Thursday, September 8, 2016

রাখাইনে মুসলিম ও বৌদ্ধদের সঙ্গে কথা বললেন আনান

মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলতে
গতকাল জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান সিত্তোয়ে
এলাকায় থেট কে পাইন শরনার্থী শিবিরে যান। এএফপি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। জাতিগত দাঙ্গায় বাস্তুহারা হওয়া এসব ব্যক্তি ছাড়াও সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। ইতিমধ্যে এই সাক্ষাৎ জাতিগত সহিংসতায় আক্রান্ত অনেকের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। গত মঙ্গলবার কফি আনানসহ কমিশনের সদস্যরা উত্তর-পশ্চিমের রাখাইন রাজ্যে পৌঁছে প্রথমেই বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তোপের মুখে পড়েন। এই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ পাওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের অঘোষিত প্রধান অং সান সু চি নয় সদস্যের এই কমিশন নিয়োগ দেন। গতকাল মিয়ানমারের ছয়জন নাগরিক এবং কফি আনানসহ তিনজন বিদেশি রাজ্যটির বাস্তুহারা লোকদের অবস্থা দেখতে ক্যাম্পে যান। এ সময় তাঁরা উভয় সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গেই কথা বলেন। কফি আনান ও তাঁর কমিশনের সদস্যরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
যাঁদের সঙ্গে তাঁরা সাক্ষাৎ করেছেন তাঁদের একজন হলেন দার পাইং কস্পের বাসিন্দা হ্লা মিন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে কমিশন সাহায্য করবে।’ থেট কে পাইন নামে আরেক ক্যাম্পে বাস করে প্রায় ৫০০ মুসলিম। তাদের ধর্মীয় নেতা কিয়াও জান লা বলেন, ‘শত শত বছর ধরে দুই সম্প্রদায় একসঙ্গে বাস করছে। আমরা রোহিঙ্গারা রাখাইনদের সঙ্গেই থাকতে চাই।’ যদিও রাজ্যটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল কমিশনের বিরোধিতা করে বলেছে, আঞ্চলিক বিষয়াদি বিদেশিরা বুঝবে না। এ রাজ্যটি নিয়ে বরাবরই খুব সতর্ক অবস্থানে থাকছেন সু চি। কিন্তু গত নভেম্বরের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এ নিয়ে অনেক স্পষ্টবাদী অবস্থান নিয়েছেন তিনি। রাখাইনে ২০১২ সালের বৌদ্ধ-মুসলিম দাঙ্গায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর থেকে সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করছে এ দুই জাতিগোষ্ঠী। সোয়া এক লাখ মানুষ, যারা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ, তারা সেখানকার ক্যাম্পে থাকে।

লাওসে বোমা হামলার জন্য ওবামার অনুতাপ

লাওসে সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার
গাড়িবহর গতকাল লুয়াংপ্রাবাং শহর দিয়ে যাচ্ছিল।
মেকং নদীর পাড়ে হঠাৎ থামে ওবামার গাড়ি। সেই
ফাঁকে ডাবের পানিতে তেষ্টা মিটিয়ে নেন তিনি। এএফপি
ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে লাওসে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যাপক’ বোমা বর্ষণের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন বিমানবাহিনী এই বোমা বর্ষণ করেছিল। গতকাল বুধবার প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে গিয়ে বোমায় আহত কিংবা ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে দেখা করে ওবামা এই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। সেখানে লাওসকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যাপক’ বোমা হামলার শিকার হওয়া দেশ বলে বর্ণনা করেন ওবামা। তবে ওই মার্কিন বোমা হামলার জন্য ওবামা আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ কিংবা ক্ষমা প্রার্থনা করেননি।
১৯৬৪ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত লাওসে গড়ে প্রতি মিনিটে আটটি করে প্রায় ২৮ কোটি ৮০ লাখ ক্লাস্টার বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার করা মোট বোমার চেয়েও এ সংখ্যা অনেক বেশি। লাওসের এক বাসিন্দার ভাষায় সেখানে ‘বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ’ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা বোমাগুলোর অধিকাংশই ক্লাস্টার বোমা ছিল। এগুলোর ৩০ শতাংশ এখনো অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যাওয়ায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানির কারণ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী তিন বছরে ক্লাস্টার বোমা ও অন্যান্য অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করে সরিয়ে নিতে প্রায় নয় কোটি ডলার ব্যয় করবে। মাইন অপসারণের কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২৮ কোটি ৮০ লাখ বোমার মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লাওসজুড়ে ৭ কোটি ৫০ লাখ বোমা অবিস্ফোরিত অবস্থায় এখানে-সেখানে ছড়িয়ে আছে।

বিশ্বের পাঁচ কোটি শিশু বাস্তুচ্যুত

হাতে বাক্স পেটরা, সঙ্গে শিশুসন্তান—সিরীয় এক শরণার্থী
দম্পতি তুরস্ক থেকে ফিরছেন। গন্তব্য সিরিয়ার জেরাবুলুস
শহর। গতকাল তুরস্কের কিলিস অঞ্চলের কারকামিস
গেট থেকে ছবিটি তোলা। এএফপি
যুদ্ধ, সহিংসতা কিংবা দারিদ্র্যের কারণে বিশ্বের প্রায় পাঁচ কোটি শিশু গৃহহারা হয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের তৈরি ‘আপরুটেড: দ্য গ্রোইং ক্রাইসিস ফর রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেন্ট চিল্ডেন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে জাতিসংঘ। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নৌকা ডুবে সাগরের তীরে পড়ে থাকা আয়নাল কুর্দির ছোট্ট নিথর দেহ কিংবা বোমায় ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে উদ্ধার করা শিশু ওমরান দাকনিশের মুখের এক একটি ছবি কখনোই ভোলা যায় না। এসব ছবি সারা বিশ্বকে শোকাহত করেছে।’ অ্যান্থনি লেক বলেন, ‘এক একটি ছবি বিশ্বের লাখ লাখ শিশুর দুরবস্থার চিত্রকে তুলে ধরে। এসব ছবি এসব শিশুকে রক্ষা করতে আমাদের আরও সচেষ্ট হতে প্রণোদনা দেয়।’
ইউনিসেফ বলছে, কেবল সহিংসতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্বের ২ কোটি ৮০ লাখ শিশু উদ্বাস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি শিশু শরণার্থীও রয়েছে। আরও ২ কোটি শিশু সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস অথবা চরম দারিদ্র্যের কারণে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ১০ লাখ আশ্রয়প্রত্যাশী শরণার্থী রয়েছে। শরণার্থী হিসেবে এদের মর্যাদাদানের বিষয়টি ঝুলে আছে। ১ কোটি ৭০ লাখ শিশু মানবিক সহায়তার অভাবে নিজ দেশেই উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। ইউনিসেফ বলেছে, পরিবার-পরিজন ছাড়া একা একা সীমান্ত পাড়ি দেওয়া শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। গত বছর ১ লাখের বেশি শিশু উদ্বাস্তু হয়ে দেশ ছেড়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা তিন গুণ বেশি। গত বছর ৪৫ শতাংশ শরণার্থী শিশুই এসেছে সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে।

