Showing posts with label আইন ও বিচার. Show all posts
Showing posts with label আইন ও বিচার. Show all posts

Thursday, August 13, 2026

সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা থেকে রেহাই পেতে যে আইন জানা প্রয়োজন by তাকবির জাহান

বাংলাদেশে যত ধরনের বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা বা প্রতারণার ঘটনা ঘটে, তার বড় অংশই জমি বা সম্পত্তিকে ঘিরে। কারণ স্পষ্ট যে সম্পত্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, আর এই সম্পদের সঙ্গে যুক্ত আইন সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অসচেতন। অথচ সম্পত্তি–সংক্রান্ত লেনদেনে আমাদের সবচেয়ে শক্ত সুরক্ষাবলয় হলো সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২। এই আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকলে দীর্ঘদিনের ঝামেলা, প্রতারণা, আদালতের ঘোরপ্যাঁচ ইত্যাদি বেশির ভাগই এড়ানো যায়।

প্রথমত, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে। ধারা ৫৫ অনুযায়ী, একজন বিক্রেতা সম্পত্তি সম্পর্কে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে পারবেন না। মালিকানা ত্রুটি, মামলাজট, দখল সমস্যা, পাওনাদারির বিষয় সম্পর্কে ক্রেতাকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। অন্যদিকে ক্রেতারও আইন অনুযায়ী দলিল যাচাই, রেকর্ড পরীক্ষা এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার দায় রয়েছে। এই মৌলিক নীতিগুলো না জানার কারণেই বহু মানুষ প্রতারণার শিকার হন।

অনেকেই মনে করেন, জমি কেনা মানেই শুধু চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করা। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। এই আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হয়েছে—বিক্রয়, বন্ধক (মর্টগেজ), লিজ, বিনিময়, দান (গিফট) এবং নালিশযোগ্য দাবি (অ্যাকশনেবল ক্লেইম)। এগুলোর প্রতিটির আলাদা ধারা ও শর্ত আছে। উদাহরণস্বরূপ, ধারা ৫৮-১০৪ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বন্ধকের নিয়ম দেওয়া আছে। এগুলোর নিয়ম না বুঝে কোনো চুক্তিতে সই করলে পরে দেখা যায় চুক্তি বাতিল, ক্ষতি বা দীর্ঘ মামলা ছাড়া আর কিছুই নেই।

দানপত্রের ক্ষেত্রেও ভুল ধারণা প্রচুর। অনেকে মনে করেন, মৌখিক দান করলেই যথেষ্ট, যা সম্পূর্ণ ভুল। ধারা ১২২-১২৯ স্পষ্টভাবে বলে, দান অবশ্যই লিখিত, রেজিস্ট্রি করা, স্বেচ্ছায় প্রদান এবং গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এসব শর্ত না মানলে দানপত্র আদালতে টিকবে না।

সম্পত্তি–সংক্রান্ত প্রতারণা আমাদের দেশে ক্রমে বাড়ছে। নকল দলিল, একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি বা রেকর্ডে জালিয়াতির মতো অপরাধগুলো সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আইন জানলে অনেক প্রতারণা আগেই চিনে ফেলা যায়। জমি কেনার আগে খতিয়ান, পর্চা, রেকর্ড, দখল—সব যাচাই করেই ক্রয় করা উচিত। এতে প্রতারণার সুযোগ অনেক কমে যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জমি নিয়ে প্রতারণা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ধারা ৪২০ অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হাতিয়ে নিলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। নকল বা জাল দলিল তৈরি করলে দণ্ডবিধির ধারা ৪৬৭ ও ৪৬৮ অনুযায়ী কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে। আবার কারও সম্পত্তি গোপনে বিক্রি করলে বিক্রেতা ধারা ৪০৬ ও ৪০৯ অনুযায়ী অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অর্থাৎ সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার মতো বিষয় নয়।

এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হয়। রেজিস্ট্রি ছাড়া কোনো দলিল আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই রেজিস্ট্রি না করে অগ্রিম টাকা নেওয়া বা মৌখিক চুক্তির ওপর ভিত্তি করে জমি বিক্রি করেন, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ জটিলতা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের আদালতগুলোতে জমি বা সম্পত্তি–সংক্রান্ত মামলাই সবচেয়ে বেশি। এর বড় কারণ হলো অজ্ঞতা ও অসচেতনতা। আইন সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান থাকলে, সঠিক কাগজপত্র যাচাই করলে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে বিরোধ ও মামলা বহুলাংশে কমে যাবে।

সম্পত্তি মানে শুধু জমি বা বাড়ি নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ, পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানের উত্তরাধিকার এবং অর্থনৈতিক স্থিতি। তাই সম্পত্তি নিয়ে সচেতন থাকা মানে নিজের স্বপ্নকে সুরক্ষিত করা। আর এই সুরক্ষার প্রথম শর্ত হলো আইন জানা। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন জানলে শুধু নিজে প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না; বরং অন্যের প্রতারণা চিহ্নিত করা, ভুল চুক্তি এড়ানো এবং ঝুঁকির জায়গা চেনা সহজ হয়।

অতএব, আমাদের সবার উচিত এই আইনের কমপক্ষে মূল ধারাগুলোর ধারণা রাখা। এতে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি এড়ানো যায় না; বরং সমাজে জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের হার কমে আসে। সচেতনতা বাড়লে প্রতারণা কমবে, আইনি জট কমবে আর মানুষের আস্থা বাড়বে।

যদি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে চান, তবে আইনের জ্ঞানই আপনার সবচেয়ে শক্ত ঢাল।

* তাকবির জাহান, শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

চিঠি

Wednesday, July 22, 2026

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সরকারের প্রতি মামদানির আহ্বান

নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তাই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মামদানি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মামদানি বলেন, ‘বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।’

তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজা উপত্যকায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

মামদানি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানরা যে বোমার অর্থায়ন করি, সেই বোমাতেই মানুষ নিহত হচ্ছে। তাই এই ঘটনার দায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রও মুক্ত নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যার চোখ, হৃদয় ও বিবেক আছে, তিনি গাজায় সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ উপলব্ধি করবেন এবং বুঝবেন, নেতানিয়াহুর বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।’

মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই।

তবে তিনি বলেন, ‘ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। তাই আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। একইভাবে পলাতক কোনো যুদ্ধাপরাধীকেও এখানে স্বাগত জানানো হবে না।’

তিনি আরো বলেন, নিউইয়র্ক সিটি এককভাবে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে না পারলেও, এর প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

মামদানির ভাষায়, ‘আমরা হয়তো একা এই গণহত্যা বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু আমাদের নীরবতা আরেকটি অস্ত্রে পরিণত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই। সব মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় বিবেচনা করা উচিত।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

সূত্র: আনাদোলু

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সরকারের প্রতি মামদানির আহ্বান
নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

Sunday, July 19, 2026

নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে শহরটিতে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাঁর কার্যালয় থেকে এখনো বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মামদানি।

নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি এমন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। আর আপনি দেখবেন, অনেক মানুষই শুধু কয়েক বছর ধরে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে যা ঘটেছে, সে কারণেই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন।’

আইন তাঁকে এমন কিছু করার অনুমতি দেয় কি না, প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তবে আমরা জাতীয় পর্যায়ে যা দেখেছি, তা হলো, কখনো কখনো নিজের মতো করে আইন তৈরি করা এবং আইনের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার প্রবণতা। তবে এমন কিছুতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও অন্য ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নিন্দা জানিয়েছেন।

মামদানি ইসরায়েল সরকারের একজন কঠোর সমালোচক। তিনি বারবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে জাতিগত নিধন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গতকাল শনিবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মেয়র মামদানির মন্তব্যকে ‘নিছক রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএবিসি রেডিওর উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সেখানে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও বলেন, ‘নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের সত্য ও নিজের নাগরিকদের রক্ষা করার অটুট অধিকার তুলে ধরবেন।’

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: এএফপি

Tuesday, February 3, 2026

ময়মনসিংহ-১১ আসন: বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় মধ্যরাতে আটক, ছয়জনের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে ছয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান নামক এলাকায় তাঁদের আটক করে সাজা দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, আবদুল হামিদ (৭৫), মো. তানভীর (৪২), গোলাম রাব্বী (২৩), মেহেদী হাসান (৪০), মো. শামসুদ্দিন (৭৪) ও গোলাম শহীদ (৫০)। তাঁদের কাছ থেকে ৬টি মুঠোফোন, ২৫ হাজার টাকা, হিসাবের খাতা এবং একটি একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকার বগাজান এলাকায় টাকা বিতরণের খবর আসে। ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের পক্ষে এসব টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর টহল টিম সাতজনকে আটক করেন। সেখানে ৩০ জনের একটি দল থাকলেও অন্যরা পালিয়ে যান।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম কাউসার জামান গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। আটক ব্যক্তিরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। আটক ৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকা নিয়ে তাঁর মায়ের উপস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় আটক করা ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি হিসাবের খাতাও জব্দ করা হয়েছে। এতে কোন মহল্লায় কবে, কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে বা করা হবে, তার হিসাবের তথ্য আছে।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান এলাকায়
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান এলাকায়। ছবি : প্রথম আলো

Thursday, November 27, 2025

প্লট জালিয়াতি: টিউলিপের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বৃটিশ আইনজীবীদের নিন্দা

পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের মামলার রায়ের আগে এ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বৃটেনের শীর্ষ পাঁচ আইনজীবী। তারা চলমান মামলাকে ‘কৃত্রিম, সাজানো ও অন্যায্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।  এ বিষয়ে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান।

এতে বলা হয়, বৃটেনের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রী ছিলেন টিউলিপ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপহার নেয়ার জেরে তার বিরুদ্ধে লন্ডনের পত্রিকাগুলোতে লাগাতার প্রতিবেদন ছাপা হয়। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তার সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রীত্ব ছাড়েন টিউলিপ। বাংলাদেশে প্লট বরাদ্দের জালিয়াতির মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনিও অভিযুক্ত। তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হয় এবং এই মামলার রায় ঘোষণার কথা জানিয়েছে আদলত। আদালতে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছে।

গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়, হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের এমপি টিউলিপ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি। গত সপ্তাহে শেখ হাসিনাকে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন রবার্ট বাকল্যান্ড। যিনি বরিস জনসন সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন। তার সঙ্গে আরও আছেন মিনিক গ্রিভ, শেরি ব্লেয়ার কেসি, ফিলিপ স্যান্ডস কেসি ও জেফ্রি রবার্টসন কেসি। আইনজীবীদের সই করা চিঠিতে বলা হয়, টিউলিপের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য পাননি তিনি। এমনকি আইনগত প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করতে পারেননি। আইনজীবীরা লিখেছেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কৃত্রিম। এভাবে কাউকে বিচার করা নিছক অসৎ উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যম।

গত আগস্টের শুরু থেকে ঢাকা আদালতে টিউলিপ সিদ্দিকসহ তার খালা শেখ হাসিনা, মা, ভাই ও বোনসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ঢাকায় নিজের মায়ের জন্য বরাদ্দ প্লট হাতিয়ে নিয়েছিলেন টিউলিপ। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

চিঠিতে আইনজীবীরা লিখেছেন, যে সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব নিয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই এমন বিচারিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা আরও বলেন, টিউলিপ বৃটেনের নাগরিক এবং সংসদ সদস্য। তিনি পলাতক নন। সংসদ ভবনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়, এমনকি আইনগত ভিত্তি থাকলে তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণও করা সম্ভব। কিন্তু তিনি অভিযোগপত্র পাননি, আইনজীবীও পাননি।

আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়মিত মিডিয়াতে টিউলিপের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন। যা একটি ন্যায়সঙ্গত বিচারের পরিপন্থী। তারা লিখেছেন, গণমাধ্যমে এমন প্রচার ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে অপরাধের ইঙ্গিতমূলক বক্তব্য নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার পরিপন্থী।

চিঠির শেষে আইনজীবীরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, উল্লিখিত অভিযোগ সংশোধন করে টিউলিপ সিদ্দিকের জন্য ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করুন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গার্ডিয়ানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ হাইকমিশন।

mzamin

Thursday, August 14, 2025

গার্ডিয়ানকে টিউলিপ: বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত

বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বৃটেনের সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী ও হ্যাম্পস্টেড-হাইগেট আসনের লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি। টিউলিপ বলেন, বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমি তাদের কেউ নই। তার দাবি তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার এবং বাংলাদেশে চলমান দুর্নীতির মামলার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ১১ আগস্ট ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে টিউলিপসহ আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

টিউলিপের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার পূর্বাচলে মা, ভাই ও বোনের জন্য একটি প্লট বরাদ্দ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। যা ‘পুরোপুরি অবাস্তব’ বলে দাবি করেছেন তিনি। টিউলিপ বলেন, আমি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাইনি। আমাকে কয়েক দিনের মধ্যে বিদেশে এক প্রহসনের বিচারে বসানো হচ্ছে, অথচ অভিযোগ আসলে কী, তা আমি জানিই না। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে টিউলিপের অনুপস্থিতিতেই এই মামলার বিচার হবে। যদিও বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, দোষী সাব্যস্ত হলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় আসতে পারে।

গত বছর জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার টিউলিপকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। অর্থনৈতিক সংস্কার ও সিটি অব লন্ডনের আর্থিক খাত পুনর্মূল্যায়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন। কিন্তু একই সময়ে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনে বাংলাদেশে ১৫ বছর শাসনের পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। শত শত মানুষের মৃত্যু ও স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে ভারত পালিয়ে যান। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে টিউলিপের নাম ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ‘বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতি’ তার জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। অজ্ঞাত কিছু ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশ হতে শুরু করে যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রুশ চুক্তি থেকে তিনি ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৩ সালের একটি ছবিতে হাসিনা, পুতিন ও টিউলিপকে একসঙ্গে দেখা যায়। যা ওই অভিযোগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সিদ্দিক বলেন, তিনি তখন মস্কোতে বেড়াতে গিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেননি।

পৃথক আরেক অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালে লন্ডনের কিংস ক্রসে টিউলিপ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একজনের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ফ্ল্যাটটি তার গডফাদারের ছিল, যিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। অতীতে বাবা-মায়ের ভুল স্মৃতির কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন যে, তার বাবা-মা ফ্ল্যাটটি কিনে দিয়েছেন। এছাড়া, ক্রিকলউডে নিজস্ব বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন একজন বাংলাদেশি ডেভেলপারের বাসায় থাকছেন- এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সিদ্দিক জানান, নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে হঠাৎ স্থানান্তরিত হতে হয় এবং তিনি বাজারদরে ভাড়া দিয়েছেন।

বিতর্ক থামাতে তিনি নিজেই মন্ত্রীসভার আচরণবিধি উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে যান। দুই সপ্তাহের তদন্ত শেষে ম্যাগনাস জানান, সিদ্দিক আচরণবিধি ভঙ্গ করেননি, তবে পারিবারিক সম্পর্ক থেকে আসা ‘সম্ভাব্য ভাবমূর্তির ঝুঁকি’ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত ছিল। স্টার্মারের সমর্থন সত্ত্বেও টিউলিপ সিদ্দিক মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, যাতে সরকারের কাজে বিভ্রান্তি না আসে। স্টার্মার তাকে ভবিষ্যতে ফেরার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশে প্রতিশ্রুত নির্বাচন এখনো হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জন্য আইনজীবীরা সহিংসতা, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। টিউলিপ বৃটেনে সফররত ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। অন্যদিকে, বৃটেনের অপরাধ দমন সংস্থা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড মূল্যের লন্ডনের সম্পদ জব্দ করেছে, যার একটি বাড়িতে টিউলিপের মা থাকতেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সত্য কথা হলো, আমি ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও আমার খালার বিরোধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাত্র। বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমি তাদের কেউ নই।

mzamin

Tuesday, April 29, 2025

হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ইরেশ যাকের: মামলা বিরক্তিকর -ফারুকী

গেলো বছর ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে এবং আওয়ামীপন্থীদের। এবার আন্দোলনে নিহত বিএনপিকর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা, অভিনেতা ইরেশ জাকেরসহ ৪০৮ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা যায়, নিহতের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পী গত ২০ এপ্রিল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন। ওইদিন আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলায় সাবেক এমপি-মন্ত্রী, ঢাকার সাবেক দুই মেয়র, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নির্বাচন কমিশনার, আইনজীবী, অভিনেতাসহ ৪০৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় অভিনেতা ইরেশ যাকের ১৫৭ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি। মামলার এজহারে  নিহতের বড় ভাই উল্লেখ করেন, আমার ছোট ভাই মাহফুজ আলম শ্রাবন (২১) বিএনপির দলীয় কর্মী। সে রেনেটা কোম্পানিতে ক্যাজুয়াল হিসাবে ৬ মাস ধরে চাকরি করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে ছাত্রদের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতো সে। গত ৫ আগস্ট দুপুর আড়াইটার সময় ছাত্র জনতার মিছিল মিরপুর শপিং কমপ্লেক্স ও মিরপুর মডেল থানার মাঝের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিদের নির্দেশে দলটির পাঁচ শতাধিক নেতা কর্মী একত্রে শান্তিপূর্ণ মিছিলে আক্রমণ চালায়। তারা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার সেল, রাবার বুলেট, রাইফেল, শট গান, পিস্তলের গুলি করে এবং ককটেল ও হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

বাদী আরও উল্লেখ করেন, সংঘবদ্ধ আসামিদের গুলি বর্ষণের ফলে শ্রাবনের বুকের বাম পাশে গুলি লাগে, যা ডান পাশের কোমর ছিদ্র হয়ে বের হয়ে যায়। গুলির আঘাতে তাৎক্ষণিক রক্তাক্ত অবস্থায় সে মিরপুর মডেল থানার গেটের সামনের রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। এসময় শ্রাবনসহ অনেকেই ঘটনাস্থলে আসামিদের নিক্ষিপ্ত গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। তখন সেখানে উপস্থিত ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ শ্রাবনকে চিকিৎসার জন্য  মিরপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জুলাই আন্দোলনে যুক্ত ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে মামলা বিরক্তিকর: ফারুকী
অভিনেতা ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় হত্যামামলা হওয়াকে বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, ইরেশ যাকেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি জুলাই আন্দোলনেও জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ফারুকী বলেন, মামলা করেছে একজন ব্যক্তি। এটা রাষ্ট্রপক্ষের মামলা না। আমি বিশ্বাস করি পুলিশ সঠিক তদন্ত করবে। যেটা সত্য সেটা গ্রহণ করবে। যেটা মিথ্যা সেটা বাতিল করে দেবে। মানুষ এখন মামলা করার স্বাধীনতাও পেয়েছে।

ইরেশ যাকেরকে হত্যামামলায় আসামি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এখন সরকারে আছি। অ্যাক্টিভিস্ট থাকলে অনেক কথা বলতে পারতাম। ইরেশ যাকেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনেও জড়িত ছিল, সেটা আমি জানি। ফলে এটা গভীরভাবে একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মামলা করার স্বাধীনতা সবাই পেয়েছে। তবে কেউ কেউ এটির অপব্যবহারও করছে।

mzamin

Tuesday, March 18, 2025

শিগগিরই আইন সংশোধন: শিশু ধর্ষণের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল - ঝিকরগাছায় গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

শিশু ধর্ষণের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবারের মধ্যে আইনটি সংশোধন হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচার ও তদন্তের সময় কমিয়ে আনা হচ্ছে। শুধু শিশু ধর্ষণের মামলার বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশে যেভাবে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বেড়ে যাচ্ছে, সেই বিবেচনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করতে বসেছিলাম। সেখানে এই আইনের সংশোধনীর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাগুরা ও বরগুনায় ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সব কিছু বিবেচনায় রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর বেশ কিছু সংশোধন প্রস্তাব করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আমাদের কেবিনেট সেটা নীতিগত অনুমোদন দেয়। ইতিমধ্যে আমরা কিছু মতামত পেয়েছি। মতামতগুলো কাল-পরশু যাচাই-বাছাই করবো। বৃহস্পতিবার এই আইনটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পাবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, ধর্ষণের বিচারের বিলম্ব হওয়ার কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিএনএ ল্যাব না থাকা। এই মুহূর্তে একটি মাত্র ল্যাব আছে। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরও দুটি ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করবো। তিনি আরও বলেন, বিশেষ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত কিছু সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যেন ধর্ষণসহ অন্যান্য মামলার বিচার ত্বরান্বিত করা যায়। এসময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ধর্ষণের মামলার জট লেগে থাকে। কারণ এখানে দুই ধরনের মামলা আসছে। একটা হচ্ছে সম্মতিসহ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ। এগুলোর অনেক আধিক্য ছিল। এসব মামলার কারণে ‘সম্মতি ছাড়া’ যেসব ধর্ষণ, সেগুলোর বিচার আটকে থাকছে। সেজন্য আমরা বিধান যুক্ত করেছি, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতিতে প্রতারণামূলকভাবে হোক বা যেভাবে হোক ধর্ষণের ঘটনাগুলো আলাদা অপরাধ। সম্মতি ব্যতিরেকে যে ধর্ষণ, সেটার ক্ষেত্রে বিচার ও তদন্তের সময় কমিয়ে আনা হচ্ছে। এ ধরনের মামলাগুলো আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এগুলো প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হচ্ছে। ‘চাঞ্চল্যকর’ ধর্ষণের ক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় না থেকে পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রায় দিতে বিচারককে সুযোগ দেয়া হবে বলে জানান আইন উপদেষ্টা। নতুন আইনে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে কারও ওপর আক্রমণ করে ব্যর্থ হওয়ার পর যদি ভুক্তভোগীর শারীরিক ক্ষতি করা হয়, তাহলে সেটাও শাস্তির আওতায় রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও নির্যাতনে নিহত হওয়ার ঘটনাটি প্রচলিত আইনে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এ সময় পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি মাজার ভাঙার নামে একটা নৈরাজ্য চলছে। এতদিন সরকার রিঅ্যাক্টিভ অবস্থানে ছিল, দোষীদের গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এখন সরকার সবার উদ্দেশ্যে সতর্ক করে বলতে চায়, সরকার আর কোনোভাবেই মাজার ভাঙার বিষয়টি গ্রহণ করবে না। সবাইকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঝিকরগাছায় গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪
ঝিকরগাছার গদখালিতে গনধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৪ যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ। ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে, রবিবার (১৬মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে, উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের পটুয়াপাড়া গ্রামের একটি লিচু বাগানে। ৯৯৯ কল দিলে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষিতাকে উদ্ধার ও মোবাইল ট্র‍্যাকিং এর মাধ্যমে সন্ধ্যায় ৪ ধর্ষককে আটক করেছেন। আটকৃতরা হলো, গদখালী ইউপির পটুয়াপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (২২), জাকির হোসেনের ছেলে জাবেদ হোসেন (২৮), শরিফুল ইসলামের ছেলে মামুন হোসেন বাপ্পি (২১) ও উজ্জল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান (২০)। জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের রাজগঞ্জ গ্রামের টুকু মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১৯) বেনাপোল খালাবাড়ি থেকে ফেরার পথে গদখালী বাজারে নামে। এরপর গদখালী বাজারের ফুলের দোকানদার আমিনুর রহমানের দোকানে গেলে ৪ বন্ধুর সাথে পরিচয় হয়। সেই সুত্রে সুমাইয়াকে গদখালী এলাকায় ফুলবাগান দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে পটুয়াপাড়া গ্রামের জাবেদ হোসেনদের লিচুবাগনে নিয়ে গণধর্ষন করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর ই আলম সিদ্দিকী, নাভারণ (সার্কেল) এএসপি নিশাত আল নাহিয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ধর্ষণের ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান জানিয়েছেন।
mzamin

Tuesday, September 24, 2024

দল নিষিদ্ধের প্রস্তাব সংশোধনীর খসড়ায়

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুম ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা যুক্ত করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ করে, তাহলে সে দলকে ১০ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটিসহ আইনে পাঁচটি ধারা-উপধারা সংযোজন এবং তিনটি ধারা সংশোধনের খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩’ সংশোধনবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় খসড়া সংশোধনী প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এ সভা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘যেসব নেতা বা যেসব ব্যক্তি এখানে (ট্রাইব্যুনালে) বিচারের সম্মুখীন হবে, তাঁদের যাঁরা সমর্থক আছেন, তাঁদেরও যেন মনে হয় সত্যি উনি (ওই নেতা) অন্যায় করেছেন বা অন্যায় করেননি, তাঁরাও যেন কনভিন্সড (সন্তুষ্ট) থাকেন। আমরা এই সমাজে আর ক্ষত চাই না। বিভাজন চাই না। বিচারের মধ্য দিয়ে একটা রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) প্রসেসের (প্রক্রিয়া) শুরু করতে চাই। সবাই যেন একমত হয় বিচারটা যেটি হয়েছে, বিচারে যে শাস্তি পেয়েছে, যদি পায়—এটা অবশ্যই তার প্রাপ্য ছিল।’

কোনো প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসা নয়, সুবিচার নিশ্চিত করতে চান, উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, সবাই দেখেছে, কী ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একটা দেশের বৃদ্ধ প্রজন্ম একটা তরুণ প্রজন্মকে উন্মত্তভাবে খুনের নেশায় নেমেছিল। বুকের ভেতর যত কষ্ট থাক, যত হতাশা থাক, যত ক্রন্দন থাক, ক্ষোভ থাকুক, বিচার অবশ্যই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

কনসালটেশনের (আলোচনা) মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সামনে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি চূড়ান্ত নয়। আরও আলাপ–আলোচনা চলবে। তারপর আইনটাকে পরিপূর্ণ করা হবে।

আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সম্মিলিতভাবে হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো (জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড) চায়, বিচার যেন নিশ্চিত হয়।

১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে এ পর্যন্ত কয়েকবার সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে এ আইনে প্রথমবার সংশোধনী এনে আইনটি মূলত হালনাগাদ করা হয়। এর পর ২০১২ সালে দ্বিতীয় সংশোধনী এনে আসামির অনুপস্থিতিতে তাঁকে পলাতক ঘোষণা করে বিচার এবং এক ট্রাইব্যুনাল থেকে আরেক ট্রাইব্যুনালে (প্রথমে ট্রাইব্যুনাল ছিল একটি, পরে দুটি করা হয়) মামলা স্থানান্তরের বিধান যুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে সর্বশেষ সংশোধনী আনা হয়। এর ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের সমান সুযোগের বিধান যুক্ত হয়।

খসড়া প্রস্তাবে যা আছে

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান বৈশ্বিক পটভূমিতে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার মানদণ্ডের আলোকে আইনটি সংশোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আইনের খসড়া প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান। এতে বলা হয়, এই সংশোধনীর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুম, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন দাসত্ব, জোর করে যৌনকর্ম, জোর করে গর্ভধারণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের আইনে ছিল না। এ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ করে, তাহলে সে দলকে ১০ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে আরও বলা হয়, বিচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ট্রাইব্যুনাল চাইলে শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন। অভিযুক্ত চাইলে তাঁর পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন বলেও খসড়া প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংশোধনীর যে প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছে, আসামিদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি খসড়ায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) আন্তর্জাতিক আইনজীবী আনতে চাইলে আনতে পারবেন, সেই বিধানও থাকা দরকার।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে এই আইন এমনভাবে সংশোধন করা হোক, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগী এবং আসামি—দুই পক্ষই যাতে মনে করে ন্যায়বিচার হয়েছে।

সভায় নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, চার ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একটা হলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। আরেকটি হলো ফৌজদারি অপরাধ। যারা গুম করেছে, খুন করেছে বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছে। তৃতীয় হলো আর্থিক দুর্নীতি, লুটপাট, ব্যাংক লুট ও বিদেশে টাকা পাচার। আরেকটি হলো নির্বাচনব্যবস্থা–সংক্রান্ত অপরাধ। যারা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে।

সভায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়েছে কবে? খুঁজে পাবেন সেই নুরেমবার্গের আমলে। ২০২৪–এ এসে আশা করি নুরেমবার্গ প্রয়োগ করতে যাব না।…এখানে শুধু কয়েকজন তৃপ্তি পাবে, যারা অন্য রাজনীতি করে।’

মতবিনিয়ময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, আইনজীবী শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান প্রমুখ।

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩’ সংশোধনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা। আজ সোমবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩’ সংশোধনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা। আজ সোমবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

Monday, August 19, 2024

ড. ইউনূসের বিচার স্থগিতের প্রতিবাদকারী ৫ ভিসি বহাল তবিয়তে

নোবেল জয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিদানকারী বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে পদত্যাগ করলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন কয়েকটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। পদত্যাগ না করে অজ্ঞাত স্থান থেকে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছেন তারা। প্রতিটি ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ ছাত্ররা তাদের পদত্যাগের দাবিতে আল্টিমেটাম প্রদান, কুশপুত্তলিকা দাহসহ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেও তারা পদত্যাগ  না করায় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন  ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। ২০২৩ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দুর্নীতিবাজ উপাচার্যরা হলেন- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.  মো. আব্দুল বাসেত, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.  এ কে এম জাকির হোসেন ও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল কাশেম চৌধুরী। গণমাধ্যমে পাঠানো সেই বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছরের ২৮শে আগস্ট কয়েকজন নোবেল বিজয়ী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের সদস্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রদত্ত এক খোলা চিঠিতে বাংলাদেশের শ্রম আইনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এটি সার্বভৌম একটি দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ। দেশের বিবেকবান নাগরিক হিসেবে আমরা বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ার ওপর এ ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। অতএব আমরা মনে করি, এ ধরনের চিঠি প্রদানের মাধ্যমে বিবৃতিদাতাগণ অনৈতিক, বেআইনি ও অসাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ করেছেন। এ ধরনের বিবৃতি বা খোলা চিঠি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশের আইনে শ্রমিকদের প্রদত্ত অধিকার সংক্রান্ত বিধানাবলির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এ ধরনের বিবৃতি ও চিঠি প্রদান করে বিবৃতিদাতা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও নোবেল বিজয়ীগণ প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থি কাজকেই উৎসাহিত করতে চেয়েছেন।

Monday, March 19, 2018

‘এটা নজির বিহীন, আমরা আদেশ বুঝতে পারিনি ‘

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের পর তার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘মাননীয় আদালত আমরা বুঝতে পারলাম না কি আদেশ দিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আমরা জানতে চাই কি আদেশ দিয়েছেন। আমরা আদেশ বুঝতে পারিনি’। জবাবে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা সবকিছু দেখে আদেশ দিয়েছি’। তখন জয়নুল বলেন, ‘আমরা মেরিটে কোন শুনানি করতে পারিনি’। পরে প্রধান বিচারপতি বলেন ‘আপনারা মামলার সার-সংক্ষেপ জমা দেন’। তখন জয়নুল সময় কমিয়ে দেয়ার প্রর্থনা করলে আদালত বলেন ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলার সার সংক্ষেপ জমা দেবেন’। এরপর এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এটা দেশের সর্বোচ্চ আদালত আমরা তার নিদের্শ মানতে বাধ্য’। এর পর আদালত আগামী ৮ মে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। শুনানী শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারলাম না যে আদালত কি দেখে আদেশ দিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে কি আদেশ হলো আমরা বুঝতে পারলাম না। এটা নজির বিহীন আদেশ। অতীতে কখনো দেশের সর্বোচ্চ আদালত এমন আদেশ দেননি’। জয়নুল বলেন, আজ জাতির উদ্দেশে বলতে চাই, দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে আদেশ দিয়েছেন তা অনভিপ্রেত। অতীতে কখনো এমন আদেশ হয়নি আমরা মর্মাহত। এর আগে আজ ১৮ মার্চ রোববাব দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু করেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানিতে অংশ নেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আপিল বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। গত ১৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষে পৃথক দু’টি লিভ টু আপিল আবেদন দায়ের করা হয়। উভয় আবেদনেই খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগের দেয়া আদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির আরজি জানানো হয়। আবেদনে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট যেসব গ্রাউন্ডে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে সেসব ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করার সুযোগ নেই। এর আগে গত ১৪ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চ্যালেঞ্জ করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল আবেদন করতে বলেছিলেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করে লিভ টু আপিল করতে বলেন। একই সাথে আজ ১৮ মার্চ রোববার দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়। গত ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে আপিল শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে পেপারবুক প্রস্তুত করতেও নির্দেশ দেন আদালত। জামিন আদেশে বলা হয়, সাজার পরিমাণ কম, মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটির আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি। বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেননি এবং তার বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জামিন মঞ্জুর করা হলো। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের নথি পৌঁছার পর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। ২২ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ওই দিন খালেদা জিয়ার জরিমানা স্থগিত করে বিচারিক আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। এ ছাড়া এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চার আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

Sunday, March 18, 2018

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত রিট খারিজ

রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দানের কারণে সংসদীয় আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আনা রিট পিটিশন আজ খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
এর আগে ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রিটের ওপর বিভক্ত আদেশ দেয়। এ বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করলেও কনিষ্ট বিচারপতি রিট খারিজ করে দেয়। এ আদেশের পর নিয়ম অনুসারে আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একক বেঞ্চে (তৃতীয় বেঞ্চ) পাঠান। গত ১১ মার্চ একক বেঞ্চে শুনানি শেষে আজ ১৮ মার্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. মো. ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না’। তিনি এ অনুচ্ছেদ নিয়ে রিটটি দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।

Saturday, March 10, 2018

বিদ্রোহের অবসান: বার নির্বাচনে জয়নুল ও খোকনের পক্ষে থাকার অঙ্গীকার

সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েসনের নির্বাচনে একক প্যানেলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। গতকাল রাতে বিএনপির আইনজীবীসহ অন্যান্য নেতাদের নিয়ে মহাসচিবের সাথে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েসনের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থীত প্যানেলের প্রার্থী বারের বর্তমান সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং বর্তমান সম্পাদক এডভোটেক মাহবুব উদ্দিন খোকনের পক্ষে সবাই একক প্যানেলে কাজ করা পক্ষে একমত হন। এর আগে গত মঙ্গলবার ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকারকে আহবায়ক করে ২৫ সদস্যের নমিনেশন বোর্ড বার এসোসিয়েসনের নির্বাচনে বিএনপির প্যানেলে সভাপতি ও সম্পাদক পদে এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও এডভোটেক মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ ২৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। পরে এই সিদ্ধান্তে বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দলের আরেক আইনজীবী এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও রফিকুল হক তালুকদার আরেক প্যানেল ঘোষণা করেন। বিরাজমান পরিস্থিতেতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তৈমুর ও রফিকুলের বিদ্রোহী প্যানেল দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে এডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং এডভোটেক মাহবুব উদ্দিন খোকনের পক্ষে কাজ করার পক্ষে একমত হলে বিদ্রোহের অবসান ঘটে বলে ব্যরিষ্টার কায়সার কামাল নয়া দিগন্তকে জানান।

Wednesday, March 7, 2018

শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। ওই মামলায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আদালতে হাজির হন। কিন্তু সাংবাদিক শফিক রেহমান আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ ব্যাপারে পল্টন থানায় জিআরও এসআই জালাল উদ্দিন বলেন, আদালতে চার্জশিটটি উপস্থাপন করা হয়। আদালত পর্যালোচনা করে তা গ্রহণ করেন। শফিক রেহমান উচ্চ আদালত থেকে চার্জশিট দাখিল পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। কিন্তু শুনানির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
তার পক্ষে আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত সময় আবেদন নাকচ করে তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। তাছাড়া এ মামলার শুরু থেকে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া পলাতক থাকায় আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়। তবে আমার দেশ পত্রিকায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দাখিল করেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে (সিএমএম) এই চার্জশিট দাখিল করে করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

Tuesday, February 13, 2018

এসএসসি কেন্দ্রের ২শ’ মিটারের মধ্যে মোবাইলসহ পেলে গ্রেফতার

প্রশ্নফাঁস রোধে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে তাকে সাথে সাথে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা আগে যারা পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হবে তাদের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ‘জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত’ এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, সব জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীদের আবশ্যিকভাবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো।
কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বর্ণিত সময়ের পরেও কিছু কিছু কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করছে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে অনেকেই স্মার্টফোন নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীর আবশ্যিকভাবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ ও আসন গ্রহণ নিশ্চিত করা, ওই সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কিংবা পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসরোধে ইন্টারনেট ধীরগতিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার। একদিন পর আজ তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁস রোধে নেয়া সব পদক্ষেপ ব্যর্থ করে দিয়ে একের পর এক প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হতে থাকে। গতকাল রোববার পর্যন্ত সাতটি পরীক্ষা অনষ্ঠিত হয়েছে এবং সব বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। গত প্রায় এক দশক ধরে বিরামহীনভাবে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নফাঁস মহামারি আকার ধারণ করেছে। এমনকি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায়ও বিভিন্ন জেলায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। প্রশ্নফাঁস রোধে ব্যর্থতা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরীক্ষা মানেই প্রশ্নফাঁস এটিই যেন এখন নিয়ম।

Tuesday, January 9, 2018

রাষ্ট্রপক্ষের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট চলবে

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে এই সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আজ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোধ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম। শুনানিকালে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। ২০০৭ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে এটিকে আইনে পরিণত করে। এই আইন অনুযায়ী ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আবাসন কোম্পানি এসথেটিক প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। আর ১১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট, ২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপ-ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন তিনি। পরে এ ধরনের আরও দু’টি রিট করা হয়। তিন রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ১১ মে রায় দেন হাইকোর্ট। সেই রায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। গত বছর ১৪ মে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। ২১ মে থেকে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর কয়েক দফা স্থগিতাদেশ দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধে সরকারকে বারবার দিয়ে আসছে আপিল বিভাগ।

Monday, December 25, 2017

প্রধান বিচারপতি সিনহাকে জুডিশিয়াল ক্যু করে বিদায় করা হয়েছে: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

