Monday, December 25, 2017

যুদ্ধ আসন্ন, প্রস্তুতি নিন -সেনাদের প্রতি মার্কিন জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বাহিনীর কোর জেনারেল রবার্ট নেলার সেনাদের উদ্দেশ করে বলেছেন- যুদ্ধ আসন্ন। নরওয়েতে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সতর্ক করে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন তিনি। এ খবর দিয়েছে ফক্স নিউজ। তিনি বলেন, একটি যুদ্ধ ধেয়ে আসছে। আমি চাই আমার এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হোক। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আপনারা সেখানে লড়াই-ই করছেন।
এ লড়াই তথ্যের লড়াই, রাজনীতির লড়াই। ভবিষ্যতে রাশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে মূল সংঘাত তৈরি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে একই সুরে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সার্জেন্ট মেজর রোনাল্ড গ্রিন। তিনি সেনাদের উদ্দেশ্যে বলেন, খেয়াল রাখবেন, আপনারা কেন এখানে এসেছেন। তারা (বিরোধী পক্ষের সেনারা) আপনাদের নজরে রাখছে। যেমনটি আমরা তাদের ওপর রাখছি। বর্তমানে আপনারা ৩০০ সেনা এখানে অবস্থান করছেন। প্রয়োজন হলে এক রাতের মধ্যেই এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০০০ করা যাবে। উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে। কারণ, এসব মন্তব্যের ঠিক একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস দেশটির নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্রাগ সেনা শিবিরের সেনাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপ অঞ্চলে ‘ঝড়ো মেঘের’ আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। ম্যাটিসের এমন মন্তব্য ঠিক কি কারণে, তা এখনো অস্পষ্ট। সমপ্রতি একই সঙ্গে জেনারেল রবার্ট নেলার এবং সার্জেন্ট মেজর রোনাল্ড গ্রিনের নরওয়ে সফর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নরওয়েতে অবস্থান করতে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি হতে পারে- নরওয়েকে এমন সতর্কতা জানিয়েছে রাশিয়া। এ প্রসঙ্গে নরওয়ে অবশ্য সব সময় বলে আসছে যে, ন্যাটোর সঙ্গে বন্ধন সুদৃঢ় করতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সে দেশে অবস্থান করতে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে তারা শীতার্ত আবহাওয়ায় কিভাবে সামরিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায় সে সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। নরওয়ের এক সেনাশিবিরে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নেলার বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর সরিয়ে পূর্ব ইউরোপে কেন্দ্রীভূত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন এবং জর্জিয়ার চলমান বিবাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন তিনি। তিনি নৌবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যে কোনো সময় একটি বড় রকমের সংঘাতের জন্যে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। প্রসঙ্গত, সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতিতে উদ্বেগে রয়েছে রাশিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এই প্রথম ২০১৬ সালে ভিনদেশের কোনো সেনাদলকে সে দেশে ঘাঁটি গাড়তে দিয়েছে নরওয়ে। এর প্রতিক্রিয়ায়, এ বছরের সেপ্টেম্বরে পার্শ্ববর্তী দেশ বেলারুশকে সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ সেনা মহড়া চালায় রাশিয়া। এতে ১২৭০০ সেনা অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে, সোমবার নিজের নতুন নিরাপত্তা কৌশল সম্পর্কিত ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ রাশিয়া ও চীনকে নিজেদের প্রতিযোগী বলে উল্লেখ করেছেন।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান-ইরান-রাশিয়া-চীন-তুরস্ক

পাকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ সফরে আছেন ইরানের জাতীয় সংসদ স্পিকার ড. আলী লারিজানি। রোববার ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও আফগানিস্তানের সংসদ স্পিকারদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার আইয়াজ সাদিকের আমন্ত্রণে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নানামুখী চ্যালেঞ্জ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা ও ভূমিকার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাকিস্তান সফরের সময় ড. আলী লারিজানি দেশটির জাতীয় সংসদের স্পিকার আইয়াজ সাদিকসহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করছেন। পাকিস্তানের উদ্দেশে তেহরান ছাড়ার আগে লারিজানি সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয় এ সম্মেলনে।

আমেরিকার ইতিহাসে সমস্ত ভুলের বড় ভুল ট্রাম্পের : পাকিস্তান

ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐতিহাসিক ও বড় ভুল করেছেন। পাকিস্তান সিনেটের চেয়ারম্যান রাজা রব্বানি সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রোববার একথা বলেছেন। রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার কারণে ফিলিস্তিনে নতুন ইন্তিফাদা শুরু হতে যাচ্ছে। এ সম্মেলনে ইরান, তুরস্ক, চীন, রাশিয়া ও আফগানিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকাররা অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স পাকিস্তানকে যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সে সম্পর্কে রাজা রব্বানি বলেন, পাকিস্তান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ এবং আমেরিকাসহ কারো হুঁশিয়ারি বিবেচনায় নেয়ার অভ্যাস পাকিস্তানের নেই। সম্মেলনে যোগ দেন- পাক প্রেসিডেন্ট মামুনন হোসেইন, সিনেট চেয়ারম্যান রাজা রব্বানি, ইরানি স্পিকার আলী লারিজানি ও রুশ সংসদের নিম্নকক্ষ দুমার স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভি. ভলোদিন। পাক সিনেটের চেয়ারম্যান আরো বলেন, মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তন ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির নীতি অনুসরণ করে আসছে আমেরিকা। তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার মার্কিন পদক্ষেপকে সমস্ত ভুলের বড় ভুল বলে মন্তব্য করেন।

নারীদের বিমানে উঠতে বাধা, এমিরেটসকে তিউনিসিয়ার কড়া জবাব!

তিউনিসিয়ার কিছু নারীকে বিমানে উঠতে না দেয়ার কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ দুবাই-ভিত্তিক এয়ারলাইন্স এমিরেটসকে তিউনিসে অবতরণ করতে দেয়নি। তিউনিসিয়ার কিছু নারীকে বিমানে উঠতে না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে দেশটির ভেতরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টিকে 'বৈষম্যমূলক' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
তিউনিসিয়ার ট্রান্সপোর্ট মন্ত্রণালয় বলছে, এমিরেটস এয়ারলাইন্স যতক্ষণ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের উপর এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পেতে দেরি হওয়ায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। টুইটারে এক বার্তায় তিনি বলেন, "তিউনিসিয়ার নারীদের আমরা অনেক মূল্যায়ন এবং সম্মান করি।" তিউনিসিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, দুবাই-গামী তিউনিসিয়ার নারীদের এমিরেটসের ফ্লাইটে উঠতে দেয়া হয়নি। এ ঘটনা কয়েকদিন ধরে ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, তাদের যাত্রা বিলম্ব হয়েছে এবং তাদের ভিসা আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে বলে জানানো হয়েছে। ২০১১ সালে তিউনিসিয়ার বিপ্লবের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে দেশটি সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে।

২৭ স্কুলে হালাল গোশত বন্ধের পরিকল্পনা, কী করছে ছাত্ররা?

ইংল্যান্ডের ল্যাংকাশায়ার কাউন্টির স্কুলে হালাল গোশত নিষিদ্ধ করার উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা। তারা বলছেন, এতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। অক্টোবরে ল্যাংকাশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল পরিচালিত ২৭টি স্কুলের ক্যান্টিনে হালাল গোশত সরবরাহ বন্ধের পরিকল্পনা নেয়া হয়। তাদের এই পরিকল্পনার আইনি দিক পর্যালোচনা করছে কাউন্টির মসজিদ কাউন্সিল।
তারা বলছে, কর্তৃপক্ষ এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে মুসলিম নেতাদের সাথে পরামর্শ করেনি। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরনাপন্ন হওয়ার হুমকি দিয়েছে ল্যাংকাশায়ার মসজিদ কাউন্সিল। মসজিদ কাউন্সিলের নেতারা বলেছেন, আইনি সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যাবে না। গত অক্টোবরে গৃহীত কাউন্টি কাউন্সিলের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘এটি মুসলিম সম্প্রাদয়ের খাদ্যের বিষয়ে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে স্বীকার করে ও শ্রদ্ধা করে। কিন্তু অচেতন না করে জবাই করা প্রাণীদের প্রাণীদের যন্ত্রণাদায়ক।’ প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে কাউন্টি কাউন্সিল পরিচালিত স্কুলগুলোতে গোশত সরবরাহ করতে হলে পশুজবাইয়ের আগে অবশ্যই অজ্ঞান করতে হবে। ল্যাংকাশায়ার মসজিদ কাউন্সিল মনে করছে, এই প্রস্তাব বাস্তাবায়ন হলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল গোশত সরবরাহ করা বন্ধ হয়ে যাবে। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী আবদুল হামিদ কোরেশি বলেছন, এর ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা হয়তো বাড়ি থেকে খাবার আনতে বাধ্য হবে যাতে স্কুলের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, মুসলিম ও ইহুদি কোনো সম্প্রাদয়ের সাথেই পরামর্শ করা হয়নি আইনটি প্রবর্তনের আগে। উল্লেখ্য, মুসলিম ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহর নামে যথাযথ পদ্ধতিতে জবাই করার ছাড়া পশুর গোশত খায় না।

তুরস্ককে মিসরের নতুন শর্তারোপ : মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাশিয়াকে নাকচ

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি তুরস্কের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য শর্ত আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, কায়রোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে হলে আঙ্কারাকে মিশরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। শুকরি বলেন, মিশর ও তুরস্কের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি; যদিও বারবার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে তুরস্ক। সামেহ শুকরি বলেন, তুরস্ক মিশরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ করলেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে এবং সে সম্পর্ক থেকে দু’দেশই লাভবান হবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি কায়রো সফরকালে মিশর ও তুরস্কের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে যে খবর বেরিয়েছিল সামেহ শুকরি তা নাকচ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত ১১ ডিসেম্বর সিরিয়া সফর শেষে কায়রো সফরে যান। ওই সফরে তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আস-সিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন কায়রো থেকে আঙ্কারা যান এবং সেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেন। পুতিনের এ সফরের পর গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই জল্পনা তৈরি হয় যে, তিনি মিশর ও তুরস্কের মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য এ সফর করেছেন। ২০১৩ সালে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বন্দি হওয়ার পর থেকে তুরস্কের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে শীতলতা নেমে আসে। ওই সামরিক অভ্যুত্থানের হোতা জেনারেল সিসি বর্তমানে মিশরের প্রেসিডেন্টের পদে আসীন রয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসির সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং আঙ্কারা মিশরের সামরিক অভ্যুত্থানের কঠোর নিন্দা জানিয়েছিল।

শরীয়তপুরে জেএসসি ফল প্রত্যাশীর আত্মহত্যা

শরীয়তপুরে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফল প্রত্যাশী এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। আজ সোমবার ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। তবে আত্মহত্যার কোনো কারণ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সখিপুর থানা পুলিশ সকালে লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ডিএম খালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ডিএম খালী মাঝিকান্দি গ্রামের বাবুল মাঝির মেয়ে মারিয়া (১৪) একই এলাকার চর ভয়রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জেএসসি’র ফল প্রকাশ হবে। মারিয়া ভোর ৬টার দিকে অজানা কারণে বসতঘরের পার্শ্ববর্তী একটা পরিত্যক্ত ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সখিপুর থানা ওসি তদন্ত এক এম শামিম বলেন, এক জেএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে মর্গে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত আত্মহত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি।

