Sunday, April 13, 2014

আওয়ামী লীগ কোন পথে by ফারুক ওয়াসিফ

ওয়ান্ডারল্যান্ডে ভয়-উত্তেজনা আর আনন্দের বিপরীত দশায় এলিসের যে অবস্থা হয়েছিল, সেই অবস্থা বুঝি এখন বাংলাদেশের। আমরা এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে অর্ধমুগ্ধ, অর্ধবিধ্বস্ত। একরকম শান্ত রক্তক্ষরণ চলছে ভেতরে ভেতরে। দুর্নীতি ও সহিংসতার চাকা আবার আগের নিয়মে ঘুরছে। সপ্তাহে এক হালি গুম-খুন, ছাত্রলীগের দেশকাঁপানো হুজ্জত-মারামারি, মন্ত্রী-এমপিদের শনৈঃ শনৈঃ বাক্যবর্ষণ আর মাঝেমধ্যে লন্ডনপ্রবাসী সাবেক রাজপুত্রের পিলে চমকানো বাণী। নাগরদোলায় উঠলে যেমন মাথা ঘোরায় আবার মজাও লাগে; আমাদের অনেকেরও তেমনি হালচাল দেখে মাথা ঘোরাচ্ছে আবার দুঃখে হাসিও পাচ্ছে। এই অবস্থারই নাম দিয়েছি অর্ধমুগ্ধ অর্ধবিধ্বস্ত দশা। মুগ্ধতাটা সাময়িক কিন্তু বিপর্যয়ের রেশ থাকবে অনেক দিন। হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন, যতই ওপরে উঠি ততই নীল, যতই নিচে নামি ততই মধু। সরকারের ওপর মহলের যতই আত্মবিশ্বাসের হাসি দেখা যাক, নিচতলার কর্মীরা ততই হতাশ।
ভোটারবিহীন নির্বাচনের রেকর্ড গড়ে আওয়ামী লীগ দিব্যি বিএনপিকে জব্দ করেছে। দলের নেতা-কর্মীদের লাগামছাড়া কথা আর মাঠে ছাত্রলীগের মাত্রাছাড়া দাপট দেখেও মনে হয়, নিজেদের কীর্তিতে তারা নিজেরা দারুণ মুগ্ধ। দেশ কোথায় চলেছে সেই হিসাব বাদই থাক, দলের ভবিষ্যৎটাও মনে হয় তারা আর দেখতে পারছে না। এটা একধরনের নিশিচলন। নিশিতে পেলে যেমন মানুষ ঘুমের মধ্যে হাঁটে, দলটি সে রকম ঘুমের ঘোরে খাদের দিকে চলছে। থামানোর কেউ নেই।

শান্তি হারানো এক দেশ by উইলিয়াম বি মাইলাম

আমার বন্ধু আলী রীয়াজ কারেন্ট হিস্টরির এপ্রিল সংখ্যায় ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংকট’বিষয়ক এক চমৎকার নিবন্ধ লিখেছেন। এটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় হারানো বা ক্ষতি বিষয়ে এ ই হাউসম্যানের লেখা এক স্মৃতিকাতর কবিতার কথা। কবিতাটি হয়তো সুখের স্মৃতির, কিন্তু আরও বেশি করে তা দুঃখের। সুযোগ হারানো বা ভুল সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তৃপ্তির বোধ হারানো। রীয়াজ এর সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে পরেরটির কথাই বলেছেন।

