Friday, November 28, 2014

ধবলধোলাইয়ের আরও কাছে

সাকিবের জোড়া আঘাতে হঠাৎই টালমাটাল জিম্বাবুয়ে। ছবি: শামসুল হক
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজের গত তিন ম্যাচে দুটি পরিচিত দৃশ্য—টসে হার-জয় যা-ই হোক না কেন; প্রথমে ব্যাট করবে বাংলাদেশ। শেষমেশ ম্যাচও জিতবে বাংলাদেশ! আজও ব্যতিক্রম হলো না। চতুর্থ ওয়ানডেতেও প্রথমে ব্যাট করল বাংলাদেশ। এবং যথারীতি জিম্বাবুয়েকে ২১ রানে হারিয়ে ধবলধোলাইয়ের আরও কাছে পৌঁছে গেল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
তবে আগের তিন ম্যাচের সঙ্গে এবার বেশ কিছু পার্থক্য থাকল। এবার এত অনায়াস জয় পায়নি বাংলাদেশ। হিম হিম ঠান্ডায় ঢাকা আজকের ঢাকায় খানিকটা ঘাম ঝরল মাশরাফিদের। গত কয়েক ম্যাচের তুলনায় বেশ প্রতিদ্বিন্দ্বতা করেছে জিম্বাবুয়ে। সিরিজে প্রথমবারের মতো ২০০ পেরিয়েছে এল্টন চিগুম্বুরার দল। সলোমন মিরে ও ব্রেন্ডন টেলরের চতুর্থ উইকেট জুটিতে তোলা ১০২ বলে ১০৬ রান জিম্বাবুয়েকে আশাও জাগিয়েছিল খানিকক্ষণ। ৩৩.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ছিল ১৬৬। ৯৮ বলে দরকার ৯১। হাতে সাত উইকেট। সবচেয়ে বড় কথা, উইকেটে জমিয়ে ব্যাটিং করছেন টেলর আর মিরে।
কিন্তু ৩৪তম ওভারের পঞ্চম বলে মিরের (৫২) পতনের পরই পথ হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। পরের ওভারে টেলরও (৬২) ভুলের খেসারত দিয়ে ফিরে এলে জিম্বাবুয়ের জয়ের সম্ভাবনাও একরকম শেষ হয়ে যায়। এরপর বল আর রানের ব্যবধান ক্রমেই বেড়েছে। যে সমীকরণ শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে মেলাতে পারেনি। ৮ উইকেটে ২৩৫ রানে থেমেছে তাদের ইনিংস।
২৫৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা বেশ ভালো করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ভুসি সিবান্দা। উদ্বোধনী জুটিতে এল ৪৮ রান। সাকিব আল হাসানের জোড়া আঘাতে হঠাৎ পথ হারানোর উপক্রম সফরকারীদের! জিম্বাবুয়ে কোমর সোজা করে দাঁড়ানোর আগেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে জুবায়ের হোসেনের আঘাত! অভিষেকে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিলেন এ লেগ স্পিনার। এর পরও জিম্বাবুয়েকে জয়ের স্বপ্ন দেখাল মিরে-টেলরের চতুর্থ উইকেট জুটি। চলতি সিরিজে এটিই সফরকারীদের একমাত্র সেঞ্চুরি জুটি।
একটা সময় এ জুটিই ফিকে করে দিচ্ছিল বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন। কিন্তু ৫২ করা মিরেকে ফিরিয়ে উল্টো জিম্বাবুয়ের স্বপ্নই ধূসর করে দিলেন জুবায়ের। সাকিবের বলে শর্ট লেগে ইমরুল কায়েসের হাতে শূন্য রানে জীবন পাওয়া টেলর টিকে ছিলেন আরও কিছুক্ষণ। রুবেলের বলে ফেরার আগে করলেন সর্বোচ্চ ৬৩ রান। সাকিব, রুবেল, জুবায়ের পেয়েছেন দুটি করে উইকেট, মাশরাফির সংগ্রহে ১টি।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৩২ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলকে কক্ষপথে ফেরান মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর পঞ্চম উইকেট জুটি। এ জুটিতে আসে ১৩৪ রান। মিরপুরে পঞ্চম উইকেট জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ রান। মুশফিক তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৮তম ফিফটি আর মাহমুদউল্লাহ ১০ম। কামুনগোজির বলে ফেরার আগে বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষকের সংগ্রহ ৭৭ রান।
মুশফিক ফিরে গেলে অষ্টম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ-মাশরাফির জুটিতে তোলা ৪৮ বলে ৬৫ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৫৬ করে স্বাগতিকরা। অষ্টম উইকেট জুটিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। মাদজিভার বলে ফেরার আগে মাশরাফি ২৫ বলে করেন ৩৯ রান। ৮২ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক আর মাশরাফি-তিন ম-এর সুবাদেই ৪-০-র স্বপ্ন পূরণে আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।
হয়ে গেল ৪-০, এবার অপেক্ষা ধবলধোলাইয়ের। সিরিজের শেষ ওয়ানডে ১ ডিসেম্বর, সোমবার।

মোদিকে সশস্ত্র প্রতিরোধের হুমকি উলফার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ কেন্দ্রীয় সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের হুমকি দিয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইউনাটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)। সংগঠনটির সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়া বলেছেন, সেনা অভিযানে নিখোঁজ উলফা ক্যাডারদের সন্ধান না দিলে আসামের মাটি রক্তাক্ত হবে। বৃহস্পতিবার সংবাদবাধ্যমে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা দিয়ে এই হুমকি দেয়া হয়। শুক্রবার উত্তর-পূর্ব ভারতের বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খ এ খবর দিয়েছে। এমন এক সময় এই হুমকি দেযা হলো, যখন নরেন্দ্র মোদির আসাম সফরের আর মাত্র দু্ই দিন বাকি। রোববার আসাম সফরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী মোদির। মোদির আসাম সফরের দুই দিন আগে উলফা নেতা মোদিকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে ভুটানের জঙ্গলে ভারতীয় ও ভুটানি সেনার অভিযানে নিখোঁজ উলফা ক্যাডারদের সন্ধান দিতে না পারলে বিজেপির বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।   ই-মেইল বার্তায় পরেশ বড়ুয়া বলেন, ২০০৩ সালে ভুটানের মাটিতে উলফার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন অল ক্লিয়ার’ চালানোর সময় নিখোঁজ ১৬৮ ক্যাডারদের সন্ধান না দিলে বিজেপিকে স্বস্তিতে থাকতে দেবেন না তারা। ২০১৬ সালে আসাম বিধানসভার নির্বাচনে গেরুয়া দলটির ‘মিশন ৮৪+’ –এর স্বপ্নও বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। বিজেপি ওই নির্বাচনে কীভাবে জেতে ভুলে গেলে একদিন অনুশোচনায় দগ্ধ হতে হবে ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন আসামের বিজেপি নেতাকর্মীদের। পরেশ বড়ুয়া আরো বলেন, সহযোগীর দায়বদ্ধতা ও ত্যাগকে তথাকথিত আলোচনার নামে নতুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুগ্রহে ‘টি-পার্টি’তে অংশ নেয়া কোনো ব্যক্তি ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু উলফা (স্বাধীন) সেই দায়বদ্ধতা কখনো বিস্মৃত হতে পারে না। প্রসঙ্গত, হারিয়ে যাওয়া উলফা ক্যাডার ও নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মেজর বেনিং রাভা (সেনাপ্রধান), মেজর অশান্ত বরফুকন (সাংগঠনিক সম্পদাক), মেজর জীবন মরান (প্রথম সারির ক্যাডার), লেফটেন্যান্ট শরৎ শরনিয়া ওরফে অভিজিৎ ডেকা প্রমুখ। তারা ভুটান রয়াল আর্মি ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরেশ বড়ুয়া দাবি করেন, ইতিমধ্যে ভুটান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, ওই অভিযানে উলফার মোট ১৬৮ জন ক্যাডারকে আটক করে ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর উলফাকে একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বলে ঘোষণা দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনে ওই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এরপর ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বরে উলফার বিরুদ্ধে শুরু হয় ‘অপরাশেন রজরং’ এবং ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে ‘অপারেশন রাইনো-২’। সেই থেকে ২৭ নভেম্বর দিনটি ‘প্রতিবাদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে উলফা। এদিকে উলফার একটি অংশ অরবিন্দ রাজখোয়ার নেতৃত্বে সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কয়েক বছর আগে। কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষবিরতি চুক্তিও হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে বর্তমানে শান্তি আলোচনা চলছে। রাজখোয়াপন্থীরা দিল্লির কাছ থেকে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে মূল স্রোতে ফিরে এসেছে। আর পরেশ বড়ুয়াপন্থীরা এখনো আসামের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলন করে যাচ্ছে।

গাজীপুরের ‘বিপসট’ পরিদর্শনে নিশা দেশাই

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিপসট) পরিদর্শন করেছেন আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিপসটে এসে পৌঁছলে ওই ইনস্টিটিউটের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মাকসুদুর রহমান তাকে স্বাগত জানান। বিপসট প্রাঙ্গনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং বিপসটের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে জাতিসংঘে শান্তি রক্ষা বিষয়ে বিপসটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় বিপসটের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে নিশা দেশাইকে অবহিত করা হয়। পরে শান্তি রক্ষাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠককালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনাসহ দুই দেশের উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। নিশা দেশাই বিদ্রোহী দল দ্বারা আকান্ত জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বেসামরিক লোকদের উদ্ধারের মহড়া প্রত্যক্ষ করেন এবং শান্তিরক্ষী মিশনে অংশ গ্রহণকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সারা পৃথিবীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে সবচে বড় অংশগ্রহণকারী দেশ। এ কারণে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ নেতৃত্ব স্থানে রয়েছে। শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করতে গিয়ে এর মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন এজন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। এসময় শান্তি রক্ষা মিশনের কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

আত্মবিশ্বাস থাকলে তিনি পালিয়ে বেড়াতেন না: শেখ হাসিনা

আত্মবিশ্বাস থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াতেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শুক্রবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অরফানেজের (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট) টাকা যিনি মেরে খান, তিনি কোর্টে হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে বেড়ান। আর উনি অন্যকে দুর্নীতিবাজ বলেন। যদি সত্যিকার আত্মবিশ্বাস থাকত, তাহলে মামলা থেকে বাঁচতে পালাত না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যখন মামলা হলো, আমি বিদেশ থেকে ফিরে আসলাম। আমাকে আসতে দেওয়া হবে না বলা হয়েছিল। আমি জোর করে দেশে এসেছি। কারণ, আমার আত্মবিশ্বাস আছে, আমি অন্যায় করিনি।’ তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি এতিমদের টাকা মেরে খাননি, সেটা কোর্টে প্রমাণ করুন। তাহলে তো একে দোষ ওকে দোষ দেওয়ার প্রয়োজন নাই। অবশ্যই কথায় বলে চোরের মায়ের বড় গলা। যা হোক আমি আর কিছু বলতে চাই না।’
সম্প্রতি নেপাল সফরের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অত্যন্ত সফল একটি সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে। খুব সুন্দর একটা পরিবেশ ছিল। সেখানে আমরা মতামত দিয়েছি। কারণ, সার্কের সব রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত। নির্বাচিত সরকার, গণতন্ত্রিকরা ক্ষমতায় থাকলে সেখানে কিন্তু পরিবেশটা অত্যন্ত সুন্দর থাকে। আমরা একটা ঘোষণা দিয়েছি। সেখানে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে তারা যেন স্বাবলম্বী হয় সেটা রয়েছে।’ তিনি তাঁর বক্তব্যে নেপালের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা জানেন কি না জানি না। বর্তমানে নেপালের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও অন্য অনেক মন্ত্রী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে সহায়তা করেছে। একটা সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে আমরা বিষয়গুলো জানতে পেরেছি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন প্রতিটি দেশ বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। এ ধারা আমাদের রক্ষা করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিমধ্যে সারা বাংলাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়ে গেছে। একটি জিনিস লক্ষ করা যাচ্ছে, ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, জেলা পর্যায়ে কাউন্সিল শুরু হয়ে গেছে। মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিটি সংগঠনই নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের কাউন্সিল অধিবেশন শুরু করেছে। এসব কাউন্সিলে মানুষ তাদের আশা ও ভরসার স্থল আওয়ামী লীগে আসছে। মানুষ আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। কারণ, আমরা পাঁচ বছর ক্ষমতায় যা করতে পেরেছি সাউথ এশিয়ার অন্য দেশগুলো তা পারেনি। অনেক উন্নত দেশ তা করতে পারেনি। আমরা তার চেয়ে বেশি করতে পেরেছি। আমাদের মাথাপিছু আয় এখন ১১৯০ ডলার, প্রায় ১২০০ ডলারে উন্নীত করেছি। দারিদ্র্যের হার কমে গেছে। এবারের পাঁচ বছরে দারিদ্র্যের হার ইনশাআল্লাহ ১০ ভাগ কমিয়ে আনতে সক্ষম হব। কারণ, যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। এককথায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। এত কার্যক্রম অতীতের কোনো সরকার গ্রহণ করেনি। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করেছে। গত পাঁচ বছরে আমরা এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। আমরা মানুষকে ট্রেনিং দিয়ে দিচ্ছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যে যত বেশি দুর্নীতি করেছে, এমন কী যিনি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন, চুরি করে খেয়েছেন তাঁদেরই গলার জোর বেশি। মানুষ এতিমের টাকা চুরি করে খাবে কেন? এতিমের টাকা মেরে খেয়ে মামলা খেয়েছে, সে দোষ নাকি আমাদের। আমাদের ওপর সেই ২০০১ সালে ক্ষমতার আসার পর সেই স্পেশাল এজেন্ট দিয়ে তদন্ত করেছে। বিএনপির কথা বাদই দিলাম। এই যে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক তারা পদ্মা সেতু বন্ধ করে দিল। তারা দুর্নীতি খুঁজতে খুঁজতে হন্যে গেল। কিন্তু পায়নি। আমার ওপর সবচেয়ে বেশি মামলা দিয়ে দিয়েছে বিএনপি গভর্নমেন্ট। তারা প্রায় আট-নয়টা মামলা দিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫-১৬টা মিথ্যা মামলা দিয়েছে। প্রত্যেকটা মামলা করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও করেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারও করেছে। কিন্তু কিছু পায়নি। কিন্তু যাঁর বিরুদ্ধে পাওয়া গেল, তিনি আবার দুর্নীতির অভিযোগ করেন।’
পরে আগামী ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন করার কর্মসূচি গ্রহণ করে।
শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, কাজী জাফর উল্যাহ, সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, মোহাম্মদ নাসিম, নূহ-উল আলম লেনিনসহ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বিল ক্লিনটনের লোলুপ দৃষ্টি!

