Thursday, August 13, 2026
সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা থেকে রেহাই পেতে যে আইন জানা প্রয়োজন by তাকবির জাহান
প্রথমত, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে। ধারা ৫৫ অনুযায়ী, একজন বিক্রেতা সম্পত্তি সম্পর্কে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে পারবেন না। মালিকানা ত্রুটি, মামলাজট, দখল সমস্যা, পাওনাদারির বিষয় সম্পর্কে ক্রেতাকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। অন্যদিকে ক্রেতারও আইন অনুযায়ী দলিল যাচাই, রেকর্ড পরীক্ষা এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার দায় রয়েছে। এই মৌলিক নীতিগুলো না জানার কারণেই বহু মানুষ প্রতারণার শিকার হন।
অনেকেই মনে করেন, জমি কেনা মানেই শুধু চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করা। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। এই আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হয়েছে—বিক্রয়, বন্ধক (মর্টগেজ), লিজ, বিনিময়, দান (গিফট) এবং নালিশযোগ্য দাবি (অ্যাকশনেবল ক্লেইম)। এগুলোর প্রতিটির আলাদা ধারা ও শর্ত আছে। উদাহরণস্বরূপ, ধারা ৫৮-১০৪ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বন্ধকের নিয়ম দেওয়া আছে। এগুলোর নিয়ম না বুঝে কোনো চুক্তিতে সই করলে পরে দেখা যায় চুক্তি বাতিল, ক্ষতি বা দীর্ঘ মামলা ছাড়া আর কিছুই নেই।
দানপত্রের ক্ষেত্রেও ভুল ধারণা প্রচুর। অনেকে মনে করেন, মৌখিক দান করলেই যথেষ্ট, যা সম্পূর্ণ ভুল। ধারা ১২২-১২৯ স্পষ্টভাবে বলে, দান অবশ্যই লিখিত, রেজিস্ট্রি করা, স্বেচ্ছায় প্রদান এবং গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এসব শর্ত না মানলে দানপত্র আদালতে টিকবে না।
সম্পত্তি–সংক্রান্ত প্রতারণা আমাদের দেশে ক্রমে বাড়ছে। নকল দলিল, একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি বা রেকর্ডে জালিয়াতির মতো অপরাধগুলো সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আইন জানলে অনেক প্রতারণা আগেই চিনে ফেলা যায়। জমি কেনার আগে খতিয়ান, পর্চা, রেকর্ড, দখল—সব যাচাই করেই ক্রয় করা উচিত। এতে প্রতারণার সুযোগ অনেক কমে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জমি নিয়ে প্রতারণা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ধারা ৪২০ অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হাতিয়ে নিলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। নকল বা জাল দলিল তৈরি করলে দণ্ডবিধির ধারা ৪৬৭ ও ৪৬৮ অনুযায়ী কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে। আবার কারও সম্পত্তি গোপনে বিক্রি করলে বিক্রেতা ধারা ৪০৬ ও ৪০৯ অনুযায়ী অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অর্থাৎ সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার মতো বিষয় নয়।
এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হয়। রেজিস্ট্রি ছাড়া কোনো দলিল আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই রেজিস্ট্রি না করে অগ্রিম টাকা নেওয়া বা মৌখিক চুক্তির ওপর ভিত্তি করে জমি বিক্রি করেন, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ জটিলতা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের আদালতগুলোতে জমি বা সম্পত্তি–সংক্রান্ত মামলাই সবচেয়ে বেশি। এর বড় কারণ হলো অজ্ঞতা ও অসচেতনতা। আইন সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান থাকলে, সঠিক কাগজপত্র যাচাই করলে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে বিরোধ ও মামলা বহুলাংশে কমে যাবে।
সম্পত্তি মানে শুধু জমি বা বাড়ি নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ, পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানের উত্তরাধিকার এবং অর্থনৈতিক স্থিতি। তাই সম্পত্তি নিয়ে সচেতন থাকা মানে নিজের স্বপ্নকে সুরক্ষিত করা। আর এই সুরক্ষার প্রথম শর্ত হলো আইন জানা। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন জানলে শুধু নিজে প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না; বরং অন্যের প্রতারণা চিহ্নিত করা, ভুল চুক্তি এড়ানো এবং ঝুঁকির জায়গা চেনা সহজ হয়।
অতএব, আমাদের সবার উচিত এই আইনের কমপক্ষে মূল ধারাগুলোর ধারণা রাখা। এতে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি এড়ানো যায় না; বরং সমাজে জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের হার কমে আসে। সচেতনতা বাড়লে প্রতারণা কমবে, আইনি জট কমবে আর মানুষের আস্থা বাড়বে।