ধ্বংস ও সংস্কারের মাঝখানে

সম্প্রতি লন্ডনের দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকা মিসর-বিষয়ক ধারাবাহিক নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে একটি নিবন্ধ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, সম্ভবত এর শিরোনামের কারণে: ‘মিসরের বিনাশ’। ইকোনমিস্টের আগস্টের প্রথম সপ্তাহের সংখ্যায় মিসর-বিষয়ক যেসব নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে এ রকম ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে: মিসর ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। তারা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে সিসির এই ‘ধ্বংসাত্মক মডেলে’ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের অর্থ জোগান দেওয়া মোটেও উচিত হবে না। এমনকি ইকোনমিস্ট সিসির প্রতি এ আহ্বানও জানিয়েছে যে তিনি যেন ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না দাঁড়ান। মিসরের সরকারও বেশ দ্রুত এসব নিবন্ধের জবাব দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমেদ আবু জেইদ এসব নিবন্ধকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইকোনমিস্ট মিসরের ব্যাপারে পক্ষপাতমূলক অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ইকোনমিস্ট দাবি করেছে, সিসি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মিসরের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করেছেন। অথচ মিসরের লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রেসিডেন্ট মুরসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন, তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এরপর তাঁরা নির্বাচনে সিসিকে বিজয়ী করেছেন।’ ইকোনমিস্টের নিবন্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, সিসি মিসরের অর্থনৈতিক নীতি ভালোভাবে সামাল দিতে পারেননি। জেইদ বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে মিসরের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করা হয়, ফলে এ কথা বলে ইকোনমিস্ট এই সত্যকে অস্বীকার করেছে।
জেইদ বলেন, ‘ম্যাগাজিনটি হাস্যকরভাবে দাবি করেছে, উপসাগরীয় দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার কারণেই মিসরের অর্থনীতি টিকে আছে।’ কিন্তু তারা এটা খেয়াল করেনি যে গত কয়েক বছরে মিসরে মার্কিন সহায়তার পরিমাণ কমেছে। ফলে মিসর এখন সাহায্যের ওপর নির্ভর করছে না। তবে এটা ঠিক, নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করা কঠিন কাজ। এটা করতে সময় লাগে। আইএমএফের সঙ্গে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ঋণের চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতেই বোঝা যায়, মিসর সঠিক পথে এগোচ্ছে। এখন তাকে কিছু কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইতিমধ্যে সিসির সরকারের সফলতা ও কর্মসম্পাদনের তালিকাও ছোট নয়। কিন্তু জেইদ অভিযোগ করেন, ইকোনমিস্ট এসব দেখতে পায় না। মধ্যপ্রাচ্যের অভূতপূর্ব টানাপোড়েন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাধা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে মিসরের পর্যটনশিল্প বাধাগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও দেশটি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। দেশটির অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করার জন্য শ্রমঘন বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ানো হয়েছে, জেইদ জানান। তবে তিনি এ–ও বলেন, হয়তো রাতারাতি এসব প্রকল্পের সফলতা পাওয়া যাবে না। আবার স্রেফ সংখ্যাতত্ত্ব দিয়েও এর সফলতা পরিমাপ করা যাবে না। এসব কর্মকাণ্ডের সামাজিক ও রাজনৈতিক মাত্রা আমলে নিতে হবে। মিসরের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই মুখপাত্র বিবৃতির ইতি টানেন এভাবে: মিসর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সে জেনে গেছে, কে তার বন্ধু আর কে শত্রু। আর যারা মিসরের ব্যাপারে পক্ষপাতমূলক অবস্থান নিয়েছে, ইকোনমিস্ট তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছে।
ইকোনমিস্ট বলেছে, ২০১১ সালের ‘আরব বসন্তে’ মিসর, লিবিয়া, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেনের ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। কিন্তু তারা প্রশ্ন তুলেছে, এই হাওয়া কি তরুণদের উৎসাহকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে ধাবিত করতে পেরেছে? তারা বলেছে, শুধু তিউনিসিয়া ছাড়া আর সব দেশেই আরব বসন্তের পর ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এসব দেশে এখন আগের চেয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংগ্রাম চলছে, সেখানকার বেকারত্বের হারও অনেক বেশি। এমনকি মিসরের সব ঘরানার তরুণ ও পেশাজীবীরা এখন হোসনি মোবারকের জমানার চেয়েও বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আবার সেখানে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইকোনমিস্টের নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, মিসরের সবকিছুই কড়া নজরদারির মধ্যে চলে, যেখানে ঘুষ ছাড়া কিছুই করা যায় না। এর ফলে বিশ্বব্যাংকের তালিকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরিখে মিসরের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৩১তম, যেখানে সরকার বিনিয়োগের পথে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, ব্যবসা করতে গেলে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে হয়। তারা আরও বলেছে, মিসরের অর্থনৈতিক দুরবস্থার পেছনে আমলাতন্ত্রই প্রধান কারণ, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ প্রকল্প সরকার দেখভাল বা তার ওপর করারোপ করে না। ফলে ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, দেশটির অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাত আনুষ্ঠানিক খাতের চেয়ে বড় হয়ে গেছে। মিসরে রাষ্ট্রীয় গোলযোগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মোবারক বড় কিছু সংস্কার করায় ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দেশটিতে বড় পরিবর্তন এসেছিল। কিন্তু সিসি মিসরে বড় পরিবর্তন আনতে চাইলেও এটা ভাবার তেমন কারণ নেই যে তিনি তা করতে সক্ষম। তবে শুধু ইকোনমিস্টই নয়, আরও কিছু বিদেশি গণমাধ্যম যেমন, ব্লুমবার্গ, রয়টার্স, সিএনএনও তাদের কাতারে যোগ দিয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে মিসরের সবচেয়ে বড় সংবাদপত্র আল-আহরাম ‘বিদেশি গণমাধ্যমে মিসরের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ ছেপেছে। এতে বলা হয়েছে, এই গণমাধ্যমগুলো মিসরের অর্থনীতির বিকৃত চিত্র তুলে ধরে তীব্র প্রচারণা চালাচ্ছে। এসব বিদেশি সংবাদপত্র মিসরকে ‘ব্যর্থ’, ‘আশাহীন’ ও ‘বিনিয়োগ অবান্ধব’ আখ্যা দিয়েছে, যে কিনা ‘প্রবৃদ্ধি অর্জনে অক্ষম’। এতে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে মিসরের এই দুর্দশার জন্য প্রেসিডেন্ট সিসিকে এককভাবে দায়ী করা হয়েছে। আল-আহরাম আরও বলেছে, রয়টার্সের আরবি বিভাগ শুধু মিসরের অর্থনীতির নেতিবাচক দিকগুলোই তুলে ধরছে। ২৮ জুলাই এরা একটি প্রতিবেদনে বলে, আইএমএফের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে মিসরীয় ব্যবসায়ীদের তেমন একটা উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, মিসর যদি জোর করে কঠিন সংস্কার চাপিয়ে দেয় বা ডলার–সংকট কাটাতে না পারে, তাহলে এই ঋণের টাকা বিনিয়োগ হবে না। বিদেশি গণমাধ্যমের এসব প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও বুদ্ধিজীবীরাও মাঠে নেমেছেন, যে বিষয়ে পরবর্তীকালে আরেকটি নিবন্ধ লিখব বলে আশা করছি।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
কামাল গাবালা: মিসরের আল–আহরাম পত্রিকাগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক।

