Thursday, August 29, 2013

ফ্রেশ গার্ল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

এক মাস মার্কিন মুল্লুকে থেকে মাত্রই মুম্বাই ফিরলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউ দিল্লি হয়ে মুম্বাইয়ের মাটিতে নেমেছেন ১৯ আগস্ট ভোররাতে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল থেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কয়েকটি প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে।

লম্বা সময় বিমান ভ্রমণ করলে, বিশেষ করে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণ করলে এমনিতেই জেট ল্যাগের কবলে পড়তে হয়। কিন্তু প্রায় এক দিন টানা ভ্রমণের পরও প্রিয়াঙ্কা ছিলেন একেবারে ফ্রেশ। এ বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে পিসি বলেন, 'এখন আর জেট ল্যাগ হয় না। আসলে জেট ল্যাগের মতো সময় আমার নেইও। সকাল থেকে এটা আমার তৃতীয় অনুষ্ঠান। জেট ল্যাগ নিয়ে ভাবার মতো সময় নেই।' উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নতুন গান 'এক্সোটিক' নিয়ে প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। এ ছাড়া ডিজনির নতুন অ্যানিমেশন 'প্লেনস'-এ ইশানি চরিত্রেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতায় শিক্ষক রাজনীতি by একেএম শাহনাওয়াজ

জাতি হিসেবে বড় দুর্ভাগ্য বহন করছি আমরা। যখন একান্তে ভাবি কী হতে পারত এ দেশটি আর কী হচ্ছে, তখন বিমর্ষ হয়ে যাই। এগিয়ে চলার সূচক হতে পারত ঊর্ধ্বমুখী, অথচ তা ঘুরে এখন নিুগামী। অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের। প্রজন্মকে প্রণোদনা দেয়ার জন্য যখন ঐতিহ্যের সৌন্দর্য ও শক্তিকে সামনে আনা জরুরি তখন ঐতিহ্য বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রাণান্ত প্রয়াস দায়িত্বশীলদের। শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রে যেখানে উজ্জ্বল ঐতিহ্যের ঠাস বুনন রয়েছে- এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায়- সেখানে প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ছড়িয়ে দেয়ার কাজটুকু কি আমরা করতে পারছি? এক্ষেত্রে বড় দাগে দায়িত্ব নেয়ার কথা রাজনীতিক ও সমাজবিদদের। কিন্তু এসব কাঠামোতে কঠিন দলতান্ত্রিক ও স্বার্থবাদী রাজনীতি আসুরিক শক্তি নিয়ে সব সম্ভাবনাকে দলিত-মথিত করে দিচ্ছে। এমন সংকটে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার একটি বড় ভূমিকা থাকে। ইউরোপে রেনেসাঁস সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত বিবেক একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল। আমাদের দেশে একসময় সমাজ ও রাজনীতিতে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আইয়ুব আমলে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে উত্তাল আন্দোলনের নেতৃত্ব এসেছিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। এ পর্বগুলোতে অধিকাংশ শিক্ষক একটি মহৎ আদর্শ ধারণ করে শিক্ষকতায় আসতেন। জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞান সৃজনে ছিলেন নিবেদিত। ছাত্রছাত্রীর আদর্শ ছিলেন তারা। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তরকালে ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতীয় রাজনীতির দুষ্কৃতি অনুপ্রবেশ করতে থাকে। ১৯৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের অপব্যাখ্যা বা অপব্যবহার হতে থাকে। স্বায়ত্তশাসনের অধিকার অনেক সময় স্বেচ্ছাচারে পরিণত হয়। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হবেন সব ঘরানার মানুষের গাইড ও ফিলোসফার, সেখানে নষ্ট রাজনীতির অক্টোপাস আটকে ধরে তাদের। জাতীয় রাজনীতির অনুসারী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও বহুধাবিভক্ত হতে থাকেন। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের গাইড হওয়ার বদলে আজ্ঞাবহ লেজুড়ে পরিণত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিকরণ এতটা স্থূলভাবে হতে থাকে যে, সেখানে জ্ঞানচর্চার বদলে পদ-পদবি এবং দল ভারি করার লোভটাই বড় হতে থাকে।
১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ গণতন্ত্র যেমন দিয়েছে, তেমনি শিক্ষকদের ফেরেশতাতুল্য মনে করার যথেষ্ট স্বাধীনতাও দিয়েছে। এ স্বাধীনতার অপব্যবহারে আমাদের রাজনীতির শিক্ষকরা সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা নিয়ে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক কারণেও কর্তব্যভ্রস্ট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে ভাগাড়ে পরিণত করছেন। অনেক সময় তারা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থসিদ্ধির জন্য আইন-কানুন, মানবিকতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ- কোনো কিছুকে আমলে না নিয়ে দানবীয় আচরণ করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয়ের সঙ্গে তেমন মেলানো যায় না। শিক্ষকতা পেশার ভেতর এমন স্থূলতা অনেক আগে থেকেই অনুপ্রবেশ করেছে। এখন এর বাড়বাড়ন্ত দশা। এই অসুস্থতার প্রধান কারণ শিক্ষক রাজনীতি জাতীয় রাজনীতির বৃত্তে বন্দি হয়ে যাওয়া। একজন শিক্ষকের কাছে প্রত্যাশিত বিবেক সেখানে আর কাজ করে না। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা বা আশপাশে ঘুরঘুরে স্বভাব যাদের, তাদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। আবার কোনো কোনো রাজনীতির ঘরানা আছে, যেখানকার শিক্ষকরা একটি আদর্শিক জায়গা থেকে নিজেদের সংগঠিত রাখেন। ক্ষমতা কেন্দ্র থেকে দূরে থাকেন বলে সুবিধাবাদী অনাচারে তারা তেমন যুক্ত থাকেন না। যদি অনাচার সৃষ্টিকারী দলগুলোর ‘আন্দোলনে’র মাঠ দাবড়ে বেড়ানো শিক্ষকদের একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক বৃত্তান্তের ওপর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হয়, তবে অনেক প্রশ্নের হয়তো উত্তর পাওয়া যাবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ভিসিবিরোধী দুটি শিক্ষক গ্র“পের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজ যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে অনেক শিক্ষক এ আন্দোলন নিয়ে জাতীয় দৈনিকে লেখালেখি করেছেন। এছাড়াও অনেক কলামিস্ট কলাম লিখেছেন। সম্পাদকীয়ও প্রকাশিত হয়েছে অনেক কাগজে। এসবের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে যে মেসেজটি পৌঁছে গেছে তা হচ্ছে- কিছুসংখ্যক শিক্ষক পরিচয়ের ঈর্ষাকাতর মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে একটি অস্থিতিশীলতা চাপিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে আন্দোলনকারী দুই গ্র“পের শিক্ষকদের কিছু অংশ ছাড়া অন্যসব দলীয় ও নির্দলীয় শিক্ষকের এতে কোনো সমর্থন নেই। অন্তত তিনটি শিক্ষক গ্র“পের শিক্ষক নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের কোনো খণ্ডিত অংশেরও সমর্থন-সহানুভূতি পাননি আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। বরঞ্চ শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার জন্য শিক্ষার্থীরা মিছিল পর্যন্ত করেছে।