যদি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে চান, তবে আইনের জ্ঞানই আপনার সবচেয়ে শক্ত ঢাল।
* তাকবির জাহান, শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Wednesday, July 22, 2026
নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সরকারের প্রতি মামদানির আহ্বান
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মামদানি বলেন, ‘বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।’
তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজা উপত্যকায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মামদানি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানরা যে বোমার অর্থায়ন করি, সেই বোমাতেই মানুষ নিহত হচ্ছে। তাই এই ঘটনার দায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রও মুক্ত নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যার চোখ, হৃদয় ও বিবেক আছে, তিনি গাজায় সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ উপলব্ধি করবেন এবং বুঝবেন, নেতানিয়াহুর বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।’
মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই।
তবে তিনি বলেন, ‘ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। তাই আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। একইভাবে পলাতক কোনো যুদ্ধাপরাধীকেও এখানে স্বাগত জানানো হবে না।’
তিনি আরো বলেন, নিউইয়র্ক সিটি এককভাবে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে না পারলেও, এর প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
মামদানির ভাষায়, ‘আমরা হয়তো একা এই গণহত্যা বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু আমাদের নীরবতা আরেকটি অস্ত্রে পরিণত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই। সব মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় বিবেচনা করা উচিত।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
সূত্র: আনাদোলু
![]() |
| নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত |
Sunday, July 19, 2026
নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি
নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি এমন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। আর আপনি দেখবেন, অনেক মানুষই শুধু কয়েক বছর ধরে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে যা ঘটেছে, সে কারণেই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন।’
আইন তাঁকে এমন কিছু করার অনুমতি দেয় কি না, প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তবে আমরা জাতীয় পর্যায়ে যা দেখেছি, তা হলো, কখনো কখনো নিজের মতো করে আইন তৈরি করা এবং আইনের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার প্রবণতা। তবে এমন কিছুতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও অন্য ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নিন্দা জানিয়েছেন।
মামদানি ইসরায়েল সরকারের একজন কঠোর সমালোচক। তিনি বারবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে জাতিগত নিধন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গতকাল শনিবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মেয়র মামদানির মন্তব্যকে ‘নিছক রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।
সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএবিসি রেডিওর উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সেখানে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও বলেন, ‘নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের সত্য ও নিজের নাগরিকদের রক্ষা করার অটুট অধিকার তুলে ধরবেন।’
![]() |
| নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: এএফপি |
Tuesday, February 3, 2026
ময়মনসিংহ-১১ আসন: বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় মধ্যরাতে আটক, ছয়জনের কারাদণ্ড
