Friday, May 4, 2018

স্কুলছাত্রী তাসফিয়ার মৃত্যুতে যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ by হুমায়ুন মাসুদ

মরদেহ উদ্ধারের পর ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুর কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। মঙ্গলবার (০১ মে) বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর বুধবার (০২ মে) সকালে নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় তার মৃতদেহ। আত্মহত্যা নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে? এই দুয়ের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে পুলিশের তদন্ত। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময়ে সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া পোশাকের সঙ্গে মরদেহের পোশাকের মিল না পাওয়া, পতেঙ্গা পর্যন্ত পৌঁছানো নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে ফিরছে পুলিশ।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বন্দর জোন) আরেফিন জুয়েল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাসফিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা ইতোমধ্যে তার ছেলে বন্ধুকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে আমরা তা খতিয়ে দেখছি। সম্ভাব্য সব বিষয়কে মাথায় রেখে তদন্ত কাজ চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আমরা তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পারবো।’
মঙ্গলবার বিকালে বাসা থেকে বেরিয়ে গোলপাহাড় এলাকায় চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে যায় তাসফিয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে তাকে বের হতে দেখা গেছে রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু আদনান জানিয়েছে, তাসফিয়া তার কাছ থেকে ১০০ টাকা সিএনজি ভাড়া নিয়েছিল। তবে গোলপাহাড় থেকে পতেঙ্গার সিএনজি ভাড়া কমপক্ষে আড়াইশ টাকা।
রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাসফিয়ার পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ। আর মরদেহ উদ্ধারের সময় পরনে ছিল স্কার্ট। এই পোশাক পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মরদেহের মুখে ফেনা পাওয়া যায়। এ ধরণের ফেনা বিষপানের ক্ষেত্রে দেখা যায়। প্রশ্ন উঠেছে,  তাসফিয়া কি বিষপান করেছে? নাকি অন্য কোন ওষুধ খাইয়ে তাকে মারা হয়েছে? যদি বিষপান করে তবে সে বিষ কেনার টাকা পেল কোথায়? সিএনজির ভাড়া দেওয়ার পর আর কোন টাকা থাকার কথা না। যদি তাসফিয়া বিষপান করে তবে বিষপান করার পর সড়ক থেকে ২০/২৫ ফিট দূরে কীভাবে গেল? লাশটা উপুড় হয়ে থাকবে কেন? যদি সে আত্মহত্যা করে তবে তার হাতে থাকা সোনার আংটি গেল কোথায়? নিজের ব্যবহারের মোবাইল ফোনটি কোথায়?
পুলিশ আরও খতিয়ে দেখছে, যদি তাসফিয়া আত্মহত্যা না করে থাকে তবে তাকে কে হত্যা করেছে? কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে? তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কি আদনান জড়িত? যদি আদনান তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে রাতে যখন তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আদনান তাসফিয়ার বাবার সঙ্গে কীভাবে ছিল? যদি আদনান হত্যাকাণ্ড না ঘটিয়ে থাকে তবে কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে? কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে?
এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার ওসি আবুল কাশেম ভূইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাসফিয়ার মৃত্যু অনেক রহস্যে ঘেরা। তার মৃত্যুকে ঘিরে অনেক প্রশ্ন সামনে এসেছে। আমরা সব বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পরনের কাপড় চেঞ্জ করেছেন কিনা, করলে কোথায়, কখন, কীভাবে চেঞ্জ করলেন, আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
তিনি আরও বলেন, 'তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টসহ পারিপার্শ্বিক অন্যান্য বিষয়ে ওপরও নির্ভর করছে। তার ময়নাতদন্ত হয়েছে। এখন কেমিক্যাল অ্যানালাইসিস হবে, তার ভিসেরা ফ্রিজার্ভ করা আছে।’
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার আরেফিন জুয়েল। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরাও এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছি। তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজি ভাড়া ১০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সে ওই টাকা দিয়ে পতেঙ্গা কীভাবে গেল?'
মৃতদেহ পড়ে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাসফিয়ার মৃতদেহ নদীর পাড়ের রিটেইনিং ওয়াল থেকে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ ফিট দূরে ছিল। লাফ দিয়ে এতদূর যাওয়া সম্ভব না। কেউ ধাক্কা দিলেও এত দূরে যাওয়ার কথা না। নদীতে আসা জোয়ার তার মরদেহ ওখানে নিয়ে যেতে পারে।’
তাহলে কি তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আরেফিন জুয়েল বলেন, ‘সে নিজেও নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে। আবার কেউ তাকে নদীতে ফেলে দিতে পারে। আমরা এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছি।’

