Monday, April 15, 2019

পবিত্র শবে বরাত ধর্মীয় স্পর্শকাতর ইস্যু, মামলার বিষয়বস্তু বানানো ঠিক হবে না: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট বলেছেন, পবিত্র শবে বরাত ধর্মীয় স্পর্শকাতর ইস্যু, এটি মামলার বিষয়বস্তু বানানো ঠিক হবে না। ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বরাত ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়েরের অনুমতিবিষয়ক শুনানিতে আজ সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলেন।
আদালতে রিট আবেদন দায়েরের জন্য অনুমতি প্রত্যাশীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম।
আদালত রিট দায়েরের জন্য অনুমতি দেননি বলে জানান এম সাইফুল আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা রিট করার অনুমতি চেয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ শাবান মাসের চাঁদ দেখেছেন বলছেন। এই বিষয়ক যেসব তথ্য তাঁদের কাছে আছে, তা-সহ তাঁদের লিখিত আবেদন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জমা দিতে বলেছেন আদালত। তাঁদের লিখিত আবেদন যেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন জমা নেয়, তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষকে বলা হয়েছে। পবিত্র শবে বরাত কবে—তা নির্ধারণে ১৭ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আছে। ওই তথ্যসহ সব তথ্য পর্যালোচনা করে ধর্মীয় অনুশাসন অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন আদালত।
২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বরাত ঘোষণা দিতে নির্দেশনা চেয়ে মসজিদের ইমাম, খতিবসহ ১০ ব্যক্তি রিট দায়েরের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন বলে জানান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রিট দায়েরে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ৭ এপ্রিল শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ওই দিন থেকে গণনা করা ২০ এপিল দিবাগত রাতে শবে বরাত হবে। বিষয়টি তাঁরা ধর্মসচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে ১০ এপ্রিল জানিয়েছেন। তবে কোনো জবাব পাননি। তাঁদের লিখিত আবেদন ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ৬ এপ্রিল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত উদযাপিত হবে। আরও বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে শনিবার কোথাও ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৭ এপ্রিল রোববার পবিত্র রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ৮ এপ্রিল থেকে পবিত্র শাবান মাস শুরু হবে।
এরপর ১৩ এপ্রিল পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে বিশেষ সভা হয়। সভায় পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারীদের দাবি যাচাইয়ে ১১ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য, উপকমিটি ১৭ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির কাছে সুপারিশ দেবে, যার ভিত্তিতে চাঁদ দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ অবস্থায় হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়েরের জন্য অনুমতি চেয়ে আজ আরজি জানানো হয়।

