Saturday, May 24, 2025
‘ইসরাইল পাগল রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে’ গাজার প্রতিটি শিশুই আমাদের শত্রু: সাবেক ইসরাইলি আইনপ্রণেতা
মাত্র ১৯ মাস আগে, যখন হামাস বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১২০০ মানুষ হত্যা করে ও ২৫১ জনকে গাজায় অপহরণ করে জিম্মি করে তখন এ ধরনের মন্তব্য ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু এখন গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরাইল নতুন ভয়াবহ সামরিক অভিযানে নেমেছে। তারা ১১ সপ্তাহের অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু খুব কম পরিমাণ সাহায্য সেখানে পৌঁছেছে। ইসরাইলের চ্যানেল ১২ পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৬১ ভাগ মানুষ যুদ্ধ বন্ধ করে বন্দিদের ফেরত চায়। শতকরা মাত্র ২৫ ভাগ গাজায় আক্রমণ বাড়ানোর পক্ষে। সরকার এখনও বলছে তারা হামাসকে ধ্বংস করবে ও বাকি বন্দিদের উদ্ধার করবে। নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তিনি ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ অর্জন করতে পারবেন এবং তার একটি শক্ত সমর্থক গোষ্ঠী এখনো আছে। কিন্তু ইসরাইলি সমাজের অন্যান্য অংশে ‘এক ধরনের হতাশা, মানসিক আঘাত এবং পরিবর্তন আনার অক্ষমতার অনুভূতি’ দেখা দিচ্ছে। এমনটাই বলছেন সাবেক বন্দি বিষয়ক আলোচক গারশন বাসকিন। তিনি আরও বলেন, প্রায় সব বন্দি পরিবারেরই মত হলো যুদ্ধ বন্ধ হতে হবে এবং একটি চুক্তি করতে হবে। একটি ছোট গোষ্ঠী মনে করে, প্রথমে হামাসকে শেষ করতে হবে, তাহলেই বন্দিরা মুক্ত হবে।
রোববার প্রায় ৫০০ প্রতিবাদকারী অনেকেই গাজায় নিহত শিশুদের ছবি ও ‘গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করো’ লেখা টি-শার্ট পরে সদেরত শহর থেকে গাজা সীমান্ত পর্যন্ত মিছিলের চেষ্টা করেন। এই মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন স্ট্যান্ডিং টুগেদার নামে ইসরাইলের ইহুদি ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের এক ছোট কিন্তু ক্রমবর্ধমান যুদ্ধবিরোধী সংগঠন। সড়ক অবরোধের চেষ্টা করায় নেতা আলোন-লি গ্রিন-সহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গৃহবন্দি অবস্থায় বিবিসিকে গ্রিন বলেন- আমি মনে করি এটা এখন স্পষ্ট ইসরাইলি জনগণের মধ্যে এক ধরনের জাগরণ শুরু হয়েছে। আরও অনেক মানুষ এখন অবস্থান নিচ্ছেন। সংগঠনের আরেক সদস্য উরি ওয়েল্টম্যান বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া শুধু ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের ক্ষতি করছে না, এটি বন্দিদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে, সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে, আমাদের সবার জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে। এপ্রিল মাসে হাজার হাজার ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা এক চিঠিতে সই করে সরকারকে যুদ্ধ থামিয়ে একটি বন্দি মুক্তির চুক্তির জন্য আহ্বান জানান। তবে ইসরাইলের অভ্যন্তরে নানা দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বুধবার গাজার কারেম শালোম সীমান্তে গিদেওন হাশাভিতের সাথে কথা বলে বিবিসি। তিনি গাজায় সাহায্য ঢুকতে না দেওয়ার প্রতিবাদে অংশ নেন।
গাজার প্রতিটি শিশুই আমাদের শত্রু: সাবেক ইসরাইলি আইনপ্রণেতা
গাজার শিশুদের নিয়ে উদ্ভট মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের সাবেক আইনপ্রণেতা মোশে ফিগলিন। বলেছেন, গাজার প্রত্যেকটি শিশুই আমাদের শত্রু। গাজার মানবিক পরিস্থিতি যখন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় পার করছে ঠিক তখনই এমন বেফাঁস মন্তব্য করেন কট্টরপন্থী ইসরাইলে ওই রাজনীতিবিদ। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, হামাসকেও আসল শত্রু গণ্য করছেন না মোশে। বলেছেন, হামাস বা হামাসের সামরিক শাখাও আমাদের আসল শত্রু নয়। আমাদের আসল শত্রু হলো গাজার প্রত্যেকটি শিশু। জায়ানবাদী এই নেতা আরও বলেন, আমাদের গাজা দখল করা প্রয়োজন। গাজার একটি শিশুও সেখানে থাকবে না।
এর আগে আইডিএফের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ইয়ের গোলান অভিযোগ করেন, গাজার শিশুদেরকে হত্যা করা যেন নিজেদের শখে পরিণত করেছে ইসরাইল। তার ওই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করলেন মোশে ফিগলিন। এক সংবাদ সম্মেলনে উপত্যকাটিতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকারও তুমুল সমালোচনা করেছেন ইয়ের গোলান। বলেছেন, ইসরাইল দিন দিন প্যারিয়া রাষ্ট্রে ( এমন এক রাষ্ট্র যার আন্তর্জাতিক কোনো সমর্থক নেই) পরিণত হচ্ছে। কেননা সুস্থ কোনো দেশ কখনো বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনা। শখের বশে শিশু হত্যা করে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা প্রতিহিংসাপরায়ণ ও তাদের কোনো নীতি নেই। সংকটের সময় তাদের দেশ চালানোর কোনো ক্ষমতা নেই। গোলানের ন্যায্য এই মন্তব্যকে ‘বন্য উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন নেতানিয়াহু।