এমন দুর্বল অবস্থানে থেকে অত্যন্ত বিতর্কিত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে খেলো কয়েকটি দাবি নিয়ে একজন নির্বাচিত ভিসিকে উৎখাতের আন্দোলন কখনও সাফল্য বয়ে আনতে পারে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আন্দোলনে এখনও যেহেতু দুই ভিন্নমতের পক্ষের মধ্যে মারামারি-হাতাহাতির সংস্কৃতি চালু হয়নি, তাই সংখ্যায় যতজনই হোন, মাঠ প্রতিরোধহীন থাকায় দাপট দেখাতেই পারেন। এ কারণে একজন নির্বাচিত ভিসি, পাশাপাশি একজন শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের সহকর্মী ড. আনোয়ার হোসেনকে বিনা নোটিশে অশিক্ষকসুলভ আচরণে ৮৪ ঘণ্টা বন্দি করে রাখতে পারেন তার অফিস কক্ষে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ছাত্র এখন কাবুলে জাতিসংঘের অফিস কর্মকর্তা। আমাকে টেলিফোনে দুঃখ করে বললেন, চমৎকার একটি ইমেজ তৈরি করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, তোমাদের এই শিক্ষক আন্দোলন সবই বিসর্জন দিল। এখন নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে ইচ্ছে হয়। ঠিক একইভাবে সেদিন একজন প্রবীণ অধ্যাপিকা বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস মিস করলে মাঝে মাঝে বাইরের পরিবহনে ঢাকা থেকে আসি। এখন বাসযাত্রী কারও কারও মন্তব্যে কান রাখা যায় না।
২৭ আগস্ট বাংলা একাডেমি গিয়েছিলাম। আমার ছাত্র উপপরিচালক ড. মিজানের চেম্বারে বসেছিলাম। আরেক সহপরিচালক সায়রাও এলো। জাহাঙ্গীরনগরের এই দুই সাবেক শিক্ষার্থী একই ধরনের হতাশা ব্যক্ত করছিল। এরই মধ্যে এলেন একজন গুণী মানুষ। লে. কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ আলী। এই মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা করেন মুক্তিযুদ্ধের ওপর। ভারতে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর শনাক্ত করার কৃতিত্ব রয়েছে তার। এখন বাংলা একাডেমি তার লেখা বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী সিরিজ প্রকাশ করছে। সাজ্জাদ আলী সাহেব একজন বড় ব্যবসায়ী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক শিক্ষক আন্দোলনে তিনি মহাবিরক্ত। ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, ২০-২২ লাখ টাকা প্রতিবছর ট্যাক্স দেন। আর সেই টাকার বেতন-ভাতা নিয়ে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্ছন্নে দিচ্ছেন! বললেন, এখন তো দু’মাস পরপর ভিসি তাড়ানো আপনাদের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তার ক্ষুব্ধ প্রস্তাব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে সেখানে একটি আনসার একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হোক। তাতে জাতি কিছুটা উপকার পাবে। জাহাঙ্গীরনগর-সংশ্লিষ্ট আমাদের অবশ্য এমন প্রতিক্রিয়া শুনতে ভালো লাগছিল না। কিন্তু জনপ্রতিক্রিয়া ঠেকাব কিভাবে!
আন্দোলনের জটিলতা থেকে আপাতত বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হল শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে। গত ২৪ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে। এর আগের রাতে আমি টকশোতে অংশ নেয়ার জন্য একটি টিভি চ্যানেলে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার সহ-আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সময়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক নেতা এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি আমার কাছে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সবশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলেন। আমি জানালাম, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে আগামীকাল শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক করবেন। শুনে আমার সহকর্মী তার রাজনৈতিক মেধা থেকে বললেন, আন্দোলনকারীরা নিশ্চয় বেরিয়ে আসার সম্মানজনক পথ খুঁজছেন। কারণ তাদের ভিসি বিতাড়নের এক দফা আদায়ে শিক্ষামন্ত্রী কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না। অটল থাকলে আন্দোলনকারীদের উচিত ছিল চ্যান্সেলর বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করা। আগামীকালের আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি ফর্মুলা বের করে আন্দোলন স্থগিত করে দেয়া হবে।
শেষ পর্যন্ত তাই হল। ১৫ দিনের জন্য স্থগিত হল আন্দোলন। এখন পুরো বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে। উল্লেখ্য, এতদিন এ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন ভিসি মহোদয়। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তের ফলাফল তিনি মেনে নেবেন। আন্দোলনকারীরা তদন্তের রায় তাদের বিরুদ্ধে গেলে তা মানবেন কি-না তা এখনও জানাননি। এতসব কিছুর পরও ক্যাম্পাসবাসী মনে করছে না অস্থিরতা কেটেছে। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার পর এখন ক্যাম্পাসে সবকিছু স্বাভাবিক চলার কথা। কিন্তু পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া বন্ধ হয়নি। এ মুহূর্তে জরুরি কাজ ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া। শোনা গেল, ২৬ আগস্ট ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিসভা আহ্বান করেও আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অসহযোগিতার কারণে সভা স্থগিত করতে হয়েছে।
ঘটনা সত্য হলে একে আমরা আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতাদের অবিবেচনাপ্রসূত হঠকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করব। সাধারণ শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। আমরা মনে করি, এ ধরনের শক্তি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সবারই এগিয়ে আসা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের ক্ষতিসাধন এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নষ্ট হোক তা কেউ চাইবে না। যেহেতু শিক্ষক দলগুলো রাজনীতি আশ্রিত, তাই যে কোনো পক্ষের বিভ্রান্ত আচরণের দায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোকেও বহন করতে হবে। আন্দোলনে যুক্ত আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শধারী বলে প্রচারিত একটি দল আর তাদের সহযোগী জাতীয়তাবাদী আদর্শধারী বিএনপি গ্র“প। এখন নিজেদের কাদামুক্ত রাখতে উভয় দলের নেতাদের উচিত তাদের অনুসারী শিক্ষকদের সংযত করা। মনে রাখতে হবে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সভ্যতার আলোবঞ্চিত ৭২০ একরের বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ নয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্ক রয়েছে সমগ্র দেশবাসীর। সুতরাং সব অনাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ যখন প্রশ্ন উত্থাপন করবে, তখন কিন্তু এর দায় রাজনৈতিক দলগুলো এড়াতে পারবে না।
ড. একেএম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকদের জন্য প্রতিশ্র“তির মুলা আর কতদিন? by মোঃ সিদ্দিকুর রহমান

স্বাধীনতার আগে যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ননম্যাট্রিক, ম্যাট্রিক পাস শিক্ষকদের দিয়ে পূর্ণ ছিল, আজ সেখানে স্থান করে নিয়েছে টগবগে উচ্চশিক্ষিত তরুণরা। কিন্তু শিক্ষক সমাজ আজ হতাশ। তাদের প্রাপ্য মর্যাদা দিতে বারবার প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করা হচ্ছে। নানা অজুহাতের মাধ্যমে অহেতুক সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। ৩০ বছর আগে আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা উন্নীত হবে। পাশাপাশি অন্য পেশার মতো বেতন-ভাতা দেয়া হবে। অথচ আমরা আজ হতাশ। নার্স, কৃষি সহকারী, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক, মেডিকেল সহকারী, পুলিশ সদস্যদের মর্যাদা ও বেতনস্কেল আপগ্রেড করা হয়েছে, অথচ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে শুধুই সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের মুখে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তার মধ্যে ছিল- ১. সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদটিকে প্রথম শ্রেণীর পদে উন্নীতকরণের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ২. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতকরণের বিষয়ে সভা নীতিগতভাবে ঐকমত্য পোষণ করে এবং প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতকরণের জন্য সর্বসম্মত সুপারিশ প্রদান করে। তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণের আগে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব বিধিমালা ও আর্থিক সংশ্লেষ বিষয়ে একটি রিপোর্ট কমিটি সভায় পেশ করবে। ৩. সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২০ ভাগ কোটার স্থলে ৩০ ভাগ কোটা নির্ধারণের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ইত্যাদি।
বর্তমান সরকার আসার পর বিগত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতাকে আমলে নেয়নি। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দাবি সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদায় উন্নীতকরণসহ শিক্ষকদের বেতন স্কেল আপগ্রেড করেনি। দীর্ঘ ৪ বছর ৮ মাস আশ্বাসের মুলা ঝুলিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে। গত ২৪ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নিুরূপ-
১. প্রস্তাবিত পদসমূহের পদমর্যাদা ও বেতনস্কেল উন্নীতকরণের বিষয়ে জানানো হয়, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পঞ্চম থেকে বৃদ্ধি করে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারণ হবে। ২০১৩ সালে সারাদেশের প্রত্যেক উপজেলা/থানায় ১টি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী খোলা হয়েছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণী চালুকৃত প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ২ জন করে স্নাতক/স্নাতকোত্তরসহ বি-এড/ডিপ.ইন.এড পাস শিক্ষক সংযুক্তি/বদলির কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে চলছে। যেহেতু সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, সেহেতু নিুমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রচলিত গ্রেডের মতো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল হওয়া প্রয়োজন।
২. শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালার কতিপয় বিধান সংশোধনের প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় বর্তমানে প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের সুপারিশ, প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ সাপেক্ষে চূড়ান্তকরণের উদ্দেশ্যে পিএসসির মতামত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে মর্মে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা হল পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণী সমমানের জিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি এবং মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ/সমমানের জিপিএসহ উত্তীর্ণ অথবা স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এছাড়া প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণী/সমমানের জিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকার শর্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩. বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭,৬৭২। কর্মরত প্রধান শিক্ষক সংখ্যা ৩৭,৬৭২। তাদের বেতনস্কেল ১৩তম থেকে ১০ম ও ১৪তম থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা হলে ভাতাদিসহ ১১৯ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সহকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বর্তমানে কর্মরত ১,৬৭,৬৭২ জন এবং প্রশিক্ষণবিহীন ২০,০০০ জন। বেতনস্কেল উন্নীত করা হলে ভাতাদিসহ ১৯৭ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সর্বমোট আর্থিক সংশ্লেষ (১১৯+১৯৭) = ৩১৬ কোটি টাকা মর্মে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশের সব বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২৬,০০০ জাতীয়করণের পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এবং বিদ্যালয়হীন গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ১৫০০ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে সর্বমোট আর্থিক সংশ্লেষ প্রতিবছর কী হতে পারে, তা প্রস্তাবে উল্লেখ নেই।
৪. প্রস্তাব অনুযায়ী বেতনস্কেল উন্নীত করা হলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও উন্নত বেতনস্কেল অনুযায়ী হবে। সেক্ষেত্রে প্রকৃত আর্থিক সংশ্লেষ অনেক বাড়বে। অর্থবিভাগের প্রতিনিধি জানান, যেহেতু এক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে, সেহেতু এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে অর্থ বিভাগের মতামত নেয়া প্রয়োজন।
৫. প্রস্তাবে দেখা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই ধরনের প্রধান শিক্ষক পদ রয়েছে। একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, যাদের বেতনস্কেল ১৩ নম্বর গ্রেড থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরটি প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক, যাদের বেতনস্কেল ১৪ নম্বর থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই পদবির ২টি ভিন্ন স্কেলের পদকে ২য় শ্রেণীর পদে উন্নীতকরণের প্রস্তাবটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।
৬. প্রধান শিক্ষকদের পদ ২য় শ্রেণীতে উন্নীত করা হলে ওই পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক ২য় শ্রেণী হবে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে যারা এসএসসি পাসসহ প্রধান শিক্ষক রয়েছেন এবং যাদের স্নাতক ডিগ্রি নেই তাদের কীভাবে ২য় শ্রেণীর পদে পদায়ন করা হবে? বিষয়টি সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের মতামতও প্রয়োজন।
৭. বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বেশ কয়েকটি বিভাগে ১৩-১৬ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীরা কর্মরত রয়েছেন, যাদের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল আপগ্রেড করা হলে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মচারীদের কাছ থেকেও বেতনস্কেল উন্নীতকরণের দাবি আসবে। সুতরাং শিক্ষকদের বেতনস্কেল উন্নীতকরণের আগে এ বিষয়টিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
৮. বর্তমানে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের (এটিও) বেতনস্কেল ৮০০০-১৬৫৪০ টাকা। তারা বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য সহকারী শিক্ষকদের কার্যক্রম মনিটর করে থাকেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করেন। প্রধান শিক্ষকদের বেতনস্কেল ৮০০০-১৬৫৪০ টাকায় উন্নীত করা হলে তাদের বেতনস্কেল সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সমান হবে। সেক্ষেত্রে মনিটরিং কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছ থেকে বেতনস্কেল উন্নীতকরণের দাবি আসতে পারে। ফলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও তদূর্ধ্ব পদোন্নতির পদগুলোর বেতনস্কেল পর্যায়ক্রমে উন্নীতকরণের দাবিও আসতে পারে, যা পর্যালোচনাযোগ্য।
৯. বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭,৬৭২। সম্প্রতি প্রায় ২৬,০০০ বেসরকারি বিদ্যালয় জাতীয়করণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয়হীন গ্রামে আরও ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে উপরোক্ত সরকারি প্রাথমিক স্কুলের জন্য বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এসব পদকে ২য় শ্রেণীর পদমর্যাদায় উন্নীত করা হলে পদসমূহের নিয়োগ, পদোন্নতি, শৃংখলাজনিত কাজ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের আওতাভুক্ত হবে। ফলে কর্মকমিশনের কাজের ব্যাপকতা বাড়বে। সুতরাং প্রস্তাবটি বিবেচনার আগে এ বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্ণিত ৬ নম্বর ক্রমিকে এসএসসি পাস প্রধান শিক্ষকদের কথা বলা হলেও বাস্তবে ৩০ বছর ধরে কোনো এসএসসি পাস প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি।
শিক্ষকদের প্রাপ্য মর্যাদা দিতে অর্থ সংকটের চিরাচরিত দোহাই দেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতনস্কেল বিবেচনা করার আগে সর্বাগ্রে তাদের কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করা উচিত। প্রাথমিক শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা চাইলে শুরু হয় সরকারের আর্থিক টানাপোড়ন। অথচ রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি অনেকের কাছে সামান্য বলে মনে হয়! মনে রাখতে হবে, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় অপচয় নয় বরং তা দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ। শিক্ষকদের মর্যাদা ও আপগ্রেড বেতনস্কেল শিগগির বাস্তবায়ন হবে- এ প্রত্যাশাই করছি।
মোঃ সিদ্দিকুর রহমান : প্রাথমিক শিক্ষাবিষয়ক গবেষক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি

মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের বচন সমাচার by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

কতিপয় ব্যতিক্রম বাদ দিলে বাংলাদেশের মন্ত্রী মহোদয়রা কোনো সরকারের আমলেই তাদের বক্তব্য-বিবৃতিতে সুরুচি, শালীনতা, যৌক্তিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় রাখতে পারেননি। সাবেক বিএনপি শাসনামলে জামায়াতের একজন মন্ত্রী জঙ্গিনেতা সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাইকে ‘মিডিয়ার সৃষ্টি’ বলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন। ওই সময় বিএনপির আরও অনেক মন্ত্রী এ ব্যাপারে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য এবং তার ইংরেজি ব্যবহার প্রায়শই নাগরিক সম্প্রদায়ের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি করত। একবার তার ব্যবহৃত একটি বাক্য ‘উই আর লুকিং ফর শত্র“জ’ মন্ত্রীদের বেফাঁস কথাবার্তার আলোচনায় প্রসিদ্ধি পেয়েছিল। তবে বর্তমান মহাজোট সরকার আমলে মন্ত্রীদের হাস্যকর, বেফাঁস ও অপেশাদার কথাবার্তা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ওই বক্তব্যে বিরোধী দলগুলোর হরতালের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আর বসে থাকার সময় নেই। আর কেউ হরতাল করলে তাদের বাড়িতে ঢুকে হত্যা করতে হবে।’ স্বদলীয় নেতাকর্মীদের সহিংস হতে উস্কানি দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত হরতাল করে। আর রাস্তায় শুধু পুলিশ থাকে। আমাদের নেতাকর্মীরা নেতার হুকুমের অপেক্ষায় বসে থাকে। সবকিছুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ লাগবে কেন? যখন গাড়ি-বাড়ি করেন তখন কোথায় থাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।’ সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ‘হরতাল’ পালনকারীদের ঘরে ঢুকে হত্যা করার কথা বলে মন্ত্রী সবাইকে অবাক করে দেন। অনেকে প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৪-১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল, তখন ওই দলের হরতাল পালনকারী নেতাদের ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যা করলে কি আজ তারা মন্ত্রিত্ব করতে পারতেন? মন্ত্রীর আলোচ্য বক্তব্য সর্বমহলে ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়।
মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের অশোভন বক্তব্য দেয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে। প্রথমত, মন্ত্রিসভা গঠনকালে দলীয় সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রিসভার বাইরে রেখে কেবিনেটে অনেক অনভিজ্ঞ নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করে একে ‘চমক সৃষ্টিকারী মন্ত্রিসভা’ আখ্যা দেয়া হয়। রাজনৈতিক দূরদর্শীরা তখনই ভেবেছিলেন, গুরুদের বাদ দিয়ে শিষ্যদের নিয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা কাজকর্ম ও কথাবার্তায় প্রত্যাশিত পেশাদারিত্ব দেখাতে পারবে না। পরবর্তী সময়ে তাদের এ ভাবনা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, এ সরকারের মন্ত্রীদের প্রায় সবাই প্রথম থেকেই অযাচিত ও বেফাঁস কথাবার্তা বলে সমালোচিত হয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পাটমন্ত্রী সংবিধানে প্রদত্ত অধিকার ‘হরতাল’ পালনকারীদের ঘরে ঢুকে হত্যা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে চমক সৃষ্টি করেন। এই মন্ত্রী এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের বেফাঁস উক্তি করেছেন। উল্লেখ্য, সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার প্রথম বছরেই ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভর্তিবাণিজ্য ও অন্যান্য অপকর্মে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতারাসহ অন্য সবাই যখন অতিষ্ঠ সে সময়, ২০১০ সালের ১০ জুলাই, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম আয়োজিত ‘যুদ্ধাপরাধীদের অতি দ্রুত বিচার ও জাতীয় উন্নয়নে বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে এই মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বিগত ৭ বছর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মার খেয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, চক্রান্তকারীরা সংগঠনে ঢুকে নাশকতা চালাচ্ছে। ছাত্রলীগের মতো একটি আদর্শিক সংগঠনের কর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে পারে না।’ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসে উস্কানি দিয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি কর। এটা না করে ওদের (যুদ্ধাপরাধীদের) মারতে পার না?’ মন্ত্রী ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাংবাদিকদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ঘটনার হোতাদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে সাংবাদিকরা ওয়ান-ইলেভেনকে আশীর্বাদ জানিয়েছিল।’ বরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হকের সমালোচনা করতেও মন্ত্রী কুণ্ঠাবোধ না করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি সবার কাছ থেকেই তিনি সুবিধা ভোগ করেন। যুদ্ধাপরাধের বিচারে জামায়াত নেতাদের আইনি সহায়তা দিতেও ব্যারিস্টার রফিক উল হক কুণ্ঠাবোধ করবেন না।’ এ মন্ত্রীর আরও অনেক বেফাঁস বক্তব্য আছে যার উল্লেখ আপাতত স্থগিত রেখে ‘চমক সৃষ্টিকারী মন্ত্রিসভা’র অন্য ক’জন সদস্যের বক্তব্য তুলে ধরা প্রাসঙ্গিক হবে।
খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীন জরুরি সরকারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বিতর্কিত হন। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনের ভালো-মন্দের জন্য প্রশংসা বা নিন্দা করা উচিত নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এই মন্ত্রী নবম সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে জেনারেল মইন ও সেনাবাহিনীকে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেক ভুলভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও জেনারেল মইন উ আহমেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী দেশে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়ে বিরল কাজ সম্পন্ন করেছে।’ খাদ্যমন্ত্রী ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এই উচ্চাভিলাষী জেনারেলকে ‘যুগে যুগে আবির্ভূত মহামানবদের একজন’ বলে অভিহিত করে তাকে আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে তুলনা করেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের বেফাঁস বক্তব্যে রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ নেই। বেশ অবলীলায় তিনি মনের অভ্যন্তরের সত্য কথাগুলো সবার সামনে বলে দেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ তৈরির উদ্যোগ যখন সর্বমহলে নিন্দিত ও সমালোচিত হয় তখন, ২০০৯ সালের ২৯ এপ্রিল, এ মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে খুশি করে বলেন, ‘ভারত আগে টিপাইমুখ ড্যাম চালু করুক। ড্যামের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে কী ধরনের ও কী পরিমাণের ক্ষয়ক্ষতি হয়-সেসব দেখার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানানো হবে কি-না।’ বিশেষজ্ঞসহ সবাই যখন আলোচ্য বাঁধ হলে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে মনে করেন, এ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসে প্রতিবাদ করতে গিয়ে যখন পুলিশের আক্রমণে ছাত্রদের মাথা ফাটে, তখন এ মন্ত্রী এ বিষয়ের একজন বিশেষজ্ঞ না হয়েও ৬ জুলাই, ডাচ পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, ‘পৃথিবীর সব বাঁধই যে ক্ষতিকর তা ঠিক নয়, টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের উপকারেও আসতে পারে।’ লোক নিয়োগের ব্যাপারে সরকারি অস্বচ্ছতাও মন্ত্রীর অকপট স্বীকৃতিতে স্পষ্ট হয়। ২০১০ সালের ১২ মে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে অকপট সত্য উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগে দলীয় লোকজন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পুলিশ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য দলীয় ছেলেমেয়েদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের ব্যাপারে আইন প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কিছুটা আক্রমণাত্মক। রাজনৈতিক নেতাদের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কমিটি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতাদের হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার করলেও বিরোধী দলের একই চরিত্রসম্পন্ন একটি মামলাও কেন প্রত্যাহার করা হল না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের মামলা প্রত্যাহার করতে আমরা চেয়ারে বসেছি নাকি? বিরোধী দলের নেতাদের মামলা বাতিলের জন্য এ কমিটি করা হয়নি। ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সাম্প্রদায়িকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের চর হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জিয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।’ তার এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিব স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান চর হলে পাকিস্তানের কাছে আÍসমর্পণ করে শেখ মুজিবুর রহমান কোন দেশের চর বলে বিবেচিত হবেন?’ প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য সরকারি দলেরও অনেকে সমালোচনা করলেও মন্ত্রী তার অবস্থানে অনড় থেকে আবার একই বছর ১২ আগস্ট বিলিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় একই সুরে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি বাঙালিদের মাঝে পাকিস্তানের চর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।’
মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্যে মহাজোট সরকারের নিয়োগের ব্যাপারে অন্ধ দলীয়করণ নীতি অনুসরণের ব্যাপারটি ধরা পড়ে। মন্ত্রী গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্সে মৎস্য ও পানিসম্পদ তথ্যসেবা জোরদারকরণ কর্মসূচির উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াতের কোনো লোককে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা করা যাবে না। যে কর্মকর্তারা বিএনপি ও জামায়াতের লোককে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেবে তাদের লাল নোটিশ দিয়ে বিদায় করা হবে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অত্যাচার-নির্যাতন করে বাড়িঘর ছাড়া করেছিল। আমার মন্ত্রণালয় থেকে অত্যাচারী-নির্যাতনকারীদের সহায়তা করা চলবে না।’
সিনিয়র মন্ত্রীদের মধ্যে কথায় কথায় ‘স্টুপিড’, ‘বোগাস’ ও ‘রাবিশ’ উচ্চারণে অভ্যস্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও অনেক অনভিপ্রেত বক্তব্য রয়েছে। শেয়ারবাজারের ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অর্থ লুটপাটকারীদের তদন্ত কমিটি করে চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও তাদের শাস্তির ব্যবস্থা না করে মন্ত্রী শেয়ারবাজারকে কখনও ‘দুষ্ট বাজার’, কখনও ‘ফটকা বাজার’ বলে অভিহিত করেন। এ সরকারের আমলে ব্যাংকিং সেক্টরের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় বহুল আলোচিত হলমার্ক কেলেংকারিতে শুধু সোনালী ব্যাংক থেকেই চার সহস্রাধিক কোটি টাকা লুটপাট হলে অর্থমন্ত্রী বিষয়টিকে হালকা করে বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেই। অথচ মাত্র চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে যা প্রচার হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, পুরো ব্যাংকিং খাতেই ধস নেমেছে। এই প্রচারণা ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের বিরোধীদলীয় দাবি যখন দেশের অধিকাংশ মানুষ সমর্থন করছেন তেমন সময়ে, গত ২১ আগস্ট, এ মন্ত্রী সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, ‘বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি খামোখা।’
সরকারের উপদেষ্টারাও যে বক্তব্য-বচনে খুব একটা শালীন তা নয়। বেশি উদাহরণ না দিয়ে এখানে অর্থবিষয়ক উপদেষ্টার ‘ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে বিনিময়ে ফি চাইলে অসভ্যতা হবে’ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টার ‘কমিউনিটি ক্লিনিকে ১৩ হাজার ৩৫০ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে। দলের পরীক্ষিত কর্মী ছাড়া বাইরের কাউকে এ চাকরি দেয়া হবে না।’ এ দুটি উদাহরণই উপদেষ্টাদের বক্তব্যের শালীনতা উপলব্ধির জন্য যথেষ্ট। অন্যান্য মন্ত্রী-উপদেষ্টার বেফাঁস বক্তব্যের উল্লেখ করে প্রবন্ধের কলেবর বাড়াব না।
একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি নির্মাণে ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কাজকর্ম ও কথাবার্তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরকারের পলিসি এবং তাদের কাজের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে হয়। একটি গণতান্ত্রিক সরকার এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করে এসব বিষয়ে অধিকতর পেশাদার কাউকে সরকারি দলের মুখপাত্র নিয়োগ করে তাকে দিয়ে বক্তব্য প্রদান করিয়ে থাকে। তবে মহাজোট সরকার এক্ষেত্রে ন্যূনতম শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। কে যে এ সরকারের মুখপাত্র আর কে যে মুখপাত্র নন, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে এ সরকারের মন্ত্রীরা তাদের ইচ্ছামতো ঢালাওভাবে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যার সঙ্গে অনেকক্ষেত্রেই জনস্বার্থ ও সরকারি নীতির সাদৃশ্য নেই। এ সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামার পেছনে যেসব কারণ সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে এবং করছে, তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সরকারি নীতিবিরোধী, জনস্বার্থবিরোধী, খেয়ালখুশিমতো বেফাঁস ও অযাচিত বক্তব্য প্রদানকে একটি অন্যতম কারণ বিবেচনা করা যায়।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সামিউল থেকে ঐশী, অত:পর by রফিকুজজামান রুমান

সামিউলের কথা আমাদের মনে আছে কি? মনে থাকলে ভালো, আর না থাকলে সে দায় পুরোপুরি আমাদের নয়। মনেরও ধারণ ক্ষমতার একটি সীমা আছে।

পতিতালয়ে বাড়ছে টিনএজ খদ্দের by কাজী সোহাগ

পতিতা পল্লীতে বাড়ছে টিনএজ খদ্দেরের সংখ্যা। প্রতিদিন অন্তত ৬ শতাধিক খদ্দেরই টিনএজ। তাদের বয়স ১৭ থেকে ১৯। এদের মধ্যে বেশির ভাগ ছাত্র।

এফিডেভিট করে নাম বদলাতে চেয়েছিল ঐশী by শর্মী চক্রবর্তী

বাবা আমাকে আর ঐশী নামে ডেকো না। আমার নামটা এফিডেভিট করে বদলে দাও। এ নামটা শুনলে আমার ঘৃণা হয়। সবাই বলে আমি নাকি সেই ঐশীর মতো এমন করবো।

ঐশী খুনি, কিন্তু সুমির দোষ কি? by জিনিয়া জাহিদ

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পরির্দশক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান জোড়াখুনের প্রধান আসামি, তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমান সম্প্রতি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সিরিয়া সরকার রাসায়নিক অস্ত্র হামলায় দায়ী, নিশ্চিত ওবামা

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বাহিনীই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

চট্টগ্রামে পৌছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বিএফ জহরুল হক ঘাঁটিতে পৌছেছেন তিনি।