৮০ বছর বয়সে শুটিংয়ে বাজিমাত

মানুষ যেখানে শেষ করে ‘দাদী’ সেখান থেকে শুরু করেছেন। ভারতের উত্তর প্রদেশের পারকাশি টোমার ৬০ বছর বয়সে প্রথমে বন্দুক হাতে নেন। বর্তমানে তার বয়স ৮০ বছর। সবাই তাকে ‘শুটার দাদী’ হিসেবে চেনে। তিনি এখন যৌতুক-বিরোধী ভূমিকায় নেমেছেন। ভারতের উত্তর প্রদেশে যৌতুকের দাবিতে নারীদের হত্যার ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। কিন্তু ‘দাদী’ যে গ্রামে বসবাস করেন সেখানে পরিস্থিতি ভিন্ন রকম। সে গ্রামে কোনো মেয়ের বিয়ের সময় যৌতুক চাওয়া হয় না। লোকে বলে, ‘যৌতুক চাইলে দাদী গুলি করে মারবে।’ ‘শুটার দাদী’ কখনো স্কুলে যাননি। তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তিনি গৃহস্থালি এবং কৃষিকাজ করতেন। কিন্তু তিনি নিজে তার একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সেজন্য ৬০ বছর বয়সে তিনি শুটিং-এর প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। একদিন তিনি তার নাতনীদের সাথে শুটিং রেঞ্জে গিয়েছিলেন।
সেখানে গিয়েই তার আগ্রহ জন্মে। এরপর টানা কয়েকদিন তিনি সেখানে যান এবং শুটারদের কৌশল দেখেন। একদিন সেখানকার প্রশিক্ষকরা তাকে বন্দুক চালাতে বলেন। কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু স্থির করে সেখানে নিশানা করতে বলেন প্রশিক্ষকরা। তার বন্দুক চালানো দেখে প্রশিক্ষকরা বলেন যে তিনি খুব ভালো করবেন। প্রশিক্ষকরা তাকে উৎসাহিত করেন। ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ আমাকে দেখে হাসাহাসি করবে। কারণ আমার অনেক বয়স হয়েছে,’ বলছিলেন পারকাশি টোমার। এরপর তিনি গোপনে তার শুটিং প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান। হাতের ব্যালেন্স ধরে রাখার জন্য তিনি একটি পানির পাত্র একটানা হাতে ধরে রাখতেন। মানুষজন তার দিকে তাকিয়ে হাসতো। কিন্তু এখন তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত শুটার। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি অনেক পদক লাভ করেছেন। বিভিন্ন টেলিভিশনে তাকে নিয়ে অনুষ্ঠানও তৈরি হয়েছে। ‘শুটার দাদীর’ সাফল্য দেখে অনেক নারী অনুপ্রাণিত হয়েছে। একজন নারী শুটার বলেন, ‘দাদীকে দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই। আমার মনে হয়, তিনি যদি পারেন তাহলে আমিও পারবো।’ ‘শুটার দাদীর’ লক্ষ তার গ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের শুটিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা। সূত্র: বিবিসি

বড় দিনে রাজধানীতে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বলয় : আছাদুজ্জামান মিয়া

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, বড়দিনকে কেন্দ্র করে ঢাকা শহরে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরে ৬৫ গির্জায় প্রার্থনা হচ্ছে। প্রত্যেকটি গির্জা ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে এবং তল্লাশি গেট (আর্চওয়ে) স্থাপন করা হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা (পবিত্র জপমালা রাণীর গির্জা) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, গির্জার বাইরে কিছু পাঁচ তারকা হোটেলে প্রার্থনা হবে। সবকিছুকে ঘিরে কয়েক স্তরে সাদা পোশাকে এবং ইউনিফর্মে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো শহরজুড়ে তল্লাশি ও চেকপোস্টে কার্যক্রম চলছে। যেকোনো ধরনের ব্যাকপ্যাক বা ট্রলি ব্যাক তল্লাশি করা হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতি সিনহাকে জুডিশিয়াল ক্যু করে বিদায় করা হয়েছে: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

ষোড়শ সংশোধনীর মামলার রায় দেয়ার কারণেই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জুডিশিয়াল ক্যু করে বিদায় করা হয়েছে। ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিল করে পুরো রায় বাতিলের চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। সোমবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি বলেন, সরকার নিজেদের স্বার্থে বিচার বিভাগকে পরিচালিত করতে চায়। তারা যেভাবে চায় সেভাবেই আদালতকে রায় দিতে হবে, যদি তা না করা হয়। বিচারপতি সিনহার মতো তাদেরকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। এভাবেই তারা অন্য বিচারপতিদের তারা ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার খালেদা জিয়ার মামলার রায়কেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও মনে করেন তিনি। জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচার বিভাগ হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। এটা স্বীকৃত যে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবেন এবং সে আইন সংবিধান মোতাবেক হয়েছে কিনা এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কিনা এবং কোনো দলের বা ব্যক্তির স্বার্থে কিনা? তা দেখার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। বিচার বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে সে দায়িত্বই পালন করেছেন।
অথচ এই রায়ের পরে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে অহেতুক এবং অসৌজন্য মূলক ও আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধামূলক বক্তব্য রেখেছেন, যা অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত। তিনি বলেন, অতীতে বহুবার বে-আইনি সংশোধনীর বিরুদ্ধে অনেক সিদ্ধান্ত দেশের এই সর্বোচ্চ আদালত দিয়েছেন, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এবং আদেশের বিরুদ্ধে সরকার এইভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো রিভিউ আবেদন করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। তিনি আরো বলেন, একটি রায়ের মধ্যে সরকারের মতে দু-একটি পর‌্যবেক্ষণ অপ্রসাঙ্গিক থাকতেই পারে । কিন্তু বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল মতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের জন্য ৯৪টি যুক্তি দেখালেন । আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এই সরকার বিচার বিভাগকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমেই সুকৌশলে নিতে চাচ্ছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বিতর্কিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে তারা। সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, তাই তারা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি যে সাতজন বিচারপতি এই রায় দিয়েছেন । তার মধ্যে পাঁচজন এখনো আপিল বিভাগে দায়িত্বে আছেন। তারা তাদের পরবর্তী রায়ের আলোকে এই পুনঃবিবেচনার আবেদনটি বাতিল করবেন। তা না হলে ভবিষ্যতে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সম্পাদক শামীমা সুলতানা দীপ্তি, সাবেক সহ-সভাপতি এবিএম অলিউর রহমান খান, আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মেহেদী, আবেদ রাজা, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, খোরশেদ আলম, সগীর হোসেন লিয়ন, এএইচ এম কামরুজ্জামান মামুন প্রমুখ।

ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন ৪ জানুয়ারি

ফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৪ জানুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এর উদ্বোধন করবেন। আজ সোমবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উড়ালসেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে। উড়ালসেতু ছয় লেনের হলেও সেতুর নিচের দুই পাশে আরও চার সার্ভিস লেন চালু থাকবে। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মহিপালে ১০ লেন সেতুই হচ্ছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল উড়ালসেতুর দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার, প্রস্থ ২৪ দশমিক ৬২ মিটার, সার্ভিস রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩৭০ মিটার, সার্ভিস রোডের প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার, অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ১৬০ মিটার, ১১টি স্প্যান, ফুটপাতের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ২১০ মিটার, পিসি গার্ডার ১৩২টি।

মংডুর স্বচ্ছল পরিবার এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদ্বাস্তু

দীন মোহাম্মদের বয়স এখন ৬৮ বছর। তবে শারীরিকভাবে তিনি এখনো বেশ শক্ত। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। কুতুপালং-এ নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীন মোহাম্মদকে অনেকেই চেনে। দীন মোহাম্মদ দেখতে অন্য সাধারণ রোহিঙ্গাদের মতো নয়। পরিষ্কার বাংলায় কথা বলেন তিনি। তাছাড়া তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ অন্য রোহিঙ্গাদের চেয়ে খানিকটা আলাদা। মিয়ানমারের ফকিরা বাজার নামক একটি এলাকায় বসবাস ছিল দীন মোহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের। মংডু শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুরে সে জায়গা। তবে সেটি মংডু জেলার আওতায়। দীন মোহাম্মদের বাবা-দাদা এবং পূর্ব পুরুষের জন্ম সেখানে। এমনটাই জানালেন তিনি। ফকিরা বাজার জায়গাটি বাংলাদেশের উখিয়া সীমান্ত থেকে কাছেই অবস্থিত। দীন মোহাম্মদ জানালেন ফকিরা বাজারে তাঁর কাঠের তৈরি একটি দোতলা বাড়ি ছিল। বাড়িটি আকারে বেশ বড়। তার বর্ণনায় বাড়িটির দৈর্ঘ্য ছিল ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ২৪ ফুট। সাধারণ রোহিঙ্গারা যে ধরনের বাড়িতে বসবাস করেন, দীন মোহাম্মদের বাড়ি তার চেয়ে অনেক বড়। মিয়ানমারে সে বাড়ি ছেড়ে দীন মোহাম্মদ এখন তাঁর পরিবার নিয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। মিয়ানমারে বসবাসের সময় তাঁর পারিবারিক আয় রোজগার ভালোই ছিল। অর্থাৎ সাধারণ রোহিঙ্গাদের আয়ের তুলনায় দীন মোহাম্মদের আয় ভালো ছিল বলে তিনি দাবী করেন। "মাসে প্রায় দুই-তিন লাখ টাকা আয় ছিল বার্মা টাকায়। বাংলাদেশী টাকায় বিশ-ত্রিশ হাজার টাকা," বলছিলেন দীন মোহাম্মদ। এ উপার্জন দিনে বেশ ভালো ভাবেই সংসার চলতো বলে জানান তিনি। দীন মোহাম্মদের সাত ছেলে এবং এক মেয়ে। যৌথ পরিবারেই ছিল তাঁর বসবাস। ছেলের বউ এবং নাতি-নাতনীসহ সব মিলিয়ে পরিবারের ১৭ জন সদস্য নিয়ে তিনি এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। মিয়ানমারে থাকার সময় তাঁর ছেলেরা বেশ কয়েকটি দোকান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতো।
এসব ব্যবসার মধ্যে ছিল - স্বর্ণের দোকান, মোটর পার্টসের দোকান, কম্পিউটার পার্টস এবং মোবাইলের দোকান। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর কুতুপালং-এর লাম্বাশিয়া ক্যাম্পে পাঁচটি ছোট-ছোট অস্থায়ী ঘর পেয়েছেন তিনি। একেকটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১০ফুট এবং প্রস্থ আট ফুট। মিয়ানমারের ফকিরা হাটে তাঁর বাড়ির কী অবস্থা সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না দীন মোহাম্মদ। তিনি যখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসেন তখন সেটি অক্ষতই ছিল। তাদের এলাকায় দু'জন রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যার পর অন্য অনেক মানুষের সাথে তিনিও বাড়ি ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। "কেউ বলছে আমাদের বাড়ি পোড়ায় দিছে, কেউ বলছে আছে। ঠিকভাবে বলতে পারি না। নিজের দেশের লাইফ (জীবন) তো ভালো। বিদেশে তো শরণার্থী হিসেবে রইছি," বলছিলেন দীন মোহাম্মদ। তিনি দাবী করেন ২০০৬ সালের আগে তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন। দীন মোহাম্মদ বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কক্সবাজার, উখিয়া এবং টেকনাফ অঞ্চলের স্থানীয় অনেক রাজনৈতিক নেতা সীমান্ত পেরিয়ে ফকিরা হাটে তাঁদের বাড়িতে কিছুদিনের আশ্রয় নিয়েছিল। সে সূত্রে বাংলাদেশের উখিয়া অঞ্চলের স্থানীয় কিছু মানুষের সাথে তাঁর যোগাযোগ আছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পর তাদের অনেকে দীন মোহাম্মদের পরিবারের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনটাই বলছেন তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিজ বাড়িতে বাংলাদেশীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু ৪৭ বছর পর তিনি নিজেই উদ্বাস্তু হবেন এমনটা কখনো ভাবতেই পারেননি দীন মোহাম্মদ।