ছবি ডেইলি মেইলের সৌজন্য
হোয়াইট হাউসের কর্মী মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বড় ধরনের হ্যাপা পোহিয়েছিলেন ওই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এখন সত্তরের দোরগোড়ায় এসে আবার একটা ঘুটা মেরেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে ঢি ঢি পড়ে গেছে, সেলফি তুলতে আসা এক শ্যামাঙ্গীর বুকের দিকে নাকি তাকিয়ে ছিলেন তিনি। ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া ছবিতে সেভাবেই মূর্ত বিল।
কটাক্ষ করে বিলের এই দৃষ্টিকে ‘লোলুপ দৃষ্টি’ বলা হচ্ছে। ১৯৯৫ সালে নিহত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আইজান রবিনের কবর পরিদর্শন করতে জেরুজালেম যান বিল ক্লিনটন। সেখানে হার্জল সিমেট্রিতে এ ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে জানানো হয়, অ্যারিয়েল আভদালি নামের এক শ্যামাঙ্গী নারী বিল ক্লিনটনের সঙ্গে ওই সেলফি তোলেন। তিনি যে সেলফি তুলছেন, তা খেয়াল করেননি সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে শ্যামাঙ্গীর এক বন্ধু ছবিটি অনলাইনে ছেড়ে দেন। আর তাতে নানারকম মন্তব্য আসতে থাকে। কেউ লেখেন, ‘বিল কখনো বদলাবেন না।’ কেউবা লেখেন, ‘ক্লাসিক বিল।’

ড্রাকুলা উপন্যাসের দুর্গগুলো এখন

আইরিশ লেখক ব্রাম স্টোকারের বিখ্যাত ভৌতিক উপন্যাস ড্রাকুলার কাহিনি যে দুর্গগুলোকে ঘিরে, সেগুলো একসময় হয়েছিল রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষের আড্ডাখানা। তবে এখন আর ভয়ের সেই ব্যাপার-স্যাপার নেই। বরং দুর্গগুলো ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে টাকা বানানোর উৎস। (ছবি ক্যাপশন- ব্রান দুর্গ: ড্রাকুলার সঙ্গে যোগসূত্রের কারণে এলাকার সবচেয়ে বিখ্যাত দুর্গ এটিই)
১০০টির বেশি দুর্গ নিয়ে গড়ে ওঠা মধ্য রোমানিয়ার ট্রানসিলভানিয়া শতাব্দীর পর শতাব্দী অভিজাত ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতা দখল করলে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। সরকার সব দুর্গ বাজেয়াপ্ত করে। ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটার পর দুর্গগুলো ফেরত পাওয়ার আশায় বুক বাঁধেন মালিকদের বংশধরেরা। ২০০৫ সালে আইনে পরিবর্তন এলে এর পথ প্রশস্ত হয়। পারিবারিক দুর্গগুলো ফেরত পেতে আদালতের শরণাপন্নও হন অনেকে। মামলা করে কেউ কেউ সফলও হন। তবে মামলা আর সংস্কার মিলিয়ে বিপুল অর্থ খরচ হয়ে যায়। খরচের টাকা তুলতে অনেকেই দুর্গগুলো নিয়ে ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা শুরু করতে থাকেন। তেলেকি নামের পারিবারিক দুর্গ আছে ৬৭ বছর বয়সী কালমান তেলেকির। তিন বছর আগে দুর্গটি ২০ হাজার ইউরো খরচ করে ফেরত পান তিনি।
কালমান তেলেকি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের খেলা, বিয়ের অনুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান ও পর্যটকদের বড় দলগুলোর জন্য আমি এখন আমার দুর্গের ফটক খুলে দিই। এই একুশ শতকে এসেও যে দুর্গ রেখেছি, এর একটা উদ্দেশ্য আমাকে খুঁজতে হয়।’ ভাড়া হিসেবে ৫০০ থেকে আড়াই হাজার ইউরো পান তিনি।
বাংলাদেশি বাবা আর রোমানিয়ান মায়ের সন্তান গ্রেগর রায় চৌধুরীও এ রকম একটি দুর্গের মালিক। ১০ বছর ধরে আইনি লড়াই করে তা ফেরত পেয়েছেন তিনি। তবে তাঁর মতে ট্রানসিলভানিয়াকে শুধু ড্রাকুলার নামে পরিচিত করা ঠিক নয়। সূত্র বিবিসি।

ইন্দোনেশিয়ায় কর্মকর্তাদের রাস্তার খাবার খেতে নির্দেশ

(ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি বাজারে আজ বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে প্রচলিত জলখাবারের উপকরণ। ছবি: এএফপি) খরচ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের রাস্তার খাবার কিনে খেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আমলাতন্ত্রিক সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রী ইয়াদি কৃষ্ণাদি এক নির্দেশে বলেন, ‘অতিরিক্ত যেকোনো কিছু বন্ধ করুন।’
আজ শুক্রবার এএফপির খবরে জানানো হয়, গত মাসে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিনয়ী নতুন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো সরকারি ব্যয়ের লাগাম টানার উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে এ সরকার কর্মকর্তাদের বিদেশি বিলাসবহুল খাবারের ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশটির একজন মন্ত্রী বলেন, উচ্চপর্যায়ের সরকারি পার্টিগুলোতে অতিথিসংখ্যা ৪০০ জনের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপ্যায়নের জন্য কাসাভা, ভুট্টা ও আলুর পিঠার মতো খাবার পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ইতিমধ্যে তাঁর আগামী বছরের ভ্রমণ ও বৈঠকের ব্যয় কমিয়ে এনেছেন। গত সপ্তাহে ছেলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের সময় বিজনেস ক্লাসের পরিবর্তে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করেন। তাঁর এ উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।
ইয়াদি কৃঞ্চাদি বলেন, অতিরিক্তি খাবার খাওয়ার কারণে এসব পেটুক কর্মকর্তা কোলেস্টরল ও উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকিতে পড়ছেন। স্থানীয় খাবার কিনে তাঁরা স্থানীয় কৃষকদের সহায়তা করার পাশাপাশি নিজের শরীরের প্রতি যত্নও নিতে পারেন তাঁরা। যাঁরা এ নির্দেশ অমান্য করবেন, তাঁদের পদাবনতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
দুর্নীতির অভিযোগে ইমেজ-সংকটে ভোগা দেশটির বিদ্যুৎমন্ত্রী এরই মধ্যে অনুমোদিত খাবার, পানীয়র তালিকা নিজের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইমেজ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। চীনা নেতা জিন পিং ২০১২ সালে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর প্রাক্কালে এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

জম্মুর সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা- সেনাসহ নিহত ৭, হামলাকারীর পরনে সামরিক পোশাক

(ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পর সেনারা সতর্ক অবস্থান নেন। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে জম্মুর আরনিয়া শহর থেকে গতকাল তোলা ছবি l এএফপি) ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এক সেনাঘাঁটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জঙ্গি হামলায় একজন সেনাসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি আছেন। অন্য তিনজন জঙ্গি। গতকাল সকাল আটটার দিকে এই হামলা হয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির। পুলিশ জানায়, জম্মুর আরনিয়া শহরে অবস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে চার-পাঁচজন জঙ্গি ওই হামলা চালায়। এলাকাটি পাকিস্তান সীমান্ত থেকে চার কিলোমিটার দূরে। হামলাকারীদের পরনে ছিল সামরিক পোশাক।
সেনা ও পুলিশ সূত্র বলেছে, জঙ্গিরা দুটি দলে ভাগ হয়ে হামলা চালায়। একটি দল এক সেনা বাংকারে হামলা চালায়। আরেকটি দল পাশের গ্রামে গিয়ে হামলা করে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারীরা পাকিস্তানের দিক থেকে আসেনি। তিনি বলেন, আরনিয়ায় ওরা আসে একটি গাড়িতে করে। একটি বাংকারে ঢুকে সেখান থেকে সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালায় তারা।
গতকালের এ হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টুইটারে বলেন, আরনিয়ার এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা হতে পারে না। তিনি হামলায় নিহত সেনা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, গতকাল সকালেই রাজৌরি জেলার নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে এক সন্দেহভাজন জঙ্গি ধরা পড়ে। সাড়ে ছয়টার দিকে জেলার এক সেনাঘাঁটিতে সন্দেহজনক লোকের চলাফেরার খবর পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি শুরু করলে ওই ব্যক্তি ধরা পড়ে। তার কাছ থেকে একটি একে ৪৭ রাইফেল, ৩০ রাউন্ড গুলি এবং পাকিস্তানের তৈরি একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তার কাছে আট হাজার ১০০ পাকিস্তানি রুপিও পাওয়া যায়। এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, আটক ব্যক্তি নিজেকে আবদুল কাইয়ুমী ওরফে পাঞ্জাবি বলে পরিচয় দেয়।
জঙ্গি হামলা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ইতিমধ্যেই চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন এ হামলার ঘটনা ঘটল। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আয়োজিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মধ্যে শীতল সম্পর্ক দেখা যায়। তাঁদের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের ওপর সবার নজর ছিল। গত সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশের একটি জাতীয় দৈনিক আয়োজিত এক আলোচনায় ভারতে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তানের হাত আছে বলে অভিযোগ করেন।
গত অক্টোবরেই কাশ্মীরে পাকিস্তান ও ভারতের সেনা ও সীমান্তরক্ষীদের গুলিবিনিময়ে দুই দেশে অন্তত ১৯ জন বেসামরিক লোক প্রাণ হারায়। এক দশকের মধ্যে সেটিই ছিল কাশ্মীর সীমান্তে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আজ জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর ও পুঞ্চ জেলায় নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা। মোদি উধমপুরের যেখানে ভাষণ দেবেন তা গতকালের হামলার স্থান আরনিয়া জেলা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। গত মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীরের পাঁচ পর্বের বিধানসভার নির্বাচন শুরু হয়েছে। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও প্রথম পর্বের নির্বাচন কোনো গোলযোগ ছাড়াই শেষ হয়। ভোট পড়ে ৭২ শতাংশ, যা রাজ্যের জন্য রেকর্ড। গতকালের হামলার ঘটনার পর জম্মু নগর, উধমপুর ও পুঞ্চ জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

খালেদা জিয়ার সাথে নিশা দেশাইয়ের বৈঠক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। রাত সোয়া ৭টায় বৈঠক শেষ হয়।
বৈঠকে বিএনপির ভাপরপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সমশের মুবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে নিশা দেশাইয়ের সাথে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। এর আগে বিকেলে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের সাথে তার বাসায় বৈঠক করেন নিশা দেশাই।

নির্বাচন কবে? রওশনকে নিশা দেশাই

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, পরবর্তী নির্বাচন কবে হবে? এর জবাবে রওশন এরশাদ বলেছেন, বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন ‘স্বাভাবিক নিয়মে’, ‘ডিউ টাইমে’ হবে।
আজ শুক্রবার পাঁচটা ১০ মিনিট থেকে পাঁচটা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রওশন এরশাদের রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে নিশা দেশাই বিসওয়ালের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নিশা রওশনের কাছে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে রওশন এ কথা জানান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিরোধীদলীয় চিপ হুইফ এ বি এম তাজুল ইসলাম। তিনি এ-ও জানান, পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে নিশা দেশাই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।
তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নিশা-রওশন বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কেন অংশ নিয়েছিল, নির্বাচন না হলে কী হতো, বাংলাদেশের পোশাক খাত ও শ্রমিকদের নিয়ে তাঁরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে রওশন বলেন, বিএনপি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনে অংশ নিইনি। নির্বাচনে অংশ নিলে অবস্থা অন্য রকম হতে পারত। নিশা তাঁর বক্তব্যে ভিন্নমত পোষণ করেননি।
বৈঠকে এ সময় নিশার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনাসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, ফখরুল ইমাম, সাংসদ সেলিম উদ্দিন, রওশনের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসিহ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিশা দেশাই বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, শ্রমিক ও পোশাক ব্যবসায়ী নেতা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। আজ সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনে এ বৈঠক হওয়ার কথা।
মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, নিশা দেশাই গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং পরিদর্শন করবেন। কাল শনিবার তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন।

ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত মিসর : সিসি

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করতে তার সরকার ফিলিস্তিনে সৈন্য পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে। ইতালির পত্রিকা কুরিয়ার দেলা সেরা’র সাথে এক সাক্ষাতকারে সিসি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সামরিক বাহিনী পাঠাতে আমরা প্রস্তুত । তারা স্থানীয় পুলিশকে সহযোগিতা করবে এবং ইসরাইলিদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানকারী হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
মিসর সেনাবাহিনীর সাবেক এই জেনারেল জোর দিয়ে বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন এবং সময়ের প্রয়োজনে এ ধরনের সৈন্য মোতায়েন করা হবে।
রয়টার্সের মতে, এ ব্যাপারে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেননিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে সিসি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, আমি নেতানিয়াহুকে বলেছি যে, এ ধরনের একটি সাহসী পদক্ষেপ না নেয়া হলে কোনো কিছুরই সমাধান হবে না।
মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টে মুহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসেন সিসি। এরপর থেকেই মিসর সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর জুলুম-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে মিসর সরকার রাফা সীমান্ত বন্ধ করে দিলে ইসরাইলের অবরোধের শিকার গাজার পরিস্থিতি গুরুত্বর রূপ নিয়েছে।
সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর

‘অন্ধের যষ্টি’ চুরি

অন্ধ পথশিল্পী রফিকুল ইসলাম (৪৫)। বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা চিটুয়ানোয়াপাড়া গ্রামে। আট মাস বয়সে টাইফয়েডে দৃষ্টিশক্তি হারান রফিকুল।
হাটে-মাঠে খঞ্জন আর মন্দিরা বাজিয়ে গান শোনান। ঘুরে ঘুরে মানুষকে গান শুনিয়ে যে কটা টাকা পেতেন, তা দিয়ে টেনেটুনে চলে স্বামী-স্ত্রীর সংসার। গত বুধবার রাতে সেই খঞ্জন ও মন্দিরা চুরি হয়ে গেছে। এখন আর গান শোনাতে পারছেন না রফিকুল। বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জন।
রফিকুল জানান, বুধবার রাতে উপজেলার সান্দিকোনাবাজার থেকে গান শুনিয়ে বাদ্যযন্ত্র দুটি এনে ঘরে রাখেন। বৃহস্পতিবার সকালে দেখেন সেগুলো আর নেই।
সান্দিকোনা গ্রামের সবুজ মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে থাকেন রফিকুল। আশ্রিত কুঁড়েঘরের সামনে জলচৌকিতে বসে রফিকুল বলেন, ‘যন্ত্রডি চুরি কইরা আমারে ঠাইট মাইরা ফালাইছে। এহন আমি গান গাইয়াম কি দিয়া। আমি চলবাম কেমনে। যন্ত্রডি কিনতে গেলে এহন টেহা লাগব। আমি টেহা পামু কই।’
রফিকুল জানান, তিনি জালাল খাঁ, উকিল মুন্সী, সুনীল বাউলের গান ছাড়াও লালনগীতিসহ বিভিন্ন ধরনের লোকজ সংগীত করেন।
রফিকুলের স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, ‘এই যন্ত্র দুইডাই ছিল আমাদের গিরস্তি। এহন যন্ত্রের লাইগ্যা তিনি শুধু কান্দেন। যন্ত্রডি চুরি অওনের পর থাইক্যা বাজারে গিয়া গানও গাইবার পারতাছে না। এহন কীভাবে চলবাম বুঝতাছি না।’

