Thursday, January 8, 2015

আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে -জামায়াত, রাজধানীতে ৬ বাসে আগুন, ‘জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আন্দোলন কোনপথে নেবে’

জুলুম-নির্যাতন করে সরকার জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা আগামীতে আরও বেগমান হবে। সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশের জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে এবং আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আজ সংবাদ মাধ্যমে পাঠনো এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। ডা. শফিক বলেন, এ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন চলছে আন্দোলন চলবে। ২০ দলীয় জোটের ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে আজ সারাদেশে আওয়ামী লীগের হামলা এবং আইনÑশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক গণ গ্রেপ্তার চালিয়েছে। জনগণের আন্দোলন দমন করার জন্য সরকারের জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অত্যাচার-নির্যাতনের আশ্রয় দিয়ে স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। আজ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিলেট মহানগরী জামায়াতে সেক্রেটারী সোহেল আহমাদসহ ঢাকা মহানগরী, সিলেট, বগুড়া, পাবনা, ফেনী, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পটুয়াখালী, জয়পুরহাট, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের প্রায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। অবিলম্বে এসকল নেতা-কর্মীদের মু্িক্ত দাবি করেন তিনি।
রাজধানীতে ৬ বাসে আগুন
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয়  জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধের তৃতীয় দিনে রাজধানীতে ৬ বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মৌচাক এলাকার ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে  দাঁড়ানো অবস্থায় একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সময় নিউমার্কেট এলাকার নীলক্ষেত মোড়ে নিউ সুপার সার্ভিস নামে আরেকটি বাসে আগুন দেয়া হয়। মতিঝিল থানার গলিতে দুপুর পৌনে ২টার দিকে একটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর বনশ্রীতে একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবরব পরিবহনের চলন্ত বাসটি থামিয়ে ৪ থেকে ৫ জন পিকেটার বাসটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে সকালে মতিঝিলে রাস্তায় দাড়ানো অবস্থায় দিবানিশি পরিবহনের একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসের হেলপার ও স্থানীয় লোকজন এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। এছাড়া লালবাগে একটি গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
‘জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আন্দোলন কোনপথে নেবে’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার ভার দেশের জনগণের ওপর দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তিনি বলেন, বিএপি চেয়ারপারসন বলেছেনÑ  আমরা সন্ত্রাসী ও জঙ্গি নই। আমরা মানুষের অধিকার ও ভোটের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছি। জনগণের পাশে এগিয়ে এসেছি কিন্তু আমাদের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ব্যাহত করার জন্যই আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে আগামীতে গণতান্ত্রিক এই আন্দোলন কোনপথে এগিয়ে নেবে। আজ বিকালে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মাজাহারুল আনোয়ার বলেন, সাক্ষাতে ম্যাডাম দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি ভালোভাবে কথা বলতেও পারছেন না। তার গলায় ব্যথা। তবে ম্যাডাম জানিয়েছেন, দেশে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম চলছে। এই সংগ্রামে যাতে তিনি  দেশবাসীর সঙ্গে থাকতে পারেন, এ জন্য সবার কাছে দ্রুত সুস্থ হওয়ার দোয়া চেয়েছেন।  এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, চিত্রনায়ক কাজী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল ও নির্মাতা আমজাদ হোসেন।

বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে : রিজভী

সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, । ২০ দলীয় জোট মাঠে আছে মাঠেই থাকবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। বৃহস্পতিবার সকালে বারিধারার একটি বাসায় সাংবাদিকের তিনি এসব কথা জানান। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে অবরোধ স্থগিত করা হতে পারে বলে বিএনপির একটি সূত্রে বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দলের অবস্থান পরিষ্কার করে রিজভী বলেন, সারাদেশে সরকারের দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। গতকালও (বুধবার) তিন নেতা-কর্মীকে হত্যা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের নিষ্ঠুর নির্যাতনে সারাদেশে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা আহত হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করা না হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সমাবেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে না দেয়া হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি মেনে না নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ইজতেমার সুযোগ নিতে পারে ২০ দল, উদ্বেগে সরকার

ইজতেমা নিয়ে উদ্বেগে সরকার। এই উদ্বেগের পেছনে দুই কারণ। এক. ইজতেমার মুসল্লিরা তাদের অসুবিধার জন্য শুধু বিরোধী দলকেই দুষবে না, সরকারকেও দুষবে; যেহেতু সরকারের দায়িত্বটা বেশি। দুই. সরকার আশঙ্কা করছে, ইজতেমা সামনে রেখে বিএনপির লাখ লাখ লোক টঙ্গীতে অবস্থান নিতে পারেন। অনেকে ধারণা করেছিল, ইজতেমার জন্য বিএনপি সম্ভবত অবরোধ শিথিল করবে এবং ইজতেমার পর আবার চলবে অবরোধ। কিন্তু আগেই বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল ইজতেমা চলাকালে অবরোধ বহাল থাকবে। জানা যায়, খালেদা জিয়া দলের নেতাদের বলেছেন, ইজতেমাও হবে, অবরোধও চলবে।
আরো জানা যায়, প্রথম পর্বের ইজতেমার পরদিন সোমবার ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দেবে বিএনপি। এর জন্য তারা পুলিশের কাছে অনুমতি চাইবে না। কারণ দলটির নেতারা ধরেই নিয়েছেন, পুলিশের অনুমতি চেয়ে সমাবেশ করার সুযোগ আর নেই। সরকার তা কখনোই করতে দেবে না। তাই সুবিধামতো রাজধানীর যেকোনো জায়গায় সমাবেশ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের সমাবেশের উদ্যোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে তুলবে। বিরোধী দল চাইছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদটি যত ওপরে ওঠানো যায়।
সোমবারের জনসমাবেশের পরিকল্পনার পেছনে অন্তত দুটি কারণ রয়েছে। এক. এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হবে, তা চলমান অবরোধ কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার জন্য সহায়ক হবে বলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন। দ্বিতীয়ত, ইজতেমায় আসায় বিএনপির নেতাকর্মীদের এই সমাবেশে যোগ দেয়া সহজ হবে। আর যদি তাদের টঙ্গী থেকে ঢাকা আসতে বাধা দেয়া হয়, তাহলেও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হবে। সেটিও বিরোধী দলের পক্ষে যাবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, যত সংঘর্ষ, যত উত্তেজনা, সবকিছুর ফল তাদের অনুকূলে যাবে। সংকটে পড়বে সরকার।
সরকারও এসব বিষয় নিয়ে ভাবছে বলে জানা গেছে। তবে তা মোকাবিলায় সরকার উভয় সংকটে। টঙ্গী আসতে বাধা দিলে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হবে। আর আসতে দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পৌঁছে যাবেন রাজধানীর উপকণ্ঠে। এই বিষয়টি মোকাবেলা সরকারের জন্য একেবারেই অসম্ভব।
দ্বিতীয়ত, বিরোধী দল রাজধানীতে যে কর্মসূচির ছক এঁকেছে, সেই ছক ভাঙতে গেলে উত্তেজনা-সহিংসতার জন্ম হওয়া স্বাভাবিক। সেই বিবেচনা মাথায় রেখে সরকারকে ছক ভাঙতে হবে। সেটি কতটুকু সম্ভব হবে তা কেবল সময়ই বলতে পারে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারা আন্দোলন থেকে পিছপা হবে না। তারা মনে করছে, রাজধানীতে আন্দোলন না হলেও সমস্যা নেই। ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে। এতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা সরকারের মোকাবেলা করা কঠিন হবে।
অবরোধের প্রভাবে ইতিমধ্যে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এই শীতকালে যেখানে শাক-সবজির দাম সবচেয়ে কম থাকে ঢাকায়, সেখানে এখন কোনো সবজির দাম ৫০ টাকা কেজির নিচে নয়। বর্ষাকালেও রাজধানীর সবজির দাম এত চড়া থাকে না।
বিএনপি আরো মনে করে, এই অবরোধ কর্মসূচি যত দিন ধরে রাখা যাবে, ততই মফস্বল এলাকার পরিবেশ আরো বেশি করে নিয়ন্ত্রণে আসতে থাকবে। এতে কর্মীরা উৎসাহিত হবেন, তারা আরো সক্রিয়ভাবে মাঠে নামবেন।

রাজধানীতে দুই বিচারপতির বাসায় ককটেল হামলা

এবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি গোবিন্দ চ্দ্র ঠাকুরের ধানমন্ডির বাসায় ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হাইকোর্ট বেঞ্চের দ্বিতীয় সদস্য ছিলেন। ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক যুগান্তরকে জানান, বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের রাজধানীর ধানমণ্ডির জাজেস কমপ্লেক্সের বাড়িতে (রোড নম্বর ৭/এ, বাড়ি নম্বর ৯২/বি) সন্ধ্যার পর ককটেল হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কে বা কারা বাড়ির বাইরে থেকে ভেতরে দু’টি ককটেল ছুঁড়ে মারে।তবে এতে কেউ হতাহত হননি। এর আগে ভোরে বেঞ্চের প্রথম সদস্য বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের ফেনীর গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনী গ্রামে তার বাড়ির কাচারি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঘটনা জানতে পেরে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভায়।

খালেদাকে বিজেপি সভাপতির ফোন, সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান বি. চৌধুরীর

রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় পুলিশের ছোড়া পেপার স্প্রেতে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে ফোন করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’র সভাপতি অমিত শাহ। তিনি ফোনে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। গত বুধবার রাত ১০টায় তিনি খালেদা জিয়াকে ফোন করেন। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর মধ্যে কয়েক মিনিট ফোনে কথা হয়। এ সময় বিজেপি সভাপতিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। জবাবে খালেদা জিয়া ফোন করার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান বি. চৌধুরীর
চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। বি. চৌধুরী বলেন, আমি সরকারকে তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছি, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ সব বিরোধীদলের সঙ্গে অবিলম্বে সরকারের আলোচনায় বসা উচিত। দেশের স্বার্থে সরকারকে সব অহমিকা ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংলাপ যত দ্রুত হবে ততই দেশ, সরকার এবং বিরোধী দলের জন্য মঙ্গলজনক। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, মির্জা আলমগীরকে অনেকবার বন্দি করা হয়েছে এবং বন্দি করার পর তাকে এভাবে আটকে রেখে রিমান্ডে নেয়া অযৌক্তিক। আবার সরকারই তাকে বারবার মুক্তিও দিয়েছে। সুতরাং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

তারেক-সালামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, ‘নির্যাতনকারী নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা হবে’

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ইটিভির মালিক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা দায়ের হয়েছে। আজ দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি (নং১৩) দায়ের করেন এসআই বোরহান উদ্দিন। তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত রোববার ৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা ও কালো’ দিবস উপলক্ষ্যে পূর্ব লন্ডনের অট্রিয়াম অডিটরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করেছে যাতে জনমনে হিংসার উদ্রেক হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি হিসেবে তারেক রহমানের বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করে ইটিভির চেয়ারম্যান আব্দুস সলামও রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন। এজন্য তারেক রহমান ও আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
‘নির্যাতনকারী নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা হবে’
বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যে সকল সদস্য সরকারের নির্দেশে বিরোধী মতাদর্শীদের নির্যাতন ও হয়রানি করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে  যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন ‘একশন গ্রুপ টু সাপোর্ট পলিটিক্যাল ভিক্টিমস ইন বাংলাদেশ’। বুধবার পূর্ব লন্ডনের ব্লুমুন মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের ডেপুটি চিফ কো-অর্ডিনেটর ব্যারিষ্টার তমিজ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন  ব্যারিষ্টার আলিমুল হক লিটন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও এই অবৈধ সরকারের কার্যক্রম নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ইতিমধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আরও ব্যাপক মাত্রায় তথ্য উপাত্ত দিয়ে আমরা এই ফ্যাসিস্ট সরকারের মুখোশ আন্তর্জাতিক মন্ডলে তুলে ধরতে চাই। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে এ সরকারের কর্তব্যক্তিদের  হুকুমের আসামি করা হবে। ফলে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিষ্টার ইকবাল হোসেন, ব্যারিষ্টার আল মামুন, শেখ মহিউদ্দিন, এডভোকেট আবুল হাসনাত, সলিসিটর নাসের আহমেদ অপু, এডভোকেট নাসরিন আক্তার, এডভোকেট আজহারুল হক, এডভোকেট  আনোয়ার হোসেন, সলিসিটর কুমকুম বেগম প্রমুখ।

জনগণের সহযোগিতায় সংকট কাটানো যাবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর

(বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের সমর্থন কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকায় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ১৯তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সমর্থন চান। ছবি ফোকাস বাংলা) জনগণের সহযোগিতায় দেশ সংকট কাটিয়ে উঠে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ১৯তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। খবর বাসসের। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের সমর্থন কামনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার একমাত্র পথ হচ্ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা। আমরা বাংলাদেশকে এমন একটি মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে চাই, যেখানে আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হবে না অথবা অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য আমাদের অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং দেশবাসীকে নিজস্ব শক্তি সম্পর্কে আস্থাশীল হতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিজস্ব নীতি অনুসরণ করতে হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি গড়তে নিজস্ব সম্পদের ওপর নির্ভর করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে প্রতিটি অর্জনের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রসহ প্রতিটি অধিকার ত্যাগের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়েছে। জাতির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক ও আদর্শগত লড়াইয়ের পাশাপাশি আত্মত্যাগের মানসিকতার কারণে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছে। তবে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা একটি মহল তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এই সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে খুন করা হয়। যে মুহূর্তে দেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই তাঁকে হত্যা করা হলো। ২০০১ সালে দেশে যখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বর্ণযুগ ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের উন্নয়ন মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হলো। ঠিক একই অবস্থায় এখন আবার দেশকে পিছে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গেস্ট অব অনার হিসেবে যোগ দেন। সমিতির সভাপতি আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (ইআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সমিতির সহসভাপতি এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সমিতির অনারারি আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য চারজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদকে অর্থনীতি সমিতি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। পদক পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বিশিষ্ট ভারতীয় অর্থনীতিবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অধ্যাপক অশোক মিত্র, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রবাসী সরকারের পরিকল্পনা সেলের সদস্য অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন (মরণোত্তর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর লুৎফর রহমান সরকার (মরণোত্তর)।

‘স্বামীর মরা মুখটাও দেখতে পারলাম না’ by মানসুরা হোসাইন

‘স্বামীর মরা মুখটাও দেখতে পারলাম না। শুনছি মরার সময় নাকি বাচ্চাগুলারে দেখবার চাইছে। বাচ্চাগুলারেও বাপের মুখটা একটু দেখাইতে পারলাম না। ট্রেনের রাস্তা তুইল্যা ফালাইছে। একজনের লাইগ্যা গিয়া তো আর দুই বাচ্চারে মাইরা ফালাইতে পারি না।’
কথাগুলো বলছিলেন খোদেজা বেগম। তিনি ঢাকায় মালিবাগে গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাঁর তিন সন্তানের বড়টি ছেলে। বয়স ১২ বা ১৩। সে মৌলভীবাজারে টেইলার্সে কাজ শেখে। আর ছোট দুই ছেলে-মেয়ের একজন যাত্রাবাড়ী আরেকজন রাজারবাগে বাসায় কাজ করে। খোদেজার স্বামী আবদুল জলিল আরেক স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে থাকতেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের আরিচপুর গ্রামে। সাত-আট বছর আগে প্যারালাইসিসে অচল হয়ে পড়েন তিনি। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার খবর খোদেজা ফোনে জেনেছেন রাত একটায়। তারপর শুধুই বুকফাটা কান্না।
চলমান অবরোধের কারণে খোদেজা তাঁর সন্তানদের নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জে যেতে পারেননি। খোদেজা অবরোধ মানে কী, তা বোঝেন না। টেলিভিশনে দেখে যা বুঝতে পারছেন খোদেজার ভাষায় তা হচ্ছে ‘হাসিনা-খালেদা কিছু একটা নিয়া লাগছে। ওরাই দিছে এই অবরোধ।’
খোদেজা জানান, স্বামীর সঙ্গে শেষ দেখা হয় পাঁচ মাস আগে। তখন তিনি কাজ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। এরপর টেলিফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে তা-ও অনেক দিন। স্বামী অসুস্থ ছিলেন, তবে হুট করে মারা যাবেন, তা বুঝতে পারেননি। শেষবার ফোনে যখন কথা হয়েছিল, স্বামী খুব কান্নাকাটি করছিলেন বলে জানালেন খোদেজা। তিনি বলেন, গরিব মানুষ। তার ওপর অসুস্থ। মরে গেলে ছেলে-মেয়ে নিয়ে খোদেজা কীভাবে কী করবেন, ছেলে-মেয়েকে দেখতে ইচ্ছা করে ইত্যাদি বলছিলেন। আজ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে টেলিফোনে কথা হয় জলিলের অন্য ঘরের ছেলে খালেদের (২৪) সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মা তো বাচ্চাকাচ্চা নিয়া আইতে পারল না। পুরা দিন ভাবছিলাম আইতে পারব। তাই আসর নামাজের পর বাবারে মাটি দিয়া ফালাইছি।’
রাশেদ আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘মানুষ মরল, তার মরা মুখটাও দেখতে পারল না। এক ভাই মৌলভীবাজার থেইক্যা কোনো মতে আইয়া বাপের মুখ দেখছে। অন্য ভাই-বোন যদি একবার বাপের মুখটা দেখতে পারত। সারা দিন লাশ রেখে দেওয়ায় ফুলে গিয়েছিল। ফলে ইচ্ছা থাকলেও আর লাশ রাখা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া কাল যে অবরোধ থাকবে না, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
রাশেদ নিজেও বিএনপির সমর্থক। তাই অবরোধ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে খানিকক্ষণ চুপ করে থাকেন। পরে বলেন, ‘কী বলতাম, আমিও বিএনপি করি। কিন্তু পার্টি পার্টি গ্যাঞ্জাম করে, আর আমরা সাধারণ মানুষ কষ্ট পাই। এইটা হওন ঠিক না।’
খোদেজা ঢাকায় কাজ করেন মো. আবদুল হালিমের বাসায়। তিনি পেশায় সাংবাদিক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অফিসে এসে ভালোভাবে খবর নিয়ে জানলাম সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ। রেললাইনের ফিশ প্লেট তুলে ফেলায় ট্রেন লাইনচ্যুত। পরে আমার স্ত্রী ফোন করে জানালেন, খোদেজা যাবেন না ঠিক করেছেন। আমি শোকে স্তব্ধ। একজন নারী তাঁর স্বামীকে, সন্তানেরা তাদের বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে পারছে না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?’
হালিম পাঁচ ঘণ্টা আগে তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীই তাঁদের সবচেয়ে কাছের মানুষকে হারিয়েছেন। স্বজন হারানোর ব্যথা তাঁরাও অনুভব করেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তাঁরা শুধু নিজেদের কষ্টটাই অনুভব করেন, অন্যেরটা না। দুই নেত্রী কি পারবেন শামসুনের মার (আমার গৃহপরিচারিকা) মতো এমন অনেক নারীকে শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখার ব্যবস্থা করে দিতে? তাঁর দুই সন্তানের মতো অনেক সন্তানকে বাবার মুখটা শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখার ব্যবস্থা করতে? যদি না পারেন, তাহলে তাদের রাজনৈতিক কমর্সূচি দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কি কোনো অধিকার আছে?’

ধূরুং ক্যামব্রিয়ান স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন by হাছান কুতুবী

শিক্ষার গুণগতমান পরিবর্তনের ওপেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপজেলার ধূরুংবাজার সংলগ্ন এক মনোরম পরিবেশে স্থাপিত ‘ধূরুং ক্যামব্রিয়ান স্কুলের’ শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ যাত্রা শুরু করেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজদৌল্লাহর সভাপতিত্বে বুধবার এক বর্নাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্টানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.টি.এম.নুরুল বশর চৌধূরী প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির হায়দার, দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আল-আযাদ, কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাছান কুতুবী, দু’ প্রবীণ শিক্ষক নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ আবু বকরসহ এলাকার সর্বস্তরের গন্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকগণ বিশেষ অতিথি ছিলেন। এক লাখ টাকার অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করে আধুনিক কারিকুলামে শিক্ষা প্রদানের জন্য স্কুল পরিচালকদের পরামর্শ দেন অনুষ্টানের প্রধান অতিথি। স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্টাতা পরিচালক মাসুদুল ইসলাম সবুজের সঞ্চালনায় অনুষ্টানে পরিচালক ইনামুল হকসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
(হাছান কুতুবী-০৭-জানুয়ারি)

প্যারিসে এবার বন্দুকধারীর গুলিতে নারী পুলিশ নিহত

(আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় বন্দুকধারী। তার পরনে ছিল বুলেটপ্রুপ পোশাক। ঘটনার পরপরই প্যারিসের শহরতলি মঁরুজ এলাকায় ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: এএফপি) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সাপ্তাহিক পত্রিকা কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনার পরের দিন আজ বৃহস্পতিবার এক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন পুলিশের এক নারী কর্মকর্তা। গুরুতর আহত হয়েছেন আরেকজন। প্যারিসের দক্ষিণে শহরতলি মঁরুজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বন্দুকধারী পালিয়ে গেছে। আজ বিবিসির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গতকালের শার্লি হেবদো নামের সাপ্তাহিক পত্রিকা কার্যালয়ে হামলার ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। গতকালের ওই হামলায় অংশ নেওয়া তিনজনের মধ্যে সন্দেহভাজন কনিষ্ঠ হামলাকারী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বাকি সন্দেহভাজন দুই ভাই সাঈদ কুয়াচি (৩৪) ও শরিফ কুয়াচিকে (৩২) খুঁজছে পুলিশ। তাঁদের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের ধরতে গিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শার্লি হেবদো পত্রিকার কার্যালয়ে গতকাল বুধবার কালাশনিকভ রাইফেল ও রকেট লাঞ্চার নিয়ে তিন ব্যক্তি হামলা চালান। এতে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক, তিন ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী ও দুই পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। এ ঘটনায় ফ্রান্সে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আজ স্থানীয় সময় বেলা ১১ টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটা) পুরো দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে এবং প্যারিসে নটর ডেম ক্যাথেড্রালে ঘণ্টা বাজানো হবে।

‘অপরাধীকে মহিমান্বিত করার প্রচারযন্ত্র গণমাধ্যম নয়’ -তথ্যমন্ত্রী ইনু

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, কোন অপরাধীকে মহিমান্বিত করার প্রচারযন্ত্র গণমাধ্যম নয়। অর্ন্তঘাত নাশকতা সহিংসতামূলক কর্মকা- প্রচারযন্ত্রও গণমাধ্যম নয়। তিনি আরও বলেন, সকল গণমাধ্যমই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্ত্বরে জেলা জাসদের সম্মেলন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। জঙ্গীবাদের প্রশ্রয়দান, গাড়ি পোড়ানো, ও মানুষ হত্যা ও নাশকতামূলক কর্মকা- থেকে তাকে নিবৃত করা হয়েছে। যে মূহুর্তে আশ্বস্ত করবেন যে উনি আর উস্কানি দিবেন না তখন তিনি স্বাচ্ছন্দে সকল গণতান্ত্রিক কর্মকা- করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান দেশে রাজনৈতিক সংকটের জন্য খালেদা জিয়া দায়ী। গত চার বছরের যে অর্ন্তঘাত নাশকতা সহিংসতা চলছে তার প্রধান উস্কানিদাতা তিনি। বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র হত্যা ও দেশ খ- বিখ- করার চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে। উনি এসব থেকে নিবৃত হবেন কিনা তার উপর ভবিষ্যত রাজনীতি নির্ভর করছে।
মন্ত্রী বলেন, শাহজাহানপুরে বাচ্চা পাইপে পড়ে যাওয়ার জন্যে ঠিকাদার যদি হত্যা মামলার সম্মুখীন হয় তাহলে সহিংসতা অর্ন্তঘাত আগুনে পোড়ানোর জন্যে বেগম খালেদা জিয়াকেউ এর দায় স্বীকার করতে হবে। এবং প্রধান উস্কানিদাতা হিসাবে এ সকল হত্যাকা-ে এবং আহত নিহত করার ঘটনার মামলা উনাকে মোকাবেলা করতে হবে।
শহরের পায়রা চত্বরে জেলা জাসদ আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা জাসদের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম টিপু। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সদস্য সচিব শিরিন আকতার এমপি। সম্মেলনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগের টাফ টেস্ট ২০১৫ -ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

