Monday, February 8, 2021
প্রদোষে প্রাকৃতজন : ধ্রম্নপদী ভাষ্যে দূরবর্তী জীবন by সরকার আবদুল মান্নান

কথাসাহিত্য
আবেগতাড়িত মুহূর্তের শিল্প নয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিমূর্ত
সংকেতনিচয়ের রেখাঙ্কন, এমনকি জীবন ও জগতের স্পর্শযোগ্য নয় এমন কোনো আদর্শ ও
মূল্যনিরপেক্ষ শিল্পও উপন্যাস নয়। তাহলে উপন্যাস কী? বাসত্মবিকই কি এর
কোনো আদর্শ গড়ন-সংগঠন আছে, যার মাধ্যমে উপন্যাসকে সংজ্ঞায়িত করা যায়? এমন
কোনো রীতিনীতি, স্বভাব-বৈশিষ্ট্য কি উপন্যাসে খুঁজে পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে
এর ব্যাকরণ নির্ধারণ সম্ভব? না, নাটকের মতো, কবিতার মতো, সংগীতের মতো এর
কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণ নেই। আর এই ব্যাকরণহীনতার জন্যই উপন্যাসশিল্পের
কোনো সূচনালগ্ন নেই; কোনো
দেশ-কাল-সময়ের গণ্ডেরনিরিখ নেই। তাহলে প্রতিটি উপন্যাস কি একেকটি সয়ম্ভূ বিষয়, একেকটি স্বতন্ত্র শিল্প? এর কি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসূচক কোনো পরিচয় নেই, যাতে পাঠক বলবে – এটি উপন্যাস? নিশ্চয়ই আছে এবং সেই পরিচয়সূত্র হলো গল্প, আখ্যান ও জনসম্পৃক্ততা। এই ত্রিবেণীসঙ্গমের ভেতর দিয়ে রচিত হয় উপন্যাস। সুতরাং, উপন্যাসে নাটক থাকতে পারে, কবিতা থাকতে পারে, গান থাকতে পারে, এমনকি প্রবন্ধ থেকে শুরু করে ভ্রমণকাহিনিও থাকতে পারে; পারে জ্ঞান-বিজ্ঞানের হাজারটা বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে। আত্মস্থ করার এই বিপুল ক্ষমতার জন্যই এই শিল্পটি ব্যাকরণহীন, বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে।
এই যদি হয় উপন্যাস, তাহলে কেন উপন্যাসকে আমরা বিজ্ঞানের সবচেয়ে কাছাকাছি শিল্প হিসেবে গণ্য করি? এই জিজ্ঞাসার উত্তর একটিই, তা হলো, জীবন ও জগতের ন্যায়সূত্র ধারণে উপন্যাসের মতো মহত্ত্ব আর কোনো শিল্পের নেই। জীবন ও জগতের গভীরতর অধ্যায় ন্যায়-অন্যায়ের, আদর্শ-অনাদর্শের, সুন্দর-অসুন্দরের, উচিত- অনুচিতের যে অনন্য নিরপেক্ষতার পটভূমি লক্ষ করা যায়, উপন্যাস সে-জীবনের শিল্প। এই কনটেক্সট ধর্মের নয়, মতাদর্শের নয়, এমনকি আবেগেরও নয় – সমগ্র বিষয়টিই হলো জীবনের। উপন্যাসই একমাত্র শিল্প, যেখানে জীবন তার আপন স্বভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। এই যে আপন স্বভাব – এর জন্যই উপন্যাস বিধানসংবদ্ধ নয়। প্রতিটি উপন্যাসই একটি স্বতন্ত্র স্বভাবে গড়ে ওঠে, একটি স্বতন্ত্র জগৎ ও জীবন সেখানে তার সকল সৌষ্ঠব নিয়ে তৈরি হয় অথবা বলা যায় তৈরি হয় না – জন্মে, বেড়ে ওঠে, বিকশিত হয়, বিপুলতা লাভ করে এবং সেই জীবন ও জগতের ভেতর উচ্চার্য-অনুচ্চার্য বহুতর জীবন ও জগতের আর্কেটাইপ রচিত হয়। আমাদের উপন্যাসশিল্পের পূর্বাপর যে-ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় ঘটে, সেখানে উপন্যাসশিল্পের এই ন্যায়সূত্র কীভাবে কার্যকর হয়েছে, সে-বিশেস্নষণে না গিয়েও বলা যায়, জীবনের গূঢ়তর রহস্য ও সংঘাতময়তার ভেতর-গড়ন আমাদের উপন্যাসে কখনো তাৎপর্যময় হয়ে ওঠেনি। জীবনের মহাকাব্যিক বিসত্মার ও বিপুলতার সৌন্দর্য আমাদের উপন্যাসশিল্পে দৈবাৎ ধরা দিয়েছে। আর প্রত্যেক মানুষের মধ্যে যে একেকটি স্বতন্ত্র সত্তার বাচনিকতা থেকে শুরু করে আচরণ ও ব্যবহারবিধির মধ্যে একটি স্বতন্ত্র স্বর, তথা একটি স্বতন্ত্র জীবন ও জগৎ রচিত হয়, সে-স্বাতন্ত্র্যকে স্পষ্ট করে তোলে তার স্বর। আর এসবের প্রায় ব্যাখ্যাতীত এক অন্বয়ের ভেতর দিয়ে রচিত হয় উপন্যাসশিল্প। শওকত আলী এই উপন্যাসশিল্পের শিল্পী। অসাধারণ এক মমত্ববোধের আশ্রয়ে তিনি উন্মোচন করতে চেয়েছেন মানবজীবনের বিচিত্র সম্পর্কের রহস্যময়তা, রক্তাক্ত যন্ত্রণা, মুক্তির আয়ুধ।
শওকত আলী মূলত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক। তবে তাঁর প্রথম উপন্যাস পিঙ্গল আকাশ প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে এবং প্রথম গল্পগ্রন্থ উন্মূল বাসনা
প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। এরপর তাঁর প্রচুর গল্প-উপন্যাস সবই স্বাধীনতা-উত্তর সময়ের সৃষ্টি। আর এই সুপ্রচুর কথাসাহিত্যের মধ্যে বিষয় ও ভাষা নির্বাচনের অনন্যতায় যে-উপন্যাসটি পাঠকসমাজে বিপুল খ্যাতি অর্জন করে, সেই প্রদোষে প্রাকৃতজন শীর্ষক উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে। এই উপন্যাসে তিনি বিশ শতকের প্রায় শেষপ্রামেত্ম দাঁড়িয়ে সুদূর পেছনপানে তাকিয়ে ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণের শিল্পভাষ্য রচনা করেছেন। লক্ষ্মণ সেনের (আনুমানিক ১১৭৮-১২০৬ খ্রি.) ২৮ বছরের রাজত্বকালের শেষ বছরগুলোতে তিনি বার্ধক্যে এবং ক্ষমতা প্রয়োগে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। অনেক সময় শাসনকার্য পরিচালনা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। এই দুর্বলতার সুযোগে সাম্রাজ্যের ভেতরে ঐক্য ও সংহতিতে ফাটল ধরে এবং কিছু স্বাধীন শক্তির উত্থান ঘটে। এ ছাড়া শক্তিমান ও ক্ষমতাধরদের অরাজকতা দেশময় ছড়িয়ে পড়ে। এ-পরিস্থিতিতে তুরস্কের মুসলমান অভিযানকারী বখতিয়ার খলজি অনায়াসেই বাংলা দখল করে নেন। এই বিশৃঙ্খল পটভূমিতে গ্রামবাংলা কীভাবে অস্থির হয়ে উঠেছিল, ক্ষমতাধরদের তা-ব ও লুটপাটে কীভাবে মানুষ গ্রামছাড়া হয়েছিল এবং এর মধ্যে কিছু নর-নারী বিচিত্র সম্পর্কের টানাপড়েনে কীভাবে রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল, সেসবের নানামাত্রিক বুনন-বিন্যাসে গড়ে উঠেছে প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসটি।
একটি বিস্ময়কর সংঘাতের মধ্য দিয়ে উপন্যাসটি শুরু। এই সংঘাত গুরুর সঙ্গে শিল্পের স্বরূপ নিয়ে শিষ্যের সংঘাত। গুরু বাসুদেব শিষ্য শ্যামাঙ্গকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘দেখো, কোনোভাবেই যেন তোমার ফলকে ব্রাত্য প্রসঙ্গ না থাকে – শাস্ত্রানুশাসন বিচ্যুত হয়ো না।’
গুরু বাসুদেব প–ত মানুষ। তার পা–ত্য যেমন মৃত্তিকাপট নির্মাণে, অন্যদিকে সনাতন ধর্মেও। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, তিনি শিল্পের ভেতর দিয়ে তাঁর ঈশ্বরভাবনার সনাতন বিশ্বাসকে ফলিয়ে তুলতে চান। অন্যদিকে তরুণ শ্যামাঙ্গ শিল্পকে একান্ত শিল্প হিসেবেই দেখতে চায়। তার শিল্পের কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই, কোনো শ্রেণি-পেশা নেই। সুতরাং, সে গুরুর কাছে বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করে, ‘কেন গুরুদেব, ব্রাত্য মুখচ্ছবিতে অপরাধ কী?’