একেই বলে দাঁও মারা

ঠান্ডা রক্তকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনার যন্ত্র ‘ব্লাড ওয়ারমার’-এর বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু এই যন্ত্র চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকায়! কান পরীক্ষার জন্য অটোস্কোপ যন্ত্রের দাম ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। অথচ প্রতিটি অটোস্কোপ যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। একইভাবে আরও আটটি যন্ত্র কেনা হয়েছে বাজারমূল্যের চেয়ে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মূল্যে। দাঁও মারা বোধ হয় একেই বলে। গত সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে জালিয়াতির এই চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে হাসপাতালে এসব যন্ত্র কেনা হয়। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটার ‘ইতিহাসে’ সম্ভবত এটি একটি মাত্রাছাড়া জালিয়াতি হিসেবেই ‘জায়গা’ পাবে।
উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গত এপ্রিল মাসে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এসব জালিয়াতির খবর সংগ্রহ করতে পারলেও কারা এত বড় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তা বের করতে পারেনি। হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাংসদ জিয়াউদ্দিন আহমেদ। তিনিও এ ব্যাপারে এখনো কিছু করতে পারেননি। যেকোনো হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য রয়েছে ক্রয় আদেশ-সংক্রান্ত কমিটি। ২০১৪-১৫ বছরে এই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন সিভিল সার্জন সরফরাজ খান। তিনি কোনো অনিয়ম করেননি বলে দাবি করেছেন। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এসবের পেছনে কে বা কারা রয়েছে? ক্রয় আদেশ-সংক্রান্ত কমিটি, না যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে এসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে তারা, নাকি দুই পক্ষ মিলেমিশেই এই জালিয়াতি ও দুর্নীতি করেছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও সাজা নিশ্চিত করতে না পারলে এ ধরনের দাঁও মারা অব্যাহত থাকবে।

শুরুতেই নজিরবিহীন আক্রমণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণার শুরুতেই তীব্র বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার একে অপরের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ করেন তারা। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থীকে উদ্দেশ করে বলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদের জন্য একেবারেই অযোগ্য। তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণে ট্রাম্প বলেছেন, হিলারিকে দেখতে প্রেসিডেন্টের মতো লাগে না। পুতিন (রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট) তাকে দেখলে হাসেন।’ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আগামী ৬২ দিনের নির্বাচনী প্রচারণায় এমন আক্রমণ চলতেই থাকবে। আগামী ৮ নভেম্বর নির্বাচনের আগে হিলারি ও ট্রাম্প তিন দফা বিতর্কে অংশ নেবেন। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে আর তিন সপ্তাহ পরেই। সেটি দেখার জন্য মার্কিনিদের পাশাপাশি কৌতূহলী বিশ্ববাসী। ট্রাম্প সব বিতর্কে অংশ নেবেন না বলে গত মাসে ইঙ্গিত দিলেও এখন বলছেন, তিনটি বিতর্কেই তিনি থাকবেন। এর আগে সোমবার থেকে শেষ ধাপের প্রচারণা শুরু করেন হিলারি ও ট্রাম্প। ক্লিভল্যান্ডে হিলারি ও ট্রাম্প খুব কাছাকাছি জায়গায় সমাবেশ করে প্রচারাভিযান শুরু করেন। হাজারখানেক সমর্থকের উদ্দেশে হিলারি বলেন, ‘আমি প্রস্তুত, খুব বেশিই প্রস্তুত।’ ভাষণ দেয়ার সময় কাশির দমক সামলাতে হিলারিকে থামতে হয়েছে। পরে পানি পান করে সামলে নেন পরিস্থিতি। এই নিয়ে সমালোচকদের একটি অংশ সরব হয়েছে। তাদের যুক্তি, হিলারির গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে। তবে তিনি সে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এগুলো ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’। মৌসুমি অ্যালার্জির কারণেই তার কাশি হয়েছিল।
নির্বাচিত হলে হিলারি ক্লিনটন হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। এদিন হিলারি আরও বলেন, মস্কো এখন ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে চাইছে। কারণ, ট্রাম্প মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই ওই গুপ্তচরবৃত্তি শুরু হয়েছিল। ট্রাম্পও সোমবার জনসংযোগ করেন। সেখানে তার ব্যক্তিগত বিমানযোগে যাত্রার জন্য কয়েকজন সাংবাদিকও আমন্ত্রণ পান। আকাশপথেই তিনি তুলে ধরেন অভিবাসন নিয়ে তার ভাবনাচিন্তা। অভিবাসন নিয়ে হিলারির অবস্থানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তার (হিলারি) পরিকল্পনা হল, পরিপূর্ণ দায়মুক্তি। কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের এ দেশ থেকে তাড়ানোর বদলে তিনি বৈধতা দিতে চান। কাজেই হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে যে কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়তে পারবে। এদিকে, মঙ্গলবার হিলারি ট্রাম্পের আয়কর রিটার্ন প্রকাশ না করা নিয়ে সমালোচনা করেন। হিলারির অভিযোগ, রিপাবলিকান প্রার্থীর আয়করের মধ্যে ঘাপলা রয়েছে। তাই তিনি তা প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। অথচ রিচার্ড নিক্সনের মতো ব্যক্তিরাও নির্বাচনের আগে তাদের আয়কর বিবরণী প্রকাশ করেছেন। আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্পের আয়কর বিবরণী রিটার্ন নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি। অন্যদিকে, হিলারি ক্লিনটন মেক্সিকো সফর বাতিল করার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হিলারির যোগ্যতা নেই মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করা। তাই তিনি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এসময় ট্রাম্প নিজের সফরকে ‘বিরাট সাফল্য’ বলে দাবি করেন।

অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি

২৯ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। সফরটি সময়ের দিক দিয়ে সংক্ষিপ্ত হলেও গুরুত্বের দিক দিয়ে ছোট ছিল না। এ সফরের মধ্য দিয়ে অনেক বিষয় সামনে চলে আসে। জন কেরি প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে আলোচনা করেন। তার সফর নিয়ে যুগপৎ মিডিয়া ও নাগরিক সমাজে কৌতূহলের কমতি ছিল না। জন কেরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। এরপর তিনি বৈঠক করেন মাঠের বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে। পরে তিনি ধানমণ্ডির ইএমকে সেন্টারে নাগরিক সমাজ, যুবসমাজের প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। এসব মতবিনিময় ও বক্তব্যে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেও জন কেরি গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনের কথা বলে এবং সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে অনেক কিছু বোঝাতে সক্ষম হন। জন কেরি চলে যাওয়ার পর তার বক্তব্যকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে দু’ভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয়। সরকারদলীয় ব্যাখ্যায় কেরির বক্তব্যের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রদত্ত অংশকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে জন কেরির বক্তব্যের গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও নির্বাচনের ইস্যুটিকে ফোকাসে আনার চেষ্টা লক্ষণীয়। নিরাপত্তা যে উন্নয়নের পূর্বশর্ত সে বিষয়টি জন কেরির আলোচনায় গুরুত্ব পায়। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যে গণতন্ত্রকে আহত করা যাবে না, সে বিষয়টিও তিনি তার বক্তব্যে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। ধানমণ্ডির ইএমকে সেন্টারে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি গণতন্ত্রের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখাটাও জরুরি। এ মূল্যবোধকে অবহেলা করা যাবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় গণতন্ত্র এখনও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য প্লাটফর্ম।’ এ বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা না থাকলেও সরকারি দলের ‘স্বল্প গণতন্ত্র ও অধিক উন্নয়ন’ নীতির প্রতি যে তার পূর্ণ সমর্থন নেই তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। জঙ্গি দমনের ইস্যুতে এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে স্বদেশী জঙ্গি হামলাগুলোকে স্থানীয় জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড বলে যে বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছিল, জন কেরির বক্তব্য সে প্রচারণাকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশী জঙ্গিদের সঙ্গে যে সিরিয়া ও ইরাকের সন্ত্রাসীদের এবং আইএসের যোগাযোগ আছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে চালানো সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব হামলা চালানোর জন্য সিরিয়া কিংবা ইরাক থেকে জঙ্গিরা বাংলাদেশে আসেনি এটা সত্য। তবে আমাদের কাছে প্রমাণ আছে,
বাংলাদেশে স্থানীয় জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ আছে।’ কেরির সফরে একটি জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রথম লাইন- ‘অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি’- মনে পড়ল। তিনি অনেক বক্তব্য না রেখেও ইঙ্গিতধর্মী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। দক্ষ কূটনীতিকরাই এমনটি করতে পারেন। যেমন, জন কেরি তার বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা করেননি। দশম সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা করেননি। সংসদের সমালোচনা করেননি। সংসদের বিরোধী দলের সমালোচনা করেননি। সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রীর সমালোচনা করেননি। কিন্তু এসব ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে যে তার প্রশ্ন আছে, তা তার একটি মাত্র কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি সংসদের বাইরের বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে তার মনোভাবটি বুঝিয়ে দিয়েছেন। মাঠের বিরোধী দলের নেত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে জন কেরি সন্ত্রাস ইস্যু ছাড়াও বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বিএনপি নেতাদের জানান, বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ নেবে। তিনি চান বিএনপি পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। শুধু তাই নয়, তিনি বিএনপি নেত্রীর কাছে জানতে চান, তিনি পরবর্তী নির্বাচনের সময় কেমন সরকার আশা করেন।
