Sunday, August 8, 2010

স্পেনের ‘ক্লাব বনাম দেশ’ বিতর্ক আবার

বলকে ভয় পেলেন নাকি মেসি!
এশিয়া সফরে থাকা বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা,
গতকাল বেইজিংয়ের অনুশীলনে
ক্লাব বনাম জাতীয় দল—পুরোনো বিভাজন আবারও স্পষ্ট হলো স্পেনে। স্পেনের কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের একটা সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বার্সেলোনা। ১১ আগস্ট মেক্সিকোর বিপক্ষে স্পেনের প্রীতি ম্যাচ। ওই ম্যাচের জন্য বার্সেলোনার সাত খেলোয়াড়কে দলে রেখেছেন দেল বস্ক। এর তিন দিন পর স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগ। সুদূর মেক্সিকোতে ওই ম্যাচ খেলে দীর্ঘ বিমানভ্রমণের ধকল সামলে বার্সার খেলোয়াড়দের সুপার কাপের জন্য পুরো প্রস্তুত না হতে পারাটাই স্বাভাবিক।
নিজেদের চেয়ে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনটাকেই বড় করে দেখিয়ে বার্সার ক্রীড়া পরিচালক আনদোনি জুবিজারেতা বলেছেন, ‘এটা বিরল নেতিবাচক উদাহরণ।’লিগ আর কিংস কাপ—এই দুই চ্যাম্পিয়নকে নিয়ে হয় স্প্যানিশ সুপার কাপ। দুই লেগের এই প্রতিযোগিতা দিয়েই প্রথা অনুযায়ী শুরু হয় নতুন মৌসুম। গতবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ কিংস কাপ চ্যাম্পিয়ন সেভিয়া। ১৪ তারিখ প্রথম লেগ। এর তিন দিন আগে মেক্সিকোর সঙ্গে স্পেনের ওই প্রীতি ম্যাচ। এ বিষয়টি মাথায় রেখে স্পেনের দল ঘোষণা করা উচিত ছিল বলে মনে করে বার্সা।
ক্লাবের ওয়েবসাইটে জুবিজারেতা বলেছেন, ‘এটা ইতিহাসের প্রথম ঘটনা, যেখানে ছুটিতে থাকা খেলোয়াড়দের ডেকে পাঠানো হচ্ছে। মানছি, বার্সার খেলোয়াড়েরা এখন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা বিশ্বকাপ জিতেছে। কিন্তু জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্পে ওরা কোন অবস্থায় যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করা উচিত।’
দেল বস্ক যে সুপার কাপের সূচি জানেন না, এমনও নয়। কিন্তু তাঁর কাছে মনে হয়েছে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের ম্যাচটিতেই দলের শীর্ষ খেলোয়াড়দের না রাখার কোনো যুক্তি হয় না। সত্যি বলতে কি, স্পেনের প্রথম একাদশের সাত খেলোয়াড়ই বার্সেলোনার। এখন ক্লাবের চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে গেলে স্পেন দলটার চেহারাই তো পাল্টে দিতে হয়। দেল বস্ক অবশ্য এও জানিয়েছেন, দল ঘোষণার আগে বার্সার পক্ষ থেকে তাঁর বা ফেডারেশনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তা ছাড়া আগামী মাস থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে ইউরোর বাছাইপর্ব। কোচকে সেই হিসাবটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

মস্কোর আকাশ ছেয়ে গেছে কালো ধোঁয়ায়

মস্কোর কেন্দ্রস্থলে দাবানলের ধোঁয়া
থেকে রক্ষা পেতে নাকে রুমাল চেপে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারী
রাশিয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বলা দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ শতাধিক জায়গা দাবানলে জ্বলছে। রাজধানী মস্কোর আকাশ ছেয়ে গেছে ঘন কালো ধোঁয়ায়। বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। জনজীবনেও দেখা দিয়েছে অস্বস্তি।
মস্কোর আকাশ গতকাল শুক্রবারও ছিল ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢাকা। সেখানে বাতাসে কার্বন মনোঅক্সাইডের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় চার গুণ বেশি। এতে জনসাধারণের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় বাতাসে ছিল আগুনে পোড়া গন্ধ।
মস্কোর ডোমোদেডোভো বিমানবন্দরের মুখপাত্র, ইয়েলিনা গালানোভার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে অন্তত ১৫টি বিমান ওই বন্দরে অবতরণ করতে পারেনি। বিমানগুলোকে অন্য বন্দরে পাঠানো হয়। সব কটি বাণিজ্যিক ও যাত্রীবাহী বিমানকে মস্কোর নিকটবর্তী অন্যান্য বন্দরে অবতরণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অগ্নিনির্বাপক কমিটির অন্তত ১০ হাজার সদস্য দুই সপ্তাহ ধরে এই দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ছোটবেলা থেকেই বন্দুক নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল: কাস্ত্রো

কাস্ত্রো
কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন, কর্তৃপক্ষের অবিচারের বিরুদ্ধে শৈশব থেকে তাঁর লড়াই একসময় তাঁকে বিদ্রোহী ও বিপ্লবীতে পরিণত করে। আত্মজীবনী দ্য স্ট্রাটেজিক ভিক্টরিতে কাস্ত্রো এ কথা লিখেছেন। গত বৃহস্পতিবার কিউবাডিবেটডটকম নামের একটি ওয়েবসাইটে বইটির কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছে।
কাস্ত্রো লিখেছেন, ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার জন্ম হয়নি। তবে আমার সামনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা থেকে অল্প বয়সেই আমি বিশ্বের বাস্তবতা বুঝে ফেলি।’
ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর গত চার বছরে কাস্ত্রোর শরীরে বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। প্রথম দিকে তিনি অনেক অসুস্থ থাকলেও এখন বেশ সুস্থ আছেন। নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আত্মজীবনী দ্য স্ট্রাটেজিক ভিক্টরি-এর প্রথম অংশ লেখা শেষ হয়েছে। তবে এখনো প্রকাশের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। এখন তিনি ব্যস্ত দ্বিতীয় অংশ লেখায়। প্রথম অংশে কাস্ত্রো তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষা এবং বিপ্লবের প্রথম দিনগুলো তুলে ধরেছেন।
কাস্ত্রো তাঁর প্রথম বিদ্রোহের ঘটনা উল্লেখ করে লিখেছেন, তাঁর বয়স তখন ১১ বছর। ক্লাসে এক শিক্ষক তাঁকে মারধর করেছিলেন। এর প্রতিবাদে তিনি ওই শিক্ষকের মুখের ওপর রুটি ছুড়ে মারেন। কাস্ত্রো লিখছেন, ‘আমি তাঁর মুখের ওপর রুটি ছুঁড়ে মারি... এরপর সব শিক্ষার্থীর সামনেই তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারি...।’
কাস্ত্রো জানিয়েছেন, তিনি লেখালেখিতে ভালো ছিলেন। অঙ্কেও ছিলেন ভালো। এ ছাড়া ভালো অ্যাথলেট ছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই বন্দুক নিয়ে তাঁর খুব আগ্রহ ছিল।
তবে প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে কাস্ত্রো তাঁর আত্মজীবনীতে বিস্তারিত কিছুই লেখেননি। শুধু একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু বখাটে তাঁকে হুমকি-ধামকি দেওয়ার পর সৈকতে বান্ধবীর সামনে বসে তিনি কেঁদেছিলেন।
কাস্ত্রো জানিয়েছেন, সেই সময়ে অল্প যে দু-একজন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন, তিনি ছিলেন তাঁদেরই একজন। তিনি লিখেছেন, ‘যেসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি গেরিলা যোদ্ধার পথ বেছে নিয়েছিলাম, তা কখনো ভোলবার নয়।’
কাস্ত্রো বলেন, ‘বিপ্লবের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হলো—১৯৫০-এর দশকে সিয়েরা মাইস্ত্রা এলাকায় আমার নেতৃত্বে মাত্র ৩০০ গেরিলার একটি দলের কাছে ১০ হাজার সেনার পরাজয়।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনা আমাকে আত্মজীবনীর প্রথমাংশ লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।’
কাস্ত্রো জানিয়েছেন, তিনি এখন আত্মজীবনীর দ্বিতীয়াংশ লিখছেন। এতে চূড়ান্ত আক্রমণ ও ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি হাভানায় চূড়ান্ত বিজয়ের বর্ণনা থাকবে।

অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তিনি

ভারতের মন্ত্রী এম কে আলাগিরি
অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ভারতের কেন্দ্রীয় রাসায়নিক সারবিষয়ক মন্ত্রী এম কে আলাগিরি। পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ মাস পর এই প্রথম গত বৃহস্পতিবার তিনি সংসদীয় ভাষায় কথা বলেছেন। আগে থেকে উত্তর তৈরি করে ইংরেজিতে সাংসদদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তবে সম্পূরক কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি। তাঁর হয়ে কনিষ্ঠ মন্ত্রী শ্রীকান্ত জেনা জবাব দিয়েছেন।
এত দেরিতে মন্ত্রীর জবাব দেওয়ার কারণ, পার্লামেন্টের সদস্যরা ভারতের ২২টি ভাষায় মন্ত্রীদের প্রশ্ন করতে পারলেও মন্ত্রীদের জবাব দিতে হবে শুধু হিন্দি বা ইংরেজি ভাষায়। আর স্নাতক পাস করা মন্ত্রী আলাগিরি হিন্দি বা ইংরেজি কোনো ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তিনি তামিল ভাষায় কথা বলতে পারেন।
সমর্থকদের ভাষ্যমতে, পার্লামেন্টে শুধু তাঁর ক্ষেত্রে হিন্দি বা ইংরেজি ভাষায় কথা বলার নিয়ম করে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। সমালোচকদের ভাষ্যমতে, আলাগিরির বাবা এম করুণানিধি তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বাবার প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন।

তালেবানি নির্মমতার শিকার সেই আয়শা এখন

আয়শা
এক আফগান তালেবান জঙ্গির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বিবি আয়শার (১৮)। কিন্তু সুখ হয়নি সংসারে। দিন-রাত খাটাখাটনি তো ছিলই, তার পরও চলত শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে পালান তিনি। কিন্তু পিছু নিয়ে স্বামী তাঁকে পাকড়াও করেন। শাস্তি হিসেবে কেটে দেন তাঁর নাক-কান। এভাবে অঙ্গহানির মাধ্যমে তাঁর চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়।
২০০৯ সালে এই নির্মম ঘটনার শিকার হন আয়শা। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে নাক-কানের আদল ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তিনি। প্রসিদ্ধ সাময়িকী টাইম-এর ৯ আগস্ট সংখ্যার প্রচ্ছদে আয়শার নাকহীন ছবি ছাপা হয়েছে। আয়শা লিখতে-পড়তে জানেন না। টাইম সাময়িকীর নামও শোনেননি কখনো। তাঁকে নিয়ে এতে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় তাঁর কী উপকারে আসবে, তাও অনুধাবন করার কোনো ক্ষমতা নেই তাঁর।
যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে স্বদেশে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ ১০ মাস ছিলেন আয়শা। সাময়িকীতে ছবি ছাপা হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এতে অন্য কোনো নারীর উপকার হবে কি হবে না, তা জানি না। তবে আমি আমার নাক-কান ফিরে পেতে চাই।’
ঘটনার শুরু আরও আগে। আয়শার বয়স তখন ১২ বছর। ছোট বোনের বয়স আরও কম। আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে এক তালেবান জঙ্গির পরিবারের কাছে এই দুই বোনকে হস্তান্তর করেন তাঁদের বাবা। সেখানকার আদিবাসী সমাজে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী একটি বিরোধ মেটাতেই এ ব্যবস্থা। স্থানীয় ভাষায়, এই বিরোধ ‘বাদ’ নামে পরিচিত। আয়শার এক চাচা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। এই রক্তঋণ শোধ করতে আয়শার বাবা দুই মেয়েকে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন।
কিশোরী বয়সে আয়শার বিয়ে হয় ওই জঙ্গির সঙ্গে। জঙ্গি হওয়ায় স্বামীকে বেশির ভাগ সময় পালিয়ে থাকতে হয়। এদিকে শ্বশুরবাড়িতে আয়শা ও তাঁর বোনের খাটতে খাটতে প্রাণ ওষ্ঠাগত। চাচার কৃতকর্মের জন্য দুই বোনকে বেদম পিটুনি দিত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে আয়শা পালান সেখান থেকে। কিন্তু স্বামী তাঁকে ধাওয়া করে কান্দাহার থেকে পাকড়াও করেন।
আফগানিস্তানের পশতুন সমাজে স্ত্রীর কারণে কোনো স্বামী লজ্জা পেলে নাক-কাটা গেছে বলে তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়। আয়শা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সেই অপবাদ এসে পড়ে স্বামীর গায়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীর নাক ও কান কেটে দেন তিনি। মার্কিন সাহায্যকর্মীরা আয়েশাকে কাবুলে আফগান-আমেরিকান সংস্থা ‘উইমেন ফর আফগান উইমেন’-এর আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যান।
টাইম সাময়িকীর প্রচ্ছদে আয়শার ছবির সঙ্গে যে কথাটি রয়েছে, তা হলো ‘আমরা আফগানিস্তান ছাড়লে কী ঘটবে।’ এতে আভাস দেওয়া হয়েছে, এখনই যে অবস্থা, দেশটি ত্যাগ করলে না জানি কী ঘটবে!
উইমেন ফর আফগান উইমেনের কর্মকর্তা মনিজা নাদেরি বলেন, দেশটি ত্যাগ করলে কী ঘটবে তা লোকজনের দেখা ও জানা প্রয়োজন।
তবে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করেন, তাঁরা বলছেন, এটি হচ্ছে আবেগকে পুঁজি করে জোর করে সেখানে থেকে যাওয়ার চেষ্টা।

রফিকুলরা থাকছেন বিশ্বকাপ পর্যন্তই!

তিন মাসের জন্য নয়, জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক কমিটিকে দায়িত্বে রাখা হতে পারে ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্তই। গত পরশু রাতের আলোচনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির কাছ থেকে এমন আশ্বাসই পেয়েছেন নির্বাচকেরা।
রফিকুল আলমের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির তিন মাসের দায়িত্ব দেওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অসন্তোষ প্রকাশ করেন নির্বাচকেরাও। এ পরিস্থিতিতে গত পরশু রাতে তিন নির্বাচকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল ও ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সভায় নির্বাচকদের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে বোর্ড সভাপতি আশ্বস্ত করেছেন, আপাতত নির্বাচক কমিটিতে পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং শিগগিরই নতুন চুক্তিতে আনা হবে বর্তমান নির্বাচক কমিটিকে। এ ব্যাপারে জানতে নির্বাচকদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি কাউকেই।
সভায় আলোচনা হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি নিয়েও। জাতীয় দলের কোচ জেমি সিডন্স এখন ছুটিতে। সিডন্স ফিরলে ২০ আগস্ট থেকে শুরু হতে পারে জাতীয় দলের ক্যাম্প। তার আগেই হয়তো দলের সঙ্গে যোগ দেবেন নতুন বোলিং ও ফিল্ডিং কোচ।

