Monday, August 9, 2010

রায়ের সমালোচনা বাকস্বাধীনতার অংশ by মো. খুরশীদ আলম খান

বিচারকের রায়ের সমালোচনা করার অধিকার বাকস্বাধীনতার অংশ বলে আমি মনে করি। আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে সংবিধানে এই বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে’, উক্তিটি আমার নয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে প্রদত্ত সংবর্ধনার জবাবে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ওই অভিমত দেন । তিনি আরও বলেছিলেন, ‘কোনো বিচারকই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। সভ্য জগতে ভব্য সমালোচনার একটা অবকাশ রয়েছে। বিচারকের রায়ের সমালোচনা করার অধিকার বাকস্বাধীনতার অংশ।’
১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ থেকে ৭ আগস্ট ২০১০—ঠিক ১৫ বছর ছয় মাস ছয় দিন পর সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী লিখলেন, ‘রায় নিয়ে লেখালেখি বন্ধ হোক।’ আমি গত ৭ আগস্ট ২০১০ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত লেখার জবাবে দু-একটি কথা নিবেদন করতে চাই। প্রথম আলোয় আমার লেখাটির সূত্র ছিল, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের ‘নীরব ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দুদক’ শীর্ষক লেখাটি। আমার লেখার মূল বিষয় ছিল, বাংলাদেশ সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বাধ্যতামূলক কার্যকরতা সম্পর্কিত। সেখানে আমার লেখার অংশবিশেষ নিম্নরূপ—
‘...লিভ মঞ্জুরি একটি প্রাথমিক শুনানি, দুদকের আবেদন মঞ্জুর হলে অর্থাৎ বাছাইয়ে টিকে গেলে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ সৃষ্টি হতো। আইনি ব্যাখ্যার উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি হতো। এখন আর শুনানি হবে না। বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বসম্পন্ন। কারণ এর সঙ্গে দুদকের অস্তিত্ব জড়িত।’
এটা তো ধোঁয়া তোলার ব্যাপার নয় বা উচ্চতর আদালতকে প্রভাবিত করার ব্যাপার নয়। আমি একজন নাগরিক বা আইনজীবী হিসেবে এ সমালোচনার অধিকার আমার আছে। এটা আমার বাকস্বাধীনতা। আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে সংবিধান এ বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা আমাকে দিয়েছে। কার পেছনে কত টাকা খরচ করল, কাকে কতটা সুযোগ দেওয়া হলো, সেটা তো ইস্যু নয়। ইস্যু হলো সংবিধানের ১১১ ধারার অনুচ্ছেদের আলোকে আইনি ব্যাখ্যা। ৭ আগস্ট ২০১০ ইমরানুল কবির বার অ্যাট ল-এর লেখাটিতে এমন কিছু প্রসঙ্গ এসেছে, যা আমার লেখার প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এমন কিছু বিষয় আনা হয়েছে, যা অপ্রাসঙ্গিক এবং অবাস্তব। যেমন, ‘আইনবিষয়ক কলাম লেখকদের জন্য বার কাউন্সিলের সনদ থাকা অপরিহার্য হওয়া উচিত।’ এটা তো কণ্ঠরোধের মধ্যযুগীয় চিন্তাভাবনা। এ কেমন কথা? আইন বিষয়ে লিখতে হলে বার কাউন্সিলের সনদ থাকতে হবে? তাহলে হয়তো সাংবাদিকেরা বলবেন, সংবাদপত্রে নিবন্ধ লিখতে হলে প্রেস কাউন্সিলের মতো কোনো সংগঠনের মুচলেকা লাগবে? পঞ্চম সংশোধনীর রায় নিয়ে আমাদের গণমাধ্যমে বিস্তর লেখালেখি বা আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিনিয়তই হচ্ছে। শুধু আইনজীবীসমাজ নয়, সুশীলসমাজ, সুধীসমাজ এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি বা আলোচনা করছে। লেখকের লেখা অনুযায়ী তাহলে তো যেসব লেখক আইনজীবী নন, তাঁদের লেখালেখি বন্ধ করা উচিত। এটা তো মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণের চিন্তাচেতনা। আজ যখন সারা দুনিয়াব্যাপী মানুষের চিন্তাচেতনার প্রসার ঘটছে, সেখানে মধ্যযুগীয় চিন্তাচেতনার অবকাশ কি আছে?
আমাদের দেশের অনেক রায়ের সমালোচনা হয়েছে, হচ্ছে। ভারত, ইংল্যান্ড, আমেরিকায়ও বিচার বিভাগ ও বিচারপতিদের রায়ের সমালোচনা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এটা অপরিহার্য। পঞ্চম সংশোধনীর রায়ের ওপর দেশব্যাপী আলোচনা বা সমালোচনা হচ্ছে। কারণ এসবই বাকস্বাধীনতার অংশ। এই বাকস্বাধীনতা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। এটা হরণ করার দুঃসাহস যে যখনই দেখিয়েছে, তার পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।
সুপ্রিম কোর্ট সংবিধান সংরক্ষণ করেন এবং নাগরিকের মানবাধিকার বলবৎ করেন। আদালত নিজের থেকে মোকদ্দমা রুজু করেন না, আদালতে মামলা রুজু করতে হয়। আদালত গায়ে পড়ে পরামর্শ বা ব্যাখ্যা দেন না, আদালতের কাছে পরামর্শ বা ব্যাখ্যা চাইতে হয়। আদালতের সামনে অশ্রুপাত করার কেউ অর্থাৎ বাদী-ফরিয়াদি না থাকলে বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদবে। সংবাদপত্র সমাজের আয়না। এতে জীবনচিত্র, সমাজচিত্র প্রতিফলিত হয়। আদালতের রায়ের প্রতিফলন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ায় স্বাভাবিক।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল যখন আদালতে বলেন যে, দুদকের মামলা করা ঠিকই আছে। একটি অনুমোদনপত্রই যথেষ্ট। তখন আদালতই পাল্টা প্রশ্ন করেন, এ বিষয়ে আমাদের তো ভিন্ন রকম রায় আছে। এসব যুক্তিতর্ক তো প্রকাশ্য আদালতে চলেছে। তাহলে এ কথা সংবাদপত্রে বললে কী করে ‘সরকারকে ব্লাকমেইল’ করা হয়? আসলে কার কাকে ব্লাকমেইল করা হলো? দুদক স্বাধীন সংস্থা কি না, সেটা এখানে তো অবান্তর। রাষ্ট্র স্বাধীনভাবে মত দিতে পারে। কিন্তু একই আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল একই আইনি ব্যাখ্যায় পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেওয়া তো যৌক্তিক হতে পারে না। জনাব কবির লিখেছেন, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে, তাঁরা সবাই ধোয়া তুলসি পাতা নন। তাই বলে ওই ব্যক্তিদের শায়েস্তা করতে গিয়ে আইন ভাঙা হলে তা হবে আরেকটা বেআইনি কাজ।’ এটাও কিন্তু ধান ভানতে শিবের গীত হলো। কারণ প্রশ্নটা তো তুলসি পাতাসংক্রান্ত মোটেই নয়। কবির সাহেব আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের আগে কী করে বুঝে গেলেন যে দুদক আইন ভেঙেছে? মিজানুর রহমান খানের মতো আমারও লেখার মূল বিষয় ছিল, মামলা দায়ের করাসংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নে। অনুমোদনপত্র কয়টি লাগবে? ওই প্রশ্ন সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর সঙ্গে হাজার মামলার ভাগ্য জড়িত। আপিল করার অনুমতি চাওয়ার অন্যতম যুক্তিও ছিল সেটি। সুতরাং যখন বিনা শর্তে লিভ টু আপিল খারিজ করা হলো, তখন সংগত কারণেই উদ্বিগ্ন হলাম।
মো. খুরশীদ আলম খান: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