এই জিজ্ঞাসায় গুরুদেব বিস্মিত হন, তীক্ষন হয়ে ওঠে তাঁর দৃষ্টি। বলেন, ‘অপরাধের কথা তো বলিনি, বলেছি প্রয়োজনের কথা। মন্দিরগাত্রে যে-মৃত্তিকাপট থাকবে তাতে পবিত্র ভাবটি থাকা চাই। মেস্নচ্ছ ব্রাত্যের মন্দিরে প্রবেশ-অধিকার না থাকলে তাদের প্রসঙ্গ কেমন করে মন্দিরগাত্রের মৃত্তিকাপটে উৎকীর্ণ হতে পারে বলো?’
শিল্পভাবনার এই ফেনাটিক ধারণার সঙ্গে শ্যামাঙ্গ পরিচিত ছিল না। এমনকি, সে এও বুঝতে পারে না যে, মৃৎপট বা শিলাপট কী করে অপবিত্র হয় কিংবা ব্রাত্যজনের অপবিত্রতার সঙ্গে শিল্পের আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কি না।
শ্যামাঙ্গের এই ভাবনায় বাসুদেব বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘মৃত্তিকা ও শিলা পৃথিবীপৃষ্ঠের সর্বত্রই আছে, কিন্তু দেবতার পীঠস্থান সর্বত্র নেই। সকল মৃত্তিকা বা শিলা দেবতা হয় না। গুরুর এই ধার্মিকতায় শ্যামাঙ্গ বিভ্রান্ত হয়। বাসুদেবকে সে জানত শিল্পী হিসেবে। তাঁর শিল্প-প্রতিভায় ও পা–ত্যে শ্যামাঙ্গ মুগ্ধও ছিল; কিন্তু ধর্মের বাতাবরণে শিল্পের ব্যাখ্যা সে কিছুতেই মানতে পারে না। তার বুদ্ধি বিভ্রান্ত হচ্ছিল। কিন্তু তার হৃদয় অনড়। গুরুর কাছে তার অসংখ্য প্রশ্নের উদ্ভব ঘটছিল। কঠিনতর জিজ্ঞাসাগুলোর তীক্ষন ও দ্রম্নতগতির তীর গুরুর দিকে নিক্ষক্ষপের জন্য তার মনের ধনুক টানটান হয়ে উঠছিল। ‘গুরুদেব, তাহলে দেবতা কী? ভগবান কী? জগৎ কি দেবতাসম্ভূত নয়?’ গুরুদেব চমকে উঠেছিলেন। এমনতর কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্ত্ততি তাঁর ছিল না। তিনি দ্রম্নত এই জটিল পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে মুক্ত হতে চান। সুতরাং স্পষ্টভাবে শ্যামাঙ্গকে জানিয়ে দেন, ‘জটিল তর্ক ক’রো না শ্যামাঙ্গ, দেবতার পীঠস্থান ধর্মসিদ্ধ – তুমি শুধু এইটুকু মনে রাখবে যে, ধর্মই সত্য, পরম ব্রহ্মই সত্য – ব্রহ্মজ্ঞান যার আছে সেই ব্রাহ্মণের নির্দেশই পালনীয় – আর অন্য কিছু সত্য নয়, পালনীয় নয়।’
শ্যামাঙ্গ স্পষ্টভাবেই অনুধাবন করে, গুরুদেব তাকে পরিষ্কার আদেশ দিয়ে শেষ করতে চান। কিন্তু শ্যামাঙ্গ তো ইতোমধ্যে মৃত্তিকাপটে মানবীমূর্তি উৎকীর্ণ করেছে, তার কী হবে? গুরুদেব দেখতে চান, কী মানবীমূর্তি সে মৃৎশিল্পে ফলিয়ে তুলেছে। সুতরাং অনিবার্যভাবেই শ্যামাঙ্গকে তার মৃৎশিল্প প্রদর্শনে গুরুকে নিয়ে যেতে হয়।
কাঁচা মৃৎশিল্পগুলো তখন রৌদ্রে শুকাচ্ছিল। তার দায়িত্ব ছিল, রামায়ণ-কাহিনির চিত্রমালা মৃৎশিল্পে উৎকীর্ণ করা। সে গভীর ভালোবাসা আর মমত্বের সঙ্গে জানকীর বরমাল্য দান, রামের বনগমন, হনুমানের গন্ধমাদন বহন ইত্যাদি কাহিনি মৃৎফলকগুলোতে ফলিয়ে তোলে। এ ছাড়া প্রেমিকের কণ্ঠলগ্না ব্যাধ-তরুণীর প্রণয়দৃশ্য, শরব-যুবতীর প্রতীক্ষার দৃশ্য এবং মাতৃময়ী ধীবর রমণীর সমত্মানকে সত্মন্যদানের দৃশ্যগুলোকেও শ্যামাঙ্গ অসাধারণ এক মানবিকতায় প্রাণময় করে তোলে।
গুরু বাসুদেব মানবীয় লালিত্য ও প্রেমময়তায় জীবন্ত এসব মৃৎশিল্প দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দেবমন্দিরের সঙ্গে প্রণয়দৃশ্যের সম্পর্ক তাঁর কাছে দুর্বোধ্য। এর প্রাসঙ্গিকতা নেই, কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ শুধুই দূরান্বয়, শুধুই ছলনা। বাসুদেব বলেন,
এ কেমন মুখাবয়ব, এ কেমন মুখভাব বলো? এ মানবিক লালিত্যে কী প্রয়োজন? কেন তোমার ফলকচিত্রে কেবল নমনীয় পেলব রেখা? কেন এই বৃত্তাকার ভঙ্গি? ঋজুতা
কোথায়, দৃঢ়তা কাঠিন্য কোথায়? ওষ্ঠ কেন এমন বিলোল হবে? এ হয়নি – সব ভুল হয়েছে তোমার। শ্রী রামচন্দ্রের কি এই মুখাবয়ব হয় কখনো? এ তো মানবিক আকৃতি, মানবিক ভাব, দেবতা কোথায়? জানকী আর যক্ষক্ষণী মূর্তিতে যে কোনো পার্থক্য নেই। এসবে কাজ হবে না – বিনষ্ট করো সব।
গুরু বাসুদেবের এই নিষ্ঠুর আচরণে কাতর আর্তনাদ করে ওঠে শ্যামাঙ্গ। তার অবচেতনে লালিত জীবনতৃষ্ণার এক প্রগাঢ় উন্মোচনের বেহাল দশায় সে অস্থির হয়ে ওঠে। সুতরাং, সর্বশক্তি দিয়ে সে গুরুকে বোঝাতে চায়, কী অসাধারণ এক প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে সে শিল্পগুলো রচনা করেছে; বলে, ‘গুরুদেব, এসব মূর্তিতে যে আমার আবেগ স্পন্দিত হয়েছে, রক্তধারার ছন্দ যে এদের রেখায় রেখায় বিবৃত হয়ে রয়েছে। দেখুন আপনি, এই ব্যাধ তরুণ-তরুণীর মুখভাবে সঙ্গীত মর্মরিত হচ্ছে কি না?’ শ্যামাঙ্গের এই অসাধারণ শিল্পবোধপূর্ণ বিনয় বচনে বাসুদেব বিমুগ্ধ হন না। বরং অবিশ্বাস্যরকম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নিষ্ঠুর এক সত্যের মুখোমুখি হয়ে তিনি যেন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ওঠেন। বাসুদেব বলেন,
মূর্খ তুমি শ্যামাঙ্গ, একেবারেই মহামূর্খ। তোমার স্মরণে থাকা উচিত যে, এসব নির্মিত হচ্ছে তোমার পিতৃধনে নয়। এসব নির্মাণের বিপুল ব্যয়ভার বহন করছেন কায়স্থ কুলতিলক মহাসামন্ত সুধীমিত্র। সুতরাং তাঁর আদেশ-নির্দেশই তোমার মান্য করতে হবে। তুমি আদেশের দাস মাত্র – তাঁর আদেশ পালনের জন্যই তোমাকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, প্রতিমা নির্মাণশাস্ত্র ব্যাখ্যার জন্য নয়।
বাসুদেব জাত শিল্পী। শিল্পের ন্যায়সূত্র তিনি জানেন। শিল্পের স্বভাব শিল্পের সৌন্দর্য। শিল্পীর স্বাধীনতার ব্যাপারেও তিনি সংবেদনশীল। একসময় শ্যামাঙ্গকে তিনি জানিয়ে দেন যে, বরেন্দ্রভূমির মৃৎশল্পীরা মৃৎফলকে জনজীবনের দৃশ্যাবলি জীবন্ত করে তুলেছে। শ্যামাঙ্গ স্পষ্টতই স্মরণ করতে পারে, সোমপুর মহাবিহারের অসাধারণ সব শিল্পকর্মের পরিচয় এই গুরুদেবই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন। ‘যোগীভিক্ষু, মৃগয়া প্রত্যাগতা ব্যাধরমণী, শৃঙ্গারমগ্ন মানব-মানবী, ঢাল-তরবারি হসেত্ম বীরবটিকা পরিহিতা বীরাঙ্গনা’ এসব শিল্পকর্মের ঐশ্বর্য ও মাহাত্ম্য তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
