Wednesday, November 14, 2018

ফের হেলমেট বাহিনী!

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রিয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলীয় কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় হেলমেট বাহিনীর তান্ডব দেখা গেছে। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও মাথায় হেলমেট পড়ে একদল যুবক পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে।
এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর একইভাবে হামলা করতে দেখা গেছে হেলমেট পরা একদল যুবককে।
সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশাল কর্মী বাহিনীও ছিলো। নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এই সময় পুলিশ শোডাউনের পেছনে থাকা দুই বিএনপি কর্মীকে লাঠিচার্জ করে। তারা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।
কিন্তু পুলিশ আবারো লাঠিচার্জ করলে উত্তেজিত কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মী আহত হয়। এতে বিএনপি কর্মীরা সরে গিয়ে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এরইমধ্যে একদল যুবক মুখে কালো কাপড় এবং মাথায় হেলমেট পরে পুলিশের গাড়ির ওপর তান্ডব চালায়। ভাঙচুর করতে থাকে। তারা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সংঘর্ষ শুরুর আগে গত দুই দিনের মতো আজকে শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়নপত্র বিতরণ ও গ্রহণ চলছিল। একইভাবে সেখানে সমাগম ছিল বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক।

নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষ: হঠাৎ যেভাবে বদলে যায় দৃশ্যপট

সব কিছু ঠিক চলছিল। তৃতীয় দিনও উৎসবের আমেজে বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনছিলেন ধানের শীষ প্রতীক প্রত্যাশীরা। সময় প্রায় দুপুর ১টার সময় হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পরির্বতন হয়ে যায়। বিএনপি অফিসের সামনে সড়কে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের সরাতে যায় পুলিশ। এতে বাঁধ সাধে বিএনপির নেতাকর্মীরা। পুলিশ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বাক বিতন্ডা হয় তাদের। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট  ছুড়ে।
দফায় দফায় প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে।
এসময়  পুলিশের   দুটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। বেশ কিছু মটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষের সময় বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী আহন হন। তাদের চিকিৎসা দিতে বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
মহিলা দলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আহত মুকুল আক্তার কনা মানবজমিনকে বলেন, আমরা কিছু বুঝে উঠতে পারনি। পুলিশ আমাদের উপর হালমা চালায়। তিনি বলেন, কিছু বুঝে উঠার আগে দেখি চারিদিক থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছে। আমার মাথায় একটি ছোররা গুলি লাগে। এসময় আমি মাটিতে শুয়ে পড়ি। গুলি ছোড়া কমলে উঠে পার্টি অফিসে প্রবেশ করি
বিনা উস্কানিতে পুলিশ আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে দুপুর ২টায় বিএনপি অফিসের নিচে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, বিনা উস্কানিতে সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশবাহিনী অতর্কিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে।
আপনারা মৌছাকে ঢিল মেরেছেন কেন? পুলিশ বাহিনীর কাছে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আপনারা ভেবেছেন আমাদের শান্তিপূর্ণ এই মনোনয়ন ফরম বিক্রি করার সময় হামলা চালিয়ে আমাদের স্বাভাবিক কাজ বন্ধ করবেন সেটি আর হবে না। কোন রক্ত চক্ষুকে শহীদ জিয়া সৈনিকেরা ভয় করে না। এই আক্রমণ সরকারের নির্দেশে দাবি করে রিজভী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের নির্দেশেই আমাদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনী। আমাদের নেতাকর্মীদের গুলি করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