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, আবদুল হামিদ (৭৫), মো. তানভীর (৪২), গোলাম রাব্বী (২৩), মেহেদী হাসান (৪০), মো. শামসুদ্দিন (৭৪) ও গোলাম শহীদ (৫০)। তাঁদের কাছ থেকে ৬টি মুঠোফোন, ২৫ হাজার টাকা, হিসাবের খাতা এবং একটি একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকার বগাজান এলাকায় টাকা বিতরণের খবর আসে। ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের পক্ষে এসব টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর টহল টিম সাতজনকে আটক করেন। সেখানে ৩০ জনের একটি দল থাকলেও অন্যরা পালিয়ে যান।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম কাউসার জামান গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। আটক ব্যক্তিরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। আটক ৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকা নিয়ে তাঁর মায়ের উপস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় আটক করা ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি হিসাবের খাতাও জব্দ করা হয়েছে। এতে কোন মহল্লায় কবে, কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে বা করা হবে, তার হিসাবের তথ্য আছে।
![]() |
| ময়মনসিংহের ভালুকায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান এলাকায়। ছবি : প্রথম আলো |
Thursday, November 27, 2025
প্লট জালিয়াতি: টিউলিপের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বৃটিশ আইনজীবীদের নিন্দা
এতে বলা হয়, বৃটেনের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রী ছিলেন টিউলিপ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপহার নেয়ার জেরে তার বিরুদ্ধে লন্ডনের পত্রিকাগুলোতে লাগাতার প্রতিবেদন ছাপা হয়। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তার সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রীত্ব ছাড়েন টিউলিপ। বাংলাদেশে প্লট বরাদ্দের জালিয়াতির মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনিও অভিযুক্ত। তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হয় এবং এই মামলার রায় ঘোষণার কথা জানিয়েছে আদলত। আদালতে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়, হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের এমপি টিউলিপ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি। গত সপ্তাহে শেখ হাসিনাকে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন রবার্ট বাকল্যান্ড। যিনি বরিস জনসন সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন। তার সঙ্গে আরও আছেন মিনিক গ্রিভ, শেরি ব্লেয়ার কেসি, ফিলিপ স্যান্ডস কেসি ও জেফ্রি রবার্টসন কেসি। আইনজীবীদের সই করা চিঠিতে বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য পাননি তিনি। এমনকি আইনগত প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করতে পারেননি। আইনজীবীরা লিখেছেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কৃত্রিম। এভাবে কাউকে বিচার করা নিছক অসৎ উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম।
গত আগস্টের শুরু থেকে ঢাকা আদালতে টিউলিপ সিদ্দিকসহ তার খালা শেখ হাসিনা, মা, ভাই ও বোনসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ঢাকায় নিজের মায়ের জন্য বরাদ্দ প্লট হাতিয়ে নিয়েছিলেন টিউলিপ। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
চিঠিতে আইনজীবীরা লিখেছেন, যে সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব নিয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এমন বিচারিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা আরও বলেন, টিউলিপ বৃটেনের নাগরিক এবং সংসদ সদস্য। তিনি পলাতক নন। সংসদ ভবনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়, এমনকি আইনগত ভিত্তি থাকলে তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণও করা সম্ভব। কিন্তু তিনি অভিযোগপত্র পাননি, আইনজীবীও পাননি।
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়মিত মিডিয়াতে টিউলিপের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন। যা একটি ন্যায়সঙ্গত বিচারের পরিপন্থী। তারা লিখেছেন, গণমাধ্যমে এমন প্রচার ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে অপরাধের ইঙ্গিতমূলক বক্তব্য নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার পরিপন্থী।
চিঠির শেষে আইনজীবীরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, উল্লিখিত অভিযোগ সংশোধন করে টিউলিপ সিদ্দিকের জন্য ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করুন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গার্ডিয়ানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ হাইকমিশন।

Thursday, August 14, 2025
গার্ডিয়ানকে টিউলিপ: বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত
টিউলিপের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার পূর্বাচলে মা, ভাই ও বোনের জন্য একটি প্লট বরাদ্দ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। যা ‘পুরোপুরি অবাস্তব’ বলে দাবি করেছেন তিনি। টিউলিপ বলেন, আমি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাইনি। আমাকে কয়েক দিনের মধ্যে বিদেশে এক প্রহসনের বিচারে বসানো হচ্ছে, অথচ অভিযোগ আসলে কী, তা আমি জানিই না। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে টিউলিপের অনুপস্থিতিতেই এই মামলার বিচার হবে। যদিও বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, দোষী সাব্যস্ত হলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় আসতে পারে।
গত বছর জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার টিউলিপকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। অর্থনৈতিক সংস্কার ও সিটি অব লন্ডনের আর্থিক খাত পুনর্মূল্যায়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন। কিন্তু একই সময়ে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনে বাংলাদেশে ১৫ বছর শাসনের পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। শত শত মানুষের মৃত্যু ও স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে ভারত পালিয়ে যান। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে টিউলিপের নাম ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ‘বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতি’ তার জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। অজ্ঞাত কিছু ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশ হতে শুরু করে যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রুশ চুক্তি থেকে তিনি ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৩ সালের একটি ছবিতে হাসিনা, পুতিন ও টিউলিপকে একসঙ্গে দেখা যায়। যা ওই অভিযোগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সিদ্দিক বলেন, তিনি তখন মস্কোতে বেড়াতে গিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেননি।
পৃথক আরেক অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালে লন্ডনের কিংস ক্রসে টিউলিপ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একজনের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ফ্ল্যাটটি তার গডফাদারের ছিল, যিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। অতীতে বাবা-মায়ের ভুল স্মৃতির কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন যে, তার বাবা-মা ফ্ল্যাটটি কিনে দিয়েছেন। এছাড়া, ক্রিকলউডে নিজস্ব বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন একজন বাংলাদেশি ডেভেলপারের বাসায় থাকছেন- এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সিদ্দিক জানান, নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে হঠাৎ স্থানান্তরিত হতে হয় এবং তিনি বাজারদরে ভাড়া দিয়েছেন।
বিতর্ক থামাতে তিনি নিজেই মন্ত্রীসভার আচরণবিধি উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে যান। দুই সপ্তাহের তদন্ত শেষে ম্যাগনাস জানান, সিদ্দিক আচরণবিধি ভঙ্গ করেননি, তবে পারিবারিক সম্পর্ক থেকে আসা ‘সম্ভাব্য ভাবমূর্তির ঝুঁকি’ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত ছিল। স্টার্মারের সমর্থন সত্ত্বেও টিউলিপ সিদ্দিক মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, যাতে সরকারের কাজে বিভ্রান্তি না আসে। স্টার্মার তাকে ভবিষ্যতে ফেরার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশে প্রতিশ্রুত নির্বাচন এখনো হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জন্য আইনজীবীরা সহিংসতা, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। টিউলিপ বৃটেনে সফররত ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। অন্যদিকে, বৃটেনের অপরাধ দমন সংস্থা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড মূল্যের লন্ডনের সম্পদ জব্দ করেছে, যার একটি বাড়িতে টিউলিপের মা থাকতেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সত্য কথা হলো, আমি ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও আমার খালার বিরোধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাত্র। বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমি তাদের কেউ নই।