খালেদা জিয়া এ জিজ্ঞাসার কূটনৈতিক উত্তর দেন। তিনি সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের কথা না বলে জন কেরিকে বলেন, তিনি চান নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশন এবং সরকার যেন সব দলের সঙ্গে সমান আচরণ করে। জন কেরি খালেদা জিয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, তারাও তা-ই চান এবং যুক্তরাষ্ট্র সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসার গ্র“প হিসেবে কাজ করবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ দেশে নির্বাচনকালে দলীয় সরকার সব দলের প্রতি যে সমান আচরণ করে না এ সত্যটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি দশম সংসদ নির্বাচনে এবং ওই নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সরকার সব দলের প্রার্থীর প্রতি সমান আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি। খালেদা জিয়ার কাক্সিক্ষত ধরনের সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে হলে যে সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি দলনিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে সে বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা হয় না। কাজেই সরকারের পক্ষে দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল ও বহির্বিশ্বকে এ কথা বোঝানো কঠিন হবে যে, তারা নিজদলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হবেন। কারণ যে সরকার নিজ তত্ত্বাবধানে চার রকম স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটিতেও স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি, সেই একই সরকার কীভাবে সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করবে?
জন কেরির আলোচনায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও স্বাধীন দেখতে চায়। এর অর্থ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড যে ভালো হচ্ছে না, সে সত্যটি পরোক্ষভাবে স্বীকার করা। জন কেরির আলোচনায় এ বিষয়টি আনার অর্থ হল, আর কয়েক মাস পর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনকালে বর্তমান কমিশনের মতো নতজানু ও দুর্বল নির্বাচন কমিশন গঠন না করার বিষয়ে সতর্ক করা। উল্লেখ্য, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যাপক দুর্নীতি করলেও কমিশন ওই দুর্নীতিকারীদের শাস্তি দিতে পারেনি। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন হলেও কমিশন জনগণের মধ্যে তার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। আর নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে তো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে না। কাজেই পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনকালে কীভাবে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায়, সে বিষয়ে সরকার এখনই সব দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলে ভালো হয়। নির্বাচন কমিশন নিয়ে জন কেরির আলোচনা এসব বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকবে,
নাকি গণতন্ত্রের লেবাসে দুর্বল নির্বাচন কমিশন ও নতজানু ‘জি হুজুর’ ধরনের বিরোধী দল সৃষ্টি করে দেশটি পরোক্ষভাবে একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হবে, সে বিষয়টি নির্ভর করবে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের ওপর। ওই নির্বাচনটি যদি ইনক্লুসিভ হয়, যদি দেশে ও বহির্বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা পায়, তাহলে দেশ গণতন্ত্র চর্চায় এগিয়ে যাবে। সংসদ কার্যকর হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আর যদি একাদশ সংসদ নির্বাচন আবারও সব দলের কাছে এবং দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা না পায়, তাহলে দেশে গণতন্ত্র পিছিয়ে যাবে। উন্নয়নের জোয়ার বইলেও শান্তি আসবে না। অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। শক্তি প্রয়োগ করেও উগ্রবাদ কমানো যাবে না। বিদেশী বিনিয়োগ আসবে না। সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে না। কাজেই সব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিচিতি ও এ দেশের উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর। রাজনৈতিক অঙ্গনে ওই নির্বাচনটি নির্ধারিত সময়ের আগে অনুষ্ঠানের গুঞ্জন যখন চাউর, সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফর বাড়তি গুরুত্ব নিয়ে এসেছে। এ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনৈতিক ভঙ্গিমায় অনেক কিছু না বলেও তার আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নাগরিক সমাজকে জঙ্গিবাদ, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে মার্কিন মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধি করাতে সক্ষম হন।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
akhtermy@gmail.com

শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হোক ঈদুল আজহা

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মধ্যে দুটি মৌলিক পার্থক্য আছে। প্রথমটি হল, দীর্ঘ এক মাস সংযম পালন করার পর ঈদুল ফিতরের জন্য একটিমাত্র দিন ধার্য করা থাকে। অপরদিকে ঈদুল আজহা পালন করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তিনটি দিন বরাদ্দ করে দিয়েছেন। দ্বিতীয় পার্থক্যটি হল, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর একটি দিন আনন্দ উদযাপনের জন্য আসে ঈদুল ফিতর। আর ঈদুল আজহা আসে ত্যাগের মহিমা নিয়ে। ঈদুল আজহা আমাদের মনে করিয়ে দেয় নবী হজরত ইবরাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র নবী হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কথা। ইবরাহিমকে (আ.) মুসলিম জাতির পিতা এবং মুসলিম জাতিকে মিল্লাতি ইবরাহিম বলা হয়।
এই কলামের সংক্ষিপ্ত পরিসরে কোরবানির ইতিহাসের দীর্ঘ বর্ণনায় যাব না। আমাদের সবারই জানা আছে, মহান আল্লাহর হুকুম মানতে গিয়ে ইবরাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি দিতে প্রস্তুত ছিলেন; উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক ইসমাইল (আ.)-এর স্থানে একটি দুম্বাকে শায়িত করে দেন। ফলে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে সেখানে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। আমরা ওই ঘটনাকে স্মরণ করেই মহান আল্লাহর হুকুমে কোরবানি দিয়ে থাকি। মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রিয় বস্তুকে কোরবানি দিতে বা বিসর্জন দিতে কেউ যেন পিছপা না হই, এটাই ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা। মানুষ যেহেতু কোরবানি হবে না, তাই সম্পদের কিছু অংশ দিয়ে পশু ক্রয় করে মহান আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমরা কোরবানি দেই। আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘কোরবানির রক্ত বা মাংস আমার কাছে পৌঁছায় না। তোমাদের ইচ্ছা তথা নিয়তই শুধু আমার কাছে পৌঁছায়।’ তবে লোক দেখানোর জন্য কেউ যদি কোরবানি দেন, তাহলে তার নিয়তটি দূষিত হয়ে যায়।
আমি কোনো ধর্মীয় ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য এ কলাম লিখছি না। তবে এই অনুচ্ছেদের উপরের অংশ থেকে একটি উপসংহার টানতে চাই- ত্যাগ স্বীকার করার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। পৃথিবীতে যারাই বড় বড় নেতা হয়েছেন, তারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে তারা জাতির অন্তরে জায়গা করে নিতে পেরেছেন। ত্যাগ স্বীকার না করে এবং নিজের ব্যক্তিস্বার্থকে ছোট করে জাতির স্বার্থকে বড় করে যদি কেউ দেখতে না পারেন, তাহলে তিনি কোনো দিনও একজন আদর্শ নেতা হতে পারবেন না বা নেতা হয়ে উঠবেন না। এ রকম আদর্শ নেতা হিসেবে আমরা উল্লেখ করতে চাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কথা, মাহাথির মোহাম্মদের কথা, উইনস্টন চার্চিলের কথা, মহাত্মা গান্ধীর কথা, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কথা; যারা ব্যক্তি ও পারিবারিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, তাদের মহান আত্মত্যাগ বাঙালি জতি কখনই ভুলতে পারবে না। এ মুহূর্তে আমাদের দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে এমন নেতার খুব বেশি প্রয়োজন। আজ পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রথমত আহ্বান জানাচ্ছি, আমরা যে যেই অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের দেখতে হবে আমাদের হাতে এমন কোনো সম্পদ আছে কিনা যেটা আমরা জাতির স্বার্থে ত্যাগ করতে পারি। দ্বিতীয়ত, আমাদের চিন্তা করতে হবে,
এ সমাজটা আমার একার নয়, সবার। অতএব পারস্পরিকভাবে প্রত্যেকেই যদি ত্যাগ স্বীকার করি, তাহলে সবার ত্যাগে সমাজ মহিমান্বিত ও উজ্জীবিত হবে; সামনে এগিয়ে যাবে। প্রায় দু’মাস আগে রোজার ঈদের ছয়-সাতদিন আগে ঢাকা মহানগরীর গুলশান এলাকায় হলি আর্টিজান নামক রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলা হয়। এটি ছিল একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা, যা আমাদের ইতিহাসের একটি কলংকময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। জঙ্গি হামলার পর থেকে মানুষের মনে যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। এখনও অনেকের মনেই আতংকের রেশ রয়ে গেছে। এ আতংক কাটতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগবে। এরই মাঝে আমাদের সামনে আরও একটি ঈদ এসে গেছে। কয়েকদিন পরই সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার আশা রাখছি। ঈদের এই আনন্দের মাধ্যমে সবার মন থেকে মুছে যাক জরা, উৎকণ্ঠা। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে- সবাই যেন নিশঙ্কচিত্তে উদ্বেগহীনভাবে ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে পারেন এবং অনুষ্ঠানাদি পরিচালনা করতে পারেন। এই উদ্বেগহীন অবস্থা সৃষ্টির জন্য সবাইকেই কাজ করতে হবে। শুধু সরকারই নয়, বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত ঐক্যই পারে দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে। সমাজ থেকে অবসান হোক জঙ্গিবাদের, দূর হোক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সমাজ হয়ে উঠুক শান্তিময়- এ প্রত্যাশায় এ লেখা শেষ করছি। পাঠককে জানাই ঈদের আগাম শুভেচ্ছা।
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক : কলাম লেখক; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

বাবার সঙ্গে মাঠে এলো সাকিবকন্যা

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। অনেকেই বুধবার দেশের বাড়িতে চলে গেছেন। এদিকে কাল মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভালের ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ক্রিকেটার মাশরাফি মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানরা। সাবেকদের কার্নিভালের ফাইনালে সবার মধ্যমণি হয়ে ছিল সাকিবকন্যা আলাইনা হাসান অব্রি। সাকিবের রাজকন্যার বয়স এখনও এক বছর হয়নি। আগামী ৯ নভেম্বর এক বছর পূর্ণ হবে।
এদিন রোমাঞ্চকর ফাইনাল দেখতে আলাইনাকে নিয়ে মাঠে হাজির হন সাকিব। তামিম-মাহমুদউল্লাহরা মেতে ওঠেন আলাইনার সঙ্গে দুষ্টুমিতে। বিসিবির পরিচালক আকরাম খান, জালাল ইউনুস, খালেদ মাহমুদ আলাইনাকে আদর করতে ভোলেননি। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর গাঁটছড়া বাঁধেন সাকিব আল হাসান ও উম্মে আহমেদ শিশির। বিয়ের তিন বছরের মধ্যে তাদের ঘর আলো করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে জন্ম হয় আলাইনার।