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাদের ‘বীর সেনাদের’ বিরুদ্ধে ইয়ের গোলানের উস্কানির তীব্র নিন্দা জানাই। আইডিএফ আমাদের সবচেয়ে নীতিবান সেনাবাহিনী। তারা আমাদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করছে। সোমবার হামাসকে পরাজিত করে সম্পূর্ণ গাজা দখলের নির্দেশ দেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরপর থেকেই উপত্যকাটিতে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত চার দিনে ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৬০০ ফিলিস্তিনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৫৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা লাখেরও অধিক। গাজায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার ইসরাইলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে বৃটেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরাইলি হামলার ৫৯২ দিন, গাজার রক্তাক্ত অধ্যায়
আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবর, গাজার উত্তরের বেইত লাহিয়া শহরের ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল এবং আশপাশের আবাসিক এলাকায় চালানো হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, জীবিতদের চেয়ে এখন মৃতদেহই বেশি উদ্ধার হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই দীর্ঘ সংঘাতের ফলে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৩ হাজার ৭৬২ জন ফিলিস্তিনি। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ১৯৭ ছাড়িয়ে গেছে। তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস মনে করছে, এই সংখ্যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা হাজার হাজার মানুষকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
টানা যুদ্ধ, সীমান্ত অবরোধ এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসের কারণে গাজা বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। ইসরাইল সীমিতভাবে ১০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিলেও, জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই সহায়তা ২১ লাখ মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়। সংস্থাটির মুখপাত্র বলেছেন, এটি বিশাল মরুভূমিতে এক ফোঁটা জলের মতো। চিকিৎসা ব্যবস্থার অবস্থা আরও ভয়াবহ। কার্যকর হাসপাতালের সংখ্যা এখন মাত্র দুটি। জ্বালানির ঘাটতিতে অনেক জরুরি সেবাও বন্ধ হয়ে গেছে। প্যালেস্টাইন রেডক্রিসেন্ট সতর্ক করেছে যে, তারা হয়তো অচিরেই সম্পূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবে।
গাজায় ইসরাইলি অভিযান নিয়ে বিশ্ব সমপ্রদায়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বৃটেন, ফ্রান্স ও কানাডা ইসরাইলের সামরিক কার্যক্রমের সমালোচনা করেছে। তারা গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর অতিরিক্ত সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে এ তিন দেশের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বলেছেন, এমন প্রতিক্রিয়া ‘মানবতার বিপক্ষে অবস্থান’ নেয়ার শামিল। নেতানিয়াহুর দাবি, আমরা নিজেদের রক্ষা করছি। যারা আমাদের প্রতিরক্ষা অভিযানের সমালোচনা করছে, তারা সন্ত্রাসের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধানসহ দুই শীর্ষ কমান্ডারকে একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে হত্যা করেছে। হামাস এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে তারা গাজার বিভিন্ন অংশ থেকে রকেট হামলার মাধ্যমে পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তারা ইসরাইলের অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, এই যুদ্ধের নামে শিশু, নারী এবং নিরস্ত্র জনগণের ওপর অতিরিক্ত সহিংসতা চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল।
চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। তার ভাষায়, আমরা দক্ষিণ গাজায় একটি বৃহৎ নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করবো, যেখানে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য স্থানান্তরিত হবে। অন্যান্য অঞ্চলে আমাদের অভিযান চলবে। এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই এটিকে ‘জোরপূর্বক স্থানান্তরের’ নামে গাজা দখলের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। গাজায় ইসরাইলি হামলার ৫৯২ দিনের প্রায় প্রতিটি দিনই ইতিহাসে রক্তের দাগ যোগ করেছে। মানবিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাদের হামলা বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এখন বিশ্ব সমপ্রদায়ের কাছে কোটি কোটি ডলারের প্রশ্ন হলো- ইসরাইলের এমন বর্বরতার শেষ কোথায়? গাজাবাসীর পরিণতি কী হবে?