হারিয়ে যাওয়া ছাত্রলীগের সন্ধানে by আবদুল মান্নান

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত হূদয়ে এই লেখাটি লিখতে বসেছি। কারণ, ঠিক করেছিলাম, ছাত্রলীগ তো নয়ই; বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আর কখনো কোথাও কিছু লিখব না। মাস কয়েক আগে প্রথম আলোয় ছাত্ররাজনীতি আর ছাত্রলীগ নিয়ে আমার এক লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ তোপের মুখে পড়েছিলাম। সে সময় আমার সাবেক কর্মক্ষেত্রে আমি অবাঞ্ছিত ঘোষিত হয়েছিলাম আর সাবেক একজন ছাত্রনেতা টেলিফোনে আমার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেছিলেন। তাঁর কাছে বিনীত অনুরোধ করেছিলাম, আমার প্রতি বর্ষিত বাক্যবাণগুলো যেন তিনি লিখিত আকারে প্রকাশ করেন। তিনি তা করেননি বা করার প্রয়োজন মনে করেননি। তবে সুখের বিষয় হচ্ছে, সেই ঘটনার পর আমার আগের কর্মক্ষেত্রের ছাত্রলীগ নামক সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা আমাকে টেলিফোন করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং এ-ও বলেছেন, তাঁরা চাপে পড়ে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে দু-একজন শিক্ষকও আছেন। এই শিক্ষকেরা আবার বঙ্গবন্ধুর নাম বেচে খান এবং কেউ কেউ মনে করেন, তাঁদের পদ-পদবি প্রাপ্তিতে আমি একটি বড় বাধা।

ভারতে মোদি-উন্মাদনা, বাইরে অস্বস্তি by কামাল আহমেদ

জনমত জরিপে যে সব সময় সঠিক ইঙ্গিত বা পূর্বাভাস মেলে না, তার বড় প্রমাণ ভারত নিজেই। ২০০৯ এবং তারও আগে ২০০৪ সালে অধিকাংশ জরিপে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী সাফল্যের পূর্বাভাস সঠিক হয়নি। এবারের নির্বাচনেও সব জরিপেই এগিয়ে আছেন বিজেপির নতুন নেতা নরেন্দ্র মোদি। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পিউ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের জরিপেও দেখা যাচ্ছে মি. মোদি প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রতিযোগিতায় ভালো ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। তবে, তাঁর এই উত্থানের আশায় তাঁর সমর্থকেরা যতটা উন্মুখ, বিদেশিরা যে ঠিক ততটাই উৎসাহী, তা নয়। লন্ডন থেকে প্রকাশিত বৈশ্বিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট তার চলতি সংখ্যায় ‘নরেন্দ্র মোদিকে কি কেউ ঠেকাতে পারবে?’ (ক্যান অ্যানিওয়ান স্টপ নরেন্দ্র মোদি?) প্রচ্ছদকাহিনিতে বলেছে যে ‘মি. মোদিই সম্ভবত ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তবে, তার অর্থ এই নয় যে তাঁর তা হওয়া উচিত।’

শাহবাগ, তাহরির, অকুপাই... by হাসান ফেরদৌস

গত বছর এই সময় সারা বাংলাদেশ কাঁপছে আবেগ, আনন্দ ও বিস্ময়ে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ঘুমকাতুরে বাঙালিকে ঘাড় ঝাঁকিয়ে, চুলের মুঠো উঁচিয়ে রাস্তার মাঝখানে টেনে নামিয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ, তাদের মধ্যে যেমন রয়েছে সদ্য স্কুলে যাওয়া কিশোর, তেমনই অশীতিপর বৃদ্ধ, ভিড় জমিয়েছিল শাহবাগ চত্বরে। দেশের প্রতিটি পত্রিকার শিরোনামে শাহবাগ, টিভি চ্যানেলগুলোর চৌপ্রহরের তাজা ধারাভাষ্যে শাহবাগ। বিদেশের তথ্যমাধ্যমেও সেই ঘটনা সমান গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার পায়। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রথম পাতায় সচিত্র প্রতিবেদনে একদিকে বিস্ময়, অন্যদিকে উদ্বেগ। কেউ কেউ শাহবাগের টগবগে তরুণদের সঙ্গে আমেরিকার ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনকারীদের মিলও খুঁজে পায়। তাহরির স্কয়ারের তরুণ মিসরীয়দের আন্দোলনের সঙ্গে তাদের তুলনাও স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।