নিত্যপণ্যের বাজারদর

পবিত্র রমজান মাস যত কাছে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নিত্যপণ্যের বাজার। চিনি, তেল, ডাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। এতে করে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি; বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, রমজান মাসে দাম আর বাড়বে না, স্থিতিশীল থাকবে। নিন্দুকেরা অবশ্য বলছেন যে রমজান মাসে না বাড়লেও রমজান শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দাম বাড়ায় কোনো বাধা নেই। বাজারদরের প্রবণতা যেন এ কথারই সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইতিমধ্যে এ চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
বস্তুত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদরের ওঠানামা প্রধানত নির্ভর করে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যের ওপর। সুতরাং চাহিদা-পরিমাণ ও জোগান-পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিকভাবে না জানলে বাজারদরের অস্থিরতা প্রশমন করা সম্ভব নয়। সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এই চাহিদার বিষয়ে যেমন কোনো উপাত্ত নেই, তেমনি নেই জোগান-পরিস্থিতির হালনাগাদ পরিসংখ্যান। একইভাবে অদূর-ভবিষ্যতে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা ও জোগান সম্পর্কে প্রক্ষেপণ করার কোনো নিবিড় পদ্ধতিও গড়ে ওঠেনি। আবার সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যেও এ বিষয়ে নেই কোনো সুসমন্বয়। এর ফলে চাহিদা-জোগান সম্পর্কে জানতে নির্ভর করতে হয় আমদানিকারকসহ ব্যবসায়ী মহলের ওপর। এখানেও দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠনসহ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর গোছানো কোনো কাজ নেই। ফলে চাহিদা-জোগানের বিষয়টি বহুলাংশে অনুমাননির্ভর হয়ে গেছে। আর এই অনুমাননির্ভর উপাত্তের ভিত্তিতে বাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের চেষ্টা বাজারদরের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
প্রশ্ন হলো, বাজারে হস্তক্ষেপ করার সামর্থ্য কেন সরকার গড়ে তোলেনি? ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মতো নাজুক সংস্থাকে দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর সীমিত চেষ্টাও যে বারবার ব্যর্থ হয়েছে, তা তো সবারই জানা। তার পরও একই চেষ্টা করার মানে কী? আবার বিভিন্ন পণ্যের বাজারদর বেঁধে দিলেও তা কাজে আসছে না। কাজে তো আসবেই না। সরকার যখন প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে ভোজ্যতেলের দাম বেঁধে দেয়, তখন তা আমদানিকারক ও বিক্রেতাকে আসলে আরেক দফা দাম বাড়ানোরই সংকেত দেয়। ব্যবসায়ী নেতারাই বা কেন বারবার লোক-দেখানো বৈঠক করে দাম স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস দিচ্ছেন? তাঁরা যদি সত্যিই বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে সহায়তা করতে চান, তাহলে পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিলেই পারেন। একদিকে সরকার ও ব্যবসায়ী নেতারা বাক্যব্যয় করবেন, অন্যদিকে বাজারদরে অস্থিরতা চলবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থবহভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ ও তদারকির সামর্থ্য সরকারের থাকতে হবে, অন্যথায় বাজারদরে স্থিতিশীলতা আনা কঠিন।

ভারত ও চীনের ধনীদের সম্পদ দানে আহ্বান জানাবেন গেটস-বাফেট

ভারত ও চীনের ধনী ব্যক্তিদের নিজ সম্পদ থেকে কমপক্ষে অর্ধেক দান করার আহ্বান জানাবেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই ধনকুবের বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কোটিপতিদের জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পর সম্পদ দান করার অঙ্গীকার আদায়ের উদ্যোগ নেন তাঁরা। এর অংশ হিসেবে ভারত ও চীনের ধনী ব্যক্তিদের কাছে এই অনুরোধ জানাবেন দুই ধনকুবের।
বাফেট এখন চার হাজার ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের অধিকারী। বিশ্বের শীর্ষ কোটিপতিদের তালিকায় তিন নম্বর অবস্থানে আছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, পর্যায়ক্রমে আমি আমার বার্কশায়াক হ্যাথঅ্যাওয়ের সব সঞ্চয় জনকল্যাণমূলক সংস্থাগুলোতে দান করব। তবে এ সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট থাকতে পারিনি। এখন বিল ও মেলিন্দা গেটস আর আমি মিলে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটিপতিকে কমপক্ষে অর্ধেক সম্পদ দাতব্য খাতে দান করার অঙ্গীকার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

দাবানলের ধোঁয়ায় মস্কো ছাড়ছে বাসিন্দারা

নিঝনি নভগরদ এলাকার একটি গ্রামে
গতকাল দাবানল নেভানোর চেষ্টা
করছেন একজন দমকলকর্মী
রাশিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের ফলে সৃষ্ট কুয়াশা ও ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে মস্কোর আকাশ। গতকাল শনিবার স্বাভাবিকের চেয়ে ছয়গুণ বেশি এই দূষণ সৃষ্টি হলে অনেকে রাজধানী মস্কো ছেড়ে চলে যায়। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে উদ্ধার তৎপরতা বিঘ্নিত হয়। দাবানলে এ পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সপ্তাহশেষে আট শতাধিক স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর বেশির ভাগই দেশটির পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৩০ বছরের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, দাবানলে সৃষ্ট ধোঁয়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯০টি স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র দাবদাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। মধ্য জুন থেকে দাবদাহ শুরু হয়। তখন মস্কোর তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১০০ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়, যেখানে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।ধোঁয়ার মাত্রা তীব্র হওয়ায় মস্কোয় বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বার্তা সংস্থা ইতার-তাস জানিয়েছে, গত শুক্রবার দমোদেদোভো বিমানবন্দরে রানওয়ের দৃষ্টিগ্রাহ্যতা নেমে দাঁড়িয়েছিল ৪০০ গজে।সড়কপথে গাড়ি চলাচলও বিঘ্নিত হয়েছে। চালকেরা দিনের বেলায় তীব্র ঝাঁঝালো ধোঁয়ার মধ্যে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন।দৈনিক পত্রিকা কমারসান্ট-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক ইভান ইয়ারলোভ বলেন, অবস্থা সত্যিই গুরুতর। জনগণ এমন শোচনীয় অবস্থার মধ্যে আছেন, যে অবস্থায় তাঁদের থাকার কথা নয়।

মেক্সিকোর কারাগারে সংঘর্ষে নিহত ১৪

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের কাছে মেক্সিকোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাতামোরোসের একটি কারাগারে গত শুক্রবার দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৪ জন বন্দী নিহত হয়েছে।
তামাউলিপাস রাজ্যের জননিরাপত্তামন্ত্রী হোসে ইভস সবেরন বলেন, শুক্রবার সকালে বন্দীদের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয়।

গুয়ানতানামোর বন্দী ওমরের বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব হবে না

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক কানাডার নাগরিক ওমর খাদরের বিচারে বিলম্ব করবেন না। ওমরের সামরিক আইনজীবী লে. কর্নেল জন জ্যাকসন কিউবায় মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে সামরিক আদালত গঠনের সাংবিধানিক দিক চ্যালেঞ্জ করে বিচার-প্রক্রিয়া এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে এক লাইনের এক জবাবে আদালত জানান, আবেদনপত্রটি প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলে আদালত তা নাকচ করে দিয়েছেন।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ওমরের বিরুদ্ধে রুল জারি করে বলেন, তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে সামরিক কমিশন পদ্ধতির সাংবিধানিক দিক নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
২০০২ সালের জুলাইয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহার থেকে ওমর খাদরকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন বাহিনী। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। খোশত শহরে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে এক মার্কিন সেনাকে হত্যার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো লুগো ক্যান্সারে আক্রান্ত

প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো লুগো দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে তাঁকে সারিয়ে তোলা সম্ভব বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
সাবেক রোমান ক্যাথলিক বিশপ লুগোর চিকিৎসকেরা এ সপ্তাহে তাঁর বায়োপসি পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা গেছে, লুগো নন-হজকিনস লিমফোমায় ভুগছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসপারানজা মার্টিনেজ গত শুক্রবার জানান, ক্যান্সার হওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট লুগো (৫৯) তাঁর দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে পাশাপাশি তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
ফার্নান্দো লুগো তিন বছর আগে বিশপের দায়িত্ব থেকে অবসর নেন। বলিভিয়া ও ব্রাজিল সীমান্তের কাছে প্যারাগুয়ের উত্তরাঞ্চলে একটি ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে অব্যাহত খুন ও অপহরণের ঘটনায় কয়েক মাস ধরে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট লুগো। আগামী ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা-কলম্বিয়া উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত

প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ। গতকাল শনিবার কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান মানুয়েল সান্তোসের অভিষেক অনুষ্ঠানে তাঁর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডা সিলভাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠানে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাস মাদুরো উপস্থিত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন শাভেজ।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কলম্বিয়ার সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া ও সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। কলম্বিয়ার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবের সরকার অভিযোগ করে, শাভেজ কলম্বিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দিচ্ছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাভেজ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন এবং সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেন।
তবে কলম্বিয়ার নতুন নেতার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন শাভেজ। তিনি বলেন, ‘কলম্বিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে প্রেসিডেন্ট লুলার উদ্যোগের ব্যাপারে আমরা খুবই আশাবাদী।’ কলম্বিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনায় বসার জন্য শাভেজকে উৎসাহিত করছেন আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেস্টর কির্চনার ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা।
কিন্তু এ ধরনের উদ্যোগ সফল করা সহজ নয়। কলম্বিয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে বিদায়ী উরিবে সরকারের আইনজীবী আন্তর্জাতিক আদালতে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহযোগিতা করছে শাভেজের সরকার।
দুই বছর আগে কলম্বিয়ার সরকার ইকুয়েডরে একটি গেরিলা ঘাঁটিতে বোমা হামলা করার পর থেকে উরিবে ও শাভেজের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্থগিত রয়েছে।

তালেবানের সঙ্গে আলোচনা চান জারদারি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জারদারি এই আগ্রহের কথা জানান। সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না—পাকিস্তান সম্পর্কে ব্রিটেনের এমন ধারণার অবসান ঘটানোর চেষ্টায় এই বৈঠক।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানে তালেবান হামলা বেড়ে গেছে।
জারদারি বলেন, ‘আমরা সংলাপ বন্ধ করিনি। আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি ছিল, যা ওরা (তালেবান) ভঙ্গ করেছে।’
গত বছর সোয়াত উপত্যকার কর্তৃত্ব দিয়ে তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু তারা পাকিস্তানের অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়ায় চুক্তিটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা করতে জারদারির এই মন্তব্যে পাকিস্তানের পশ্চিমা মিত্ররা বিস্মিত হতে পারে। কারণ, তারা চায় পাকিস্তান তালেবানের সঙ্গে আলোচনা না করে বরং তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হোক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিজে মীর আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি মনে করি, আলোচনার এই উদ্যোগ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়বে। যেখানে দেশটির ভেতরে ও সীমান্ত এলাকায় প্রতিদিন লাশ পড়ছে, সেখানে তালেবানের সঙ্গে এত আলোচনার কিছু নেই। এতে তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সময় পাবে।’

কাশ্মীরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৩২

ভারতশাসিত কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলে ব্যাপক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা গতকাল শনিবার পুনরায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ লাদাখ অঞ্চলের প্রধান শহর লেহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তায় ভারতের সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়েছে। রাজ্য পর্যটনমন্ত্রী নাওয়াং রিজিন জরা জানান, প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ও ভূমিধসে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘অপ্রত্যাশিত’ ক্ষতি হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকর্মীরা ১৩২টি লাশ উদ্ধার করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কয়েক ডজন লোক নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছি।’ এ অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ৬০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা কাদামাটি সরিয়ে ধসে পড়া ঘরবাড়ির ভেতর থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে বেশকিছু বিদেশি নাগরিক বন্যার কবলে পড়েছে। তবে কতজন বিদেশি নাগরিক বন্যার কবলে পড়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত বিবৃতিতে বলা হয়নি। আগস্ট মাস লাদাখে পর্যটকের মৌসুম।
পর্যটনমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত কোনো পর্যটকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে বন্যায় বেশকিছু বিদেশি নাগরিক লেহ-মানালি সড়কে আটকা পড়েছে এবং সেনাবাহিনী সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।

আফগানিস্তানে ছয় মার্কিনিসহ ১০চিকিৎসককে হত্যা করেছে তালেবান

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে আট বিদেশি চিকিৎসকসহ ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন মার্কিন, একজন ব্রিটিশ, একজন জার্মান এবং দুজন আফগানিস্তানের নাগরিক। তালেবান এই হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছে, বিদেশি চিকিৎসকেরা অন্যদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার কাজ করছিল।
বাদাখশান প্রদেশের পুলিশপ্রধান আকা নূর কানতুজ জানিয়েছেন, শনিবার সকালে গুলিবিদ্ধ মৃতদেহগুলো পাওয়া গেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। মৃতদেহের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি গাড়ি পাওয়া গেছে। সেগুলোতেও অসংখ্য গুলির চিহ্ন আছে।
কানতুজ জানান, নিহত বিদেশিরা নিজেদের চিকিৎসক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে অনেকে বলছেন তাঁরা পর্যটক। তাঁরা একটি জঙ্গলের পাশ দিয়ে বাদাখশান থেকে নুরিস্তান প্রদেশে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
পুলিশপ্রধান কানতুজ বলেন, ‘ভ্রমণের আগে আমরা তাঁদের নিষেধ করেছিলাম জঙ্গলের পাশ দিয়ে নুরিস্তান না যেতে। কিন্তু তাঁরা নিজেদের চিকিৎসক দাবি করে জানান কেউ তাঁদের ক্ষতি করবে না।’
নুরিস্তান প্রদেশের গভর্নর জামালুদ্দিন বদরও জানিয়েছেন, নিহত বিদেশিরা ছিলেন চিকিৎসক। তাঁরা নুরিস্তান ও বাদাখশান প্রদেশের অনেক জেলায় ঘুরে লোকজনকে চিকিৎসা দিয়েছেন।
তবে পুলিশ বলছে, ডাকাতেরা তাঁদের হত্যা করতে পারে। যদিও এ হত্যার দায় স্বীকার করেছে তালেবান।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, নিহত ব্যক্তিরা খ্রিষ্টান ধর্ম প্রাচারের কাজ করছিলেন। তাঁদের কাছে দারি ভাষায় অনূদিত বাইবেল পাওয়া গেছে।
মুজাহিদ বলেন, ‘আমাদের একটি টহল দল নিশ্চিত যে বিদেশিদের একটি দল এই এলাকায় এসেছে। ওই বিদেশিরা খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারক এবং আমরা তাঁদের সবাইকে হত্যা করি।’
জানা গেছে, বিদেশিরা একটি খ্রিষ্টান দাতব্যপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মিশনের হয়ে কাজ করতেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৬ সাল থেকে আফগানিস্তানে কাজ করছে। তবে ওই চিকিৎসকেরা ধর্মপ্রচারক ছিলেন না বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কাবুলে মার্কিন দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন মার্কিন নাগরিক আছেন বলে তারা জানতে পেরেছে। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এর থেকে বিস্তারিত কিছু আমরা এই মুহূর্তে জানি না। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি।’
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, উত্তর আফগানিস্তানে কয়েকটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে তারা জেনেছে। বিষয়টি সম্পর্কে তারা খোঁজখবর নিচ্ছে।

চীনের প্রচারমাধ্যম অমার্জিত, অগভীর

কয়েক হাজার বছরের পুরোনো চীনা সংস্কৃতিতে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব দিনে দিনে প্রকট হয়ে উঠছে। এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, সে দেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী চাই উ। তিনি দেশটির পুস্তক প্রকাশক, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মার্তাদের রুচির সমালোচনা করে বলেছেন, চীনে প্রতিবছর অন্তত তিন লাখ বই প্রকাশ করা হয়। চার শতাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। কয়েক শ টেলিভিশন নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বানানো হয়। অথচ এর কয়টা ধ্রুপদীর মর্যাদা পায়? বরং এগুলোর সিংহভাগই অমার্জিত ও অগভীর। সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাজার অর্থনীতির কুপ্রভাবে চীনা সংস্কৃতির এই হাল হয়েছে। অথচ আজকের এই দিনে কোনো দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি একে অন্যের সহচর। একটাকে অন্যটা থেকে আলাদা করা যায় না। কোনো সরকার যদি সে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের আশা করে, তাহলে তাকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও শেকড়ের সন্ধান করতেই হবে

কমনওয়েলথ গেমস প্রকল্পের কাজে সমন্বয়হীনতা

দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে কমনওয়েলথ গেমস। ১৯৮২ সালে এশিয়ান গেমসের পর এটাই হবে সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন। তবে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে গেমসের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ হতে বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ।
এদিকে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যেকাদা ছোড়াছুড়িও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (সিপিডব্লিউডি), দিল্লির পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডব্লিউডি), দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিডিএ), মিউনিসিপাল করপোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি) এবং নিউ দিল্লি মিউনিসিপাল কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দিল্লির চিফ সেক্রেটারি রাকেশ মেহতা।
মেহতা জানান, ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামের কাছে রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। তবে ওই এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (সিপিডব্লিউডি)। এ থেকে এটাই বোঝা যায়, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।
তবে গেমস সুষ্ঠুভাবে শুরু এবং শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী আয়োজক কমিটি। এই ক্রীড়া আয়োজনের জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তারপরও বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তা ছাড়া এসব প্রকল্পে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগও গণমাধ্যমে আসছে।
বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের দায়িত্ব দিল্লির পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডব্লিউডি)। কিন্তু গাড়ি পার্কিংসহ পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবার মিউনিসিপাল করপোরেশন অব দিল্লিকে (এমসিডি)।
গেমসের বিভিন্ন ভেন্যু তৈরি এবং ইন্ডিয়া গেট, নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লকসহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (সিপিডব্লিউডি)।
পূর্ব দিল্লির আকশারধাম মন্দিরের পাশে গেমস ভিলেজ তৈরির জন্য বেসরকারি সংস্থা ইমার-এমজিএফকে নিয়োগ দিয়েছে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিডিএ)। এ ছাড়া গেমসের জন্য শহরে আরও অনেক আবাসিক অবকাঠামো তৈরি করছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমসের জন্য স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি বিএসইএস কেবল বসানোর জন্য ওই এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করবে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে এ ধরনের সমন্বয়হীনতায় আক্ষেপ প্রকাশ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দিক্ষিত বলেছেন, এতে করে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দিক্ষিত।

নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে নেপাল আবারও ব্যর্থ

নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে আবারও ব্যর্থ নেপাল। গত শুক্রবার পার্লামেন্টের ভোটে মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড পুনরায় সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ব্যর্থ হলো পার্লামেন্ট। ১৮ আগস্ট পঞ্চমবারের মতো নতুন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করার জন্য ভোট নেওয়া হবে।
যদিও মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন, এরপরও তাঁর এ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। উল্লেখ্য, এক মাসেরও আগে মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ করার পর দেশটিতে কোনো প্রধানমন্ত্রী নেই।
এদিকে অনেক ছোট দল ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। তারা বলছে, কোনো প্রার্থীই প্রধানমন্ত্রী পদের উপযুক্ত নন। কয়েকজন সাংসদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের এ প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁরা আস্থা রাখতে পারছেন না।

পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ

শারীরিক অসুস্থতার কারণে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর চার বছর পর গতকাল শনিবার কিউবার পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়েছেন ফিদেল কাস্ত্রো। সংক্ষিপ্ত ওই ভাষণে পরমাণু যুদ্ধ শুরু হওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কিউবার অবিসংবাদিত এই নেতা।
চিরাচরিত জলপাই রঙের পোশাকে পার্লামেন্টের অধিবেশনকক্ষে হাজির হওয়ার পর হাততালির মাধ্যমে বিপ্লবী এই নেতাকে অভিনন্দন জানানো হয়। পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে প্রায় ১৫ মিনিটের লিখিত ভাষণ পড়ার সময় কাস্ত্রোর কণ্ঠস্বর অনেকটা দুর্বল শোনাচ্ছিল। এ সময় সে দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তাঁর ভাই রাউল কাস্ত্রো উপস্থিত ছিলেন। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার করা হয়েছে। এর আগে কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, কাস্ত্রো পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে পারেন।
আগামী ১৩ আগস্ট ৮৪ বছরে পা দিতে যাওয়া ফিদেল কাস্ত্রো পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করে এ ব্যাপারে আইনসভার সদস্যদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে পরমাণু যুদ্ধ বাধতে পারে এবং গোটা বিশ্বের ওপর এর প্রভাব পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে কাস্ত্রো বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিষয়ে সামান্যতম ছাড় দেবে না ইরান। সশস্ত্র সংঘাত বাধতে পারে, এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
চার বছরের মধ্যে কাস্ত্রোর প্রথম এই পার্লামেন্ট ভাষণ বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ, কারণ ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার মাস আগে তিনি শেষবার এখানে ভাষণ দিয়েছিলেন। এই চার বছরে অসুস্থতার কারণে তিনি অনেকটাই জনগণের চোখের আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশের বুদ্ধিজীবী, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও তরুণ কমিউনিস্টদের সঙ্গে কথা বললেও চার বছরে এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক সভায় অংশগ্রহণ।
কাস্ত্রো এখনো কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির ফার্স্ট সেক্রেটারি। গত মাসে তিনি টেলিভিশনে একটি সাক্ষাত্কার দেন। কাস্ত্রোর ভাষণের আগে রাজধানী হাভানায় কিউবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আবেল পিরিয়েতো বলেন, ‘কাস্ত্রোর আবার সরকারে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি শুধু কিউবার জনগণকে খুশি করতে চেয়েছেন। আমি মনে করি, তিনি সবসময়ই কিউবার রাজনীতিতে জড়িয়ে আছেন, কিন্তু সরকারে নয়। ফিদেল আবারও সক্রিয় জীবনযাপন শুরু করেছেন; কিন্তু সরকারের কোনো বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে তিনি খুবই সতর্ক। বরং আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়েই তাঁর ভাবনা বেশি

দেশের ইপিজেডগুলোর রপ্তানি বেড়েছে ৯.৩৩%

দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) শিল্প-কারখানার রপ্তানি আয় প্রতিবছর বাড়ছে।
গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ। কিন্তু একই সময়ে ইপিজেডের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
দেশের মোট রপ্তানি আয়ে ইপিজেডের অবদান ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুসারে ২০০৯-১০ অর্থবছরের দেশের মোট আয়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬২০ কোটি সাড়ে ৪৬ লাখ ডলার।
আর বেপজার তথ্যানুসারে ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশের আটটি ইপিজেড রপ্তানি করেছে ২৮২ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য।
বেপজা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইপিজেডগুলোর রপ্তানি আয় ছিল ২৫৮ কোটি ৮২ লাখ ডলার, যা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ২৪২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ইপিজেডগুলোর মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ঢাকা ইপিজেডের আয় ছিল ১২১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের ১৩৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের সম্মিলিত রপ্তানি আয় ২৫৫ কোটি ডলার, যা দেশের ইপিজেডের মোট রপ্তানি আয়ের ৯০ শতাংশের বেশি।
বেপজা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে অন্যান্য ইপিজেডের মধ্যে কুমিল্লার নয় কোটি ৫৪ লাখ, উত্তরার ১৯ লাখ, ঈশ্বরদীর ৭৫ লাখ ৪০ হাজার, আদমজীর ১০ কোটি ৩৭ লাখ, কর্ণফুলীর পাঁচ কোটি ৬৮ লাখ ও মংলার ৭২ লাখ ৯০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।
অন্যদিকে ২০০৮-০৯ অর্থবছরের অন্যান্য ইপিজেডের মধ্যে ঢাকার ১১৯ কোটি, চট্টগ্রামের ১১৮ কোটি ৮২ লাখ, কুমিল্লার নয় কোটি ৫৯ লাখ, উত্তরার ২ লাখ ৪০ হাজার, ঈশ্বরদীর সাত লাখ ৯০ হাজার, আদমজীর ছয় কোটি, কর্ণফুলীর তিন কোটি ৯১ লাখ ও মংলার ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।
দেশের ইপিজেডগুলোতে স্থাপিত শিল্প-কারখানার মধ্যে রয়েছে ওভেন পোশাক, নিট পোশাক, টেরিটাওয়েল, তৈরি পোশাকের এক্সেসরিজ, কৃষিজাতপণ্য, রসায়ন ও রাসায়নিক সার, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যালসামগ্রী, আসবাবপত্র, পাদুকা ও চামড়া, পাট ও পাটজাতপণ্য, গৃহের সাজসজ্জাসামগ্রী, প্রকৌশল কারখানা, সফটওয়্যার, চশমা, খেলনা, মেডিকেল ও বায়োলজিক্যাল, ওষুধ, প্লাস্টিক, অলংকার, বিমানের যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরিসামগ্রী, মুদ্রণ ও প্রকাশনা, সংগীতবাদন যন্ত্রপাতি, খেলাধুলার সামগ্রী, ধাতবপণ্য, তাঁবু প্রভৃতি।

শেয়ারবাজারে লেনদেন ও সাধারণ সূচক দুটোই বেড়েছে

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ রোববার সাধারণ সূচক ও লেনদেন দুটোই বেড়েছে। বেলা তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ২৬ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬০১ পয়েন্টে। আজ মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ১৮৪ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৯৬ কোটি টাকা বেশি।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। মোট ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, বেক্সিমকো ও প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো অ্যাপেক্স স্পিনিং, ডেল্টা স্পিনার্স, সিএমসি কমল, ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স ও আরএন স্পিনিং মিলস।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো মডার্ন ডাইং, আলফা টোব্যাকো, মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস।

নিউজিল্যান্ড সিরিজ পাঁচ ওয়ানডেরই

তিন ওয়ানডে আর দুই টেস্টের সিরিজটা কেবল পাঁচ ওয়ানডের করা যায় কি না, এটা নিয়ে দুই পক্ষে চিঠি চালাচালি চলছিল কয়েক দিন ধরে। অবশেষে কাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজই খেলতে আসবে তারা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে।
সূত্র জানিয়েছে, কাল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের মহাব্যবস্থাপক জিওফ অ্যালটের পাঠানো এক ই-মেইলে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। দুই বোর্ড বিশ্বকাপের আগে যত বেশি সম্ভব ওয়ানডে খেলতে চাওয়াতেই দুটি টেস্টের পরিবর্তে বাড়তি তিনটি ওয়ানডে খেলা হবে এই সিরিজে। সব ম্যাচই হওয়ার কথা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। সিরিজের ফিকশ্চার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নভেম্বরে ভারত সফর থাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটা ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে চায় নিউজিল্যান্ড।
এখন শুধু ওয়ানডে সিরিজ হলেও বিশ্বকাপের পর কোনো সময়ে বাংলাদেশে দুটি টেস্ট খেলতে আসবে নিউজিল্যান্ড।

ইনিংস পরাজয় এড়াল পাকিস্তান

জুলকারনাইন হায়দার ও সাইদ আজমলের ব্যাটিং দৃঢ়তায় আজ রোববার তৃতীয় দিন শেষে ১১২ রানে এগিয়ে পাকিস্তান। অভিষেক টেস্টে প্রথম ইনিংসে শুন্য রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৮ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন জুলকারনাইন হায়দার। আর বল হাতে ৫ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৫০ রান করেছেন সাইদ আজমল। অষ্টম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যানের ১১৫ রানের জুটির কল্যাণে ইনিংস পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পাকিস্তান।
তৃতীয় দিনে প্রথম আঘাতটা হানেন গ্রায়েম সোয়ান। পরপর দুই ওভারে ইমরান ফারহাত ও আজহার আলীকে সাজঘরে ফেরান সোয়ান। দলীয় ৭৬ রানের মাথায় শোয়েব মালিককে ফিরিয়ে দেন স্টিভেন ফিন। পরের ওভারেই আবার সোয়ানের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফিরে যান উমর আকমল। পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৮২ রান। চা বিরতির আগেই ১০১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস পরাজয়ের আশঙ্কায় ছিল পাকিস্তান।
সপ্তম উইকেট জুটিতে ৫২ রান যোগ করেন জুলকারনাইন ও মোহম্মদ আমির। ১৬ রান করে স্টুয়ার্ট ব্রডের শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে যান আমির। এরপর অষ্টম উইকেট জুটিতে ১১৫ রান যোগ করে পাকিস্তানকে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন জুলকারনাইন ও সাইদ আজমল। কিন্তু টানা দুই ওভারে আজমল ও জুলকারনাইনকে ফিরিয়ে দেন গ্রায়েম সোয়ান।
দিনশেষে মোহম্মদ আসিফ ১৩ রানে ও উমর গুল ৯ রানে অপরাজিত আছেন।

এবার কোচ আসছে ক্রোয়েশিয়া থেকে?

সম্প্রতি আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সার্বিয়ান কোচের পর এবার এক ক্রোয়েশিয়ান কোচের দিকে হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
একজন ক্রোট এবং একজন সার্বিয়ান কোচের নাম প্রস্তাব করে বাফুফের কাছে পাঠিয়েছে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি। কমিটি সূত্রের খবর, ক্রোট কোচের ব্যাপারেই আগ্রহটা বেশি এবং সব ঠিক থাকলে তিনিই হবেন বাংলাদেশের নতুন ফুটবল কোচ।
জানা গেছে, ক্রোট কোচ বছরে ৬৫ হাজার ডলার বেতন চেয়েছেন। বাফুফে ৫৫ হাজার ডলার পর্যন্ত রাজি হয়েছে। আর কিছু বাড়িয়ে ওই কোচকেই আনার সম্ভাবনা আছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে নতুন কোচের দায়িত্ব কী হবে, তা ঠিক হয়নি। টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এদিকে নভেম্বরের এশিয়ান গেমস সামনে রেখে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দলের কোচ করা হয়েছে সাইফুল বারীকে। এ মাসের ২০ তারিখ বিকেএসপিতে এক মাসের অনুশীলন শিবির শুরু হবে। বাদল রায়ের সভাপতিত্বে কাল ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়েছে এই সিদ্ধান্ত।

ফ্যাব্রিগাসের স্বপ্ন আর্সেনালেই

কত মানুষ কত কথা বলেছে। অথচ কেন্দ্রীয় চরিত্র মুখে কুলুপ এঁটেই ছিল। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন সেস ফ্যাব্রিগাস। ফ্যাব্রিগাস বললেন, চোখের তারায় আঁকা স্বপ্নটা আর পূরণ হচ্ছে না তাঁর।
আসলে যে স্বপ্নটা দেখেছিলেন, সেটা নিজে থেকেই ভেঙে দিলেন ফ্যাব্রিগাস। স্বপ্ন দেখেছিলেন, ফিরে যাবেন পুরোনো ঠিকানা বার্সেলোনায়। কিন্তু সেটা আর হচ্ছে না। গত পরশু জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার বার্সেলোনায় যাওয়ার স্বপ্নটা আর পূরণ হচ্ছে না। আমি আর্সেনালেই থাকছি।’
১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার যুব প্রকল্প থেকে আর্সেনালে নাম লেখানোর পর থেকেই আছেন আর্সেনালে। দর্শকদের ভালোবাসা, কোচের আস্থা—আর্সেনালে বলতে গেলে সবকিছুই পেয়েছেন ফ্যাব্রিগাস। একের পর এক স্তর পেরিয়ে এখন তিনি আর্সেনালের অধিনায়ক।
তবু হঠাৎ করে ফ্যাব্রিগাসের পুরোনো ঠিকানার কথা মনে পড়ে গেল। বিশ্বকাপের আগে তিনি নিজেই গিয়ে কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে বার্সেলোনায় ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। বার্সেলোনাও তা জানতে পেরে ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে উঠেপড়ে লেগে গিয়েছিল। কিন্তু আর্সেনাল তাঁকে কিছুতেই ছাড়তে চায় না। বার্সেলোনা ফ্যাব্রিগাসকে ফিরিয়ে নিতে চায় আর আর্সেনাল চায় ধরে রাখতে—এই টানাহেঁচড়া চলল এত দিন ধরে।
অবশেষে সেটা বন্ধ হলো। গত পরশু ওয়েঙ্গারের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে মিলিত হন ফ্যাব্রিগাস। তারপরই দেন আর্সেনালে থেকে যাওয়ার ঘোষণা। ‘কয়েক মাস ধরেই আর্সেন ওয়েঙ্গারের সঙ্গে আমার অনেকবার কথা হয়েছে। আমরা সরাসরি কথা বলেছি, ফোনেও কথা বলেছি। সবই একান্ত কথা। তবে সব কথার শেষ হচ্ছে, আমি বুঝতে পেরেছি আর্সেনাল আমাকে কোনোভাবেই বিক্রি করবে না’—বলেছেন স্প্যানিশ প্লে-মেকার।
‘গানার’ সমর্থকেরা সেই শুরু থেকেই একটা কথা বলছিল—সেসকে যেতে দিও না! ফ্যাব্রিগাস চলে যেতে পারেন, এটা শোনার পর থেকেই শঙ্কায় ছিল তারা। আর্সেনাল ছাড়ব ছাড়ব করে সমর্থকদের মনে যে কষ্ট দিয়েছেন, এটা বুঝতে পেরেই হয়তো তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন ফ্যাব্রিগাস, ‘ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও আগে সবকিছু পরিষ্কার না করায় আমি আর্সেনালের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। তবে এটা সত্য, কী করব তা আমি নিজেও জানতাম না!’
মাথা থেকে ‘বার্সেলোনা-ভূত’ নামিয়ে দিয়েছেন। জল ঢেলে দিয়েছেন সব আলোচনায়। এবার আসল কাজে মন দিতে চান ফ্যাব্রিগাস, ‘আমি এই ক্লাবের কাছে ঋণী। আমি ঋণী এই ক্লাবের ম্যানেজার আর সমর্থকদের কাছে। সবার সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। মনোযোগ দিতে চাই আর্সেনালের নতুন মৌসুমে।’
তবে বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্নটা তাঁর মাথা থেকে একেবারেই উড়ে গেছে বলে মনে হয় না, ‘যদি বলি বার্সেলোনায় যাওয়ার স্বপ্ন আমি দেখি না, তাহলে মিথ্যাই বলা হবে। সত্যি বলতে কি, বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন দেখে না এমন খেলোয়াড় বিশ্বে খুব বেশি নেই।’

বাংলাদেশ লিগে পাঁচ বিদেশি

বিদেশি ফুটবলারের কোটা নিয়ে কত কী হলো বাংলাদেশে! কখনো উন্মুক্ত, কখনো পাঁচজন, কখনো এর চেয়ে কম। স্থানীয় ফুটবলারদের স্বার্থে সংখ্যাটা বরাবরই কম রাখার পক্ষে মতামত এসেছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ লিগে এক ম্যাচে খেলতে পেরেছেন সর্বোচ্চ তিনজন। তবে এবার বড় দলগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে চারজনকে অনুমতি দেওয়ার পর কাল সংখ্যাটা হয়ে গেল পাঁচ। পাঁচজনের একজন অবশ্যই গোলরক্ষক হওয়া চাই।
বাংলাদেশ লিগ কমিটির কালকের সভায় বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতি ক্লাবের অন্তত ১০-১২ জন খেলোয়াড়ের ফিটনেস টেস্ট নেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার বদলে শুধু বিদেশি খেলোয়াড়দের ওই টেস্ট নেওয়া হবে। এ ছাড়া অবনমিত শুকতারা ও বিয়ানীবাজারের বাংলাদেশ লিগে ফেরার আবেদন বিবেচনা করা হবে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে।

কী করবেন রবিনহো?

আপাতত ত্রিশঙ্কু হয়ে রয়েছেন রবিনহো। ম্যানচেস্টার সিটির চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। ধারে খেলেছেন ব্রাজিলের সান্তোসে। এবার ‘ধারের খেলোয়াড়’ তকমাটা ঝেড়ে ফেলতে চান ব্রাজিল তারকা। এএফপি, ওয়েবসাইট।
রবিনহোকে নিয়ে সান্তোস-ম্যানসিটি ধারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ম্যানসিটিতে ফিরে গেলেই তকমাটা উঠে যায়। কিন্তু সেটা চান না রবিনহো। ব্রাজিলের ব্যর্থ বিশ্বকাপ মিশনে আলো ছড়ানো রবিনহো ম্যানসিটির সঙ্গে লেনদেন চুকিয়ে দিতে চান। স্থায়ীভাবে সান্তোসকেই ঠিকানা বানাতে চান ২৬ বছর বয়সী ব্রাজিল ফরোয়ার্ড।
কিন্তু সব লেনদেন ফুরানোর আগেই একবার রবিনহোর মুখোমুখি বসতে চান ম্যানসিটির কোচ রবার্তো মানচিনি, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরুর আগেই। উদ্দেশ্য, বুঝিয়ে-সুঝিয়ে যদি রবিনহোকে লিগ শুরুর আগে নিয়ে আসা যায় ব্রাজিল থেকে।
তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সঙ্গে জোরাজুরি করবেন না ম্যানসিটির ইতালিয়ান কোচ, ‘আমার দিক থেকে কোনো চাপ নেই। আসলে ওর জন্য সান্তোসে থাকাটা খুব কঠিন। এ কারণেই আমি ওর সঙ্গে মুখোমুখি বসতে চাই। চাই কথা বলতে।’
রবিনহো আপাতত ব্রাজিলেই আছেন। বিশ্বকাপ-পরবর্তী ছুটি কাটাচ্ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগামী মঙ্গলবারের প্রীতি ম্যাচের জন্য ব্রাজিলের নতুন কোচ মানো মেনেজেস যে দল দিয়েছেন, সেই দলে অবধারিতভাবেই তিনি আছেন। ওই ম্যাচটি খেলার পরই রবিনহোর সঙ্গে কথা বলবেন মানচিনি। ম্যানসিটি কোচ আশাবাদী, রবিনহোকে তিনি বোঝাতে পারবেন।
রবিনহো রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ২০০৮ সালে ম্যানসিটিতে নাম লেখানোর ঠিক পর পরই কিছু ম্যাচ ভালো খেললেও ইস্টল্যান্ডে তেমন কিছু করতে পারেননি। একটা সময়ে দলে অনিয়মিতই হয়ে পড়ায় এ বছরেই ধারে খেলতে যান সান্তোসে।
শেষ পর্যন্ত রবিনহোকে মানচিনি যদি বোঝাতে না-ই পারেন, সবকিছুর পরও তিনি সান্তোসেই থেকে যেতে চান তাহলেও একটি সমস্যা আছে। ম্যানসিটি থেকে রবিনহোকে কেনার মতো যথেষ্ট টাকা নেই সান্তোসের। তাহলে কী হবে? দলবদলের বাজার বন্ধ হতে কিন্তু আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি।

সোনাজয়ী হামিদুলের একি হাল!

আগামী অক্টোবরে দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসের ভারোত্তোলক দল চূড়ান্ত হবে আজ। তবে কাল ট্রায়ালে যা পারফরম্যান্স, তাতে গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনাজয়ী ভারোত্তোলক হামিদুল ইসলামের দলে আসা খুবই কঠিন। হামিদুল জার্ক করেননি, স্ন্যাচে মিস করেছেন তিনবার। ভারোত্তোলন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা এই হামিদুলকে দেখে হতাশ। তাঁরা বলছেন, ঠিকমতো অনুশীলন না করায় হারিয়ে যেতে বসেছেন হামিদুল। শুধু হামিদুল নন, তাঁর ভাই একরামুলের ব্যাপারেও হতাশ ফেডারেশন। হামিদুল তবু ট্রায়াল দিয়েছেন, একরামুল সেটিও দেননি।
ছয় মাসের মধ্যেই এমন দুরবস্থায় পড়ে গেলেও হামিদুল আশাবাদী, ‘ব্যক্তিগত সমস্যায় অনুশীলন করতে পারিনি। দুই-তিন সপ্তাহ ভালোভাবে অনুশীলন করলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
বাকি সব ভারোত্তোলকের পারফরম্যান্সেই উন্নতি হয়েছে। গত এসএ গেমসের চেয়ে বিদ্যুৎ কুমার প্রায় ১১ কেজি, মনোরঞ্জন শীল ২ কেজি, ফাহিমা আক্তার ২০০৮ সালে সেপ্টেম্বরে যুব কমনওয়েলথ গেমসের চেয়ে ১৪ কেজি বেশি তুলেছেন। তাঁদের ব্যাপারে ফেডারেশন খুবই খুশি।

আনেলকার স্বপ্ন

১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে প্রথম শিরোপা জয়ের ৫০ বছর পর হোসে মরিনহোর হাত ধরে ২০০৪-০৫ মৌসুমে আবার লিগ শিরোপা জেতে চেলসি। স্টামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটি চতুর্থ শিরোপা জিতেছে গত মৌসুমে। লিগ শিরোপা তো আছেই, এবার নাকি চেলসির প্রথম লক্ষ্য অধরা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। দলীয় এই লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের খলনায়ক ফ্রান্সের নিকোলাস আনেলকা। স্বপ্ন যখন দেখবেন তখন তা ছোট হবে কেন? আনেলকাদের স্বপ্ন ‘ট্রেবল’ জয়ের দিকেও, ‘এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। আমরা ‘ট্রেবল’ও জিততে পারি, গত মৌসুমে যেটা জিতেছিল ইন্টার মিলান।

চেলসির মুখোমুখি ম্যানইউ

বিড়াল’ কখন মারতে হবে এ ব্যাপারে শাস্ত্রের একটা পরামর্শ আছে। চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তিও বোধ হয় সেই শাস্ত্রীয় বাণী জানেন। আর তাই আজ ওয়েম্বলিতে কমিউনিটি শিল্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হওয়ার আগে শিষ্যদের একটা মন্ত্রই জপে দিয়েছেন। এই ম্যাচটা জিততেই হবে!
ইংলিশ ফুটবল মৌসুমের শুরুটা হয় মর্যাদার এই ম্যাচটি দিয়ে। আগের মৌসুমের এফএ কাপ আর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ বিজয়ী দুই দল মুখোমুখি হয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করে নতুন মৌসুমের। গতবার কাপ আর লিগ দুটোই জিতেছে চেলসি। ফলে লিগের দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে চেলসির মুখোমুখি ম্যানইউ।
তিন বছর ধরে কমিউনিটি শিল্ড জিতে আসা দলটিই লিগ শিরোপা জিতছে। ফলে এই শিরোপা জয় মানে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকা। ১৪ আগস্ট লিগ শুরুর আগে এই জয়টা তাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ আনচেলত্তির কাছে, ‘আমি মনে করি, দুই দলের কাছেই এই ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ম্যাচটা দিয়ে আপনি মৌসুম শুরু করছেন। এটি দিয়েই আপনি আপনার পরিস্থিতি বুঝে নিতে পারবেন। তা ছাড়া প্রতিপক্ষ ম্যানইউ মানেই তো এটা বড় ম্যাচ।’
আনচেলত্তির জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। এসি মিলান থেকে গত মৌসুমে চেলসিতে আসার পর এই ইতালিয়ান কোচ প্রথম জিতেছিলেন কমিউনিটি শিল্ডের ট্রফিটাই। গত বছরের ম্যাচটা অবশ্য দারুণ জমেছিল। ১০ মিনিটে নানির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ম্যানইউ। ৫২ মিনিটে রিকার্ডো কারভালহো আর ৭১ মিনিটে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের গোল। চেলসি জিতেই যাচ্ছিল, এমন সময় খেলা শেষের বাঁশি বাজার আগে ওয়েইন রুনির সমতা ফেরানো গোল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকে গড়ানো ম্যাচে চেলসি জেতে ৪-১ ব্যবধানে।
আনচেলত্তি বলছেন, এই ম্যাচটি তাদের জন্য আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও। কারণ প্রাক-মৌসুমের অনেকগুলো প্রীতি ম্যাচে হেরেছে চেলসি। বিশ্বকাপ থেকে ফেরা দলটির ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আর ‘চেলসির খেলোয়াড়েরা বুড়ো হয়ে গেছেন’ এমন সমালোচনা তো গত মৌসুম থেকেই চলছে।
বয়স নিয়ে খোঁটা দিয়েছিলেন অ্যালেক্স ফার্গুসনও। কিন্তু ম্যানইউ কোচ নিজে এবার বলছেন, ‘একে অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই। চেলসির বিশাল অভিজ্ঞতাকে সমীহ করতেই হবে।’
ম্যানইউ এই মৌসুম শুরু করছে রেকর্ড ১৯তম লিগ শিরোপা জয়ের মিশন নিয়ে। তা ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাটি গত দুই মৌসুমে জেতা হয়নি তাদের। চেলসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেনি একবারও। গত মৌসুমে তিনটি শিরোপা জিতে শুরু করা আনচেলত্তি অবশ্য কথা দিয়েছেন, লিগ-কাপ-চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাত্রয়ী আসবে এবারই। গতবার বিরল এই কীর্তিটা গড়েছে ইন্টার মিলান।

তারুণ্যে ফিরছে ইতালি

মার্সেলো লিপ্পি বিশ্বকাপে ইতালিকে বুড়োদের দল বানিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার পর বিদায় নিয়েছেন লিপ্পি। নতুন কোচ সিজার প্রান্দেল্লি এসে ‘বুড়ো তত্ত্ব’কে প্রায় বিদায়ই দিয়ে দিলেন।
১০ আগস্ট লন্ডনে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইতালি। এই ম্যাচের জন্য ঘোষিত প্রান্দেল্লির ২৩ সদস্যের দলে লিপ্পির বিশ্বকাপ দলের সদস্য মাত্র ৯ জন! নতুন মুখ ৭ জন। এঁদের একজন মাত্রই কিছুদিন আগে ইতালিয়ান পাসপোর্ট পাওয়া জুভেন্টাসের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার আমাউরি। ইন্টার মিলানের মারিও বালোতেল্লি ও আন্তনিও কাসানোকে বিশ্বকাপ দলে না নেওয়ায় লিপ্পির সমালোচনা হয়েছিল খুব। দুজনকেই দলে ডেকেছেন প্রান্দেল্লি। বিশ্বকাপের ব্যর্থ মিশনের পর এটাই হবে ইতালির প্রথম ম্যাচ

কাকার ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে!

বিশ্বকাপটা ভালো গেল না। এটিই তাঁর নিজের আর ভক্তদের জন্য বড় হতাশার। কিন্তু এমন যদি হয়, বুট পরে আর কোনো দিন মাঠেই নামতে পারলেন না! কী সর্বনেশে কথা? সর্বনেশেই বটে; তবে হতে পারত এমনই! কাকার বাঁ-হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক মার্ক মার্টেনস নিজ মুখেই দিয়েছেন এই ভয়ংকর খবর। বলেছেন, ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে কাকার ক্যারিয়ার। আর এ জন্য কাকা নিজেই দায়ী।
ব্যর্থ বিশ্বকাপ মিশনের পর নতুন মৌসুমটা পূর্ণোদ্যমে শুরু করবেন বলে যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই সামনে এসে দাঁড়াল পুরোনো চোট। যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে আবিষ্কার হওয়া হাঁটুর চোটটা এতটাই গুরুতর যে, সঙ্গে সঙ্গে বেলজিয়ামে উড়ে গিয়ে মার্ক মার্টেনসের ছুরির নিচে যেতে হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক যা বলেছেন, ভয়টা সেখানেই। মাদ্রিদভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক মার্কাকে মার্টেনস বলেছেন, ‘তাঁকে দেখামাত্রই আমি বলে দিয়েছি, চোটটা অত্যন্ত গুরুতর। এমনকি তাঁর ক্যারিয়ারটা হয়ে পড়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ!’ মার্টেনসের বিশ্বাস, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে চোট নিয়ে খেলেই কাকা ডেকে এনেছেন এই সর্বনাশ! ‘সে কিছু ছোটখাটো চোট নিয়ে খেলতে শুরু করে শেষ করেছে অসহ্য ব্যথা নিয়ে’—বলেছেন মার্টেনস।
চিকিৎসক মার্টেনসের বিশ্বাস, কাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলেছেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেই। কাকা নিজেই বলেছেন, চোট নিয়েই বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি, ‘এই হাঁটুটা মাঝেমধ্যেই আমাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিত। কিন্তু আমি জানতাম না এটা গুরুতর কিছু। প্রথমে তো আমি (চিকিৎসকের কথা শোনার পর) বিস্মিতই হয়েছি।’
গত মৌসুমে দীর্ঘদিন কাকাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে কুঁচকির চোটের সঙ্গে। বিশ্বকাপেও কাকা সতর্ক ছিলেন এই কুঁচকি নিয়েই। হাঁটুর চোট নিয়ে তিনি ভাবেনইনি, ‘আমি সব সময়ই কুঁচকির যত্ন নিয়েছি এবং আমাকে বলা হয়েছে, এটাই অন্য পেশির সঙ্গে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে থাকতে পারে। কিন্তু বুঝতে পারিনি, এটা এতটাই গুরুতর।’ বিশ্বকাপ শেষ করে ব্রাজিলে ফিরে যাওয়ার পরই ব্রাজিল দলের চিকিৎসক বলেছিলেন, তিনি কিছু চোট নিয়ে খেলেছেন। কিন্তু অনেকের কাছেই এটা চিহ্নিত হয়েছে ব্যর্থতা ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে। কাকা অবশ্য মাদ্রিদে এসেও নাকি তাঁর এই নতুন চোটের কথা বলেছিলেন।
ভয়ের সংবাদই বটে; তবে আশার কথা, অস্ত্রোপচারটা সফল হয়েছে। ‘এটা তাঁর ক্যারিয়ারটাই শেষ করে দিতে পারত। কারণ চোটটা ছিল খুবই গুরুতর। কিন্তু ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে (সংকটাপন্ন) তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এবং সবকিছুই হয়েছে চমৎকারভাবে’—বলেছেন বেলজিয়ামের শল্যবিদ মার্টেনস। তবে খবরটাকে এত চমৎকারভাবে নিতে পারছে না রিয়াল মাদ্রিদ। কারণ গত মৌসুমে ৫ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডের চুক্তিতে মিলান থেকে রিয়ালে আসা এই ব্রাজিলিয়ান তারকার সেরে উঠতেই লেগে যাবে তিন থেকে চার মাস।

ফেল্প্সও হেরেছেন

গত শুক্রবার যেন বেইজিং অলিম্পিক তারকাদের পতনের দিন ছিল। একদিকে অলিম্পিকের পর ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম হারের স্বাদ পেলেন উসাইন বোল্ট। অন্যদিকে ওই অলিম্পিকেই আটে আট সোনা জেতা মাইকেল ফেল্প্স হারলেন ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ফেল্প্সকে হারিয়েছেন রায়ান লোকিট।
লস অ্যাঞ্জেলেসে লোকিট ১ মিনিট ৫৪.৮৪ সময়ে সাঁতার শেষ করে বছরের সেরা টাইমিং করেছেন। বাটারফ্লাই ও ব্যাকস্ট্রোক, প্রথম দুই লেগে এগিয়ে থাকা ফেল্প্স পিছিয়ে পড়েন ব্রেস্টস্ট্রোকে। শেষ পর্যন্ত ১ মিনিট ৫৫.৯৪ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করেছেন ১৪টি অলিম্পিক সোনাজয়ী সাঁতারু।
২০০৪ অলিম্পিকে মাইকেল ফেল্পেসর পেছনে থেকে লোকিট রুপা জিতেছিলেন ২০০ মিটার মিডলেতে। ২০০৮ অলিম্পিকেও ফেল্পেসর কাছে হার মানতে হয়েছিল তাঁকে। এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারের এই ইভেন্টে ফেল্প্সকে হারালেন লোকিট।
স্বভাবতই খুব উচ্ছ্বসিত যুক্তরাষ্ট্রের এই সাঁতারু। ফেল্প্সকে হারানোর জন্য নাকি তাঁর দুর্বলতা খুঁজে বের করেছেন লোকিট, ‘আমি ওকে আগেও হারিয়েছি। তবে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় এই প্রথম। মাইকেলের সঙ্গে অনেকবার সাঁতরেছি তো। (মিডলেতে) ওর মূল অস্ত্র হলো ব্রেস্টস্ট্রোক থেকে ফ্রি-স্টাইলে ঘোরার সময়টা। আমি ওটাতেই মনঃসংযোগ করেছিলাম। এবং এটা নিয়েই অনুশীলনে কাজ করেছি। সাঁতারের সময় চেয়েছি, যতক্ষণ সম্ভব পিছিয়ে থাকার।’
কৌশলটা যদি ফেল্প্সকে নিয়মিত আটকাতে কাজে দেয়, তো তাঁর জন্য বিপদের খবর।

লক্ষ্মণের ব্যাটে ভারতের জয়

তাঁকে ‘গ্রেট’ বলতে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। টেস্ট গড় পঞ্চাশের নিচে, ১১৩ টেস্টে ১৬টি সেঞ্চুরিকেও কম মনে হতে পারে। কিন্তু ভিভিএস লক্ষ্মণ ‘গ্রেট ইনিংস’ যতগুলো খেলেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি গড়, অনেক বেশি রান-সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানও তা পারেননি। ‘ভিভিএস’কে ‘ভেরি ভেরি স্পেশাল’ তো এ জন্যই বলা হয়। তাঁর ২৮১ উইজডেনের বিবেচনায় সর্বকালের ষষ্ঠ সেরা ইনিংস। সিডনিতে তাঁর ১৬৭ ও ১৭৮, অ্যাডিলেডের ১৪৮, কলকাতার ১৫৪ কিংবা নেপিয়ারের ১২৪ টেস্ট ইতিহাসের স্মরণীয় ইনিংসগুলোর তালিকায় ঢুকে যাবে অনায়াসেই। তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি ইনিংস। ভারতকে জয় এনে দেওয়া কালকের ইনিংসটি মনে পড়লে আজ থেকে অনেক দিন পরও প্রশান্তিতে মন ভরে উঠবে লক্ষ্মণের।
এই ইনিংসটা শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাট থেকে এলেই বলা যেত ‘আদর্শ চিত্রনাট্য।’ টেন্ডুলকারের এই ইনিংসটাও চতুর্থ ইনিংসে ম্যাচ জেতানো ইনিংসের মর্যাদা পাবে না। তবে তাঁর ৫৪ রানের গুরুত্বও কম নয়। লক্ষ্মণের সঙ্গে তাঁর ১০৯ রানের জুটিই তো শ্রীলঙ্কার দিকে হেলে পড়া ম্যাচ ভারতের করে দিল। বলতে হবে সুরেশ রায়নার কথাও। ‘টেস্ট টেম্পারামেন্টের’ পরীক্ষায় আরও একবার উতরে গেছেন এই বাঁহাতি। তবে টেন্ডুলকার-রায়নারা কাল হয়ে গেলেন পার্শ্বনায়ক। ভেলেগেদারাকে লংঅন সীমানার বাইরে ফেলে জয় এনে দিলেন রায়না। কিন্তু টিভি ক্যামেরা সঙ্গে সঙ্গে ধরল তাঁর সঙ্গীকে, দুহাত তুলে জয়টা প্রথম উদ্যাপন করলেন লক্ষ্মণ। কালকের নায়ক তো তিনিই!
‘গ্রেট’ কিনা, এটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে একটা জায়গায় যে তিনি এখন শীর্ষে, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আধুনিক ক্রিকেটের বিরল ‘শিল্পী’ প্রজাতির সম্ভবত শেষ প্রতিনিধিদের একজন। আজহারউদ্দিন, মার্ক ওয়াহদের মতো তাঁর ব্যাটিং চোখ আর মনের জন্য প্রশান্তি। ব্যতিক্রম নয় কালকের ইনিংসটিও। টেস্টের পঞ্চম দিন, উইকেট আস্তে আস্তে আরও ধীরগতির হয়ে পড়ছে, চার উইকেট নেই, সিরিজ হারের শঙ্কা—এতসব চাপের কোনো ছায়াই পড়ল না লক্ষ্মণের ব্যাটে। ধীরগতির উইকেটেও কবজির মোচড় আর টাইমিংয়ের অপূর্ব প্রদর্শনী দেখালেন। ইনিংসের মাঝপথে পিঠের চোটে শেবাগকে রানার নিয়ে খেলেছেন, কিন্তু ব্যাটিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি।
টেন্ডুলকারের ব্যাটিংয়ে ছিল দারুণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। প্রতিটি বল যেভাবে খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল থাকতে চান শেষ পর্যন্ত। কিন্তু সুরাজ রণদিভের বলে সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে। এই টেস্টে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি রণদিভ। আগের টেস্টে অভিষেকে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়া অফ স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের পাঁচ উইকেটের সবগুলোসহ ম্যাচে পেয়েছেন ৯ উইকেট। সতীর্থদের কাছ থেকে সমর্থন না পাওয়ায় তাঁকে তবুও থাকতে হলো পরাজিতের দলে।
১৯৯৪ সালের পর পি সারায় প্রথম টেস্ট হারল শ্রীলঙ্কা। যে উইকেটে দুই শ তাড়া করাই কষ্টসাধ্য হবে বলে মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞরা, সেখানে এত সহজেই হারার দায় অনেকটা দেওয়া যায় সাঙ্গাকারাকে। আগের দিন যে ভুল করেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, কাল সেটারই পুনরাবৃত্তি করলেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক। রান বাঁচানোর ফিল্ডিং সাজালেন, সহজ সিঙ্গেল দিলেন টেন্ডুলকার-লক্ষ্মণদের। দুজনের ১০৯ রানের জুটির ৪৮টিই সিঙ্গেল! সকালের সেশনে কেন মাত্র ২ ওভার বোলিং করানো হলো মালিঙ্গাকে বা মেন্ডিসকে আক্রমণে আনতে কেন লেগে গেল ৩৮ ওভার—তোলা যায় এই প্রসঙ্গগুলোও। দায় দেওয়া যায় ফিল্ডিংকেও। ১৮ রানের মাথায় শর্ট লেগে টেন্ডুলকারের ক্যাচটা দিলশান নিতে পারলে হয়তো বদলে যেত খেলার পুরো আবহ।
লক্ষ্মণ-টেন্ডুলকারদের কথা বলা হলো, বীরেন্দর শেবাগের কথা ভুলে গেলে চলবে না। দ্বিতীয় ইনিংসে হয়তো ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু প্রথম ইনিংসে তাঁর দ্রুতগতির সেঞ্চুরি বা দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনারকে আউট করে জয়ের রাস্তা তো তিনিই তৈরি করে দিয়েছেন।