Monday, February 22, 2010

মাতৃভাষা ও পরভাষা by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

মাতৃভাষা’ শব্দটি ইংরেজি ‘মাদার টাং’-এর তর্জমা। বাংলা ভাষা পরিচয়-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, ‘এই-যে আমাদের দেশ আজ আমাদের মনকে টানছে, এর সঙ্গে সঙ্গেই জেগেছে আমাদের ভাষার প্রতি টান। মাতৃভাষা নামটা আজকাল আমরা ব্যবহার করে থাকি, এ নামও পেয়েছি আমাদের নতুন শিক্ষা থেকে। ইংরেজিতে আপন ভাষাকে বলে মাদার টাঙ্গ্, মাতৃভাষা তারই তর্জমা। এমন দিন ছিল যখন বাঙালি বিদেশে গিয়ে আপন ভাষাকে অনায়াসেই পুরোনো কাপড়ের মতো ছেড়ে ফেলতে পারত, বিলেতে গিয়ে ভাষাকে সে দিয়ে আসত সমুদ্রে জলাঞ্জলি, ইংরেজভাষিণী অনুচরীদের সঙ্গে রেখে ছেলেমেয়েদের মুখে বাংলা চাপা দিয়ে তার উপরে ইংরেজির জয়পতাকা দিত সগর্বে উড়িয়ে। আজ আমাদের ভাষা এই অপমান থেকে উদ্ধার পেয়েছে, তার গৌরব আজ সমস্ত বাংলাভাষীকে মাহাত্ম্য দিয়েছে।’
ভাষাবিদ লুই-জাঁ কালভে মাতৃভাষার পরিবর্তে প্রথম ভাষার কথা বললেও তিনি লক্ষ করেন, ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে প্রথম ভাষাকে মাদার টাং (ইংরেজি), লাং মাতেরনেল (ফ্রান্স), লেঙ্গুয়া মাতের্না (স্পেন), ইদিওমা মাতের্না (ইতালি), মুটার্স্প্রাখে (জার্মানি) বলে থাকে। এই রেওয়াজের কারণে ধরে নেওয়া হয়, মায়ের কাছ থেকে আমরা ভাষা উত্তরাধিকার হিসেবে পাই। উত্তরাধিকারের ব্যাপারটা রুশ ভাষায় বেশ পরিষ্কার—‘রাদনৈ ইজিক’ শব্দে রয়েছে জন্ম, মাতা-পিতা এবং উত্স বা মূল এই তিন ভাবের এক সমাহার। আফ্রিকান ভাষায় মাতৃভাষা সম্পর্কে, মাতৃদুগ্ধ, স্তন, স্তন্যপায়ী জাতীয় কথা রয়েছে। অনেক দেশে প্রথম ভাষা মাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কল্পিত হয়। চীনা ভাষায় ‘পেন কুও ইয়ু ইয়েন’ মানে আক্ষরিক অর্থে ‘মূল জাতির ভাষা’। বাংলা ভাষায় নিরলংকার কেজো কথা হচ্ছে দেশি ভাষা।
মাতৃভাষার সপক্ষে রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থের ভূমিকায় আমি বলি, ‘মাতৃভাষার মাধ্যম ছাড়া মনীষার জন্ম হয় না, এমন কথা বলা যায় না। বিদগ্ধ মন কোন ভাষায় নিজেকে প্রকাশ করতে তৃপ্তি পাবে, সে মনই তা নির্বাচন করে। সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস রাজকর্ম ল্যাটিনে চালাতেন, কিন্তু তাঁর দর্শনের কথা লিখতেন গ্রিকে। নিখিল জর্মন রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেন ফ্রেডারিক দি গ্রেট, কিন্তু তিনি লিখতেন পড়তেন ফরাসি ভাষায়। বহু কীর্তিমান লেখক নিজের মাতৃভাষার পরিবর্তে পরভাষায়, গ্রিক, রোমান, আরবি, ফারসি, ইংরেজি বা ফরাসিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। পরভাষায় কাজ চললে, মন টানলে মানুষ দ্বিধা করবে না তাকে বরণ করতে। আজ পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে অন্তর্দেশীয় ঐক্য রক্ষার খাতিরে ও আন্তর্জাতিক আদানপ্রদানের জন্য ইংরেজি ভাষাকে স্বীকার করে নিচ্ছে, স্বাজাত্যাভিমান ভুলে গিয়ে। ভাগ্য ভালো, এই ভঙ্গ বঙ্গদেশে আমরা এক ভাষা বলি। আজ দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কোনো বিদেশি ভাষা আমাদের জন্য অপরিহার্য নয়। তবে যে ভাষা শেখার জন্য পূর্ব ও পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণে আজ দারুণ কৌতূহল, যে ভাষার মারফতে আমরা আধুনিক যুগের সাথে কথা বলি, জ্ঞানবিজ্ঞানের জগতে যাতায়াত করি, যার সাথে আমাদের আগেরই, দু’শ বছরের পরিচয় সেই ভাষাকে পরিহার করার কোনো প্রশ্ন ওঠে না, তাকে আমরা গ্রহণ করেই নিয়েছি। আমাদের বিদ্যালয়ে তার জন্য একটা স্থানও করে দিয়েছে।