আমার দ্বিতীয় বাড়ির কথা by এবিএম মূসা

প্রথমা প্রকাশন এবিএম মূসার আত্মজীবনীর কাজ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসে, তখনই তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। ফলে তাঁর জীবদ্দশায় এটি প্রকাশিত হতে পারেনি। এবিএম মূসার প্রকাশিতব্য আত্মজীবনীর নির্বাচিত অংশ প্রথম আলোয় প্রকাশিত হবে। আজ ছাপা হলো প্রথম পর্ব।

রাষ্ট্র-বাজার ভারসাম্যে সংস্কার সাধন by জোসেফ ই. স্টিগলিৎস

গত ৩০ বছরে চীন যত দ্রুত উন্নতি করেছে, পৃথিবীর লিখিত ইতিহাসে কোনো দেশ তা করতে পারেনি। এত বেশিসংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে পারেনি। চীনের এই উন্নতির বিশেষত্ব হচ্ছে, দেশটির নেতারা যখন যেমন প্রয়োজন বোধ করেছেন, তাঁদের অর্থনৈতিক মডেল ঠিক সেভাবে ঢেলে সাজিয়েছেন। শক্তিশালী কায়েমি শক্তিগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁরা এ লক্ষ্যে সফল হয়েছেন। এ মুহূর্তে চীন যখন আরেক দফা মৌলিক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তখন কায়েমি শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সংস্কারবাদীরা কি আবারও জয়ী হবেন?

চার রাজ্যের সাত আসনে ভোট হলো

আসাম রাজ্যের একটি কেন্দ্রে গতকাল ভোট দেওয়ার
পর বাড়ির পথে নারী ভোটাররা। ছবি: রয়টার্স
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে গতকাল শনিবার চার রাজ্যের সাতটি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। নয় দফার এ নির্বাচনের চতুর্থ দফায় গতকাল আসাম, ত্রিপুরা, গোয়া ও সিকিমের সাত আসনে ভোট নেওয়া হয়। পাশাপাশি সিকিমের ৩২টি বিধানসভা আসনের জন্যও গতকাল ভোট দিয়েছেন সেখানকার ভোটাররা।
গতকাল স্থানীয় সময় বেলা দুইটা পর্যন্ত ত্রিপুরায় ৫৬ শতাংশ, আসামে ৫৩ শতাংশ, গোয়ায় ৫৩ শতাংশ এবং সিকিমে ৫১ শতাংশ ভোট পড়ে। গতকাল ভোট হওয়া সাতটি আসনে প্রার্থী হিসেবে ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ৭৪ জন। গোয়ার দুটি আসনের জন্য প্রার্থী ছিলেন ১৯ জন। ত্রিপুরার পূর্বাঞ্চলীয় যে আসনটিতে ভোট হয়, সেখানে প্রার্থী ছিলেন ১২ জন। এর আগে ৭ এপ্রিল প্রথম দফায় রাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলীয় আসনটিতে ভোট হয়। আসামের তিনটি আসনে প্রার্থী ছিলেন ৩৭ জন। সহিংসতাকবলিত রাজ্যটিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চললেও আগের রাতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও একটি একে-৪৭ রাইফেলসহ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর আগে প্রথম দফায় আসামের পাঁচটি আসনে ভোট হয়। সিকিমের একমাত্র লোকসভা আসনের জন্য প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। এনডিটিভি।