দিল্লি গেমস নিয়ে কেলেঙ্কারি

চীনের কাছে ভারত মুখ দেখাবে কী করে! যে চীনের সঙ্গে ভারতের সবকিছু নিয়ে প্রতিযোগিতা; একটা গেমস আয়োজন করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে তাদের। বেইজিং অলিম্পিক নিয়ে সবার মুখে এখনো প্রশংসা। আর কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করতে গিয়ে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা দিল্লির।
কমনওয়েলথ গেমসের সর্বশেষ কেলেঙ্কারি—দুর্নীতির দায়ে পদত্যাগ করেছেন গেমস আয়োজক কমিটির কোষাধ্যক্ষ অনিল খান্না। খান্নার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি করে ছেলেকে টেনিস টার্ফ বসানোর ঠিকাদারি পাইয়ে দিয়েছিলেন।
এর আগে গত পরশু এক দিনে আয়োজক কমিটির তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে আর্থিক অনিয়মের দায়ে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা এরই মধ্যে গেমসের অন্তত ১৬টি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছেন।
দুর্নীতির এই জাল তো আছেই, দিল্লি কমনওয়েলথ গেমস আরও অনেক জালে জড়িয়ে পড়ছে। এর আগে দুবার এশিয়ান গেমস আয়োজন করলেও কমনওয়েলথ গেমস এই প্রথম আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত।
ভারতের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী বা যে সাংগঠনিক দক্ষতা আছে, তাতে পরীক্ষাটা সহজেই পার হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কাজের বেলায় দেখা যাচ্ছে বিস্তর সমস্যা। ভেন্যুগুলোর নির্মাণ বা সংস্কারকাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে।
কিছুদিন ধরে ভারতীয় পত্রিকাগুলো এবং সে দেশের টেলিভিশনগুলো গেমস আয়োজন নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করছে। বাইচুং ভুটিয়ার মতো অনেক ক্রীড়াবিদ বলছেন, ভারতের জন্য এই গেমস একটা লজ্জার নাম হয়ে যেতে পারে।
তার পরও ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন না আয়োজক কমিটির কর্তারা। আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান রণধীর সিং বলছেন, ‘অবশ্যই এটা খুব ভালো পরিস্থিতি নয়, তবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আমরা অতিরিক্ত কাজ করে যাচ্ছি

টিটিতে বারবার এক পাকিস্তানি কোচ

চার বছর আগে নড়াইলে একটি সলিডারিটি কোর্স দিয়ে বাংলাদেশে কোচিংয়ের শুরু আরিফ খানের। পাকিস্তানি এই টেবিল টেনিস কোচ সেই থেকে টিটি শেখাতে বারবার আসছেন বাংলাদেশে!
উদীয়মান খেলোয়াড়দের মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো, টেকনিকগুলো হাতে-কলমে ধরিয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে যাতে তাঁরা আরও উন্নতি করতে পারেন সে ব্যাপারে শিক্ষা দেওয়া—এটাই ওই কোচিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বছরে দু-একবার করে এসে মাসখানেকের এই কোচিংয়ে আদৌ কি খেলোয়াড়দের কোনো উন্নতি হয়? এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যেই।
জাতীয় দলের খেলোয়াড় মাহবুব বিল্লাহ জানান, ‘সাড়ে সাত লাখ টাকা খরচ করে এমন কোচ আনার কোনো যুক্তি দেখি না। এতে মোটেও কোনো উপকার পাচ্ছি না।’ গত জুলাইয়ে সর্বশেষ চতুর্থবারের মতো কোচিং করিয়ে গেছেন পাকিস্তানের এই সাবেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড়। প্রশিক্ষণের জন্য বারবার কেন আরিফ খানকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে? বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আরিফ খান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের (আনু) বন্ধুর ছেলে। এ জন্যই নাকি তাঁকে আনা হচ্ছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে শামসুল আলমের সঙ্গে টেলিফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তাঁকে বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন থেকে কল করলেও তিনি ধরেননি। তবে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান (সাদী) বিষয়টি অস্বীকার করে বললেন, ‘এটা সত্যি নয়, উনি আমাদের বন্ধুর মতো। আমরা একসঙ্গে খেলেছি তাঁর সঙ্গে।’
বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানের টেনিসের মান বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ। তাহলে কেন পাকিস্তান থেকেই বারবার কোচ আনতে হবে? এ ব্যাপারে সাদীর উত্তর, ‘এই কোচের তত্ত্বাবধানে ছেলেরা উন্নতি করেছে। উনি আইটিটিএফ (আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশন) অনুমোদিত কোচ। আর এসবের বিরুদ্ধে যারা বিভিন্ন কথা ছড়াচ্ছে তারা সুবিধাবাদী লোক। যখন ফেডারেশন থেকে কোনো সুবিধা না পায় তখনই তারা এমন অভিযোগ করে।’
এর আগে দক্ষিণ এশীয় গেমসের সময় চীনা কোচ আনা হলে তাঁকে রাখা হয়েছিল মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজের ডরমিটরিতে। তাতে অর্থেরও কিছু সাশ্রয় হয়েছিল। কিন্তু যতবারই আরিফ খান এসেছেন, তাঁকে রাখা হয়েছে ঢাকার তিন তারকা মানের হোটেলে। এসব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খেলোয়াড়েরা। চাইলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কম খরচে এর চেয়ে অনেক ভালো কোচ আনা যায় বলে মনে করেন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মাহবুব বিল্লাহ। আরেকটা লাভ হবে তাতে, বাংলা ভাষাভাষী বলে খেলোয়াড়েরাও বেশি নৈকট্য বোধ করবেন। তবে আরিফ খানকে খুব বেশি টাকা দেওয়া হয় না বলেই জানালেন সাদী, ‘আমাদের তো মাসে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আরিফ খানকে দিই মাত্র দেড় হাজার ডলার।’ তাঁর কোচিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাকে বোকামি হিসেবে দেখছেন সাদী, ‘উনি দুবার সাফ গেমসে সোনা জিতেছেন। তাঁর কোচিংয়ের পদ্ধতিও অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো। ছেলেরা তো দেখছি দারুণ উন্নতি করছে।’ উদীয়মান খেলোয়াড়দের একজন রিমনও বললেন সেটাই, ‘আরিফ খান আমার দেখা অন্যতম সেরা একজন কোচ। তাঁর তত্ত্বাবধানে আমরা অনেক ভালো করছি।’ কিন্তু রিমনদের মতো হাতেগোনা কয়েকজনকে নিয়েই বারবার কোচিং করাচ্ছে ফেডারেশন। জাতীয় দলের আরেক খেলোয়াড় রকির অভিযোগ এটা নিয়েই, ‘আমাদের ওই কোচিংয়ে রাখা হয় না। কেন, সেটা ফেডারেশনই ভালো বলতে পারবে। আমার তো মনে হয়, আমাদেরও অনেক কিছু শেখার আছে।’

ক্লাপার: নয়া গোয়েন্দাপ্রধান

মার্কিন সিনেট গতকাল শুক্রবার সর্বসম্মতভাবে সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান হিসেবে লে. জেনারেল (অব.) জেমস ক্লাপারের নিয়োগ অনুমোদন করেছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে এ পদে মনোনয়ন দেন। এখন থেকে তিনি আমেরিকানস ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বান কি মুনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের বিরুদ্ধে লিঙ্গ ও জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন একজন আইনজীবী। জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বান কি মুন এ বৈষম্য করেছেন বলে রবার্ট অ্যাপলটন নামের ওই আইনজীবী জানিয়েছেন।
মার্কিন আইনজীবী অ্যাপলটন জাতিসংঘের অফিস অব ইন্টারনাল সার্ভিসেসের (ওআইওএস) তদন্ত বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ না পেয়ে মুনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লাখ ডলার এবং বেতন বাবদ পাঁচ লাখ ডলারের মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জাতিসংঘের ডিসপিউট ট্রাইব্যুনালের কাছে ৭৬ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন অ্যাপলটন।

পদত্যাগ করছেন ওবামার অর্থনৈতিক শীর্ষ উপদেষ্টা

মার্কিন অর্থনীতিকে মন্দা থেকে উদ্ধারে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানের মূল উদ্যোক্তা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অন্যতম মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ক্রিস্টিনা ডি রোমার আগামী মাসে পদত্যাগ করবেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে এ কথা জানানো হয়। হোয়াইট হাউস কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজারসের চেয়ারপারসন রোমার বলেন, এই পদে দায়িত্ব পালন তাঁর জীবনের সেরা সম্মান। তবে তাঁর ছেলে হাইস্কুলে যেতে শুরু করায় তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ফিরতে চান। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, রোমার আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

