Tuesday, October 22, 2019

বিশ ডলার নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ কীসের? by শুভজ্যোতি ঘোষ

কর্তারপুরে চলছে শেষ মুহুর্তের তোড়জোড়
পাকিস্তানের ভেতরে অবস্থিত শিখ ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান দর্শনের জন্য ইসলামাবাদ মাথাপিছু কুড়ি মার্কিন ডলার সার্ভিস চার্জ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ভারত তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
ভারত সরকারের বক্তব্য, এই চার্জ গরিব তীর্থযাত্রীদের প্রতি একটা অন্যায় এবং এখানে পাকিস্তান কোনও 'নমনীয়তা' দেখাতে রাজি হচ্ছে না।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গতকালই এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই ফি-কে প্রকারান্তরে সমর্থন করেছেন।
তিনি বলেছেন, এতে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং সে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ও বাড়বে।
কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কাউর পাল্টা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান এর মাধ্যমে গরিব মানুষের 'ধর্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা ফাঁদতে' চাইছে।
"এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না" বলেও মিস বাদল মন্তব্য করেন।
কিন্তু বিশ ডলারের এই সার্ভিস চার্জ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধটা ঠিক কীসের?
শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের শেষ জীবন কেটেছিল পাঞ্জাবের কর্তারপুরে, যা দেশভাগের পর এখন পড়েছে পাকিস্তানের নারোয়াল জেলাতে।
সেই কর্তারপুরের দরবারা সাহিব গুরদোয়ারাতে যাতে ভারত থেকে শিখ তীর্থযাত্রীরা সহজে যেতে পারেন, সেই লক্ষ্যে দুই দেশ মিলে সীমান্ত পেরিয়ে একটি যাত্রাপথ স্থাপন করছে।
ভারতের গুরুদাসপুরে ডেরা বাবা নানক থেকে পাকিস্তানের কর্তারপুরে দরবারা সাহিব পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথের নামকরণ করা হয়েছে 'কর্তারপুর করিডর'।
গত বছর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঠিক পর পরই ইমরান খান এই করিডর খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
তখনই তিনি জানান, "ভারত-সহ সারা দুনিয়া থেকে আসা শিখদের জন্য এই তীর্থস্থান উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং সেখানে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।"
কিন্তু এখন বিতর্ক শুরু হয়েছে পাকিস্তান প্রত্যেক তীর্থযাত্রীপিছু কুড়ি ডলার চার্জ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়।
সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকরা এক অন্যের দেশে গেলে সাধারণত কোনও ভিসা ফি নেওয়া হয় না।
কিন্তু এখানে পাকিস্তান ভারতীয় নাগরিকদের এই ফি থেকে রেহাই দিতে রাজি হচ্ছে না।
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অকালি দলের নেত্রী হরসিমরত কাউর বাদল এদিন বলেছেন, "কুড়ি ডলার মানে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় দেড় হাজার রুপি!"
"তার মানে একজন গরিব মানুষ তার স্ত্রী বা বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে তীর্থ দর্শন করাতে গেলেও ছ'হাজার রুপি মতো বাড়তি খরচ!"
"এতো টাকা তারা কোথায় পাবেন? আর এই টাকা দিয়ে অর্থনীতির উন্নয়ন?"
"পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তো আমাদের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে ধান্দা করতে চাইছেন", মন্তব্য করেছেন তিনি।
কর্তারপুর করিডর নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এসসিএল দাস।
তিনিও বিবিসিকে বলেছেন, "এই ফি চার্জ করাটা তীর্থযাত্রার চেতনার পরিপন্থী এবং অত্যন্ত কুরুচিকর।"
তবে ইমরান খান নিজে তার ফেসবুক পোস্টে যুক্তি দিয়েছেন, ধর্মীয় পর্যটন তার দেশে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে - আর এর মাধ্যমে নানা খাতেই কর্মসংস্থানও সম্ভব।
বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরাও এসে এর আগে পাকিস্তানে বিভিন্ন বৌদ্ধ তীর্থস্থানে ঘুরে গেছেন, নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
তার মাধ্যমে যে সে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন।
কর্তারপুর আলোচনায় পাকিস্তানের দিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড: মহম্মদ ফয়সল।
তিনি মাসতিনেক আগেই শায়েরি করে বলেছিলেন, "ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আবহাওয়া বদলাচ্ছে - তবে গাছের ডালে এখনও নতুন পাতা আসতে কিছুটা বাকি আছে।"
তিনি তখন আরও দাবি করেছিলেন, 'আশি শতাংশ বিষয় নিয়েই' দুপক্ষের মধ্যে নাকি সমঝোতা হয়ে গেছে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল তিন মাস পরেও গাছের ডালে নতুন পাতা আর এল না - অর্থাৎ বাকি মতবিরোধ দুই দেশ আজও মেটাতে পারল না।
এরই মধ্যে পাকিস্তান একতরফাভাবে ঘোষণা করে দিয়েছে, আগামী ৯ নভেম্বর এই করিডরের উদ্বোধন করা হবে - আর বিশ ডলারের চার্জও জারি হবে।

ভারতে গিয়ে কষ্টে সাবেক ছিটমহলবাসী by অমর সাহা

বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা সাবেক ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দারা সুখে নেই। তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কলকাতার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে।

সাবেক ছিটমহল–বাসিন্দারা কেমন আছেন, তার খোঁজ নিতে মাসুমের কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মীরা ছুটে গিয়েছিলেন বিভিন্ন ক্যাম্পে। তাঁরা কথা বলেন সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে। পরিদর্শন শেষে গতকাল রোববার মাসুমের উদ্যোগে কোচবিহারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় সাবেক ছিটমহলবাসীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এর চেয়ে তাঁরা বাংলাদেশেই ভালো ছিলেন। এখন তাঁদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ভারত ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা উভয় দেশের ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হয়। ভারতের ভূখণ্ডে বাংলাদেশের ৫১টি আর বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ভারতের ১১১টি ছিটমহল ছিল। এই ছিটমহল বিনিময়ের জন্য উভয় দেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। পরে দুই দেশের সরকার আইন বলে এই ছিটমহল বিনিময় করে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশের সঙ্গে।

ভারতে থাকা বাংলাদেশের ছিটমহলের ১৪ হাজার ২১৫ জন বাসিন্দা সেদিন বাংলাদেশে ফিরে না গেলেও বাংলাদেশ থেকে ৯২৭ জন ফিরে এসেছিলেন ভারতে। বাংলাদেশে তখন ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দা ছিল ৩৭ হাজার ৩৩৪ জন। ফিরে আসা ৯২৭ জন ভারতীয়কে ঠাঁই দেওয়া হয় কোচবিহার জেলার দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ির অস্থায়ী ক্যাম্পে।

মাসুমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি শনি ও রোববার পরিদর্শন করেন কোচবিহারের করলা-২, পশ্চিম বাকালির ছড়া ও ব্যাত্রীগাছি ছিটমহল। তাঁরা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ থেকে আসা ভারতীয় ছিটমহলবাসীদের ঠাঁই দেওয়া দিনহাটা আশ্রয়শিবিরও। প্রতিনিধিদলে ছিলেন মাসুমের সম্পাদক কিরীটি রায়, মানবাধিকার নেত্রী অপর্ণা সেন, বোলান গঙ্গোপাধ্যায়, মুদার পাথেরিয়া প্রমুখ।

সাবেক ছিটমহলবাসীরা প্রতিনিধিদলের কাছে বলেন, তাঁদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তাঁদের কাজ নেই, চাকরি নেই, পর্যাপ্ত রেশনের ব্যবস্থা নেই। পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা শোচনীয়। পানীয় জল ও চিকিৎসার অভাবে তাঁদের কষ্টে বাঁচতে হচ্ছে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাসুমের নেতারা অভিযোগের সুরে বলেন, সাবেক ছিটমহলবাসী সুখে নেই। তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁদের কাজ নেই। পর্যাপ্ত রেশন নেই। বিদ্যুৎ নেই। চিকিৎসা নেই। শৌচাগার ও পয়ঃপ্রণালির অভাব। সব মিলিয়ে তাঁদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিনা চিকিৎসায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মাসুমের নেতারা জানান, সম্প্রতি মারা গেছেন পূর্তি বর্মণ নামে ২০ বছরের এক নারী। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

মাসুমের নেতারা আরও জানান, দাসিয়াছড়া ছিটমহলের রশিদুল ইসলাম কাজ না পেয়ে কাজের জন্য দিল্লিতে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লিতে গিয়ে ধরা পড়েন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে।

সাবেক ছিটমহলবাসীর অভিযোগ, তাঁরা যে আশা নিয়ে ভারতে নিজ দেশে ফিরে এসেছিলেন, তাঁদের সেই আশা পূর্ণ হয়নি। তাঁরা চাইছেন তাঁদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন। কাজ দিক, বেকারত্ব জীবনের অবসান ঘটাক। তাঁদের দেওয়া জমির অধিকার নিশ্চিত করুক প্রশাসন।
সাবেক ছিটমহলবাসীদের সঙ্গে আলোচনায় অপর্ণা সেন। ছবি: মাসুম থেকে পাওয়া

একসঙ্গে এত্ত কফিন, মমি!

এক শতাব্দীর মধ্যে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি কাঠের কফিন উদ্ধার করেছে মিশর। একই স্থানে মাটির মাত্র তিন ফুট গভীরে পাওয়া যায় এমন ৩০টি কফিন। তার ভিতর অক্ষত অবস্থায় আছে নারী, পুরুষ ও শিশুদের মমি। কয়েকদিন আগে এগুলো উদ্ধার করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হয় শনিবার। দেশটির লুক্সোর শহরের দক্ষিণ থেকে আবিষ্কার করা হয়েছে এসব কফিন। তা এখনও অক্ষত অবস্থায় আছে। এমন কি এর গায়ে যে অলঙ্করণ রয়েছে, যে নকশা আঁকা রয়েছে, তা বিন্দুমাত্র বিলীন হয় নি। এক শতাব্দীর মধ্যে একসঙ্গে এত কফিন বা মমি উদ্ধারের ঘটনা এটাই প্রথম।
মিশরের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রণালয় শনিবার একটি বিবৃতিতে বলেছে, লুক্সোরের পশ্চিম তীরে আল আসাসিফ সমাধিক্ষেত্রে একসঙ্গে পাওয়া গেছে এসব কফিন। ওই এলাকাটি ঐতিহাসিক নিল নদের পশ্চিম তীরে।

একসঙ্গে এত কফিন ও মমি পাওয়ার এমন ঘটনা বিরল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব কফিন দুটি সারিতে সাজানো ছিল। যেহেতু একই স্থানে পাশাপাশি রাখা ছিল এগুলো তাই ধারণা করা হচ্ছে এটা কোনো উচ্চ পর্যায়ের ধর্মগুরুর পরিবারের সদস্যদের কফিন বা মমি হতে পারে। মিশরের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান মোস্তফা আল ওয়াজিরি বলেছেন, মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিদ, রক্ষণশীল ও কর্মীদের সমন্বয়ে উৎসর্গিত ব্যক্তিদের একান্ত প্রচেষ্টায় আসাসিফ এলাকায় প্রথম এমন উদঘাটন হলো। এসব কফিনের গায়ে যে তারিখের উল্লেখ আছে তাতে তা ২২তম ডাইনেস্টির। এই ডাইনেস্টির সূচনা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ১০ম শতাব্দীতে। বহু বছরের পুরনো হলেও এখনও এসব কফিনে সাপ, পাখি, পদ্মফুল, হায়ারোগ্লিফিকসের কালো, সবুজ, লাল ও হলুদ রঙের ছবি একেবারে চকচক করছে।