১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন উত্সবে এই কথাই রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন তাঁর সম্ভাষণে, ‘...আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষার সম্মানের আসন বিচলিত হতে পারবে না। তার কারণ এ নয় যে, বর্তমান অবস্থায় আমাদের জীবনযাত্রায় তার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আজকের দিনে য়ুরোপের জ্ঞানবিজ্ঞান সমস্ত মানবলোকের শ্রদ্ধা অধিকার করেছে, স্বাজাত্যের অভিমানে এ কথা অস্বীকার করলে অকল্যাণ। আর্থিক ও রাষ্ট্রিক ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার পক্ষে এই শিক্ষার যেমন প্রয়োজন তেমনি মনকে ও ব্যবহারকে মূঢ়তামুক্ত করবার জন্য তার প্রভাব মূল্যবান। যে চিত্ত এই প্রভাবকে প্রতিরোধ করে, একে অঙ্গীকার করে নিতে অক্ষম হয়, সে আপন সংকীর্ণ সীমাবদ্ধ নিরালোক জীবনযাত্রায় ক্ষীণজীবী হয়ে থাকে। যে জ্ঞানের জ্যোতি চিরন্তন তা যে-কোনো দিগন্ত থেকেই বিকীর্ণ হোক, অপরিচিত বলে তাকে বাধা দেয় বর্বরতার অস্বচ্ছ মন। সত্যের প্রকাশমাত্রই জাতিবর্ণনির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকারগম্য; এই অধিকার মনুষ্যত্বের সহজাত অধিকারেরই অঙ্গ। রাষ্ট্রগত বা ব্যক্তিগত বিষয়সম্পদে মানুষের পার্থক্য অনিবার্য, কিন্তু চিত্তসম্পদের দানসূত্রে সর্বদেশে সর্বকালে মানুষ এক। সেখানে দান করবার দাক্ষিণ্যেই দাতা ধন্য ও গ্রহণ করবার শক্তি দ্বারাই গ্রহীতার আত্মসম্মান। সকল দেশেই অর্থভাণ্ডারের দ্বারে কড়া পাহারা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানভাণ্ডারে সর্বমানের ঐক্যের দ্বার অর্গলবিহীন। লক্ষ্মী কৃপণ; কারণ লক্ষ্মীর সঞ্চয় সংখ্যাগণিতের সীমায় আবদ্ধ, ব্যয়ের দ্বারা তার ক্ষয় হতে থাকে। সরস্বতী অকৃপণ; কেননা, সংখ্যার পরিমাপে তাঁর ঐশ্বর্যের পরিমাপ নয়, দানের দ্বারা তার বৃদ্ধিই ঘটে। বোধ করি, বিশেষভাবে বাংলাদেশের এই গৌরব করবার কারণ আছে যে, য়ুরোপীয় সংস্কৃতির কাছ থেকে সে আপন প্রাপ্য গ্রহণ করতে বিলম্ব করেনি। এই সংস্কৃতির বাধাহীন সংস্পর্শে অতি অল্পকালের মধ্যে তার সাহিত্য প্রচুর শক্তি ও সম্পদ লাভ করেছে, এ কথা সকলের স্বীকৃত। এই প্রভাবের প্রধান সার্থকতা এই দেখেছি যে, অনুকরণের দুর্বল প্রবৃত্তিকে কাটিয়ে ওঠবার উত্সাহ সে প্রথম থেকে দিয়েছে।’
রবীন্দ্রনাথ পরক্ষণেই বলেন, ‘আমাদের দেশে ইংরেজি শিক্ষার প্রথমযুগে যাঁরা বিদ্বান বলে গণ্য ছিলেন তাঁরা যদিচ পড়াশুনোয় চিঠিপত্রে কথাবার্তায় একান্তভাবেই ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়েছিলেন, যদিচ তখনকার ইংরেজিশিক্ষিত চিত্তে চিন্তার ঐশ্বর্য ভাবরসের আয়োজন মুখ্যত ইংরেজি প্রেরণা থেকেই উদ্ভাবিত, তবু সেদিনকার বাঙালি লেখকেরা এই কথাটি অচিরে অনুভব করেছিলেন যে দূরদেশী ভাষার থেকে আমরা বাতির আলো সংগ্রহ করতে পারি মাত্র, কিন্তু আত্মপ্রকাশের জন্য প্রভাত-আলো বিকীর্ণ হয় আপন ভাষায়।’
আমাদের বাংলা ভাষার এখনো যে অবস্থা তাতে দূরদেশি ভাষা থেকে বাতির আলো সংগ্রহ করা একান্ত দরকার। যারা উন্নয়নের বাস ঠিক সময়ে ধরতে পারেনি তাদের জন্য বেদ্রি রাহমি ইউবোগলু তিন ভাষার সুপারিশ করেছেন তাঁর তিন ভাষা কবিতায়:
তোমার কমপক্ষে তিনটি ভাষা জানা দরকার
নাবিকের মতো তোমার অন্তত তিন ভাষায় কিরে খেতে হবে
কারণ তুমি ইতিহাসও নও, ভূগোলও নও
না এই, না সেই
আমার ছোট্ট মারনুস,
তুমি এমন এক জাতের সন্তান যে বাস ধরতে পারেনি।
লন্ডন শহরের ছেলেমেয়েরা নাকি আজ ৩০৭টি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে। এই বাবেলের মিনার দেখে সেই শহরের মেয়র কিন্তু আতঙ্কিত হননি। দশ বছর আগে লর্ড মেয়র অল্ডারম্যান ক্লাইভ মার্টিন বরং এই বিভিন্ন ভাষার সেই সমাহারকে স্বাগত জানান। বহুভাষিতার পক্ষে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যখন লন্ডনে ইউরোপিয়ান ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের দ্বারোদ্ঘাটন করা হয় তখন যে ৩৮টি ভাষাভাষীর প্রয়োজন দেখা দেয়, তার সব কটি শূন্যপদ লন্ডনের অধিবাসীদের দ্বারা পূরণ করা সম্ভব হয়।
বিশ্বের সব জ্ঞানবিজ্ঞান এক ভাষার বইয়ে পাওয়া ভার। ভাষাবিদ ড. ডেভিড ড্যালবির মতে, একভাষিতা নিরক্ষরতার মতোই খারাপ, কারণ তা বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে। বাংলাদেশ বহুভাষার দেশ এবং আমাদের একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচয় আছে, সে পরিচয় তেমন পোক্ত না হলেও। আমাদের পরভাষা শিখতেই হবে, তবে সে ভাষা আমরা শিখব মাতৃভাষার সমভিব্যহারে। মাতৃভাষার ভিত্তি পাকাপোক্ত করে তার ওপরই পরভাষার কাঠামো স্থাপন করা উচিত। নিমজ্জন-প্রক্রিয়ায় ভাষাশিক্ষা তেমন ফলপ্রসূ নয় বলেই ভাষাবিদেরা এখন বলছেন।
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা। সাবেক প্রধান বিচারপতি।

বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ: ভবিষ্যতের বাংলা -সৌরভ সিকদার

বাংলা অভিধানে ‘ভবিষ্যৎ’ শব্দের অর্থ দেওয়া আছে—ঘটতে পারে এমন, আগামী সময়, পরিণাম। এ লেখায় আমরা দুটি অর্থে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ দেখতে চেষ্টা করব। প্রথমটি হচ্ছে বাংলা ভাষা কোন দিকে যাচ্ছে বা তার পরিণতি কী এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে ভবিষ্যতে এ ভাষা কোন রূপ ধারণ করতে পারে। মাতৃভাষার প্রতি আমাদের আবেগ-ভালোবাসা তো থাকবেই, সেই সঙ্গে যে বাস্তবতার দিকে আমরা অগ্রসর হচ্ছি বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক আর্থরাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে—তাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ভাষার ভবিষ্যত্ নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে প্রধান প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো—কতজন মানুষ এ ভাষায় কথা বলে, কত মানুষের মাতৃভাষা এটি (মাতৃভাষা নয় অথচ ইংরেজি এবং হিন্দি ব্যবহার করে এমন কয়েক কোটি মানুষ রয়েছে), নিজস্ব লিপি আছে কি না, ভাষার লিখিত সাহিত্যের অবস্থা, কোনো দেশের রাষ্ট্রভাষা বা দাপ্তরিক ভাষা কি না, ওই ভাষাভাষী দেশে কোনো রাজনৈতিক উপনিবেশ বা ভিন্ন কোনো সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের ভাষার প্রভাব আছে কি না। সবশেষে সে ভাষাভাষী মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা। বাংলা ভাষার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যদি এগুলো বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাব, শেষ দুটি বিষয় ছাড়া অন্যগুলোর অবস্থা খুবই ইতিবাচক।
বর্তমান পৃথিবীতে বাংলাদেশে চৌদ্দ কোটি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ত্রিপুরা মিলিয়ে নয় থেকে দশ কোটি, পৃথিবীময় ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের সংখ্যাও কমবেশি এক কোটি—সব মিলিয়ে প্রায় পঁচিশ কোটি মানুষের মাতৃভাষা এটি। এ বিবেচনায় পৃথিবীতে বাংলা ভাষার অবস্থান চতুর্থ। অন্যদিক থেকে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বিচারে বাংলা ভাষার স্থান ষষ্ঠ। অন্তত বিশ্বের ভাষা নিয়ে যাঁরা কাজ করেন সেসব সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে তা-ই। আমাদের নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। আমাদের ভাষার সাহিত্য নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। বাংলা বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত রাষ্ট্রভাষা। এগুলো সবই বাংলা ভাষার ভবিষ্যতের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উপাদান। কিন্তু আমরা থমকে আছি ভাষার ভবিষ্যতের প্রশ্নে শেষোক্ত দুটি বিষয়ে। প্রথমত এ দেশে এখন তুর্কি-মোগল-ইংরেজ শাসন নেই সত্য কিন্তু আমাদের মনোজগৎ থেকে সে উপনিবেশ এখনো উঠে যায়নি। বিশেষ করে ইংরেজির ভাষিক উপনিবেশ থেকে মুক্ত হতে পারিনি। এ বিষয়ে ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন—‘ঔপনিবেশিক ঘোর খুব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে ভাষার ক্ষেত্রে; দেখা যায় ‘রাষ্ট্রভাষা’টি থাকে নামে মাত্র আর রাজনীতিক আমলা বিচারপতি আইনজীবী চিকিৎসক ব্যবসায়ী প্রকৌশলী শিক্ষক বুদ্ধিজীবীরা, অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ ফলভোগীরা লিপ্ত থাকেন একদা প্রভুদের ভাষা চর্বণে—রোমন্থনে।’ এর বাইরে অর্থাৎ ‘ঔপনিবেশিক হ্যাংওভার’ ছাড়াও আকাশ-সংস্কৃতি ও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের প্রতিবেশী সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর ভাষা প্রধানত সংস্কৃতি ও পণ্যের হাত ধরে আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ছে। বিশ্বব্যাপী আধিপত্য, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির প্রতাপ ছড়ানো ইংরেজির প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। বাইরে আমরা ভাষাপ্রেম যতই দেখাই কিন্তু আমাদের ‘এ হূদয় মাঙ্গে মোর’। এভাবে হিন্দি এবং ইংরেজি নব্য সাংস্কৃতিক এবং বাণিজ্যিক উপনিবেশ হিসেবে আমাদের ভাষাকে বেশ কিছুটা হুমকির সম্মুখীন করে তুলেছে, অন্তত এর পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত ও প্রভাবিত করছে। আর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিতে আমরা যে পিছিয়ে আছি সে কারণেও আমাদের বাংলা ভাষা নিজে অন্যকে তো প্রভাবিত করতে পারছেই না বরং অন্যের পণ্য-প্রযুক্তি তার ভাষাসহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সেবাই শুধু দিচ্ছে না, ভাষাও দিচ্ছে। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জাপানিজ, জার্মান কিংবা কোরিয়ান ভাষাকে এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না।
বর্তমান পৃথিবী পরিবর্তনের পৃথিবী। পৃথিবীব্যাপী যে পরিবর্তন বা বদলের হাওয়া শুরু হয়েছে সেখানে ভাষার বদল ঘটাও স্বাভাবিক। কিন্তু যখন এ পরিবর্তন কোনো ভাষার অভ্যন্তরীণ গঠন, গঠন-বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্যকে বিপন্ন করে নতুন এক আরোপিত পরিমণ্ডল তৈরি করে, তখন তা আর পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ থাকে না। ভাষার অস্তিত্ব তথা স্বাতন্ত্র্যকেও তা বিপন্ন করে তোলে। যদি সে ভাষিক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা পঁচিশ কোটি হয় তাহলেও। আমরা বাংলা ভাষার পরিণতি বা ভবিষ্যতের প্রসঙ্গে আসি। একসময় গ্রিক-ল্যাটিন-সংস্কৃত খুব দাপটের সঙ্গে পৃথিবীতে চর্চা হয়েছে। এ ভাষার সাহিত্যের সম্ভার পাঠ করে আজও আমরা আবেগাক্রান্ত হই কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ ভাষা এখন সংগ্রহশালা আর গবেষণার ভাষা। ভাষা বেঁচে থাকে মানুষের মুখে, প্রতিদিনের জীবনে। বাংলা ভাষা তার পরিবর্তনের যে স্রোত বেয়ে ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে, সেখানে তাকালে আমরা বেশ কিছু লক্ষণ দেখব—সাধু বিদায় নিলেও সাধুর ক্রিয়াপদ আবার ঘরে ফেরার চেষ্টা ‘করতাছে’। ভাষাবিজ্ঞানে যাকে ‘ডায়ালেক্ট মিক্সিং’ বলে সেই আঞ্চলিক ভাষার মিশ্রণ ঘটেছে মান ভাষায়। ইংরেজি এবং হিন্দি ভাষার শব্দ, বাক্যগঠন এবং উচ্চারণ ক্রমেই তার সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। নতুন শিক্ষিত প্রজন্ম ‘র’ কে ‘ড়’ বলছে, একসেন্ট বা ঝোঁক প্রয়োগ করছে ইংরেজি অনুকরণে। শব্দ ও শব্দের অর্থ পরিবর্তন ঘটছে। আগে ‘কঠিন’ শব্দ ব্যবহার হতো শক্ত বা সহজ নয় এ অর্থে আর এখন ব্যবহূত হচ্ছে সুন্দর বা দারুণ অর্থে। সব মিলিয়ে এক ধরনের মিশ্র বা সংকর বাংলা ভাষা তৈরি করছি আমরা। ভাষাবিজ্ঞানী রফিকুল ইসলাম লিখেছেন—বাংলাদেশে যারা তথাকথিত শিক্ষিত তাদের মুখের ভাষায় এ বিচিত্র সংকর ভাষা ব্যবহার আমাদের মাতৃভাষার হাজার বছরের ঐতিহ্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আর ঔপনিবেশিক ইংরেজরা চলে গেছে কিন্তু নতুন উপনিবেশিক বাস্তবতায় প্রযুক্তি আর গণমাধ্যমের হাত ধরে ‘রোমান হরফ’ এসে হাজির হয়েছে।
১৯৫২ সালের আগে ফারসির ভয়ে আমাদের প্রিয় বর্ণমালা ছিল দুঃখিনীর বর্ণমালা, আজ একুশ শতকে রোমানের ভয়ে নতুন দুঃখ কি ভর করবে তাকে? আমরা কিন্তু ভাষার পরিণতির কথা ভাবছি না, পরিবর্তনের কথা ভাবছি। এমনকি পরিবর্তনগুলোকে সাধারণভাবে গ্রহণই করছি। একুশ শতকের এই গতিময় পরিবর্তনশীল বিশ্বে আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা যেভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে বাংলা ভাষা পৃথিবী থেকে হয়তো হারিয়ে যাবে না, কিন্তু দুই-তিন যুগ পর এর রূপ বা আকৃতি যা দাঁড়াবে তাকে কোনো ক্রমেই বাঙালির বাংলা ভাষা বলা যাবে না। ভাষার জন্য আমাদের এই আত্মত্যাগের ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গৌরব সব হারিয়ে আমাদের ভাষা আমাদের থাকবে না—যদি না আমরা সচেতন হই। সত্যিকারের মাতৃভাষা প্রেম গড়ে না উঠলে শুধু একুশ এলেই দীর্ঘশ্বাস—‘আমরি বাংলা ভাষা’য় আটকে না গিয়ে সারা বছর ভাষার প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলা ভাষা কোন দিকে যাচ্ছে তা সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে গেলে বিস্তর গবেষণা করা প্রয়োজন। এ লেখায় সে গবেষণার অবকাশ নেই। শুধু একজন ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ের একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার খাতার দুটি লাইন উদ্ধৃতি হিসেবে তুলে দিলেই ভবিষ্যতের বাংলা ভাষার চিত্র কিছুটা হলেও ধরা পড়বে। এক শিক্ষার্থী লিখেছে: Total exam-এর মধ্যে হেব্বি একটা topic পাইছি—ডিজুস বাংলা। আহ! লেইখ্যা ফাটাইয়া দিছি...।
এই হলো এখন বাংলা ভাষার চলতি দশা।
সৌরভ সিকদার: অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ভাষার গৌরব প্রতিষ্ঠিত হোক সমাজে ও জীবনে -আমি কি ভুলিতে পারি