জাপানি ট্যাংকারে সন্ত্রাসী হামলা

জাপানের একটি তেল ট্যাংকারে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ওমানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে গত বুধবার এ হামলা চালানো হয়। এতে একজন আহত হন এবং জাহাজটিতে ছিদ্র হয়ে যায়। আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি জঙ্গি সংগঠন হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বার্তা সংস্থা ওয়াম শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, এম স্টার নামের ৩৩৩ মিটার লম্বা তেল ট্যাংকারটি কাতার থেকে জাপান যাওয়ার পথে হামলাটি চালানো হয়। হামলায় একজন নাবিক আহত হয়েছেন।
আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গিগোষ্ঠী আবদুল্লাহ আজম ব্রিগেড গত বুধবার জানিয়েছে, মুসলমানদের সম্পদ রক্ষার জন্য তাদের একজন আত্মঘাতী যোদ্ধা ওই হামলা চালিয়েছেন।

উইকিলিকসের কাছে নথিপত্র চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আফগান যুদ্ধ নিয়ে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘গোপন তথ্য’ ফাঁসসংক্রান্ত সব নথিপত্র চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভবিষ্যতে এমন আর কোনো তথ্য ফাঁস না করার জন্য উইকিলিকসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি এ ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জিওফ মোরেল উইকিলিকসের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। জিওফ মোরেল বলেন, উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গোপন তথ্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এখন উইকিলিকসকেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। সংস্থাটিকে গোপন তথ্য ফাঁসসংক্রান্ত নথিপত্রের সব ধরনের প্রকাশনা মার্কিন সরকারকে দিতে হবে। এ ছাড়া সংস্থাটির ওয়েবসাইট, কম্পিউটার ও সব ধরনের রেকর্ড থেকে এসব তথ্য মুছে ফেলতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এসব তথ্য প্রকাশের ফলে মার্কিন সেনা, বিশ্বে আমাদের মিত্র, আফগানিস্তানের নাগরিক—যারা বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন, তাঁদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
পেন্টাগনের মতে, উইকিলিকসের কাছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন তথ্যের আরও ১৫ হাজার নথিপত্র আছে। এসব নিয়ে তারা শঙ্কিত। এদিকে উইকিলিকসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল স্মিট জানান, তাদের হাতে থাকা ১৫ হাজার নথিপত্র পর্যালোচনার জন্য পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যাতে ‘সংশোধন’ করে নিরাপদে এসব তথ্য প্রকাশ করা যায়। তবে পেন্টাগন গত বুধবার জানায়, তারা উইকিলিকসের কাছ থেকে এমন কোনো অনুরোধ পায়নি।

পাকিস্তানে বন্যায় ৪৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত ৪৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন। ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে স্বল্প ত্রাণ নিয়ে তাঁদের রীতিমতো বিপাকে পড়তে হবে।
জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক সমন্বয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ইলেন পনোমারেভা জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন তিন লাখ করে বাড়ছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বন্যায় দুই লাখ ৫২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। হেলিকপ্টারের সাহায্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়ও ত্রাণ পৌঁছানো শুরু করেছেন সেনাসদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যরা চিনুক হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ তৎপরতা শুরুর অপেক্ষায় আছেন। আবহাওয়া ভালো হলেই সোয়াত উপত্যকায় তাঁরা ত্রাণ তৎপরতা শুরু করবেন।
প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পাঞ্জাবে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একজন কর্মকর্তা সার্বিক অবস্থাকে মহাবিপর্যয়কর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সিন্ধু কর্তৃপক্ষ বন্যার আশঙ্কায় নিম্নাঞ্চল থেকে দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে।

ইরাককে নেকড়ের মুখে ফেলে ভাগছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকের সাবেক সাদ্দাম সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারিক আজিজ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে নেকড়ের মুখে ঠেলে দিয়ে ভেগে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সত্ত্বেও ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে কারাবন্দী তারিক আজিজ গার্ডিয়ান পত্রিকাকে এ কথা বলেন। সাত বছর আগে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর কোনো সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এটাই তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৩১ আগস্ট ইরাক থেকে কম্ব্যাট ফোর্স প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন।
তারিক আজিজ বলেন, ‘আমরা সবাই যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের শিকার। তারা নানাভাবে আমাদের দেশটাকে ধ্বংস করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ভুল করলে তা শোধরাতে হয়। এ কারণে ইরাককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চলে আসা উচিত হবে না।’
আজিজ মন্তব্য করেন, ৩০ বছর ধরে সাদ্দাম ইরাককে গড়ে তুলেছিলেন, তা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরাকে ক্ষুধার্ত ও দুস্থ মানুষের সংখ্যা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। মানুষ কাজ পাচ্ছে না। দিনে ১০০ জন না হলেও জনা দশেক করে মানুষ খুন হচ্ছে।
ওবামার ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমি আশান্বিত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, ওবামা বুশের ভুলগুলো সংশোধন করবেন। কিন্তু ওবামাও ভণ্ড। তিনি এখন নেকড়ের মুখে ইরাককে ফেলে ভেগে যাচ্ছেন।’
ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তারেক আজিজ বলেন, সাদ্দামের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তাঁর মতে, ইতিহাসই সাদ্দাম হোসেনকে সত্যের আলোয় তুলে ধরবে।
সাদ্দাম সরকারের পতনের পর তারিক আজিজকে মাকির্ন বাহিনী আটক করে। গত মাসে মার্কিন বাহিনী তাঁকে ইরাকি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। ইতিমধ্যে তাঁর দুটি মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

হিরোশিমার অনুষ্ঠানে এবার জাতিসংঘ যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স

পরমাণু বোমামুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জাপানের হিরোশিমা শহর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ৭০টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আণবিক বোমা হামলার ৬৫তম বার্ষিকী পালন করেছে। হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা হাজির হয়ে পরমাণু বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের প্রধান বিরোধী শক্তি ও হিরোশিমায় বোমা বর্ষণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় এবারের অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৪৬ সালের ৬ আগস্ট সকাল সোয়া আটটায় যুক্তরাষ্ট্রের এনোলা গে নামের একটি বি-২৯ যুদ্ধবিমান হিরোশিমায় চার টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ একটি আণবিক বোমা ফেলে। ‘লিটল বয়’ নামের ওই বোমার বিস্ফোরণে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো হিরোশিমা নরককুণ্ডে পরিণত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে মারা যায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ। বিস্ফোরণস্থলের চারপাশের এক মাইল এলাকার একটি মানুষও জীবিত ছিল না। এ ঘটনার তিন দিন পরে জাপানের আরেক শহর নাগাসাকিতে একই ধরনের আরও একটি আণবিক বোমা হামলা হয়। সেখানে মারা যায় ৭০ হাজার মানুষ। ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর থেকে প্রতিবছরের এই দিনে হিরোশিমায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি সত্ত্বেও আণবিক বোমা ফেলে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ বছর হিরোশিমার স্মরণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার অন্যতম মিত্র দেশ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা যোগ দেওয়ায় দেশগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে জাপান।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতকাল পিস পার্কে উপস্থিত সবাই সকাল সোয়া আটটায় এক মিনিট নীরবতা পালন করে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে টোকিওতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন রুস সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বান কি মুন বলেন, তিনিই জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব, যিনি হিরোশিমার স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন এবং এ কারণে তিনি নিজেকে সম্মানিত মনে করছেন।