লন্ডনের বিখ্যাত সাময়িকী দি ইকোনমিস্টে গতরাতে তার বাংলাদেশ সংক্রান্ত পূর্বাভাসের হালনাগাদ করে বলেছে, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন উদযাপন নিয়ে বাংলাদেশে যে ঘটনা ঘটছে তাতে আমাদের আগের আশঙ্কাই শক্ত ভিত্তি পেল যে, ২০১৫ সালের বাংলাদেশ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ‘রাজপথের প্রতিবাদ’ একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকবে। পত্রিকাটির ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একদিন আগে (৬ই জানুয়ারি) তার এক নতুন প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘আওয়ামী লীগ প্রশাসন ২০১৫ সালে একাধিক টাফ টেস্ট বা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবে।’ পত্রিকাটি মনে করে, বিরোধী বিএনপি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে এবং এই সময়জুড়ে দেশব্যাপী হরতাল পালনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ৬ই জানুয়ারি ২০১৫ দি ইকনোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনের ভাষায়, ‘সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে সরকার আসন্ন বছরে একাধিক চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করতে পারে।’ (Aided by the support of the military, the government is likely to withstand several challenges in the coming year)
ইকনোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আগে  বাংলাদেশ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নে উল্লেখ করেছিল যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি প্রশমিত হয়েছে। কারণ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ক্ষমতা সংহত করতে পেরেছে। পত্রিকাটি আশা করে ২০১৪-২০১৫ এবং ২০১৫-২০১৬ (জুলাই-জুন) অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সতেজ থাকবে। গত ১৯শে ডিসেম্বরে ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পূর্বাভাস ছিল, ‘বাংলাদেশ জ্বালানি শক্তি ব্যবহারে ক্রমশ কয়লার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা দেখাবে। ইকনোমিস্টের ভাষায়, ‘স্থানীয় প্রতিরোধের  প্রেক্ষাপটে সরকার যেমনটা অনুমান করেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ও ধারাবাহিকতার সঙ্গে কয়লার দিকে ঝুঁকে পড়ার ঘটনা ঘটতে পারে।’ দি ইকনোমিস্ট রিপোর্ট আরও বলেছে, ‘সংসদে একটিও আসন ব্যতিরেকে বিএনপিকে একটি নিঃশেষিত শক্তি বলে মনে হতে পারে কিন্তু ধ্বংসকারী হরতাল ( রাজপথের প্রতিবাদ সংশ্লিষ্ট ব্যাপকভিত্তিক ধর্মঘট) সংগঠিত করতে তার যে সামর্থ্য সেটা অনিষ্পন্ন থেকে যাবে এবং আওয়ামী লীগের কাছ থেকে জবরদস্তি ক্ষমতা নিতে বিএনপি ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই কৌশল প্রয়োগ করতে পারে।’

মিডিয়ায় ‘সরকারি হস্তক্ষেপে’ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্বেগ, ইটিভি চেয়ারম্যান কারাগারে, বিচারকের বাড়িতে আগুনঃ বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছে মিডিয়া: মায়া

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা জানতে পেরেছি যে, গত কয়েকদিনে সরকার গণমাধ্যমের ওপর নানা নিয়ন্ত্রনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকার ক্যাবল অপারেটরদের দিয়ে কৌশলে একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। চ্যানেলটির চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গভীর রাতে এমন একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে যে মামলায় তিনি আসামি ছিলেন না। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এসব চ্যানেল যেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংক্রান্ত লাইভ সম্প্রচার না করে। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জনপ্রিয় একটি টকশো অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য টকশোতেও জনপ্রিয় আলোচকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একজন রাজনীতিবিদের বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালত থেকে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আমরা মনে করি এসব পদক্ষেপ সংবিধান প্রদত্ত বাক স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করছে। আমরা এসব পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা পরিস্কারভাবে বলতে চাই, অতীতে গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরে কারও শেষ রক্ষা হয়নি। বর্তমান অনির্বাচিত সরকারেরও হবে না।
একুশের টিভির চেয়ারম্যানের জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুর
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের  চেয়ারম্যান আবদুস সালামের জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এইসঙ্গে তাকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ দুপুরে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহের নিগার সূচনার আদালত। এর আগে গত ৬ই জানুয়ারি আবদুস সালামকে আটক করে পুলিশ।
তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার রায় দেয়া বিচারকের বাড়িতে আগুন
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দেয়া হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের ফেনীর গ্রামের বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ ভোরে সদর উপজেলার দলিয়া গ্রামের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, আজ ভোরে বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের দলিয়া গ্রামের বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির কিছু অংশ পুড়ে যায়। তবে ওই বাড়িতে কেউ ছিলেন না। কাজী রেজাউল হকসহ তার পরিবারের সদস্যরা সবাই ঢাকায় থাকেন। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, গতকাল তারেক রহমানের বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের  হাইকোর্ট বেঞ্চ।
বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছে মিডিয়া: মায়া
বিএনপিকে গণমাধ্যমগুলো বাঁচিয়ে রেখেছে বলে মনে করেন ত্রাণমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি গণমাধ্যমের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এক সপ্তাহ আপনারা বিএনপির সংবাদ দিয়েন না, আমাদেরওটাও দিয়েন না। দেখেন, জনগণ কোন দিকে যায়। এদের (বিএনপি) আর পাওয়া যাবে না।’ আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অবরোধবিরোধী অবস্থান কর্মসূচিতে মায়া এসব কথা বলেন।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘খালেদার অবরোধ কর্মসূচির দামও নেই, প্রভাবও নাই। জনগণকে নাটকের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করবেন না। অবরোধ দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে আর কষ্ট দিবেন না।’ তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা যাতে শা‌ন্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে না পারে, এ জন্যই খালেদা জিয়া অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত খালেদাকে করতেই হবে।’ অবরোধে যারা গাড়ি পোড়াচ্ছে, তারা তারেক রহমানের বেতনভুক্ত সন্ত্রাসী দাবি করেন মায়া। এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, খাদ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ক্লাবে লুকানো নেতাদের দিয়ে আন্দোলন হবে না: হানিফ, খালেদা অসুস্থতার ভান করছেন: নাসিম

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, “আর যা-ই হোক, বিএনপির দ্বারা আন্দোলন হবে না। কারণ নেতারা গ্রেফতারের ভয়ে প্রেস ক্লাবে লুকিয়ে থাকেন। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। যে দলের নেতারা গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে থাকেন, তারা কীভাবে আন্দোলন করবেন?”   বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা করেন। তারেক রহমান সন্ত্রাসী, বিএনপি সন্ত্রাসীদের দল বলে অভিযোগ করে হানিফ বলেন, “হাইকোর্টের রিটের প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মাহবুব মনের অগোচরে স্বীকার করেছেন তাদের দলের নেতা (তারেক রহমান) ও বিএনপি সন্ত্রাসীর দল।”   হানিফ বলেন, “বুধবার হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। ওই রায়ে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানকারী কোনো ফেরারি আসামির বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশ করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী। এতে কোনো ফেরারি আসামি বিদেশে বসে দেশের ইতিহাস বিকৃতি করতে পারবে না।” সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, “৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে দেশে যে সহিংসতা করা হচ্ছে, এর দায়ভার বিএনপি ও তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে।” স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথসহ ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতারা বর্ধিতসভায় উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা অসুস্থতার ভান করছেন: নাসিম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থতার ভান করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে কথা দিচ্ছি, যদি তিনি আসলেই অসুস্থ হয়ে থাকেন। তিনি আমাকে বললে, আমি কথা দিচ্ছি যত ডাক্তার লাগে আমি ডাক্তার পাঠিয়ে তাকে সুস্থ করার ব্যবস্থা করব।”   সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।   নাসিম বলেন, “মনে রাখতে হবে যুদ্ধক্ষেত্রে যখন সেনাবাহিনী প্রধান মাঠে নামে তখন ভাববেন ওই বাহিনীর পতন অনিবার্য। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছেন। অথচ তার নেতাকর্মীরা তার ডাকে সাড়া না দেয়ায় তিনি (খালেদা) নিজেই এখন মাঠে নেমে আবোল-তাবোল কথাবার্তা বলছেন।” জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, সাম্যবাদী দলের দিলিপ বড়ুয়া, ওয়ার্কাস পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাফর সাজ্জাদ, জাসদের নাজমুল হক প্রধান, আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সদস্য এস.এম কামাল হোসেন এমপি, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক এমপি, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি প্রফেসর হাবিবে মিল্লাত মুন্নাসহ সিরাজগঞ্জ জেলা, উপজেলা ও পাশ্ববর্তী জেলাসমূহের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রুবেল কারাগারে, এখন রুবেলের কী হবে!

অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপির দায়ের করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন সিএমএম আদালত। আজ সকালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদাতের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন রুবেল। এরপর বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে রুবেলকে চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছিল হাইকোর্ট। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ঘোষিত ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রয়েছেন রুবেল। এরপর বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে রুবেলকে বাদ দিতে হাইকোর্টে রিট করেন হ্যাপি। কিন্তু উচ্চ আদালত রিটটি খারিজ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিরপুর থানায় গত বছরের ১৩ই ডিসেম্বর রুবেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন হ্যাপি।
এখন রুবেলের কী হবে!
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতের আদেশ একটা বড় ধাক্কাই দিয়ে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এক তরুণীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের কারাগারে গমনের আদেশ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় একটা বড় সমস্যাই তৈরি করে দিল। ৪ জানুয়ারি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য যে তিনি।
বিশ্বকাপ দলের সদস্য হলেও আইন তাঁর নিজস্ব গতিতেই চলেছে। তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় আপাতত তাঁকে কারাগারে যেতেই হচ্ছে। অথচ আসছে সপ্তাহ থেকেই বিশ্বকাপ সামনে রেখে জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা। এখন উচ্চতর আদালত থেকে রুবেল যদি নিজের জামিন না করাতে পারেন, তাহলে তাঁর বিকল্প ভাবতেই হবে বিসিবিকে। বিসিবির ভাবনটাও ঠিক এমনই। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে, সেদিন রুবেল যদি দলের সঙ্গে যেতে না পারেন, তাহলে তো অবশ্যই তাঁর বিকল্প ভাবতে হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, যেহেতু আইনি-প্রক্রিয়া চলছে, তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। বিসিবির নীতি-নির্ধারকেরা এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।

জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সরকার -সংবাদ সম্মেলনে ড্যাব

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পেপার স্প্রে ছুড়ে সরকার জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এতে জাতিসংঘের সনদও লঙ্ঘিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন ড্যাবের নেতা এম এ মান্নান। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে ড্যাবের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, পেপার স্প্রে এক ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র। এটির প্রয়োগে মানব চোখে প্রচণ্ড জ্বালা, ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হয়। নাক দিয়ে পানি পড়ে ও প্রচণ্ড কাশি হয়। বয়স্কদের ওপর এটির প্রয়োগে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালের ১৩ জানুয়ারি কেমিক্যাল উইপন কনভেনশন (সিডব্লিউসি) স্বাক্ষর হয়। ওই বছরের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ১৯৯৭ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে ওই চুক্তি কার্যকর রয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী পেপার স্প্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৯০টি রাস্ট্র ইতিমধ্যে এতে সই করেছে।
এম এ মান্নানের দাবি, জাতির পক্ষে সরকার যেহেতু ওই চুক্তিতে সই করেছে, তাই তারা এটি ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু সরকার দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি খালেদা জিয়ার ওপর পেপার স্প্রে নিক্ষেপ করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করেছে। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, একটি বিশেষ খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে এই রাসায়নিক অস্ত্র খালেদা জিয়ার ওপর অমানবিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পেপার স্প্রে ব্যবহারের জন্য তাঁরা দেশবাসীর কাছে এর বিচার প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে এটি প্রয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজউদ্দিন আহমেদ, রুস্তম রানা, শাহবুদ্দিন আহমেদ, জহিরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
অবরোধে পণ্য পরিবহণের কাজ ব্যাহত
২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহণ। পুলিশি পাহারায় পণ্য পরিবহণ শুরু হলেও পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।   এদিকে ঝুঁকি নিয়েই বন্দরে পণ্য আনা-নেয়া করছেন পরিবহণ মালিকরা।   পুলিশি নিরাপত্তায় রাত নয়টায় ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান  যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে। ২০ দলীয় জোটের অবরোধের কারণে পুলিশের এই বিশেষ ব্যবস্থা। দিনে দুবার এই নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে আমদানি-রফতানি কার্য্যক্রম।   ২০১৩ সালের শেষের দিকে রাজনৈতিক সহিংসতায় আমদানী-রফতানি বাণিজ্যে  প্রতিদিন গড়ে ক্ষতি হয়েছে দেড়শো কোটি টাকারও বেশি। তাই এবারের অবরোধ কর্মসূচিতেও শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা।   ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের সহিংসতায় মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রায় সাতশোর মতো ট্রাক ও লরিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। আহত এবং নিহত হয় বেশ কিছু সংখ্যাক চালক ও সহকারী। তাই এবারও ঝুঁকির মধ্যেই পণ্য আনা-নেয়া করছেন পরিবহণ মালিকরা।   পুলিশি পাহারায় পণ্য পরিবহণে কিছুটা স্বস্থি আসলেও স্বাভাবিক পরিস্থিতির অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা।

খোলা হয়েছে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের তালা, কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড, বন্ধ একটি স্কুল

(ছবি:২- বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা খুলে নেওয়ার পর এভাবে ফটকের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। ছবি:২- মহিলা দলের সভানেত্রীর নেতৃত্বে সংগঠনের কয়েকজন আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রিকশাভ্যানে করে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের উদ্দেশে যান। ছবি: আবদুস সালাম) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা খুলে নিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তালাটি খোলা হয়। খালেদা জিয়া এখনো ওই কার্যালয়ের ভেতরে রয়েছেন। সকাল থেকে গুলশানের এই কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের মহিলা সদস্যরা অবস্থান নেন। ফটকের দুই পাশে দাঁড়ানো ছিলেন পুরুষ পুলিশ সদস্যরা। এ কারণে বাইরে থেকে গেটের তালার অবস্থা দেখার সুযোগ ছিল না। এর মধ্যেই ওই ফটকের তালা খুলে নেয় পুলিশ। এ সময় কার্যালয়ের একপাশে আগের মতো একটি জলকামান ও দুটি প্রিজন ভ্যান রাখা ছিল। তালা খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারিভাবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য দেওয়া পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দিন জানান, তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের পাহারা আগের মতোই আছে। এর আগে সকালে গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের প্রধান গেট তালাবদ্ধ। পকেট গেট খোলা। এই দরজা দিয়ে স্বজনেরা তাঁকে খাবার সরবরাহ করছেন। গুলশান থানার ওসি (তদন্ত) ফিরোজ আহমেদের দাবি, ওই এলাকায় প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এ ছাড়া বাসা ও এর আশপাশে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
খালেদার জন্য মাছ-মোরগ-দই
গুলশানে রাজনৈতিক কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও অন্যদের জন্য মাছ, মোরগ, কাঁচাবাজার, ফলমূলসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসেন মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী। তবে পুলিশি বাধায় তাঁরা তা দিতে পারেননি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহিলা দলের সভানেত্রী নুরে আরা সাফার নেতৃত্বে সংগঠনের ১২-১৩ জনের একটি দল রিকশাভ্যানে করে এসব খাদ্যসামগ্রী নিয়ে রাজনৈতিক কার্যালয়ের উদ্দেশে যান। কার্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ২০-২৫ গজ দূরে রিকশাভ্যানসহ মহিলা দলের নেত্রীদের থামিয়ে দেয় পুলিশ। এরপর নুরে আরা সাফা ও ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী সুলতানা আহমেদ খালি হাতে হেঁটে কার্যালয়ের ভেতরে যান। তাঁরা সেখানে ১৫ মিনিট অবস্থান করেন। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সুলতানা আহমেদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, নেত্রী অসুস্থ। ভেতরে সবাই যন্ত্রণায় কাতর। খাবার, ফলমূল, ওষুধ নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ তা ভেতরে নিতে দেয়নি। এখন তাঁদের (ভেতরে অবস্থানরত) ভাতেও মারা হচ্ছে। পানিতেও মারা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে মহিলা দলের এই দুই নেত্রী বিষয়টি এড়িয়ে যান। সুলতানা আহমেদ বলেন, দেখা করাটা মূল বিষয় নয়। তিনি অসুস্থ—এটাই বড় কথা। তাঁর নির্দেশনাই আসল। রিকশাভ্যানটির কাছে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বেশ কয়েকটি বড় আকারের জ্যান্ত মোরগ, রুই মাছ, লাউ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, গাজর, বিভিন্ন ধরনের সবজি, পাকা কলা, আপেল, কমলা, প্যাকেট নুডলস, মিষ্টি, দই, ওষুধ প্রভৃতি রয়েছে।
কত টাকার বাজার করা হয়েছে—জানতে চাইলে মহিলা দলের নেত্রীরা বলেন, টাকাটা মুখ্য নয়। আমরা এগুলো দিতে এসেছিলাম, কিন্তু পারলাম না। এদিকে বাজার দিতে আসা ১২-১৩ জনের মধ্যে মাত্র দুজন কার্যালয়ের ভেতরে যাওয়ায় বাকি কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁরা এ নিয়ে বিবাদও করেছেন। বেলা একটার দিকে মহিলা দলের নেত্রীরা চলে গেলে ভ্যানটিও তাঁদের সঙ্গে এলাকা ত্যাগ করে।
খালেদার কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড, বন্ধ একটি স্কুল by কমল জোহা খানরাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে ৫ জানুয়ারি থেকে পুলিশি ব্যারিকেড দেওয়ায় কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম। স্কুলটি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিপরীত পাশে ৮৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
জানা গেছে, গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনেই পুলিশি ব্যারিকেড দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে সাহস পাচ্ছে না। এ ছাড়া গতকাল বুধবার পর্যন্ত এই সড়কে কাউকেই ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।
শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা কেউ কেউ স্কুলে এলেও পুলিশ এই সড়কে শিক্ষার্থীদের ঢুকতে দেয়নি। স্কুলের সামনে থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের ফটকের সামনে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও পুলিশ তা শোনেনি।
স্কুলটির নবম শ্রেণির ছাত্র মাসুদ রানা আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলে, ‘ক্লাসে আসি না। কেউ ক্লাসে আসার সাহস পায় না। আজ ঢুকতে দিয়েছে, তাই ভর্তির টাকা জমা দিতে স্কুলে এসেছি।’
শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসার সাহস কেন পাচ্ছে না—এমন প্রশ্ন করলে মাসুদ রানার মা মারজান বেগম জানান, ‘বুঝতেই তো পারছেন। এই অস্থিরতার মধ্যে কেউ বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাতে সাহস পায় নাকি!’
স্কুলটির জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন ক্লাস করানো খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর দু-একদিন পরিস্থিতি দেখব। তারপর সিদ্ধান্ত নেব ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়। রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়ার কারণে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও ক্লাস কোনো কিছুই করানো যাচ্ছে না।’

খুলনায় নিরীহ যাত্রীদের কুপিয়ে জখম

(সংঘর্ষের একপর্যায়ে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে হামলা হয়। ছবি: প্রথম আলো) খুলনা শহরে গতকাল বুধবার রাতে সরকার-দলীয় দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে তারা একটি পরিবহনের কাউন্টারে হামলা চালায়। নির্বিচারে তাদের মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যাত্রী ও কাউন্টারের কর্মচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রাত নয়টার পর শহরের রয়েল মোড় ও সাতরাস্তা মোড়ের মাঝামাঝি ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে এ হামলা হয়। ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন বাবুর ভাষ্য, রাত সোয়া নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে এই হামলা হয়। হামলাকারীরা সবাই আওয়ামী লীগের লোকজন। হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে যাত্রী ছাড়াও কাউন্টারের কর্মচারী রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আহত কয়েকজনের জখম গুরুতর। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে খুলনা সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডনের বাড়িতে হামলা হয়। এতে তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় রাতে খুলনা সিটি কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত শেখ পলাশের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন ডন। সেখান থেকে ডনের লোকজন রয়েল মোড়ে এলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে হামলা চালায়। এতে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা কাউন্টারের কর্মচারী এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মারধর ও কুপিয়ে জখম করে।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার মেঝেতে জমাটবাঁধা রক্ত আর কাচের টুকরো ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যেই বসে আছেন আতঙ্কগ্রস্ত কয়েকজন যাত্রী। সন্তান কোলে এক নারী যাত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘কিছুই বুঝতে পারলাম না। চাপাতি আর গরু জবাই করার ছোরা দিয়ে ওরা যারে পাইছে, তারেই কুপাইছে। আমি বাচ্চা নিয়ে তখন বাথরুমে লুকাইছি।’
ঘটনাস্থলে এতেকাফ (৩৮) নামের আরেক যাত্রীকে পাওয়া গেল। তাঁর বাঁ চোখ ও পিঠে মারাত্মক জখমের চিহ্ন। নাম প্রকাশ না করা এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, ফিরে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা স্লোগান দিচ্ছিল, ‘ডন ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।’
ডন ও পলাশের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রতিপক্ষের লোকজন কাউন্টারে আশ্রয় নিয়েছেন ভেবেই হয়তো সেখানে হামলা হয়েছে।

একজন ধরা দিয়েছেন, দুই ভাইকে খুঁজছে পুলিশ

(ছবি:১- শার্লি হেবদো পত্রিকার কার্যালয়ে গতকাল বুধবার তিন ব্যক্তি হামলা চালায়। তাদের মুখ কালো মুখোশে ঢাকা ছিল। তাদের মধ্যে একজনের হাতে ছিল কালাশনিকভ রাইফেল। একজন বহন করছিল রকেট লঞ্চার। ছবি:২- হামলায় অংশ নেওয়া সন্দেহভাজন দুই ভাই সাঈদ কুয়াচি (৩৪) ও শরিফ কুয়াচির ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ছবি: এএফপি) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সাপ্তাহিক পত্রিকার কার্যালয়ে হামলায় অংশ নেওয়া তিনজনের মধ্যে সন্দেহভাজন কনিষ্ঠ হামলাকারী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বাকি সন্দেহভাজন দুই ভাইয়ের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শার্লি হেবদো পত্রিকার কার্যালয়ে গতকাল বুধবার কালাশনিকভ রাইফেল ও রকেট লঞ্চার নিয়ে তিন ব্যক্তি হামলা চালায়। এতে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক ও তিন ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী এবং পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। পুলিশের সন্দেহের তালিকা অনুসারে ওই হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন দুই ভাই সাঈদ কুয়াচি (৩৪) ও শরিফ কুয়াচি (৩২) এবং হামিদ মুরাদ (১৮)। হামলায় অংশ নেওয়া সন্দেহভাজন কনিষ্ঠ ব্যক্তি মুরাদ গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে উত্তর-পূর্ব প্যারিসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমে নিজের নাম দেখার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন মুরাদ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সন্দেহভাজন দুই ভাইয়ের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাঁদের ব্যাপারে তথ্য দিতে জনগণের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুই ভাইকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
দুই হামলাকারী এখনো আটক বা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আরও হামলার আশঙ্কা রয়েই গেছে। ফ্রান্সে স্মরণকালের ভয়াবহ এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, তুরস্ক, কাতার, আরব লিগ, মিসরের আল-আজহার কর্তৃপক্ষ, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল সকালে প্যারিসের বুলেভা রিশা-লোনোয়া সড়কের কাছে অবস্থিত পত্রিকা কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তিন হামলাকারী। তাঁদের মুখ কালো মুখোশে ঢাকা ছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে ছিল কালাশনিকভ রাইফেল। একজন বহন করছিলেন রকেট লঞ্চার। হামলায় পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক, ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী ও পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন নিহত হন।
পুলিশ জানায়, হত্যাযজ্ঞ শেষে হামলাকারীরা একটি কালো রঙের গাড়ি ছিনতাই করে দ্রুত পালিয়ে যান। ব্যঙ্গধর্মী পত্রিকা শার্লি হেবদো ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। ওই সময় তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি ব্যঙ্গচিত্র পুনর্মুদ্রণ করলে মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বরেও শার্লি হেবদো মহানবী (সা.)-এর একটি অবমাননাকর ছবি ছাপে। এ ছাড়া পত্রিকাটির সর্বশেষ একটি টুইটে ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির ব্যঙ্গচিত্র প্রচার করা হয়।

সংবিধান সংশোধনের পথে পাকিস্তান

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে গতকাল অধিবেশন চলার সময় বাইরে
অবস্থানরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা। এএফপি
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিচারে সামরিক আদালত গঠন অনুমোদন করেছে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট। জাতীয় পরিষদে গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী পাস হয়। পাশাপাশি পাকিস্তান সেনা (সংশোধনী) বিলও অনুমোদন করেছেন আইনপ্রণেতারা। পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে এ আলোচিত ও বিতর্কিত উদ্যোগ নেওয়া হলো। খবর এএফপি ও ডনের। পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে গত ১৬ ডিসেম্বর ভয়াবহ হামলা চালায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জঙ্গিরা। এতে ১৩২ শিশুসহ অন্তত ১৪১ জন নিহত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ওই হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জঙ্গিবাদ রুখতে সামরিক আদালত গঠনসহ বিভিন্ন ঘোষণা দিয়েছিলেন। সর্বদলীয় এক বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদিতও হয়েছিল। এ ছাড়া নওয়াজ সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। জাতীয় পরিষদে গতকাল বিল অনুমোদন করতে পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) আইনপ্রণেতারাও যোগ দেন। নিম্নকক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা ও পিপিপির আইনপ্রণেতা সৈয়দ খুরশিদ আহমেদ শাহ বলেন, ‘নতুন আইনের এই তেতো বড়িটি আজ পাকিস্তানের নিরাপত্তার খাতিরেই গিলতে হচ্ছে।’ পিপিপির আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে বিলের পক্ষে সমর্থন দিলেও তাঁরা এ নিয়ে সন্তুষ্ট নন। পিপিপিসহ কয়েকটি দলের নেতারা সম্প্রতি বলেছেন, সর্বদলীয় বৈঠকে তাঁরা সামরিক নন, বরং বিশেষ আদালতের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। ভোটাভুটিতে পাকিস্তানের সংবিধানের ২১তম এই সংশোধনীর পক্ষে ২৪৭ আইনপ্রণেতার ভোট পড়ে। ৩৪২ আসনের নিম্নকক্ষে বিলটি পাস হওয়ার জন্য যে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার ছিল, এটা তার চেয়ে বেশি। আর সেনা (সংশোধনী) বিলটি পাসের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার ভোট পড়লেই চলত। বিলটি গতকাল কোনো প্রকার বিরোধিতা ছাড়াই পাস হয়। পিপিপি অধিবেশনে যোগ দিলেও ধর্মভিত্তিক দল জামায়াত-ই-ইসলামী এবং জমিয়াত উলেমা-ই-ইসলামের (ফজল গ্রুপ) আইনপ্রণেতারা ভোটাভুটির সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত ছিলেন না।
পাশাপাশি ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) আইনপ্রণেতারাও অনুপস্থিত ছিলেন। গত বছরের শেষের দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতারা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো স্পিকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঝুলে আছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর বাইরে কিছু উদারপন্থী রাজনৈতিক দল এবং বুদ্ধিজীবীরা সামরিক আদালত গঠনের পরিকল্পনার সমালোচনায় সরব। দেশটির শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডন গতকাল এক সম্পাদকীয়তে এটাকে ‘দুঃখের দিন’ আখ্যায়িত করে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘জঙ্গিবাদ রুখতে আমাদের একটা সুসংগত কৌশল দরকার, রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের একসঙ্গে কাজ করা দরকার, এটা ঠিক। কিন্তু সামরিক আদালত গঠনের বিষয়টি যথার্থ সিদ্ধান্ত হতে পারে না।’ সন্ত্রাসের বিচারে সামরিক আদালত গঠনের পক্ষে পিপিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে আইনপ্রণেতারা অখুশি। গতকালের ভোটাভুটির আগে পিপিপির পার্লামেন্টারি দল সোমবার যে বৈঠক করে, সেখানে সিদ্ধান্তটি কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে। সামরিক আদালত গঠনের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার বিরোধিতা করে বৈঠকে যাঁরা বক্তব্য দেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজা রাব্বানি, নওয়াব ইউসুফ তালপুর, তাজ হায়দার প্রমুখ। সিনেটে পিপিপির সংসদীয় দলের নেতা রাজা রাব্বানি এমনকি সংবিধান সংশোধনের এ ঘটনাকে পার্লামেন্টের জন্য ‘মৃত্যু দিবস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অতীতের সামরিক স্বৈরশাসকদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বৈধতা না দেওয়ার একটা সুনাম ছিল পার্লামেন্টের। আজ সেই পার্লামেন্ট তার ‘শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ’ করল। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিল দুটি আজ বুধবার পার্লামেন্টের ১০৪ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ সিনেটে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিলটি পাস হওয়ার জন্য সেখানেও দুই-তৃতীয়াংশ আইণপ্রণেতার সমর্থন লাগবে। সিনেটে অনুমোদিত হলে বিলটি আজই বা কাল বৃহস্পতিবার আইনে পরিণত হতে পারে। আর নিম্নকক্ষের মতো উচ্চকক্ষেও সেনা (সংশোধনী) বিলটি পাসের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন লাগবে।

রাজাপক্ষে কি এবার হারতে চলেছেন?

পুনর্নির্বাচিত হয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসতে চান শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তবে বিষয়টি এবার খুব নিশ্চিত নয়। রাজাপক্ষে ও তাঁর প্রভাবশালী ভাইয়েরা এবার জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়েছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবারই শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। রাজাপক্ষে প্রায় এক দশক ধরে শ্রীলঙ্কার একচ্ছত্র নেতা। কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তাঁকে ‘রাজা’ বললে হয়তো খুব বাড়িয়ে বলা হবে না। সমর্থকদের অনেকে তাঁকে সে রকম সম্বোধনও করে থাকে। রাজাপক্ষেকে প্রায়ই তুলনা করা হয় প্রাচীন যুগের সিংহলি সম্রাটদের সঙ্গে। তামিল বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ‘রাজা’ কীভাবে দেশকে বাঁচিয়েছেন, তার বিবরণসংবলিত একটি গান কিছুদিন আগেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিয়মিত প্রচার করা হতো। রাজাপক্ষের তিন ভাই যথাক্রমে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগের প্রধান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার পদে কাজ করছেন। কিন্তু তার পরও ‘সম্রাট’ এবার বিপাকে পড়তে পারেন। তিনি নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই মাইথ্রিপালা সিরিসেনা নামের একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাব হয়। তিনি রাজাপক্ষের নিজ দলেরই একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ছিলেন। জনসাধারণের কাছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের মতো সহজাত আকর্ষণীয় ক্ষমতার ছিটেফোঁটাও সিরিসেনার মধ্যে নেই। কিন্তু কৃষক পরিবারের সন্তান সিরিসেনার প্রতি জনগণের একটা অংশের জোরালো সমর্থন রয়েছে। রাজাপক্ষের বিরোধী জোট চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের প্রার্থী হিসেবে সিরিসেনার নামটি গোপন রেখেছিল। তিনি ক্ষমতাসীন দল ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় সঙ্গী হিসেবে অনেককেই পেয়েছেন। শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে দলবদল করাটা সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় সব দলত্যাগের ঘটনায় মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি দলে যোগ দেওয়া। এখন বিপরীতমুখী স্রোত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বাসভঙ্গের মতো অনেক ব্যাপারও ঘটছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র সানডে অবজারভার মন্তব্য করেছে, ‘সিরিসেনাকেও পরাজয়ের পর জুডাসের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। ভোটারদের উচিত, এ রকম বিশ্বাসঘাতকদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া।’ কিন্তু ৬৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষেকে এবার তুলনামূলক দুর্বল এবং ক্লান্ত মনে হচ্ছে। সংখ্যাগুরু সিংহলি এবং সংখ্যালঘু তামিলদের মধ্যে কয়েক দশকের লড়াইয়ের জেরে শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক বিভাজন খুবই তীব্র। তামিল গেরিলাদের বিরুদ্ধে জয় এবং যুদ্ধ-পরবর্তী অবকাঠামো নির্মাণে রাজাপক্ষের ভূমিকা সিংহলিদের অনেকে শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করেন। কিন্তু বাকিরা তামিল ও মুসলমান সম্প্রদায়ের অধিকাংশ তাঁর শাসনের অবসান চায়। তামিলরা মনে করে, তারা ক্ষমতাসীন সিংহলি ও বৌদ্ধদের শাসনের ফলে ক্রমশ প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাচ্ছে। আর মুসলিমদের ওপর কট্টর বৌদ্ধরা বেশ কয়েক দফা আক্রমণ করার পরও রাজাপক্ষে সরকার তাতে বাধা দেয়নি। কিন্তু সিরিসেনা ক্ষমতায় এলে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং সাংবিধানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর জোটে নানা ধরনের রাজনৈতিক দল রয়েছে। কেউ তামিলদের প্রতি সহানুভূতিশীল, আবার কেউ বিরূপ মনোভাব ধারণ করে। সিরিসেনা অবশ্য ইশতেহারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার বা জাতিগত বিরোধের কোনো রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেননি। আবার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কোনো রাজনৈতিক নেতার বিচার করার সম্ভাবনাও বাতিল করে দিয়েছেন। তবু যত সীমাবদ্ধতাই থাকুক, পরিস্থিতি এখন সিরিসেনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। রাজাপক্ষের জোটের প্রধান মুসলিম রাজনীতিকেরা তাঁকে ছেড়ে গেছেন। আর তামিলদের প্রধান দলটি বলছে, রাজাপক্ষের সরকার তামিল ও মুসলিমদের জন্য ‘শুধুই যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ’ বয়ে এনেছে। তাই তাদের এখন সিরিসেনাকে ভোট দেওয়া উচিত।

দেড় ঘণ্টার পথ মাত্র ২১ মিনিটে!

বিপুলসংখ্যক যান চলাচল করা গুরগাঁও-দিল্লি পথের ৩০ কিলোমিটার যেতে সময় লাগল মাত্র ২১ মিনিট। গত শনিবার এই পথ পাড়ি দিয়েছে সদ্য দান করা হৃৎপিণ্ড বহনকারী এক অ্যাম্বুলেন্স। হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে পড়া ১৬ বছরের এক কিশোরের শরীরে স্থাপনের জন্য সেটি এক হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয় আরেক হাসপাতালে। খবর এনডিটিভির। পুলিশের বিশেষ সহায়তায় এ আপাত অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। সাধারণত যানজটে নাকাল থাকা ওই ৩০ কিলোমিটার যেতে গড়ে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
গুরগাঁওয়ের ফরটিস হাসপাতালে ৩০ বছর বয়সী একজন সদ্য মৃত দাতার শরীর থেকে হৃৎপিণ্ড সংগ্রহ করে দিল্লির এসকর্টস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করে। এর অর্থ হৎপিণ্ড বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটিকে পথে কোনো ট্রাফিকের লালবাতি দেখতে হয়নি। এ জন্য পথের বিভিন্ন মোড়ে অন্যান্য যান আটকে রাখা হয়েছিল। এ সময় যান্ত্রিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে হাতের ইশারায় ট্রাফিক সংকেত দেয় পুলিশ। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি দ্রুত স্থানান্তর নিশ্চিত করতে পুলিশের ২৩ জন সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুরে গুরগাঁওয়ের ফরটিস হাসপাতালের পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশনারের কাছে গ্রিন করিডরের অনুরোধ জানিয়ে ই-মেইল করা হয়। সেদিন সকালে এক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের মৃত্যু হওয়ার পর তাঁর পরিবার হৃদ্যন্ত্রটি দান করতে রাজি হয়। গুরগাঁওয়ের পুলিশ জানায়, এর আগে মাত্র একবার অঙ্গ স্থানান্তরে সহায়তা দিতে এমন করিডর তৈরি করা হয়েছিল।

কাশ্মীর সীমান্তের ১০ হাজার মানুষ বাড়িছাড়া

গুলির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত নিজের বাড়ির সীমানাপ্রাচীর
দেখাচ্ছেন এক ভারতীয় গ্রামবাসী। সীমান্তে পাকিস্তানি ও
ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির জের ধরে জম্মুর
দক্ষিণে অবস্থিত বাইনগ্লাদ নামের এই গ্রামসহ বিভিন্ন
এলাকার হাজার হাজার লোক বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে প্রচণ্ড গোলাগুলির কারণে স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে গেছে। লড়াইয়ে সোমবার থেকে পাকিস্তানে পাঁচজন এবং ভারতে একজন প্রাণ হারিয়েছে। খবর রয়টার্স, এএফপি ও এনডিটিভির। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্ররিবতি লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বেশ কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে গত সোমবার রাত থেকে গুলি ছুড়ছে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে গত সোমবার বলা হয়, পূর্বাঞ্চলীয় শিয়ালকোট শহরের কাছাকাছি বিএসএফের গোলার আঘাতে পাকিস্তানের এক কিশোর এবং এক নারীসহ চার বেসামরিক নাগরিক এবং এক সেনা নিহত হয়েছেন। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, কাশ্মীর সীমান্তের প্রায় ২০০ কিলোমিটারজুড়ে গোলাগুলি চলছে। আশপাশের কয়েকটি এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার ভেতরে চক্র, শেরপুর ও লোনডি ইত্যাদি এলাকায় পাকিস্তানি গোলা আঘাত হেনেছে। সামবা ও হীরানগর এলাকায় গত সোমবার পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের হামলায় আহত বিএসএফের এক জওয়ান পরে মারা যান।
শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্যাম কুমার রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধের মতো অবস্থা চলছে। পাকিস্তানি সেনারা দূরপাল্লার অস্ত্র ছুড়ছে। এই প্রথম এ ধরনের তীব্র গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে। বিএসএফের একজন কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের কয়েকটি অংশে গতকাল মঙ্গলবারও দুই পক্ষের মধ্যে গুলি ও মর্টারের গোলা বিনিময় হয়েছে। গোলাগুলি চলছেই এবং তারা পাকিস্তানি হামলার জবাব দিচ্ছেন। এ অভিযোগের ব্যাপারে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জম্মু অঞ্চলের বিভাগীয় কমিশনার শান্তমানু বলেন, সোমবার রাতে গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর প্রায় ছয় হাজার বেসামরিক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে চলে যায়। আর গত সপ্তাহে লড়াই শুরু হওয়ার পর চার হাজার মানুষ ঘর ছাড়ে। ভারত ও পাকিস্তানের কাশ্মীর সীমান্তে গত অক্টোবর থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের অন্তত ১০ সেনা গত সপ্তাহে নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি অধিকতর আলোচনার জন্য ভারত ও পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তাহলে কি খুনই হয়েছিলেন সুনন্দা?

সুনন্দা পুষ্কর
ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুষ্কর কি তাহলে খুনই হয়েছিলেন? মৃত্যুর ঠিক ১২ মাসের মাথায় প্রশ্নটি উঠল। কারণ, দিল্লি পুলিশ শেষ পর্যন্ত খুনের মামলা দায়ের করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লির পুলিশ কমিশনার বি এস বাসসি এই খবর দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেছেন। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি দিল্লির একটি পাঁচতারা হোটেলে সুনন্দাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ কমিশনার বলেন, দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এইমস) মেডিকেল রিপোর্ট এই মৃত্যুকে অস্বাভাবিক বলেছে। বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সুনন্দার মৃত্যু নিয়ে এক বছর আগে খুবই হইচই হয়। কারণ, তাঁর স্বামী শশী থারুর কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতাই শুধু নন, সমাজের উঁচু স্তরে দুজনের আনাগোনা ছিল অবারিত। ভারতীয় ক্রিকেট প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) কোচির মালিকানায় অনিয়ম নিয়ে শশী ও সুনন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। সেই বিতর্ক ধামাচাপা পড়লেও আচমকাই সুনন্দার মৃত্যু নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। মঙ্গলবার দিল্লির পুলিশ কমিশনারের এ সিদ্ধান্ত পুরোনো বিতর্ককে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলল। বাসসি বলেছেন, এটা নিঃসন্দেহ যে, ৫২ বছরের সুনন্দার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। ঘটনার পর এই মামলায় বিভিন্ন সাক্ষীকে জেরা করা হয়েছে। খুনের মামলা দায়ের হওয়ায় এখন যাদের প্রয়োজন, সবাইকেই জেরা করা হবে। তাহলে কি শশী থারুরও নতুন করে জেরার আওতায় চলে আসছেন? পুলিশ কমিশনারের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে এই জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে।

চাই দলনিরপেক্ষ বিবেকের প্রতিধ্বনি by মাহমুদুল বাসার

সব হৃদয়বিদারক ঘটনার সঙ্গে আমরা একমত হতে পারি না। কারণ রাজনৈতিক চেতনা আমাদের এক চোখ কেড়ে নিয়েছে। শিশু জিহাদের বেলায় আমরা দুই চোখ মেলে দিতে পেরেছি বলে সবাই কেঁদেছি, আক্ষেপ করেছি, সরকারি প্রশাসনযন্ত্র ও রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। এমনকি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কামনাও করেছি। আমরা এমনই একটা দেশে বসবাস করছি যে, হৃদয়বিদারক ঘটনা মোটে থামতে চায় না। যেদিন ২০ দল হরতাল পালন করল, সেদিন দুজন অসহায় নারী বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন। কাকতালীয় হলেও দুজনেরই নামই শামসুন্নাহার। কী অপরাধ ছিল এ দুই মহিলার? দুজনই শিক্ষিকা। দুষ্কৃতকারীদের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন, অন্যজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষিকা শামসুন্নাহার বেগম ঝর্ণা নোয়াখালীতে হরতালকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আর দুই সন্তানের জননী আরেক শামসুন্নাহার রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়ায় সিএনজিতে দুষ্কৃতকারীদের দেয়া আগুনে দুই সন্তানসহ এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। কাজীপাড়ার শামসুন্নাহারের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে অয়ন আর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আনিকা মায়ের সঙ্গেই সিএনজির আগুনে দগ্ধ।
কোনো মৃত্যুই আনন্দদায়ক নয়, হৃদয়বিদারক। কিন্তু সব হৃদয়বিদারক ঘটনার সঙ্গে আমরা সমানভাবে জিহাদের ঘটনার মতো আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ হতে পারি না, কারণ আমাদের চোখ একটা। এই যে পথচারী দুই নারী এবং দুজন শিক্ষিকা অযৌক্তিক হরতালের কারণে হামলার শিকার হলেন, তাদের জন্য জিহাদের মতো মানুষের প্রাণ কেঁদে উঠল না। কারও পদত্যাগ দাবি করা হল না, দুর্বৃত্তদের শাস্তি দাবি করা হল না, বিন্দুমাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হল না। কেন? ওই দুই শিক্ষিকার প্রাণের মূল্য নেই? তবুও তো জিহাদ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল, ওকে বাঁচানোটা মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। কিন্তু হরতাল সমর্থনকারী দুর্বৃত্তরা স্বহস্তে এক নারী শিক্ষিকাকে হত্যা করেছে, অন্যজনকে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। বর্বরতা জিহাদের মৃত্যুর চেয়ে স্বহস্তে নারী হত্যার ঘটনায় বেশি। তাদের জন্য আমাদের হৃদয় উদ্বেলিত হল না কেন? রাজনৈতিক কারণে? এমন নারকীয় হত্যার বিরুদ্ধে নিন্দা বা ক্ষোভ জানালে এক পক্ষের লাভ আর অন্য পক্ষের লোকসান- এ কারণে আমাদের বিবেক সাড়া দিল না? যে সমাজে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে মানবতার চর্চা হয় না, সে সমাজে নিরাপত্তা চাইলেই পাওয়া যায় না। মানবতার ব্যাপারটা সব সময় নির্দলীয়। অন্তত মানবতাকে দলীয়করণ অথবা শ্রেণীকরণ না করলে আমরা লাভবান হব বেশি।
একজন বামপন্থী লেখককে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুর কথা ছেড়ে দিন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাতে যেসব নারী, শিশু ও অন্তঃস্বত্ত্বা রমণীকে হত্যা করা হল, সে সম্পর্কে কোনোদিন একটা প্রতিবাদী লেখা আপনার কলম থেকে বের হয়নি। তিনি উত্তরে বললেন, ব্যাপারটা রাজনৈতিক। তাছাড়া আমি তো আওয়ামী লীগ করি না।
এজন্যই বলছিলাম, সব হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের বিবেককে সংবেদনশীল করে না। বিবেককেও আমরা দলীয়করণ করে ফেলেছি! এ কারণে বিবেকবর্জিত সমাজ দিন দিন দানবের মতো শক্তিশালী হচ্ছে। অপরাধ, নৃশংসতা, বর্বরতা কারও না কারও কাছে প্রশ্রয় পাচ্ছে, নীরব সমর্থন পাচ্ছে।
গত বছরের নৃশংসতম ঘটনার একটি ছিল ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে পুড়িয়ে হত্যা। বর্বরোচিত এ ঘটনায় দেশবাসী হতবাক হয়। ব্যথিত হয় জাতির বিবেক। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের রক্ত মুছতে না মুছতেই ২০ মে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ একরামূল হক একরামকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওইদিন বেলা সোয়া ১১টায় আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা সশস্ত্র ক্যাডাররা ফেনী পরশুরাম সড়কের বিলাসী সিনেমা হলের সামনে অবস্থান নিয়ে রাস্তার ওপর ট্রলি দিয়ে একরামের গাড়ি গতিরোধ করার চেষ্টা করে। একে একে দুটি বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হলেও তৃতীয় বাধায় গাড়ির গতি কমে যায়। এ সময় হামলাকারীরা তার গাড়ি লক্ষ করে গুলি করলে একরাম গুলিবিদ্ধ হয়, এরপর সন্ত্রাসীরা গানপাউডার দিয়ে গাড়িটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। একরাম গাড়ির সামনে বসা থাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চালকের সিটে লুটিয়ে পড়েন। এতে চালক মামুন দরজা খুলে পালিয়ে যেতে চাইলে হামলাকারীরা তার ওপর আক্রমণ করে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় গাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। পুড়ে কয়লা হয়ে যান একরাম।
এমন একটি বর্বর ঘটনায় কোনো ক্ষোভ কিংবা প্রতিবাদ সম্মিলিতভাবে জানানো হয়েছিল বলে পত্রিকায় খবর দেখিনি। কারণ ব্যক্তিটি রাজনৈতিক। এ ব্যক্তিকে উপলক্ষ করে বর্বরোচিত নির্দয়তার প্রতিবাদ করলে লাভ-লোকসানের হিসাবটা সামনে আসে। এভাবেই আমরা আমাদের বিবেককে দলীয়করণ করেছি। ঐক্যের আহ্বান জানানো যত সহজ ঐক্যবদ্ধ হওয়া তত সহজ নয়। পথে অনেক বাধা।
বঙ্গবিবেক আবুল ফজল মানবতন্ত্রের ওপর গুরুত্ব দিতে শুরু করেছিলেন সঙ্গত কারণে। আমাদের মানবতাবোধ ও বিবেক যদি দলনিরপেক্ষ হতো, তাহলে যে কোনো হৃদয়বিদারক ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘৃণা জানাতে পারতাম।
মাহমুদুল বাসার : প্রাবন্ধিক, গবেষক