দাদাসাহেব ফালকে পেলেন গুলজার

গুলজার
ভারতের চলচ্চিত্রজগতের সর্বোচ্চ সম্মানজনক দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেলেন দেশটির কবি-সাহিত্যিক, গীতিকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক গুলজার। দেশটির কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এ ঘোষণা দিয়েছে। শিল্প-সাহিত্যে জীবনব্যাপী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মান জানানো হচ্ছে। গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকে বিশিষ্টজনেরা গুলজারকে (৭৯) অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন। আগামী ৩ মে তাঁর হাতে পুরস্কারের ১০ লাখ টাকা ও উত্তরীয় তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। গুলজারের আসল নাম স্যামপুরণ সিং কালরা। লেখক নাম গুলজার।
এই নামেই তিনি সুপরিচিত। গুলজারের জন্ম ১৯৩৪ সালের ১৮ আগস্ট পাঞ্জাবের ঝিলম জেলার দিনা এলাকায়। লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে, একসময় মুম্বাইয়ে গাড়ি মেরামতের কাজ করতেন তিনি। কিন্তু কবিতা আর গল্প লেখার প্রতিই তাঁর ঝোঁক ছিল বেশি। তখন তাঁকে ভর্ৎসনা করে তাঁর বাবা বলতেন, ‘লেখক হতে গেলে সারা জীবন তোমার ভাইয়ের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।’ গুলজার এর আগে ২০০৪ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সালে পান সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার। এ ছাড়া একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। স্লামডগ মিলিয়নিয়ার চলচ্চিত্রের ‘জয় হো’ গানটির জন্য তিনি ভারতের আরেক কিংবদন্তির শিল্পী এ আর রহমানের সঙ্গে যৌথভাবে ৮১তম আকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে ‘বেস্ট অরিজিনাল সং’ পুরস্কার লাভ করেন। একই গান পরের বছর তাঁকে এনে দেয় গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। ১৯৬৯ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক দাদাসাহেব ফালকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এই পুরস্কার চালু করা হয়। একটি নির্দিষ্ট বছরে ওই বছরের ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সঙ্গে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দেওয়া হয়। হিন্দুস্তান টাইমস।

শাহবাগ, তাহরির, অকুপাই...