ষোড়শ সংশোধনীর মামলার রায় দেয়ার কারণেই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জুডিশিয়াল ক্যু করে বিদায় করা হয়েছে। ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিল করে পুরো রায় বাতিলের চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। সোমবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি বলেন, সরকার নিজেদের স্বার্থে বিচার বিভাগকে পরিচালিত করতে চায়। তারা যেভাবে চায় সেভাবেই আদালতকে রায় দিতে হবে, যদি তা না করা হয়। বিচারপতি সিনহার মতো তাদেরকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। এভাবেই তারা অন্য বিচারপতিদের তারা ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার খালেদা জিয়ার মামলার রায়কেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও মনে করেন তিনি। জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচার বিভাগ হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। এটা স্বীকৃত যে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবেন এবং সে আইন সংবিধান মোতাবেক হয়েছে কিনা এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কিনা এবং কোনো দলের বা ব্যক্তির স্বার্থে কিনা? তা দেখার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। বিচার বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে সে দায়িত্বই পালন করেছেন।
অথচ এই রায়ের পরে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে অহেতুক এবং অসৌজন্য মূলক ও আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধামূলক বক্তব্য রেখেছেন, যা অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত। তিনি বলেন, অতীতে বহুবার বে-আইনি সংশোধনীর বিরুদ্ধে অনেক সিদ্ধান্ত দেশের এই সর্বোচ্চ আদালত দিয়েছেন, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এবং আদেশের বিরুদ্ধে সরকার এইভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো রিভিউ আবেদন করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। তিনি আরো বলেন, একটি রায়ের মধ্যে সরকারের মতে দু-একটি পর‌্যবেক্ষণ অপ্রসাঙ্গিক থাকতেই পারে । কিন্তু বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল মতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের জন্য ৯৪টি যুক্তি দেখালেন । আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এই সরকার বিচার বিভাগকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমেই সুকৌশলে নিতে চাচ্ছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বিতর্কিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে তারা। সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, তাই তারা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি যে সাতজন বিচারপতি এই রায় দিয়েছেন । তার মধ্যে পাঁচজন এখনো আপিল বিভাগে দায়িত্বে আছেন। তারা তাদের পরবর্তী রায়ের আলোকে এই পুনঃবিবেচনার আবেদনটি বাতিল করবেন। তা না হলে ভবিষ্যতে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সম্পাদক শামীমা সুলতানা দীপ্তি, সাবেক সহ-সভাপতি এবিএম অলিউর রহমান খান, আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মেহেদী, আবেদ রাজা, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, খোরশেদ আলম, সগীর হোসেন লিয়ন, এএইচ এম কামরুজ্জামান মামুন প্রমুখ।

কী চাচ্ছে সরকার

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে প্রদান করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে সরকার। গতকাল সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনটি দায়ের করা হয়। আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষ ৯৪টি যুক্তি তুলে ধরেছে। রিভিউ আবেদন দায়ের করার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে বলেন, আজ আমরা রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছি। এখন শুনানির অপেক্ষায় থাকব। রিভিউ পিটিশনে মোট ৯৪টি গ্রাউন্ড দিয়েছি। এর মধ্যে কিছু গ্রাউন্ড রায়ের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে এবং বেশ কয়েকটি গ্রাউন্ড জাতীয় সংসদ আমাদের সংবিধানের মূল অনুচ্ছেদে ফিরে যেতে চায় কিন্তু এটাকে আদালত অবৈধ করেছেন সেসব বিষয়ে। এটা আদালত অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন না। তিনি বলেন, এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হবে কি হবে না তা নির্ভর করবে সংবিধানের ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদের অধীনে যখন আইন প্রণয়ন করা হবে তার ওপর। সেই আইনে কী বিধিবিধান থাকবে, তদন্তকাজ কে করবেন, তদন্তকাজের পর রিকমেনডেশন কী হবে এ সংক্রান্ত আইন হওয়ার পরই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের বিষয়টি আসবে। কাজেই যে আইনই এখনো প্রণয়ন হয়নি সেটি নিয়ে আগে থেকে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কী কী গ্রাউন্ডে আবেদন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৩ জুলাই আমাদের যে আপিল খারিজ হয় তা পুনর্বিবেচনা করা এবং আপিলের রায় বাতিল করার আবেদন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের বিচারপতিদের অপসারণ করার ক্ষমতা পুনর্বহালের গ্রাউন্ড আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে সংসদের ক্ষমতার কোনো বিষয় নেই। তবে জিয়াউর রহমানের আমলে মার্শাল ল ফরমান দিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের নামে যেটা সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হয়েছিল সেটাকে বাতিল করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের অনুচ্ছেদে আমরা ফিরে যেতে চেয়েছি। উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্ত করে যে ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়েছে তা আপনারা রিভিউ আবেদনের মাধ্যমে পুনর্বহাল চেয়েছেন কি না জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখানে অনেকের ধারণা- সংসদই তাদের অপসারণ করবে। বিষয়টি তা নয়।
যেকোনো বিচারপতি তিনি যদি অসমর্থ হন বা তার বিরুদ্ধে যদি অসদাচরণের কোনো অভিযোগ ওঠে সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কিভাবে তদন্ত হবে তা ঠিক করা হবে সংবিধানের ৯৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী। সেই তদন্ত হওয়ার পর তদন্ত কমিটি যদি মনে করে যে তিনি দোষী, সে ক্ষেত্রে তারা রিকমেনডেশন করবে তার অপসারণের জন্য। সেই রিকমেনডেশন পার্লামেন্টে যাবে এবং দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সমর্থিত হলেই তখন সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে চূড়ান্ত আদেশের জন্য। কাজেই তদন্ত কমিটি কোনো বিচারপতিকে যদি দোষী সাব্যস্ত না করেন তাহলে সেটা পার্লামেন্টে যাবেই না।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মুখ্য বিষয় হলো একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ উত্থাপিত হবে, তখন সেটার তদন্ত করার দায়িত্ব কার কাছে থাকবে এবং তদন্তের পদ্ধতিটি কী হবে, তদন্ত কারা করবেন সেটিই হবে মূল বিষয়। এখানে যে পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত করা না হয় সে পর্যন্ত তার ব্যাপারে করার কিছুই নেই। রিভিউ আবেদনটি দ্রুত শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ কী উদ্যোগ নেবে- জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অবস্থা বুঝে আমরা ব্যবস্থা নেবো। সাবেক প্রধান বিচারপতি যে পর্যবেবেক্ষণ দিয়েছেন সেগুলো কি আপনারা আপনাদের রিভিউ আবেদনে বাতিল চেয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অবশ্যই। তার (সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) পর্যবেক্ষণগুলো সুনির্দিষ্ট করে আমরা আমাদের গ্রাউন্ডে নিয়েছি। আপিল বিভাগের রায়ে বিচারকদের জন্য যে ৩৯টি কোড অব কন্ডাক্ট দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোড অব কন্ডাক্ট সম্পর্কে আমরা বলেছি (রিভিউতে), যারা তদন্ত করবেন তারা ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদের অধীনে কোড অব কন্ডাক্ট নির্ধারণ করবেন। এটা তো রায় দিয়ে করার কথা না। কোড অব কন্ডাক্ট অ্যাপ্রুভ করার কথা রাষ্ট্রপতির। এখানে (রায়ে) তারা যে কোড অব কন্ডাক্ট করেছেন, আমরা বলেছি এটা কোনো ইস্যুই ছিল না তাদের। এটা অনর্থক। নিজেরা নিজেরা করে নিয়েছেন। আমরা এটা বাতিল চেয়েছি। আপিল বিভাগে এখন পাঁচজন বিচারপতি আছেন। ফলে রিভিউ শুনানির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি এই উপমহাদেশের যতগুলো মামলা দেখেছি, বিশেষ করে ভারতে যে সাংবিধানিক মামলাগুলো হয়েছে, যে মামলাগুলো পাঁচজন বা সাতজন বিচারপতি করেছেন, সেগুলো যদি উল্টানোর প্রয়োজন হয় বা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয় তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমানসংখ্যক বা বেশিসংখ্যক বিচারপতিই করেছেন। তবে আমাদের আপিল বিভাগের রুলসে আছে যতখানি সম্ভব করা যায়। আপিলে সর্বসম্মতভাবে রায়টি হয়েছিল, সে ক্ষেত্রে রায়ের রিভিউ নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশাবাদী বলেই তো গত দুই মাস পরিশ্রম করে আমরা রিভিউ পিটিশন তৈরি করেছি। সবচেয়ে বড় গ্রাউন্ড হলো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানে ছিল, কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে প্রধান বিচারপতি এবং তার নিচের দু’জন জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে নিয়ে কাউন্সিল গঠিত হবে। তারা এ বিষয়গুলোর শুনানি করবেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকেও সুযোগ দেয়া হবে আত্মপক্ষ সমর্থনের। আমাদের সংবিধানের ৯৬(৩) অনুচ্ছেদে আছে- এ বিষয়ে সরকার আইন প্রণয়ন করবে। অর্থাৎ সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের রেজুলেশন না হলে কোনো বিচারপতিকে অপসারণ করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের আগ পর্যন্ত ৯৬(২) ও (৩) অনুচ্ছেদ বহাল ছিল। কিন্তু অবৈধ সামরিক সরকার আসার পর কোনো প্রতিষ্ঠান বা দল এমনকি সুপ্রিম কোর্টও এই ৯৬ (২), (৩) অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হয়ে গেছে, এমন কথা বলেননি। কাজেই আজকে যখন আমরা মার্শাল ল’ দ্বারা প্রণীত একটি বিধানকে অপসারণ করে সংবিধানের মূল অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করতে চাই তখন আদালত কেন এটাকে অবৈধ ঘোষণা করবেন? এ মামলার রিভিউ শুনানিতে বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে বাদিপক্ষ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়ার করা ওই আবেদনে ভারতীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট আগারওয়াল আমবুজ, অ্যাডভোকেট আগারওয়াল অনামিকা গুপ্তা ও অধিমোলাম ভেঙ্কটারমনের নামও সুপারিশ করা হয়। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বার কাউন্সিলে আন্তর্জাতিক আইনজীবী চেয়ে যারা আবেদন করেছেন, আমার মতে তারা দেশদ্রোহী। তার কারণ দেশের প্রতি আস্থা থাকলে, দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা থাকলে, দেশের বিচারকদের প্রতি আস্থা থাকলে কোনো আইনজীবী এ রকম দরখাস্ত করত পারেন না। উল্লেখ্য, আপিল বিভাগের যে সাত বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা অবসরে গেছেন, আর বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করেছেন। ফলে আপিল বেঞ্চে এখন বিচারক আছেন পাঁচজন। গত অক্টোবরের শেষ দিকে অ্যাটর্নি বলেছিলেন, রিভিউ ফাইল করা হলেও নতুন বিচারপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত রিভিউ শুনানি করার কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। গত ৩ জুলাই ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে সর্বসম্মতভাবে চূড়ান্ত রায়টি দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। গত ১ আগস্ট এ মামলার ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়েছিল। বিলটি পাসের পর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন আইনজীবী ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল জারি করে ওই সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান। ওই রুলের ওপর ২০১৫ সালের ২১ মে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী। সংসদে বিচারপতি অপসারণের বিধান একটি দুর্ঘটনা মাত্র।

