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। অভিযানে ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল মালেক ও র‍্যাব-১০-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, পূবালী মৎস্য আড়তে জব্দ হওয়া ১ হাজার ৬০০ কেজি জাটকার মধ্যে ১ হজার ২০০ কেজি জাটকা তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি আকারের। বাকি ৪০০ কেজি জাটকার আকার ছয় ইঞ্চির কিছুটা বেশি। বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ থেকে জাটকার চালান ঢাকায় আনা হয়। বড় আকারের ইলিশের সংকট থাকায় অভিযুক্ত আড়ত মালিকেরা দাদনের মাধ্যমে টাকা দিচ্ছেন জেলেদের। বড় ইলিশ না পাওয়ায় তাঁদের দিয়ে অবৈধভাবে জাটকা ধরছেন বলে জানান তিনি।

মিসরে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবুল ফাত্তাহ আল সিসি সোমবার তিন মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। দেশটির তানতা ও আলেকজান্দ্রিয়ায় দুটি কপটিক গির্জায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৪৪ জন নিহত হওয়ার পর তিনি এ ঘোষণা দেন। এছাড়া তিনি সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর সুরক্ষার জন্য সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যদিও পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তার। ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বলছে, সংখ্যালঘু এই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ‘পাম সানডে’র অনুষ্ঠানে হামলা চালায় তারা। সাম্প্রতিক সময়ে তারা মিসরে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। দেশটিতে আরো হামলার হুমকি দিয়েছে তারা। রোববার উত্তরাঞ্চলীয় তানতা শহরের সেন্ট জর্জ'স কপটিক চার্চে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে এবং এতে কমপক্ষে ২৭ জন প্রাণ হারান ও আরো ৭০ জনের বেশি লোক আহত হন। তানতায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণস্থলের বর্ণনা দিয়ে এক ব্যক্তি জানিয়েছিলেন যে, সকাল ৯টার দিকে এই হামলা চালানো হয়। সেখানে তখন প্রার্থনা চলছিল। ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রার্থনা চলাকালে আমি গির্জার সামনের দিকে ছিলাম এবং হঠাৎ করে সব অন্ধকার হয়ে গেলো। আমি দ্রুত সেখান থেকে সরে গেলাম আর কয়েকজন আমাকে সিটের ওপর ঠেলে দিল। তিনি আরো বলেন, কয়েক সেকেন্ড পর দেখি আমার চারপাশে কয়েকটি লাশ পড়ে আছে। আমি সেখানে আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার শুনতে পাই।
লোকজন সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে বলছে। তানতার হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই আলেকজান্দ্রিয়া শহরে আরেকটি গির্জায় দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ নগরীর সেন্ট মার্কস কপটিক চার্চের প্রবেশ পথে এক ব্যক্তিকে থামায়। লোকটি ছিল আত্মঘাতী হামলাকারী। সে তার শরীরে বেঁধে রাখা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন প্রাণ হারান। পোপ ফ্রান্সিস এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার আগামী মাসে মিশর সফরের কথা রয়েছে। এদিকে হামলার পরপরই ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সাথে বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট সিসি। এরপর কঠোর ভাষায় দেয়া এক ভাষণে তিনি জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন। দেশটিতে চলমান এই জরুরি অবস্থার কারণে কর্তৃপক্ষ যেকোন ব্যক্তিকে আটক ও যেকোন স্থান তল্লাশির সুযোগ পাবে। সিসি তার ভাষণে হুঁশিয়ার করে বলেন, উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ হবে ‘দীর্ঘস্থায়ী ও কষ্টকর’। উল্লেখ্য, মিসরের মোট জনগোষ্ঠীর দশ শতাংশ কপটিক খ্রিষ্টান। সাম্প্রতিক বছরে কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে যখন সামরিক বাহিনী দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করে এবং ধরপাকড় শুরু করে তখন থেকে অস্থিরতা বেড়ে যায়। গত ডিসেম্বর মাসে বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছিল কায়রোর কপটিক ক্যাথেড্রাল।

একান্ত বৈঠকে মোদি–‌মমতা

আবার একান্ত বৈঠকে বসলেন ভাতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সকাল সাড়ে নটায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। দুজনের মধ্যে কথা হয় প্রায় আধঘণ্টা। শনিবার দিল্লি যান মুখ্যমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তিস্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় মিডিয়ার খবরে প্রকাশ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মমতার একান্তে আলোচনা হয়নি। সেই আলোচনা হলো সোমবার। গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, সোমবার সকাল সাড়ে নটায় প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসবেন। সেই আলোচনায় মমতা ব্যানার্জি ছাড়া রাজ্যের পক্ষ থেকে আর কেউ ছিলেন না। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও কেউ ছিলেন না। দীর্ঘ সাত মাস পর দুজনের একান্ত বৈঠক হলো।
কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে এসে জানালেন, রাজ্যের বেশ কিছু প্রকল্প নিয়েই কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌আগের সরকার ধরা করে গেছে। আমাদের বছরে চল্লিশ হাজার কোটি রুপি ঋণ শোধ করতে হচ্ছে। বেশ কিছু প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সাহায্য বন্ধ হয়ে গেছে।’‌ কোন কোন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্যের উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে, তার তালিকা তুলে ধরেন মমতা। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী সব শুনেছেন। বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিবাস থেকে বেরিয়ে তিনি যান লোকসভায়। সেখানে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা। দলীয় এমপিদের নিয়েও আলাদা করে বসবেন। লালকৃষ্ণ আদবানির বাড়িতে যাওয়ার কথা। বিকেলে মমতার সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি যাবেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব।

বিদেশী গুপ্তচর ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার

চীনে বিদেশি গুপ্তচর ধরতে অভিনব এক কায়দা নিয়েছে দেশটির সরকার। দেশটির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে গোপন তথ্য সংগ্রহকারীদের যদি কেউ ধরিয়ে দিতে পারে তবে তাকে অনেক টাকার পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সেজন্য একটি হটলাইন চালু করেছে। যেখানে তথ্য দিয়ে ফোন করা যাবে। গোয়েন্দা সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৭৩ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার পাওয়া যাবে। তবে পুরস্কারের মাত্রা নির্ভর করবে ধরিয়ে দেয়া গোয়েন্দা আসলে কত বড় মাপের তার ওপর। তবে কেউ যদি শত্রুতা বসত কারো বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে তাকে পেতে হবে বড় ধরনের শাস্তিও। চীনে বিদেশিদের উপর কিছুটা কড়াকড়ি রয়েছে। সম্প্রতি এমন বার্তাও দেয়া হয়েছে যে, কোন গুপ্তচরের সাথে এমনকি প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে তার জন্যেও বিপদে পড়তে হতে পারে। বিদেশি গুপ্তচরদের ধরতে দেশের মানুষজনকে সজাগ হওয়ার জন্য একটি ক্যাম্পেইন চালু হয়েছে দেশটিতে।

শ্রীমঙ্গলে পৃথক অভিযানে চোরাই মালামালসহ আটক ৪

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশ কর্তৃক পৃথক অভিযানে চুরি হওয়া একটি সিএনজি, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপসহ ৪ চোরকে আটক করেছে থানা পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে হবিগঞ্জের শায়েস্থাগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা থেকে মালামালসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো-হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈ পূর্বগ্রামের আবু মিয়ার পুত্র সিএনজি চোর জুয়েল মিয়া (১৯) এবং ঘর চোর শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগানের সিদ্দিক মিয়ার পুত্র জসিম উদ্দিন (৩০), কালাপুর ইউনিয়নের গাজীপুরের মুতালেব মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া (২৮) ও কালুপুর গ্রামের মৃত মাসিদ মিয়ার পুত্র শাকিল মিয়া (২১)। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল নয়া দিগন্তকে জানান, তাঁর নেতেৃত্বে এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্থাগঞ্জ থানা-পুলিশের সহায়তায় শায়েস্থাগঞ্জ থানার অলিপুর থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সাসহ জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়।
সিএনজি নং থ-১২-৩৫৫৮। তিনি আরো জানান, গত শনিবার রাতে শহরের হবিগঞ্জ রোডস্থ শাহীবাগ এলাকায় ওস্তার মিয়ার বাসার সামনে সিএনজি রেখে শশুরের বাসায় ঘুমিয়ে পড়ে সিএনজি চালক ভূনবীর এলাকার মৃত ইদ্রিস মিয়ার পুত্র মুজিবুর রহমান নয়ন। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে আর সিএনজিটি না পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় বিষয়টি জানালে এটি উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং ১৩, তাং ১৩.৪.১৭ ধারা-৩৭৯। অপরদিকে, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুলের নেতৃত্বে এসআই অনিক বড়–য়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জসিম উদ্দিন, সুমন মিয়া এবং শাকিল মিয়াকে মৌলভীবাজার সদর থানার পশ্চিম বড়হাটের মাদ্রাসা রোডের এসআর এন হাউজ থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের হেফাজতে থাকা চুরি হওয়া ৩টি মোবাইল ও ১টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২৫ মার্চ ২০১৭ এসব মালামালসহ বেশ কিছু স্বর্ণের অলংকারাধী চুরি হয় উপজেলার টিকরিয়া এলাকার হরেন্দ্র কুমার শীল এর বাড়ি থেকে। এব্যাপারে হরেন্দ্র কুমার শীল এর পুত্র হিরেন্দ্র কুমার শীল বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মান্দায় রাস্তা দখল করে বারান্দা নির্মাণ করলেন সিপিবি নেতা

নওগাঁর মান্দায় নওগঁ-রাজশাহী মহাসড়কের ফেরিঘাটের মান্দা সেতুর পাদদেশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় শতাধিক দোকানপাট, ফেরিঘাট থেকে প্রসাদপুর হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে গজিয়ে ওঠা শতাধিক দোকানপাট, বাসাবাড়ি ও স্থাপনা,প্রসাদপুর বাজার চারমাথা (গোলচত্বর) থেকে উপজেলা গেট পর্যন্ত রাস্তার দু’পার্শ্বের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা,দোকানপাট উচ্ছেদ,প্রসাদপুর বাজারে পানি নিষ্কাশনের নালা ভেঙ্গে ফেলা বন্ধসহ কেন্দ্রীয় কমিউনিষ্ট নেতা ফজলুর রহমানের বাসার সামনের রাস্তা দখল করে নির্মিত বারান্দা/ব্যারিকেট ভেঙ্গে ফেলার জন্য এলাকার সচেতন মহল দাবী করেছেন। এ সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সোচ্চার মনোভাব ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। এছাড়া প্রসাদপুর বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য জিগাতলার মোড় থেকে বাসনপট্রি,সোনার পট্টি হয়ে হার্ডওয়্যার দোকান হয়ে আত্রাই নদী পর্যন্ত একটি নালা সরকারি খরচে মজবুতভাবে নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু কামারকুড়ি গ্রামের মৃত জগদীশ চন্দ্রের ছেলে হার্ডওয়্যার ও বালু ব্যবসায়ী অরুণ চন্দ্র মন্ডল তার বালু ব্যবসায়ের জন্য ট্রাক,ট্রলি ও ভটভটির আঘাতে ২০-২৫ বর্গফুট নালা এবং ১২-১৫টি ঢাকনা ইতোমধ্যে ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনে আর কোন বিকল্প কোন পথ না থাকায় বর্ষা মওসুমে পানি নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেও পানি জমে রাস্তায় লোকজনের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তার পার্শ্বে এসব স্থপনা ও দোকানপাট থাকায় রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ও ছাত্র-ছাত্রী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী, লোকজনের চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ চলাচলে বিঘœ ঘটছে। ফলে প্রায়ই সময় র্দুঘটনায় পড়ে মানুষের সময়,সম্পদ ও অর্থের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
এসব উচ্ছেদ করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে নানা সময়ে নোটিশ প্রদান করলেও সময় মতো অবৈধ দখলদাররা দখল ছাড়তে নারাজ। সব শেষে বুধবার আবারো সাত দিনের নোটিশ দেয়া হয়েছে এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব অবৈধ দখলদাররা জারি হওয়া নোটিশের প্রতি কোন কর্নপাত করছে না বলে অভিযোগ। অপর দিকে নওগাঁর মান্দার প্রসাদপুর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এসএম ফজলুর রহমান তার ক্রয়কৃত নতুন বাসার সামনে চার বর্গফুট রাস্তা দখল করে নিজস্ব বারান্দা নির্মাণ শুরু করেছেন। ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযোগ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে গিয়ে ঐ বারান্দা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মাকর্তাকে বাঁধা দিয়ে ডাঃ এসএম ফজলুর রহমান বলেন, আপনি কি ছাত্রলীগ করতেন? এতো তোড়জোড় কেন? আগে বাজারের অন্যান্যদের অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গুন। তারপরে আসেন আমারটাই বলে নানা বাক-বিতন্ডা শুরু করে দেন। এদিকে নিজের বাসার সামনের বারান্দা রক্ষার্থে গত শনিবার নানা দাবীতে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন ধুরন্ধর ঐ নেতা বলে অভিযোগ সচেতন এলাকাবাসীর।

