Sunday, July 10, 2011

অস্ত্র ছাড়ুন, ফিরে আসুন জীবনের মূলস্রোতে

ক্ষমতা গ্রহণের দেড় মাস পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাওবাদীদের প্রতি অস্ত্র ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আহ্বান জানিয়েছেন জীবনের মূলস্রোতে ফিরে আসার। তিনি বলেছেন, ‘আর বন্দুক নয়, রক্তপাত বন্ধ করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনুন। যোগ দিন উন্নয়নকাজে।’ গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা এই আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, জঙ্গলমহল অস্ত্রমুক্ত হলে এবং সেখানে শান্তি ফিরে এলে তবেই যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে।
ক্ষমতা গ্রহণের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী জনসভায় বারবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর আর মমতা জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার না করায় মাওবাদী এবং পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটির নেতা-কর্মীরা প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হন তাঁর ওপর।
এদিকে মমতা মাওবাদীদের অস্ত্র সমর্পণ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এ কথাও বলেছেন, অস্ত্র সমর্পণ করলে দেওয়া হবে আর্থিক প্যাকেজ। বলেছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বলেছেন, জঙ্গলমহলে অত্যাচার-অবিচারের তদন্ত করা হবে। এলাকায় উন্নয়ন করা হবে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এমনকি জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের অরণ্যের অধিকার দেওয়া হবে। মমতা আরও বলেছেন, ৪৬ জন রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে ওই বন্দী কারা, তা অবশ্য বলেননি। যদিও বামফ্রন্ট সরকার জঙ্গলমহলে এর আগে একইভাবে মাওবাদীদের জীবনের মূলস্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। তাতে অবশ্য তেমন সাড়া দেয়নি মাওবাদীরা।

ন্যানো গাড়ির আশায় বন্ধ্যাত্বকরণের হিড়িক

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ঝুনঝুনুপুর জেলায় লোভনীয় পুরস্কারের আশায় বন্ধ্যত্ব করতে নারী-পুরুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সেখানে বন্ধ্যত্ব করেছেন ১৫৫ জন। গত বছর একই সময়ে বন্ধ্যাকরণ অস্ত্রোপচার করান মাত্র ৩২ জন।
বন্ধ্যাকরণে লোকজনের হঠাৎ এত আগ্রহের কারণ ন্যানো গাড়ি। স্থানীয় প্রশাসন সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, বন্ধ্যাকরণ ব্যবস্থা নিলে ন্যানো গাড়ি পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে তা লটারির মাধ্যমে। এ জন্য ১ জুলাই থেকে যাঁরা বন্ধ্যাকরণ অস্ত্রোপচার করাচ্ছেন, তাঁদের একটি করে কুপন দেওয়া হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষে এ কুপনের লটারি হবে। বিজয়ী একজনকে দেওয়া হবে একটি ন্যানো গড়ি। এ ছাড়া মোটরসাইকেল, টেলিভিশনসহ অন্যান্য পুরস্কার তো আছেই।
স্বাস্থ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা সীতারাম শর্মা বলেন, ‘আমাদের এই কৌশলে বেশ কাজ হচ্ছে। গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের চেয়ে এ বছর একই সময়ে পাঁচ গুণ বেশি মানুষ এ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।

ত্রিপোলির পথে দুটি শহরে এগিয়ে চলেছে বিদ্রোহীরা

লিবিয়ায় রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি শহরের আরও অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে বিদ্রোহীরা। সেখানে সেনাদের হটিয়ে ত্রিপোলির দিকে এগিয়ে চলেছে তারা।
বিবিসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টার লড়াইয়ে সেনা দখলে থাকা লিবিয়ার ঘারিয়ান শহরের প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে বিদ্রোহীরা। রাজধানী ত্রিপোলিতে ঢোকার পথে কৌশলগত কারণে এই শহরের গুরুত্ব রয়েছে। একটি প্রধান সড়ক এই শহরের ভেতর দিয়ে ত্রিপোলির দিকে গেছে।
এ ছাড়া মিসরাতা শহর থেকে বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির দিকে অনেকটা এগিয়ে এসেছে।
এদিকে লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ, প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ দেওয়া থেকে পেন্টাগণকে বিরত থাকার লক্ষ্যে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ভোট দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিলের অংশ হিসেবে ওই ধারা অনুমোদনের জন্য সিনেটে পাঠাতে হবে। সেখানে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের কট্টর সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর ম্যাককেইন এই ভোট প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এতে গাদ্দাফি ও গণতন্ত্রের দাবিতে লড়াইরত বিদ্রোহীদের প্রতি ভুল বার্তা পাঠানো হবে।

মিসরে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ

মিসরের রাস্তায় রাস্তায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। হোসনি মোবারকের অপসারণের পর রাজনৈতিক সংস্কারে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষমতাসীন সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ হয়।
রাজধানী কায়রোর তাহিরর স্কয়ারে নামাজ শেষে মুসল্লিরা রাস্তায় বসে পড়েন। এ সময় সূর্যের প্রখর তাপ থেকে বাঁচতে মাথার ওপর শামিয়ানা টানানো হয়। স্কয়ারের এক পাশে একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমাদের বিপ্লব চলছে’। একজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা কোনো পরিবর্তন অনুভব করছি না।

অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে আত্মহত্যা বেড়েছে ইউরোপে

ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে আত্মহত্যার হার বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ অর্থনৈতিক সংকট। ১০টি দেশের ওপর তাঁরা ওই গবেষণা চালান।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ইউরোপের ওই ১০ দেশের নয়টিতে কর্মক্ষমদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ সময় বেকারত্বের হারও বেড়ে যায়। চিকিৎসা সাময়িকী দ্য লানসেট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আত্মহত্যা পরিস্থিতির অবনতির পর ৬৫ বছরের কমবয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেড়েছে ৫ থেকে ১৭ শতাংশ।
গবেষণা দলটি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের ১০টি দেশে আত্মহত্যার হারের তুলনা করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করেছে। এ সময় শুধু অস্ট্রিয়াতে আত্মহত্যার হার কমে। কারণ, অর্থনৈতিক মন্দায় অন্য দেশগুলোর চেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অস্ট্রিয়া। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ডের অবস্থা সবচেয়ে ভালো এবং গ্রিসের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। যুক্তরাজ্যে প্রতি এক লাখ লোকের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেড়েছে ১০ শতাংশ।

করাচিতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ

পাকিস্তানের করাচি শহরে জাতিগত ও রাজনৈতিক সংঘর্ষে গতকাল শুক্রবার ১৭ জন নিহত হয়েছে। চার দিন ধরে চলা এ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধা সামরিক বাহিনীর আরও এক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সশস্ত্র কোনো ব্যক্তিকে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জোট সরকারের সাবেক শরিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) ও আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) সমর্থকদের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। গতকাল এমকিউএমের শোক পালনের ডাকে করাচি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
গতকাল শহরের খারাদার, অরাঙ্গি টাউন ও নিউ করাচির বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে আহত হয়েছে অনেকে। গতকাল করাচির ভিমপুরা এলাকায় গ্রেনেড হামলায় তিনজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে অন্তত ১৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। চলমান সংঘর্ষের ঘটনায় করাচির হাজার হাজার মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সেখানে খাদ্য ও খাওয়ার পানির সংকট চলছে।
পাকিস্তানের বৃহত্তর দাতব্য সংস্থা এধি ফাউন্ডেশনের কর্মী আনোয়ার কাজমি গতকাল বার্তা সংস্থা ডনকে বলেন, ‘আমাদের সাতটি অ্যাম্বুলেন্সের চারটিতে গুলি করা হয়েছে। চার স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’
অরাঙ্গি এলাকার আকবর খান বলেন, ‘আমাদের বাড়ির দেয়াল বুলেটে ঝাঁজরা হয়েছে, ঘরের অনেক জিনিস ধ্বংস হয়েছে। ঘরের ভেতর লুকিয়ে কোনো রকমে জীবন রক্ষা করছি।’
একই এলাকার শায়েস্তা আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত। কয়েক রাত ধরে ঘুমুতে পারি না। এক দিন ব্যালকনিতে দাঁড়ালাম, অমনি আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়া হলো। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আধা সামরিক বাহিনীর আরও এক হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, এ হত্যাকাণ্ডে কাদের হাত রয়েছে। কারা নিরীহ মানুষ খুন করছে। এই সন্ত্রাসীরা তালেবানের চেয়ে কম শয়তান নয়। এরা গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।’
পাকিস্তানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্যামেরন মুনটার এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। করাচিতে অন্তত এক কোটি ৮০ হাজার মানুষের বাস।

মেসিদের পাশে মেনেজেস

আর্জেন্টিনার এই দুর্দশায় খুশিই হওয়ার কথা তাঁর। ‘চিরশত্রু’দের তলিয়ে যেতে দেখার মধ্যেও যে একটা বুনো আনন্দ আছে। কিন্তু ব্রাজিল কোচ মানো মেনেজেস অবাক মিত্র হিসেবেই পাশে দাঁড়ালেন আর্জেন্টিনার। টানা দুই ম্যাচে বাজে খেলে ড্র করা স্বাগতিকদের নিয়ে ওঠা সমালোচনাকেও মেনেজেস বলছেন—অন্যায়!
যুক্তিও অবশ্য আছে তাঁর কথায়। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের মানচিত্র পাল্টে গেছে। এখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিরঙ্কুশ ফেবারিট নয়। এবারের কোপা আমেরিকা সেটিই যেন দেখিয়ে দিচ্ছে। প্রথম সাত ম্যাচের পাঁচটিই ড্র। এই উদাহরণ দেখিয়ে দিয়ে মেনেজেস বলেছেন, ‘এই ম্যাচগুলোই বলছে কোপা আমেরিকা এখন অনেক বেশি উন্মুক্ত। ইতিহাস, খেলোয়াড়দের মান আর নিজেদের মাঠে খেলা বিবেচনায় নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে আর্জেন্টিনাকে ফেবারিট আপনি বলতেই পারেন। কিন্তু কলম্বিয়ার কৃতিত্বকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, ওরা খেলেছেও দুর্দান্ত। কৌশলগত দিক দিয়ে কিন্তু এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সমতা দলগুলোর মধ্যে।’

আর্জেন্টিনা এখন ‘টাইটানিক’

সার্জিও বাতিস্তার সঙ্গে খুব ভালো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে এডওয়ার্ড স্মিথের। কে এই স্মিথ? টাইটাইনিক জাহাজের ক্যাপ্টেন! স্মিথের টাইটানিক যেমন হিমবাহে ধাক্কা খেয়ে তলিয়ে গিয়েছিল অতল আটলান্টিকে, আর্জেন্টিনা দলের ক্যাপ্টেন বাতিস্তাও ধেয়ে চলেছেন ব্যর্থতার বিশাল এক হিমবাহের দিকে। ধাক্কা এই লাগল বলে!
এএস-এর অনুমান এমনটাই। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিকটি লিখেছে, ‘তিনি টাইটানিককে আইসবার্গের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।’ শুধু এই পত্রিকাটিই নয়, পরপর দুই ম্যাচে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনার সমালোচনায় মুখর আরও অনেক পত্রিকাই। ক্লারিন লিখেছে, কোপা আমেরিকা প্রায় মাঝপথে গড়ালেও এখনো ঘুম ভাঙল না আর্জেন্টিনার। পত্রিকাটি এ-ও মনে করিয়ে দিয়েছে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে নিতান্তই ভাগ্যগুণে একটা পয়েন্ট পেয়েছে স্বাগতিকেরা, ‘আর্জেন্টিনার আরও একটি বাজে পারফরম্যান্স। কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। ম্যাচে কলম্বিয়াই বেশি সুযোগ পেয়েছে, জয়টা তাদেরই প্রাপ্য ছিল।’
সমর্থকেরাও যে এই আর্জেন্টিনার ওপর ভীষণ বিরক্ত, সেটাও লিখেছেন ক্লারিন-এর ফুটবল প্রতিবেদক, ‘সান্তা ফেতে কিছু একটা হয়েছে, সমর্থক আর দলের মধ্যে সুরটা যেন কেটে গেছে।’ লিখেছেন, দলের ভাবমূর্তিও এখন ভীষণ সংকটে। সান্তা ফের স্থানীয় পত্রিকা দিয়ারিও উনো লিখেছে, ‘জাতীয় দলের আরেকটি ফ্লপ প্রদর্শনী, সার্জিও বাতিস্তার দল আবারও ব্যর্থ, আবারও দুয়ো শুনেছে দর্শকদের।’
আর্জেন্টিনার আরেকটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক লা ন্যাসিওনও কড়া সমালোচনা করেছে দলের, ‘কোনো ছন্দই নেই। ৯০ মিনিটের মধ্যেই আশাকে খুন করে সেটিকে হতাশা বানিয়ে ফেলল দল।’ পত্রিকাটির আশঙ্কা, হয়তো দ্রুতই দলের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সমর্থকেরা। কোস্টারিকার বিপক্ষে জিততে না পারলে হয়তো হিমবাহের ধাক্কায় ডুবে যাবে টাইটানিক, ‘জাতীয় দলের জন্য এই ম্যাচটা আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেভাবে খেলা হচ্ছে তাতে দলের প্রতি সাধারণ মানুষের যে আসক্তি, সম্মান, ভালোবাসা—সবই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ অথচ এই আর্জেন্টিনাই গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্যর্থ হয়ে ফিরেও দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছিল।
শুধু পত্রিকাগুলোই নয়, সাবেক খেলোয়াড়েরাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সাবেক গোলরক্ষক কার্লোস বসিয়োর কাছে মনে হচ্ছে, এই দলের নেতাই নেই, ‘মনে হচ্ছে না এই দলের এমন কোনো নেতা আছে, যার আছে নেতৃত্বগুণ।’ এ অবস্থায় সবচেয়ে মুখর থাকার কথা যাঁর, সেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা আশ্চর্যজনকভাবে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। হয়তো অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত ভরাডুবির জন্য। আইসবার্গের সঙ্গে টাইটানিকের দূরত্ব কিন্তু বেশি নয়!

ব্রাজিল-জার্মানির বিদায়

রেনেসাঁ এসেছে উরুগুয়ের ফুটবলে! গত বছর বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ চারে উঠেছিল তারা। এবার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালেই উঠে গেল বিশ্ব ফুটবলের একসময়ের পরাশক্তিরা। সেটাও তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। এই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে কোনো দক্ষিণ আমেরিকান দেশের কাছে হারল ব্রাজিল। যেটি এই পর্যায়ে তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়ও। তবে গতবার গ্রুপ পর্বই না পেরোতে পারার পর এবার সেমিফাইনাল তো উন্নতিই!
আগামীকাল (বাংলাদেশ সময় পরশু সকাল আটটা) মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে চারুয়ারা। ২০০৫-এর চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো হুলিও গোমেজের শেষ মিনিটের গোলে ৩-২ গোলে হারায় জার্মানিকে। এর আগে খেলা শুরুর তিন মিনিটেই গোলের সূচনা করেছিলেন মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হওয়া এই ডিফেন্ডার। এরপর অবশ্য দুই গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। ৭৬ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর শেষ মুহূর্তে ওই গোল।

পাকিস্তানের প্রস্তাবে ভারতের ‘না’

রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আবারও বন্ধ হয়ে আছে ক্রিকেটের পরম প্রার্থিত ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। আইসিসি নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়েছে এই সিরিজ আবার চালু করার। নিকট ভবিষ্যতে ভারতীয় দলের পাকিস্তান সফর করার সম্ভাবনা নেই বলে ‘হোম’ সিরিজটি ভারতে গিয়েই খেলে আসতে রাজি পাকিস্তান। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তাদের চাওয়া, সিরিজ থেকে লভ্যাংশ সমান ভাগাভাগি হতে হবে। অন্যায় চাওয়া নয়। সিরিজটা পাকিস্তানে হলে পুরো টাকাই তো তাদের পকেটে যেত। কিন্তু পিসিবির এই দাবি মানছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
পিসিবির সভাপতি ইজাজ বাট বলেছেন, ‘আমরাও আশা করি, সিরিজ আবার শুরু হবে। আমরা ওদের বলেছিও, ভারতে গিয়ে খেলতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আয়টা ৫০-৫০ ভাগাভাগি করতে হবে। ওরা এই প্রস্তাবে রাজি নয়। স্বাভাবিকভাবেই বাকি যেকোনো শীর্ষস্থানীয় দলের চেয়ে ভারতের সঙ্গে খেললে আমাদের বেশি আয় হবে। পুরো ব্যাপারটা নিয়ে এখনো আলোচনা করতে হবে। কিন্তু ওরা যে দাবিগুলো করছে, সবই একতরফা।’

কখনো ভারত, কখনো উইন্ডিজ

৫ উইকেটে ৯৯ থেকে ২০৪ অনেক রান। আবার ৬ উইকেটে ১৯৯ থেকে নিতান্তই কম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস এমনই মিশ্র অনুভূতির গল্প। এর সবই গত পরশু দ্বিতীয় দিনের ঘটনা, ভারত যে দিন শেষ করেছিল বিনা উইকেটে ৮ রানে।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ৫.২ ওভারের মধ্যে মুরালি বিজয় ও রাহুল দ্রাবিড়কে হারিয়ে যে মেঘের পূর্বাভাস, সেটি দূর করেছিল অভিনব মুকুন্দ ও ভেঙ্কট লক্ষ্মণের ব্যাট। তৃতীয় উইকেটে ৯৮ রানের জুটি গড়েছেন তাঁরা। তবে লাঞ্চ থেকে চা-বিরতি পর্যন্ত আবার ভিন্ন গল্প। মুকুন্দ, লক্ষ্মণ ও কোহলিকে আউট করে ২৭ ওভারের সেশনটিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের করে নিয়েছে। ৩ উইকেটের বিনিময়ে এই সেশনে উইন্ডিজ বোলাররা রান দিয়েছেন ৫৩।
প্রথম সেশনের ধাক্কাটা ভারতকে দিয়েছিলেন ফিদেল এডওয়ার্ডস ও ড্যারেন স্যামি। দ্বিতীয় সেশনে স্যামির সঙ্গে ছিলেন বিশু ও চন্দরপল। বিশু ফিরিয়েছেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে চলা মুকুন্দকে। টেস্টে চন্দরপলের নবম শিকার লক্ষ্মণ। স্যামি নিয়েছেন ২ উইকেট।
এই রিপোর্ট লেখার সময় ভারত চা-বিরতিতে গেছে ১৮২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে। ব্যাট করছিলেন সুরেশ রায়না (৯*) ও অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি (৪*)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে দুটি হাফ সেঞ্চুরি। বলার মতো জুটিও দুটিই। দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ান ব্রাভো ও বাফ মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৫৯। ব্রাভোর বিদায়ের পর স্যামির সঙ্গে বাফের ৪১।
হাফ সেঞ্চুরি দুটি চরিত্রে পুরো দুই মেরুর। ১৩৪ বলে ব্রাভোর ৫০। বাফের ৬০ রান মাত্র ৭৯ বলে। ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ের সেই পরিচিত ঝলক দেখিয়ে ৬টি চার ও ১টি ছয়। ফিফটি হলে সেঞ্চুরি করতে না পারার দুঃখ থাকেই। ব্রাভোর দুঃখটা একটু বেশিই। অষ্টম টেস্টে ষষ্ঠ ফিফটি, কিন্তু তিন অঙ্ক হয়ে থাকছে সেই মরীচিকাই।

‘ঐতিহাসিক’ রিপোর্টে কী থাকছে?

রিপোর্টটা জমা দেওয়ার আগেই ‘ঐতিহাসিক’ স্বীকৃতি পেয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে পাতানো খেলার ব্যাপারে রিপোর্ট দূরে থাক, তদন্তই কখনো হয়নি! সেদিক থেকে আজ বাফুফের সভাপতির হাতে তুলে দিতে যাওয়া বাংলাদেশ লিগ কমিটির রিপোর্টটা ঐতিহাসিক তো বটেই। তবে শেষ পর্যন্ত রিপোর্টটা আসলেই ঐতিহাসিক না প্রহসন বলে প্রমাণিত হয়, সেটি দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
তবে একটা বিষয় তো বলাই যায়, শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচটা ঢুকে গেছে ইতিহাসের পাতায়। গত ১১ জুন বাংলাদেশ লিগের এই ম্যাচটি পাতানো ছিল বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছিল পরদিনের সব জাতীয় দৈনিকে। এরপর প্রায় এক মাস ধরে তদন্ত শেষে কমিটিও নাকি মতৈক্যে পৌঁছেছে, ম্যাচটি আসলেই পাতানো ছিল।
রিপোর্টে সেটিই উল্লেখ থাকবে বলে জানা গেছে। তবে শাস্তির ব্যাপারে লিগ কমিটি যেসব সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন, তাতে নতুন একটা বিতর্ক আসন্ন বলেই মনে হচ্ছে। বাইলজ অনুযায়ী পাতানো খেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দলকে বহিষ্কার করতে হবে। কিন্তু সূত্র জানাচ্ছে, লিগ কমিটির রিপোর্টে কোনো দলকে বহিষ্কারের সুপারিশ নয়, তাতে থাকছে আর্থিক জরিমানা এবং কর্মকর্তা-খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব।
জানা গেছে, শেখ জামালকে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, এর অর্ধেক পরিমাণ অর্থ রহমতগঞ্জকে। রহমতগঞ্জের ফুটবল কর্মকর্তা সালাউদ্দিন কালা ও একই দলের গোলরক্ষক ইরান শেখকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। সেই সঙ্গে কালার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা মুক্তিযোদ্ধার কোচ মারুফুল হককে এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে বলে গুঞ্জন আছে।
গতকাল লিগ কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শেখ জামালের পয়েন্ট কেটে নেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে কমিটির গত সভায়। তবে তিনিই প্রায় নিশ্চিত করে বললেন, আজ কমিটি যখন শেষবার বসে রিপোর্ট চূড়ান্ত করবে, তখন পয়েন্ট কাটা না কাটার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। একাধিক পয়েন্ট কাটলে শেখ জামালের চেয়ে এক পয়েন্ট পেছনে থাকা মুক্তিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ লিগে।
তার মানে ম্যাচ পাতানো নিয়ে কিছুদিন ধরে ওঠা ঝড়ের একটা নাটকীয় সমাপ্তির ইঙ্গিত মিলছে। তদন্ত কমিটি পাতানো খেলার ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হলে কেন চূড়ান্ত শাস্তির সুপারিশ করবে না, এ নিয়ে এরই মধ্যে আগাম প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়!

অধিনায়ক আফ্রিদি আর নয়

শহীদ আফ্রিদি কি আবারও পাকিস্তানের অধিনায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। তবে দেখলেও সেটা সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে, ইজাজ বাট যত দিন পিসিবির চেয়ারম্যান পদে আছেন। পরশু জিয়ো সুপার টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবারও আফ্রিদির অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনাকে এক রকম নাকচই করে দিয়েছেন বাট। তবে খেলোয়াড় আফ্রিদির জন্য দরজা খোলাই রেখেছেন পিসিবির চেয়ারম্যান।
‘আমি যত দূর জানি, পিসিবির অধিনায়ক পরিকল্পনায় সে আর নেই। (খেলোয়াড় হিসেবে) সে আগে ভালো করেছে, কোনো সন্দেহ নেই পাকিস্তানের জন্য সে ভালোই ছিল।’
গত মে মাসে বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলায় ‘শর্তাধীন’ অবসর নেন আফ্রিদি। বলেছিলেন, পিসিবির বর্তমান কমিটি সরে গেলেই আবার দলে ফিরবেন। পিসিবি তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিলসহ বিদেশে খেলতে অনাপত্তিপত্র দিতেও অস্বীকার করেছিল। ঝুলে গিয়েছিল হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে তাঁর টি-টোয়েন্টি লিগে খেলাও। পরে অবশ্য দোষ-ঘাট স্বীকার করে ৪৫ লাখ রুপি জরিমানা দেওয়ার শর্তে ইংল্যান্ডে খেলার অনুমতি পান আফ্রিদি।
ওই সময়ে নাকি অনেক রাজনীতিকও আফ্রিদির যাতে শাস্তি না হয়, সে চেষ্টা করেছিলেন। যাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও সিন্ধু প্রদেশের গভর্নরও। তাঁরা ফোন করেছিলেন ইজাজ বাটকে। তবে তিনি নাকি তাঁদের সরাসরিই এ ব্যাপারে নাক গলাতে নিষেধ করেছিলেন।
নতুন এই তথ্য জানার পর তা নিয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেছেন আফ্রিদি। টি-টোয়েন্টি খেলতে বর্তমানে ইংল্যান্ডে থাকা এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘ও নিয়ে (বাট ও পিসিবি) ভাবতেই চাই না।’ তাঁর সমস্ত মনোযোগ এখন শুধুই ক্রিকেটে, ‘আমি খেলাটিকে উপভোগ করছি ও চাচ্ছি না কেউ এতে ব্যাঘাত ঘটাক।’
তা তিনি চাইতেই পারেন। কাউন্টিতে সময়টা ভালো যাচ্ছে। হ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলা ছয় ম্যাচের তিনটিতেই ম্যাচসেরা হয়েছেন। এরপর খেলবেন অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশেও। তবে গতবারের অ্যাডিলেড নয়, এবার মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে খেলবেন। সেখানে সঙ্গী হিসেবে পাবেন আরেক পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাককে।

ফিরে আসছেন ইসিনবায়েভা

সময়ের কাঁটা যদি উল্টো দিকে ঘুরত! যদি ফিরে যেতে পারতেন নিজের সোনালি অতীতে! ইয়েলেনা ইসিনবায়েভার নিশ্চয়ই দুঃখ হয়। একটা সময় ছিল, যখন মেয়েদের পোলভল্টে লড়াইটা ছিল তাঁর নিজের সঙ্গেই। ইসিনবায়েভাও মেতে উঠেছিলেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায়। প্রথম মেয়ে হিসেবে পাঁচ মিটারের বাধা ডিঙিয়ে যাওয়া এই রুশ তারকাকে নিয়ে হতো উল্টো সমালোচনা, ইচ্ছে করেই নাকি রেকর্ডটা একধাপে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছেন না। ইসিনবায়েভা চাইলেই তো পারেন!
না, এখন আর চাইলেও পারছেন না। ইনডোর-আউটডোর মিলে ২৭টি রেকর্ড গড়া ইসিনবায়েভা ২০০৯ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে কোনো পদকই পাননি। গত ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপেও হয়েছেন চতুর্থ। ২০০৮ সালে আউটডোরে নিজের ১৭ নম্বর রেকর্ডটি গড়ার পর থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। অনেক দিন সেভাবে খবরেই ছিলেন না।
ভলগাপাড়ের মেয়ে অনেক দিন পর মুখোমুখি হলেন সাংবাদিকদের। জানালেন, ২০১১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষে নতুন করে যাত্রা শুরু করছেন, ‘আমি ২০১১ চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে চাই, ২০১২ অলিম্পিকও। এবং অবশ্যই আরও আরও রেকর্ড গড়তে চাই। কোরিয়ায় আমি অবশ্যই ভালো কিছু করতে পারব।’
আগামী মাসের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইসিনবায়েভার জন্য এবারের আসর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২৯ বছর বয়সেই যে ফুরিয়ে যাননি, প্রমাণ করতে হবে এটি। প্রতিশোধ নিতে হবে আনা রোগোস্কার বিরুদ্ধে, পোল্যান্ডের যে তরুণীর মাথায় এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট।
নতুন এই মিশনের জন্য প্রস্তুত হতে দীর্ঘ বিরতি নিয়েছিলেন। আবারও নিজের প্রথম কোচ ইয়েভজেনি ত্রোফিমভের কাছেও ফিরে গেছেন। পুরোনো শিষ্যকে আবারও নতুন করে দীক্ষা দিয়েছেন কোচ। ইসিনবায়েভার প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট ত্রোফিমভ। পোলভল্টের মঞ্চে ফিরে আসার জন্য ইসিনবায়েভাও পুরোপুরি প্রস্তুত। ১৬ জুলাই বেলজিয়ামের একটি মিটে অংশ নিতে যাচ্ছেন। হারানো মুকুট আবার ফিরে পাবেন কি না, সেটি পরের হিসাব। ইসিনবায়েভা আবারও পোল নিয়ে লাফ দেওয়ার জন্য ছুটে যাচ্ছেন—এই ছবিটাও এখন অনেক বড় পাওয়া।

মনে পড়ছে বাবার কথা

হরভজন সিংয়ের গোটা ক্যারিয়ারেই জড়িয়ে আছে ব্যবসায়ী বাবা সরদার সারদেভ সিংয়ের স্বপ্ন। বাবার স্বপ্নই যেমন হরভজন সিংকে পরিবারের ঐতিহ্য ভেঙে বানিয়েছে ক্রিকেটার, তেমনি একদিন বাবার কারণেই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন ক্রিকেট, বাবার মৃত্যুশোকে হতাশ হয়ে। আবার ফিরিয়েও এনেছে বাবার স্বপ্ন।
স্মৃতিচারণার জন্যও স্মরণীয় উপলক্ষ চাই। পরশু সে রকমই এক উপলক্ষ পেয়ে গেলেন হরভজন। ক্যারিয়ারের ৯৬তম টেস্টের ২৬,৯৬১তম বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান কার্লটন বাফকে বোল্ড করেই হরভজন ইতিহাসের ১১তম, তৃতীয় ভারতীয় এবং চতুর্থ স্পিনার হিসেবে ঢুকে পড়েন টেস্টের ‘৪০০’ উইকেটের অভিজাত ক্লাবে।
মুরালিধরন (৮০০), শেন ওয়ার্নরা (৭০৮) উইকেটের হিসাবটা এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে সেখানে দাঁড়িয়ে ৪০০ উইকেটকে খুব ‘বড়’ অর্জন মনে হয় না! কিন্তু বাস্তবতা বলে অন্য কথা। ওপরের তথ্যই বলে হরভজনের ৪০০ উইকেটের মাহাত্ম্য। ১৩৪ বছরের টেস্ট ইতিহাসে তাঁর আগে মাত্র ১০ জন বোলার ছুঁতে পেরেছেন এই মাইলফলক।
১৯৯৮ সালের মার্চে অভিষেক টেস্টে হরভজনের প্রথম শিকার অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ ব্লিউয়েট। ১৩ বছর পেরিয়ে একজনকে বোল্ড করেই পেলেন ‘৪০০তম’ উইকেটটি।
স্মরণীয় এই কীর্তি হরভজনকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় অতীতে, ‘ক্যারিয়ারে অনেক খারাপ সময় গেছে। অনেক উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে আসতে হয়েছে। তবে আমার ক্যারিয়ারে পতনের দিকটাই বেশি। আমি কঠোরভাবে তা সামলেছি। বাবার মৃত্যুটাই ছিল আমার সবচেয়ে বাজে সময়। এরপর ক্রিকেট খেলারই ইচ্ছা ছিল না আমার। যেভাবেই হোক, আমার পরিবার আমাকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই আমাকে খেলতে হবে। তিনি যেখানেই থাকুন, আজ তাঁর ছেলের বিশেষ এই অর্জনে অবশ্যই গর্বিত হবেন।’
অনিল কুম্বলে (৬১৯), কপিল দেবের (৪৩৪) পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে ৪০০ উইকেট ক্লাবে। হরভজনের উচ্ছ্বাস তাই পাচ্ছে বাড়তি মাত্রা, ‘৪০০ উইকেট নেওয়াটা বিশেষ কিছু। খুব বেশি মানুষ এটা করতে পারেনি। ঈশ্বর আমাকে এটা করতে দেওয়ায় আমি খুশি। সেই সব গ্রেটের পাশে বসতে পেরে আমি খুশি এবং গর্বিত, যারা নিজেদের এবং দেশকে সম্মানিত করেছে। ক্রিকেটে আমার যাত্রাকে আমি উপভোগ করেছি এবং এ জন্য আমি ১৯৯৮ থেকে আজ পর্যন্ত আমার সব সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাই।’
১৩ বছরের ক্যারিয়ারে নিজের অর্জনে তৃপ্ত, তবে ‘ভাজ্জি’ এখানেই থেমে থাকতে চান না, ‘আমার বয়স ৩১। এখনো ক্রিকেটকে অনেক কিছুই দেওয়ার আছে। আমি শুধু নিশ্চিত করতে চাই, আমাকে সুস্থ থাকতে হবে এবং বিশেষ কিছু অর্জন করতে হবে।’
হরভজনের সাফল্যের প্রেরণাদাত্রী আছেন আরও একজন—শচীন টেন্ডুলকার। হরভজনই বলছেন টেন্ডুলকার তাঁর বোলিংয়ে অনেক সাহায্য করেছেন, ‘নেটে যখন ওকে বল করি, আমি সব সময়ই জানতে চাই কী ঘটছে এবং এই উইকেটে আমার কী করা উচিত। যেকোনো সফরে, হোক অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডে, আমি তাঁর কাছে জানতে চাই এবং পরামর্শ নিই।’
টেন্ডুলকার বিশেষ একটা ডেলিভারিও শিখিয়েছেন হরভজনকে, ‘সে আমাকে নতুন একটা ডেলিভারি শিখিয়েছে—স্লাইডার। ওয়ানডেতে এটা খুবই কার্যকর। এমনকি টেস্টেও। ওই বলে আমি গোটা দুয়েক উইকেট পেয়েছি। বলটা ধরবেন অফ স্পিনারের মতো, কিন্তু ছাড়বেন এক আঙুলে। সুতরাং, এটি যাবে আউট সুইঙ্গারের মতো। তবে এ শুধু নতুন বলেই সম্ভব। এ জন্য বল নতুন থাকতে থাকতেই আমি আসি।

আবারও ড্র করল উরুগুয়ে

টানা দুটি ম্যাচে ড্র করে এখন প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরোনোই কষ্টকর হয়ে উঠেছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট উরুগুয়ের। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে ড্র করার পর আজ চিলির বিপক্ষেও ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে উরুগুয়ে। এ নিয়ে কোপা আমেরিকার প্রথম নয়টি ম্যাচের ছয়টিই শেষ হলো অমীমাংসিতভাবে।
প্রথমার্ধে অনেকখানি আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল উরুগুয়ে। ১৯ মিনিটের মাথায় গোল করার ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। কিন্তু বলটা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পাঠাতে পারেননি এই উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। আট মিনিট পর আরেকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ডিয়েগো ফোরলান। প্রথমার্ধে উরুগুয়ের রক্ষণ ভাগের দুর্বলতার সুযোগে একটা গোলের দেখা পেয়ে যেতে পারত চিলিও। কিন্তু চিলির মিডফিল্ডার মরিসিও ইসরার শট ফিরে আসে গোলপোস্টে লেগে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন আলভারো পেরেইরা। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ তাঁদেরকে এগিয়ে থাকতে দেননি অ্যালেক্সা সানচেজ। ৬৪ মিনিটে চিলির পক্ষে সমতাসূচক গোলটি করে উরুগুয়ের সমর্থকদের হতাশায় ডোবান চিলির এ তারকা স্ট্রাইকার।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে।

আজ দেখা মিলবে ব্রাজিলের?

আর্জেন্টিনার পথই কি ব্রাজিলের পথ হবে? নাকি আজ দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে মানো মেনেজেসের দল? আপাতত কোপা আমেরিকাবিষয়ক আলোচনার গতি প্রবাহিত এই ধারাতেই। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল প্যারাগুয়ের পরীক্ষা নেবে কি, প্রথম ম্যাচের ড্রটা যে নিছকই একটা দুর্ঘটনা ছিল এটা প্রমাণ করারই পরীক্ষা তাদের সামনে।
১৮ বছরের শিরোপা-বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর অভিযানে নামা আর্জেন্টিনার শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচে বলিভিয়ার সঙ্গে ড্র করা আর্জেন্টিনাকে পরের ম্যাচে কলম্বিয়া রুখে দেয় গোলশূন্যভাবে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ একটু বন্ধুরই হয়ে গেছে স্বাগতিকদের জন্য।
শুরুতে ধাক্কা খেয়েছে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের অভিযানে আসা ব্রাজিলও। অখ্যাত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রর হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আজ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জিতলে রবিনহো-পাতো-নেইমার-গানসোর জাদুকরি চতুষ্টয়ের ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালের পথটা মসৃণ হবে।
ভেনেজুয়েলা ম্যাচকে একটা ‘বিচ্যুতি’ আখ্যা দিয়ে ব্রাজিল কোচ মেনেজেস ঘুরে দাঁড়ানোরই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রবিনহো-পাতোরাও বলেছেন, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলকে ব্রাজিলের রূপেই দেখবে সবাই। ভেনেজুয়েলা ম্যাচের পরপরই পাতো বলেছিলেন, ‘আমরা অনেক আক্রমণ করেছি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল আমাদের হাতে। শুধু গোল পাইনি। আশা করছি, পরের ম্যাচে (প্যারাগুয়ের বিপক্ষে) গোল পাব।’
এই গোল আর জয় পেতে মেনেজেস দলে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন বলে গুঞ্জন। রবিনহো আর রামিরেস বলি হতে পারেন। অবশ্য পরিবর্তনের বিষয়টি অনেকেই দেখছেন ভিন্ন চোখে। দুর্বল ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ব্রাজিল তাদের চিরায়ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে দেখেছে। কিন্তু পরিকল্পনা কাজে দেয়নি বলে এ থেকে সরে আসার চিন্তা করছেন মেনেজেস।
রবিনহোর পরিবর্তে এলানো আর রামিরেসের জায়গায় লুকাস লেইভা—বদলি হিসেবে নাম আসছে এই দুজনেরই। মেনেজেস অবশ্য পরিবর্তন নিয়ে তাৎক্ষণিক কিছু বলতে চাননি, সেটা আজ ম্যাচের আগেই ভাববেন বলে জানিয়েছেন, ‘আমি এখনো কোনো পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করতে পারছি না। আমি পুরো দলেরই উন্নতি চাই।’
রবিনহো বা এলানো, রামিরেস কিংবা লুকাস—যিনিই খেলুন, এ নিয়ে খুব একটা ভাবছে না প্যারাগুয়ে। তাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে সান্তোস তারকা নেইমার। প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার পাওলো ডা সিলভার কথা, ‘সে (নেইমার) অনেক দ্রুতগতির এবং অনেক সমস্যা করতে পারে। ওর ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
সতর্কতা আজ ভেনেজুয়েলা আর ইকুয়েডরেরও। প্রথম ম্যাচে ড্র করায় দুটি দলেরই সুযোগ আছে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার। আজ যে দল পরাজয় এড়াতে পারবে, শেষ আটে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে সেই দলের। পরাজয় এড়াতে সতর্ক থাকবে দুই দলই।

মেক্সিকোর বিপক্ষে পেরুর কষ্টার্জিত জয়

কোপা আমেরিকার প্রথম নয়টি ম্যাচের ছয়টিই শেষ হয়েছে ড্র দিয়ে। মেক্সিকো ও পেরুর মধ্যকার দশম ম্যাচটির ভাগ্যও সেদিকেই যাচ্ছে বলে ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু ৮২ মিনিটে পাওলো গুয়েরোর গোল থেকে অবশেষে মেক্সিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পেরু। এখন ‘সি’ গ্রুপের দুটি করে ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে চিলির সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম স্থানে আছে তারা।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারার ফলে কোপা আমেরিকার প্রথম রাউন্ড থেকেই মেক্সিকোর বিদায়টা প্রায় নিশ্চিতই হয়ে গেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার লড়াইয়ে অনেকখানিই এগিয়ে আছে পেরু ও চিলি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই দুই দল মুখোমুখি হবে ১৩ জুলাই। সেই ম্যাচে শুধু ড্র করলেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। অন্যদিকে প্রথম দুটি ম্যাচই ড্র করায় এ মুহূর্তে প্রথম রাউন্ড থেকেই হতাশাজনক বিদায়ের আশঙ্কা ভর করেছে উরুগুয়ের শিবিরে। দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পাওয়ার জন্য ১৩ জুলাই মেক্সিকোর বিপক্ষে জয় পেতেই হবে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টদের।

শক্ত অবস্থানে ভারত

ডমিনিকা টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ভারত। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ২০৪ রানেই গুটিয়ে দেওয়ার পর ইতিমধ্যেই ১০৪ রানে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা। গতকাল লক্ষণ, রায়না ও ধোনিদের ভালো ব্যাটিংয়ের সুবাদে ছয় উইকেটের বিনিময়ে ৩০৮ রান সংগ্রহ করে দিন শেষ করেছেন তাঁরা।
দিনের শুরুটা অবশ্য ভালোমতো করতে পারেনি ভারত। মাত্র ১৮ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরেছিলেন মুরলি বিজয় ও রাহুল দ্রাবিড়। তৃতীয় উইকেটে ৯৮ রানের জুটি গড়ে সেই প্রাথমিক ধাক্কাটা ভালোমতোই সামাল দেন অভিনব মুকুন্দ ও ভিভিএস লক্ষণ। ১১৬ রানের মাথায় এ জুটি ভাঙেন উইন্ডিজ লেগস্পিনার দেবেন্দ্র বিশু। ৬২ রান করে ফিরে যান মুকুন্দ। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সাজঘরের পথ ধরেন বিরাট কোহলি (৩০) ও লক্ষণ (৫৬)। ষষ্ঠ উইকেটে আবারও ১০৩ রানের চমত্কার এক জুটি গড়েন সুরেশ রায়না ও অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। দিনের শেষ পর্যায়ে রায়নাকে (৫০) সাজঘরে ফিরিয়ে উইন্ডিজ শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছেন ফিদেল এডওয়ার্ড। তবে এখনো ৬৫ রান করে উইকেটে আছেন ধোনি। ১২ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন হরভজন সিং।