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় আগ্রাসন নিয়ে কানাডা কেন এখন সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলছে
এই সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ এক বিবৃতিতে কানাডা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছে। গাজাবাসীর দুর্ভোগকে তারা ‘অসহনীয়’ ও ইসরায়েলের দেওয়া সীমিত সহায়তাকে ‘সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত’ বলে উল্লেখ করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়াকে ‘অতিমাত্রায় অসম’ ও ‘জঘন্য’ বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েল এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৫৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সংখ্যার বাইরে আরও অনেক ফিলিস্তিনি রয়ে গেছেন। সুতরাং গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এই তিন দেশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ‘চুপ করে থাকবে না’ এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি দখলদারদের হামলা ও ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাসহ আরও পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না’।
তিন দেশের এই বিবৃতি নিয়ে হামাস প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা এটিকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছে। হামাস বলেছে, এই নীতিমালা নেতানিয়াহুর ‘সন্ত্রাসী সরকার’ অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে।
গত বুধবার ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চার কানাডীয় কূটনীতিক অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরে গেলে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁদের ওপর গুলি চালান। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডা ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্ত’ ও ‘তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা’ দাবি করেছে। তারা ওই ঘটনাটিকে ‘সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। ইসরায়েল শুধু এটুকুই বলেছে, ‘এই ঝামেলা তৈরি হওয়ায় তারা অনুতপ্ত।’
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ অনেক দিন ধরেই ইসরায়েলের সমালোচক। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সপ্তাহে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছেন এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
অন্যদিকে কানাডা আগে ইসরায়েলের সমালোচনা করলেও তা সাধারণত খুব সংযত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে চলেছে। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।
কানাডার আইনের অধ্যাপক ও জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি মাইকেল লিঙ্ক বলেন, স্বীকার করতে হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ‘মধ্য শক্তি’ হিসেবে কাজ করে থাকে কানাডা। মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তাঁর দেশ কাজ করে।
মাইকেল লিঙ্ক আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলের বিষয়ে আমি অনেক দিন ধরে কানাডার কাছ থেকে এ রকম ভাষা শুনিনি। সম্ভবত কখনো না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কানাডার সাবেক এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, এটি এক নতুন সুর, যা আগে দেখা যায়নি।
এখন কেন এই অবস্থান
কানাডার সাবেক ওই কর্মকর্তা বলেন, কানাডা মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া ঠিক করার আগে সাধারণত ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে থাকে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুটি কানাডায় তীব্র জনমত তৈরি করে, যার জন্য তাদের খুব সতর্ক থাকতে হয়।
কিন্তু গাজায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবরোধ, অবকাঠামো ধ্বংস এবং কানাডায় নতুন নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বদলে গেছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একজন ঝানু অর্থনীতিবিদ এবং তিনি রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলেন। এখন এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি অনেক বেশি সরাসরি বক্তব্য দিচ্ছেন।
মাইকেল লিঙ্ক বলেন, ‘মানবিক বিপর্যয় এখন এতটাই গভীর ও সংকটপূর্ণ যে সম্ভবত মার্ক কার্নি এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের জায়গা থেকে এগিয়ে এসেছেন এবং সময়ের দাবি মেনে যথাযথভাবে সাড়া দিয়েছেন।’
মাইকেল লিঙ্ক বলেন, কার্নি এর আগে কখনো নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর ছিলেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপীয় মিত্রদের কাছাকাছি দেখতে চান।
এই অধ্যাপক বলেন, জাস্টিন ট্রুডোর মতো কার্নির কাঁধে ততটা রাজনৈতিক বোঝা নেই, বিশেষ করে প্রধান প্রধান ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে।
লিঙ্ক ব্যাখ্যা করে বলেন, কানাডা কখনো অর্ধেক পদক্ষেপও নেয়নি, তারা তার চেয়েও কম এক–চতুর্থাংশ পদক্ষেপ নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছে। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে চলতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে কানাডা বরাবরই পিছিয়ে ছিল…আসল পরীক্ষা হবে কতটা শক্তিশালী পদক্ষেপ তারা নেয়, সেটাই।