অসৎ সঙ্গে প্রাণ হারালেন রাব্বী

গোলাম রাব্বী
কল্যাণপুরে এক চায়ের দোকানে দুই মাস আগে মো. সালাম নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় বিবিএর শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বীর। সালামের প্রভাবে এর পর থেকে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। এই সালামই কৌশলে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে পাবনায় নিয়ে তিন সঙ্গীকে দিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর খুন করান রাব্বীকে।
আজ শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-৪-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের গণমাধাম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য দেন। তিনি দাবি করেন, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য রাব্বীকে অপহরণ করা হয়।
সালামকে ধরতে না পারলেও ধানমন্ডির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইএসটির এই শিক্ষার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সালামের তিন সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪-এর একটি দল। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন শাহানুর শেখ (২২), রাজা প্রামাণিক (৩৮) ও বিপ্লব মোল্লা (২৮)।
মাহমুদ খান বলেন, গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে ইয়াবার চালান দেওয়ার কথা বলে রাব্বীকে ১৯ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকার ৭ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাসা থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যান সালাম। সেদিন রাতে পাবনার সাঁথিয়া এলাকার একটি ডোবায় গলাটিপে হত্যা করা হয় রাব্বীকে। পরে লাশটি কচুরিপানায় ঢেকে রাখে হত্যাকারীরা। ২৫ নভেম্বর রাব্বীর মরদেহ উদ্ধার করে সাঁথিয়া থানার পুলিশ।
(ছবি:- ধানমন্ডির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র গোলাম রাব্বী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: প্রথম আলো) রাব্বীর বাবা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ছেলের সন্ধানে র‌্যাব-৪-এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, অপহরণের পরদিন মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘২৫ নভেম্বর লাশ শনাক্ত করার পরও আমার কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। বলা হয়, ছেলের লাশ নিয়া যাচ্ছিস। টাকা না দিলে দেইখ্যা নিমু।’
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মাহমুদ খান জানান, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে রাব্বীকে হত্যা করা হয়।
র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া বিপ্লব বলেন, ‘ঝামেলা হইতাছিল, তাই বুকের ওপর বইস্যা শাহানুর আর আমি গলাটিপা মারছি। রাজা রাব্বীর পা চাইপ্যা ধরছিল।’

ভারতে কন্যাসন্তান হবে বলে গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের এক গ্রামে গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বলা হচ্ছে, ওই মহিলা ষষ্ঠবারের মতো কন্যাসন্তান জন্ম দিতে যাচ্ছেন একথা জানার পরই তার স্বামী তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
তার স্ত্রী মাত্র কয়েক মাসের অন্ত:সত্বা ছিলেন। সম্প্রতি স্ক্যানে আভাস পাওয়া যায় যে তার পেটের সন্তান একটি মেয়ে।
সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, গ্রেফতারকৃত বাজীরাও একজন শিক্ষিত এবং অবস্থাপন্ন কৃষক। তিনি এবং তার স্ত্রী পাঁচটি কন্যাসন্তানের পিতামাতা।
সম্প্রতি তার স্ত্রী আবার গর্ভবতী হলে, বাজীরাও সন্তানটি ছেলে না মেয়ে তা জানার জন্য স্ক্যান করাতে চাপ দিচ্ছিলেন।
স্ক্যানে সন্তানটি মেয়ে- এটা ধরা পড়ার পর তিনি গর্ভপাত করাতে চাইলে স্ত্রী তাতে রাজি হন নি।
এতে বাজীরাও এতই ক্ষিপ্ত হন যে তিনি তার স্ত্রীকে ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পুলিশ বলছে, তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেছেন।
সংবাদদাতারা বলছেন, মহারাষ্ট্রে ভ্রুণের সাথে-নির্ধারণী ডাক্তারি পরীক্ষা আইনত নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
ভারতে দম্পতিদের মধ্যে ছেলে শিশু পাবার তাড়না খুবই জোরালো এবং মেয়ে-ভ্রুণ হত্যা দেশটিতে একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা।
সূত্র : বিবিসি

দেশে পাকিস্তান আমলের চেয়েও ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসন চলছে : মওদুদ

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন- বিএনপি ক্ষমতায় এলে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা বাতিল করা হবে। স্বৈরাচারী সরকার সবসময় গণমাধ্যমকে ভয়পায়। সেজন্য তারা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়। কিন্তু যারাই গণমাধ্যমের ওপর আঘাত করেছে তাদেরই হাত পুড়ে গেছে।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দেশে বর্তমানে পাকিস্তান আমলের চেয়েও ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসন চলছে। এবারের বিএনপির আন্দোলন নিছক ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয় বরং হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। এ আন্দোলনে সাংবাদিকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষকে অংশ নেয়ার আহবান জানান তিনি।

ই-বর্জ্য:মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশ ও শরীরের

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবনে নানা ইলেকট্রনিক্স পণ্য হচ্ছে আমাদের নিত্য-ব্যবহারের সঙ্গী। টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের মত পণ্যগুলো জীবনকে যতটা সহজ করছে তেমনি এগুলো ব্যবহারের কয়েক বছর পর কর্মক্ষমতা শেষ হলে ফেলে দেওয়া হচ্ছে যেখানে সেখানে। বাংলাদেশে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলো বলছে দেশে প্রতিবছর ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন ইলেকট্রনিক্স ওয়েস্ট বা ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। যেগুলো ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশ ও মানুষের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পুরান ঢাকার নিমতলীতে নানা রকমের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকান নান্নু মিয়ার। চল্লিশের কাছাকাছি বয়স নান্নু মিয়া -অনেক ছোট বেলা থেকেই এই কাজ শিখেছেন। তবে তখন ছিল রেডিও ও সাদাকালো টিভির যুগ।
সময়ের সাথে তার দোকানে এখন শোভা পাচ্ছে নানা মডেলের রঙ্গিন টিভি, ফ্রিজ, ওভেন ও কম্পিউটার। পুরোনো এসব ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ভেঙ্গে সেসব থেকে প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক, লোহা রেখে - বাকিগুলো ফেলে দেন তিনি।নিমতলী এই দোকানগুলোর মত ঢাকার আরও কয়েকটি স্থানে এধরনের পুরনো জিনিসের দোকান রয়েছে।পুরান ঢাকার চকবাজার, ইসলামপুর, জিঞ্জিরা, বাবুবাজার এলাকায় পুরানো ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বেচাকেনা হয়।
ঢাকার ইসলামপুরে যারা ভাঙ্গারির ব্যবসায়ী নামেই স্থানীয়ভাবে পরিচিত তারা কম্পিউটার, ফ্রিজ, টিভির মত সামগ্রীগুলো ভেঙে আলাদা করে থাকেন। তবে একাজ করতে কোনও প্রশিক্ষণের দরকার নেই বলেও তারা মনে করেন।
ইসলামপুরের একজন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিরাজ বলছিলেন এসব ভাঙ্গা বা আলাদা করার কাজ হাত দিয়েই করেন তিনি। এর জন্য কোন বাড়তি প্রস্তুতি নেন না তিনি। মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা ও শ্বাস কষ্টে ভোগেন তিনি।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে টিভি, ফ্রিজ, মাইক্রো ওভেন, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, এয়ারকন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, ডিভিডি প্লেয়ার, সিএফএল বাল্ব এসব কিছু ব্যবহার হচ্ছে প্রতিদিনকার জীবনে।
বেশ কয়েক বছর ব্যবহারের পর যখন তাদের কর্মক্ষমতা শেষ হয় তখন তাদের ঠিকানা হয় বিভিন্ন অঞ্চলে একদম নিজ উদ্যোগে গড়ে ওঠা কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানে।
তারা এসব সামগ্রী থেকে প্রয়োজনীয় লোহা, প্লাস্টিক রেখে বাকিটা ফেলে দেন। যেগুলো যায় বিভিন্ন আবর্জনা ফেলার স্থান, নদী-নালা ও ডোবায়।বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে যারা ইলেকট্রনিক্স ওয়েস্ট বা ই-বর্জ্য নিয়ে গবেষণা করছেন তারা বলছেন দেশে এখন বছরে ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-ওয়েস্ট তৈরি হচ্ছে।
তবে এর আশি শতাংশ আসছে দেশের বাইরে থেকে। একটি সংস্থার গবেষক ড.শাহরিয়ার হোসেন বলছিলেন চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প থেকে বছরে ৮০ শতাংশ বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে। বাকি ২০ শতাংশ হচ্ছে বাংলাদেশে।
তিনি বলেন পুরানো জাহাজ যেগুলো ভাঙ্গার জন্য আনা হয় সেগুলোর মধ্যেও সেসব দেশের ইলেকট্রনিক্স পণ্য বা ই-ওয়েস্ট থাকে। এসব বিষাক্ত উপাদান মাটিতে এবং পানিতে যাচ্ছে। চক্রাকারে তা আবার মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। কিন্তু এসব ইলেকট্রনিক্স পণ্য কি শুধু প্লাস্টিক, লোহা – তামা বা কঠিন ধাতব পদার্থ দিয়েই তৈরি হয়!
এগুলো তৈরিতে আরও ব্যবহার করা হয় সিসা, ফাইবার গ্লাস, কার্বন, সিলিকন, পারদ- পণ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উপাদান।
ফলে উন্মুক্ত স্থানে কোন প্রশিক্ষণ ছাড়া এসব সামগ্রী ভাঙ্গা, বেচা-কিনা এবং সবশেষে বিভিন্ন আবর্জনার স্তূপ বা পানিতে এর অবশিষ্টাংশ ফেলাটা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে সে প্রশ্ন এসে যায়।
বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাকিল আকতার বলছিলেন দুইভাবে মানুষের শরীরে এটি প্রভাব ফেলে। প্রথমত ত্বকের বিভিন্ন রোগ এবং পরবর্তী পর্যায়ে কিডনি, ফুসফুস ও ব্রেনের মারাত্মক ক্ষতি করে এসব উপাদান।
এসব ইলেকট্রনিক্স পণ্য বেশিরভাগ আমদানি করা বিশ্বের নানা দেশ থেকে।দেশে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। পণ্যগুলো কেনার সময় এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকে।
অর্থাৎ একবছরের মধ্যে কোন সমস্যা হলে ঐ প্রতিষ্ঠান মেরামতের কাজ করে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর পর ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরলে সেগুলো রি-সাইকেল বা পুনর্ব্যবহার উপযোগী করা তোলা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পরে না প্রতিষ্ঠানগুলোর।
বাংলাদেশে ই-ওয়েস্ট বা ই বর্জ্য তৈরির অন্যতম পণ্যের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ। এই পণ্যের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গুলো পুরানো কম্পিউটার ফেরত নেওয়া বা রি-সাইকেল করার জন্য কোন নিয়মনীতির বাধ্যবাধকতায় কি পরেন?
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সদস্য ও এবিসি কম্পিউটার কর্নারের প্রধান কাজি শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন এধরনের কোন নিয়ম বাংলাদেশে নেই। তিনি বলছিলেন উন্নত কিছু দেশে এ ধরনের নিয়ম থাকলেও আমাদের এসব কিছু মানতে হয় না। বাংলাদেশে এসব পুরানো ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ধ্বংস বা পুনর্ব্যবহারের জন্য কোন স্থান বা অবকাঠামো নেই।
ঢাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এগুলো অল্প দামে কিনে সেটা ভেঙ্গে প্রয়োজনীয় উপাদান রেখে বাকিটা বিক্রি করে দিচ্ছেন ভাঙারির দোকানির কাছে।আর দেশের অন্যান্য স্থানে উন্মুক্ত স্থানে কখনো রাস্তার পাশে অথবা বিভিন্ন আবর্জনার স্তূপ ও নদী-নালার মাধ্যমে পানিতে যাচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে পরিবেশ নিয়ে যেসব সংস্থা গবেষণা করে তারা কিছু সুপারিশ নিয়ে একটি নীতিমালার করার প্রস্তাব দিয়েছিল সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কে।
তবে সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন বিষয়টি এখনো স্ট্যাডির পর্যায়ে রয়েছে। কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন এটা একটা নতুন বিষয়, এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুপারিশের মধ্যে ছিল যে কোন পণ্য ই ওয়েস্টে পরিণত হওয়ার পর তার দায়িত্ব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে যেমন নিতে হবে তেমনি কোন পণ্য দ্বারা ক্রেতা বা পরিবেশ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এর দায়িত্ব নেবে।
আর ই-বর্জ্য যথাযথা ভাবে পুনর্ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ সরকারকে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।