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো দিন। জাতীয় শোক ও শহীদ দিবস। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের। গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি ভাষাসৈনিকদের।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে বাঙালি ছেলেরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মাতৃভাষার অধিকারকে সর্বজনীন মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ রচনা করেছিল। কিন্তু ওই আত্মবলিদান শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ক্রমেই একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন ও অঙ্গীকার দানা বেঁধেছিল। সে স্বপ্নই ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে পথ দেখিয়েছে বাঙালি জাতিকে। তাই ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা, মুক্তি, সাম্য, গণতন্ত্র—আধুনিক বাঙালির সব শুভ চেতনার মাস।
২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও বটে। মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালি ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে পড়েছে ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে পৃথিবীর সব জাতি-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে। মাতৃভাষার অধিকার যে মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার, এই সত্যটি আমরা বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। জীববৈচিত্র্যের মতোই ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও যে মানবসভ্যতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমাদের এই দেশেও বাংলা ছাড়া ছোট অনেক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি সেসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয় পরিপুষ্টির সুযোগ অবারিত রাখতে হবে।
একুশে ফেব্রুয়ারির সুবাদে আমাদের একবার ভেবে দেখা উচিত, যে বাংলা ভাষার জন্য শহীদেরা প্রাণ দিয়েছেন, সেই প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষার আজ কী অবস্থা। কাগজ-কলমে বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু সরকারি দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আংশিক এবং এখনো ইংরেজির প্রাধান্য বেশি। আইন প্রণয়ন হয় বাংলায়, কিন্তু উচ্চ আদালতে এখনো বাংলা চালু হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা ভাষার জায়গা নেই বললেই চলে। দোকানের মূল্য পরিশোধের রসিদের ভাষাও ইংরেজি। এনজিও খাতও চলছে মূলত ইংরেজি ভাষায়। তাদের সেমিনার, সিম্পোজিয়ামগুলোর ভাষা প্রধানত ইংরেজি, তাদের প্রতিবেদন ও অন্যান্য লেখালেখির ভাষাও তা-ই। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি রপ্ত করতে চান। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। বাংলায় লিখতে না পারা অগৌরব বলে বিবেচিত নয়। শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের প্রসার নয়, বাংলার প্রতি অবহেলা সাধারণ বিদ্যালয়েও কম নয়।
একুশের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না। সর্বস্তরে বাংলা চালু করার মধ্য দিয়ে সেটা হতে পারে। এ বিষয়ে কথা অনেক হয়, কাজ হয় না। এ জন্য প্রয়োজন একটি জাতীয় পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন।

নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জাতিসংঘের

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে বান কি মুন বলেন, সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দেশে শান্ত অবস্থা বজায় ও আইনশৃঙ্খলার ওপর শ্রদ্ধা রেখে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সবার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।
এদিকে সামরিক অভ্যুত্থানের সমর্থনে গতকাল শনিবার দেশটির রাজধানী নিয়ামির রাস্তাঘাটে লোকজন আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে। বিরোধীদলীয় জোট সামরিক জান্তাকে তাদের সমর্থন জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে নাইজারের প্রেসিডেন্ট মামাদো তানজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে জরুরি অবস্থা জারি করে। পরদিন শুক্রবার সকালের দিকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হলেও সান্ধ্য আইন বলবত্ রয়েছে। দেশের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চার ঘণ্টার এ অভ্যুত্থানে অন্তত তিনজন সেনাসদস্য নিহত হন।
সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্রোহী সেনারা মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্যকে আটক করেছে। আটক প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে একটি সেনা ছাউনিতে রাখা হয়েছে।
নাইজারে এ অভ্যুত্থানের জন্য আগেই নিন্দা জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ)। এইউ নেতা জিন পিং ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, সংস্থা থেকে নাইজারের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনৈতিক জোট ইকোভাস বলেছে, অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারীদের বিরুদ্ধে তারা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ক্ষমতা দখল করার পর ইতিমধ্যে জান্তার প্রধান হিসেবে স্কোয়াড্রন প্রধান সালো জিবোর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

ফিরে আসছে এনডেভর

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে সংযোগকারী প্রকোষ্ঠ ও পর্যবেক্ষণ ডেক নির্মাণ শেষে শুক্রবার পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা করছে মহাকাশযান এনডেভর।
মহাকাশ কেন্দ্র নির্মাণ শেষ হওয়ার আগে নাসার আরও চার দফায় মহাকাশ মিশন পাঠানোর কথা রয়েছে। বিশ্বের ১৬টি দেশের সহযোগিতায় ১৯৯৮ সালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাকাশ কেন্দ্রটি নির্মাণ শুরু হয়।
পাইলট টেরি ভার্টসের নিয়ন্ত্রণে গতকাল শনিবার গ্রিনিচমান সময় ১২টা ৫৪ মিনিটে মহাকাশ কেন্দ্র ছেড়ে আসে এনডেভর। মহাকাশ কেন্দ্রে ১০ দিন অবস্থানকালে একটি সংযোগকারী প্রকোষ্ঠ এবং মহাকাশ কেন্দ্রের বাইরে দেখার জন্য সাতটি জানালাসহ পর্যবেক্ষণ কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।
এনডেভরের নভোচারী রবার্ট বেঙ্কেন এবং নিকোলাস প্যাট্রিক নতুন এ কক্ষটি মহাকাশ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে নভোচারী কে হাইরি বলেন, ‘ওই সাতটি জানালা দিয়ে আমরা বাইরে যা দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এটাকে শুধু সাদা-কালো আর রঙিন ছবির সঙ্গে তুলনা করলে যা হয়, সেভাবেই তুলনা করা যায়। মোট কথা, এটা বিস্ময়কর!’
ছয়জন নভোচারী নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ দিনের অভিযানে মহাকাশ কেন্দ্রে যায় এনডেভার। নাসা পরে অভিযানের সময় আরও এক দিন বাড়ায়।

‘আরও ১০০ পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারে ভারত!’