সরকারের এক কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, কানাডা যখনই অবস্থান নেয়, সেটা প্রায় সব সময়ই আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়, এটিই তাদের পররাষ্ট্রনীতির সাধারণ নিয়ম। তিনি আরও যোগ করেন, কানাডা যখন কথা বলে, তখন একা দাঁড়ায় না।
মাইকেল লিঙ্ক বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, গত সোমবার দেওয়া বিবৃতিটি আংশিকভাবে এসেছে এই কারণে যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পাশে থেকে তারা রাজনৈতিকভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব-নিকাশ
গাজায় ইসরায়েলের ১৯ মাস ধরে চলা যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিছু কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এটিকে সরাসরি গণহত্যা বলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য যাদের ইসরায়েলের ওপর যথেষ্ট প্রভাব আছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন একধরনের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতিতে চলছে এবং ইসরায়েল থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছে। এককভাবে তারা হামাস, ইয়েমেনের হুতি ও ইরানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেমাক্রেসি ফর দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডিএডব্লিউএন) সংস্থার অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর রায়েদ জারার মিডল ইস্ট আইকে বলেন, কানাডার এই জোরালো বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি একটি বার্তা পাঠায় যে তারা আর শুধু নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
জারার বলেন, অতীতে অনেক মার্কিন মিত্রদেশ ইসরায়েলের সমালোচনা করতে দ্বিধা করত। কারণ, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের প্রতিশোধের বিষয়ে ভয় পেত।
কিন্তু এখন গাজা এমন এক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে, যা আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ইসরায়েলপন্থী লবিগুলো কানাডায় প্রভাবশালী হলেও তারা কিন্তু ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় না’।
কানাডার সাবেক কর্মকর্তা বলেন, কানাডার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অর্থ ও অনুদানের বিষয়ে অনেক ভারসাম্য রয়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, যেখানে প্রায় অবারিত স্বাধীনতা রয়েছে।
সবশেষ কথা হচ্ছে, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে যাঁরা কথা বলেছেন তাঁরা সবাই একমত, এখন শুধু কথা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।
রায়েদ জারার বলেন, গাজায় অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কারণ, এখানে শুধু ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা এবং গাজার মানুষের খাবারের অধিকারের প্রশ্ন নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলারও প্রশ্ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী যে বিশ্বশান্তি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি ছিল জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা, কানাডা শুরু থেকেই যার সদস্য। কানাডা এখনো ফিলিস্তিনিদের সহায়তাকারী জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে অর্থায়ন করে যাচ্ছে।
![]() |
| গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় প্রায় ৫৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ধুলায় মিশে যাচ্ছে একের পর এক অবকাঠামো। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের ভেতরে যে প্রতিরোধের কথা আমরা জানি না by জাভেদ হুসেন
ইসরায়েলে বর্ণবাদবিরোধিতার আদি মুখ: মেইর ভিলনার
ইসরায়েলের ইতিহাসে যুদ্ধ ও নিপীড়নের বিপরীতে অবস্থান নেওয়া মানুষের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। এর শুরুর দিকেই রয়েছেন মেইর ভিলনার (১৯১৮-২০০৩) একজন মার্ক্সবাদী, যিনি ইসরায়েলের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় একজন স্বাক্ষরকারী হয়েও জায়নিজমের সমালোচক ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি রাষ্ট্রকাঠামোর মাধ্যমে ইহুদি জনগণ আত্মরক্ষা করতে পারে ঠিকই, তবে সেই রাষ্ট্র যেন বর্ণবাদী বা সাম্প্রদায়িক না হয়। তিনি ছিলেন দুই জাতির (ইহুদি ও আরব) সমান অধিকারের পক্ষে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার সোচ্চার সমর্থক।
ভিলনার ইসরায়েলি কমিউনিস্ট পার্টি ‘মাকি’র নেতা হিসেবে দীর্ঘকাল পার্লামেন্টে বামপন্থী-বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে যখন ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা ও গোলান মালভূমি দখল করে, তখন তিনি তা ‘আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে সংসদে প্রতিবাদ করেন। এই অবস্থানের জন্য তিনি ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত হন। একবার এক কট্টর ইহুদির হাতে ছুরির আঘাত খেয়েও বেঁচে যান।
ভিলনারের উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে ওঠে হাদাশ নামে আরব-ইহুদি বামপন্থী রাজনৈতিক দল, যা এখনো ইসরায়েলি সংসদে সক্রিয়। তারা তাঁকে নিজেদের আদর্শিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করে।
ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া কণ্ঠ
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার আগেই ১৯৪০ ও ৫০-এর দশকে ‘মাপাম’, ‘মাকি’ বা ‘হাশোমের হাতসায়ার’-এর মতো বামপন্থী সংগঠনগুলো আরব-ইহুদি সহাবস্থানের পক্ষে ছিল। তারা মনে করত, ইহুদি নিরাপত্তা অর্জনের জন্য আরবদের জমি দখল বা বিতাড়ন কোনো টেকসই সমাধান নয়। ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও গাজার দখলের পর ‘অধিকৃত ভূখণ্ড’ শব্দটি ইসরায়েলি মানবাধিকারকর্মীদের মাধ্যমেই প্রথম ব্যবহার শুরু হয়।
এই ভিন্নমতের ধারাকে এখনো জীবিত রাখছে এক ঝাঁক সংগঠন: যেমন ‘বেতসেলেম’, ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’, ‘যেশ গ্ভুল’, ‘মখসোম ওয়াচ’, ‘আনরিপোর্টেড ইন ইসরায়েল’, ‘জোচরট’। এসব দলে রয়েছেন সাবেক সেনা, নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকেরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য—ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে, তা যুদ্ধাপরাধ।
যুদ্ধবিরোধী কণ্ঠকে চেপে ধরার সংস্কৃতি
এই মানবিক কণ্ঠগুলোকে বরাবরই দমন করেছে ইসরায়েলি রাষ্ট্র। কখনো ‘স্বজাতি-বিরোধী’ আবার কখনো ‘হামাসপন্থী’ বলে তাঁদের হেয় করা হয়। গবেষণায় অনুদান বন্ধ হয়ে যায়, চাকরি চলে যায়, বিদেশে পালিয়ে যেতে হয়। যেমন ২০০৮ সালের গাজা যুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভেতরের নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে কিছু সাবেক সেনাসদস্য গঠন করেন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’। সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেনি ঠিকই, কিন্তু তাঁদের ওপর চলছে লাগাতার নজরদারি, হুমকি আর আর্থিক নিপীড়ন।
২০১৮ সালে ‘নেশন স্টেট ল’ পাস করে ইসরায়েল। এতে বলা হয়, শুধু ইহুদিরাই রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়ের কেন্দ্র। এই আইনের বিরুদ্ধে সংসদে মুখ খুলেছিলেন হাদাশ পার্টির আইমান ওদে, ইহুদি বামপন্থী দোভ খানিন এবং নারী আইনপ্রণেতা তামার জানবার্গ। তাঁদের ভাষায়, এই আইন গণতন্ত্রের মুখোশ পরে জাতিগত আধিপত্য কায়েম করে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরোধী প্রতিরোধ
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় হামলা শুরুর পর ইসরায়েলের ভেতরেও প্রতিবাদ দেখা দেয়। তেল আবিব, হাইফা ও নাজারেথে হয় যুদ্ধবিরোধী মিছিল। ‘জিউস এগেইনস্ট জেনোসাইড’, ‘স্টুডেন্টস ফর সিজফায়ার’সহ বিভিন্ন ছোট সংগঠন রাস্তায় নামলে পুলিশ অনেককে গ্রেপ্তার ও নিগ্রহ করে। সাংবাদিকেরা এসব ঘটনা প্রকাশ করতে ভয় পান, কারণ সমালোচনাকে সহজেই ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বিরোধী বলা হয়।
তবু কিছু সাংবাদিক সাহস দেখান। গিডিওন লেভি ও আমির হাস, লেখেন হারেৎজ পত্রিকায় ফিলিস্তিনে চলমান নিপীড়নের অন্ধকার দিক নিয়ে।
‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামে একটি আরব-ইহুদি যৌথ সংগঠন বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ, মোমবাতি প্রজ্বালন ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক-ছাত্র ‘গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ’ করার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের অনেকেই বহিষ্কৃত হন, সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠন তাঁদের ‘সন্ত্রাসবাদ সমর্থক’ বলে অভিযুক্ত করে।
এ ছাড়া ‘ইসরায়েলি একাডেমিকস ফর পিস’, ‘জিউস এগেইনস্ট অকুপেশন’ ও ‘এডুকেটরস এগেইনস্ট জেনোসাইড’—এই সংগঠনগুলোর সদস্যরা ক্লাসে ও গবেষণায় যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছেন।
সেনাবাহিনীতে যোগ না দেওয়াও একধরনের প্রতিরোধ
ইসরায়েলে সেনাবাহিনী একটি বাধ্যতামূলক কাঠামো। কিন্তু এখন বহু তরুণ-তরুণী এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তাঁরা ‘রিফিউজেনিক্স’ নামে পরিচিত। তাঁদের কেউ কারাগারে, কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তবু তাঁরা বলেন, ‘আমরা এমন সেনাবাহিনীর অংশ হতে পারি না, যারা শিশুদের ওপর বোমা ফেলে।’
‘মেসারভত’ (যার অর্থ ‘না বলা’) নামে একটি বাম সংগঠন নিয়মিত এসব তরুণকে আইনি সহায়তা ও মনস্তাত্ত্বিক সহমর্মিতা জোগায়। তাঁদের দেওয়ালচিত্র এখন তেল আবিবের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে—উর্দি পরা খুনি হতে অস্বীকার করি।
নীরবতার সংস্কৃতি: ভয়, শিক্ষা ও পরিবারে ভাঙন
ইসরায়েলের অধিকাংশ জনগণ, বিশেষ করে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী অংশ, যুদ্ধবিরোধী কণ্ঠকে বিশ্বাসঘাতক মনে করে। পাঠ্যবইয়ে ফিলিস্তিনের অস্তিত্বই নেই। ইতিহাস সেখানে শুধুই ইহুদি ‘পুনর্জাগরণের’ গল্প। ফলে প্রতিবাদ মানে আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। কেউ প্রতিবাদ করলে, পরিবারে ভাঙন পর্যন্ত ঘটে। সামাজিকভাবে তাঁরা একঘরে হয়ে যান।
তবুও কিছু মানুষ বারবার ঘুরে দাঁড়ান। যেমন রনি বার-অন, সেনাবাহিনীতে চাকরিরত ছিলেন, গাজায় শিশুহত্যার ঘটনার পর পদত্যাগ করেন। কিংবা ওরেন জিনজবার্গ, একজন ইহুদি চিকিৎসক, যিনি ২০২৪ সালে গাজায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গিয়ে ইসরায়েলি বোমায় আহত হন। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তাঁর কথা এলেও ইসরায়েলি মিডিয়া চেপে যায়।
কেন আমরা তাঁদের কথা জানি না?