বাল্য বিবাহের বিশেষ বিধান কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্টের রুল

বিশেষ ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের অনুমোদন দিয়ে প্রণীত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এর সংশ্লিষ্ট ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ, এসময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সালমা আলী। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘বাল্য বিবাহ নিরোধ বিল-২০১৭’ সংসদে পাস হয়। ওই আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে, বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না।’ আইনের এই বিধানকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে গত ৪ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করে নারীপক্ষ ও জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই রুল জারি করলেন।

মহাকাশে বেড়াচ্ছে ভয়ঙ্কর ব্ল্যাক হোল, যাচ্ছে কোথায়

বিজ্ঞানের তথ্য আর কল্পবিজ্ঞানের গল্প এমনিতেই ব্ল্যাক হোলকে ভীতিপ্রদ করে রেখেছে। মিডিয়ায় ব্ল্যাক হোলের সংবাদ মানেই খানিকটা প্যানিক। কিন্তু এবারের খবর ছাপিয়ে গেছে আগেকার সব খবরকেই। নাসা-র সূত্রে জানা গেছে, এক ‘খ্যাপা’ ব্ল্যাক হোলের বৃত্তান্ত। নাসা-র মহাকাশ টেলিস্কোপ হাবল-এ ধরা পড়েছে গ্যালাক্সি ৩সি ১৮৬ থেকে এই কৃষ্ণগহ্বরটি ছিটকে বেরিয়া এসেছে। কেবল তা-ই নয়, সে প্রবল গতিবেগে মহাকাশে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে। হাবল যা দেখেছে, তা আসলে একটি কোয়াসার বা অত্যুজ্জ্বল এক গ্যাস-বলয়, যা আসলে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলগুলিকে ঢেকে রাখে। নাসা-র বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই কোয়াসারের আচ্ছাদনের তলায় দু’টি ব্ল্যাক হোল অবস্থান করছে এবং তারা পরস্পরের সঙ্গে মিশে গিয়ে মহাকর্ষের তরঙ্গ তৈরি করছে। দু’টি ব্ল্যাক হোল যদি মিশে যায়, তবে তারা ভয়ানক গতিবেগ সম্পন্ন হয়। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৩,০০০ মাইল সে অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ, পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে চাঁদে পৌঁছতে তার সময় লাগার কথা তিন মিনিট। তবে এই সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল ঠিক কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে, মানে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি বিশেষজ্ঞরা।

সিরিয়া প্রশ্নে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ জোরদার

সিরীয় সরকারের লাগাম টেনে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র রোববার রাশিয়াকে চাপ দিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আবারো রাসায়নিক হামলা চালানো হলে ওয়াশিংটন ও মস্কো’র মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে। তারা আরো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতায় রেখে কোন শান্তি হতে পারে না। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে আলোচনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন মঙ্গলবার মস্কো যাচ্ছেন। এর প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা মস্কোর সাথে কূটনৈতিক বিরোধের বিষয় নিয়ে রোববার এক টেলিভিশন টক শো’তে অংশ নেন। গত চার এপ্রিল সন্দেহজনক সারিন গ্যাস হামলার জবাবে দামেস্ক’র সময় শুক্রবার সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এটি হবে তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ার খান শেখুন শহরে ওই রাসায়নিক হামলায় ৮৭ জন বেসামরিক লোক মারা যান। তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘কৌশলগত ভুল’ করেছে। তিনি আরো বলেন, ইরান কোন হুমকির মুখে মাঠ ছেড়ে যাবে না। সিরীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ সংবাদপত্র আল-ওয়াতার ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিরিয়ার বিরুদ্ধে যেকোন ধরনের আগ্রাসনে আমরা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবো।’

কানাডায় বরফধসে ৫ পর্বতারোহী নিহত

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের কাছে বরফধসে দক্ষিণ কোরিয়ার পাঁচ পর্বতারোহী মারা গেছেন। পুলিশ রোববার একথা জানিয়েছে। শুক্রবার থেকে ভ্যাঙ্কুভারের উত্তরের আবহাওয়া পরিস্থিতি বৈরী ও অস্থিতিশীল রয়েছে। স্কুয়ামিশের রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার বিকেলে এক পর্বতারোহী মাউন্ট হারভেইয়ের শীর্ষে তুষার ধসের ঘটনা জানিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে। রোববার মাউন্ট হারভেইয়ের প্রায় ৫শ’ মিটার ও ১৬শ’ মিটারের মধ্যে লাশগুলো পাওয়া যায়। ভ্যাঙ্কুভার সান পত্রিকা জানায়, নিহতদের সবাই অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক।

ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণকে না জানিয়ে অন্য দেশের সাথে চুক্তি অসৎ উদ্দেশে করা হয়েছে। তবে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশবিরোধী সকল চুক্তি গ্রহণযোগ্যতা হারাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আজ সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভারতের সঙ্গে করা সকল চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশবিরোধী সকল চুক্তি গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।। নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। রিজভী বলেন, অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হলে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হয়। তা না করে সরকার সংবিধান লংঘন করেছে। তিনি বলেন, জনগণকে না জানিয়ে অন্যদেশের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চয়ই অশুভ উদ্দেশ্যেই করা হয়।এই ধরনের চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করা হয়। ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মানুষ চিন্তিত।
তিনি বলেন, আমাদের মূলত যা প্রয়োজন ছিলো, তিস্তার পানি, সেই বিষয়ে ভারত একটুও ছাড় দিচ্ছে না। মমতা গতকালও বলেছেন, তিস্তার পানির কোন ভাগ দেয়া হবে না। বিকল্প উপায় দেখিয়ে শুভংকরের ফাকি দিয়েছে। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবকিছু ভারতকে দিয়ে দিলো! তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে বিএনপি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরাম দাবি জানাবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তিস্তার যে প্রবাহ সেখান থেকে আমাদের হিসাব করে দিতে হবে। এক বালতি পানিও কম নিব না। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় কেন তিস্তা চুক্তি করা হয়নি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে রিজভী পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আমরা দাবি জানিয়েছি। হয়নি। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং তার দলের তো ভারতের সঙ্গে মাখামাখির সম্পর্ক। তারা কেন পারছে না? এসময় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশবিরোধী সকল চুক্তি গ্রহণযোগ্যতা হারাবে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

সেলফি তুলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ছাত্রের মৃত্যু

আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে। সেলফি তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু হলো দশম শ্রেণীর এক ছাত্রের। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজস্থানের ভারতপুরে। রোববার সকালে হরি ওম সাইনি নামে ১৭ বছর বয়সী ওই ছাত্র বিমল কুন্ডু নামে আরেকজনের সাথে পুকুর পাড়ে সেলফি তুলছিল। এ সময় হঠাৎ পা পিছলে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় সাইনি। এ সময় সেখানে গোসল করতে থাকা তার এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। সাইনির বন্ধুরা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, সাইনিরা পরীক্ষা শেষে সেখানে পিকনিকের জন্য এসেছিল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সিরাজগঞ্জে দুর্ঘটনায় মা-মেয়েসহ নিহত ৫

সিরাজগঞ্জের বাড়াকান্দি ও উল্লাপাড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মা, মেয়ে সহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিনজন। তাদেরকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, কামারখন্দ উপজেলার বলরামপুর থেকে একটি সিএনজি অটোরিক্সা সোমবার সকাল ৭টার দিকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে যায়। পথে বনবাড়ীয়া বাড়াকান্দিতে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা গামী ষ্টারলিট পরিবহনের একটি বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই আল-আমিন (৩০) নামে একজন নিহত হন। তিনি কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামের মাহাম প্রামনিকের ছেলে। পরে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে হবি হাজীর ছেলে আব্দুস সোবাহান (৩৫) ও বেলাল হোসেন (৩২) মারা যান। অপরদিকে একইদিন সকাল ৯টার দিকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর কোল্ডস্টোরের কাছে একটি ট্রাক ও মটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মটর সাইকেল আরোহী শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চায়না রানী পাল (৩০) এবং তার শিশু কন্যা তুলি রানী পাল (৬) মারা যায়। এ ঘটনায় চায়না রানীর স্বামী সাতবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজে প্রভাষক শংকর কুমার পাল গুরুতর আহত হন। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা মোটরসাইকেল যোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিল। তাদের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার লালোর গ্রামে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বৈসাবি আনন্দে উৎসবমুখর পাহাড়

বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়ে ্এখন উৎসবের আমেজ। ১২ এপ্রিল তথা চৈত্রের শেষ দুদিন এবং পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পাহড়ের এ সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক। এক কথায় বৈসাবি। পাহাড়ের মানুষ নিজস্ব রীতি ও সংস্কৃতিতে উদযাপন করে। আব বাঙ্গালীরাও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পালন করছে নানান আয়োজন। নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক। সংক্ষেপে “বৈসাবি ”। যদিও এ নামকরণে বির্তক রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন নামে হলে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক উৎসবের নামের তিন আদ্যাক্ষর নিয়ে অধুনা “বৈসাবি” নামে এ উৎসব বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে চৈত্র সংক্রান্তিতে ভিন্ন নামের এ সামাজিক উৎসবে মেতে উঠেছে পাহাড়ের মানুষ। রাঙ্গামাটির পাহাড়ি জনপদের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় চলছে উৎসবের নানা আয়োজন। পাহাড়ের বড় জাতি গোষ্ঠী চাকম দের উৎসবের নাম বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই,আর ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উৎসবের নাম বৈসুক। এছাড়া তংচঙ্গ্যা জাতি বিষু, অহমিয়া ও আসামরা বিহু নামে এ উৎসব পালন করে। আবার কেউ কেউ চংক্রান নামে এ উৎসব উদযাপন করে।
উৎসব প্রিয় পাহাড়ের এ মানুষগুলো মেতে থাকেন নানান অনুষ্ঠানে। সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় চৈত্র সংক্রান্তির বৈসাবি উৎসব এর মাধ্যমে। বৈসাবীকে কেন্দ্র করে তিনদিন ধরে উৎসব করার কথা থাকলেও তা চলবে সপ্তাহ ধরে। সংস্কৃতি মেলা, ঐতিহ্যবাহী খেলাধূলা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নদীতে ফুল ভাসানো, বয়স্ক ¯œান আর পানি খেলার মধ্যে দিয়ে চলবে এ উৎসব। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিনকে বলা হয় ফুল বিজু। উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায় ও মা গঙ্গার উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল ভাসায়। চাকমাদের উৎসব বিঝু। এ উৎসবের প্রথম দিনকে ফুলবিঝু, দ্বিতীয় দিনকে মূলবিঝু অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয় মুল বিজু। এদিন ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী খাবার পাচন। তা দিয়ে দিন ভর চলে অতিথি আপ্যায়ন। আর তৃতীয় দিনকে গোজ্যা পোজ্যা দিন বলা হয়। ত্রিপুরাদের উৎসব বৈসুক। তাদের উৎসবের প্রথম দিনকে হারিকুইসুক, দ্বিতীয় দিনকে বুইসুকমা এবং তৃতীয় দিনকে বিসিকাতাল নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। মারমাদের উসবের নাম সাংগ্রাই। ঐতিহ্যবাহী পানি খেলার মাধমে মারমারা উদযাপন করে এ উৎসব।
বিঝু : চৈত্রের শেষ দুইদিন ও পয়লা বৈশাখ এ তিনদিন চাকমারা মহাসমারোহে বিঝু উৎসব পালন করে। বিঝু এখানে এনে দেয় এক অন্য রকম অনূভূতি আর মোহানীয় আবেশ। তারা মনে করে প্রতি বছরই চাকমা জনপদে একটি পাখির বিজু বিজু ডাক সবাইকে বিঝুর আগাম আগমনী বার্তা জানিয়ে দিয়ে যায়। তাই এ উৎসবের সঙ্গে যেন দূলে উঠে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম। বিঝু উৎসবের সময় তারা কোন প্রাণী হত্যা করে না।
বৈসুক : ত্রিপুরাদের ধর্মীয় এবং সামাজিক উৎসবের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় এবং প্রধানতম উৎসব হলো বৈসুক। চৈত্রমাসের শেষের দুইদিন ও নববর্ষেও প্রথম দিন মোট তিনদিন পালন করা হয় এই উৎসব। উৎসবের প্রথমদিন ত্রিপুরা ছেলেমেয়েরা ফুল তোলে। ফুল দিয়ে ঘর সাজায়। ত্রিপুরা নারী পুরুষ নদী থেকে কলসি ভরে পানি এনে গুরুজনদের ¯œান কারনোর মাধ্যমে আর্শিবাদ গ্রহণ করে। ছেলেমেয়েদের বিচিত্র পিঠা আর অন্যান্য পানীয় পান করানো হয়। বৈসুক শুরুর দিন থেকে গরাইয়া নৃত্যদল গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রত্যেক ঘরের উঠোনে নৃত্য করে।
সাংগ্রাই: পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন তিনদিন ধরে সাংগ্রাইং উৎসব পালন করে। মারমাদের অন্যতম সামাজিক উৎসব হলো সাংগ্রাইং। মারমারা সাধারণত মঘিসনের চন্দ্র মাস অনুসারে এ দিনটি পালন করে থাকে। বছরের শেষ দুইদিন ও নববর্ষের প্রথমদিন তারা পালন করে ফারাং রিলংপোয়েহ অর্থাৎ বৃদ্ধের স্নানোৎসব। এই দিন মারমা সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ সবাই মিলে বৌদ্ধ মূর্তিগুলোকে নদীর ঘাটে নিয়ে যায়। মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান জলকেলি বা পানি খেলা উৎসব। এ খেলার সময় এক জায়গায় পানি ভর্তি রেখে যুবক-যুবতীরা একে অপরের দিকে পানি ছুড়ে মারে। স্নিগ্ধতায় ভিজিয়ে দেয় পরস্পরকে। বৈসাবি পাহাড়ী সম্প্রদায়ের সামাজিক উৎসব হলেও বাঙ্গালীরাও সমান তালে উপভোগ করে এ উৎসব। এই উৎসবে অংশ নিতে অসংখ্য মানুষ পাহাড়ে ভীড় জমায়। ঘরে ঘরে নামে অতিথির ঢল। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলে একাকার হয়ে যায় বৈসাবি’র আনন্দে। পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি জাতি গোষ্ঠীর সামাজিক উৎসব বৈসাবি আর বাঙালীদের বাংলা বর্ষবরণ উৎসব পাহাড়ের সকল মানুষকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। আর এতে সৌহার্দ আর সম্প্রীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

যে কারণে হাতিরঝিলে ফেলে রাখা হলো দামী গাড়িটি

বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলে ফেলে যাওয়া বিলাসবহুল একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। আজ সকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে গাড়িটি। গাড়িটি খুবই বিলাসবহুল পোরশা গাড়ি। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিচালক শরীফ আল হাসান জানিয়েছেন, উদ্ধার করা গাড়িটির ভেতরে তার চাবিটি রেখে যাওয়া ছিলো। আর চালকের আসনে পাওয়া গেছে একটি চিঠিও। 

যাতে লেখা ছিলো, ‘গাড়িটি যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয়েছে সেটি সম্প্রতি জানতে পেরে মান-সম্মানের ভয়ে ফেলে যাওয়া হলো।’ মি: হাসান আরো জানিয়েছেন, ২০০৫ সালের পোরশা কায়ানে মডেলের এই গাড়িটির দাম কম হলেও চার কোটি টাকা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২০১০ সালে ব্রিটিশ নাগরিক এক মহিলা চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে গাড়িটি বাংলাদেশে আনেন।
তার পর কী হলো সে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মি. হাসান। শুল্ক গোয়েন্দাদের দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহারকারী কর্তৃক ফেলে যাওয়া এই গাড়িটি উদ্ধার করেছে বলে তিনি জানান। 

ঘটনাস্থলে শুল্ক গোয়েন্দাদের দল অবস্থান করছেন এবং গাড়ির ভেতরে যন্ত্রপাতির তালিকা তৈরী করছেন। এখন কে বা কারা এটি ফেলে রেখে গেছেন সেটির খোঁজ নেয়ার চেষ্টা চলছে। জার্মান কোম্পানি পোরশার তৈরী গাড়িগুলো খুবই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন স্পোর্টস কার। বিশ্বব্যাপী তারকা ও ধনীদের পছন্দের ব্রান্ড এটি। 

এর আগে বাংলাদেশে নানা ব্রান্ডের আরো বেশ কিছু বিলাসবহুল গাড়ি পাওয়া গেছে। সেগুলো পরে জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। সূত্র: বিবিসি

পাক-ভারত বৈরিতা নিরসনে হাসিনাকে চান আদভানি

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এটি নিরসনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যস্থতা চেয়েছেন ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি। সোমবার নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মধ্যস্থতা চান। ক্ষমতাসীন বিজেপির উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান আদভানি বলেন, '‌ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কোন্নয়নে শেখ হাসিনা সহায়তা করতে পারেন। এই অঞ্চলের সকলের মধ্যে যেন স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক হয়।' শেখ হাসিনার ভারত সফরের শেষ দিন সোমবার সকালে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন আদভানি। তিনি বলেন, 'শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের জনগণের জীবনমানের আরও উন্নয়ন ঘটবে।'  ভারতের রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দিল্লির দি ইম্পেরিয়াল হোটেলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি নেতা আদভানি তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‌'আমাদের এক প্রতিবেশী, যারা স্বাধীনতার আগেও ভারতের অংশ ছিল, আমি চাই, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যাক।' তিনি বলেন, 'তারা (পাকিস্তান) ভারতেরই অংশ ছিল।
ওখানে আমার জন্মস্থান। সিন্ধু আমার জন্মস্থান। কিন্তু এখন তারা ভারতের সঙ্গে নেই। এটা আমার দুঃখ।'অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন এবং শাল পরিয়ে দেন। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক নির্মলা সীতারমণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ক্রেস্ট। শেখ হাসিনাকে সম্মাননা জানানোর এই অনুষ্ঠানকে একটি ‘শুভ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে আদভানি বলেন, 'সব সময় এ রকম মুহূর্ত আসে না।' তিনি বলেন, 'আমার জানা নেই, আমাদের কোনো প্রতিবেশী দেশের নেতা আমাদের সঙ্গে এতো সময় কখনও কাটিয়েছেন কিনা।' ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১৫ মে পর্যন্ত শেখ হাসিনা তার পরিবার নিয়ে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটান। আদভানি জানান, সে সময় তার ঠিক পাশের বাসাতেই শেখ হাসিনা থাকতেন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। সেজন্য তাকে নিজের দেশেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।'

বাল্যবিবাহের বিশেষ বিধান কেন অবৈধ নয়

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর বিশেষ বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার দুপুরে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদেশে আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর বিশেষ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম।
রিটে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর বিশেষ বিধানের স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ১৯ ধারায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। ওই বিশেষ বিধানে বলা হয়েছে- "এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে, বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না।" এই বিশেষ বিধানের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের পক্ষে আজ আদালতে শুনানি করেন ওই রিটকারী আইনজীবী।

মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চিঠি কারাগারে

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা এবং তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চিঠি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে চিঠিটি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

তিন মেয়ে হত্যায় বাবার মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে নিজ হাতে তিন কন্যাসন্তানকে গলা কেটে হত্যার দায়ে বাবা আব্দুল গণিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা জজ মীর শফিকুল আলম  এ রায় দেন। এ সময় একমাত্র আসামি আব্দুল গণি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট দিলীপ কুমার বড়ুয়া। আর আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৪ মে রাত ৩টার দিকে চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ১ নং ঘোনার চৌধুরীপাড়ায় বাবার হাতে তিন শিশু সন্তান হত্যার মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত তিন কন্যা সন্তান হল- আয়েশা সিদ্দিকা চম্পা, শিরো জান্নাত শিউলি ও তহুরা জান্নাত বেলী। তাদের বাবা আব্দুল গণি পেশায় দিনমজুর। তিনি পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে এ নারকীয় কাণ্ড ঘটান বলে স্থানীয়রা জানান।

মিশরে গির্জায় আহতদের রক্ত দিচ্ছেন মুসলিমরা

এখানেই পার্থক্য স্পষ্ট। আহতের জন্য ছুটে যাচ্ছেন মুসলিমরা। তাদের যন্ত্রণা ভাগ করে নিচ্ছেন না। অথচ মিশরে কপটিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দুটি গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস), যারা ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের দখল নিয়ে ইসলামের খেলাফত ঘোষণা করেছে। রোববার আত্মঘাতী ওই বোমা হামলায় ৪৫ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়। এরপর মিশরে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। মিশরের উত্তরের দুই শহর টান্তা ও আলেকজান্দ্রিয়ায় খ্রিস্টানরা গতকাল ধর্মীয় দিবস ‘পাম সানডে’ পালন করছিলেন। এ সময় ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর থেকে আহতদের রক্ত দিতে মিশরের নারী ও পুরুষেরা টান্তা শহরের মসজিদে ছুটে আসেন। রক্তদাতাদের বেশিরভাগই ছিল মুসলিম। খবর আল অ্যারাবিয়ার। টান্তার বাসিন্দা মোহাম্মদ আহমাদ হাসান জানান, হামলায় আহতদের রক্তদানে মানুষকে আহ্বান জানানোর জন্য শহরের প্রধান মসজিদগুলো থেকে ঘোষণা দেয়া হয়। হাসপাতালগুলোতে রক্তের মজুদ শেষ হওয়ায় মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি জানান, তাদের আহ্বানে বিপুলসংখ্যক মানুষ সাড়া দিয়েছেন। রক্তদাতাদের বেশিরভাগই ছিল মুসলিম। এরপর তাদের রক্ত নিয়ে শহরের হাসপাতালসহ ব্ল্যাড ব্যাংকগুলোতে কয়েকশ' রক্তের ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানান মোহাম্মদ আহমাদ হাসান।