ভারত যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পরাশক্তির কাছ থেকে পাওয়া পরমাণু জ্বালানি রূপান্তর করে এক বছরের মধ্যে ১০০টি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত জামির আকরাম জেনেভায় সাংবাদিকদের কাছে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জামির আকরাম বলেন, ভারত বৃহত্ শক্তিগুলোর সঙ্গে করা বেসামরিক পরমাণু চুক্তির আওতায় পাওয়া পরমাণু জ্বালানি অস্ত্র তৈরির কাজে লাগাতে পারে। কারণ এসব চুক্তিতে ভারতকে অবাধে উচ্চমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়াম সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহূত উচ্চমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়াম তৈরির ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকলেও তা যথেষ্ট নয়।
জামির এক বক্তব্যে বলেন, ‘অতীতেও দেখা গেছে, ভারত বেসামরিক উদ্দেশ্যে আমদানি করা পরমাণু জ্বালানি গোপনে ঠিকই পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করেছে। তাই আমদানিকৃত পরমাণু জ্বালানি অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহূত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। এ থেকে বছরে ১০০টি পর্যন্ত পরমাণু ওয়ারহেড তৈরি হতে পারে।’
তবে ভারতের নিরস্ত্রীকরণ দূত হামিদ আলী রাও জামিরের দাবি ‘ভিত্তিহীন ও অমূলক’ বলে উড়িয়ে দেন।
২০০৮ সালে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে। গত সপ্তাহে ভারতের সঙ্গে পরমাণু জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাজ্য।
১৯৭৪ সালে ভারত একটি পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল

গোলাবর্ষণের মহড়া করবে পিয়ংইয়ং

নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য চাপের মুখে থাকা উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তাদের সমুদ্রসীমান্তের কাছে গোলাবর্ষণ মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংস্থা শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। করে কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়বে।
ছয় জাতি আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত থাকার এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়া দৃশ্যত আঞ্চলিক শক্তির দেশগুলোর কাছ থেকে ছাড় পাওয়ার হাত শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ায় বিরুদ্ধে সামরিক হুমকিকে কাজে লাগাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া আরও তিন দিন গোলাবর্ষণ মহড়া চালাতে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কিউবায় আটক মার্কিন নাগরিকের মুক্তি দাবি

কিউবায় আটক এক মার্কিন ঠিকাদারের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ওই ঠিকাদার গত ডিসেম্বর থেকে কিউবায় আটক রয়েছেন।
কিউবায় ওয়াশিংটনের মিশন ইউএস ইন্টারেস্ট সেকশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত শুক্রবার বলা হয়, সফররত একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল হাভানার সঙ্গে অভিবাসীবিষয়ক এক বৈঠকে ওই মুক্তির দাবি জানায়। গত ৪ ডিসেম্বর কিউবায় ওই মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়। ওই নাগরিকের নাম অ্যালান গ্রস (৬০)। তিনি মেরিল্যান্ডের বেথেসডার ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ আইএনসির (ডিএআই) একজন সরকারি ঠিকাদার। মার্কিন ওই ঠিকাদার দেশের বাইরে লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বিভিন্ন ইহুদি গ্রুপকে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার দিয়ে সহায়তা করছিলেন।
কিউবার ক্ষতি করার জন্য হাভানা তাঁকে মার্কিন গুপ্তচর হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাড়াটে’ হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য বিভিন্ন বিরোধী গ্রুপকে সহায়তা করতে গ্রস ‘আধুনিক’ যোগাযোগ উপকরণ দিয়ে সহায়তা করেছেন।

আফগানিস্তান নিয়ে দ্বন্দ্বে নেদারল্যান্ডে সরকার পতন


পরিকল্পনা অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে সেনা ফেরত আনার বিষয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নেদারল্যান্ডের কোয়ালিশন সরকার গতকাল শনিবার ভেঙে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী পিটার বাকেনেন্দে গতকাল শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকারের অন্যতম শরিক লেবার পার্টি গতকাল ভোরে মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে গেছে। তিনি জানান, এতে আগাম নির্বাচন দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে না। বরং তাঁর ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক জোট ক্রিশ্চিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীতে নেদারল্যান্ডের দুই হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী আগস্টে ওই সেনাসদস্যদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী লড়াই দীর্ঘায়িত ও জোরদার হওয়ায় ন্যাটো নেদারল্যান্ডের কাছে আরও সেনা চেয়ে পাঠায়। এবং ইতিমধ্যে পাঠানো সেনাদের আরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে রাখার প্রস্তাব দেয়। এ বিষয়ে নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা ওই বৈঠকে বসে।
কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্বে থাকা বড় শরিক দল বাকেনেন্দের নেতৃত্বাধীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক আফগানিস্তানে সেনা রাখার মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষপাতী।
এদিকে সরকারের অন্যতম বড় শরিক উপপ্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি এ প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করে। এ নিয়ে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা তর্ক-বিতর্কের পরও এ বিষয়ে দুই পক্ষ মতৈক্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। শেষমেশ গতকাল ভোরে লেবার পার্টি সরকার থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এএনপি সংবাদ সংস্থা ও আরটিএল টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানায়।
কোয়ালিশন সরকার চার বছর মেয়াদে নির্বাচিত হয়। কাল সোমবার এই সরকারের তিন বছর পূর্তি হতো।

জয়পুরহাট চেম্বারের নির্বাচন ৩ এপ্রিল

জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সংশোধিত দ্বিবার্ষিক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এ চেম্বারের নির্বাচন।
এর আগে জয়পুরহাট চেম্বারের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলেও দুজন সদস্য ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এনে এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল জয়পুরহাট চেম্বারের নির্বাচনী তফসিল বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেয়।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, ৯ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সাধারণ গ্রুপে মোট ১৭১ জন ও সহযোগী গ্রুপে ৬৭ জন ভোটার রয়েছেন। সাধারণ গ্রুপে ১২টি ও সহযোগী গ্রুপে ছয়টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানের লাইব্রেরি ও ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন তফসিল অনুযায়ী চেম্বারের কার্যনির্বাহী সদস্য পদের জন্য মনোনয়নপত্র কেনার তারিখ ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ২ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মার্চ মনোনয়নপত্র বাছাই ও ৮ মার্চ প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রার্থী তালিকা বিষয়ে আপিল বোর্ডের কাছে আপত্তি দাখিলের শেষ তারিখ ১১ মার্চ। আপিল বোর্ড কর্তৃক আপত্তির শুনানি ও তা নিষ্পত্তি হবে ১৫ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ১৮ মার্চ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ২১ মার্চ।
এর আগে সাধারণ গ্রুপে ৪৬২ জন ও সহযোগী গ্রুপে ১২৭ জনের তালিকা চূড়ান্ত করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। তখন ওই ভোটার তালিকায় অনিয়ম রয়েছে বলে নূর মোহাম্মদ আজাদ ও এ টি এম আলমগীর হোসেন এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান কে এম লায়েক আলী প্রথম আলোকে জানান, এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

