Tuesday, September 28, 2010

হার্নান্দেজের শেষ মুহূর্তের জাদু

সুপার সাব’ বোধ হয় একেই বলে। ম্যাচের আট মিনিট বাকি থাকতে মাঠে নেমে হাভিয়ের হার্নান্দেজ বাজিমাত করলেন। গোল করলেন, নিজ দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে নিয়ে গেলেন কার্লিং কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ভালো খেলেও শেষ মিনিটের দুঃখে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিতে হলো উলভসকে।
উলভসের জন্য দুঃখ হতেই পারে ফুটবল রস আস্বাদনকারী নিরপেক্ষ দর্শকদের। পুরো খেলায় বরং উলভসই বেশি সুযোগ তৈরি করেছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে বারবার বিপাকে ফেলেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল একেবারেই ম্যাড়ম্যাড়ে। ৪৬ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ম্যাচটি মনে রাখার মতো তেমন কিছুই করতে পারেননি দুই দলের খেলোয়াড়দের। দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রথমে এগিয়ে যায় পর্তুগিজ রিক্রুট বেবের গোলে। উলভসের পক্ষে সমতা ফিরিয়ে নিয়ে আসেন জর্জ এলোকোবি। দক্ষিণ কোরীয় আন্তর্জাতিক পার্ক জি সাং আবার এগিয়ে নেন রেড ডেভিলদের। খেলাটি ২-২ গোলে সমতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন উলভসের কেভিন ফলিস। এর পরেই দর্শকদের উত্তেজনার সাগরে ভাসিয়ে দেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে উপস্থিত হয় ম্যাচের অন্তিম মুহূর্ত। মেক্সিকান স্ট্রাইকার হাভিয়ের হার্নান্দেজ ম্যাচের ৮২ মিনিটের সময় মাঠে নেমে দলকে জয়সূচক গোল উপহার দেন একেবারে শেষ মুহূর্তে।
চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ জিতে দারুণ উচ্ছ্বসিত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ স্যার আলেক্স ফার্গুসন। হার্নান্দেজের প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ তিনি। বলেছেন, ‘অনুশীলনের সময় হার্নান্দেজ সবচেয়ে আগে মাঠে প্রবেশ করে সবচেয়ে শেষে টিম বাসে ওঠে। সে খেলাটির প্রতি দারুণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওর গোল করার যে অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে, সেটাই আজ মাঠে করে দেখিয়েছে।’

সুতার দাম বাড়তে থাকলে বস্ত্র খাত সংকটে পড়বে

সুতা ব্যবসায়ীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন দেশে সুতার দাম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গতকাল রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার এলাকায় বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের মাসিক সভায় নেতারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনের সভাপতি এম সোলায়মানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নেতারা বলেন, সুতার দাম এভাবে বাড়তে থাকলে বস্ত্র খাতে চরম সংকট দেখা দেবে। তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোতে এ বছর তুলার উৎপাদন কম হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দেশে সুতার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
সভায় রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প ও তাঁতশিল্পকে রক্ষার জন্য টেক্সটাইল খাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সুতা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা আরও বলেন, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বন্যার কারণে বিশ্ববাজারে তুলার সংকট দেখা দিয়েছে। আবার স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভারত বাংলাদেশে তুলা রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নেতারা ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে তুলা আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার এবং সুতার দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য স্পিনিং মিলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এসইসির দুটি আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট

কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভির ভিত্তিতে শেয়ারের বিপরীতে ঋণ বিতরণ-সংক্রান্ত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দুটি আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে হাইকোর্ট এসইসির আদেশ কেন অবৈধ হবে না এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বাজার স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। চার সপ্তাহের মধ্যে এসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি সৈয়দা আফসার জাহান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালতে দুই রিট আবেদনকারী মুরশেদুর রহমান ও শাহনেওয়াজ জুয়েলের পক্ষে আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস ও আবুল কালাম আজাদ মামলা পরিচালনা করেন। সরকারপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রাশেদ জাহাঙ্গীর।
যোগাযোগ করা হলে আবুল আলাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, এসইসি গত ৬ ও ২১ সেপ্টেম্বর এনএভির ভিত্তিতে ঋণ বিতরণের জন্য দুটি পৃথক আদেশ জারি করে। এর একটি আদেশে বলা হয়, যেসব বিনিয়োগকারীর অতিরিক্ত ঋণ রয়েছে, তাঁদেরকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সমন্বয় করতে হবে। এসইসির এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল রোববার হাইকোর্টে রিট পিটিশন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসের গ্রাহকদের ঋণ সমন্বয়ের জন্য জোরপূর্বক (ফোর্স সেল) শেয়ার বিক্রি-সংক্রান্ত বিধান স্থগিত করেন।
শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত তারল্যপ্রবাহ কমাতে এসইসি সম্প্রতি গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে প্রণীত একটি পুরোনো বিধান নতুনভাবে কার্যকর করার জন্য উদ্যোগী হয়। এ বিধানে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে তাদের গ্রাহকদের ঋণ দিতে গেলে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে।
মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো শুরু থেকেই এ নিয়মের বিরোধিতা করে আসলেও এসইসি তা আমলে নেয়নি। উপরন্তু, ২১ সেপ্টেম্বর অন্য একটি আদেশে ঋণ বিতরণের জন্য শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রধান ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো খাত থেকে অর্জিত আয়কে বিবেচনায় নেওয়া যাবে না বলে জানায় এসইসি।
একই সঙ্গে বলা হয়, শেয়ারের বিপরীতে প্রাপ্য ঋণের পরিমাণ নির্ধারণে কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের (ত্রৈমাসিক/অর্ধবার্ষিক/বার্ষিক) এনএভির তথ্য ব্যবহার করতে হবে। তবে কোনো কোম্পানি সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করলে অতিরিক্ত সম্পদমূল্য এই হিসাবে আসবে না। কিন্তু মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউস, বিনিয়োগকারীরা এতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, এ পদ্ধতি বিদ্যমান ঋণসংক্রান্ত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য নয়। পদ্ধতিটি মেনে নির্ধারিত সময়ের আগে শেয়ার বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করতে গেলে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন।