হাতে হাত মিললেও গলল না বরফ

হাত মেলানোর সৌজন্য দেখালেন দু’জনই। হাসি মুখে দাঁড়ালেনও ক্যামেরার সামনে। নরেন্দ্র মোদী এবং নওয়াজ শরিফের যে ছবি ওঠার পরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরুদ্দিন টুইট করেন, ‘এই ছবির জন্যই আমরা সবাই অপেক্ষা করছিলাম।’ এর ফলে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দমবন্ধ আবহাওয়া কিছুটা হাল্কা হলেও দুই পড়শি দেশের মধ্যে বরফ কিন্তু আদৌ গলল না। বরং এ দিনই কাশ্মীরে সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষের পরে দিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করলে সম্পর্ক সহজ হবে না। গতকাল অবশ্য দুই প্রধানমন্ত্রীর কেউ কারও দিকে ফিরে তাকাননি। শেষ পর্যন্ত নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা হস্তক্ষেপ করেন। তাঁর দেশেই হচ্ছে সার্ক সম্মেলন। তাই মুখরক্ষার একটা দায় তাঁর ছিলই। তবে মোদী-শরিফ হাত মেলালেও এখনই খুব আশার আলো দেখছেন না কূটনীতিকরা। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অনেকেই বলছেন, আজ করমর্দনের পরে ভারত-পাকিস্তানের পারস্পরিক চাপানউতোর লঘু হয়ে গিয়েছে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। সৈয়দ আকবরুদ্দিন বলেছেন, মোদী-শরিফ আলাদা করে কোনও আলোচনায় বসছেন না। তবে তাঁর মন্তব্য: “ভারত সব সময়েই পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি বজায় রেখে চলতে চায়। আমরা অর্থপূর্ণ আলোচনা চাই। যদি এই করমর্দনের পরে সেই পরিসর তৈরি হয়, আমরা তাকে অভিনন্দন জানাব। কিন্তু জোর দিতে হবে অর্থপূর্ণ আলোচনার উপরেই।”
গত কাল অবশ্য এই সৌজন্য থেকে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীই দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। কূটনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, দু’দেশের নেতার উপরেই অভ্যন্তরীণ চাপ ছিল। গত কাল এমনিতেই ছিল ২৬/১১-র ছ’বছর। যে দিনটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যদি পাক-প্রধানমন্ত্রীকে খুব বেশি নমনীয় মনোভাব দেখাতেন, তা নিয়ে সমালোচনা হতই। বিশেষ করে সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানের বার বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন ও সার্ক সম্মেলনেই পাকিস্তানের বাধায় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি রূপায়ণ ব্যর্থ হওয়া এবং গত কাল সন্ত্রাস-প্রশ্নে সম্পূর্ণ নীরব থাকায় পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এটাও সত্যি যে, প্রতিবেশী দেশের প্রতি শত্রুমনোভাবাপন্ন হয়ে বেশি দিন চলা মুশকিল। তা ছাড়া, আগামী বছরেই ভারতে আসার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার। তার আগে দুই পড়শি দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার আবহ নষ্ট হয়েছে, এমন বার্তা দেওয়াও সমীচীন নয়।
একই রকম চাপের মুখোমুখি শরিফও। ভারতকে আগ বাড়িয়ে সৌজন্য দেখাতে গেলে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও দেশের সেনাবাহিনী তাঁকে ছেড়ে কথা বলত না। আবার গত কাল চুক্তি রূপায়ণে বাধা সৃষ্টি করায় সার্কের অভ্যন্তরেই পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল। এই অবস্থায় মুখরক্ষার আশু প্রয়োজন ছিল শরিফের। কূটনীতিকদের ধারণা, শুধুমাত্র রাজনীতির কথা ভেবে দু’দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার কথা ভাববেন না কোনও রাষ্ট্রনেতাই। তাই শান্তিপ্রক্রিয়াকে শেষমেশ গুরুত্ব দিয়েছেন দু’জনে।
গত কাল রাতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার ডাকা নৈশভোজে দুই নেতার মধ্যে কথোপকথন হয়েছে বলে প্রথমে দাবি করা হলেও পরে পাকিস্তানের একটি সূত্র জানায়, খবরটি ঠিক নয়। কিন্তু কাঠমান্ডুর বাইরে ধুলিখেলে এসে মোদী-শরিফের পক্ষে পরস্পরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এক রকম অসম্ভব ছিল। সেখানে হাজির ছিলেন মুষ্টিমেয় অতিথি। সৌজন্য বিনিময় ছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দুই নেতা একটি শব্দও খরচ করেননি বলে খবর।
বস্তুত আজ মোদী-শরিফের করমর্দন ছাড়া সার্ক সম্মেলন কার্যত বিফলেই যেত যদি না সার্কভুক্ত অন্য নেতারা শরিফকে শক্তি সংক্রান্ত চুক্তি ঘোষণায় সই করতে রাজি না করাতেন। ১৮তম সার্ক সম্মেলনের শেষ দিনে আশার আলো বলতে ওইটুকুই। গত কাল পাকিস্তান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সায় না দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন অনেকেই। সার্কের প্রাসঙ্গিকতা ক্রমশ আরও কমে যাক চাননি কেউই। যদিও ভারত আলাদা করে নেপালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি চুক্তি সই করেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

প্রবাসী সাংবাদিকরা দেশ ও প্রবাসের সেতুবন্ধনকারী

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, প্রবাসীদের সাফল্যগাঁথা, সমস্যা সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় প্রবাসী সাংবাদিকরা দেশের জনগণের কাছে সঠিক ভাবে উপস্থাপনা করে যাচ্ছেন। প্রবাসী সাংবাদিকরা দেশ ও প্রবাসের সেতুবন্ধনকারী। বুধবার লন্ডনের এক রেষ্টুরেন্টে বৃটেনের বাংলা মিডিয়ায় কর্মরত বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রবাসীদের দক্ষতা ও কর্ম অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচী গ্রহণ করা প্রয়োজন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রবাসীদের যে কোন উদ্যোগকে চট্টগ্রামবাসী স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সাপ্তাহিক বাংলা নিউজ এর সম্পাদক সোয়েব কবীরের সভাপতিত্বে ও জাতীয় অনলাইন প্রেস ক্লাবের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইকন কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. নুরুন নবী ও সাপ্তাহিক বাংলা নিউজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট আইনজীবি আব্দুর রব মল্লিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. নুরুন নবী বলেন, সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করতে এবং চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের দল মত নির্বিশেষে সবাইকে এক প্লাটফর্মে এসে কাজ করতে হবে। এসময় সাংবাদিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এসএ টিভি ও আমাদের সময়ের লন্ডন প্রতিনিধি হেফাজুল করিম রকিম, এনটিভি ইউরোপের‘র জনপ্রিয় উপস্থাপক আতাউল্লাহ ফারুক, এনটিভি ইউরোপের হেড অব নিউজ রাজিব হাসান, চ্যানেল এস এর প্রযোজক তৌহিদুল করিম মুজাহিদ, চ্যানেল এস এর সিনিয়র রিপোর্টার শাহনেওয়াজ রকি, বাংলা টিভির মো. ইমরান, চ্যানেল আই ইউরোপের কমিউনিটি নিউজ এডিটর মো. কাওসার, দৈনিক আমার দেশ এর মাহবুবুর রহমান, বাংলা টাইমস এর তানভীর হাসান, মো. কফিল, মুজতাহেদ উজ জামান প্রমুখ।

জিম্বাবুয়ের টার্গেট ২৫৭

জিম্বাবুয়েকে ২৫৭ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ৩ বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় খেলেন ২৫ বলে ৩৯ রানের মারকুটে ইনিংস।   মিরপুরে চতুর্থ ওয়ানডেতে শুরুর মতো ইনিংসের শেষভাগেও ধৈর্যহারা ব্যাটিং দেখান বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। ৩৭.২তম ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৬৬/৪। কিন্তু পরের তিন ওভারে ১১ রানে তিন উইকেট খুইয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহটা পৌঁছে ১৭৭/৭-এ। এর আগে পঞ্চম উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের ইনিংস মেরামত করেন মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে ব্যক্তিগত ৭৭ রানে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট দেন মুশফিক।  এতে ৩৭.৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৬/৫-এ। পঞ্চম উইকেটে মুশফিক-মাহমুদুল্লার জুটিতে সংগ্রহ ১৩৪ রান। । টস জিতে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৩২ রানেই ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।  দলীয় ১৪ রানেই এনামুল হকের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর একে একে বিদায় নেন তামিম, ইমরুল ও সাকিব। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ২টি করে উইকেট পেয়েছেন নেভিল মাদজিভা ও সোলোমন মিরে। ওয়ানডেতে আজ অভিষেক হয়েছে স্পিনার জুবায়ের হোসেনের। বাংলাদেশ দল- তামিম ইকবাল, এনামুল হক, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহামুদুল্লাহ, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), আবুল হোসেন, জুবায়ের হোসেন  ও রুবেল হোসেন।

আলী দোস্ত বৃত্তান্ত by ওয়াসি আহমেদ

আলী দোস্তের কথা কেউ বিশেষ মনে রাখেনি। কান্দাহার, হিন্দুকুশ দখলের পর কামরানের চোখ বুজিয়ে দিতে তার ডাক পড়েছিল। এরপর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।  কান্দাহার কবজায় আসার পর হুমায়ুনের মনে বড় স্বস্তি কামরানকে পাকড়ানো গেছে। ঘরের শত্রু বিভীষণ। ভাই হয়েও কী যন্ত্রণাই না দিয়েছে এত দিন! সারাক্ষণ তক্কে তক্কে ছিল, কখন মওকা বুঝে হুমায়ুনকে ঘায়েল করবে। কপাল ভালো হুমায়ুনের যে কামরান তাকে তেমন বেকায়দায় পায়নি। না হলে নিজ হাতে টুকরো টুকরো করে চিল-শকুনকে খাওয়াত। পাকড়ানো যখন গেছে, বড় শাস্তিই যে কামরানের পাওনা এ নিয়ে সন্দেহের কারণ ছিল না। আর মৃত্যুই যে সে শাস্তি, এ নিয়ে কারও মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল না। হুমায়ুনেরও না—অন্তত বাইরে থেকে দেখে তা-ই মনে হয়েছে। এ আপদকে বাঁচিয়ে রাখলে, এমনকি কয়েদ করে রাখলেও বিপদ আসবে না, এ ভরসা কে দেবে! সভাসদেরা এককাট্টা—শাস্তি মানে মৃত্যুদণ্ড। অন্যদিকে ফৌজিরা আগ বেড়ে পরিকল্পনায় মগ্ন, মৃত্যুটা কীভাবে উদ্যাপন করবে। কেবল বোন গুলবদন বেগম চুপ। শাস্তি যে একটা হওয়া উচিত, এ বিষয়ে তার মনোভাব তৈরি হয়ে থাকলেও সেটা মৃত্যু কি না এ নিয়ে হয়তো দোলাচলে ছিলেন। এ অবস্থায় খোদ হুমায়ুন শাস্তির যে বিধান দিলেন তাতে ফৌজিরা তো বটেই, সভাসদেরাও মুষড়ে পড়ল। বিধানটা এ রকম: মৃত্যুই কামরানের প্রাপ্য; তবে তাকে খুনই যদি করে ফেলা হয়, তার পাপের সাজাটা কে ভোগ করবে? তার চেয়ে তার চোখ দুটো যদি সেলাই করে চিরদিনের মতো বুজিয়ে দেওয়া যায়, সেটা হবে তার যথার্থ সাজা—দৃষ্টিশক্তিহীন কামরানের তখন কী করার থাকবে, মনে তার যত কুচিন্তাই গিজগিজ করুক।
যুক্তি ছিল হুমায়ুনের বিধানে। এক কোপে কতল করে ফেললে কামরান তার সাজার আজাব থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে, মরার কষ্টও টের পাবে না। বড় কথা, সোজা বেহেশতে চলে যাবে। রমজান মাস চলছে, কামরান আবার রোজাদার। শেষপর্যন্ত দু-একজন বাদে অন্যরা মনমরা হয়ে ব্যবস্থাটা মেনে নিল, তবে ভাইকে বাঁচিয়ে রাখতে হুমায়ুনের ফন্দি হিসেবে শাস্তির বিধানটা কলঙ্কিত হয়ে থাকল। মেনে নিলেও ফৌজিরা একটা শর্ত দিল। শুধু সেলাইতে চোখের পাতা বন্ধ করা চলবে না, যত পাকা হাতেই সেলাই করা হোক, ফাঁকফোকর থেকে যাবে না কে বলবে! এমন সময় ডাক পড়ল আলী দোস্তের। প্রচণ্ড গরম ছিল সেদিন। চারপাশে পাহাড়ের মাথাগুলোয় আগুন ঝলকাচ্ছিল। রোদের তাপ পাথুরে পাহাড়ের গা ছেড়ে যত নিচে নামছিল, গরমটা ততই তেড়েফুঁড়ে তাতিয়ে উঠছিল। রমজানের সেদিন যেন কত তারিখ? আলী দোস্তের ডাক পড়ার কারণ এ ধরনের কাজ তার জন্যই বিশেষভাবে নির্দিষ্ট। ফৌজিদের একজন হয়েও যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মুখোমুখি হওয়া তার কাজ না। তাকে ডাকা হয় যুদ্ধের বিরতিতে বা যুদ্ধ শেষে। তার সামনে তখন হাজির করা হয় পরাজিত বা বন্দী শত্রুসৈন্যদের। যুদ্ধ যারা করে, শত্রুর ঘাড় তাক করে তলোয়ার চালায়, বল্লম ছুড়ে বুক-পিঠ এফোঁড়-ওফোঁড় করে, তাদের বড় দুর্বলতা যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে এসে বন্দী দুশমনদের ওপর কিছুতেই চড়াও হতে পারে না। যুদ্ধ শেষ, তাদের ক্ষমতাও শেষ। যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া তাদের শক্তি, সাহস, হিংস্রতা যেন একজোট হতে পারে না।
এ কারণেই দরকার আলী দোস্তের মতো লোকদের। খুব সুস্থিরভাবে কনুই থেকে আলগোছে হাতের নিচের অংশ ছেঁটে ফেলা, অণ্ডকোষ থেঁতলে দেওয়া বা ছুরির তীক্ষ্ণ ডগা ঘুরিয়ে কোটরমুক্ত সদ্যঅন্ধ চোখ নিপুণ নিশানায় অপেক্ষারত কুকুরের মুখে ফেলা—কাজগুলো সে করে নিরবচ্ছিন্ন একাগ্রতায়। তার শরীর-স্বাস্থ্যে বাহাদুরি নেই—মাঝারি গড়ন, ভোঁতা নাক-ঠোঁট, চোখজোড়া ঔৎসুক্যহীন। বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য বলতে দুহাতেই একটা করে বাড়তি আঙুল। বুড়ো আঙুলের গা ঘেঁষে গজানো অতিরিক্ত আঙুল দুটো বেঁটেখাটো, গাঁটহীন—বাছুরের শিংয়ের মতো টাটানো আর কঞ্চির ধারালো ডগার মতো খোঁচাপ্রবণ।
বন্দিশালা থেকে কামরানকে যখন চোখ বেঁধে একটা প্রায়ান্ধকার ঘরে নিয়ে আসা হলো, সে তখন ভেবে থাকবে কতল করতেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু চোখ খোলার পর তলোয়ারহীন আলী দোস্তকে সামনাসামনি দেখে সে বুঝে উঠতে পারল না কী হতে যাচ্ছে। পরপরই যখন সরু-লম্বা কাঠের পাটাতনে তাকে চিৎ করে ফেলা হলো, সে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় খানিকটা জোরাজুরি করল।
বুঝতে পারছিল কোনো লাভ হবে না। কারণ যারা তাকে পাটাতনে ফেলে চেপে ধরল তারা সংখ্যায় চারজন। ফেলামাত্র দুজন দুদিকে ছড়ানো দুহাতের ওপর হাঁটু গেড়ে বসল, অপর দুজন একই কায়দায় ঊরু-হাঁটু কবজা করল। শেষে ধীরেসুস্থে আলী দোস্ত বুকের ওপর সওয়ার হলো। কাঁধে ঝোলানো ছোট চামড়ার থলে থেকে একে একে সে তার সরঞ্জাম বের করল। ইঞ্চি পাঁচেকের চিকন দুটো লোহার শলা, ফিনফিনে কালচে-সবুজ সুতা, রুপালি ঝিলিক তোলা ছোট-বড় গোটাকতক সুই, ছোট কাচের শিশিতে টলটলে হলদেটে তরল। এ ছাড়া ছুরি, কাঁচি, বাটাল, ত্যানার পুঁটলি।
কামরানের ছাতি চওড়া, পা ছড়িয়ে বসার পরও খালি জায়গা যেটুকু মিলল তাতে সরঞ্জামগুলো পর পর সাজিয়ে রাখতে অসুবিধা হলো না। কামরানের মাথা তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে উঁচু করা হতে শুয়ে পড়ার পর প্রথমবারের মতো সে আলী দোস্তের মুখ দেখতে পেল। আলী দোস্তও দেখল। ততক্ষণে কামরান বুঝে গেছে কী হতে যাচ্ছে। সে দেখল বুকে সওয়ার লোকটার প্রতি হাতে একটা করে বাড়তি আঙুল।
আলী দোস্ত সময় নষ্ট করল না। প্রথমেই ত্যানার পুঁটলি মুখে গুঁজে দিল। লোহার শলা চেপে ধরে অভ্যাসবশত দুচোখে দুটো মোক্ষম খোঁচা দিতে যাবে, তখনি কী মনে হতে সে শলার ব্যবহার বাদ দিয়ে দুহাতের বাড়তি আঙুল দুটোর টাটানো ডগা কামরানের দুচোখে বিঁধিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হলো কাজটা লোহার শলার চেয়ে কার্যকর ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত। আগে কখনো ব্যবহার করেনি বলে বাড়তি ও আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় প্রত্যঙ্গ দুটির কার্যকারিতা তাকে চমকে দিল।
সেলাই করে চোখের পাতা বুজিয়ে দেওয়ার কাজটা সে মনোযোগ দিয়ে সারল। তবে তার আগে ছোট শিশিতে হিন্দুকুশের বিখ্যাত সুগন্ধি তাবারি লেবুর রসটুকু সমানভাগে অন্ধকার দুই কোটরে ঢালতে ভুলল না।
সেদিন সন্ধ্যার ঠিক আগে আগে আলী দোস্তকে দেখা গেল আস্তাবলের পেছনে একটা ছোট ছাউনিতে চুপচাপ বসে থাকতে। মানুষটা সে চুপচাপ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথাবার্তা বলে না, হইহুল্লোড় পছন্দ করে না। একা বসে থাকতে দেখে হাম্মাদ নামের এক ভিস্তিওয়ালা তাকে সালাম দিল। আলী দোস্ত চোখ তুলে একনজর লোকটাকে দেখে হাতইশারায় কাছে ডাকল। ভিস্তিওয়ালা হয়তো এতটা আশা করেনি। সে পায়ে পায়ে এগিয়ে একটা মরা গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে দাঁড়াতে আলী দোস্ত তাকে অবাক করে জিজ্ঞেস করল, সারা দিন পানি বওয়ার কাজ তার কেমন লাগে?
এ প্রশ্নে হাম্মাদ কী জবাব দেবে বুঝতে পারছিল না। সে অযথাই ঘাড় কাত করে একটা কিছু বোঝাতে চাইল। যার মানে হতে পারে কাজের আবার ভালো-মন্দ! জবাবটা ভেঙে বলতে আলী দোস্ত তাকে আর কোনো প্রশ্ন করেনি। আসলে ভিস্তিওয়ালা তাকে সালামটা যে দিয়েছিল তার মূলে আলী দোস্তের সেদিনের কাজকে সম্মান জানানো। হাম্মাদ শুনেছে কামরানের চোখ বুজানোর কাজটা আলী দোস্ত করেছে। আর করেছে এত পাকা হাতে নিঃশব্দে, বাইরে থেকে কেউ সামান্য আওয়াজও পায়নি। পরে জানাজানি হয়েছে, নানা মুখে তখন নানা কথা। সেসবের কতটা সত্যি, কতটা বানানো কে বলবে! তাই বলে হাম্মাদের সাহস নেই খোদ আলী দোস্তের কাছে প্রসঙ্গটা তোলে। তবে আলী দোস্ত তাকে তার কাজ ভালো লাগে কি না জানতে চাওয়ায় তার মনে একটা উসখুস জেগেছিল পাল্টা জানতে চাওয়ার আলী দোস্তের কি নিজের কাজ ভালো লাগে?
সুযোগটা সে হারিয়েছে কথা না বলে এক দৃষ্টিতে লোকটার প্রতি হাতের ছয় নম্বর আঙুলে তাকিয়ে থেকে। সত্যি-মিথ্যা জানে না, সে শুনেছিল যন্ত্রপাতি ছাড়া স্রেফ আঙুল দুটো ঠুঁসিয়েই সেদিন কামরানের চোখের আলো নিভিয়েছে আলী দোস্ত। ভিস্তিওয়ালা আর সময় পায়নি, দূর পাহাড়ের ফাঁকে সূর্য তখন ডুবুডুবু, ইফতারের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেদিন দশ না এগারো রমজান?
আলী দোস্তের বিষয়ে শেষ খবর যার মুখে শোনা গিয়েছিল সে সেই ভিস্তিওয়ালা। এরপর তার খোঁজ কেউ পায়নি।