Sunday, December 10, 2017

‘পুলিশ কাউকে নিয়ে গেলে আত্মীয়দের জানাতে হবে’

বাংলাদেশে গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও শিক্ষক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে চারজন ফিরে এলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসানসহ বাকীরা এখনো নিখোঁজ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে একটি ভীতির পরিবেশ। বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলছেন, "এতগুলো মানুষ এত অল্প সময়ের মধ্য নিখোঁজ হয়ে গেলো। তাদেরকে যেই নিক না কেনো, এতে মানুষের মধ্যে খুব ভীতির সঞ্চার হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার" কিন্তু সে বিষয়ে কি করছে মানবাধিকার কমিশন? হক বলছেন, "আমরা যখনই খবর পাই যে কেউ গুম হয়েছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে জানাই। যারা তাদের গুম করেছে, সে যেই হোক না কেন তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহবান জানাই" বাংলাদেশে বেশিরভাগ সময়ে নিখোঁজদের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয় যে তাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন তুলে নিয়ে গেছে। হক বলছেন, "যে কয়জন ফিরে এসেছে তারা কেউ মুখ খুলছে না। তাদের কারা নিয়েছিলো সেটার ব্যাপারে আমরাও নিশ্চিত হতে পারছি না। যদি কাউকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন অপরাধে ডেকে নিয়ে থাকে তাহলে তার সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী তাদের আত্মীয় স্বজনদের জানাতে হবে" তিনি আরো বলেন যে, তাকে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কমিশন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাত্র গতকালই বাংলাদেশে সরকারের কঠোর সমালোচক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার বলেছেন, তাকে অপহরণ করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাবার চেষ্টা হয়েছিল এবং পুলিশ তাকে উদ্ধারের পর তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেবার চেষ্টা করেছে। তিনি জুলাই মাসে নিখোঁজ হয়েছিলেন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড: মুবাশ্বার হাসান নিখোঁজ হয়েছেন এক মাস আগে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলছেন তারা ধারণা করতে পারছেন না, কেন মুবাশ্বার হাসান নিখোঁজ হতে পারেন। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।

Wednesday, December 6, 2017

আলতাফকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, রায় হাতে পাওয়ার সাপেক্ষে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। দুদকের আইনজীবী খোরশেদ আলম খান এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আলতাফ হোসেনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যাদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রায়ের পরে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, মামলা বাতিলে রুল খারিজ করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে মামলা চলতেও আর বাধা নেই বলে জানান এ আইনজীবী। একই মামলায় বৈধতার প্রশ্নের চলতি বছরের ২২ মে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক।
বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ চলছে। খালেদা জিয়া, আলতাফ হোসেন চৌধুরী ছাড়াও ওই মামলায় আসামিরা হলেন- মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ(মৃত্যুদণ্ড কার্যাকর)এম সাইফুর রহমান (মৃত), আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার(মৃত), এম শামসুল ইসলাম (মৃত), ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে এ মামলা বাতিলে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। হাইকোর্ট মামলার কার্যরক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেন । বুধবার সেই রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।