Wednesday, February 12, 2025
আয়নাঘর পরিদর্শন শেষে ড. ইউনূস বললেন- বীভৎস: আইয়ামে জাহেলিয়াত প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী সরকার
তিনি বলেন, যা দেখলাম, শুনলাম অবিশ্বাস্য মনে হলো। যারা নিগৃহীত হয়েছে তাদের মুখ থেকেই শুনলাম। বিনা দোষে তাদের ধরে আনা হতো। ধরে এনে বলা হতো সন্ত্রাসী। এরকম টর্চারসেল সারা দেশে জুড়েই আছে। কেউ বলে ৭০০ কেউ বলে ৮০০। সংখ্যাও জানা যায়নি। আইয়ামে জাহেলিয়াত প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কমিশনকে ধন্যবাদ তারা অনেক কষ্ট করেছে। দেশের অবনতির যে রুপ তার একটা চিত্র। মানুষের সামান্যতম অধিকার সেটাও বঞ্চিত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর সংখ্যা সাড়ে ১৭০০। অজানা কতো আমরা জানি না। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অনেকে, কেউ তাদের খোঁজ জানে না। এক মেয়ে বলল, নয় বছর হয়েছে তার মা কোথায় কেউ জানে না।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ন্যায় বিচারটা যাতে তাড়াতাড়ি হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। আমরা একটা নতুন পরিবেশ, নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে চাই।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রিজওয়ানা, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটনসহ ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন। এসময় দেখা যায় নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তাদের যে কক্ষে রাখা হয়েছিল সেটি চিহ্নিত করেন।
![]() |
| টর্চার সেল (নির্যাতনকেন্দ্র) পরিদর্শনে মো. নাহিদ ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে গত জুলাই মাসে সাদাপোশাকের লোকজন তুলে নিয়েছিল। তুলে নেওয়ার পর তাঁদের টর্চার সেলে (নির্যাতনকেন্দ্র) রাখা হয়। আজ বুধবার সেই টর্চার সেল পরিদর্শনে গিয়ে কক্ষগুলো শনাক্ত করেন তাঁরা। প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব শুচিস্মিতা তিথি আজ বুধবার তাঁর ফেসবুকে দেওয়া পৃথক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ বুধবার রাজধানীর তিনটি এলাকায় গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব শুচিস্মিতা তিথির ফেসবুক থেকে নেওয়া। -প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দল by রাহীদ এজাজ
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ১০৫ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে ওই সময়ের নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিগত সরকার ও শাসক দল আওয়ামী লীগকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।
ওএইচসিএইচআরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনটি আজ বুধবার জেনেভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। গত মাসের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রতিবেদনের খসড়া দিয়েছিল। কোনো মতামত থাকলে তাতে যুক্ত করার জন্য সময়সীমা দেয় ওএইচসিএইচআর।
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী দল প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, সিলেট ও গাজীপুর—এই আট শহরে অনুসন্ধান চালায়। মূলত যে শহরগুলোতে বেশি মাত্রায় বিক্ষোভ হয়েছিল, সেসব স্থানে গিয়ে সরেজমিনে কাজ করে জাতিসংঘের দলটি। প্রতিবেদন তৈরিতে অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী ব্যক্তিদের নিয়ে ২৩০টির বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আরও ৩৬টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই ৩৬ জনের মধ্যে সরকারের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারাও আছেন, যাঁরা ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারী ও বিরোধী মত দমনের কৌশল হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত দিকনির্দেশনায় মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনের সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি), পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মতো সংস্থাগুলো আন্দোলনকারীদের সহিংসভাবে দমনের মাধ্যমে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নানা পদক্ষেপ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কোর কমিটিকে নিয়ে বৈঠকে নিয়মিতভাবে সভাপতিত্ব করতেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোর কমিটির বৈঠকে সামগ্রিক পদক্ষেপের কৌশলগত নির্দেশনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বাহিনী মোতায়েন ও সুনির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অভিযান নিয়ে আলোচনা হতো। এর পাশাপাশি সমন্বিতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমন্বয় প্রক্রিয়ার সম্পূরক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এই প্রক্রিয়ার সরাসরি যুক্ত ছিল। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এসবি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের প্রধানদের কাছে থেকে নিয়মিতভাবে সরাসরি প্রতিবেদন পেতেন। এ ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মধ্যে ২১ জুলাইয়ের একটি প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়ে শেখ হাসিনাকে সতর্ক করা হয়েছিল। একই ধরনের উদ্বেগ আগস্টের শুরুতেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। ২৯ জুলাই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আন্দোলন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। আর আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা সরাসরি ও টেলিফোনে নিরাপত্তা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আদেশ দিতেন ও সার্বিক অপারেশন পর্যবেক্ষণ করতেন।
যাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাতিসংঘের কাছে দাবি করেছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের মধ্যে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাহিনীগুলো নিজে থেকে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে। তবে এসব তথ্যের যথাযথ সত্যতা খুঁজে পায়নি জাতিসংঘ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ঢাকা শহরসহ সারা দেশে একই ধরনের সমন্বিত বল প্রয়োগ করেছে। সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক প্রতিবেদন মাঠ থেকে পেয়েছেন। তবে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে শেখ হাসিনাসহ অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তা গোপন করতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আন্দোলনকারী ও বিরোধী দলগুলোর ওপর দোষ চাপাতে মনোযোগী ছিলেন।
সাবেক ও বর্তমান কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৮ জুলাই কোর কমিটির বৈঠকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আন্দোলনকারীদের ওপর আরও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী পূর্ববর্তী সরকার, আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হাজারো আন্দোলনকারীকে গুরুতরভাবে আহত করে। নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটক রাখতে স্বেচ্ছাচারিতা, নির্যাতন এবং নানাভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা। ওই সময় তারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমান্তরালভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুজনই নিয়মিত বিভিন্ন উৎস থেকে মাঠের চিত্র নিয়ে প্রতিবেদন পেতেন। মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ২১ জুলাই ও আগস্টের শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। এরপরও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিজিবি, র্যাব, ডিজিএফআই, পুলিশ, ডিবিকে বলপ্রয়োগের সরাসরি আদেশ ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সদস্য, যাঁরা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের কোনো সত্যিকারের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
কোটায় সীমিত ছিল না আন্দোলন
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পেছনে কোটা একমাত্র কারণ নয়। এ জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সুশাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, কলুষিত রাজনৈতিক চর্চা, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চনার ক্ষোভের কথা বলা হয়েছে। ফলে ধর্ম ও পেশাজীবী মর্যাদানির্বিশেষে সত্যিকারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে এ আন্দোলনে লাখো বাংলাদেশির মধ্যে নারী ও শিশুও অংশগ্রহণ করে।
হতাহতের সংখ্যা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি হিসাবের পাশাপাশি অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত মারণাস্ত্র ও শটগানের গুলিতে নিহত হয়েছেন। হাজারো মানুষ গুরুতর ও চিরতরে আহত হয়েছেন। ১১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ শিশু। পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ‘টার্গেট কিলিং’, ইচ্ছাকৃতভাবে পঙ্গু করা, নির্বিচার গ্রেপ্তার, অমানুষিক নির্যাতন ও নানাভাবে বল প্রয়োগ করেছে। আন্দোলনের শুরুতে নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সদস্যরা নারীদের ওপর হামলা করেছেন। এগুলো যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ছিল। এগুলোকে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বলেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে। সারা বিশ্বে আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা আবু সাঈদের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে নানা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পুলিশ গুলি করার সময় আবু সাঈদ যে নিরস্ত্র ছিলেন, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপারিশে যা আছে
জাতিসংঘের অনুসন্ধান দলটি জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং সমস্যার মূল উৎস খুঁজে বের করতে ৫০টির মতো সুপারিশ করেছে। বলা হয়েছে, নিরপেক্ষভাবে কার্যকর, পক্ষপাতহীনতার সঙ্গে সব বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনার তদন্ত করতে হবে। র্যাব ও এনটিএমসিকে বিলুপ্তির সুপারিশও করা হয়েছে। এনটিএমসিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করেছে।
অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহিনীর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠানো; বিজিবি, ডিজিএফআইসহ গোয়েন্দা সংস্থার আইনি ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরা; আনসার, বিজিবিকে সামরিক বাহিনী থেকে মুক্ত রাখা; অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সামরিক বাহিনী অভ্যন্তরীণ যেকোনো পরিস্থিতিতে কতটা সময় কাজ করবে এবং মাঠে থাকবে, তা নিশ্চিত করা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে, এমন সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তদন্ত করা।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হলে সত্যিকার বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফেরার পথ রুদ্ধ হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার চর্চা থেকে বঞ্চিত করা হবে।
প্রতিবেদনে অবাধ ও সত্যিকারের নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে সব রাজনৈতিক দল যেন সমান প্রচারণার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিষ্ঠাগুলো যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগের সংস্কার
ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জরুরিভিত্তিতে নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগের সংস্কার করতে বলেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশের আইনি কাঠামোর সংস্কারের পাশাপাশি স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ দণ্ড হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই-আগস্টে মানবাধিকার লঙ্ঘনে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন আরও স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন তদন্তের পরামর্শ দিয়েছে। কিছু ঘটনা লোকমুখে শোনা বা পুরোপুরি তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহে ঘাটতি থাকায় তথ্যানুসন্ধান দল আবার ওই সব ঘটনার তদন্তের পরামর্শ দিয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘন থামেনি
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এখনো আগের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছে। এখনো গণহারে করা মামলায় ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও আদিবাসী গোষ্ঠীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবু প্রতিশোধমূলক সহিংসতা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এখনো দায়মুক্তি ভোগ করছেন।
জুলাই–আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের মামলায় কয়েক হাজার মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ১৮১টি ঘটনার তদন্ত চলমান। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৯৮ হাজার ১৩৭। তাঁদের মধ্যে ২৫ হাজার ৩৩ জনের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষকে মামলায় আসামি করায় হয় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে অথবা গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যদিও অনেকেরই এসব অপরাধের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। জাতিসংঘ বেশ কিছু মামলা পর্যালোচনা করে দেখেছে যে চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জনগণের চাপের মুখে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের উদ্বেগের বিষয়গুলো অন্তর্বর্তী সরকার আমলে নিয়ে সম্প্রতি কিছু সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সব উদ্বেগ আমলে নেওয়া হয়নি। এ আইনে মৃত্যুদণ্ড, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারের মতো বিষয়গুলোতে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড বজায় রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে কি না, তা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জুলাই ও আগস্টের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ককে চিঠি লেখেন। এরপর টুর্ক একটি তথ্যানুসন্ধান দল গঠন করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রুরি ম্যানগোভেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অগ্রবর্তী দল গত বছরের ২২ থেকে ২৯ আগস্ট ঢাকা সফর করে। এরপর তদন্ত করার জন্য জাতিসংঘের মূল দল তথা তথ্যানুসন্ধান দল এক মাসের বেশি সময় বাংলাদেশে অবস্থান করে গত জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ১৪ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করে।
![]() |
| আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে পুলিশ। ১৮ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোপন বন্দীশালা পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা
আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা আয়না ঘর পরিদর্শনে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য ও সাংবাদিকেরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গোপন বন্দীশালাগুলো আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো ছবিতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূস গোপন বন্দীশালার বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখছেন।
![]() |
| গোপন বন্দীশালায় থাকা ইলেকট্রিক চেয়ার দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যরা। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজার নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব: ট্রাম্পের চাপ দৃঢ়ভাবে উপেক্ষা করলেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাঁরা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, গাজা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ও উপত্যকাটির বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে সরানোর পরিকল্পনা থেকে তিনি সরে আসবেন না।
ট্রাম্পের গাজা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাবে আরব দেশগুলো এরই মধ্যে হতাশা প্রকাশ করেছে। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, পুনর্গঠনের জন্য গাজাবাসীকে প্রতিবেশী মিসর ও জর্ডানসহ আরও কয়েকটি দেশে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তাঁদের আর গাজায় ফিরতে দেওয়া হবে না। গাজাকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসৈকতে’ রূপ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটা [গাজা] নিতে যাচ্ছি। এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আমরা এটাকে ঢেলে সাজাব। শেষ পর্যন্ত আমরা এটা [ঢেলে সাজানোর কাজ] শুরু করতে যাচ্ছি, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’ তাঁর এই পরিকল্পনা ওই অঞ্চলে ‘শান্তি’ বয়ে আনবে বলেও মন্তব্য করেন রিপাবলিকান পার্টির এই প্রেসিডেন্ট।
জবাবে ফিলিস্তিনিদের গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে বাস্তুচ্যুত করার বিরুদ্ধে জর্ডানের ‘অবিচল অবস্থান’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। সংবাদ সম্মেলন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটাই আরবদের একীভূত অবস্থান। ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত না করে গাজা পুনর্গঠন করা এবং ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সবার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
জর্ডানের বাদশাহের বিরোধিতা সত্ত্বেও ট্রাম্প মনে করেন, জর্ডানের পাশাপাশি মিসরও শেষ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত গাজাবাসীকে নিতে সম্মত হবে। দেশ দুটি অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জর্ডানে আমাদের এক টুকরো জমি থাকবে। আমি বিশ্বাস করি মিসরেও আমাদের এক টুকরো জমি থাকবে। [মধ্যপ্রাচ্যের] অন্য কোথাও আমাদের জন্য সামান্য কিছু জমি থাকতে পারে। আমি মনে করি, আমরা যখন আলোচনা শেষ করব, তখন আমাদের জন্য এমন একটি স্থান থাকবে, যেখানে তারা [গাজাবাসী] সুখ-শান্তি ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।’
ট্রাম্প জর্ডানের সহায়তাও বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কথা প্রসঙ্গে বলি, আমরা জর্ডানকে বিপুল অর্থ দিয়েছি, মিসরকেও দিয়েছি। এর দ্বারা আমি কিন্তু তাদের হুমকি দিচ্ছি না। আমি মনে করি আমরা সে সবের ঊর্ধ্বে।’
বাদশাহ আবদুল্লাহ ওয়াশিংটনে যাওয়ার আগেও গাজাবাসীকে সরিয়ে উপত্যকাটি দখলের ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। গাজা দখলের প্রস্তাবটি প্রকাশ করার পর প্রথম আরব নেতা হিসেবে বাদশাহ আবদুল্লাই মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও বাদশাহ আবদুল্লাহ উভয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিলেন। তবে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য তাঁকে কিছুটা অপ্রস্তুত করেছে বলে মনে হয়েছে।
কথা বলার একপর্যায়ে গাজাবাসীদের নেওয়ার ব্যাপারে বাদশাহ আবদুল্লাহ প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চাচ্ছিলেন ট্রাম্প। তখন জর্ডানের বাদশাহ বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য যেটা সর্বোচ্চ মঙ্গল সেটাই করা হবে। হ্যাঁ, গাজার দুই হাজার শিশুকে আমরা চিকিৎসার জন্য জর্ডানে নেব।’ ট্রাম্প তাঁর এই প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।
বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, ‘পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে আরব নেতারা একে একে ওয়াশিংটনে আসবেন। এই কাজ কীভাবে করলে সবার জন্য ভালো হয় [তা খুঁজে বের করাই] মূল বিষয়।’ এসব কথা বলার সময় তাঁর চেহারায় অস্বস্তি ফুটে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি এবং বাদশাহ আবদুল্লাহর ছেলে ও যুবরাজ হুসাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বাঁয়ে) ও জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ফের হামলার হুমকি নেতানিয়াহুর: জিম্মি মুক্তির সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে -লাপিদ
এছাড়া সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে আগুনে ঘি ঢেলেছেন। তিনি বলেছেন, শনিবার দুপুরের আগে গাজায় আটক সকল জিম্মিকে মুক্তি না দিলে হামাসের ওপর নরকের শাস্তি নেমে আসবে। যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় শেষ না হতেই ইসরাইল এবং তাদের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের এমন ভোল পাল্টানোয় পুনরায় যুদ্ধের আতঙ্কে পড়েছে গাজার লাখ লাখ নিরীহ মানুষ।
অনলাইন বিবিসি বলছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হামাসকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি শনিবার দুপুরের মধ্যে ইসরাইলি জিম্মিদের ফিরিয়ে দেয়া না হয় তাহলে গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করবে ইসরাইল। এরপর সেখানে পুনরায় তীব্র হামলা শুরু করা হবে। হামাসের জিম্মি মুক্তি স্থগিতাদেশ দেয়ার পরপরই গাজার ভেতরে এবং আশপাশে ইসরাইলি বাহিনীকে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
তবে হামাস জানিয়েছিল জিম্মি মুক্তির স্থগিতাদেশ চূড়ান্ত নয়। ইসরাইল চাইলে মুক্তির জন্য দরজা খোলা থাকবে। তবে এক্ষেত্রে তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে সামনে আগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী এখনও ৭৬ জন জিম্মি গাজায় আটক রয়েছেন। নেতানিয়াহুর দেয়া হুমকিতে তিনি কি সকল জিম্মির মুক্তির কথা বলেছেন- তা স্পষ্ট নয়। নাকি শনিবার চুক্তি অনুযায়ী যে তিন জিম্মিকে মুক্তি দেয়ার কথা তাদের কথা বলেছেন? তবে ইসরাইলের এক মন্ত্রী বলেছেন, নেতানিয়াহু সকল জিম্মি মুক্তির বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করেছেন। এর আগে ট্রম্পও এ কথাই বলেছেন। শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে সকল জিম্মিকে মুক্তি না দিলে হামাসের ওপর নরকের শাস্তি নেমে আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নেতানিয়াহুর ওই বক্তব্যের পর হামাস তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির সকল চুক্তি রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে তার জন্য ইসরাইল দায়ী। ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী ওই সশস্ত্র সংগঠন। হামাসের অভিযোগ হচ্ছে- চুক্তি অনুযায়ী গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরাইল।
জিম্মি মুক্তির সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে: লাপিদ
জিম্মি মুক্তির সময় ফুরিয়ে আসছে বলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ার করলেন বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। গাজার যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসের হাতে এখনও যেসব বন্দি জিম্মি অবস্থায় আছেন, তাদের মুক্ত করতে আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন লাপিদ। তিনি জিম্মি মুুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলমান রাখতে নেতানিয়াহুকে কাতারের রাজধানী দোহা’য় যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, জমজ দুই ভাই গালি ও জিভ বেঁচে আছেন। এটা ইসরাইল সরকারের জন্য জেগে ওঠার আহ্বান। উল্লেখ্য, গালি ও জিভ ২৭ বছর বয়সী জমজ দুই ভাই। তাদেরকে ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর কাফর আজা থেকে তুলে নিয়ে যায় হামাস। এখনও তারা হামাসের হাতে আটক। লাপিদ তার পোস্টে আরো বলেন, সবাইকে বাড়ি ফেরত আনুন। সময় ফুরিয়ে আসছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
![]() |
| বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় নরক যন্ত্রণার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘অবাস্তব’ বলে নিন্দা উত্তর কোরিয়ার
এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ফিলিস্তিন ও ইসরাইলকে নিয়ে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন, তখন অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। বলেন, গাজাবাসীকে গাজা থেকে সরিয়ে জর্ডান ও মিশরসহ আরবের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তারপর গাজাকে বানানো হবে মধ্যপ্রাচ্যের ‘রিভেরা’। অর্থাৎ এর মধ্যদিয়ে গাজাবাসীকে তাদের ভূখণ্ড থেকে চিরতরে উৎখাতের একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়। গাজাকে দখল করে নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখান থেকে সবকিছু সরিয়ে দিয়ে দখল করার ঘোষণা দেন। বার বার এই কথা বলেছেন এবং বলছেন। প্রথমে হোয়াইট হাউস থেকে গাজাবাসীকে অস্থায়ী সময়ের জন্য সরিয়ে দেয়ার কথা বলা হলেও, ট্রাম্প তেমন ইঙ্গিত দেননি। তার প্রশাসনের কেউ কেউ বলেছেন, এই দেশান্তরী করা হবে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য। রোববারও ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের গাজা সম্পর্কে বলেছেন, আমি গাজা কিনে নিতে এবং এর মালিক হতে বদ্ধপরিকর। পরের দিন সোমবার ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একবার দেশ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর ফিলিস্তিনিদের আর তাদের দেশে ফেরার অধিকার থাকবে না। কারণ, তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য অন্য কোথাও স্থায়ী আবাস গড়বেন। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেয়ার জন্য তিনি জর্ডান ও মিশরের সঙ্গে চুক্তি করার কথাও বলেন। তবে তার এই আইডিয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছে জর্ডান ও মিশর।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন বিতর্কিত অবস্থানের কারণে পুরো গাজায় যেমন, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তেল আবিব থেকে ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক আকিভা এলদার বলেছেন, ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত অবস্থানের কারণে গাজা জুড়ে গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে যাওয়ার আগে এমন একটা ধারণা ছড়িয়ে পড়েছিল যে, গাজা সমস্যার সমাধান করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু গাজায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের জন্য তিনি এখন মৃত্যু সনদ চাইছেন। এলদার আরও বলেন, ইসরাইলের শতকরা কমপক্ষে ৬০ ভাগ মানুষ এই যুদ্ধ বন্ধ চান। কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণাকে এই যুদ্ধে ফেরার যুক্তি হিসেবে দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন নেতানিয়াহু।
ওদিকে হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে জেরুজালেম থেকে তেলআবিব পর্যন্ত মহাসড়কে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। এ সময় তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল রাখার আহ্বান জানান। বিক্ষোভ থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য নেতানিয়াহু সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয়। অন্যদিকে কাতারে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিষয়ের সহযোগী প্রফেসর আবদুল্লাহ আল আরিয়ান বলেছেন, যদি ইসরাইল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় তাহলে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো বহাল রাখা সম্ভব। যেকোনো মূল্যে গাজায় আবার যুদ্ধ শুরু হওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুঁতেরা। এক্সে এক পোস্টে তিনি হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জিম্মিদের মুক্তির জন্য পরিকল্পিত উপায় অনুসরণ করতে। তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির চুক্তি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে সমঝোতা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের হুমকির পর হামাস বলেছে, হুমকির কোনো মূল্য নেই। হামাসের সিনিয়র নেতা সামি আবু জুহরি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্মরণ রাখা উচিত যে, বাকি জিম্মিদের ফেরত নিতে ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। উভয় পক্ষকে এটা মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে কথাবার্তার কোনো মূল্য নেই। এতে শুধু পরিস্থিতি জটিল হয়। এমন প্রেক্ষাপটে বাকি জিম্মিদের ফেরত আনতে বদ্ধপরিকর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, আমাদের সব জিম্মিকে জীবিত ও মৃতদের ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আমরা অব্যাহতভাবে এবং বিরামহীনভাবে ব্যবস্থা নেবো।
এ অবস্থায় গাজার সালাহ আল-দিন রোড থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলছেন, প্রথম দিন থেকেই যুদ্ধবিরতি ছিল ভঙ্গুর অবস্থায়। অপ্রয়োজনে তা কার্যকর করতে বিলম্ব করা হয়। ইসরাইলি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায় থেকে বলা হয়, একবার যখন জিম্মিদের মুক্ত করা হবে, তার পরপরই ইসরাইল আবার যুদ্ধ শুরু করবে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ট্রাম্পের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে দেয়ার হুমকি। ফলে গাজার সর্বত্রই আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যেসব মানুষ বিধ্বস্ত বাড়িঘরে ফিরে আবার নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন, সোমবার দিবাগত রাতে নাটকীয়ভাবে তা বদলে গেছে। গাজা সিটির উপর দিয়ে খুব কম উচ্চতায় উড়ছিল বিপুল পরিমাণ ড্রোন। দুই তিন ঘণ্টা ধরে আকাশে টহল দিচ্ছিল যুদ্ধবিমান। এর ফলে আবার যুদ্ধ শুরুর ভয় দেখা দেয়। সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন গাজার বেশির ভাগ মানুষ। ওদিকে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে কমপক্ষে ১১০টি এনজিও। তারা একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে গাজা থেকে জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো আহ্বানের বিরোধিতা করা হয়েছে। বিরোধিতা করা হয়েছে গাজাকে কিনে নেয়ার।
ট্রাম্পের গাজা দখলের প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ বলে নিন্দা উত্তর কোরিয়ার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখলের প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ বলে নিন্দা জানিয়েছে রুশ ব্লকের প্রধান মিত্র উত্তর কোরিয়া। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গাজা দখলের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা রীতিমতো ডাকাতি এবং বোকামি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, কোরিয়ার সেন্ট্রাল বার্তা সংস্থা (কেসিএনএ) সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে বলেছে, যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাতে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও শান্তির ক্ষীণ আশাও ভেঙে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে বিশ্ব এখন জ্বলন্ত কয়লার মতো উত্তপ্ত বলেও উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থাটি।
গাজা নিয়ে ট্রাম্পের হতবাক করা প্রস্তাবকে ঘিরেই এসব কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বলছে, গাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তা উদ্বেগজনক।
উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থার ওই খবরে ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রশাসনেরও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে পানামা খাল এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি এবং মেক্সিকো উপসাগর এর নাম পরিবর্তন করে আমেরিকা উপসাগর করার কড়া সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তার দিবাস্বপ্ন থেকে বেরিয়ে এসে অবিলম্বে অন্যান্য দেশ ও জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। কেসিএনএ-এর প্রতিবেদনে আমেরিকাকে ‘হিংস্র ডাকাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এক অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছিলেন ট্রাম্প। কেসিএনএ-এর প্রতিবেদনে এ বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাগর-রুনি হত্যা: জট খুলতে শুরু আসছে অনেক তথ্য
শিশির মনির বলেন, ১৩ বছরেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। আমরা মনে করি, এটি রাষ্ট্রীয় লেভেলে একটি বড় ধরনের ব্যর্থতার ফল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে একটি উচ্চতর টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। উচ্চতর টাস্কফোর্স ৪ঠা এপ্রিলের মধ্যে তাদের তদন্তের সারবত্তা পেশ করবে। এ সময়ের মধ্যে তদন্তকারী (টাস্কফোর্স) কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সাইন্টিফিক ও ফরেন যেগুলো এভিডেন্স আছে সেগুলো এক্সামিন হচ্ছে।
সাগর-রুনির এ আইনজীবী বলেন, অতীতে ইনভেস্টিগেশন প্রসেসকে সঠিকভাবে আইনি পদ্ধতিতে চলতে দেয়া হয়নি। দক্ষ জনশক্তি এবং ইচ্ছার অভাবে সময়মতো তদন্ত সম্পন্ন করা যায়নি। ১৩ বছর পরে আজ এসে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে চ্যালেঞ্জিং জব। কারণ ১৩ বছরে অনেক সাক্ষী অদৃশ্য হয়ে গেছে। এসব কিছুর পরেও আমরা আলো দেখছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের বিষয়টির সঙ্গে স্পর্শকাতরতা আছে। এক ধরনের গোপনীয়তা আছে। তবে যাদের এক্সামিন করা হয়েছে, আলোচনা করেছেন, আলাপ করেছেন, অন্য মামলায় জেলে আছেন, এরকম ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে। যারা কিছুটা বক্তব্য দিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের ব্যাপারে তারা মুখ খুলেছেন। তবে আদালতের বাধ্যবাধকতার কারণে বর্তমানে সবটুকু জানানো উচিত নয় মন্তব্য করে শিশির মনির বলেন, কিছু ইন্ডিকেশন (আলামত) আসছে যে, অতীতে তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্টারেস্ট ইম্পিলিমেন্ট করার জন্য তদন্ত প্রক্রিয়াকে সঠিক আইনি পথে পরিচালিত হতে দেয়া হয়নি। এগুলো তদন্তের অংশ হবে। কারা কারা ছিলেন, কারা বাধা দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন। যারা রিট করেছেন তারা কেন রিট করেছেন। কেন র্যাবকে সেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। র্যাবতো কোনো তদন্তকারী সংস্থা না। সেটিও খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা।
রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, তদন্ত তো আমরা বুঝি না। তারপরও সবকিছু দেখে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাই। আমরা আশা করবো যেহেতু আগের সরকার নেই, আমরা সবসময় মনে করতাম যে, আগের সরকারের সংশ্লিষ্ট কেউ বা সরকার স্বয়ং এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কারণ যত ধরনের নাটক হয়েছে, যে ডিএনএ টেস্ট থেকে শুরু করে আমাদের হয়রানি এবং নানা সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী কথাবার্তা বলেছেন। যেমন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেডরুম পাহারা দেয়ার দায়িত্ব তার না। এসব থেকে আমরা মনে করি তৎকালীন সরকার বা তাদের সংশ্লিষ্ট কেউ এটার সঙ্গে জড়িত।
সরকার আন্তরিক হলে ১২ বছর ধরে তদন্ত চলতো না। র্যাবের মতো একটা বাহিনী যারা তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত না...। তিনি বলেন, এতবার আশা ভঙ্গ ঘটেছে, যার ফলে আমরা আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু পাচ্ছি না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা তদন্ত রিপোর্ট কী আসছে সেটা জানতে পারছি।
মাহির সরওয়ার মেঘ বলেন, আগে তো কিছু হতো না। এখন তো দেখছি যে ওরা কাজ করছে। তো একটু হলেও আমরা আশাবাদী। আশা করা যাচ্ছে পজেটিভ কিছু একটা শুনতে পাবো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৩ পুলিশ প্রত্যাহার: সিলেটে শারপিন টিলা নিয়ে ঘুম ভাঙলো পুলিশের

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
February
(308)
-
▼
Feb 12
(8)
- আয়নাঘর পরিদর্শন শেষে ড. ইউনূস বললেন- বীভৎস: আইয়ামে...
- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্র...
- গোপন বন্দীশালা পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা
- গাজার নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব: ট্রাম্পের চাপ দৃঢ়ভাবে উপ...
- গাজায় ফের হামলার হুমকি নেতানিয়াহুর: জিম্মি মুক্তির...
- গাজায় নরক যন্ত্রণার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘অবাস্তব’...
- সাগর-রুনি হত্যা: জট খুলতে শুরু আসছে অনেক তথ্য
- ১৩ পুলিশ প্রত্যাহার: সিলেটে শারপিন টিলা নিয়ে ঘুম ভ...
-
▼
Feb 12
(8)
-
▼
February
(308)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