কাশ্মীরে আকস্মিক বন্যায় ৮৮ জনের মৃত্যু

ভারতশাসিত কাশ্মীরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় লাদাখ অঞ্চলের লে শহরসহ আশপাশের ১২টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এতে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী। মৃতের মধ্যে চারজন সেনাও রয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। আটকে পড়েছেন অন্তত এক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জে এস ব্রারার জানিয়েছেন, তিনটি গ্রাম পুরোপুরি ভেসে গেছে। ছয় হাজার জওয়ান ইতিমধ্যে নেমে পড়েছেন উদ্ধারকাজে। উদ্ধার করা হয়েছে দুর্যোগের মধ্যে আটকে পড়া ৫০ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে। এ ছাড়া আরও প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জন্মুকাশ্মীরের পুলিশের মহাপরিচালক কুলদীপ খুদা জানান, সেনা, আধা-সেনা এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ সরবরাহের কাজ করছে। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টারও। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
জানা গেছে, লে’র সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে কার্গিলের একটি ব্রিজ। মানালি-লে জাতীয় সড়কে প্রচণ্ড ধস নামায় লে’র সঙ্গে মানালির যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বন্যায় হাসপাতাল, সেনাছাউনি, সিআরপিএফ, বিএসএফ ও ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) ক্যাম্প, পলিটেকনিক কলেজ ও বিএসএনএলের সদর দপ্তরসহ অনেক প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে লে বিমানবন্দর।
লে শহর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ৫২৪ মিটার উঁচুতে এবং কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৪২৪ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের ওপর অবস্থিত।

‘পাকিস্তান ও ব্রিটেনের বন্ধুত্ব কখনো ভাঙবে না’

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, ‘যা কিছু ঘটুক না কেন, পাকিস্তান ও ব্রিটেনের বন্ধুত্ব কখনো ভাঙবে না। ঝড় আসবে ঝড় যাবে, দুই দেশ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে মর্যাদার সঙ্গে সব বাধার মোকাবিলা করবে। এই বিশ্ব যে অধিকতর নিরাপদ স্থান, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা তা নিশ্চিত করব।’
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর গতকাল শুক্রবার জারদারি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বাকিংহামশায়ারের সরকারি ভবন চেকার্সে জারদারি ও ক্যামেরনের মধ্যে এই আলোচনা হয়। আলোচনার পর দুই নেতা যৌথ বিবৃতি দেন।
আলোচনাকালে ক্যামেরন ও জারদারি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হন। পাকিস্তান নিয়ে ক্যামেরনের এক বিরূপ মন্তব্যের জেরে দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। দুই নেতার বৈঠকে এই উত্তেজনার অবসান ঘটে। তাঁরা পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছান।
জারদারি বলেন, ‘বন্যাদুর্গত পাকিস্তানে সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি এমন এক সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে আছি, যেখানে বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানকে সমর্থন দেবে ব্রিটেন।’ তিনি বলেন, ক্যামেরন তাঁকে বলেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাকিস্তানের প্রবেশ ঘটাতে তিনি চেষ্টা চালাবেন।
ক্যামেরন বলেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ব্রিটেন ও পাকিস্তানের মধ্যে যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, এ ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি। সর্বোপরি আমাদের কৌশলগত অংশীদারি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। বাণিজ্য, শিক্ষা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইসহ যেসব বিষয়ে আমরা অগ্রগতি চাই, তা নিশ্চিত করতে এই আলোচনা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়তে চাই।’
দুই নেতার আলোচনায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ক্যামেরন বলেন, নিরাপত্তা ও নীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতার উন্নয়নে তিনি আরও বেশি কাজ করবেন।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুই দেশের মধ্যে একটি বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন হবে। ক্যামেরনকে পাকিস্তান সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। শিগগিরই ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে পাকিস্তান সফর করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হুমকি পাকিস্তানের আল-কায়েদা

যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের আল-কায়েদা গোষ্ঠী এবং ইয়েমেন ও আফ্রিকায় তাদের সহযোগীরাই নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সরকারের বার্ষিক সন্ত্রাসবাদবিষয়ক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে আল-কায়েদা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীটি প্রমাণ করেছে পরিস্থিতির সঙ্গে তাদের মানিয়ে নেওয়ার এবং আঘাত প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রয়েছে। আল-কায়েদার ঘাঁটি হিসেবে পাকিস্তান ও ইয়েমেনকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানকার আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নাগরিকদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নিরাপদ ঘাঁটিতে অবস্থান করে আফগানিস্তানে তালেবান নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ ও তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করছে আল-কায়েদা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবাদবিরোধী শাখার সমন্বয়ক ড্যানিয়েল বেঞ্জামিন বলেন, ২০০৯ সালে পাকিস্তানে আল-কায়েদার মূল অংশই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হুমকি ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদকে সবচেয়ে বেশি মদদদানকারী দেশ হিসেবে গতবারের মতো এবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইরান। তবে গত পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা কমেছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশ হিসেবে কিউবা, সিরিয়া ও সুদানের অবস্থানও অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে ১০ হাজার ৯৯৯টি সন্ত্রাসী হামলায় ১৪ হাজার ৯৭১ জন নিহত হয়েছে। ২০০৬ সালের তুলনায় হামলা ও প্রাণহানির সংখ্যা কমেছে যথাক্রমে ছয় ও পাঁচ শতাংশ। পাকিস্তানি আল-কায়েদার নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ইয়েমেনের আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএবি), সোমালিয়ার আল-শাবাব ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে তৎপর আল-কায়েদা ইন দ্য ইসলামিক মাগরেবকে (একিউআইএম) বিশেষ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌশক্তির আধিপত্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তাদের বিশাল সব জঙ্গি বিমানবাহী রণতরী। এসব রণতরী থেকে উড়ে গিয়ে জঙ্গি বিমান ভূভাগের অনেক গভীরে ঢুকে হামলা চালাতে সক্ষম। অজেয় এই রণতরীগুলোর বদৌলতেই যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে সমুদ্রে তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেই আধিপত্যের দিন বদলে যেতে পারে। আর সেটা হতে পারে চীনের হাতেই। চীনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র জলভাগে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য খর্ব করে দিতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র।
ডং ফেং ২১ডি নামের নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র চীন তৈরি করছে সাগরে শত্রুপক্ষের রণতরী ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে। ভূমি থেকে নিক্ষেপণযোগ্য এ ক্ষেপণান্ত্র সাগরে ভাসমান বা চলমান রণতরীতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। দেড় হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এটি আঘাত হানতে পারবে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চীন এই ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা চালাতে পারবে। তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য সব দিক দিয়ে এটিকে সক্ষম করে তুলতে আরও কত দিন লাগতে পারে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
গত বছর সামরিক মহড়ার সময় নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছিল চীন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্যে চীনের ভূমিকায় বড় ধরনের বিপ্লব আনতে পারে এই অস্ত্র। একই সঙ্গে তাইওয়ান বা উত্তর কোরিয়া নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সক্ষমতা চরমভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। চীনের ১৮ হাজার কিলোমিটার উপকূলসংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশও হুমকির মুখে ফেলতে পারে চীনের নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র।
যদিও তাত্ত্বিকভাবে একটি পারমাণবিক বোমা সহজেই একটি রণতরী ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের আগে যেকোনো দেশকে হাজারটা বিষয় চিন্তা করতে হবে। তার থেকে বরং এ ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই ব্যবহার করা যাবে।
গত দুই দশক ধরে প্রতিবছরই চীন তাদের সামরিক বাজেট বাড়াচ্ছে। চীনা নৌবাহিনী এখন এশিয়ার সবচেয়ে বড় নৌশক্তি। তাইওয়ানকে পুনরায় দখলে নেওয়ার ধারাবাহিক চেষ্টার পাশাপাশি তারা এখন প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির এশিয়া প্যাসিফিক সিকিউরিটি প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক প্যাট্রিক ক্রেনিন বলেন, ‘চীনের রণতরী বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বিশেষ করে ডং ফেং ২১ডি স্নায়ুযুদ্ধের পর আমাদের নৌশক্তির বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো হুমকি। ডং ফেং ২১ডি ক্ষেপণাস্ত্র সে উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে।’
নতুন কোনো অস্ত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে চীন সাধারণত তা নিয়ে মুখ খোলে না। ডং ফেং ২১ডি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও চীন এখনো কোনো কথা বলেনি এবং এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো জবাব দেয়নি।
পীত সাগর এবং পূর্ব চীন বা দক্ষিণ চীন সাগরে কখনো দক্ষিণ কোরিয়া, কখনো বা তাইওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক বড় বড় সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। বরাবরই এর বিরোধিতা করে আসছে চীন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাতে কান দেয় না। চীনের উত্তর-পূর্ব উপকূলে পীত সাগরে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি বড় নৌমহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যোগ দিয়েছিল মার্কিন রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। ওই রণতরী থেকে মার্কিন জঙ্গি বিমান এফ-১৮-এর আওতায় ছিল বেইজিং। এ নিয়ে চীন বেশ উদ্বিগ্নও এবং আপত্তিও তুলেছিল। কিন্ত কান দেয় কে।
চীন যদি সফলভাবে ডং ফেং ২১ডি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে তাহলে নিশ্চয় যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিতে পরিবর্তন আসবে।