পতেঙ্গায় স্কুলছাত্রীর লাশ: হত্যা মামলা নানা রহস্য by ইব্রাহিম খলিল

চট্টগ্রাম মহানগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডে প্রেমিক আদনানসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার তদন্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য। বুধবার সকালে  চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর  থেকে তাসফিয়ার মুখ থেঁতলানো রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার মুখে ফেনা ছিল বলে জানান পতেঙ্গা থানার এসআই মনিরুল ইসলাম।
লাশ উদ্ধারের পর তাসফিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হতে পারে এমন কথা বললেও পুলিশ পরে তা হত্যা না আত্মহত্যা তা ফরেনসিক রিপোর্টের আগে বলা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছে। তবে এর আগে তাসফিয়ার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে আদনান মির্জাকে আটক করে নিয়ে যায়। করা হয় জিজ্ঞাসাবাদ। কিন্তু পরে আদনানের সন্ত্রাসী দুই বড়ভাই ফিরোজ ও আকরাম তাসফিয়াকে বাসায় পাঠানোর শর্তে আদনানকে ছাড়িয়ে নেন।
ফিরোজ ও আকরাম বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী নেতার সহযোগী। আদনানও স্থানীয় কিশোর গ্যাং এর নেতা।  এদিকে তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বুধবার দিনগত মধ্যরাতে আদনান মির্জাকে গ্রেপ্তার ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে। তবে আদনান মির্জার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য প্রকাশ করছে না পুলিশ।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে আদনান মির্জা বলেছে, নগরীর চায়না গ্রিল থেকে তাসফিয়াকে বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দেয়ার পর তার আর কিছুই জানা নেই। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উন্মোচনে আমরা চার ধরনের থিওরি নিয়ে এগুচ্ছি। এরমধ্যে চায়না গ্রিল থেকে তাসফিয়া কিভাবে কার সাথে পতেঙ্গা নেভালে গেল। আদনান মির্জার সাথে থাকা তার বন্ধুরাই বা নিখোঁজ কেন? আর তাসফিয়ার লাশ একদিন পরই বা পাওয়া গেল কেন। তাহলে মঙ্গলবার সারারাত তাসফিয়া কোথায় ছিল। নাকি আদনান মির্জাকে ফাঁসাতে তৃতীয় কেউ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, আদনান মির্জা বাংলাদেশ অ্যালিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মির্জার ছেলে। থাকে দক্ষিণ খুলশী জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায়। তাদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে।
আর তাসফিয়ার বাবা আমিন উদ্দিন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী। তাদের গ্রামের বাড়ি টেকনাফ থানার ডেইল পাড়ার কালা মোহাম্মদ আলি বাড়ি। নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির এক নম্বর সড়কে অবস্থিত সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়তো তাসফিয়া।
পুলিশ জানায়, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে মাত্র এক মাস পূর্বে আদনানের সঙ্গে প্রেমের সমপর্ক গড়ে উঠে তাসফিয়ার। ফেসবুক ও ইমোতে ম্যাসেজ আদান-প্রদানে বিষয়টি টের পান তাসফিয়ার মা। তাসফিয়ার বাবা আমিন বিষয়টি জানার পর আদনানকে ডেকে শাসিয়ে দেন। মেয়ের পথ থেকে সরে যেতে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর ও আর নিজাম রোডের গোল পাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে মিলিত হয় তাসফিয়া ও আদনান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে তারা দুজন। এ সময় আদনান মির্জার তিন বন্ধু বাইরে অবস্থান করে।
রেস্টুরেন্টের বয় উজ্জ্বল জানান, মঙ্গলবার ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রেস্টুরেন্টে আসে এক তরুণ-তরুণী যুগল। তারা রেস্টুরেন্টের ৮নং কেবিনে বসে। এরপর খাবার অর্ডার নিতে গেলে শুধুমাত্র ২টা আইসক্রিম অর্ডার করে তারা। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অবস্থানের পর সপ্তম তলার এই রেস্টুরেন্ট থেকে লিফটে একই সাথে নেমে যায় তারা। আদনানও স্বীকার করে একসাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা। এরপর তাসফিয়াকে আদনান সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দিয়েছিল বলেও জানায়। মঙ্গলবার বিকেল ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ঘটনা আদনানের স্বীকারোক্তির সঙ্গে মিলেছে। সিসিটিভি ফুটেজও বলছে একই কথা। তবে এর পরের ঘটনা উল্টো।
তাসফিয়ার বাবা নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মঙ্গলবার। ফলে পুলিশ রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদনানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আদনানকে। সেখানে প্রায় দুই-দেড় ঘণ্টার মাথায় আদনানের দুই বড়ভাই ফিরোজ ও আকরাম তাসফিয়াকে বাসায় পাঠানোর শর্তে ছাড়িয়ে নেয় আদনানকে। কিন্তু পরদিন বুধবার সকালে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর  থেকে উদ্ধার করা হয় তাসফিয়ার লাশ।
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার জানান, খবর পেয়ে মৃতদেহটি বুধবার সকালে উদ্ধার করা হয়। দুপুরের দিকে তাসফিয়াকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও সিআইডি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।
আনোয়ার জানান, তাসফিয়াকে পাথরের উপর উপুর হয়ে পড়ে থাকাবস্থায় পাওয়া গেছে। পরনে হালকা গোলাপি সালোয়ার কামিজ। গায়ের রঙ ফর্সা। তবে দুই চোখ ও হাঁটুতে হাল্কা আঘাতের চিহ্ন আছে। মুখের মধ্যে ফেনা ছিল।
ধর্ষণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই তদন্তকারী অফিসার জানান, সেটা সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে বলা যাবে। সে ব্যাপারে সিআইডি তাদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া তাসফিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার ৬ বন্ধুসহ তাকে আসামি করে মামলা নেয়া হয়েছে।
তাসফিয়ার চাচা নুরুল আমিন জানান, তাসফিয়া পরিবারের সবার বড়। এরপর দুই বোন। সর্বকনিষ্ঠজন ভাই। তবে পরিবারের সদস্য ছাড়া তাসফিয়া কখনো একা বাসা থেকে বের হয়নি। গাড়ি নিয়েই স্কুলে আসা-যাওয়া করতো। সাথে মা, না হয় বাবা থাকতেন। এর মধ্যেও ফেসবুকে সমপর্ক হয়ে আজ এতো বড় ক্ষতি।
তিনি বলেন, তাসফিয়া মঙ্গলবার বিকেলে কাউকে না বলে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। খোঁজাখুঁজির পর তাসফিয়াকে না পেয়ে তার বন্ধুদের কাছ থেকে আদনানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বাবা। এরপর কল করে আনা হয় আদনানকে। তাকে নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে যান তারা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করেন। এরপর থানায় অভিযোগ করা হয়।

নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ৫ ঘণ্টা মঞ্জুর প্রচারণা বন্ধ: গণসংযোগে হামলা by রাশিদুল ইসলাম

নির্বাচনী প্রচারে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় প্রচারণা বন্ধ রেখে প্রতিবাদ  জানিয়েছেন খুলনা সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পরে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ফের প্রচারে নামার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না ২০ দলের নেতাকর্মীরা। তিনি অভিযোগ করেছেন প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করতে নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এদিকে সন্ধ্যায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আগের দিন রাতে নির্বাচনী প্রচারণা সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৯  নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করে বিএনপি। এর প্রতিবাদে সকাল নয়টায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রচারণা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বেলা দুইটার পর তিনি আবার প্রচারণায় নামেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আমরা জেনেছি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী ৬ই মে খুলনায় আসবেন এবং বৈঠক করবেন। নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, দলীয় প্রশাসনকে বদলি এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি না দিলে আমরা প্রয়োজনবোধে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠক বয়কট করতে বাধ্য হবো। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে ২০দলীয় জোটের নির্বাচনী কমিটির প্রেস ব্রিফিংয়ে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মঞ্জু বলেন, গত ২৪শে এপ্রিল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরু থেকে শাসক দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাবে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাসকদলীয় ক্যাডারদের হুমকি-ধামকি প্রদর্শন, পাঁচটি প্রচার মাইক ভাঙচুরের চেষ্টা ও প্রচার কাজে নিয়োজিত ইজিবাইক আটকে রাখা, মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা, প্রার্থী এবং ঢাকা থেকে আগত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পথ সভাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। পথসভার জন্য নির্ধারিত স্থান যুবলীগ কর্মীরা দখলে নিয়ে মহড়া দিয়েছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে একাধিকবার।
তিনি বলেন, সরকারি দলের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তালুকদার আব্দুল খালেক নির্বাচনী আচরণবিধিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক-প্রকৌশলী-শিক্ষকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে সভা করেছেন। তাদেরকে ভূরিভোজে আপ্যায়িত করেছেন এবং  নৌকার পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ভোট গ্রহণের কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন যে সব শিক্ষকরা, তাদেরকেও বাধ্য করা হয়েছে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আপত্তি দেয়ার পরও তাদের এই তৎপরতা বন্ধ হয়নি।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ধানের শীষের পক্ষে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে কাজ করা কর্মীদের ওপর চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। বিভিন্ন মাধ্যমে নানা পন্থায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে কথা ছড়ানো হয়েছে যে, ৫ই মে’র পরে বিএনপির কোনো কর্মীকে আর প্রচারণা কাজে নামতে দেয়া হবে না। এরপর গত বুধবার দিবাগত রাত ৮টার পর থেকে মহানগরীর ছয় থানা এলাকায় গণগ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ। রাত সোয়া ২টার দিকে গ্রেপ্তার হন খুলনা মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ। রাত দেড়টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুুলিশ গ্রেপ্তার করে খুলনা মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারুকে। এর আগে ৩০শে এপ্রিল দিনদুপুরে ডিবি পুলিশ নগরীর ব্যস্ততম গল্লামারী এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় বাগেরহাট জেলা যুবদল সভাপতি মেহবুবুল হক কিশোরকে। কিশোর ওই দিন খুলনায় এসে নগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে এলাকায় ফিরছিলেন। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ  গ্রেপ্তার করেছে ওয়াহিদুজ্জামান ও ফয়সালকে।
এছাড়া বুধবার দিবাগত রাতভর সকল থানায় অভিযান চালানো হয়েছে। দৌলতপুর থানার ৬ নং ওয়ার্ড থেকে বিএনপি নেতা আজিজুল খন্দকার ও তার ছেলে আরিফ খন্দকার, তিন নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রকিবুল ইসলাম মিঠু, যুবদল নেতা ফারুক হোসেনসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
খালিশপুর থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সান্টু ও ১৩ নং ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করার পর তার হাইকোর্ট থেকে নেয়া জামিনের কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাওয়া শুকুর ও সুমন নামের দুইজনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খুলনা সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ২১ নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি আবু তালেব ও বিএনপি কর্মী গাউসকে। এছাড়া, ৩১ নং ওয়ার্ড বিএনপি কর্মী নাসিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ১৮ নং ওয়ার্ড যুবদল কর্মী আপনকে।
এছাড়া খুলনা জেলার রূপসা থানার আইচগাতিতে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলালের ভাই জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা-উল বারী লাভলু, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, বিএনপি কর্মী আব্দুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলমকে। এরপর তাদেরকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
এছাড়া বুধবার দিবাগত রাতে নগরী জুড়ে পুলিশ ও ডিবির অভিযান, নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, কর্মীকে বাড়ি না পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্য নারী ও শিশুদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করলে খুব খারাপ পরিণতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।
তিনি বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল এমপি এবং মাহবুবুল আলম হানিফ দুইবার খুলনায় এসে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যা স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির পরিবর্তে বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠ থেকে বিতাড়িত করার জন্য সর্বাত্মক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ওই দুই ব্যক্তির নির্দেশনাতেই পুলিশ প্রশাসন নগরী জুড়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা এবং অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিএনপি খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত আট দিনের নির্বাচনী প্রচারণায় সমগ্র শহর জুড়ে ধানের শীষের পক্ষে জনতার জোয়ার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকা মানুষ আসন্ন নির্বাচনে তাদের আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বিএনপির প্রতি ভরসা রাখতে চায়। আওয়ামী লীগ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে ভয়ে ভীত হয়ে ষড়যন্ত্রের পথে পা বাড়ায়। তারা পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়।
এ পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি অবিলম্বে পুুলিশ প্রশাসনের অভিযানের নামে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অভিযান ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত সকল নেতাকর্মীকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। শাসকদলীয় প্রার্থীর প্রতিনিয়ত করে চলা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন যদি এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয় তবে খুলনা বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। আগামী ৬ই মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনায় আসবেন। তার আগেই এসব দাবি মেনে নিতে হবে। প্রয়োজনে খুলনা বিএনপি সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দাবি আদায়ের জন্য কালো পতাকা প্রদর্শন করবে। মনে রাখতে হবে, বিএনপি জনগণের দল এবং জনগণের স্বার্থেই আমাদের রাজনীতি। হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে আমরা খুলনা সিট করপোরেশন নির্বাচনের মাঠ কখনোই ছাড়বো না।
এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মশিউর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাম্যবাদী দলের সভাপতি সাঈদ আহমেদ, এনপিপির সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিজেপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন ইসা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, এম গোলাম মোস্তফা, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহ আলম, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজাসহ স্থানীয় ও জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান আওয়ামী লীগের : নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করার অভিযোগকে মিথ্যাচার বলে অভিযোগ করেছে খুলনা আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় নগরীর শহীদ হাদিস পার্কের সামনে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের গণজোয়ার দেখে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মঞ্জু। তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যে কেসিসিতে বিএনপি সমর্থিত একাধিক কাউন্সিলর তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যে কারণে নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিশ্চিত পরাজয় জেনে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ও মিথ্যাচার করছে। মহানগর ও জেলা বিএনপির প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের নামে মামলা রয়েছে। তাই তাদেরকে প্রশাসন গ্রেপ্তার করেছে। নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসনের কোনো কাজে আওয়ামী লীগ হস্তক্ষেপ করছে না। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনার রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় উপ- কমিটির সদস্য অসিত বরণ বিশ্বাস, ঝালকাঠি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান, গুটদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা সরোয়ার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে হামলা, আহত ৫ 
এদিকে ২০দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর গণসংযোগ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুন্সি নাজমুল আলম নাজুর নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে  দেয়া অভিযোগে জানা গেছে। এতে মহানগর ছাত্রদল নেতা আল আমিন তালুকদার ও বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদসহ ৫/৬ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নগরীর খালিশপুর থানাধীন ১৫ নং ওয়ার্ডের আলমনগর মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ওই এলাকায় দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট ও খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে আলমনগর মোড় এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুন্সি নাজমুল আলম নাজুর নেতৃত্বে নৌকা প্রতীকের একটি মিছিল নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে বিএনপি, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ৫/৬জন নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে তিনি ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদুল ইসলামকে ঘটনাটি জানান। তিনি ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের আগেই পুলিশ যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুন্সি নাজমুল আলম নাজুর নেতৃত্বে আমাদের প্রার্থী গণসংযোগ বহরে অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের ছাত্রদল নেতা আল আমিনসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। তিনি এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী বলেন, বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

রাঙ্গামাটিতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

জেএসএস সংস্কারের শীর্ষ নেতা ও নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে প্রকাশ্য দিবালোকে তার কার্যালয়ের সামনে গুলি করে হত্যা করেছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তাকে বহন করা মোটরসাইকেল চালক ও নানিয়ারচর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম চাকমার ওপরও গুলি করে সন্ত্রাসীরা। রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শক্তিমানের মৃত্যু হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা রূপম চাকমাও   আহত হন। আহত রূপমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে চারটার সময় নিহত চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের দুইটি গাড়ি দিয়ে পাহারার মাধ্যমে লাশটি রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যান নিহতকে একনজর দেখার জন্য। এসময় অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার একমাত্র মেয়ে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মেঘা চাকমাকে তার সহকর্মীরা নিয়ে আসলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ছদ্মবেশী তিন পাহাড়ি যুবক হাতে তিনটি ব্যাগ নিয়ে উপজেলা পরিষদের নিচে অবস্থান নেয়। এসময় বেলা এগারোটার সময় নিজ বাসা থেকে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে আসলে সহকর্মীসহ চেয়ারম্যানের ওপর গুলি চালায় ছদ্মবেশী তিন যুবক। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সাধারণের কাতারে মিশে সটকে পড়ে উক্ত তিন যুবক। এসময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাকে বহন করা মোটরসাইকেল চালককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। সেখানে পুরো শরীরে অন্তত ২০টি বুলেট বিদ্ধ অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমানকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অপরজনকে প্রাথমিক সাপোর্ট দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গাজীপুরে নীরব হয়রানি, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা by কাফি কামাল

সিটি নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নীরব হয়রানি বাড়ছে গাজীপুরে। ভোটের মাঠের দৃশ্যমান পরিবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও আতঙ্ক বাড়ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। ধানের শীষের সমর্থনে    গণসংযোগের সময় কয়েকদিন ধরে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে নানাভাবে। কখনও গণসংযোগস্থলে আগেই অবস্থান নিয়ে মহড়া দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। কখনও বাধা দেয়া হচ্ছে প্রচারণায় হ্যান্ড মাইকের ব্যবহারে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণা চালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে এত লোকসমাগম কেন? দুয়েকজনকে ডেকে নিয়ে কেবল ভোটের মাঠ নয়, আপাতত গাজীপুর থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে। অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোনে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। বুধবার দলের দুই কেন্দ্রীয় নেতা প্রচারণা চালানোর সময় তাদের সরাসরি বাধা দিয়েছে ডিবি পুলিশ। কয়েকদিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে পুলিশ। এছাড়া গাজীপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন থাকছে সার্বক্ষণিক।
এদিকে বুধবার রাতে খুলনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও একটি গুঞ্জনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে গাজীপুরে। বৃহস্পতিবার দিনভর দুইটি গুঞ্জন ছিল এ সিটির সবখানে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যাদের মামলা রয়েছে তারা প্রচারণা চালালে গ্রেপ্তার করা হবে। দ্বিতীয়ত, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে অভিযান চালাবে পুলিশ। এই দুই গুঞ্জনে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গাজীপুরে। বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কসহ একাধিক বিএনপি নেতা এসব তথ্য জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার গাজীপুর সদর, কাশিমপুর, বোর্ড বাজার, বাসন, চেরাগ আলী ও টঙ্গীর নানা বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দপাড়ার বাসিন্দা রবিউল ইসলামের মুখে কেবলই প্রশ্ন- ভোট কি সুষ্ঠু হবে? কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারব? প্রার্থীরা কি ভোটারদের ভোটবাক্স রক্ষা করতে পারবেন? ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোগড়ার ব্যবসায়ী আবদুল সালাম বলেন, বিএনপি প্রচারণার মাঠে তো সক্রিয়, কিন্তু ভোটের দিন কি কেন্দ্রে যেতে পারবে? কোনাবাড়ী এলাকার ভ্যানচালক ইজ্জত আলী বলেন, বিএনপি’র প্রার্থীকে ভোট দিয়ে কি হবে? জিতলে কি মেয়রগিরি করবে না জেলে যাবে? ভোগড়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক আলেয়া খাতুন বলেন, বিএনপি নেতারা কয়েকবার ভোট চাইছে। কিন্তু ভোট দিতে পারবো কিনা তা তো জানি না। ছয়দানার বাসিন্দা রফিক উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বয়সে তরুণ হলে কি হবে, খুবই প্রভাবশালী। লড়াই হবে সমানে সমানে।
টঙ্গীর ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মনির হোসেন বলেন, ১৫ই মে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারলে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দেবে। ভোটাররা কার পক্ষে এ নীরব বিপ্লব ঘটাবে- এমন প্রশ্ন করলে তিনি মুচকি হাসি দেন। পরক্ষণেই বলেন, যারা গতবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়রকে কারাগারে পাঠিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গণসংযোগ করতে গিয়ে ভোটারদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কার বিষয়টি ব্যাপক হারে উঠে আসার কথা জানিয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, ক্রীড়া সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক সহ বিএনপি’র বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। তারা প্রত্যেকেই বলেছেন- গাজীপুরে মানুষের মধ্যে একটিই প্রশ্ন- নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবে? গাজীপুর সিটির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী। তিনি বলেন, প্রকাশ্য পরিস্থিতি এখনও শান্তিপূর্ণ। কিন্তু গোপনে দলের সক্রিয় কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমাদের প্রার্থীর পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। ঢালী বলেন, গাজীপুরে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন- নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফলাফল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মেনে নেবেন কিনা। কারণ নির্বাচনে পরাজিত হলে তার প্রভাব কমবে, যা তার অস্তিত্বের ভিত নড়িয়ে দিতে পারে।
ওদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী হাসান সরকারের জনসভায় রোববার অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নগরীর নোয়াগাঁও এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে পথসভা চলাকালে একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ নিয়ে হাজির হন বিএনপি’র ওই পথসভায়। পথসভায় বক্তব্য চলাকালে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট তা থামিয়ে নেতৃবৃন্দকে জানান, প্রার্থীর গাড়িতে ধানের শীষ প্রতীকের স্টিকার লাগানো থাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলনকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। পরে আলোচনার ভিত্তিতে জরিমানার অর্থ নির্ধারণ হয় ৫ হাজারে। এর আগে জেলা জামায়াতের আমীরসহ ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিএনপিসহ বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের প্রতি পুলিশের চাপ সৃষ্টি, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় গাজীপুরের এসপি হারুনুর রশীদের প্রত্যাহার দাবি করেছে বিএনপি। গাজীপুরের পুলিশ এখন ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম- এমন অভিযোগ করে রোববার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিং থেকে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি নেতাকর্মীদের নীরব হয়রানিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর মিডিয়া সমন্বয়ক ডা. মাজহারুল আলম জানান, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানীয় নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে এসব হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। তার উপর বুধবার রাতে খুলনা সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পর গাজীপুরের সবখানে একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে- বৃহস্পতিবার রাতে এখানে বিএনপি নেতাদের বাসাবাড়িতে অভিযান চালাবে পুলিশ। ফলে গাজীপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এখনও সাহসিকতার সঙ্গে নেতাকর্মীরা প্রচারণার মাঠে সক্রিয় আছেন। গাজীপুর জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে সিটি করপোরেশনের উত্তরাংশে দলীয় প্রার্থীর গণসংযোগ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। অন্যদিকে টঙ্গী বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থান করে সিটি করপোরেশনের দক্ষিণাংশে প্রার্থীর গণসংযোগ সমন্বয় করছেন আরেকজন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল। নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি ও আতঙ্কের ব্যাপারে আবদুস সালাম আজাদ বলেন, গাজীপুরে দৃশ্যত নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ।
তবে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নানা ধরনের অভিযোগ আসছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে পুলিশি অভিযানের। কিন্তু যত প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতিই আসুক, নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না বিএনপি নেতাকর্মীরা। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন জানান, নীরব চাপ তৈরি ও হয়রানি করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। প্রশাসনের তরফেই এ চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু কোথাও ডকুমেন্ট রাখছে না। কোন জায়গায় হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করতে বাধা দেয়া হচ্ছে, কোথাও প্রচারণায় বেশি লোকের সমাগম কেন জানতে চাওয়া হচ্ছে। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী তাদের বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করা হচ্ছে। নির্বাচনের পর দেখে নেয়ার হুমকি আসছে। সবমিলিয়ে যতভাবে পেনিক সৃষ্টি করা যায়, নীরবে তাই করা হচ্ছে। মিলন বলেন, গাজীপুরে ধানের শীষের প্রচারণায় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এবং ব্যাপক সাড়া নৌকার প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। তাই তারা এখন ভোটের প্রচারণায় ঢিল দিয়েছে, ভোট ছাড়া অন্য কিছু করা যায় কিনা সে পরিকল্পনাই করছে।
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বুধবার গাজীপুরের ২৯ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার সময় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক ও যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ারকে বাধা দেয় ডিবি পুলিশ। বুধবার কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকায় বিএনপি নেতাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে পুলিশ। রিজভী বলেন, বিএনপি দলীয়  নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাসক দলীয় ক্যাডারদের হুমকি-ধমকি প্রদর্শন, প্রচার মাইক ভাঙচুর চেষ্টা ও প্রচার কাজে নিয়োজিত ইজিবাইক আটকে রাখা, মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা এবং ঢাকা থেকে আগত বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের পথসভাকে বাধা দেয়া হচ্ছে। পথসভার জন্য নির্ধারিত স্থান দখলে নিয়ে মহড়া দিচ্ছে যুবলীগ কর্মীরা। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপি এখন চূড়ান্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্কের মধ্যেও দলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ সাহসিকতার সঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে থাকবেন।

নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকলে নির্বাচন অর্থবহ হবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে প্রত্যাহার বা বদলির নির্দেশ  দেয়া হবে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর জেলাপ্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
গাজীপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-গণসংযোগে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমি জানি না এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে নির্দিষ্ট করে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকার মাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য শুনি-দেখি; কিন্তু সেই বক্তব্যই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয় না। যদি কাউকে বদলি করতে হয়, তাহলে একটা নির্দিষ্ট অভিযোগ আনতে হবে এবং সেই নির্দিষ্ট অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।
নির্বাচন কমিশন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। কিন্তু ঢালাওভাবে কেউ বললেই কারো প্রত্যাহারের ব্যাপারে নির্দেশ দিতে পারব না। বিএনপির গণসংযোগ ও প্রচারে মামলার আসামি ও সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের অভিযোগের  প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে লিখিত  কোনো অভিযোগ নেই। কোনো অভিযোগ তুলে বিষয়টি লিপিবদ্ধভাবে উত্থাপিত হলে আমরা আমলে নিতে পারি। এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি-না তা জানা  নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে সরকার

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সরকার গত ১০ বছরে একটি ভয়ঙ্কর ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি   মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। মির্জা আলমগীর বলেন, সরকার মুখে বলছে মুক্ত গণমাধ্যম। অথচ ভিন্ন ধরনের সেন্সরশিপ আরোপ করছে সবখানে। টেলিভিশনে কোন নিউজ যাবে আর কোন নিউজ যাবে না, তা সরকারের লোকজন নির্ধারণ করে দিচ্ছে। একটা খবরের জন্য আমি এক পত্রিকার লোকদের জিজ্ঞেস করলাম এটা কোথায় কীভাবে পেলেন? তারা বললো কিছুই করার নেই। আমাদের দেয়া হয়েছে। নিজেদের নামে ছাপতে বাধ্য করা হয়েছে। এই হলো আমাদের মুক্ত গণমাধ্যম। সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী। ভেতরে এক আর চেহারা আরেক। মুখে বলে এক, আর করছে আরেক। আসলে গত ১০ বছরে গণমাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে, যে পরিবেশে কেউ কথা বলতে ভয় পায়, লিখতেও ভয়। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে একটি ভয়ঙ্কর ও সন্ত্রাসী রাজত্বে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের রক্ষা কবজ হলো মুক্ত গণমাধ্যম। এটা মুক্ত না থাকলে গণতন্ত্র থাকে না। পাকিস্তান আমল থেকে সাংবাদিক ভাইদেরকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখনো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। অথচ এই গণতন্ত্রের জন্যই ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা ভিন্ন চিন্তা করতে পারব বলেই সকলে মিলে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। কিন্তু সেই অবস্থা এখন আর নেই। এখন কোনো সাংবাদিক কিছু লিখতে পারেন না। এখন কিছু লিখলে গুম হতে হয়। দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। কিন্তু সরকারের কথা শুনলে মনে হবে তাদের মতো ভালো মানুষ একটিও হয় না। জাতির সঙ্গে জঘন্য প্রতারণা ও ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ করা হচ্ছে। এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আমাদের শেষ করতে হবে। সরকারের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডকে শেষ করতে ও এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে যারা গণতন্ত্রের পক্ষে আছেন তাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য সকলে মিলে কাজ করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, এমন একটা মেরুদণ্ডবিহীন নির্বাচন কমিশন সরকার তৈরি করেছে, যারা কোনো  নিয়ম মানে না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের মেয়র প্রার্থী বাধ্য হয়ে প্রচারণা থেকে সরে এসেছেন। আমরা প্রতিনিধি পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশনকে এসব বিষয়ে বলেছি। যখন ফোনে ইসির সঙ্গে কথা বলি, তারা বলে সবই ঠিক আছে। আমরা কোথাও কোনো অনিয়ম দেখছি না। আমরা প্রথম দিনই বলেছি, গাজীপুরের এসপি হারুনুর রশীদকে সরাতে হবে। কারণ, তিনি চিহ্নিত আওয়ামী লীগার। আমাদের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে কিভাবে মেরেছিল তা দেশবাসী ভোলেনি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না। আওয়ামী লীগ ১/১১-এর প্রতিনিধিত্ব করে চলছে দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে জেলে নিলো, কত কিছু করলো। তাদের তো কিছু করলেন না। বরং তাদের সবকিছুকে ঘোষণা দিয়ে বৈধ করেছেন। অন্যদিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা অপরাধে খালেদা জিয়াকে জেলে আটক রাখা হয়েছে। আমাদের দাবি, আগামী নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এরপর নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার বলছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কিন্তু কোন সংবিধান? যে সংবিধানকে কেটে-ছেঁটে শেষ করে দিয়েছেন। আমরা বলছি না যে, বিএনপির সব দাবি মানতে হবে। আপনারা বসেন, কথা বলেন এবং যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলোর সমাধান করেন। সংকটের সমাধান করে তারপর নির্বাচনে যান। কিন্তু সমস্যার সমাধান না করে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে ৫ই জানুয়ারি যা হয়েছে তাই হবে। কিন্তু এবার দেশের মানুষ এ ধরনের নির্বাচন মেনে নেবে না। প্রতিরোধ করবে। কত জনকে জেলে দেবেন, কত জনকে মারবেন এবং কত জনকে গুম করবেন- করতে পারেন? নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই লড়াই খুব কঠিন লড়াই, এই সংগ্রাম খুব কঠিন সংগ্রাম। এই লড়াই শুধু নির্বাচনে জিতলাম কি হারলাম বা আমরা দুই-একবার জেলে গেলাম তা নয়। এই লড়াই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। সেটা হলো- তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। একজন বিচারক হিসেবে এমন মানবাধিকার লঙ্ঘনের রায় দিলেন। বাক স্বাধীনতা হরণ করলেন। এর মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করলেন। আবার এই হাইকোর্টই রায় দিলেন- জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা যাবে না। কিন্তু একে খন্দকার তার বইতে লিখেছেন আমি জিয়াউর রহমানকে চিনতাম না। তবে তার বক্তব্য শুনে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম। জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কারণেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, হাইকোর্ট এখন ইতিহাস রচনার দায়িত্ব নিয়েছেন। উপন্যাস রচনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা আমাকে সাজা দিয়েছিলেন। ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। আমি ক্ষমা চাইনি। বলেছি আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে ক্ষমা চাই না। তিনি সাজা দিলেন। আর আজকে সরকার বলছে এসকে সিনহা চোর, দুর্নীতিবাজ, মোরালি ডিজ অনেস্ট পারসন। এসকে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি বানিয়েছিল কে। বর্তমান সরকার একজন চোর, দুর্নীতিবাজ ও মোরালি ডিজ অনেস্ট পারসনকে প্রধান বিচারপতি বানিয়েছিল। খালেদা জিয়ার রায়ের আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম হলো- সুপ্রিম কোর্টে কোনো মামলার আপিল গৃহিত হওয়ার পর জামিন না চাইলেও অটো জামিন হয়ে যাবে। অথচ সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন জামিন আবেদন গ্রহণ করলাম ঠিক আছে কিন্তু এখনই জামিন শুনানি করতে চাই না। জামিন শুনানি করার ডেট দেয় তিন মাস পর। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই। শুধু আদালত নয়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়ও অনিয়ম চলছে। আমরা যারা কারাগারে গিয়েছি তারা সবাই জানি আইজি প্রিজনই বলে দেবেন কারাগারে কার চিকিৎসা হবে আর কার হবে না। কিন্তু খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ফাইল আইজি প্রিজন পাঠালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তিনি পাঠালেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে হয়তো সে ফাইল ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে চলে গেছে। তিনি যদি বলেন খালেদা জিয়া চিকিৎসা পাবেন তাহলে পাবেন না বললে পাবেন না। এ সময় তিনি বলেন, এরশাদ  ছিল জাতীয় বেহায়া স্বৈরাচার, আর এখন শাসন করছে বিশ্ব স্বীকৃত স্বৈরাচার। আসুন এ দুই স্বৈরাচারকে তাড়াতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার মঞ্চ করি। সেখানে প্রয়োজনে গুলি করে মেরে ফেলুক আমাদের। আমি সেখানে সবার আগে যেতে প্রস্তুত রয়েছি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, এরশাদের সময় প্রতিটা জাতীয় পত্রিকার প্রথম পাতায় তার কবিতা ছাপা হতো। একদিন বিদেশ থেকে ফেরার পর বাসসের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন আপনি কি এমন কবি যে আপনার কবিতা পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা লাগে। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। সেদিন এরশাদ খুব লজ্জা পেয়েছিল। এর পর থেকে আর কোনোদিন প্রথম পাতায় এরশাদের কবিতা ছাপা হয়নি।
বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।

ঢাকায় ওআইসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল পাঁচ শতাধিক অতিথি

সাড়ে ৫ শতাধিক অতিথি নিয়ে কাল ঢাকায় শুরু হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের জোট ওআইসি’র দু’দিনব্যাপী ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। বাংলাদেশের আয়োজনে সামপ্রতিক সময়ে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। এরইমধ্যে অতিথিদের বড় অংশ ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশের তরফেও আয়োজনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ আয়োজনে অন্তত ৪০ জন মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন সম্মেলনে। নন-ওআইসি কান্ট্রি যেমন কানাডা, কসোভো ও নর্দান সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নিচ্ছেন। পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং থাইল্যান্ডের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন ওআইসির মেগা এ ইভেন্টের রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। সম্মেলন প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা জানাতে গতকাল মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত বিষয় লিখিত বক্তৃতা ছাড়াও সম-সাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসার জবাব দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট ওআইসির ঢাকা বৈঠকে বিশেষভাবে স্থান পাবে এবং এ বিষয়ে একটি বিশেষ অধিবেশনও হবে। যেখানে কানাডার ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ছাড়াও কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ দূত বব রেও অংশ নেবেন। কানাডা মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তুচ্যুতদের জন্য তাদের দুয়ার খুলে দেয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিশেষ আমন্ত্রণে ওই আয়োজনে অংশ নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল এবং সুইডেনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরাও ওআইসির ঢাকা সম্মেলনে আমন্ত্রিত ছিলেন। কিন্তু তারা আসতে পারছেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে আসা (আজ ভোরের মধ্যে যারা ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন) মন্ত্রী, সচিবসহ অন্য অতিথিদের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্টরা অতিথিদের সঙ্গ দেবেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসি বাংলাদেশকে শুরু থেকে সমর্থন জানিয়ে আসছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ওআইসি শুরু থেকেই সোচ্চার রয়েছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক এবং অন্যান্য দেশও আমাদের নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সম্মেলন প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘৫৭ সদস্যবিশিষ্ট এই সংস্থার প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রীসহ প্রায় সাড়ে ৫০০’র অধিক প্রতিনিধি আগামী ৫ ও ৬ই মে ঢাকায় থাকছেন। এরইমধ্যে তাদের অভ্যর্থনা জানানোর সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ইসলামিক ভ্যালুস ফর সাসটেনেবল পিস, সলিডারিটি অ্যান্ড  ডেভেলপমেন্ট’। মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের বেশকিছু  দেশ শান্তি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় হুমকি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, মুসলিম রাষ্ট্রে বাইরের হস্তক্ষেপ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, ইসলামোফবিয়া ও মানবিক বিপর্যয়সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এবং একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংস্থাটির সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বাৎসরিক সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে- ওআইসি’র কাল থেকে শুরু হওয়া ঢাকা সম্মেলনে সংস্থাটির সংস্কার এবং ওআইসির নিজস্ব কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট সেন্টার খোলার বিষয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত হতে পারে।’ এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা জানান, তুরস্কের পক্ষ থেকে সেন্টার ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড মেডিয়েশন ক্যাপাসিটি বিল্ডিং খোলার প্রস্তাব করলে এটি নিয়ে ওআইসির সিনিয়র অফিসিয়াল বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং আমরা আশা করছি এবারের মন্ত্রীদের বৈঠকে এটি অনুমোদিত হবে। কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের অনুমোদন পাওয়া গেলে কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একাধিক দেশ আছে যাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সংঘাত আছে এবং এ ধরনের একটি কনফ্লিক্ট অ্যান্ড  মেডিয়েশন সেন্টার এই সংঘাতকে প্রশমিত করতে সাহায্য করবে।’ ওআইসির সংস্কার প্রস্তাব প্রশ্নে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনার আভাস দিয়ে অন্য এক কর্মকর্তা বলেন- পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে এখন সবাই এ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। ওআইসি কী করছে এবং ভবিষ্যতে আরো কী করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা হবে। কর্মকর্তারা জানান, এবারের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা বিষয়ে তিন পাতার একটি রেজ্যুলেশন গ্রহণ করা হবে যেখানে এর বিস্তারিত বর্ণনা থাকছে এবং সামনের দিনগুলোতে ওআইসি এ বিষয়ে কী ভূমিকা রাখবে  সে বিষয়েও নির্দেশনা থাকবে। গত তিনটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এবং শেষ কায়রো শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত প্যারা সংযুক্ত করতে বাংলাদেশের বেগ পেতে হয়েছে। এমনকি কয়েকটি দেশের চরম বিরোধিতার কারণে সেখানে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার নিয়েও আপত্তি ছিল। কিন্তু এই বিষয়ে একটি পৃথক শক্ত  রেজ্যুলেশন গ্রহণ করার ব্যাপারে এবার ওআইসির সবাই একমত হয়েছেন। ঢাকা আশা করছে আজ মন্ত্রী, সচিবসহ কর্মকর্তারা কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুতদের অবস্থা সরজমিন দেখার পর এ বিষয়ে আরো জোরালো পদক্ষেপের সুপারিশ থাকবে তাদের।
উল্লেখ্য, যুগ যুগ ধরে রাখাইনে বর্বরতার শিকার রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল চেষ্টায় এবার নিরীহ নারী-পুরুষ ও নিষ্পাপ শিশুদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসররা বাছ-বিচারহীনভাবে গণহত্যা, গুলি ও গণধর্ষণের মতো আন্তর্জাতিক ফৌজদারি অপরাধ করে তাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে ৩-৪ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এখানে আশ্রয় নিলেও গত ২৫শে আগস্টের পর থেকে ৩ মাসে এসেছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এখনো আসা অব্যাহত রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছায় ফেরাতে গত ডিসেম্বরেই মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর চাপ ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সঙ্গেও কাজ করছে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, গেল সপ্তাহেই বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা। স্থায়ী-অস্থায়ী ১৫ সদস্যের দূতসহ ৪০ সদস্যের প্রতিনিধিদল কক্সবাজার ঘুরেছেন। তারা ক্যাম্প এবং নো-ম্যান্সল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মুখে তাদের ওপর বয়ে যাওয়া বর্মী বর্বরতার ঘটনাগুলো শুনেছেন। নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিদলের নজিরবিহীন এ সফরকে ঢাকাইয়া কূটনীতির বড় অর্জন হিসেবে দেখা হলেও পূঞ্জীভূত রোহিঙ্গা সংকটের চটজলদি বা দ্রুত কোনো সমাধান যে আসছে না সেটি খোদ নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধিরাই স্পষ্ট করে গেছেন। তাদের মতে, এ সংকটের ‘ম্যাজিক সলিউশন’ বা জাদুকরী কোনো সমাধান নেই। বহুপক্ষীয় উদ্যোগের চেয়ে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নেই জোর দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বাংলাদেশ অবশ্য দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও জোরালো পদক্ষেপ চেয়েছে। তাতে পশ্চিমা দুনিয়া তো আছেই- চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের আরো ভূমিকা প্রত্যাশা করে ঢাকা।

পাবলিক পরীক্ষায় এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেয়ার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

আগামী পাবলিক পরীক্ষা থেকে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন (এমসিকিউ) তুলে দেয়ার ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে এটি নিয়ে আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি  মিললেই এ পদ্ধতি বাতিল করার পক্ষে মত আসবে। তবে পুরোপুরি বাতিল হবে নাকি আংশিক সেটি অবশ্যই পরিষ্কার করে বলেননি শিক্ষামন্ত্রী। গতকাল সচিবালয় চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা জানান। বৈঠকে পুলিশ, র‌্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, এমসিকিউ এখন যে পর্যায়ে আছে এটিকে স্ট্যান্ডার্ড বলাও যাবে না। তাই পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধ করতে পাবলিক পরীক্ষাগুলোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার আলোকে চলতি বছর শুরু হতে যাওয়া জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আরও সভা করা হবে। সেখানে অনেকের মতামত নিয়ে কী কী পরিবর্তন আনা যায়, সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অনুষ্ঠানে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতামতগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার কথা জানান সচিব। তিনি বলেন, আশা করি বের করে নিয়ে আসবো। তবে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা যেন আগের থেকে নেয়ার কথা জানান কর্মকর্তারা। তাহলে তা বাস্তবায়নে সুযোগ পাওয়া যায়। চলতি বছর নির্বাচনী বছর হওয়ায় হুট-হাট কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার পক্ষে মত দেন। তাহলে কোনো একটি ভুল সিদ্ধান্তকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। সচিব বলেন,
এখন থেকে যা হবে, তা সময় নিয়েই হবে। আপনাদের আগেই থেকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, যারা প্রশ্নফাঁস করতে চাই, তারা এখনও সুযোগের অপেক্ষায় আছে একটু যদি গ্যাপ পাই তাহলে আবার তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে। এজন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সবাইকে এ বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে।
বৈঠক থেকে বের হয়ে সচিব সাংবাদিকদের এমসিকিউয়ের ব্যাপারে আরও করে পরিষ্করা বলেন, আসন্ন জেএসসি ও জেডিসিতে এমসিকিউ না রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনে আমরা এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে অন্যান্য পরীক্ষায়ও বড় ধরনের পরিবর্ত আনা হবে। এবার জেএসসি ও জেডিসিতে নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্ন তুলে দিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন দেয়া হবে। প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে- জানান সচিব। তার আগে গত ৩রা এপ্রিল প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এ বছর থেকেই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও এমসিকিউ থাকছে না বলে জানিয়েছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। গতকালের সভায় পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নকাঠামোতে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগের সব প্রশ্নফাঁস হওয়ার ঘটনা যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, শুধু নৈর্ব্যত্তিক (এমসিকিউ) পরীক্ষার আগে কিছু মানুষের হাতে তা চলে গেছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আমরা এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আগামী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় বড় ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, আগামী জেডিসি-জেএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউতে নম্বর কমানো হতে পারে বা এক কথায় উত্তর যুক্ত করা হতে পারে, অথবা সৃজনশীল আকারে প্রশ্ন দেয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। অতি শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, পুলিশ, র‌্যাব, এনএসআই, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকতা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা প্রমুখ।

মাহাথির মোহাম্মদের বিরুদ্ধে তদন্ত

মালয়েশিয়ায় জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর বিরোধী-আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে তদন্ত চালু করেছে সরকারি কর্মকর্তারা। মাহাথির গত মাসে অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি কুয়ালালামপুর থেকে ল্যাংকাওয়ি দ্বীপ ভ্রমণ করার জন্য নির্ধারিত বিমানটিতে নাশকতা সংঘটনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মাহাথিরের অভিযোগটি খতিয়ে দেখবে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
পাইলটকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, উড্ডয়নের আগে বিমানটির চাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। স্থানীয় পুলিশ প্রধান মাজলান লাজিম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, মাহাথিরের করা মন্তব্য নিয়ে তাদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মাহাথিরের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চালু করেছি। মাহাথিরের এক মুখপাত্রের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
ভুয়া খবর-বিরোধী আইন
মাহাথিরের বিরুদ্ধে এই তদন্তের পেছনে রয়েছে গত মাসে পাস হওয়া ভুয়া খবর-বিরোধী একটি আইন। প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ক্ষমতাসীন সরকার গত মাসে ভুয়া খবর ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এর জন্য শাস্তি প্রদানের আইন করেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ৯ই মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে বাক-স্বাধীনতা রোধ করা। এই আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১২৭ ডলার সমপরিমাণ জরিমানা করা হতে পারে এবং  সর্বোচ্চ কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।  মাহাথির ১৯৮১-২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২৭শে এপ্রিল, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে কুয়ালালামপুর থেকে ল্যাংকাওয়ি দ্বীপে ভ্রমণ করার কথা ছিল তার। কিন্তু উড্ডয়নের আগেই বিমানের পাইলট বিমানের চাকা ক্ষতিগ্রস্ত আবিষ্কার করেন। যার দরুন, তার ল্যাংকাওয়ি দ্বীপ ভ্রমণ বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এই ঘটনা তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বর্তমান সরকার। তবে তদন্তকারীরা বিমানটিতে নাশকতার চেষ্টা করার কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি। তাদের তদন্ত অনুসারে, বিমানটি উড্ডয়ন করতে না পারার কারণ ছিল, এর এক চাকায় কিছু ত্রুটি থাকার কারণে।  সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান আজহারুদ্দিন রহমান চাকার ওই ক্ষতিটিকে একটি ‘নিয়মিত কারিগরি ত্রুটি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কোনো বিমানের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। এটা মালয়েশিয়ার বিমান ব্যবস্থার, এমনকি পুরো দেশের সুনামের ক্ষতি করতে পারে।

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে

জঙ্গি বাদকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা হলেও জঙ্গিদমনে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ  হয়েছে। তিনি হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা পরবর্তী ১০ ঘণ্টার মধ্যেই জিম্মি নাটকের অবসান এবং পরবর্তীতে এই হামলায় জড়িতদের এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী হামলার পূর্ব-প্রস্তুতিকালে জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি জঙ্গিদমনে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তাঁর প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি প্রত্যেকের পুত্র বা পোষ্য কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, কি করে, তা লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকছে কিনা তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে সংশ্লিষ্ট অভিভাবক এবং শিক্ষকদের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানান। গতকাল কুর্মিটোলা সদর দপ্তরে র‌্যাব’র ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌?যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চরমপন্থি দমন এবং ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাসহ সকল ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র‌্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। র‌্যাব দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সকলের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মের মূলধারা কোরআন ও হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা থেকে বিচ্যুতির কারণে উগ্র জঙ্গিবাদের উদ্ভব হয়েছে। এই জঙ্গিবাদীরা সামপ্রদায়িকতা, সহিংসতা, অরাজকতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তাহীন করে তোলার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু র‌্যাব জঙ্গি দমনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে, যা সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তার সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির পুনরুল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ হবে একটি শান্তির দেশ এবং আমরা কখনই জঙ্গিবাদকে কোনো প্রশ্রয় দেবো না। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম কিন্তু আমরা দেখেছি এই ধর্মের নাম করে কিছু মানুষকে বিভ্রান্তির পথে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। এমনকি আমাদের ভালো ঘরের উচ্চশিক্ষিত কোমলমতি ছেলেরাও এই বিভ্রান্তির বেড়াজালে পড়ে যায়। তিনি বলেন, মানুষ মারলে বেহশ্‌তে যাওয়া যাবে এই বিভ্রান্তিতে পড়ে তারা দেশে যে অস্থিতিশীলতা এবং অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল তার বিরুদ্ধে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনী, বর্ডার গার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে যেন বাংলাদেশকে কেউ সন্ত্রাসী এবং জঙ্গির দেশ বলে অপবাদ দিতে না পারে, বাংলাদেশের মানুষ যেন শান্তিতে জীবন-যাপন করতে পারে এবং যাতে আমরা আমাদের দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পারি। সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে র‌্যাব’র ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ২১৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে, যারা বর্তমানে পুনর্বাসিত হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র‌্যাব’র মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে জনমনে আশঙ্কা আছে

খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বৃহস্পতিবার খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এ আশঙ্কার কথা জানান। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। প্রার্থীদের হলফনামায় দেয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখার দাবি জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হলফনামায় তথ্য গোপন করা ফৌজদারি অপরাধ। এ অপরাধে ইসি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারেন। তারা আশা করেন, ইসি এ অস্ত্র ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপ-নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমরা নির্বাচন কমিশনের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। অথচ আমাদের সাংবিধানিক আকাঙক্ষা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার পরিচালিত হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বারা। স্থানীয় নির্বাচনে প্রচারণায় এমপিদের সুযোগ দিতে ইসির উদ্যোগের সমালোচনা করেন সুজন সম্পাদক। তিনি বলেন, প্রবল প্রতিবাদের মুখে একই উদ্যোগ থেকে রকিবউদ্দিন কমিশন সরে আসে। এমপিরা পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা প্রবল ক্ষমতার অধিকারী।
এ ধরনের উদ্যোগ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের পরিপন্থি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের অধিকাংশই স্বল্প-শিক্ষিত, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের অধিকাংশই আয়কর দেন না। এর বিপরীতে আমরা যদি নির্বাচনে বেশি পরিমাণে সমাজসেবী, পেশাজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী প্রার্থী পেতাম তাহলে প্রার্থীদের মানের উন্নতি ঘটতো এবং আমরা তুলনামূলক ভালো কাউন্সিলর পেতাম। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা দরকার। কমিশন যদি নির্বাচনের আগে তা করতে না পারে তাহলে শপথ গ্রহণের আগে অন্তত বিজয়ী মেয়র ও কয়েকজন কাউন্সিলরের তথ্য যাচাই করতে পারে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে যদি কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে কেউ ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দিবে না। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শুধু প্রার্থীদের জনপ্রিয়তাই যাচাই হবে না, একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জনপ্রিয়তা ও কর্মদক্ষতার প্রকাশ ঘটবে।
তাছাড়া জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়ায় এ নির্বাচন দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, নির্বাচন দুটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে সুজন জানায়, গাজীপুরে প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। তবে মেয়র প্রার্থীরা সবাই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। গাজীপুরে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী মিলিয়ে ৩৪৫ জনের মধ্যে ২১৯ জনের পেশা ব্যবসা। খুলনায় ১৯২ প্রার্থীর মধ্যে ১২৬ জনের পেশা ব্যবসা।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মতো রাজনৈতিক দলের অভাব নেই

বিএনপি না এলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মতো রাজনৈতিক দলের অভাব নেই। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল অবশ্যই স্বীকার করি। নির্বাচনে না এলে জোর করে  আনবো? নির্বাচন তাদের অধিকার। এটা সরকারের দয়ার দান নয়। তাদের ডেকে আনতে হবে কেন? বেগম জিয়া জেলে থাকাকালীন নির্বাচনে না এলে সেটা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। এ সময় এক প্রশ্নে তিনি জানান, নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। গতবার যাদের প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেখানে শুধু সরকারে অংশগ্রহণ নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ও বিএনপিকে অফার করা হয়েছিল প্রকাশ্যে। এখানে গোপনীয়তার কিছু ছিল না। সেটা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে। পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দল নয়- এমন কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো চিন্তা-ভাবনা সরকারের নেই। সংবিধানে এমন কোনো সুযোগ আছে বলেও আমার জানা নেই। বিএনপি’র একটি অংশকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনও প্রচেষ্টা আছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো প্রচেষ্টা নেই। তাদের নিজেদের মধ্যে সমস্যা আছে কিনা তা আগামী দিনে পরিষ্কার হবে। নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপি’র কোনও নেতার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হওয়ার কোনও সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের নেতা ছাড়া অন্য কাউকে সরকারের মন্ত্রী হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে না আওয়ামী লীগ। তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা আইনগত বিষয়। বিদেশে পলাতক থাকাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের একটা তাগিদ থাকে। বিএনপি কি চায় তারেক রহমান দেশে ফিরে আসুক? বিএনপির সব নেতা কি চান? তাদের গডফাদাররা একরকম, সিনিয়র নেতারা আরেক রকম। বিএনপি নেতারা একে-অপরকে সরকারের এজেন্ট বলেন। নিজেরাই ঠিক নেই। তারেক রহমানের প্রশ্নে তাদের মধ্যে সমস্যা আছে, সেটা সবাই জানে। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। দৃশ্যত তারা তার (খালেদা জিয়া) মুক্তির দাবিতে আন্দোলনও করতে পারছে না। তাদের চেষ্টার কোনও ত্রুটি নেই, তবে বিএনপি’র আন্দোলনে জনগণ সাড়া দিচ্ছে না। ৯ বছরে ৯ মিনিট তারা রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি। জনগণ সাড়া দিলে আন্দোলন হতো। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঠিক না করে তফসিল ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়’ বিএনপি’র এই অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনী কার্যক্রম, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের মতো বিষয় নির্বাচন কমিশনের আওতায় পড়ে না। বিএনপি’র নির্বাচন প্রতিহত করার হুমকির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে সারাদেশে তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে, মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে, ট্রেনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলেছে, হাজার হাজার গাছ কেটেছে, পাঁচ শতাধিক স্কুল পুড়িয়েছে, তাতে কি গণতন্ত্র রক্ষা করা হয়েছে, নাকি নির্বাচন ঠেকানো গেছে? নির্বাচন হয়ে গেছে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে গেলে বাংলাদেশের মানুষ সাড়া দেবে না। মানুষ বুঝবে বিএনপি সন্ত্রাসী পথ এখনও ছাড়েনি। যে কারণে কানাডার আদালত সন্ত্রাসী দল হিসেবে তাদের আখ্যা দিয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন সত্যি কথা স্পষ্ট করে বলেন তখন বিএনপি’র কেন গাত্রদাহ শুরু হয় জানি। বিএনপি দুর্নীতিবাজ ও দণ্ড পাওয়াদের নেতা বানাতে তারা তাদের গঠনতন্ত্র থেকে রাতের আঁধারে ৭ ধারা তুলে নিয়েছে। খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের ১০ দিন আগে গঠনতন্ত্র থেকে ৭ নম্বর ধারা বাদ দিয়ে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল হিসেবে নিজেরাই নিজেদের প্রকাশ করেছে। তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, সেই সত্যের মুখোমুখি হতে তাদের হবে। কারণ, তারাই সেই ভয় ও ভীতির কারণ সৃষ্টি করেছেন। নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে পড়েছেন। দুর্নীতিবাজ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছেন। ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশের বিষয়ে আগামী সম্মেলনে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন এরপর আমি কিছু বলতে চাই না।

নরসিংদীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান নিহত

রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার আলীনগর আড়াকান্দা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ৬ বারের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চেয়ারম্যান সিরাজুল হক দুপুরে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে বাঁশগাড়ি নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। চেয়ারম্যানের বহনকারী মোটরসাইকেলটি রায়পুরা-বাঁশগাড়ি সড়কের আলীনগর আড়াকান্দা নামক স্থানে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা গতিরোধ করে। ওই সময় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল চালককে মারধর করে সরিয়ে দেয়। এবং চেয়ারম্যানকে গুলি করে সড়কের পার্শ্ববর্তী জলাবদ্ধ জমিতে ফেলে দেয়। ওই সময় সড়কে চলাচলরত লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম খান জানান, চেয়ারম্যান সিরাজুল হক ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো কালে পথি মধ্যে তিনি মারা যান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের আধিপত্য নিয়ে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনার জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। পুলিশ সরজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এ খবর পেয়ে রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা-বেলাব সার্কেল) বেলাল আহমেদ, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ হাসপাতালে চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে দেখতে যান।