পঞ্চগড় চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ

পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। দুটি গ্রুপের কোন্দলের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পঞ্চগড় জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) এ চেম্বারের প্রশাসক নিয়োগ করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (বাণিজ্য সংগঠন) শাহ আলম শিকদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্প্রতি প্রশাসক নিয়োগের কথা জানিয়ে বলা হয়, নতুন প্রশাসক চেম্বারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ১২০ দিনের মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।
জানা গেছে, চেম্বারের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনাক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন। সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
চেম্বারের সাধারণ সদস্যরা জানান, নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ও একটি বিদ্রোহী অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলছে। যে কারণে নির্বাচনের ইস্যুটি একপর্যায়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরপর গত বছরের ২৬ মে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক এক দিন আগে ২৫ মে নির্বাচন স্থগিত করেন।
পঞ্চগড় চেম্বারের সর্বশেষ কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ১৩ জুন। এ কমিটির সভাপতি ইকবাল কায়সারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোকে জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে প্রশাসক নিয়োগের খবর তিনি শুনেছেন।
তবে জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক জানান, তিনি এখনো চিঠি পাননি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।

৭ মার্চের মধ্যে বাজেট বিষয়ে পরামর্শ পাঠানোর আহ্বান

সরকার ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ আগেভাগে শুরু করেছে। বাজেটকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক ও জনচাহিদামাফিক করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৭ মার্চের মধ্যে বাজেট প্রস্তাব ও পরামর্শ বস্তুনিষ্ঠ যুক্তি, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যান-সহকারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একটি অংশগ্রহণমূলক, গণমুখী ও সুষম বাজেট প্রণয়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে বাজেট প্রস্তাব আহ্বান এবং রাজস্ব আয় পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করে আসছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০১০-১১ অর্থবছরের রাজস্ব আয়কে অধিকতর অর্থবহ, যৌক্তিক, বস্তুনিষ্ঠ, জনচাহিদামাফিক, অংশীদারিমূলক ও সুষম করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মতবিনিময় ও বিশ্লেষণধর্মী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাজেট প্রণয়নে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে এ বছর আগেভাগে বাজেট প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা চেম্বার, ফরেন চেম্বার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চেম্বারসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরের শিল্প ও বণিক সমিতিগুলোকে তাদের বাজেট প্রস্তাব সরাসরি পাঠাতে বলেছে।
পাশাপাশি অন্যান্য সব জেলা শিল্প বণিক সমিতিকে এফবিসিসিআইয়ের মাধ্যমে পাঠানোর কথা বলেছে।
রাজস্ব বোর্ড বাংলাদেশ পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ সব আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক এবং অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠনকেও বাজেট প্রস্তাব পাঠানোর জন্য বলেছে।
ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ এবং নিবন্ধিত শুল্ক, মূসক ও আয়কর উপদেষ্টা ব্যক্তিসহ সব পেশাজীবী সংগঠনকেও এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগসহ দেশের সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছেও নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বাজেটবিষয়ক প্রস্তাব ও পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুশীল সমাজসহ সব বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও একই আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সবার কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো সমন্বিত করার পর বিভিন্ন বণিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী সংগঠনের সঙ্গে খাতভিত্তিক প্রাক-বাজেট আলোচনা শুরু হবে। কোন তারিখে কাদের সঙ্গে কোন বিষয়ে আলোচনা হবে তা আগে পত্রযোগে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ভারতের পর্যটনশিল্পে এ বছর ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা

ভারতের পর্যটনশিল্প খাতে চলতি বছরে ৫ থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম পর্যটন ও প্রযুক্তি বিতরণ কোম্পানি ইন্টারগ্লোব টেকনোলজি কোশেন্ট (আইটিকিউ) এ কথা জানায়।
আইটিকিউয়ের প্রধান নির্বাহী জেবি সিং বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভারতের পর্যটনশিল্পের প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকবে, যা বিশ্বের প্রত্যাশিত গড় প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেশি।’
জেবি সিং বলেন, অক্টোবরে কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে ভারতে পর্যটকের সমাগম বেড়ে যাবে। এতে পর্যটনের উত্তম স্থান হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

দেশের আমদানি ও রপ্তানি দুটোই কমেছে

অর্থবছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয়—দুটোই আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমে গেছে। বিশ্বমন্দার প্রভাবে এমনটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এতে অবশ্য পণ্য-বাণিজ্যে ঘাটতিও কমে যাওয়ার কথা। তবে ছয় মাসের পণ্য-বাণিজ্যের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে না পাওয়ায় এর প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব হয়নি।
তার পরও ছয় মাসে ৭২৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার রপ্তানি আয়ের বিপরীতে এক হাজার ১১৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার আমদানি ব্যয়ের ফলে পণ্য-বাণিজ্যে ঘাটতি সাড়ে ৩০০ কোটি ডলার হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য-বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ১৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ২৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
রপ্তানির চিত্র: চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০০৯) দেশের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২০ শতাংশ কমে গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ৭২৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৭৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৭৬০ কোটি ডলার। আর প্রথমার্ধে বা প্রথম ছয় মাসে কৌশলগত রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, প্রথম ছয় মাসের রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ কম হয়েছে।
আর একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছে ১১৭ কোটি ২৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ২৭ শতাংশ কম।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাত্ জুলাই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল ১৪৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার, যা আগস্ট মাসে কমে হয় ১৩৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তা আরও কমে হয় যথাক্রমে ১০৬ কোটি ও ১০২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অবশ্য নভেম্বর মাসে তা বেড়ে হয় ১১৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও জান যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি প্রায় আট শতাংশ এবং নিট পোশাকের রপ্তানি ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে।
ইপিবির তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আগের অর্থবছরের (২০০৮-০৯) একই সময়ের তুলনায় ওভেন ও নিট পোশাক ছাড়াও হিমায়িত খাদ্য, চামড়া, পাদুকা, চা, সবজি, হোম টেক্সটাইল, রাসায়নিক দ্রব্য, সার, টেক্সটাইল ফেব্রিক ইত্যাদির রপ্তানি কমে গেছে।
আগের অর্থবছরের রপ্তানি আয় বেড়েছে, এমন পণ্যের তালিকায় রয়েছে কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য, ইলেকট্রনিকস, বাইসাইকেল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত সামগ্রী, টেরিটাওয়েল, কম্পিউটারসেবা ইত্যাদি।
আলোচ্য সময়ে রপ্তানি মূল্যসূচক কমেছে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে পরিমাণ সূচক কমেছে ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে মূল্যসূচকে প্রায় চার শতাংশ এবং পরিমাণ সূচকে ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
আমদানির পরিসংখ্যান: বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথমার্ধে পণ্য আমদানি ব্যয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ কমে গেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে পণ্য আমদানি বাবদ বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে এক হাজার ১১৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি বাবদ ব্যয় করতে হয়েছিল এক হাজার ১৮১ কোটি ডলার।
পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে ২১৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা আবার ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসের চেয়ে প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি।
তবে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে পণ্য আমদানি বাবদ ব্যয় করতে হয়েছিল ১৫৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার, যা আবার তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ১৭ শতাংশ কম ছিল।
বিশ্বমন্দায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছিল।
তবে এখন আবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। এর প্রভাবে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোয় মোট আমদানি ব্যয় আবার বাড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাত্ জুলাই মাসে আমদানি ব্যয় ছিল ১৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা আগস্ট মাসে আরও কমে হয় ১৫৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে অবশ্য তা আবার বেড়ে হয় ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অক্টোবরে তা আরও বেড়ে হয় ২০৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। তবে নভেম্বর মাসে তা কমে হয় ১৮২ কোটি ডলার।