যৌবনে তিনি দরিদ্র জীবনযাপন করতেন। রাজানুগ্রহ লাভের চেষ্টা কখনো করেননি তিনি। শিল্পকর্মে সমৃদ্ধ অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছেন বছরের পর বছর। প্রতিমা লক্ষ্মণশাস্ত্রে সুপ–ত। মৌর্য ও গুপ্তযুগের প্রতিমা নির্মাণকলা কীভাবে গৌড়ীয় রীতির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে, তার ব্যাকরণ তিনি জানেন। অসাধারণ এক নিষ্ঠা, সততা ও শ্রমের মাধ্যমে তিনি আয়ত্ত করেছেন ভারতবর্ষের শিল্পচর্চার ইতিহাস, রীতিনীতি ও স্বভাব-চরিত্র। এখন তিনি একেবারে ভিন্ন মানুষ, একেবারেই ভিন্ন তাঁর জীবনবোধ ও জীবনতৃষ্ণা। বাসুদেবের এই পিছু হটার তাৎপর্যময় কোনো ইঙ্গিত-ইশারা উপন্যাসে লক্ষ করা যায় না। একি নিজের কোনো গোপন পরাজয়ে নিজের প্রতিই অবচেতন সংক্ষুব্ধতা, রাজানুগ্রহ ও অর্থের কাছে দাসবৃত্তির যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ, নাকি শ্যামাঙ্গের কোনো অপরাধের প্রতিশোধ। সে যা-ই হোক না কেন, এই আয়োজন পৃথিবীর মহত্তর উপন্যাসশিল্পের কথাই মনে করিয়ে দেয়। যে-জীবনতৃষ্ণা ও জীবনাকাঙক্ষার দ্বন্দ্ব নিয়ে উপন্যাসের এই যাত্রারম্ভ, ঐতিহাসিক পটভূমিতেও এর তাৎপর্য বিস্ময়কর। কেননা, শিল্পচর্চার মাহেন্দ্রক্ষণ নিরবধি নয়। দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক গড়ন-প্রকৃতির মধ্যেও শিল্প-সাহিত্যচর্চার মনোভূমি তৈরি হয়।
ঐতিহাসিক নিদর্শন অনুযায়ী রাজা লক্ষ্মণ সেনের শাসনামলে শিল্প-সাহিত্যচর্চার জোয়ার এসেছিল। তাঁর রাজসভায় অনেক প–ত ও শিল্পী-সাহিত্যিকের সমাবেশ ঘটেছিল। উমাপতি ধর ও শরণ ছিলেন তাঁর সভাকবি। তিনি নিজেও সাহিত্যচর্চা করতেন। তাঁর রচিত বেশকিছু সংস্কৃত কবিতা সদুক্তিকর্ণামৃত কাব্যসংকলনে স্থান পেয়েছে। পিতার শুরু করা গ্রন্থ অদ্ভুতসাগর তিনি সমাপ্ত করেছিলেন। গীতগোবিন্দ-রচয়িতা বিখ্যাত কবি জয়দেব, পবনদূত-রচয়িতা ধোয়ী এবং গোবর্ধন আচার্য তাঁর সভা অলংকৃত করতেন। বটু দাসের ছেলে লক্ষ্মণ সেনের বন্ধু শ্রীধরদাস সংস্কৃত কাব্যগ্রন্থ সদুক্তিকর্ণামৃত সংকলন করেন তাঁরই শাসনামলে। তাঁর প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারক হলায়ুধ মিশ্র রচনা করেন ব্রাহ্মণসর্বস্ব। দেরপাড়া প্রশসিত্ম-রচয়িতা উমাপতি ধর লক্ষ্মণ সেনের একজন মন্ত্রী ও অন্যতম সভাকবি ছিলেন। শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসের বিস্ময়কর সূচনালগ্ন যেন শিল্প-সাহিত্যচর্চার অসাধারণ সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দ্বন্দ্ব-সংঘাতকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, উপন্যাসটি আর এই পটভূমিতে পরিচর্যা পায়নি। তীব্র অভিমানে, ক্ষক্ষাভে, যন্ত্রণায় শ্যামাঙ্গের গুরুগৃহ ত্যাগের পর থেকে অসাধারণ একটি উপন্যাসশিল্পের আয়োজন বৃষ্টিবিঘ্নিত অনুষ্ঠানের মতো বিপুল বিশৃঙ্খলায় পতিত হয়। গভীর মমত্ববোধ ও প্রগাঢ় জীবনাকাঙক্ষার অসাধারণ শিল্পশক্তি নিয়ে শওকত আলীর আবির্ভাব। সেই অসাধারণ শিল্পশক্তি নিয়ে তিনি বরেন্দ্রভূমির প্রাচীন জনপদের পরিচয়, সেই জনপদে শ্যামাঙ্গ-লীলাবতীর প্রণয়, রাজ-রাজড়াদের অত্যাচার ও লুটপাট, বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও নবাগত মুসলমানদের উত্থান ইত্যাদির বিবরণ তুলে ধরেছেন, তা শেষ পর্যন্ত প্রগাঢ় হয়ে ওঠেনি – প্রবল কোনো জীবনাকাঙক্ষার গাঢ়বদ্ধ সংগঠন হয়ে ওঠেনি। পুরো উপন্যাসে নারী-পুরুষের প্রণয়সম্পর্ক একদিকে আত্মিক সংযমের শুদ্ধতায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে কতগুলো রূপক, প্রতীক ও সংকেতময়তায় দেহগত সম্পর্ক জনজীবনের ভাবনানিচয়ের বিষয় হয়ে উঠেছে; বাসত্মব ভিত্তি রচিত হয়নি।
উপন্যাসের শেষে লক্ষ করা যায়, যবন-সেনাদের হাতে নিরীহ শ্যামাঙ্গ নিহত হয়। এই তার পরিণতি। আর লীলাবতী, বসন্তদাস, ছায়াবতী, মিত্রানন্দ, নিরঞ্জন এবং আরো অনেকের পরিণতি জানা যায় না। শিল্পের দায় নেই যে, সবারই পরিণতি স্পষ্ট করে দিতে হবে। তবু কেন যে লেখক উপন্যাসশেষে কৈফিয়ত দিলেন, তা বোধগম্য নয়। এদের পরিণতির বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সীমাবদ্ধ ক্ষমতাই লেখককে অধিক বিসত্মারে যেতে সাহসী করেনি। উপরন্তু ওইসব চরিত্রের পরিণতি ইতিহাসে মোটামুটি স্পষ্টভাবেই লিপিবদ্ধ।’ বিনয় মহার্ঘ্য; কিন্তু সর্বত্র নয়। একজন শিল্পীর ক্ষমতার পরিমাপক তিনি নিজে নন, সংবেদী পাঠক। আর চরিত্রগুলোর পরিণতি ইতিহাসে আছে কি নেই, তা পাঠকের জানা অপরিহার্য নয়। আর শ্যামাঙ্গ সম্পর্কে তিনি যে অসাধারণ তাৎপর্যময় নিবন্ধ লিখেছেন -শিল্প-ইতিহাস-ঐতিহ্যের ন্যায়সূত্র উন্মোচন করেছেন – তারও কোনো প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না।