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের এই
উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই স্তিমিত
গত বছর এই সময় সারা বাংলাদেশ কাঁপছে আবেগ, আনন্দ ও বিস্ময়ে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ঘুমকাতুরে বাঙালিকে ঘাড় ঝাঁকিয়ে, চুলের মুঠো উঁচিয়ে রাস্তার মাঝখানে টেনে নামিয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ, তাদের মধ্যে যেমন রয়েছে সদ্য স্কুলে যাওয়া কিশোর, তেমনই অশীতিপর বৃদ্ধ, ভিড় জমিয়েছিল শাহবাগ চত্বরে। দেশের প্রতিটি পত্রিকার শিরোনামে শাহবাগ, টিভি চ্যানেলগুলোর চৌপ্রহরের তাজা ধারাভাষ্যে শাহবাগ। বিদেশের তথ্যমাধ্যমেও সেই ঘটনা সমান গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার পায়।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রথম পাতায় সচিত্র প্রতিবেদনে একদিকে বিস্ময়, অন্যদিকে উদ্বেগ। কেউ কেউ শাহবাগের টগবগে তরুণদের সঙ্গে আমেরিকার ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনকারীদের মিলও খুঁজে পায়। তাহরির স্কয়ারের তরুণ মিসরীয়দের আন্দোলনের সঙ্গে তাদের তুলনাও স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে। মাত্র এক বছরের মাথায় সেই শাহবাগ এখন পুলিশি রোষের শিকার। গত সপ্তাহে এই আন্দোলনের নেতারা আভিযোগ করেছেন, পুলিশ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের আক্রমণে আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আহত হয়েছেন। সামাজিক তথ্যমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতিক্রিয়া পড়ে এই ধারণা জাগে যে অধিকাংশেরই চোখে শাহবাগের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক ব্লগে পরিহাস করে বলা হয়েছে, সরকারের লেজুড়বৃত্তি করে এর চেয়ে বেশি অর্জন অসম্ভব। এই টীকাভাষ্যকারেরা ধরেই নিয়েছেন, ক্ষমতাসীন দলের অনুচরেরা, গোপনে অথবা প্রকাশ্যে, এই আন্দোলনের ওপর ভর করার ফলেই আন্দোলন তার নির্দলীয় চরিত্র হারিয়ে ফেলে। ক্ষমতাসীন দল তার প্রয়োজনমাফিক এই আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে। এখন সে প্রয়োজন ফুরিয়েছে, অতএব এই আন্দোলন জিইয়ে রেখে তাদের জন্য লাভের চেয়েই লোকসানই বেশি। একসময় পুলিশ তাদের রক্ষা করেছে, এখন পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শুধু সামাজিক মাধ্যমের আশাহত তরুণ-তরুণীরাই নয়, বিচক্ষণ বলে সম্মানিত কেউ কেউ প্রায় একই ভাষায় মন্তব্য করেছেন। যেমন, একজন জানালেন, তাদের যা করার, যা দেওয়ার, তা অর্জিত হয়েছে।
এখন সময় এসেছে পাততাড়ি গোটানোর। শাহবাগ আন্দোলনের বাহ্যিক লক্ষ্য ছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সুবিচার নিশ্চিত করা। সেই বিচার-প্রক্রিয়া এগিয়েছে, কিন্তু এখনো সমাপ্ত হয়নি। এখনই যদি এই আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া হয়, তাতে শুধু তাদেরই লাভ হয়, যারা সে বিচার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক, তা চান না বা তা বিলম্বিত হলে অধিক রাজনৈতিক মুনাফা আছে বলে বিশ্বাস করেন। শাহবাগ আন্দোলনের যুদ্ধাপরাধী-বিরোধী এই বাহ্যিক প্রকাশ ছাড়াও একটি অন্তর্গত চেহারা আছে, তা হলো একাত্তরের চেতনার নবায়ন। শাহবাগ আমাদের বুঝিয়েছিল, শুধু একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারকার্য সম্পন্ন করে আমাদের স্বপ্নের সেই বাংলাদেশের নির্মাণ সম্পূর্ণ হবে না। একাত্তর মানে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয়; একাত্তর মানে এক নতুন বাংলাদেশ, এক গণতান্ত্রিক, বহুপক্ষীয়, গণকল্যাণমুখী, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। শাহবাগের তরুণেরা বুঝেছিল, ক্ষমতার বৈঠা যাঁদের হাতে, অথবা যাঁরা ঘাপটি মেরে বসে আছেন কখন ক্ষমতার কুরসিতে বসবেন, তাঁদের দ্বারা সে লক্ষ্য অর্জিত হবে না, কারণ তাঁদের অনেকেই সে চেতনায় আদৌ বিশ্বাসী নন। ঠিক এই কারণে শাহবাগকে বাক্সবন্দী করলে লাভ হয় শুধু তাদের, যারা নগদ পাওনায় বিশ্বাসী। অনুমান করি, আজ যারা শাহবাগের পেছনে পেটোয়া বাহিনী পাঠিয়েছে, তারা সেই নগদ পাওনার দল। এ কথা ভাবা সম্ভবত অযৌক্তিক নয় যে সরকারি দলের সমর্থকদের কাছে এই আন্দোলনের একটি অকথিত রাজনৈতিক প্রয়োজন ছিল। তাঁরা হয়তো এই বিশ্বাস থেকে চালিত হয়েছিলেন, এই মুহূর্তে যেকোনো মূল্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমর্থক এমন রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতার কেন্দ্রে ধরে রাখা দরকার। ধরে রাখার পদ্ধতিটি যদি পুরোপুরি গণতান্ত্রিক নাও হয়, তাতেও ক্ষতি নেই। শাহবাগ তাদের সে লক্ষ্য অর্জনে সাহায্যে সক্ষম, অতএব তাদের আগলে রাখা দরকার।