কারণ একটাই—রাষ্ট্র চায় না এই বিবেকবান কণ্ঠগুলো শুনতে পাক বিশ্ববাসী। আন্তর্জাতিক মিডিয়াও খুব কম জায়গা দেয় ইসরায়েলের ভেতরের প্রতিবাদকে। অথচ এই কণ্ঠগুলোই প্রমাণ করে, ইসরায়েলের ভেতরে এখনো কিছু আলোর রেখা রয়েছে। কিছু মানুষ এখনো আছেন, যাঁরা মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বলতে ভয় পান না।
* জাভেদ হুসেন প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পানিসংকটে চরম দুর্দশায় গাজাবাসী, লবণাক্ত পানি পান করছে শিশুরা: অনাহারে মারা যাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা
গাজার বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ১৯ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের হামলার সময় শিশুদের লবণাক্ত পানি পান করাচ্ছেন তাঁরা। এতে উপত্যকাটির বাসিন্দাদের কিডনির মারাত্মক সমস্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। রায়েদ আল–জাহারনেহ নামের এক ফিলিস্তিনি বলেন, এই পানি পান করে তাঁদের পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু কিছুই করার নেই।
পানির তীব্র এই সংকটের মধ্যে চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ গাজার একটি পানি শোধনাগার পরিদর্শন করেন জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের কর্মকর্তা জোনাথন ক্রিকস। তিনি বলেন, বিদ্যুতের অভাবে সেখানে পানির উৎপাদন ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এখন পানি উৎপাদনের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন। জ্বালানির অভাবে ট্রাকে করে পানি সরবরাহেও বাধা আসছে।
১১ সপ্তাহ অবরোধের পর দিন কয়েক আগে গাজায় সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয় ইসরায়েল। পরে বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, ইসরায়েলের অনুমতির তিন দিন পর গাজায় ৯০ ট্রাক ত্রাণ পাঠাতে পেরেছেন তাঁরা। তবে জাতিসংঘের হিসাবে—বর্তমানে উপত্যকাটির মানুষের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে দিনে ৫০০ ট্রাক ত্রাণের প্রয়োজন।
বুধবার গাজায় প্রবেশ করা ট্রাকগুলোয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ময়দা ও পুষ্টিকর বিভিন্ন খাবার রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) মুখপাত্র জেনস লার্ক। তিনি বলেন, এই ত্রাণ সরবরাহের কাজে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে ত্রাণ বিতরণকারী সংগঠনগুলো। নিরাপত্তাহীনতা, ত্রাণ লুট হওয়ার ঝুঁকি ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবের কারণে এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
এদিকে ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দিলেও গাজায় জ্বালানি ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। কিছু ট্রাকে পানি থাকলেও সেগুলো এখনো গাজাবাসীর কাছে পৌঁছায়নি। ওসিএইচএ জানিয়েছে, জ্বালানি–সংকটের কারণে পানি ও পয়োনিষ্কাশন–ব্যবস্থায় বড় বাধা এসেছে। উত্তর গাজায় এখন কোনো জ্বালানি নেই। এ কারণে পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
হামলা চলছেই
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে সম্প্রতি ‘অপারেশন গিডেয়নস চ্যারিয়টস’ নামের নতুন অভিযান শুরু করেছে তারা। এর আওতায় উপত্যকাটিতে হামলার ব্যাপকতা বেড়েছে। বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলের হামলায় উপত্যকাটিতে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ১৯ মাসে উপত্যকাটিতে নিহত হলেন ৫৩ হাজার ৬৫৫ জন।
তীব্র হামলার মধ্যে বৃহস্পতিবার উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকালও উত্তর গাজার ১৪টি এলাকা থেকে তাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে হামাস নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ারকে হত্যা করা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ভাই।
বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু বলেন, বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটাল জিউইশ মিউজিয়ামের বাইরে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে গুলি করে ইসরায়েলি দূতাবাসের দুই কর্মীকে হত্যার পর এমন নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার দখল করা পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের কাছে পরিদর্শনে যাওয়া বিদেশি কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছেন ইসরায়েলি সেনারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গাজার ফিলিস্তিনিদের এই সংকটের দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বুধবার তিনি বলেছেন, ‘আমার আশা আছে যে আমরা দ্রুত গাজায় যুগান্তকারী সাফল্য পাব। আশা করি, এই যুদ্ধের অবসান হবে এবং সব জিম্মি মুক্তি পাবে।’
গাজায় অনাহারে মারা যাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা, দুই দিনে ২৯ জনের মৃত্যু
--দ্য গার্ডিয়ান
গাজায় গত ২ দিনে অনাহারে ২৯ শিশু ও বৃদ্ধ মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সময় এ উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ক্ষুধায় শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর এ সতর্কবার্তা এমন সময় এল, যখন গাজায় অবরোধ তুলে নিতে ও আক্রমণ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল তিন মাস পর সেখানে সীমিত আকারে ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এ অনুমতি পাওয়ায় চলতি সপ্তাহে উপত্যকাটিতে অনাহারক্লিষ্ট অসহায় ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্যসহায়তা পৌঁছানো শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএর মুখপাত্র জেন্স লারকে গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, ত্রাণ নিয়ে অপেক্ষমাণ প্রায় ২০০ ট্রাকের মধ্যে ৯০টি গাজায় প্রবেশ করেছে। এগুলোতে ওষুধ, আটা ও পুষ্টিকর সামগ্রী আছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতা, লুটের আশঙ্কা ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে ত্রাণ বিতরণে বড় বাধার মুখে পড়ছে সংস্থাগুলো।
তবে গতকাল ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানায়, গাজার জনগণ এখনো সীমান্ত পেরিয়ে আসা ত্রাণ পাননি এবং এত কমসংখ্যক ট্রাক পাঠানো ‘মৃত্যুকেই যেন আমন্ত্রণ’ জানানো। কারণ, এতে ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
‘আমি প্রমাণ করতে পারি, কেউই (ত্রাণ) পাননি। কোনো বেসামরিক নাগরিক এখনো কিছুই পাননি। আসলে বলা যায়, অধিকাংশ ট্রাক এখনো গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের কেরেম শালোমে অবস্থান করছে। সেগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে, কিন্তু গাজায় প্রবেশ করেনি’, সাংবাদিকদের বলেন ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সভাপতি ইউনিস আল-খাতিব।
ইউনিস আল-খাতিব আরও বলেন, ‘(এমন অবস্থায়) যে হুড়োহুড়ি বা লুটপাট ঘটতে পারে, তা আড়াল করা খুব কঠিন।’
গাজায় অপুষ্টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে কয়েক মাস ধরেই ধ্বংসপ্রাপ্ত এ অঞ্চলের চিকিৎসক ও ত্রাণকর্মীরা সতর্ক করে আসছেন। লোকজনের স্থানচ্যুতি, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পরিচালিত বেকারিগুলো রান্নার গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাজার ও দোকানে সীমিত খাদ্যপণ্যের অতিমূল্যের কারণে ত্রাণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
‘গত কয়েক দিনে আমরা অন্তত ২৯টি শিশুকে হারিয়েছি’, পশ্চিম তীরে অবস্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাজেদ আবু রমাদান সাংবাদিকদের জানান। তাদের মৃত্যুকে তিনি অনাহার-সম্পর্কিত হিসেবে বর্ণনা করেন। পরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অনাহারে মারা যাওয়াদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ উভয়েই আছেন।
চলতি মাসের শুরুতে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্ল্যাসিফিকেশন (আইপিসি)’ অনুমান করেছে, গাজায় ৫ বছরের নিচের প্রায় ৭১ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগবে ও আগামী ১১ মাসের মধ্যে ১৪ হাজার ১০০টি ঘটনা হবে চরম মাত্রার।
ইসরায়েল গত মার্চে গাজায় সব ধরনের পণ্য সরবরাহে অবরোধ আরোপ করে। তারা দাবি করে, হামাস এই ত্রাণ সরবরাহ নিজেদের যোদ্ধাদের জন্য দখল করছে। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চলতি মাসের শুরুতে বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় পাঁচ লাখ মানুষ অনাহারের মুখোমুখি।
এদিকে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গাজা সিটির মেয়র থাকা আবু রমাদান বলেন, গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৭ বা ৮টি আংশিকভাবে কাজ করছে এবং ইসরায়েলি অবরোধের কারণে ৯০ শতাংশের বেশি চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত এখন শূন্য হয়ে পড়েছে।
‘আমার জানামতে, খুব কমসংখ্যক চালান গাজায় প্রবেশ করেছে—মাত্র ৯০ থেকে ১০০টি ট্রাক, তা-ও দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে’, বলেন আবু রমাদান। এর মধ্যে কোনো চিকিৎসাসামগ্রী ছিল কি না, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার যত দূর জানা...এগুলো শুধু বেকারির জন্য আটা।’
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজায় প্রবেশ করা সহায়তার পরিমাণ সংকট মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের অনেক কম।
৫৩ বছর বয়সী গাজার বাস্তুচ্যুত একজন ফিলিস্তিনি উম তালাল আল-মাসরি এ পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
৩৮ বছর বয়সী হুসাম আবু আইদা বলেন, ‘আমার সন্তানদের জন্য আমি উদ্বিগ্ন।’ এএফপিকে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য আমি ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের চেয়ে বেশি ভয় পাই ক্ষুধা ও রোগকে।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজার বাসিন্দাদের প্রতি ‘দয়া’ দেখাতে ইসরায়েলের কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আহ্বান
গতকাল বৃহস্পতিবার ডব্লিউএইচওর বার্ষিক অধিবেশনে এক আবেগঘন বক্তৃতায় অশ্রু সংবরণ করে এসব কথা বলেন তেদরোস আধানোম।
বক্তৃতায় ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, এ যুদ্ধ ইসরায়েলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এতে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না।
ইথিওপিয়ায় যুদ্ধের মধ্যে বড় হয়েছেন তেদরোস। তিনি সে কথা প্রায়ই স্মরণ করেন। আর সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে গাজার মানুষ কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা আমি অনুভব করতে পারি। আমি সেটি টের পাই। আমি কল্পনা করতে পারি। এমনকি আমি সে শব্দও শুনতে পাই। আর এর কারণ হচ্ছে, আমার পিটিএসডি (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার)।’
ডব্লিউএইচও প্রধান আরও বলেন, ‘আপনি বুঝতে পারবেন, মানুষ কতটা কষ্টে আছে। খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা একেবারেই অন্যায়। চিকিৎসা সরঞ্জামকে অস্ত্র বানানো আরও নিকৃষ্ট।’
জাতিসংঘ গতকাল গাজায় প্রায় ৯০ ট্রাক ত্রাণ বিতরণ করে। গত ২ মার্চ ইসরায়েল সেখানে সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করার পর এটি ছিল প্রথম ত্রাণ সরবরাহ।
৬০ বছর বয়সী তেদরোস বলেন, ‘শুধু একটি রাজনৈতিক সমাধানই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ইসরায়েলের নিজেদের স্বার্থেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। আমি মনে করি, এ যুদ্ধ ইসরায়েলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এটি কোনো স্থায়ী সমাধান আনবে না। আমি আপনাদের কাছে দয়া দেখানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। এটি আপনাদের জন্যও ভালো, ফিলিস্তিনিদের জন্যও ভালো, মানবতার জন্যও ভালো।’
ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের পরিচালক মাইকেল রায়ান বলেন, গাজায় ২১ লাখ মানুষ ‘তাৎক্ষণিক মৃত্যুঝুঁকিতে’ আছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনাহার বন্ধ করতে হবে, সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনরায় কার্যকর করতে হবে এবং ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
ডব্লিউএইচও জানায়, গাজার মানুষ তীব্র খাদ্য, পানি, চিকিৎসাসামগ্রী, জ্বালানি ও আশ্রয় সংকটে ভুগছেন।
এ মুহূর্তে গাজার মানুষ কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা আমি অনুভব করতে পারি। আমি সেটি টের পাই। আমি কল্পনা করতে পারি। এমনকি আমি সে শব্দও শুনতে পাই। আর এর কারণ হচ্ছে, আমার পিটিএসডি (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার)।---তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস, ডব্লিউএইচও প্রধান
গত সপ্তাহে গাজার চারটি প্রধান হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, এসব হাসপাতালের অবস্থান সংঘাতপূর্ণ এলাকার খুব কাছে। হামলার শিকারও হয়েছে এগুলো।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ১৯টি। এসব হাসপাতালের কর্মীরা ‘অসম্ভব কঠিন পরিবেশে’ কাজ করছেন। সেখানকার প্রায় ৯৪ শতাংশ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। উত্তর গাজার বাসিন্দারা প্রায় সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন।
![]() |
| বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
▼
May 24
(6)
- ‘ইসরাইল পাগল রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে’ গাজার প্রতিটি শ...
- ইসরাইলি হামলার ৫৯২ দিন, গাজার রক্তাক্ত অধ্যায়
- গাজায় আগ্রাসন নিয়ে কানাডা কেন এখন সরাসরি ইসরায়েলের...
- ইসরায়েলের ভেতরে যে প্রতিরোধের কথা আমরা জানি না by ...
- পানিসংকটে চরম দুর্দশায় গাজাবাসী, লবণাক্ত পানি পান ...
- গাজার বাসিন্দাদের প্রতি ‘দয়া’ দেখাতে ইসরায়েলের কাছ...
-
▼
May 24
(6)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