আয়কর বিবরণী দাখিলের সময় বাড়ানোর দাবি

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের কারণে অনেক করদাতার পক্ষে সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর বিবরণী দাখিল করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
এ জন্য ব্যবসায়ীসহ সব আয়করদাতার স্বার্থে আয়কর বিবরণী দাখিলের সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।
ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের কাছে এ আহ্বান জানান। এতে আরও বলা হয়, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন এফবিসিসিআই সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে আয়কর আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের প্রক্রিয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও এবং গতকাল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ‘আয়কর’ মেলার সাফল্য কামনা করেছে এফবিসিসিআই।
এদিকে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন আয়কর বিবরণী দাখিলের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রমজান, ঈদ ও পূজার মতো ধর্মীয় উৎসবসহ নানাবিধ কারণে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা আয়কর বিবরণী প্রস্তুত করতে পারেননি।

দেশে স্বর্ণের দর ভরিপ্রতি চলতি মাসেই ১৭৫০ টাকা বাড়ল

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়েছে। চলতি মাসেই দুই দফায় দাম ভরিতে এক হাজার ৭৫০ টাকা বেড়েছে। দেশে এখন সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দর ভরিপ্রতি ৩৯ হাজার টাকা ছুঁই ছুঁই করছে।
গত বুধবার থেকে স্থানীয় বাজারে ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গয়নার দর ৯০০ টাকার বেশি বাড়ানো হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দর সর্বমোট ছয় হাজার টাকার বেশি দাম বাড়ল।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর এখন প্রতি আউন্স এক হাজার ৩০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ক্রমাগত বেড়ে চলা দামের কারণে স্বর্ণালংকার অনেক আগেই মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। উচ্চবিত্তরাই এখন এই ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। এখন যাঁরা আসছেন তাঁরা মূলত বিয়ে-শাদির জন্যই কিনছেন।
বিগত কয়েক বছর ধরে স্বর্ণের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। তবে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই সর্বমোট ১০ বার দর পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে একবার কমানো হয়েছে। আর বাকি নয়বারই বাড়ানো হয়েছে দর।
এই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ দর বেড়েছে ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার। এদিন স্বর্ণের দাম ভরিতে গড়ে ৯০০ টাকার বেশি বেড়েছে।
সর্বশেষ দর অনুযায়ী বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ৩৮ হাজার ৯৫৮ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩৭ হাজার ২০৮ টাকা ও ১৮ ক্যারেট ৩৩ হাজার ১২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সনাতনী হিসেবে পরিচিত দেশি স্বর্ণের অলংকার ভরিপ্রতি ২৬ হাজার ১১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ গত মঙ্গলবারও প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ৩৮ হাজার ২৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩৬ হাজার ৩৩৪ টাকা ও ১৮ ক্যারেট ৩২ হাজার ৩৬৮ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ ছাড়া সনাতনী হিসেবে পরিচিত দেশি স্বর্ণের অলংকার ভরিপ্রতি ২৫ হাজার ১৯৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য এ দামটি ৩ সেপ্টেম্বর থেকে নির্ধারণ করা হয়।

এসইসির আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দাখিল

কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্যের (এনএভি) ভিত্তিতে শেয়ারের বিপরীতে ঋণ বিতরণে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেছেন সংক্ষুব্ধ দুই বিনিয়োগকারী।
বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি সৈয়দা আফসার জাহানের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বেঞ্চে গতকাল রোববার এ রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। মুরশেদুর রহমান ও শাহ নেওয়াজ জুয়েল নামে দুই বিনিয়োগকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ রিট পিটিশনটি দাখিল করেন।
আজ সোমবার এ ব্যাপারে শুনানি হতে পারে।
শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত তারল্যপ্রবাহ কমাতে এসইসি সম্প্রতি ঋণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সংস্থাটি ২০০৬ সালে প্রণীত একটি পুরোনো বিধান নতুন করে কার্যকর করার জন্য উদ্যোগী হয়। এ বিধানে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে তাদের গ্রাহকদের ঋণ দিতে গেলে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে।
এই সূত্র অনুযায়ী, গ্রাহকদের শেয়ারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করে যে ফল পাওয়া যাবে, তার সমানুপাতিক হারে ঋণ দিতে হবে। ঋণ ব্যবস্থাপনা অর্থাৎ শেয়ারের মূল্যপতন ঘটলে বাধ্যতামূলক ঋণ সমন্বয়ের সময়ও এ সূত্র মেনে চলতে বলা হয়েছে।
কিন্তু মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো শুরু থেকেই এ নিয়মের বিরোধিতা করে এলেও এসইসি তা আমলে নেয়নি। বরং বলে দিয়েছে, যেসব গ্রাহকের এ নিয়মের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া রয়েছে, তাঁদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সমন্বয় করতে হবে।
কিন্তু মার্চেন্ট ব্যাংকাররা মনে করেন, এসইসির এ পদ্ধতিতে হিসাব করলে একেক কোম্পানি একেক ধরনের ঋণসুবিধা পাবে। তাই বিপত্তি দেখা দেবে, একজন গ্রাহকের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কত হবে তা নিয়ে।
শুধু তাই নয়, পদ্ধতিটি মেনে নির্ধারিত সময়ের আগে শেয়ার বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করতে গেলে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন।
দুই বিনিয়োগকারী গতকাল এই আদেশটিরই স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে রিট করেছেন।

ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট নির্বাচনে গতকাল রোববার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের জন্য এ নির্বাচনকে বড় ধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শাভেজের ধারণা, তাঁর দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলা (পিএসইউভি) নির্বাচনে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
নির্বাচনপূর্ব জরিপ থেকে জানা গেছে, নির্বাচনে পিএসইউভি ও বিরোধী জোট টেবিল ফর ডেমোক্রেটিক ইউনিটির (এমইউডি) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে কিংবা শাভেজের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলা (পিএসইউভি) সামান্য এগিয়ে থাকবে। তবে ডেলসা সলোরজ্যানোর মতো বিরোধীদলীয় নেতারা ‘বহুজাতিক ভেনেজুয়েলা’ গড়ার লক্ষ্যে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশটিতে নির্বাচন ঘিরে দুই লাখ ৫০ হাজারের মতো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে পার্লামেন্ট নির্বাচন ঘিরে দেশটি কলম্বিয়ার সঙ্গে সব সীমান্ত পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নেপালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের উদ্যোগ অষ্টমবারও ব্যর্থ