নির্বাচনে অগ্নিগর্ভ কাশ্মীর, নিহত ৮

উপনির্বাচন ঘিরে অগ্নিগর্ভ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। রোববার রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং পুলিশসহ দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। সহিংসতার পর কাশ্মীরের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। খবর এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমসের। রোববার শ্রীনগর লোকসভান উপনির্বাচনে ভোট শুরুর পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী জনতার ওপর গুলি চালালে ৮ জন নিহত হন। বহু সাধারণ মানুষ এবং শতাধিন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হন। তবে জনতার ওপর গুলি ছোড়ার কথা অস্বীকার করেছে স্থানীয় পুলিশ। পরে গুজব এবং রাষ্ট্রের জন্য হুমকি ঠেকাতে শ্রীনগর, বাডগাম ও গন্ডারবাল জেলায় মধ্যরাত থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়। সরকারি সূত্রের দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক একটি গ্রুপ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে নির্বাচন নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। এ কারণে জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে, সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মীরের অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা এই ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।

দু’দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রতিবেশী দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। সফরের তৃতীয় দিন রোববার ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন শেখ হাসিনা, যার সরকারি বাড়িতে এবার আতিথ্য নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার অনেক আগে থেকে প্রণব মুখার্জির সঙ্গে প্রগাঢ় সম্পর্ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার। তাকে দাদা সম্বোধন করে থাকেন তিনি। আগস্ট ট্র্যাজেডির পর শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের স্মৃতি তাদের রোববারের বৈঠকেও উঠে আসে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা হিসেবে প্রণব মুখার্জির অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের জন্য প্রণব মুখার্জিকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’য় ভূষিত করা হয়। বিয়ের সূত্রে প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রীর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান ভারতীয় রাষ্ট্রপতি। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন প্রণব মুখার্জি। শনিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের যেসব বিষয়ে মতৈক্য ও চুক্তি-সমঝোতা হয়েছে, সেসব নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান প্রেস সচিব। এই বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনার সম্মানে নৈশভোজ দেন প্রণব মুখার্জি, তাতে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও যোগ দেন। শেখ হাসিনার এবারের দ্বিপক্ষীয় সফরকে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি থাকছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে, যা বিরল ঘটনা।

পরিবেশ দূষণের ক্ষতি ঠেকাবে মাছ

সৃষ্টির আদিকাল থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য ছিল। পরিবেশের ওপর নির্ভর করে মানুষের ভালো-মন্দ। আর যেভাবে আজকাল পরিবেশ দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে এখন থেকেই সাবধান না হলে কিন্তু বিপদ!  কারণ এই বিষ বাস্প কখন, কীভাবে শরীরের ক্ষতি করবে তা কিন্তু আগে থেকে বলা মুশকিল। গবেষকদের মতে, পরিবেশে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি ফুসফুসের মাধ্যমে শরীরে বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আর শরীরে যত টক্সিক উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তত শরীর ভাঙতে শুরু করে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে নানাভাবে সাহায্য করে। আর এ উপাদানটি বেশি মাত্রায় থাকে মাছে।
এছাড়াও সোয়াবিন এবং পালং শাকেও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। এইসব খাবার খেলে শরীরে ওমেগা-থ্রির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। আর এমনটা হলেই পরিবেশ দূষণের কারণে হওয়া অকিসডেটিভ স্ট্রেস এবং শারীরিক প্রদাহে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা কমে। ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই খাবারগুলি দারুণ কাজে আসে। গবেষণায় আরও বলা হয়, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবকে কমিয়ে দেয়। ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা প্রায় থাকে না বললেই চলে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের আরও অনেক গুণ রয়েছে। তাই প্রতিদিন ২-৪ গ্রাম ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রবেশ করা একান্ত প্রয়োজন।

'কুছ তো মিলা'

দিল্লিতে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে ইংরেজির সঙ্গে হিন্দিতেও কথা বলেছেন সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচিত তিস্তা চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দিদিকি সাথ বাত হুয়ি। পানি মাঙ্গা মাগার ইলেকট্রিসিটি তো মিলা। কুছ তো মিলা।’ (দিদির সঙ্গে তিস্তা নিয়ে কথা হয়েছে। পানি না পেলেও বিদ্যুৎ তো পেলাম। কিছু তো পেলাম।) সোমবার ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের দেয়া সংবর্ধনায় এক পর্যায়ে লিখিত বক্তব্যের বাইরে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যত দ্রুত সম্ভব তিস্তার সমাধান করতে তার সরকারের আন্তরিক আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এটি হলে দু'দেশের সম্পর্ক আরও একটি রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে।' শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটির ওপর আমরা ভরসা রাখছি।’ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ওই অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানিও উপস্থিত ছিলেন। এদিকে চার দিনের সফর শেষে বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উদ্দেশে নয়াদিল্লি ছাড়বেন। রাত ৮টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।

চিঠি লিখে ৪ কোটির পোরশে রেখে উধাও!

রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে জার্মানির তৈরি বিলাসবহুল পোরশে গাড়ি উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা। সোমবার সকালে হাতিরঝিলের একটি ব্রিজের ওপর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িটিতে চাবিসহ একটি চিঠি পাওয়া যায়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মঈনুল খান যুগান্তরকে বলেন, 'গাড়িটি ২০১০ সালে রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে ফরিদা ইয়াসমিন নামের এক লন্ডন প্রবাসী দেশে নিয়ে আসেন।
তবে এর রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি।' তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে গাড়িটি আমাদের ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। সবশেষ গত রাতের কোনো এক সময় গাড়িটি হাতিরঝিলে ফেলে রেখে যান এর বর্তমান ব্যবহারকারী।' আনুমানিক চার কোটি মূল্যের পোরশে কায়ানে ৯৫৫ মডেলের গাড়িটি ২০০৫ সালে তৈরি। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এটিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

খাস কামরায় ঐশীর কথা শুনেছেন বিচারকরা

পুলিশ দম্পতি মা-বাবাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে খাস কামরায় নিয়ে তার বক্তব্য শুনেছেন বিচারকরা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চে ঐশীকে হাজির করা হয়। এরপর ১০টার দিকে তাকে বিচারপতিদের খাস কামরায় নেয়া হয়। সেখানে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ঐশীর কথা শুনেন দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। পরে তাকে বেলা ১১টার দিকে কারাগারে পাঠান হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরপর এ নিয়ে শুনানি শুরু এর আগে রোববার এই হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থপাপন শেষ হয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য শুনানি শেষ হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির যুগান্তরকে জানান, ঐশীর মামলায় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য ঐশীকে হাইকোর্টে হাজির করা হয়। আজ আদালত এ নিয়ে শুনানি শেষে মামলায় রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করতে পারেন বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে দেয়া বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় আমরা বহাল রাখার আর্জি জানিয়েছি।
আর তার মানসিক অবস্থা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা বলেছি, ঘটনার সময় ও তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় তার মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল। আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান ও সুজিত চ্যাটার্জি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আজ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের জবাব দেব। এরপর শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করবেন। এর আগে গত ৩ এপ্রিল শুনানিকালে ঐশীর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ঘটনার সময় ঐশী মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিল। এক মানবাধিকারকর্মীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ ঐশীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় সে মানসিকভাবে একটু অন্যরকম ছিল। ওই প্রতিবেদনের আলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য গত ৩ এপ্রিল কারা কর্তৃপক্ষকে আজ সোমবার ঐশীকে হাইকোর্টে হাজিরেরর নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হওয়ার পর পালিয়ে যান ঐশী। পরে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান আসামি ঐশী রহমানকে ডাবল মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন আদালত। অপর দুই আসামি ঐশীর বন্ধু রনিকে দুই বছরের করে কারাদণ্ড ও জনিকে খালাস দেয়া হয়।

এমপিদের ফেসবুক ভেরিফাইড হবে

ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো রোধে সংসদ সদস্যদের ফেসবুক আইডি ও পেইজ ভেরিফাইড করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বিভিন্ন সময় এমপিদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনার মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা অনেক স্পর্শকাতর একটি বিষয়।
তাই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের সকল এমপির ফেসবুক আইডি ও পেইজ ভেরিফাইড করে দেবে।' তিনি জানান, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। এক্ষেত্রে ফেসবুকে নারীদের বিভিন্নভাবে নিগৃহরোধে সরকারকে সহায়তা করবে তারা। ক্ষুদ্রঋণের সাঠিক ব্যবহার ও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেও ফেসবুক বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করবে বলে জানান তারানা হালিম।

ব্যারিস্টার রফিকুল হাসপাতালে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার রাত ১০টার দিকে তাকে রাজধানীর ধানমণ্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মোকছেদুর রহমান আবির। তিনি জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া বিএনপির এ নেতাকে হাসপাতালের সিপিওতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

তিস্তা হলে সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে: প্রধানমন্ত্রী

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ক আরও একটি রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারত সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দু'দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আমাদের যৌথ পানিসম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। সব অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে অববাহিকাভিত্তিক একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার মধ্যেই আমাদের যৌথ ভবিষ্যত নিহিত।'
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যত দ্রুত সম্ভব তিস্তার সমাধান করতে তার সরকারের আন্তরিক আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এটি হলে দু'দেশের সম্পর্ক আরও একটি রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে। 'শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটির ওপর আমরা ভরসা রাখছি।’ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ওই অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানিও উপস্থিত ছিলেন। এদিকে চার দিনের সফর শেষে বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উদ্দেশে নয়াদিল্লি ছাড়বেন। রাত ৮টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।

মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে ঐশীকে আদালতে হাজির

পুলিশ দম্পতি মা-বাবাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে হাইকোর্টে হাজির করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চে  ঐশীকে হাজির করা হয়। এর আগে রোববার এই হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থপাপন শেষ হয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য শুনানি শেষ হয়। গতকাল ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির যুগান্তরকে জানান, ঐশীর মামলায় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য সোমবার ঐশীকে হাইকোর্টে হাজির করা হবে। এদিনই আদালত মামলায় রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করতে পারেন বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে দেওয়া বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় আমরা বহাল রাখার আর্জি জানিয়েছি। আর তার মানসিক অবস্থা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা বলেছি, ঘটনার সময় ও তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় তার মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল। আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান ও সুজিত চ্যাটার্জি।
পরে আইনজীবী আফজাল এইচ খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের জবাব দেব। এরপর শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করবেন। এর আগে গত ৩ এপ্রিল শুনানিকালে ঐশীর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ঘটনার সময় ঐশী মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিল। এক মানবাধিকারকর্মীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ ঐশীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় সে মানসিকভাবে একটু অন্যরকম ছিল। ওই প্রতিবেদনের আলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য গত ৩ এপ্রিল কারা কর্তৃপক্ষকে আজ সোমবার ঐশীকে হাইকোর্টে হাজিরেরর নির্দেশ দেয়া হয়।  ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হওয়ার পর পালিয়ে যান ঐশী। পরে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান আসামি ঐশী রহমানকে ডাবল মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন আদালত। অপর দুই আসামি ঐশীর বন্ধু রনিকে দুই বছরের করে কারাদণ্ড ও জনিকে খালাস দেয়া হয়।

ইউপি সদস্যের শরীরে শত শত মৌমাছির হুল

রাজশাহীর বাঘায় মৌমাছির আক্রমণে শহিদুল ইসলাম নামে এক ইউপি সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তার শরীরে শত শত মৌমাছির হুলের চিহ্ন রয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আড়ানী গোচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত শহিদুল বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও আমোদপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেলে গোচর গ্রামে আসছিলেন। চাঁন্দার মোড় নামকস্থানে পৌঁছালে মৌমাছির আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন। ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আসাদুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টা  না যাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে তার শরীরে শত শত মৌমাছির হুলের চিহ্ন রয়েছে।