পাকিস্তানে দুটি থানায় আত্মঘাতী হামলা

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি থানায় আত্মঘাতী হামলায় স্থানীয় একজন পুলিশপ্রধান নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশের আরও অন্তত চারজন কর্মকর্তা। পুলিশের কর্মকর্তারা এ কথা জানান। অন্য এক খবরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলেছে, গতকাল শনিবার আল-কায়েদার গোপন আস্তানায় বিমান হামলায় ৩০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তা গুল জারিন বলেন, গতকাল শনিবার মানশেহরা জেলার দুটি থানায় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হামলা দুটি চালানো হয়। মানশেহরা শহরের একটি থানায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দিলে স্থানীয় পুলিশপ্রধান খলিল খান নিহত হন। হামলায় দুজন পথচারী আহত হয়। আত্মঘাতী হামলাকারীর সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয় বালাকোট শহরের ২৫ কিলোমিটার দূরের একটি থানায়। দুই হামলাকারী থানায় ঢুকে হামলা চালানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। এতে একজন হামলাকারী নিহত হয়। আহত হন পুলিশের দুজন কর্মকর্তা। একপর্যায়ে দ্বিতীয় হামলাকারী পালিয়ে যায়।
পাকিস্তানের ইসলামপন্থী জঙ্গিরা প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে থাকে। তবে রাজধানী ইসলামাবাদের প্রায় ৯০ মাইল দূরের মানশেহরা শহরে এ ধরনের হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
গতকাল পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী গোলযোগপূর্ণ আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় জঙ্গিদের গোপন আস্তানায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ কথা জানায়।
গতকাল দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে ওই হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর সাহওয়াল পাহাড়ের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে ওই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
নিহত মানুষের সংখ্যা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পশতু আদিবাসী অধ্যুষিত পাকিস্তানের ওই অঞ্চলকে আল-কায়েদার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ধারণা, আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা ও শীর্ষস্থানীয় তালেবান নেতারা ওই অঞ্চলে আত্মগোপন করে আছেন।

ফ্রান্সে এবার হালাল হ্যামবার্গার নিয়ে বিতর্ক

ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের বোরকা পরার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর পর এবার আপত্তি উঠেছে হালাল হ্যামবার্গার বিক্রি করা নিয়ে। হ্যামবার্গার হচ্ছে রুটির ভেতরে মাংসের পুর দিয়ে বানানো এক ধরনের খাবার। সম্প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রেতাদের জন্য ‘কুইক’ নামের ফ্রান্সের একটি খাবারের দোকানের চেইন (শাখা) শূকরের মাংস বাদ দিয়ে হালাল হ্যামবার্গার বিক্রি শুরু করে। আর এ নিয়েই আপত্তি তুলেছেন সেখানকার রাজনীতিকেরা।
ফ্রান্সের ডান ও বামপন্থী ধারার রাজনীতিকদের অভিযোগ, তিন মাস আগে চালু করা এই হালাল হ্যামবার্গার অমুসলিম নাগরিকদের স্বাভাবিক মানের হ্যামবার্গার খাওয়ার অধিকার খর্ব করছে। তাঁদের এখন শূকরের মাংসের হ্যামবার্গার খেতে রাজধানী প্যারিসের শহরতলিতে যেতে হচ্ছে। কারণ, ‘কুইক’ শহরের প্রাণকেন্দ্রে একমাত্র ফাস্টফুডের দোকান।
ফরাসি শহর রোবির নেতারা গত বৃহস্পতিবার নগর কর্তৃপক্ষের কাছে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ দাখিল করেছেন। তাঁদের পক্ষের আইনজীবী ফ্রাংক বার্টন বলেন, ‘কুইক ধর্মের বিবেচনায় খাদ্যপণ্য বাজারজাত করছে।’
ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেতারাও কুইকের ওই হালাল খাদ্যতালিকাকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। এ ব্যাপারে ফ্রান্সের মুসলিম কাউন্সিলের নেতা মোহাম্মদ মোসৌরি বলেন, অনেক দিন ধরেই হালাল খাবারের দোকান চলছে। এ ক্ষেত্রে কুইক অবশ্য প্রথম দোকান যারা মুসলিম গ্রাহকদের জন্য সম্পূর্ণ হালাল খাদ্যতালিকা দিচ্ছে। কিন্তু কুইকের সাড়ে ৩০০ রেস্তোরাঁর মধ্যে মাত্র আটটিতে শূকরের মাংসের হ্যামবার্গার পাওয়া যাচ্ছে না।
রোবিতে কুইক রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বলেছে, হালাল খাদ্যতালিকা চালু করার পর তাদের বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। আর গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো আপত্তিও পাননি তাঁরা।
ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মুসলমান বাস করেন ফ্রান্সে। সম্প্রতি সে দেশের সরকার পুরোপুরি বোরখা পরার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আইন করার উদ্যোগ নেয়।

রাজ্জাক-ঝড়ে দুবাইয়ে সমতা

যখন ব্যাট করতে নামলেন, জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ৪২ বলে ৭১। উইকেট পড়ে গেছে পাঁচটি, বাইরে যাঁরা আছেন তাঁদের মূল কাজ বোলিং আর উইকেট কিপিং। প্রথম বলে কোনো রান নেই, পরের দু বলে দুটি ছয়। আজমল শাহজাদের বলে আরেকটি ছয় মেরে পাকিস্তানকে জিতিয়ে আব্দুল রাজ্জাক যখন ব্যাট তুললেন, তখনো বাকি পুরো এক ওভার! দুবাইয়ে কাল ৪ উইকেটের জয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফেরাল পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই তিনটি ছাড়াও রাজ্জাকের ইনিংসে ছয় আছে আরও দুটি। কোনো চার নেই, পাঁচ ছয়ে ১৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংসটি টি-টোয়েন্টিতে রাজ্জাকের সর্বোচ্চ। অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ওভারেই দু উইকেট নিয়ে ১৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন শাহজাদ। ১৩তম ওভারের শেষ বলে ৩৬ রান করা উমর আকমলের বিদায়ের সময় স্কোর ৫ উইকেটে ৭৮, মনে হচ্ছিল আরেকটি পরাজয়ই জুটবে পাকিস্তানের। ষষ্ঠ উইকেটে রাজ্জাক-ফাওয়াদের ২৫ বলে ৪৮ রানের জুটি জয়ের দিকে এগিয়ে নেয় পাকিস্তানকে। ২০ বলে ২৮ রান করেন ফাওয়াদ আলম। ৪ ওভারে ১৪ রান, ইংল্যান্ডের পক্ষে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের রেকর্ডের পাশাপাশি গ্রায়েম সোয়ান আউট করেছেন আফ্রিদি, আকমল ও মালিককে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা আফ্রিদি বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি, রান করেছেন ৮।
ইংল্যান্ড ১৪৮ করতে পেরেছিল মূলত কেভিন পিটারসেনের ৪০ বলে ৬২ রানের ইনিংসের কল্যাণে। দ্বিতীয় উইকেটে জোনাথন ট্রটকে নিয়ে গড়েন ৯৮ রানের জুটি। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৪৮/৬ (পিটারসেন ৬২, ট্রট ৩৯; আরাফাত ৩/৩২, পাকিস্তান: ১৯ ওভারে ১৪৯/৬ (রাজ্জাক ৪৬*, আকমল ৩৬, ফাওয়াদ ২৮, সোয়ান ৩/১৪)। ম্যাচ-সেরা: আব্দুল রাজ্জাক, সিরিজ-সেরা: গ্রায়েম সোয়ান।