নেপালে গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সর্বশেষ উদ্যোগটিও ব্যর্থ হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের সদস্যরা এ নিয়ে আটবার চেষ্টা করেও একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নেপালের মাওবাদী দল ক্ষমতার অংশীদারির ভিত্তিতে একটি নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
পার্লামেন্টে গতকালের ভোটাভুটিতে মাওবাদী আইনপ্রণেতারা ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এই পদে তাঁদের প্রার্থী দলের সভাপতি পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যাতে নতুন একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনে আলোচনার পথ পরিষ্কার হয়। এর আগের ভোটাভুটিতে প্রচণ্ড তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী নেপালি কংগ্রেস দলের নেতা রামচন্দ্র পৌদেলের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন। গতকালের ভোটে রামচন্দ্র একমাত্র প্রার্থী হলেও তাঁর পক্ষে মাত্র ১১৬টি ভোট পড়ে।
৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

চিলিতে আটকে পড়া খনিশ্রমিকদের উদ্ধারে ক্যাপসুল পৌঁছেছে

চিলিতে সান হোসে খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকারী ক্যাপসুল খনি এলাকায় পৌঁছেছে। গত শনিবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেমি মানালিশ এ কথা জানান। ক্যাপসুলটি ইস্পাতের তৈরি একটি বিশেষ ধরনের খাঁচা, যার মাধ্যমে খনির অভ্যন্তর থেকে আটকে থাকা একে একে ৩৩ জন শ্রমিককে বের করে আনা হবে। ওই খনিস্থলে ক্যাপসুল পৌঁছানোর পর উল্লসিত হয়ে ওঠেন সেখানে অবস্থানরত আটকে পড়া শ্রমিকদের স্বজনেরা।
চিলির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে শ্রমিকদের তুলে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। সান হোসের স্বর্ণ ও তামার খনিতে গত ৫ আগস্ট এক দুর্ঘটনায় খনিগর্ভে আটকা পড়েন ৩৩ জন শ্রমিক। বর্তমানে একটি সরু সুড়ঙ্গ দিয়ে তাঁদের খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
দেশটির খনিমন্ত্রী লরেন্স গোলবর্ন বলেন, ফিনিক্স নামের ক্যাপসুলটি আকারে অনেক সরু। মাত্র ২০ ইঞ্চি প্রশস্ত। ২৮ ইঞ্চি প্রশস্ত সুড়ঙ্গ দিয়ে এটিকে খনিগর্ভে শ্রমিকদের কাছে নামিয়ে দিতে আট দিন সময় লাগতে পারে। আশা করা হচ্ছে, প্রায় ৭০০ মিটার গভীর থেকে প্রতিটি শ্রমিককে তুলে আনতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে।
লরেন্স গোলবর্ন আরও জানান, নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর উদ্ধার ক্যাপসুলটি পুরোপুরি প্রস্তুত করতে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে। চিলির তালকাহুয়ানোতে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে তিনটি ক্যাপসুল সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হবে, যাতে একটি নষ্ট হলে অন্যটি ব্যবহার করা যায়।

অচলাবস্থা গিলার্ডের প্রধানমন্ত্রিত্বকেই শঙ্কায় ফেলেছে

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে উঠেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক অচলাবস্থা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শাসনের মেয়াদকেই শঙ্কায় ফেলেছে। রক্ষণশীল বিরোধীদলীয় নেতা টনি অ্যাবোট ইতিমধ্যেই গিলার্ডের নবগঠিত সরকারের পতন ঘটানোর হুমকি দিয়েছেন।
তিন মাস আগে দলীয় এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় প্রধান কেভিন রাডকে সরিয়ে দল ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন গিলার্ড। তখন বলেছিলেন, নির্বাচিত হিসেবেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উঠতে চান। সে অনুযায়ী গত মাসে নতুন নির্বাচনে জিতেই সরকারি বাসভবনে গেলেন গিলার্ড।
অস্ট্রেলিয়ার একটি টেলিভিশনে গিলার্ড বলেন, পার্লামেন্ট পদ্ধতির সংস্কারের বিষয়ে এর আগে টনি অ্যাবোট এর পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন বিষয়টি তাঁর স্বার্থবিরোধী হওয়ায় তিনি প্রস্তাবটি উড়িয়ে দিতে চাইছেন। এটা হতাশাজনক।
তবে অ্যাবোটকে সমর্থন করে রক্ষণশীল দলের উপপ্রধান জুলি বিশপ বলেন, আইনি পরামর্শকেরা বলছেন, যে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি সংবিধানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
অবশ্য গিলার্ড বলেছেন, তিনি আশাবাদী, কাল মঙ্গলবার পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই এ বিষয়ে অ্যাবোটের মনোভাব পরিবর্তন হবে।
এবারের নির্বাচন অস্ট্রেলিয়ায় গত ৭০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রিত্ব্ব নিয়ে স্বস্তিতে নেই গিলার্ড। গুটিকয়েক স্বতন্ত্র এমপির সমর্থনের জোরে ন্যূনতম সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করেছেন তিনি।

ইরানি স্পিকার বললেন ওবামা ‘বিশ্ব খলনায়ক’

গণতন্ত্রের প্রতি ইরানি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে তেহরান। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বারাক ওবামাকে ‘বিশ্ব খলনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইরানের স্পিকার আলী লারিজানির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আইএসএনএ বলেছে, ‘ওবামার কী স্পর্ধা যে তিনি ইরানকে সাহায্য করার ঘোষণা দিয়েছেন? তাঁর এটা জানা উচিত যে তিনি একজন বিশ্ব খলনায়ক।’
আলী লারিজানি আরও বলেছেন, ‘মার্কিনরা যা করছে, তাতে “বিশ্ব শয়তানের পদক” পাওয়ার যোগ্য তারা।’ তিনি বলেন, ‘ওবামার জানা উচিত, তাঁর কোনো পরামর্শের দরকার নেই আমাদের। বরং দরকার, তিনি যা বলেন, তার ওপর বিশ্বাস স্থাপনের মতো সামর্থ্য অর্জন করা।’
ওবামা ইরান নিয়ে বিবিসির ফারসি ভাষার সার্ভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের এক দিন পরেই গত শনিবার আলী লারিজানি এসব কথা বলেন।
ওই সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেছিলেন, বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক নিরসনে ইরানের জন্য কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান হোক, সেটাই আমরা চাই। আমি মনে করি, তাতে বরং ইরানেরই লাভ হবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও লাভবান হবে।’ তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে এ সমস্যার এখনো সমাধান সম্ভব বলে আমি মনে করি। তবে এর জন্য ইরান সরকারের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।’
ইরানি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পক্ষে না বিপক্ষে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানি জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন রয়েছে। যারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে চায় এবং মানবিক মর্যাদা অর্জনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায়, আমরা সব সময়ই তাদের সঙ্গে আছি।’
উল্লেখ্য, মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। আহমাদিনেজাদ পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ায় এই সম্পর্ক আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণদানকালে আহমাদিনেজাদ বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসতে রাজি তেহরান।

শান্তি আলোচনা এখনই বন্ধ হচ্ছে না: আব্বাস

ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে বসতি স্থাপনের ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ না বাড়ালেও এখনই শান্তি আলোচনা বন্ধ করবে না ফিলিস্তিন। সম্প্রতি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে আরব অঞ্চলের পত্রিকা আল-হায়াত।
গতকাল রোববার আব্বাস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে ৪ অক্টোবর আরব লীগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ফিলিস্তিনি পক্ষের প্রধান শর্তই ছিল ইসরায়েলকে বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে ইসরায়েল এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি। এর আগে বসতি স্থাপনের ব্যাপারে ইসরায়েল সরকারের ১০ মাসের একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গতকাল রোববার শেষ হয়েছে। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও বাড়ানো হয়নি।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো না হলে আলোচনা ভেঙে দেবেন কি না, জানতে চাওয়া হলে আল-হায়াত পত্রিকাকে আব্বাস বলেন, ‘না, আগে আমরা ফিলিস্তিনের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং আরব লীগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব।’ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গত ২ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

ম্যানইউ-ভক্ত স্নাইডার

পরিস্থিতি কত দ্রুতই না পাল্টে যায়! এই তো সেদিন ওয়েসলি স্নাইডার গর্ব করে বলছিলেন, ইন্টার মিলানই তাঁর সুখের ঘর। সেখানেই পাড়ি দিতে চান ক্যারিয়ারের বাকিটা পথ। দুই সপ্তাহও ঘুরল না। সেই স্নাইডারই এখন ইন্টার ছাড়তে মরিয়া! প্রত্যাশা অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইন্টারই আসলে স্নাইডারকে বাধ্য করেছে অন্য কিছু ভাবতে। ইন্টারের সঙ্গে তাঁর নতুন চুক্তি ঝুলে আছে। এরই মধ্যে নতুন ঠিকানার খোঁজও চলছে। এক ইংলিশ পত্রিকা জানতে চেয়েছিল, ইংলিশ ফুটবলে খেলবেন নাকি? এই ডাচ মিডফিল্ডারের উত্তর, যাবেন, কিন্তু ঠিকানাটি হতে হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, অন্য কিছু নয়। ‘যদি কেউ একজন আমার কাছে জানতে চায়, আমি ম্যানইউতে খেলব কি না, না বলাটা আমার পক্ষে অসম্ভবই হবে’—বলেছেন ম্যানইউ-ভক্ত স্নাইডার।

নেইমারের গোল

নেইমার আবার খবরে! না, এবার আর মাঠের বাইরের কোনো কাণ্ডের জন্য নয়, ব্রাজিলের এই প্রতিভাবান তরুণ খবরে এলেন গোল করে। পরশু ব্রাজিলিয়ান লিগে ক্রুজেইরোর বিপক্ষে একদম শেষ মুহূর্তে বল জালে জড়িয়ে দেন কিছুদিন ধরে ভুল কারণে খবরে আসা এই স্ট্রাইকার। আগের ম্যাচের পরাজয়ের হতাশা মুছে সান্তোসও জিতেছে ৪-১ গোলে। এই ম্যাচের আগে মারপিট, কোচ-অধিনায়কের সমালোচনা, জরিমানা, নিষিদ্ধ, জাতীয় দলে ডাক না পাওয়া—এই ছিল নেইমারের খবরের কারণ। তাঁকে দলে নিতে রাজি না হওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন সান্তোসের আগের কোচও!

ম্যানইউকে বাঁচালেন নানি-ওয়েন

কাল ১২তম বারের মতো দেখা হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের। আগের ১১ ম্যাচের ১০টিতেই হেরেছে বোল্টন। কালকের ম্যাচের একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক জয়ই হয়তো পেতে চলেছে তারা। কিন্তু দু-দুবার এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত আর পারেনি বোল্টন। ম্যানইউর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করায় আনন্দই হওয়া উচিত, কিন্তু স্মরণীয় এক জয় হাতছাড়া করার দুঃখটাও কম নয়।
ম্যানইউকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন নানি ও মাইকেল ওয়েন। জাট নাইট ৬ মিনিটেই বোল্টনকে এগিয়ে দেওয়ার পর ২৩ মিনিটে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দারুণ ঝলক দেখিয়ে ম্যানইউকে সমতায় ফিরিয়েছেন পর্তুগিজ উইঙ্গার নানি। ৬৭ মিনিটে পেত্রোভ বোল্টনকে আবার এগিয়ে দেওয়ার পর ৭৪ মিনিটে সমতা আনেন ওয়েন। ইংলিশ ফুটবলে এটি ওয়েনের ২০০তম গোল।
ম্যানইউ বেঁচে গেলেও গত পরশু আর্সেনালের ঠিকই পচা শামুকে পা কেটেছে। নিজেদের মাঠে ব্রমউইচের কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে ‘গানার’রা। গোলরক্ষক আলমুনিয়ার ভুলের বড় ভূমিকা ছিল আর্সেনালের পরাজয়ে। তবে কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার অবশ্য একা কারও ওপর দায় না চাপিয়ে বলেছেন, ‘পুরো দলই আজ খারাপ খেলেছে।’

ফুটবলে পাঁচ বিদেশির পক্ষে-বিপক্ষে

বিদেশি ফুটবলারের কোটা নিয়ে দেশে অনেকবারই অনেক রকম সিদ্ধান্ত হয়েছে। কখনো বন্ধ, কখনো দুজন, কখনো তিনজন....একসময় সংখ্যাটা পাঁচও ছিল। আগামী বাংলাদেশ লিগে বিদেশি ফুটবলারের কোটা বেড়ে আবার ৫ জন হয়ে গেছে!
একটা অভিনবত্ব আছে বাফুফের নেওয়া নতুন সিদ্ধান্তে। একটি দল ৫ খেলোয়াড় খেলাতে পারবে, তবে একজন হতে হবে গোলরক্ষক। গোলরক্ষক না খেলালে সর্বোচ্চ ৪ জন খেলানো যাবে। নবাগত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৫-১৬ জন জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিয়ে নেওয়ায় ‘সংকটে’ পড়েছে আবাহনী-মোহামেডান। তার ওপর মুক্তিযোদ্ধাও ভালো দল গড়ছে। দুই প্রধান পড়ে গেছে আরও বেকায়দায়। অনেকে বলছেন, বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা বাড়িয়ে আবাহনী-মোহামেডানের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে বাফুফে। কিন্তু দেশের ফুটবলের জন্য কি এটি ভালো হলো?
মোহামেডান কর্মকর্তা লোকমান হোসেন ভূঁইয়া প্রশ্ন শুনে বললেন, ‘আমরাই তো চেয়েছি বিদেশি খেলোয়াড় বাড়াতে।’ তাঁর যুক্তি, ‘শেখ জামাল ও মুক্তিযোদ্ধা টিম করার পর খেলোয়াড়ই তো নেই, আমরা কাদের নিয়ে মাঠে নামব? মোহামেডানের মতো দল ১১ জন খেলোয়াড় খুঁজে পায় না মাঠে নামাতে! এই অবস্থায় বিদেশি না বাড়িয়ে উপায় ছিল না। আমি বলব, শেখ জামালের উচিত হয়নি প্রায় সব খেলোয়াড় নিয়ে যাওয়া। তাহলে এই অবস্থাটা হতো না।’
আবাহনীরও একই মত। দেশে মানসম্মত খেলোয়াড় কমে গেছে দাবি করে বিদেশি খেলোয়াড় বাড়ানোটাকে যৌক্তিকই বলছে দলটি। ম্যানেজার সত্যজিৎ দাসের (রুপু) বক্তব্য, ‘এটার ভালো-মন্দ দুটি দিক আছে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের বসে থাকা তো দেশের ফুটবলের জন্য ক্ষতিকারকই। কিন্তু অন্যদিকে দেখুন, দেশি খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে বিদেশিদের সঙ্গে। তবে গোলরক্ষক খেলানোর সিদ্ধান্তটা মানতে পারছি না আমরা। ১২ দলে ১২ বিদেশি গোলরক্ষক খেললে দেশ থেকে গোলরক্ষকই তো হারিয়ে যাবে!’
গত পরশু ক্লাবে ২১ জন বিদেশিকে ট্রায়ালে ডেকেছিল যে ব্রাদার্স, সেই দলের ম্যানেজার আমের খান বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা বাড়ানোর বিপক্ষে, ‘আমাদের ফুটবলে এখন মানসম্মত খেলোয়াড়ের খুব অভাব। এখনকার বিদেশিরা হয়তো আমাদের খেলোয়াড়দের চেয়ে দৈহিক শক্তিতে এগিয়ে। কিন্তু টেকনিক্যালি কোনো পার্থক্য নেই। শুনেছি, স্থানীয় খেলোয়াড়ের হাট বসানোর পরও শেখ জামাল ৪ জন বিদেশি আনছে। এমন হলে তো আমাদের অনেক খেলোয়াড় হারিয়ে যাবে।’
এই উপলব্ধিটা সবারই কমবেশি আছে। আবাহনী-মোহামেডান হয়তো পরিস্থিতির দায় মেটাতে এর পক্ষেই। কিন্তু খেলোয়াড়েরা এর বিপক্ষে। আমিনুল যেমন বললেন, ‘৫ জনের বিদেশি কোটা মোটেও ঠিক হয়নি। এমনিতেই দেশে খেলোয়াড়-সংকট, তার ওপর বিদেশি বাড়ালে খেলোয়াড় উঠে আসবে না। স্থানীয়রা বসে থাকবে, যা ফুটবলের জন্য শুভ নয়।’
তরুণ ওয়ালি ফয়সাল একরকম অনুনয়ই করলেন বাফুফের কাছে, ‘দয়া করে বিদেশি কোটা কমিয়ে দিন। প্রতি দলে ৫ জন করে বিদেশি খেললে ১২ দলে ৬০ জন স্থানীয় খেলোয়াড় বসে থাকবে। একজন খেলোয়াড় বসে থাকা মানে তার ক্যারিয়ারটাই হুমকিতে পড়বে। বিদেশি কোটা সর্বোচ্চ ২ জন হতে পারে।’
মুক্তিযোদ্ধার কোচ মারুফুল হকও এটি মানতে পারছেন না, ‘আমি মোটেও ৫ জন বিদেশি সমর্থন করি না। দেশে খেলোয়াড়-সংকট হলে গতবার কীভাবে খেলা হলো? সিদ্ধান্তটা মোটেও ভালো হয়নি।’ তবে মোহামেডানের কোচ শফিকুল ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি দুই ভূমিকাতে দুই রকম, ‘সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে আমি বিদেশি ফুটবলার কোটা বাড়ানোর পক্ষে নই। বড়জোর ২-৩ জন বিদেশি হতে পারে। তবে কোচ হিসেবে আমি তো বিদেশি ফুটবলার পাওয়ার সুবিধাটা নিতেই চাইব।’
বাইরে থেকে সব দেখে জাতীয় দলের সাবেক কোচ গোলাম সারোয়ার টিপু বলছেন, ‘আমার মনে হয় না এটা ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

৫ হাজার কোটি টাকার ম্যাচ

ক্যামেরা ইতিউতি করে খুঁজল। কিন্তু দুজনের কারোরই হদিস নেই। ম্যানচেস্টার সিটির ভিআইপি গ্যালারির অভিজাত জনারণ্যে নেই শেখ মনসুর বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান। চেলসির আমন্ত্রিত অতিথিবর্গের মধ্যে ছিলেন না রোমান আব্রামোভিচও। অথচ পরশু ম্যাচে এই দুজনের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে জরুরি। তাহলেই যেন পূর্ণ হয়ে যেত ছবিটা।
কিসের ছবি? ফুটবলের সর্বকালের সবচেয়ে ‘দামি’ ম্যাচটির। ‘দামি’ শব্দটা আক্ষরিক অর্থেই। এই ম্যাচে দুই দলের প্রথম একাদশের ২২ খেলোয়াড়ের মোট ট্রান্সফার ফির পরিমাণ যে ৩০ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড (৩৩৩৯ কোটি টাকা), মোট সাপ্তাহিক বেতন ২১ লাখ ৫ হাজার পাউন্ড (২৩ কোটি টাকা)।
ইংলিশ ফুটবলে টাকার বস্তা নিয়ে আরও বছর সাতেক আগেই হাজির হয়েছিলেন রুশ ধনকুবের আব্রামোভিচ। আরব ধনকুবের আল নাহিয়ানের আগমনের এখনো দুই বছর হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে আব্রামোভিচকে মল্লযুদ্ধের আমন্ত্রণ দিয়ে রেখেছেন আবুধাবির রাজপরিবারের এই শেখ।
নামের মতোই বড় টাকার অঙ্ক নিয়ে হাজির নাহিয়ান ক্লাবের মালিকানা কেনার ১৩ মাসের মধ্যেই বিনিয়োগ করেছেন ১০০ কোটি পাউন্ড! তাঁর টাকার এতটাই তেজ, ‘বার্সা-পরিত্যক্ত’ ইয়াইয়া তোরেকেও তিনি সপ্তাহে বেতন দেন ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড! ইংলিশ ফুটবলে অনেক রথী-মহারথীর পদধূলি পড়েছে। কিন্তু সপ্তাহে ২ লাখের বেশি বেতন জোটেনি কারও কপালেই।
দুই দলে দুই ধনকুবেরের বিনিয়োগ, খেলোয়াড়দের ট্রান্সফার ফি আর বেতনের অঙ্ক মিলিয়ে এটাকেই বলা হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘দামি’ ম্যাচ। অবশ্য গোলের দিক দিয়ে পরশু ম্যাচটা হলো নেহাতই গরিবি। কার্লোস তেভেজের একমাত্র গোলে উড়তে থাকা চেলসি ভূপাতিত হয়েছে। প্রথম ৫ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২১ গোল দিয়ে আসা কার্লো আনচেলত্তির দল ভাঙতে পারেনি সিটির রক্ষণ। ট্যাকটিকাল লড়াইয়ে ইতালিয়ান আনচেলত্তি হেরে গেছেন তাঁরই স্বদেশি রবার্তো মানচিনির কাছে। মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে চেলসির জালে জড়িয়ে দিয়েছেন সিটি অধিনায়ক তেভেজ।
পরশু ম্যাচে দলে থাকা সিটি খেলোয়াড়দের মোট দাম ছিল প্রায় ২৫ কোটি পাউন্ড। তাঁদের মোট সাপ্তাহিক বেতনের পরিমাণ ১৭ লাখ ৫০ হাজার। অন্যদিকে চেলসির খেলোয়াড়দের মোট দাম আর বেতন ছিল যথাক্রমে প্রায় ১৯ কোটি ও সোয়া ১১ লাখ। ফলে চেলসির বিপক্ষে সিটির এই জয়টাকে আপনি এভাবেও দেখতে পারে—টাকায় কি না হয়!
কিন্তু না, আসলে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা টাকায় দিতে হয় না, হয় ফুটবলীয় কৌশল আর প্রতিভায়। এই লড়াইয়ে সিটি জেতায় তাদের অভিনন্দিত করলেন আনচেলত্তি। এ নিয়ে লিগে টানা তৃতীয়বার সিটির কাছে হেরে যাওয়ার পর চেলসি কোচ সিটিকে লিগ শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলে স্বীকৃতিও দিলেন।
মানচিনি অবশ্য শিরোপা-সংক্রান্ত আলোচনা এড়িয়ে চলেন। ম্যাচের আগে চেলসিকে এবারেরও চ্যাম্পিয়ন বলে রায় দিয়েছিলেন। ম্যাচের পরও অটল থেকেছেন সেই সিদ্ধান্তে। ভোলেননি তাঁর অধিনায়কের পিঠ চাপড়ে দিতেও, ‘কার্লোস সত্যিই দুর্দান্ত। শুধু গোল করেছে বলেই বলছি না। খেয়াল করে দেখবেন, প্রতিটি বলের জন্যও ও কী লড়াইটাই না করে। তা ছাড়া আক্রমণভাগে ওকে একাই খেলতে হচ্ছে। এটাও সহজ কাজ নয়।’ তেভেজকে অধিনায়ক বানিয়ে কী দারুণ কাজই না করেছেন—এই ভেবে নিজেই নিজের পিঠও চাপড়ে দিয়েছেন মানচিনি।
চুলটুল ছেঁটে ফেলায় মাঠে ইদানীং তেভেজকে চিনতে কষ্টই হচ্ছে। সেই মস্তানসুলভ হাবভাবও নেই। তবে আর্জেন্টাইন আবেগ এখনো অটুট। পরশু গোলের পর সেটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর মাকে। মায়ের জন্মদিনের উপহার। বদলিসহ এই ম্যাচের ৩৪ খেলোয়াড়ের মোট মূল্য ৪৪ কোটি পাউন্ড (৪৮৪১ কোটি টাকা)। এমন দামি ম্যাচের একমাত্র গোল—মায়ের জন্মদিনে তেভেজের উপহারটাও কী দামি!

জার্মানি যাচ্ছেন জিমি

তাঁর জার্মানিতে যাওয়ার কথা ছিল গত ২৯ আগস্ট। কিন্তু অসুস্থ বাবা সাবেক হকি তারকা আবদুর রাজ্জাক (সোনা মিয়া) অসুস্থ থাকায় জাতীয় দলের সঙ্গে জার্মানিতে যেতে পারেননি রাসেল মাহমুদ (জিমি)। অবশেষে আগামীকাল জার্মানি যাচ্ছেন জাতীয় হকি দলের এই স্ট্রাইকার।
‘আরও আগেই জার্মানি যেতে পারতাম। কিন্তু বাবা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় যেতে পারছিলাম না। এখন বাবা অনেকটা ভালো’—কাল বলছিলেন জিমি। জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের দল র‌্যাফেলবার্গের হয়ে জিমি খেলা শুরু করবেন আগামী ৩ অক্টোবর। সফরটা চলতে পারে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

ইন্টারকে হারিয়ে জয় দেখল রোমা

রাগটা এখন আর ফ্রান্সেসকো টট্টির না থাকার কথা। কোচ ক্লদিও রানিয়েরি মাঠ থেকে তুলে নেওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন এএস রোমার অধিনায়ক। তবে তাঁর বদলি হিসেবে নামা মির্কো ভুচিনিচের গোলেই লিগে প্রথম জয় পেয়েছে রোমা। যোগ করা সময়ে ভুচিনিচের গোল গতবারের রানার্সআপদের ১-০ গোলের জয় এনে দিয়েছে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের বিপক্ষে।
গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন আর রানার্সআপ দলের ম্যাচ। হিসাব মতে দুই দলের শক্তির পার্থক্য উনিশ-কুড়িই হওয়ার কথা। তবে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে এ ম্যাচের আগে প্রায় সবাই-ই এগিয়ে রেখেছিল ইন্টারকে। কিন্তু ফুটবল সব সময় হিসাব মেনে চলে না। তাই তো ম্যাচে বেশির ভাগ সময় কোণঠাসা হয়ে থেকেও শেষ হাসি হাসল রোমা।
ম্যাচ শেষে ইন্টারের নতুন কোচ রাফায়েল বেনিতেজ বললেন সেই হতাশার কথাই, ‘শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়াটা সমস্যা নয়, মূল সমস্যা হচ্ছে আমরা গোল করতে পারিনি।’ গোল না পাওয়ায় বেনিতেজ হতাশ হতেই পারেন। বল দখলে যেমন রোমার চেয়ে এগিয়ে ছিল ইন্টার, তেমনই গোলে শট নেওয়ার দিক থেকেও। রোমার গোলে ১৫টি শট নিয়েও জাল খুঁজে পায়নি ইন্টার।
জয়টা যেভাবেই আসুক, এটা যে রোমার জন্য দারুণ এক সঞ্জীবনী, কোচ রানিয়েরি বললেন সেটাই, ‘রোমা ভালো এক ডোজ ওষুধ পেল। কারণ ইন্টার মিলানকে হারানোটা সব সময়ই দারুণ ব্যাপার।’ দারুণ এই জয়ের পরও পয়েন্ট তালিকায় রোমার অবস্থান ১৫ নম্বরে। ৫ ম্যাচে ১ জয় আর ২টি ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট তাদের। এই হারের পরও ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই ছিল ইন্টার মিলান। কাল রাতে শিয়েভো ও ব্রেসিয়ার (৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট) অবশ্য ইন্টার মিলানকে টপকে যাওয়ার সুযোগ ছিল।
ইন্টারের বিপক্ষে জয় আর পয়েন্ট তালিকায় বাজে অবস্থান নিয়ে কথা বলতে হয়েছে রোমা কোচকে। এর সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে টট্টির ব্যাপারটি নিয়েও। ৭৬ মিনিটে তাঁকে তুলে মন্টেনেগ্রোর স্ট্রাইকার ভুচিনিচকে নামানোর প্রতিক্রিয়া মাঠেই দেখিয়েছেন টট্টি। তবে রানিয়েরি মনে করেন, এই জয়টা টট্টিকে বিষয়টা ভুলে যেতে সাহায্য করবে, ‘তুলে নিলে যেকোনো খেলোয়াড়েরই খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। তবে কাল যখন ওর মাথা ঠান্ডা হবে, তখন ও আর এমন উত্তেজিত থাকবে না।’
মিলান শহরের অন্য দল এসি মিলান লিগে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে এ দিন। সান সিরোতে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের গোলে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে জেনোয়াকে।

বার্সার জয়, রিয়ালের ড্র

স্প্যানিশ লিগে মেসিহীন বার্সা জয় পেয়েছে আবারও। গত পরশু অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বার্সা। ম্যাচের চারটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। সেইডু কেইটা ও জাভি হার্নান্দেজের ৫৪ ও ৭৩ মিনিটের গোলে ২-০-তে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সেলোনা। ১০ জনের অ্যাথলেটিকের পক্ষে ব্যবধান কমিয়েছিলেন গ্যাবিলোন্ডো। যোগ হওয়া সময়ে বুসকেটস করেন বার্সার তৃতীয় গোল।
তবে লেভান্তের মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র করে ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। হারাতে হয়েছে শীর্ষস্থানটাও। স্পোর্টিং গিজনকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে এখন ভ্যালেন্সিয়া। ৫ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট তাদের। সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বার্সা। রিয়াল আছে তিন নম্বরে (১১ পয়েন্ট)।
লেভান্তের মতো দলের বিপক্ষে ড্রয়ের পর রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোর দুশ্চিন্তায় পড়াই স্বাভাবিক। তাঁর দুশ্চিন্তার মূল কারণ স্ট্রাইকারদের গোল-খরা। ‘আজ (শনিবার) আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। কিছু সুযোগ তো অনেক ভালো ছিল। আমি আসলেই চিন্তিত। ফুটবলে গোল না করতে পারলে কীভাবে হবে?’ মরিনহোর কপালে ভাঁজ পড়ারই কথা। এসপানিওলের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছিল রিয়াল। লিগের বাকি ৪ ম্যাচে মাত্র ৩ গোল করতে পেরেছেন রোনালদো-হিগুইয়েন-বেনজেমারা।

মাশরাফির চোখে বিশ্বকাপ

ফিল্ডিং কোচ, বোলিং কোচ এসে যাওয়ার পরও সামান্য একটা শূন্যতা ছিল অনুশীলনে। কাউন্টি ক্রিকেটের ব্যস্ততায় যে পাওয়া যাচ্ছিল না সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকেই! দেশে ফিরে এক সপ্তাহ ছুটি কাটিয়ে সেই সাকিবও কাল যোগ দিলেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অনুশীলনে। আপাতদৃষ্টিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের মনে হলেও যে অনুশীলন শেষ পর্যন্ত মিশবে বিশ্বকাপের সড়কে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার চোখে অবশ্য ‘আপাতদৃষ্টি’ বলে কিছু নেই। অক্টোবরের নিউজিল্যান্ড সিরিজ বা ডিসেম্বরের জিম্বাবুয়ে সিরিজকেও ছাপিয়ে তাঁর চোখ গিয়ে পড়ছে বিশ্বকাপে। এই দুটি সিরিজকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন অধিনায়ক, ‘সামনে ঘরোয়া ক্রিকেট থাকলেও আমরা ভালো করেই জানি আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান কী। এখানে যেকোনো ক্রিকেটার এক শ মেরে দেয়, ৫-৭ উইকেট পেয়ে যায়। বিশ্বকাপের আগের এই দুটি সিরিজ তাই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ দুটিকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বলতে পারেন।’ আসন্ন দুই সিরিজে তাই ভালো খেলার বিকল্প দেখছেন না মাশরাফি, ‘সর্বস্ব দিয়ে খেলতে হবে। ভালো খেলে আত্মবিশ্বাসটাকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে যেন শুধু আয়ারল্যান্ড বা স্কটল্যান্ডের দিকে না তাকিয়ে আমরা ভারত বা দক্ষিণ আফ্রিকাকেও (বিশ্বকাপে) হারাতে পারি।’
বিশ্বকাপের আগের ছয় মাস কোনো বিদেশ সফর করতে হচ্ছে না, এটাকেও একটা প্লাস পয়েন্ট মানছেন অধিনায়ক। খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙা রাখতে এটা সাহায্য করবে বলে তাঁর ধারণা, ‘গত বছর আমরা খুব বেশি ক্রিকেট খেলেছি। শেষের দিকে পারফরম্যান্স খারাপ করার এটা একটা কারণ। আমরা এখনো এতটা পেশাদার নই যে টানা ৫-৬ মাস পরিবারকে ছেড়ে থাকতে পারব। বিশ্বকাপের আগে আমরা শুধু হোম সিরিজ খেলব, সবাই পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবে। এটা আমাদের মানসিকভাবে চাঙা রাখবে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ শুরু আগামী ৫ অক্টোবর। নিউজিল্যান্ড দল চলে আসছে আগামীকাল রাতেই। তার আগে মাশরাফি জানালেন অনুশীলন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা। বোলিং কোচ অনুশীলনের শেষ দিকে যোগ দেওয়ায় পেস বোলাররা এই সিরিজেই কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না গেলেও ব্যাটিং-ফিল্ডিং নিয়ে দারুণ আশাবাদী অধিনায়ক, ‘ফিল্ডিংয়ে চাইলে খুব তাড়াতাড়ি উন্নতি করা যায় এবং এখানে আমাদের নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ভালো করা উচিত। আর জেমি সিডন্স আসার পর ব্যাটিংয়ের অবস্থাও আগের চেয়ে অনেক ভালো। সিডন্স যেভাবে শিখিয়েছে তার ওপর আস্থা রেখে ব্যাটসম্যানরা কাজ করেছে, সেজন্য তারা ভালোও করছে।’
তবে মাশরাফি শুধু শেখায় বিশ্বাসী নন, শিক্ষাটা কাজে লাগানোই গুরুত্বপূর্ণ তাঁর কাছে, ‘যেটা শিখছি, সেটা যেন আসল সময়ে করতে পারি। এর জন্য আত্মবিশ্বাস দরকার। কোচরা সব বিষয়েই সমর্থন দিচ্ছেন। আমরাও নিজেরা নিজেদের সাহায্য করছি। এখন অপেক্ষা, ঠিকমতো ঠিক সময়ে ঠিক কাজটা করতে পারি কি না...।’
সিরিজের আগে দলের মধ্যে একটা ঘাটতিই দেখছেন মাশরাফি—তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি। তবে পরিবর্তক হিসেবে দলে আসা শাহরিয়ার নাফীসের ওপর যথেষ্টই আস্থা তাঁর, ‘তামিম বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার। আমাদের মতো দলের জন্য এত বড় একজন খেলোয়াড়কে হারানো বিরাট ক্ষতি। তবে আমার পূর্ণ আস্থা আছে শাহরিয়ার নাফীসের ওপর। ও অনেক দিন বাংলাদেশ দলে খেলেছে। ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে সবকিছুই চেনা তাঁর।’
উস্টারশায়ারের হয়ে কাউন্টি খেলে আসা সাকিব কালই প্রথম যোগ দিলেন দলের সঙ্গে। নতুন কোচরা কেমন, অনুশীলন কেমন হচ্ছে সেসব নিয়ে তাই কোনো মন্তব্যে গেলেন না সহ-অধিনায়ক। তবে নিজের ব্যাপারে বললেন, কাউন্টির অভিজ্ঞতাটাই এখন তাঁর বড় আত্মবিশ্বাস, ‘কাউন্টিতে ভালো পারফর্ম করায় আত্মবিশ্বাস থাকবে। আর এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে পারলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবশ্যই ভালো কিছু করব।’