মুক্তাটি ৮ হাজার বছর আগের

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির একটি দ্বীপে বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো প্রাকৃতিক মুক্তার সন্ধান মিলেছে। আমিরাতের মারওয়া দ্বীপে খননের সময় আট হাজার বছরের পুরোনো এই মুক্তার সন্ধান পান দেশটির একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরোনো মুক্তার সন্ধান এটি প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলে প্রাগৈতিহাসিক ‘নিওলিথিক’ সময়েও মুক্তার বাণিজ্য চালু ছিল।

বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো এই মুক্তা চলতি মাসের শেষের দিকে আবুধাবির লুভর জাদুঘরে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

আবুধাবির সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ খলিফা আল মুবারক বলেন, ‘এই মুক্তার সন্ধান এটা সাক্ষ্য দিচ্ছে, আমাদের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ইতিহাসের শুরুটা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে আসছে।’

‘রেডিও কার্বন’ প্রযুক্তি মাধ্যমে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এই মুক্তার বয়স নির্ধারণ করেছেন। ওই প্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তটি খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮০০ থেকে ৫৬০০ সালের দিকের বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা। আমিরাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়ে এই অঞ্চলে মুক্তার গয়না ব্যবহার করা হতো। এ ছাড়া মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) সঙ্গে সিরামিক ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মুক্তার ব্যবহার প্রচলিত ছিল।

মারওয়া দ্বীপে ভেঙে পড়া অসংখ্য পাথরের কাঠামোর জায়গায় খনন কাজ চলছিল। পুরোনো ওই মুক্তার পাশাপাশি এই অঞ্চলে সিরামিক পণ্য, ঝিনুকের খোলস ও পাথরের তৈরি মালা এবং চকমকি পাথরের তৈরি তিরের ফলা পাওয়া গেছে।
‘রেডিও কার্বন’ প্রযুক্তি মাধ্যমে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এই মুক্তার বয়স নির্ধারণ করেছেন। ছবি: এএফপি

চতুর্থ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইরান

ইউরোপীয় দেশগুলো পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে না পারার কারণে ইরান চতুর্থ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে খবর দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি।
তিনি সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। মুসাভি বলেন, এখনো যে কয়েক দিন সময় আছে তার মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারলে ইরান চতুর্থ দফা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন স্থগিত রাখবে।
আমেরিকা ২০১৮ সালের ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।  সে সময় ওই সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ ও ইইউ ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা দেয়, তারা আমেরিকাকে ছাড়াই এ সমঝোতায় ইরানকে যেসব আর্থিক সুবিধা দেয়ার কথা ছিল তা বাস্তবায়ন করবে।
কিন্তু এক বছরেও ইইউ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৮ মে ইরান আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে পরমাণু সমঝোতার কিছু ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখে। একইসঙ্গে তেহরান ইইউকে ৬০ দিনের সময় বেধে দিয়ে জানায়, এ সময়ের মধ্যে সমঝোতা বাস্তবায়নে অপারগ হলে ইরান দ্বিতীয় দফায় আরো কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসবে। গত ৬ জুলাই ইরান সে হুমকি বাস্তবায়ন করে এবং তার ধারাবাহিকতায় গত ৬ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখে।
ইরানের দেয়া চতুর্থ দফা ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হবে আগামী ৫ নভেম্বর। তার আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি শেষবারের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্কবার্তা দিলেন।
ইরানের পরমাণু স্থাপনায় কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা (ফাইল ছবি)

‘সেন্ট্রিফিউজের নকশা ও অবকাঠামো নির্মাণে ইরান এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ’

আরাক পরমাণু স্থাপনা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা বা এইওআই'র, প্রধান আলী আকবর সালেহির সহকারি আলী আজগর জারিয়ান বলেছেন, তার দেশ সম্পূর্ণভাবে দেশীয় কায়দায় পরমাণু প্রকল্পের কাজ চালাচ্ছে এবং সেন্ট্রিফিউজ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতির নকশা প্রণয়ন ও উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু শিল্পের শতকরা ১০০ ভাগই দেশীয়ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আজকের দিনে আমরা বিভিন্ন রকমের সেন্ট্রিফিউজ তৈরি এবং নকশা প্রণয়নের ব্যাপারে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি।

গত রোববার ইরানের কেরমান শহরে পরমাণু শিল্পখাতে দেশের অর্জন বিষয়ক এক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আলী আজগর জারিয়ান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আরাক হেভি ওয়াটার চুল্লির মাধ্যমিক সার্কিট আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মূলধারায় চলে আসবে এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে আরাক পরমাণু স্থাপনা পুরোপুরি উৎপাদনে চলে আসতে পারবে।

আলী আজগর জারিয়ান বলেন, “এক সময় কোনো দেশ আমাদেরকে একটি সেন্ট্রিফিউজ দিতে চায় নি কিন্তু আমরা এখন আমাদের নাতাঞ্জ ওপর ফোরদো পরমাণু স্থাপনায় হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করছি।”
ইরানের পরমাণু স্থাপনায় কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা (ফাইল ছবি)

ক্রিকেটে ধর্মঘট: এখনো 'কোন পক্ষেই নেই' মাশরাফী by রায়হান মাসুদ

এখনই কোনো মন্তব্য নয় -মাশরাফী
"যখন ক্রিকেট নিয়ে কথা বলবো তখন ক্রিকেটের কথা, এখন নয়। এখন এই বিষয়ে কোনো কথা বলবো না।"
ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডামাডোলের মাঝে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা বিবিসি বাংলাকে এ কথা জানান।
তিনি আরো বলেন, "বিশ্বকাপের পরে আর ক্রিকেট নিয়ে কথা বলছিনা আমি, আবার যখন ফিরবো তখন কথা হবে।"
বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ১১ দফা দাবি দাওয়া নিয়ে আসেন মিরপুরের শের এ বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
বিকেলে মিরপুরে শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন একাডেমি মাঠে এক সংবাদ সম্মেলন করে তারা এগারো দফা দাবি তুলে ধরেন।
ক্রিকেটাররা বলছেন, তাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তারা সব ধরণের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ও অনুশীলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।
এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমসহ অন্তত ত্রিশ জন ক্রিকেটার । এদের অধিকাংশই জাতীয় দলের খেলোয়াড়।
বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে যাওয়ার কথা খুব একটা শোনা যায় না।
এর আগে ১৯৯৯ সালে একবার ধর্মঘটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
এমন এক সময়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, যখন আগামী মাসেই একটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ খেলবার জন্য ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে জাতীয় দলের।
সংবাদ সম্মেলনে এক একজন ক্রিকেটার এক একটি দাবির কথা তুলে ধরেন এবং তাদের বক্তব্য জানান।

দাবিগুলো কী কী?

১. ক্রিকেটারদের হাতে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা কোয়াব-এর নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকার দেয়া।
২. ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে সুনির্দিষ্ট পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়া।
৩. এবারের আসরের পর থেকে পূর্বের নিয়মে বিপিএল আয়োজন এবং দেশীয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি।
৪. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ১ লাখে উন্নীত করা এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ৫০% বৃদ্ধি । ১২ মাস কোচ, ট্রেনিং এর নিশ্চয়তা।
৫. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মানসম্মত বল ব্যবহার, দৈনিক ভাতা বাড়ানো, ক্রিকেটারদের যাতায়াতের প্লেন ভাড়া, হোটেলে জিম ও সুইমিংপুল এবং ক্রিকেটারদের বাস উন্নয়ন করার দাবি।
৬. কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা এবং একইসাথে চুক্তির আওতায় বেতন বৃদ্ধি করা।
৭. মাঠকর্মী, স্থানীয় কোচ, আম্পায়ার, ফিজিও ও ট্রেইনারদের সম্মানী বৃদ্ধি করা।
৮. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মতই ৫০ ওভার ও ২০ ওভারের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন।
৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি।
১০. প্রিমিয়ার লীগের বকেয়া টাকা সময়মত পরিশোধ করা।
১১. যেকোন ২টি বিদেশী ফ্র‍্যাঞ্চাইজি লীগ খেলার বিধিনিষেধ শিথিল করা।

প্রেস কর্মচারী থেকে ক্যাসিনো মালিক by মরিয়ম চম্পা

হাসান উদ্দিন জামাল মতিঝিলের স্থানীয় একটি প্রেসে সামান্য বেতনে কাজ করতেন। প্রেসের এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় পরবর্তীতে দেয়ালে নেতাদের পোস্টার সাঁটানোর কাজ পান। এর পরেই খুলে যায় জামালের কপাল। নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নিজের ভাগ্য বদলাতে থাকেন তিনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এর ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ এর ডান হাত বলে পরিচিত তিনি। মাথার উপর আর্শিবাদ ছিল গ্রেপ্তার হওয়া ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের। তার বদৌলতে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদটিও বাগিয়ে নেন জামাল। ওয়ার্ড নেতা হয়েই তিনি অবৈধভাবে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন।
ক্যাসিনো কাণ্ডে কাউন্সিলর সাঈদ এলাকাছাড়া হলে তার সম্রাজ্য দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন জামাল। তিনি এখন এ ওয়ার্ডে সভাপতি হওয়ার দৌঁড়ে আছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে থাকা যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ও কাউন্সিলর সাঈদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয় তার। হাসান উদ্দিন জামালের গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার পক্ষিয়া ইউনিয়নে। তার বাবার নাম হাবিবুল্লাহ।
তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। তিন ছেলে ও স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোলায় থাকেন। সেখানে প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ করে বিলাশবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন। রয়েছে ভোলা শহরে আলিশান বাড়ি। সূত্র জানায়, নানা অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত জামাল অবৈধ উপায়ে অর্থ কামিয়েছেন। আরামবাগ ক্লাবে কাউন্সিলর সাঈদ যে ক্যাসিনো চালাতেন তার দেখভালের দায়িত্ব ছিল জামালের ওপর। মূলত জামালই সেখান থেকে টাকা সংগ্রহ করে সাঈদকে দিতেন। নিজে একটি বড় অংশ পেতেন। অনেকে জামালকেই এই ক্যাসিনোর মালিক বলে জানতেন। জামালের আরেকজন অন্যতম সহযোগী হচ্ছেন, মতিঝিল থানা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক আবুল কাশেম মন্টু। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার কাজটি জামালের হয়ে করেন মন্টু। ভবন নির্মান থেকে শুরু করে যাবতীয় নির্মাণ কাজের জন্য তাদেরকে চাঁদা দিতে হয়। তাদের নির্যাতনের ভয়ে স্থানীয় লোকজন মুখ খুলতে ভয় পান। ফকিরাপুল ক্লাবের পাশে আজাদ বয়েস ক্লাব। সেখান থেকে প্রতি মাসে জোর পূর্বক লাখ টাকা চাঁদা তোলেন। টাকা দিতে না চাইলে মারধর করেন। ঢাকার শনির আখড়া ও রায়েরবাগে রয়েছে জামালের নিজস্ব বাড়ি ও ফ্ল্যাট। সোনারগাঁয়ে তার নিজস্ব জমি আছে। ভোলায় তার কয়েক কোটি টাকার ইলিশের ব্যবসা আছে। ৪০ থেকে ৫০টি ট্রলারের মালিক তিনি। ৮ থেকে ৯ টি ড্রেজার মেশিন রয়েছে তার। রয়েছে নামে বেনামে অনেক টাকা ও সম্পদ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জামাল এবং মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের নেতা মাহমুদুল হাসান কাউন্সিলর সাঈদের অবর্তমানে তার কাজ করছেন। মাহমুদুল হাসান কাউন্সিলর সাঈদের ভাগিনা। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার আগে সাঈদের বাসা থেকে ক্যাসিনোর যাবতীয় সরঞ্জামাদি সরিয়ে ফেলেন জামাল ও হাসান। কাউন্সিলর সাঈদের বাসার চাবি থেকে শুরু করে কাউন্সিলর কার্যালয়ের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন জামাল। এখনো তিনি আরামবাগ হাজির বিল্ডিং, মতিঝিল মার্কেটসহ একাধীক স্থানের ভাড়া তোলেন। ভুক্তভোগী যুবলীগের একজন নেতা বলেন, প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকির মধ্যে আছি। একেক সময় একেক নাম্বার দিয়ে ফোন করে হুমকি দেয়। কখনো বলা হয় দুই দিন কখনো তিন দিন কখনোবা সাত দিনের মধ্যে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী আরেক নেতা বলেন, জামালের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনো প্রতিবাদ করলে সে আমাকে হুমকি দিত। বলতেন, ‘আপনি এলাকায় আমাকে সময় দেন না! রাজনীতিতে সময় দেন না।
বিষয়টি ভালো হচ্ছে না। আমার বিষয়ে কোথাও মুখ খুললে ভালো হবে না। চুপচাপ থাকেন। দলের আরেক নেতা ও মতিঝিলের বাসিন্দা বলেন, আমার পুরোনো ব্যবসা আছে। মিছিল মিটিং এ যেতে না চাইলে বাধ্য করে। দলীয় কিছু ছেলেদের দিয়ে লাঞ্চিত করে। তিনি বলেন, আমরা দুর্দীনের কর্মী। কিন্তু কোনো মূল্যায়ন আমরা পাইনা। সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। জামালকে ক্যাসিনোর মালিক বানানো হয়েছে। বাফুফের পিছনে ভ্যানগাড়ির স্ট্যান্ড, পুরো ৯ নং ওয়ার্ডের সিকিউরিটি নিয়ন্ত্রণের নামে বড় একটি অংকের টাকা যেত জামালের পকেটে। জামাল ওয়ার্ড যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে নৌ বিহারে যান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। নৌবিহারেই সম্রাট জামালকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ঘোষণা দেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। সম্রাটের সান্নিধ্যে আসার পর থেকেই মুলত জামাল চাঁদাবাজিতে নামেন। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করতে জামালকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত তিনটি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়।

ক্যাসিনোকাণ্ড: সরকারের একাধিক টিম সিঙ্গাপুরে by মিজানুর রহমান

ক্যাসিনো বাদশাহ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল অর্থকড়ির বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধানে সরকারের একাধিক ইউনিট এখন সিঙ্গাপুরে। দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তার সহযোগীরা কে কোথায় সেটি চিহ্নিত করাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। রিমান্ডে থাকা সম্রাট হুন্ডি-কারবারি এবং ক্যাসিনো পর্যন্ত ডলার পৌঁছে দেয়া তার সহযোগীদের ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছেন তার সত্যতাও খোঁজা হচ্ছে। মিলিয়ন ডলারে জুয়া খেলে যিনি সিঙ্গাপুর ক্যাসিনোর ভিআইপি জুয়াড়ি পাইজা চেয়ারম্যানশিপ পেয়েছেন তার জবানিতে কয়েক কোটি টাকা বিদেশি ব্যাংকে জমা থাকার বয়ানকে অস্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন সবাই। সরকারি-বেসরকারি এমনকি সাধারণ জুয়াড়িরাও এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটা অবিশ্বাস্য! দু’দিন আগে রিমান্ডে বিদেশের দুই ব্যাংকে ৮০ কোটি টাকা জমা থাকার কথা কবুল করেছেন সম্রাট।
এ ছাড়া জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় তার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বাড়ি থাকার কথা। কিন্তু ওই বাড়ি কার নামে, কোথায় এবং কার জিম্মায় রয়েছে সেটি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সিঙ্গাপুরে সম্রাটের নামে বাড়ি থাকার সম্ভাবনা জিরো। তবে স্ত্রী এবং এখানকার পিআর বা স্থায়ী নাগরিকত্ব অর্জনকারী তার সহযোগীদের নামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকা অমূলক নয়। তাছাড়া সম্রাট বিপাকে পড়ার আগে অনেকের প্রিয়ভাজন ছিলেন। তাদের সিঙ্গাপুরে থাকা অর্থকড়ি, সহায় সম্পত্তি নিরাপদ রাখতে তার হাত লেগেছিল। সব মিলে এখানে সম্রাট ছিলেন সম্রাটের মতোই। তার সাম্রাজ্য কতটা বিস্তৃত ছিল এখন সেটাই অনুসন্ধান করছে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উইং। সূত্র মতে, জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের দেশে-বিদেশে কত অর্থ রয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার চেষ্টা ছিল। কিন্তু পাওয়া যায়নি। নানা চমকপ্রদ কথা বলে সম্রাট বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছেন। দেশের ব্যাংকে অর্থ নেই এমন দাবিও তিনি করছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশ জার্মানির একটি ব্যাংকে ও সুইজারল্যান্ডের একটি কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে অর্থ জমা থাকার কথা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন তিনি। তা-ও ওই অর্থ জমা করার বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি।
অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি যে বিপুল অর্থ আয় করতেন তা কোথায় কীভাবে ডলারে কনভার্ট করেছেন সে বিষয়েও তার বয়ান নাকি অস্পষ্ট! স্থানীয়রা এটা নিশ্চিত করেছেন যে, সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোতে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ উড়িয়েই তিনি পাইজা কার্ড পেয়েছেন। তদবির করে এটি অর্জন সম্ভব নয়। প্রাচ্যে পশ্চিমা ফ্লেভার দেয়া আমেরিকান ক্যাসিনো সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে সেন্ডস’-এ সম্রাটের অন্যরকম কদর ছিল। এখানে তার বিলাসী জীবনের কিছু অংশ মানবজমিনসহ দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। একমাত্র বাংলাদেশি পাইজা চেয়ারম্যান ছিলেন, বাংলাদেশ যুবলীগের কর্মী প্রিয় তবে বিতর্কিত নেতা সম্রাট। প্রকাশিত রিপোর্ট মতে, সুইজারল্যান্ডের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার ৪৪ কোটি টাকা জমা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডে সম্রাটের সমুদয় বিষয় দেখভাল করেন পল্টনের এক সময়ের যুবলীগের নেতা সুইজারল্যান্ড প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম। আশরাফ পল্টনের ওয়ার্ড কমিশনার মোস্তফা জামানের এক সময়ের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।
সম্রাটের সঙ্গে মোস্তফার সম্পর্কের সূত্র ধরেই এখন তিনি ওই দায়িত্বে। তবে জার্মানির ব্যাংকে রাখা ৩৬ কোটি টাকা কার মাধ্যমে গেছে তা অজানা এখনো। আর যে দুটি দেশে তার লেনদেন সবচেয়ে বেশি, বিশেষত সিঙ্গাপুরে তার অর্থকড়ি কারা আগলে রাখতেন, তিনি জেলে যাওয়ার পর তারা কে কোথায় কীভাবে রয়েছে তা খোলাসা হয়নি। তবে মালয়েশিয়ার পূত্রাজায়ায় ‘কুইক রোডে’ তার বাড়ি থাকার তথ্যটি সঠিক বলে খবরে প্রকাশ। দেশটিতে তার ছেলে পড়াশোনা করছেন বলেও জানা গেছে। ক্যাসিনো কাণ্ডে সম্রাটের ভাবশিষ্য খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও আরমান গ্রেপ্তার হয়েছেন। লোকমান হোসেন ভূঁইয়াসহ বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারকারী গ্যাং মাস্টাররাও ধরা পড়ছে। সূত্র জানায়, এদের সঙ্গে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে রিমান্ডে থাকা সম্রাট ও আরমানকে মুখোমুখি করা এরই মধ্য সম্পন্ন হয়েছে, যা জরুরি ছিল। তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য একে অপরকে দোষারোপও করেছে।
সম্রাটের নেশা ছিল জুয়া খেলা। প্রত্যেক মাসের শেষ সপ্তাহে সেই নেশায় ছুটে যেতেন সিঙ্গাপুরে মারিনা-বে-সেন্ডস ক্যাসিনোতে। যাওয়ার আগে অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি অর্থ পাচার করতেন সিঙ্গাপুরে। যে অর্থের পরিমান ছিল প্রত্যেক মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা। মাসের শেষ সপ্তাহে সেখানে গিয়ে তিনি থাকতেন ৭ দিন। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার স্ত্রী জুয়া খেলার তার নেশার বিষয়টি সবাইকে অবহিত করেছিলেন। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছেন। প্রত্যেক মাসে ওই টাকা তিনি জোগাড় করতেন দেশে ক্যাসিনো পরিচালনা, সরকারি জমিতে অবৈধ মার্কেট নির্মাণ, নতুন নির্মাণাধীন ভবন থেকে চাঁদা আদায়, ফুটপাতে চাঁদাবাজী, সস্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও টেন্ডারবাজি করে। প্রত্যেক মাসে তার হুকুমে তার সহযোগীরা বিভিন্নস্থান থেকে চাঁদা আদায় করতেন। সমস্ত টাকা রাখা হতো কাকরাইলের সম্রাটের আস্তানায়। মাসের শেষ সপ্তাহে মতিঝিলের হুন্ডি ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ তার কাছে হাজির হতেন। বস্তায় কাড়ি কাড়ি অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে তিনি অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরে পাচার করতেন।

লিবিয়ার সাবেক একনায়ক গাদ্দাফিকে হত্যায় ফ্রান্সের হাত থাকার ঘটনা ফাঁস

মুয়াম্মার গাদ্দাফি
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের কাছে পাঠানো তিন হাজার গোপন ইমেইল থেকে লিবিয়ার সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যার ঘটনায় ফ্রান্সের হাত থাকার ঘটনা ফাঁস হয়ে গেছে।

আরবি দৈনিক রাই আল-ইয়াওম জানিয়েছে, ওই তিন হাজার ইমেইলের সারসংক্ষেপ হচ্ছে, আফ্রিকার মহাদেশের ওপর নিজের আধিপত্য বাজয় রাখা এবং লিবিয়ার তেল সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার লক্ষ্যে ফ্রান্স গাদ্দাফি সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে ন্যাটো জোটের সামরিক শক্তিকে ব্যবহার করেছে।

ওই তিন হাজার ইমেইল ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনকে পাঠানো হয়েছিল।

২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থান হয় এবং এর জের ধরে কয়েকটি দেশের সরকারের পতন ঘটে। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজি থেকে গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয়। এসময় গাদ্দাফি ওই আন্দোলন দমন করতে বেনগাজির দিকে যে বিশাল সামরিক বহর পাঠান বিমান হামলা চালিয়ে সে বহরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় ন্যাটো বাহিনী।

এর ফলে গাদ্দাফি সরকারের ওপর যে আঘাত আসে তা সামলে ওঠা ত্রিপোলির পক্ষে সম্ভব হয়নি এবং এর জের ধরে সরকারের পতন ও গাদ্দাফি ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’র হাতে ধরা পড়ে নিহত হন। দৃশ্যত গণ অভ্যুত্থানে গাদ্দাফি সরকারের পতন হলেও এই ঘটনায় মূল অনুঘটকের কাজটি ন্যাটো জোট করে দেয় যে জোটের নামে মূল হামলাটি চালিয়েছিল ফ্রান্সের সেনাবাহিনী।

হিলারি ক্লিন্টনের কাছে পাঠানো ইমেইলগুলোতে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি পাঁচটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে ন্যাটোর মাধ্যমে লিবিয়ায় হামলা চালিয়েছিলেন। লক্ষ্যগুলো হচ্ছে, লিবিয়ার তেল সম্পদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, উত্তর আফ্রিকার সাবেক উপনিবেশগুলোতে ফ্রান্সের প্রভাব ধরে রাখা, সারকোজির আঞ্চলিক সুনাম বাড়ানো, ফ্রান্সের সামরিক শক্তিমত্তা প্রদর্শন এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে গাদ্দাফির প্রভাব ক্ষুণ্ন করা।

নজিরবিহীন ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা by ইশতিয়াক পারভেজ

সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীমদের সঙ্গে হেঁটে আসছেন শ’খানেক ক্রিকেটার। ধীরে ধীরে জড়ো হলেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমির মাঠে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ রূপ নিয়েছে বিস্ফোরণে। একে একে ১১ ক্রিকেটার তুলে ধরলেন ১১ দাবি। তাদের নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে আসা বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়ে দিলেন দাবি না মানলে তারা ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন না। তাদের প্রতি অবহেলা, অসম্মান, বেতন ও পারিশ্রমিকের বৈষম্য রূপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিপক্ষে বিদ্রোহে।

তাতেই অচল এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট। তাদের এমন অবস্থানে নিশ্চিতভাবেই এখন হুমকির মুখে আগামী মাসে ভারতে পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সফর। যদি দ্রুত বিসিবি দাবি মেনে না নেয়, নিজেদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনড় থাকবেন তারা।
নতুন দিনের ক্রিকেটারদের জন্য সুন্দর আগামী গড়ে দিতেই এই ধর্মঘটের ডাক বলে জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘ যতদিন পর্যন্ত আমাদের এই দাবিগুলো পূরণ না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ক্রিকেটের কোনো কার্যক্রমে জড়িত থাকতে চাচ্ছি না। সেটি দেশি হোক আর আন্তর্জাতিক, কোনো ক্রিকেটে আমরা খেলবো না।’ তার এই বক্তব্যে করতালি দিয়ে সমর্থন দেন উপস্থিত ক্রিকেটাররা।

গতকাল দুপুর থেকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেটাররা সংবাদ সম্মেলন করতে আসবেন মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে। সেখানেই তারা তুলে ধরবেন নিজেদের দাবির কথা। সেই সঙ্গে ক্রিকেটকে বয়কট করারও ঘোষণা আসতে পারে। অবশেষে দুপর ৩টায় সাকিবের নেতৃত্বে হাজির হলেন জাতীয় দলের বর্তমান, বাদ পড়া ও সাবেক ক্রিকেটাররা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজসহ তরুণ ক্রিকেটাররাও। শুধু ছিলেন না বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সংবাদ সম্মেলনে সাকিব জানিয়ে দেন তাদের সঙ্গে দেশের সব স্তরের ক্রিকেটাররা আছেন একাত্বতা জানাতে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত হওয়াতে নারী দলের ক্রিকেটারদের একত্রিত করতে পারিনি। যদি চায় তারা দাবি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসতে পারে। আমরা জানি তাদেরও দাবি আছে। শুধু অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাই ওদের এই বিষয়ের বাইরে রাখছি। এছাড়াও বয়সভিত্তিক কিছু দলকেও বাইরে রাখছি। তা ছাড়া সবাই আমাদের সঙ্গে আছে। আজ (গতকাল) থেকেই আমরা সব ধরনের ক্রিকেট, এনসিএল হোক আর জাতীয় দলের ক্যাম্প, কোনো কিছুতেই অংশ নিবো না।’

কেন ক্রিকেটাররা হঠাৎ এমন বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন? শুরুতেই জাতীয় দলের বাইরে থাকা ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ তারকা নাঈম ইসলাম জানিয়ে দিলেন আসলে তাদের পক্ষে যৌক্তিক অধিকার আদায়ের জন্য কেউ কাজ করে না। এমনকি বাংলাদেশে তাদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত’ একমাত্র সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও (কোয়াব) কোনো ভূমিকা রাখে না। তাই এই সংগঠনের বর্তমান সভাপতি দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমূর রহমান দুর্জয়সহ সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালের পদত্যাগ দাবি করেন নাঈম ইসলাম। এছড়াও সাকিব-মুশফিক তুলে ধরেন বিপিএলে তাদের পারিশ্রমিক বৈষম্যের কথা। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন এবারের বিপিএল অন্য নিয়মে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের যেটা মূল দাবি সেটা হলো বিপিএল যেন আগের নিয়মে চলে আসে এবং আমাদের স্থানীয় প্লেয়ারদের ন্যায্য মূল্যটা যেন বিদেশি প্লেয়ারদের সমান থাকে। আমরা দেখি যে বিপিএলে বিদেশি প্লেয়াররা আসে এবং তাদের অনেক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়রা সেটা পায় না। বিসিবিকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।‘ মাহমুদুল্লাহ তুলে ধরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের নিয়ে বৈষম্যে কথা।

এছাড়াও সাকিব তুলে ধরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের ন্যুনতম সুবিধাহীনতার কথা। হোটেল থেকে শুরু করে ম্যাচ ফি, এমনকি মাঠে আসার জন্য দেয়া বাসও নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেন সাকিব। এছাড়াও প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগে ক্রিকেটে পাতানো খেলার বিষয়টির কড়া প্রতিবাদ করেন টেস্ট অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্লেয়ারদের বেতন ১ লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমরা এই দাবিটা অবশ্যই জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্লেয়ারদের বেতন অনেক কম। সেটা ন্যুনতম ৫০ ভাগ বাড়াতে হবে। অনুশীলন সুবিধা বাড়াতে হবে। জিম, ইনডোর, মাঠের সব সুবিধা বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ, ফিজিও, ট্রেইনার নিয়োগ দিতে হবে। আমরা চাই এটা আসছে মৌসুমের আগেই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই না প্রতিটি অনুশীলনই ঢাকাতে হোক। ঢাকার বাইরে বরিশাল তাদের হোম ভেন্যুতে, খুলনা তাদের হোম ভেন্যুতে অনুশীলন করবে তাহলেই ক্রিকেটের প্রসার বৃদ্ধি পাবে। আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই বল দিয়ে খেলা হয় না। ফলে আমাদের নতুন করে বলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। শুধু তাই নয় আমাদের প্রথম, দ্বিতীয় বিভাগের ক্রিকেটে মাঠে যাওয়ার আগেই ঠিক হয়ে যায় কোন দল জিতবে।‘

বিসিবি’র সঙ্গে আলোচনা হলে কি করবেন তা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমরাও চাই আলোচনায় বিসিবি দাবি মেনে নিলে ক্রিকেটে ফিরতে। আমরাও চাই ক্রিকেটে উন্নতি হোক। এখানে একজন ক্রিকেটার যেন লম্বা সময় খেলতে পারে সেই সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দিতেই আমাদের এই অবস্থান।‘

ক্রিকেটারদের অবস্থানে বিসিবির প্রতিক্রিয়া
ক্রিকেটারদের সংবাদ সম্মেলন শেষে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন। তিনি বলেন, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। অবশ্যই আমাদের খেলোয়াড়রা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবিগুলো লিখিত পেলে বোর্ডে আলোচনা করবো। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো। খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বিভিন্ন সময়ে এসেছে এবং আমাদের চেষ্টা থাকে যতটুকু সম্ভব তা সুরাহা করার। আজকের বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিষয়টা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুরাহার চেষ্টা করবো।’

নজীরবিহীন ধর্মঘটে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা: কিছুই জানতেন না মাশরাফি

মাশরাফি বিন মুর্তজা
১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। দাবি না মানা পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রিকেটে নিজেদের সম্পৃক্ত করবেন না দেশের ক্রিকেটাররা। চার সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উপস্থিতিতে সোমবার বিকেলে মিরপুর একাডেমি মাঠে এমন ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা।

৫০-৬০ জন ক্রিকেটার এদিন মিরপুরে উপস্থিত হলেও বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দেখা যায়নি। মাশরাফির অনুপস্থিতি স্বভাবতই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। এমন দিনে তাঁর না থাকা অবাক করেছিল অনেককেই। ঘটনার ১০ ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে মাশরাফি নিজেই তাঁর না থাকার কারণ জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের এই আন্দোলন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। তবে ক্রিকেটারদের প্রতিটি দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তিনি। এমন আন্দোলনে থাকা না থাকার চেয়ে দাবি আদায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তিনি। মাশরাফির ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো-
মাশরাফীর ফেসবুক স্ট্যাটাস
“অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে, দেশের ক্রিকেটের এমন একটি দিনে আমি কেন উপস্থিত ছিলাম না। আমার মনে হয়, প্রশ্নটি আমাকে না করে, ওদেরকে করাই শ্রেয়। এই উদ্যোগ সম্পর্কে আমি একদমই অবগত ছিলাম না। নিশ্চয়ই বেশ কিছু দিন ধরেই এটি নিয়ে ওদের আলোচনা ছিল, প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। সংবাদ সম্মেলন দেখে আমি ওদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
ক্রিকেটারদের নানা দাবির সঙ্গে আমি আগেও একাত্ম ছিলাম, এখনো আছি। আজকের পদক্ষেপ সম্পর্কে আগে থেকে জানতে পারলে অবশ্যই আমি থাকতাম।
মিডিয়ায় ওদের খবর দেখার পর থেকে হাজারবার আমার মাথায় এই প্রশ্ন এসেছে, যে কেন আমাকে জানানো হলো না। অনেকে আমার কাছে জানতেও চেয়েছেন। কিন্তু আমি নিজেও জানি না, কেন জানানো হয়নি।
তবে আমার উপস্থিত থাকা কিংবা না থাকার চেয়ে, ১১ দফা দাবি বাস্তবায়িত হওয়াই বড় কথা। সব কটি দাবিই ন্যায্য, ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের মঙ্গলের জন্য জরুরি। আমি মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা, ১১ দফা দাবি শান্তিপূর্ণ ভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার পক্ষে আছি, থাকব।“
এর আগে, সোমবার দুপুরে এক নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। বেতন বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের খেলা থেকে বিরত থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। এতে করে চলমান জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) তো বটেই, ভারতে আসন্ন সফরও হুমকির মুখে পড়ে।
এ সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বলছে, তারা ক্রিকেটারদের এসব দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না। আনুষ্ঠানিকভাবে দাবিগুলো তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হলে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। পরে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জরুরি সভা ডেকেছে বিসিবি।

মা চেয়েছিলেন মেয়ে কোনো ধনী পরিবারে বড় হোক

পারিবারিক অশান্তির কারণে মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে চাইছিলেন না মা রিমু আক্তার। কয়েকবার দত্তক দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সফল হননি। শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার মেয়েটিকে সাজিয়ে-গুছিয়ে একটি বাসার ফটকের সামনে ফেলে রেখে চলে যান তিনি। শিশুটি যেন কোনো ধনী পরিবারের সন্তান হিসেবে বড় হয়, সে কারণেই এই কাজ করেছেন তিনি।
পঞ্চগড়ের কামাতপাড়া এলাকা থেকে নবজাতকটিকে কুড়িয়ে পাওয়ার তিন দিন পর আজ সোমবার মা রিমু আক্তারকে খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। আজ দুপুরে তাঁকে প্রথমে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেলে সদর উপজেলার ভীতরগড় এলাকার বাসিন্দা আইবুল ইসলাম এবং শিল্পী বেগমকে (রিমুর বাবা-মা) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে এনে রিমুর পরিচয় নিশ্চিত হয় প্রশাসন। পরে প্রশাসনের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এসব কথা জানান রিমু।
এরপর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে পুলিশি হেফাজতে রিমুকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেয়েকে বুকের দুধ খাওয়ান তিনি। এ সময় চার বছর বয়সী ছেলে সেজানও তাঁর সঙ্গে ছিল।
কেন নিজের মেয়েকে ফেলে রেখে গেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রিমু বলেন, ‘পারিবারিক যন্ত্রণা আর অশান্তি থেকে রেহাই পেতে মেয়েটিকে ফেলে রেখে গিয়েছি। চেয়েছিলাম শিশুটি কোনো ধনী পরিবারে বড় হোক। তাই একজন বড়লোকের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে গিয়েছিলাম।’ ফেলে যাওয়ার দিন মেয়েটির বয়স ১২ দিন ছিল বলেও জানান তিনি।
তবে মায়ের খোঁজ পেলেও এখনই নবজাতকটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নানা-নানি ও মায়ের সঙ্গে নবজাতকটিকে আরও কিছুদিন হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। শিশুটির মায়ের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ার তাঁরও চিকিৎসা করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন সূত্র। পরবর্তী সময়ে রিমুর অবস্থা স্বাভাবিক হলে তাঁর কাছে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) জামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুরে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মালিগাঁও এলাকার আবদুল খালেকের বাড়ি থেকে রিমু আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। গত শুক্রবার চার বছরের ছেলেকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনে রিমুকে কান্নাকাটি করতে দেখেন আবদুল খালেক ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম। পরে তাঁরা শিশুটিসহ রিমুকে বাড়ি নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন সদস্যের মাধ্যমে আটোয়ারী থানায় খবর দেন আবদুল খালেক। খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রিমু আক্তারকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, রিমু আপাতত তাঁর বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রেই শিশুটির দেখাশোনা করবেন। তাঁর কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় তাঁরও চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরবর্তী সময়ে পুলিশের প্রতিবেদন ও তাঁর আচরণের ওপর নির্ভর করে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ির ফটকের সামনে পড়ে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটিকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করে জেলা প্রশাসন। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে শিশুটির যাবতীয় খরচ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে আসা মায়েরাই ওই শিশুটিকে ধারাবাহিকভাবে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শিশুটির মা রিমু আক্তারকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ের কামাতপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ির ফটকের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় নবজাতকটিকে। ছবি: প্রথম আলো

সেইফ জোনে একটি কুর্দি গেরিলাকেও দেখতে চাই না আমরা :-তুরস্ক

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, সিরিয়ার ভেতরে পরিকল্পিত নিরাপদ অঞ্চলে একটি কুর্দি গেরিলাকেও দেখতে চায় না আঙ্কারা। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্ক সীমান্ত থেকে ২০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত নিরাপদ অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক এবং আমেরিকা।

গতকাল রোববার কনাল-সেভেনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চাভুসওগ্লু আরো বলেন, আঙ্কারা আশা করে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যেসব যেসব শহরে সিরিয়ার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে সেসব শহর থেকে কুর্দি গেরিলা সরে যাবে। চাভুসওগ্লু জানান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কৃষ্ণ সাগর উপকূলবর্তী সোচি শহরে বৈঠকের সময় মানবিজ এবং কুবানি শহরে সিরিয়ার সরকারি সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানও বলেছিলেন, নিরাপদ অঞ্চলে সিরিয়ার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনি আলোচনা করবেন। পাশাপাশি তিনি এ হুমকিও দিয়েছিলেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়টির সমাধান না হলে তুরস্ক তার নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। এরদোগান আরো হুমকি দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির ভেতরে যদি সীমান্তবর্তী শহরগুলো থেকে কুর্দি গেরিলারা সরে না যায় তাহলে তুরস্কের সেনারা কুর্দি গেরিলাদের মাথা চূর্ণ করে দেবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান

লেবাননে সরকারবিরোধী আন্দোলন, আজ ধর্মঘট

অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন লেবাননে। আজ সোমবার সেখানে পালিত হচ্ছে ধর্মঘট। রাজধানী বৈরুতে রোববার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়। চারদিন ধরে চলছে এই বিক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটস অ্যাপে কল এবং অন্যান্য ম্যাসেজিং সার্ভিসের ওপর প্রস্তাবিত ট্যাক্সের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম রাজপথে নেমে পড়ে জনতা। তারপর থেকে ভূমধ্যসাগরীয় এই দেশটিতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছেই। রোববার রাজধানী বৈরুত, উত্তরে দ্বিতীয সর্ববৃহৎ শহর ত্রিপোলি এবং দক্ষিণে বন্দরনগরী টাইরে এদিন অচল হয়ে পড়ে। সব রাস্তা ছিল বিক্ষোভকারীতে ভরা।
এ সময় তারা জাতীয় পতাকা দুলিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন ‘রেভ্যুলুশন’ অথবা ‘জনগণ শাসকগোষ্ঠীর পতন দাবি করছে’। ঠিক ২০১১ সালের আরব বসন্তের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
বড় বিক্ষোভ হয়েছে সিদন এবং বালবাক শহরেও। বৈরুতে এমন একটি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন ৩২ বছর বয়সী ইন্টেরিয়র আর্কিটেক্ট ছেরিনে শাওয়া। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিকদের কারণে হতাশা থেকে আমি এই বিক্ষোভে এসেছি। আসলে দেশে কোনো কিছুই কাজ করছে না।
বিক্ষোভকারীদের দাবি দেশে দুর্নীতি ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, দেশে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা দশকের পর দশক ধরে তাদের পদ ব্যবহার করে তাদের পক্ষে চুক্তি করছেন এবং তা থেকে নগদ নারায়ণ আদায় করছেন। ৪০ বছর বয়সী নারী হানান তাকুচে বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের নেতাদের এটাই বলতে যে, আপনাদেরকে বিদায় নিতে হবে। তাদের ওপর আমাদের কোনোই আশা নেই। তবে আমরা এটা আশা করি যে, এই বিক্ষোভ পরিবর্তন আনবে। এসব নেতা ক্ষমতায় এসেছেন নিজেদের পকেট ভরতে। তারা সব আসলে দুর্নীতিবাজ ও চোর।
বিক্ষোভ শেষ হয় নি। আজ সোমবার সেখানে দেশব্যাপী ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি সংস্কারে রাজি হয়েছেন। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সাদ আল হারিরি শুক্রবার তার জোটের অংশীদারদেরকে ৭২ ঘন্টার সময় দিয়েছেন। বলেছেন, নতুন করে ট্যাক্স আরোপ ছাড়াই অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার একটি সমাধানে তাদেরকে পৌঁছাতে হবে।
যদিও নতুন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাবনাকে বাদ দেয়া হয়েছে, তবু অর্থনৈতিক সংস্কার এতটা সহজ নয় বলে বৈরুত থেকে বলছেন আল জাজিরার সাংবাদিক স্টেফানি ডেকার। তিনি বলেন, জনগণ রাজনীতিবিদদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। সোমবারের আন্দোলনটি হবে আরো কঠোর। এতে সরকারের ওপর আরো চাপ বাড়বে। সোমবার পালিত হচ্ছে ধর্মঘট। এদিন ব্যাংক বীমা, দোকানপাঠ, স্কুল সব বন্ধ থাকবে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণমুখী সড়কগুলো অবরুদ্ধ করে রাখায় চলাচল থাকবে সীমাবদ্ধ। এ অবস্থায় সোমবার সরকার কি প্রস্তাব করে তা দেখার বিষয়। কারণ, এখনই সরকার পদত্যাগ করবে এমনটা মনে হচ্ছে না। তবে বেশির ভাগ মানুষ চাইছে সরকারের পদত্যাগ।
লেবানরের বেকা উপত্যাকা থেকে দু’ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে বৈরুতে এসেছেন হামজা। তিনি বলেন, রাজনীতিকরা আমাদেরকে কিছুই দিচ্ছেন না। তারাই সব নিয়ে নিচ্ছেন। এতে আমাদের কিছুই নেই। ২০০৫ সাল থেকে তারা আমাদেরকে শুধুই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার কিছুই বাস্তবে ঘটে নি। লেবাননে জাতিগত বিভেদ থাকলেও বিক্ষোভকারীরা জাতীয় এক পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। বিক্ষোভকালে পার্লামেন্টের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন সুন্নী, শিয়া, খ্রিস্টান ও দ্রুজ নেতারা। লেবাননে জোট সরকারের অংশ হিজবুল্লা। এর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ শনিবার বলেছেন, সরকারের পরিবর্তন হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।
লেবানন ঋণের দায়ে জর্জরিত। সেখানে উচ্চ হারে ট্যাক্স ও অর্থনীতির করুণ পরিণতিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নাগরিকরা। সেখানে সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৬০০ কোটি ডলার। এই পরিমাণ জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা ১৫০ ভাগেরও বেশি।

ভোলা সংঘর্ষ: ৪/৫ হাজার ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা করেছে পুলিশ

ঘটনার পর মাদ্রাসা ভবনের অবস্থা
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোলার বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ বলছে, ইসলামের নবীকে কটাক্ষ করে দেয়া এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রোববারের এক সংঘর্ষ এবং পুলিশের গুলিতে চার ব্যক্তি নিহত হবার ঘটনায় অজ্ঞাত ৪/৫ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
বোরহানউদ্দিনে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ বলেছে, বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য নামে একজনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নবী মোহাম্মদকে নিয়ে মেসেঞ্জারে পোস্ট দেয় হ্যাকাররা এবং এর সাথে জড়িত দুজনকে তারা আটক করেছে।
আইডি হ্যাক হওয়ার পর বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য নিজেই থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেছিলেন।
কিন্তু এ ঘটনার জের ধরে রোববার সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়।
তবে উপজেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক আজ সকাল বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, রাতে আর কাউকে আটক করা হয়নি বা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনাও ঘটেনি।
"পরিস্থিতি এখন শান্ত ও স্বাভাবিক। বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে," বলছিলেন মিস্টার হক।
যদিও স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মালেক বিবিসিকে বলেন, বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
"শুধু পৌর এলাকাতেই এমন অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তবে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আটকের খবর আমরা পাইনি"।
ওদিকে ছয় দফা দাবিতে ভোলা সদরে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ সোমবার যে সমাবেশ ডেকেছিলো - সেটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তাজউদ্দিন বিবিসিকে বলেন, প্রশাসন তাদের অনুমতি দেয়নি বলে তারা সমাবেশ স্থগিত করেছেন।
তবে পরে তারা সংবাদ সম্মেলনে করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান তিনি।

বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণ কী?

পুলিশ বলছে, ফেসবুকে ইসলামের নবীকে নিয়ে কটূক্তি করে দেয়া কথিত একটি পোস্টকে ঘিরে বোরহানউদ্দিনে গত তিনদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গ্রামবাসীর সঙ্গে কয়েক দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছেন।
রোববার সকালে এরকম এক বৈঠকের সময় পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বেধে গেলে, এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়।
বোরহানউদ্দিন থানার সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জাফর ইকবাল বিবিসিকে মোট চারজন মানুষ নিহত হবার খবর নিশ্চিত করেছিলেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য:

পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে ১৮ অক্টোবর রাতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক বোরহানউদ্দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি জানান, তার ফেইসবুক আইডি 'বিপ্লব চন্দ্র শুভ' হ্যাক করা হয়েছে।
জিডি করার সময় থানায় থাকাকালেই ফোনে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি তিনি তখনি ওসিকে জানান এবং ওসি জানান ভোলার পুলিশ সুপারকে।
পুলিশ জানিয়েছে "প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেদিন রাতের মধ্যেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যর ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাককারী ও তার মোবাইলে কলদাতা শরীফ এবং ইমন নামে দুই যুবককে যথাক্রমে পটুয়াখালী এবং বোরহানউদ্দিন থেকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে বোরহানউদ্দিন থানায় নেওয়া হয়।"
তবে মাওলানা তাজউদ্দীনের দাবি পুলিশ ঘটনা 'অন্যদিকে প্রবাহিত করার' চেষ্টা করছে।

বোরহানউদ্দিনের এসপি বললেন এমপিকে - "স্যার আমাদের বাঁচান।"

সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল জানান, তিনি ঢাকায় থাকলেও বোরহানউদ্দিনে সব পক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।
তিনি বলছিলেন, রোববার পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তিনি বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
"জেলার পুলিশ সুপার - উনি ফোন রেখে দেবার আগে আমাকে শেষ কথাটা বলেন, 'স্যার আমাদেরকে বাঁচান। আমরা মসজিদের দোতলায় ইমামের রুমে অবরুদ্ধ আছি, আমাদেরকে বাঁচান,' তার উক্তি ছিল এটাই।"
"তখনই আমার মনে হলো যে এ মুহুর্তেই আমার ভোলা যাওয়া দরকার। সাথে সাথেই আমি হেলিকপ্টারযোগে ভোলা চলে আসি। দ্রুত আসার জন্য এ ছাড়া আমার উপায় ছিল না।"

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির নামে করা একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে ঘটনার সূত্রপাত - যাতে ইসলামের নবী মোহাম্মদের নামে কটুক্তি করা হয়।
বিবিসি বাংলাকে সাংসদ আলী আজম বলেন, বিপ্লব চন্দ্র শুভ তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এসে জানান যে তার ফেসবুক আইডি হ্যাকিং করা হয়েছে, এবং তিনি একটি জিডি এন্ট্রি করেন।
"জিডি করার পর তার মোবাইলে একটা ফোন আসে।"
"ওপাশ থেকে একজন বলে যে 'আমি গাজীপুর থানার ওসি বলছি, তোমার মোবাইল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা জিনিস ছড়িয়ে পড়েছে, এটা আমি মুছে দিতে পারি - তুমি আমাকে ২ হাজার টাকা দাও।"
"ব্যাপারটা আমার নজরে আনা হলে আমি ভোলার পুলিশ সুপারকে এবং আমার নির্বাচনী এলাকা বোরহানউদ্দিনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেই দ্রুত এ ঘটনার নিরসন করার জন্য।"
সাংসদ আলী আজম জানান, কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেন এবং বিপ্লব চন্দ্র শুভকেও থানায় রাখা হয়।
"পাশাপাশি যে মোবাইল থেকে ওই কলটি এসেছিল - আমরা মোবাইল ট্র্যাকিং করে জানতে পারি সে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার একটি ছেলে। তাকেও সেখান থেকে আনা হয়।
"পটুয়াখালীর এ ব্যক্তি আবার মোবাইল সিমটি নিয়েছিলেন বোরহানউদ্দিনের একজনের কাছ থেকে। তাকেও আমরা থানা হেফাজতে এনেছি।"
"রোববারের গুলিবর্ষণের আগের দিন - অর্থাৎ শনিবার রাতে - এখানে স্থানীয় আলেম-ওলামারা 'তৌহিদি জনতা'-র ব্যানারে একটি সমাবেশ ডাকেন। এতে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তাদের সাথে জেলা প্রশাসক, পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে একটি মিটিং করা হয়।"
"এতে সবাইকে অবহিত করা হয় যে বিপ্লব চন্দ্র শুভ এবং পটুয়াখালী থেকে এ্যারেস্ট করে আনা ব্যক্তি - যে আইডি হ্যাকিং করেছে বলে আমরা সন্দেহ করছি - তারা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে আছে।"
"এতে তারা সন্তুষ্ট হয়ে ডিসি সাহেবের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। তারা থানায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান যে রোববারের সমাবেশটি আর হবে না।"
"আমি তখন ঢাকায় ছিলাম, তবে আমার নির্দেশেই মিটিং হয়। মিটিং শেষে সবার সাথে আমি নিজে ফোনে কথা বলি।"

তাহলে পরদিন পরিস্থিতি এত সহিংস হয়ে উঠলো কীভাবে?

সংসদ সদস্য আলী আজম বলছিলেন, "আলেম-ওলামারা থানায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান যে রোববারের সমাবেশটি আর হবে না। কিন্তু সকাল দশটার সময় ঈদগাহ মাঠে লোকজন জড়ো হতে থাকে।"
"এতে 'তৌহিদি জনতা'র ব্যানারে যে ইমাম সাহেবরা ছিলেন তারা এবং এসপি, এডিশনাল ডিআইজি সাহেবরা বক্তব্য দেন, মোনাজাতও করেন।"
"এর পর যখন তারা চলে যাবেন তখন ঈদগাহের উত্তর দিকে মাইনকার হাট এবং দক্ষিণ দিকে দেউলা শার্শা থেকে দুটি মিছিল আসে। "
"তারা বিপ্লব চন্দ্র শুভর ফাঁসি দাবি করে এবং সাথে সাথেই প্রশাসনের ওপর চড়াও হয়" - বলছিলেন সাংসদ আলী আজম।
"এক পর্যায়ে প্রশাসনের লোকেরা আত্মরক্ষার জন্য দৌড়িয়ে ইমাম সাহেবের রুমে ঢোকে। তার পরের ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে আমি দেখেছি যে আলেম সমাজের নেতৃবৃন্দ মানুষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছেন।"
"কিন্তু এখানে মুসলিম উম্মাহ ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে তাই আলেম সমাজের পাশাপাশি আমজনতাও জড়িয়ে গেছেন। তবে আলেমরা তাদের থামানোর চেষ্টা করেছেন।"

কিন্তু পুলিশের ওপর আক্রমণ হলো কেন?

এ প্রশ্নের জবাবে সাংসদ আলী আজম বলেন, "এটা আমি এ মুহূর্তে ব্যাখ্যা দিতে পারবো না।"
"ভিডিও ফুটেজ আছে, তার বিচার বিশ্লেষণ করে পরে আমরা এ ব্যাখ্যা দিতে পারবো যে কে বা কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত।"
"পিছন থেকে কেউ উস্কানি দিয়ে থাকলে সেটাও বেরিয়ে আসবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে" - বলেন সংসদ সদস্য আলী আজম।

সরকার সজাগ

সরকারের একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী বলেছেন, ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ যাতে কেউ নিতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার সজাগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলছিলেন, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নিহতদের ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা করা হবে।
'তবে তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থাগুলোর ক্ষেত্রে কিছুটা সময় প্রয়োজন' বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলছিলেন, "আমরা আগেও দেখেছি, রামু কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটনা যা নয় তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে কিছু মতলববাজ মানুষ উত্তেজনা সৃষ্টি করে, নিরাপরাধ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এটা দুর্ভগ্যজনক।"
"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকালই নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে করে সকল মানুষের নিরাপত্তা দেয়া হয়। এর পাশাপাশি সেখানে আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আর নিহতদেরও ক্ষতিপূরণ অবশ্যই দেয়া হবে।"
ভোলায় রোববারের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকা এবং বরিশালে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ করা হয়েছে।
বিরোধীদল বিএনপি বুধবার এ ব্যাপারে এক বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছে।

বিরল প্রতিবাদ: অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পৃষ্ঠা ফাঁকা

সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধের প্রতিবাদে বিরল প্রতিবাদ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ পত্রপত্রিকা। এর মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত পত্রিকা থেকে স্বল্প পরিচিত পত্রিকাও। আছে রেডিও ও টেলিভিশন পর্যন্ত। সরকারের বিধিনিষেধের প্রতিবাদে এসব পত্রিকা আজ সোমবার তাদের প্রথম পৃষ্ঠা ব্লাকআউট করে দিয়েছে। এতে প্রথম পৃষ্ঠায় কিছু লেখা দিয়ে তা কালো করে দেয়া হয়েছে। তার এককোণে একটি সিল মেরে দেয়া হয়েছে। তাতে ইংরেজিতে লাল কালিতে লেখা রয়েছে ‘সিক্রেট’। একই দিনে সব পত্রিকায় এমন প্রতিবাদ বিরল।
এই প্রচারণার নাম দেয়া হয়েছে ‘রাইট টু নো কোয়ালিশন’ বা জানার অধিকার বিষয়ক জোট। এতে সমর্থন রয়েছে বিভিন্ন টেলিভিশন, রেডিও স্টেশন ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোর। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এসব সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে দ্য নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেীলয়া এবং নাইন তাদের মাস্টহেড সরিয়ে সেখানে ব্লাকডআউট টেক্সট বসিয়ে দিয়েছে। সেখানেও ব্যবহার করা হয়েছে লাল স্ট্যাম্প ‘সিক্রেট’। জাতীয় পর্যায়ে একটি নিরাপত্তামুলক আইনের প্রতিবাদে এমনটা করা হয়েছে। সাংবাদিকরা বলছেন, এই আইনের মাধ্যমে তাদের রিপোর্টিংয়ের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ায় গোপনীয়তার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তবে সরকার বলছে, এই আইনটি সাংবাদিকতায় অবাধ স্বাধীনতাকে সমর্থন করে। তবে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
জুনে পুলিশ ঘেরাও করে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) অফিস এবং নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেলিয়ার একজন সাংবাদিকের বাসা। এ জন্য প্রচ- সমালোচনা শুনতে হয়েছে সরকারকে। সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, হুইসেলব্লোয়ারের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া তথ্য প্রচারের কারণে ওই ঘেরাও করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করে। অন্যটি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন গুপ্তচর নজরদারি করে বলে অভিযোগ আনা হয়।
নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাহী চেয়ারম্যান মাইকেল মিলার টুইটে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে তার পত্রিকার মাস্টহেড ব্লাকড আউট করে দেয়ার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান এবং দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ। একই কাজ করেছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, দ্য এইজ। মাইকেল মিলার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের কাছে জানতে যে, তারা কি লুকানোর চেষ্টা করছে? এবিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড অ্যান্ডারসন বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয়তার গণতন্ত্রের দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
এ অবস্থায় রোববার অস্ট্রেলিয়া সরকার আবারও বলেছে, এটা হতে পারে যে জুনের ওই ঘেরাওয়ে তিনজন সাংবাদিক বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।  প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার গণতন্ত্রের জন্য সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা উচিত। এটা হতে পারি আমি অথবা কোনো সাংবাদিক বা অন্য যেকারো ব্যাপারে। ওদিকে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী বছর পার্লামেন্টে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
কি বলছে সংবাদ মাধ্যম
সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার দাবিতে এই আন্দোলনে যারা আছেন তারা যুুক্তি দিচ্ছেন যে, গত দু’দশক ধরে কঠোর নিরাপত্তামুলক আইন কার্যকর করা হয়েছে। এসব আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে হুমকিতে ফেলেছে। জনগণের জানার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত বছর আসে গুপ্তচরবৃত্তি বিরোধী নতুন আইন। তারপর থেকেই স্পর্শকাতর ইস্যুতে তথ্যের বিষয়ে সাংবাদিক ও হুইসেলব্লোয়ারদের এই আইনের বাইরে রাখার জন্য তদবির করে যাচ্ছে মিডিয়াগুলো। সাংবাদিকতার অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিকতর স্বাধীনতার জন্যও তারা আন্দোলন করছে। এর মধ্যে রয়েছে তথ্য পাওয়ার স্বাধীনতা ও অবমাননা বিষয়ক আইনের সংস্কার।

যে কারণে নিরাপত্তারক্ষীর নামেও অ্যাকাউন্ট by মারুফ কিবরিয়া

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে একের পর এক প্রভাবশালী নেতাদের গ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ক্যাসিনো পরিচালনা করে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন তাদের একেকজন। তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে শ’ শ’ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে টাকার কুমিরদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধানে মিলছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্যাসিনো কিং ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে শামীমদের অবৈধ অর্থ লুকাতে স্বজনদের পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষীদের নামেও খুলেছেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। দুদকের চলমান অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে। দুদক সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া কথিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য মিলেছে।
দেশের বাইরেও পাচার করেছেন বিপুল অঙ্কের টাকা। শামীমের এসব অবৈধ অর্থ তার নামে বা কোনো নিকটতম স্বজনের কাছে নেই। টাকাগুলো লুকাতে তিনি নিরাপত্তারক্ষী, বাড়ির কেয়ারটেকার ও দুরম্পর্কের আত্মীয়দের নামের ব্যাংক হিসাব খুলে তাতে জমা রাখতেন। জানা যায়, শামীমের সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের নামেও তার অবৈধ অর্থ রাখার জন্য ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছিল। দুদকের অনুসন্ধানে সেসব অর্থের খোঁজ পাওয়া গেছে।
জি কে শামীমের ৩৫টি হিসাব যাচাই-বাছাই করেছে সংস্থাটি। নামে-বেনামের অ্যাকাউন্ট থেকে কমপক্ষে দশ হাজার মার্কিন ডলার পাচারের তথ্যও মিলেছে প্রাথমিক অনুসন্ধানে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চমকপ্রদ সব তথ্য মিলছে। অবৈধভাবে একেকজন বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন। তাদের ব্যাংক হিসাবের হদিস করতে গিয়েও মিলছে নানা তথ্য। তিনি আরো জানান, টেন্ডার মোগল খ্যাত জিকে শামীমের অবৈধ টাকার তথ্যই নতুন নতুন করে পাওয়া যাচ্ছে। তার নিকট আত্মীয় স্বজনদের অ্যাকাউন্টে এত টাকা জমা নেই যা রয়েছে নিরাপত্তারক্ষী ও দুরসম্পর্কের আত্মীয়ের অ্যাকাউন্টে। যাচাই বাছাই শেষে গতকাল শামীমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ২৯৭ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাও করেছে দুদক।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে শামীমের মাকেও। দুদকের তথ্যমতে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতের এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কাউন্সিলরসহ ১৩ জনের অবৈধ অর্থের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। খালেদ ও শামীমের বিরুদ্ধে গতকাল মামলাও করেছে সংস্থাটি। চলতি সপ্তাহে আরো ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি রয়েছে দুদকের। সূত্র জানায়, গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, কৃষক লীগের নেতা শফিকুল ইসলাম, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়া ও অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হতে পারে। দুদক জানায়, র‌্যাবের কাছে গ্রেপ্তার ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুই কোটিরও বেশি টাকার পরিমাণ সম্পদ পাওয়া যায় প্রাথমিক পর্যায়ে। এদিকে গতকাল মামলা হওয়া খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার অ্যাকাউন্টেও বিপুল পরিমাণ অর্থের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যাচাই বাছাই করে দুদক সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ অর্থের তথ্য পায়।
তা প্রমাণ হওয়ায় গতকাল ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপণ ভূঁইয়ার অবৈধ সম্পদের তথ্যও। এই দুই ভাইয়ের ৩৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। সূত্র জানায়, এনু ও রূপনের ঢাকা-চট্টগ্রামে একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন ব্যাংকের লেনদেন, উদ্ধারকৃত টাকা ও স্বর্নালংকার মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে। তবে বিদেশে ফ্ল্যাট বা বাড়ি ক্রয়ের বিষয়ে খবর মিললেও এখনই তা মামলায় অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না। এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া বেশ সময় সাপেক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর করছে। অবশ্য অনুসন্ধান চলাকালীন তাদের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, রাজউক, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন গোয়েন্দাসংস্থা থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদকের অনুসন্ধান টিম। দুদকের আরেক কর্মকর্তা জানান, ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের বেশিরভাগই নিজ নামে অর্থ সম্পদ না গড়ে বাড়ির কেয়ারটেকার ও দূরের আত্মীদের নামে গড়েন।
এজন্য এত হিসাব নিকাশ করতে গিয়ে বেশ সময় লেগে যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের একটি তালিকা করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪৩ জনের তালিক সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের দুই এমপি, যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী এবং তাদের স্বজনদের নাম রয়েছে। এছাড়া আরো যারা তালিকায় রয়েছেন তারা হলেন- ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এমপি সামশুল হক চৌধুরী, জি কে শামীম পরিবার, সম্রাটের পরিবার, গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ চার প্রকৌশলী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমান, দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মোল্লা আবু কাওছার, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ও হাবিবুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি মুরসালিক আহমেদসহ বিভিন্ন নেতার আত্মীয় স্বজনরা। অন্যদিকে, যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে দুদক।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ই সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হয়। এদিন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একে একে অনেকের নাম অনুসন্ধানে চলে আসে। ৩০শে সেপ্টেম্বর থেকে দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের টিম অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান।

যেভাবে সপ্তাহজুড়ে সংরক্ষণ করবেন রুটি

প্রতিদিন রুটি বানানোর ঝক্কিতে যেতে না চাইলে ছুটির দিনে বেশি করে বানিয়ে ফেলতে পারেন রুটি। ডিপ ফ্রিজে রেখে সপ্তাহজুড়েই খেতে পারবেন নরম তুলতুলে রুটি। চাইলে আটা মেখেও সংরক্ষণ করতে পারেন।
যেভাবে আটা সংরক্ষণ করবেন
  • আটা সেদ্ধ করে মেখে নিন। ডো তৈরি হলে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বা পাতলা প্লাস্টিক দিয়ে ভালো করে মুড়ে নিন। ভেতরে যেন বাতাস একেবারেই না ঢুকতে পারে। এবার আটা ফ্রিজে রাখুন।
  • জিপ লক ব্যাগ বা এয়ার টাইট কন্টেনারে ভরে ফ্রিজে রাখতে পারেন মাখা আটা।
  • সংরক্ষণ করতে চাইলে কম পানি দিয়ে মাখবেন আটা। পানি বেশি হয়ে গেলে শুকনা আটা দিয়ে মেখে নিন আবার।
  • আটা মাখার পর হাতে ঘি বা তেল লাগিয়ে সেটা আটার গায়ে লাগিয়ে নিন। এতে আটা মাখা কালো হবে না, শুকিয়েও যাবে না
রুটি সংরক্ষণ করবেন যেভাবে
রুটি বানিয়ে নিন বেশি করে। এবার পাতলা পলিথিন বা প্লাস্টিক রুটির আকৃতির চাইতে ইঞ্চি খানেক বড় করে কাটুন। একটি প্লাস্টিক বিছিয়ে উপরে রুটি রাখুন। ওপরে আরেকটি পাতলা পলিথিন বিছিয়ে নিন। উপরে আবার রুটি রাখুন। এভাবে একটার উপর একটা রুটি ও পলিথিন রাখুন। রুটি রাখা শেষে উপরে পলিথিন বিছিয়ে চারদিক ভাঁজ করে একটি আটার প্যাকেট বা বড় প্যাকেটে ঢুকিয়ে ফেলুন সব রুটি। ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। খাওয়ার আগে ফ্রিজ থেকে বের করে শক্ত থাকা অবস্থাতেই গরম ফ্রাই প্যান বা তাওয়ায় ভেজে নিন।

স্থাপত্যকলায় বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ইতিহাস

নবীন রাষ্ট্র পাকিস্তানের স্থাপত্যকলার ইতিহাসের ওপর বই লেখার জন্য মেলন-ভক্সওয়াগন ফেলোশিপ পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যানসাস স্কুল অব আর্কিটেকচার এন্ড ডিজাইনের বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত সহকারি অধ্যাপক করিম। তিনি এখন সেই বই লেখার কাজে ব্যস্ত। বইটিতে তৎকালিন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান, তথা বর্তমানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের স্থাপত্যকালার শুরুর দিককার ইতিহাসটি উঠে আসছে।
করিম বলেন, আমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত উত্তর-ওপনিবেশ যুগে পাকিস্তানের ইতিহাস দেখার চেষ্টা করেছি। বিশ্বের ইতিহাসে এই এই সময়টির আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। একটি ইউটোপিয়া হিসেবে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিলো। মুসলিম জাতীয়তাবাদ ধারণার ওপর পাকিস্তানের দুই অংশের সৃষ্টি হয়েছিলো। যদিও রাষ্ট্রটির দুই অংশের মধ্যে হাজার মাইলের ব্যবধান ছিলো। বাংলাদেশ নামে স্বাধীন হওয়া পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা ও সংস্কৃতি ছিলো পশ্চিমের চেয়ে পুরোপুরি আলাদা।
এক শতকের বেশি সময় শাসন করার পর ১৯৪৭ সালে বৃটেন ভারতীয় উপমহাদেশকে ছেড়ে যায়। তারা ধর্মের ভিত্তিতে সমরূপ দুটি রাষ্ট্র পাকিস্তান ও ভারত সৃষ্টি করে।
১৯৭১ সালে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে এবং বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। তবে আরেকটি বিরোধ সামনে চলে আসে – কাশ্মির নিয়ে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধ। সেই বিরোধ এখনো চলছে।
করিম বলেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে যারা ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন তাদের জন্য এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ একটি বিব্রতকর অধ্যায়। বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার ক্ষেত্রে বিপুল তারতম্য রয়েছে। তবে, আমি স্থাপত্যকলার ইতিহাসবিদ। এই অংশটি খুব কমই আলোচনা করা হয়েছে।
করিম আরো বলেন, আমি স্থাপত্যবিদ্যার ইতিহাসের চশমা দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি নকশা, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার স্থাপত্যের মধ্য দিয়ে কিভাবে পাকিস্তানের নির্মাণশিল্পটি নির্মিত হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ব্রাজিলের লা ব্রাজিলা বা ভারতের চন্ডিগড়ের মতো সম্পূর্ণ নতুন গড়ে তোলা একটি শহর। দলে দলে নকশাবিদের আগমন ঘটেছে এখানে। তাদের কাছে পরিকল্পনা থাকলেও উত্তেজনা কাজ করছিলো। তারা ছিলেন শূণ্যের মাঝে দাঁড়িয়ে এবং তাদেরকে গোটা একটি নগরী নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে শিক্ষা সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিলো। বৃটিশদের তাড়িয়ে দেয়া হলেও পাকিস্তানের নিজস্ব কোন শিক্ষা কাঠামো ছিলো না। তাই পাকিস্তান যখন একটি সম্পূর্ণ জাতি-গঠন প্রকল্প গ্রহণ করে তখন তাদের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্থাপত্যবিদ ছিলো না। আর সে কারণে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য নিতে হয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় পাকিস্তান ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া সহায়তা অবকাঠামো নির্মাণের কাজে পাকিস্তান ব্যয় করে।
করিম জানান, যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস, তুরস্ক, জাপান ও জার্মানি থেকে স্থাপত্যবিদরা পাকিস্তানে এসে ভীড় জামান। এদের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন লুই কান। তিনি পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানে বাংলাদেশের সংসদ ভবনের নকশা তৈরি করেন। তৎকালিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান লুই কানকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান এই সংসদ ভবনের নকশা তৈরির জন্য।
করিম বলেন, স্থাপত্যবিদ্যার ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে লুই কান এক অনন্য প্রতিভা। তিনি অনেক মাস্টারপিস নির্মাণ করেন। তার সঙ্গে ইউএসএআইডি’র সুসম্পর্ক ছিলো। স্নায়ুযুদ্ধকালে দক্ষিণ এশিয়ায় তার ভূমিকাও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। স্থাপত্যবিদ্যার ইতিহাস নিয়ে আলোচনাকালে তাকে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে দেখা যায়। কিন্তু আমরা যখন বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লুই কানকে বিশ্লেষণ করি আমাদের চোখের সামনে একটি নতুন দৃশ্যপট উন্মোচিত হয়।
করিম গত পাঁচ বছর ধরে এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ও গ্রিসের আর্কাইভগুলোতেও বিচরণ করেছেন। গত পাঁচ বছরে তাকে ১৫টি দেশে ঘুরতে হয়েছে বলে করিম জানান। তার মতে এটা একটি মহাকাব্যের মতো ঘটনা। তাই মহাকাব্যের মতো বিস্তৃত পরিসরেই একে বর্ণনা করতে হবে।
করিম তার বইয়ের নাম দিয়েছে ‘একটি জাতির স্বপ্ন দেখা’। বইটি লেখার জন্য কর্মস্থল তাকে ১০ মাস ছুটি দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার স্থাপত্যকলাই ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কত কম জানি তা নিয়ে করিমের আক্ষেপের শেষ নেই।
[সাউথএশিয়ানমনিটরে পুন:/অনবাদ প্রকাশের জন্য বিশেষ অনুমতি নেয়া হয়েছে]

মানসিক সংকটের সময় বাবা-মাকে পাশে চায় শিক্ষার্থীরা

বিশ্বব্যাপী অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে নানা রকম মানসিক সংকট দেখা দেয়, হতাশায় ভোগে ব্যাপক সংখ্যক কিশোর তরুণ। অনেকেই বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। কিন্তু যখন এই অস্থির সময় পার করে, কার কাছে যেতে চায় তারা?
ব্রিটেনে সম্প্রতি এক বার্ষিক জরিপে দেখা গেছে, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিলে দেশটির দুই তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী বিষয়টি তাদের বাবা-মাকে জানাতে চায় তারা। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার বিষয়টি একটি দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে বলেও এই জরিপে উঠে এসেছে।
জরিপের ফল কী বলছে?
জরিপে অংশ নেয়া ইংল্যান্ডের ১৪ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ তাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ইংল্যান্ডের উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ হায়ার এডুকেশন পলিসি ইন্সটিটিউট এন্ড এডভান্স এইচই জরিপটি প্রকাশ করেছে।
ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ওপর এটিই সবচেয়ে বড় বার্ষিক প্রতিবেদন। এই জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশটির মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজেদের সুখী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী জীবনকে মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এছাড়া মাত্র ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেছে যারা জীবন নিয়ে কম উদ্বেগে ভোগেন।
জরিপে জানা গেছে যে, ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই মনে করেন যে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য যখন চরম-খারাপের দিকে চলে যায়, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত সেটি ছাত্র-ছাত্রীদের বাবা-মাকে অবহিত করা। অন্যদিকে, ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েদের সাথে যোগাযোগ করা উচিত নয়।
আত্মহত্যা ঠেকাতে উদ্যোগ
গত কয়েক বছরে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সেখানে এখন এমন প্রকল্প নেয়া হয়েছে যে, কোনো শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হলে তার বাবা-মা বা একজন বিশ্বস্ত অভিভাবককে সে বিষয়ে অবহিত করা হবে।
বেন মারি একজন বাবা। বিস্ট্রল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার ছেলে জেমস আত্মহত্যা করেছে। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মি. মারি ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাজ করেছেন। মি. মারি বলছেন, ছেলেমেয়েদের যখন মানসিক সমস্যা হবে, তারা যেন এ নিয়ে বাবা মায়েদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে সে বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করতে হবে।
হায়ার এডুকেশন পলিসি ইন্সটিটিউটের পরিচালক নিক হিলম্যান বলেছেন, 'পরিবার ও বন্ধুবান্ধব থেকে দূরে' থাকার কারণে এবং আরো নানা কারণে শিক্ষার্থীরা যে কত চাপের মধ্যে থাকে সেটিই উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
বাকিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার অ্যান্টনি সেলডম বলেছেন, শিক্ষার্থীরা তাদের বাবা-মা বা অভিভাবকদেরকে সব তথ্য জানাতে আগ্রহী নয় বলে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, সেটি যে মিথ্যে, সেটিই প্রমাণ হয়েছে এই জরিপে।
চাপের কারণ
এই জরিপে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি বা পড়ালেখার খরচ নিয়ে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগে ভোগে। এদের মধ্যে যাদের পড়ার খরচ তারা নিজেরাই বহন করে, তাদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টি বিষয়ক এই জরিপ থেকে জানা যায়, স্কটল্যান্ড যেখানে স্কটিশ শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ফি নেই, সেখানে ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের তুলনায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের উচ্চতর মূল্যবোধের অধিকারী মনে কর। সেখানকার শিক্ষার্থীরা বরং শিক্ষার মান নিয়ে বেশি মনোযোগী হতে পারে।
এছাড়া পরিবার, পড়ালেখার চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রণয়ঘটিত ব্যাপার নিয়েও মানসিক চাপে থাকে শিক্ষার্থীরা। সূত্র : বিবিসি।

ভয়ঙ্কর প্লাস্টিক দূষণ, বছরে ক্ষতি ৬১৫০ কোটি টাকা by জিয়া চৌধুরী

পরিবেশ ও জীবনের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে উঠছে প্লাস্টিক বর্জ্য। অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ায় দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে সংকট। এভাবে চলতে থাকলে প্লাস্টিক বর্জ্য দেশে বড় বিপদ ডেকে আনতে  পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকাসহ সব বড় শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্লাস্টিক জাতীয় পণ্যের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় পুনর্ব্যবহার করা যাচ্ছে না এসব পণ্যের।
পাশাপাশি সিটি করপোরশেনগুলো প্লাস্টিক বর্জ্যের জন্য আলাদা গ্রেডিং ও ব্যবস্থাপনা না করায় গৃহস্থালির প্রাকৃতিক বা অরগানিক বর্জ্যও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রাকৃতিক বর্জ্যের সাথে মিশে এসব প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ছে পরিবেশে। সরাসরি দূষণের পাশাপাশি জলাশয়ে গিয়ে মিশে জলজ প্রাণির জীবনচক্রে প্রভাব ফেলছে পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্য। বছরের পর বছর ধরে ঠিকে থাকা এসব প্লাস্টিক পণ্য বিরূপ প্রভাব ফেলছে মানুষের খাদ্যচক্রেও।
ওয়েস্ট কনসার্ন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসেবে দেখা গেছে, বছরে বাংলাদেশে অন্তত ১০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে যার বেশিরভাগ পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্যের কারণে বছরে ৬১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে। পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি রুখতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলাদা নীতিমালা প্রণয়ণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গ্রেডিং সিস্টেম ও জিরো ওয়েস্ট পদ্ধতির চালুর সুপারিশ করেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। এরই মধ্যে, দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনরায় ব্যবহারের উদ্যোগ শুরু করে দিয়েছেন অনেকে।
পুরনো ফেলে দেয়া প্লাস্টিক থেকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরিসহ বিদেশেও রপ্তানি করা শুরু করেছেন অনেক উদ্যোক্তা। তারা বলছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে সরকার এখনো মনোযোগী নয়। বেসরকারিভাবে অনেকে উদ্যোগ নিলেও সরকারি প্রণোদনার অভাবে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ‘বাংলাদেশে প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রভাব ও পুনর্ব্যবহার’ বিষয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক ও দুইজন শিক্ষার্থী একটি গবেষণা করছেন।
অতিরিক্ত মাত্রায় প্লাস্টিকের ব্যবহারকে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে গবেষণায়। তবে প্লাস্টিক বর্জ্য শুধুই সংকট নয় সম্ভাবনা বলেও মনে করছে ওই গবেষণা দল। শাবিপ্রবি’র রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষণা দলের সদস্য মো. মাহমুদুল হাসান গতকাল মানবজমিনকে বলেন, গৃহস্থালি, অফিস ও কারখানার প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের একটা বড় সুযোগ রয়েছে। তবে হতাশার বিষয়, আমরা এখনো সে বিষয়ে কোন উদ্যোগ নিতে পারিনি। শাবিপ্রবি’র ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে প্রতিদিন দেশে প্রায় ৫ হাজার ৬০ টন বর্জ্য তৈরি হতো। বছরে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬ লাখ টন। তবে, ২০২৫ সাল নাগাদ প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার টনের বেশি বর্জ্য তৈরি হবে বলে গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বছরে যার পরিমান দাঁড়াবে প্রায় ৫৫ লাখ টনে। বর্জ্য অপসারণে নাগরিকদের তেমন কোন অংশগ্রহণ নেই বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিপুল জনসংখ্যার অধিকাংশই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় না হওয়ায় এটি এক ধরনের চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও সেবা সংস্থাগুলোকে আরো উদ্যোগী হতে হবে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
দেশের রাজধানী খোদ ঢাকাতেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র দেখা গেছে, যেখানে মাত্র শতকরা ৩৭ ভাগ বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। গত প্রায় এক দশকে দেশে প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক জাতীয় পণ্যের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার প্রসঙ্গে কিছুটা ইঙ্গিত করা হয়েছে ওই গবেষণায়। মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়েস্টে (এমএসডব্লিউ) দিন দিন প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। দেশের নগর ও শিল্প এলাকায় খাবার ও কাগজ জাতীয় বর্জ্যের পরেই সবচেয়ে বেশি বর্জ্য তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক থেকে। এমনকি গ্রাম ও প্রান্তিক এলাকায়ও প্লাস্টিক শপিং ব্যাগ, প্লাস্টিক প্যাকেজিং, পিইটি বোতল ও গৃহস্থালি কাজে প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণে পলি বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে।
২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল এই এক দশকে দেশের নগর এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে শতকরা প্রায় ২.৬০ ভাগ। এই সময়ে শহর ও পৌরসভা এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনের হার বেড়েছে যথাক্রমে শতকরা প্রায় ৩.৩০ ও ৩.৭৩ ভাগ। বেশ কয়েকটি সংগঠন ও সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে এসব প্লাস্টিক বর্জ্যের শতকরা প্রায় ৭২ ভাগ পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে না। প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে দেশে বছরে প্রায় ৬১৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলেও গবেষণায় জানানো হয়েছে।
এছাড়া, দেশের ভেতরে প্রায় ৫ হাজার ছোট-বড় প্লাস্টিক কারখানায় বছরে ৪ হাজার টন প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন হয়। এসব পণ্যের চার ভাগের প্রায় এক ভাগ বর্জ্য হিসেবে থেকে যাচ্ছে, যা পুনরায় ব্যবহার হচ্ছে না। উৎপাদিত বর্জ্যের শতকার মাত্র ২৮ ভাগ পুনরায় ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে, এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করলে জ্বালানি তেলের বড় যোগান হবে বলেও শাবিপ্রবির গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে, এনভায়রন্টমেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে।
সংগঠনটির মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, গৃহস্থালি কাজে বহুবার ব্যবহার করা যায় এমন প্লাস্টিক পণ্য দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশঙ্কার কারণ হচ্ছে মাত্র এক বার ব্যবহার করা হয় এমন প্লাস্টিক সামগ্রী। সামাজিক অনুষ্ঠান ও খাবারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব পণ্য। তবে সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিক পণ্যের কারণে দেশে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমান বাড়ছে।
তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে দেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণও বাড়ছে বলে জানান এসডো’র মহাসচিব। শাহরিয়ার হোসেন মানজমিনকে জানান, ই-বর্জ্যের প্রায় শতকরা ৭০ ভাগেই থাকে প্লাস্টিক। প্রচলিত বর্জ্য থেকে আলাদা করে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন ও সেবা সংস্থাগুলো কোন উদ্যোগ নেয়নি। প্রচলিত গৃহস্থালির প্রাকৃতিক বর্জ্যের সঙ্গে ডাম্পিং স্টেশনগুলোতে অপসারণ করার ফলে ক্ষতির মাত্রা আরো বেশি হচ্ছে। পোড়ানোর পর, তা মাটি ও জল ও বাতাসে মিশে থাকছে। প্রভাব ফেলছে মানুষের খাদ্যচক্রেও।
শাহয়িরার হোসেন আরো বলেন, গৃহস্থালি ও বাসাবাড়ির প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ বর্জ্য অর্গানিক। তবে, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণে কোন আলাদা পদ্ধতি না থাকায় পচনশীল বর্জ্য কোন কাজে আসছে না। সিটি করপোরেশন থেকে লাল, হলুদ ও সবুজ তিন রংয়ের আলাদা চিহ্নিত ক্যানে বর্জ্য সংগ্রহে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, এসব বর্জ্য ডাম্পিয়ের সময় প্লাস্টিক বর্জ্যকে আলাদা চেম্বারে রেখে অর্গানিক বর্জ্য থেকে সার বা প্রয়োজনীয় কাজে লাগানো সম্ভব বলেও মত তার। তিনি আরো বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জিরো ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রসেসের দিকে মনোযোগী হতে হবে। যাতে করে, বর্জ্যের পরিমাণ না বাড়ে, পুনর্ব্যবহার বাড়াতে হবে। এদিকে, প্লাস্টিক বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার করে আবারো পণ্য উৎপাদন শুরু করেছে ইনোকা বাংলাদেশে প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মো. নিয়ামুল কবির মিঠু বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব। সরকারকে এমন উদ্যোগে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি, যারা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরি করছে তাদেরও প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে, দেশে প্লাস্টিক বর্জ্যের জিরো ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে যাওয়া সম্ভব।