অ্যামনেস্টির খেতাব হারালেন সু চি

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি'কে দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রত্যাহার করে নিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার আনুষ্ঠানিকভবে এ ঘোষণা দেয় মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠনটি। এতে বলা হয়, সু চি তার এক সময়কার নৈতিক অবস্থান থেকে 'লজ্জাজনকভাবে' সরে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে সেখান থেকে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে আরও সাত লাখ রোহিঙ্গা। এ ঘটনায় ইতোপূর্বে আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সু চি'কে দেওয়া খেতাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, কানাডার পার্লামেন্টের দেওয়া সম্মানসূচক নাগরিকত্ব, ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের দেওয়া সম্মাননা, গ্লাসগো নগর কাউন্সিলের দেওয়া ফ্রিডম অফ সিটি খেতাবসহ আরও অনেক সম্মাননা। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো লন্ডনভিত্তিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এর আগে জাতিসংঘও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্মি সেনাবাহিনীর অভিযানকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছে। এই অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছে।
২০০৯ সালে অং সান সু চি'কে 'অ্যাম্বাসাডর অব কনশেন্স' বা 'বিবেকের দূত' খেতাব দিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
গৃহবন্দি থাকার সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অং সান সু চি'র শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল। সেই সম্মাননাই এখন প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। সংস্থাটির মহাসচিব কুমি নাইডু এক চিঠির মাধ্যমে অং সান সু চি'কে এই খবর জানিয়ে দিয়েছেন।
কুমি নাইডু লিখেছেন, ‘আট বছর আগে গৃহবন্দি থাকা নেত্রী ক্ষমতা গ্রহণের পর তার রাজনৈতিক নীতি-আদর্শ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা ভুলে সামরিক বাহিনীর চালানো জাতিগত নিধনযজ্ঞ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে ছিলেন উদাসীন।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, সংস্থার একজন দূত হিসেবে সু চি'র কাছে প্রত্যাশা ছিল, শুধু মিয়ানমারের ভেতরে নয়, পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তের অবিচারের বিরুদ্ধে আপনি আপনার নৈতিক কর্তৃত্ব ও ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু আমরা গভীর দুঃখ ভারাক্রান্ত। কারণ আপনি আর আশা, সাহস এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেন না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আপনাকে দেওয়া 'অ্যাম্বাসেডর অব কনসায়েন্স' সম্মাননা অব্যাহত রাখার কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অং সান সু চি'র নেতৃত্বে বেসামরিক সরকার মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল।
রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযানের কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, গত বছর নিধনযজ্ঞ চলার সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে হাজারো মানুষ। ধর্ষিত হয়েছে অগণিত নারী ও শিশু, আটক ও নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পায়নি বৃদ্ধ, শিশু এবং কিশোরও। শতাধিক গ্রাম আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় অস্বীকার করে অং সান সু চি ও তার দফতর তাদের রক্ষা করেছে।
কুমি নাইডু লিখেছেন, ভয়ঙ্কর নিপীড়ন এবং নির্যাতনের এসব ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে কিংবা রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত লাখো রোহিঙ্গার জীবনমান উন্নয়নের বা পরিবর্তনের আশা ক্ষীণ। নৃশংসতা থামাতে ভবিষ্যতে সরকারের উদ্যোগ কেমন হতে পারে তা সহজেই বোঝা যায় যখন একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের কথা অস্বীকার করে রাষ্ট্রযন্ত্র।
সংস্থাটি বলছে, সামরিক বাহিনীর বিস্তর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আইন তৈরি ও সংশোধনের বেশ কিছু ক্ষমতা ছিল বেসামরিক সরকারের হাতে। কিন্তু অং সান সু চি'র সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দু'বছরের মাথায় মানবাধিকার কর্মী, শান্তিকর্মী ও সাংবাদিকদের হুমকি, ভয়, হয়রানির শিকার এমনকি কারাবরণ করতে হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, অং সান সু চি সাহায্য করুন আর নাই করুন, মিয়ানমারে বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিতের ব্যাপারে তারা তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে। সূত্র: বিবিসি।