এই সমঝোতা অভিনন্দনযোগ্য, কিন্তু একটি বিষয়ে সতর্ক থাকাও প্রয়োজন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তার বিশাল সফরসঙ্গীসহ দিল্লিতে পৌঁছেছেন এবং অভূতপূর্ব সংবর্ধনা লাভ করেছেন, এটা এখন পুরনো খবর। দিল্লি বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসার কথা ছিল না। কিন্তু তিনিও একটি চমৎকার ফুল নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন। এটা ঢাকা এবং দিল্লি দুই রাজধানীতেই চমক সৃষ্টি করেছে। কেউ বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে এটা মোদির আন্তরিকতা ও আগ্রহের প্রমাণ। কেউ কেউ বলছেন, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সব অমীমাংসিত বিবাদ মীমাংসার এটা একটা শুভ সূচনা। এই ঘটনায় হাসিনা সরকারের শুভাকাক্সক্ষীরা আনন্দে হিল্লোলিত। সমালোচকরা এখন অনেকটা নিশ্চুপ। তারা হয়তো আশা করেছিলেন, মমতা ব্যানার্জি দিল্লিতে যাবেন না। ঢাকার ওপর দিল্লি কোনো ধরনের সামরিক চুক্তি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। সমালোচক এবং নিন্দুকরা ভারতবিরোধী একটা ঝড়ো হাওয়া বহানোর সুযোগ পাবেন। এখন পর্যন্ত দিল্লিতে যা ঘটেছে, তাতে এই সমালোচকরা রসনা অসংযত করার সুযোগ পাননি। আদৌ পাবেন কিনা তা শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন এবং সম্পাদিত চুক্তিগুলোর বিশদ বিবরণ প্রকাশিত হওয়ার পরই জানা যাবে।
তিস্তা চুক্তি এই বৈঠকে না হলেও সমালোচকরা হাসিনা সরকারকে এখনই দায়ী করতে পারবে না। কারণ, এই বৈঠকেই তিস্তা চুক্তি হবে এমন কোনো কথা বাংলাদেশ অথবা ভারত কোনো পক্ষ থেকেই বলা হয়নি। বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে রাজি করিয়ে যত দ্রুত সম্ভব এই চুক্তি সম্পাদনের ব্যবস্থা করা হবে। মমতা ব্যানার্জির রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে দিল্লি গমনে সম্মতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও তিস্তা চুক্তি সম্পাদন সম্পর্কে প্রকাশ্যে আশাবাদ প্রকাশ এই সম্ভাবনাই সূচিত করে যে, তিস্তার পানি নিয়ে এই দিল্লি বৈঠকেই ফাইনাল চুক্তি হবে না; তবে একটা সমঝোতা হয়তো হবে। তা-ও যদি হয়, তাহলে গঙ্গার পানি চুক্তির মতো আরেকটি সাফল্যজনক চুক্তির পথ সুগম করার একটা বড় কৃতিত্ব হাসিনা সরকার অর্জন করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি শুধু তিস্তার পানি নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত অন্যান্য নদ-নদীর পানিবণ্টন সম্পর্কেও দুই দেশের সমঝোতা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও মমতা ব্যানার্জি পানি চুক্তি সম্পর্কে দিয়েছেন বিকল্প প্রস্তাব। তিস্তা সমস্যার পরই আসে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সামরিক চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি। প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, ঢাকা-দিল্লি কোনো সামরিক চুক্তি হয়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের কাছে ভারত ৫০ কোটি ডলারের ঋণদান সাপেক্ষে সমরাস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশ অস্ত্র কিনতে পারে প্রধানত ভারত, রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে। রাশিয়ার কাছ থেকে মিগজেট এবং চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে সে অন্য দেশের কাছ থেকে সমরাস্ত্র কেনার অধিকার হারায়নি। ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতায় সামরিক তথ্য বিনিময় এবং ভারতীয় অস্ত্র কেনার ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু অন্য দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ অস্ত্র কিনতে পারবে না এরূপ কোনো শর্ত আছে বলে জানা যায়নি।
শর্ত থাকার কথাও নয়। দুই দেশের যুক্ত ইশতেহারটি পাঠ করলে বোঝা যায়, যেসব এজেন্ডা নিয়ে দিল্লি বৈঠক ডাকা হয়েছিল তা অনেকটাই সফল হয়েছে। সমালোচকরা বলতে পারেন, তিস্তা নদীর সমস্যাটি অমীমাংসিত রয়েছে। দিল্লিতে এসেও এ ব্যাপারে মমতা ব্যানার্জি নমনীয় হননি। বরং তার বিকল্প প্রস্তাবে অন্য কোনো নদ-নদী থেকে বাংলাদেশকে পানি দিয়ে ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণ হবে না। এ প্রসঙ্গে আবারও একটি কথাই বলা যায়, তিস্তা সম্পর্কে মমতা ব্যানার্জির এ কথাই শেষ কথা নয়। বর্তমান দিল্লি বৈঠকে এ সম্পর্কে চুক্তি হওয়ার কথাও বলা হয়নি। সুতরাং পরবর্তী ধাপে কোনো বৈঠকে সমস্যার একটা সুরাহা হবে এটা আশা করা যায়। তিস্তা সমস্যা সম্পর্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও বলেছেন, ‘হাসিনা সরকার ও আমার সরকার মিলেই এ সমস্যার সমাধান করবে। আমরাই তা পারব।’ বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সম্পাদন সম্পর্কে অতীতেও ভারতের মনমোহন সরকার (কংগ্রেস) আগ্রহ ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে। প্রতিবেশী কয়েকটি ভারতীয় রাজ্য সরকারও দেখিয়েছে। বর্তমানের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারও দেখাচ্ছে। হাসিনা সরকার অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে এই সমস্যাটি সমাধানের পথে এগোচ্ছে। গঙ্গার পানি চুক্তির মতো এই চুক্তিতেও তিনি সফল হবেন, তাতে সন্দেহ নেই। যুদ্ধ করে পানি সমস্যার সমাধান করা যায় না। সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত সমালোচকরা বলতে পারেন, তিস্তা চুক্তি ছাড়া ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত আর সব চুক্তির কোনো মূল্য নেই। এটা ঠিক নয়। চুক্তি বড় কথা নয়, সম্পর্ক বড় কথা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চেম্বারলেন জার্মানির হিটলারের সঙ্গে মিউনিখ চুক্তি করেছিলেন ইউরোপে অন্তত ২০ বছরের জন্য যুদ্ধাশঙ্কা দূর করার জন্য, সেই চুক্তি দু’বছরও টেকেনি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছিল। ব্রিটেন ও জার্মানির মধ্যে শুধু কাগুজে চুক্তি হয়েছিল। সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই চুক্তি টেকেনি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোনো চুক্তি কার্যকর হবে না,
যদি সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত না হয়। দু’দেশের মধ্যে ছিটমহল চুক্তি তো হয়েছিল সেই ১৯৭৪ সালে। তা বাস্তবায়িত হল দীর্ঘকাল পর বর্তমান হাসিনা সরকারের আমলে। কারণ, বর্তমানে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। বর্তমানের চুক্তিগুলোর মূল্য এখানেই যে, এই চুক্তি দু’দেশের সম্পর্ক ধাপে ধাপে উন্নত করছে। এই উন্নত সম্পর্কই অদূর ভবিষ্যতে তিস্তা চুক্তির পথ সুগম করবে। তাইওয়ান ও ফরমোজা সমস্যার সমাধান ছাড়াই কি এক সময় নয়াচীন আমেরিকার সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ হয়নি এবং তার দ্বারা উপকৃত হয়নি? পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের আপত্তি অগ্রাহ্য করে কেন্দ্রীয় মোদি সরকার তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে। কিন্তু তাতে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের সম্পর্কের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং সমস্যাটিরও স্থায়ী সমাধান হবে না। গঙ্গার পানি চুক্তির সময়েও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের তখনকার রাজ্য সরকারের সম্মতি গ্রহণ করেছিল। বলতে গেলে তখন রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসুই বাংলাদেশকে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। হাসিনা-জ্যোতিবসু সম্পর্কটি ছিল এক্সেলেন্ট। এ সম্পর্কটি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কল্যাণে তা এখন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করা যায়, তা অদূর ভবিষ্যতে সফল হবে। সমালোচকরা অবশ্যই আবদার জানাতে পারেন; কিন্তু সম্পর্কোন্নয়নের কোনো টাইম ফ্রেম আগাম নির্ধারণ করা যায় না। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কোন্নয়ন সম্পর্কে ‘কী পাইনি তার হিসাব মেলাতে’ আমি রাজি নই। এটা হাসিনা সরকারের সমালোচকরা করতে থাকুক। আমি আশা করব, দু’দেশের মধ্যে বহু বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে দু’পক্ষেরই দোষে ঝুলে থাকায় জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। রাতারাতি তার সমাধান সম্ভব নয়। দু’পক্ষের মধ্যে আন্তরিকতা থাকলে সমস্যার জটগুলো ধীরে ধীরে খুলবে। দিল্লি বৈঠকে সেই জট সম্পূর্ণ খোলেনি। কিন্তু তা খোলার পথ প্রশস্ত করেছে। এখানেই দিল্লি বৈঠকের সাফল্য। তবু এ সম্পর্কে আমার শেষ কথার এক কথা, সব সম্পর্ক ও সহযোগিতার মধ্যেই একটা সতর্কতা থাকা ভালো। ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতা এবং সহযোগিতা ভালো। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে তা যেন চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কোন্নয়নের পথে বাধা না হয়। চীনও আমাদের বড় প্রতিবেশী এবং বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরাটভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে দেশটি। এই সহযোগিতার প্রসারিত হাতকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।
এই প্রতিরক্ষা সমঝোতার ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় অত্যন্ত দ্বিধার সঙ্গে উল্লেখ করছি। ইসরাইলের সঙ্গে এখন ভারতের মোদি সরকারের রমরমা সম্পর্ক। নেহেরু সরকার ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। কোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাও করেনি। এটা বিজেপি সরকার করেছে। তাতে কারও আপত্তি করার সুযোগ নেই। এটা ভারতের নিজস্ব ব্যাপার। আমার কথা, ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের যে নিবিড় সামরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তার সূত্র ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতার সুযোগে সামরিক তথ্য বিনিময় ও অন্যান্য ব্যাপারে ইসরাইলের মোসাদের নাক গলানোর কোনো সুযোগ যেন সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের বৃহত্তর স্বার্থ ক্ষুণœ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারসাম্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত দক্ষ। সে জন্য আমার আশা হয়, এই নাজুক সমস্যাটিও তিনি সাফল্যের সঙ্গে পার হতে পারবেন। এই সেদিন মাত্র তিনি ঢাকায় আগত প্যালেস্টাইনের প্রতিনিধিদলকে সাক্ষাৎদান করেছেন এবং তাদের সংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও উন্নত হোক। কিন্তু সেই সুযোগে ইসরাইলের মোসাদ যাতে আমাদের রাজনীতিতে নাক গলানোর (সৌদি আরবে তারা তা করেছে) সুযোগ না পায় সেদিকে হাসিনা সরকার কঠোর দৃষ্টি রাখবে, এটা আমার একান্ত আশা।
লন্ডন ৯ এপ্রিল, রবিবার, ২০১৭