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে জাতিসঙ্ঘে প্রস্তাব পাস, বিরোধিতায় চীন, রাশিয়াসহ ১০ দেশ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া এবং রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা কর্মীদের প্রবেশাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক একজন বিশেষ দূত নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা(ওআইসি) উত্থাপিত প্রস্তাবটি ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ১২২ ভোট ও বিপক্ষে ১০ ভোট পরেছে। এছাড়া ২৪টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার ছাড়াও রয়েছে চীন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, লাউস, ফিলিপাইনস, ভিয়েতনাম, বেলারুস, সিরিয়া ও জিম্বাবুয়ে। এর আগে প্রস্তাবটি জাতিসঙ্ঘ সাধারন পরিষদের থার্ড কমিটিতে পাস হয়েছিল। এতেও বিপুল ভোটে তা পাস হয়। সাধারন পরিষদের বাজেট কমিটির কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক একজন বিশেষ দূত নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ থামছেই না। বিভিন্ন সীমান্ত ছাড়াও রাতের অন্ধকারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাফ নদী ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা। এ ছাড়া নোম্যান্স ল্যান্ডে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে। শুক্রবার রাখাইন থেকে নৌকায় সাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফের হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে আসেন রাখাইনের মংডু শহরের নলবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন। তিনিসহ কয়েকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাহাড়ে লুকিয়েছিলেন। কিন্তু খাওয়ার মতো কিছু ছিল না। পানি ছাড়া কোনো খাদ্যসামগ্রী নেই রাখাইনে। মোহাম্মদ আমিন বলেন, দংখালী চরে তাঁবু টাঙিয়ে প্রায় ১৫ দিন মানবেতর জীবন-যাপন করেছি। বুধবার রাতে নৌকায় করে টেকনাফের খোরেরমুখ খাল দিয়ে সাগরপথে ঢুকে পড়ি। বেড়িবাঁধের পাশে এক দিন অবস্থান করার পর গত শুক্রবার এই ত্রাণকেন্দ্রে চলে এসেছি। আমাদের নৌকায় শিশু, নারীসহ ১৪ জন ছিল। একই গ্রামের আমান উল্লাহ বলেন, এত দিন রাখাইনেই আত্মগোপনে ছিলাম। কিন্তু এখন আর সেখানে থাকার সুযোগ নেই। পাশের পুকুরের পানিও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলে আসতে হলো। গত শুক্রবার ৩২টি পরিবারের ১৩০ জন রোহিঙ্গা টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালীতে সেনাবাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রে আসে। এ ছাড়া বিগত এক সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। আমিনা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, যেসব রোহিঙ্গা সে দেশে রয়ে গেছে তাদের দেশ ছাড়ার জন্য হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। সেখানে এখনো নির্যাতন থামেনি। তিনি আরো জানান, তার বাড়ি বুচিডং বাঘগুনা পাড়া গ্রামে। তার স্বামীর তিন একর জমি ছিল। সেই জমিতে ধান চাষ ও পানের বরজ করে সুখের সংসার চলত। কিন্তু এখন সেনারা রোহিঙ্গাদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। কেউ খাবারের সন্ধানে বের হলে তাদের হত্যা করছে। অবরুদ্ধ করে রাখায় তাদের মজুদ খাবার শেষ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। সাবরাং হারিয়াখালীতে সেনাবাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিগত এক সপ্তাহে নাফ নদী পেরিয়ে ও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নতুন করে প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। ৮ লাখ ৯১ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন : উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনকার্যক্রম চলছে।
গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আট লাখ ৯১ হাজার রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরসি) তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে আসা মিয়ানমার নাগরিক ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৮০০ জন। গত ২৫ আগস্টের আগে এখানে অবস্থান করা মিয়ানমার নাগরিক সংখ্যা দুই লাখ চার হাজার ৬০ জন। তিনি বলেন, প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের আসা অব্যাহত থাকায় এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি নিবন্ধনের কাজও দ্রুত চলছে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের উপপরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকের হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আট লাখ ৯১ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। এনভিসি না নেয়ায় নির্যাতন ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগ অব্যাহত : নির্যাতন-নিপীড়নে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে সমঝোতা চুক্তি ও যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পরও রাখাইনের রোহিঙ্গাদের বসতবাড়িতে আগুন দিচ্ছে সেনাবাহিনী। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে শুরু হওয়া সেনা তাণ্ডব এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের মতো রোহিঙ্গাদের গণহত্যা না করলেও আটক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, অবরোধ ও শারীরিক নির্যাতন থামায়নি সেনারা। গত চার মাসে রাখাইনে লক্ষাধিক ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। সূত্র জানিয়েছে, সেনা তাণ্ডবের মুখেও যেসব রোহিঙ্গা আরাকানে রয়ে গেছে, তাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে সৈন্যরা। বিশেষ করে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নামের অভিবাসন পরিচয়পত্র না নেয়ার অজুহাতে তাদের মারধর, জীবিকার পথ রুদ্ধ করা, যৌন হেনস্থা, ধর্মীয় ব্যাপারে মানহানিকর কথা বলা এবং পবিত্র কুরআন ও মসজিদের অবমাননা করছে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মীরা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, সেনাবাহিনীর বুচিডং জেলার ৫৫১ নম্বর ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা প্রতিদিন আগুন দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের বাড়িতে। এনভিসি না নেয়া, দাবিকৃত চাঁদা না দেয়া, হাটবাজারে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে দোষারোপ করে রোহিঙ্গা বাড়িতে আগুন দেয় সেনারা।এ ছাড়া প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতনও করছে। গত বুধবার রাতে রাচিডং এলাকার সিন্দকের পুঁইছড়িতে একটি বড় বাড়িতে আগুন দেয় সৈন্যরা। বাড়ির মালিক হামিদ হোসাইন বিন এজাহার বলেন, এনভিসি না নেয়ার অভিযোগে আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সেনারা। কিন্তু আমি এত টাকা দিতে না পারায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা আমার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। রোহিঙ্গা সূত্র আরো জানিয়েছে, প্রতিদিনই বুচিডং, মংডু ও রাচিডংয়ের উপকূলীয় এলাকার রোহিঙ্গা জেলেদের নৌকা জব্দ ও ঘাট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। জেলেরা এনভিসি নিলে পরিস্থিতি আবারো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। এদিকে বুচিডংয়ের বিভিন্ন রোহিঙ্গা গ্রামে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ, বিজিপি ও সেনাবাহিনী। এনভিসি না নিলে মংডুর চেয়ে অবস্থা খারাপ হবে বলে রোহিঙ্গাদের হুমকি দেয় পুলিশের এক কর্মকর্তা। এ ছাড়া বারিজাপাড়া এলাকায় তিনজন রোহিঙ্গা এনভিসি নিতে না চাইলে তাদের ধরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে সৈন্যরা। এনভিসিতে রোহিঙ্গাদের বাঙালি এবং বাংলাদেশ থেকে আগত অভিবাসী হিসেবে পরিচিতি লিপিবদ্ধ করার কারণে রোহিঙ্গারা তা নিচ্ছে না। ফলে প্রশাসন তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে জাতিসঙ্ঘে প্রস্তাব পাস, বিরোধিতায় চীন, রাশিয়াসহ ১০ দেশ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া এবং রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা কর্মীদের প্রবেশাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক একজন বিশেষ দূত নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা(ওআইসি) উত্থাপিত প্রস্তাবটি ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ১২২ ভোট ও বিপক্ষে ১০ ভোট পরেছে। এছাড়া ২৪টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার ছাড়াও রয়েছে চীন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, লাউস, ফিলিপাইনস, ভিয়েতনাম, বেলারুস, সিরিয়া ও জিম্বাবুয়ে। এর আগে প্রস্তাবটি জাতিসঙ্ঘ সাধারন পরিষদের থার্ড কমিটিতে পাস হয়েছিল। এতেও বিপুল ভোটে তা পাস হয়। সাধারন পরিষদের বাজেট কমিটির কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক একজন বিশেষ দূত নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ থামছেই না। বিভিন্ন সীমান্ত ছাড়াও রাতের অন্ধকারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাফ নদী ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা। এ ছাড়া নোম্যান্স ল্যান্ডে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে। শুক্রবার রাখাইন থেকে নৌকায় সাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফের হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে আসেন রাখাইনের মংডু শহরের নলবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন। তিনিসহ কয়েকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাহাড়ে লুকিয়েছিলেন।
কিন্তু খাওয়ার মতো কিছু ছিল না। পানি ছাড়া কোনো খাদ্যসামগ্রী নেই রাখাইনে। মোহাম্মদ আমিন বলেন, দংখালী চরে তাঁবু টাঙিয়ে প্রায় ১৫ দিন মানবেতর জীবন-যাপন করেছি। বুধবার রাতে নৌকায় করে টেকনাফের খোরেরমুখ খাল দিয়ে সাগরপথে ঢুকে পড়ি। বেড়িবাঁধের পাশে এক দিন অবস্থান করার পর গত শুক্রবার এই ত্রাণকেন্দ্রে চলে এসেছি। আমাদের নৌকায় শিশু, নারীসহ ১৪ জন ছিল। একই গ্রামের আমান উল্লাহ বলেন, এত দিন রাখাইনেই আত্মগোপনে ছিলাম। কিন্তু এখন আর সেখানে থাকার সুযোগ নেই। পাশের পুকুরের পানিও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলে আসতে হলো। গত শুক্রবার ৩২টি পরিবারের ১৩০ জন রোহিঙ্গা টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালীতে সেনাবাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রে আসে। এ ছাড়া বিগত এক সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। আমিনা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, যেসব রোহিঙ্গা সে দেশে রয়ে গেছে তাদের দেশ ছাড়ার জন্য হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। সেখানে এখনো নির্যাতন থামেনি। তিনি আরো জানান, তার বাড়ি বুচিডং বাঘগুনা পাড়া গ্রামে। তার স্বামীর তিন একর জমি ছিল। সেই জমিতে ধান চাষ ও পানের বরজ করে সুখের সংসার চলত। কিন্তু এখন সেনারা রোহিঙ্গাদের ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। কেউ খাবারের সন্ধানে বের হলে তাদের হত্যা করছে। অবরুদ্ধ করে রাখায় তাদের মজুদ খাবার শেষ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। সাবরাং হারিয়াখালীতে সেনাবাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিগত এক সপ্তাহে নাফ নদী পেরিয়ে ও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নতুন করে প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে।
৮ লাখ ৯১ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন : উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনকার্যক্রম চলছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আট লাখ ৯১ হাজার রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরসি) তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে আসা মিয়ানমার নাগরিক ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৮০০ জন। গত ২৫ আগস্টের আগে এখানে অবস্থান করা মিয়ানমার নাগরিক সংখ্যা দুই লাখ চার হাজার ৬০ জন। তিনি বলেন, প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের আসা অব্যাহত থাকায় এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি নিবন্ধনের কাজও দ্রুত চলছে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের উপপরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকের হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আট লাখ ৯১ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। এনভিসি না নেয়ায় নির্যাতন ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগ অব্যাহত : নির্যাতন-নিপীড়নে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে সমঝোতা চুক্তি ও যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পরও রাখাইনের রোহিঙ্গাদের বসতবাড়িতে আগুন দিচ্ছে সেনাবাহিনী। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে শুরু হওয়া সেনা তাণ্ডব এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের মতো রোহিঙ্গাদের গণহত্যা না করলেও আটক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, অবরোধ ও শারীরিক নির্যাতন থামায়নি সেনারা। গত চার মাসে রাখাইনে লক্ষাধিক ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। সূত্র জানিয়েছে, সেনা তাণ্ডবের মুখেও যেসব রোহিঙ্গা আরাকানে রয়ে গেছে, তাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে সৈন্যরা। বিশেষ করে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নামের অভিবাসন পরিচয়পত্র না নেয়ার অজুহাতে তাদের মারধর, জীবিকার পথ রুদ্ধ করা, যৌন হেনস্থা, ধর্মীয় ব্যাপারে মানহানিকর কথা বলা এবং পবিত্র কুরআন ও মসজিদের অবমাননা করছে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মীরা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, সেনাবাহিনীর বুচিডং জেলার ৫৫১ নম্বর ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা প্রতিদিন আগুন দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের বাড়িতে।
এনভিসি না নেয়া, দাবিকৃত চাঁদা না দেয়া, হাটবাজারে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে দোষারোপ করে রোহিঙ্গা বাড়িতে আগুন দেয় সেনারা।এ ছাড়া প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতনও করছে। গত বুধবার রাতে রাচিডং এলাকার সিন্দকের পুঁইছড়িতে একটি বড় বাড়িতে আগুন দেয় সৈন্যরা। বাড়ির মালিক হামিদ হোসাইন বিন এজাহার বলেন, এনভিসি না নেয়ার অভিযোগে আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সেনারা। কিন্তু আমি এত টাকা দিতে না পারায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা আমার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। রোহিঙ্গা সূত্র আরো জানিয়েছে, প্রতিদিনই বুচিডং, মংডু ও রাচিডংয়ের উপকূলীয় এলাকার রোহিঙ্গা জেলেদের নৌকা জব্দ ও ঘাট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। জেলেরা এনভিসি নিলে পরিস্থিতি আবারো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। এদিকে বুচিডংয়ের বিভিন্ন রোহিঙ্গা গ্রামে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ, বিজিপি ও সেনাবাহিনী। এনভিসি না নিলে মংডুর চেয়ে অবস্থা খারাপ হবে বলে রোহিঙ্গাদের হুমকি দেয় পুলিশের এক কর্মকর্তা। এ ছাড়া বারিজাপাড়া এলাকায় তিনজন রোহিঙ্গা এনভিসি নিতে না চাইলে তাদের ধরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে সৈন্যরা। এনভিসিতে রোহিঙ্গাদের বাঙালি এবং বাংলাদেশ থেকে আগত অভিবাসী হিসেবে পরিচিতি লিপিবদ্ধ করার কারণে রোহিঙ্গারা তা নিচ্ছে না। ফলে প্রশাসন তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পরামর্শ পাক সেনাপ্রধানের

ভারতসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে জোরদার করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত ইসলামাবাদের, পাকিস্তান সরকারকে এমন পরামর্শ দিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া। পাকিস্তানি সংবাদপত্র দ্য ডনে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি ফোরামে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়ে জেনারেল বাজওয়া এ কথা বলেন। উপমহাদেশে শান্তি বজায় রাখতে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলাই উত্তম বলে মনে করেন তিনি। পাক রাজনীতিবিদ ও সরকারকে এ ব্যাপারে পাক সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সমর্থন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা ওই সিনেটে জেনারেল বাজওয়া দিল্লির বর্তমান কর্মকাণ্ডে  উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারতের ওপর অভিযোগ তোলে বাজওয়া বলেন, পাকিস্তানে হিংসা-সন্ত্রাস আর অস্থিরতা সৃষ্টি করতে গোপনে মদদ দিয়ে যাচ্ছে দিল্লি। আর এর জন্য আফগানিস্তানের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ‘এনডিএস’-এর সঙ্গে ভারতের তরফে গোপনে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইসলামাবাদকে আলোচনার মাধ্যমেই সেটি বন্ধ করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেন জেনারেল বাজওয়া। বাজওয়ার এমন বক্তব্যে পাকিস্তান বিশেষজ্ঞদের মতামত, এর পরও ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে ওঠা কিছুটা অসম্ভব। পাক সেনাপ্রধানের এমন মিশ্র বক্তব্য ও হাত মেলানোর কথা সত্যিই কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে ভারত সংশয়ে থাকবে।

কেরানীগঞ্জে পুলিশ সোর্সকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

কেরানীগঞ্জে সুবেল (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার ভোরে বন্দডাকপাড়া জোড়াপুকুর এলাকায় বাসার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, নিহত সুবেল পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। নিহতের বড় ভাই রুবেল জানান, রোববার রাতে খাবার খেয়ে বাসা থেকে বের হয় সুবেল। সারা রাত বাসায় ফেরেনি। ভোরের দিকে লোকজনের চিৎকার শুনে বাসার সামনে গিয়ে দেখেন সুবেল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কে বা কারা তাকে রক্তাক্ত জখম করে বাসার সামনে রেখে গেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক সুবেলকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, সুবেল অবিবাহিত ছিল। রিকশা-ভ্যান চালাত। মাঝে মাঝে পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাজ করত। স্থানীয় অনেক মাদকসেবীকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে সুবেল। এ কারণে কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করতে পারে বলে তার ধারণা। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই শফিউল আজম জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর থানা এলাকায়। বাবার নাম মৃত রউফ হাওলাদার। বন্দডাকপাড়া এলাকায় সুবেলের বড় ভাই রুবেল বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ থাকেন। তাদের সঙ্গেই থাকত সুবেল। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, নিহত ওই যুবক মাদকসেবী ছিল। মাদক সেবন করে রাতবিরাতে ঘোরাঘুরি করত বলে জানতে পেরেছি। তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।

উৎসব প্রার্থনায় চলছে বড়দিন উদযাপন

 উৎসব-আনন্দ আয়োজন আর প্রার্থনার মধ্য  দিয়ে বাংলাদেশে খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা উদযাপন করছে যিশুখ্রিস্টের জন্মতিথি বড়দিন। ফুল, রঙিন কাগজ আর আলোয় আলোয় সাজানো হয়েছে গির্জাগুলো। ক্রিসমাস ট্রি থেকে ঝুলছে আলোর মালা। খ্রিস্টের জন্মের ঘটনার প্রতীক গোশালাও বানানো হয়েছে।
বড়দিন শুরু হয়েছে সোমবার। তবে এর আগের রাত থেকেই উৎসবে মেতে উঠেন খ্রিস্টানরা। তাদের বাড়ি বাড়ি চলছে উৎসব। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বড়দিন উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, যিশুখ্রিস্টের মতে মানুষের পরিত্রাণের উপায় হল জগতের মাঝে ভালোবাসা, সেবা, ক্ষমা, মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ অবস্থান। পূর্ণ অন্তর, মন ও শক্তি দিয়ে তিনি ঈশ্বর ও সবাই মানুষকে ভালোবাসতে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনসহ সমস্যাসংকুল বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যিশুখ্রিস্টের শিক্ষা ও আদর্শ খুবই প্রাষঙ্গিক বলে আমি মনে করি।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ আবহমানকাল ধরে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। ‘বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। আমি একটি সুখীসমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই,’ যোগ করেন রাষ্ট্রপতি।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব দেশে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি বলেন, ন্যায়, শান্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা প্রবর্তন করা ছিল যিশুখ্রিস্টের অন্যতম ব্রত। ‘বিপন্ন ও অনাহারক্লিষ্ট মানুষের জন্য মহামতি যিশু নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার ন্যায়, জীবনাচরণ ও দৃঢ় চারিত্রিক গুণাবলির জন্য মানব ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন। আজকের সমাজব্যবস্থায় তার শিক্ষা ও আদর্শগুলোকে অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’ রোববার রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন গির্জা ও উপাসনালয়ে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বড়দিনের উদযাপন। সেখানে মঙ্গলবাণী পাঠের মাধ্যমে নিজের পরিশুদ্ধি এবং জগতের সব মানুষের জন্য মঙ্গল কামনা করা হয়। সোমবার সকালে কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথিড্রালে হয় বড়দিনের প্রার্থনা। সার্বজনীন সে প্রার্থনায় অংশ নেয় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হাজারও নারী-পুরুষ ও শিশু। গির্জার পাশাপাশি খ্রিস্টানদের বাড়িতে বাড়িতে এবং রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে চলছে নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে শিশুদের জন্য আলাদা আয়োজন করেছে পাঁচ তারকা হোটেলগুলো।

কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৬

আফগানিস্তানের কাবুলে জাতীয় গোয়েন্দা দফতরের কাছে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় তিনজন আহত হন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। খবর বিবিসির। সোমবার সকালে এক হামলাকারী পায়ে হেঁটে ভবনের প্রবেশ মুখে আত্মঘাতী হামলাটি চালায়।
আহতদের মধ্যে এক নারী আছেন, যিনি ঘটনার সময় সাইকেলে চড়ে ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীটির মুখপত্র আমাক। এক সপ্তাহ আগে কাবুলে আফগানিস্তানের ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট ফর সিকিউরিটির একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আরেকটি আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। তখন উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতির আগেই হামলাকারীদের হত্যা করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। এর আগে অক্টোবর মাসে এক শিয়া মসজিদে হামলায় কমপক্ষে ৩৯ জন এবং মে মাসে একটি কূটনৈতিক কোয়ার্টারে এক বোমা হামলায় ১৫০ জন নিহত হন।

সবার আগে একলা ট্রাম্প

হিলারি ক্লিনটনের মতো একজন অভিজ্ঞ ও তুখোড় রাজনীতিবীদকে হারিয়ে রাজনীতিতে নিতান্তই নবিশ ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন, তখন সেটাকে ‘ট্রাম্পের ওভারট্রাম্প’ ছাড়া আর কীই-বা বলার ছিল? ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে বসেই তিনি ঘোষণা দিলেন, ‘সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র’—এই হবে তাঁর নীতি। এরপর প্রায় এক বছর হতে চলল এবং এ পর্যন্ত এই আনাড়ি খেলোয়াড় যা যা করার চেষ্টা করেছেন, তা এক বাক্যে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়, ‘সবার আগে ট্রাম্প’। নিজের লক্ষ্য পূরণে দেশে বা দেশের বাইরে আর কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না ট্রাম্প। এই করতে গিয়ে তাঁর দেশ একলা হয়ে পড়ছে বিশ্ব থেকে। সর্বশেষ ঘটনা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের স্বীকৃত নীতি ছুড়ে ফেলে তাঁর এই একতরফা ঘোষণায় জলাঞ্জলি যেতে বসেছে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রচেষ্টা। আবাসন, হোটেল ও ক্যাসিনো ব্যবসা আর পার্টটাইম শোবিজ—এই নিয়ে জীবনের বড় অংশ কাটিয়ে ট্রাম্প হঠাৎ করে ঢুকে পড়লেন রাজনীতিতে। প্রথম দিকে মনে হয়েছিল, কোটিপতি ব্যবসায়ীর নেতা হওয়ার খায়েশ, কিন্তু রিপাবলিকান দলের এক ডজনের বেশি বাঘা নেতাকে হারিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়ার পর চমকে গিয়েছিল মার্কিন সমাজ ও পুরো বিশ্ব। আর শেষমেশ হিলারিকে যখন হারালেন, তখন তা রীতিমতো বিস্ময়। সেই বিস্ময় এখনো চলছে এবং ক্ষণে ক্ষণে ভড়কে দিচ্ছে বিশ্বকে। শুরুটা হয়েছিল হোয়াইট হাউসে বসে এক সপ্তাহের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে, মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে। এরপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি ‘নিছক ধাপ্পাবাজি’ আখ্যা দিয়ে নিজের দেশকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে, বিশ্বসমাজের মাথায় পড়ল আরেক বাজ। আর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাঁর ঠেলাঠেলি ও হুমকি-ধামকিতে তটস্থ আধুনিক সভ্যতা, কখন না জানি পরমাণুযুদ্ধ বেধে যায়। তবে সর্বক্ষণ সবচেয়ে তটস্থ থাকতে হচ্ছে তাঁরই আপনজনদের। তাঁর মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও হোয়াটাই হাউসের বড় কর্তাদের। তাঁদের কার চাকরি কখন আছে কখন নেই, সে এক বড় অনিশ্চয়তা। হোয়াইট হাউসের সিল-প্যাডে স্বাক্ষর লাগছে না। হাই তুলতে তুলতে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে টুইটারে ট্রাম্পের তিন শব্দের টুইট। হোয়াইট হাউসের চাকরির পাশাপাশি তাতেই নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে, ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের কোথায় আছে আর কোথায় নেই।

কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৬

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত তিনজন। আজ সোমবার সকালে কাবুলে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ের পাশে এই আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সকালের ব্যস্ত সময়ে মানুষ যখন কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন, এ সময় ওই আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। হতাহত ব্যক্তিরা বেসামরিক ব্যক্তি। এখনো কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ বলেন, ‘আত্মঘাতী বোমা হামলায় একটি গাড়িতে থাকা ছয়জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত তিনজন। হামলাকারীরা একটি টয়োটা সিডানে করে এসে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয় পেরিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটায়। কাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি প্রধান সড়কে ঘটেছে। আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্যের সত্যতা দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। গত শুক্রবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে পুলিশের একটি কার্যালয়ের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ছয় পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আফগানিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তালেবানরা দায় স্বীকার করেছে। গত সপ্তাহে জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালকদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এর আগে গত ৩১ মে কাবুলের কূটনৈতিক এলাকায় বোমা হামলার ঘটনায় ১৫০ জন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ৪০০ জন।

ছোট ফ্ল্যাটে লাভ কম, নজরও কম

ছোট পরিবার। টানাটানি আছে অর্থেরও। তারা ছোট আকারের বা ১ হাজার ২০০ বর্গফুটের কম আয়তনের ফ্ল্যাট কিনতে চান। এমন ক্রেতার সংখ্যা অনেক হলেও কেবল অল্প কিছু আবাসন প্রতিষ্ঠানের কাছেই ছোট ফ্ল্যাট আছে। অধিকাংশ আবাসন প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে নজর কম। তাদের বক্তব্য, ছোট ফ্ল্যাট ব্যবসায়িকভাবে কম লাভজনক হয়ে থাকে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাবের আবাসন মেলা। গতকাল রোববার মেলায় অংশ নেওয়া কয়েকটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ছোট আকারের ফ্ল্যাটের খোঁজ মিলল। তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং ফর ফিউচার। উত্তরা, মিরপুর ও বসুন্ধরা এলাকায় ৯৭০ থেকে ১ হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট প্রকল্প আছে তাদের। প্রতি বর্গফুটের দাম পড়বে সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় নির্বাহী নাজমুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছোট আকারের ফ্ল্যাটের চাহিদা আছে। আমরা মাঝারি ও বড় আকারের পাশাপাশি অল্প কিছু ছোট আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণ করি। তবে যেগুলো নির্মাণ করা হয়, তা খুব দ্রুতই বিক্রি হয়ে যায়।’ ছোট আকারের ফ্ল্যাটের তিনটি প্রকল্প আছে বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেডের (বিটিআই)। উত্তরার দিয়াবাড়ি, উত্তরখান ও সাভারে তাদের প্রায় পৌনে ছয় শ ছোট আকারের ফ্ল্যাট। এসব ফ্ল্যাটের আয়তন ৭০০ থেকে শুরু। সাভারে ৭০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে আছে ২টি শয়নকক্ষ, ১টি ড্রয়িং কাম ডাইনিং, ২টি বাথরুম ও ২টি ব্যালকনি। দাম ৩৫ লাখ টাকা। দিয়াবাড়িতে ৯০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের দাম ৬৮ লাখ টাকা। জানতে চাইলে বিটিআইয়ের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইয়াসিন রুমন বলেন, অধিকাংশ ক্রেতাই তিন শয়নকক্ষের ফ্ল্যাট চান। ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট হলে ৩টি শয়নকক্ষ পাওয়া যায়। ফ্ল্যাটের আয়তন ৯০০ বর্গফুটের নিচে হলে ২টি শয়নকক্ষ হয়। তাই আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ছোট আকারের ফ্ল্যাট কম করে। তবে চাহিদা থাকার কারণেই বিটিআই ছোট আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে। সাড়াও মিলছে ভালো।
১ হাজার ১০০ বর্গফুট আয়তনের কয়েকটি ফ্ল্যাট আছে বিশ্বাস বিল্ডার্সের। মিরপুর এলাকায় তাদের এই ছোট আকারের ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম সাড়ে ছয় হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় জমির আকার ও ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী আমরা ফ্ল্যাট নির্মাণ করি। সে জন্য সব সময় ছোট আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা সম্ভব হয় না।’ এদিকে অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল রিহ্যাবের মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল। রিহ্যাবের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিক্রিবাট্টা হয়েছে। তবে ফ্ল্যাটের দাম নিয়ে অসন্তোষও আছে। শহিদুল ইসলাম নামের একজন সরকারি চাকরিজীবী গতকাল মেলায় ফ্ল্যাটের খোঁজখবর নিতে এসেছিলেন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফ্ল্যাটের দাম অস্বাভাবিক বেশি। আমাদের মতো সীমিত আয়ের চাকরিজীবীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।’ দেশের আবাসন খাতের সবচেয়ে পুরোনো প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড (ইএইচএল)। প্রতিষ্ঠানটি বনানী, বসুন্ধরা, সার্কিট হাউস রোড, বেইলি রোড, গুলশান এলাকার ১৬ প্রকল্পের প্রায় ৫০টি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছে। ফ্ল্যাটের আয়তন ১ হাজার ৬৭৫ থেকে ২ হাজার ২৭২ বর্গফুট। প্রকল্পভেদে প্রতি বর্গফুটের দাম সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানের সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও ব্যবসা উন্নয়ন) উজ্জ্বল চক্রবর্তী বলেন, মেলায় তাঁদের আটটি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান প্লটও বিক্রি করছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ইউএস-বাংলা অ্যাসেট। তাদের পূর্বাচল আমেরিকান সিটি নামের প্রকল্পে ২ দশমিক ৮, ৩, ৪ ও ৫ কাঠার প্লট আছে। জি ব্লকে প্রতি কাঠার দাম ১০ লাখ টাকা। এ, বি ও ডি ব্লকের প্রতি কাঠার দাম ১৮ লাখ টাকা। মেলা উপলক্ষে কাঠাপ্রতি ২৫ শতাংশ মূল্যছাড় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মেলায় কাঠাপ্রতি বুকিং ১০ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপক মীর গোলাম মোরশেদ ইমরান বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পে প্রস্তুত (রেডি) প্লট আছে। ক্রেতারা সর্বনিম্ন ৭ হাজার ৪১৬ টাকা মাসিক কিস্তিতে প্লট কিনতে পারবেন।’

ইয়াবা ব্যবসা ঠেকাবেন বদি!

সবাই জানেন, ইয়াবা আসছে টেকনাফ থেকে। তাহলে সেটা কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? এলাকার সাংসদই বা কী বলেন। দিনাজপুর-২ আসনের সাংসদ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর এই প্রশ্নের জবাবে টেকনাফের সাংসদ (কক্সবাজার-৪) আবদুর রহমান বদি বলেন, ‘আমি নিজেও জানি না রিকশাচালক কী করে গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যাচ্ছে। আসলে ইয়াবা ব্যবসা করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ নেতারা।’ গতকাল রোববার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সীমান্ত সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় ইয়াবাসহ অনেক বিষয়ই উঠে আসে। সাংসদ আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ অনেক পুরোনো।
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সভায় বলেছেন এখন যেসব ইয়াবা চালান আটক করা হচ্ছে, তাতে কোনো পাচারকারী ধরা পড়ছে না। মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে বড় বড় ইয়াবার চালান যাচ্ছে। ইয়াবার চালান বন্ধে সহায়তার কথা বলেন বদি। মতবিনিময় সভায় বেশির ভাগ সাংসদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এই সমন্বয়হীনতার কারণে মাদক পাচার ও চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। আবার সাংসদেরা এতে কোনো ভূমিকাও রাখতে পারছেন না। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চোরাচালান বন্ধের নামে সীমান্ত এলাকায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে, গ্রেপ্তারের নামে বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে। সন্ধ্যার পর জোর করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছে। বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সীমান্ত এলাকার ৩৩ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ ১০-১২ জন সাংসদ তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন ও ফরিদ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়াল অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। সভা সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। সভায় ঝিনাইদহ এলাকায় বিজিবি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাংসদ নবী নেওয়াজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সীমান্তের ওপারে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর বিজিবি লোকজনের বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে, তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিজিবির ভয়ে দুই হাজারের বেশি লোক এলাকাছাড়া হয়েছে। ভারতীয় বলে মানুষের গোয়াল থেকে গরু নিয়ে যাচ্ছে বিজিবি। তারা সন্ধ্যার পর এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম রব্বানী সভায় বলেন, সীমান্তের ওপর থেকে আসা গরু বিট বা খাটালে রাখা হয়। সেই খাটালের অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কারা খাটালের অনুমোদন পায় তা সাংসদেরা জানেন না। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্তে অস্ত্র চোরাচালান হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আবদুল ওদুদ বলেন, পুলিশ ও বিজিবির কাজের কোনো সমন্বয় নেই। কুষ্টিয়া-১ আসনের সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, মাদক পাচারের অভিযোগে একজনকে ধরা হলেও দেখা যায় তার আশপাশের আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। সীমান্ত অতিক্রম করে বন্য হাতি এসে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে বলে জানান শেরপুর-৩ আসনের সাংসদ এ কে এম ফজলুল হক।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের আলোচনা করা উচিত। তাঁর বক্তব্য সমর্থন করেন জামালপুর-১ আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদ। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানতে চান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাতি ঠেকাবে কী করে? বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্ত সংরক্ষিত রাখতে কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিজিবিকে আরও ১৫ হাজার জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে চেকপোস্ট বাড়ানো হচ্ছে এবং রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশও যাতে সীমান্তে নজর রাখে, সে জন্য সাংসদেরা প্রস্তাব দিয়েছেন। বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কিছু এলাকায় সমন্বয়ের অভাব আছে। সব বাহিনীর মধ্যে যাতে সমন্বয় থাকে সে জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। চোরাচালান বন্ধে সমন্বয় থাকা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদেরা।’ সভায় সাংসদদের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মাদক এ দেশে তৈরি হয় না, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসে। টেকনাফ দিয়ে ইয়াবাসহ যে বিভিন্ন মাদক আসে তা বন্ধ করতে পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদেরা। সীমান্তে হত্যা কমে এসেছে বলে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হত্যার সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৮, এখন ২০১৭ সালে এসে তা ২১ জনে নেমে এসেছে। মাদক চোরাচালানে সাংসদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য জড়িত এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি বা বাহিনীর সদস্য যেই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারও সম্পৃক্ততা পেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিআরটিসির ৪৫ এসি বাসের সব বিকল

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির ৪৫টি এসি বাসের সব কটিই বিকল হয়ে গেছে। গত আগস্ট মাস থেকে এই সার্ভিস বন্ধ আছে। নারায়ণগঞ্জে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের অভিযোগ, বেসরকারি একটি পরিবহন সংস্থাকে লাভবান করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরটিসির বাসগুলো বিকল করা হয়েছে। সম্প্রতি বিআরটিসির নারায়ণগঞ্জ ডিপোতে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি এসি বাস বিকল হয়ে পড়ে আছে। ডিপোর ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. মোশাররফ হোসেন সিদ্দিকি প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি এসি বাস শীতল নামার পর থেকে বিআরটিসির ব্যবসা কমতে থাকে। কারণ সেগুলো ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। এগুলোতে ওয়াই-ফাই আছে। আর বিআরটিসির বাসগুলো পুরোনো হওয়ায় যাত্রী কমে আসছিল। জ্বালানি খরচও উঠত না। তাই বন্ধ হয়ে গেছে। শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, ‘তিন মাস ধরে কর্মক্ষেত্রের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। গত তিন মাসে এই রুটে বিআরটিসির এসি বা নন এসি, কোনো বাস চোখে পড়েনি। এখন বেসরকারি বাসগুলোতে চলাচল করি। সেগুলোর ভাড়া অনেক বেশি। বিআরটিসির বাস থাকলে স্বল্প খরচে চলাচল করা যেত।’ বিআরটিসির এসি বাসগুলো বিকল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিআরটিসির দায়িত্বশীল দুজন কর্মকর্তা বলেন, এর মূল কারণ দুটি। প্রথমত, দেশের টেকনিশিয়ানদের ভালোভাবে প্রশিক্ষিত করা যায়নি। দ্বিতীয়ত, এসব বাসের যন্ত্রাংশ দেশের বাজারে পাওয়া যায় না। রক্ষণাবেক্ষণও বেশ দুর্বল ছিল।
তবে নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, নারায়ণগঞ্জে পরিবহন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিআরটিসির নন এসি বাস এই রুটে দেওয়া হয়নি। এসি বাস দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে শীতল বাস নামানোর কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে পর্যায়ক্রমে লোকসান দেখিয়ে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, এই রুটে অন্য সব বেসরকারি পরিবহন ঠিকই চলছে। তাহলে বিআরটিসির বাস এত বিকল হয় কেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিআরটিসির ভেতরেই বেসরকারি পরিবহনগুলোর মালিকদের লোকজন থাকেন, যাঁরা যন্ত্রাংশ বিকল করার কাজ করেন। শীতল এসি ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘বিআরটিসির ওপর আমাদের কোনো প্রভাব নেই। ঢাকা-মুন্সিগঞ্জে তো শীতল বাস নেই। কিন্তু সেখানেও বিআরটিসির পরিস্থিতি খারাপ। প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।’ বিআরটিসির জিএম (টেকনিক্যাল) মেজর মাহমুদুর রহমান গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দাইয়ো কোম্পানির ২৫৫টি এসি ও নন এসি বাস আনা হয়। এর মধ্যে ওই বছরের আগস্ট মাসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৪৫টি এসি বাস দেওয়া হয়। ২৫৫টির মধ্যে বর্তমানে ১০৪টি বাস বিকল হয়ে বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে আছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ৪৫টি এসি বাসও আছে। বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল প্রশাসনিক দুর্বলতা। কয়েকজন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বেসরকারি বাসের মালিক ও শ্রমিক সমিতির কোনো চাপ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ ধরনের বাস্তবতা কিছুটা আছে। তবে কৌশলে ব্যবস্থা করছি। অনেক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আছেন। বিআরটিসির বিভিন্ন জায়গায় পরোক্ষ চাপ আছে। এগুলোর উত্তরণ ঘটিয়ে সার্ভিস ভালো করা যায় কি না, সেই চেষ্টা চলছে।’

মলি নাগরিকত্ব নিতে আগ্রহী

জন্মের প্রায় ৪৫ বছর পর জন্মভূমিতে পা দিয়ে শামা জামিলা মলি হার্ট বেশ আনন্দিত। কানাডার নাগরিক শামার জন্ম বাংলাদেশে, ১৯৭২ সালের ৪ মে। মাত্র তিন মাস বয়সেই তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, কারণ এই দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর গর্ভধারিণী মা ত্যাগ স্বীকার করলেও সন্তানের বেড়ে ওঠার দায়িত্ব বহনের সক্ষমতা তাঁর ছিল না। হয়তো সেই ক্ষমতা ছিল না এই সমাজেরও। ফলে মলির মতো ১৫ জন নবজাতককে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল সুদূর কানাডায়। আমাদের এখানে মলির মতো সন্তানদের পরিচয় ‘যুদ্ধশিশু’ হিসেবে। গতকাল রোববার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ছিল মলি হার্টের আলাপচারিতা। সেখানেই বক্তারা দাবি তুললেন মলিদের মতো সন্তানেরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের মায়েদের ত্যাগের ফলেই আজ আমরা স্বাধীনতার গৌরব অর্জন করেছি। কাজেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই সন্তানদের খুঁজে এনে সম্মানিত করা। তাঁরা চাইলে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া। আলাপচারিতা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী, বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের সন্তান নুজহাত চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল বহ্নিশিখার শিল্পীদের দুটি সমবেত গান দিয়ে। ১৯৭২ সালে কানাডার ১৪টি পরিবার ১৫টি যুদ্ধশিশুকে দত্তক নেয়। সন্তানের স্নেহ-মমতায় তাদের লালনপালন করে।
সেই শিশুদের মধ্যে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি। সেই আগ্রহ থেকেই শামা জামিলা মলি হার্টের বাংলাদেশে আসা। গত শুক্রবার তিনি তাঁর সপ্তম গ্রেডের শিক্ষার্থী মেয়ে সাবানা বনেলকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। তাঁদের ঢাকায় আসার ব্যাপারে উৎসাহিত এবং যাবতীয় ব্যবস্থা করেছেন যুদ্ধশিশুবিষয়ক গবেষক মুস্তফা চৌধুরী। মলি হার্ট বলেছেন, কৈশোর পেরোনোর পরে তাঁর বাবা-মা জোয়েল হার্ট ও ট্রুডি হার্ট জন্মের বিষয়টি তাঁকে জানিয়ে দেন। এই দম্পতির ঔরসজাত সন্তান একজন এবং দত্তক নেওয়া সন্তান আটজন। এই নয় ভাইবোন তাঁরা এমনভাবে বড় হয়েছেন যে সেখানে আপন-পর বলে কোনো বোধ তাঁদের ভেতরে ছিল না। মলি ইংরেজি সাহিত্যে শিক্ষা শেষে মন্ট্রিলের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। আলাপচারিতায় মলি বললেন, গর্ভধারিণীর কথা তিনি অনেক ভেবেছেন। তাঁর প্রতি খুবই অন্যায় করা হয়েছিল। তিনি নিরুপায় ছিলেন। গর্ভধারিণীর প্রতি মলির কোনো ক্ষোভ, অভিযোগ নেই, বরং গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। যদিও কোনো দিনই তাঁর সঙ্গে দেখা হবে না, তবু তাঁর জন্য সহানুভূতি থাকবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে মলি বলেছেন, তিনি কানাডার নাগরিক। তবে বাংলাদেশ যদি তাঁকে নাগরিকত্ব দিতে চায়, তবে তিনি সানন্দেই তা গ্রহণ করবেন। তবে এ জন্য কী করতে হবে তা তাঁর জানা নেই। বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা তাঁর অনেক দিন থেকেই ছিল। নানা কারণে হয়ে ওঠেনি। এখন থেকে মাঝে মাঝে এখানে আসার ইচ্ছা আছে। এ দেশের লোকের আন্তরিকতা ও প্রকৃতি তার মন ছুঁয়ে গেছে। কাল যাবেন (আজ সোমবার) পুরান ঢাকার ইসলামপুরের মিশনারি অব চ্যারিটিতে, যেখানে তাঁর জন্ম হয়েছিল সেই জায়গাটি দেখতে। মুস্তফা চৌধুরী প্রথম আলোকে বললেন, কানাডার যুদ্ধশিশুদের নিয়ে তিনি প্রায় ২০ বছর থেকে গবেষণা করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় আর্কাইভে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। কানাডার জাতীয় আর্কাইভ থেকে তিনি তথ্য সংগ্রহ করে যুদ্ধশিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর একটি বই একাত্তরের যুদ্ধশিশু: অবিদিত ইতিহাস প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রথম দলে ১৫ শিশুকে কানাডায় দত্তক দেওয়া হয়। মলি হার্ট প্রথম দলের একজন।

পুকুরমালিকের মামলা, বিপাকে কৃষক

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে দুটি বিলের ফসলের মাঠ পানাপুকুরে পরিণত হয়েছে। তার প্রতিকার চাইতে গিয়ে এবার সেই কৃষকেরাই উল্টো বিপাকে পড়েছেন। একজন পুকুরমালিক কৃষকদের নামে আদালতে মামলা করেছেন। কৃষকেরা গত শনিবার আদালতের নোটিশ পেয়েছেন। কয়েকজন কৃষক বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। এ দুই মাস পর আর তাঁদের পানি বের করেও কোনো লাভ হবে না। আবাদের মৌসুম পার হয়ে যাবে। জমি থাকতেই এবার তাঁদের না খেয়ে মরতে হবে। তবে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার সাদাত বলেন, তিনি ভুক্তভোগী কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। যাতে তাঁদের কোনো বিপদ না হয়, সেটা তিনি দেখবেন। উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের অনুলিয়ারবিল ও পোড়াবিলে ধান, পান, মরিচ, আলু, লাউসহ সব ধরনের সবজি চাষ হয়। বর্ষায় বিলের পানি একটি সরকারি খাল দিয়ে বারনই নদে নেমে যায়। এ জন্য তাঁদের ফসলের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে কয়েকজন চাষি বলেন, ছয় বছর ধরে এই বিলে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। পুকুরমালিকেরা সাধারণ চাষিদের বাধ্য করছেন জমি বিক্রি করতে। এমনকি জোর করেও জমি দখলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। খালের মুখে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করার কারণে প্রায় ৩০০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনা নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর ‘দুর্গাপুরে ফসলের মাঠ এখন পানাপুকুর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সে সময় ভুক্তভোগী কৃষকেরা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরের পাড় কেটে পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে কয়েকজন কৃষক বলেন, যে পরিমাণ গভীর করে নালা কাটা হয়েছিল, তাতে পুরো বিলের পানি নিষ্কাশন হয়নি। এ কারণে ফের তাঁরা (কৃষকেরা) ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। অবশেষে গত মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি বের করে দেওয়ার জন্য আটজন চৌকিদার পাঠানো হয়। কিন্তু শামীম রেজা নামের একজন পুকুরমালিক তাতে বাধা দেন। চৌকিদারেরা ফিরে যান। পরে গত শনিবার দুর্গাপুর থানার পুলিশ ১০ জন কৃষকের কাছে আদালতের নোটিশ পৌঁছে দেন। শামীম রেজা গত বুধবার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁদের নামে ওই মামলা করেন। তিনি মামলার এজাহারে বলেন, তিনি শান্তিপ্রিয় ব্যক্তি। গত মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ (১০ কৃষক) হাতে হাঁসুয়া, কোদাল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর পুকুরের পাড় কেটে মাছ ও পানি বের করে ফেলতে চান। বাধা দিলে তাঁরা তাঁকে জখম-খুন করার হুমকি দেন। পুকুরে বিষ দিয়ে মাছের ক্ষতি করারও হুমকি দেন। শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কায় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারামতে পুকুরে প্রবেশ রোধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং একই সঙ্গে সেখানে স্থিতি অবস্থায় বজায় রাখার আবেদন করেন। পরে আদালত সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল ও থানার ওসিকে শান্তি রক্ষার আদেশ দিয়েছেন। ওসি বিষয়টি দেখার জন্য এএসআই আবুল কালাম আজাদকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এএসআই গতকাল রোববার রাতে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে নোটিশটি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।’ ভুক্তভোগী কৃষক মজিবর প্রামাণিক বলেন, তাঁরা কাউকে হুমকি দেননি। পানি বের করার কাজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও দুর্গাপুর থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল। কেউ যাতে আর পানি বের করার জন্য শামীমের পুকুরের কাছে না যেতে পারে, এ জন্য তিনি (শামীম) আদালতে ওই মামলা করেছেন। এ ব্যাপারে শামীমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বাংলাদেশে নারীরাই বেশি কাজ করে


বাংলাদেশে পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি কাজ করে। ঘরে বাইরে কাজের চাপের কারণে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

‘দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ: নীতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের নীতি ও আইনে নারীর সেবামূলক কাজের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়, একজন নারী এই ধরনের গৃহস্থালির কাজ করে কোনো স্বীকৃতি পায় না।  প্রতিদিন তারা গড়ে ছয় ঘণ্টারও বেশি এ ধরনের কাজ করে থাকে। বিপরীতে একজন পুরুষ এই ধরনের কাজ করেন মাত্র একঘণ্টা।

শনিবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হোটেল লেকসোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

এসময় অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মো. হেলাল উদ্দিন, সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের(বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নাজনিন আহমেদ ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান গবেষক ড. সিমিন মাহমুদসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মিলেছে

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্যের গবেষণা প্রবন্ধ নকল করে প্রকাশ এবং বিদেশে সম্মেলনে উপস্থাপন করার প্রমাণ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫৮তম সভায় জানানো হয়, ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সিন্ডিকেট সভায় পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে ওই তিন শিক্ষককে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি তদন্তের জন্য ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই শিক্ষকেরা হলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-বারী ও এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসান আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে মিতসুবিশি মোটরসের টেকনিক্যাল রিভিউতে (নম্বর-১৬) প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধের প্রায় শতভাগ নকল করে ওই তিন শিক্ষক ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ভলিউম-২ ইস্যু-১) এবং আইসিএমআইএমই ২০১৩-এ দুটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ওই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু, ফলাফলসহ অন্য লেখকের গবেষণার সঙ্গে প্রায় শতভাগ মিল পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে উপাচার্য মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকেরা বিদেশে সেমিনারে এবং পরে একটি জার্নালে তাঁদের ওই পেপার প্রকাশ করেন। পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। সেগুলো দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় সত্যতা নিরূপণের জন্য পাঠানো হয়। ওই সব জায়গা থেকে প্রকাশিত পেপার প্রায় শতভাগ নকল বলে জানানো হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মুহাম্মদ মাছুদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। মো. হাসান আলী দেশের বাইরে থাকায় তাঁর মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মো. আব্দুল্লাহ-আল-বারী মুঠোফোনে বলেন, এ ধরনের কোনো কাজ তিনি করেছেন কি না, তা তাঁর মনে নেই। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

রাজশাহী সীমান্তে ৩ বিএসএফ সদস্য আটক


বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) তিন সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার গভীর রাতে রাজশাহীর মাঝিরদিয়াড় সীমান্ত থেকে তাদের আটক করা হয়।

রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইফতেখার শামীম আল মাসুদ জানান, চোরাকারবারিদের তাড়া করে সীমান্তের জিরোলাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে পড়লে ৩ বিএসএফ সদস্যকে আটক করা হয়। আটক বিএসএফ জওয়ানদের রাজশাহীর মাঝিরদিয়াড় সীমান্ত ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, রাতে বিএসএফ সদস্যরা মাঝিরদিয়াড় সীমান্তের কাছে টহল দিচ্ছিলেন। একই সময়ে বিজিবি সদস্যরাও টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় একদল চোরাকারবারি ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়লে বিএসএফ সদস্যরা তাদের তাড়া করে।

একপর্যায়ে তারা সীমান্তের জিরোলাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে পড়লে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি সদস্যরা তিন বিএসএফ সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। এসময় বিএসএফের আরও কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

লে. কর্নেল ইফতেখার শামীম আল মাসুদ জানান, গভীর রাতে কুয়াশার মধ্যে পথ ভুল করে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে পড়েছিল। এরা সবাই ভারতের মুর্শিদাবাদ সীমান্তের হাড়ূডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্য। ইতোমধ্যে বিএসএফের ৮৪ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারকে অবহিত করা হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত দেয়া হবে।

বন্ধু কেমন আছিস

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে গতকাল রোববার বসেছিল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে দুই দিনের এ মিলনমেলার আয়োজন করেছে বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। সুবর্ণজয়ন্তীর এ আনন্দ উৎসবের স্লোগান ছিল ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’। প্রাণের এ মেলায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন নাড়ির টানে প্রাণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সকালে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি স্থানীয় দারিয়াপুর-বরইচারা গ্রাম ঘুরে বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। মাগুরা-১ আসনের সাংসদ মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আবদুল ওয়াহ্হাব প্রধান অতিথি হিসেবে সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। ১৯৮৭ সালে বৃহত্তর যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের স্মারক বক্তা ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমান। বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু। অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক মাজেদা খাতুন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক কাজী শরিফুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি প্রকৌশলী কাজী শরিফুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ইমাম হোসেন, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম মেহেদী আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহার ও এনটিভির বার্তা সম্পাদক এস এম আকাশের সঞ্চালনায় দুই দিনের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা, উন্মুক্ত আড্ডা, স্মৃতির পাতা থেকে পেছনে ফিরে দেখা, র‍্যাফল ড্রসহ ছিল নানা আয়োজন।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ৪০ থেকে ৪৫ বছর পর অনেকে এ সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এসেছেন। দিন গড়িয়ে কিশোর থেকে যৌবন। যৌবন পেরিয়ে অনেকে আজ বৃদ্ধ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। কুশলবিনিময়ের পাশাপাশি সাবেক শিক্ষকদের খুঁজে খুঁজে পা ছুঁয়ে সালাম করছিলেন কেউ কেউ। স্মৃতির পাতা উল্টেপাল্টে দেখছিলেন অনেকে। যেসব শিক্ষক মারা গেছেন, তাঁদের কথা স্মরণ করছিলেন কেউ কেউ। তাঁদের শাসন-ভালোবাসার কথা বলে আবেগতাড়িত হচ্ছিলেন। ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি প্রিয় বিদ্যালয় ঘুরে দেখছিলেন অনেকে। প্রাক্তন এক ছাত্রের মুখ থেকে আফসোসের সুর শোনা গেল। ‘ইশ্‌, দেখতে দেখতে বুড়ো হয়ে গেলাম। অথচ মনে হয় এই সেদিনের কথা। ক্লাসে বসে আছি। স্যার ক্লাস নিচ্ছেন।’ এক প্রাক্তন ছাত্র প্রিয় বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন। বলছিলেন, ‘বন্ধু কেমন আছিস? কত দিন দেখা হয়নি। আমার কথা তোর মনে আছে? সেই যে...।’ কত কথা। কত স্মৃতির রোমন্থন। সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়। তা-ও জমে থাকা কথা, আড্ডা যেন শেষই হয় না। ‘দুই দিনের অনুষ্ঠান। তাই বাকি কথা কাল হবে। কাল কিন্তু সকাল সকাল আসিস,’ এমন কথা বলে বিদায় নিতে দেখা গেল কয়েকজনকে। সাজানো-গোছানো চমৎকার পরিপাটি সুবর্ণজয়ন্তীর এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাসহ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান তিন সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী অংশ নেন। সন্ধ্যায় ঢাকার ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক ও নাট্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসব ও প্রার্থনায় উদ্‌যাপন হবে শুভ বড়দিন

নানান রঙের জরি লাগিয়ে রঙিন করা হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জার (পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা) ভেতরের প্রাঙ্গণ। গির্জা ও এর আশপাশে জ্বালানো হয়েছে রঙিন বাতি। ভেতরে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। বিশেষ প্রার্থনায় যোগ দিতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানান বয়সীরা এসেছেন। চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ। এ উৎসব বলছে সোমবার শুভ বড়দিন। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দিন শুভ বড়দিন। তবে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা রোববারও নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। সোমবার সারা দিন আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তাঁরা দিনটি উদ্‌যাপন করবেন। সোমবার সরকারি ছুটির দিন। দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিষ্টান পরিবারে কেক তৈরি হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। দেশের অনেক অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর বসবে। ২ হাজার ১৭ বছর আগে এই দিনে ফিলিস্তিনের বেথলেহেম শহরে খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, ঈশ্বরের অপার মহিমা ও মানবজাতিকে পাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য যিশুখ্রিষ্টের জন্ম হয়েছিল। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্টধর্মানুসারীরাও আজ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্‌যাপন করবেন। বড়দিন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে জমকালো সজ্জায়। যিশুর জন্ম হয়েছিল গোয়ালঘরে।
সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে বড়দিনে গির্জাগুলোতে প্রতীকী গোয়ালঘর তৈরি করা হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে গির্জা, পাঁচতারা হোটেলগুলোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি ক্রিসমাস ট্রি, রঙিন বল, জরিতে সাজানো হয়েছে এবং আলোকসজ্জিত করা হয়েছে। সারা দেশে বড়দিন উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জার (পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা) ফাদার কমল কোড়াইয়া প্রথম আলোকে বলেন, রোববার (গতকাল) দুই দফায় প্রার্থনা হয়েছে। বড়দিনে তিন দফায় প্রার্থনা হবে। এবারের প্রার্থনার মূল ভাবনা শান্তি ও সহাবস্থান। বাংলাদেশে এসে পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে শান্তি ও সহাবস্থানের যে বাণী শুনিয়েছেন, তা বড়দিনের প্রার্থনাতেও থাকছে। বড়দিন উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, বড়দিন দেশের খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ্য–সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করবে। বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও এবং মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া, বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, প্রশান্ত কুমার বড়ুয়া, ইউলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল।

জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের স্থায়ী রাজধানী স্বীকৃতি ইরানের


জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের স্থায়ী রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলো ইরান। রোববার দেশটি সংসদের জরুরি অধিবেশনে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে।

উন্মুক্ত এই অধিবেশনে ২৩৩ সদস্যের মধ্যে ১৮৭ জন বিলের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ১৫ জন। ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকেন নয়জন।

ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের প্রতি ইরানের সংবিধানের ১নং ধারায় যে সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে, তার আওতায় এই বিল পাস করা হয়। বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সংসদের এজেন্ডাভুক্ত হবে।

ইরানে ইসলামী বিপ্লব সফল হবার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইসরায়েলকে বৈধ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে না ইরান।

গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি তেল আবিব থেকে তাদের দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রতিবাদে গত ১২ ডিসেম্বর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসলামিক সহযোগিতা পরিষদের (ওআইসি) জরুরি সম্মেলনে পূর্ব জেরুজালেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

গত ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনা একটি রেজ্যুলেশন ১২৮-৯ ভোটে পাস হয়।

তদন্তে কিছুই পেল না পুলিশ

নারীর ছয় টুকরা লাশ। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এটা স্পষ্ট। পুলিশের ভাষ্য, এ জন্য লাশ উদ্ধারের পর ‘গুরুত্ব’ দিয়ে তদন্ত হয়েছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। দেড় বছরে পুলিশের দুই দফার তদন্তেও চিহ্নিত হয়নি খুনি। বের করা যায়নি ওই নারীর পরিচয়ও। সর্বশেষ থানা-পুলিশের পর পিবিআইও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে আদালতে। খুনি চিহ্নিত করতে না পারা তদন্তের গাফিলতি বলছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এভাবে মানুষকে টুকরা টুকরা করে লাশ গুমের চেষ্টা চলতে পারে না। পুলিশেরই দায়িত্ব লাশের পরিচয় ও আসামিদের শনাক্ত করা। নইলে আসামিরা এ ধরনের ঘটনা বারবার করতে থাকবে। ২০১৬ সালের ৮ জুন নগরের বন্দর থানার আনন্দ বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ময়লার ডিপোতে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শরীর থেকে মাথা, ডান হাত, দেহের ঊর্ধ্বাংশ, ঊরু, হাঁটুর ওপরের ঊরুর অংশ ও ডান পায়ের হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ছিল। আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ বছর বয়সী ওই নারীর চেহারা ছিল বিকৃত। পুলিশ সূত্র জানায়, লাশের টুকরাগুলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। এই ঘটনায় বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রণব কান্তি দাশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
প্রথমে মামলাটি তদন্ত শুরু করেন বন্দর থানার এসআই সাইফ উল্লাহ। তিনি বদলি হলে এসআই সাজেদ কামাল তদন্ত করেন। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি এই মামলায় কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে না পেরে তিনি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে ১১ এপ্রিল শুনানি শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই চট্টগ্রামের পুলিশ পরিদর্শক মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া ১৪ ডিসেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। দুই পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাটি পরিকল্পিত। এ জন্য আসামিরা লাশ গুমের জন্য ময়লার ডিপোতে শরীরের বিভিন্ন অংশ ফেলে যায়। আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং নগরের বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনরা লাশটির পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। লাশ ও আসামির পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় হত্যার ঘটনা সত্য হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলো। ভবিষ্যতে রহস্য উদ্‌ঘাটন করা গেলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হবে। জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। চট্টগ্রাম নগরের পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণের শুনানির জন্য রয়েছে।

চীনে তিন বছরে ১৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ


চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া বলছে, দেশটিতে গত তিন বছরে ১৩ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রায় এক কোটি অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

আইন লঙ্ঘন করায় এসব ওয়েবসাইট ও একাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে শিনহুয়া। তারা জানাচ্ছে, দেশটির ভার্চুয়াল জগতে সরকারি এ অভিযানে জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।

২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মূলত দেশটিতে ইন্টারনেটে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও  নজরদারি চালানো শুরু হয়। এসময় বিভিন্ন আইনও পাশ করে দেশটির সরকার।

যেমন চলতি বছরই সাইবার সিকিউরিটি আইন পাশ করেছে চীন সরকার। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে সেখানে কাজের জন্য বাধাস্বরূপ মনে করে।

ইতোমধ্যে কঠোরভাবে সেন্সরশিপ আরোপের কারণে চীনে অনেক বিদেশি সাইট নিষিদ্ধ। গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় অনলাইন সাইটগুলোতেও প্রবেশ করা যায় না সেখানে। জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৯০ভাগ মানুষই সরকারের এ অভিযানকে সমর্থন করে।

যদিও সমালোচকরা বলছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা এবং কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা বন্ধে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

তবে জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অশ্লীলতা রোধে এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে চীন সরকার।

চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

চুয়াডাঙ্গায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাশিদুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাশিদুল ওই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন রাশিদুল। নিহত যুবেকর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাশিদুল মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।
এ সময় নয়মাইল এলাকায় একটি ভটভটির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সকাল সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোনিয়া আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনায় রাশিদুলের মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক বলেন, লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। ভটভটির চালক পলাতক।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান ফিলিস্তিনের খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনের খ্রিষ্টান নেতারা। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক ও অপমানকর। খবর আল-জাজিরার।

জেরুজালেমের গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের আর্চবিশপ আতাল্লাহ হান্না বলেন, জেরুজালেম খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের পবিত্র ও আধ্যাত্মিক ভূমি। সেই সঙ্গে এটি উভয়ধর্মের ঐতিহ্যপূর্ণ শহর। এ শহর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত আক্রমণাত্মক। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেছেন।  

ওই বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আমরা ফিলিস্তিনের মুসলিম ও খ্রিষ্টানরা জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করলাম।

যুক্তরাষ্ট্র দখলদারদের হাতে জেরুজালেম তুলে দিয়েছে, কিন্তু এটি ইসরায়েলের প্রাপ্য নয়।
আর্চবিশপ আতাল্লাহ এমন এক সময় এই মন্তব্য করলেন যখন ক্রিসমাসকে সামনে রেখে রোববার সেখানে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

আল-জাজিরার হুদা আবদেল-হামিদ জেরুজালেমের বেথেলহেম থেকে জানান, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংহতি জানাতে ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন অনেক মুসলিমও।

যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান বলে খ্যাত বেথেলহেমে বছরের এ সময়ে অনেক বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগম থাকে। কিন্তু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় এবার সেখানে কমে গেছে মানুষের ভিড়।

উল্লেখ্য, গেলো ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দিলে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এরইমধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে ভোটাভুটিও হয়েছে।

শিক্ষকদের অনশন চলছেই

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এক পাশে ঘাসের ওপর অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছেন এক শিক্ষক। আরও দুই-তিনজন তাঁকে শুশ্রূষা করছেন। একজন অসুস্থ ওই শিক্ষককে স্যালাইন দিচ্ছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও কয়েকজন অসুস্থ শিক্ষককে সেখানে আনা হলো। আরেকজন শিক্ষককে কয়েকজন ধরাধরি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে নিয়ে গেলেন। বেতন স্কেলের বৈষম্য কমানোর দাবিতে সারা দেশ থেকে আসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচিতে গতকাল রোববার এমন চিত্র দেখা গেছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চলমান এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। গতকাল দুপুর পর্যন্ত কমপক্ষে ১১ জন শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত শনিবার সকাল ১০টায় এই কর্মসূচি শুরু হয়। শীতের রাতেও শিক্ষকেরা শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সংহতি জানাচ্ছেন। গতকাল বিকেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী শহীদ মিনারে গিয়ে শিক্ষকদের প্রতি সংহতি জানান। আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত অনশনকারী শিক্ষকেরা ইতিবাচক সাড়া পাননি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গতকাল সচিবালয়ে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সচিব জানিয়ে দিয়েছেন এখন কথা বলতে পারবেন না। পরে আরেকজন অতিরিক্ত সচিবের কাছে গেলে তিনিও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন করলে তিনি সভায় আছেন বলে খুদে বার্তা পাঠান। পরে বিকেলে আবার ফোন করলে তিনি আর ফোন ধরেননি। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তিনি বিকেল পর্যন্ত ঢাকার বাইরে ছিলেন।
সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৩ হাজার ৬০১টি। মোট শিক্ষক প্রায় সোয়া তিন লাখ। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষক প্রায় পৌনে তিন লাখ। সহকারী শিক্ষকদের আটটি সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। দুপুরে নেতৃত্ব নিয়ে কয়েকজন শিক্ষকনেতার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। শহীদ মিনারে আন্দোলনরত সহকারী শিক্ষকেরা বলছেন, তাঁদের দাবি একটাই। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মাত্র এক ধাপ নিচে রাখতে হবে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের চেয়ে তিন ধাপ নিচের স্কেলে বেতন পান সহকারী শিক্ষকেরা। প্রধান শিক্ষকেরা বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে (এই গ্রেড শুরুর মূল বেতন ১২,৫০০ টাকা) বেতন পান। আর সহকারী শিক্ষকেরা ১৪তম গ্রেডে (এই গ্রেডের শুরুর মূল বেতন ১০,২০০ টাকা) বেতন পান। প্রশিক্ষণ ছাড়াও শিক্ষক আছেন। তাঁদের বেতন স্কেল আরও এক ধাপ কম। অনশনে যোগ দিয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুরের তেবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আখলাক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগে সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচের গ্রেডেই বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে সহকারী শিক্ষকেরা তিন ধাপ নিচের গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। এটা বৈষম্যমূলক। এ জন্য তাঁরা চান প্রধান শিক্ষকের মাত্র এক ধাপ নিচের গ্রেডে যেন তাঁদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়। কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার তা পূরণ না করায় এখন তাঁরা কঠোর অবস্থানে গেছেন। কুমিল্লা থেকে এসেছেন সহকারী শিক্ষক পলি আহমেদ। দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পাস। এখন অধিকাংশ শিক্ষকের যোগ্যতা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। এই সময়ে কেন এ রকম কঠোর আন্দোলনে নামলেন, এমন প্রশ্নে এক শিক্ষকনেতা জানালেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন দ্বিতীয় শ্রেণি হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল আরও এক ধাপ বাড়িয়ে ১০ম গ্রেড করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু তাঁদের দাবিটি পূরণ হচ্ছে না। এ জন্য তাঁর ভাষায় দেয়ালে পিঠ গেছে। দুপুরে শহীদ মিনার গিয়ে দেখা গেছে, বক্তৃতার পাশাপাশি কিছু শিক্ষক গান-কবিতা আবৃত্তি করছেন। এর মধ্যেই অনশনরত কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আন্দোলনকারী বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের নেতা শাহিনুর আল আমীন বলেন, দুপুর পর্যন্ত কমপক্ষে ১১ জন শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনশনস্থলেও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে আছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু সরাসরি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চলবে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, রাতেও অনেকে শহীদ মিনারে ছিলেন। এমনই একজন শিক্ষক নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাতে শহীদ মিনারে ছিলেন। সকালে এক জায়গা থেকে গোসল করে আবার এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁরা এখানেই থাকবেন। নেত্রকোনা থেকে আসা শিক্ষক দলের মধ্যে দুজন প্রধান শিক্ষকও ছিলেন। তাঁরা কেন এসেছেন, জানতে চাইলে তাঁদের একজন আলেক মিয়া বললেন, সহকারী শিক্ষকেরাও তাঁদের সহকর্মী। তাঁদের দাবিও যথার্থ। এ জন্য একাত্মতা জানাতে এসেছেন। অনশনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষকনেতা রাত সোয়া নয়টায় প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে দুই কর্মকর্তা রাতে অনশনস্থলে গিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। তখন শিক্ষকেরা বলেন, সরাসরি ঘোষণা দিলেই কেবল তাঁরা অনশন ভাঙবেন। পরে অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আকাশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় 'উভচর বিমান'

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘উভচর’বিমান এজি সিক্স হান্ড্রেড প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। চীনের তৈরি এই বিমানটি গতকাল রোববার আকাশে ওড়ে। এই উভচর বিমান অর্থাৎ যা মাটিতে এবং জলে নামতে পারে, প্রায় বোয়িং-৭৩৭ এর মতো বড়। আর এটির দুই পাখার বিস্তার প্রায় ৪০ মিটার। খবর বিবিসির।

'কুমলং' নামের এই বিমানটি চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ঝুলাই বিমানবন্দর থেকে আকাশে ওড়ে। এটি ৪০ জন যাত্রী বহন করতে পারে এবং একবার জ্বালানি নিয়ে একটানা ১২ ঘণ্টা উড়তে পারে।

এটি অগ্নিনির্বাপণ এবং সামুদ্রিক উদ্ধার কাজ চালানোর কাজ করবে। কিন্তু বিমানটিতে সামরিক প্রযুক্তিও বসানো আছে, যা দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত এলাকাগুলোয় কাজে লাগানো যেতে পারে।

এই সাগরের যে এলাকাগুলো চীন তার নিজের বলে দাবি করে- তার সর্ব দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত যেতে পারবে বিমানটি।
বিমানটির উড্ডয়ন ও প্রত্যাবর্তনের খবর চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি দেখানো হয়। সেখানে দেখা যায় আর জনতা পতাকা দুলিয়ে এটি স্বাগত জানাচ্ছে। এসময় সামরিক সঙ্গীত বাজছিল।

এই বিমানটি তৈরি করতে সময় লেগেছে আট বছর।


এ ধরনের উভচর বিমান তৈরি ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ১৯৪৭ সালে আমেরিকান 'এভিয়েটর' হাওয়ার্ড হিউজেস অবশ্য এর চেয়েও বড় একটি উভচর বিমান তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেটি আকাশে উড়েছিল একবারই। তাও মাত্র ২৬ সেকেন্ডের জন্য।