Sunday, September 9, 2018

যে কারণে তার শয্যাসঙ্গী শতাধিক নারী

হুবহু উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মতো দেখতে তিনি। শুধু এ জন্যই তিনি শতাধিক নারীকে শয্যাসঙ্গী করেছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফরমেন্স করেন। তার প্রতিটি থেকে পান ১০ হাজার পাউন্ড করে। একবার তো তিনি লস অ্যানজেলেসে পপ তারকা কেটি পেরিকে চমকে দিয়েছিলেন। যার কথা বলছি তার নাম হাওয়ার্ড এক্স (৩৮)। তিনি দেখতে একেবারেই কিম জং উনের মতো। তাই এই সুবিধাকে কাজে লাগাচ্ছেন। কামিয়ে নিচ্ছেন প্রচুর অর্থ। আর তাকে দেখে মজে যান অনেক নারী, যুবতী।
তাদের শেষ পরিণতি ঘটে বিছানায়। এমনই সঙ্গ নিয়েছেন তিনি কমপক্ষে ১০০ নারীর। বৃটেনের অনলাইন দ্য সান এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, হাওয়ার্ড এক্স তার পুরো নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি হংকংয়ের নাগরিক। তিনি বলেছেন, কিম জং উনের মতো হুবহু দেখতে আমি। তা আমাকে অবশ্যই জনপ্রিয় করে তুলেছে। সব নারীই আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চান। আমার সঙ্গে ডজন ডজন নারীর সম্পর্ক আছে। ৫ বছর আগে এমন সম্পর্কের শুরু। এখনও চলছে। থামে নি। আমি এসব নারীকে কৌতুক করে বলি তাদেরকে আমি দুই নম্বর, তিন নম্বর, চার নম্বর মন্ত্রী বানাতে পারি।
তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মতো দেখতে ডেনিস অ্যালেন (৬৬)। দু’জনে মিলে অর্থ আয়ের পথ ধরেছেন।  বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা পারফরম করেন। তাতে আয় হয় মোটা অংকের অর্থ। হাওয়ার্ড এক্স বলেন, সবচেয়ে বড় দুটি ‘ইডিয়ট’ ও পাগলা মানুষের যেন নকল কপি আমরা। যখন আমরা যুবতীতের চুমু খাই আবার তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করি তখন তারা তা লুফে নেন। সিঙ্গাপুরে তারা যেন এটাই চান। রেস্তোরাঁগুলোতে তো আমাদের জন্য পানীয় ও খাবার ফ্রি। সান গ্লাস থেকে শুরু করে ফ্রাইড টিকেনের মতো পণ্যের বিক্রিতে সহায়তা করে আমরা অর্থ উপার্জন করি।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন হিসেবে এক একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য হাওয়ার্ড এক্স নেন ১০ হাজার পাউন্ড। আর এমন সব অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সাক্ষাত হয়ে যায় বিখ্যাত সব তারকাদের। ২০১৫ সালের কথা। লস অ্যানজেলেসে তখন গ্রামি পুরস্কার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ঢুকে পড়েন হাওয়ার্ড এক্স। আর চমকে দেন পপ তারকা কেটি পেরিকে। এক পর্যায়ে তিনি কেটি পেরির কাছে জানতে চান- আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?
কেটি পেরি জবাবে বলেন, আপনাকে এ দেশে কে ঢুকতে দিয়েছে তা ভেবে আমি বিস্মিত হই।

লাশ দাফনের ১১ দিন পরও জীবিত সাথী, চাঞ্চল্য

লাশ দাফনের ১১ দিন পর “মৃত” ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেছে যশোর কোতয়ালী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাথী খাতুন নামের (২৮) ওই গৃহবধুকে গতকাল রোববার সকালে যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামের আজিজুর লস্করের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান যশোর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসান। তিনি বলেন, ১১ দিন আগে যশোরের চৌগাছা উপজেলার নাইড়া গ্রামে সাথী খাতুন বলে চিহ্নিত এক গৃহবধূর লাশ দাফন করেন তার স্বজনরা। ‘পলিথিনে মোড়ানো লাশ’ কে জীবিত সাথী খাতুনের স্বজনরা তাদের মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করে তাকে নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন। তার ১১ দিন পর গতকাল আসল সাথী খাতুনকে জীবিত উদ্ধারের খবরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সাথী খাতুন যশোরের চৌগাছার নায়ড়া গ্রামের আমজেদ আলীর মেয়ে এবং একই উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী। তাঁদের এহসান নামে ছয় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। গত ১৪ই জুলাই স্বামীর বন্ধু, একই গ্রামের মান্নুর সঙ্গে তিনি পালিয়ে যান। এরপর তাঁরা যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামে অবস্থান করছিলেন। কয়েক দিন আগে মান্নু মালয়েশিয়া চলে যান। কিন্তু সাথী আর নিজের বাড়িতে ফিরে যাননি।
এদিকে, গত ২৯শে আগস্ট রাতে যশোর সরকারি সিটি কলেজের পাশের একটি পুকুরের পাড় থেকে পলিথিনে মোড়ানো এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। পরে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। খবর পেয়ে ১ দিন পর চৌগাছার নায়ড়া গ্রামের আমজেদ আলী লাশটি তাঁর মেয়ে সাথীর বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়। হত্যারহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করতে থাকে। এরই মধ্যে গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, সাথী মারা যাননি। তিনি প্রেমিক মান্নুর ধর্মপিতা যশোর সদর উপজেলার জলকার গ্রামের আজিজুর লস্করের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসান বলেন, আট বছর আগে চৌগাছা উপজেলার নায়ড়া গ্রামের সাথী খাতুনের সঙ্গে চাঁদপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার বিয়ে হয়। তাঁদের ছয় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এর মধ্যে স্বামীর বন্ধু মালয়েশিয়া প্রবাসী মান্নুর সঙ্গে সাথীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৪ই জুলাই বিকেলে বাইরে কাজে যাওয়ার কথা বলে সাথী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর সাথী ও মান্নু স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতি আজিজুর লস্করের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ১৫ দিন পরে মান্নু আবার মালয়েশিয়া চলে যান। কিন্তু সাথী আর নিজের বাড়িতে ফিরে যাননি কিংবা কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। পরে সাথীর মুঠোফোন ট্র্যাকিং করে জানা গেছে, তিনি যশোরে অবস্থান করছেন।
ওসি অপূর্ব হাসান আরও জানান, সাথীকে উদ্ধারের পর গতকাল বিকেলেই তাকে আদালতে তোলা হয়। সেখানে সাথী প্রকৃত ঘটনা খুলে বলেন এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
এদিকে গত ২৯শে আগষ্ট যশোর সরকারী সিটি কলেজের পুকুর থেকে পলিথিনে মোড়ানো গলাকাটা এক তরুণীর লাশকে সাথী হিসেবে চিহ্নিত করে তার স্বজনরা নিজ গ্রামে কবরস্থ করেন। গতকাল সাথীকে জীবিত উদ্ধারের পর কবরস্থ ওই তরুণীর পরিচয় নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের। পুলিশ বলছে, তারা এই রহস্য উদঘাটনে কাজ করছেন। এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাথী খাতুন পুলিশ হেফাজতে ছিলেন বলে জানা গেছে।

কোটা আন্দোলনে শিগগিরই নতুন কর্মসূচি -সাক্ষাৎকারে নুরুল হক নূর by মরিয়ম চম্পা

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেছেন, আমরা কোনো ধরনের বৈষম্য চাই না। আমরা যৌক্তিক সমাধান চাই। এ লক্ষ্যেই আমরা আমাদের দাবি পেশ করেছি। আমরা কোটা   বাতিল চাইনি। কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছি। ৫ দফা দাবিতে বলেছিলাম কোটা ব্যবস্থা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করার দাবি করেছিলাম। মানবজমিন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। নূর বলেন, ইতিমধ্যে সরকারকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন না হবে ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
৩১শে আগস্ট পর্যন্ত সরকারকে একটি আলটিমেটাম দেয়া হয়েছিল। যেখানে ৩টি দাবি উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রথমত, সকল বন্দি ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তি ও তাদের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার করতে হবে। তৃতীয়ত, আমরা ছাত্র সমাজ যে ৫ দফা দিয়েছিলাম অচিরেই সেটার প্রজ্ঞাপন দিতে হবে। তিনটি শর্তের মধ্যে ছাত্রদের মুক্তি দেয়া ছাড়া আর কোনো দাবিই বাস্তবায়িত হয়নি। এখন আমরা সরকারের মনোভাব ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। আলটিমেটামের মেয়াদ যেহেতু শেষ হয়ে গেছে তাই যেকোনো সময় আমরা আন্দোলনে যাবো।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০% বহাল রেখে সংস্কার করা হলে আপনাদের অবস্থান কি হবে? নূর বলেন, এ বিষয়ে আমরা ৫ দফা দাবিতে বলেছিলাম কোটা ব্যবস্থা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা চালু রাখা হলে তো আমাদের দাবি মানা হবে না।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য, নারীদের জন্য, আদিবাসীদের জন্য আলাদা আলাদা কোটা ব্যবস্থা থাকুক। কিন্তু সেখানে অন্যান্য কোটা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা বহাল রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ দেয়া হলে নারীরা, আদিবাসীরা বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কি অপরাধ করেছে? এর মানে দাঁড়ায় সরকার আমাদের দাবি-দাওয়া আমলে নেয়নি। তাদের যেভাবে মনে হয়েছে সেভাবে কাজ করছে। স্পষ্ট কথা, আমাদের দাবি মানতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা ব্যবস্থা তুলে দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়িত হলে আমরা তার সঙ্গে একমত। আর যদি কোটা ব্যবস্থা চালু রাখা হয় সেক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। নূর বলেন, আমাদের আন্দোলনে সরকার দমন-পীড়ন নীতির সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্রদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে দিয়ে নিরীহ ছাত্রদের ওপর বিভিন্নস্থানে একাধিকবার হামলা করা হয়েছে। ছাত্ররা অনেকেই মার খেয়ে, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। রিমান্ডে ছিল। জেলখানায় ছিল। সরকারের ক্র্যাকডাউনের পর  আন্দোলনের সমন্বয় করতে আমাদের কিছুটা সময় লাগছে। তার মানে এই নয় যে, আমরা থেমে গেছি। দাবি না মানা হলে ছাত্ররা আবার রাজপথে নামবে। যে দেশের জন্মই হয়েছে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সে দেশের ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কখনোই দমন করা যাবে না। বন্ধ করা যাবে না। তিনি বলেন, নিরপদ সড়ক এবং কোটা সংস্কার আন্দোলন দুটোই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। তাই উভয় আন্দোলনে সর্বস্তরের ছাত্রদের সমর্থন ছিল বা থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে জেনেছি উভয় আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের নামে কমপক্ষে ৫১টি মামলা হয়েছে। অধিকাংশ মামলাই অজ্ঞাতনামা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছাত্রদের নামে পৃথকভাবে মোট ৫টি মামলা হয়েছে। ভিসির বাসায় ভাঙচুর।
পুলিশের কাজে বাধা দেয়া। পুলিশের মোটরসাইকেল পোড়ানো। ৫৭ ধারায় আইসিটি আইনে মিথ্যা মামলাসহ মোট ৫টি। ১৭ই মার্চ শাহবাগ থানায় ৩০০ অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীর নামে মামলা দেয়া হয়। তবে আন্দোলন চলাকালীন সময় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মোট ১৭ জন নেতার নামে সরাসরি ৫টি মামলা দেয়া হয়েছিল। এর বাইরে আরো অনেক শিক্ষার্থীর নামে মামলা দেয়া হলেও তার সঠিক হিসাব আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে আমরা জোরালোভাবে বলেছি, ছাত্ররা কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসায় হামলা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে হেলমেট পরে শিক্ষার্থীদের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা করেছে। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে নিরীহ শিক্ষার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। শুধুমাত্র ভয় দেখানোর জন্য যাতে তারা আর কোনো আন্দোলন না করে। কারণ ছাত্র আন্দোলন একটি দেশের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। এটা সরকারের জন্য একধরনের প্রেসার। তাই সরকারকে অনুরোধ করবো এই অবস্থান থেকে তারা অচিরেই সরে আসবেন। 
আহতদের চিকিৎসায় সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র সংগঠনের উল্লেখযোগ্যভাবে কোনো ভূমিকা ছিল না। কারণ তারা প্রত্যেকেই চাপের মধ্যে ছিল। তার পরও দেখা গেছে আহতদের দুই থেকে চার জনের বিকাশ একাউন্ট নাম্বার গ্রুপে দেয়া হয়েছিল তাদের সাহায্যার্থে। আমরা প্রত্যেকের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করলেও অতোটা জোরালোভাবে পারিনি। যেমন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরেফিনের চোখে ৮ই এপ্রিল স্প্লিন্টার লেগেছিল। ডাক্তার বলেছে- তাকে দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দিতে। যেটা আমরা পারিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র রাজিবুলের সারা শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার ঢুকেছে। ডাক্তার তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিয়ে যেতে বলেছিল সেটাও সম্ভব হয় নি। তবে সাংগঠনিকভাবে আমরা প্রত্যেক ছাত্রের নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছি। সাধ্যমতো প্রত্যেকের পাশে দাঁড়িয়েছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুলকে হাতুড়ি পেটা করার পর গ্রুপে পোস্ট দিয়ে অনেকেই সাধ্যমতো এগিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশের চলমান রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্ল্যাটফরমে যে আন্দোলন করেছি সেটা ছাত্রদের একটা যৌক্তিক দাবি নিয়ে তৈরি হয়েছিল। আমরা বরাবরই বলে এসেছি এটা একটা অরাজনৈতিক সংগঠন। তাই রাজনীতিবিদরা তাদের মতো করে কর্মসূচি পালন করবে। আমরা আমাদের মতো। কাজেই অনুরোধ করবো যে, ছাত্রদের যৌক্তিক দাবিকে যেন কোনো রাজনৈতিক সংগঠন অন্যায়ভাবে ট্যাগ না দেয়।
আমাদের দেশের রাজনৈতিক কালচারে দেখা যায়, যখন কোনো ছাত্র সংগঠনের আন্দোলন খুব জোরালো বা বড় হয় কিংবা খুব বেশি জনসমর্থন পায় তখন কিছু দল উক্ত সংগঠনকে রাজনৈতিক ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করে। বলা হয়, এটা কোনো নিউট্রাল মুভমেন্ট নয়- এটা একটা পলিটিক্যাল মুভমেন্ট। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই ছাত্রদের কোনো দাবি- দাওয়া নিয়ে যেন নোংরা রাজনীতি না করা হয়। আমরা সাধারণ ছাত্র সাধারণভাবেই থাকতে চাই।
কোটা আন্দোলন থেকে কোনো নেতার জাতীয় রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটার সম্ভাবনা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রদের স্লোগান ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। এটার পরিধি ব্যাপক। নিরাপদ সড়ক পেলেই এটার জাস্টিস হলো না।
কোটা সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন যে, এটা ছিল ’৯০-এর পর একটি বৃহৎ ছাত্র আন্দোলন। দুটো আন্দোলনেই সাধারণ ছাত্রদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্ররা অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে থেকে ভবিষ্যতে কোনো নেতার জাতীয় রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটবে কিনা- সেটা সময় বলে দেবে। এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই- একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হোক। রাজনীতিবিদদের কাছে প্রত্যাশা করবো তারা যেন পরস্পরের প্রতি বা ভিন্নমতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বা সহনশীল থাকেন। তারা যেন একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করেন।

বুদ্ধিমান সন্তান চেনার উপায়

সবাই চায় তার সন্তানটি বুদ্ধিমান হোক। তবে কেউ জানে না বাচ্চাটি বুদ্ধিমান হবে কিনা। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর জন্মের পর থেকেই তার নানা স্বভাব ও অভ্যাসই বলে দিতে পারে সে আদৌ বুদ্ধিমান হবে কি না। দেখে নেয়া যাক এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যা বুদ্ধিমান সন্তানের লক্ষণ...
  •   কথায় কথায় সন্তানের মুখে প্রশ্ন- কী-কেন-কীভাবে এ সব প্রশ্ন লেগেই থাকে সন্তানের মুখে। তা হলে বিরক্ত না হয়ে আনন্দিত হওয়া উচিত। কৌতূহলী শিশু মানেই, ধরে নেওয়া হয় তার বুদ্ধি অন্যদের চেয়ে বেশি।
  •  শিশুদের বসতে শেখা, হামা দেয়া, দাঁড়াতে শেখা প্রত্যেকটিরই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। সন্তান যদি সেই সময়ে পৌঁছনোর কিছু আগেই শিখে ফেলে  তা হলে তা বুদ্ধিমান হয়ে ওঠার অন্যতম লক্ষণ।
  •  অচেনা কারও সঙ্গে শিশু যদি সহজেই মানিয়ে নিতে পারে তাহলে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে আপনার সন্তান অনেকটা এগিয়ে। বাড়িতে পোষ্য প্রাণি থাকলে তার প্রতিও শিশুর ব্যবহার লক্ষ্য রাখুন। এতে শিশুর সাহস ও মানসিক বিকাশের পরিমাপ বোঝা যায়।
  •   শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অম্লান দত্তর মতে, এক বছরের আশপাশে পৌঁছলে তবেই শিশু দু’-একটা শব্দ বলতে শেখে। যদি আপনার সন্তানের মধ্যে কথা বলতে শেখার প্রবণতা আরও তাড়াতাড়ি আসে, তা হলে বুঝতে হবে সন্তান বুদ্ধিমান।
  •  খুব একগুঁয়ে হওয়া যেমন সমস্যার, তেমন শিশুর কিন্তু একটু-আধটু জেদ থাকাকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, কোনও বিষয়ে একেবারেই একগুঁয়ে না হলে শিশুর নিজস্ব বিচার ক্ষমতা ও দৃঢ়তা তৈরি হয় না। বুদ্ধি তৈরিতে এই দুই-ই প্রয়োজন।
  •    চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, যে কোনও খেলনা বা পছন্দসই বিষয়ে যে কোনও সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন শিশুর একটানা মনঃসংযোগ থাকার সময়সীমা ১৫ মিনিট।কিন্তু ‘সন্তান যদি কোনও একটি খেলনা, আঁকার বই নিয়ে একমনে মেতে থাকতে পারে ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তা হলে সে ‘ফোকাসড’। বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক তা।
  •  কিছু পেলে তা খুলে তার কল-কব্জা বার করে ফেলার প্রবণতা আছে শিশুর? জিনিসের যতœ জানে না ভেবে এতে বিরক্ত হবেন না, সাধারণত, এরা কৌতূহলী হয়। নিজেই বুঝতে চেষ্টা করে জিনিসের ভিতরে আরও কী কী আছে। আপাত দৃষ্টিতে তা অযতœ বলে মনে হলেও এটি আদতে শিশুর জানতে চাওয়ার লক্ষণ। বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

বিআরটিসি’র বাসও লক্কড়ঝক্কর by হাফিজ মুহাম্মদ

রাজধানীতে চলা বিআরটিসি’র বেশির ভাগ বাস লক্কড়ঝক্কর, ভাঙাচোরা। এবড়ো-থেবড়ো হয়ে গেছে কোনোটার অবকাঠামো। রং উঠে বিবর্ণ হয়ে গেছে। খোদ সরকারি সংস্থার এমন বাস সড়কে রেখেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঢাকার সব গণপরিবহনকে দৃষ্টিনন্দন করতে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সংস্থার বাস দৃষ্টিনন্দন রেখে একটি মডেল হিসেবে বেসরকারি খাতের সামনে উপস্থাপন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় উল্টো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিআরটিসির বেশিরভাগ বাস এখন বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ভাড়ায় চলে। এসব বাসের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। আর যেসব বাস গণপরিবহন হিসেবে চলছে এগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। এসব লক্কড়ঝক্কর বাস সড়কে চলায় দুর্ঘটনাও ঘটছে।
সড়কের মাঝেই হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতেও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দ্বিতল বাসগুলোর কোনো কোনোটি ঝুঁকি নিয়েই চলছে। এতদিন বিআরটিসি লক্কড়ঝক্কর বাস দিয়ে সেবা চালিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরেও অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। আন্দোলনের সময় ফিটনেস না থাকা, কাগজপত্র সঙ্গে না থাকায় বিভিন্ন  সড়কে বিআরটিসির বাসও আটক করেছিল শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের পরে গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সড়ক থেকে সকল লক্কড়ঝক্কর বাস বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। কোনো কোনো কোম্পানির লক্কড়ঝক্কর বাস এরইমধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে বিআরটিসি কর্মকর্তারা বলছেন, শনিবার থেকে তাদের সেবা সপ্তাহ চলবে।
চলতি মাসের বাকি সময়ের মধ্যে সব বাসকে দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া লক্কড়ঝক্কর বাসও মেরামত করা হবে। গত কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ডিপো ঘুরে বিআরটিসির ফিটনেসবিহীন বাস চলতে দেখা গেছে। এরমধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস, স্টাফ বাস, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে দেয়া বিআরটিসি বাসগুলো। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি তাদের যেসব বাস সড়কে চলমান রয়েছে তা সবই চলাচলের উপযোগী। দুই একটি বাসের কোনো অংশ ভাঙাচোরা থাকলেও সেগুলো লক্কড়ঝক্কর বলে মানতে রাজি নন ডিপো কর্মকর্তা।
তারা বলেন, আমাদের যেসব বাসে সমস্যা সেগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর যেগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে সেগুলো ঠিক করে চালাই। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিআরটিসির বাস চলতে দেখা গেছে। তবে তার সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। মোহাম্মদপুর-নতুনবাজার রুটে চলাচলকরা বিআরটিসি বাসের কয়েকটি ভাঙাচোরা অবস্থায় দেখা গেছে। গাড়ির চালক এবং তার সহকারী এটাকে কোনো সমস্যাই মনে করছে না। একই চিত্র দেখা গেছে মতিঝিল-আবদুল্লাহপুর রুটে চলাচল করা কয়েকটি বাস। এগুলোর বেশিরভাগের পিছনের এবং সামনের অংশের বিভিন্ন পাত ভেঙে ঝুলে রয়েছে। আবার অনেক বাসের পাশ থেকে অনেকাংশ নেই। বাইরে থেকেই যাত্রীদের হাত পা দেখা যায়। কোনো কোনোটির দরজা বন্ধ করা যায় না। যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্যান, লাইট, আসনে সমস্যা থাকায় স্বস্তিতে চলাচল করা যায় না।
রাজধানীর কল্যাণপুর এবং মুহাম্মদপুর বাস ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে যেসব বাস চলমান রয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগ ভাঙাচোরা। কল্যাণপুর ডিপোতে থাকা বিআরটিসির বাসগুলো অধিকাংশই বিভিন্ন অফিস-আদালতের কর্মকর্তা এবং কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চলাচল করে। সাধারণ যাত্রী পরিবহনে তাদের বাসের সংখ্যা কম। তবে এই বাসগুলোর মধ্যেও লক্কড়ঝক্কর বাস রয়েছে।
এছাড়া কল্যাণপুর ডিপোতে অনেক বাস নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। নিয়মিত চলাচল করা বাসের মধ্যে হঠাৎ করে কোনোটির ইঞ্জিন বিকল হলে পতিত অবস্থায় থাকা বাস থেকেই ঠিক করে আবার সড়কে দেয়া হয়। গতকাল এ ডিপোর বাস সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল তাই কোনো কর্মকর্তাও ছিলেন না। এ ডিপোর একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের বাস দোতলা হওয়ায় সড়কে চলতে গিয়ে কখনও কখনও পাত চাপ খেয়ে যায় বা  ফেটে যায়। এ কারণে মনে হয় লক্কড়ঝক্কর। তবে এগুলো সম্পূর্ণ ফিট রয়েছে।
মুহাম্মদপুর ডিপোতে দেখা যায় মুহাম্মদপুর-নতুনবাজার রুটের বাস চলাচল করতে। তাদের চলমান বাসের মধ্যে কিছু লক্কড়ঝক্কর বাস দেখা যায়। ডিপো কর্মচারীরা বলেন, ওগুলো ফিট রয়েছে কোনো সমস্যা নেই। বিআরটিসি জোয়ার সাহারা ডিপোর ম্যানেজার নূর-ই-আলম বলেন, সড়কে চলাচলকারী বিআরটিসির লক্কড়ঝক্কর বাস এখন অনেক কম। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ বাস ঠিক করা হয়েছে। বাকিগুলো আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে ঠিক করা হবে। ৮-১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেবা সপ্তাহ চলবে। এরমধ্যে শতভাগ লক্কড়ঝক্কর বাস ঠিক করা হবে। সামনে আর কোন বাস লক্কড়ঝক্কড় থাকবে না।

জনসনের প্রেম নিয়ে যা বললেন পেট্রোনেলা উয়াট

বৃটিশ রাজনীতিতে এই সময়ে সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। আর এখন বেরিয়ে এসেছে তার রগরগে যৌন জীবনের কাহিনী। একে একে তার শিকারে যারা পরিণত হয়েছিলেন তারা মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন। এমন একজন তার সাবেক এক রক্ষিতা পেট্রোনেলা উয়াট (৫০)। এক সময় তার কাছে বরিস জনসন বলেছিলেন, একজন পুরুষ একজন নারীকে নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেবেন এটা অযৌক্তিক। পেট্রোনেলা উয়াট এসব বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তার সঙ্গে বরিস জনসনের যৌন সম্পর্কে একবার তার মিস ক্যারিজ হয়। ফলে তাকে গর্ভপাত করাতে হয়।
বরিস জনসন যখন দ্য স্পেকটেটর ম্যাগাজিনের সম্পাদক তখন তার ডেপুটি হিসেবে কাজ করছিলেন পেট্রোনেলা উয়াট। তিনি বরিস জনসনের সৌন্দর্য্যে তার প্রেমে পড়ে যান। তারপর চার বছর টিকে ছিল তাদের প্রেম। তারই এক পর্যায়ে বরিস জনসন তাকে বলেছিলেন, আমার মতে এটা একেবারেই অযৌক্তি যে, পুরুষরা একজন নারীকে নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দেবেন। এমন এক স্ত্রী নিয়ে জীবন কাটানো হলো পূর্বাঞ্চলীয় রীতি। পেট্রোনেলা উয়াটের সঙ্গে প্রেমের কারণে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাকরি হারাতে হয় বরিস জনসনকে। কারণ, এ নিয়ে তিনি মিথ্যাচার করেছিলেন।
২০০৪ সালের ঘটনা। তখন বৃটিশ কনজার্ভেটিভ দলের নেতা মাইকেল হাওয়ার্ড। এই প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বরিস জনসন তার কাছে পুরো সত্য বলেন নি। এ কারণে তাকে ছায়া আর্টস বিষয়ক মন্ত্রী ও দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। তখন মাইকেল হাওয়ার্ডের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত নৈতিকতার।
বরিস জনসনের তখন ব্যারিস্টার স্ত্রী মারিনা হুইলার। তাকে তিনি ১৯৯৩ সালে বিয়ে করেছিলেন। তিনি বিষয়টি জানতে পেরে বরিস জনসনকে নর্থ লন্ডনের ইলিংটনের বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে অবশ্য তাকে আবার বাড়িতে ডেকে নেন।
পেট্রোনেলা উয়াটের প্রয়াত পিতা লর্ড উডরো উয়াট ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গাটে থ্যাচারের খুবই বিশ্বস্ত। ২০১৬ সালে পেট্রোনেলা উয়াট বলেন, সামান্য কয়েকজন বন্ধু নিয়ে প্রায় নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন বরিস জনসন- তাকে এমনটা বলেছেন জনসন। দ্য মেইলে এ নিয়ে লিখেছেন পেট্রোনেলা উয়াটঅ তিনি লিখেছেন, অনেক নিঃসঙ্গ মানুষের মতো তিনিও দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন। বরিস জনসনের মধ্যে একটি বাসনা ছিল। তিনি চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী হতে। তিনি তার পরিবার ও কনজার্ভেটিভ ভোটারদের ভালবাসা নিয়ে খুশি হতে পারেন নি। তিনি চেয়েছিলেন সারাবিশ্ব তাকে ভালবাসুক।
তিনি বরিস জনসনের সঙ্গে তার ভালবাসাকে ‘অপেশাদার বন্ধুত্ব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। নিজের পিতামাতার বিচ্ছেদের কারণে ভেঙে পড়েছিলেন বরিস জনসন। কারণ, জনসনের পিতা স্ট্যানলি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি কোনোদিন নিজের স্ত্রী, বরিস জনসনের মা চার্লটিকে ছেড়ে যাবেন না। সেই সম্পর্ক যখন ভেঙে গেল তখন ভেঙে পড়েছিলেন বরিস।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টে ৬২ বাংলাদেশি by আল-আমিন

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টে ঝুলছে ৬২ জন বাংলাদেশির নাম। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এসব আসামির তালিকা পাঠানো হয়েছে ইন্টারপোলের সদর দপ্তর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। তালিকায় রয়েছে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের নাম। এই তালিকায় আছে শীর্ষ সস্ত্রাসী, গডফাদার ও যুদ্ধাপরাধ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বিস্তারিত তথ্য এবং কোন মামলার তারা আসামি তা ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এই আসামিদের ধরতে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে তাদের নাম ও ছবি দিয়েছে। তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও পুলিশকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও তারা একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাচ্ছে কী-না তা নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসামিদের ফেরতে একটি বড় বাধা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকা। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদ্যমান নিয়ম-কানুন মেনেই বিদেশে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে পারে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্টাল ব্যুরো) শাখার এআইজি মো. মহিউল ইসলাম গতকাল মানবজমিনকে জানান, ‘নানা অপরাধে জড়িত বা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এমন ৬২ জনের নাম বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পুলিশকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে, তাদের ধরে বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করে থাকি। তিনি বলেন, কিছু অপরাধীর দেশ ও স্থান চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু, ওই দেশের ইমিগ্রেশন আইনি জটিলতার কারণে তাদের ধরা যাচ্ছে না। তবে তাদের নজরদারিতে রেখেছে সংস্থাটি। আইনি জটিলতা কেটে গেলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আইনে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ইন্টারপোলের সদস্য পদ লাভ করে। আন্তর্জাতিক এ সংস্থার রেড নোটিস কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। ইন্টারপোল আসামিকে গ্রেপ্তারে কোনো বাহিনী পাঠায় না বা কোনো দেশকে চাপও দিতে পারে না। তারা শুধু এ সংক্রান্ত তথ্য ১৯০টি সদস্য দেশকে বিষয়টি জানায়।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৯শে মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ ঢাকার একটি হোটেলে এক সেমিনার আয়োজন করে। চিফ অব পুলিশ কনফারেন্স অব সাউথ এশিয়া অ্যান্ড নেইবারিং কান্ট্রিস অন রিজিওনাল কো-অপারেশন ইন কার্ভিং ভায়ালেন্ট এক্সট্রিমিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম শীর্ষক ওই সেমিনারে ইন্টারপোলের প্রধানসহ একাধিক কর্মকর্তা যোগ দিয়েছিলেন। সেই বৈঠকে পুলিশের আইজি আলাদা বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকে ইন্টারপোলে রেড নোটিসের তালিকায় বাংলাদেশিদের স্থান চিহ্নিতকরণ এবং তাদের গতিবিধি নির্ণয়ে সাহায্য চাওয়া হয়। ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি এবিএম নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, খন্দকার আবদুর রশিদ, আবদুল মাজেদ, রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের নাম রয়েছে।
এছাড়া তালিকায় প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, আমিনুর রসুল, হারিস আহমেদ, জাফর আহমেদ, আব্দুল জব্বার, নবী হোসাইন, জিসান, শাহাদাত হোসাইন, মোল্লা মাসুদ, ত্রিমতি সুব্রত বাইন, কালা জাহাঙ্গীর ওরফে ফেরদৌস, খন্দকার তানভীর ইসলাম জয় এর নাম রয়েছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে এরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী। তারা অনেকেই মামলার সাজাপ্রাপ্ত। কারও বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। ভারতে, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কেউ কেউ অবস্থান করছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকায় যুদ্ধাপরাধ মামলায় আসামিদের নাম রয়েছে। যেমন: ফরিদপুরের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জাহিদ হোসেন, গোপালগঞ্জের আশরাফুজ্জামান খান, ফেনীর মইনউদ্দিন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাসান আলী ও সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন এবং মঠবাড়িয়ার আবদুল জব্বার। সাবেক একজন এমপি এবং বিএনপির সাবেক এক নেতার নামও রয়েছে তালিকায়। তালিকায় আছে রফিকুল ইসলাম, নবী হোসাইন, তৌফিক আলম, মিন্টু, আতাউর রহমান, নাসির উদ্দিন রতন, চান মিয়া, প্রশান্ত সরদার, সুলতান সাজিদ, হারুন শেখ, মনোতোষ বসাক, আমিনুর রহমান, রাতুল আহমেদ বাবু, হাসন আলী ওরফে সৈয়দ মো. হাছন, সৈয়দ মোহাম্মদ হোসাইন ওরফে হোসেন, জাহিদ হোসেন খোকন, আহমেদ কবির ওরফে সুরত আলম, সাজ্জাদ হোসেন খান, হাসেম কিসমত, মো. ইউসুফ, মো. নাঈম খান ইকরাম, মকবুল হোসাইন, সালাহউদ্দিন মিন্টুর নাম।
সূত্র জানায়, ইন্টারপোলের রেড নোটিসে থাকার পরও বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া আটকে আছে নানা জটিলতায়। তবে সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে কয়েকজনকে ফিরিয়ে এনেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের মামলার অন্যতম প্রধান আসামি নূর হোসেন। এছাড়াও ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি নাজমুল মাকসুদ মুরাদকে।

খালেদাকে নিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা by কাফি কামাল

দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপিতে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন পরিবেশে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। দ্রুতগতিতে অবনতি ঘটছে তার শারীরিক অবস্থার। কারাগারে নেয়ার পর থেকে তার  অসুস্থতার কথা বলে কারাকর্তৃপক্ষ তাকে একবারও আদালতে হাজির করেনি।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। সরকারের তরফে বারবারই বলা হচ্ছিল, কারাগারে সুচিকিৎসা পাচ্ছেন তিনি।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বুধবার একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে পরিত্যক্ত কারাগারের প্রশাসনিক কক্ষে আদালত স্থানান্তর করে সরকার। বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়াকে সে আদালতে উপস্থিত করা হলে তার অসুস্থতার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সেদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল হুইল চেয়ারে করে।
আদালতে আইনজীবীসহ সাংবাদিকরা দেখেছেন পুরো সময় তিনি প্রায় নড়চড়নহীন বসেছিলেন।  একপর্যায়ে খালেদা জিয়া আদালতের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থাও ভালো  না। এভাবে এখানে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যেতে পারে। হাতেও প্রচণ্ড ব্যথা। এ অবস্থায় বার বার আদালতে আসা সম্ভব না। আমার সিনিয়র আইনজীবীদের কেউ এখানে নেই।
এখানে প্রসিকিউশনের ইচ্ছায় সব হয়, ফলে ন্যায়বিচার হবে না। আপনাদের যা মন চায়, যতদিন ইচ্ছা সাজা দিন।’ নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছেও প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। বাম পা ঠিকমতো বাঁকাতে পারি না, প্যারালাইজডের মতো হয়ে গেছে।
বাম হাতও নাড়াতে পারি না। আমি খুবই অসুস্থ। আমি এখানে বার বার আসতে পারবো না। এখানে ন্যায়বিচার নেই। যা খুশি তাই করুক।’ আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ না করায় সেদিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কারাগারে স্থাপিত সে আদালতে যাননি। কিন্তু উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে বিএনপিতে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। পরদিন কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার চারজন আইনজীবী। সাক্ষাৎশেষে গণমাধ্যমে দেয়া তাদের বক্তব্য বিএনপি নেতাকর্মীদের ও সমর্থকসহ দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সে উদ্বেগ। 
গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষ আদালতের প্রথমদিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেদিন আদালতে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক জানান, দুপুর সোয়া ১২টায় নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়াকে হাজির করা হয়েছিল। কাঠগড়ার সামনে খালেদা জিয়ার জন্য প্রথমদিন রাখা ছিল একটি চেয়ার ও  সাদা কাপড়ে মোড়া একটি ছোট টেবিল। হুইল চেয়ারে করে তাকে আদালতে আনা হয়েছিল।
তার পরনে ছিল গোলাপি শাড়ি, পায়ে সাদা জুতো। ঊর্ধ্বাঙ্গ থেকে পা পর্যন্ত সাদা চাদরে ঢাকা। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে পুরো সময় তিনি নড়াচড়াহীনভাবে বসেছিলেন হুইল চেয়ারে। তার চেহারায় স্পষ্ট ছাপ ছিল অসুস্থতা আর যন্ত্রণার। কুঁঁকড়ে যাচ্ছিলেন বারবার। দৃশ্যত বাম হাত একেবারেই নাড়াতে পারছিলেন না।
আদালতে তার কোনো আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন না। খালেদা জিয়ার পাশে ছোট একটি ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কেবল তার গৃহকর্মী ফাতেমা। সাংবাদিকরা জানান, কারাগারে এজলাস স্থাপন করায় খালেদা জিয়ার অসন্তোষ ছিল স্পষ্ট। আইনজীবীদের বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি অসন্তোষের অভিব্যক্তি প্রকাশও করেছেন।
সাংবাদিকরা জানান, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি অনেকটাই দৃশ্যমান। সামনা সামনি দেখে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছিল, তিনি খুবই অসুস্থবোধ করছেন। তার নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন।
কারাগার গিয়ে শুক্রবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যে চারজন আইনজীবী তাদের একজন এডভোকেট আবদুর রেজাক খান। প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, কারাগারে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যে রকম দেখলাম তাতে উনাকে খুবই অসুস্থ মনে হলো। তিনি অনেকটাই শুকিয়ে গেছেন। সম্ভবত তার ওজন কমেছে।
এছাড়া তিনি বাম হাত ও পা প্রায় নাড়াতেই পারছেন না। প্রায় প্যারালাইজড অবস্থা। এছাড়া চোখের সমস্যার কারণে ঠিকমতো দেখতেও পারছেন না। স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছেন না। রেজাক খান বলেন, উনাকে দেখে এবং কথা শুনে যেটা মনে হলো, দ্রুতগতিতে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।
এই অসুস্থ অবস্থায় তিনি আদালতে এসে বসতে পারবেন বলেও মনে হলো না। তার জরুরি সুচিকিৎসা দরকার। আইনজীবীদের আরেকজন দলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, খালেদা জিয়াকে যখন কারাগারে নেয়া হয় তখন তিনি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু এখন তার যে শারীরিক অবস্থা তা সত্যিই বেদনাদায়ক। বুঝে উঠতে পারছি না, এমন পরিস্থিতিতে তাকে কিভাবে আদালতে আনা হলো। কিভাবে তার বিচার হচ্ছে।
সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, বর্তমানে খালেদা জিয়া হাঁটতেও পারেন না, ঠিকমতো বসতেও পারেন না। তার হাত-পা সহ শরীরের বামপাশটা নাড়াতেই পারছেন না। তার চোখেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। দিনদিন তার স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটছে। এই রকম অসুস্থ একজন মানুষকে কিভাবে কারাগারে রেখে বিচার করা যায়! আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, আগে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন, তারপর বিচার করুন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে যেখানে রাখা হয়েছে সেটা একটি নির্জন ও ধুলো-ধূসরিত কক্ষ। সেটা মানুষের পক্ষে বসবাসের উপযুক্ত নয়। রোববার তার সুচিকিৎসার দাবি নিয়ে আবেদনসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে বিএনপি’র একটি প্রতিনিধি দল। আর কারাগারের প্রশাসনিক ভবনে আদালত স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে উচ্চআদালতে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আদালতের ভ্যাকেশন শেষ হলেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় একটি বাস অযোগ্য নির্জন কারাকক্ষে দিন কাটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার অসুস্থ অবস্থায় আদালতে তার উপস্থিতির পর দেশের মানুষের কোন সন্দেহ নেই যে, খালেদা জিয়া মারাত্মক অসুস্থ এবং তার সুচিকিৎসা দরকার। কিন্তু তার চিকিৎসা নিয়ে সরকার যে আচরণ করছে তা অত্যন্ত নির্মম।  কেবল বিএনপি নেতাকর্মীরাই নন, আজ সারা দেশের মানুষ তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় কারাগারে আদালত স্থানান্তরের বিষয়টি পরিকল্পিতভাবেই করেছে সরকার। তাদের হীন উদ্দেশ্যের বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালত ৫ বছরের সাজার রায় ঘোষণার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠান। কারাগারে নেয়ার কিছুদিন পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মাধ্যমে তার চিকিৎসার দাবি করে বিএনপি।
দলটির নেতাকর্মীদের অব্যাহত দাবির মুখে সরকারি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কারাকর্তৃপক্ষ ১লা এপ্রিল একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন। সে বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ৭ই এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু কয়েকটি এক্স-রে করেই সেদিন তাকে ফিরিয়ে নেয়া হয় কারাগারে।
তারপর বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া পরিবারের সদস্য, স্বজন, আইনজীবী ও নেতারা বারবার দাবি করেছেন কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। একপর্যায়ে তাকে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জোরদার করে বিএনপি। কারাকর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদনও করে। এ সময় সরকারের তরফে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কথা বলা হয়। কিন্তু সে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান খালেদা জিয়া।
এ নিয়ে সে সময় সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের দীর্ঘ বাহাসও চলে। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার দাবিটি সরকার বরাবরের মতো উপেক্ষা করলে বিএনপি নেতারাও ধীরে ধীরে চুপসে যান। ঈদুল আজহার আগে খালেদা জিয়ার স্বজনরা ফের তার অসুস্থতার বিষয়টি সামনে আনেন।
এ সময় কয়েকটি মামলায় পরপর জামিন পান তিনি। এ অবস্থায় গত ২৫শে আগস্ট খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ। তবে তাঁর মনোবল যথেষ্ট শক্তিশালী আছে। উনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তার দু’টি মামলা জামিনের অপেক্ষায় আছে। ওই দু’টিতে জামিন হলে তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন।’
এদিকে রাজনীতিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি জোরদার হওয়ায় বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছিল নতুন আত্মবিশ্বাস। কিন্তু সবকিছুই ঘুরে যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবর ট্রাস্ট মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিশেষ আদালতে কারাগারের প্রশাসনিক ভবনে স্থানান্তরের মাধ্যমে। আর সেখানে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে জনসম্মুখে আদালতে হাজির করার পর তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, চিকিৎসা ও দেশের সার্বিক রাজনীতি নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন অভিযোগ করেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারকে বলবো- খালেদা জিয়ার বিচারের রায় কি দেবেন দিয়েন, কিন্তু তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তিনি বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই। আর তাই খালেদা জিয়াও সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছেন না। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেই তিনি সুষ্ঠু বিচার পাবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ কুষ্টিয়া শহরের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেছেন, কারাগারে খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে খালেদা জিয়া আদালতকেই কারাগারে নিয়ে গেছেন। বিএনপি’র উদ্দেশে হানিফ বলেন, হত্যা খুনের রাজনীতি বিএনপি করে। ক্ষমতা দখলের জন্য দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এদেশে হত্যা-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তারপর থেকে বাংলাদেশে যত হত্যা-খুনের রাজনীতি হয়েছে সবই করেছে বিএনপি।
উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা ও নতুন নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোয় আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিএনপি নেতারা প্রতিদিনই বলে আসছেন খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তার মামলায় আদালতকে কারাগারে অভ্যন্তরে স্থানান্তরের ঘটনায় এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে সে সংশয়।
তবে গতকালও একটি আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি- এখানে নির্বাচন তখনই হবে যখন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। অর্থাৎ দেশনেত্রী কারাগারে বাইরে থাকবেন।’ সার্বিক পরিস্থিতি জাতীয় ঐক্য ও কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে করণীয় নির্ধারণে আজ ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডেকেছে বিএনপি।

যে কারণে হঠাৎ মর্গে বেড়েছে লাশ by শুভ্র দেব

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নয়া কিসিমের নির্দেশনায় তোলপাড় চলছে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক-কর্মচারীদের মাঝে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে হাসপাতাল থেকে কারও মৃতদেহ নিয়ে যেতে হলে পুলিশের ছাড়পত্র লাগবে। পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে লাশের পোস্টমর্টেম করতে পারবে।
নতুন এ নির্দেশনা জারির পর এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যায় লাশের পোস্টমর্টেম হচ্ছে বলে মর্গ কর্মীরা দাবি করেছেন। নতুন নির্দেশনায় হাসপাতালে লাশ নিয়ে বিপাকে পড়ছেন স্বজনরা। শোকাতুর স্বজনদের লাশের ছাড়পত্র পেতে ছুটতে হচ্ছে থানা আর মর্গে। এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেছে দুই ধরনের বক্তব্য।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, পরবর্তী জটিলতা এড়াতে শুধুমাত্র মৃত অবস্থায় যাদের নিয়ে আসা হয় ওই সব লাশের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বলছেন ভিন্ন কথা। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পরও পুলিশের ছাড়পত্রের জন্য থানায় যেতে হচ্ছে। সরজমিন এ দাবির সত্যতাও পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে দায়িত্বরত একজন মেডিকেল অফিসার বলেন, কোন রোগী মারা গেলে সে কোন রোগে মারা গেল তার কারণ শনাক্ত করা এবং বছরে কোন কোন রোগে কত রোগী মারা গেল মৃত্যু সনদ দেখে তার পরিসংখ্যান বের করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ঢামেকে ভর্তি হওয়া অনেক রোগীর সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া যায় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরাধজনিত কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন অনেক রোগী। যারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আবার মৃতাবস্থায় অনেক রোগীকে নিয়ে আসে অনেকে। এসব রোগীদের স্বাভাবিক মৃত্যুর সনদ দিয়ে ছেড়ে দিলে পরে ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আইনি ঝামেলা এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক থাকছে। পুলিশ কেস দিলে পুলিশই তার ভালো মন্দ বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়।
শুক্রবার দুপুরের ঘটনা। শরিয়তপুরের নড়িয়া থেকে হার্টের সমস্যা নিয়ে ঢামেকে আসেন মো. আফজাল আলী বেপারী। চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। জরুরি বিভাগ থেকে আফজাল বেপারীর মৃত্যুর জন্য পুলিশ কেস দেয়া হয়। তারপর থেকে আফজাল বেপারীর স্বজনদের শুরু হয় একের পর এক ভোগান্তি।
জরুরি বিভাগ থেকে মেডিকেল অফিসার, মর্গ অফিস, থানা পুলিশ হয়ে ঘাটে ঘাটে হয়রানির শিকার হয়ে মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র মিলে। নিহত এই ব্যক্তির ছেলে মো. জাকির হোসেন মানবজমিনকে বলেন, হার্টের সমস্যা থাকার কারণে আমার বাবাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসি। চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
এখন কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে এসে মারা যাওয়ার জন্য পুলিশ কেস দিয়েছে। এখন এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে দৌড় ঝাঁপ করছি। মর্গ অফিস থেকে কাগজপত্র দিয়ে বলা হয়েছে শাহবাগ থানায় যাওয়ার জন্য। সেখান থেকে পুলিশের ছাড়পত্র নিয়ে মর্গ অফিসে আসি। সেখান থেকে আবার গেট পাস নিয়ে বাবার মরদেহ নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।
জাকির বলেন, এরকম নিয়মে বাড়তি ভোগান্তি হচ্ছে। আমার বাবা মারা গেছে আমার মনের অবস্থা খুবই খারাপ। তার উপর এই বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। একই অবস্থা দেখা যায় ময়মনসিংহের গফরগাওয়ের ওয়াহিদুজ্জামানের স্বজনদের। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে তার স্বজনরা নিয়ে আসেন ঢামেকে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তখন ওয়াহিদুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। ওয়াহিদুজ্জামানের ক্ষেত্রে দেয়া হয় পুলিশ কেস। মৃতদেহ মর্গে রেখে তার স্বজন শাহনাজ পারভিনকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। হাসপাতালের নিয়মনীতি ও থানা পুলিশের ঝামেলা শেষ করে ওয়াহিদুজ্জামানের মৃতদেহ তার স্বজনরা বাড়ি নিয়ে যান।
শাহনাজ পারভিন জানান, নিজের কোনো স্বজন মারা গেলে মন-মানসিকতা একদম ভালো থাকে না। তার ওপর এসব ঝামেলা পোহাতে হয়। হাসপাতালের এ ধরনের নিয়ম মানা যায় না।
শুধু আফজাল আলী বেপারী আর ওয়াহিদুজ্জামানের স্বজনই নয় গত ৬ই সেপ্টেম্বর থেকে ঢামেকে নতুন এই নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসক, জরুরি বিভাগ, মর্গ অফিস, মৃত ব্যক্তির স্বজন ও থানা পুলিশকে। ঢামেক সূত্র জানিয়েছে, স্বাভাবিক অসুস্থতায় যদি কেউ মারা যায় আর নিশ্চিত হওয়ার জন্য মেডিকেলে আনা হয় সেই মৃতদেহের বেলায় পুলিশ কেস দেয়ার বিষয়টি কেউ মেনে নিতে চাইছেন না।
কারণ এমনিতেই রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজকে ঝামেলা মনে করেন। তার ওপর আবার স্বাভাবিক মৃত্যুতে পুলিশ কেস দেয়া হচ্ছে। এটিকে তারা বাড়তি ঝামেলা মনে করছেন। হাসপাতালে আসা কোনো রোগীর মৃত্যু হলে যখন তাকে পুলিশ কেস দেয়া হয় তখন তার স্বজনদের সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করতে হয়।
অনেক সময় থানায় বসে পুলিশ ছাড়পত্র দেয়। আবার অনেক সময় হাসপাতালে এসে মৃতদেহ দেখে পোস্টমর্টেম করার কথা বলছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ভেতরে যদি কোনো রোগী ঢামেকে মারা যান সেক্ষেত্রে ওই রোগীর সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ছাড়পত্র আনতে হবে। আর যদি ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীর মৃত্যু হয় তবে এক্ষেত্রে শাহবাগ থানা থেকে ছাড়পত্র আনতে হবে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া মানবজমিনকে বলেন, এই নতুন নিয়মের পক্ষে কেউই না।
রোগীর স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশের কাজ বেড়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য সেই ডেমরা, উত্তরা, কদমতলীসহ আরো দূর-দূরান্তের থানা থেকে পুলিশ আসতে হয়। 
ঢামেকের মর্গ অফিসের সহকারী মোহাম্মদ নিজাম মানবজমিনকে বলেন, নতুন ঝামেলা শুরু হয়েছে। এতদিন সড়ক দুর্ঘটনা, হত্যা, আত্মহত্যার মৃতদেহগুলো পোস্টমর্টেম করা হতো। কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশ কেস দেয়া হচ্ছে। এজন্য আমাদের প্রতিদিনের কাজের সঙ্গে বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের ভোগান্তির সঙ্গে সঙ্গে মর্গ অফিসের কর্মচারী ও পুলিশের ভোগান্তি শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মর্গ অফিসের আরেক সহকারী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন এই নিয়ম করলেন কিছুই বুঝলাম না। আমাদের প্রতিনিয়ত রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। নতুন এই নিয়ম কিছুতেই মানতে চান না স্বজনরা। জ্বর, হার্টঅ্যাটাক, ব্রেনস্টোকের রোগীদের কেন পুলিশ কেস দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. শাহ আলম তালুকদার মানবজমিনকে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ঢামেকে অনেক সময় মৃত অবস্থায় অনেকে রোগী নিয়ে আসে।
এসব ক্ষেত্রে আমরা পুলিশকে তথ্য দিই। কারণ আমরা কোনো রোগী  বা তার স্বজনদের চিনি না। ওই ব্যক্তিকে কি কেউ গলা টিপে হত্যা করেছে না অসুস্থতার কারণে মারা গেছে সেটাতো আমরা জানিনা। তাই পরে যদি ওই ব্যক্তির কোনো স্বজন এসে না বলে ঘটনা অন্যরকম ছিল। জানতে চাইলে ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন স্বাভাবিক মৃত্যুতে পুলিশ কেস দেয়া হচ্ছে না বলে জানান।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক  (হাসপাতাল) অধ্যাপক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যেসব রোগীকে হাসপাতালের আনার পর মৃত ঘোষিত হয় তাদের ক্ষেত্রে পুলিশ কেস দেয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশ কেস দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এমনটি তার জানা নেই।

চট্টগ্রাম পোর্ট এক্সেস রোড টোলপ্লাজার কোটি টাকা লুটপাটে সওজ

চট্টগ্রাম পোর্ট এক্সেস রোডের টোলপ্লাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। অভিনব কৌশলে মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন দিয়ে সওজ প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। গত ৫ বছরে এ টোলপ্লাজা থেকে অন্তত ৪০ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনো রকম প্রতিকার মেলেনি বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগের বিবরণ মতে, চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ টোলপ্লাজার টোল আদায় কার্যক্রম সমপাদন ও মনিটরিং করার জন্য সম্পূর্ণ অবৈধভাবে শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পক্ষকে নিয়োজিত করে টোল আদায় করছে। আর টোলের সিংহভাগ টাকা রাজস্ব খাতে জমা না দিয়ে নানা কৌশলে পকেটে ভরছে।
শ্রমিক সংগঠনের নেতা জমির উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের অধীন পোর্ট এক্সেস রোডের টোলপ্লাজায় টোল আদায়ের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮-২০০৯ অর্থ সালে। অপারেশন অ্যান্ড মেন্টেইনেন্স পদ্ধতিতে টোল আদায় করার জন্য ১৬ই অক্টোবর ২০০৮ সালে মনিকো-এটিটি কনসর্টিয়ামকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হয় ১৫ই অক্টোবর ২০১৩ সালে।
এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পক্ষের লোকজন দিয়ে টোল আদায় বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করায়। ওই রিটে টোল আদায় স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। আর এ সুবাধে রিটকারী শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন দিয়ে টোল আদায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখে সওজ।
তিনি জানান, ২০১৩ সালের ১৫ই অক্টোবরের পর টোল আদায় কাজ পরিচালনায় লোকবল নিয়োগের কোনোরকম সরকারি আদেশ জারি করা হয়নি। আবার টোল আদায় কার্যক্রমে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভাগীয় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিয়োগ করা হয়নি। কিন্তু শ্রমিক লীগ সমর্থিত শ্রমিক ইউনিয়নের লোক নিয়োগ করে টোল আদায় কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এতে টোল আদায়ে জড়িত লোকবলের কোনো প্রকার বেতন-ভাতাও সওজ বিভাগ থেকে প্রদান করা হচ্ছে না। অথচ টোল আদায় থেকে মোটা অঙ্কের বেতন-ভাতা প্রদানের হিসাব বহি সংরক্ষণ করা হয় টোলপ্লাজায়। শ্রমিক-কর্মচারীদের মাস্টার রোলে বেতন প্রদান করা হয় বলে দেখানো হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। 
এ ব্যাপারে জানার জন্য বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি মো. সালাউদ্দিন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন আরেকাংশের সভাপতি মানিক হোসেন এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না বলে জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কে প্রতিদিন ন্যূনতম গড়ে ৬৫০০-৭৫০০ পর্যন্ত গাড়ি পোর্ট এক্সেস রোড দিয়ে চলাচল করে। যার বেশিরভাগই চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার, লরি, কাভারভ্যান, ট্রাক ও পিকআপ। প্রতিটি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়। সেই হিসেবে এই সড়ক হতে দৈনিক আদায়কৃত মাশুলের পরিমাণ ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি।
কিন্তু সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা দেয়া হয় গড়ে মাত্র এক লাখ দশ হাজার টাকা। বাকী বিপুল অংকের টোল আদায়ের টাকা লুটপাট করছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা এবং শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন।
সওজ বিভাগের হিসেব অনুযায়ী ২০১৩-২০১৪ সালে ২৭৫ দিন এ আদায়কৃত মাশুল এর পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩,০৭,৬৪,৫৮৯/- টাকা। কিন্তু হিসেবে অনুযায়ী বাস্তবে মাশুল আদায় হয়েছে ১২-১৩ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকারও বেশি লুটপাট করা হয়েছে। 
২০১৪-২০১৫ সালে আদায়কৃত মাশুল এর পরিমাণ দেখিয়েছেন ৪,১৮,৯৯.০০০/- এবং ২০১৬-২০১৭ সালে আদায়কৃত মাশুল এর পরিমাণ দেখিয়েছেন ৪,২১,৮১,০০০ টাকা। ২০১৪-২০১৫ ও ২০১৬-২০১৭ সালে সরকার কম করে হলেও ৩০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে এমন অভিযোগ আছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমদ বলেন, প্রতিদিন টোল আদায়ের পরিমাণ এক লাখ ১০ হাজার টাকা, যা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয় এবং টোল আদায়কারীদের মাস্টার রোলে বেতন ভাতাও প্রদান করা হয়। এর বাইরে কি পরিমাণ টাকা টোলে আদায় হয় তা আমার জানা নেই।
কিন্তু টোল আদায়ে নিয়োজিত লোকজন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে টোল আদায়ে লোকবল নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। সওজ বিভাগে লোকবল সংকটও রয়েছে। তাই শ্রমিক সংগঠন টোল আদায় করছে।

বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে: সালেহউদ্দিন

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সবমিলিয়ে ব্যাংকিং খাতে এখন সুশাসনের অভাব, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। উন্নয়নটা সমতাভিত্তিক হচ্ছে না। সমতাভিত্তিক উন্নয়ন না হলে তা টেকসইও হয় না।
আজ (শনিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এর আয়োজন করে দ্য ঢাকা ফোরাম নামের একটি সংগঠন। সালেহউদ্দিন আহমেদ এই সংগঠনের সভাপতি।
সালেহউদ্দিন আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে। এখন এই খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুশাসনের অভাব। অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বলতে কিছু নেই। ব্যাংকিং খাতের জন্য যেসব নীতিমালা, আইনকানুন, আন্তর্জাতিক রীতি আছে সেগুলো সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না।
তিনি মনে করেন, সামগ্রিক অর্থনীতির সূচকগুলোর অর্জন ভালো। প্রবৃদ্ধি ছয়-এর বৃত্ত থেকে বের হওয়া গেছে। এটি ইতিবাচক। সার্বিক উন্নতি সন্তোষজনক।
দেশের রাজনৈতিক চর্চা জনগণের স্বার্থে হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার অভাব প্রকট। সবচেয়ে মারাত্মক হলো আইনের শাসনটা নেই। আইন আছে কিন্তু এর বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা আছে। সুশাসন ছাড়া কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন রেডিও তেহরানকে বলেন, অর্থনৈতিক খাতে লুটপাট, দুর্নীতি এবং দখলদারিত্বের রাজনীতি যুক্ত হয়ে দেশে একটা অপশাসন চলছে, এটা আজ দেশবাসী ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন। এর পেছনে ক্ষমতার প্রভাব জড়িত। এটা বাংলাদেশের বরজনীতিকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান ও মইনুল হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ, প্রকৌশলী এনামুল হক প্রমুখ।

গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করলেন সজীব ওয়াজেদ

এই গ্রীষ্মে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গতিশীল একটি বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। তাদের ভয়াবহ এই মৃত্যুতে জাতীয় পর্যায়ে এর প্রতিফলন ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা, তাদের বেশির ভাগই হাইস্কুল পড়ুয়া, অবকাঠামোর উন্নতির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং সরকার তাদের কথা শুনেছে।
বিক্ষোভ শুরুর অল্প পরেই বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের সব দাবির প্রতি একমত পোষণ করে। এক্ষেত্রে পরিবর্তন বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তিনি শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কারণ, তাদের আন্দোলন সফল হয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলো, বিরোধী দলের নেতারা, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার জন্য চাপ দিতে থাকে এবং সক্রিয়ভাবে তাদেরকে সহিংস হয়ে উঠার আহ্বান জানান। এই উস্কানির জন্য যারা দায়ী তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশী ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম। সহিংসতা উস্কে দেয়ার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার জন্য প্রকৃত সত্য থাকা সত্ত্বেও তার পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যেসব সাংবাদিকের লেখা সেন্সর করা হয় অথবা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যারা আটক সেই সব সাংবাদিকদের লেখা পড়তেই অভ্যস্ত পশ্চিমা পাঠকরা। ‘ব্যাড গাই’ সব সময়ই সরকারকে নিয়ে বক্রোক্তি করে। কিন্তু এক্ষেত্রে শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার ও যে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে তিনি সহায়তা করেছিলেন তা দমন করা ছাড়া সরকারের সামনে কোন বিকল্প ছিল না। সরকার নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে রক্ষা করার চেষ্টা করেনি। যা করেছে তা হলো নাগরিকদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা।
বিরোধীরা সরকারের কর্তৃত্বপরায়ণতা সম্পর্কে পুরনো একটি কৌশল ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ব্যবহার করছে পশ্চিমা মিডিয়াকে। কিন্তু এই ক্লিকের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা অন্যরকম। এমনকি সরকার যা করেছে তার পক্ষেই কথা বলছে সরকার। শহিদুল আলম একজন ভিকটিম নন। তার কর্মকান্ড বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্ষতি করেছে।
শহিদুল আলম বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ভিন্নমত পোষণ করে আসছেন। সব বাংলাদেশী যেমনটা তাদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীন, তিনিও সেরকমভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীন। বাংলাদেশের প্রেস গতিশীল। এখানে রয়েছে ৩০০ সংবাদপত্র। ৩০টি বেসরকারি মালিকানাধীন সংবাদ বিষয়ক নেটওয়ার্ক এবং স্বাধীনভাবে পরিচালিত ২২০টি নিউজ বিষয়ক ওয়েবসাইট। এর মধ্যে অনেকেই সরকারের সমালোচনা করে।
শহিদুল আলমের সর্বশেষ বক্তব্যের জন্য পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রথাগত মিডিয়া আউটলেটের মাধ্যমে এসব কথা বলেছেন। তিনি ছাত্রবিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর মিথ্যা কথা বলেছেন, যা সহিংসতাকে উস্কে দিয়েছে এবং এর জন্য ক্ষমতাসীন দলের প্রধান কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। অকারণে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন তার মিথ্যা কথা ও জোরালো বক্তব্যের কারণে। প্রধান কার্যালয়ে হামলায় স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে গেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্রে যখন কোনো থিয়েটারে অগ্নিকান্ড না লাগে তখন যদি কেউ সেখানে আগুন উচ্চারণ করে তা অবৈধ। কিন্তু শহিদুল আলম ঢাকায় এরই সমতুল্য কাজ করেছেন। এ জন্য অপরাধের জন্য যথাযথভাবে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সত্য হলো, বিক্ষোভ চলাকালে কোনো শিক্ষার্থী নিহত হয়নি। উপরন্তু সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার পর বিরোধী দলীয় নেতারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে তাদের নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। এর মাধ্যমে বিরোধী দল ওই বিক্ষোভকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে পরিণত করে সহিংসতার মাধ্যমে।
বিরোধী দলীয় কিছু সদস্য ছাত্রদের বেশ ধরে এ সময় প্ররোচনা দিতে নামে। বাংলাদেশে এই কৌশল খুব ভালভাবে জানা। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনকালে একই রকম ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। তখন বিরোধী দলীয় সদস্যরা যানবাহনে পেট্রোলবোমা মেরেছিল। নির্বাচনে ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেয়ে তারা পরিবহনে অন্য রকম ক্ষতিসাধনও করেছিল।
সরকার অনেক অর্জন করেছে। এ থেকে মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে বিরোধী রাজনীতিকদের। সরকার ৩ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করেছে। মাথাপিছু আয় দ্বিগুণেরও বেশি করেছে। এ বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন। সরকার তার উন্নয়ন কাজের ধারা একই রকম রাখতে চায়। কিন্তু এ সময়ে ছাত্রদের বিক্ষোভকে হাইজ্যাক করেছে তারা (বিরোধী দল)। বিষয়টি সরকার মোকাবিলা করেছে। তারা (বিরোধীরা) চেষ্টা করেছে পরিস্থিতিকে এমনভাবে তুলে ধরতে যাতে বাইরের বিশ্ব বুঝতে পারে সরকার কড়া হাতে শাসন ব্যবস্থা চালাচ্ছে।
কিন্তু বিষয়টি আসলে সত্য নয়। পুলিশ শহিদুল আলমকে প্রহার করেছে বলে তিনি যে দাবি করেছেন, তাও সত্য নয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করেছে যে, ‘হাসপাতাল কর্মকর্তারা বলেছেন তার (শহিদুল আলম) দেহে কোন ক্ষত নেই, যার জন্য তাকে হাসপাতালে রাখা যায়’।
ব্যাপকভাবে গৃহীত দায়িত্ব আমাদেরকে জটিল এবং মাঝে মাঝে নৃশংস বিশ্ব সম্পর্কে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করে। কখনো কখনো, বাংলাদেশে পরিস্থিতি যেমন, বাস্তবতা হলো ক্লিক। শহিদুল আলম এবং অন্যরা, যারা সরকারের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তারা বলতে পারেন কি চান। কিন্তু এর নাম করে তারা মানুষকে আহত করতে পারেন না। এক্ষেত্রে নাগরিকদের রক্ষা করেছে বাংলাদেশ এবং আবারও তাই করবে।
(সজীব ওয়াজেদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। তার এ লেখাটি যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন দ্য ডেইলি কলার-এ প্রকাশিত)

প্রথম ট্রাম্পের নাম ধরে সমালোচনা করলেন ওবামা

ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রকাশ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নাম ধরে তার কড়া সমালোচনা করলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্তমান প্রেসিডেন্টকে তিনি ‘রাজনীতির আতঙ্কের লক্ষণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের ভোটারদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন ওবামা। এ সময় তিনি ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রথম দেড় বছরের বিতর্কিত মন্তব্যকে সরাসরি আক্রমণ করেন।
আগামী মধ্যবর্তী ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ (পাইভোটাল) উল্লেখ করে সব মার্কিনিকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ওয়াশিংটনে অকে বছরের জন্য বিভক্ত রাজনৈতিক বৈচিত্র সৃষ্টি করার জন্য তিনি সরাসরি ডনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেন এবং তার দল রিপাবলিকানকে দায়ী করেন। ওবামা বলেন, কয়েক বছর ধরে রাজনীতিবিদদের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে (ডনাল্ড ট্রাম্প) শুধু তাকে পুঁজি করছেন। এর মূলে রয়েছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। আমাদের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি হলো উদাসিনতা। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো সবকিছুতেই দোষ দেখার মানসিকতা।
শুক্রবার ওই অনুষ্ঠানে বারাক ওবামা বলেন, আমি এখানে এসেছি। এর কারণ আছে। সামনে যে নির্বাচন তাকে সামনে রেখে এ সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। ওই নির্বাচনে আমরা সব মার্কিনি, সব নাগরিক নিজেদেরকে নির্ধারণ করবো যে, আমরা কে বা আমাদের পরিচয় কি। একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। তা হলো, আপনাদেরকে ভোট দিতে হবে। কারণ, আমাদের গণতন্ত্র এই ভোটের ওপর নির্ভরশীল।
সাবেক অনেক প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার পর রাজনীতিতে এভাবে নামেন নি। প্রচলিত সেই ধারা থেকে বেরিয়ে ওবামা ভোট দেয়ার আহ্বান জানালেন ভোটারদের। তিনি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে হোয়াইট হাউজে তার সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেন। ওবামা বলেন, আমি তো ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ফক্স নিউজের অনেক সমালোচনা করেছি। আপনারা কেউ তো আমাকে বলতে শোনেন নি ওই চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছি কখনো। অথবা তাদেরকে জনগণের শত্রু বলেছি এমনটাও আমাকে বলতে শোনেন নি।
আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেয়ার জন্য এটর্নি জেনারেলকে চাপ দেয়া অথবা ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে এফবিআইকে ব্যবহার করা কোন দলগত বিষয় হওয়া উচিত নয়। বারাক ওবামার যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক ক্যাটি হিল বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা দেশজুড়ে সফর করবেন। এ সময়ে তিনি ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন। ক্যাটি হিল বলেন, কর্তৃত্বপরায়ণ রাজনীতি ও পলিসি থেকে বেরিয়ে আসার আওয়াজ দেবেন ওবামা।