মেয়রদের বরখাস্ত প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় এখন গণতন্ত্র বলে যে কিছু নেই এর ভূরি ভূরি প্রমাণ দেশে সংঘটিত নানা ঘটনার থেকে প্রতিদিনই পাওয়া যায়। গণতন্ত্রের নিকেশ কতভাবে ও কত ক্ষেত্রে করা যায় এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের থেকে বেশি কেরামতি অন্য কোনো দেশে দেখা যায় কিনা সন্দেহ। পুলিশ, র‌্যাব এবং আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত যুবলীগ, ছাত্রলীগ ইত্যাদির গুণ্ডারা প্রতিনিয়ত জনগণের ওপর হামলা করছে। তারা সরকারবিরোধী সভা-সমিতি-মিছিল তো করতেই দিচ্ছে না, উপরন্তু কোনো সময়ে কেউ সেটা করলে তাদের ওপর মারমুখো হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এসব সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হয় তার জন্য সরকারের লোকেরা সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। এসব কারণে সংবাদপত্রের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, নিউজের থেকে নন-নিউজের গুরুত্বই বেশি। বিরোধী দলের কোনো কাজ ও তৎপরতা, কোনো বক্তৃতা-বিবৃতির থেকে খবরের নামে বাজে খবরের ভিড়ই সংবাদপত্রে বেশি। এটা অন্যতম প্রধান কারণ, যেজন্য বাংলাদেশে নিউজ সেকশনই দৈনিক সংবাদপত্রগুলোর দুর্বলতম অংশ। এসব জানা কথা, তবু গুরুত্বের কারণে এ বিষয়ের উল্লেখ বারবার করা ছাড়া উপায় নেই। নির্বাচন হল গণতন্ত্রের একটা অপরিহার্য দিক। শুধু নির্বাচন নয়, সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এদিক দিয়ে গৌরব করার মতো কিছু বাংলাদেশের নেই। বরং কারচুপি, জালিয়াতি, পুলিশি নির্যাতন এবং সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের চরম পক্ষপাতিত্ব নির্বাচনকে যে জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে এটা হল নির্বাচন উচ্ছেদের শামিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সরকার নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের সাহায্যে যেভাবে নির্বাচন করেছে তাতে ভোট ছাড়াই ১৫৩টি আসন লাভ করে তারা ‘বিজয়’ অর্জন করেছিল! বলাই বাহুল্য, তাদের এই বিজয় ছিল গণতন্ত্রের চরম পরাজয়। গণতন্ত্র হত্যা করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যবস্থা করেছিল এবং তারা তাদের সেই কর্মসূচি অনুযায়ী ফিরেও এসেছিল। সেই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে তারা এখনও ক্ষমতায় আছে।
কিন্তু শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নয়, দেশে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু রাখার জন্য অন্য অনেক স্তরে নির্বাচন করতে হয়। সিটি কর্পোরেশন থেকে নিয়ে ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন পর্যন্ত এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বাহ্যত এ ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক হলেও যেভাবে এসব ক্ষেত্রে সরকার নির্বাচন পরিচালনা করে এবং বিভিন্ন সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে তার মধ্যে লেশমাত্র গণতন্ত্র থাকে না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হলে নতুন নির্বাচন দেয়ার সময় হয়। কিন্তু এই নির্বাচনে জয়ের কোনো সম্ভাবনা না দেখে তারা দীর্ঘদিন নির্বাচন স্থগিত রাখে। অবশেষে কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ না করে তারা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করে সেখানে নির্বাচন ছাড়াই দু’জন প্রশাসক নিযুক্ত করে, যারা তাদেরই লোক। এভাবে দুই সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিযুক্ত করে নির্বাচিত মেয়রকে বিদায় করা হয়। অনেক পরে মাত্র কিছুদিন আগে নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপার পূর্ব পরিকল্পিত কারচুপির মাধ্যমে নিশ্চিত করে তারা নতুন নির্বাচন দেয় এবং তাতে তাদের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। ঢাকা সিটির ক্ষেত্রে এ কাজ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হলেও অন্য সিটি কর্পোরেশন, পৌর কর্পোরেশন ইত্যাদি নির্বাচন তাদের বাধ্য হয়ে করতে হয়েছিল। সেই নির্বাচনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, অন্তত গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশন ও পৌর কর্পোরেশনগুলোতে, আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজয় এবং বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের জয় হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র-প্রেম এমনই গভীর যে, তারা এভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চেয়ারে বসে কাজ করতে না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে বরখাস্ত করেছিল। এ কাজ স্থানীয় মন্ত্রণালয়কে দিয়ে করানো হয়। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অনুসৃত নীতি হল সব রকম কারচুপি ও নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী প্রার্থীকে পরাজিত করা। কিন্তু নিজেদের দলীয় প্রার্থী যদি জয়লাভ না করে, তাহলে বিরোধীদলীয় জয়ী প্রার্থী যাতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ না করতে পারে সেজন্য তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক তাদেরকে বরখাস্ত করা। সিটি কর্পোরেশন মেয়র, পৌর কর্পোরেশন মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইত্যাদির স্থানে সরকারি আমলাদের দিয়ে এগুলো পরিচালনা করা। এভাবেই ‘গণতান্ত্রিক’ আওয়ামী লীগ সরকার খুলনা, গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী, হবিগঞ্জ থেকে নিয়ে সর্বত্র প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে এসেছে। সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী তারা এ কাজ করেছে। আসলে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও যেভাবে তারা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল তাতে ভবিষ্যতে নিজেদের নির্বাচন জয়ের ব্যাপারে তাদের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। এ কারণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার উদ্দেশ্য সামনে রেখেই তারা এই চরম অগণতান্ত্রিক আইনটি প্রণয়ন করেছিল। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা হয়েছে সে ধরনের অভিযোগ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ভূরি ভূরি আছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের অথবা তাদেরকে বরখাস্ত করা হয় না। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। রাজশাহীর মেয়রকে চারটি মামলা দেখিয়ে বরখাস্ত করা হয়। ওই একই মামলায় কাউন্সিলরাও আসামি ছিলেন, কিন্তু তাদের কাউকেই বরখাস্ত করা হয়নি! (প্রথম আলো, ০৮.০৪.২০১৭)। কারণ এই কাউন্সিলরদের মধ্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগের লোকেরা আছে!! স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত সাড়ে তিন বছরে ৩৮১ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এর মধ্যে আছেন ৪ জন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ৩৬ জন পৌর মেয়র, ৫৬ জন কাউন্সিলর, ৫২ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৭৪ জন মেম্বার। তাদের অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী (দৈনিক ইত্তেফাক, ০৬.০৪.২০১৭)।
এসব ঘটনা ঘটতে থাকার সময় সব থেকে চমকপ্রদ বক্তব্য প্রদান করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি এক সমাবেশে বক্তৃতায় বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপরোক্ত সব সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু জানতেন না! তার এই বক্তব্য যে একেবারে অসত্য এটা বোঝার মতো বুদ্ধি সবারই আছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী যেভাবে তার সরকার পরিচালনা করেন এবং তার মন্ত্রী-এমপিরা যেভাবে তার কথায় ওঠাবসা করেন তাতে এ ধরনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো মন্ত্রণালয়ে কেউ তার নির্দেশ, সম্মতি ও অনুমতি ছাড়া কাজ করেন এটা অসম্ভব। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে দায়মুক্ত করে তার খেদমত করার উদ্দেশ্যেই যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী একথা বলেছেন এতে সন্দেহ নেই। তাদের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের দৌড় তো সবারই জানা। কিন্তু এ বিষয়ে অন্য কথাও আছে। ধরা যাক মন্ত্রী যা বলছেন তা ঠিক, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী মেয়রদের বরখাস্ত বিষয়ে কিছু জানতেন না। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা কী দাঁড়াল? এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি তার জানা না থাকে তাহলে তিনি দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করছেন কীভাবে? এটা কি কোনো যোগ্যতার পরিচায়ক? কাজেই সরকারের মন্ত্রী তাদের প্রধানমন্ত্রীকে দায়মুক্ত করার তোষামোদি চেষ্টায় যেভাবে তার অজ্ঞতার কথা বলেছেন তাতে তার ‘ভাবমূর্তি’ ও যোগ্যতার অবস্থা কী দাঁড়াল? এর দ্বারা তিনি প্রধানমন্ত্রীর কী উপকার করলেন? কিন্তু এসব কথা বলার অর্থ এই নয় যে, এর ফলে উপরোক্ত মন্ত্রী বা তার মতো মন্ত্রী, এমপি বা অন্য সরকারি লোকেরা দিগি¦দিক জ্ঞানশূন্য হয়ে যেভাবে কথা বলেন সেটা বন্ধ হবে। মোটেই তা নয়। কারণ সবরকম সমালোচনা, মিথ্যা ও ব্যর্থতা হজম করার শক্তির কোনো কমতি এদের নেই।
০৮.০৪.২০১৭
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