Tuesday, April 29, 2025
হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ইরেশ যাকের: মামলা বিরক্তিকর -ফারুকী
মামলায় সাবেক এমপি-মন্ত্রী, ঢাকার সাবেক দুই মেয়র, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নির্বাচন কমিশনার, আইনজীবী, অভিনেতাসহ ৪০৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় অভিনেতা ইরেশ যাকের ১৫৭ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি। মামলার এজহারে নিহতের বড় ভাই উল্লেখ করেন, আমার ছোট ভাই মাহফুজ আলম শ্রাবন (২১) বিএনপির দলীয় কর্মী। সে রেনেটা কোম্পানিতে ক্যাজুয়াল হিসাবে ৬ মাস ধরে চাকরি করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে ছাত্রদের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতো সে। গত ৫ আগস্ট দুপুর আড়াইটার সময় ছাত্র জনতার মিছিল মিরপুর শপিং কমপ্লেক্স ও মিরপুর মডেল থানার মাঝের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিদের নির্দেশে দলটির পাঁচ শতাধিক নেতা কর্মী একত্রে শান্তিপূর্ণ মিছিলে আক্রমণ চালায়। তারা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার সেল, রাবার বুলেট, রাইফেল, শট গান, পিস্তলের গুলি করে এবং ককটেল ও হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
বাদী আরও উল্লেখ করেন, সংঘবদ্ধ আসামিদের গুলি বর্ষণের ফলে শ্রাবনের বুকের বাম পাশে গুলি লাগে, যা ডান পাশের কোমর ছিদ্র হয়ে বের হয়ে যায়। গুলির আঘাতে তাৎক্ষণিক রক্তাক্ত অবস্থায় সে মিরপুর মডেল থানার গেটের সামনের রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। এসময় শ্রাবনসহ অনেকেই ঘটনাস্থলে আসামিদের নিক্ষিপ্ত গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। তখন সেখানে উপস্থিত ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ শ্রাবনকে চিকিৎসার জন্য মিরপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জুলাই আন্দোলনে যুক্ত ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে মামলা বিরক্তিকর: ফারুকী
অভিনেতা ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় হত্যামামলা হওয়াকে বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, ইরেশ যাকেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি জুলাই আন্দোলনেও জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ফারুকী বলেন, মামলা করেছে একজন ব্যক্তি। এটা রাষ্ট্রপক্ষের মামলা না। আমি বিশ্বাস করি পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে। যেটা সত্য সেটা গ্রহণ করবে। যেটা মিথ্যা সেটা বাতিল করে দেবে। মানুষ এখন মামলা করার স্বাধীনতাও পেয়েছে।
ইরেশ যাকেরকে হত্যামামলায় আসামি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এখন সরকারে আছি। অ্যাক্টিভিস্ট থাকলে অনেক কথা বলতে পারতাম। ইরেশ যাকেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনেও জড়িত ছিল, সেটা আমি জানি। ফলে এটা গভীরভাবে একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মামলা করার স্বাধীনতা সবাই পেয়েছে। তবে কেউ কেউ এটির অপব্যবহারও করছে।

Tuesday, March 18, 2025
শিগগিরই আইন সংশোধন: শিশু ধর্ষণের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল - ঝিকরগাছায় গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

Tuesday, September 24, 2024
দল নিষিদ্ধের প্রস্তাব সংশোধনীর খসড়ায়
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩’ সংশোধনবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় খসড়া সংশোধনী প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এ সভা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘যেসব নেতা বা যেসব ব্যক্তি এখানে (ট্রাইব্যুনালে) বিচারের সম্মুখীন হবে, তাঁদের যাঁরা সমর্থক আছেন, তাঁদেরও যেন মনে হয় সত্যি উনি (ওই নেতা) অন্যায় করেছেন বা অন্যায় করেননি, তাঁরাও যেন কনভিন্সড (সন্তুষ্ট) থাকেন। আমরা এই সমাজে আর ক্ষত চাই না। বিভাজন চাই না। বিচারের মধ্য দিয়ে একটা রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) প্রসেসের (প্রক্রিয়া) শুরু করতে চাই। সবাই যেন একমত হয় বিচারটা যেটি হয়েছে, বিচারে যে শাস্তি পেয়েছে, যদি পায়—এটা অবশ্যই তার প্রাপ্য ছিল।’
কোনো প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসা নয়, সুবিচার নিশ্চিত করতে চান, উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, সবাই দেখেছে, কী ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একটা দেশের বৃদ্ধ প্রজন্ম একটা তরুণ প্রজন্মকে উন্মত্তভাবে খুনের নেশায় নেমেছিল। বুকের ভেতর যত কষ্ট থাক, যত হতাশা থাক, যত ক্রন্দন থাক, ক্ষোভ থাকুক, বিচার অবশ্যই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
কনসালটেশনের (আলোচনা) মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সামনে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি চূড়ান্ত নয়। আরও আলাপ–আলোচনা চলবে। তারপর আইনটাকে পরিপূর্ণ করা হবে।
আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সম্মিলিতভাবে হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো (জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড) চায়, বিচার যেন নিশ্চিত হয়।
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে এ পর্যন্ত কয়েকবার সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে এ আইনে প্রথমবার সংশোধনী এনে আইনটি মূলত হালনাগাদ করা হয়। এর পর ২০১২ সালে দ্বিতীয় সংশোধনী এনে আসামির অনুপস্থিতিতে তাঁকে পলাতক ঘোষণা করে বিচার এবং এক ট্রাইব্যুনাল থেকে আরেক ট্রাইব্যুনালে (প্রথমে ট্রাইব্যুনাল ছিল একটি, পরে দুটি করা হয়) মামলা স্থানান্তরের বিধান যুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে সর্বশেষ সংশোধনী আনা হয়। এর ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের সমান সুযোগের বিধান যুক্ত হয়।
খসড়া প্রস্তাবে যা আছে
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান বৈশ্বিক পটভূমিতে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার মানদণ্ডের আলোকে আইনটি সংশোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইনের খসড়া প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান। এতে বলা হয়, এই সংশোধনীর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুম, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন দাসত্ব, জোর করে যৌনকর্ম, জোর করে গর্ভধারণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের আইনে ছিল না। এ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ করে, তাহলে সে দলকে ১০ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে আরও বলা হয়, বিচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ট্রাইব্যুনাল চাইলে শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন। অভিযুক্ত চাইলে তাঁর পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন বলেও খসড়া প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংশোধনীর যে প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছে, আসামিদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি খসড়ায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) আন্তর্জাতিক আইনজীবী আনতে চাইলে আনতে পারবেন, সেই বিধানও থাকা দরকার।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে এই আইন এমনভাবে সংশোধন করা হোক, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগী এবং আসামি—দুই পক্ষই যাতে মনে করে ন্যায়বিচার হয়েছে।
সভায় নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, চার ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একটা হলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। আরেকটি হলো ফৌজদারি অপরাধ। যারা গুম করেছে, খুন করেছে বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছে। তৃতীয় হলো আর্থিক দুর্নীতি, লুটপাট, ব্যাংক লুট ও বিদেশে টাকা পাচার। আরেকটি হলো নির্বাচনব্যবস্থা–সংক্রান্ত অপরাধ। যারা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে।
সভায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়েছে কবে? খুঁজে পাবেন সেই নুরেমবার্গের আমলে। ২০২৪–এ এসে আশা করি নুরেমবার্গ প্রয়োগ করতে যাব না।…এখানে শুধু কয়েকজন তৃপ্তি পাবে, যারা অন্য রাজনীতি করে।’
মতবিনিয়ময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, আইনজীবী শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান প্রমুখ।
![]() |
| ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩’ সংশোধনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা। আজ সোমবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ |
Monday, August 19, 2024
ড. ইউনূসের বিচার স্থগিতের প্রতিবাদকারী ৫ ভিসি বহাল তবিয়তে
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। অতএব আমরা মনে করি, এ ধরনের চিঠি প্রদানের মাধ্যমে বিবৃতিদাতাগণ অনৈতিক, বেআইনি ও অসাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ করেছেন। এ ধরনের বিবৃতি বা খোলা চিঠি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশের আইনে শ্রমিকদের প্রদত্ত অধিকার সংক্রান্ত বিধানাবলির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এ ধরনের বিবৃতি ও চিঠি প্রদান করে বিবৃতিদাতা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও নোবেল বিজয়ীগণ প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থি কাজকেই উৎসাহিত করতে চেয়েছেন।
Monday, March 19, 2018
‘এটা নজির বিহীন, আমরা আদেশ বুঝতে পারিনি ‘

Sunday, March 18, 2018
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত রিট খারিজ

Saturday, March 10, 2018
বিদ্রোহের অবসান: বার নির্বাচনে জয়নুল ও খোকনের পক্ষে থাকার অঙ্গীকার

Wednesday, March 7, 2018
শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

Tuesday, February 13, 2018
এসএসসি কেন্দ্রের ২শ’ মিটারের মধ্যে মোবাইলসহ পেলে গ্রেফতার

Tuesday, January 9, 2018
রাষ্ট্রপক্ষের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট চলবে

Monday, December 25, 2017
প্রধান বিচারপতি সিনহাকে জুডিশিয়াল ক্যু করে বিদায় করা হয়েছে: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

কী চাচ্ছে সরকার

Sunday, December 10, 2017
‘পুলিশ কাউকে নিয়ে গেলে আত্মীয়দের জানাতে হবে’

Wednesday, December 6, 2017
আলতাফকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2180)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