প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি ও দৌর্বল্যের বিষয় হলো এর ভাষা। কবিভাষা বা ডিকশন বলে একটি ভাষা আছে, কবিতায় যার অধিষ্ঠান। প্রথাগত শব্দ কতটা তাৎপর্যময়, কতটা অফুরন্ত ব্যাখ্যার আধার হয়ে উঠতে পারে, তার পরিচয় আছে সফল কবিতায়। শওকত আলী কথাসাহিত্যিক। কিন্তু কবি না হয়ে কি কেউ কথাসাহিত্যিক হতে পারেন – কোনো শিল্পী হতে পারেন? পারেন না। এই চিরায়ত সত্যের পরিচয় আছে প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসের প্রতিটি পদে, পদবন্ধনে। সাধু ভাষার শব্দভা-ারকে বিস্ময়কর নৈপুণ্যে তিনি ব্যবহার করেছেন চলিত ভাষার গড়ন-সৌষ্ঠবে। সম্ভবত ষোড়শ শতকের ভাষিক জগতের ধ্রম্নপদী আবহের স্বাদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি এই অসাধারণ ভাষাপ্রপঞ্চ বেছে নিয়েছেন। কমলকুমার মজুমদারের ভাষাব্যবহারের সঙ্গে আমাদের পরিচয় আছে, বাক্যগড়নের রীতির সঙ্গে পরিচয় আছে। সেখানে কাঠিন্য নির্ধারণই যেন কর্তব্য। কিন্তু সে অন্য অভিধা। শওকত আলী ভাষার মধ্যে পুরে দিতে চেয়েছেন জীবনের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের আলো, আনন্দ আর অফুরন্ত প্রবাহ। বাক্যের গড়নসৌষ্ঠবের মধ্যেও তাঁর এই অফুরন্ত শক্তির পরিচয় মেলে। পথ চলতে চলতে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত শ্যামাঙ্গ সম্মুখে যে-প্রহেলিকা দেখতে পায়, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে শওকত আলী লিখেছেন,
সে বড় বিচিত্র অবস্থা। এখন স্মরণ হলে কৌতুক বোধহয়। অবশ্য তখনো তার কৌতুক বোধ হচ্ছিল। কৌতুক বোধ হওয়ারই কথা। কারণ প্রথমে তুমি দেখলে বংশবীথিকার বিনত শাখায় একটি বনকপোত। পরক্ষণে সেই ক্ষুদ্রাকার পাখিটি হয়ে গেল একটি ঊর্ধ্বলম্ফী মর্কট – মুহূর্তেক পরে সেই মর্কটও আর থাকল না, নিমেষে হয়ে গেল একটি বিশুদ্ধ বৃক্ষশাখা। চক্ষু কচালিত করলে অতঃপর তুমি আর কিছুই দেখলে না। বংশবীথিকা না, বনকপোত না, মর্কট না, বিশুদ্ধ শাখাও না।
এই রচনার মধ্যে প্রায় প্রতিটি শব্দই তৎসম; কিন্তু কোথাও দুর্বোধ্যতার লেশমাত্র নেই। অধিকন্তু এমন একটি সহজতা বিরাজমান, যা পাঠকের বোধের জগৎকে তৃপ্ত করে।
এই সহজ সৌন্দর্যকে গতি দান করেছে এর ছন্দ। অমত্মঃসলিলা ফল্গুধারার মতো তাঁর গদ্যের ভেতর-গড়নের মধ্যে প্রবাহিত ছন্দ পাঠককে টানে, পাঠ শুরুর পর আর থামতে দেয় না, একটি আনন্দিত বিহারের মতো পাঠককে মুগ্ধ করে নিয়ে চলে। একটি উদাহরণ দিই :
শুকদেবের গৃহ নীরব। বেলা দ্বিপ্রহর, কিন্তু জনমানব কোথাও আছে বলে মনে হলো না। সে [শ্যামাঙ্গ] ক্ষণেক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে চারিদিকে দৃষ্টিপাত করে। তাতে বিচিত্র একটি ভাব তার উপলব্ধি হয়। মনে হয়, নীরব পলস্নীটিতে বিষাদ এবং হতাশা পরিব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে। তার কাছে পরিবেশটি অদ্ভুত এবং দুর্বোধ্য লাগে। সে একটি রাখাল বালককে ডাকল। বালকটি সংবাদ দিতেই শুকদেব বাইরে এলেন। ক্ষণেক পর দীনদাসকেও দেখা গেল। যোগীটিকে দেখে দীনদাস বিরক্ত হয়েছেন বলে মনে হলো। বললেন, যোগী মহাশয় কি এই গ্রামেই অবস্থান করবেন।
প্রথাগতভাবে তৎসম শব্দের বাক্য দীর্ঘ এবং জটিলতার সৃষ্টি হয়। বক্তব্যকে মুখ্য ভাবার ফলেই এ-ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওপরে যে-খ-চিত্রটি উলেস্নখ করা হয়েছে, তার ভাষা সম্পূর্ণই ভিন্ন। এখানে বাক্য ছোট ছোট এবং সে-বাক্যের প্রতিটি শব্দই সুনির্বাচিত। বাক্যের গড়ন, অন্তর্বয়ন ও বক্তব্যের ধারাক্রম সহজ-সাবলীল ও অনিবার্য। ফলে কাব্যভাষার মাধুর্য ও আনন্দ সহজেই উপভোগ করা যায়।
শওকত আলী ভাষার ব্যবহারে বিষয়ভিন্নতার তাৎপর্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। ফলে প্রণয়ের ভাষা আর অত্যাচারী রাজকর্মচারীদের ভাষণ ভিন্ন না হয়ে পারেনি। প্রণয়ের ভাষাকে তিনি বিচিত্র রাগ-অনুরাগের ব্যবহারে প্রণয়কাতর ও কামনাস্নিগ্ধ করে তুলেছেন। সেই ভাষার একদিকে আছে অসাধারণ সংযম ও পরিমিতিবোধ এবং অন্যদিকে আছে রোমান্টিকতা, কামনায় আরক্ত মানব-মানবীর দেহ-মনের উষ্ণতার উত্তাপ। মানব-মানবীর আত্মমর্যাদার বিষয়ে শওকত আলীর সংবেদনা শ্রদ্ধার্হ্য। ভালোবাসার পাত্রপাত্রী নিজেদের নিঃশর্ত সমর্পণের সময়েও সহজাত মর্যাদাবোধে সমুজ্জ্বল। শওকত আলী তাঁর অসাধারণ ভাষাশক্তির সৌন্দর্যে সেই মর্যাদাকর সম্পর্কের জগৎ নির্মাণ করেছেন। প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের পা–ত্যের মতোই তাঁর শব্দভা-ারের জগৎ। এই বিপুল ঐশ্বর্যকে তিনি বিস্ময়কর মমত্ববোধ আর প্রগাঢ় নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবহার করেছেন। প্রাচীন বাংলার বিচিত্র জনপদ, নদ-নদী, গ্রাম, শহর তাঁর এই অসাধারণ সৃজনশীলতায় প্রাণময় হয়ে উঠেছে। এক্ষক্ষত্রে ভাষার শক্তি, সামর্থ্য ও উৎপাদনশীলতাকে তিনি সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করতে সমর্থ হয়েছেন।
শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসে ভাষা ব্যবহারের এই বৈচিত্র্যময় সাফল্যের একটি উলটো পিঠ আছে, যেখানে চরিত্রগুলোর নিজস্ব কোনো ভাষা নেই। সব চরিত্রই কথা বলে লেখকের ভাষায়। ফলে একটি চরিত্রের হয়ে-ওঠা কথাসাহিত্যের এই মূলগত প্রত্যয় রক্ষিত হয়নি।
এখন বলা হয়, পৃথিবীতে যতজন মানুষ কথা বলে, ভাষার সংখ্যাও ঠিক তত। এই সংজ্ঞার অর্থ কী? এর ভেতর দিয়ে মানবীয় ভাষার কোন তাৎপর্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে? আসলে এ হচ্ছে স্বাতন্ত্র্যের চিহ্নবিশেষ। প্রতিটি মানুষই আলাদা – যেমন দেহ ও মনোগড়নে, তেমনি ভাষার ব্যবহারে। ব্যক্তির জীবনবোধ, বিশ্বাস, চিমত্মাচেতনায় – এককথায় ব্যক্তিমানুষটির স্বাতন্ত্র্যের প্রায় সমগ্র স্বরূপ চিহ্নিত হয় তাঁর ভাষা-ব্যবহারের মধ্যে। কথাসাহিত্যে এই স্বতন্ত্র স্বরের মূল্য অপরিসীম। একটি উপন্যাসে যে-লোকসমাবেশ ঘটে, সেখানে যদি বহুস্বরতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে মানবীয় স্বভাবের সাধারণ শর্তই অপূরণীয় থাকে। প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসে এই বহুস্বরতা না থাকায় কোনো চরিত্রই যথাযথ স্বাতন্ত্র্য অর্জন করেনি। তারপরও এই ভাষা লেখকের অসাধারণ এক আবিষ্কার – এ-কথা অনস্বীকার্য।
দেশ-কাল-সময়ের গণ্ডেরনিরিখ নেই। তাহলে প্রতিটি উপন্যাস কি একেকটি সয়ম্ভূ বিষয়, একেকটি স্বতন্ত্র শিল্প? এর কি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসূচক কোনো পরিচয় নেই, যাতে পাঠক বলবে – এটি উপন্যাস? নিশ্চয়ই আছে এবং সেই পরিচয়সূত্র হলো গল্প, আখ্যান ও জনসম্পৃক্ততা। এই ত্রিবেণীসঙ্গমের ভেতর দিয়ে রচিত হয় উপন্যাস। সুতরাং, উপন্যাসে নাটক থাকতে পারে, কবিতা থাকতে পারে, গান থাকতে পারে, এমনকি প্রবন্ধ থেকে শুরু করে ভ্রমণকাহিনিও থাকতে পারে; পারে জ্ঞান-বিজ্ঞানের হাজারটা বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে। আত্মস্থ করার এই বিপুল ক্ষমতার জন্যই এই শিল্পটি ব্যাকরণহীন, বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে।
এই যদি হয় উপন্যাস, তাহলে কেন উপন্যাসকে আমরা বিজ্ঞানের সবচেয়ে কাছাকাছি শিল্প হিসেবে গণ্য করি? এই জিজ্ঞাসার উত্তর একটিই, তা হলো, জীবন ও জগতের ন্যায়সূত্র ধারণে উপন্যাসের মতো মহত্ত্ব আর কোনো শিল্পের নেই। জীবন ও জগতের গভীরতর অধ্যায় ন্যায়-অন্যায়ের, আদর্শ-অনাদর্শের, সুন্দর-অসুন্দরের, উচিত- অনুচিতের যে অনন্য নিরপেক্ষতার পটভূমি লক্ষ করা যায়, উপন্যাস সে-জীবনের শিল্প। এই কনটেক্সট ধর্মের নয়, মতাদর্শের নয়, এমনকি আবেগেরও নয় – সমগ্র বিষয়টিই হলো জীবনের। উপন্যাসই একমাত্র শিল্প, যেখানে জীবন তার আপন স্বভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। এই যে আপন স্বভাব – এর জন্যই উপন্যাস বিধানসংবদ্ধ নয়। প্রতিটি উপন্যাসই একটি স্বতন্ত্র স্বভাবে গড়ে ওঠে, একটি স্বতন্ত্র জগৎ ও জীবন সেখানে তার সকল সৌষ্ঠব নিয়ে তৈরি হয় অথবা বলা যায় তৈরি হয় না – জন্মে, বেড়ে ওঠে, বিকশিত হয়, বিপুলতা লাভ করে এবং সেই জীবন ও জগতের ভেতর উচ্চার্য-অনুচ্চার্য বহুতর জীবন ও জগতের আর্কেটাইপ রচিত হয়। আমাদের উপন্যাসশিল্পের পূর্বাপর যে-ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় ঘটে, সেখানে উপন্যাসশিল্পের এই ন্যায়সূত্র কীভাবে কার্যকর হয়েছে, সে-বিশেস্নষণে না গিয়েও বলা যায়, জীবনের গূঢ়তর রহস্য ও সংঘাতময়তার ভেতর-গড়ন আমাদের উপন্যাসে কখনো তাৎপর্যময় হয়ে ওঠেনি। জীবনের মহাকাব্যিক বিসত্মার ও বিপুলতার সৌন্দর্য আমাদের উপন্যাসশিল্পে দৈবাৎ ধরা দিয়েছে। আর প্রত্যেক মানুষের মধ্যে যে একেকটি স্বতন্ত্র সত্তার বাচনিকতা থেকে শুরু করে আচরণ ও ব্যবহারবিধির মধ্যে একটি স্বতন্ত্র স্বর, তথা একটি স্বতন্ত্র জীবন ও জগৎ রচিত হয়, সে-স্বাতন্ত্র্যকে স্পষ্ট করে তোলে তার স্বর। আর এসবের প্রায় ব্যাখ্যাতীত এক অন্বয়ের ভেতর দিয়ে রচিত হয় উপন্যাসশিল্প। শওকত আলী এই উপন্যাসশিল্পের শিল্পী। অসাধারণ এক মমত্ববোধের আশ্রয়ে তিনি উন্মোচন করতে চেয়েছেন মানবজীবনের বিচিত্র সম্পর্কের রহস্যময়তা, রক্তাক্ত যন্ত্রণা, মুক্তির আয়ুধ।
শওকত আলী মূলত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক। তবে তাঁর প্রথম উপন্যাস পিঙ্গল আকাশ প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে এবং প্রথম গল্পগ্রন্থ উন্মূল বাসনা
প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। এরপর তাঁর প্রচুর গল্প-উপন্যাস সবই স্বাধীনতা-উত্তর সময়ের সৃষ্টি। আর এই সুপ্রচুর কথাসাহিত্যের মধ্যে বিষয় ও ভাষা নির্বাচনের অনন্যতায় যে-উপন্যাসটি পাঠকসমাজে বিপুল খ্যাতি অর্জন করে, সেই প্রদোষে প্রাকৃতজন শীর্ষক উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে। এই উপন্যাসে তিনি বিশ শতকের প্রায় শেষপ্রামেত্ম দাঁড়িয়ে সুদূর পেছনপানে তাকিয়ে ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণের শিল্পভাষ্য রচনা করেছেন। লক্ষ্মণ সেনের (আনুমানিক ১১৭৮-১২০৬ খ্রি.) ২৮ বছরের রাজত্বকালের শেষ বছরগুলোতে তিনি বার্ধক্যে এবং ক্ষমতা প্রয়োগে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। অনেক সময় শাসনকার্য পরিচালনা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। এই দুর্বলতার সুযোগে সাম্রাজ্যের ভেতরে ঐক্য ও সংহতিতে ফাটল ধরে এবং কিছু স্বাধীন শক্তির উত্থান ঘটে। এ ছাড়া শক্তিমান ও ক্ষমতাধরদের অরাজকতা দেশময় ছড়িয়ে পড়ে। এ-পরিস্থিতিতে তুরস্কের মুসলমান অভিযানকারী বখতিয়ার খলজি অনায়াসেই বাংলা দখল করে নেন। এই বিশৃঙ্খল পটভূমিতে গ্রামবাংলা কীভাবে অস্থির হয়ে উঠেছিল, ক্ষমতাধরদের তা-ব ও লুটপাটে কীভাবে মানুষ গ্রামছাড়া হয়েছিল এবং এর মধ্যে কিছু নর-নারী বিচিত্র সম্পর্কের টানাপড়েনে কীভাবে রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল, সেসবের নানামাত্রিক বুনন-বিন্যাসে গড়ে উঠেছে প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসটি।
একটি বিস্ময়কর সংঘাতের মধ্য দিয়ে উপন্যাসটি শুরু। এই সংঘাত গুরুর সঙ্গে শিল্পের স্বরূপ নিয়ে শিষ্যের সংঘাত। গুরু বাসুদেব শিষ্য শ্যামাঙ্গকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘দেখো, কোনোভাবেই যেন তোমার ফলকে ব্রাত্য প্রসঙ্গ না থাকে – শাস্ত্রানুশাসন বিচ্যুত হয়ো না।’
গুরু বাসুদেব প–ত মানুষ। তার পা–ত্য যেমন মৃত্তিকাপট নির্মাণে, অন্যদিকে সনাতন ধর্মেও। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, তিনি শিল্পের ভেতর দিয়ে তাঁর ঈশ্বরভাবনার সনাতন বিশ্বাসকে ফলিয়ে তুলতে চান। অন্যদিকে তরুণ শ্যামাঙ্গ শিল্পকে একান্ত শিল্প হিসেবেই দেখতে চায়। তার শিল্পের কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই, কোনো শ্রেণি-পেশা নেই। সুতরাং, সে গুরুর কাছে বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করে, ‘কেন গুরুদেব, ব্রাত্য মুখচ্ছবিতে অপরাধ কী?’