মরিনহোর তিন সৈনিক

রাউল গঞ্জালেস চলে গেছেন। চলে গেছেন পুরোনো সৈনিক হোসে মারিয়া গুতিয়েরেজও। রিয়াল মাদ্রিদের আরেকটা যুগ তাহলে শেষ হয়ে গেল? তা হোক। শেষ হয়ে যাওয়া যুগের বন্দনা চলতে পারে। তাই বলে পুরোনো দিনে পড়ে থাকার লোক হোসে মরিনহো নন। পুরোনোদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই রিয়ালের পর্তুগিজ কোচ বলছেন, হিগুয়েইন-রোনালদো-বেনজেমারা নতুন যুগে নিয়ে যাবেন মাদ্রিদের ক্লাবটিকে।
মৌসুম শুরুর আগেই চলে যাওয়া দুই সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব নেই দুনিয়ার অন্যতম সফল ও কৌশলী কোচ মরিনহোর, ‘রাউল আর গুতি এই ক্লাবের জন্য তো অনেক কিছু করেছে। বরং আমিই কিছু করিনি এখনো। তাই আমি ওদের শ্রদ্ধা করি। রাউল এখানে আরও কিছুদিন থাকলে ভালোই লাগত।’
সেটা হয়নি। এখন মরিনহো তাঁর ‘ভবিষ্যতের তারকাদের’ দিকেই তাকাচ্ছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ এখন বেনজেমা, হিগুয়েইন আর রোনালদোর পায়ে।’ এ তিনজনের যোগ্যতা নিয়ে কারোরই কোনো সংশয় নেই। বেনজেমা এখনো শরীর থেকে ‘নবাগত’ গন্ধটা
পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলতে পারেননি। তবে ক্লাব ফুটবলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে ফেলেছেন রোনালদো; হিগুয়েইনও।
গত মৌসুমেও রিয়ালের হয়ে ৩৯ ম্যাচে ২৯ গোল করেছিলেন; লা লিগায় ২৭ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। কিন্তু আসল জায়গায় শূন্য—সেই ২০০৭-০৮ মৌসুমের পর রিয়ালও কিছু জেতেনি, হিগুয়েইনরাও মুখ কালো করে মৌসুম শেষ করেছেন।
আর মুখ কালো রাখতে চান না হিগুয়েইন। চলতি মৌসুমেই সব হতাশা কাটিয়ে ট্রফি দিয়ে ভরে ফেলতে চান রিয়ালের শো-কেস, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০১০-১১ মৌসুমে তিনটি ট্রফিই জেতা। এ বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারলে দারুণ ব্যাপার হবে। অন্য যে কারও চেয়ে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগ বেশিবার জিতেছি। এবার আশা করছি, দশমটা জিততে পারব।’
দলের হয়ে এই লক্ষ্য তো আছেই। নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্যটাও ঠিক করে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এ মৌসুমে আরও বেশি গোল করতে চাই। এতে দলও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। গত মৌসুমে অনেকগুলো গোল করেছিলাম। এবার আরও বেশি করতে পারলে ভালো।’

মাদক নিতে উৎসাহ দিতেন আর্মস্ট্রং!

ল্যান্স আর্মস্ট্রং নামটা বিস্ময় আর ভক্তির প্রতীকই ছিল। কিন্তু নামটার সঙ্গে বিতর্ক শব্দটাও কিছুদিন ধরে জড়িয়ে গেছে। ক্যানসার জয় করে ফিরে সাইক্লিংয়ের কিংবদন্তি হয়ে ওঠা আর্মস্ট্রংয়ের বিরুদ্ধে মাদক নেওয়া-সংক্রান্ত তদন্ত চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই।
এবার জানা গেল, সেই তদন্তের শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাইক্লিস্টের বিপক্ষে কথা বলে এসেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর এক সাবেক সতীর্থ। এই সতীর্থ নাকি বলেছেন, আর্মস্ট্রং শুধু নিজেই নিষিদ্ধ মাদক নিতেন না, অন্যদেরও তা নিতে উৎসাহ দিতেন।
১৯৯৬ সালে আর্মস্ট্রংয়ের মস্তিষ্ক, ফুসফুস, তলপেট ও প্রজননতন্ত্রে ক্যানসার ধরা পড়ে। কিন্তু দুনিয়াকে হতবাক করে দিয়ে ট্র্যাকে ফেরেন আর্মস্ট্রং। শুধু ট্র্যাকেই ফেরেননি, ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত টানা সাতবার বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’ জিতে বিশ্ব রেকর্ডও করেছেন।
গল্পটা এখানে থেমে গেলে স্রেফ রূপকথা বলে চালিয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু আর্মস্ট্রংয়ের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী ও ২০০৬ সালের ‘ট্যুর ডি ফ্রান্সের’ চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লয়েড ল্যান্ডিস আর্মস্ট্রংয়ের বিরুদ্ধে ডোপ পাপের অভিযোগ তোলেন। মনে রাখা দরকার, এই ল্যান্ডিস নিজেই ডোপ পাপে নিষিদ্ধ হয়ে ‘ট্যুর ডি ফ্রান্সের’ শিরোপা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তার পরও ল্যান্ডিসের অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে জেফ নভিতজকির নেতৃত্বে আর্মস্ট্রংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই নভিতজকি বিখ্যাত ‘বালকো কেলেঙ্কারি’র সফল তদন্তকারী ছিলেন।
এখন তদন্তকারীরা আর্মস্ট্রংয়ের বিভিন্ন সাবেক সতীর্থর সাক্ষ্য নিচ্ছেন। যাঁর অনেকেই তাঁর সঙ্গে ‘ইউএস পোস্টাল টিম’-এর হয়ে খেলেছেন। এঁদেরই নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সতীর্থ বলছেন, আর্মস্ট্রং জেনেশুনে মাদক নিয়ে লোক ঠকিয়েছেন। এবং তাঁদেরও মাদক নিতে উৎসাহিত করেছেন।
ক্যারিয়ারে কখনোই মাদক পরীক্ষায় দোষী প্রমাণিত না হওয়া আর্মস্ট্রংয়ের আইনজীবী ব্রায়ান ডি ড্যালি বলছেন, ‘এ সবকিছুই সাবেক সাইক্লিস্টরা ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে করছেন। শেষ পর্যন্ত কিছুই প্রমাণিত হবে না।

আবাহনী-মোহামেডানের জার্সি কাদের গায়ে?

আবাহনী-মোহামেডানের জার্সি গায়ে তোলা ফুটবলারদের কাছে স্বপ্ন ছিল একসময়। কিন্তু এখন সুযোগ এমনিতেই এসে যায়। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি নামে। ঐতিহ্যবাহী আকাশি-নীল আর সাদা-কালো জার্সি নতুন মৌসুমে এমন অনেকের গায়ে উঠতে যাচ্ছে, যাঁরা আগে কখনো ভাবেননি।
এর বড় কারণ, দেশে এখন চলছে তীব্র খেলোয়াড়-সংকট। তার ওপর নবাগত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব দুই প্রধানের ঘর ভেঙে দল গড়েছে। মোহামেডানের ১০ জন আর আবাহনীর ৪ জন খেলোয়াড় নিয়ে নিয়েছে এ দলটি। দুই প্রধানের ঘরে এরপর হাত পড়েছে মুক্তিযোদ্ধার। এখন দেখা যাচ্ছে, আবাহনী কুড়িয়ে-কাচিয়ে গতবারের ৫-৬ জনকে পেলেও মোহামেডানের সবাই দল ছেড়েছে। দলবদলের বাজারে এমন অবস্থা যে, দুটি দল গড়ার পর আর পছন্দের খেলোয়াড় নেই। ফলে অখ্যাতদের দিকে হাত বাড়াতে হচ্ছে প্রধান দুই দলকে। আবাহনী তবু পরিচিত কিছু খেলোয়াড় জোগাড় করেছে, মোহামেডান তো তাও না!
আমিনুল, আরমান আজিজ, শরিফ, কমল, এমিলি, নাসির, নাসিরুলদের শূন্যস্থান পূরণে মোহামেডান এখন পর্যন্ত কথা বলেছে গোলরক্ষক হিমেল, টিটু, উত্তমের সঙ্গে। রক্ষণে রমজান, শওকত, ভাসানী, প্রদীপ বড়ুয়া, মনু, আরাফাত রনি, রাজীব; মাঝমাঠে মলয়, রনি, কামরুল, রাজন, কবির, পাপ্পু; আক্রমণে রিদন, তৌফিক, আনোয়ারের সঙ্গে। এই খেলোয়াড়দের অনেকের কাছেই মোহামেডানের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়া একটা বিরাট বিস্ময়!
শুকতারার রাজীব যেমন বললেন, ‘মোহামেডান কাছ থেকে ডাক পাব, এটা আমি ভাবিনি। প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রথমেই বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আসলে মোহামেডান খালি হয়ে যাওয়াতেই হয়তো আমার কথা ভেবেছেন কর্মকর্তারা।’ শেখ রাসেলের রমজানের কথা, ‘স্বপ্ন ছিল বড় দলে খেলব। তবে এভাবে যে মোহামেডান থেকে ডাক পাব, সত্যি কথা বলতে, পুরোপুরি ভাবিনি।’
টানা ৮ বার মোহামেডান অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরা জাকারিয়া পিন্টুর দুঃখ, ‘আগে এই জার্সি পরার জন্য কত স্বপ্ন থাকত খেলোয়াড়দের। এই জার্সি পরলে সমীহ পাওয়া যেত প্রতিপক্ষের। এখন তো এটা মামুলি ব্যাপার। যে কেউ পরতে পারে। খেলোয়াড়-সংকটের কারণে ক্লাবই বা কী করবে। কাউকে না-কাউকে তো জার্সি পরে মাঠে নামতে হবে!’
মোহামেডানের চেয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে আবাহনী। গত তিনটি পেশাদার ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়নরা বিপ্লব, সুজন, রজনী, এনামুল, মিশু, মতিউর মুন্নাদের হারালেও দলে পাচ্ছে নজরুল, প্রাণতোষ, উজ্জ্বল, আবুল, সিরাজীদের। সঙ্গে আলফাজ, শুভ্র, অরূপ বৈদ্য, চৌমিন রাখাইন, রনিসহ আরও কয়েকজন তরুণকে নেওয়া হচ্ছে। আবাহনীর সম্ভাব্য এই দলটা তারকাসমৃদ্ধ নয়, তবে শিরোপা লড়াই দেওয়ার মতোই হবে বলে বিশ্বাস কর্মকর্তাদের। তার পরও এই দলটি কি সমর্থকদের প্রত্যাশার আবাহনী?
আবাহনী কোচ অমলেশ সেন বলছেন, ‘অবশ্যই আমরা আরও শক্তিশালী দল গড়তে চাই। কিন্তু খেলোয়াড় কোথায়? আগে খেলোয়াড়দের কাছে আবাহনী-মোহামেডানের জার্সির একটা আকর্ষণ ছিল। কিন্তু এখন খেলোয়াড়দের কাছে আকর্ষণের নাম টাকা। টাকার জন্য আজ এই ক্লাবে, কাল ওই ক্লাবে খেলছে। তাই বাধ্য হয়ে হয়তো এমন অনেক খেলোয়াড়ের গায়ে জার্সি তুলে দিচ্ছে ক্লাব, যারা ওই জার্সির জন্য তৈরি নয়।’
টাকাই মূল আকর্ষণ, জার্সি নয়? কথাটা মানলেন না গোলরক্ষক আমিনুল, যাঁর সঙ্গী হয়ে এবার জাতীয় দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই নাম লেখাতে যাচ্ছেন শেখ জামালে, ‘টাকাই মূল আকর্ষণ, এটা মানতে পারছি না। আমাদের দেশে আবাহনী-মোহামেডানই ফুটবলের সবকিছু নয়। অন্য দল যদি ভালো করতে চায় তাহলে অবশ্যই খেলোয়াড় হিসেবে তাদের ডাকে সাড়া দেওয়া উচিত।’
জাতীয় দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম পুরো ব্যাপারটাকে দেখছেন এভাবে, ‘মানসম্মত খেলোয়াড় বেশি থাকলে সমস্যাটা হতো না। তবে কম পরিচিত বা একেবারেই তরুণেরা আবাহনী-মোহামেডানে সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে হয়তো এরাই হবে তারকা। দুই প্রধানের সমর্থকেরা এখন হতাশ হলেও বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে এটা ফুটবলের জন্য ভালো ফলও আনতে পারে।’
ভবিষ্যৎ নয়, দুই প্রধান ভাবছে বর্তমান নিয়ে। ভালোমানের বিদেশি খেলোয়াড় এনেই ঘাটতিটা পূরণের চেষ্টা করছে দুই দল। আবাহনী চাইছে বিদেশি কোচও আনতে। ইরান, ঘানায় যোগাযোগ হয়েছে তাদের।
দেখা যাক, মৌসুম শেষে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় দর্শকপ্রিয় দুই ক্লাব।

প্রথম ইনিংসে ১৭৯ রানে এগিয়ে ইংল্যান্ড

অফস্পিনার সাইদ আজমলের অসাধারণ বোলিংয়ে ২৫১ রানে শেষ হয়েছে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। ২ উইকেটে ১১২ রান নিয়ে আজ শনিবার দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৩ রানের জুটি গড়ে বড় স্কোর গড়ার আশা জাগিয়েছিলেন ট্রট ও পিটারসন।
পাকিস্তানের জন্য ক্রমশই বিপদজনক হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙ্গেন অনিয়মিত বোলার উমর আমিন। ৫৪ রান করে বদলি ফিল্ডার ইয়াসির হামিদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ট্রট। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার পথে সাইদ আজমল পিটারসনকে তাঁর প্রথম শিকারে পরিণত করেন। ৮০ রান করে ফিরে যান পিটারসন। এরপর আজমল একে একে তুলে নেন প্রিয়র, কলিংউড, স্টুয়ার্ড ব্রড ও সোয়ানের উইকেট। পিটারসন আউট হওয়ার পর আর বড় কোন জুটি গড়ে তুলতে পারে নি ইংল্যান্ড। ২০৫ রানে ৪ উইকেট থেকে শেষপর্যন্ত ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ২৫১ রানে। মোহাম্মদ আসিফ ও মোহম্মদ আমির নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছে পাকিস্তান। এখন পর্যন্ত ১ উইকেটে সফরকারীরা সংগ্রহ করেছে ১ রান। অধিনায়ক সালমান বাট কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরেছেন। ইমরান ফারহাত ১ ও আজহার আলী শূন্য রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

দল ঘোষণায় লোর চমক

আগে নিরাশার ছবিটাই এঁকেছিল সবাই। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তারুণ্যের ঝলকে পুরো বিশ্বকে চমকে দিতে থাকে জোয়াকিম লোর জার্মানি। তারুণ্যপ্রেমী লো দল ঘোষণায় এবার দিলেন আরও বড় চমক। মাইকেল বালাক তো আগে থেকেই নেই। বিশ্বকাপের অধিনায়ক ফিলিপ লাম, মেসুত ওজিল, বিশ্বকাপে সোনার জুতা ও সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা টমাস মুলার, সামি খেদিরা, ক্লোসা, পোডলস্কি...কে নেই হিসাব করার চেয়ে কে কে আছেন, সেই তালিকা করাই ভালো।
আগামী বুধবার ডেনমার্কের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত লোর ১৮ সদস্যের দলে বিশ্বকাপে যাওয়া সদস্য মাত্র ৮ জন! নয়্যার, টিম ভেইস, জেরম বোয়েটাং, সের্ডার টস্কি, টনি ক্রুজ, মার্কো মার্টিন, পিওতর ট্রচোস্কি ও মারিও গোমেজ। তবে বিশ্বকাপ দলে যাঁর বাদ পড়া নিয়ে হইচই হয়েছিল বেশি, সেই টমাস হিটজেলস্পার্জার ফিরেছেন দলে। লোর যুগে প্রথমবার ডাক পেলেন সেই ২০০৫-এর ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান শুলজ। তার পরও দলে আনকোরা নাম দুটি, ভলফসবুর্গের সাসখা রাইদার ও বুরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মার্কো রেউস।

কার্লোসের আশা

বয়স ৩৭ হয়ে গেছে। চার বছর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপের পরপরই জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেও ক্লাব ফুটবলে এখনো আছেন রবার্তো কার্লোস। আর কত দিন খেলবেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক? ভক্তদের এমন কৌতূহলী প্রশ্নে কার্লোস বলেছেন, আরও বছর চারেক খেলতে চান তিনি। ক্লাব করিন্থিয়ানসের ওয়েবসাইটে কার্লোস বলেছেন, ‘আমি আরও চার বছর খেলব। খেলা ছাড়ার আগে আরও অনেক ট্রফি জিততে চাই আমি।’ ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ১২৫টি ম্যাচ খেলা কার্লোস ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে। দীর্ঘ ১১ বছর খেলেছেন সেখানে। খেলেছেন ইন্টার মিলান, ফেনেরবাচের মতো ক্লাবেও। সেই কার্লোস এখন ব্রাজিলের ক্লাব করিন্থিয়ানসে। নতুন ক্লাব সম্পর্কে উচ্চকণ্ঠ তিনি, ‘এখানকার সবকিছুই আলাদা। আমি রিয়াল, ইন্টারের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্লাবে খেলেছি। কিন্তু করিন্থিয়ানস সংগঠিত এবং আমাদের দেশের কথা উঠলেই এটির নাম চলে আসে। করিন্থিয়ানসের যা অবকাঠামো তাতে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে তুলনা করাটা কঠিন। তবে আমি বলব, করিন্থিয়ানস বিশ্বের বড় চারটি ক্লাবের একটি!

প্লে-অফে টটেনহামের সামনে ইয়াং বয়েজ

প্রথম ব্রিটিশ ক্লাব হিসেবে ইউরোপ পর্যায়ে বেশ কিছু রেকর্ড গড়ার কৃতিত্ব আছে টটেনহামের। প্রথম ব্রিটিশ ক্লাব হিসেবে ইউরোপের বড় কোনো শিরোপা জিতেছিল তারাই। ১৯৬৩ সালে ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ জেতা সেই দলটিই ইউরোপের প্রধান টুর্নামেন্টে অনুপস্থিত অনেক দিন হলো।
গতবার লিগ টেবিলে চারে শেষ করে আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল পর্বে খেলার একদম কাছাকাছি চলে এসেছে হ্যারি রেডন্যাপের দল। কেবল পার করতে হবে প্লে-অফ রাউন্ডের বাধা। কাল সেই প্লে-অফের ড্র হয়ে গেল। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলা টটেনহামের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডের ইয়াং বয়েজ। দুই লেগ মিলে জিতলেই চূড়ান্ত পর্বের টিকিট।
শুধু টটেনহাম নয়, প্লে-অফ রাউন্ড থেকে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট মিলবে সব মিলে ১০টি দলের। সরাসরি জায়গা করে নেওয়া ২২ দলের সঙ্গে মিলে ৩২ দলকে নিয়ে শুরু হবে গ্রুপ পর্বের লড়াই। আগে থেকেই নির্ধারিত এই ২২ দলের সঙ্গী হচ্ছে কারা, সেটি নির্ধারণ করে দেবে প্লে-অফের এই ২০টি ম্যাচ।
টটেনহামের পাশাপাশি প্লে-অফ রাউন্ডে খেলছে আরও কিছু বড় ক্লাব। সেভিয়া মুখোমুখি হবে পর্তুগালের ব্রাগার। জার্মানির ভের্ডার ব্রেমেনের মুখোমুখি ইতালির সাম্পদোরিয়া। হল্যান্ডের আয়াক্স খেলবে ইউক্রেনের ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে।

মুলার বায়ার্নের সঙ্গেই

মাত্র ২০ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে জিতেছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার সোনার জুতা। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কারও উঠেছে টমাস মুলারের হাতে। এমন একজন প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভাবান ফুটবলারকে ছেড়ে দেবে বায়ার্ন মিউনিখ? ছাড়েওনি তারা। মুলারের সঙ্গে চুক্তিটা নবায়ন করল বায়ার্ন। নতুন এই চুক্তির অর্থ, ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিলানের হয়ে গেলেন মুলার। বায়ার্নই এক ঘোষণায় জানিয়েছে, মুলারের সঙ্গে নতুন চুক্তিটি হয়েছে ২০১৫ পর্যন্ত। ‘এফসি বায়ার্ন পারফরম্যান্সের পুরস্কার দিতে জানে। গত মৌসুমে টমাস মুলারের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।

আফ্রিদির সেবার মানসিকতা

টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ায় হাতে এখন অনেক সময়। সময়টা ভালো কাজেই লাগাচ্ছেন শহীদ আফ্রিদি। পাকিস্তানের বন্যাদুর্গতদের জন্য অর্থ সংগ্রহে পাকিস্তানের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এখন আছেন দুবাইয়ে। দুবাইভিত্তিক একটি সংস্থার এই উদ্যোগে এক-দুই কোটি রুপি পাওয়ার আশা করছেন আফ্রিদি। স্মরণকালের ভয়াবহতম বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়েছে পাকিস্তানে উত্তর-পঞ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪০ লাখ লোক।
শুধু এটুকুই নয়, পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের একজন করতে চান আরও বেশি কিছু, ‘বন্যাদুর্গতদের জন্য আমি আরও অনেক কিছু করতে চাই। সময় পেলে আমি নিজেও ওই এলাকাগুলোয় যেতে চাই, ত্রাণ দিতে চাই নিজের হাতে।’ তবে ক্রিকেটার হয়ে ক্রিকেট নিয়ে কথা একদমই না বললে তো আর চলে না। টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকেই শোনা যাচ্ছে, আফ্রিদির ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্বও কেড়ে নেওয়া হতে পারে। এসব গুজব বলেই কাল উড়িয়ে দিলেন আফ্রিদি, ‘সবকিছুই অনুমাননির্ভর কথাবার্তা। পিসিবি চেয়ারম্যান আমাকে বলেছেন, ওয়ানডে সিরিজে দলে যোগ দিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। আর অধিনায়কত্ব নিয়ে আমি চিন্তিত নই। শুধু খেলোয়াড় হিসেবে দলে থাকলেও আমি পাকিস্তানের সেবা করতে চাই।

সাকিবের এবার ৫ উইকেট

প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট পেয়েছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে কাল ১২.২ ওভার বল করে ২৩ রানে ৫ উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসান। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সাকিবের এটি দশম ৫ উইকেট। সাকিবের সঙ্গে মিডিয়াম পেসার অ্যালান রিচার্ডসন ৪ উইকেট নেওয়ায় প্রথম ইনিংসে ৪৮০ রান করা গ্লস্টারশায়ার দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১৩৬ রানেই। এর পরও অবশ্য সাকিবের দল উস্টারশায়ারের সামনে জয়ের লক্ষ্যটা অনেক বড়। ওপেনার ড্যারিল মিচেলের ১০৪ রানের পরও প্রথম ইনিংসে উস্টার করতে পেরেছে ২৭৮ রান। ২১ বলে ১৯ রান করে জিম্বাবুয়ের পেসার অ্যান্থনি আয়ারল্যান্ডের বলে আউট হয়েছেন সাকিব। ৩৩৯ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮ রান তুলেছে উস্টার।