অগস্ত্য যাত্রা থেকে ফিরতে হবে by এ কে এম শাহনাওয়াজ

ক্ষমতা দখলের রাজনীতি থাকলে সেখানে গণতন্ত্র নির্বাসনে যায়। আর গণসমর্থনে ক্ষমতা প্রাপ্তির পথ খুঁজলে গণতন্ত্র তার প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে পায়। আমাদের দুর্ভাগ্য, এদেশে ক্ষমতা ধরে রাখতে সরকার পক্ষ পেশিশক্তি ব্যবহার করছে আর বিরোধীশক্তি ক্ষমতা পাওয়ার জন্য জিম্মি করছে গণমানুষকে। জনগণের ওপর নিবর্তনমূলক কর্মসূচি চাপিয়ে দিয়ে সরকারকে দুর্বল করতে চাইছে। জনগণের ঘাড়ে পা রেখে প্রতারকের মতো জনগণের দোহাই দিয়ে মসনদের কাছে পৌঁছার জন্য নানা কসরত করছে। এসব আচরণে জনগণের সমর্থন আছে কি-না তা বিবেচনা করার কোনো দায় বোধ করছে না। ২০ দলীয় জোট তথা বিএনপি ক্ষমতা হাতড়ে বেড়াতে গিয়ে এতই মরিয়া যে, প্রতি মুহূর্তে স্ববিরোধিতায় তারা নিজেদের দুর্বল করে ফেলছে।
গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করেছিল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের জোট নির্বাচনের ময়দানে অনেকটা ওয়াকওভার পেয়ে যায়। ১৫৩ প্রার্থী কোনো প্রতিপক্ষ না পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আবার যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা দুর্বল থাকায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় জোট সরকার গঠন করে। তাই শুরু থেকেই বিএনপি ও এর জোট বন্ধুরা এ সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ বলে আসছে। যে সরকার বিএনপির কাছে অবৈধ, সেই সরকারের কাছে চাইবার কিছু থাকে না। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের ভাষায় অবৈধ সরকারের কাছে প্রতিনিয়ত নানা দাবি জানিয়ে আসছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করছে, সংলাপ করতে চাইছে, আর অতিসম্প্রতি অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার তথা ‘অবৈধ সরকারে’র কাছে বিএনপি নেত্রী সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। অবৈধ সরকার বলে পরিত্যাজ্য সরকারের কাছে দাবি উত্থাপন করলে তার কি কোনো বৈধতা থাকে?
প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে বিএনপির কী করার রয়েছে? আসলে অবৈধ বলে ফেলার পর একটিই অবকাশ থাকে তা হচ্ছে- প্রবল গণআন্দোলন তৈরি করে ‘অবৈধ সরকারে’র পতন ঘটানো। সেরকম এক-আধটা চেষ্টা হয়েছিল। জনগণের মধ্যে এর পক্ষে তেমন সাড়া পড়েনি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এ সময়টিতে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চালু করেছিল। মুক্তিযুদ্ধøাত দেশপ্রেমিক মানুষের প্রাণের দাবি এ বিচার প্রক্রিয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিএনপির। যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত জামায়াতের সঙ্গে দলটি বন্ধুত্ব ত্যাগ করতে পারেনি। বিচারকে দুর্বল করার জন্য জামায়াত নানাভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করতে থাকে। তৈরি করতে থাকে অরাজকতা। আর এর ভাগীদার হয়ে গণমানুষের আস্থা থেকে ক্রমাগত দূরে চলে যেতে থাকে বিএনপি। এ বিষয়টিকে মোটেও বিবেচনায় আনতে চাননি বিএনপি নেতৃত্ব। তার ওপর বিএনপি রাজপথের আন্দোলনে শক্তি ও উন্মত্ততার দায়িত্ব জামায়াত-শিবিরের হাতে দিয়ে মনোবল নষ্ট করে দেয় নিজ কর্মী-সমর্থকদের। ফলে আন্দোলনে রাজপথ গুলজার করার অভ্যাস প্রায় নষ্ট হয়ে যেতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মীদের।
বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগও যে দলতন্ত্র ও ক্ষমতাতন্ত্রের মোহ ছেড়ে জনগণের রাজনীতি করে গণতন্ত্রকে উজ্জীবিত করছে, তেমনটি বলা যাবে না। কিন্তু ব্যাকফুটে থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটের জন্য দুর্ভাগ্য, সরকারে থাকাকালে বিএনপির অতীত এতটা উজ্জ্বল ছিল না যে, এ দুঃসময়ে মানুষ বিএনপিকে মন্দের ভালো বিবেচনা করবে। তাই বিএনপির ডাকে সাধারণ মানুষের রাজপথে নামার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষ এখন এতটা
সংকটে নেই যে, সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে তাদের ভাবতে হবে। বরঞ্চ রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে মানুষের অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে তারা ক্ষুব্ধ হয়।
আমরা একটু পেছনে তাকাতে পারি। আমরা নিশ্চয়ই ভুলে যাইনি, ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সবচেয়ে বেশি দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বিএনপি। অল্প কয়েক দিনেই দেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলটির ইমেজ নামতে নামতে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। নেতা-নেত্রীদের এতদিনকার মাঠ কাঁপানো বক্তৃতা তখন চরম মিথ্যাচার ছিল বলে মানুষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। দেশটি বারবার দুর্নীতির ধারণা সূচকে বিশ্বসেরা হওয়ার কলংক গায়ে মেখেছে প্রধানত কাদের জন্য, তা আর কাউকে বলে বোঝাতে হয়নি। বাঘা বাঘা বিএনপি নেতা দুর্নীতির দায়ে একে একে অন্তরীণ হচ্ছিলেন জেলে। এখন যেমন বিএনপি নেতাকর্মীরা নিদানে খালেদা জিয়ার জন্য মাঠে নামার সাহস দেখাচ্ছেন না, তখনও এমন দশাই ছিল। পাঠক হয়তো মনে করতে পারবেন, খালেদা জিয়াকে সে সময় একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রায় ‘অনুচর-সহচরশূন্য’ অবস্থায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে হয়েছিল। এটাই বোধহ ইতিহাসের অমোঘ নিয়ম। ক্ষমতা ছাড়ার আগ পর্যন্ত বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া ক্রমাগত ‘উন্নয়ন’ আর ‘উন্নয়নের জোয়ার’ বলে বলে কান ঝালাপালা করে দিয়েছিলেন, পাশাপাশি গোলক ধাঁধায় পড়েছিল দেশবাসী। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি, ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সন্ত্রাসের বাড়বাড়ন্ত, শিল্প খাতে অবক্ষয়, বিমানের খুঁড়িয়ে চলা অবস্থা, চট্টগ্রাম বন্দরের রুগ্নদশা, পিএসির প্রশ্নপত্র বারবার ফাঁস হওয়াসহ নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়ে দেয়ার পরও বিএনপি নেত্রী উন্নয়নের জোয়ার বলতে আসলে কী বোঝাতে চাচ্ছিলেন, তা এক গভীর রহস্য ছিল দেশবাসীর কাছে। এরপর রহস্যের জট ক্রমে খুলেছিল। সরকারে থাকাকালে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল বিএনপি। জনগণের সম্পদ ও ভাগ্য খুবলে খেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-নেত্রীরা এক-একজন ফুলে ঢোল হয়েছিলেন। যে কারণে এখন সরকারে দুর্নীতি-সন্ত্রাস প্রবলভাবে চালু থাকলেও তাদের বিকল্প হিসেবে বিএনপিকে ভাবা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজ নয়।
২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস পরাজয়ের কারণ বোঝার জন্য খুব বড় বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার ছিল না। সে সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলের ক্ষত, শ্রমজীবী মানুষের কর্মচ্যুতি, অনিয়ন্ত্রিত বাজার, যুদ্ধাপরাধ ইস্যু, বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে দুর্বলতা, নির্বাচন ইস্যুতে ভুল পথে হাঁটা, সময়ের পরিবর্তিত রূপকে বিবেচনায় না রেখে বিএনপি নেত্রীর গৎবাঁধা বক্তৃতা দিয়ে বেড়ানো, ভুয়া ভোটার তালিকা ছেঁটে নির্বাচন কমিশনের সহি ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সীমানা পুনর্নিধারণ, আওয়ামী লীগের অপেক্ষাকৃত সুবিবেচনাপ্রসূত প্রার্থী নির্বাচন, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন ভোটার- যাদের ওপর দলীয় আঁচড় তখনও রেখাপাত করেনি এবং যারা দুর্নীতিবাজ আর যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার, তাদের ভোট জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতৃত্বের জোটের বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা ছিল প্রায় শূন্যের কোটায়। তাছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা- এসব কিছু মিলিয়ে যে কোনো সচেতন মানুষ অংকের যোগফল টানলে ফল অভিন্ন হওয়ারই কথা। তাই সে সময় নির্বাচনের ফলাফলটি প্রত্যাশিতই ছিল।
তবে মানতে হবে, সে সময়ের গণরায়ের পুরোটাই আওয়ামী লীগ বা মহাজোটের পক্ষে ছিল না; বরঞ্চ বলা ভালো, এ ছিল বিএনপির যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া এবং পাঁচ বছরের অপশাসনসহ নানা দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে গণরায়। আমরা বহুবার বলেছি, লিখেছি- জামায়াত-নির্ভরতা বিএনপিকে অন্তঃসারশূন্য করে দিচ্ছে। সময় অনেক গড়িয়েছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এ সময়টিকে যথাযথ অনুধাবন করলে বিএনপির নেতৃত্ব বুঝতে পারতেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ ভুলিয়ে দেয়ার প্রকল্পটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। অপেশাদার যোদ্ধাই ভোঁতা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে যায়। জামায়াত-বন্ধুর কাঁধে হাত রেখে এ অস্ত্র নিয়েই বিএনপি মাঠ কাঁপাতে চেয়েছিল।
দাক্ষিণাত্য থেকে এসে প্রাচীন বাংলার শাসনক্ষমতায় জেঁকে বসা সেন রাজারা জনবিক্ষোভ এড়াতে সাধারণ শূদ্র বাঙালির ওপর নিবর্তনমূলক নানা রকম বিধি চাপিয়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল, কালাপানি পাড়ি দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অর্থাৎ সমুদ্র পাড়ি দেয়া যাবে না। কেন? পাছে ভয়, অন্য দেশের মানুষের সংস্পর্শে এসে যদি চোখ খুলে যায় শূদ্র বাঙালির। তখন ধর্মের দোহাই দিয়ে যা বলবে মানুষ তা নির্বিচারে মানবে না। বর্তমান সময়ে এ দেশের মানুষের কিন্তু ‘কালাপানি’ পাড়ি দেয়া হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সরল সাধারণ ধর্মভীরু অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত মানুষও এখন কিন্তু আর অতটা অন্ধকারে নেই। রাস্তাঘাট পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বিজলি বাতি পৌঁছে গেছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। রেডিও-টেলিভিশনের সঙ্গে যোগাযোগ বেড়েছে। এনজিও কর্মীরা পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও নানা কর্মপ্রয়াসে যুক্ত করেছেন। অনেক পরিবারেই কমবেশি শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তিবুদ্ধি তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তথ্যসূত্রবহির্ভূত রাজনৈতিক প্রচারণা চালালে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে।
আজ বিএনপি জোট যখন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে অবৈধ বলে মানুষকে মাঠে নামাতে চাইবে, তখন কিন্তু মানুষ সহজে তাতে সাড়া দেবে না। কারণ তারা ভাবতে পারে, নির্বাচনের আয়োজনটা তো নিয়ম মাফিকই হয়েছিল। নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপিকেও অংশ নিতে বলা হয়েছিল। সাংবিধানিক শক্তি বলে আওয়ামী লীগ যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানে, তাতে বিএনপির গোঁ ধরে বসাটা ঠিক হয়নি। এত সবের পরও বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রতিহত করার হুমকিকে মানুষ অগণতান্ত্রিক আচরণ বলেই মনে করেছে। শুধু হুমকি নয়, সরকারকে শাস্তি দিতে বা চাপে ফেলতে সাধারণ মানুষের ওপর যে নিবর্তন চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, তা কি মানুষ ভুলতে পেরেছে! পেট্রল বোমা মেরে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা হয়েছে। একের পর এক গুলি-বোমার সন্ত্রাস ছড়ানো হয়েছে। যা ১১০ জন মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। অসংখ্য মানুষকে আহত করেছে। গাড়ি পুড়িয়েছে। লাইন উপড়ে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। গাছ কেটে, রাস্তা কেটে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। তারা নির্বাচন বর্জন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গাটি শূন্য করে দিয়ে ১৫৩ প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন জয় পেতে সাহায্য করেছে। আর ভীতি ছড়িয়ে, শতাধিক ভোট কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়ে, নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষককে খুন করে অনেক ভোটারকে জবরদস্তি ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রেখেছে। এ বাস্তবতায় বিএনপি জোট যেভাবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করছে, সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে সেভাবে দেখছে না। এসব বিচারে সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামানোর মতো কোনো পরিবেশ বিএনপি জোট তৈরি করতে পারেনি।
যখন বিএনপি নেতাদের উচিত ছিল জামায়াত সংশ্রব ছেড়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে মানুষের আস্থা অর্জন করা, তখন তারা বরাবরের মতো রাজপথে নামতে না পেরে লাগাতার অবরোধ ঘোষণা দিয়ে গণমানুষকে আবার নিপীড়নের ভেতর ফেলে দিল। এভাবে বিএনপি একদিকে নিজেকে দুর্বল করে আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বৈরাচারী হওয়ার পথ তৈরি করে দিচ্ছে, অন্যদিকে আরও কঠিন করে দিচ্ছে গণতন্ত্রে পৌঁছার পথ। এ সত্য বিএনপি নেতারা যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবেন, তত দ্রুত দেশে স্বস্তি ফিরবে। আর রাজনৈতিকভাবে যে দুর্দশায় পড়েছে বিএনপি, তাতে মনে হয় ক্ষমতায় যাওয়ার দূরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করেই আপাতত অগস্ত্য যাত্রার হাত থেকে নিজেকে ফেরাতে পারবে তারা।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উদ্ধার অভিযানে ধীরগতি

ইন্দোনেশিয়ার বিধ্বস্ত এয়ার এশিয়া বিমান উদ্ধার অভিযানে ধীরগতি নেমে এসেছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তল্লাশির দশম দিনে আরও দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খারাপ আবহাওয়ায় বিরতির সুযোগে ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা এয়ার এশিয়ার ফ্লাইট ৮৫০১-এর ধ্বংসাবশেষ থেকে আরও মৃতদেহ উদ্ধারের আশায় মঙ্গলবার জাভা সাগরের তলদেশে অনুসন্ধানের জন্য ডুবুরি পাঠিয়েছেন। খবর এএফপির। গত ২৮ ডিসেম্বর ১৬২ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরগামী এয়ার এশিয়ার ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এ পর্যন্ত উদ্ধার টিম ৪০টিরও কম মৃতদেহ উদ্ধার করতে পেরেছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান সাম্বাং সোয়েলিসটিয়ো সাংবাাদিকদের বলেন, ‘কয়েকজন ডুবুরি সাগরের তলদেশের দিকে যাচ্ছেন।’ উদ্ধার টিম এখনও ফ্লাইটটির ডেটা রেকর্ডার ‘ব্ল্যাকবক্স’ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। তবে তারা সাগরের তলদেশে বিধ্বস্ত বিমানটির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ খুঁজে পেয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে মৃতদেহ উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত উদ্ধারকৃত মৃতদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭-এ। প্রবল সে াতে লাশগুলো দূরে সরে গেছে এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে উদ্ধার টিম সম্প্রতি তাদের তল্লাশি এলাকা সম্প্রসারিত করেছে। ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছিল,
তারা একটি বড় বস্তুর সন্ধান পেয়েছে, যা বিমানটির পেছনের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধারণা সত্য হলে সেখান থেকে ব্ল্যাকবক্সের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্ল্যাকবক্সটি পাওয়া গেলে বিমানটি বিধ্বস্তের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মঙ্গলবার নতুন করে অনুসন্ধান এলাকা বাড়ানো হয়েছে। মালয়েশিয়াভিত্তিক এয়ার এশিয়ার কিউজেড ৮৫০১ ফ্লাইটের এ৩২০-২০০ এয়ারবাসটি ২৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে জাভা সাগর এলাকায় সকাল ৬টা ১৭ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল। ওই দিনই সকাল সাড়ে ৮টায় বিমানটির সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর কথা ছিল। বিমানটিতে ১৫৫ যাত্রী, দুই বিমানচালক ও ৫ কেবিন ক্রুসহ মোট ১৬২ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ১৮টি শিশুও রয়েছে। আরোহীদের বেশিরভাগই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। মালয়েশিয়াভিত্তিক এয়ার এশিয়ার ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক ইন্দোনেশিয়া। এই প্রথম এয়ারলাইন্সটির কোনো বিমান দুর্ঘটনার শিকার হল। ইন্দোনেশিয়ান আবহাওয়া বিভাগের ধারণা, বরফশীতল আবহাওয়া ও ঝড়ের কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

আত্মহত্যা নয়, খুন হয়েছিলেন

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শসী থারুরের পত্নী সুনন্দা পুষ্করকে হত্যা করা হয়েছিল বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার বিএস বাস্সি জানিয়েছেন, ২৯ ডিসেম্বর রিপোর্ট পেশ করে মেডিকেল বোর্ড। ওই রিপোর্টে ‘সুনন্দার মৃত্যু অপ্রাকৃতিক’ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে এ-ও বলা হয়েছে, বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। মুখ দিয়ে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে বিষ দেয়া হয়ে থাকতে পারে সুনন্দাকে। বিএস বাস্সি জানিয়েছেন, তদন্তের জন্য বিদেশে স্যাম্পেল পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, গত বছর ১৭ জানুয়ারি দিল্লির বিলাসবহুল লীলা কেমপিনস্কি হোটেলের একটি রুম থেকে সুনন্দা পুষ্করের দেহ উদ্ধার হয়।
সে সময় আত্মহত্যার তথ্যের ওপর জোর দেয়া হলেও, ভিসেরা রিপোর্ট বলছিল অন্য কথা। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে বলা হয়েছিল, মৃত্যুর সময় সুনন্দার পেটে বিষ বা কোনো ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়নি। অথচ ভিসেরা রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ড্রাগ পয়জানিংয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এবার মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টও এতেই সিলমোহর দিল। এ তথ্য সামনে আসার পর সমস্যা বাড়লো কংগ্রেস নেতা এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুরের। তাকে আরও জেরা করতে পারে দিল্লি পুলিশ। ইতিমধ্যে ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। ডিসিপি (দক্ষিণ) প্রেমনাথ এবং অতিরিক্ত ডিসিপি (দক্ষিণ) কুশওয়াহর নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
আমি হতভম্ব : শশী থারুর
কংগ্রেস এমপি শশী থারুর বলেছেন, তার স্ত্রীর বিষপ্রয়োগে হত্যার খবর শুনে তিনি হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছেন। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন। শশী বলেন, ‘আমার প্রয়াত স্ত্রী সুনন্দা পুষ্করকে হত্যা করা হয়েছে এ খবর শুনে আমি হতভম্ব। পুলিশ এ ব্যাপারে অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। বলাই বাহুল্য যে, এর তদন্তকাজে আমি পূর্ণরূপে সহায়তা করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই ভাবিনি আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পেছনে কোনো চক্রান্ত আছে। আমরা সবাই চাই প্রকৃত সত্যটা সামনে আসুক।’

সংঘাতের রাজনীতি অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে by রণেশ মৈত্র

সিপিডির পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলছিল। সংঘাতময় রাজনীতির কবলে পড়ে দেশের সেই অর্থনীতি এখন বেসামাল। এ অবস্থায় দেশী বিনিয়োগ থমকে গেছে, বিদেশী বিনিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অস্থির রাজনীতির এ ধরনের একটি চিত্রই দেশের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, রাজনীতির এ ধারা জাতীয় আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
আমরা দেখেছি, হরতাল-অবরোধে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যায়। কল-কারখানায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনে টান পড়ে। জোড়াতালি দিয়ে কিছু উৎপাদন করা গেলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে শিপমেন্ট বাধাগ্রস্ত হয়। বিকল্প হিসেবে আকাশপথের কথা হয়তোবা ভাবা যায়; কিন্তু তাতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় বহু গুণ। দেশের ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর এক সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতিদিন হরতাল-অবরোধে ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে অবরোধকালীন চিত্র হরতালের চেয়েও ভয়াবহ। ফলে অবরোধে প্রতিদিনকার ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, অবরোধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়। হরতাল-অবরোধজনিত ক্ষতি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি একটা হিসাব প্রাক্কলন করেছে। সিপিডির মতে, হরতাল-অবরোধে ধ্বংসাÍক কর্মকাণ্ডে মূলধনজনিত বিনিয়োগ (ক্যাপিটাল স্টক) এক শতাংশ কমে গেলে জিডিপি কমে যাবে .০৯ শতাংশ, রফতানি ২.৫ শতাংশ, কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে ০.৯ শতাংশ। সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অবরোধে বড় ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থার সংকট। এটা দীর্ঘমেয়াদি হলে অর্থনৈতিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রফতানি আদেশ বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে গেছে। একদিনের অবরোধে পোশাক খাতে ক্ষতির পরিমাণ ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। সংগঠনের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ্ আজিম বলেন, পরিবহন বন্ধ থাকায় পণ্যসামগ্রী বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। যথাসময়ে শিপমেন্ট না হওয়ায় রফতানি করতে গেলে ব্যয় বেড়ে যায় দশ গুণ।
সম্প্রতি রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একদিনের অবরোধে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়। অবরোধের কারণে চালানগুলো সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। রাজস্ব আদায়ের দিক থেকে সবচেয়ে বড় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার পণ্যের চালান খালাস হয়। রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেন, এ ধরনের সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি চলতে থাকলে রাজস্ব আদায় আগামীতে আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। এনবিআর সূত্র জানায়, হরতাল-অবরোধে সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে আটকে থাকে ৪০০টি, ঢাকা কাস্টম হাউসে ৬০০ থেকে ৭০০ ও কমলাপুর আইসিডিতে ৫০-৬০টি চালান। হরতালজনিত কারণে মালপত্র খালাস না হওয়ায় সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়। পুরান ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজার হচ্ছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার। ওই বাজারের ৪০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের হিসাবে প্রতিদিন সেখানে ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু অবরোধের কারণে লেনদেন বন্ধ থাকে। অবরোধের কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসতে পারেন না, পণ্যও ঢাকার বাইরে যেতে পারে না। ফলে অবরোধে ঢাকা শহরের প্রায় ৪০টি মার্কেট বন্ধ থাকে।
খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের বৃহত্তর এই পাইকারি বাজারটিতে প্রতিদিন চাল, ডাল, লবণ, মশলাসহ প্রায় সব ধরনের মুদিপণ্য বিক্রি হয়। এখানে গড়ে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়ে থাকে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে। কিন্তু অবরোধের সময় বাজারটি প্রায় বন্ধই থাকে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার টন চাল, ৪০০ থেকে ৫০০ টন পেঁয়াজ, ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ডাল, ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মশলা বিক্রি হয়। কিন্তু অবরোধের কারণে তার শতকরা ১০ ভাগও বিক্রি হয় না।
আমদানি-রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশই হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে গড়ে ২০০০ কনটেইনার পণ্য আমদানি-রফতানি হয়। কিন্তু অবরোধে এর পরিমাণ অনেক কমে যায়। ফলে কনটেইনার জটের সৃষ্টি হয়। অনেক ব্যবসায়ীর নির্ধারিত সিডিউল বাতিল হয়ে যায়। সময়মতো পণ্য খালাস করা ও পণ্য জাহাজীকরণে বিঘ্ন ঘটায় ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ গুনতে হয়।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি বলেছে, তাদের হিসাবে ঢাকা শহরে দোকান প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ লাখ এবং সারা দেশে ২৫ লাখ। অবরোধের দিনগুলোতে এই দোকানগুলোর প্রায় সবই বন্ধ থাকে। তাতে প্রতিদিনের ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
বাসের একজন কন্ডাক্টর জানান, একদিন ডিউটি করলে তিনি ৫০০ টাকা পান; কিন্তু যখন অবরোধ-হরতাল থাকে তখন বাস বন্ধ রাখতে হয় বলে এ সময় রোজগার বন্ধ থাকে। এ ছাড়া খেটে খাওয়া মানুষগুলোই সাধারণত অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত-আহত হচ্ছেন। ফলে তাদের পরিবার-পরিজনরা থাকছে অনাহারে-অর্ধাহারে। সারা দেশে রিকশাচালকদের কমপক্ষে ৬০ ভাগই বসে থাকতে বাধ্য হন যাত্রীর অভাবে। সবজি বাজারে-ফলের বাজারেও পড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া। দাম বেড়ে যায় পরিবহন সংকটে। কিন্তু তৃণমূলে উৎপাদক কৃষকরা একই কারণে হন ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ তাদের পণ্যের ক্রেতা না থাকায় পরিবহন সংকটে তা কোথাও পাঠাতে না পারায় উৎপাদন খরচেরও অনেক কম দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে হয়।
এভাবে দেখা যায়, শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি মানুষ হরতাল-অবরোধে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পতিত হন।
ব্যবসা-বাণিজ্যে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকিং সেক্টরেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়ে যায় মাত্রাতিরিক্তভাবে। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে যায়- অগ্রগতির সব আশাও দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যায়। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে যেভাবে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে, তাতে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির ধকল কাটিয়ে অর্থনীতির অবরুদ্ধ চাকাকে কতদিনে সচল করা যাবে তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এ ধরনের হরতাল-অবরোধে যেভাবে যানবাহন পোড়ানো হয়, নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে ছাই করে দেয়া হয়, তাতে মনে হয় আমাদের হাজার বছরের লালিত, বিকশিত সভ্যতা যেন গণবিরোধী অপরাজনীতির দ্বারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। এ থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে- বাঁচাতে হবে সভ্যতাকে।
যে দাবিতে এ আন্দোলন সেই দাবি পূরণের ষোল আনা এখতিয়ার হল সরকারের- জনগণের আদৌ নয়। সেই জনগণকে পুড়িয়ে মারা, অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করা, তার যাতায়াত-চলাচলের সব পথ বন্ধ করে দেয়ার নাম আর যাই হোক রাজনীতি হতে পারে না- গণতান্ত্রিক আন্দোলনও হতে পারে না। অন্যদিকে আন্দোলন-সংগ্রাম-সহিংসতা বন্ধের নামে সরকার যা করে চলেছে তাও শিষ্টাচার-গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি রক্ষা বা সহিংসতা দমন আদৌ নয়। একের পর এক বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার, তাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা করা কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়, বরং এগুলো দ্বারা বিরোধী দলের উগ্রবাদী অংশকে উসকে দেয়া হচ্ছে। সরকারের জন্য সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম পদ্ধতি হতে পারে বিরোধী দলের মূল দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। সবার অংশগ্রহণে একটি অর্থবহ জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে বিদ্যমান সংকট অচিরেই কেটে যাবে।
রণেশ মৈত্র : প্রবীণ সাংবাদিক