বলিউড তারকাদের ঈদ উৎসব

ধর্মে ভিন্নতা থাকলেও সাধারণ আট-দশজন মানুষের মতো আয়োজন করেই বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করেন তারকারা। বলিউডও এর ব্যতিক্রম নয়। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে বলিউডেও চলছে ঈদের প্রস্তুতি। বলিউডে যে কোনো উৎসবের মতো ঈদের আয়োজনেও থাকে চোখে পড়ার মতো। কারণটাও সবার কাছে অনেকটা স্পষ্ট। বহির্বিশ্বে বলিউড মানেই খান পরিবার- আমির, সালমান কিংবা শাহরুখের নামেই যেন সবাই এখন বলিউডকে চেনেন। ভক্তমহল তো বটেই অন্যদেরও আগ্রহ থাকে এই খানদেরই ঘিরে। কীভাবে ঈদ উদযাপন করবেন সেসব বলিউড তারকারা?
আমির খান : বলিউডের মেধাবী অভিনেতা আমির খান। প্রতিবছর ঈদ তার কাছে বিশেষ একটি দিন। তবে বিশেষ হলেও প্রতি বছর প্রায় একইভাবে ঈদ পালন করেন এ অভিনেতা। এ বছরও তাই করবেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ঈদকে একেবারেই ব্যক্তিগত একটি অনুষ্ঠান হিসেবে উদযাপন করেন আমির। হাতেগোনা কয়েকজন বন্ধু আর পরিবারের সবাইকে নিয়েই দিনটি পালন করেন তিনি। সকালে মুম্বাই জামে মসজিদে নামাজ পড়েই পরিবারকে সময় দেবেন আমির। তবে এ দিন শুটিংয়ের কাজ সাধারণত রাখেন না তিনি। স্ত্রী, পুত্রকে নিয়েই ঈদের দিন পরিকল্পনা থাকে তার। সন্ধ্যার পর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করেন আমির খান।
সালমান খান : সালমান খানকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ যেন একটু বেশি থাকে। সালমানও যেন তার ভক্তদের নিরাশ করতে চান না। তাই প্রতি ঈদেই ‘দাবাং’, ‘রেডি’, ‘এক থা টাইগার’- এর মতো হিট সব সিনেমা উপহার দিয়ে প্রমাণ করেন ঈদ মানেই সালমান খান। শুধু সিনেমা উপহার দিয়ে নয়, টুইটারে ভক্তদের উদ্দেশে টুইট বার্তা দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন সাল্লু। তবে এতসবের বাইরেও ঈদ নিয়ে থাকে তার কিছু পরিকল্পনা। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে দায়িত্ব একটু বেশি নজরদারিতে রাখেন এ তারকা। মা-বাবা, ভাইদের নিয়েই থাকে পরিকল্পনার প্রধান অংশ। তাই ঈদের দিন সকালটা বাবা সেলিম খান আর ভাইদের নিয়ে নামাজ পড়বেন তিনি। বাকিটা সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই কাটান বলিউডের এ তারকা। পরিবারের বাইরেও কাছের বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করেন সালমান। তবে এ বছর অনেকটাই নতুন আমেজে ঈদ উদযাপন করবেন এ দাবাং তারকা। কারণ এ বছর বিশেষ অতিথি হিসেবে খান মঞ্জিলে থাকছেন তার বিশেষ বান্ধবী লুলিয়া।
শাহরুখ খান : প্রতিবারের মতো এবার নিজ বাংলো মান্নাতেই ঈদ পালন করবেন বলিউডের কিং খান। নিজেদের মতো করেই দুই পুত্র, এক কন্যা আর স্ত্রীকে নিয়ে দিনটি বেশ আনন্দেই কাটান বলিউড এ তারকা। সকালে নামাজ পড়ে আÍীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করেন শাহরুখ। তবে পরিবারের সঙ্গে দিনটি কাটালেও ভক্তদের জন্য টুইট বার্তা পাঠিয়ে শুভেচ্ছাবিনিময় করেন কিং খান।
সাইফ আলী খান : বলিউডের আরেক খান সাইফ আলী। এ বছরের ঈদ তার কাছে একটু বেশিই স্পেশাল। কারণ তার ঘরেও আসছে নতুন অতিথি। পাঁচ বছর প্রেম করার পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর বিয়ে করেন সাইফ ও কারিনা। যদিও একসঙ্গে থাকার সুবাদে এর আগেও তারা একসঙ্গে ঈদ করেছেন; কিন্তু এ বছরটি সেক্ষেত্রে ভিন্ন। এবারও বলিউড তারকারা ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদের ভক্তদের।
এ আর রহমান : পরিবারের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করতে ভালোবাসেন সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান। ঈদ সবসময়ই তার পরিবারের জন্য মূল্যবান এবং বিশেষ উৎসব। ওই দিনটি তিনি পরিবারের সবাই একসঙ্গে কাটান। তিনি নিজেই বারবার মিডিয়াতে বলেছেন, ‘আমার বোন ফাতিমা রহমান কে এম মিউজিক স্কুলের পরিচালক। ঈদের দিন সকালে আমাদের বাসায় চলে আসে। ওই দিন আমাদের বাড়িতে আলাদা বাবুর্চি দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা হয়।’