এই জিজ্ঞাসায় গুরুদেব বিস্মিত হন, তীক্ষন হয়ে ওঠে তাঁর দৃষ্টি। বলেন, ‘অপরাধের কথা তো বলিনি, বলেছি প্রয়োজনের কথা। মন্দিরগাত্রে যে-মৃত্তিকাপট থাকবে তাতে পবিত্র ভাবটি থাকা চাই। মেস্নচ্ছ ব্রাত্যের মন্দিরে প্রবেশ-অধিকার না থাকলে তাদের প্রসঙ্গ কেমন করে মন্দিরগাত্রের মৃত্তিকাপটে উৎকীর্ণ হতে পারে বলো?’
শিল্পভাবনার এই ফেনাটিক ধারণার সঙ্গে শ্যামাঙ্গ পরিচিত ছিল না। এমনকি, সে এও বুঝতে পারে না যে, মৃৎপট বা শিলাপট কী করে অপবিত্র হয় কিংবা ব্রাত্যজনের অপবিত্রতার সঙ্গে শিল্পের আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কি না।
শ্যামাঙ্গের এই ভাবনায় বাসুদেব বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘মৃত্তিকা ও শিলা পৃথিবীপৃষ্ঠের সর্বত্রই আছে, কিন্তু দেবতার পীঠস্থান সর্বত্র নেই। সকল মৃত্তিকা বা শিলা দেবতা হয় না। গুরুর এই ধার্মিকতায় শ্যামাঙ্গ বিভ্রান্ত হয়। বাসুদেবকে সে জানত শিল্পী হিসেবে। তাঁর শিল্প-প্রতিভায় ও পা–ত্যে শ্যামাঙ্গ মুগ্ধও ছিল; কিন্তু ধর্মের বাতাবরণে শিল্পের ব্যাখ্যা সে কিছুতেই মানতে পারে না। তার বুদ্ধি বিভ্রান্ত হচ্ছিল। কিন্তু তার হৃদয় অনড়। গুরুর কাছে তার অসংখ্য প্রশ্নের উদ্ভব ঘটছিল। কঠিনতর জিজ্ঞাসাগুলোর তীক্ষন ও দ্রম্নতগতির তীর গুরুর দিকে নিক্ষক্ষপের জন্য তার মনের ধনুক টানটান হয়ে উঠছিল। ‘গুরুদেব, তাহলে দেবতা কী? ভগবান কী? জগৎ কি দেবতাসম্ভূত নয়?’ গুরুদেব চমকে উঠেছিলেন। এমনতর কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্ত্ততি তাঁর ছিল না। তিনি দ্রম্নত এই জটিল পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে মুক্ত হতে চান। সুতরাং স্পষ্টভাবে শ্যামাঙ্গকে জানিয়ে দেন, ‘জটিল তর্ক ক’রো না শ্যামাঙ্গ, দেবতার পীঠস্থান ধর্মসিদ্ধ – তুমি শুধু এইটুকু মনে রাখবে যে, ধর্মই সত্য, পরম ব্রহ্মই সত্য – ব্রহ্মজ্ঞান যার আছে সেই ব্রাহ্মণের নির্দেশই পালনীয় – আর অন্য কিছু সত্য নয়, পালনীয় নয়।’
শ্যামাঙ্গ স্পষ্টভাবেই অনুধাবন করে, গুরুদেব তাকে পরিষ্কার আদেশ দিয়ে শেষ করতে চান। কিন্তু শ্যামাঙ্গ তো ইতোমধ্যে মৃত্তিকাপটে মানবীমূর্তি উৎকীর্ণ করেছে, তার কী হবে? গুরুদেব দেখতে চান, কী মানবীমূর্তি সে মৃৎশিল্পে ফলিয়ে তুলেছে। সুতরাং অনিবার্যভাবেই শ্যামাঙ্গকে তার মৃৎশিল্প প্রদর্শনে গুরুকে নিয়ে যেতে হয়।
কাঁচা মৃৎশিল্পগুলো তখন রৌদ্রে শুকাচ্ছিল। তার দায়িত্ব ছিল, রামায়ণ-কাহিনির চিত্রমালা মৃৎশিল্পে উৎকীর্ণ করা। সে গভীর ভালোবাসা আর মমত্বের সঙ্গে জানকীর বরমাল্য দান, রামের বনগমন, হনুমানের গন্ধমাদন বহন ইত্যাদি কাহিনি মৃৎফলকগুলোতে ফলিয়ে তোলে। এ ছাড়া প্রেমিকের কণ্ঠলগ্না ব্যাধ-তরুণীর প্রণয়দৃশ্য, শরব-যুবতীর প্রতীক্ষার দৃশ্য এবং মাতৃময়ী ধীবর রমণীর সমত্মানকে সত্মন্যদানের দৃশ্যগুলোকেও শ্যামাঙ্গ অসাধারণ এক মানবিকতায় প্রাণময় করে তোলে।
গুরু বাসুদেব মানবীয় লালিত্য ও প্রেমময়তায় জীবন্ত এসব মৃৎশিল্প দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দেবমন্দিরের সঙ্গে প্রণয়দৃশ্যের সম্পর্ক তাঁর কাছে দুর্বোধ্য। এর প্রাসঙ্গিকতা নেই, কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ শুধুই দূরান্বয়, শুধুই ছলনা। বাসুদেব বলেন,
এ কেমন মুখাবয়ব, এ কেমন মুখভাব বলো? এ মানবিক লালিত্যে কী প্রয়োজন? কেন তোমার ফলকচিত্রে কেবল নমনীয় পেলব রেখা? কেন এই বৃত্তাকার ভঙ্গি? ঋজুতা
কোথায়, দৃঢ়তা কাঠিন্য কোথায়? ওষ্ঠ কেন এমন বিলোল হবে? এ হয়নি – সব ভুল হয়েছে তোমার। শ্রী রামচন্দ্রের কি এই মুখাবয়ব হয় কখনো? এ তো মানবিক আকৃতি, মানবিক ভাব, দেবতা কোথায়? জানকী আর যক্ষক্ষণী মূর্তিতে যে কোনো পার্থক্য নেই। এসবে কাজ হবে না – বিনষ্ট করো সব।
গুরু বাসুদেবের এই নিষ্ঠুর আচরণে কাতর আর্তনাদ করে ওঠে শ্যামাঙ্গ। তার অবচেতনে লালিত জীবনতৃষ্ণার এক প্রগাঢ় উন্মোচনের বেহাল দশায় সে অস্থির হয়ে ওঠে। সুতরাং, সর্বশক্তি দিয়ে সে গুরুকে বোঝাতে চায়, কী অসাধারণ এক প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে সে শিল্পগুলো রচনা করেছে; বলে, ‘গুরুদেব, এসব মূর্তিতে যে আমার আবেগ স্পন্দিত হয়েছে, রক্তধারার ছন্দ যে এদের রেখায় রেখায় বিবৃত হয়ে রয়েছে। দেখুন আপনি, এই ব্যাধ তরুণ-তরুণীর মুখভাবে সঙ্গীত মর্মরিত হচ্ছে কি না?’ শ্যামাঙ্গের এই অসাধারণ শিল্পবোধপূর্ণ বিনয় বচনে বাসুদেব বিমুগ্ধ হন না। বরং অবিশ্বাস্যরকম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নিষ্ঠুর এক সত্যের মুখোমুখি হয়ে তিনি যেন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ওঠেন। বাসুদেব বলেন,
মূর্খ তুমি শ্যামাঙ্গ, একেবারেই মহামূর্খ। তোমার স্মরণে থাকা উচিত যে, এসব নির্মিত হচ্ছে তোমার পিতৃধনে নয়। এসব নির্মাণের বিপুল ব্যয়ভার বহন করছেন কায়স্থ কুলতিলক মহাসামন্ত সুধীমিত্র। সুতরাং তাঁর আদেশ-নির্দেশই তোমার মান্য করতে হবে। তুমি আদেশের দাস মাত্র – তাঁর আদেশ পালনের জন্যই তোমাকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, প্রতিমা নির্মাণশাস্ত্র ব্যাখ্যার জন্য নয়।
বাসুদেব জাত শিল্পী। শিল্পের ন্যায়সূত্র তিনি জানেন। শিল্পের স্বভাব শিল্পের সৌন্দর্য। শিল্পীর স্বাধীনতার ব্যাপারেও তিনি সংবেদনশীল। একসময় শ্যামাঙ্গকে তিনি জানিয়ে দেন যে, বরেন্দ্রভূমির মৃৎশল্পীরা মৃৎফলকে জনজীবনের দৃশ্যাবলি জীবন্ত করে তুলেছে। শ্যামাঙ্গ স্পষ্টতই স্মরণ করতে পারে, সোমপুর মহাবিহারের অসাধারণ সব শিল্পকর্মের পরিচয় এই গুরুদেবই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন। ‘যোগীভিক্ষু, মৃগয়া প্রত্যাগতা ব্যাধরমণী, শৃঙ্গারমগ্ন মানব-মানবী, ঢাল-তরবারি হসেত্ম বীরবটিকা পরিহিতা বীরাঙ্গনা’ এসব শিল্পকর্মের ঐশ্বর্য ও মাহাত্ম্য তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