তো, ইতিমধ্যে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, কাজেই তোমরা ছেলে-ছোকরারা ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাও। আর এ কথাও তো সত্যি, সরকারের ক্ষমতার বলয়ের বাইরে স্বাধীনভাবে যদি এই আন্দোলনকে জিইয়ে রাখা হয়, তাহলে একসময় তারা সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। কাজ কী সে ঝামেলায় গিয়ে! এই শেষের বিচারে শাহবাগ আন্দোলনকে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এর বদলে বরং মিসরের ‘তাহরির স্কয়ার’ আন্দোলনের অধিক নিকটবর্তী বলে মনে হয়। মিসরেও মুখ্যত যুবা শ্রেণীর নেতৃত্বে আন্দোলন, যার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল একনায়কতন্ত্রের উচ্ছেদ ও বহুপক্ষীয় গণতন্ত্রের বিকাশ। আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে মিসরের সামরিক বাহিনী তাহরির আন্দোলনকে তাদের জন্য হুমকি ভেবেছিল। ফলে, মিটিং-মিছিলে নির্দ্বিধায় হামলা হয়েছিল। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর যখন ইসলামপন্থী ব্রাদারহুড নতুন একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়, সেনাবাহিনী তখন তাহরিরকে নিজের পক্ষে টেনে আনে। সেই তাহরিরকে ব্যবহার করে যেই ব্রাদারহুডকে ক্ষমতা থেকে নামানো হলো, অমনি সেনাবাহিনী জানিয়ে দিল, আপাতত তাহরিরের আর প্রয়োজন নেই। অতএব, বাপুরা, তোমরা পাততাড়ি গোটাও, না হলে পুলিশের গুঁতা। এখানে শাহবাগ ও তাহরিরের অভিজ্ঞতা অভিন্ন। ‘অকুপাই’ আন্দোলনের সঙ্গেও যে শাহবাগের কোনো মিল নেই, তা নয়। বস্তুত, গঠনগতভাবে এই দুই আন্দোলনের মধ্যে অমিলের চেয়ে মিলই বেশি। আন্দোলনের শুরুতে, চেনা পুরুতদের হাতে সেই আন্দোলন হাইজ্যাক হওয়ার আগে, শাহবাগ ছিল নতুন প্রজন্মের ক্রোধ, হতাশা ও বিদ্রোহের আগুনে জ্বলে ওঠা এক নিষ্কলুষ নির্ঘোষ বার্তা।
সন্দেহ নেই, শাহবাগের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ যুবক-যুবতী জামায়াত ও বিএনপিবিরোধী ছিল এবং সেই কারণে ‘অনিবার্য’ভাবে আওয়ামীপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছিল। অকুপাই আন্দোলনের সমর্থকেরাও রিপাবলিকান নেতৃত্বের ধনিক-তোষণনীতিতে ক্রুদ্ধ, ফলে সেই একই ‘অনিবার্যতায়’ তাদেরও ধরে নেওয়া হয় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক হিসেবে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় বসুক, এই লক্ষ্য তাদের ছিল না। তারা চেয়েছিল দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। ক্ষমতায় যে দলই আসুক, শুধু ১ শতাংশের অনুকূলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো টিকিয়ে রাখা হোক, সেই গড্ডলিকাপ্রবাহের বিরুদ্ধে ছিল তাদের উচ্চারণ। নির্বাচনী ফলাফলের বিচারে শাহবাগের আন্দোলন আওয়ামী লীগের পক্ষে গেছে, যেমন অকুপাই আন্দোলন ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। এই দুই দল, ভিন্ন ভিন্ন দুই আন্দোলনের ফলে তারা যে যার মতো মসনদ দখল নিয়েছে। ফায়দা হাসিল, অতএব শাহবাগ ও অকুপাই, দুজনেই তফাত যাও! বাস্তবে হয়েছেও তা-ই। কিন্তু ব্যাপারটা যদি এমন এক সহজ সমীকরণ হবে, তবে তা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন পড়ত না। আমেরিকার অভিজ্ঞতা থেকে বলি, অকুপাই আন্দোলনের প্রভাব প্রথাগত নির্বাচনের বাইরেও বিস্তৃত, মানুষের চেতনায় তা গভীর দাগ ফেলে গেছে। অকুপাই আন্দোলনের ফলেই ‘১ শতাংশ বনাম ৯৯ শতাংশ’-এর হিসাব এ দেশের প্রতিটি রাজনীতিককে মাথায় রাখতে হচ্ছে। নতুন বাজেট প্রস্তাবের সময় বা ব্যয় বরাদ্দ দাবির সময় স্বাভাবিকভাবেই কথা উঠছে,
এর ফলে ১ শতাংশের কী লাভ, আর ৯৯ শতাংশেরই বা কী সুবিধা। অকুপাইয়ের প্রভাবেই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নতুন কড়াকড়ি আরোপ হয়েছে, ভোক্তা-অধিকার রক্ষায় নতুন দপ্তর খোলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিমায় নতুন আইন হয়েছে, ঘণ্টাপ্রতি বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন বেগবান হয়েছে, বেআইনি অভিবাসীদের আইনসম্মত করতে সব দলের সচেতনতা বেড়েছে। পাঁড় দক্ষিণপন্থীও মানবেন, অকুপাই আন্দোলন এ দেশে নাগরিক অধিকার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ কথা ঠিক, অকুপাই আন্দোলনের অধিকাংশ দাবিই এখন পর্যন্ত অপূর্ণ রয়ে গেছে। কিন্তু সেসব বাস্তবায়নের দায়িত্ব অকুপাই আন্দোলনের নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর, তারা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান, যা-ই হোক। একই কথা শাহবাগ আন্দোলনকে নিয়ে। মানুষের মনে নতুন চেতনার আলোকবর্তিকা হয়ে এসেছে শাহবাগ। পরিবর্তনের পক্ষে জমিন তারা তৈরি করে দিয়েছে, এখন সেই জমিনের ওপর ঘর তোলার দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের। তাদের ব্যর্থতার দায়ভার আর যারই হোক, শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের নয়।
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

পাট খাতে দুর্দিন

পাট খাতের বিকাশে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না। গত দেড় মাসে ছয়টি বেসরকারি পাটকল এবং ১২টি পাট ও সুতা কারখানা বন্ধ হয়েছে। বেকার হয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক। দেশের প্রায় এক কোটি পাটচাষির জীবনে এটা অশনিসংকেত। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এত দিন কী করেছে? এই বিপর্যয়ের জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। অথচ তাদের আমলের শেষ দিকে পাটকল-সুতাকল ও পাটচাষিদের দুর্ভাগ্য ফিরে আসে। সরকারের আগের মেয়াদে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ছিলেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি অনেক হাঁকডাক করতেন, অথচ তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি কতটা পালন করেছেন, পাট খাতের সংকট থেকেই তা বোঝা যায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের জবাবদিহি থাকার কথা, তা নিশ্চিত না করাও সরকারের ব্যর্থতা। নতুন পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম অবস্থাটা বদলাতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে এ মুহূর্তে মন্ত্রণালয় কী করছে, তার ওপর। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে কার্যকর দিকনির্দেশনা দরকার। দরকার আসন্ন বাজেটে পাট খাতের সুরক্ষায় বরাদ্দ রাখা। বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা কমে গেছে। ভারতের দিক থেকে পাট না কিনতে চাওয়া, থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা, ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দা ইত্যাদি কারণে পাটের রপ্তানি কমে গেছে।
ফলে পাটের উৎপাদন ২০১১ সালের প্রায় ৮৪ লাখ বেল থেকে ২০১৩ সালে নেমে আসে ৭৪ লাখ বেলে। রপ্তানিও ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রায় অর্ধেকে। গত তিন বছরে ক্রমাগত চাষিরা লোকসান গুনছেন। গত বছরের অবিক্রীত প্রায় ২০ লাখ বেল পাটের সঙ্গে যোগ হতে যাচ্ছে এ বছরের উৎপাদিত পাট। ঘটনাগুলো ঘটেছে দীর্ঘ সময় ধরে। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার অনুমানযোগ্য এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কেন? স্পষ্টভাবেই এখানে সরকারের দায় রয়েছে। ২০১০ সালে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন হলেও তা বাস্তবায়ন করার তৎপরতা নেই। বাজারে এখনো চলছে পলিথিনের রমরমা ব্যবসা। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও পাটজাত পণ্য ব্যবহার করছে না। অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের চাহিদা বাড়াতে পারলেও পাট খাতকে টিকিয়ে রাখা যেত। পাটকলগুলোর সংগঠন বিজেএমএ অভিযোগ করেছে যে রপ্তানি ভর্তুকি বাবদ সরকারের কাছে তাদের পাওনা ৬৩৮ কোটি টাকা। এই টাকা পাওয়া গেলে হয়তো অনেকের পক্ষে কারখানা চালু রাখা সম্ভব হতো। সরকার পাটের জিন-নকশা আবিষ্কৃত হওয়ার কৃতিত্ব দাবি করবে, কিন্তু বাস্তবে পাট খাত মরণদশায় ও নিষ্ক্রিয় থাকবে, তা হতে পারে না। সোনালি আঁশ একসময় সোনার বাংলার মিথ তৈরিতে অবদান রেখেছিল। সেই পাট খাতের প্রতি যুগ যুগ ধরে বিমাতাসুলভ আচরণ জাতীয় কৃতঘ্নতা। আশা করি, সরকারের চৈতন্যোদয় হবে এবং পাট খাতের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৪৫ বছর পর স্বীকৃতির আনন্দে মোদি স্ত্রীর আত্মগোপন

এতদিন লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকার অতি সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন। কেউই আলাদা করে ভেবে দেখেননি তার কথা। কিন্তু একটা হলফনামা বদলে দিল সবকিছু। হঠাৎ করেই ভারতীয় গণমাধ্যমের সব ক্যামেরা ঘুরে গেল তার দিকে। নির্বাচনের ভরা বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তিনিই। কিন্তু কোথায় যশোদাবেন মোদি? তাকে আর খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না! বুধবার ভাদোদাড়াতে মোদির নমিনেশন জমা দেয়ার পর থেকেই যশোদাবেনের খোঁজে তৎপর রয়েছে ভারতের গোটা মিডিয়া জগত। কিন্তু বেমালুম অদৃশ্য হয়ে গেছেন মোদিপত্নী। কিন্তু মিডিয়াকে এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন যশোদা। কেউ কেউ আবার বলছেন, ৪০ জন মহিলার সঙ্গে এখন তিনি তীর্থযাত্রায় বেরিয়েছেন। অনেকে আবার বলেছেন, যশোদা ইচ্ছা করেই আত্মগোপন করেছেন।
শুক্রবার এ খবর প্রকাশ করছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর স্ত্রী নাকি তার অবসরের আগে এক সহকর্মীর কাছে আক্ষেপ করে জানিয়েছিলেন, তিনি তার স্বামীর কাছ থেকে কিছুই আর আশা করেন না, শুধু চান মোদি যেন তাকে অন্তত স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করে নেন। ঈশ্বর তার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছেন। মোদি তাকে পত্নী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা এতে ভীষণ আনন্দিত। আমরা এখন সবাই মিলে প্রার্থনা করব যাতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। বলছিলেন যশোদার বড় ভাই কমলেশ মোদি। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে যশোদাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন মোদি। এরপর থেকে একাই কাটাচ্ছেন সাবেক এই স্কুল শিক্ষিকা। পুনরায় বিয়ে করেননি। তিনি বিজেপি নেতা মোদিকে মনেপ্রাণে স্বামী মানেন। তার জন্য নিয়মিত উপাসনা করেন। দল যাতে মোদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়, এ প্রার্থনায় দীর্ঘ চার মাস তিনি জুতা পরেননি, খালি পায়ে কাটিয়েছেন। এছাড়া মোদি যাতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন সে প্রার্থনায় গত কয়েক মাস ধরে ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তিনি, দিনে মাত্র একবার খাচ্ছেন।