বিশাল সেনাবাহিনী থেকে কে কোথায় ছিটকে পড়ল, এটা কোনো হিসাবের আওতায় পড়ে না। যুদ্ধের ময়দানে মারা পড়া ছাড়াও অনেকে নিখোঁজ রয়ে যায়, একসময় তাদের মৃত বলে ধরে নেওয়াই দস্তুর। কিন্তু আলী দোস্ত হাওয়া হয়ে যাবে কেন? কিছুদিনের মধ্যে গোটা হিন্দুস্তানে আবার বাদশাহি রাজত্ব কায়েম হতে যাচ্ছে। বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বতে পালিয়ে বেড়ানোর দিন খতম। এ সময়টা অপেক্ষা করার, ভেগে পড়ার নয়।
কৌতূহলী হয়ে যারা এ নিয়ে ভাবল তারা শেষপর্যন্ত হাম্মাদ ভিস্তিওয়ালার শরণাপন্ন হলো। নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে ভিস্তিওয়ালার জীবনে সে এক বিরল সুযোগ। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে সে যা বলল তাতে তারা চমকে উঠল।
হাম্মাদ বলল, সেদিন মাগরিবের আগে আলী দোস্তের সাথে তার অনেক কথাবার্তা হয়েছে। সে অতি সামান্য মানুষ, আলী দোস্ত খাতির করে তাকে এমন অনেক কিছুই বলেছে, যা তার শোনার কথা না। হাম্মাদ জানাল, আলী দোস্ত তাকে বলেছে বন্দীদের ওপর দিনের পর দিন নির্যাতন চালিয়ে নিজের ওপর তার ঘেন্না ধরে গেছে। কাজটা মোটেও সে পছন্দ করে না। অবশ্য এ কথা বলার আগে সে হাম্মাদের কাছে জানতে চেয়েছে সে তার কাজ পছন্দ করে কি না। জবাবে হাম্মাদ জানিয়েছে, পানি বওয়ার কাজ তার খুব ভালো লাগে। পানির অপর নাম জীবন। তার ভাগ্য, মানুষকে পানি জোগানোর মতো কাজ আল্লাহপাক তার জন্য বরাদ্দ করেছেন।
হাম্মাদ জানাল, আলী দোস্ত বলেছে অনেক কথাই, তবে সব কথার মূলকথা সে তার কাজকে ঘেন্না করে। কাজের কারণে নিজেকে ঘেন্না করে সবচেয়ে বেশি—এতটাই যে মাঝে মাঝে তার ইচ্ছা হয় দুহাতের বাড়তি আঙুল দুটো নিজের দুচোখে বিঁধিয়ে দেয়। ঘটনার দিন সে যে তার খর্জুরের কাঁটার মতো আঙুল বিঁধিয়ে কামরানের চোখ বুজিয়েছে, এ কথাও বলেছে। বলতে গিয়ে আফসোসও নাকি করেছে, যদি চোখ দুটো কামরানের না হয়ে তার নিজের হতো। বলা যায় না, হয়তো নিজের চোখজোড়াকে ঘায়েল করতে দূরে নিরিবিলি কোনো জায়গায় চলে গেছে। নিজের চোখে দুনিয়া দেখার খায়েশ তার নেই। বলে ভিস্তিওয়ালা নিজের একটা সংশয়ও প্রকাশ করেছে, নিজের হাতে নিজের চোখ, কাজটা কঠিন হবে; তবে লোকটা আলী দোস্ত বলে কথা, কঠিনকে সহজ করে ফেলতেও পারে।
আলী দোস্তকে নিয়ে কথাবার্তার ওখানেই শেষ, হাম্মাদ যেমন কেসসাই ফাঁদুক। দেখা গেল তার কথায় প্রাথমিক একটা ধাক্কা খাওয়া ছাড়া কারও তেমন প্রতিক্রিয়া হয়নি। সময়টাও তখন এমন, এসব কাঁদুনিতে বেশিক্ষণ কান দেওয়ার ফুরসত কারও নেই। ছাউনি গুটিয়ে মোগল বাহিনী সামনে বাড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছে। গরমে আকাশ জ্বলছে, কাছে-দূরে ধূসর পাহাড়চূড়ায় কুণ্ডলী পাকানো পোড়া মেঘের মতো রোদ, হাওয়া-বাতাস নেই, তার পরও সাজ সাজ রব। সামনেই দিল্লি-আগ্রার পতন।
আসলে নিজেকে নিয়ে রহস্য করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আলী দোস্তের ছিল না। নিজের ওপর তার সেদিন রাগ হয়েছিল এ কথা ঠিক। রাগ হয়েছিল মানুষের কথা ভেবে, মানুষ এত দুর্বল। মাত্র দুই আঙুলের খোঁচায় চোখের জ্যোতি মরে যায়, তাও এমন দুই আঙুল যাদের হিসাবেই আনার কথা না। এমন তো হতে পারত কামরান যদি কোনো কায়দায় জয়ী হয়ে যেত, আলী দোস্ত গিয়ে কামরানের পল্টনে নাম লেখাত। আর তখন হয়তো হুমায়ুনের চোখ বুজিয়ে দিতে তারই ডাক পড়ত। সে তখন একই কায়দায় হুমায়ুনের বুকে সওয়ার হতো।
ভেবে ভেবে সে আনমনা হয়ে পড়েছিল। আস্তাবলে ঢুকে তার নিজের ঘোড়ার পিঠে জিন না চাপিয়েই চড়ে বসেছিল। ঘোড়াটা বার কয়েক ঘাড় নেড়ে মনিবকে হয়তো জিন পরানোর কথা মনে করিয়ে দিতে চেয়েছে, সঙ্গে লাগামও। ঘোড়ার মনোভাব বুঝে আলী দোস্ত দুই পায়ের গোড়ালি দিয়ে ঘোড়ার পেছনে জোড়-লাথি ঠুকেছিল। চমকে লাফিয়ে উঠলেও দ্বিতীয় দফা লাথির অপেক্ষা না করে ঘোড়াটা আস্তাবল ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল।
ঘুটঘুটে অন্ধকারে জিনহীন, লাগামহীন ঘোড়ায় সওয়ার আলী দোস্ত এপাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপাহাড়ের চড়াই ভেঙে চলছিল। মানুষ কত দুর্বল! মাথা থেকে কথাটা তাড়াতে পারছিল না। সে নিজেও কি দুর্বল? ভাবতে গিয়ে হঠাৎ সে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। সে যা করে, অন্যরা তা পারে না বলেই তাকে দিয়ে করানো হয়। পারবে কেউ জ্যান্ত মানুষের থুতনিতে ধীরে-শান্তিতে ছুরির আলতো পোঁচে গোটা মুখ থেকে কলার খোসার মতো চামড়া খসিয়ে নিতে? লড়াইয়ের ময়দানে দুশমনের চোখে না তাকিয়ে বুকে বর্শা ঠোকা বা তলোয়ারের হ্যাঁচকা টানে মাথা নামিয়ে ফেলা কে না পারে! কিন্তু কাটা মুণ্ডুটা ধীরেসুস্থে ফাটিয়ে টাটকা তুলতুলে মগজটুকু কজন পারবে রুমালে বেঁধে বা হাতে করেই গরম-গরম ছাউনিতে ফিরতে! পারে না বলেই তারা দুর্বল। আর সে—আলী দোস্ত? দুর্বল নয় বলে সে হয়তো মানুষও না। তার দুই হাতে একটা করে বাড়তি আঙুল, মানুষের যা নেই।
কথাটা ছোটবেলায় তার মায়ের মুখে শুনেছে। মাত্র বছর দুয়েক বয়সে মাই চুষতে গিয়ে মায়ের একটা বুক যেদিন ছ-নম্বরি আঙুলের আঁচড়ে রীতিমতো ঘায়েল করে ছেড়েছিল, মেয়েলোকটা তাকে কোল থেকে ছুড়ে ফেলে চিৎকারে লোক জড়ো করে ফেলেছিল। মুখে নাকি তখনি ঘোষণা করেছিল তার পেট-খসা এটা মানুষ না। সে সময় মায়ের এ ঘোষণা তার কানে পৌঁছার কথা নয়। ঘটনাটা কিছুটা বড় হয়ে সে শুনেছে, অথবা এও বলা যায় এ ঘটনা শুনে শুনেই সে বড় হয়েছে।
বয়স বাড়তেই বুঝে গিয়েছিল, সে আশপাশের অন্যদের মতো নয়। ঘর ছেড়ে রুজির ধান্দায় বেরিয়ে তেমন জুত করতে পারেনি। তার মাঝারি শরীরে, ভোঁতা নাক-মুখে রাগ-রোষের ছাপ নেই, কথা বলে কম, যা-ও বলে আস্তে-ধীরে, তার পরও যারা তাকে কাজ দেবে, তারা তার চোখে তাকিয়ে কী এক দুশ্চিন্তায় পড়ে যেত। কাজ জোটানো নিয়ে সে বড় একটা ভাবত না। এত বড় হিন্দুস্তানে এক আলী দোস্তের রিজিক জুটবে না, কী করে হয়! শেষমেশ কপালের ফেরেই বুঝি ভিড়ে গিয়েছিল পল্টনে, পশতুন ফরিদ খান ওরফে শের খানের পল্টনে। কনৌজের লড়াইয়ে হুমায়ুনকে হারিয়ে সৈন্যসামন্তসহ হিন্দুস্তান থেকে হটিয়ে শের খানের তখন রমরমা, তত দিনে শের খান নামটাও পাল্টে গিয়ে শের শাহ। আলী দোস্তের প্রতিভা বিকাশের সেই শুরু। কয়েক বছর বাদে নানা আঘাটায় খাবি খেয়ে খেয়ে হুমায়ুন যখন ফের দিল্লির মসনদের দিকে আগুয়ান, সে এসে ভিড়েছে হুমায়ুনের পল্টনে। এদিকে কামরান অনেক খোঁচাখুঁচি করেছে হুমায়ুনকে। কাজের কাজ কিছু হয়নি। তবে যদি কোনো কায়দায় কামরান কাবু করে ফেলতে পারত হুমায়ুনকে, সে আগ বেড়ে গিয়ে ভিড়ত কামরানের পল্টনে। কামরানের প্রতি তার দুর্বলতা অনেক দিনের। সেই কামরানের চোখের আলো মাত্র দুই অঙুলের খোঁচায় কয়েক ঘণ্টা আগে সে নিভিয়ে দিয়েছে।
চড়াই ভেঙে নিচে নামতে টের পেল তিরের ফলা হয়ে ঠান্ডা হাওয়া ঢুকছে শরীরে। সামনে অথই অন্ধকার। এমন সময় তার মনে হলো সে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না, এমনকি অন্ধকারও না। কিন্তু ঘোড়াটা নিশ্চয় দেখতে পাচ্ছে, নাহলে চলছে কী করে! ঘাড় ঘুরিয়ে এদিকে-ওদিকে তাকিয়ে সে নিশ্চিত হলো কিছুই নজরে পড়ছে না। বুজিয়ে দেওয়া চোখে কামরানও কি এ সময় কিছু দেখার কসরত করছে তার মতো? দেখতে গিয়ে কিছুই দেখছে না, অন্ধকারও না!
ভাবতে ভাবতে সে ঘোড়ার পেছনে আচমকা জোরে লাথি ঠুকল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ঘোড়াটা কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। সামনে বিপজ্জনক ঢালু বাঁক, দুপাশে অতল খাদ। মেজাজ বিগড়ে গিয়েছিল ঘোড়ার। কত না সাবধানে উঁচু-নিচু পথের ঝাঁকি সামলে এগোচ্ছিল। এবার কি তবে নিজের মতো চলবে, সওয়ারির কথা না ভেবে?
এতদূরই ঘোড়াটা ভেবেছিল। খুব যে দ্রুত বাঁকের মুখে পা দিয়েছিল তা না, ছোট লাফ দিয়ে ঘাড় বাঁকানোর সময় সামনের পা জোড়াকে তৎপর করতে হয়েছিল, আর তখনি খেয়াল হয়েছিল পিঠটা হালকা। বেগ সামলে বোকা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিল, এত অল্পতেই পিঠ খালি! কান দুটো চোঙের মতো টান টান পেতে রেখেছিল খানিকক্ষণ, অন্তত আওয়াজটুকু যদি শুনতে পায়। অতল খাদ থেকে সামান্য একটা আওয়াজ এত ওপরে ওঠার আশা নেই, তবু।
এদিকে জিনহীন লাগামহীন আলী দোস্ত অতল অন্ধ খাদে তলিয়ে যেতে যেতে ভাবল মানুষই যদি সে না হয়, মরার তার প্রশ্ন ওঠে না। ঘোড়াটা সোয়ারি হারিয়ে কিছুক্ষণ বেকুব হয়ে থেকে কোনো না কোনো দিকে চলে যাবে। মোগল বাহিনী অনায়াসে দিল্লি-আগ্রা কবজা করবে। তারপর? এত বড় দুনিয়ায় যুগ যুগ ধরে কত কী ঘটবে, ঘটতে থাকবে। আলী দোস্ত তখন কার কাজে লাগবে কে জানে!

জম্মুর সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পর সেনারা
সতর্ক অবস্থান নেন। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখার
কাছে জম্মুর আরনিয়া শহর থেকে গতকাল তোলা ছবি। এএফপি
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এক সেনাঘাঁটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জঙ্গি হামলায় একজন সেনাসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি আছেন। অন্য তিনজন জঙ্গি। গতকাল সকাল আটটার দিকে এই হামলা হয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির। পুলিশ জানায়, জম্মুর আরনিয়া শহরে অবস্থিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে চার-পাঁচজন জঙ্গি ওই হামলা চালায়। এলাকাটি পাকিস্তান সীমান্ত থেকে চার কিলোমিটার দূরে। হামলাকারীদের পরনে ছিল সামরিক পোশাক। সেনা ও পুলিশ সূত্র বলেছে, জঙ্গিরা দুটি দলে ভাগ হয়ে হামলা চালায়। একটি দল এক সেনা বাংকারে হামলা চালায়। আরেকটি দল পাশের গ্রামে গিয়ে হামলা করে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারীরা পাকিস্তানের দিক থেকে আসেনি। তিনি বলেন, আরনিয়ায় ওরা আসে একটি গাড়িতে করে। একটি বাংকারে ঢুকে সেখান থেকে সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালায় তারা। গতকালের এ হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টুইটারে বলেন, আরনিয়ার এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা হতে পারে না। তিনি হামলায় নিহত সেনা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, গতকাল সকালেই রাজৌরি জেলার নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে এক সন্দেহভাজন জঙ্গি ধরা পড়ে। সাড়ে ছয়টার দিকে জেলার এক সেনাঘাঁটিতে সন্দেহজনক লোকের চলাফেরার খবর পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি শুরু করলে ওই ব্যক্তি ধরা পড়ে।
তার কাছ থেকে একটি একে ৪৭ রাইফেল, ৩০ রাউন্ড গুলি এবং পাকিস্তানের তৈরি একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তার কাছে আট হাজার ১০০ পাকিস্তানি রুপিও পাওয়া যায়। এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, আটক ব্যক্তি নিজেকে আবদুল কাইয়ুমী ওরফে পাঞ্জাবি বলে পরিচয় দেয়। জঙ্গি হামলা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ইতিমধ্যেই চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন এ হামলার ঘটনা ঘটল। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আয়োজিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মধ্যে শীতল সম্পর্ক দেখা যায়। তাঁদের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের ওপর সবার নজর ছিল। গত সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশের একটি জাতীয় দৈনিক আয়োজিত এক আলোচনায় ভারতে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তানের হাত আছে বলে অভিযোগ করেন। গত অক্টোবরেই কাশ্মীরে পাকিস্তান ও ভারতের সেনা ও সীমান্তরক্ষীদের গুলিবিনিময়ে দুই দেশে অন্তত ১৯ জন বেসামরিক লোক প্রাণ হারায়। এক দশকের মধ্যে সেটিই ছিল কাশ্মীর সীমান্তে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আজ জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর ও পুঞ্চ জেলায় নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা। মোদি উধমপুরের যেখানে ভাষণ দেবেন তা গতকালের হামলার স্থান আরনিয়া জেলা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। গত মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীরের পাঁচ পর্বের বিধানসভার নির্বাচন শুরু হয়েছে। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও প্রথম পর্বের নির্বাচন কোনো গোলযোগ ছাড়াই শেষ হয়। ভোট পড়ে ৭২ শতাংশ, যা রাজ্যের জন্য রেকর্ড। গতকালের হামলার ঘটনার পর জম্মু নগর, উধমপুর ও পুঞ্চ জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

অবশেষে হাত মেলালেন মোদি ও নওয়াজ

অবশেষে হাত মেলালেন মোদি ও নওয়াজ
অবশেষে হাত মেলালেন তাঁরা। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার করমর্দন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। নেপালের কাঠমান্ডুতে এ সম্মেলনের প্রথম দিনটিতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নেতারা সাধারণ ভাববিনিময় পর্যন্ত করেননি। তাঁদের সম্পর্কের শৈত্য এবারের সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। সার্ক সম্মেলনে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের বরফ গলবে বলেই গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল। ভারতের পক্ষ থেকে দুই নেতার বৈঠকের সম্ভাবনাও একেবারে বাতিল করে না দেওয়ায় এই আশা তৈরি হয়। তবে বুধবার সার্ক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দুজন দৃশ্যত পরস্পরের দিকে ফিরেও তাকাননি।
মোদি পাঁচ দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই তালিকায় ছিলেন না নওয়াজ। ভাষণ শেষ করে নওয়াজ যখন তাঁর আসনে ফিরছিলেন, মোদিকে তখন একটি সাময়িকীতে চোখ বুলাতে দেখা যায়। ভাববিনিময় তো হয়ইনি, উল্টো সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে মোদি ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘সেই ঘটনা আমাদের মনে স্থায়ী ব্যথার সৃষ্টি করেছে।’ সার্ক দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতে চুক্তির বিষয়ে মোদির প্রস্তাবে বাগড়া দেয় পাকিস্তান। এ যাত্রায় দুই নেতার মধ্যে আদৌ কথা হবে কি না, তা নিয়ে তখন থেকেই সন্দেহ দেখা দেয়। তবে গতকাল নেপালের ধূলিখেলে সার্ক নেতাদের অবকাশ অনুষ্ঠানে অন্তত সেই শঙ্কা দূর হয়। দুই নেতাকে কাছাকাছি নিয়ে আসার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা। তবে বলা হচ্ছে, এই ভাববিনিময় ছিল নিছক নিয়মরক্ষার। গত মে মাসে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মোদির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতে গিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ। দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছিল। তবে বিশেষ করে কাশ্মীর সীমান্তে গত অক্টোবরের বড় ধরনের সংঘাত সম্পর্ককে আবার বিষিয়ে তোলে।

ড্রাকুলা উপন্যাসের দুর্গগুলো এখন

ব্রান দুর্গ: ড্রাকুলার সঙ্গে যোগসূত্রের কারণে
এলাকার সবচেয়ে বিখ্যাত দুর্গ এটিই
আইরিশ লেখক ব্রাম স্টোকারের বিখ্যাত ভৌতিক উপন্যাস ড্রাকুলার কাহিনি যে দুর্গগুলোকে ঘিরে, সেগুলো একসময় হয়েছিল রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষের আড্ডাখানা। তবে এখন আর ভয়ের সেই ব্যাপার-স্যাপার নেই। বরং দুর্গগুলো ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে টাকা বানানোর উৎস। ১০০টির বেশি দুর্গ নিয়ে গড়ে ওঠা মধ্য রোমানিয়ার ট্রানসিলভানিয়া শতাব্দীর পর শতাব্দী অভিজাত ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতা দখল করলে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। সরকার সব দুর্গ বাজেয়াপ্ত করে। ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটার পর দুর্গগুলো ফেরত পাওয়ার আশায় বুক বাঁধেন মালিকদের বংশধরেরা। ২০০৫ সালে আইনে পরিবর্তন এলে এর পথ প্রশস্ত হয়।
পারিবারিক দুর্গগুলো ফেরত পেতে আদালতের শরণাপন্নও হন অনেকে। মামলা করে কেউ কেউ সফলও হন। তবে মামলা আর সংস্কার মিলিয়ে বিপুল অর্থ খরচ হয়ে যায়। খরচের টাকা তুলতে অনেকেই দুর্গগুলো নিয়ে ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা শুরু করতে থাকেন। তেলেকি নামের পারিবারিক দুর্গ আছে ৬৭ বছর বয়সী কালমান তেলেকির। তিন বছর আগে দুর্গটি ২০ হাজার ইউরো খরচ করে ফেরত পান তিনি। কালমান তেলেকি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের খেলা, বিয়ের অনুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান ও পর্যটকদের বড় দলগুলোর জন্য আমি এখন আমার দুর্গের ফটক খুলে দিই। এই একুশ শতকে এসেও যে দুর্গ রেখেছি, এর একটা উদ্দেশ্য আমাকে খুঁজতে হয়।’ ভাড়া হিসেবে ৫০০ থেকে আড়াই হাজার ইউরো পান তিনি। বাংলাদেশি বাবা আর রোমানিয়ান মায়ের সন্তান গ্রেগর রায় চৌধুরীও এ রকম একটি দুর্গের মালিক। ১০ বছর ধরে আইনি লড়াই করে তা ফেরত পেয়েছেন তিনি। তবে তাঁর মতে ট্রানসিলভানিয়াকে শুধু ড্রাকুলার নামে পরিচিত করা ঠিক নয়। সূত্র বিবিসি।

‘কলাচাষী মা-বাবার সন্তান হিউজ কষ্টের মধ্যে দিয়েই লড়াই চালিয়ে গিয়েছে’

ফিলিপ হিউজ কুড়ি বছরের কঠিন মানসিকতার বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান, যার ব্যাটিং আর বেঁচে থাকা নিজের আলোয়। অষ্ট্রেলিয়ার নতুন ব্যাটসম্যান যে কোনও পরিস্থিতিতে বড় রান করতে পারে। আদতে সে একটা সাধারণ ছেলে। ছোট করে কাটা চুল, কানে ছোট্ট দুল, জামা-কাপড়ের প্রতি আগ্রহ, প্রচুর বন্ধু আর রাগবি লিগের প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা। উইলোর টুকরো হাতে নিয়ে অবশ্য ও অন্য দুনিয়ায় ঢুকে পড়ে৷ তখন ও সাহসী, আত্মবিশ্বাসী, পরিস্থিতি-বিচারে দারুণ, ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থাকায় অদম্য ভালোবাসা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা ওর দিকে যা খুশি ছুড়ে দিয়েছে৷ আর ও হাসি মুখে সব ঝেড়ে ফেলে মাঠের সব দিকে বল পাঠিয়ে গিয়েছে। যেমন হাঁস তার পিঠ  থেকে জল ঝেড়ে ফেলে। ইনিংসের শেষ দিকে, এক বোলার রান আপের শেষে দাঁড়িয়ে বলেছিল,‘ছেলেটা কি কালা?’
এক সপ্তাহ আগে আয়োজক দেশের কেউ বিশ্বাস করেনি ছেলেটা ব্যাট করতে পারে। ওর টেকনিক দেখে এই সিদ্ধান্তই নিয়েছিল, যে ও ভয় পেয়েছে৷ এখন নিশ্চয়ই ওরা নিজেদের মানসিকতা পাল্টেছে। মাত্র ক’দিন আগে সারা বিশ্বের কাছে অজানা। আর এখন সবচেয়ে কমবয়সি ক্রিকেটার যে এক টেস্টে দু’টো  সেঞ্চুরি করে ফেলেছে। ১১৫ ও ১৬০। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হ্যাডলির থেকেও ২০০ দিন আগে। দুর্দান্ত কৃতিত্ব৷ আর এটা এল এমন একজনের থেকে যে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে ফিরে আসা শ্রমিক-ক্রিকেটারদের যোগ্য প্রতিনিধি। এই তরুণ ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কৃতিত্ব ছুঁয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের উপকুলে কফস হার্বারের কাছে ম্যাকসভিলে তার বেড়ে ওঠা। যেখানে ওর বাবা-মা কলা চাষ করে৷ অনেকের বাবা মোজার ভিতরে বল ঢুকিয়ে ঝুলিয়ে দেয় ওপর থেকে, যাতে সেই ঝুলন্ত বল পিটিয়ে ছেলে ব্যাটিং প্র্যাক্টিস সেরে নিতে পারে। হিউজের বাবাকে একটা নয়, ছেলের আবদারে ঝোলাতে হত তিন-তিনটে বল। সন্ধে নামলে বাড়ির পিছনের বারান্দা থেকে এই প্র্যাক্টিসটা চলে আসত ঘরের ভিতর। চলত ততক্ষণ, যতক্ষণ না ওর মা রাতের খাবারের জন্য ডাক দিচ্ছেন। কষ্ট হলেও ফিলের বাবা গ্রেগ ছেলের কিট আর পেট্রোলের খরচ ঠিক জোগাড় করে ফেলত।
কষ্টের মধ্যে দিয়েই লড়াই চালিয়ে গিয়েছে হিউজ। সবাইকে অবাক করেছে। কঠিন ছিল, কিন্তু ও পড়ে থেকেছে। তারপরই সুযোগটা পেল। ২০০৮-এ সাঙ্ঘাতিক হারের পর অস্ট্রেলিয়া নতুন রক্ত খুঁজছিল। টিম বুড়ো হয়ে পড়ছিল। ম্যাথু হেডেনও অবসর নিয়ে নিল। শেফিল্ড শিল্ডে দু’টো বড় স্কোরে হিউজ বার্তাটা দিয়ে দিয়েছিল ও তৈরি।
জাতীয় দলে নির্বাচনের পর ম্যাকসভিল মাতোয়ারা। ওখানকার বাসিন্দারা বিয়ারের সঙ্গে উপভোগ করেছে হিউজের ব্যাটিং। প্রথম টেস্টের ইনিংসে শূন্য খারাপ শট খেলে। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরে এল দুর্দান্ত ৭৫ করে। তারপরও দক্ষিণ আফ্রিকানরা ওর ক্ষমতায় বিশ্বাস করেনি। তারা ভুল ছিল। দ্বিতীয় টেস্টে ও দুর্দান্ত কিছু শট মারল, যার মধ্যে ছিল ভয়ঙ্কর ফাস্ট বলে টেনিসের স্ম্যাশও।
ও ডিফেন্ড করতে পারে, দরকারে চালাতেও পারে৷ ভবিষ্যতে ও ঝুড়ি ভর্তি রান করবে। চোখ দ্রুত, পা দ্রুত৷ নতুন অস্ট্রেলীয় টিমে ও নিজের ভূমিকা পালন করতে চলেছে।
২০০৯ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ডারবানে জীবনের দ্বিতীয় টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন ফিল হিউজ। তারপরই তার ক্রিকেট প্রতিভা নিয়ে এ লেখাটি লিখেছিলেন প্রয়াত ক্রিকেট এবং লেখক পিটার রোবাক। আজ তারা দু’জনেই নেই।

সে দুই কিশোরী ধর্ষিত হননি : সিবিআই

গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া ভারতের উত্তর প্রদেশের সেই দু’ কিশোরী কাজিনকে ধর্ষণ ও খুন করার আলামত পায়নি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। বরং তারা আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছে সিবিআই। গত মে মাসে উত্তর প্রদেশের বাদাউন জেলার কাত্রা গ্রামে দুই কাজিনের লাশ গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন ধারণা করা হয়েছিল, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ি থেকে বহু দূরের খোলা মাঠে গেলে সেখানে তাদের গণধর্ষণ করে খুন করা হয়। এ নিয়ে ব্যপক আন্দোলন হয়েছিল ভারতজুড়ে। ফলশ্রুতিতে ৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারও করে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। এ খবর দিয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া। কিন্তু সিবিআই-এর তদন্তে সে দুই কাজিনকে ধর্ষণ কিংবা হত্যার কোনো আলামত বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই গ্রেফতারকৃত ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিআই। সিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মারা যাওয়ার আগে সে দুই কিশোরীকে ধর্ষণ বা হত্যা করা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। আগামীকাল বাদাউন আদালতে এ মামলায় তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারে সিবিআই। একজন জ্যেষ্ট সিবিআই কর্মকর্তা বলেছেন, নিহত দুই কিশোরীর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে - এমন ধারণা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে মেডিকেল বোর্ড। এ মামলায় হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক সেন্টার ফর ডিএনএন ফিঙ্গারপ্রিন্ট অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিকস (সিডিএফডি) - এর সহযোগীতা নিয়েছে সিবিআই। এছাড়া দুই কিশোরীর পিতা-মাতার বক্তব্যেও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে তদন্তদল। এ ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগ আসে ক্ষমতাসীন সমাজবাদী দলের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর। গত জুন মাসে এ মামলার দায়িত্ব গ্রহণ করে সিবিআই।

দুমকির লেবুখালী ফেরিঘাট এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে পার্কোপাইন ফেলেও ভাঙন থামেনি

(পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ফেরিঘাট এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে চলতি মাসের শুরুতে অস্থায়ীভাবে পাউবোর পক্ষ থেকে পার্কোপাইন (বাঁশের খাঁচার মধ্যে ইট) ফেলা হয়। ছবিটি গত বুধবার সকালে তোলা l প্রথম আলো) পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ফেরিঘাট এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে অস্থায়ীভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে পার্কোপাইন (বাঁশের খাঁচার মধ্যে ইট) ফেলা হয় কিছুদিন আগে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে সেগুলো ভেসে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাউবো পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তরে দুমকি উপজেলায় পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙন ঠেকাতে লেবুখালীতে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে পাউবো। ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে পাউবো ফেরিঘাটের পূর্ব দিকে ২০০ মিটার ও পশ্চিম দিকে এক হাজার মিটার ব্লক দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। ২০০৭ সালের সিডর ও ২০০৯-এর আইলায় ওই বাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। পরে বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন বাড়ে আরও। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে লেবুখালী প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে অস্থায়ীভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধসে পড়া স্থানে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলা হয়।
এদিকে চলতি মৌসুমে জোয়ার-ভাটার প্রবল স্রোতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। ইতিমধ্যে ফেরিঘাটের পশ্চিম দিকে ২০০ মিটার ও পূর্ব দিকে ১০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ভাঙন ঠেকাতে পাউবো জরুরিভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে পার্কোপাইন নদীতে ফেলে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেরিঘাটের পূর্ব দিকে ৭০ মিটার অংশে ১৬০টি পার্কোপাইন ফেলা হয়। কিন্তু পায়রা নদীর প্রবল স্রোতে বেশ কয়েকটি পার্কোপাইন নদীতে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে।
লেবুখালী ফেরিঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, ভেসে যাওয়া পার্কোপাইন স্থানীয় লোকজন নদী থেকে তুলে এনে তীরে উঠিয়ে রেখেছেন। ফেরিঘাটে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ঠিকাদারের লোকজন সেগুলো নদীতে ফেলে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কয়েকটিকে নদীতে ভেসে যেতে দেখে তাঁরা নৌকা নিয়ে সেগুলো তুলে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বাঁশের তৈরি পার্কোপাইনগুলোতে ঠিকভাবে লোহা-পেরেক ব্যবহার না করায় স্রোতের চাপে ভেঙে বা খুলে গিয়ে ভেতরের ইটগুলো খসে পড়ে। এতে বাঁশের খাঁচাগুলো নদীতে ভেসে যাচ্ছে।
বাঁধের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত লেবুখালী গ্রামের লোকমান হোসেন জানান, প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণকালে যেনতেনভাবে ব্লক ফেলে কাজটি করা হয়েছিল। ফলে বাঁধের নদীর দিকে নিচের অংশের ব্লক সরে গিয়ে এভাবে ধস নেমেছে। বালুর বস্তা এবং পার্কোপাইন ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি। ভাঙন এখন তাঁদের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে।
ফেরিঘাটের বাসিন্দা দেলোয়ার আকন বলেন, ‘পৈতৃক ভিটাবাড়ি হারানোর চিন্তায় চিন্তিত হয়ে পড়েছি আমরা।’
এ ব্যাপারে পাউবো, পটুয়াখালীর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু বকর ভূঁইয়া বলেন, লেবুখালী প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩০০ মিটার ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

বায়োগ্যাসে বাঁচবে পরিবেশ, হবে সাশ্রয়

বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ খাজুরতলা গ্রামের কাজী মাসুম বিল্লাহর পরিবারে সদস্য ১২ জন। ১৭ বছর ধরে পুরো পরিবারের তিনবেলা রান্না হচ্ছে বায়োগ্যাসের সাহায্যে। এতে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি জৈব সারও মিলছে। তাঁদের মতো একই এলাকার আবদুল খবির মিয়াও বায়োগ্যাস ব্যবহারে সফলতা দেখিয়েছেন। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত কাজী মাসুম ১৯৯৮ সালে ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করেন। এটাই ছিল বরগুনার প্রথম বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। সে সময় তিনি মুরগির খামারের বর্জ্য দিয়ে গ্যাস তৈরি করতেন। কিন্তু মুরগির খাবারে পাথর মেশানো থাকায় পাথরের কণা জমে ট্যাংক ভরে যেত। পরে গাভি পালন শুরু করার পর গাভির বর্জ্য ব্যবহার করছেন। এখন চার থেকে পাঁচ বছরেও ট্যাংক পরিষ্কার করা লাগে না। আগে ঘরে আলোও জ্বালাতেন এই গ্যাসে। এখন বিদ্যুৎ আসায় শুধু রান্না করেন। এর পরও যে গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকে, তা দিয়ে আরও তিনটি পরিবারের রান্না অনায়াসে চলতে পারে বলে জানান মাসুম।
বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের সুবিধার দিকগুলো তুলে ধরে তাঁর স্ত্রী নাসরিন জাহান জানান, বায়োগ্যাসে রান্না করায় প্রতি মাসে তাঁদের প্রায় চার হাজার টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে। আরেকটি বাড়তি সুবিধা হলো এটা একটি লাভজনক প্রকল্প। কারণ, গাভি বা হাঁস-মুরগি পালন করে বিনা মূল্যে রান্নার জ্বালানির সংস্থান করা সম্ভব। পাশাপাশি অবশিষ্ট বর্জ্য দিয়ে প্রতি মাসে জৈব সার তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছেন। সেখান থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বাড়তি আয় হচ্ছে।
২০০৪ সালে মাসুম সফল উদ্যোক্তা হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দেওয়া জাতীয় পুরস্কারও পান।
একই এলাকার আবদুল খবির মিয়া ছোট পরিসরে দেশি জাতের ছয়টি গাভি পালন করে গড়ে তুলেছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। তাঁর ছেলে আমিনুর রহমান বলেন, ছয়টি দেশি জাতের গাভি থেকে প্রাপ্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি বায়োগ্যাস ব্যবহারের কারণে প্রতি মাসে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। সংগ্রাম ও গ্রামীণ শক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা জেলায় তাঁদের সহায়তায় করা ৬৪টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে।
২০০৮ সালে বরগুনার স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সংগ্রাম, বেসরকারি সংস্থা ইটকলের সহায়তায় ৪৭টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে; যাদের অধিকাংশ এখনো চালু আছে। সংগ্রামের ওই প্রকল্পের সমন্বয়কারী স্বপন বাড়ৈ জানান, ২৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার টাকায় এসব প্ল্যান্ট স্থাপন করে দেন তাঁরা। একইভাবে গ্রামীণ শক্তি জেলায় ২০টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে বলে জানান সংস্থাটির বরগুনা শাখার ব্যবস্থাপক ইমাম হোসেন।
গ্রামীণ শক্তির ব্যবস্থাপক ইমাম হোসেন জানান, প্রচারণার অভাবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের প্রসার হচ্ছে না। গরু ও মুরগির খামার ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রচুর বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এসব বর্জ্য বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনা সম্ভব।
তৈরির পদ্ধতি: তিন ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদনে সক্ষম একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য প্রথমে ২৫০ সেন্টিমিটার ব্যাস ও ২২০ সেন্টিমিটার গভীর একটি গোলাকার কূপ খনন করতে হবে। এরপর কুয়ার তলদেশ চাড়ির তলার আকৃতিতে খনন হবে। দুরমুজ দিয়ে ঘনভাবে সেটি বিন্যস্ত করে নিতে হবে। পরে তলদেশে ৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার পুরু ইট বিছিয়ে তার ওপর পাঁচ সেন্টিমিটার পুরু ঢালাই দিতে হবে। ঢালাইয়ের ওপর আবার ২১০ সেন্টিমিটার ব্যাস রেখে গোলাকৃতি ১২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ইটের দেয়াল করতে হবে।
এভাবে সিমেন্ট, ইট, বালু দিয়ে ঢাকনাসহ কক্ষ (চেম্বার) তৈরির পর এতে গ্যাস উৎপাদনের জন্য গোবর অথবা হাঁস-মুরগির বর্জ্যের সঙ্গে পানি মিশিয়ে কমপক্ষে ১৫ দিন জমা করতে হবে। তারপর ওই চেম্বারের সঙ্গে পাইপ সংযোগ দিয়ে তার মাথায় মিটার এবং ছাঁকনি বসিয়ে দিতে হবে। যেখানে সংযোগ যাবে প্লাস্টিকের পাইপের সাহায্যে সেখান লাইন টেনে নিতে হবে। মিটারে গ্যাস জমা হওয়ার সংকেত পাওয়ার পর চুলা জ্বালাতে হবে। রান্না শেষে অবশ্যই গ্যাস সরবরাহ পাইপের মুখে বসানো চাবি ঘুরিয়ে বন্ধ করে রাখতে হবে।

‘মানুষ যে কঠোর আন্দোলন চাচ্ছে সেটি সময় এলেই হবে’ -মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনের পরিবর্তে আন্দোলনের শপথের কথা আমরা বলছি রাজনৈতিক অলঙ্কার হিসেবে। আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা আমরা বারবার বলছি। আন্দোলনে তো আমাদের আসতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই এবং আন্দোলনে আমরা আছি। মানুষ যে কঠোর কঠিন আন্দোলন চাচ্ছে সেটি সময় এলেই হবে। আন্দোলনের কতগুলো পর্যায় আছে, সেই পর্যায়গুলো আমরা পার করছি। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করছি জনসভাগুলোর মধ্য দিয়ে। এরই মধ্যে সরকার যদি দাবিগুলো মেনে না নেয় তবে আমাদের সেই কঠিন আন্দোলন করতেই হবে।” দৈনিক নয়া দিগন্তের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল এসব কথা বলেন। সরকারের এক বছরের  মূল্যায়ন করতে গিয়ে ফখরুল বলেন, “এটি অনৈতিক অবৈধ সরকার। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। এটিকে তো আমার বলছি দখলদার সরকার। এটি কোনো বৈধ এবং নৈতিক সরকার নয়। দেশের কোনো মানুষ যেমন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন গ্রহণ করেনি তেমনি বিদেশের কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রও এটিকে গ্রহণ করেনি। পরিষ্কার করে বলেছে যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এ জন্য তারা বলেছে অতি দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। এখন পর্যন্ত তারা বিশ্ব জনমত এবং বাংলাদেশের জনগণের কাছে নতি স্বীকার করেনি।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের সরকার বেশি দিন টিকতে পারে না।  আমরা বিরোধী দলে আছি। আমাদের বিশদলীয় জোটের পক্ষ থেকে জনসংযোগ করছি। আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় আমরা জনসভা করছি। এরপর আমরা এই অনৈতিক সরকারকে বলব তোমরা দ্রুত একটি গ্রহণযোগ নির্বাচনের ব্যবস্থা কর। তা না হলে তীব্র আন্দোলনের দিকেই যাবো আমরা “ বিএনপির প্রতি জনগণের আন্দোলনে চাপ আছে, সেই সাথে তাদের আশঙ্কাও আছে বিএনপি আন্দোলন করতে পারবে কি না...এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, “না এটি সঠিক না। আপনারা দেখেছেন যে, বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করেছি। সে সময় সারা দেশ তিন মাস অচল হয়েছিল। রাজধানী ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ থেকে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন নিয়ে যখন ফ্যাসিস্ট শক্তির সাথে মোকাবেলা করতে হয়, তখন সেটি সহজ হয় না। বরং অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয় এবং জনগণকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ইতোমধ্যে জনগণ কিন্তু অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। আপনারা দেখেছেন যে, ওই তিন মাসের আন্দোলনে আমাদের দলেরই শুধু ৩১০ জনের প্রাণ গেছে। অন্যান্য দলেরও আছে। জামায়াতে ইসলামীর আছে। শরিক দলগুলোর রয়েছে। সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৬০০ ব্যক্তির প্রাণ গেছে। এতগুলো প্রাণ কিন্তু কোনো আন্দোলনে যায়নি। বিএনপিরই শুধু ৬৫ জন গুম হয়েছে। ঢাকা সিটিতেই নিখোঁজ ২৫ জন। এই যে ফ্যাসিবাদ, নির্মম নিষ্ঠুর দলন-নিপীড়ন এটি অতীতে কিন্তু আমরা কখনো দেখিনি। এ ধরনের দলন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে জনগণের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে হয়তো সময় একটু সময় লাগতে পারে; কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি খুব বেশি সময় লাগবে না। এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত যে আন্দোলন হবে তাতে করে সরকারের পতন হবে।” ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির হঠাৎ করে আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসা প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “প্রশ্ন থাকতেই পারে। এটি জনগণের অতীত অভিজ্ঞতা। অতীতে আওয়ামী লীগ আমাদের (বিএনপির) বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তাদের জোট নিয়ে। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরে তারা (আওয়ামী লীগ) আন্দোলন চালিয়ে গেছে। তার সাথে পার্থক্যটা কোথায়? আমরা কিন্তু তখন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম যে, ওই নির্বাচনটা ছিল একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন। তারপর কিন্তু আমরা নিজেরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান তৈরি করেছি এবং সেটি সংসদে অতি দ্রুত পাস করেছি। কোনো চাপে পড়ে নয়। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি।” তিনি বলেন, “কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে যে ব্যাপারটা ছিল তা হচ্ছে- আমরা নির্বাচন বর্জনের আন্দোলন করেছি এবং সফল হয়েছি। একশত ভাগ সফল হয়েছি। কেননা ১৫৩টি আসনে নৈতিকতা এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে বিসর্জন দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ ঘোষণা করতে হয়েছে। এরপর এরশাদ সাহেবকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করেছে। ১৪৭টি আসনের যে নির্বাচন সেখানেও ৫ শতাংশ ভোটারও ভোট কেন্দ্রে যায়নি। সুতরাং ওই সময়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াটা একটু কষ্টসাধ্য ছিল। এ জন্য যে, একটানা তিন মাস গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে চালিয়ে যাওয়া একটি কষ্টকর কাজ। তারপরও আমরা ভেবে দেখেছি এবং সময় নিয়েছি যে, পরবর্তী সময় আবার আন্দোলন করব। এখন সেটিই আমরা করতে যাচ্ছি।” অনেকে এমন কথা বলছেন যে দেশের অবস্থা যদি নাজুকই হয় তাহলে দেশের মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না? এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “জনগণ রাস্তায় নামছে না বলতে তারা কী বুঝাচ্ছে? কখনোই কোনো দেশে কিন্তু জনগণ হঠাৎ করেই রাস্তায় নেমে পড়েনি। তখনই নামে যখন দেখা যায় যে, গণতন্ত্রের সব পক্ষগুলো এক হয়ে জনগণের পক্ষে নামছে তখন জনগণ নামে। এখন আমরা কাজ করছি জনগণের কাছে যাচ্ছি। গণতন্ত্রের প্রশ্নে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য। আমরা সব গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে চাচ্ছি। এটা হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। কারণটা হচ্ছেÑ আজকে শুধু বিএনপি বিপদগ্রস্ত তা কিন্তু নয়। সমগ্র গণতান্ত্রিক শক্তি আজ বিপদগ্রস্ত। ব্যাপারটা হচ্ছে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী যারা আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলছেন তারা কেউই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই নির্বাচনকে কোনো গণতন্ত্রমনস্ক লোক সমর্থন দিতে পারে না। কারণ এই নির্বাচনের নৈতিকতার কোনো ভিত্তি নেই। এই নির্বাচন ছিল প্রতারণামূলক নির্বাচন। অনেকে এটাকে খেলার সাথে তুলনা করে যে, ‘তোমরা খেলা খেলতে আস নাই আমরা ওয়াক ওভার নিয়ে গেছি।’ গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষের ভবিষ্যৎ, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ। সুতরাং আমরা বারবার বলার চেষ্টা করছি- ইট ইজ নট এ গেম। এটা মানুষের ভবিষ্যৎ। এখানে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে। আমি ভোট দিতে পারিনি। দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সুতরাং সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে। এটাকে হালকা করে দেখার তো কোনো কারণ নেই।”
কুমিল্লার জনসভায় বাধা দেয়ার অভিযোগ বিএনপির
২০ দলীয় জোট আয়োজিত কুমিল্লায় শনিবারের জনসভা বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের লোক ও প্রশাসন বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, “কুমিল্লায় আগামীকালের জনসভা উপলক্ষে কুমিল্লা ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আগামীকাল কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য কুমিল্লায় সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। কিন্তু সরকার ও কুমিল্লা প্রশাসন বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছে। তারা ব্যানার-ফেস্টুন লাগাতে বাধা দিচ্ছে ও ছিড়ে ফেলছে। এত কিছুর পরেও কুমিল্লার জনসভায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনতার ঢল নামবে।” সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া একটি পরগাছা সরকার জাতির জন্য অপমানজনক। এই সরকার জনগণের দ্বারা সমর্থিত নয় বলেই নতুন বিশ্ব পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক, জাতি গঠন এবং গণতন্ত্র চর্চার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার সেটি সচেতনভাবেই অগ্রাহ্য করে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের তীব্রতা বৃদ্ধি করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার শর্ত যে গণসম্মতি, যেটি একমাত্র ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়- এটি তারা বিশ্বাস করে না। এইজন্য তাদের বিশ্বাসের একমাত্র ভিত্তি হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখানো। তাই অত্যন্ত নির্দয়ভাবে তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।” রিজভী বলেন, “সরকারের মুখে দুর্নীতি বিষয়ে কথা এখন রঙ্গরসে পরিণত হয়েছে। রাবিশ ও বোগাস শব্দের ট্রেডমার্ক অর্থমন্ত্রী ‘ঘুষ দেয়া নাকি অবৈধ নয়’-বলে যে ভয়ঙ্কর ফতোয়া দিয়েছেন তাতে অর্থমন্ত্রীর এই কথায় আশকারা পেয়ে সুড়ঙ্গ কেটে ব্যাংক ডাকাতিসহ কাগজ জালিয়াতি করে সরকারী অর্থ আত্মসাৎকারী, ঘুষখোর, নির্লজ্জ দুর্নীতিবাজ এবং রাষ্ট্রের পুঁজি লুন্ঠনকারীরা আরো বেশি দুষ্কর্ম করার জন্য উৎসাহে মেতে উঠেছে।” তিনি বলেন, “আর দুদক আরব্য উপন্যাসের একচোখা দৈত্যের ন্যায় প্রভাবশালী ক্ষমতাসীনদের রেহাই দিয়ে যাচ্ছে। দুদকের ধোয়া মোছার সার্টিফিকেটে পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারিতে সৈয়দ আবুল হোসেন, আবুল হাসান চৌধুরীসহ দশজন দায়মুক্তি পেয়েছেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেন, সাংসদ আসলামুল হক ও বিটিএমসির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালামের দুর্নীতির মামলা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। রেল কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো অনুসন্ধানই হয়নি। অথচ জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাকে কিভাবে গায়ের জোরে টিকিয়ে রাখা হয়েছে সেটাও দেশবাসী লক্ষ্য করছে।”

ফেঁসে যাচ্ছেন এমপি রানা!

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান (রানা) ফেঁসে যেতে পারেন। এই হত্যাকাণ্ডে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এমপি রানা ও তার ভাই মেয়র সহিদুর রহমান খানকে (মুক্তি) পুলিশ খুঁজছে। ইতিমধ্যে তারা টাঙ্গাইল ছেড়ে পালিয়েছেন। তাদের খোঁজে ঢাকার ন্যাম ভবনে পুলিশ হানা দিয়েছে বলেও সূত্রে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডে রানার আরো দুই ভাইয়ের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।   ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাসার কাছ থেকে ফারুকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ২১ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত আগস্টে আনিসুল ইসলাম (রাজা) ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেফতার করে। তারা এমপি রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। গত ২৭ আগস্ট আনিসুল ইসলাম ও ৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ আলী টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। এই জবানবন্দিতে সাংসদসহ চার ভাইয়ের জড়িত থাকার বিষটি উঠে আসে। জবানবন্দীর পরপরই আত্মগোপনে চলে যান জাহিদুর ও সানিয়াত।১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আমানুর, জাহিদুর ও বাপ্পা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছানোয়ার হোসেনের পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়। আদালত রিটের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই চারজনকে গ্রেফতারে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। তবে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করলে হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করা হয়। জানা যায়, ফারুক হত্যা মামলার গ্রেফতারের বিধিনিষেধ-সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এমপি রানা আর টাঙ্গাইলে যাননি। এ সময়টা তিনি ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। টাঙ্গাইল পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ফারুক হত্যা মামলার দুই আসামির জবানবন্দীতে এমপি রানাসহ চার ভাইয়ের নাম এসেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। এমপি রানাকে আটক করতে পারলে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চেয়েছেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ তদন্ত করে এই হত্যাকাণ্ডে রানাসহ তার ভাইদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। এই হত্যায় রানার জড়িত থাকা প্রমাণ হলে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হতে পারে; এক্ষেত্রে হারাতে পারেন সংসদ সদস্য পদও।

‘আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই’ by শেখ সাবিহা আলম

‘শ্রদ্ধেয় মামা, আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। আমি জানি আমি পারব। আমার রক্তে দেশপ্রেম আছে। আমি দেশপ্রেমিকের সন্তান। ভেবো না এটা আকাশকুসুম কল্পনা। আমি পুরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলছি, সুযোগ পেলে আমিই হব এ দেশের ভবিষ্যৎ নেত্রী।’
মামার কাছে এভাবেই স্বপ্নে বোনা চিঠি লিখেছে সাদিয়া মরিয়ম। মামার কাছে থেকে পড়াশোনা করছে সে। রংপুরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার মেয়ে কিশোরী সাদিয়া নবম শ্রেণিতে পড়ছে। তার মতো এমন স্বপ্নে বোনা বাল্যবিবাহবিরোধী শত শত চিঠি জমা পড়েছে ব্র্যাকের আহ্বানে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম গার্ল সামিট উপলক্ষে কিশোরীদের কাছ থেকে এ চিঠি আহ্বান করে ব্র্যাক।
এর মধ্যে বাছাই করা ১০টি চিঠি পড়ে জানা গেল অসম্ভব সুন্দর কিছু স্বপ্নের কথা। যে দেশের ৬৬ শতাংশ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার, সেই দেশের কিশোরীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। স্বনির্ভর করতে চায় দেশকে। কালকের পৃথিবীটা নিতে চায় নিজেদের দখলে।
রাজধানী ঢাকা থেকে লালমনিরহাট সদরের দূরত্ব ৩৪৭ কিলোমিটার। সদর থেকে অনন্যাদের আরও ৫০ কিলোমিটার দূরে, হাতিবান্ধার গড্ডিমারি । কিন্তু তার কাছে এ দূরত্ব কিছুই নয়। কারণ সে তিন লাখ ৮৪ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মহাশূন্যে পাড়ি দিতে প্রস্তুত।
মা-বাবার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে অনন্যা বলেছে, ‘আমি কল্পনা চাওলার মতো মহাশূন্য ভ্রমণ করব।’ লিখেছে, প্রতিদিনের ঘটে চলা অন্যায়, অবিচার দেখে তার কখনো ইচ্ছে হয় সাংবাদিক হতে, কখনো বা ইচ্ছে হয় মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো নারীশিক্ষা নিয়ে কাজ করতে। কখনো সে মাদাম কুরির মতো বিজ্ঞানী হওয়ার কথা ভাবে।
বাল্যবিবাহবিরোধী চিঠিতে তারা আইন-কানুন, বাল্যবিবাহের অপকারিতা নিয়ে লিখলেও আদপে যে তারা শিশু, তার প্রকাশ ঘটেছে কোথাও কোথাও। গোলদীঘির পূর্বপাড় কক্সবাজারের মেয়ে লোপা চৌধুরী লিখেছে, তার প্রিয় সব জিনিসের কথা। সুন্দর স্টিকার লাগানো ফ্লাস্ক, নতুন জুতা—এসব ফেলে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা সে ভাবতেই পারে না। মা-কে লিখেছে, ‘মা, আপনার গল্প না শোনা পর্যন্ত আমার রাতে ঘুম আসে না। ১২তম জন্মদিনে বাবার দেওয়া পুতুলটা ছাড়াও আমি ঘুমাতে পারি না। আমার প্রিয় ময়না প্রতিদিন তিনবার আমার হাতে কলা খায়। আমি না থাকলে ওকে কে খাওয়াবে শুনি? ছোটবেলা থেকেই আমার আকাশে ওড়ার ইচ্ছা। আমি তো পাইলট হব।’
কেউ আবার নোবেল পাওয়ার স্বপ্ন দেখে। এমন কিছু আবিষ্কার করতে চায়, যা বাঁচাবে বহু মানুষের জীবন। বগুড়ার মালতিনগরের মেয়ে উছাইলা রাহবার তাদের একজন। বাবা-মাকে চিঠিতে সে লিখেছে তাঁর দৃপ্ত ইচ্ছার কথা। বলেছে, ‘আমি ক্যানসার বা এইডসের স্থায়ী প্রতিষেধক আবিষ্কার করে নোবেল পাব।’
এদের প্রত্যেকেই চিঠিতে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বাবা-মা ও অভিভাবকদের সতর্কও করেছে। দেশের অন্যতম বাল্যবিবাহপ্রবণ এলাকা সিলেটের মেয়ে তাসলিমা আক্তার। বাবাকে লিখেছে, ‘কেন, আব্বাজান, আমাদের ফুলি আপা ও খাদিজা আপারও তো বাল্যবিবাহ হয়েছিল। তাঁরা কি সুখী হয়েছেন? নাকি সংসার করতে পেরেছেন? ফুলি আপার ঘর ভাঙল যৌতুকের জন্য। খাদিজা আপা স্বামীর অত্যাচারে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু সুমনা ভাবি? লেখাপড়া শেষ করেছিলেন বলে ভাইয়ের মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে পেরেছেন।’
কেউ আবার বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেনি। নারায়ণগঞ্জের নবম শ্রেণির মেয়ে মাফরুহা মোর্শেদ বাবাকে লিখেছে, ‘গত বছর অষ্টম শ্রেণিতে যখন গ্রাম থেকে আমি একাই বৃত্তি পেলাম, খুব তো তখন বলেছিলে “আমার মেয়ে বৃত্তি পেয়েছে”। এখন কি আমি তোমাদের মেয়ে নই যে জলে ফেলে দিতে চাইছ?’
কেউ কেউ বাবা-মাকে অনুরোধ করেছে যেন তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ান তাঁরা। সিরাজগঞ্জের হাটপাংগাসী গ্রামের মেয়ে তামান্না লিখেছে, ‘আমার দেখা স্বপ্ন তোমরাও দেখো বাবা-মা।’