যৌবনে তিনি দরিদ্র জীবনযাপন করতেন। রাজানুগ্রহ লাভের চেষ্টা কখনো করেননি তিনি। শিল্পকর্মে সমৃদ্ধ অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছেন বছরের পর বছর। প্রতিমা লক্ষ্মণশাস্ত্রে সুপ–ত। মৌর্য ও গুপ্তযুগের প্রতিমা নির্মাণকলা কীভাবে গৌড়ীয় রীতির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে, তার ব্যাকরণ তিনি জানেন। অসাধারণ এক নিষ্ঠা, সততা ও শ্রমের মাধ্যমে তিনি আয়ত্ত করেছেন ভারতবর্ষের শিল্পচর্চার ইতিহাস, রীতিনীতি ও স্বভাব-চরিত্র। এখন তিনি একেবারে ভিন্ন মানুষ, একেবারেই ভিন্ন তাঁর জীবনবোধ ও জীবনতৃষ্ণা। বাসুদেবের এই পিছু হটার তাৎপর্যময় কোনো ইঙ্গিত-ইশারা উপন্যাসে লক্ষ করা যায় না। একি নিজের কোনো গোপন পরাজয়ে নিজের প্রতিই অবচেতন সংক্ষুব্ধতা, রাজানুগ্রহ ও অর্থের কাছে দাসবৃত্তির যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ, নাকি শ্যামাঙ্গের কোনো অপরাধের প্রতিশোধ। সে যা-ই হোক না কেন, এই আয়োজন পৃথিবীর মহত্তর উপন্যাসশিল্পের কথাই মনে করিয়ে দেয়। যে-জীবনতৃষ্ণা ও জীবনাকাঙক্ষার দ্বন্দ্ব নিয়ে উপন্যাসের এই যাত্রারম্ভ, ঐতিহাসিক পটভূমিতেও এর তাৎপর্য বিস্ময়কর। কেননা, শিল্পচর্চার মাহেন্দ্রক্ষণ নিরবধি নয়। দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক গড়ন-প্রকৃতির মধ্যেও শিল্প-সাহিত্যচর্চার মনোভূমি তৈরি হয়।
ঐতিহাসিক নিদর্শন অনুযায়ী রাজা লক্ষ্মণ সেনের শাসনামলে শিল্প-সাহিত্যচর্চার জোয়ার এসেছিল। তাঁর রাজসভায় অনেক প–ত ও শিল্পী-সাহিত্যিকের সমাবেশ ঘটেছিল। উমাপতি ধর ও শরণ ছিলেন তাঁর সভাকবি। তিনি নিজেও সাহিত্যচর্চা করতেন। তাঁর রচিত বেশকিছু সংস্কৃত কবিতা সদুক্তিকর্ণামৃত কাব্যসংকলনে স্থান পেয়েছে। পিতার শুরু করা গ্রন্থ অদ্ভুতসাগর তিনি সমাপ্ত করেছিলেন। গীতগোবিন্দ-রচয়িতা বিখ্যাত কবি জয়দেব, পবনদূত-রচয়িতা ধোয়ী এবং গোবর্ধন আচার্য তাঁর সভা অলংকৃত করতেন। বটু দাসের ছেলে লক্ষ্মণ সেনের বন্ধু শ্রীধরদাস সংস্কৃত কাব্যগ্রন্থ সদুক্তিকর্ণামৃত সংকলন করেন তাঁরই শাসনামলে। তাঁর প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারক হলায়ুধ মিশ্র রচনা করেন ব্রাহ্মণসর্বস্ব। দেরপাড়া প্রশসিত্ম-রচয়িতা উমাপতি ধর লক্ষ্মণ সেনের একজন মন্ত্রী ও অন্যতম সভাকবি ছিলেন। শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসের বিস্ময়কর সূচনালগ্ন যেন শিল্প-সাহিত্যচর্চার অসাধারণ সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দ্বন্দ্ব-সংঘাতকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, উপন্যাসটি আর এই পটভূমিতে পরিচর্যা পায়নি। তীব্র অভিমানে, ক্ষক্ষাভে, যন্ত্রণায় শ্যামাঙ্গের গুরুগৃহ ত্যাগের পর থেকে অসাধারণ একটি উপন্যাসশিল্পের আয়োজন বৃষ্টিবিঘ্নিত অনুষ্ঠানের মতো বিপুল বিশৃঙ্খলায় পতিত হয়। গভীর মমত্ববোধ ও প্রগাঢ় জীবনাকাঙক্ষার অসাধারণ শিল্পশক্তি নিয়ে শওকত আলীর আবির্ভাব। সেই অসাধারণ শিল্পশক্তি নিয়ে তিনি বরেন্দ্রভূমির প্রাচীন জনপদের পরিচয়, সেই জনপদে শ্যামাঙ্গ-লীলাবতীর প্রণয়, রাজ-রাজড়াদের অত্যাচার ও লুটপাট, বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও নবাগত মুসলমানদের উত্থান ইত্যাদির বিবরণ তুলে ধরেছেন, তা শেষ পর্যন্ত প্রগাঢ় হয়ে ওঠেনি – প্রবল কোনো জীবনাকাঙক্ষার গাঢ়বদ্ধ সংগঠন হয়ে ওঠেনি। পুরো উপন্যাসে নারী-পুরুষের প্রণয়সম্পর্ক একদিকে আত্মিক সংযমের শুদ্ধতায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে কতগুলো রূপক, প্রতীক ও সংকেতময়তায় দেহগত সম্পর্ক জনজীবনের ভাবনানিচয়ের বিষয় হয়ে উঠেছে; বাসত্মব ভিত্তি রচিত হয়নি।
উপন্যাসের শেষে লক্ষ করা যায়, যবন-সেনাদের হাতে নিরীহ শ্যামাঙ্গ নিহত হয়। এই তার পরিণতি। আর লীলাবতী, বসন্তদাস, ছায়াবতী, মিত্রানন্দ, নিরঞ্জন এবং আরো অনেকের পরিণতি জানা যায় না। শিল্পের দায় নেই যে, সবারই পরিণতি স্পষ্ট করে দিতে হবে। তবু কেন যে লেখক উপন্যাসশেষে কৈফিয়ত দিলেন, তা বোধগম্য নয়। এদের পরিণতির বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সীমাবদ্ধ ক্ষমতাই লেখককে অধিক বিসত্মারে যেতে সাহসী করেনি। উপরন্তু ওইসব চরিত্রের পরিণতি ইতিহাসে মোটামুটি স্পষ্টভাবেই লিপিবদ্ধ।’ বিনয় মহার্ঘ্য; কিন্তু সর্বত্র নয়। একজন শিল্পীর ক্ষমতার পরিমাপক তিনি নিজে নন, সংবেদী পাঠক। আর চরিত্রগুলোর পরিণতি ইতিহাসে আছে কি নেই, তা পাঠকের জানা অপরিহার্য নয়। আর শ্যামাঙ্গ সম্পর্কে তিনি যে অসাধারণ তাৎপর্যময় নিবন্ধ লিখেছেন -শিল্প-ইতিহাস-ঐতিহ্যের ন্যায়সূত্র উন্মোচন করেছেন – তারও কোনো প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না।
প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি ও দৌর্বল্যের বিষয় হলো এর ভাষা। কবিভাষা বা ডিকশন বলে একটি ভাষা আছে, কবিতায় যার অধিষ্ঠান। প্রথাগত শব্দ কতটা তাৎপর্যময়, কতটা অফুরন্ত ব্যাখ্যার আধার হয়ে উঠতে পারে, তার পরিচয় আছে সফল কবিতায়। শওকত আলী কথাসাহিত্যিক। কিন্তু কবি না হয়ে কি কেউ কথাসাহিত্যিক হতে পারেন – কোনো শিল্পী হতে পারেন? পারেন না। এই চিরায়ত সত্যের পরিচয় আছে প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসের প্রতিটি পদে, পদবন্ধনে। সাধু ভাষার শব্দভা-ারকে বিস্ময়কর নৈপুণ্যে তিনি ব্যবহার করেছেন চলিত ভাষার গড়ন-সৌষ্ঠবে। সম্ভবত ষোড়শ শতকের ভাষিক জগতের ধ্রম্নপদী আবহের স্বাদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি এই অসাধারণ ভাষাপ্রপঞ্চ বেছে নিয়েছেন। কমলকুমার মজুমদারের ভাষাব্যবহারের সঙ্গে আমাদের পরিচয় আছে, বাক্যগড়নের রীতির সঙ্গে পরিচয় আছে। সেখানে কাঠিন্য নির্ধারণই যেন কর্তব্য। কিন্তু সে অন্য অভিধা। শওকত আলী ভাষার মধ্যে পুরে দিতে চেয়েছেন জীবনের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের আলো, আনন্দ আর অফুরন্ত প্রবাহ। বাক্যের গড়নসৌষ্ঠবের মধ্যেও তাঁর এই অফুরন্ত শক্তির পরিচয় মেলে। পথ চলতে চলতে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত শ্যামাঙ্গ সম্মুখে যে-প্রহেলিকা দেখতে পায়, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে শওকত আলী লিখেছেন,