নতুন ভূমিকায় হাবিবুল বাশার

ক্রিকেট দলের হয়ে এর আগে বিদেশ সফরের সময় বিমানবন্দরে ম্যানেজারের হাতে পাসপোর্ট দিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াতাম। এবার আমার হাতে পাসপোর্ট দিয়ে সবাই মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে। তার পরও খারাপ লাগছে না, নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, আমি দারুণ রোমাঞ্চিত’—রোমাঞ্চটা যেন ধরা পড়ছিল হাবিবুল বাশারের কণ্ঠেও। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ছেড়েছেন মাত্রই সেদিন, আজই হয়ে যাচ্ছে নতুন ভূমিকায় অভিষেক। বিকেএসপি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ম্যানেজার হয়ে আজ হায়দরাবাদ যাচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক।
এটা অবশ্য বিসিবির কোনো দল নয়। হায়দরাবাদের ডব্লুএফএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আয়োজকেরাই বাংলাদেশের ‘আইকন’ ক্রিকেটার হিসেবে যোগাযোগ করেছিলেন হাবিবুলের সঙ্গে। অনুরোধ করেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ের একটি দল নিয়ে যেতে। বিকেএসপির দলটা সব সময় প্রস্তুত থাকে বলে বেছে নেওয়া হয়েছে তাদেরই। টুর্নামেন্ট শুরু হবে আগামী পরশু, শেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি। হাবিবুলের মতোই পাকিস্তান থেকে যাচ্ছেন অলাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক, শ্রীলঙ্কা থেকে সাবেক ব্যাটসম্যান এবং বর্তমানে ধারাভাষ্যকার রাসেল আরনল্ড, জিম্বাবুয়ে থেকে সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক। টুর্নামেন্টে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্বাগতিক ভারতও। দলের সংখ্যা বাড়তে পারে আরও।

মায়ের স্নেহচুম্বন

সবার আগে আলিঙ্গনে বেঁধেছেন তাঁর মা কালটিডা উডস। ছেলের কপালে স্নেহের চুম্বন এঁকেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, টাইগার উডসের এই দুঃসময়ে মায়ের আঁচল তাঁকে আড়াল করতে প্রস্তুত।
সংবাদমাধ্যমের ওপরও ক্ষোভ ঝেড়েছেন কালটিডা। গুজবে সাংবাদিকেরা একের পর এক কেচ্ছা ফেঁদে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বলে অভিযোগ থাই বংশোদ্ভূত এই নারীর। রক্তমাংসের মানুষ ভুল করতেই পারে। তাঁর ছেলেও করেছে। কিন্তু মিডিয়ার একাংশ তাঁর ছেলেকে বানিয়ে দিয়েছে ‘ঘৃণ্য অপরাধী’।
‘জানতে চান, তবে বলি, আমি ওর মা হিসেবে গর্বিত। এই ব্যাপারটা ওকে একটা শিক্ষা দিয়েছে, যেমনটা সে গলফ থেকে পেয়েছে। প্রত্যেক মানুষই জীবনে কোনো না কোনো ভুল করে। পাপ করে। আমরা সবাই করি। কিন্তু তার পরও আমরা এগিয়ে যাই। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিই। মিডিয়া যে তাঁকে ঘৃণ্য অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করেছে—এতে আমি বেদনাহত। ও তো কাউকে খুন করেনি। বেআইনি কোনো কিছুই সে করেনি। ট্যাবলয়েড আর পত্রপত্রিকাগুলো ওকে মেরেই ফেলেছিল প্রায়।’
উডসকে এবার রেহাই দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

আজই চলে আসছে কুকের ইংল্যান্ড

সমারসেটের হয়ে যা পারফরম্যান্স, অপেক্ষা ছিল কেবল নাগরিকত্বের মেয়াদকাল পূরণের। ১৭ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে ৬৬ বলে ৮১ রান করে জাতীয় দলকে হারানোর দিনটিতেই পূরণ করে ফেলেছেন ৪ বছরের মেয়াদকাল। তিন দিন পরেই ক্রেইগ কিজওয়েটার ডাক পেয়ে গেলেন ইংল্যান্ড দলে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ১৬ সদস্যের দলে রাখা হয়েছে ২২ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকে। দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলতে আজই বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দুবাই থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা অ্যালিস্টার কুকের দলের।
কিজওয়েটারের অন্তর্ভুক্তিতে ইংল্যান্ড দলে দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার বাড়ল আরও একজন। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলা এই ক্রিকেটার কদিন আগে বলেছিলেন, ‘আমি মনে-প্রাণে নিজেকে ইংলিশ মনে করি।’
বাংলাদেশে ইংল্যান্ডের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ফতুল্লায় বিসিবি একাদশের বিপক্ষে। দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটিও ফতুল্লায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ২ মার্চ প্রথম দুটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিরপুরে, শেষটি ৫ মার্চ চট্টগ্রামে। ৭ থেকে ৯ মার্চ বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ চট্টগ্রামেই। ১২ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের পর ২০ মার্চ দ্বিতীয় টেস্ট মিরপুরে।
বিসিবি একাদশের অধিনায়ক শাহরিয়ার : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত বিসিবি একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে শাহরিয়ার নাফীসকে। দলে আছেন অনেক দিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা দুই ক্রিকেটার অলক কাপালি ও তাপস বৈশ্য, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান। নির্বাচিত ক্রিকেটারদের আগামীকাল সকাল সাড়ে নয়টায় মিরপুর স্টেডিয়ামে কোচ মিনহাজুল আবেদীনের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
দল: শাহরিয়ার নাফীস (অধি.), অলক কাপালি, ইমতিয়াজ হোসেন, নাসিরুদ্দিন ফারুক, শাহীন হোসেন (উইকেটকিপার), মাহমুদুল হাসান, শাফাক আল জাবির, তানভীর হায়দার, আরিফুল হক, আলাউদ্দিন বাবু, তাপস বৈশ্য, শামসুর রহমান, মোহাম্মদ শরীফউল্লাহ।