Sunday, May 21, 2017

পুণমের সেক্স ভিডিও ফাঁস

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে দৌড়াবেন’ - এরকম ঘোষনার মাধ্যমেই মূলত সবার নজড়ে আসেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে নিজের কথা রাখেননি তিনি। তবে নগ্নতা ছড়িয়েছেন নিজের অভিনীত চলচ্চিত্র এবং ফটোশুটের মধ্যে দিয়ে। বিভিন্ন সময়ে নিজের নগ্ন ভিডিও প্রকাশ করেও বিতর্কে জড়িয়েছেন পূণম। নিজের অভিনীত প্রথম  ছবি ‘নেশা’ তেও অনেকটাই নগ্ন হয়ে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তিনি। এদিকে বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না পুণমের। সম্প্রতি তার একটি সেক্স ভিডিও ফাঁস হয়েছে। আর সেটি ঝড়ের গড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে একজন তরুণের সঙ্গে বিছনার যৌন দৃশ্যে মত্ত তিনি। ভিডিওটি এরই মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। তবে পুণম জানিয়েছেন এ ভিডিওটি তার নয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ভিডিও হলে আমিই সরাসরি এটা দিতাম অনলাইনে। লুকানোতে আমি বিশ্বাসি না। কিন্তু এই ভিডিওর তরুণীটি আমি নই। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এরকম একটি ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। আমি সবাইকে এ ভিডিওটি শেয়ার না করার জন্য অনুরোধ করছি।

মিরপুরে বিহারী ক্যাম্প উচ্ছেদ, বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

রাজধানীর মিরপুর-১১ এর কাশ্মিরি মহল্লা ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সকাল সাড়ে ১০ টায় এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন বিহারীরা। তাদের অভিযোগ, বিষয়ে কোন নোটিশ না দিয়েই উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের ঘর-বাড়ী। উচ্ছেদের সময় বিহারীদের পক্ষে থাকা উচ্চ আদালতের রায়ের কপি দেখাইতে চাইলে তা না দেখেই বিহারীদের উপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে ক্যাম্পে হামলা চালায় সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা।
বিহারীরা দাবি করেছে, আদালতের রায় তাদের পক্ষে থাকার পরও অবৈধভাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে পুলিশ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের মালামাল বাহির করার সময়ও দেয়া হয়নি তাদের।
উর্দু স্পীকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট'র সভাপতি মো. সাদাকাত খান ফাক্কু বলেন, আদালতের রায় আমাদের পক্ষে ছিল। আমাদেরকে কোন প্রকার নোটিশ না দিয়েই ক্যাম্প উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে কোন ম্যাজিস্ট্রেট নেই। আমাদের কোন রকম কথা বলার সুযোগ নেই। এই অভিযান ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নান্নু ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের মাস্তানদের দাপটে চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বিহারীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল মিরপুর ১১ বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে মিরপুর ১১ নং ঢালের উপরে গিয়ে পুলিশি বাধায় পড়ে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন ইউএসপিওয়াইআরএম’র সভাপতি সাদাকাত খান ফাক্কু, সাধারণ সম্পাদক শাহিদ আলী বাবলু,ওয়েলফেয়ার মিশন অফ বিহারিজ'র সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, এসপিজিআরসি'র সভাপতি আলি আহমেদ প্রমুখ

আমরা অর্থমন্ত্রীকে টার্গেট করব: বাদশা

সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, ১৫ লাখ বিড়ি শ্রমিকের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি না করে অর্থমন্ত্রী বিড়ি তুলে দিতে চাইছেন। তিনি গরীবদের টার্গেট করেছেন। যদি তিনি গরীবদের টার্গেট করেন তাহলে আমরা অর্থমন্ত্রীকে টার্গেট করবো। রোববার বিকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই বছরের মধ্যে অর্থমন্ত্রীর বিড়ি শিল্প তুলে দিতে চান এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ফজলে হোসেন  বাদশা বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই আমি বিড়ি শ্রমিকদের পক্ষে। বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই আমি বিড়ি শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলবো। বিড়ি শ্রমিকরা মুক্তিযুদ্ধে পক্ষে  ছিলেন। এরা কেউ রাজাকার না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র  মেনে নেয়া হবে না। কারণ এখন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধে পক্ষে সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি  বলেন,  আপনি তো তামাক বন্ধের জন্য কিছু বলছেন না। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে কোমল মতি ছেলে গুলো সিগারেট খাচ্ছে। সেটা বন্ধের কথা বলছেন না। অন্য দিকে বৃটিশ আমেরিকার দাদন নিয়ে উর্বর জমিতে তামাক চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের নীতিমালার বাইরে এই কাজ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের নীতি বাইরে বিড়ির উপর কোনো করারোপ করা হলে সেটা রুখে দাঁড়ানো হবে। অর্থমন্ত্রী গরীব মানুষদের পছন্দ করছেন না। সরকার থাকবে গরীব মানুষের আর অর্থমন্ত্রী গরীব মানুষদের বিরুদ্ধে থাকবে সেটা হতে পারে না। মনে রাখতে হবে গরীবরাই এদেশ গড়ে তুলেছেন। গরীবরা বিদেশ থেকে টাকা পাঠায় বলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, সংসদ সদস্যরা বিড়ি শ্রমিকদের পক্ষে আছে। আমিও সংসদ সদস্য হিসেবে এটাই বলতে চাই যে সংসদ সদস্যরা বিড়ি শ্রমিকদের পক্ষে রয়েছে। তিনি সরকারকে বৈষম্যমূলক শুল্ক তুলে নেয়ার আহবান জানান।
এর আগে সকালে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ও বৈষমূলক শুল্কনীতির প্রতিবাদে এনবিআরের সামনে বিড়ি শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বিকেলের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদক সুজিত নন্দী, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু। প্রধান বক্তা ছিলেন প্রফেসর মেজবাহ কামাল, অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চেয়ারপারসন আরডিসি। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি। আরও বক্তব্য রাখেন, বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহমান, বরিশাল বিড়ি শ্রমিক ফেডাশনের সভাপতি লোকমান হোসেন ও  পাবনা জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি হারিক হোসেন।

পরিবার নাকি বাজার!

সু এবং নোয়েল র‌্যাডফোর্ডের সংসারে সন্তান ১৯ জন। আরো একটি সন্তান আসার পথে। আগামী সেপ্টেম্বরে তারা নতুন সন্তানের পিতামাতা হতে চলেছেন। ফলে তাদের সংসারে সন্তান সংখ্যা দাঁড়াবে ২০। এ সংসারকে বলা হচ্ছে বৃটেনের সবচেয়ে বড় পরিবার। ল্যাঙ্কাশায়ারের মরকোম্বের অধিবাসী এ পরিবারের রাতের খাবারে লাগে ৬০ টি সস এবং ৩০টি মুরগির রান। আর লাগে সাড়ে ৬ পাউন্ড আলু। পরিবারে রয়েছে ১০ রুমের বাসা। সেখানে ভাগাভাগি করে ঘুমায় সবাই। তবে সমস্যা হলো অন্য এক জায়গা। তা হলো তাদের গোসলখানা মাত্র একটি। ফলে যখন গোসলের পালা আসে তখন সবাইকে একসঙ্গে গাদাগাদি করে গোসল করতে হয়। এ সময় যে কেউ তাদেরকে দেখে বলবে ভেড়ার পাল গোসল করানো হচ্ছে। পরিবারটির ১৯ ছেলেমেয়ে হলো ক্রিস (২৭), সোফি (২২), ক্লোলে (২১), জ্যাক (১৯), ডানিয়েল (১৭), লুক (১৫), মিলি (১৪), কেটি (১৩), জেমস (১২), ইলি (১১), এমি (১০), জোশ (৯), ম্যাক্স (৭), টিল্লি (৬), অস্কার (৪), ক্যাসপার (৩), ফোয়েবে (১), একেবারে ছোট্টটি হলো হ্যালি। এ দম্পতির রয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডের একটি নিজস্ব বাড়ি। তারা বাচ্চাদের সুবিধা বাদে অন্য কোন সুবিধা নেয় না রাষ্ট্রের কাছ থেকে। এবার তারা ২০ নম্বর সন্তানের পিতামাতা হতে চলেছেন। এরপর কি আরো? জবাবে সু এবং নোয়েল র‌্যাডফোর্ড বলেন, আর না। ২০শেই থামতে চাই। এটাই হবে শেষ সন্তান। প্রথমে তাদের পরিকল্পনা ছিল তিনটি সন্তান নেয়ার। কিন্তু প্রতিদিন বাচ্চাদের যে ‘কিচিরমিচির’ তা শুনতে ভাল লাগে তাদের। ব্যাস, একে একে তাই এক কুড়ি পুরিয়ে ফেললেন। র‌্যাডফোর্ড (৪৬) হলেন র‌্যাডফোর্ডস পাই কোম্পানির মালিক। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ছোট্ট বাচ্চাদের যখন এক সঙ্গে গোসল করাই তখন মনে হয় ভেড়ার পাল গোসল করাচ্ছি। তাদেরকে গোসল করাতে কয়েক গ্যালন শ্যাম্পু লাগে। গোসলের পালা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টায়। ছোট্টরা গোসল করে বিছানায় চলে যায় সন্ধ্যা ৭টায়। বড়রা জেগে থাকে রাত ৯টা অবধি। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসে হলো বড়দিনে। ওই সময় সবার জন্য কেনাকাটা শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকেই। গত বছর তারা রাতের খাবারের জন্য কিনেছিলেন তিনটি টার্কি, আট পাউন্ড আলু, ইয়র্কশায়ারের ৫৬টি পুডিং। বাইরে কাজে থাকে বড় দু’সন্তান ক্রিস ও সোফি। আর বাকিরা থাকে বাড়িতে।

তালাকের টর্নেডো by আবদুল আলীম

বাড়ছে তালাক। ভাঙছে সংসার। তছনছ হচ্ছে অজস্র জীবন। যেন চলছে তালাকের টর্নেডো। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা মহানগরীতে গত ছয় বছরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ। এক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে তালাকে এগিয়ে রয়েছেন মহিলারা। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ছয় বছরে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পড়েছে ৩৬ হাজার ৩৭১টি। বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে ৩০ হাজার ৮৫৫টি। এর মধ্যে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী তালাক দেয়ার নোটিশ পড়েছে ১২ হাজার ১৮টি। তবে স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীকে তালাকের নোটিশ পড়েছে ২৪ হাজার ৮০৩ টি। এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১৪টি, মাসে ৪২৯টি এবং বছরে পাঁচ হাজার ১৪৩টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মহানগরীতে খুবই আশঙ্কাজনক হারে তালাক দেয়ার ঘটনা বাড়ছে। সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা কিছুদিন আগেও ছিল কল্পনাতীত।
বিবাহ ও বিচ্ছেদ নিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা গবেষণা শুরু করেছেন ১৯৯৫ সাল থেকে। যা এখনও চালু রয়েছে। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, যেসব আবেদন ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে তার মধ্যে ৮৭ শতাংশ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে পরকীয়ার জের ধরে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালে ঢাকা শহরে মোট তালাক নোটিশের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৭৫৩টি, ২০০১ সালে দুই হাজার ৯১৬টি, যার মধ্যে তালাকের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৫৪০টি, ২০০২ সালে নোটিশের সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৭৩টি, এর মধ্যে তালাক হয়েছে দুই হাজার ৬১৫টি, ২০০৩ সালে নোটিশ এসেছে তিন হাজার ২০২টি, এবং এর মধ্যে তালাক হয়েছে দুই হাজার ৯৬১টি, ২০০৪ সালে তালাকের নোটিশ এসেছিল তিন হাজার ৩৩৮টি, এবং আপস হয়েছে ৩৩৮টি।
এর মধ্যে উত্তর সিটির হিসাব মতে, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সংস্থাটির পাঁচটি অঞ্চলে মোট ২০ হাজার ৫৮৪টি তালাকের নোটিশ পড়েছে। এর মধ্যে স্বামীর পক্ষ থেকে সাত হাজার ১৯ এবং স্ত্রীর পক্ষ থেকে ১৩ হাজার ৪৬৫টি। নোটিশ প্রত্যাহার হয়েছে ৪৬৫টি এবং কার্যকর হয়েছে ১৬ হাজার ৬২১টি। তিন হাজার ৫১৮ নোটিশ চলমান। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিটির পাঁচটি অঞ্চলে বিচ্ছেদের নোটিশ পড়েছে ১৫ হাজার ৭৮৭টি। এর মধ্যে স্বামীর পক্ষ থেকে চার হাজার ৯৯৯টি, স্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ হাজার ৮০৩টি। নোটিশ প্রত্যাহার হয়েছে ৩৪৮টি এবং কার্যকর হয়েছে ১৪ হাজার ২৩৪টি।
তালাক দেয়ার দিক থেকে নারীরা এগিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়, পুরুষত্বহীনতা, মতের অমিল এবং তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার ও এর মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অবাধ যোগাযোগ এর অন্যতম কারণ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু নাসের কোচি মানবজমিনকে বলেন, সংসার ভাঙতে নারীরা এগিয়ে থাকার কারণ হল নারীরা এখন অর্থের দিক থেকে খুব স্বাধীন। যে কোনো সিদ্ধান্ত তারা নিজেই নিতে পারে। এ ছাড়া তথ্য প্রযুক্তির কারণে এসব ঘটনা বেশি ঘটছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নারীদের উপর অবিচার করা হয়। পুরুষের দোষ থাকার পরও পরিস্থিতির স্বীকার করে তাদের তালাক দেয়া হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সানাউল হক বলেন, বিবাহবিচ্ছেদের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার আবেদন প্রতিবছর আমাদের সালিশি বোর্ডের কাছে যে হারে পড়ছে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। সামাজিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই সালিশি বোর্ড কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আসেন না। অনেক সময় পারিবারিক এবং সামাজিকভাবেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। তবে যে অভিযোগগুলো আসে তাতে দেখা যায়, স্বামী পক্ষের যৌতুক দাবি, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার, মাদকাসক্তি, পরকীয়া, দু’জনের জীবনযাপনে অমিল, সন্দেহপ্রবণতা, স্বামীর কাছ থেকে ভরণ-পোষণ না পাওয়া, স্ত্রীর অবাধ্য হওয়া, ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক সম্পর্কে জড়ানো এবং ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী জীবনযাপন না করায় তালাকের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পাওয়ার পর দুই পক্ষকেই আপসের জন্য ডাকা হয়। তাদের কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে আপসের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুই পক্ষকে ডাকা হলেও বেশির ভাগ দম্পতিই ডাকে সাড়া দেয় না। নোটিশের সময় থাকে ৯০ দিন। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে এমনিতেই তালাক কার্যকর হয়ে যায়।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী বলেন, মেয়েদের পক্ষ থেকে বেশি তালাক দেয়ার মূল কারণ হল তারা এখন অনেক বেশি অধিকার পেয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুইদিক থেকেই বেশি অধিকার পেয়ে স্বামীকে তালাক দিতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। আগেরকার দিনের মায়েরা যেমন সংসার ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতো। এখন একক পরিবার ও বাইরে চাকরি ও সার্বিক স্বাধীনতার কারণে বাইরের মানুষের সাথে বেশি মেলামেশা করে। এক্ষেত্রে স্বামীদের চেয়ে বাইরের বন্ধু-বান্ধবদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। তাই পারিবারিক অবস্থা একটু খারাপ হলেই তালাকের চিন্তা করে। মনে করে অন্য কাউকে খুঁজে নিব। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা খুব বেশি অত্যাচারী হয়। কিন্তু আগের দিনের মায়েদের ক্ষেত্রেও এগুলো ঘটেছে। তারা সহ্য করতে চাইতো। যেটা এখন কেউ করে না। অনেক ছোট ছোট কারণেও তারা তালাকের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া, তথ্য-প্রযুক্তির প্রভাব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আধুনিক সংস্কৃতির কারণেও বেশি সংসার ভাঙছে। বর্তমানের মেয়েরা বিদেশী টেলিভিশন, স্টার জলসা, জি বাংলাসহ বিভিন্ন ধরনের সিরিয়াল দেখে সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা  থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পারিবারিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। পারিবারিকভাবে আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত হলে সবাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে যত্নবান হবেন।

হামাস কমান্ডারকে হত্যা : ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

গাজা উপত্যকার একটি সামরিক আদালত রোববার হামাসের একজন সামরিক কমান্ডারকে হত্যার দায়ে তিন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এটা ইসরাইলি চক্রান্ত বলে ইসলামপন্থী দলটি অভিযোগ করেছে।
খবর এএফপি’র। চার দিন ধরে চলা বিচার শেষে আদালত দুই অভিযুক্তকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে এবং একজনকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। মার্চ মাসের ওই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা ইসরাইলের পক্ষে কাজ করেছে বলে হামাস অভিযোগ করে।

ভেনিজুয়েলা থেকে নোংরা হাত সরাও : ট্রাম্পকে মাদুরো

ভেনিজুয়েলায় নাক গলানো বন্ধ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। ভেনিজুয়েলার বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এ কথা বলেন তিনি। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ভেনিজুয়েলার মানুষের পক্ষে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভেনিজুয়েলার টেলিভিশনে প্রচারিত সরাসরি ভাষণে এ পরিপ্রেক্ষিতে মাদুরা বলেন, অনেক নাক গলানো হয়েছে, ভেনিজুয়েলা ছাড় এবং নিজ দেশে ফিরে যাও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, ভেনিজুয়েলা থেকে তোমার নোংরা হাত সরাও। এর আগে ভেনিজুয়েলার সরকারি বিবৃতিতে দেশটিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে দেশটিকে আরো অস্থিতিশীল করতে চাইছে আমেরিকা। এতে আরো বলা হয়, ভেনিজুয়েলার জনগণ, সরকার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিবৃতিতে ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে নিজ ঘর সামলানোর জন্য আমেরিকার প্রতি উপদেশ দেয়া হয়। সূত্র : ওয়েবসাইট

রাণীনগরে লিচু বিক্রয়ের ধুম

নওগাঁর রাণীনগরে বাজারে এসেছে সুস্বাদু রসালো মৌসুমি ফল লিচু। পুরোদমে আমদানী না হলেও বাজারের মোড়ে মোড়ে বাঁশের তৈরি খাছি ভর্তি পাকা লিচু বিক্রয়ের ধুম পড়েছে। এবারের আবহাওয়া লিচু চাষের পুরোপুরি অনুকূলে না থাকলেও নির্ধারিত সময়ে লিচু পাকাই বাজারে আসতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা লিচুর ঝোপা হাতে নিয়ে নানান সুরের হাকডাক দিয়ে রসালো এই ফল বিক্রয় করছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য কেউ কেউ আবার প্রতি শ’ লিচুতে কিছুটা বেশি দিয়ে একই দামে বিক্রয় করছে। লিচু ফলটি কয়েকটি জাতের হওয়ায় ইতিমধ্যে নাম ও শ্রেণী ভেদে দেশী ছোট জাতের কথিত মাদ্রাজী লিচু গুলো বিশেষ করে রাণীনগর সদরের বাজার গুলোতে বেশি আসায় বিক্রয়ও হচ্ছে পুরোদমে। তবে বোম্বাই, এলাচী, চায়না সহ বিভিন্ন জাতের লিচু বাজারে আসতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে এমনটায় বলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, উপজেলার সদরের ষ্টেশন রোড, বাসষ্ট্যান্ড, খাঁনপুকুর,আবাদপুকুর, কুজাইল, বেতগাড়ী সহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা নাটোর জেলার মালঞ্চি, রাজশাহীর বাঘা ও দিনাজপুর জেলার নানান এলাকা থেকে মাদ্রাজী জাতের লিচু পাইকারি নিয়ে এসে রাণীনগরে বেচা-কেনা করছি। দেশের অন্যান্য এলাকার লিচুর চাইতে এই লিচু গুলোর চাহিদা বর্তমানে বেশি।
দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা মৌসুমি ফল হিসেবে রসালো লিচু বেশি বেশি করে কিনছে। এখানে মাদ্রাজী জাতের লিচু গুলো প্রতি শ’ দুইশ থেকে মান ভেদে আড়াইশ’ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হচ্ছে। তবে বোম্বাই সহ অন্য জাতের ভাল লিচু বাজারে আসলে দাম চরা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। প্রতি বছরের তুলনায় এবছর বৈরি আবহাওয়ার কারণে লিচুর দাম একটু বেশি হতে পাড়ে। ক্রেতারা জানান, বর্তমান বাজারের লিচু আকারে মাঝারি সাইজের হলেও সুস্বাদু হওয়ার কারণে আমরা কিছুটা বেশিই কিনছি। তবে দাম একটু তুলনা মূলক বেশি হলেও স্বাদ ভাল হওয়ায় খুব একটা বেশি মনে হচ্ছে। চলতি বোরো ধানের কৃষকরা ধানের ভাল দাম পাওয়ায় মৌসুমি ফল-মূলের প্রতি তাদের কেনার আগ্রহটা বেশি। লিচু ব্যবসায়ী সোহেল রানা জানান, প্রতি বছরের তুলনায় চলতি বছরে রসালো মৌসুমি ফল লিচু বাজারে একটু আগেই পেয়েছি। বিশেষ করে নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদীতে পুরোদমে লিচু নামানো শুরু হওয়ায় আমরা ওই এলাকা থেকে পাইকারি নিয়ে রাণীনগর এলাকায় বিক্রয় করছি। চাহিদা বেশি থাকায় আমাদের ব্যবসা এবার ভাল হচ্ছে। তবে সপ্তাহ খানিক পরে জামাই-মেয়ের আনা-নেওয়ার ধুম পড়লে আমাদের ব্যবসা আরো ভাল হবে।

জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান আর নেই

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান আর নেই। আজ রোববার সকাল ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর আসাদগেটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী অধ্যাপক রেহানা বেগম ও এক ছেলে, এক মেয়ে রেখে গেছেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন শফিউল আলম প্রধান। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শ্বাসকষ্টজনিত সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন শফিউল আলম প্রধান। তিনি নিজ বাসভবনেই ইন্তেকাল করেছেন। এদিকে খবর পেয়ে শফিউল আলম প্রধানের বাসায় ছুটে গিয়ে পরিবাারের সদস্যদেরকে সান্ত¦না দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া শফিউল আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসললাম আলমগীর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিএনপির

গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশ বেআইনিভাবে তল্লাশি চালিয়েছে অভিযোগ করে এজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। আজ রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান। তিনি বলেন, সরকার সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চেয়াপারসনের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। এজন্য আমরা আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। কারণ আমরা মনে করি, সম্পূর্ণভাবে বেআইনি কাজ করেছে পুলিশ। সেজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবশ্যই সেটার জবাব দিতে হবে, তাকেই এর দায় বহন করতে হবে। সেজন্য আমরা তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) পদত্যাগ দাবি করছি। একই সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে সারাদেশে গণগ্রেফতার শুরু করেছে। আমরা কাছে এখনই খবর এসছে, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলাতে ১৭ জন নেতা-কর্মীকে গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সাতক্ষীরায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। গতরাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার সাহেবের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। এভাবে সারাদেশেই পুনরায় আবার নতুন করে গণগ্রেফতার শুরু করেছে। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, হাবিবউন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যখন দেশে একটা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার শুরু করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি, যখন আমরা ‘ভিশন ২০৩০’ দিয়েছি। এরপরপরই গুলশানে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেত্রীর কার্যালয়ে যে আগ্রাসন হয়েছে- এটা নজির বিহীন ঘটনা। এ ধরণের ফ্যাসিবাদী আক্রমন দেশে যে গণতন্ত্রের ন্যুনতম ভবিষ্যৎ আছে, তাকে বিনষ্ট করবার একটা পাঁয়তারা। এটা উস্কানিমূলক। আমরা মনে করি, একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের কার্যালয়ে বেআইনিভাবে পুলিশি তল্লাশি অভিযান গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত বহন করছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের স্বাধীনতার জন্যে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে, মানুষের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি একটি অত্যন্ত ঘৃণিত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
আমরা মনে করি, এটা একটি ফ্যাসিবাদী আক্রমণ। এ থেকে আবারো প্রমাণিত হলো, এই সরকার গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে না। তারা গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং জনগণের অধিকারকে হরণ করছে। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশের পরিচালিত তল্লাশিটি বেআইনি হয়েছে দাবি করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, 'সিআরপিসি‘র বিধান হচ্ছে- এরকম তল্লাশি করতে হলে স্থানীয় দুই গণমাণ্য ব্যক্তি অবশ্যই থাকতে হবে। এখানে দেখা যাচ্ছে, গণমান্য ব্যক্তি কাউকেই অবহিত করা হয়নি। আইনের আরো বিধান হচ্ছে, যে ভবনটি তল্লাশি করবে, সেই ভবনের যে মালিক বা সেই ভবনের যারা থাকেন, তাদেরকে অবহিত করবেন। প্রথমে বলবেন, তাদের দরজা এবং যেভাবে আছে সেগুলো খুলে দিতে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, তল্লাশির পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জেনেছি, তারা কোনো গণমান্য ব্যক্তি তো নেননি। ওই অফিসে যে দু'জন পিয়ন ছিলো, তাদেরকে একটি কক্ষে আটকিয়ে রেখে তল্লাশি করেছে। এসব কাজ সম্পূর্ণরূপে বেআইনি। পুলিশ সিআরপিসি‘র ১০৩ ধারা লঙ্ঘন করেছে এবং ৯৬ ধারাও যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হয়নি। আদালত যে আদেশ দিয়ে তা প্রতিপালনে তারা আইনের কোনো তোয়াক্কা করে নাই। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের অফিসে তল্লাশি করা ইতিপূর্বে আমার প্রায় ৩৭ বছরে আইন পেশায় আমি কখনো দেখিনি। এখানে আদালত শুধুমাত্র আদেশ নিয়েছে কিন্তু কোনো পরোয়ানা ইস্যু হয় নাই। দলের সিনিয়র আইনজীবীরা বিষয়টি নিয়ে বসে ‘পরবর্তী পদক্ষেপ’ গ্রহণ করবে বলে জানান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন।

বিএসসির বহরে আরো ৬টি নতুন জাহাজ যুক্ত হবে : নৌপরিবহন মন্ত্রী

আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) বহরে আরো ছয়টি নতুন জাহাজ যুক্ত হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান জাহাজগুলোর প্লেট কাটিং (কিল লেয়িং) অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে চীন থেকে ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে ছয়টি নতুন জাহাজ কিনবে। ছয়টি জাহাজের মধ্যে তিনটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার। প্রতিটির ধারণক্ষমতা হচ্ছে ৩৯,০০০ ডেড ওয়েট টন (ডিডব্লিউটি)। জাহাজগুলো চীনের জিয়াংশু প্রদেশের ওয়াই জেড জে শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন বলে মন্ত্রী জানান। চায়না ন্যাশনাল ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট মেশিনারিজ কর্পোরেশন (সিএমসি) থেকে ছয়টি জাহাজ ক্রয়ে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে চীন সরকার ঋণ হিসেবে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি এবং বিএসসি’র নিজস্ব তহবিল হতে ৩৯৫ কোটি টাকা দেয়া হবে। উল্লেখ্য, অয়েল ট্যাংকার দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পরিশোধিত আমদানিকৃত তেল পরিবহন করা হবে। বাল্ক ক্যারিয়ারে খোলা পণ্য, সারসহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা পরিবহণ করা হবে। ছয়টি জাহাজ যুক্ত হলে বিএসসির আর্থিক অবস্থা চাঙ্গা হবে, বিএসসি আগের মতো ঘুরে দাঁড়াবে। আরো উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের সময়ে বিএসসির যাত্রা শুরু হয়। কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবত সর্বমোট ৩৮টি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান বিএসসি’র বহরে তিনটি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি কন্টেইনার এবং দুটি লাইটার ট্যাংকার। জাহাজগুলোর প্লেট কাটিং (কিল লেয়িং) অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য মন্ত্রী গত ১৫ মে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং শনিবার রাতে দেশে ফিরেছেন। সূত্র : বাসস

কান চলচিত্র উৎসবে বোমা আতঙ্ক

বোম্ব আল্যার্ট জারি হল কান চলচিত্র উৎসবে। উৎসবের মধ্যেই একটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায়। সেই ব্যাগটিকে ঘিরেই সৃষ্টি হয় আতঙ্ক। তখনই অ্যালার্ট জারি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এসে ব্যাগটিকে পরীক্ষা করে এবং ব্যাগটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যে সময় বোম্ব অ্যালার্টটি জারি হয়, তখন ‘রিডাউবটেবল’ ছবিটির শুরু হওয়ার কোথা ছিল। কিন্তু বোম্ব অ্যালার্টের জেরে পুলিশ দর্শকদের সাময়িকভাবে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। এরপর স্নফার ডগ নিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কিছু না পাওয়ায় ২০ মিনিট পরই বোম্ব অ্যালার্ট তুলে নেয়া হয়। তবে এরপর কান চলচিত্র উৎসবে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে।

খালেদার অফিসে তল্লাশির প্রতিবাদে ঢাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশী তল্লাশির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।আজ সকাল ৯টার দিকে মিছিলটি কাটাবন মোড় থেকে শুরু হয়ে পি'জি হাসপাতালের বর্হিবিভাগের সামনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়। মিছিলে উপস্তিত ছিলেন সহসভাপতি মোঃ আলমগীর কবির, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান। সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের।যুগ্ম সম্পাদক শাহ্‌ নাওয়াজ, সাইফুজ্জামান, রিয়াদ মোহাম্মাদ ইকবাল হোসেন।সহ-সাধারন সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ।সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আল আমিন, মোহাম্মাদ হারুনুজ্জামান, শেখ শামিম আহমেদ, ঢাবি ছাত্রনেতা আবুবক্কার গাজী আরিফ, সাইফুল ইসলাম মহসিন, আলতাফ হোসেন, আতাউর রহমান খান, তবিবুর রহমান সাগর,
মাসুদুল ইসলাম সাইফুর রহমান, মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক জিহাদুল ইসলাম রঞ্জু, রাশেদুল ইসলাম রাসেল, মুজিব হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম সোহেল, সাদ্দাম হোসেন, সদস্য সোহেল। স্যার এ এফ রহমান হলের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, হাবিব আল রাকিব। সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের যুগ্ম আহবায়ক নাদির শাহ পাটোয়ারি , রিয়াদ রহমান, মোজাম্মেল হোসেন রায়হান। এস এম হলের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, আব্দুর রহমান রনি,রাজু আহম্মদ, মোহাম্মদ নাহিদুজ্জামান। সদস্য আল আমিন, আব্দুর রহমান। বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদল নেতা সোহেল, আজমির হোসেন আখিঁ সহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও কর্মী। বক্তারা সমাবেশ বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সরকার যদি আবার এমন কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সাথে নিয়ে তার সমুচিত জবাব দিবে। একইসাথে বক্তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন।

বনানী ধর্ষণ : মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি

বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং আরো চারটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত। এসব পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি'র কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিদর্শক ইসমত আরার আবেদনে এ আদেশ দেয় আদালত। এর আগে গত ২৮ মার্চ বনানীর একটি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে ঐ দুই শিক্ষার্থী ৬ মে বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার মোট পাঁচ জন আসামির সব কজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্র : বিবিসি

মাঠের পর মাঠে সোনালি ধান ঢেউ, কিন্তু নেই কাটার শ্রমিক

মানিকগঞ্জে এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষিশ্রমিকের তীব্র সঙ্কট এবং উচ্চ মূল্যের কারণে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। তার ওপর যেকোনো মুহূর্তে শিলা বৃষ্টিতে তাদের স্বপ্নের ধানের ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে বলেও তারা শঙ্কিত। এবার জেলায় ধানের ভালো উৎপাদন হয়েছে কিন্তু বর্তমানে ধান কাটা, মাড়াই -ঝাড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। খোরাকি কামলা ( প্রতি দিন ৩ বার খেয়ে) ৬৫০ টাকা খেকে ৭০০ টাকা রোজ। প্রতিমন ধানের উৎপাদন খরচ হচ্ছে ১১০০ টাকা আর বর্তমান বাজার মূল্য ৯০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা। অপর দিকে সরকারিভাবে ধানক্রয় কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। যদিও সরকারি প্রতিকেজি ধান ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ টাকা কেজি। সে হিসেবে সরকারিভাবে প্রতিমন ধান ক্রয় করা হবে ৯৬০ টাকায়। বেশির ভাগ সময় কৃষক পর্যায় থেকে সরাসরি এ ক্রয় করা হয় না। ফলে দালাল-ফরিয়ারাই লাভবান হয়। অনেক কৃষকেরই অভিযোগ ইতিপূর্বে তারা সরকারি মূল্য হতে বঞ্চিত হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার ভাটভাউর গ্রামের ধানচাষী মোঃ আমীর আলীর সাথে কথা হয় গজারিয়ার চকে তিনি বলেন, কামলার দাম বেশি । আর বর্তমানে যে বাজার দর তাতে আমার চালান উঠবে না। শিবালয় উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের চাষী মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, আমি ৫৪ শতাংশ জমি অর্থাৎ দুই পাখি জমি এক বছরের জন্যে লিজ নিয়েছি, জমির মালিককে আমার ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। দুই পাখিতে আমার সবদিয়ে খরচ হয়েছে ৪৭ হাজার টাকা। তাতে বর্তমান মূল্যে আমার প্রায় ৯ হাজার টাকা লোকসান যাবে। ভাটভাউর গ্রামের ধানচাষী মোঃ শাহিদ আলী বলেন, ধানকাটা শ্রমিকের যে দাম তাতে শুধু কাটার জন্যেই অর্ধেক ধান তাদের দিয়ে দিতে হয়। যদি সরকার থেকে আধুনিক ধান কাটা ও মারাইয়ের মেশিন সরবরাহ করা হতো, তাহলে আমরা আবাদ করে একটু শান্তি পেতাম। সারা চকভরা পাকা ধান কিন্তু ধানকাটার (শ্রমিকের) অভাবে আমরা ধান ঘরে তুলতে পারছি না। শিবালয় উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের মোঃ সমেজ উদ্দিন বলেন,চকের পর চক পাকা ধান । আল্লাহ না করুন যদি কোন শিলা বৃষ্টি বা ঝড় হয় তাহলে আমদের সারা বছরের সব আয় শেষ। সরকারী ভাবে ধান কাটার মেশিন সরবরাহের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ব্যবস্থা নিলে আমরা সরকার নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করবো।
সরকারি ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম-সংক্রান্ত ব্যাপারে জেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম বলেন, এ বছর জেলায় ২৯১ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো ধান সংগ্রহের কোনো লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। কৃষি শ্রমিক সঙ্কটের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আলিমুজ্জাম মিয়া বলেন, এ বছর জেলায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৪ টন। এ হিসাবে এবার জেলার ধান উৎপাদন হবে ১ লাখ ৭৬ হাজার টন। তিনি বলেন, জেলায় এখনো ৭০ শতাংশ ধান মাঠে রয়েছে। শুধু এক বিঘা ধান কাটার জন্যেই কৃষকদের খরচ হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। এটা আসলেই খুবই কষ্টকর ব্যাপার। তবে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে ধান কাটাই, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তা বন্দি করার কম্বাইন্ড সারভেস্টার মেশিন কৃষকদের মাঝে অর্ধেক দামে প্রদান করা হবে। প্রতিটি মেশিন ৭ লাখ টাকা করে। কিন্তু সরকার সাড়ে ৩ লাখ টাকার তা কৃষকদের মাঝে প্রদান করবে। এ মেশিনের মাধ্যমে দিনে ১০০ একর জমির ধান কাটা সম্ভব। এতে প্রতি বিঘার কৃষকের খরচ হবে মাত্র ২০০ টাকা। এটা তো সাধারণ কৃষকদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়? সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের কাছ থেকে খরচ নিয়ে এ মেশিন দেয়া সম্ভব কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জেলায় বর্তমানে দুটি মেশিন বেসরকারিভাবে চলছে। আর সরকারিভাবে ১টি চলছে তবে এটি দিয়ে শুধু সরকারি প্রদর্শনী প্রকল্পে ধান কাটা হচ্ছে। তবে আগামী প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে মেশিনের ব্যাবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। কৃষি শ্রমিকের অভাবে স্কুল-কলেজ –মাদ্রাসাপড়ুয়া ছাত্র, চাকজিীবি, পীরের মুরিদানসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ধান ঘরে তুলতে মাঠে নেমে পড়েছে। জেলার ধান চাষীদের দাবি, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ন্যায্য খরচ নিয়ে তাদের কম্বাইন্ড সারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

সৌদি বাদশার সঙ্গে ট্রাম্পের 'তলোয়ার' না

প্রথম বিদেশ সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের সঙ্গে ঐতিহাসিক এক নৃত্যে অংশ নিয়েছেন। শনিবার রাতে বাদশাহ আব্দুল্লাহ আজিজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী ‘আরধা নাচে’ অংশ নেন ট্রাম্প। খবর আল-অ্যারাবিয়ার। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এবং হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননসহ অন্যান্য কূটনীতিকরাও তাদের সঙ্গে এই নাচে অংশ নেন। এক লাইনের বিশেষ কবিতা পাঠের মাধ্যমে ‘আরধা নাচ’ হয়ে থাকে। এ সময় ঢোলের তালে তালে পুনঃরায় কবিতা পাঠ করা হয়। আর জাতীয় অনুষ্ঠান হিসেবে সবাই তরবারি প্রদর্শন করেন। ট্রাম্পকেও এই রীতি অনুসরণ করে উৎফুল্ল চিত্তে নাচতে দেখা গেছে। তবে এ সময় তার হাতে কোনো তরবারি ছিল না। সৌদি আরবে এই নাচের মাধ্যমে নৃত্যকারীরা তাদের আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করে থাকেন। একই সঙ্গে বাদশাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। সাধারণত সৌদি সেনাবহিনীর কোনো অর্জন উদযাপনে 'আরধা নাচ' হয়ে থাকে। তবে ইদানিং দেশটির বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবেও এ নাচ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

সিআইএ'র২০ এজেন্টকে 'হত্যা' করেছে চীন

চীনের বিভিন্ন বিষয়ে স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের দায়ে ২০ জনকে কারারুদ্ধ বা হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের। সিআইএ সম্পৃক্ত ওই সব ব্যক্তিকে হত্যার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সংগৃহীত তথ্যও নষ্ট করে দেয়া হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়। তবে তাদের তথ্য কীভাবে সামনে এল, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চীন কি তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহকারীদের চিহ্নিত করেছিল না কি সিআইএ সার্ভার হ্যাক করার মাধ্যমে তথ্য পাচারকারীদের সম্পর্কে জেনেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিআইএ এজেন্টদের মধ্যে একজনকে সরকারি কার্যালয়ের চত্বরে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর এটা ছিল অন্যদের জন্য একটি কড়া বার্তা। তবে সিআইএ'র তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য মেলেনি। সিআইএ'র চার সাবেক কর্মকর্তা জানান, চীনের বিষয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য এজেন্টদের ২০১০ সালে কাজে লাগানো হয়। তবে ২০১১ সালের দিক থেকে ডিপ কাভার এজেন্টদের কার্যক্রম অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে। তাদের আর তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ২০১২ সালে চীনের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করা হয়। বিষয়টি তদন্তে সিআইএ এবং এফবিআই যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

কপাল খুলছে মাইক পেন্সের?

রাশিয়া ইস্যু ও সদ্য বরখাস্ত এফবিআই পরিচালক জেমস কমি বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন এখন অনেকটা অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলেই মনে হচ্ছে। ট্রাম্প যদি অভিশংসিত হন, এ ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসবেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তবে পেন্স প্রেসিডেন্ট হলে বিষয়টা মন্দ হবে না। ইন্ডিপেনডেন্টের সাংবাদিক শন অ’ গ্রাদি এক নিবন্ধে বলেছেন, ট্রাম্পের তুলনায় পেন্স অনেক সতর্ক, আচরণে রক্ষণশীল এবং শিষ্টাচারসম্পন্ন। স্পষ্টত রিপাবলিকান দলের এলিট রাজনীতিকদের একজন তিনি। প্রত্যেক ভাইস প্রেসিডেন্টই জানেন, দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে যদি কোনো ট্র্যাজেডি ঘটে, তাহলে তিনিই সর্বোচ্চ পদটিতে বসবেন। তবে পেন্স নিজের ক্ষেত্রে ভাবতে পারেন, তিনি এখন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে আর মাত্র একটা টুইট দূরে রয়েছেন। রাজনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভুল পদক্ষেপে পরিস্থিতি এখন এতটাই শোচনীয় যে, সেই ধরনের একটা ট্র্যাজেডি যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে। আর পেন্স হয়তো এই বলে শপথপাঠ করবেন, ‘আমি, মাইকেল রিচার্ড পেন্স, শপথ করছি যে, আমি বিশ্বস্ততার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ সর্বশেষ ১৯৭৪ সালে এমনটা ঘটেছিল। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির কারণে মার্কিন রাজনীতি এতটাই ঘোলাটে হয়ে উঠল যে, শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে যেতে হল। কারণ হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৮ আগস্ট নিজের পদত্যাগের বক্তব্যে সতর্কতার সঙ্গে বলেন, ‘পরিশেষে আমার বক্তব্য হচ্ছে, ওয়াটারগেট ঘটনার কারণে আমি হয়তো কংগ্রেসের সমর্থন পাব না এবং যেভাবে জাতীয় স্বার্থে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা দরকার সেভাবে হয়তো পালন করতে পারব না।’ তার এ পদত্যাগের তিনি যে অভিশংসন বা কোনো জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুতির সম্মুখীন হতে চান না সে ব্যাপারে একটা সরাসরি স্বীকারোক্তি ছিল।
ট্রাম্পের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ ইতিমধ্যে নিজের রিপাবলিকান দলের মধ্যে অস্থিরতা দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এছাড়া কংগ্রেসে তার খুব বেশি রাজনৈতিক ভিত্তি নেই। তবে এখনও উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে। আর এ কারণেই প্রায়ই ওয়াশিংটন থেকে বের হয়ে এখানে ওখানে বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। ট্রাম্পের এ সমর্থকরা ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের প্রতি এতটাই আত্মপ্রাণ যে, তারা সময় মতো তাদের মতামত জানান দেবেই। তবে নিক্সনের মতো ট্রাম্পের প্রতি জনগণের ভালোবাসা সত্ত্বেও অভিশংসনের মতো কঠিন প্রক্রিয়া এখন অনিবার্য হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটররা ট্রাম্পের জায়গায় আরেকজনকে বসানোর ক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশ করে দেখছেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জেরে নিক্সনের পদত্যাগের পর ১৯৯০-এর দশকে হোয়াইট হাইস ইন্টার্নি মনিকা লিউনোস্কির সঙ্গে অবৈধ প্রেমের সম্পর্কের কারণে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তবে অভিশংসনের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি তাকে। তবে নিক্সন ও ট্রাম্পের তুলনায় ক্লিনটনের অপরাধ মূলত তুচ্ছই। নিক্সনের মতো ট্রাম্পও ন্যায়বিচারের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মতো অপরাধ করছেন। অদূর ভভিষ্যতে পেন্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নিক্সনের উত্তরসূরি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের মতো প্রেসিডেন্ট পেন্স কি তার পূর্বসূরির কোনো অপরাধ বা সংবিধান লংঘনের কারণে নিঃশর্ত ক্ষমতা মঞ্জুর করবেন কিনা।

মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা দুদকের

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত হওয়া মেয়র এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মান্নানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসানসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার জেলা শহরের দক্ষিণ পলাশপোল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য, আজ সকালে তারিকুল হাসানের নেতৃত্বে কিছু লোক সংঘবদ্ধ হয়ে শহরের দক্ষিণ পলাশপোল এলাকায় স্লোগান দিয়ে নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
এ সময় তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- বিএনপি কর্মী সোহেল আহমেদ মানিক, ইলিয়াস হোসেন বকুল ও ইসমাইল হোসেন। তাদের বিরুদ্ধেও নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওসি মারুফ আহমেদ বলেন, তরিকুলের বিরুদ্ধে নাশকতার আগের কয়েকটি মামলাসহ জেলা মৎস্যজীবী দল নেতা আমানউল্লাহ আমান হত্যার মামলাও রয়েছে।

গাজীপুরে রিভলবারসহ ২ যুবক আটক

গাজীপুরে রিভলবার ও গুলিসহ দুই যুবককে আটক করেছে জয়দেবপুর থানা পুলিশ। শনিবার রাতে নগরীর শিববাড়ি মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক যুবকরা হলেণ, পাবনা সদরের ছাতিয়ানী পশ্চিমপাড়া এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে রাকিব (৩০) ও একই থানার টিকুরী এলাকার বন্দে আলী খানের ছেলে শাহিন খান (৩০)। গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর (ডিআই-২) মো. মমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে শিববাড়ি মোড় এলাকায় এসআই ফিরোজ উদ্দিনের নেতৃত্বে চেকপোস্ট বসানো হয়। রাত ১০টার দিকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চেকপোস্টের দিকে আসলে থামিয়ে ভেতরে থাকা ওই দুই যুবকের দেহ তল্লাশি করে দুই রাউন্ড তাজা গুলিসহ একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়। এ সময় রাকিব ও তার সহযোগী শাহিনকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভূমিমন্ত্রীর ছেলেসহ ১১ জনের জামিন নামঞ্জুর

পাবনার ঈশ্বরদীতে হামলা ও ভাংচুরের মামলায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে শিরহান শরীফ তমালসহ ১১ জনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করীম তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অন্য আসামিরা হলেন, যুবলীগ কর্মী রূপক, জাহাঙ্গীর, জাফর ইকবাল, রনি, প্রিন্স ইসলাম, মাহবুব ইসলাম, সাবিরুল, মেহেদী হাসান, সামসুল ও মাসুম।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মন্ত্রীর শহরের বাড়ি থেকে তমালকে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাকিদের গ্রেফতার করা হয়। তমাল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। পরে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাসের বাড়িতে ওই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর রাতে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান বিশ্বাস ঈশ্বরদী থানায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলেসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মাকে খুঁজতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশু

মাকে খুঁজতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু (১০) শিক্ষার্থী। শনিবার রাতে সাভারের ভাটপাড়া কাঁঠাল বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানায়, রাজবাড়ী জেলার সদর থানার বিলনন্দিপুর গ্রামের ডিম বিক্রেতা স্ত্রী-শিশু কন্যাকে নিয়ে জালেশ্বর এলাকায় রমজান নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত রাতে শিশুটি বাসার সামনে রাস্তায় তার মাকে খুঁজতে যায়।
এ সময় তাকে অপহরণ করে ভাটপাড়া কাঁঠাল বাগান এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে ডিম বিক্রেতা ফরহাদ মিয়া। এ সময় শিশুটির আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে সাভারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

ক্লাসে পড়ান না, টাকা নিয়ে বাসায় পড়ান কিছু শিক্ষক

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন,শিক্ষকতা পেশার মতো একটি মর্যাদাশীল পেশাকে কিছু শিক্ষক প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।তারা ক্লাসে পড়ান না,কিন্তু টাকা নিয়ে বাসায় পড়ান। এর চেয়ে কুশিক্ষা আর কী হতে পারে। রোববার রাজধানীর পলাশীর ব্যানবেইজ ভবনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন। বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান,
অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্যসচিব শরীফ আহমদ ও কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যসচিব শাহজাহান আলম প্রমুখ। সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,অনেক প্রতিকুলতা থাকার পরও দেশে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানের জন্য তা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার মান আরো বাড়াতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষকরাই হলেন এর নিয়ামক শক্তি,তাই তাদের দায়িত্ববান হতে হবে। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষকতায় কিছু অসৎ লোক প্রবেশ করেছেন। তারা ক্লাসে পড়ান না, অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়িতে পড়ান। এমনকি কিছু কিছু শিক্ষক পরীক্ষাকেন্দ্রে এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তরও বলে দেন। শিক্ষকদের এমন আচরণে দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী আরো বলেন, এর চেয়ে কুশিক্ষা আর কী হতে পারে। তাই শিক্ষাদানের মতো মর্যাদাশীল পেশার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে শিক্ষকদেরকে যত্নবান ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

১৪০ চিকিৎসককে চাকরিতে বহালের নির্দেশ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ১৪০ জন চিকিৎসককে চাকরিতে বহালের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুতকালীন সময়টাকে বিনা বেতনে এসব চিকিৎসক কর্মে ছিলেন বলে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে ১৪০ চিকিৎসকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম ও কামরুল হক সিদ্দিকী। বিএসএমএমইউয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও তানজিব উল আলম।
জানা যায়, বিএসএমএমইউ কতৃর্পক্ষ ২০০৫ সালের ১৮ অক্টোবর চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে কয়েকশ' চিকিৎসকও নিয়োগ দেয়া হয়। তবে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান এ নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়ের বিরুদ্ধে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা আপিলের অনুমতির আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন। শুনানির পর আপিল বিভাগে এই আবেদন খারিজ হয়। এই খারিজের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১১০ চিকিৎসক আবেদন (রিভিউ) করেন। এই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ রিভিউ গ্রহণ করে আপিল করার অনুমতি দেন। এরপর ১৪০ জন চিকিৎসক পৃথক পাঁচটি আপিল করেন।

মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম ২ জুলাই পর্যন্ত চলবে

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। রোববার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত মোবাইল কোর্টের (ভ্রাম্যমাণ আদালত)কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা রইলো না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে গত ১১ মে রায় দেন হাইকোর্ট। আদেশে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ গত ১৫ মে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন করেন। আবেদনটি শুনানির জন্য পরে আপিলের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ আপিল বিভাগ ২ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করলেন। দালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।

সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রী

আরব ইসলামিক আমেরিকান (এআইএ) সম্মেলনে যোগ দিতে চার দিনের সফরে সৌদি আরব পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে সৌদি আরবের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন ফয়সল আবু সাক এবং রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ তাকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রা করে প্রধানমন্ত্রীকে রিয়াদের মোভেনপিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। খবর বাসস'। এর আগে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের আমন্ত্রণে শনিবার প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট রাত ৮টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম তাকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।
সফরকালে শেখ হাসিনা মক্কায় হারাম শরিফে পবিত্র ওমরা পালন করবেন এবং মদিনায় হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন। আরব ইসলামিক আমেরিকান (এআইএ) সম্মেলন রোববার সৌদি রাজধানীতে বাদশাহ আবদুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের অন্য নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও সম্মেলনে যোগ দেবেন। তিনি গ্লোবাল সেন্টার ফর কমব্যাটিং এক্সট্রিমিস্ট থট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। শেখ হাসিনা ২২ মে সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে ভোজসভায় যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের উদ্দেশে বিমানে মদিনার উদ্দেশে রিয়াদ ছাড়বেন। ২২ মে বিকালে তিনি জেদ্দার উদ্দেশে মদিনা ত্যাগ করবেন। বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর হারাম শারফে পবিত্র ওমরা পালনের জন্য মক্কায় যাবেন। শেখ হাসিনা ২৪ মে দেশে ফিরবেন। ‘জয় আমাদেরই হবে’ এই স্লোগান নিয়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ও জঙ্গিদের অর্থায়ন খুঁজে বের করার বিষয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ৫৬ আরব ও মুসলিম দেশের নেতারা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। শেখ হাসিনা সম্মেলনে অনেক প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। সম্মেলনের মূল বিষয় বৈশ্বিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নতুন অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, সহনশীলতা এবং সহাবস্থানের মূল্যবোধের প্রসার এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের উদ্যোগ জোরদার করা।

এমপি হারুনের শত শত কোটি টাকার টেন্ডারবাজির কথা কেউ ভোলেনি

রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত হোটেল দ্য রেইনট্রির মালিক বিএইচ হারুনের অবৈধ সম্পদ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপকীর্তির নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। প্রতিদিনই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যেন সাপ বের হচ্ছে! জানা গেছে, আওয়ামী লীগদলীয় এমপি হারুনের রাজনৈতিক কোনো আদর্শ নেই, ‘ক্ষমতা’র কাছাকাছি থাকাই তার মূল টার্গেট। তাই অতীতে তিনি বিএনপির রাজনীতি করেছেন। যোগ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন জাতীয় পার্টিতেও। এমনকি বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা হয়েও ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকে ভাগ-বাটোয়ারা করেছেন শত শত কোটি টাকার টেন্ডার। এ কারণে ওয়ান-ইলেভেনের পর গোপনে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে ছিলেন বিএইচ হারুন। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিএইচ হারুনকে বহুবার ফোন ও মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা দেয়া হলেও আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি কোনো প্রতিউত্তর দেননি। এমপি হারুনের এভাবে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়া প্রকারান্তরে তার দুর্বলতাকেই প্রমাণ করে বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নির্বাচনী এলাকা ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীতে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করেন হারুন। যদিও ওই নির্বাচনে তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্ত্রী তাসমিমা হোসেনের কাছে হেরে যান। এখানে অবস্থা ভালো হবে না বুঝতে পেরে ১৯৯৬ সালে তিনি মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) শাহজাহান ওমরের নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায়। মনোনয়ন লাভের চেষ্টার অংশ হিসেবে একবার রাজাপুরে বিএনপির একটি জনসভায় যোগ দেন তিনি। ওই জনসভায় উপস্থিত থাকা এক বিএনপি নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় তাকে সভা মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন শাহজাহান ওমর।’ এরপর ওই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা চালালেও সফল হননি তিনি। একের পর এক দল বদলের আশ্চর্য ক্ষমতার অধিকারী বিএইচ হারুন। তিনি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর যখন শাহজাহান ওমর পলাতক তখন বিএনপির অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালকে হারিয়ে হয়ে যান আওয়ামী লীগের এমপি। আর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বার এমপি হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, ২০০০ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেআইসিএল (কাজী ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন লিমিটেড) প্রতিষ্ঠা করেন হারুন। তার ভাই মুজিবুল হক কামাল ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি। আর তিনি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানের মোট ৬৫ শতাংশের মালিক ছিলেন তারা দু’জন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কেআইসিএলের তৎকালীন একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ ভাগাভাগি হতো এখানে। অবশ্য এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুব বড় কোনো ঠিকাদারি কাজ তখন হয়নি। সারা দেশে সব মিলিয়ে বড় জোর কয়েকশ’ কোটি টাকার কাজ করেছে কেআইসিএল। কিন্তু প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল তখনকার প্রায় সব ঠিকাদারের মুখে মুখে। সে সময় শতকরা ১০ ভাগ ব্ল্যাকমানির বিপরীতে বহু কাজের ভাগ-বাটোয়ারা হওয়ার নজির রয়েছে বিএইচ হারুনের মাধ্যমে।’ তিনি আরও জানান, কেআইসিএল প্রতিষ্ঠার বেশ আগে ১৯৯৭ সালে ডা. বিএইচএম ইকবালের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বিএইচ হারুন। কিন্তু ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করার সুবাদে দলটির ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা অনেক নেতার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল বিএইচ হারুনের। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই আওয়ামী লীগ নেতা হয়েও চারদলীয় জোট সরকারের প্রভাবশালীদের টেন্ডারবাজিতে খুব সহজেই নিজেকে জড়িয়েছেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কেআইসিএলের একাধিক সূত্র জানায়, ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে গা ঢাকা দেন কেআইসিএলের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। অবস্থা বেগতিক বুঝে গোপনে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বিএইচ হারুন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে কেআইসিএলের কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালায় দুদক। আলোচিত বিএইচ হারুন বা তার ভাইকে আটক করা না গেলেও গ্রেফতার হন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্যই তিনি তখন দেন তদন্ত কর্মকর্তাদের। সেসব তথ্যে উঠে আসে বিএইচ হারুনের নাম। সুচতুর হারুন অবশ্য খুব সহজেই সামলে নেন পরিস্থিতি। মালয়েশিয়ায় থাকাবস্থায় তিনি সম্পর্ক স্থাপন করেন সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের আস্থাভাজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে। তাকে ম্যানেজ করে পৌঁছে যান তৎকালীন সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের এক শীর্ষ ব্যক্তির কাছে। পরে বড় অংকের কথিত দান করার মাধ্যমে আবার ফিরে আসেন দেশে। হাইকমান্ডের বড় বড় নেতাদের ম্যানেজ করার সুবাদে এরপর আর কোনো বিপদে পড়তে হয়নি হারুনকে। ফিরে এসে আবার শুরু করেন জমজমাট ব্যবসা আর রাজনীতি। শোনা যাচ্ছে মালয়েশিয়ায় ৫-৬ মাস থাকাবস্থায় তিনি সেখানে একটি বাড়িও কেনেন।
যেটি এখনও রয়েছে কুয়ালালামপুরে। এসবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের খুশি রেখে কাজ বাগানো ও রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টায় ঢাকার বারিধারা এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে মনোরঞ্জনের নানা ব্যবস্থা করার গুঞ্জনও রয়েছে বিএইচ হারুনের বিরুদ্ধে। একটি ওভারসিজ কোম্পানির নামে ভাড়া নেয়া ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস কর্মকর্তাদের। অবশ্য আলোচ্য ওই ওভারসিজ কোম্পানির মালিকের সঙ্গেও এখন সম্পর্ক খুবই খারাপ হারুনের। সংশ্লিষ্ট এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা দিয়ে যোগাযোগ স্থাপনের সর্বোচ্চ চেষ্টাতেও সাড়া মেলেনি এ আওয়ামী লীগ নেতার। এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তার ভাই মুজিবুল হক কামাল। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর-কাঁঠালিয়া আসনের এমপি বিএইচ হারুনের অপকীর্তির যেন শেষ নেই। স্বার্থের কারণে তিনি শুধু রাজনীতি না, আত্মীয়তাকে জলাঞ্জলি দিতেও পিছপা হননি। জানা গেছে, স্ত্রীর বড় ভাই আরেক আওয়ামী লীগ নেতা ডা. এইচবিএম ইকবালকে সরিয়ে ষড়যন্ত্র করে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে ডা. ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ উঠে তার নেপথ্য জোগানদাতা ছিলেন এমপি হারুন। সেই মুহূর্তে ডা. ইকবাল যখন আত্মগোপনে তখন ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের কোনো সভা কিংবা সিদ্ধান্ত ছাড়াই চেয়ারম্যানের চেয়ারে গিয়ে বসতেন হারুন। যদিও তখন হারুন ছিলেন ওই ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানের (ডা. ইকবাল) বিপদের সময় হারুনের ওই চেয়ারে বসার বিষয়টি মানতে পারতেন না কেউ। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেননি। বিএইচ হারুনের এ ষড়যন্ত্র ‘ফাঁস’ হওয়ায় এরপর আর পরিচালকের উপরের কোনো পদে তাকে (হারুন) উঠতে দেয়া হয়নি।

পুলিশের আবাসন প্রকল্পে ভরাট হচ্ছে খাল!

জনজীবনে স্বস্তি ও শান্তি-শৃঙ্খলার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। আর সেই পুলিশের কারণেই রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে পুলিশ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে বালু ভরাট অব্যাহত রাখায় আশকোনা, হাজী ক্যাম্প, কাওলা, বরুয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পয়োবর্জ্যে তলিয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুম ছুঁই ছুঁই। তাই ভারি বর্ষণ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। এছাড়া ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ, পুলিশ এখনও আইনগতভাবে যে জমির মালিকানা অর্জন করেনি তা ভরাট করছে। আবার পুলিশের হুমকি-ধমকির কারণে প্রকৃত জমির মালিকরা সেখানে গিয়ে বাধা দেয়া তো দূরের কথা অনেকে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট বোয়ালিয়া খাল ভরাট বন্ধ করতে রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) ইতিমধ্যে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু তারা তাও আমলে নিচ্ছে না। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী হাজার হাজার মানুষ প্রতিকার দাবি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অবশ্য ঢাকার ডিসি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘গেজেটবহির্ভূত ৪৬ একর জমি আমরা পুলিশ হাউজিংকে বুঝিয়ে দেইনি। যদি পুলিশ এটা বলে থাকে, তবে সেটা সঠিক নয়। আর খাল ও জলাধার বাদ দিয়েই পুলিশের হাউজিং প্রকল্প করার কথা। কিন্তু যদি তারা সেটা না করে তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এদিকে রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পে খাল এবং পানি নিষ্কাশন নালা ভরাট করার বিষয়টি জানার পর সংকট নিরসনে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সমাধান কতদূর হয়েছে তা তিনি এখনও জানতে পারেননি। তবে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জানা গেছে, কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন বরুয়া মৌজায় প্রায় ৪৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে এ পুলিশ হাউজিং প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত বোয়ালিয়া খাল এবং এ খালের কয়েকটি শাখা-প্রশাখা ছিল। যা দিয়ে এলাকার পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে পুলিশ আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একের পর এক খাল ও এর শাখা-প্রশাখাগুলো ভরাট করা হচ্ছে। এতে করে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবির মুখে সম্প্রতি তিনশ’ ফুট সড়কের পাশ দিয়ে সরু নালা করা হয়। যা দিয়ে প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশন আদৌ সম্ভব নয়। এছাড়া সেখানেই আবার বালু দিয়ে ভরাট অব্যাহত আছে। এলাকাবাসী বলেন, এভাবে তাদের দুর্ভোগের সঙ্গে পুলিশ এক ধরনের মশকরা করছে। সরেজমিন দেখা যায়, বরুয়া টেম্পোস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাগান বাড়ি ব্রিজের নিচে বালু ফেলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে আশকোনা, হাজী ক্যাম্প, লেকসিটি এলাকার পানি বরুয়া এলাকার নিচু জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। বাসা-বাড়ির কানায় কানায় উঠে গেছে পানি। ভারি বর্ষা শুরু হলে ওই এলাকার বাসিন্দারা তাদের বাড়িতে পানি ওঠার আশঙ্কা করছেন। বরুয়ার আশিয়ান মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন পাঁচকানি ব্রিজের নিচে বোয়ালিয়া খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এ বাঁধের কারণেও পানি সরতে পারছে না। আরও দেখা গেছে, ৩০০ ফুট সংলগ্ন পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের এ অংশে বালু ফেলে খাল, ডোবা, নালা ভরাট করা হচ্ছে। এসব বালুর কিছু অংশ পানিতে ভেসে বোয়ালিয়া খালের ব্রিজের নিচের অংশও ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ব্রিজের নিচে শরীর না ভিজিয়ে হাঁটার অবস্থা তৈরি হয়েছে। বরুয়া এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত আলী দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাউজিংয়ের ভরাট কার্যক্রম এই এলাকার পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি তারা ভরাটের আগে পানি সরে যাওয়ার বিকল্প কোনো পথও রাখেনি।
এতে করে এলাকাটি এখন পানিতে ডুবতে বসার উপক্রম হয়েছে। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা (যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার) মারফত আলী দেওয়ান বলেন, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে এই এলাকার পানি নিষ্কাশন নালাগুলো ভরে ফেলা হয়েছে। এখন নতুন করে তারা ৩০০ ফুটের পাশে সরু নালা করেছে, যা দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এ কারণে আশপাশের এলাকার নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পুলিশের হাউজিং প্রকল্পে খাল, জলাধার ভরাটের প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিকে চিঠি দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। জলাধার আইন অনুসরণ করে খাল ও জলাধার ভরাট থেকে পুলিশ হাউজিংকে বিরত থাকতেও অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশকে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখার পক্ষ থেকে সরেজমিন জরিপে দেখা গেছে, কুড়িল-পূর্বাচল লিঙ্ক রোডসংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির আবাসন প্রকল্প এলাকার অভ্যন্তরে বোয়ালিয়া খাল ভরাট করা হচ্ছে, যা জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর পরিপন্থী।’ সাধারণ মানুষের অভিযোগ এবং সরেজমিন প্রতিবেদন পাওয়ার পর ১৭ এপ্রিল ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান প্রকল্পের পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (উন্নয়ন) এবং বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির দফতর সম্পাদককে এই চিঠি পাঠান। রাজউকের ৩০০ ফুট লেক প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এভাবে খাল ভরাট করলে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ১০০ ফুট খাল প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হবে। কেননা এ খালটি প্রথমে বোয়ালিয়া খালের সঙ্গে যুক্ত হবে। সেখান থেকে এ পানির গতিপথ বালু নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
অধিগ্রহণ না করেই জমি ভরাট : বরুয়া এলাকায় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ৪৬ একর জমি অধিগ্রহণ না করেই ভরাট করে ফেলা হয়েছে পুলিশ হাউজিং প্রকল্পে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল মামলাও চলমান রয়েছে। কিন্তু পুলিশ এসবের কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছে না। এ বিষয়ে বরুয়ার বাসিন্দা ও খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী দেওয়ান যুগান্তরকে জানান, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পে আমাদের প্রকল্পে প্রায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে। অধিগ্রহণের গেজেট প্রকাশের আগেই সেসব জমি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসব জমির কোনো ক্ষতিপূরণ করা হয়নি। বরুয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পে আমাদের তিন বিঘা জমি রয়েছে। অধিগ্রহণ গেজেট না হলেও সেই জমি পুলিশ ভরাট করে ফেলেছে। বরুয়ার আরেক বাসিন্দা আবদুল বারেক দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এখনও বেশ কয়েকটি মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তার প্রশ্ন- এ অবস্থায় পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের কার্যক্রম কিভাবে চলে। এ ছাড়া আমাদের ক্ষতিপূরণের টাকাও এখনও আমরা পুরোপুরি বুঝে পাইনি। এ প্রসঙ্গে পুলিশের সহকারী আইজি (উন্নয়ন) ও পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির দফতর সম্পাদক গাজী মো. মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, শুধু পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের কারণে বরুয়া এলাকার পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। এখানে সমস্যা আরও আছে। তিনি বলেন, বোয়ালিয়া খালের যে অংশ ভরাট করা হয়েছে সে জায়গা ছেড়ে দেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৪৬ একরসহ ডিসি অফিস পুলিশ হাউজিংকে সমুদয় জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছে। সেখানে ভূমি উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। আর সব জমির টাকা ডিসি অফিসকে পরিশোধ করেছে পুলিশ হাউজিং।

অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর আবদুল্লাহ খালিদের ইন্তেকাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে স্থাপিত বিখ্যাত ভাস্কর্য ‘অপারাজেয় বাংলা’র ভাস্কর ও একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার দিনগত রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। বেসরকারি যমুনা টিভি বারডেমের একজন কর্তব্য চিকিৎসকের বরাতে জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় অবস্থার গুরুতর অবনতি হতে শুরু করে রাতে মারা যান শিল্পী আবদুল্লাহ খালিদ। মরহুমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে সিলেটে হাপানিসহ বার্ধক্যজনিত কারণে আবদুল্লাহ খালিদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে প্রথমে সিলেটের রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ২ মে তাকে রাজধানীর গ্রীনরোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১০ মে তাকে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
এরমধ্যে শনিবার রাতে তিনি মারা যান। বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টস (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) থেকে চিত্রাঙ্কন বিষয়ে স্নাতক এবং পরে ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। চট্টগ্রামে শিক্ষকতাকালে তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে কলা ভবনের সামনে নির্মিতব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক 'অপরাজেয় বাংলা' নির্মাণের দায়িত্ব পান। ১৯৭৩ সালে অপরাজেয় বাংলার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পাঁচ বছর পর ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর উদ্বোধন করা হয়। আবদুল্লাহ খালিদ ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত ম্যুরাল আবহমান বাংলা এবং ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থিত টেরাকোটার ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে 'অঙ্কুর', 'অঙ্গীকার', 'ডলফিন', এবং 'মা ও শিশু'। আবদুল্লাহ খালিদ শিল্পকলা ও ভাস্কর্যে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। সূত্র: উইকিপিডিয়া

মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা

মানিকগঞ্জে সাটুরিয়া উপজেলায় জসিম মোল্লা (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। রোববার  বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাজলকুড়ি এলাকা থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ী জসিম মোল্লা ওই এলাকার খোরশেদ মোল্লার ছেলে। তিনি ক্যাবল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।   নিহত জসিম মোল্লার এক প্রতিবেশি জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে কথা বলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
এরপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। পরে রোববার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভূট্টা ক্ষেতে তার গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের পর নিশ্চিত করে সবকিছু বলা যাবে। তবে, প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিচারের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষিত শিশুকে ফের ধর্ষণ, প্রবাসী আটক

সিলেটে ধর্ষিত এক শিশুকে বিচার পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে আটকে রেখে তার ওপর আবারও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে বিয়ানীবাজারের দিলগ্রামে অভিযান চালিয়ে সারোয়ার আহমেদ (৩৫) নামে এক লন্ডন প্রবাসীকে আটক করেছে র‌্যাব। আর ওই বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সদস্য ও র‌্যাব জানায়, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এরালিগুল গ্রামের এক দরিদ্রের বাবার ছোট মেয়ে ওই শিশুটি। তাদের বড় ছেলে একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর গ্রামের প্রভাবশালীরা তাদের গ্রামছাড়া করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি তার স্ত্রী ও এক শিশু সন্তানকে নিয়ে গ্রামে ছেড়ে চলে যান। তবে ১২ বছরের ওই কন্যাশিশুকে নিরাপত্তার জন্য  বড় ভাইয়ের কাছে রেখে যান। তিনি নিজে স্ত্রী ও শিশু সন্তানটিকে নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার দিলগ্রামে লন্ডন প্রবাসী সারোয়ার আহমেদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। শনিবার রাতে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সামনে ধর্ষিত শিশুর বাবা যুগান্তরকে বলেন, 'কয়েক দিন পরই ভাই সামসুদ্দিনের ছেলে জমির উদ্দিন কৌশলে আমার মেয়েকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে উপজেলার ছোটফৌজ গ্রামের মুজির উদ্দিন ও নারাইনপুর গ্রামের আজির উদ্দিনকে নিয়ে জমির তার ওপর পালাক্রমে যৌন নির্যাতন চালায়। পরে তারা আরও বেশ কয়েক দিন তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।'
তিনি জানান, এক পর্যায়ে মেয়ে কৌশলে বিষয়টি আমাকে জানালে গত ২৭ এপ্রিল তাকে নিয়ে প্রবাসী সারোয়ারের বাড়িতে আশ্রয় নেই। ইতিমধ্যে শিশুটি তার মাকে তার ওপর চলা পাশবিক নির্যাতনের সব ঘটনা খুলে বলেন। বাবা বিষয়টি শুনে প্রবাসী সারোয়ারের সাহায্য চান। তিনি সাহায্যে এগিয়ে এসে ২৯ এপ্রিল শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পান এবং চিকিৎসা শেষে ৩০ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার ক্ষেত্রে বাধ সাধেন সারোয়ার। তিনি মেয়েটিকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। আক্ষেপ করে ধর্ষিতার বাবা জানান, যার কাছে আশ্রয় নিলাম, সেই সারোয়ার কয়েক দিন পর আমার এই মেয়ের ওপরই পাশবিক নির্যাতন শুরু করেন। শিশুটি আবারও তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানালে, বিষয়টি সারোয়ারের মা ও স্ত্রীকে জানানো হয়। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। সারোয়ার স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন শ্বশুর বাড়িতে। এরপর তিনি শিশুটিকে রেখে দেন তার নিজ ঘরে। শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা-মা বাড়ি চলে যেতে চাইলে তাদের ওপর নির্যাতন চালান সরোয়ার। সবশেষ নির্যাতনের মাত্রা এতটাই প্রকট হয় যে, মেয়েটিকে রেখেই পালিয়ে আসেন তারা। সারোয়ারের নির্যাতনে গুরুতর আহত শিশুর মাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বসেই মেয়েটির জন্য কাঁদছিলেন দরিদ্র বাবা। তার গ্রামের বাড়ির সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমেদ বিষয়টি যুগান্তরকে জানান। পরে র‌্যাব-৯ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মুনির আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি ভিকটিমের মায়ের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রাতেই অভিযানে যায়। রাত আড়াইটায় র‌্যাব বিয়ানীবাজার উপজেলার দিলগ্রামে সরোয়ারের বাড়িতে পৌঁছে সারোয়ারের পাশের কক্ষ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটির সঙ্গে র‌্যাব কর্মকর্তারা কথা বলে সারোয়ারকে আটক করেন। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী র‌্যাব-৯ এর কোম্পানি কমান্ডার মুনির আহমেদ যুগান্তরকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছেন তারা। উদ্ধারের পর কথা হয় ভিকটিম শিশুটির সঙ্গেও। সে যুগান্তরকে তার ওপর বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। কাঁদতে কাঁদতে শিশুটি জানায়, হাত-পা বেঁধে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় চাচাতো ভাই জমির উদ্দিন ও তার সহযোগীরা। যন্ত্রণায় ছটফট করলেও তারা ছাড়েনি। কাউকে বললে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। সেখান থেকে মুক্ত হয়ে সারোয়ারের যৌন নির্যাতনের শিকার হয় দু'দিন। বিষয়টি সারোয়ারের মা এবং স্ত্রীকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে জানায় শিশুটি। দরিদ্র পিতা তার কন্যাশিশুর নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

বহু বাগানের মালিক এখন জেলের মালী

হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি। বেশ কয়েকটি চা বাগানও আছে তার। বাগান করার শখ আগে থেকেই। তবে সময়ের ব্যবধানে তিনি এখন মালীর ভূমিকায়। কারাগারের ভেতরে বেশ কিছু দিন ধরে ঠিকঠাকভাবে অর্পিত দায়িত্বটি পালন করে যাচ্ছেন তিনি। সিলেটের বিতর্কিত ব্যবসায়ী এবং কথিত দানবীর রাগীব আলীর কথাই বলা হচ্ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারা অভ্যন্তরে তিনি বাগানে পানি দিচ্ছেন। পরিচর্যা করেন ফুল বাগানের। আগাছা পরিষ্কার করছেন প্রতিদিন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাগীব আলীর জন্য এ কাজ নির্ধারণ করে দিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ। তার সঙ্গে আছেন ছেলে আবদুল হাইও। তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কারাগারের লাইব্রেরির বই বিতরণ ও গ্রহণের। অনেকটা লাইব্রেরিয়ানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কারাগারে বাবা-ছেলে দু’জনেরই পরনে কয়েদির পোশাক। দুটি মামলায় রাগীব আলী ২৭ বছর এবং তার ছেলে আবদুল হাই ২৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি এবং প্রতারণা করে তারাপুর চা বাগান দখলের মামলায় তারা সাজাপ্রাপ্ত। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে থাকছেন ৯২৮৯/এ নম্বর কয়েদি রাগীব আলী। ছেলে আবদুল হাইয়ের কয়েদি নং ৯২৮৮/এ।
আইন অনুযায়ী, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারা ভোগের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমও করতে হয়। কারাগারের কাজের মধ্যে রয়েছে, রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাগান পরিষ্কার অর্থাৎ মালীর কাজ ও কারাগারের লাইব্রেরির বই ব্যবস্থাপনা। বাব-বেটার জেলজীবন নিয়ে কথা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সগির মিয়ার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে জানান, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাধারণত কারাগারে ভেতরের কাজগুলো ভাগ করে দেয়া হয়। তবে সামাজিক সম্মান আর বয়সের কথা বিবেচনা করে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কাজ দেয়া হয়। রাগীব আলী যেহেতু ৮৩ বছরের বৃদ্ধ, তাই তার ইচ্ছা অনুযায়ী বাগানের মালীর কাজ দেয়া হয়েছে। তিনি নিয়মিত কাজ করেন। বাগান পরিচর্যা করেন। বাগানে পানি দেন। আগাছা পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা দিনে ৬ ঘণ্টা ১৫ মিনিট কাজ করেন। সকাল ৮টা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাজ করেন। তিনি বলেন, দুটি মামলা চলাকালীনই রাগীব আলী কারাগারে আসেন। প্রথম মামলার রায়ে ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়ার পরই রাগীব আলী ও তার ছেলেকে কারাগারের পোশাক দেয়া হয়েছে। তবে রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইকে দিয়ে তেমন কোনো কাজ করানো যায় না। তিনি কোনো কাজ ঠিকমতো করতেও পারেন না। তাই তাকে লাইব্রেরির বই দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বন্দিদের বই দেন আবার তা ফেরত নেন। তার সাজা হয়েছে ২৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের নিয়ে প্রকাশিত বার্ষিক সাময়িকী ‘হু’জ হু’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৬ সালে ১৮ বছর বয়সে লন্ডনে যান রাগীব আলী। সেখানে শেয়ারবাজার, বীমা, আবাসন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা করে তিনি বিত্তশালী বনে যান। পরে দেশে এসে ব্যবসায় হাত দেন। সাউথইস্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রাগীব আলী সিলেট টি কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী টি কোম্পানি লিমিটেড, রাজনগর টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিক। ইউনিয়ন সিন্ডিকেট লিমিটেড, রাগীব আলী সিকিউরিটিজ লিমিটেড, দৈনিক সিলেটের ডাকে তার মালিকানা রয়েছে।
ইংরেজি দৈনিক ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের পর্ষদেও তার নাম রয়েছে। সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, লিডিং ইউনিভার্সিটি ও ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তিনি। একসময় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ডেও চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া মাতৃভূমি কামাল বাজারের একটি এলাকাকে নিজের নামে ‘রাগীব নগর’ নামকরণ করেন। কথা হয় সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উলাহ শহীদুল ইসলাম শাহিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রভাব খাটিয়ে সরকারি স্কুলের জায়গা দখলে নিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের নির্যাতন করেছেন। জালিয়াতি করে দেবত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান দখলে নিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারতেন না। তিনি বলেন, প্রভাবশালী রাগীব আলীর বর্তমান অবস্থা সমাজকে শিক্ষা দেবে। যারা অপরাধ করছেন বা অন্যায় প্রভাব খাটাচ্ছেন, তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় জামায়াত-শিবিরসহ মৌলবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও দেখা গেছে তাকে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হলে হঠাৎ ‘প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক’ বনে যান রাগীব আলী। সে সময় তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারাও সংবর্ধনা দেন রাগীব আলীকে। এ সময় নিজের মালিকানাধীন দৈনিক সিলেটের ডাকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে ‘প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক’ হিসেবে পরিচিত দেয়া শুরু করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে থেকে দেশের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলে পণ্য পরিবহন কর্মবিরতি শুরু

সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ, কাগজপত্র পরীক্ষার নামে পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ সাত দফা দাবি আদায়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় রোববার সকাল ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। শনিবার বিকালে উত্তরবঙ্গ ট্রাক, ট্র্যাঙ্ক লরী, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ কর্মসূচির ডাক দেয়। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রাস্তায় কোনো পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করছে না। কমিটির আহবায়ক আবদুল মান্নান আকন্দ যুগান্তরকে বলেন,
সাত দফা দাবিতে শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন কর্মবিরতি শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি জানান, যানবাহনের কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স চেকিংয়ের নামে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, অবিলম্বে বাম্পার, সাইড অ্যাঙ্গেল ও হুক খোলার সরকারি আবেদন প্রত্যাহার, ২০১৭ সালের মন্ত্রিসভায় নতুন খসড়া আইন প্রত্যাহার, বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ওয়ে স্কেলের নামে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ, সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

নরসিংদীর 'জঙ্গি আস্তানা'র ৫ যুবকের আত্মসমর্পণ

নরসিংদীর শহরতলির গাবতলী উত্তরপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ির ভেতর থেকে পাঁচ যুবক আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে পরপর পাঁচ যুবককে ওই বাড়ি থেকে বের করে র‌্যাবের মাইক্রোবাসে তুলে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে শনিবার বিকাল থেকে গাবতলী উত্তরপাড়া এলাকার বাড়িটি ঘিরে রাখে র‌্যাব-১১-এর একটি দল। স্থানীয় লোকজন জানান, ঘেরাও করা ওই বাড়ির মালিকের নাম মঈন উদ্দিন ওরফে মঈন আহমেদ। তিনি দুবাইয়ে থাকেন। বাড়িটিতে তার পরিবারের কেউ থাকেন না। র‌্যাব মঈনের ছোট ভাই জাকারিয়াকে আটক করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঈন উদ্দিনের বাড়ির কাছেই নরসিংদী জামেয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসা। সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ওই মাদ্রাসার কামিল শ্রেণির ছাত্র পরিচয় দিয়ে চলতি মাসের ৩ তারিখ মঈন উদ্দিনের বাড়িটি ভাড়া নেন।
এরপর ওই বাড়িতে সালাউদ্দিন চার থেকে পাঁচজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। র‌্যাবের ধারণা, তারা জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সক্রিয় সদস্য। ওই বাড়িতে অবস্থান করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযান শেষে র‌্যাবের মিডিয়া উইং মুফতি মাহমুদ বলেন, যুবকদের আত্মসমর্পণ করানোই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তাদের  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আতিয়া মহলের জঙ্গিদের সঙ্গে এখানকার আটকদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এর আগে জঙ্গি আত্মগোপন করেছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি নরসিংদীর শেখেরচর, মাধবদীর টাটাপাড়া, বিরামপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের এই অভিযানে জেলা গোয়েন্দা ও সদর থানার পুলিশ অংশ নেয়।

পুলিশের আবাসন প্রকল্পে ভরাট হচ্ছে খাল!

জনজীবনে স্বস্তি ও শান্তি-শৃঙ্খলার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। আর সেই পুলিশের কারণেই রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে পুলিশ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে বালু ভরাট অব্যাহত রাখায় আশকোনা, হাজী ক্যাম্প, কাওলা, বরুয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পয়োবর্জ্যে তলিয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুম ছুঁই ছুঁই। তাই ভারি বর্ষণ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। এছাড়া ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ, পুলিশ এখনও আইনগতভাবে যে জমির মালিকানা অর্জন করেনি তা ভরাট করছে। আবার পুলিশের হুমকি-ধমকির কারণে প্রকৃত জমির মালিকরা সেখানে গিয়ে বাধা দেয়া তো দূরের কথা অনেকে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট বোয়ালিয়া খাল ভরাট বন্ধ করতে রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) ইতিমধ্যে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু তারা তাও আমলে নিচ্ছে না। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী হাজার হাজার মানুষ প্রতিকার দাবি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অবশ্য ঢাকার ডিসি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘গেজেটবহির্ভূত ৪৬ একর জমি আমরা পুলিশ হাউজিংকে বুঝিয়ে দেইনি।
যদি পুলিশ এটা বলে থাকে, তবে সেটা সঠিক নয়। আর খাল ও জলাধার বাদ দিয়েই পুলিশের হাউজিং প্রকল্প করার কথা। কিন্তু যদি তারা সেটা না করে তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এদিকে রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পে খাল এবং পানি নিষ্কাশন নালা ভরাট করার বিষয়টি জানার পর সংকট নিরসনে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সমাধান কতদূর হয়েছে তা তিনি এখনও জানতে পারেননি। তবে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জানা গেছে, কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন বরুয়া মৌজায় প্রায় ৪৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে এ পুলিশ হাউজিং প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত বোয়ালিয়া খাল এবং এ খালের কয়েকটি শাখা-প্রশাখা ছিল। যা দিয়ে এলাকার পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে পুলিশ আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে একের পর এক খাল ও এর শাখা-প্রশাখাগুলো ভরাট করা হচ্ছে। এতে করে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবির মুখে সম্প্রতি তিনশ’ ফুট সড়কের পাশ দিয়ে সরু নালা করা হয়। যা দিয়ে প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশন আদৌ সম্ভব নয়। এছাড়া সেখানেই আবার বালু দিয়ে ভরাট অব্যাহত আছে। এলাকাবাসী বলেন, এভাবে তাদের দুর্ভোগের সঙ্গে পুলিশ এক ধরনের মশকরা করছে। সরেজমিন দেখা যায়, বরুয়া টেম্পোস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাগান বাড়ি ব্রিজের নিচে বালু ফেলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে আশকোনা,
হাজী ক্যাম্প, লেকসিটি এলাকার পানি বরুয়া এলাকার নিচু জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। বাসা-বাড়ির কানায় কানায় উঠে গেছে পানি। ভারি বর্ষা শুরু হলে ওই এলাকার বাসিন্দারা তাদের বাড়িতে পানি ওঠার আশঙ্কা করছেন। বরুয়ার আশিয়ান মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন পাঁচকানি ব্রিজের নিচে বোয়ালিয়া খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এ বাঁধের কারণেও পানি সরতে পারছে না। আরও দেখা গেছে, ৩০০ ফুট সংলগ্ন পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের এ অংশে বালু ফেলে খাল, ডোবা, নালা ভরাট করা হচ্ছে। এসব বালুর কিছু অংশ পানিতে ভেসে বোয়ালিয়া খালের ব্রিজের নিচের অংশও ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ব্রিজের নিচে শরীর না ভিজিয়ে হাঁটার অবস্থা তৈরি হয়েছে। বরুয়া এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা কেরামত আলী দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাউজিংয়ের ভরাট কার্যক্রম এই এলাকার পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি তারা ভরাটের আগে পানি সরে যাওয়ার বিকল্প কোনো পথও রাখেনি। এতে করে এলাকাটি এখন পানিতে ডুবতে বসার উপক্রম হয়েছে। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা (যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার) মারফত আলী দেওয়ান বলেন, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে এই এলাকার পানি নিষ্কাশন নালাগুলো ভরে ফেলা হয়েছে। এখন নতুন করে তারা ৩০০ ফুটের পাশে সরু নালা করেছে, যা দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এ কারণে আশপাশের এলাকার নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পুলিশের হাউজিং প্রকল্পে খাল, জলাধার ভরাটের প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিকে চিঠি দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। জলাধার আইন অনুসরণ করে খাল ও জলাধার ভরাট থেকে পুলিশ হাউজিংকে বিরত থাকতেও অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশকে। চিঠিতে আরও বলা হয়,
‘রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখার পক্ষ থেকে সরেজমিন জরিপে দেখা গেছে, কুড়িল-পূর্বাচল লিঙ্ক রোডসংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির আবাসন প্রকল্প এলাকার অভ্যন্তরে বোয়ালিয়া খাল ভরাট করা হচ্ছে, যা জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর পরিপন্থী।’ সাধারণ মানুষের অভিযোগ এবং সরেজমিন প্রতিবেদন পাওয়ার পর ১৭ এপ্রিল ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান প্রকল্পের পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (উন্নয়ন) এবং বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির দফতর সম্পাদককে এই চিঠি পাঠান। রাজউকের ৩০০ ফুট লেক প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এভাবে খাল ভরাট করলে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ১০০ ফুট খাল প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হবে। কেননা এ খালটি প্রথমে বোয়ালিয়া খালের সঙ্গে যুক্ত হবে। সেখান থেকে এ পানির গতিপথ বালু নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অধিগ্রহণ না করেই জমি ভরাট : বরুয়া এলাকায় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ৪৬ একর জমি অধিগ্রহণ না করেই ভরাট করে ফেলা হয়েছে পুলিশ হাউজিং প্রকল্পে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল মামলাও চলমান রয়েছে। কিন্তু পুলিশ এসবের কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছে না। এ বিষয়ে বরুয়ার বাসিন্দা ও খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী দেওয়ান যুগান্তরকে জানান, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পে আমাদের প্রকল্পে প্রায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে। অধিগ্রহণের গেজেট প্রকাশের আগেই সেসব জমি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসব জমির কোনো ক্ষতিপূরণ করা হয়নি। বরুয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পে আমাদের তিন বিঘা জমি রয়েছে। অধিগ্রহণ গেজেট না হলেও সেই জমি পুলিশ ভরাট করে ফেলেছে। বরুয়ার আরেক বাসিন্দা আবদুল বারেক দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এখনও বেশ কয়েকটি মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তার প্রশ্ন- এ অবস্থায় পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের কার্যক্রম কিভাবে চলে। এ ছাড়া আমাদের ক্ষতিপূরণের টাকাও এখনও আমরা পুরোপুরি বুঝে পাইনি। এ প্রসঙ্গে পুলিশের সহকারী আইজি (উন্নয়ন) ও পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির দফতর সম্পাদক গাজী মো. মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, শুধু পুলিশ হাউজিং প্রকল্পের কারণে বরুয়া এলাকার পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। এখানে সমস্যা আরও আছে। তিনি বলেন, বোয়ালিয়া খালের যে অংশ ভরাট করা হয়েছে সে জায়গা ছেড়ে দেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৪৬ একরসহ ডিসি অফিস পুলিশ হাউজিংকে সমুদয় জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছে। সেখানে ভূমি উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। আর সব জমির টাকা ডিসি অফিসকে পরিশোধ করেছে পুলিশ হাউজিং।

ক্ষোভ-অসন্তোষ তৃণমূলে সভাপতির হুশিয়ারি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একদল এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আরেক দল পেছন থেকে টেনে ধরছে। দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে খোন্দকার মোশতাক ঢুকে গেছে। তাদের কথায় দলের মধ্যে অনৈক্য এবং পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন সময় দলের সাধারণ সম্পাদকের দেয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন জেলা পর্যায়ের এসব নেতা। তারা আওয়ামী লীগের মধ্যে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশের কথাও তুলে ধরেন। তৃণমূলের কমিটি উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া নিয়েও তাদের বক্তৃতায় ক্ষোভ ঝাড়েন। নেতারা দলের অভ্যন্তরের শৃঙ্খলা ফেরানোর জোর দাবি জানান। সবার কথা শুনে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি এমপিদের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দেন। এছাড়া তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মনোনয়নের জন্য পাঠানো নাম যাতে জেলায় গিয়ে পরিবর্তন না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে বলেন। একই সঙ্গে নৌকার বিরুদ্ধে যাতে কেউ অবস্থান না নেন সে বিষয়ে সাবধান করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। দলে অনুপ্রবেশ নিয়ে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও একটা জরিপ করিয়েছেন। কোথায় কে বা কারা জামায়াত-শিবির-বিএনপির লোকদের দলে ভেড়াচ্ছেন সে খবর তার কাছে আছে। তিনি বলেন, নিজের গ্রুপ ভারি করার জন্য অনেকে জামায়াত-শিবির বিএনপিকে দলে টেনে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করেছে, মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে এমন অনেকেই আছে, দলের লোকদের হত্যার সঙ্গে জড়িতরাও আছে। এরা দলের কোনো উপকার নয় ক্ষতিই করবে। এরা আসে কমিশন খাওয়ার লোভে। নানা প্রজেক্টে ভাগ বসাতে আসে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করবে, অপকর্মের দায় থেকে বাঁচতে চাইবে। এদের হাত এতই শক্তিশালী হয় যে, তাদের কনুইয়ের গুঁতোয় নিবেদিত ও ত্যাগী কর্মীরা হারিয়ে যায়।
দলের নেতাদের সতর্ক করে অনুপ্রবেশকারীদের ‘আবর্জনা’ উল্লেখ করে তাদের দলে না নিতে কঠোর হুশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। একই সঙ্গে যারা জামায়াত-শিবির-বিএনপির লোকদের টেনে আনবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দেন। শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বর্ধিত সভায় নিজের সদস্যপদ নবায়নের মাধ্যমে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এর আগে সকাল ১০টা পাঁচ মিনিটে মঞ্চে আসেন তিনি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাগত ভাষণের পর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও শোক প্রস্তাবের পর বর্ধিত সভার উদ্বোধনী ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের উদ্বোধনী ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ আর ২০৪১ সালের মধ্যে গড়ব উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে দলের এবারের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের প্যাকেটের মোড়ক উম্মোচন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তার ভাষণের পর প্রতি জেলার জন্য সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকে একটি করে ল্যাপটপ উপহার দেন তিনি। এরপরই শুরু হয় তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যের পালা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তৃণমূল থেকে আসা ৮ বিভাগের ৮ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা মঞ্চে বসে সবার বক্তব্য শোনেন। পরে সবার অভিযোগ, অনুযোগ ও আহ্বানে সাড়া দেন তিনি। রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজুর মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য শুরু হয়। রাজু তার বক্তব্যে বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক মাঝেমধ্যে এমন কথা বলেন, তখন আমরা ভীত হয়ে পড়ি, দল বুঝি আর ক্ষমতায় আসবে না। এতে আমরা তৃণমূল নেতারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জেলার বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কমিটি কিভাবে হয় আমরা জানি না। জেলা উপজেলার কমিটি ঢাকা থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
আর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা স্থানীয় নেতারা জড়িত না থাকায় জামায়াত, শিবির ও বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীরাও আমাদের দলে জায়গা পাচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে। তারা কাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের ঢুকছে সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে। এগুলো শক্ত হাতে দমন না করলে আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতাকর্মীরা টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, এমপিরা নির্বাচিত হয়ে বলয়ের বাইরে যেতে পারেন না। আর বলয়ের কারণে যাকে-তাকে দিয়ে কমিটি দেয়া হয়। মন্ত্রী-এমপিসহ প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের বলয় গড়তে এবং নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেন তিনি। ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি জহিরুল হক খোকা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় এক মোশতাক ষড়যন্ত্র করেছিল কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের রন্ধ্রে, রন্ধ্রে খন্দকার মোশতাক ঢুকে গেছে। নেত্রী আপনি বারবার মাফ করে দেন। ফলে অপরাধীরা সাহস সঞ্চয় করেছে। আর মাফ করবেন না। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে দেখেছি অশুভ প্রতিযোগিতা। তিনি বলেন, আমাদের একদল আপনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি। আরেক দল আপনাকে পেছনের দিকে টানছে। খোকা বলেন, আমাদের ভেতরে বেশিরভাগ বিরোধ আদর্শের নয়, ব্যক্তিত্বের এবং নেতৃত্বের। এসব বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয়ভাবে কাজকর্মই শুধু জনগণ বিবেচনা করবে না, স্থানীয়ভাবে এমপিরা কি করছেন, সে প্রশ্নও আসবে? সেদিকেও খেয়াল রাখার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দীন আহমদ কামরান বলেন, সিলেট বিভাগে ১৯টি সংসদীয় আসন ছাড়াও জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে যাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে নেতাকর্মীরা রাতদিন খেটে তাদের বিজয়ী করেছেন। কিন্তু বিজয়ী হওয়ার পর এমপি এবং অন্যান্য লাভজনক পদধারীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিজয়ী হওয়ার পর বেশির ভাগই জনপ্রতিনিধি সাধারণ নেতাকর্মীর খবর রাখেননি। আগামীতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। সিলেটের সাবেক এ মেয়র বলেন, তার এলাকায় সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলো কমিটি কিভাবে এবং কখন দেয়া হয় তা তারা জানেন না। তাদের জানানো হয় না। ঢাকা থেকে যাদের নামে কমিটি দেয়া হয় তাদের আমরা চিনি না ,জানি না। অথচ আমরা জানি ওই এলাকায় কে নিবেদিত, কার কত ত্যাগ কে পারবে, আর কে পারবে না। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমাদের সরকারের টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ফলে যে উন্নয়ন হয়েছে সে হিসাবে আমরা জাগরণ সৃষ্টি করতে পারিনি। এমপিদের সঙ্গে সংগঠনের নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দলীয় মুখপাত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, স্পোকসম্যানের কথায় আমরা যদি বিভ্রান্ত হই তাহলে দলের আরও ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, অনেক নেতা মূল দলের কর্মসূচিতে না গিয়ে বিভিন্ন দোকানের কর্মসূচিতে যান এবং তখন সেগুলো নিয়ে সংবাদ হয় অথচ মূল দলের কর্মসূচি সংবাদ হয় না। এ বিষয়টি দলীয় প্রধানের নজরে আনেন তিনি। রাজশাহী জেলার সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব জায়গায় কমবেশি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও অনেক জায়গায় দ্বন্দ্ব আছে, তবে আমি ঐক্যের কথা বলব। দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে তবে নিরসনের উপায় বের করতে হবে। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসুন আমার এলাকায় যেখানে যে সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করি। খুলনা জেলার সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা এনে দিলে ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’- এ স্লোগান দিতে হবে না। তিনি দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় দেখেছি আপনি (শেখ হাসিনা) মনোনয়ন দেন। কিন্তু নৌকার বিরুদ্ধে আরেকজন দাঁড়িয়ে যায়।
তার নিজের ক্ষেত্রেই একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দলে শৃঙ্খলা ফেরানো অত্যন্ত জরুরি। দলের বিরুদ্ধে যদি আমিও যাই, আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় ২ বছর ধরে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসেনের সঙ্গে এ নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছি। তারা নামও পাঠাতে বলল। নাম পাঠালাম। কিন্তু এরপর আর খবর নেই। এ সময় খুলনা আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, সহযোগী সংগঠনের কমিটি হয় অথচ আমি জানি না। সহযোগী সংগঠনের সবাই কমিটি দেন ঢাকায় বসে। তিনি দলের স্পোকসম্যান (মুখপাত্র) একজন করার দাবি জানান। বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বলেন, দলের সিদ্ধান্ত একজনই বলবেন। দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকে কথা বললে আমরা বিব্রত হই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের সমস্যায় ফেলে। বরিশাল বিভাগের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল রাজনৈতিক দল, সেই সঙ্গে একটি বিশাল পরিবারও। আমরা সবাই ভাই ভাই। নিজেদের মধ্যে কোথাও কোনো বিভেদ থাকলে, ভুল বোঝাবুঝি থাকলে মীমাংসা হবে না কেন? হতে হবে। সবাই এক হয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তাদের বক্তব্য শোনার পর প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে নিজ জেলার নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নৌকা প্রতীক যাদের দেব, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দলের পক্ষে কাজ করতে হবে। কেউ অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন না। নৌকার বাইরে যাবেন না। দলীয়প্রধান বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার সময় আমরা তৃণমূলের মতামত নেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ইউনিয়ন, থানা বা পৌরসভা থেকে পাঠানো নাম জেলায় এসে বদলে গেছে। এ রকম ঘটনা যেন আর না ঘটে। ভবিষ্যতে কেউ আর এমন করবেন না। আর নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে ছয়জনই স্বাক্ষর করে পাঠাবেন। মনোনয়নে একমত হতে না পারলে প্যানেল পাঠাবেন, কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেব। দলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি সঠিকভাবে সারা দেশে পালনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি শেষে কেন্দ্রে ফরমের মুড়ি পাঠাবেন। আর নিয়মিতভাবে বছর শেষে কেন্দ্রে সাংগঠনিক রিপোর্ট দেবেন। এছাড়া তৃণমূল নেতাদের সরবরাহ করা বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও-নাশকতা চিত্র এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপির তুলনামূলক উন্নয়নের চিত্র সংবলিত সিডিটি গ্রামের হাটে-বাজারে ও পাড়া-মহল্লায় প্রচারের নির্দেশ দেন তিনি। সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের উদ্বোধন : অনুষ্ঠানের মাঝখানে চাঁদা দিয়ে নিজের সদস্যপদ নবায়ন করেন শেখ হাসিনা। তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক ২০ টাকা দিয়ে নবায়ন করার আহ্বান জানালে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি বেশি দেব, ১০০ বা ৫০০ টাকা দেব। বেশি দিলে আপত্তি নেই তো। ৫০০ টাকা দিয়েই সদস্যপদ নবায়ন করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ফারজানা বেগমকে দিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। জেলা নেতারা সারা দেশে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রতিটি উপজেলার সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের জন্য জেলা থেকে একটি করে উপকমিটি করে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনা জেলা নেতাদের নির্দেশ দেন। এ সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় কমিটির সদস্য, দলীয় মন্ত্রী-এমপি,
জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, প্রচার, দফতর ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক এবং উপপ্রচার ও উপদফতর সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর আওয়ামী লীগের প্রথম বর্ধিত সভা ছিল এটি। সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য বছরের পর বছর কারাগারে আটক ছিলেন। কিন্তু কখনও আপস করেননি। দেশের জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটাই- বঙ্গবন্ধু যে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন, উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা। কী পেলাম-না পেলাম, সেটা বড় কথা না। কতটুকু জাতিকে দিতে পারলাম, সেটাই বড় কথা। এ আদর্শ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি মিনিট ও প্রতিটি সেকেন্ড জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকা ছাড়া দেশের মানুষের উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই জনগণেরে উন্নত জীবন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিশ্রাম নেই। দেশের ইতিহাস মানেই আওয়ামী লীগের ইতিহাস। জনগণের যা অর্জন তা এ সংগঠনের হাত ধরেই এসেছে। বিএনপির ভিশন ২০৩০ আওয়ামী লীগের কাছ থেকেই চুরি করা- এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের কাছে শিখেই বিএনপি নেত্রী ভিশন ২০৩০ দিয়েছে। তাদের ভিশন মানেই জ্বালাও-পোড়াও আর মানুষ হত্যার ভিশন। তাও তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই এ কারণে যে, ‘জ্বালাও-পোড়াও’ থেকে বেরিয়ে এসে এ ধরনের ভিশন দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যা-ই হোক, মানুষ মানুষের কাছে শেখে। তারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে। নকল করে হয়তো পাস করা যায়, কিন্তু দেশের জনগণের দায়িত্ব এটা বিবেচনা করার- ‘চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি ধরা না পড়ে।’ তবু ভালো, তারা হত্যা-সহিংসতার পথ ছেড়ে জাতির সামনে একটা বিষয় তুলে ধরেছে। সভায় বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির মধ্যে কোনো মানবতাবোধ নেই।তাদের রাজনীতি হচ্ছে লুটে খাওয়ার। ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে চলতে দেয়নি। সবক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ছিল তাদের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের পাশাপাশি আন্দোলনের নামে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এই জোটের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও মানুষ পুড়িয়ে মারার বিবরণ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কীভাবে অত্যাচার-নির্যাতন তারা করেছে, সেগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা উচিত। তারা ক্ষমতায় আসতে চায়! ক্ষমতায় এলেই তো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লটুপাট করবে। ক্ষমতায় থাকতে তারা সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু দিতেও পারেনি। ক্ষমতা উপভোগ করেছে। আবারও ক্ষমতায় এলে তারা হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন ও খোয়াব ভবন সৃষ্টি করে লুটপাট করবে। তিনি বলেন, বিএনপি তো ক্ষমতায় ছিল। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারাও ক্ষমতায় ছিলেন। তারা দেশের উন্নতি করতে পারেননি কেন? সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আবার কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে যদি নিজ দলের কেউ জড়িত থাকে, তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। আর জঙ্গি মারা গেলেই খালেদা জিয়ার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার হেতু কী, তাও খুঁজে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।