কালের সাক্ষী লালবাগ কেল্লা

বাংলাদেশের প্রাচীন স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লালবাগ কেল্লা। রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গার কোলঘেঁষে কালের সাক্ষী হয়ে থাকা এ ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। এখানকার পুরাকীর্তির মাধ্যমে যেমন কয়েকশ’ বছর আগের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়, তেমনি এর বাহ্যিক সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করতে পারে। তাই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এটি পরিদর্শনের জন্য প্রতি বছর কয়েক সহস্রাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। তাছাড়া রাজধানীর বাসিন্দাদের কাছে লালবাগ কেল্লা হচ্ছে রোমাঞ্চকর বিনোদন কেন্দ্র। জানা যায়, ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম সম্রাট আওরঙ্গজেবের সুযোগ্য পুত্র শাহজাদা আজম এ প্রাসাদ নির্মাণ কাজের সূচনা করেন। পরে সুবেদার শায়েস্তা খানের শাসনামলে ১৬৮৪ সালে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখে দুর্গটি পরিত্যক্ত হলে এর স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর অভ্যন্তরে স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে হাম্মামখানাসহ একটি সুরম্য দ্বিতল দরবার হল, একটি সমাধি সৌধ, তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি মসজিদ ও একটি পুকুর। যদিও কয়েক বছর ধরে পুকুরটিতে পানি নেই। তাছাড়া তিনটি সুদৃশ্য তোরণের পাশাপাশি দক্ষিণ এবং পশ্চিমের দুর্গ প্রাচীরের নির্দিষ্ট দূরত্বে পরপর একটি করে তোপমঞ্চ রয়েছে। ১৭০০ শতাব্দীর এসব স্থাপনাশৈলী দেখলে প্রাচীন মুঘল শাসনামলের খণ্ডচিত্র যে কারোর চোখের সামনে ভেসে আসে। বিশেষ করে হাম্মাম ও দরবার হলে সুবেদার শায়েস্তা খানের ব্যবহারের জন্য সুরম্য দ্বিতল ভবনটিতে সংরক্ষিত থাকা পারকাশন লক পিস্তল, ফ্রিন্ট লক পিস্তল, সিসার গুলি, কামান, লোহার তরবারি, সুরাহি ধাতু দিয়ে তৈরি চীনা গামলা ও সঞ্চয়পত্র, সৈনিক পোশাক, লোহার জালের বর্ম, গুপ্তি, তীর ও বর্ষা, বক্ষবর্ম নিরোধকসহ এর অসংখ্য নিদর্শনই বলে দেয় তৎকালীন শাসনব্যবস্থার ধরন কী ছিল। অবশ্য কয়েকশ’ বছর এসব নিদর্শন ভবনটির দ্বিতীয় তলায় সংরক্ষিত থাকলেও সেখানের কক্ষগুলো পরিত্যক্ত হওয়ায় বর্তমানে নিচতলার কক্ষগুলোতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লালবাগ কেল্লার অন্যতম আকর্ষণ হল, এর ভেতরে পশ্চিম পাশে অবস্থিত শায়েস্তা খানের প্রিয় কন্যা পরীবিবির সমাধি। ১৬৮৮ সালের আগে নির্মিত ২০.২ মিটার আয়তনের এ সমাধি সৌধটি মার্বেলপাথর, কষ্টিপাথর ও বিভিন্ন রঙের ফুলপাতা সুশোভিত, চাকচিক্যময় টালির সাহায্যে অভ্যন্তরীণ ৯টি কক্ষ অলঙ্কৃত হয়েছে। কক্ষগুলোর ছাদও কষ্টিপাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মূল সমাধি সৌধের কেন্দ্রীয় কক্ষের ওপরের কৃত্রিম গম্বুজটি তামার পাত দিয়ে তৈরি হওয়ায় এতে যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বাংলাদেশে এমন সমাধি সৌধ দ্বিতীয়টি নেই। তাছাড়া দরবার হলের বাঁকানো ছাদটিতে বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য চিত্রায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ পাশে থাকা শায়েস্তা খানের একান্ত বিশ্বস্ত সহসেনা অধিনায়ক খোদাবন্ধ মির্জা বাঙালির সমাধির উভয় পাশে অজ্ঞাত দুই শিশুর কবরও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নিদর্শন হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত রাজকীয় তোরণ। তিন তলাবিশিষ্ট এ তোরণটির শীর্ষের দুদিকে দুটি চিকন সুশোভিত মিনার ছাড়াও রয়েছে আট কোনাকার একটি টারেট। ভেতরে দু’পাশে দুটি সিঁড়িপথের উভয় দিকে প্রবেশের জন্য রয়েছে আলাদা বড় আকারের খিলান দরজা। এর ছাদের নিচের গম্বুজ আকৃতির সিঁড়িপথগুলোতে দর্শনার্থীরা কাটিয়ে থাকেন অবকাশ সময়। আর দুই পাশে রয়েছে ছোট ছোট প্রহরী কক্ষ। তবে একসময় চূড়ার চার কোনায় চারটি মিনারের ওপর ছোট আকৃতির গম্বুজ থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুটির অস্তিত্ব আছে।
এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ছাড়াও সম্প্রতি লালবাগ কেল্লাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর প্রতিষ্ঠিত লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পগুলোর ছবি। অবশ্য এটি উপভোগ করতে হলে দর্শনার্থীদের গুনতে হবে অতিরিক্ত ২০ টাকা। এর জন্য সময়ও নির্ধারিত রয়েছে আলাদা। কারণ রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া লালবাগ কেল্লা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। আর সোমবার থাকে অর্ধদিবস বেলা দেড়টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দেশি পর্যটক ২০, সার্কভুক্ত দেশ ১০০, অন্য বিদেশি পর্যটক ২০০ এবং মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ৫ টাকা। লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো প্রদর্শিত হয় সন্ধ্যা ৬টা ১০ থেকে পরবর্তী ৩০ মিনিট। তাই কেল্লার দর্শনার্থীরা সেখান থেকে বের হওয়ার পরই নতুন টিকিটে তা দর্শন করতে পারেন। তবে একটি আফসোস নিয়ে সেখান থেকে বের হতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। তা হল- এর ভেতরে চারদিকে সীমানাবেষ্টিত একমাত্র পুকুরে পানি না থাকা, ফোয়ারাগুলো নষ্ট হওয়ায় ছয়-সাত বছর ধরে পানিবিহীন লেক এবং মাটির নিচের পর্যটন টাওয়ারটি অকার্যকর থাকা। এসব আকর্ষণীয় জিনিস বন্ধ থাকায় আনন্দ ষোলোকলা পূর্ণ করতে পারছে না মানুষ। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দ্বৈত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং দর্শনার্থী অনুপাতে বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগার ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় এ স্থাপনাটির সুনাম কিছুটা ম্লান হতে পারে বলে মনে করেন অনেক দর্শনার্থী। দর্শনার্থী জিয়াউল হাসান খানের মতে, ছোটখাটো সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না করলে এর নিজস্ব সুনাম ধরে রাখা কঠিন হবে। নারী দর্শনার্থী সাহিদা মনে করেন, দু-একটি সমস্যা বাদ দিলে লালবাগ কেল্লা হচ্ছে আমাদের গৌরবে অমলিন এক অনন্য নিদর্শন। একই কথা বললেন লালবাগ দুর্গ জাদুঘরের কস্টোডিয়ান হালিমা আফরোজ। তিনি বলেন, এ দুর্গটি হচ্ছে বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য শিল্প। এর কিছু সমস্যা বিশেষ করে লেকগুলো কয়েক বছর ধরে অকার্যকর থাকায় পর্যটকরা পরিপূর্ণ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপের কারণে ইতিমধ্যে তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগা খান ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান এর দায়িত্ব পেয়েছে বলে তিনি জানান। শিগগিরই এ সমস্যাসহ অন্য সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

খালেদাকে ২৫ এপ্রিল হাজিরের নির্দেশ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১টি মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার মামলাগুলোর শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এ দিন খালেদা জিয়া উপস্থিত হতে না পারায় তার আইনজীবীরা আদালতে সময়ের আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা সময় আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলা হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন।
বাকি সাতটি স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে, যেগুলো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলাটি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলায় পরবর্তী ধার্য দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতে উপস্থিত থাকবেন। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিরপুরের দারুস সালাম থানায় নাশকতার আটটি, রাষ্ট্রদ্রোহের একটি ও যাত্রাবাড়ী থানার বিস্ফোরক ও হত্যা আইনের দুটি মামলা রয়েছে। গত বছরে এসব মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রের পর খালেদা জিয়া এসব মামলায় হাজির হয়ে জামিন নেন।

নাগরপুরে গাছ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় গাছ থেকে পড়ে মিলন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা সদরের উপন্দ্রেনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, সকালে স্থানীয় দুর্গা সাহার বাড়ির একটি ফল গাছে ওঠে মিলন।এ সময় পা পিছলে সে নিচে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজারে 'পরকীয়া' জুটির লাশ উদ্ধার

কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে টেকপাড়ার হাঙ্গরপাড়ার আব্বাসের বাসা লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- শহরের মোজাহের পাড়ার হাসান আলীর ছেলে আবদুল শুক্কুর আবু (২৫) ও খুরুস্কুল পূর্বহামজা পাড়ার নূরু মিস্ত্রির মেয়ে এক সন্তানের জননী হাসিনা আকতার (৩০)। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, শহরের হাঙ্গরপাড়ার ওই বাসায় গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ছিলেন শুক্কুর। তার পাশেই মেঝেতে অজ্ঞান পড়েছিলেন হাসিনা আকতার। পরে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তারা দু'জনই আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা পুলিশের। কারণ হাসিনার পাশে হারপিকের একটি বোতল পাওয়া গেছে। তার মুখেও হারপিক ছিল।
এছাড়া ওই বাসা থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি। নিহত আবদুল শুক্কুরের ভাই আবদুল গফুর হক্কানি জানান, পেশায় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি তার ভাই দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিলেন। নিয়মিত সে বাসায় যেতো না। এদিকে, নিহত হাসিনার আকতারের মা ছালেহা খাতুন জানান, তার মেয়ে বিবাহিত, স্বামী কাজের সুবাদে চট্টগ্রামে থাকে। একমাত্র সন্তান নিয়ে সে হাঙ্গরপাড়ায় ভাড়া বাসায়  থাকতো। তিনি বলেন, 'পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে তিন মাস আগে হাসিনা শুক্কুরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে হাসিনা। এরপর থেকে হয়তো তারা একসঙ্গেই ওই বাসায় ছিল।' এদিকে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুকুল, সহকারী পুলিশ (সদর সার্কেল) রুহুল কুদ্দুস।

ইন্দুরকানীতে ২৩ দোকান পুড়ে ছাই

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অগ্নিকাণ্ডে ২৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ইন্দুরকানী বাজারের আদমআলী সড়কে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুরুল হুদা জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট ও স্থানীয় জনতা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আলমগীরের মিষ্টির দোকানের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছে দমকল বাহিনী।

উল্লাপাড়ায় ট্রাকচাপায় মা-মেয়ে নিহত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রাকচাপায় মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ সময় বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে বগুড়া-নগরবাড়ি সড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার নেওয়ারগাছা কোল্ডস্টোরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন চায়না রানী পাল ও মেয়ে তুলি রানী পাল। আহত সংকর কুমার পালকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নাটোর থেকে সকালে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে কর্মস্থল শাহজাদপুর ডিগ্রি কলেজে যাচ্ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক সংকর কুমার পাল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নেওয়ারগাছার কোল্ডস্টোরের নিকট পৌঁছলে পেছন থেকে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সংকরের স্ত্রী চায়না রানী পাল ও মেয়ে তুলি রানী পাল মারা যান। নিহত চায়না রানী পাল পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে শাহজাদপুরে চাকরি করেন।

যেভাবে কোলেস্টেরল থাকবে নিয়ন্ত্রণে, কমবে হৃদরোগে মৃত্যু

প্রতিদিন ভাজাভাজি ও অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার খাচ্ছেন। রাত জেগে অফিসে কাজ করা যেন অভ্যাসের পরিণত হয়েছে। এমনটা নিয়মে পরিণত হলে আপনাকে কিন্তু বিপদে পড়তে হবে, তাই এখন থেকেই সাবধান হয়ে যান! আপনি জানেন কি? অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা কারণে রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। শরীরে দেখা দেয় নানা জটিলতা। এর জন্য এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে প্রথমে রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ে, তারপর একে একে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক প্রভৃতি মারণ রোগের আশংকা বৃদ্ধি পায়। একাধিক গবেষণায় দেখা যায়,
শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা গিয়ে জমতে শুরু করে আর্টারিতে। আর এ কারণে যদি হার্টে ঠিক মতো রক্ত পৌঁছাতে না পারে তাহলে হার্ট অ্যাটাকের আশংকা বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয় অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরলের কারণে ওবেসিটি, স্ট্রোক, ব্লাড প্রেসার প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও বাড়ে। তবে রক্তে চর্বির মাত্রা কমিয়ে এই মরণ রোগগুলোর হাত থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা একটি ঘরোয়া ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা মনে করেন, কোলেস্টেরল এবং হার্ট অ্যাটাকের আশংকা কমাতে ৩০-এর পর থেকেই এই আয়ুর্বেদিক ওষুধটি সেবন করা জরুরি। এ ওষুধটি ধীরে ধীরে আপনার কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে! তাহলে আসুন দেরি না করে সেই ঘরোয়া ওষুধ তৈরির প্রস্তুত প্রণালী জেনে নেই;
উপকরণ: ধনেপাতা হাফ কাপ, মধু ১ চা চামুচ ও এক গ্লাস পানি।
প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে ব্লেন্ডারে নির্দেশনা অনুযায়ী ধনেপাতা ও পানি দিয়ে ভালো করে ব্লান্ড করুন। এবার এতে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। ধনে পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং ভিটামিন-সি, যা কোলেস্টেরল কমাতে দারুণ কাজে আসে। অপরদিকে মধুতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপাটিজ। এটিও শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি টানা ২ মাস সকালে নাস্তার পর পান করলে দেখবেন অল্প দিনেই কোলেস্টেরলের মাত্রা একেবারে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত যে, নিয়মিত এ ঘরোয়া ওষুধটি সেবনের সঙ্গে যদি শরীরচর্চা এবং জাঙ্ক ফুড থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়, তাহলে অকালে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচবেন আপনি।

পারিশ্রমিক নিয়ে ভাবতে বললেন মুশফিক

জাতীয় দলে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেছেন টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তিনি বলেন, 'জাতীয় দলের হয়ে ১০-১২ বছর খেলার পর এখনও মনে হয় অনেক কিছুই নাই, অনেক কিছুই করার বাকি আছে। আমরা বোর্ডের কাছে অনুরোধ করেছি। আশা করছি কর্তৃপক্ষ কিছু করবে।' রোববার প্রিমিয়ার লিগের দলবদলে মোহামেডান ছেড়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে নাম লিখিয়ে এ মন্তব্য করেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল দিয়ে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হয়।
জাতীয় দলে আমরা বছরের ৯ থেকে ১০ মাসই ব্যস্ত থাকি। তাই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের জন্য শুধু জাতীয় দলই নয়, প্রতিটি প্লেয়ারই মুখিয়ে থাকেন। ঘরোয়া লিগের মতো জাতীয় দলেও যদি এমন পেমেন্ট পেতাম তাহলে অবশ্যই ভালো হতো।’ ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেললে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা পান ৭৫ হাজার টাকা। টেস্ট খেললে পান দ্বিগুণ। পঞ্চম দিন লাঞ্চ পর্যন্ত টেস্ট খেলতে পারলে দেয়া হয় দুই লাখ টাকা। আর ‘ড্র’ করতে পারলে ক্রিকেটাররা পান আড়াই লাখ। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে কম পারিশ্রমিক টি ২০ ম্যাচে। প্রতি ম্যাচে মেলে ৫০ হাজার টাকা।

আইপিএলে প্রথবারেই রশিদের চমক

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে উঠে এসে বল হাতে দশম আইপিএল মাতাচ্ছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। মাত্র দুই ম্যাচে নিজে রশিদ এতটাই উপরে নিয়ে গেছেন যে, টুর্নামেন্টের পার্পল ক্যাপও তার মাথায় শোভা পাচ্ছে এই মুহূর্তে। পাক-আফগান সীমান্ত প্রদেশ নঙ্গরহর-এর পাশতুন ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম রশিদের। পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদির ভক্ত রশিদ খান বছর সাত আগে মহল্লার গলিতে ভাইয়ের সঙ্গে টেনিস বলে ক্রিকেট খেলছিলেন। টিভিতে তখন চলছিল টি ২০ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের ম্যাচ। তা দেখেই রশিদ ঠিক করে নেন তাকেও একদিন দেশের হয়ে খেলতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। রশিদের নিজের কথায়, ‌'মাঠ, পরিকাঠামো ঠিকঠাক পাইনি। কিন্তু পরিশ্রমে খামতি রাখিনি। তাই এই জায়গায় আসতে পেরেছি।' ফেব্রুয়ারিতে আইপিএল নিলামে তাকে চার কোটি টাকায় তুলে নিয়েছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কোচ টম মুডি। মুডির যুক্তি ছিল, ‌'চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে ছেলেটা বল করতে পারে। ব্যাটসম্যানকে চাপে রাখে।' প্রথমবার আইপিএলে খেলতে নেমে বল হাতে তা করেও দেখাচ্ছেন রশিদ। প্রথম ম্যাচে রয়্যাল চালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে দুই উইকেট নেন। এরপর গতকাল রোববার গুজরাট লায়ন্সের বিরুদ্ধে রশিদের শিকার ৩ উইকেট, যার মধ্যে রয়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, সুরেশ রায়না এবং অ্যারন ফিঞ্চ।
বাইশ গজে রশিদের লেগস্পিনের ঘূর্ণি সামলাতে গিয়ে তিনজনেই এলবিডব্লিউ হন। তার চেয়েও চমকপ্রদ গুজরাট লায়ন্সের বিরুদ্ধে রশিদের বোলিং বিশ্লেষণ, ৪-০-১৯-৩। সবচেয়ে মজার বিষয় চার ওভঅরে রশিদ ১১টি বলই করেছেন 'ডট'। এছাড়া ধবল কুলকার্নিকে মোক্ষম সময়ে রানআউটও করেন তিনি। গুজরাটকে সাত উইকেটে ১৩৫ রানের মধ্যে আটকে রাখার নায়ক প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে বলেও গেলেন, ‌'আইপিএলে পার্পল ক্যাপ পাওয়াটা জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। আশা করছি টুর্নামেন্টের শেষেও টুপিটা নিজের কাছে রেখে দিতে পারব।' আফগানি এ তরুণ তুর্কি বলেন, 'জানি, আমার বোলিং খেলতে ব্যাটসম্যানদের সমস্যা হচ্ছে। এই পিচে উইকেট টু উইকেট বল করে গেলে ব্যাটসম্যানদের সমস্যা হবেই। আমি সব সময়েই চেষ্টা করি ‘ডট বল’ করে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে।' গুগলি, লেগব্রেকের সঙ্গে ক্রিজটাও চমৎকার ব্যবহার করেন রশিদ। সম্প্রতি আয়ার্ল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি ২০ ম্যাচে দুই ওভারে পাঁচ রানে তিন উইকেট নিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। সানরাইজার্সের বোলিং পরামর্শদাতা মুরলিধরনের টিপস নিজের ঝুলিতে যতটা পারেন ঢুকিয়ে নিতে চান। একই সঙ্গে ব্যাটিংটাও ঝকঝকে করতে ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং টম মুডির থেকে দেদার পরামর্শ নিচ্ছেন।

ইউনুস খান যখন ‘ইউনিক খান’

পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার ইউনুস খানকে পাকিস্তানের সৎ ও নির্ভিক ক্রিকেটার হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং স্তম্ভ ইউনুস খানকে ‘ইউনিক খান’ বলে ক্রিকেটবিশ্বে তুলে আনতে চাইছেন শোয়েব। তার মতে, ইউনুস ক্রিকেটবিশ্বের একজন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন ইউনুস খান। শোয়েব জানান, তার নাম বদলে ‘ইউনিক খান’ রাখা উচিত। তার সাফল্য আর ক্রিকেটের প্রতি সততা থেকেই তাকে এই নামে ডাকা দরকার। তিনি বিশ্বক্রিকেটের একজন চ্যাম্পিয়ন। শোয়েব যোগ করেন, ‘ইউনুস খানের অবসর শেষের শুরু। তার অবসরকে আপনারা শেষ বলে দেখছেন। কিন্তু আমার কাছে এটাই তার শুরু। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। বোর্ড তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিতে পারবে। পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য তিনি ব্যাট করতে পারবেন। শুধু তার জার্সি নম্বর ৭৫-ই অবসর নেবে।’ টেস্ট ক্রিকেট থেকে মিসবাহ-উল-হকের অবসরের ঘোষণা দেয়ার দু’দিন পর একই ঘোষণা দেন ইউনুস খান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষেই সাদা পোশাকে আর খেলবেন না বলে জানিয়ে দেন এই ডান-হাতি মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ (২১ এপ্রিল শুরু) শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন ৪২ বছর বয়সী মিসবাহ ও ৩৯ বছর বয়সী ইউনুস। পাকিস্তানের হয়ে ১১৫টি টেস্ট খেলেছেন ইউনুস। ৫৩.০৬ গড়ে রান ৯৯৭৭। ৩২টি অর্ধশতকের পাশাপাশি রয়েছে ৩৪টি সেঞ্চুরি। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ২৬৫ ওয়ানডেতে ৩১.২৪ গড়ে ৭২৪৯ ও ২৫টি টি ২০তে ২২.১০ গড়ে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪২ রান। ওয়ানডেতে সাতটি শতকের পাশাপাশি হাঁকিয়েছেন ৪৮টি অর্ধশতক। টি ২০তে রয়েছে দুটি ফিফটি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ইউনুসের নামের পাশে রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও করেছেন প্রায় ১০ হাজার রান। সম্প্রতি ইউনুস খানের নাম ওঠে উইজডেনের বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটারের তালিকায়। ১৭ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়া ইউনুস খানের। টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ২০০০ সালে, শ্রীলংকার বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে। একই বছর ওয়ানডেতে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডেতেও তার অভিষেক হয়। জাতীয় দলের হয়ে ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টি ২০ খেলেছিলেন। টেস্ট চালিয়ে গেলেও ২০১৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে নামেননি তিনি। ওয়েবসাইট।

সাকিববিহীন কলকাতার হার

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে চার উইকেটে হারিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এ ম্যাচেও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান কলকাতার মূল একাদশে জায়গা পাননি। কলকাতার ৭ উইকেটে করা ১৭৮ রানের জবাবে খেলতে নেমে হার্দিক পান্ডিয়ার ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রানের অনবদ্য ইনিংসে এক বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। মুম্বাইয়ের রানা মাত্র ২৯ বলে ৫০ রান করেন। এছাড়া ওপেনার পার্থিব প্যাটেল ৩০ ও বাটলার ২৮ রান করেন। কলকাতার পক্ষে অংকিত রাজপুত ৩৭ রানে তিন উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে মনীষ পান্ডের ৪৭ বলে অপরাজিত ৮১ রানের রাজসিক ইনিংসের ওপর ভর করে ১৭৮ রান সংগ্রহ করে। মনীষ পান্ডের ইনিংসটি ছিল পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো।  এছাড়া ২৪ বলে ৩২ রান করেন ওপেনার ক্রিস লিন। মুম্বাইয়ের পক্ষে প্রথম খেলতে নামা লাসিথ মালিঙ্গা ৩৬ রানে দুটি এবং কেএইচ পান্ডিয়া ২৪ রানে তিনটি উইকেট নেন। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন বিজয়ী দলের রানা।

সিরিয়া প্রশ্নে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ জোরদার

সিরীয় সরকারের লাগাম টেনে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র রোববার রাশিয়াকে চাপ দিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আবারো রাসায়নিক হামলা চালানো হলে ওয়াশিংটন ও মস্কো’র মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে। তারা আরো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতায় রেখে কোন শান্তি হতে পারে না। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে আলোচনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন মঙ্গলবার মস্কো যাচ্ছেন। এর প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা মস্কোর সাথে কূটনৈতিক বিরোধের বিষয় নিয়ে রোববার এক টেলিভিশন টক শো’তে অংশ নেন। গত চার এপ্রিল সন্দেহজনক সারিন গ্যাস হামলার জবাবে দামেস্ক’র সময় শুক্রবার সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এটি হবে তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ার খান শেখুন শহরে ওই রাসায়নিক হামলায় ৮৭ জন বেসামরিক লোক মারা যান। তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘কৌশলগত ভুল’ করেছে। তিনি আরো বলেন, ইরান কোন হুমকির মুখে মাঠ ছেড়ে যাবে না। সিরীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ সংবাদপত্র আল-ওয়াতার ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিরিয়ার বিরুদ্ধে যেকোন ধরনের আগ্রাসনে আমরা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবো।’

কানাডায় বরফধসে ৫ পর্বতারোহী নিহত

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের কাছে বরফধসে দক্ষিণ কোরিয়ার পাঁচ পর্বতারোহী মারা গেছেন। পুলিশ রোববার একথা জানিয়েছে। শুক্রবার থেকে ভ্যাঙ্কুভারের উত্তরের আবহাওয়া পরিস্থিতি বৈরী ও অস্থিতিশীল রয়েছে।, স্কুয়ামিশের রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার বিকেলে এক পর্বতারোহী মাউন্ট হারভেইয়ের শীর্ষে তুষার ধসের ঘটনা জানিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে। রোববার মাউন্ট হারভেইয়ের প্রায় ৫শ’ মিটার ও ১৬শ’ মিটারের মধ্যে লাশগুলো পাওয়া যায়। ভ্যাঙ্কুভার সান পত্রিকা জানায়, নিহতদের সবাই অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক।

মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে

রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুস্ক থাকতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়।
ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বয়ে যেতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। অন্যদিকে সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিম অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। সূত্র : বাসস

কলম্বিয়ায় দলত্যাগী বিদ্রোহীদের হামলায় সৈন্য নিহত

কলম্বিয়ায় ফার্কের দলত্যাগী সদস্যদের হামলায় এক সৈন্য নিহত ও অপর চারজন আহত হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গুয়াভিয়ার অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। সৈন্যদের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এই হামলায় এক সৈন্য প্রাণ হারিয়েছে এবং একজন নন-কমিশন্ড সেনা অফিসার ও দুজন সৈনিক আহত হয়েছে।’ বিবৃতিতে জানানো হয়, এই ঘটনায় নিখোঁজ আরো এক সৈন্যকে আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্টোস টুইটারে জানান, হামলায় চার সৈন্য আহত হয়েছে।