সুদানে বেসামরিক প্রশাসন গড়ে তোলার দাবি, সেনাবাহিনী-বিক্ষুব্ধ জনতার প্রথম বৈঠক

সুদানে সামরিক কাউন্সিলের প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রথম দফা আলোচনা করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তার কাছে ‘জনতার দাবি’ তুলে ধরেন শনিবার। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য একটি বেসামরিক প্রশাসন গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন।
প্রায় চার মাস ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে জনতা প্রথমে ক্ষমতাচ্যুত করে ৩০ বছরের শাসক ওমর আল বশিরকে। এরপরে ক্ষমতায় আসেন সামরিক কাউন্সিলের প্রধান আওয়াদ ইবনে আউফ। একদিন পরেই তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বশিরের ঘনিষ্ঠজন এমন অভিযোগে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার স্থানে আসেন জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান।
এই সরকার সামরিক শাসনের কথা বার বার প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবু বিক্ষব্ধ জনতা আশ্বস্ত হতে পারছে না। কারণ, দেশটির সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের প্রতি খুব বেশি অনুগত। তাই তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। এ অবস্থায় আলোচনার জন্য তাদেরকে আমন্ত্রণ জানান বুরহান। তার কাছে ‘জনগণের দাবি’ তুলে ধরার জন্য আন্দোলনকারীরা ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে। সুদানে আরব সোশ্যালিস্ট বাথ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আলী আল সানহোরি রাজধানী খার্তুমে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময় দেশ শাসনের জন্য তারা একটি বেসামরিক সার্বভৌম কাউন্সিল, একটি মন্ত্রপরিষদ ও একটি জাতীয় আইন প্রণয়ন এসোসিয়েশন গড়ে তোলার দাবি করছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, বেসামরিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি কাউন্সিল গঠন না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় থাকবেন তারা। কারণ, তাদের ভয় সেনাবাহিনী অনির্দিষ্টভাবে ক্ষমতায় থাকবে অথবা তাদের অনুগত কারো হাতে ক্ষমতা দিয়ে যাবে।
সেনাবাহিনীর গড়ে তোলা অন্তবর্তী কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে শুক্রবার শপথ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ বুরহান। তাকে কিছুটা উদার হিসেবে দেখা হয়। তিনি ক্ষমতায় এসে সুদানের সব শ্রেণির মানুষকে আলোচনায় আসার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি বলেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আগামী দু’ বছর দেশ শাসন করবে মিলিটারি কাউন্সিল। তিনি গত বৃহস্পতিবার থেকে আরোপ করা কারফিউ তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। যাদেরকে গত ডিসেম্বরে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করার পর গ্রেপ্তার ও বিচার করা হয়েছিল তাদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন।
ফেব্রুয়ারি থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন ওমর আল বশির। তিনি অননুমোদিত জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন। অসন্তোষ দমনের জন্য তিনি পুলিশকে দিয়েছিলেন প্রচুর ক্ষমতা। ফলে শত শত মানুষের বিচার হয়েছে জরুরি আদালতে।
এখন ক্ষমতায় আসা বুরহান এর আগে সেনাবাহিনীর জেনারেল ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশ শাসনে জনগণের ইচ্ছাকে মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের কথা শোনার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। তবে শনিবারই তার দেশে একজন সেনা সদস্য সহ কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। সুদান ডক্টরস কমিটি বলেছে, বৃহস্পতিবার গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ১৩ জনকে। শুক্রবার হত্যা করা হয়েছে একজন সেনা সদস্য সহ তিন জনকে।

আমাকে চুপ রাখা যাবে না: ট্রাম্পকে ইলহান ওমর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর বলেছেন, আমার মুখ কেউ বন্ধ রাখতে পারবে না। মুখ বন্ধ করে বসে থাকার জন্য কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক টুইটের জবাবে গতকাল (শনিবার) তিনি এসব কথা বলেছেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকায় ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ভিডিও চিত্রের সঙ্গে কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বক্তব্য যোগ করে তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেছেন।
ট্রাম্প ওই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে সবাইকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইলহান ওমর ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিহতদেরকে গুরুত্ব দিতে চান না। তিনি একটি মুসলিম সিভিল রাইটস গ্রুপে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন মুসলিমদের অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে বলেছিলেন, কিছু লোক ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ঘটিয়েছে, আর এরপর থেকে আমরা মুসলমানরা স্বাধীনতা হারাতে শুরু করেছি।
তার এই বক্তব্যকে অপব্যবহারের চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় ইলহান ওমর আরও বলেন, আমি চুপ থাকার জন্য কংগ্রেসে যাইনি। আমি মার্কিন কংগ্রেসে প্রবেশ করেছি গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে এবং এর জন্য যুদ্ধ করতে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে অবমাননাকারী ভিডিও টুইটারে প্রকাশ করার পর থেকেই ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যা মামলার বিচার না পেলে আত্মহত্যার ঘোষণা স্ত্রীর

কথা বলার একপর্যায়ে প্রথমে পেছন থেকে লোহার রড দিয়ে সেলিম চৌধুরীর মাথায় আঘাত করে অচেতন করা হয়। পরে হা-পা বেঁধে তাকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টার পর দ্বিতীয় দফায় মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। লাশ যাতে নষ্ট হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায় এজন্য লাশের উপর চুন ছিটিয়ে দেয়া হয়। তারপর মাটি চাপার স্থানে চকি বিছিয়ে ওই চকিতে ৯ দিন ঘুমিয়ে ছিল ঘাতকদের একজন ফয়সাল। 
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সেলিম চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল দোষ স্বীকার করে এমন বর্ণনাই দিয়েছে আদালতে। গত শুক্রবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ফয়সালকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
এ মামলায় মোহাম্মদ আলী ও সোলায়মান নামে আরো দুইজনকে ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মামুন আল আবেদ জানান, গ্রেপ্তার ফয়সাল ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর কর্মচারী। মোহাম্মদ আলীর কাছে ব্যবসায়িক ২ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন কামরুজ্জামান সেলিম চৌধুরী। এ টাকা আত্মসাতের জন্যই সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোহাম্মদ আলী। পরিকল্পনা মতে গত ৩১শে মার্চ বিকালে সেলিম চৌধুরীকে টাকা দেয়ার কথা বলে ভোলাইলের মোহাম্মদ আলীর ঝুটের গোডাউনে আসতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর টাকা দেয়া নেয়া নিয়ে কথার বলার একপর্যায়ে পেছন থেকে ফয়সাল লোহার রড দিয়ে সেলিম চৌধুরীর মাথায় আঘাত করে। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সেলিম চৌধুরী। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর আরো কয়েকটি আঘাত করা হয়। এরপর ফয়সাল, মোহাম্মদ আলী, সোলায়মানসহ চারজন মিলে সেলিমের হাত পা বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রাখে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, পরে তারা ব্যবসার কাজের জন্য গোডাউনের বাইরে চলে যায়। কাজ শেষে রাতে গোডাউনে এসে সেলিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে গোডাউনের ভেতরে মাটি খুঁড়ে। সেখানে সেলিমের লাশ মাটিতে পুঁতে রাখে এবং লাশের পাশে চুন ছিটিয়ে দেয়। যাতে লাশের দেহ মাটিতে মিশে যায়। তবে ওইদিন মোহাম্মদ আলীর ব্যবসায়িক পার্টনার পারভেজকে টুকরো টুকরো করে হত্যার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু পারভেজকে হত্যা না করে সেলিম চৌধুরীকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, সেলিমকে যেখানে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে সেখানে চৌকি রেখে নয়দিন ফয়সাল ঘুমিয়েছে। দশদিনের দিন ১০ই এপ্রিল মোবাইল ট্র্যাকিং করে সেলিমের নিখোঁজের সময়কার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং ভোলাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মোহাম্মদ আলীর ঝুটের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে কর্মচারী ফয়সালকে আটক করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মোহাম্মদ আলী ও সোলায়মানকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিতে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেলিমের স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।
নিহত কামরুজ্জামান সেলিম ওরফে সেলিম চৌধুরীর ফতুল্লার বক্তাবলী কানাইনগর এলাকার মৃত সামছুল হুদা চৌধুরীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে একই থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকায় বসবাস করতেন।
স্বামী হত্যার বিচার না হলে আত্মহত্যার ঘোষণা স্ত্রীর
এদিকে ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরীকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে সেই খুনিরা যাতে কিছুতেই পার না পায়। সেলিম হত্যার খুনিরা যদি কোনো ভাবে পার পেয়ে যায় তাহলে একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করার ঘোষণা দিয়েছে নিহত সেলিম চৌধুরীর স্ত্রী রেহানা আক্তার রেখা। আর এ আত্মহত্যার জন্য নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও সরকার দায়ী থাকবে বলে তিনি জানান। তিনি তার স্বামীর হত্যাকারী মোহাম্মদ আলীসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের ফাঁসি দাবি করেছেন।’
গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তাবলী সামাজিক সংগঠন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের আয়োজনে নিহত ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠানে নিহত সেলিম চৌধুরীর স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা এসব কথা বলেন।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা আরো বলেন, ‘আমার স্বামী একজন সহজ সরল ব্যক্তি ছিলেন। কারো সঙ্গে উচ্চ স্বরে কথা বলে নাই। এমনকি কারো সঙ্গে ঝগড়া করেনি। আমার স্বামীর দুই লাখ টাকা ধার দিয়ে কি অপরাধ করেছিল। যার কারণে সেই টাকা আত্মসাৎ করতে মোহাম্মদ আলী তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমকে হত্যা করেছে। আমি চাই খুনি মোহাম্মদ আলী গংরা যাতে কিছুতেই বের হতে না পারে।’
মানববন্ধনে বক্তাবলী সামাজিক সংগঠন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের সভাপতি আলামিন ইকবালের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক জামালউদ্দিন বারী, নারায়ণগঞ্জ কলেজের সাবেক ভিপি আলমগীর হোসেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ মাস্টার, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাসেল চৌধুরী, আলোকিত বক্তাবলীর সভাপতি নাজির হোসেন, ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ফকির, অগ্রযাত্রার সভাপতি বাদল হোসেন ববি, নিহতের মা মমতাজ বেগম, নিহতের ছেলে রিতুল চৌধুরী প্রমুখ।

বিজেপি ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে ভারতকে বিভক্ত করতে চায়: মেহবুবা

জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, বিজেপি মুসলিম ও সংখ্যালঘুদের বের করে দেয়ার ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে ভারতকে বিভক্ত করতে চায়। লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে জম্মুর কঠুয়ায় এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোববার যে ভাষণ দিয়েছেন তার পাল্টা জবাবে মেহবুবা ওই মন্তব্য করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিডিপি দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘আবদুল্লাহ পরিবার এবং মুফতি পরিবার জম্মু-কাশ্মিরের তিন প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাঁদের অপসারণের পরেই জম্মু-কাশ্মিরের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করা যেতে পারে। তারা তাদের পুরো পরিবারকে মাঠে নামাতে পারে, কিন্তু তারা এদেশকে বিভক্ত করতে পারবে না।’ মোদি, কারো কাছে মাথা নত করবেন না, বিক্রি হবেন না বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি এ দিন জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ এবং ৩৫-এ ধারা নিয়ে কার্যত হুঁশিয়ারি সুরে বলেন, এক দেশে দুই বিধানের বিরোধিতা করেছিলেন শ্যাম্যাপ্রসাদ মুখার্জি। সেই ভাবনায় তিনি অটল রয়েছেন।
রাজ্যটিতে ২০১৫/২০১৮ পর্যন্ত পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল।
পিডিপি নেত্রী মেহবুবা আজ মোদিকে পাল্টা জবাবে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবারগুলোর উপরে আক্রমণ করেন এবং নির্বাচনের পরে জোট করার জন্য দূত পাঠান কেন? ১৯৯৯ সালে ন্যাশনাল কনফারেন্স ও ২০১৫ সালে পিডিপি। কেন তাঁরা তখন ৩৭০ ধারার উপরে ক্ষমতাকে বেছে নিয়েছিলেন?
১৯৯৯ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক দল ছিল ন্যাশনাল কনফারেন্স।
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, উনি যাদের সঙ্গে অতীতে জোট গড়েছেন, তাদের মন্ত্রীসভায় তার দল  থেকেছে তিনি যদি এই কথা বলেন, তাহলে বলতে হয় তিনি চরম অসত্যবাদী। এর জবাব তিনি আগামী ২৩ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন পাবেন।

নতুন বছরে দেশ আরও সমৃদ্ধির পথে যাবে: শেখ হাসিনা

নতুন বছরে দেশ আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে, এমন আশাবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, সে অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতি সম্মানের সঙ্গে চলবে।
রোববার সকালে গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি অনুষ্ঠানস্থলেএলে, 'এসো হে বৈশাখ', আনন্দলোকে মঙ্গলালোকেসহ বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করা হয়।
দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালিদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বছরের নতুন সূর্য মানুষের জীবনকে সুন্দর করুক, উদ্ভাসিত করুক, সফল করুক সেটাই আমি কামনা করি।
সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। ইনশাআল্লাহ দেশকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। আর সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
নতুন এই বছরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে বাংলাদেশ। সবার এক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে সুখী-সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ। আর এজন্য সবাইকে যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।
এ সময়, চাওয়া-পাওয়া ভুলে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। এছাড়া সরকার গঠন করার সুযোগ দেয়ায় দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় ও মহানগরসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। গণভবনে আসা অতিথিদের মুড়ি, মুড়কি, মিষ্টান্নসহ বিভিন্ন ধরনের বাঙালি ঐতিহ্যের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

ছাত্রলীগের কোন্দলে পণ্ড বৈশাখী আয়োজন

এ যেন বৈশাখী ঝড়। নিমিষেই লণ্ডভণ্ড সব আয়োজন। দুই দিনব্যাপী লোকসংগীত উৎসব ও কনসার্টের আয়োজন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পণ্ড হয়ে গেছে। চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত এ কনসার্টকে ঘিরে ছিল সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ। কিন্তু সংগঠনটির একটি অংশের ক্ষোভের আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে সব আয়োজন। শুক্রবার রাত ১টা ও শনিবার সকালে দুই দফায় কনসার্টস্থলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে কনসার্টের আয়োজন গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান কোমল পানীয় মোজো’র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ছাত্রলীগের একটি অংশের দাবি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জড়িত। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শোভন নিজে।
তবে কেন্দ্রীয় সভাপতি হয়েও এ আয়োজন সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে দুই দিনব্যাপী কনসার্টের আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বলে এতোদিন প্রচারণা চালানো হলেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা কনসার্টের আয়োজক ছাত্রলীগের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) বলে প্রচার করেন। যদিও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর গতকাল এক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন এর সঙ্গে ডাকসুর কোনো সম্পর্ক নেই। এ কনসার্ট ছাত্রলীগের। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘নিজেরা কোটি টাকার স্পন্সরের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে মারামারি, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করেছেন। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে কোণঠাসা করতে প্রচার চালাচ্ছেন এটি ডাকসু ও ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম। অথচ ডাকসুতে এই প্রোগ্রাম নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। দয়া করে নিজেদের ধান্দাবাজি, চাঁদাবাজিতে ডাকসুর নাম জড়িয়ে ডাকসুকে কলঙ্কিত করবেন না। ডাকসুর সঙ্গে এই বাণিজ্যিক কনসার্টের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে ভিসি চত্বরে এলাকায় হঠাৎ বাইকে মহড়া দিতে থাকে ছাত্রলীগের রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী নেতাকর্মীরা। এর পর পরই বিভিন্ন হল থেকে প্রায় শ’খানেক নেতাকর্মী এসে মল চত্বর এলাকায় কনসার্ট স্থলে নির্মিত স্টেজ, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের ব্যানার ফেস্টুন, স্টল, বুথ, ফ্রিজসহ কনসার্টের বিভিন্ন সরঞ্জামে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে এ অগ্নিসংযোগ। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসজুড়ে টানানো স্পন্সর প্রতিষ্ঠান মোজোর সব ব্যানার ফেস্টুনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ তার অনুসারীরা।
এরপর আসেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন হল থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। এ সময় তারা আগুন নেভায়। এরপর ছাত্রলীগের শীর্ষ এ তিন নেতা ডাকসুতে গিয়ে মিটিং করে। অন্যদিকে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা মল চত্বর ও মধুর ক্যান্টিন এলাকায় মিছিল করে। ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতা মানবজমিনকে বলেন, মূলত এ কনসার্ট আয়োজন নিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে অবহিত করা হয়নি বলে তার নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা বলেন, ডাকসুতে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস মিলে কনসার্টের আয়োজন করে। অথচ কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ার পরও তাকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তাই তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে সঞ্জিত চন্দ্র দাসেরও কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হলেও কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সেটিকে ডাকসুসহ ছাত্রলীগের আয়োজন বলে প্রচার করছেন।
এবং ডাকসুর ক্ষমতা জাহির করছেন। এটি নিয়ে সঞ্জিতও মনঃক্ষুণ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিয়েছেন- সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আতিকুর রহমান খান, অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এহসান উল্লাহ, মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, স্যার এফ রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হামজাসহ অনেকে। এরা সবাই ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী। এদিকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর দু’টি হলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারীদের ওপর হামলা ও কক্ষে ভাঙচুর হয়েছে। রাত ৩টার দিকে এ এফ রহমান হলে শোভনের অনুসারী সাগর, মেশকাত ও মামুনকে মারধর করা হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হলটিতে ভাঙচুর করা হয়েছে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারের কক্ষে। আহতদের দাবি, ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের সমর্থকরা তাদের মারধর করেছেন।
এর কিছুক্ষণ পর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজার কক্ষেও ভাঙচুর করা হয়। এ ব্যাপারে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে গতকাল দুপুরে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। এ সময় ভিসি তাকে বলেন, তারা যদি নিজেদের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে চারজন এক হয় তবে তাদের প্রোগ্রাম করতে দেয়া হবে। তা না হলে কোনো প্রোগ্রাম করতে দেয়া হবে না। এরপর বিকাল তিনটার দিকে সংগঠনটির কেন্দ্র ও ঢাবির শীর্ষ চার নেতা ভিসির বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন। মলচত্বরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে মোজোর মার্কেটিং বিভাগের অপারেশন হেড (ব্র্যান্ড) আজম বিন তারেক দাবি করেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে তাদের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ৩৪টি স্টলের সবক’টি ভাঙচুর, ৬টিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ২২টি ফ্রিজের মধ্যে ১৭টি ভাঙচুর করা হয় এবং ১টিতে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুনরায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে সাউন্ড সিস্টেমস নষ্ট হয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস গত রাতে মানবজমিনকে বলেন, কনসার্টস্থলে যে বা যারাই হামলা চালিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় নয়। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো এবং এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও এ বিষয়টি দেখবেন। তবে কনসার্ট আর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আপনারা সবাই পান্তাভাত খাইয়েছেন : লোটে শেরিং

‘লিভার আয়ুশ চ্যানেল আই হাজারও কণ্ঠে বর্ষবরণ ১৪২৬’ অনুষ্ঠানকে চমৎকার আয়োজন উল্লেখ করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং বলেছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। আপনারা সবাই পান্তাভাত খাইয়েছেন?’
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজকে অনেক খুশি হয়েছি। আমি এখান থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য খুবই এক্সসাইটেড হয়ে আছি। ময়মনসিংহে আমি সাত বছর ছিলাম। এরপর ঢাকায় চার বছর এফসিপিএস করেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে, আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি।’
এর আগে সকালে লিভার আয়ুশ চ্যানেল আই হাজারও কণ্ঠে বর্ষবরণ ১৪২৬’ এ সুরের ধারার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে হাজারও কণ্ঠে ‘তোমার কাছে এ বর মাগি, মরণ হতে যেন জাগি গানের সুরে’ গানে বরণ করা হয় বাংলা নববর্ষ ১৪২৬। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোতে শেরিং। বর্ণিল এই উৎসবের আয়োজন বসেছে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে।
অনুষ্ঠান উদ্বোধনের সময় চ্যানেল আই এর পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ‘ফলে ও ফসলে যেন সমৃদ্ধ হয় নতুন বছরটি।’
এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোতে শেরিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
তাকে বরণ করে নেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।
অষ্টমবারের মতো চ্যানেল আই ও সুরের ধারার আয়োজনে হাজারো শিল্পীর অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখে সূর্যোদয় থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণ মেতে উঠে ‘লিভার আয়ুশ চ্যানেল আই হাজারও কণ্ঠে বর্ষবরণ ১৪২৬’ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে নেমেছে শিল্পীমনা মানুষের ঢল। সব বয়সী মানুষ এখানে নববর্ষের প্রথম প্রহরটা উদযাপন করতে এসেছে।
শিল্পীদের কণ্ঠে বর্ষবরণের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলার। মেলায় আছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের উপাদান দিয়ে সাজানো স্টল। স্টলগুলোর মধ্যে রয়েছে পিঠা-পুলি, মাটির তৈরি তৈজস, বেত, কাঁথা, পিতল, পাট ও পাটজাত দ্রব্যের নানা জিনিসপত্রসহ রকমারি পণ্যের স্টল।