সে বড় বিচিত্র অবস্থা। এখন স্মরণ হলে কৌতুক বোধহয়। অবশ্য তখনো তার কৌতুক বোধ হচ্ছিল। কৌতুক বোধ হওয়ারই কথা। কারণ প্রথমে তুমি দেখলে বংশবীথিকার বিনত শাখায় একটি বনকপোত। পরক্ষণে সেই ক্ষুদ্রাকার পাখিটি হয়ে গেল একটি ঊর্ধ্বলম্ফী মর্কট – মুহূর্তেক পরে সেই মর্কটও আর থাকল না, নিমেষে হয়ে গেল একটি বিশুদ্ধ বৃক্ষশাখা। চক্ষু কচালিত করলে অতঃপর তুমি আর কিছুই দেখলে না। বংশবীথিকা না, বনকপোত না, মর্কট না, বিশুদ্ধ শাখাও না।
এই রচনার মধ্যে প্রায় প্রতিটি শব্দই তৎসম; কিন্তু কোথাও দুর্বোধ্যতার লেশমাত্র নেই। অধিকন্তু এমন একটি সহজতা বিরাজমান, যা পাঠকের বোধের জগৎকে তৃপ্ত করে।
এই সহজ সৌন্দর্যকে গতি দান করেছে এর ছন্দ। অমত্মঃসলিলা ফল্গুধারার মতো তাঁর গদ্যের ভেতর-গড়নের মধ্যে প্রবাহিত ছন্দ পাঠককে টানে, পাঠ শুরুর পর আর থামতে দেয় না, একটি আনন্দিত বিহারের মতো পাঠককে মুগ্ধ করে নিয়ে চলে। একটি উদাহরণ দিই :
শুকদেবের গৃহ নীরব। বেলা দ্বিপ্রহর, কিন্তু জনমানব কোথাও আছে বলে মনে হলো না। সে [শ্যামাঙ্গ] ক্ষণেক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে চারিদিকে দৃষ্টিপাত করে। তাতে বিচিত্র একটি ভাব তার উপলব্ধি হয়। মনে হয়, নীরব পলস্নীটিতে বিষাদ এবং হতাশা পরিব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে। তার কাছে পরিবেশটি অদ্ভুত এবং দুর্বোধ্য লাগে। সে একটি রাখাল বালককে ডাকল। বালকটি সংবাদ দিতেই শুকদেব বাইরে এলেন। ক্ষণেক পর দীনদাসকেও দেখা গেল। যোগীটিকে দেখে দীনদাস বিরক্ত হয়েছেন বলে মনে হলো। বললেন, যোগী মহাশয় কি এই গ্রামেই অবস্থান করবেন।
প্রথাগতভাবে তৎসম শব্দের বাক্য দীর্ঘ এবং জটিলতার সৃষ্টি হয়। বক্তব্যকে মুখ্য ভাবার ফলেই এ-ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওপরে যে-খ-চিত্রটি উলেস্নখ করা হয়েছে, তার ভাষা সম্পূর্ণই ভিন্ন। এখানে বাক্য ছোট ছোট এবং সে-বাক্যের প্রতিটি শব্দই সুনির্বাচিত। বাক্যের গড়ন, অন্তর্বয়ন ও বক্তব্যের ধারাক্রম সহজ-সাবলীল ও অনিবার্য। ফলে কাব্যভাষার মাধুর্য ও আনন্দ সহজেই উপভোগ করা যায়।
শওকত আলী ভাষার ব্যবহারে বিষয়ভিন্নতার তাৎপর্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। ফলে প্রণয়ের ভাষা আর অত্যাচারী রাজকর্মচারীদের ভাষণ ভিন্ন না হয়ে পারেনি। প্রণয়ের ভাষাকে তিনি বিচিত্র রাগ-অনুরাগের ব্যবহারে প্রণয়কাতর ও কামনাস্নিগ্ধ করে তুলেছেন। সেই ভাষার একদিকে আছে অসাধারণ সংযম ও পরিমিতিবোধ এবং অন্যদিকে আছে রোমান্টিকতা, কামনায় আরক্ত মানব-মানবীর দেহ-মনের উষ্ণতার উত্তাপ। মানব-মানবীর আত্মমর্যাদার বিষয়ে শওকত আলীর সংবেদনা শ্রদ্ধার্হ্য। ভালোবাসার পাত্রপাত্রী নিজেদের নিঃশর্ত সমর্পণের সময়েও সহজাত মর্যাদাবোধে সমুজ্জ্বল। শওকত আলী তাঁর অসাধারণ ভাষাশক্তির সৌন্দর্যে সেই মর্যাদাকর সম্পর্কের জগৎ নির্মাণ করেছেন। প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের পা–ত্যের মতোই তাঁর শব্দভা-ারের জগৎ। এই বিপুল ঐশ্বর্যকে তিনি বিস্ময়কর মমত্ববোধ আর প্রগাঢ় নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবহার করেছেন। প্রাচীন বাংলার বিচিত্র জনপদ, নদ-নদী, গ্রাম, শহর তাঁর এই অসাধারণ সৃজনশীলতায় প্রাণময় হয়ে উঠেছে। এক্ষক্ষত্রে ভাষার শক্তি, সামর্থ্য ও উৎপাদনশীলতাকে তিনি সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করতে সমর্থ হয়েছেন।
শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসে ভাষা ব্যবহারের এই বৈচিত্র্যময় সাফল্যের একটি উলটো পিঠ আছে, যেখানে চরিত্রগুলোর নিজস্ব কোনো ভাষা নেই। সব চরিত্রই কথা বলে লেখকের ভাষায়। ফলে একটি চরিত্রের হয়ে-ওঠা কথাসাহিত্যের এই মূলগত প্রত্যয় রক্ষিত হয়নি।
এখন বলা হয়, পৃথিবীতে যতজন মানুষ কথা বলে, ভাষার সংখ্যাও ঠিক তত। এই সংজ্ঞার অর্থ কী? এর ভেতর দিয়ে মানবীয় ভাষার কোন তাৎপর্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে? আসলে এ হচ্ছে স্বাতন্ত্র্যের চিহ্নবিশেষ। প্রতিটি মানুষই আলাদা – যেমন দেহ ও মনোগড়নে, তেমনি ভাষার ব্যবহারে। ব্যক্তির জীবনবোধ, বিশ্বাস, চিমত্মাচেতনায় – এককথায় ব্যক্তিমানুষটির স্বাতন্ত্র্যের প্রায় সমগ্র স্বরূপ চিহ্নিত হয় তাঁর ভাষা-ব্যবহারের মধ্যে। কথাসাহিত্যে এই স্বতন্ত্র স্বরের মূল্য অপরিসীম। একটি উপন্যাসে যে-লোকসমাবেশ ঘটে, সেখানে যদি বহুস্বরতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে মানবীয় স্বভাবের সাধারণ শর্তই অপূরণীয় থাকে। প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসে এই বহুস্বরতা না থাকায় কোনো চরিত্রই যথাযথ স্বাতন্ত্র্য অর্জন করেনি। তারপরও এই ভাষা লেখকের অসাধারণ এক আবিষ্কার – এ-কথা অনস্বীকার্য।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Posts (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1400)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ▼ 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট