Tuesday, May 16, 2017

জাতিসংঘে উ.কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা

উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে সংস্থাটি। খবর বিবিসির। সোমবার জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তেজনা সৃষ্টি করে এমন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়া আর চালাবে না।
এতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়াকে তাদের স্পষ্ট কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে হবে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে আন্তরিক। এর আগে উত্তর কোরিয়া জানায়, তাদের সদ্য উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশেষ ধরনের। এতে বড় ধরনের পারমাণবিক বোমা বহন করা যায়। এ ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। ২ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় যেতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের পর জাপানের পশ্চিম সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। জাতিসংঘ ২০০৬ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপর ছয়বার বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে।

পার্কে মিলল দামী হিরে!

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে ক্রাটার অব ডায়মন্ড স্টেট পার্কে ঘুরতে গিয়ে ভাগ্য বদলে গেছে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর। সেখানে ২.৬৫ ক্যারেটের দামী বাদামী হিরে পেয়েছেন ভিক্টোরিয়া ব্রডস্কি নামের ওই তরুণী। বিশ্ববাজারে ২.৬৫ ক্যারেটের ওই হিরেটির আনুমানিক দাম প্রায় ৪৩ হাজার ৫০০ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫ লাখ। ছুটিতে ওই তরুণী সপরিবারে ঘুরতে গিয়েছিলেন ক্রাটার অব ডায়মন্ড স্টেট পার্কে। ঘুরতে ঘুরতে পার্কের মধ্যে হঠাৎই নজরে পড়ে একটি চকচকে জিনিস। কৌতূহলবশত সেটিকে হাতে তুলে নেন ওই তরুণী। দেখেন উজ্জ্বল বাদামি রঙের একটা পুঁতি গোছের কিছু। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, এটা হয়তো নেহাতই একটা কাচের টুকরা। তা-ও কি মনে হওয়ায় সেটাকে জামার পকেটে ভরে নেন তিনি। পার্কে পরিবারের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক সময় কাটিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। কী মনে করে সেটিকে নিয়ে কাছের একটি ডায়মন্ড ডিসকভারি সেন্টারে যান ওই তরুণী। পরীক্ষা করে জানা যায়, তরুণীর পাওয়া সেই উজ্জ্বল বাদামি রঙের জিনিসটা কোনো পুঁতি বা কাচের টুকরা নয়, আস্ত একটা হিরে। দুষ্প্রাপ্য বাদামি হিরে। ‘ক্রাটার অব ডায়মন্ড স্টেট পার্ক’ পৃথিবীর একমাত্র পার্ক যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমনই অনেক হিরে। এই পার্কের মোট এলাকা প্রায় ৯০০ একর। ওই পার্ক থেকে হিরে কুড়িয়ে পাওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এ বছরের মার্চেই এখান থেকেই প্রায় সাড়ে ৭ ক্যারেটের হিরে খুঁজে পায় এক কিশোরী।

ফেসবুক লাইভে শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা

ফেসবুক লাইভে নিজ গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সংগীত শিল্পী। স্থানীয় সময় গত শনিবার সকালে জারেড ম্যাকলেমোর (৩০) নামের ওই শিল্পী নিজ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন। পরে হাসপাতালে তিনি মারা যান। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিস শহরের বাসিন্দা ম্যাকলেমোর গায়ক হিসেবে বেশ খ্যাতি পেয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় এক পানশালায় গাড়ি পার্কিংয়ে গিয়ে নিজ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন ম্যাকলেমোর। এ অবস্থায় তিনি পানশালায় প্রবেশ করলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভেতরে থাকা লোকজন। আবার অনেকে বিষয়টিকে নতুন ধরনের ফান হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। কিম কোহলার নামের এক ব্যান্ড সদস্য জানান, পারফরমেন্সের পর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমরা। এমন সময় বারের প্রবেশ দরজায় বাইরে থেকে কেউ জোরে ধাক্কা দিচ্ছিল।
শেষ পর্যন্ত যখন শরীরে আগুন নিয়ে ম্যাকলেমোর বারে প্রবেশ করলেন তখন রীতিমতো আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ম্যাকলেমোরের এমন কাণ্ডের পেছনে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আসার চেষ্টা ছিল বলেই দাবি করেন কোহলার। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরেই ম্যাকলেমোরের সাবেক প্রেমিকার কর্মস্থল। একসঙ্গে থাকাকালীন তাদের মধ্যে নাকি মোটেও বণিবনা হতো না। পরে বারের ভেতরে থাকা লোকজন ম্যাকলেমোরের আগুন নিভিয়ে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ম্যাকলেমোরের মৃত্যু হয়।

সিসিকে পটিয়ে পেলেন হাজার একর জমি

সাধারণ এক নাগরিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ হাজার একর জমি দান করলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। দেশটির উচ্চ অঞ্চল বলে পরিচিত এলাকায় সফরের সময় অপেক্ষাকৃত গরীব শহর মারাশদেহ এলাকার এক বাসিন্দা প্রেসিডেন্টের কাছে জমি চান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট সিসি তাকে ১ হাজার একর ভূমি দান করেন। মারাশদেহ শহরটি দেশটির কুইনা গভর্নোরেটের অংশ। হাম্মাম নামের ওই ব্যক্তি প্রেসিডেন্টকে বলেন, ৩০ বছর আগে নিজের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য মাত্র ৫ একর জমি অধিগ্রহণের আবেদন জানাই। তবে এখনো সেই আবেদনের ফল পাইনি।
তিনি বলেন, ছোট থেকে আমরা যে জমিতে বেড়ে উঠেছি, বড় হয়ে সেই জমি ব্যবহারের কোনো সুযোগ পাইনি। আমরা জমি ব্যবহারের সুযোগ পেলে ভূমির উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদেরও উন্নতি নিশ্চিত করা যেতো। হাম্মাম বলেন, 'আমাদের দাবি পূরণ করতে পারেন এমন একজন আজ (সিসি) আমাদের মাঝে আছেন। আশা করি আমাদের আবেদন আজ সাড়া পাবে।' এ কথা শোনার পর তুষ্ট সিসি আর্মড ফোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং অথোরিটির সভাপতি কামেল আল-ওয়াজিরকে হাম্মামকে ১ হাজার একর ভূমি দানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

জেল পালানোর সময় গুলিতে নিহত ১৭

পাপুয়া নিউগিনির বুইমো কারাগার ভেঙে পালানোর সময় নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে ১৭ কয়েদি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার পালানোর চেষ্টাকালে তিন কয়েদিকে ধরা গেলেও আরও ৫৭ জন পালিয়ে গেছে। পলাতক কয়েদিরা পাপুয়া নিউগিনির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লায়ের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। পলাতকদের অধিকাংশই বিচার শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির। লায় শহর পুলিশের প্রধান সুপার অ্যান্থনি ওয়াগাম্বি বলেছেন, যারা পালিয়েছে তাদের অধিকাংশকেই গুরুতর অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং বিচার শুরুর অপেক্ষায় তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। অস্ত্রসহ ডাকাতি, গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরির অপরাধে গত বছর এদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পাইলটের ক্ষুধা পাওয়ায় হেলিকপ্টার অবতরণ

সবাই ভেবেছিলেন হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করছে। কোনো বিপদ থেকে রক্ষায় হয়তো পাইলট এমনটি করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ভুল পাল্টাতে বেশি সময় লাগেনি। আসলে পাইলটের ক্ষুধা পাওয়ায় হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করে। পাইলট খাবার সংগ্রহ করে ফের আকাশে উড়লেন! অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিস্ময়কর এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার। ডেইলি মেইল অনলাইন জানায়, সিডনিতে ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর পাশে একটি হেলিকপ্টার অবতরণ করে। এ দৃশ্য দেখে আশপাশের লোকজন বিস্মিত হন।
দর্শনার্থীরা অবাক হয়ে দেখেন, হেলিকপ্টার থেকে পাইলট স্বাভাবিকভাবে নেমে আসছেন। হেলিকপ্টারের পাখা তখনো ঘুরছে। পাইলট রেস্তোরাঁর দিকে এগিয়ে যান। একটু পরে খাবারের ব্যাগসহ হেলিকপ্টারে ফিরে আসেন। ফের উড্ডয়ন করেন তিনি। দর্শনার্থীরা এ দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করেছেন। এমনই এক দর্শনার্থী বলেন, তিনি ভেবেছিলেন হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করেছে। পরে দেখেন, খাবার সংগ্রহ করে পাইলট ফের উড্ডয়ন করেন। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, হেলিকপ্টার অবতরণ বেআইনি নয়। তবে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। তারা বলছে, জমির মালিকের অনুমতি ও নিরাপত্তা থাকলে হেলিকপ্টার অবতরণ করা যাবে।

বাইরে গুলি-বোমাবাজি, ভেতরে তাসে মত্ত পুলিশ!

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নদিয়া ও হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে পুলিশকে কড়া হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে পরামর্শ পুলিশ যে মান্য করছে না তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ডোমকলের বিরোধী ও ভোটারদের একটা বড় অংশের অভিযোগ, চোখের সামনে গণ্ডগোল, বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট দেখেও চুপ থাকল পুলিশ। বিপদের সময় বহুবার ডেকেও পুলিশের সাড়া মেলেনি। অবাক ডোমকলের প্রশ্ন, এ পুলিশ কেমন পুলিশ?
ডোমকলের ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডেই গণ্ডগোল হয়েছে। অভিযোগ, বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে দুষ্কৃতীকারীদের। বুথ থেকে বিরোধী এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। হুমকি দেয়া হয়েছে ভোটারদের। অথচ পুলিশকে বলতে গেলে শুনতে হয়েছে— ‘ভোটে তো এমন টুকটাক ঘটনা ঘটেই থাকে। আপনি কেন ঝামেলায় জড়াচ্ছেন?’ ডোমকলের প্রশাসনিক ভবনে তাস খেলতে দেখা গেছে পুরুষ পুলিশদের। অন্যদিকে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনেছেন নারী পুলিশ কনস্টেবলরা।

রাশিয়াকে স্পর্শকাতর তথ্য দিয়েছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিষয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিছু গোপন তথ্য রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কাছে প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৈঠকের সময় এ বিষয়টি ঘটেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট। সরকারি সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি বলেছে, তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি সহযোগী রাষ্ট্রের দেয়া। এসব তথ্য রাশিয়ার সঙ্গে ভাগাভাগি করার কোনো অনুমোদন ছিল না।
যদিও একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিবেদনটি সত্য নয়। সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার ফর স্ট্র্যাটেজি দিনা পাওয়েল বলেন, 'প্রতিবেদনটি মিথ্যা। উভয় দেশ যেসব বিষয়ে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট আলোচনা করেছেন।' প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল এইচ আর ম্যাকমাস্টারও প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ছিল এবং ট্রাম্পের প্রচারণা দল মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে তদন্তও চলছে। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে 'মিথ্যা সংবাদ' বলে খারিজ করে দিয়েছেন।

ভারত-পাকিস্তান লড়াই এবার হেগের আদালতে

পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত করতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছে নয়াদিল্লি। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনে ভারতের সাবেক নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদবকে মৃত্যুদণ্ড দেয় পাকিস্তান। দিল্লির আইনজীবীরা কুলভূষণ যাদবের সাজা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) কাছে আবেদন জানায়। এ বিষয়ে সোমবার হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে সকালে জরুরি শুনানি হয়েছে। খবর এএফপির। গত বছর বেলুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে যাদবকে গ্রেফতার করা হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, যাদব ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির কথা স্বীকার করেছেন। তবে ভারত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের এ দাবি নাকচ করে জানান, তিনি গুপ্তচর নন। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত এক বিবৃতিতে জানায়, গত সপ্তাহে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ভিয়েনা কনভেনশনের গুরুতর লংঘনের’ অভিযোগ এনে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ করে।
নয়াদিল্লির মতে, যাদবকে আটক করার পর দীর্ঘ সময় ভারত কিছু জানতে পারেনি। পাকিস্তান যাদবকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা এ ব্যাপারে ভারতকে ‘জানাতে ব্যর্থ হয়েছে’। সোমবারের শুনানিতে যাদবের প্রতি ‘শর্তাধীন পদক্ষেপ’ আরোপের জন্য আর্জি জানায় ভারত। আইসেজির শুনানিতে ভারতের আইনজীবী দিপক মিত্তাল তার মক্কেলের বিরুদ্ধে করা এ মামলাকে ‘সাজানো ও প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক এ আদালতের রায় হবে চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের পরে আগস্ট মাসের সেই ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান। সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখে ভারতের থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয় পাকিস্তানের তরফে। মাস দুয়েক পর নভেম্বর মাসে আদালত ভারতকে ক্লিনচিট দেয়। ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ফের আবেদন করে। ১৬ জন বিচারপতির মধ্যে ভোটাভুটিতে ১৪-২ ব্যবধানে ভারতের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। ১৮ বছর আগের সেই মামলায় পাকিস্তানের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ভারত।

চাকরি খোয়ানোর শঙ্কায় টিলারসন?

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্থা অর্জনের জন্য প্রতিদিনই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আস্থাহীনতার কারণে এফবিআই পরিচালক জেমস কমিকে ট্রাম্প বরখাস্ত করার পর টিলারসন এ কথা বলেন। খবর পলিটিকোর। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টিলারসন বলেন, প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো অর্জন এবং সফল হওয়ার ক্ষেত্রে তার সহায়তায় আমি আত্মপ্রাণ। আমি জানি, তিনি দেশকে যে পথে নিয়ে যেতে চান তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম পরিচালনা করার ব্যাপারে আমাকে প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের আস্থা অর্জন করতে হচ্ছে। ট্রাম্প ও দেশের প্রতি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আনুগত্যের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে টিলারসন বলেন, আমি নিজস্ব মূল্যবোধের ব্যাপারে কখনও ছাড় দেব না। এটাই আমার কাজের ধারা। আর আমার মূল্যবোধই দেশের মুল্যবোধ। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি চাকরিচ্যুত এফবিআই প্রধান কমির কাছ থেকে আনুগত্যের দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প অবশ্য রোববার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাক্ষাৎকারে টিলারসন আরও বলেন, ইসরাইলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নিলে তা ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক হবে নাকি তা ক্ষতিগ্রস্ত করবে- তা মূল্যায়ন করছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্কতার সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করছেন, এমন সিদ্ধান্ত কিভাবে শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে টিলারসনের নিয়োগের সময় অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। তার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খালেদার বিরুদ্ধে নাশকতার তিন মামলার কার্যক্রম স্থগিত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতার তিনটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলাবার দুপুরে বিচারপতি মোঃ মিফতা উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি আ ন ম বশিরুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে আদালত বলেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম শেখ মনিরুজ্জামান কবির জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন ও সানজিদ সিদ্দীকী। স্থগিত হওয়া মামলার মধ্যে রয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার দু'টি ও দারুসসালাম থানার দায়ের করা একটি নাশকতার মামলা।

গাড়িচালক ও বডিগার্ডের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও বডিগার্ড রহমত আলীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানার আদালতে মামলাটির শুনানি চলছে। এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশান ও পুরান ঢাকার নবাবপুর থেকে এ দুজনকে র্যাব ও পুলিশ গ্রেফতার করে। রাত ৮টার দিকে র্যাব-১০ এর একটি দল নবাবপুরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গাড়িচালক বিল্লালকে এবং এর মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ডিবি পুলিশ গুলশান ১ নম্বর সার্কেল থেকে বডিগার্ড রহমত আলীকে গ্রেফতার করে। তবে বডিগার্ড হিসেবে যোগদানের সময় রহমত তার প্রকৃত নাম গোপন করে আবুল কালাম আজাদ পরিচয় দেয়।
প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর 'দ্য রেইনট্রি' হোটেলে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল ও অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। সিলেট থেকে গ্রেফতার সাফাত ও সাকিফকে রিমান্ডে নিয়ে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে নাঈম আশরাফকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী।

অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই, তালগোল রেইন ট্রি'র

রাজধানীর বনানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরেছে আবাসিক হোটেল রেইন ট্রি কর্তৃপক্ষ। বেশিরভাগ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি তারা। অনেক ক্ষেত্রে তালগোল পাকিয়ে নিজেদের দ্বিচারিতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। তবে ধর্ষণের ঘটনায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচারও দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে হোটেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঝালকাঠির সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের বড় ছেলে আদনান হারুন। এ সময় নিজেদের সাফাই গেয়ে ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই হোটেল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে দাবি করেন ম্যানেজার রাজা গোলাম মোস্তফা। তবে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এমডি আদনান হারুন অনেকটাই তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। তিনি সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নেরই সদুত্তর দিতে পারেননি। সাংবাদিকরা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, আপনাদের (হোটেল কর্তৃপক্ষ) বরাতে ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীরা হাসতে হাসতে বের হয়ে গেছেন এমন তথ্য জানানো হয়। তবে এটা কতটুকু সত্য? এর জবাবে হোটেলটির এমডি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে তিনি জানেন না। নির্যাতিতদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আশপাশের রুমের লোকজন কিছু শুনতে পায়নি দাবি করে হোটেল কর্তৃপক্ষ, পরবর্তীতে আবার বলা হয় সকল কক্ষ সাউন্ডপ্রুফ- এমন দ্বিচারিক কথার মানে কি? এরও সদুত্তর দিতে পারেননি আদনান হারুন। সর্বোপরি রেইন ট্রির মতো বিশ্বমানের দাবিদার একটি হোটেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা তাদের ব্যর্থতা কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আদনান হারুন বলেন, 'এটা অনগোয়িং ইনভেস্টিগেশন। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না।'
এ সময় সাংবাদিকরা কিছু না বললে কেন সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন এমন প্রশ্ন তুললে সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে যান আদনান হারুন। তবে সংবাদ সম্মেলনে আদনান হারুন দাবি করেন, ‘গত ১৩ মে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর হোটেলে তল্লাশি করে কিছুই পায়নি। কিন্তু পরের দিন ১৪ মে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল মদ পেয়েছে। তারা হোটেলে কীভাবে মদ পেলো? এখন সেটা আমাদেরও প্রশ্ন, আপনাদের বিবেকের কাছে।’ তাহলে শুল্ক গোয়েন্দা আপনাদের ফাঁসানোর জন্য সঙ্গে করে মদ নিয়ে এসেছিল কি না- সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আদনান হারুন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ফ্রাঙ্ক ফরগেট ঘটনার দিন রাতে সস্ত্রীক হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। ওই রাতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিনি হোটেল কার্যক্রমে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখিননি বলে জানিয়েছেন।’ অন্যদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হোটেলের পরিচালক মাহিন হারুন এবং ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাতের বন্ধুত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আসামি সাফাত একদিনই এ হোটেলে এসেছিলেন এবং রাতযাপন করেছিলেন। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মাহিন হারুন কেক নিয়ে গেছে বলে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তা ভুল।'তিনি দাবি করেন, 'জন্মদিনের পার্টিতে হোটেল কর্তৃপক্ষই কমপ্লিমেন্টারি কেক সরবরাহ করে। এতে মাহিন হারুনের ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।' এ সময় হোটেলটির ম্যানেজার ফ্রাঙ্ক ফরগেট ও ইন্টারনাল অপারেশন এক্সিকিউটিভ ফারজান আরা রিমি উপস্থিত ছিলেন।

ঝড়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাছ উপড়ে আহত ২

সোমবার রাতের ঝড় ও ভারী বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত রাতের ঝড়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাছ উপড়ে এক পিকআপের ওপর পড়লে দু'জন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত দুই ব্যক্তির নাম-ঠিকানা জানাতে না পারলেও তারা পিকআপের চালক ও সহকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তেজগাঁও থানার এসআই তোফায়েল আহমেদ যুগান্তরকে জানান, গত রাত ১২টার দিকে তীব্র ঝড়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাছ উপড়ে পড়ে পিকআপের চালক ও তার সহকারী আহত হয়েছেন। এদিকে, সকালের মধ্যে উপড়ে পড়া গাছ এবং ডালপালা সরিয়ে সাধারণের চলাচলের জন্য সড়ক ও ফুটপাতকে উপযোগী করে তোলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা।

১৫ উপজেলায় ব্যাংক বন্ধ আজ

তিনটি উপেজলা পরিষদের উপ-নির্বাচন এবং ১২ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থগিত নির্বাচন উপলক্ষে আজ সংশ্লিষ্ট এলাকার সব ব্যাংকের শাখা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। উপ-নির্বাচনী এলাকাগুলো হচ্ছে- নীলফামারীর সৈয়দপুর, নেত্রকোনার মদন ও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী।
এছাড়া আরও ১২ উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন হচ্ছে। উপজেলাগুলো হল- সাঘাটা, কাহালু, মনোহরদী, মীরপুর, বরুড়া, কালিয়া, হিজলা, উজিরপুর, তালতলী, রামগতি, উল্লাপাড়া ও নাগরপুর। সার্কুলারে বলা হয়, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন উপলক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব স্ব ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকসমূহের নিয়ন্ত্রণকারী কার্যালয়সহ সব শাখা ১৬ মে বন্ধ থাকবে।’

আগামী দু'দিনও ঝড়-বৃষ্টি থাকবে

পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বুধ ও বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতর। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় দমকা হাওয়ার গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। তবে ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে এসময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার হতে পারে। আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যা উত্তর বঙ্গেপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ কারণে ঝড়ো-বৃষ্টি থাকছে আগামী দু'দিনও। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় প্রায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া খুলনায় ৯, রাজশাহীতে ২৬, সিলেটে ৩১, রংপুরে ৩, চট্টগ্রামে ২৫ ও কুমিল্লায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির মাত্রা ছিল বেশি। টাঙ্গাইলে ৭০ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ৫৭, মাদারীপুরে ৪৪, গোপালগঞ্জে ৩৮, সন্দ্বীপে ৪১ ও চাঁদপুরে মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, আজ সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এর আগে সোমবার দেয়া আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছিল আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, খুলনা বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

যৌতুকের জন্য লাশ হলেন মনিষা

২০ বছরের তরুণী ফাতেমা তুজ জোহুরা মনিষা লালমাটিয়া কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। সেনাবাহিনীর এক মেজরের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ের কথাবার্তা চলছিল তার। এর আগে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক গুলশান শাখার কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জমান তারেকের সঙ্গে বিয়ের আলোচনা হয়। কিন্তু মনিষার পরিবার রাজি হয়নি। এ কারণে ওই বিয়ে হয়নি। কিন্তু মেজরের সঙ্গে যখন মনিষার বিয়ে পাকাপাকি, তখন মনিষাকে ফোন করে নানা প্রলোভন দেখায় তারেক। তাই মনিষা মেজরের সঙ্গে বিয়েতে রাজি হননি। একপর্যায়ে গত বছরের ২১ জানুয়ারি ব্যাংকার তারেকের সঙ্গেই মনিষার বিয়ে হয়। কিন্তু এর ১৬ মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে লাশ হয়ে ফিরেন মনিষা। রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার এ গৃহবধূর স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী তারেকই তাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। ১০ লাখ টাকা ও একটি প্রাইভেট কার যৌতুকের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন তিনি। মনিষার ওপর চলছিল অব্যাহত নির্যাতন। ১ মে তাকে দুই লাখ টাকা দেয়াও হয়।
কিন্তু পুরো টাকা না দেয়ায় ৫ মে মনিষাকে হত্যা করা হয়েছে। মনিষার বাবার দাবি, তার মেয়ের ঘাতকরা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাল্টে ফেলার চেষ্টা করছেন। একই কারণে আসামিদের গ্রেফতারেও আগ্রহ নেই পুলিশের। এদিকে মনিষার লাশ উদ্ধারের পর ১০ দিন ধরে পলাতক তার স্বামী তারেক, তারেকের বাবা মো. আখতারুজ্জামান, মা নাজমিন জামান এবং ভাই ওয়ালিদ। হাসপাতালে লাশ রেখেই তারা লাপাত্তা হয়ে যান। এ চারজনের নামে ৬ মে মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই কবির হোসেন যুগান্তরকে জানান, ঘটনার পর প্রথমে হাসপাতালে তারেক ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে উল্লেখ করে। পরে মনিষাকে মৃত ঘোষণার পর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় তারা। এ থেকে মনে হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তিনি জানান, পলাতক থাকায় আসামিদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তবে তাদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। প্রযুক্তির পাশপাশি মেন্যুয়াল পদ্ধতি কাজে লাগানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কে প্রভাবশালী, আর কে প্রভাবশালী নয়, তা দেখার দায়িত্ব আমার না। আমি দেখব আসামি। আসামিকে পেলেই গ্রেফতার করা হবে। আসামি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়েছি।’
মনিষার বাবা মোস্তফা কামাল বলেন, তারেকের মামা দেওয়ান মো. শামীম ঢাকা উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ক্ষেত্রে শামীম প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। আসামিরা শামীমের ছত্রছায়ায় আছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। মোস্তফা কামাল জানান, বিয়ের কাবিনের পর তারেককে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ডায়মন্ডের আংটি এবং ঘড়িসহ অন্যান্য আসবাবপত্র দেয়া হয়। এর কিছুদিন পর থেকেই তারেক ১০ লাখ টাকা ও একটি এফ প্রিমিও প্রাইভেট কার যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। ঘটনার ১০ দিন আগে তারেক এই বলে হুমকি দেন, যৌতুকের টাকা না দিলে মনিষাকে মেরে ফেলা হবে। মেয়ের সংসার ও সুখের কথা চিন্তা করে তাকে ১ মে দুই লাখ টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা দ্রুত দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু দুই লাখ টাকা নেয়ার চার দিনের মধ্যে তার মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করে তারেক। তিনি আরও জানান, ৫ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে তারেকের বাবা আখতারুজ্জামান তাকে ফোন করে জানায়, মনিষা অসুস্থ, তাকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, তার মেয়ে কথা বলছে না। পরে দ্রুত তাকে টঙ্গী হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রোগী মারা গেছে। এ কথা জানার পর তারেক ও তার পরিবার হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টিকে এখন আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চলছে বলে মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রণয় ভূষণ দাস যুগান্তরকে বলেন, একটা ঘটনা ঘটলে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসতেই পারে। এসব ওভারকাম করেই চাকরি করতে হয়। যত চাপই আসুক না কেন, ঘটনা যা ঘটেছে রিপোর্টে তাই উল্লেখ থাকবে। আগামী সপ্তাহেই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
‘রিপোর্টে যদি কোনো ভুল হয় তবে তা হবে আমার জ্ঞানের অভাবে। কোনো চাপ বা প্রলোভন আমাকে টলাতে পারবে না।’ এদিকে তারেক, তার বাবা, মা ও ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তারেকের মামা ঢাকা উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মো. শামীম জানান, যেহেতু একটি ঘটনা ঘটেছে তাই সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা অনেক কথাই বলবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ময়নাতন্তের রিপোর্ট পাল্টানো যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে না। তার দাবি, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো ছেলে তারেক নয়। যেহেতু মামলা হয়েছে তাই পরিস্থিতি তারেকের পরিবারের সদস্যদের বিপক্ষে গেছে। এ কারণে তারা প্রকাশ্যে থাকছেন না। ঘটনার দুই-তিন দিন পর পর্যন্ত তারেকের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল উল্লেখ করে দেওয়ান মো. শামীম বলেন, ওই রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তারেকের সঙ্গে মনিষার ঝগড়া হয়েছিল। পরে মনিষা বাথরুমে চলে যায়। দীর্ঘ সময়েও সে বের না হওয়ায় তারেক বাথরুমে গিয়ে দেখে, গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মনিষা ঝুলছে। পরে তারেকের ভাই এবং মা-বাবার সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালে সাংবাদিক আসায় তারেক ও তার পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়েছিল। এ কারণে তারা হাসপাতাল থেকে চলে যায়।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় বাংলাদেশের উদ্বেগ

উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।
এই বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, বাংলাদেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ ওই অঞ্চলে এবং তার বাইরে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানায়।

জঙ্গি হামলায় নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মীর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেবে পুলিশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাবাসপুরের জঙ্গি হামলায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিনের মৃত্যু এবং চার পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনা নিছক ‘দুর্ভাগ্য’ বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্য দিয়েই ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করা হয়। জঙ্গি হামলায় হতাহতের ঘটনা নিছক ‘দুর্ভাগ্য’ ও ‘অপারেশনাল দুর্ঘটনা’ ছাড়া আর কিছু নয়। ফায়ারম্যান মতিনের মৃত্যুতে পুলিশের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নিহত মতিনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। ঘটনার চার দিন পর রোববার রাতে জেলা পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁঞা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন।

বাংলাদেশকে ৫০ টন খেজুর দিল সৌদি সরকার

আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশের গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫০ টন খেজুর দিয়েছে সৌদি সরকার। সোমবার সচিবালয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামালের কাছে খেজুর হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে আসা সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের প্রধান আবদুল আজিজ আল মানিয়ার। এ সময় বাংলাদেশে সৌদি ধর্মবিষয়ক কর্মকর্তা ড. মাহদি ধাফার আল মুগিবাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। উভয়পক্ষ এ সময় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধের কথা বলেন। বিশেষত হজ পালন ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সৌদি আরবের আন্তরিকতার এ সময় প্রশংসা করা হয়। আগামী দিনেও ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে মতবিনিময়কালে আলোচিত হয়।

ধর্ষিতা দুই তরুণীকে জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানো হয়

জন্মদিনের পার্টিতে দুই তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি দুই ধর্ষক সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম)। ধর্ষণের পর গর্ভধারণ রোধে দুই তরুণীকে সেদিন জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ায় তারা। ধর্ষিত দুই তরুণীর এক চিকিৎসক বন্ধু সেই বড়ি খাওয়ার জন্য নিষেধ করে। এ কারণে সেই বন্ধুকে মারধর করে ইয়াবা খেতে বলে। পরে সেই ইয়াবা খাওয়ার ভিডিও ধারণ করে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল। তারপর সাফাত ও নাঈম বলে, ‘এই ঘটনা যদি কাউকে বলিস, তবে ইয়াবার মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেব। তোদের ইয়াবাখোর বানিয়ে দেব।’ জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানোর পরও দুই তরুণীকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। যে দুটি কক্ষে দুই তরুণীকে সাফাত ও নাঈম ধর্ষণ করে তার মাঝখানে একটি ফলস পার্টিশন ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে বিল্লাল ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে। বনানীর দি রেইনট্রি হোটেলে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে ২৮ মার্চ রাতে দুই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর ভয়াবহ সেই রাতের ঘটনার এমন বর্ণনা দিয়েছে ধর্ষক সাফাতের ব্যক্তিগত গাড়িচালক বিল্লাল। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় পুরান ঢাকার নবাবপুর থেকে র‌্যাব-১০ এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। পরে রাত ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র‌্যাব। সেদিন দি রেইনট্রি হোটেলে যা ঘটেছিল পুরো ঘটনা তুলে ধরেন র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। সোমবার রাতে ডিবি পুলিশ গুলশান ১ নম্বর সার্কেল থেকে ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি সাফাতের বডিগার্ড রহমত আলীকে গ্রেফতার করে। তবে বডিগার্ড হিসেবে যোগদানের সময় তার নাম গোপন করেছিল। সে সময় রহমত তার প্রকৃত নাম গোপন করে আবুুল কালাম আজাদ পরিচয়ে কাজে যোগ দেয়। গত রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম। ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফ সিলেটের যে কোনো সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। গত কয়েক দিনে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দারা জেনেছে, সর্বশেষ তার অবস্থান ছিল সিলেট শহরের জালালাবাদ এলাকায়। এর পর থেকেই সব ধরনের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিম। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনার সময় ধর্ষিত দুই তরুণীর দুই বন্ধু তাদের সঙ্গে ছিল। তাদের মধ্যে শাহরিয়ার নামে একজন ছিল চিকিৎসক। সাফাত ও নাঈম দুই তরুণীকে ধর্ষণের পর জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানোর দায়িত্ব দেয় শাহরিয়ারকে। শাহরিয়ার এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে ইয়াবা খেতে বাধ্য করে তারা। পরে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ধারণ করে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল। এ ঘটনা যদি বাইরে প্রকাশ করে তবে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ারও ভয় দেখানো হয় শাহরিয়ারকে। সেই ভিডিও বিল্লালের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছে বিল্লাল। তবে সেই ভিডিও তার মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। তিনি বলেন, বিল্লালের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভিডিও উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল সেদিনের ঘটনার পুরো বর্ণনা দিয়েছে। সে র‌্যাবকে বলেছে, ঘটনার দিন সাফাতকে নিয়ে সাড়ে ৪টার দিকে দি রেইনট্রি হোটেলে যায়। হোটেলে তাকে রেখে বনানীর আগোরার সামনে থেকে সাফাতের এক মেয়ে বন্ধুকে গাড়িতে উঠায়। তাকে নিয়ে বনানীর ১১ নম্বর যায়। সেখান থেকে সাফাতের আরও এক মেয়ে বন্ধুকে গাড়িতে উঠায় বিল্লাল। দু’জনকে নিয়ে সাড়ে ৬টার দিকে হোটেলে ফেরে সে। সেখানে তখন নাঈমও অবস্থান করছিল। দুই মেয়েকে রেখে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নিচে সে অবস্থান করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশান থেকে ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে নিয়ে হোটেলে যায় বিল্লাল। রাত ১০টার দিকে সাফাতের দুই বান্ধবীকে নিয়ে সে হোটেল ত্যাগ করে। পরে রাত ৪টার দিকে আবার হোটেলে যায়। সাফাত তাকে দুই কক্ষের ফলস পার্টিশন আছে সেখানে থেকে ভিডিও করতে বলে। এ সময় সে সেখান থেকে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করে। র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর সাফাতসহ সবাই ঢাকাতেই ছিল। মামলা হওয়ার পর তারা মাওনা হয়ে সিলেটে যায়।
সেখানে একেকজন একেকটি রিসোর্টে অবস্থান নেয়। বিল্লাল সিলেট শহরের উপকণ্ঠের একটি রিসোর্টে ছিল। সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু গ্রেফতারের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর আর কারও সঙ্গে কারো যোগাযোগ হয়নি। বিল্লাল সিলেট থেকে ছাতক যায় শুক্রবার। ছাতকে গিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে রোববার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে ঢাকায় আসে। নবাবপুরে একটি বোর্ডিংয়ে সুজন নামে ওঠে। ধর্ষণের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা সাফাত আহমেদ তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বলেছেন, সিলেট যাওয়ার পর তার সঙ্গে থাকা বন্ধু নাঈম, গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদকে অন্য কোথাও আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি (সাফাত)। সাফাত গোয়েন্দাদের বলেছেন, এ সময় নাঈম সবাইকে একসঙ্গে সিলেটের কোনো সীমান্ত দিয়ে ভারত চলে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সাফাত এতে রাজি হয়নি। এর পরই তারা যে যার মতো আলাদা হয়ে যায়। সাফাতের দেয়া এ তথ্যে গোয়েন্দারাও ধারণা করছেন, নাঈম অবৈধপথে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে। শিল্পপতি কিংবা বড় ব্যবসায়ী না হলেও কেন সার্বক্ষণিক সশস্ত্র দেহরক্ষী সঙ্গে রাখতেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাফাত গোয়েন্দাদের বলেছেন, সারাদিন বাসায় ঘুমিয়ে কাটলেও সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি ভোররাতে ফিরতেন। তার বেপরোয়া চলাফেরার বিষয়টি পরিবারের সবাই জানতেন। কোনো ধরনের সমস্যা হলে তাকে রক্ষা করতে তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম সার্বক্ষণিক বডিগার্ড দিয়েছিলেন। এর আগে যখন তার ব্যক্তিগত বডিগার্ড ছিল না, তখন মাঝে মধ্যে বাসার নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে বাইরে বের হতেন। তবে পিয়াসার (সাফাতের সাবেক স্ত্রী) সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরুর পর থেকে তার বাবা সার্বক্ষণিক বডিগার্ড নিয়োগ দিয়েছিলেন। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে থাকা ধনীর দুলাল সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফের নানা ‘আবদার’ মেটাতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ধর্ষণ মামলাটির তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, বেশির ভাগ সময় সাফাত পুলিশের সরবরাহ করা খাবার গ্রহণ করছে না। এর বিপরীতে সে দেশের প্রথম শ্রেণীর অভিজাত রেস্টুরেন্ট থেকে ফাস্টফুড আইটেমের খাবার এনে দেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। সাফাতের আবদার মেটাতে বিদেশি ‘ব্ল্যাক’ ব্র্যান্ডের সিগারেটও সরবরাহ করতে হচ্ছে গোয়েন্দাদের। দু-একবার তার এ ‘আবদার’ রক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ হেফাজতে কোনো আসামিকে বাইরের খাবার দেয়ার নিয়ম নেই। তারপরও জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত তথ্য পেতে তারা (পুলিশ) মাঝে মধ্যে আসামির সঙ্গে সখ্য গড়তে এ ধরনের কৌশল গ্রহণ করে থাকেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিন (শনিবার) কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছেন সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রোববার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেও রাজি হন সাফাত। তবে সেদিনের ঘটনাকে কোনোভাবেই ধর্ষণ বলতে রাজি নন সাফাত আহমেদ। বরং সমঝোতার মধ্য দিয়েই সবকিছু হয়েছে বলে দাবি করছেন সাফাত। তবে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে আরও কিছু সময় নিতে চান তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণ মামলা তদন্তে গঠিত সহায়ক কমিটির প্রধান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। এ কারণে তারা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা প্রমাণযোগ্য করার মতো তথ্য পেলেই গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী শুক্রবার এ ব্যাপারে ডিএমপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করা হতে পারে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ রায়।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপর এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে পারে জেনেও সাফাত দেশ ছাড়তে চায়নি। তার ধারণা ছিল, যেভাবেই হোক বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম তাকে ছাড়িয়ে নেবেন। এ ঘটনা নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি কিছুটা বন্ধ হলে নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেবেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত বলেছেন, ওই ঘটনার পর মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হলে বাবার পরামর্শেই সে কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যান। তবে পলাতক অবস্থায় সময় কাটানোর জন্য তিনি সাদমান সাকিফকে তার সঙ্গে রাখেন। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তের এ পর্যায়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণে সেদিন রাতে দুই তরুণীকে সাফাত ও নাঈম ধর্ষণ করেছিল বলে প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর ধর্ষিত দুই তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এ কারণে মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মিলবে না ধরেই তারা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে তদন্তে মেডিকেল রিপোর্টের বাইরে পারিপার্শ্বিক অন্যান্য আলামতের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার দিন দি রেইনট্রি হোটেলের রুমপার্টিতে সাফাতের দুই বান্ধবী যোগ দিয়েছিলেন। অপরদিকে ধর্ষিত দুই তরুণীর দুই বন্ধুকে একটি কক্ষে সারারাত আটকে রাখা হয়েছিল। এই চারজনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী করা হতে পারে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এডিসি আসমা সিদ্দিকা মিলি যুগান্তরকে বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ স্পর্শকাতর এ মামলাটি তদন্ত করছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দি রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে সাফাত আহমেদকে ছয় ও সাদমান সাকিফের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।। দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রিমান্ডে সাফাত ও সাদমানের নানা ‘আবদার’

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে থাকা ধনীর দুলাল সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফের নানা ‘আবদার’ মেটাতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ধর্ষণ মামলাটির তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, বেশির ভাগ সময় সাফাত পুলিশের সরবরাহ করা খাবার গ্রহণ করছে না। এর বিপরীতে সে দেশের প্রথম শ্রেণীর অভিজাত রেস্টুরেন্ট থেকে ফাস্টফুড আইটেমের খাবার এনে দেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। সাফাতের আবদার মেটাতে বিদেশি ‘ব্ল্যাক’ ব্র্যান্ডের সিগারেটও সরবরাহ করতে হচ্ছে গোয়েন্দাদের। দু-একবার তার এ ‘আবদার’ রক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পুলিশ হেফাজতে কোনো আসামিকে বাইরের খাবার দেয়ার নিয়ম নেই। তারপরও জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত তথ্য পেতে তারা (পুলিশ) মাঝে মধ্যে আসামির সঙ্গে সখ্য গড়তে এ ধরনের কৌশল গ্রহণ করে থাকেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিন (শনিবার) কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছেন সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রোববার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেও রাজি হন সাফাত। তবে সেদিনের ঘটনাকে কোনোভাবেই ধর্ষণ বলতে রাজি নন সাফাত আহমেদ।
বরং সমঝোতার মধ্য দিয়েই সবকিছু হয়েছে বলে দাবি করছেন সাফাত। তবে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে আরও কিছু সময় নিতে চান তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণ মামলা তদন্তে গঠিত সহায়ক কমিটির প্রধান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। এ কারণে তারা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা প্রমাণযোগ্য করার মতো তথ্য পেলেই গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী শুক্রবার এ ব্যাপারে ডিএমপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করা হতে পারে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ রায়। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপর এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে পারে জেনেও সাফাত দেশ ছাড়তে চায়নি। তার ধারণা ছিল, যেভাবেই হোক বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম তাকে ছাড়িয়ে নেবেন। এ ঘটনা নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি কিছুটা বন্ধ হলে নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেবেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত বলেছেন, ওই ঘটনার পর মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হলে বাবার পরামর্শেই সে কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যান। তবে পলাতক অবস্থায় সময় কাটানোর জন্য তিনি সাদমান সাকিফকে তার সঙ্গে রাখেন। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তের এ পর্যায়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণে সেদিন রাতে দুই তরুণীকে সাফাত ও নাঈম ধর্ষণ করেছিল বলে প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর ধর্ষিত দুই তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এ কারণে মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মিলবে না ধরেই তারা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ কারণে তদন্তে মেডিকেল রিপোর্টের বাইরে পারিপার্শ্বিক অন্যান্য আলামতের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার দিন দি রেইনট্রি হোটেলের রুমপার্টিতে সাফাতের দুই বান্ধবী যোগ দিয়েছিলেন। অপরদিকে ধর্ষিত দুই তরুণীর দুই বন্ধুকে একটি কক্ষে সারারাত আটকে রাখা হয়েছিল। এই চারজনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী করা হতে পারে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এডিসি আসমা সিদ্দিকা মিলি যুগান্তরকে বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ স্পর্শকাতর এ মামলাটি তদন্ত করছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দি রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণী।  ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে সাফাত আহমেদকে ছয় ও সাদমান সাকিফের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।। দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

‘জঙ্গি আস্তানা’র পাশ থেকে সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার

ঝিনাইদহের সদর উপজেলায় 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগান  থেকে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পাশে আব্দুল ওহাবের বাঁশবাগান থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। বেলা ১১টার দিকে র‌্যাবের খুলনা অফিস থেকে নিজস্ব বোম ডিজপোজাল ইউনিটের চার সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার পোড়াহাটি ধানবাড়িয়া চুয়াডাঙ্গা গ্রামের দু'টি বাড়ি র‌্যাব ঘিরে রাখে। ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মুনির আহমেদ যুগান্তরকে জানান, বাড়ি দু'টির ওপর আগে থেকেই নজর রাখা হচ্ছিল। সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক আছে নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে ঘিরে রাখা হয়। এরপর সকাল ৮টায় সেখানে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এদিকে, দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ, সদর থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকারসহ গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মেঘনায় নৌকাডুবি, ২ জেলে নিহত

লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় দুই জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। মঙ্গলবার সকালে নদী থেকে দুই জেলের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। নিহতরা হলেন, উপজেলার বালুর চর গ্রামের হারুনের ছেলে বাগন আলী (১৫) ও একই এলাকার বাসিন্দা নুর নবী (৪২)। তবে নিখোঁজ মো. হেলালের (৩২) পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। রামগতি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইন উদ্দিন জানান, রাতে মেঘনায় নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে যান চার জেলে। ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের নৌকাটি উল্টে ডুবে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আরেকটি নৌকার জেলেরা একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বাকিদের মধ্যে মঙ্গলবার স্থানীয়রা দু'জনের লাশ উদ্ধার করেন। এক জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্ক

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা শহর রক্ষা বাঁধে আবারো ধস দেখা দিয়েছে। ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ বাঁধ দ্বিতীয় সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ মিটার এলাকা জুড়ে ধসে গেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ৬নং প্যাকেজের চৌহালী সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রসা রোড এলাকায় জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নির্মাণ কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাঁধটি পর পর দু'বার ধসে গেল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
নির্মাণাধীন উপজেলা চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ যুগান্তরকে বলেন, নির্মাণাধীন বাঁধটির ওই এলাকার তলদেশ থেকে মাটি সরে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাঁধের স্লোপে বিছানো সিসি ব্লক ও নিচের জিও ব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি জানান, বর্তমানে ধসে যাওয়া স্থানে মেরামতের কাজ চলছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই বলেও জানান শাহজাহান।

শেরপুরে অপহৃত ভারতীয় নাগরিক উদ্ধার

৬০ লাখ ভারতীয় রুপি মুক্তিপণের দাবিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে অপহৃত ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার আহাম্মদ নগর এলাকা থেকে ওই ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই ভারতীয় নাগরিকের নাম দাবেজ সিয়ান লিয়া(১৭)। তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের নংউইং জেলার মইরাং এলাকার রেজো ডেফাই মাথের ছেলে। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আল আমীন আলম(৩০) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার ভালুয়াকুড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
ঝিনাইগাতী থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, গত ১২ মে ৬০ লাখ রূপি মুক্তিপণের দাবিতে ভারতের সুনামগঞ্জ এলাকা থেকে ওই ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ করে শেরপুর সীমান্তে নিয়ে আসে আলম ও তার এক সহযোগী। এ বিষয়টি ভারতের খাসিয়া হিল জেলার পুলিশ সুপার শেরপুর পুলিশ সুপার মো. রফিকুল হাসান গণিকে জানালে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্রেকিং করে অভিযান শুরু করে। পরে সোমবার রাত ১০টার দিকে ভারতীয় ওই নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। সেইসঙ্গে এ অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশি নাগরিক আলমকে আটক করা হয়। ওসি আরও জানান, এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। অপহরণের অভিযোগে আটক আলমকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। অপরদিকে উদ্ধার হওয়া ওই ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান ওসি।

দুটি বাড়ির একটি নিহত জঙ্গি তুহিনের

ঝিনাইদহের সদর উপজেলায় 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে ঘিরে রাখা দুটি বাড়ির একটি নিহত জঙ্গি নেতা তুহিনের। তুহিন গত ৭ মে জেলার মহেশপুর উপজেলায় একটি বাড়ি ঘিরে অভিযানে সহযোগী আব্দুল্লাহসহ নিহত হয়। আর অন্য বাড়িটির মালিক তুহিনের চাচাতো ভাই প্রান্ত। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে নজরদারির পর মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার পোড়াহাটি ধানবাড়িয়া চুয়াডাঙ্গা গ্রামের বাড়ি দুটি র‌্যাব ঘিরে রাখে। বাড়ি দুটি শহর থেকে ৫ কিলোমিটার এবং র‌্যাব ক্যাম্পের ৫০০ গজের মধ্যে অবস্থিত। ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মুনির আহমেদ যুগান্তরকে এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, বাড়ি দুটির ওপর আগে থেকেই নজর রাখা হচ্ছিল। সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক আছে নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে ঘিরে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই বাড়ি দুটিতে মাটির নিচে বিস্ফোরক পুঁতে রাখা রয়েছে। এর আগে গত ৭ মে ঝিনাইদহের সদর ও মহেশপুর উপজেলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুটি বাড়িতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে মহেশপুরের বাড়িটিতে অভিযানে তুহিন ও আব্দুল্লাহ নামে দুই জঙ্গি নিহত হয়। আর সদর উপজেলার বাড়ি থেকে বিস্ফোরক ও বোমা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত ২১ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনিপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও ওই বাড়ি থেকে ২০ ড্রাম রাসায়নিক দ্রব্য, বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রিক ডিভাইস, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

যুদ্ধাপরাধ মামলায় যশোরের আমজাদ মোল্লা গ্রেফতার

যুদ্ধাপরাধের মামলায় যশোরের বাঘারপাড়ার আমজাদ মোল্লা গ্রেফতার হয়েছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে। আমজাদ মোল্লা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের মরহুম সোবহান মোল্লার ছেলে। আমজাদ মোল্লাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মতিয়ার রহমান। মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালি গ্রামের (যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম) রজব আলী বিশ্বাসের ছেলে এ মামলার বাদী খোকন বিশ্বাস। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মাগুরার সীমাখালি বাজারের পাশে আমবাগানের দাঁড়িয়ে ছিলেন আসামি আমজাদ 'রাজাকারের' নেতৃত্বে ১০/১২জন। 
তারা মামলার বাদীর পিতা রজব আলী বিশ্বাসকে অপহরণ করে যশোরের বাঘারপাড়া থানার চাঁদপুর গ্রামে ইফাজ মোল্লার আম বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে বাদীর পিতাকে গামছা দিয়ে চোখ ও দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে বাগানের দক্ষিণ পাশে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। বাদী ও সাক্ষীগণ বিকাল ৫টার দিকে বাদীর পিতার লাশ গরুর গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে এনে কবর দেন। এ ঘটনায় বাদী মাগুরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। পরে মাগুরার আদালত গত ৬ এপ্রিল মামলাটি 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে' পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাদী খোকন বিশ্বাস জানান, মামলায় তারা আমজাদ মোল্লা ও কেরামত মোল্লা, ওহাব এবং ফসিয়ার মোল্লাকে আসামি করেছেন। তবে আমজাদ গ্রেফতার হলেও। অন্যরা এখনও গ্রেফতার হয়নি।

অভিযুক্ত সাফাতকে নিয়ে গোলাপগঞ্জে তোলপাড়

বনানীতে ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমদ সেলিমের পুত্র সাফাত আহমদকে নিয়ে সিলেটের গোলাপগঞ্জে চলছে তোলপাড়। ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারের পর তার মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার সর্বত্রই তাকে ঘিরে এখন নানা প্রশ্ন। কে সেই সাফাত? কী তার আসল পরিচয়? এমন প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। আপন জুয়েলার্সের মালিকের বাড়ি এ উপজেলায় হলেও তা অনেকের কাছে দীর্ঘ দিন অজানা ছিল। এমনকি তার নিজ এলাকা উপজেলার ঢাকাদক্ষিণের নগর গ্রামের অনেকেই তাদের ভালো মতো চেনে না। স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার মানুষকে তারা সব সময় এড়িয়ে চলত। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসা-যাওয়া করলেও লোকজন টের পেত না। কিন্তু হঠাৎ করেই গত পাঁচ-ছয় বছর এলাকার লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয় সাফাত ও পরিবারের লোকজন। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই বলছেন,
হঠাৎ করে এলাকার লোকদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তারা আপনজন হওয়ার চেষ্টা করে। অসহায় লোকদের মধ্যে দান-খয়রাত করার কারণে তারা মনে করতেন সাফাত ভালো মানুষ। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনায় সাফাত জড়িত থাকা ও তার বাবা দিলদার আহমদ সেলিম ঘটনার পর মিডিয়ায় ‘জোয়ান পোলা একটু আধটুতো করবই, আমিও করি’ এমন বক্তব্য দেয়ার পর তাদের মুখোশ খুলে যায়। বর্তমানে এলাকার লোকজন শুধু ‘ছি... ছি...’ করছে এ ঘটনায়। এলাকার কেউ তাদের এ অপকর্ম মেনে নিতে পারছে না। লোকজন বলছে, ঘটনা প্রমাণিত হলে তাদের এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। এদের কারণে গোটা এলাকা লজ্জায় পড়েছে- এমন মন্তব্য অনেকেরই। তাদের দাবি দোষীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়। জানা গেছে, ধর্ষণের ন্যক্কারজনক ঘটনার পর দেশের অন্য এলাকার লোকজনদের মতো অভিযুক্ত সাফাত আহমদের গ্রামের লোকজনও হতবাক, বিস্মিত। কেউ প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তাদের অন্তরে সাফাতের পরিবারের প্রতি বাড়ছে কেবল ঘৃণা ও ক্ষোভ।

বালিশ চাপা দিয়ে মায়ের গলায় ছুরি চালায় ছেলে

নবীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ আমিনা বেগমকে গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করলেন ঘাতক ছেলে আমির আহমদ। রোববার হবিগঞ্জ আমল গ্রহণকারী আদালত-৫ এর বিচারক কাউছার আলমের কাছে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে ছেলে। মা দিবসে গর্ভধারিণী মা হত্যার স্বীকারোক্তি প্রদান করলেন এসএসসি পাস করা মাদ্রাসার ছাত্র ছেলে। তার স্বীকারোক্তিতে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় আমির। এর মধ্যে সম্পত্তি ও পরকীয়া অন্যতম কারণ। রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজিত চক্রবর্ত্তী গ্রেফতারকৃত ছেলে আমির আহমদকে আদালতে হাজির করলে সে স্বেচ্ছায় তার মা’কে হত্যার বর্ণনা দেয়। সে জানায়, তার মা নিহত আমিনা বেগম পরকীয়ায় আসক্ত। এছাড়া বাড়িঘরসহ সম্পত্তি তার মায়ের নামে থাকায় ওই সম্পত্তি থেকে সে বঞ্চিত থাকার আশংকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শবেবরাতের রোজার ইফতারের আগে ২০টি ঘুমের ওষুধ রুহআফজা শরবতের সঙ্গে মিশিয়ে ইফতারের সময় তার মাকে খাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মায়ের তন্দ্রাভাব দেখে সে তার শয়নকক্ষে ফিরে আসে। তার ধারণা ছিল ওষুধের কারণে তার মায়ের মৃত্যু ঘটবে। রাত সাড়ে ১১টা।
ছবি দেখে মায়ের খবর নিতে তার ঘরে যায়। গিয়ে দেখে দরজা খোলা, নাকে হাত দিয়ে বুঝতে পারে শ্বাস নিচ্ছেন। ওষুধে মরার সম্ভাবনা নেই ভেবে পরনের ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে আবারও তার ঘরে ফিরে আসে। রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে হাতে ছুরি নিয়ে আবার তার মায়ের ঘরে যায়। প্রথমে বালিশ দিয়ে মুখে চেপে ধরে। এক হাত দিয়ে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধরে অন্য হাত দিয়ে গলায় ছুরি চালায়। এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তার কক্ষে ফিরে আসে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে ছেলে আমির আহমেদ (১৭) বালিশ সরিয়ে মায়ের নিথর দেহ দেখে চিৎকার শুরু করে। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত মরদেহটি দেখতে পায়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত আমিনার স্বামী জাবিদ উল্লাহ ও তার ছেলে আমির আহমেদকে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে আমির মাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছিল। তার দেয়া তথ্যমতে, পুলিশের এসআই সুজিত চক্রবর্ত্তী রান্না ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেন। রোববার পুলিশ ঘাতক ছেলেকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

ঝিনাইদহে দুটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব

ঝিনাইদহের সদর উপজেলায় 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে দু'টি বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার পোড়াহাটি ধানবাড়িয়া চুয়াডাঙ্গা গ্রামের বাড়ি দু'টি র‌্যাব ঘিরে রাখে। বাড়ি দু'টি শহর থেকে ৫ কিলোমিটার এবং র‌্যাব ক্যাম্পের ৫০০ গজের মধ্যে অবস্থিত। এর মধ্যে একটি বাড়ির মালিক ঝিনাইদহের মহেশপুরের জঙ্গি আস্তানায় নিহত জঙ্গি তুহিনের। অন্যটির মালিক তার চাচাতো ভাই প্রান্ত। বেলা ১১টার পরে র‌্যাবের খুলনা অফিস থেকে নিজস্ব বোমা ডিজপোজাল ইউনিটের ৪ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে। তারা  বেলা ১১ টা ৪০ মিনিটে ঘেরাও করে রাখা বাড়ির পাশে আব্দুল ওহাবের বাশবাগান থেকে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করে। ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মুনির আহমেদ যুগান্তরকে জানান, বাড়ি দু'টির ওপর আগে থেকেই নজর রাখা হচ্ছিল। সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক আছে নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে ঘিরে রাখা হয়। এরপর সকাল ৮টায় সেখানে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই বাড়ি দু'টিতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বিস্ফোরক রয়েছে। তিনি আরও জানান, বাড়ি দু'টিতে জঙ্গি আছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ, সদর থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকারসহ গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, র‌্যাব ছাড়াও বাড়ি ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির আশপাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না। এর আগে গত ৭ মে ঝিনাইদহের সদর ও মহেশপুর উপজেলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দু'টি বাড়িতে অভিযান চালায় আইনশৃংখলা বাহিনী। এর মধ্যে মহেশপুরের বাড়িটিতে অভিযানে তুহিন ও আব্দুল্লাহ নামে দুই জঙ্গি নিহত হয়। আর সদর উপজেলার বাড়ি থেকে বিস্ফোরক ও বোমা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত ২১ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনিপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান চালায় আইনশৃংখলা বাহিনী। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও ওই বাড়ি থেকে ২০ ড্রাম রাসায়নিক দ্রব্য, বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রিক ডিভাইস, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

দোহার ও নবাবগঞ্জের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। উদ্যমী হয়ে কাজ করতে হবে তরুণ প্রজন্মকে। সোমবার দুপুরে ঢাকায় যুগান্তর কার্যালয়ে নবাবগঞ্জের আগলা ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। সালমা ইসলাম বলেন, আধুনিক নবাবগঞ্জ গড়তে চুড়াইনে একটি টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। এটা নির্মাণ হলে শুধু নবাবগঞ্জ নয়, দোহার, শ্রীনগর ও সিরাজদিখানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ পরিবারের সন্তানরা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে পারবে।
এ বিষয়ে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে এসএম মোস্তারীম মিথুন, জনি ও দীপকের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী সালমা ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এ সময় সালমা ইসলাম তাদের তৃণমূলে দলের কাজ করে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। একই দিন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সালমা ইসলাম সাংবাদিকদের তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ বেশি করে পরিবেশনে সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে বলেন তিনি। এ সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইব্রাহীম খলিল ও সাধারণ সম্পাদক আজহারুল হকসহ সব নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সাভারে চালক হত্যায় স্ত্রী আটক

সাভারে একরাম আলী নামের (৩৫) এক ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে সাভারের নামা গেন্ডরা ঘাসমহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত একরাম সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের নিকরাইল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এদিকে, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আলেয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই বাবুল মিয়ার অভিযোগ, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে সকালে ঘাস মহল এলাকায় ভাড়া বাড়িতে একরাম আলীকে পিটিয়ে হত্যা করে তার শ্বশুর আলী হোসেন ও স্ত্রী আলেয়া। পরে লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। সাভার মডেল থানার এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, একরামের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নেশাদ্রব্য খাইয়ে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ

সাভার থেকে অপহরণ করে ধামরাইয়ে নিয়ে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে প্রথম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার ধামরাই উপজেলার কাওয়ালীপাড়া এলাকার একটি লেবু বাগানে এ ঘটনা ঘটে। পরে ধর্ষক বৌদ্দকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। আর আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ধর্ষণের শিকার শিশুটির বড় বোন জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা সাভারের রেডিওকলোনী এলাকায় একটি টিনসেড বাড়িতে থাকেন।
তার ছোট বোন এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। সোমবার বিকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে প্রতিবেশী যুবক বৌদ্দ কৌশলে একটি গাড়িতে করে ধামরাই নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে স্থানীয় লেবু বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে বৌদ্দ। এ সময় শিশুটির গোঙানির শব্দ শুনে স্থানীয়রা লেবু ক্ষেতে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আর ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে ধামরাই থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসরাত জাহান উম্মান বলেন, শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ  বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

ঝড়ে বিলবোর্ড ভেঙে দোকানি নিহত

বগুড়া শহরতলীতে বিলবোর্ড ভেঙে আবদুস সাত্তার নামে (৬০) এক পান দোকানি নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে শহরতলীর চার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আবদুস সাত্তার শহরতলীর ছোট কুমিড়া গ্রামের বাসিন্দা। সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসলাম আলী ও প্রত্যক্ষদর্শী কাহালুর শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, ঝড়ের সময় শহরতলীর চার মাথা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পূর্বপাশে একটি বড় বিলবোর্ড ভেঙে নিচে পানের দোকানের ওপর পড়ে। এতে ওই দোকানি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পরে স্থানীয়রা তার লাশ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এদিকে, জেলার শাজাহানপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেতের ধান, আমসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গাছ উপড়ে যাওয়ায় অনেক রাস্তায় যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমে গেছে। নেই বিদ্যুৎ। বগুড়া আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা ২ মিনিটে বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ৩ মিনিট পর্যন্ত ঘণ্টায় ৯৮ কিলোমিটার বেগে ঝড়ে বয়ে যায়। রাত ৮টা ২ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাত ১০টার দিকে আবার হঠাৎ করে প্রচণ্ড বেগে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয় বলে জানান তিনি।

৯ বছর পর লিখিত পরীক্ষার ডাক পেলেন টুটুল!

চাকরিতে আবেদনের নয় বছর পর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য চিঠি পেয়েছেন চান্দিনা উপজেলার টুটুল কুমার ঘোষ। যদিও বর্তমানে তার চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে গেছে। চান্দিনা উপজেলার ছয়কোট গ্রামের টুটুল কুমার ঘোষের নামে মুন্সীগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়েছে লিখিত পরীক্ষার এ চিঠি। জানা যায়, ছয়কোট গ্রামের বেকার যুবক টুটুল কুমার ঘোষ সরকারি চাকরির জন্য ২০০৮ সালে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে মুন্সীগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের বেঞ্চ সহকারী পদে আবেদন করেন। দীর্ঘদিন তিনি ওই পদে চাকরিতে ডাক পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।
এরই মধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শেষ হওয়ায় তিনি বিষয়টি ভুলে যান। কিন্তু রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিখিত পরীক্ষার জন্য তার কাছে সোমবার সকালে একটি চিঠি আসে। নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আগামী ২৬/০৫/২০১৭ খ্রি. তারিখ শুক্রবার সকাল ১০:৩০ ঘটিকার সময় মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’ এ প্রসঙ্গে দুই সন্তানের জনক টুটুল কুমার ঘোষ আক্ষেপ করে বলেন, ‘এটা একটা তামাশা। ব্যাংক ড্রাফট ও অন্যান্য কাগজপত্রসহ আবেদন করেছিলাম বেকারত্ব ঘোচাতে। আমার চাকরির বয়স তো অনেক আগেই চলে গেছে। এখন এটা দিয়ে আমি কী করব? আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো করলেও বয়সের কারণে আমাকে চাকরি দেয়ার মতো অবস্থা কি কর্তৃপক্ষের আছে? এটা তো কর্তৃপক্ষের রসিকতা ছাড়া আর কিছুই না।’

সড়ক দুর্ঘটনায় ডিজিএফআই সদস্য নিহত


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় তুহিনুজ্জামান (৩২) নামে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকালে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোগদ নামকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তুহিন বাংলদেশ বিমানবাহিনীর একজন কর্পোরাল এবং ডিজিএফআই’র সিলেট শাখায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাইঝপাড়া এলাকার দেলোয়ারের ছেলে। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির জানান, বিকালে সিলেট থেকে মোটর সাইকেলযোগে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তুহিন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার গোগদ নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়ি তুহিনের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। তবে ঠিক কোন গাড়ি তাকে চাপা দিয়েছে সেটি জানা যায়নি। পরে তুহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকায় রেফার্ড করেন। এরপর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়ার পথে রাতে নরসিংদীতে মারা যান তুহিন। পরে হেলিকপ্টারযোগে তুহিনের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)।

সম্পূরক শুল্ক বসছে ৮শ’ পণ্যে

আসন্ন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় আটশ’ পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বসছে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষার জন্যই সম্পূরক শুল্ক আরোপিত পণ্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন ভ্যাট আইনে ১৭০টি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে দেশীয় শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা আছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পণ্যের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়ানো হচ্ছে। করমুক্ত আয় সীমা বাড়ছে। নির্দেশ দেয়া হয়েছে নতুন ভ্যাট আইন সংশোধনের। রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৪ ঘণ্টাব্যাপী বাজেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাট ইস্যুতে আলোচনা শেষে এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এর ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে এনবিআর। ওই রাতের বৈঠকে ভ্যাট হার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২৪ মে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন অর্থবছর থেকেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে সব শ্রেণী-পেশার জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে নতুন আইনে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট হার রাখা হবে, নাকি সেটি কমানো হবে- সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
২৪ মে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈঠকে এনবিআর থেকে ভ্যাট হার কমানোর একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে ভ্যাট কমালে কত টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে তা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। এনবিআর থেকে বলা হয়েছে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের আওতায় গ্যাস, সিগারেট, মোবাইল অপারেট, সিমেন্ট খাত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করছে। এ ধরনের বড় খাত থেকে মোট ভ্যাটের ৬০ শতাংশ আদায় করা হয়। এ হার ১ শতাংশ কমালে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কম আদায় হবে। তাছাড়া রেয়াত নিতে অসামর্থ্য সেবা খাত যেমন জুয়েলারি ও কম্পিউটারের মতো সেবার ওপর ভ্যাট হারের বিরূপ প্রভাবের কথা জানান। ১৫ শতাংশ সমহারে (ফ্ল্যাট রেট) ভ্যাট বহাল রেখে এসব ক্ষেত্রে ছাড় দিলে দেড় থেকে ২ হাজার কোটি টাকার কম রাজস্ব আদায় হবে। সে ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখার জন্য বড় খাতের ওপর ১৫ শতাংশ এবং রেয়াত নিতে অসামর্থ্য খাতের জন্য আলাদা ভ্যাট রেট নির্ধারণের বিষয় আলোচনা হয়। তবে এ বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ২৪ মে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেই বিষয়টি নিয়ে আবার বৈঠকে বসতে পারেন। তখন ভ্যাট হারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। যে ধরনের সিদ্ধান্ত হবে তাতে নতুন ভ্যাট আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সেদিক বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাট আইন সংশোধনের নির্দেশ দেন। রোববারের বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সোমবার সচিবালয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘ভ্যাট হার নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী মহল খুশি হবেন বলে আশা করছি। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কোনো ব্যবসায়ীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে না। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, সবদিক বিবেচনা করেই ভ্যাট আইন কার্যকর করা হবে। আমরা (সরকার) মনে করছি, এতে সন্তুষ্ট হবেন ব্যবসায়ীরা। কারণ ভ্যাটের আওতায় কিছু নতুন যোগ হবে। এতে ব্যবসায়ীদের অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর- এই তিনটি বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
এটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এসবের প্রতিফলন থাকবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এনবিআর থেকে ভ্যাট হার নিয়ে আলাদা প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। একক হারের পরিবর্তে একাধিক হার হলে রাজস্ব আদায় হ্রাস-বৃদ্ধির প্রভাব হিসাব-নিকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা। ১৫ শতাংশের পরিবর্তে বেশ কয়েকটি পণ্য ও সেবার জন্য আলাদা ভ্যাট হারও করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর অনুষ্ঠেয় বৈঠকেই সব পরিষ্কার হবে। সূত্র জানায়, রোববারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামনে নির্বাচন আসছে। এ মুহূর্তে ভ্যাট নিয়ে কাউকে কষ্ট দেয়া যাবে না। ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিক বিবেচনা করে ভ্যাট হার নির্ধারণ করতে বলেন। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীকে একটি গাইডলাইন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতাভুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ সময় এনবিআর থেকে বলা হয়, এ খাতে একশ’ কোটি টাকার কম রাজস্ব আদায় হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী টার্নওভার সীমা বাড়ানো হলেও রাজস্ব আয়ে খুব প্রভাব পড়বে না। তখন প্রধানমন্ত্রী টার্নওভার বাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই-এনবিআর যৌথ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। এছাড়া দেশীয় শিল্প সুরক্ষার ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশীয় শিল্পের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এনবিআরকে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর নতুন ভ্যাট আইনের দ্বিতীয় তফসিল সংশোধন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের সংখ্যা ১৭০টি থেকে বাড়িয়ে ৮০০-র কাছাকাছি নেয়ার কাজ শুরু করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্যাট হার ছাড়া অন্যান্য ইস্যু নিয়ে সোমবার থেকেই কাজ শুরু করেছে এনবিআর।
নতুন আইন-বিধি পর্যালোচনা করে এসআরও’র খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আগে সেটি চূড়ান্ত করে তাদের সম্মতি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে পাঠানো হবে। অন্যদিকে আয়কর খাতে করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভ্যাটের প্রভাবে যেন কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পবান্ধব রাজস্ব নীতি গ্রহণের জন্য এনবিআর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। শিল্পের কাঁচামাল ও মেশিনারি আমদানিতে শুল্ক হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিল্পায়ন চাচ্ছে। তাই আগামী বাজেটের রাজস্ব নীতি শিল্পবান্ধব হতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- অর্থ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল, প্রথম সচিব শব্বির আহমেদ, ভ্যাট নীতির সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রথম সচিব ফায়জুর রহমান ও শুল্ক নীতির সদস্য লুৎফর রহমান, প্রথম সচিব ফখরুল আলম প্রমুখ। ভ্যাট আইন সংশোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, দেশের বড় বড় কোম্পানি অনলাইনের আওতায় ভ্যাট দিচ্ছে। ভ্যাট থেকে আসা মোট রাজস্বে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বড় কোম্পানিগুলো দিয়ে থাকে। এখন ভ্যাট আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে হার ১৫ শতাংশের কথা বলা হচ্ছে। আমরা সর্বজনীনভাবে এটি ৭ শতাংশ প্রস্তাব করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ হার কোনোভাবেই ১০ শতাংশের উপরে যাবে না। আর ছোটদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতির সীমা দেড় কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আশা করছি সরকার সেটিও বিবেচনায় নেবে।

বিএনপি কি সত্যিই অহিংসা-ধর্মে দীক্ষা নিয়েছে?

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তার দল ক্ষমতায় গেলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে তার একটি রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। এটির নামে ‘ভিশন ২০৩০’। বাংলাদেশে নির্বাচন এখনও দূরে আছে। সুতরাং এখনই ভিশন-২০৩০ ঘোষিত হওয়ায় বিএনপিকে অভিনন্দন জানাতে হয়। মনে হয়, আগামী সাধারণ নির্বাচনে তাদের যোগ দেয়া সুনিশ্চিত। তাদের মনমতো নির্বাচন না হলে তা বর্জনের এখন যত হুমকি-ধমকি তারা দেন না কেন, আখেরে তারা নির্বাচনে যোগ দেবেন- এবং তা হাসিনা সরকারের ব্যবস্থাপনাতেই। ‘ভিশন-২০৩০’ তারই আগাম ঘোষণা। পাঠকদের কাছে সবিনয়ে স্বীকার করি, ভিশন-২০৩০-এর ফিরিস্তি এত লম্বা যে, তার সবটা এখনও পড়ে উঠতে পারিনি। যেটুকু পড়েছি, তাতে মনে হয়নি, এটা দলের পণ্ডিতদের গবেষণাপ্রসূত কোনো কর্মসূচি। আওয়ামী লীগ এবং দেশের কোনো কোনো বাম দলের কর্মসূচি ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোই ঢেলে সাজানো হয়েছে। তা হোক, তাতে কিছু আপত্তি ছিল না, অপরকে অনুসরণ করে ভালো কাজ করার সদিচ্ছা প্রকাশ করা হলে সেটাকেও অভিনন্দন জানানো যায়। যদি প্রতিশ্রুতিগুলো আন্তরিকতাপ্রসূত হয়। বিএনপির এই ‘মহাভারতটি’ আগে পড়ে শেষ করি। তারপর তা নিয়ে বিশদ আলোচনার ইচ্ছা আছে। এ বিশাল কর্মসূচির কতটা বিএনপির নিজের এবং কতটা অপরের কাছ থেকে ধার করা এবং এগুলোর বাস্তবায়ন কেন বিএনপির দ্বারা সম্ভব নয়, তা নিয়ে আলোচনা করব ভবিষ্যতে। রাজনীতিতে election promise বা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বলে একটি কথা আছে।
এই প্রতিশ্রুতি কখনও পূরণ করতে হয় না। বিএনপির নির্বাচনী কর্মসূচির ওপর একবার চোখ বুলিয়ে মনে হয়েছে এগুলো সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, যা ক্ষমতায় গেলে বা না গেলেও পূরণ করতে হবে না। আজ তাই ‘ভিশন-২০৩০’ নিয়ে আলোচনা না করে বিএনপির নির্বাচন প্রতিশ্রুতি পালনে অতীতের রেকর্ড কী বলে, সেদিকে একটু আলোকপাত করি। আমার একটি ধারণা, খালেদা জিয়া যে বর্তমানে হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছেন না, তার একটি বড় কারণ ২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানকে হাতের মুঠোয় নিয়ে, বিদেশী কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ ডেকে এনে এবং মিডিয়া ক্যুর সাহায্যে বিএনপি সেবার যেভাবে নির্বাচনে জিতেছিল, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এবার বিএনপির পন্থাতেই বিএনপিকে হটাবে বলে তারা হয়তো ভয় করছে। তারা বিশ্বাস করতে পারছে না, আওয়ামী লীগ তা করবে না। বিএনপির এই সন্দেহের কারণ, অপরাধ যারা করে তারা সর্বত্র স্বীয় অপরাধের ছায়া দেখতে পায়, বিএনপি তা এখন দেখছে। বিএনপির ভিশন এবং মিশনের কখনও মিল থাকতে দেখা গেছে কি? যা দেখা গেছে তা পরস্পরের বিপরীত। ২০০১ সালের নির্বাচনের কথাই ধরা যাক। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচন শেষে ক্ষমতায় যাওয়ার পর খালেদা জিয়ার কথা (ভিশন) ও কাজের (মিশন) মধ্যে কোনো সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে কি? তিনি ক্ষমতায় বসেই পরবর্তী একশ’ দিনের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এই একশ’ দিনের কর্মসূচিটি তৈরি করে দিয়েছিলেন আমার বন্ধু শফিক রেহমান। তখনই আমার মনে হয়েছিল, কাককে ময়ূরপুচ্ছ পরানো হয়েছে। এই একশ’ দিনের কর্মসূচিতে বলা হয়েছিল, সরকার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রেখে দেশ পরিচালনা করবে। বাস্তবে দেখা গেল, প্রথমেই মুক্তিযুদ্ধের শত্রু এবং পাকিস্তানের গণহত্যার সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদে বসানো হয়েছে এবং স্বাধীনতার শত্রুরা মন্ত্রী হয়ে গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে রাজপথে সগর্বে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যে মতিউর রহমান নিজামী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার পতাকা পা দিয়ে মাড়িয়েছিলেন, তার গাড়িতেই স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় পতাকাটি উড়ছে।
নারীর সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির; দেখা গেল ক্ষমতায় বসার আগেই সেই প্রতিশ্রুতি নির্মমভাবে লংঘিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার অজুহাত তুলে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে চলেছে হিংস্র হামলা। পূর্ণিমা শীলসহ অসংখ্য সধবা, বিধবা ও কুমারী নারীর ওপর চলে গণধর্ষণ। একশ’ দিনের কর্মসূচি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ছিল। দেখা গেল সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হাওয়া ভবন নামে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ভয়াবহ দুঃশাসন। দেশে গণতান্ত্রিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। দেখা গেল সেখানে দলতন্ত্রের বিষাক্ত থাবা গোটা প্রশাসনকে গ্রাস করে ফেলেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে হয়তো পরিবারের কোনো সদস্যের সামান্য সম্পর্ক আছে বা ছিল, এই অজুহাতে সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনে চলে নির্মম ছাঁটাই, পদাবনতি, বদলি এবং ওএসডি করে রাখা। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভাতেই বা কারা ছিলেন? একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতার শত্রুরা তো ছিলেনই, তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশের খাতায় নাম লেখানো চোরাচালানি আসামি, অতীতের গলাকাটা সন্ত্রাসী, এমনকি খুনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিও। শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও বিএনপির শাসনামলে আফগানিস্তান স্টাইলের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাস শামসুন্নাহার হলে মধ্যরাতে পুলিশ ঢুকিয়ে ছাত্রীদের ওপর যে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা কোনো সভ্য সমাজে কখনও ঘটেনি। ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রথম পুলিশ ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে বা সামরিক শাসনামলেও এমন ঘটনা ঘটেনি। সহজ মূল্যে সার সরবরাহের দাবিতে আন্দোলন করেছিল কৃষক, তাদের ওপর গুলি চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যা করে বিএনপি সরকার। দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করার ঘোষণা ছিল বিএনপির। দেখা গেল দেশ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বাংলা ভাইদের আবির্ভাব ঘটে এ সময়েই। খালেদা জিয়ার মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলা ভাই বলে দেশে কেউ নেই। এটা মিডিয়ার প্রচার।
পরে আমেরিকার চাপে এ বাংলা ভাইদের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয় এবং তাদের ফাঁসি দিতে হয়। বিএনপির শাসনামলেই উগ্র মৌলবাদীদের অভ্যুত্থান ঘটে দেশে সরকারি প্রশ্রয়ে। হুমায়ুন আজাদের মতো বরেণ্য কথাশিল্পীর ওপর চলে মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হামলা। সেই হামলার পরিণতিতেই আজাদ মারা যান। খালেদা জিয়া অপরাধীদের ধরার ব্যবস্থা না করে বলেছিলেন, এটা আওয়ামী লীগ করেছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে একটা ইস্যু দাঁড় করাতে চায়। দেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের জীবনের ওপর যখন মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তখনও খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এটা একটা পরিকল্পিত নাটক।’ আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ কিবরিয়ার ওপর বোমা হামলা চালিয়ে তাকে যখন হত্যা করা হয়, তখন হত্যাকারীদের ধরার বদলে বিএনপি থেকে বলা হয়, এটা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল। আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার সময়েও একই কথা বলেছে বিএনপি সরকার। বিএনপির প্রতিশোধের রাজনীতিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ছিল, শেখ হাসিনার সভায় গ্রেনেড হামলা। এ হামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যু ছিল প্রায় নিশ্চিত। তিনি আহত হলেও বেঁচে যান; কিন্তু নিহত হন আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এবং আহত হন শতাধিক নর-নারী। এক্ষেত্রেও দেখা গেছে পুলিশ অপরাধীদের ধরার বদলে ঘটনাস্থলে অপরাধীদের শনাক্ত করার আলামত সরিয়ে ফেলতে ব্যস্ত। ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের ভিশন ও মিশনের আর কত ফিরিস্তি দেব?
সেই সময়ের বিএনপি সরকারের একশ’ দিনের কর্মসূচি এবং ক্ষমতায় থাকার পূর্ণ সময়টাতে তাদের কার্যকলাপ কেউ যদি মিলিয়ে দেখেন, তাহলে তারা সহজেই উপলব্ধি করতে পারবেন, তাদের বর্তমানের ‘ভিশন-২০৩০’ এর পরিণতি কী ঘটবে! রূপকথায় আছে, এক সিংহ বৃদ্ধ বয়সে নখ-দন্ত ও শিকার ধরার ক্ষমতা হারিয়ে একটা গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং ঘোষণা দিয়েছিল, সে অহিংসা ধর্মে দীক্ষা নিয়েছে। সে বনের পশুপাখিদের অহিংসা ধর্মে দীক্ষা দেবে। তার ঘোষণায় বিশ্বাস করে বহু পশুপাখি অহিংসা ধর্মে দীক্ষা নিতে তার কাছে যেতে শুরু করল। সিংহ সুযোগ পেয়ে তাদের হত্যা করে খেয়ে ফেলত। তাকে আর শিকার ধরার পরিশ্রম করতে হতো না। এ সময় এক শিয়াল গেল সিংহের কাছে; কিন্তু গুহায় ঢুকল না। সিংহ বলল, ভাগ্নে এসো এসো, তোমাকে অহিংস ধর্মে দীক্ষা দেই। শিয়াল বলল, মামা, দীক্ষা নিতেই তো এসেছিলাম; কিন্তু এখন দেখছি যেসব পশুপাখি তোমার কাছে দীক্ষা নিতে এসেছে, তাদের পায়ের ছাপ সবটাই ভেতরের দিকে গেছে; কোনোটাই ফিরে আসেনি। আমি তাই এখান থেকেই বিদায় নিচ্ছি। ভেতরে এসে তোমার আজকের দিনের খোরাক হতে চাই না। বিএনপির ভিশন-২০৩০-এর ঘোষণা শুনেও দেশের মানুষ কি বিশ্বাস করবে, দলটি সন্ত্রাস ছাড়বে, সন্ত্রাসীদের ছাড়বে, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়বে, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির এককালের দুর্গ হাওয়া ভবনের স্বেচ্ছানির্বাসিত অথবা পলাতক নেতার প্রভাবমুক্ত হবে? সবচেয়ে বড় কথা, অহিংস গণতন্ত্রের দীক্ষা নেবে? এই ব্যাপারে কেউ যদি সন্দেহ পোষণ করেন, তাকে কি দোষ দেয়া যাবে? উপকথার সিংহ ও শিয়ালের গল্পটির নীতিকথা আমাদের কী শেখায়?
লন্ডন ১৪ মে রবিবার, ২০১৭

সন্তানের গ্রেড নিয়ে উদ্বিগ্ন যে মায়েরা

দু’দিন আগে মা দিবস চলে গেল। যদিও মাকে কোনো বিশেষ দিবসে মনে রাখার বিষয় নয়, বছরজুড়েই মা সন্তানের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার আসনে বসে থাকেন। তবুও দিবস তর্পণ কখনও কখনও আত্মচৈতন্যে আমাদের ফিরিয়ে আনতে পারে। মা দিবসের প্রেরণা আজকের লেখার পেছনে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে। তবে মাকে মুখ্য করে লিখলেও এর সঙ্গে কখনও বাবা ও পরিবারও যুক্ত থাকে। আমি জানি না মফস্বলকেন্দ্রিক পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কেমন। নাগরিক পরিমণ্ডলের মতো সন্তানের শিক্ষাজীবনের পথ একইভাবে জটিল করে তোলা হয়েছে কিনা। মায়েরা এখন সন্তান জন্মানোর পর থেকেই উদ্বেগে কাটাচ্ছেন ওদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে। সামর্থ্য থাকলে তো বটেই, কায়ক্লেশে সামর্থ্য তৈরি করতে পারলেও ছুটছেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াতে।
নিদেনপক্ষে ইংরেজি ভার্সনে। এটা অনেকটা পারিবারিক মর্যাদার বিষয়ও হয়ে গেছে। এসব স্কুলে কী পড়ানো হচ্ছে আর সাধারণ ধারার স্কুলগুলোর কারিকুলাম কী, তা খোঁজ করার চেষ্টা অনেকেই করছেন না। সন্তান স্কুলের গণ্ডি না পেরোতেই বেশ ইংরেজি বলতে পারছে এবং বাংলায় একটু দুর্বল থেকে যাচ্ছে- এ ধরনের চিত্র কোনো কোনো মায়ের আত্মঅহংকার বাড়িয়ে দিচ্ছে আজকাল। এটি স্বল্পশিক্ষিত থেকে শুরু করে অন্তত সার্টিফিকেটে সুশিক্ষিত মায়েদের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করেছি। আমি একজন আর্কিটেক্ট মাকে স্মরণ করতে পারি, যিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশের একটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। তার চার বছরের মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন আমার এখানে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকের পাড়ে এসে মেয়েকে প্রকৃতি চেনাচ্ছেন। বলছেন, দেখ চারদিকে কত গ্রিন ট্রি। পানিতে ডাকগুলো কেমন সুইম করছে। এখানে অনেক ফিশ আছে। আমি ভাবছিলাম, মেয়েটি বড় হতে হতে না জানি গাছ, সবুজ, হাঁস, সাঁতারকাটা- এসব শব্দ ভুলে যায়। আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা বা সরকারি শিক্ষানীতি আরও সংকটে ফেলেছে। এখন তো মায়েদের দিবারাত্রি একটিই লক্ষ্য- সার্টিফিকেট কতটা উজ্জ্বল হয়। আগে এই দুর্ভাবনা শুরু হতো এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে। এখন শিশুটির শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে। আমরা এসএসসি পরীক্ষাকে পাবলিক পরীক্ষা বলি। কারণ সারা দেশের শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একই ধারার পরীক্ষা দিয়ে প্রথম সার্টিফিকেট অর্জন করে। এখন শিক্ষার্থীদের মর্যাদা বাড়ানো হয়েছে। এসএসসির আগে আরও দুটো সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে শিক্ষা পদ্ধতিতে। ক্লাস ফাইভে উঠে পিইসি নামে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। অতঃপর ক্লাস এইটে জেএসসি। অর্থাৎ পড়া যে একটি আনন্দের বিষয়, তা শিক্ষার্থী শৈশব থেকেই জানতে পারল না। তাকে সৃজনশীল মেধা বিকাশের যন্ত্রে ছুড়ে ফেলা হল। আর মায়েদের আরও দু’ধাপ উদ্বিগ্ন হওয়ার পথ তৈরি হল। কোচিং-গাইডের পেছনে ছুটতে গিয়ে বাবা-মায়ের ট্যাঁক আরও খালি হতে লাগল।
বেলা শেষে এসব নীতি প্রয়োগের মারপেঁচে কার কী বৈষয়িক লাভ হল জানি না, তবে এটা বুঝতে পারি- শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে স্বাভাবিক হাঁটার পথে প্রতিবন্ধক দিয়ে বিকলাঙ্গ বানানোর পথ প্রশস্ত করা হল। আমাদের দেশে দায়িত্ববান ও ক্ষমতাবান কোনো কোনো আমলার মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা থাকে। সর্ববিদ্যায় সবাইকে ছাপিয়ে নিজের জ্ঞান প্রকাশ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না তারা। একবার শিক্ষানীতিতে জেএসসি পরীক্ষার প্রস্তাব থাকলেও পিইসি পরীক্ষার কথা ছিল না। শোনা যায়, সে সময়ের ক্ষমতাবান এখন অবসরপ্রাপ্ত একজন আমলার অবদান নাকি এটি। একটি টেলিভিশন টকশোতে এ আমলাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাচ্চাদের অমন পরীক্ষা চাপিয়ে দেয়ার অর্থ কী? তিনি গর্বের সঙ্গে উত্তর দিয়েছিলেন, শিক্ষকদের ক্লাসে পড়ানোয় আরও দায়িত্বশীল করে তুলতেই নাকি তিনি এই পরীক্ষার চাপে ফেলেছেন। এখন প্রশ্ন, শিক্ষককে না হয় শাসন করা হল; কিন্তু লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে অমন শাস্তি দেয়া কেন? কিন্তু মায়েরা আবার ছুটতে লাগলেন এ-প্লাস বা নিদেনপক্ষে এ-গ্রেড পাওয়ার প্রতিযোগিতায়। আনন্দময় শৈশব হারিয়ে গেল। একপর্যায়ে মনে হল, এসএসসির আগে এ দুটো পরীক্ষার সার্টিফিকেট দিয়ে কী হবে! এটিও একটি সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে গেল। অনেক স্কুল একটি প্রায়োগিক সুবিধা রাখল। বলা হল, উপরের গ্রেড না থাকলে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হওয়া যাবে না। আমি উদ্বিগ্ন মায়েদের বলব, সন্তানের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার চেয়ে ‘ভালো গ্রেড’ পেয়ে সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো মূল্যবান হতে পারে না। আগে স্বাভাবিকভাবে যে ধরনের মূল্যায়নে স্কুলে বিভাগ বণ্টন হতো, শিক্ষার্থীর মঙ্গল চিন্তায় সে পথে হাঁটার জন্য আমি স্কুল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব। এ জন্য স্কুলে বাছাই পরীক্ষার ব্যবস্থা হতে পারে, তবে এতে হয়তো অভিভাবকের চিন্তার বোঝা কিছুটা কমবে। আমি জানি, শিক্ষকরাও বিশ্বাস করেন পরীক্ষায় পাওয়া গ্রেড শিক্ষার্থীর সব ক্ষেত্রে প্রকৃত জ্ঞানের পরিমাপক নয়। মায়েদের বুঝতে হবে এই পিইসি আর জেএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে না। এবার নাকি এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক নম্বর দেয়া থেকে সরে এসেছে। তাই ফলাফল আর গ্রেডের হাইব্রিড বিস্ফোরণ অনেকটা কমেছে।
এই স্বাভাবিকতা মানতে পারছেন না অনেক অভিভাবক। বিশেষ বলয়ে সাঁতার কেটে এ এবং এ-প্লাস পাওয়ার যে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, সেখানে হোঁচট খেয়েছেন কেউ কেউ। এতে পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। এক নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের মাকে দেখেছি কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, মেয়ের কোচিংয়ের খরচ মেটাতে সংসারের বাজেট কমিয়ে অধিকাংশ দিন আলুভর্তা-ডাল দিয়ে ভাত খেয়েছি। দুই নম্বরের জন্য মেয়ে এ-মাইনাস পেয়েছে। এতে সবার সামনে মুখ দেখাই কেমন করে আর ভালো কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তিই বা করি কেমন করে? আমি মায়েদের মনঃকষ্ট অনুভব করেও বলব, যুগ যুগ ধরে যে স্বাভাবিকতায় শিক্ষার্থীরা বেড়ে উঠেছে- স্কুলশিক্ষক তাদের পরিচর্যা করেছে, পরিবার সাহায্য করেছে, ‘পড়ার সময় পড়া, খেলার সময় খেলা’-এর স্বাভাবিকতায় চারপাশ দেখে জেনে বড় হয়ে যেভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে- আপনার সন্তানকে সেভাবে বেড়ে উঠতে দিন। এ অথবা এ-প্লাস না পেলে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী জীবনে হেরে যাবে না। অবশ্য একটি বাস্তব সংকট তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি- পরীক্ষায় পাওয়া গ্রেডই সব সময় মেধার পরিচয় নয়, কাজেই তা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাপকাঠি হতে পারে না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিজের চলার পথ স্বস্তিদায়ক করতে এ সহজ পথই বেছে নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ফেলে দিয়েছে। যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ কম বলে অনেক ভর্তিপ্রত্যাশী মেধাবী বাদ পড়ে যাচ্ছে, সে দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ কোন্ বিচারে বন্ধ করে দিয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। এখানেও একই উত্তর- নিজেদের পরিচালনার পথ স্বস্তিদায়ক রাখতে। বিস্ময়ের ব্যাপার, দেশের আইন-বিচারও অনেক ক্ষেত্রে নাগরিক অধিকারের পক্ষে থাকে না। আমি মায়েদের প্রতি অনুরোধ রাখব, এ দেশে যুদ্ধ করেই টিকতে হবে। তবে সে যুদ্ধ অস্ত্র প্রয়োগে না মেধা প্রয়োগে সেটাই হচ্ছে আসল কথা। কোচিং-গাইডের গিলিয়ে দেয়া বিদ্যায় ওজনদার গ্রেড মিলতে পারে ঠিকই, কিন্তু বেলাশেষে স্বাধীন পরিবেশে মেধা চর্চা করে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীই প্রতিষ্ঠিত হয়- দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে দেখে আসছি- খুব ঝকঝকে সার্টিফিকেটধারী হলেই যে সে ফলে সামনে চলে আসে, তেমন নয়। জেনে-বুঝে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীটিই শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের চূড়া স্পর্শ করে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো সন্তানদের বাবা-মাকে বলব, আপনারা সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেছেন কি এসব কারিকুলামে কতটা উজ্জ্বল হয়ে বেড়ে উঠছে সন্তান? যেসব দেশ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে একসময় বন্দি ছিল সেসব দেশের মানুষ ছাড়া অন্যরা খুব কমই ভাবে, ভালো ইংরেজি না জানলে জীবন বৃথা হয়ে যাবে। মাতৃভাষা ভালো না জানলে অন্য কোনো ভাষা ভালো জানা হয় না। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার ক্রেজ তো মাত্র এক-দেড় যুগের। তার আগের শিক্ষার্থীরা কি জীবনে ব্যর্থ হয়ে গেছে? ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়ে কি সফল হয়নি?
প্রয়োজন মেটানোর মতো অন্য একটি ভাষা শিখে নেয়া খুব কঠিন নয়। চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশের মানুষ ইংরেজি চর্চা তেমনভাবে না করে কি পিছিয়ে পড়েছে? ইংল্যান্ড বাদে প্রায় পুরো পশ্চিম ইউরোপের মানুষ বলতে গেলে ইংরেজি চর্চা করেই না। আমি পর্তুগালের প্রতিথযশা এভোরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছর একটি গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছুসংখ্যক শিক্ষক ও গবেষক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। পর্তুগিজ ছেলেমেয়েগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ধাপে রয়েছে। ওদের পড়াশোনার ভাষা পর্তুগিজ। অধিকাংশ বইপত্র পর্তুগিজ ভাষায় লেখা ও অনুবাদ করা। আমার ইংরেজি বক্তৃতা ওদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই প্রফেসর ফিলিপ বারাতা মাঝে মাঝে আমাকে থামিয়ে পর্তুগিজ ভাষায় শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। এ দেশের একটি নামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন পড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। সেখানে নামি-দামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে এ লেভেল, ও লেভেল করে আসা শিক্ষার্থী যেমন থাকে, তেমনি থাকে মূলধারার যেমন- ভিকারুননিসা, হলিক্রস ও নটর ডেম কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলা মাধ্যমে পড়ে আসা শিক্ষার্থীরাও। আমি লক্ষ্য করেছি, শুদ্ধ ইংরেজি লেখার গুণ ইংরেজি মাধ্যমের চেয়ে এই মূলধারার কলেজ থেকে আসা শিক্ষার্থীদেরই বেশি। এসব বাস্তবতা সামনে রেখে মায়েদের কেমন ভূমিকা নেয়া উচিত তা নতুন করে ভাবতে অনুরোধ করব। এ প্রসঙ্গে মা দিবসের রেশ থাকতে থাকতেই আমি আমার প্রয়াত মায়ের কথা স্মরণ করতে চাই। আমাদের সময়ে ইংরেজি মাধ্যমের বিষয়-আসয়ের চিন্তা ছিল না। শহরতলীর সাধারণ স্কুলে পড়েছি। মা লক্ষ্য রাখতেন পড়াশোনা, খেলা আর আড্ডা- সব যেন নিয়মমাফিক হয়। মা খুঁটিয়ে পত্রিকা পড়তেন। আমাকেও পড়তে বলতেন। একটি আদেশ ছিল- স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খেয়েদেয়ে বিছানায় মায়ের পাশে বসতে হবে। পত্রিকার সেদিনের উপসম্পাদকীয়টি রেখে দিতেন আমার জন্য। আমাকে জোরে জোরে পড়ে শোনাতে হতো। এখন বুঝি তিনি আমার মধ্যে পড়ার একটি অভ্যাস গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আর এই সূত্রে কখন যে আমার ভেতর কলাম লেখার ইচ্ছে তৈরি হয়েছিল, বুঝতে পারিনি। এখন অনুভব করি আমার গড়ে ওঠার পেছনে মায়ের ভূমিকা ছিল কতটা।
একেএম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com

৫ মিনিটেই চার্জ হবে স্মার্ট ফোন!

বর্তমান সময়ে আধুনিক ডিভাইস ও গ্যাজেটস ব্যবহারে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ব্যাটারি ও তার চার্জ। কারণ দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে সক্ষম এবং দ্রুত চার্জ হয়ে যাবে এমন ব্যাটারি বাজারে নেই। তবে ইসরাইলের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্টোরডট ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছর তারা এক নতুন ব্যাটারি বাজারে আনছে, যা মাত্র ৫ মিনিটেই চার্জ হয়ে যাবে।
২০১৫ সালে ইসরাইলের ওই প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকার লাস ভেগাসের এক প্রযুক্তি মেলায় এ ধরনের প্রযুক্তি প্রথম সম্মুখে আনে। পরে ব্যাটারির উন্নতি করে বর্তমানে তা স্মার্ট ফোনের সাধারণ ব্যাটারির মতো ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। বিশেষ এই ব্যাটারি পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি হয়েছিল এশিয়ার দুটি ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের ব্যাটারি বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, আগামী বছরের মধ্যে পাঁচ মিনিটে মোবাইল ফোন চার্জ করার প্রযুক্তি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যাবে। এর আগে গত নভেম্বরে কোয়ালকম বলেছিল তারা এমন একটি ব্যাটারি তৈরি করেছে, যেটি পাঁচ মিনিট চার্জ দিলে সেটি পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম

রমজান সামনে রেখে ঢাকাসহ সারা দেশে ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার থেকে নিজস্ব ডিলারের মাধ্যমে ট্রাকে করে রমজাননির্ভর পণ্য ভোজ্য তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি শুরু হয়েছে, যা রমজানজুড়ে চলবে। প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৮০ টাকা, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা এবং খেজুর ১২০ টাকা দরে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত স্পটে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ দেয়া হচ্ছে না। কিনতে এসে না পেয়ে নিন্ম আয়ের মানুষের হাহাকার দেখা গেছে। তাদের দাঁড়াতে হচ্ছে দীর্ঘ লাইনে। আবার লাইন ফুরানোর আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে পণ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। সূত্রে জানায়, সারা দেশে ১৮৫টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৩টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি ও জেলা সদরে ২টি করে ট্রাকে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি চিনি, ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি করে মসুর ডাল, ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ছোলা, ২০ থেকে ৩০ কেজি খেজুর এবং ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, মসুর ডাল ৩ কেজি, সয়াবিন তেল ৫ লিটার, ছোলা ৫ কেজি এবং ১ কেজি খেজুর কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। সূত্র জানিয়েছে, রমজানে ভোজ্য তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুরের যা চাহিদা, পণ্যভেদে তার মাত্র এক থেকে দেড় শতাংশের সরবরাহ দিচ্ছে টিসিবি। তবে এখানে ভোক্তারা বাজার দরের চেয়ে অনেক কম দামে কেনার সুযোগ পাওয়ায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বিক্রীত স্পটগুলোয়। এর নেপথ্য কারণ হিসেবে জানা যায়, বাফার মজুদ গড়ে তোলার জন্য টিসিবির অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ কখনোই বরাদ্দ রাখা হয় না। যে পরিমাণ পণ্য টিসিবি আমদানি করে থাকে তা ব্যয় বাবদ অর্থ মন্ত্রণালয়কে কাউন্টার গ্যারান্টি দেখিয়ে ঋণ নিতে হয়। সেটিরও সর্বোচ্চ আওতা মাত্র ৮০০ কোটি টাকা। আবার এ পরিমাণ ঋণের অর্থও প্রচলিত সুদ ব্যবস্থায় পরিশোধ করতে হয়। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সংস্থাটির পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম। সূত্র আরও জানিয়েছে, যেসব স্পটে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে, সেসব স্পটে টিসিবির নজরধারীরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ডিলারের মাধ্যমে এসব পণ্য সরবরাহ দেয়া হলেও অনেক ডিলার ন্যায্যমূল্যে ভোক্তার কাছে তার সবটুকু সরবরাহ না দেয়ারও অভিযোগ আছে। ঢাকায় যেসব স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে- সচিবালয় গেট, প্রেস ক্লাব,
কাপ্তান বাজার, ছাপড়া মসজিদ ও পলাশী বাজার, সাইন্স ল্যাব, নিউমার্কেট বা নীলক্ষেত মোড়, শ্যামলী/কল্যাণপুর, ঝিগাতলার মোড়, খামারবাড়ী/ফার্মগেট, কলশীতলা বাজার, রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট কচুক্ষেত ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, আগারগাঁও তালতলা ও নির্বাচন কমিশন অফিস, আনসার ক্যাম্প/পাইকপাড়া মিরপুর, মিরপুর ১নং মাজার রোড, শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার, বাসাবো বাজার, বনশ্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক বা শাপলা চত্বর, মহাখালী কাঁচাবাজার, শেওড়াপাড়া বাজার, দৈনিক বাংলার মোড়, শাহজাহানপুর বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও আইডিয়াল জোন, মতিঝিল বক চত্বর, খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার, মিরপুর-১০ গোল চত্বর, আশকোনা হাজী ক্যাম্প ও রাজলক্ষ্মী উত্তরা, মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার, দিলকুশা, মাদারটেক নন্দীপাড়া কৃষি ব্যাংকের সামনে, কালশি মোড়। জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবি ক্রমশই গুরুত্ব হারাতে বসেছে। বিদ্যমান বাজার ব্যবস্থা এখন অনেক বড়। এই বাজার চাহিদায় সীমিত মজুদ দিয়ে কিছুই হবে না। আর টিসিবির কার্যক্রম এখন নামমাত্রই বলা যায়। এদিকে রাজশাহীতে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। মহানগীরর ৫টি পয়েন্টে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রির নির্ধারিত স্থানগুলো হচ্ছে- রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায়, নগরীর রেলগেট, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকা এবং বিনোদপুর এলাকা। রাজশাহীর টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রত্যেক গ্রাহক ৫ লিটার তেল এবং ৩ কেজি করে অন্যান্য পণ্য কিনতে পারছেন।