বিধ্বস্ত লায়ন এয়ারের যাত্রীর শেষ ইচ্ছে পূরণে বিয়ের পোশাকে বাগদত্তা

একটা সত্যি গল্প। ইন্দোনেশিয়ার পাঙ্কাল পিনাংয়ে বাকতি তিমাহ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন চিকিৎসক রিও নন্দ প্রতামা। তার বাগদত্তা একই জায়গায় হিসাব বিভাগে দায়িত্ব পালন করা ইনতান সিয়ারি। গত ১১ নভেম্বর বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আদিয়েলা নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেন দু’জনে। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা ভেস্তে দিলো সেই পরিকল্পনা।
গত ২৯ অক্টোবর জাকার্তা থেকে লায়ন এয়ারের জেটি৬১০ ফ্লাইটে চড়ে পাঙ্কাল পিনাংয়ের দিকে যাচ্ছিলেন রিও নন্দ প্রতামা। কিন্তু উড্ডয়নের ১৩ মিনিট পর বিধ্বস্ত হয় এই আকাশযান। এতে যাত্রী ছিলেন মোট ১৮৯। ২৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকসহ তাদের সবাই নিহত হন।
জাকার্তায় একটি সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রিও নন্দ প্রতামা। কিন্তু তাকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে। সেই সঙ্গে নতুন একটা সংসার গড়ার আগেই চিরতরে ভেসে গেলো। তবে তার শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে বিয়ের পোশাকে সাজলেন ২৬ বছর বয়সী ইনতান সিয়ারি। সেই সময় তোলা কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেছেন তিনি। এগুলো এখন ভাইরাল।
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ইনতান সিয়ারি জানান, জাকার্তায় সম্মেলনে যাওয়ার আগে তাকে রসিকতা করে রিও নন্দ প্রতামা বলেছিলেন, ‘১১ নভেম্বরের মধ্যে আমি ফিরে না এলেও বিয়ের জন্য তৈরি হবে। যে বিয়ের পোশাক আমি তোমার জন্য পছন্দ করেছি সেটা পরবে। খুব সুন্দরভাবে সাজবে। শিলার (বিয়ের আয়োজক) কাছ থেকে তরতাজা সাদা গোলাপ চেয়ে নেবে। এটা হাতে নিয়ে ছবি তুলবে। এরপর আমাকে এসব ছবি পাঠিয়ে দেবে।’
প্রেমিকের শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে ঠিক ১১ নভেম্বর সাদা রঙের বিয়ের পোশাক ও সাদা হিজাবে সাজেন ইনতান। তার হাতে ছিল সাদা গোলাপ। একটি ছবিতে ক্যামেরায় বাগদানের আংটি দেখিয়েছেন তিনি।
ক্যাপশনে রিওকে উদ্দেশ্য করে ইনতান লিখেছেন, ‘আমার বিষণ্নতাগুলো বর্ণনা করার মতো নয়। তবে তোমার জন্য আমার মুখে হাসি আছে। আমি শোকাহত হবো না। আমাকে শক্ত থাকতে হবে, যেমনটা তুমি সবসময় বলতে।’
রিওর বোনের সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে ইনতান লিখেছেন, ‘তুমি যদিও আমার পাশে নেই, তোমার বোন এখানে আছে। আমরা তোমার সুন্দর শেষ ইচ্ছে পূরণ করছি। জানি তুমি খুশি হচ্ছো।’
সিঙ্গাপুরের ইংরেজি দৈনিক দ্য স্ট্রেইটস টাইমসকে ইনতান বলেন, ‘ও (রিও) দারুণ একজন মানুষ ছিল। রোগীদের সবসময় সহযোগিতা করতে চাইতো। ওর কথা সবসময় মনে পড়ে।’
লায়ন এয়ারের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ইনতানের মতো অনেকেই কাছের মানুষ ও স্বজন হারিয়েছেন। এটি ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার মধ্যে অন্যতম। সবশেষ ১৯৯৭ সালে মেদান শহরে গারুদা ইন্দোনেশিয়ার বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৩৪ যাত্রীর সবাই প্রাণ হারান।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

অযোধ্যা ইস্যুতে দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ

ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বারবী মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য
ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরী মসজিদ-রাম জন্মভূমি মামলায় হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে দ্রুত শুনানির যে আবেদন করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছে। সোমবার হিন্দু মহাসভার ওই আবেদন সুপ্রিম কোর্টে উঠলে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ তা খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেটাই বহাল থাকবে।’
ওই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে বিজেপি ও হিন্দু সংগঠনগুলো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে গত ২৯ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি ওই আবেদন নাকচ করে দিয়ে মামলার শুনানি কবে হবে, তা আগামী জানুয়ারিতে ঠিক হবে বলে জানিয়ে দেন।
এদিকে রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত্ এরইমধ্যে আভাস দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষা না করে সরকারকে দ্রুত রাম মন্দির নির্মাণে আইন আনতে হবে। কিছুদিন আগেই আরএসএস সাধু-সন্তদের নিয়ে যে সম্মেলন করেছে তাতে রাম মন্দির নির্মাণের খসড়া তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগেই রাম মন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে তারা জোরালো আন্দোলনের কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ হওয়া প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ-এর পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির প্রসঙ্গে ভারতীয় মুসলিম বিশেষ করে বাবরী মসজিদ অ্যাকশন কমিটি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিচারের ওপরে আস্থা রেখেছে। সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে যে রায় দেবে তারা সেই রায় মেনে নেবে, তা শুরু থেকেই বলে আসছে। কিন্তু এখানে শাসকদল বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এমনকি আরএসএসের কোনও কোনও নেতারা গায়ের জোরে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণ করতে চাচ্ছেন। এমনকি তারা আদালতের ওপরে চাপ তৈরি করে তাদের স্বপক্ষে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির দাবি জানাচ্ছেন যাতে সহজেই সেখানে রাম মন্দির নির্মাণ করা যায়। আমরা আদালতের ওপরে আস্থা রেখেছি এবং এ ব্যাপারে আমরা খুশি যে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি ওদের আবেদন খারিজ করেছেন। হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে দ্রুত শুনানির যে আবেদন করা হয়েছিল তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। সময়মতো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এজন্য সুপ্রিম কোর্টকে আমাদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমত, ২০১৯ সালে লোকসভার যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেই নির্বাচনের আগে বরাবরের ন্যায় সাম্প্রদায়িক দলগুলো মন্দির-মসজিদ ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর মধ্য দিয়ে মেরুকরণের চেষ্টা করে ভোট বিভাজন করে তারা রাজনীতিতে জয়ী হতে চায়। ভারতের যে বড় বড় জাতীয় সমস্যা আছে সেদিকে তদের ভ্রুক্ষেপ নেই। অর্থনৈতিক সমস্যা, বেকারত্বের সমস্যা,  চিকিৎসা ব্যবস্থা সঙ্কটের সমস্যা, মুদ্রাস্ফীতির সমস্যা, ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার সমস্যা, দুর্নীতির সমস্যার দিক থেকে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এজন্য তাঁরা অর্ডিন্যান্স জারি করে, গায়ের জোরে, হিন্দু ভাবাবেগের নামে মন্দির নির্মাণ করতে চাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনের আগে তাদের এধরণের তৎপরতা থেকে প্রমাণ হচ্ছে তারা রাজনীতিই করতে চাচ্ছে, ধর্ম তাদের কাছে মুখ্য ইস্যু নয়। রাম মন্দির হবে কি, হবে না সেটা তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা মন্দির ইস্যু করে ভারতীয় রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের চেষ্টা করতে চায়। দিনের পর দিন গোটা বিশ্ববাসী তা দেখতে পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ওই দলগুলোর ফ্যাসিস্ট চরিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা গণতন্ত্র মানে না, আদালতের রায় মানে না, আইনের শাসন মানে না। কেবল ধর্মীয় আবেগ ও ‘মিথ’কে বাস্তবায়িত করতে গায়ের জোরে কাজ করতে চাচ্ছে যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। এটা দেশের জন্য, মানবতার জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়। সেজন্য ভারতীয় মুসলিমরা আদালতের ওপরে আস্থা রেখেছে, বিচার ব্যবস্থার ওপরে আস্থাশীল। তারা কখনোই আইন হাতে তুলে নেওয়ার কথা বলেনি এবং আগামীতেও বলবে না বলে আশা রাখি। আমরা সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান অবস্থানকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং আশা করছি যে, আদালত এই বিষয়ে যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সঠিক সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবে।’ সূত্র: পার্স টুডে।

মায়ের কাছে ফেরার আকুতি নাহিদের by শুভ্র দেব ও কাজী আল আমিন

ট্রেনে কাটা পড়ে হাতা-পা হারানো নাহিদ মায়ের কাছে ফিরতে চায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) এখন অনেকটা অযত্ন-অবহেলায়   দিন কাটছে তার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগের মতো বিশেষভাবে খোঁজ রাখছে না। হাত-পায়ের ক্ষত কিছুটা শুকালেও মানসিকভাবে এখনও সুস্থ নয় সে। ঢামেকের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে গতকাল দেখা যায়, আনমনা হয়ে শুয়ে আছে নাহিদ। স্বাস্থ্য অনেক কমে গেছে। আগের চেয়ে মুখটা অনেক মলিন হয়ে গেছে।  চেহারার মধ্যে দুশ্চিন্তার ছাপ। নাহিদ মানবজমিনকে বলে, আগে আশেপাশের অনেকেই আমার খোঁজ নিতো।
খাবার কিনে দিতো। এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। এখানে থাকতে আমার একদম ভালো লাগছে না। আমি মায়ের কাছে যেতে চাই। নাহিদ বলে, হাত-পায়ের অবস্থা ভালো না। নড়াচড়া করা যাচ্ছে না। বেডে শুয়ে শুয়েই মলমূত্র ত্যাগ করতে হয়। সে আরো জানায়, এক নাগাড়ে হাসপাতালের খাবার খেতে তার আর ভালো লাগে না। তার কাছে ভালো খাবার কেনার টাকা নাই। বিরিয়ানি খেতে তার খুব ইচ্ছে করে। সব কিছু মিলিয়ে অনেক ভেঙ্গে পড়েছে নাহিদ। এখন তার একটাই আকুতি, মায়ের কাছে ফিরতে চায়। কিন্তু দুর্ঘটনায় পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত ৯ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকার কাওরান বাজার-মগবাজার রেললাইনের মাঝামাঝি স্থানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ৯ বছর বয়সী শিশু নাহিদ। তার বাড়ি আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায়। ট্রেনে ট্রেনে বোতলজাত পানি বিক্রি করে করে সে ঢাকা আসছিল। ক্লান্ত শরীরে এক সময় সে ঘুমিয়ে পড়ে ট্রেনের ছাদে। গভীর ঘুমে থাকা নাহিদের টাকা ও পানি নেয়ার জন্য দুর্র্র্বৃত্তরা তাকে ফেলে দেয় ট্রেনের ছাদ থেকে। এতে তার ডান পা পুরো ও বাম হাতের কিছু অংশ কাটা পড়ে। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ সদস্য আলি রেজা সেলিম তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক ছিল। এক পুলিশ সদস্য তাকে রক্ত দিয়ে বাঁচান। আর চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে কেটে দেন তার ডান পা ও বাম হাতের কিছুটা অংশ। বর্তমানে নাহিদ ভর্তি আছে ঢামেক হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের অর্থোপেডিকস ইউনিট-২। এই ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা মানবজমিকে বলেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে তার আরো কিছুদিন সময় লাগবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করছি।
এদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নাহিদকে নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায়। রিপোর্ট প্রকাশের পর নাহিদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন এক আমেরিকা প্রবাসী। এ ছাড়া হাসপাতালে গিয়ে নাহিদকে দেখে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। তখন হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে আমেরিকা প্রবাসীর সাহায্যের টাকা নিয়ে সাক্ষাৎ করেন মানবজমিনের একটি টিম। পরিচালক সেই টাকা গ্রহণ না করে তার চিকিৎসার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান। এমনকি সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়ার জন্য অবগত করেন। অভিযোগ আছে ওয়ার্ড মাস্টার জিল্লুর রহমান ও অন্যান্য স্টাফরা নাহিদের কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছেন না।

মাহবুব তালুকদারের পাঁচ ‘নি’

সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের  নির্দ্বিধায় পাঁচটি ‘নি’ পালনের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘একজন বিচারকের মতো নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে আমরা যে শপথ নিয়েছি, আপনারাও আমাদের সেই শপথের অংশীদার। আপনাদের মাধ্যমে আমাদের শপথ বাস্তবায়ন করতে হয়। এক্ষেত্রে আপনাদের কাজের কোনও ব্যত্যয় ঘটার অবকাশ নেই।’ মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) কমিশনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনি প্রশিক্ষণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে পাঁচটি ‘নি’ দিয়ে ব্যাখ্যা করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘‘প্রথম 'নি' হচ্ছে নিশ্চয়তা। এটা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা। এই নিশ্চয়তার অর্থ ভোটার ও রাজনৈতিক দলের আস্থার সৃষ্টি। দ্বিতীয় ‘নি’ হচ্ছে নিরপেক্ষতা। নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়া ও কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি কমিশনের পক্ষে এই নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। তৃতীয় ‘নি’ হচ্ছে নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা ভোটার, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে নির্বাচনকালে কমিশনে প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা দরকার। চতুর্থ ‘নি’ হচ্ছে নিয়ম-নীতি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর বিধি-বিধান প্রতিপালনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এবং পঞ্চম ‘নি’ হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচন অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে।’’ স্বনিয়ন্ত্রণই নির্বাচন কমিশনের মূল কথা বলেও তিনি মন্তব্য করেনে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসির অধীনে আনা উচিত

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আনা দরকার  বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গতকাল রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পাঁচটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন মাহবুব তালুকদার।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথম বিষয় হচ্ছে নিশ্চয়তা। এটা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা। এই নিশ্চয়তার অর্থ ভোটার ও রাজনৈতিক দলের আস্থার সৃষ্টি। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে নিরপেক্ষতা। নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান ও কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি কমিশনের পক্ষে এই নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। তৃতীয় বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা।
এই নিরাপত্তা ভোটার, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে নির্বাচনকালে কমিশনে প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা দরকার। চতুর্থ বিষয় হচ্ছে নিয়মনীতি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর বিধি-বিধান প্রতিপালনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পঞ্চম বিষয়টি হলো নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচন অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। স্বনিয়ন্ত্রণই নির্বাচন কমিশনের মূল কথা। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নিশ্চয়তা, নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়ম-নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মাহবুব তালুকদার আরো বলেন, আপনারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের সঙ্গে জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা জড়িত। নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। একজন বিচারকের মতো নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে আমরা যে শপথ নিয়েছি আপনারা আমাদের সেই শপথের অংশীদার। কারণ আপনাদের মাধ্যমে আমাদের শপথ বাস্তবায়ন করতে হয়। এক্ষেত্রে আপনাদের কাজের কোনো ব্যত্যয় ঘটার অবকাশ নেই।
তিনি বলেন, ভোট জনগণের পবিত্র আমানত। সে আমানত আপনাদের কাছে রক্ষিত। জনগণের আমানত যাতে খেয়ানত না হয় তার দায়িত্ব আপনাদের। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটের আমানত ফিরিয়ে দিতে হবে। একজন ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বীয় ইচ্ছে অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে- এই নিশ্চয়তা দিতে না পারলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। আমাদের এবারের নির্বাচন আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্বাচন। আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিতে পারি না। এজন্য আমরা শূন্য সহিষ্ণু নীতি বা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো প্রকার শিথিলতা আমরা বরদাশত করবো না।
নির্বাচনে গাফিলতির জন্য যে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে তা প্রয়োগ করতে আমরা মোটেই দ্বিধা করবো না। কমিশনার মাহবুব তালুকদারদের রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, নির্বাচনী কাজে আপনারা ১৬ কোটি মানুষের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনকানুনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরি করলেও আপনাদের এখন দায়িত্ব পালনে একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই মুহূর্তে আপনাদের আনুগত্য কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনের প্রতি। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য হবে এই প্রত্যাশায় সমগ্র জাতি আজ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ৫ দফা প্রস্তাব রেখেছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। প্রস্তাবে তিনি বলেন, সংলাপের সুপারিশে অংশীজনের অনেকে নির্বাচনকালে সার্বিকভাবে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে বলেছেন। কেউ কেউ অর্থ, তথ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কেও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনার সুপারিশ করেছেন। বিষয়টি বিতর্কমূলক, সন্দেহ নেই। তবে আমার মনে হয় বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য। নির্বাচন কমিশনের কাছে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পিত হলে নির্বাচনে জনগণের আস্থা বেড়ে যাবে এবং নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে তা সহায়ক হবে।

পল্টনে অন্যরকম দৃশ্য

দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিপুল সমাগমে দ্বিতীয় দিনের মতো জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছিল রাজধানীর নয়াপল্টন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে ফকিরাপুল মোড় থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত ছিল মানুষ আর মানুষ। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না সেখানে। আশপাশের অলিগলিতেও একই অবস্থা। ব্যান্ড বাদ্য বাজিয়ে, হাতি নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসেছেন অনেক প্রার্থী। প্রার্থীদের সঙ্গে আসা নেতাকর্মীদের হাতে হাতে ছিল ধানের শীষ আর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্লাকার্ড। এ সময় খালেদা জিয়ার মুক্তির স্লোগানে স্লোগানে তারা মুখরিত করে তুলে নয়াপল্টন।
দিনভর বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিলের পর মিছিল দেখে মনে হয় রাজধানীর সব পথ যেন মিলেছে নয়াপল্টনে। এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করছেন সারা দেশ থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা।
মনোনয়নপত্র বিক্রি চলবে ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত। দীর্ঘ ১০ বছর পর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী উৎসব। গতকাল দিনভর শান্তিনগর, কাকরাইল, বিজয় নগর, রাজারবাগ এলাকার প্রায় সব রাস্তাতেই দেখা যায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে যাচ্ছেন নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। নেতাকর্মীরা ফকিরাপুল মোড় থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত মিছিল নিয়ে দিয়েছেন শোডাউন। এতে কার্যালয়ের সামনে অস্বাভাবিক ভিড় জমে। এ ভিড় সামলে মনোনয়ন কিনতে হিমশিম খেতে হয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। রোববার বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণের প্রথম দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রি হয় ১৩২৬টি। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত বিক্রি হয় ১৩১৫টি। আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ মনোনয়ন ফরম বিক্রি।
ব্যান্ড দলের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম দুইটি হাতি নিয়ে মনোনয়ন ফরম কিনতে আসেন নেতা-কর্মীদের  নিয়ে। মঙ্গলবার স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে কুমিল্লার দুইটি আসনে মনোনয়নে ফরম কিনেন তার ছেলে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। ঢাকার কেরানীগঞ্জ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। কুমিল্লা-৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র কেনেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ।
দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি ওই আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন একবার। বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-৬ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার। ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনের জন্য বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র কেনেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ার জন্য ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন। জোট রাজনীতির কারণে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বারবার ২০দলীয় জোটের সমর্থন পেয়েছে শরিক দল জামায়াতের প্রার্থী। কিন্তু এবার স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই আসনে পরিবর্তন চান।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমেদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু। জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদ বিগত ২০১৭ সালের ২২শে আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘদিন পর ৩১শে ডিসেম্বর তাকে পুলিশ উদ্ধার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। কয়েক মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কারাবন্দি আলহাজ মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে কুমিল্লা-৬ ও ১০ আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া ফেনী-৩ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, ফেনী-২ আসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ভিপি জয়নাল আবেদীন, ময়মনসিংহ-৪ আসনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বরিশাল-৩ আসনে ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, পটুয়াখালী-১ আসনে ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ঝালকাঠি-১ আসনে ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর ও টাঙ্গাইলের বাসাইল-সখীপুর আসনে ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান মনোনয়ন ফরম কেনেন।
স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য আসম হান্নান শাহ’র ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান গাজীপুর-৪ আসন, গাজীপুরের সাবেক সিটি মেয়র আবদুল মান্নান ও প্রবীণ শ্রমিক নেতা গাজীপুর মহানগর সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকার গাজীপুর-২ আসন, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন গাজীপুর-৩ আসন, জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইয়্যেদুল আলম বাবুল ও কালিয়াকৈরের মেয়র মজিবুর রহমান গাজীপুর-১ আসন, ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও জেলা যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ গাজীপুর-৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
বিএনপির কারাবন্দি যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তার ভাই ইসহাক কাদের চৌধুরী। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রীও সংগ্রহ করেছেন মনোনয়নপত্র। যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জন্য টাঙ্গাইলের দুই আসন থেকে মনোনয়নপত্র নেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান বরিশাল-৩ আসন, সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন নোয়াখালী-১ ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান নরসিংদী-৩ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
ভোলা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন। যশোর-৩ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদ্যপ্রয়াত সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে ও দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ডা. মুহিত, জামালপুর-৩ আসনে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, চট্টগ্রাম-২ আসনে দলের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা-১৭ আসনে ব্যবসায়ী কামাল জামান মোল্লা, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আসনে ব্যবসায়ী এমএ হান্নান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে শরীফুল আলম, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ঢাকা-৪ আসন ও নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী চাঁদপুর-৩, ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম-৯, গাজী সিরাজ চট্টগ্রাম-১২, এম আবদুল্লাহ ফেনী-৩, আকবর হোসেন খন্দকার মানিকগঞ্জ-১, বেনজির আহমেদ টিটু টাঙ্গাইল-৪, শহীদুল্লাহ ইমরান নেত্রকোনা-৫, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ নারায়ণগঞ্জ-৪, ঢাকা-১২ আসনের জন্য শেখ রবিউল আলম ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ঢাকা-১৭ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
দ্বিতীয় দিন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৬ জন নেতা। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, নরসিংদী-৪ আসনের জন্য সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যশোর-৬ আসনের জন্য সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের জন্য সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের জন্য সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, ঝিনাইদহ-৪ আসনের জন্য কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ফেনী-৩ আসনের জন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরেজ জামান, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীর পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয় এবং ঝালকাঠী-২ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, নেত্রকোনা-১ আসনের জন্য সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক সোহাগ, কুমিল্লা-১০ আসনের জন্য সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন ফারুক, ফরিদপুর-৩ আসনের জন্য ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, কুমিল্লা-১ আসনের জন্য সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবুল কালাম আজাদ, নেত্রকোনা-৩ আসনে সাবেক কেন্দ্রীয় সহসমাজ কল্যাণ সম্পাদক এমজি মাসুম রাসেল এবং বগুড়া-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সাবেক কেন্দ্রীয় সহ কোষাধ্যক্ষ মো. বেলাল হোসেন বেলাল।
এ ছাড়া, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন- ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির সহ-শিক্ষা সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, চাঁদপুর-২ থেকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের প্রচার সম্পাদক লায়ন মো. সাইফুল ইসলাম সেকুল বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এদিকে, ঢাকা-৭ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে লড়তে চান বিএনপির প্রয়াত এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ছোট ভাই রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মনির। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে মনিরের পক্ষে তার মা হোসনে আরা বেগম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ময়মনসিংহ-১১ আসনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবী আব্দুর রহিম, যশোর-৫ আসন থেকে ইফতেখার সেলিম অগ্নি, চট্টগ্রাম-৪ আসনে ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, মানিকগঞ্জ-২ আসনে মাযহারুল ইসলাম খান পায়েল ও সাইফুর রহমান আসাদ দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের স্কুল যাওয়ার পথরোধ করছে ইসরায়েল: গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা, পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত

অবরুদ্ধ জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার জেরুজালেমের সিলিওয়ানে একটি স্কুলে যাওয়ার সময় ফিলিস্তিনি শিশুদের পথ আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদভিত্তিক ব্রিটিশ পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। পরে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের সীমানা নির্ধারণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফিলিস্তিনিরা চায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করা হোক। ‌আর ইসরায়েলের দাবি,জেরুজালেম অবিভাজ্য। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরেই স্বতন্ত্র দুইটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই নীতি থেকে সরে এসে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজারেমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আল-আকসা মসজিদের দক্ষিণের সিলওয়ানে একটি স্কুলে পড়ে ফিলিস্তিনি শিশুরা। সেই পথেই বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট বসিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ওয়াদি আল-হিলওয়া তথ্য কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলি দখলদারী বাহিনী ফিলিস্তিনি শিশুদের স্কুল বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায়। এতে করে রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। ত্রাণকর্মী ও শিক্ষার্থীরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা, পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্ততপক্ষে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আর গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের ছোড়া রকেটের আঘাতে নিহত হয়েছে এক ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক। সোমবার (১২ নভেম্বর) নতুন করে এ সহিংসতা হয়।। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুপ্ত অভিযানে অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‌আবারও হামলা চালালো ইসরায়েল। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে ২০১৪ সালের যুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে।
রবিবার (১১ নভেম্বর) ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ঢুকে সাতজনকে হত্যা করে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারও রয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় আরেক কমান্ডারসহ আরও পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ হামলার পর সোমবার সকালে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক রকেট হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এক ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। একইদিন গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়ে পাঁচ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।
হামাসের দাবি, সোমবার ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো বিমান হামলায় সংগঠনটির টিভি স্টেশন ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বিমান হামলার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় শেল নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনীর আর্টিলারি ইউনিট।
তার আগে গাজা উপত্যকা থেকে রকেট হামলা হওয়ার দাবি করে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তাদের আয়রন ডোম ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তার মধ্যেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র বাসে আর আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসরায়েলের একটি ভবনে আঘাত করেছে। মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) ইসরায়েলের জরুরি বিভাগ জানায়, রকেটে বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক নারীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, রকেট হামলায় তাদের এক সেনা গুরুতর আহত হয়েছে। তাছাড়া এ হামলায় আরও ২৭ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়।
সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে দুই পক্ষকেই আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। পরে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের সীমানা নির্ধারণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফিলিস্তিনিরা চায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করা হোক। ‌আর ইসরায়েলের দাবি,জেরুজালেম অবিভাজ্য। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরেই স্বতন্ত্র দুইটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই নীতি থেকে সরে এসে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজারেমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল