Tuesday, February 15, 2011

ফুটবলকে বিদায় রোনালদোর

মন বলছে খেলে যেতে কিন্তু শরীরে আর কুলোচ্ছে না’—ও গ্লোবো টিভিকে বলেছেন রোনালদো। কী বলতে চেয়েছেন ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ জেতানো স্ট্রাইকার? ‘বিদায় ফুটবল’—জানিয়ে দিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। ব্রাজিলের গণমাধ্যমের যে খবরটি দিয়েছিল আগেই, কাল তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের (১৫ গোল) মালিক, ‘পেশাদার ফুটবলার হিসাবে আমি আমার ক্যারিয়ার এখানেই শেষ করছি।’
বয়স ৩৪, কিন্তু পেশাদার ক্যারিয়ারটা ১৮ বছরের। খেলেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা চার ক্লাব বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান ও এসি মিলানে। ২০০৯ সালে নাম লিখিয়েছেন নিজের দেশের ক্লাব করিন্থিয়ানসে। আগেই বলে দিয়েছিলেন, এ মৌসুমই তাঁর শেষ। তবে চোট এ মৌসুমের পুরোটাও খেলতে দিল না তাঁকে! ব্রাজিলের সংবাদপত্রস্টাডো ডে সাও পাওলোকে বলেছেন, ‘আর পারছি না। আমি একটা জিনিস আমার মতো করে করার চিন্তা করি। কিন্তু যেভাবে করতে চাই, সেভাবে পারি না। সময় এসে গেছে।’
বয়সের সঙ্গে চোটও ঘিরে ধরেছে রোনালদোকে। চোট অবশ্য ক্যারিয়ারের সব সময়ই ছিল ‘দ্য ফেনোমেননের’। ২০০২ বিশ্বকাপের আগে হাঁটুর চোট তাঁকে ছিটকে দিয়েছিল বাইরে। কিন্তু চোট থেকে সেরে উঠে দুর্দান্ত খেলে ওই বিশ্বকাপটাই ব্রাজিলকে জেতালেন সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে। পরে আরও দুবার সর্বনাশা চোট ভুগিয়েছে তিনবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়কে। শেষতক এসি মিলান থেকে করিন্থিয়ানসে নাম লেখান প্রায় এক বছরের চোটের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে।
মৌসুম শেষ না হতেই ফুটবলকে বিদায় বলে দেওয়ার আরও একটা কারণ আছে রোনালদোর। ক্যারিয়ারে অনেক শিরোপাই জিতেছেন—বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, স্প্যানিশ লিগ, আরও কত শিরোপা! জেতা হয়নি শুধু দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নস লিগ হিসেবে পরিচিত কোপা লিবার্তোদোরেস। এই টুর্নামেন্ট থেকে করিন্থিয়ানস বাদ পড়ে যাওয়াতেই মনে হয় এই আগাম ‘বিদায়’ বলে দেওয়া তাঁর।

‘শ্রীলঙ্কাই অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বাধা’

প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচেই ভারতের কাছে ৩৮ রানে হেরে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের মূল আসরেও স্বাগতিক হিসেবে ভারতকেই শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে গণ্য করছে অনেকে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম দুই সদস্য মার্ক ওয়াহ ও ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের মতে, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ড নয়, একমাত্র শ্রীলঙ্কাই অসিদের টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়াতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এবারের বিশ্বকাপ কে জিততে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ডেমিয়েন ফ্লেমিং বলেছেন, ‘উপমহাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জেতাটা সব সময়ই কঠিন। কারণ, স্বাগতিক দলগুলো সেখানে খুবই ভালো খেলে। আমি বিশেষভাবে বলব স্পিন কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরলিধরনের কথা। সে সব সময়ই খুব ভালো বল করে। বিশেষত উপমহাদেশে। আর তার সঙ্গে বোলিং আক্রমণে অজন্তা মেন্ডিসও ভালো একটা অবদান রাখবে। আর তাদের ব্যাটসম্যানের তালিকাটাও বেশ লম্বা। তারা অনেক বড় স্কোরও তাড়া করতে পারবে।’
স্পিন বোলিংয়ের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারের দুর্বলতার কথা স্বীকার করেছেন এই দুই সাবেক অসি ক্রিকেটার। শেষ মুহূর্তে ইনজুরির কারণে মাইক হাসির বিশ্বকাপ দলে না থাকতে পারাটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটা অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন মার্ক ওয়াহ। আর ফ্লেমিং বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটা দেখে আমার মনে হলো, অস্ট্রেলিয়া যদি আবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেতে চায়, তাহলে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আরও ভালোভাবে স্পিনারদের মোকাবিলা করতে হবে এবং দ্রুত রান করতে হবে।’

বগুড়ায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্যারাস্যুট জোন উদ্বোধন

বগুড়ায় প্যারাস্যুট নারিকেল তেলের দ্বিতীয় জোন উদ্বোধন করা হয়েছে।
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম গতকাল রোববার শহরের ঝাউতলা সড়কের সরাফত মার্কেট ও রাজাবাজারের মুন মার্কেটে নতুন এই প্যারাসুট জোনের উদ্বোধন করেন।
এ সময় ম্যারিকো বাংলাদেশের এরিয়া সেলস ম্যানেজার কে এম ভিজয়, এ কে এম সায়েম, বগুড়া অঞ্চলের ডিপোপ্রধান ও শোভা এন্টারপ্রাইজের এমডি সৈয়দ আহমেদ এবং বগুড়ার পরিবেশক আবদুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন।
ম্যারিকো সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে প্যারাস্যুট ব্র্যান্ডের নারিকেল তেলের ব্যবসা করে আসছেন। সে জন্য এখানে প্যারাস্যুট জোন উদ্বোধন করা হয়েছে।

আরব বিশ্বের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী

মিসরের তিন দশকের শাসক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের পর গতকাল রোববার প্রথম কার্যদিবসে আরব বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।
দুবাই ফিন্যানশিয়াল মার্কেট সর্বশেষ কার্যদিবসের তুলনায় দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে, যা আরবের শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। আবুধাবি ও ওমান স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়ের মূল্যসূচক বেড়েছে দশমিক ৬০ শতাংশ হারে। আর জর্ডানের শেয়ারবাজার দশমিক ৫০ শতাংশ হারে বেড়েছে।
সৌদি আরবের শেয়ারবাজার গতকাল রোববার বেড়েছে দশমিক ৪০ শতাংশ হারে। মরক্কোর শেয়ারবাজারের সার্বিক মূল্যসূচকও দশমিক ৩০ শতাংশ হারে বেড়েছে।
তবে মিসরের শেয়ারবাজার এখনো বন্ধ রয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইনের সংশোধন জরুরি by মামুন রশীদ

কয়েক বছর আগে আমি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জানিয়েছিলাম যে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিদেশি ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া গ্যারান্টির বিপরীতে অর্থায়ন করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। এমনকি ওই ব্যাংক যদি ‘ট্রিপল এ’ ক্রেডিট রেটিংধারীও হয়, তাতেও এই নিয়মের ব্যত্যয় নেই। আমার কথা শুনে শ্রোতারা বেশ অবাক হন। আশ্চর্যের বিষয়, স্থানীয় কোনো ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অর্থায়ন করতে গেলে অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদন লাভের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যেতে হয় না। এমনকি ব্যাংকটি অতিশয় দুর্বল হলেও। আরেক অনুষ্ঠানে এক বিদেশি সহকর্মীও জানতে চান বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের বিদেশি ক্রেতাদের ডিসকাউন্ট দিতে, এমনকি মাত্র এক ডলার ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রেও কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়।
এগুলো হচ্ছে আমাদের ব্যাংকিং খাতের হিমশৈলের সংকেত তথা প্রতিবন্ধকতার নমুনা। আমার ২৫ বছরের ব্যাংকিং কর্মজীবনে দেশের ব্যাংক খাতে এ ধরনের অনেক বড় বড় ব্যবসাবিনাশী নিয়মকানুন দেখেছি। এর বেশির ভাগ কারণ সেকেলে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইন। সে জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিমার্জন দেখার আশা রাখি। প্রস্তাবিত আইনে বিবেচনার জন্য অনেক কিছুর সঙ্গে নিচের বিষয়গুলো ভেবে দেখা যেতে পারে:
সংশোধিত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইনে মূলধনি হিসাবের লেনদেন, চলতি হিসাবের লেনদেন, আমদানি-রপ্তানিবিষয়ক সেবা, সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত নিয়ম এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট সংজ্ঞা থাকা উচিত। এতে স্থানীয় রপ্তানিকারকদের তাঁদের স্বল্পমেয়াদি প্রাপ্তব্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার অনুমোদন দেওয়া জরুরি, যা আমদানিকারক কর্তৃক ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি ত্বরান্বিত করবে। এটি যুগপৎ দেশীয় রপ্তানিকারক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য সহায়ক হবে এবং বদৌলতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে।
বিভিন্ন দেশে সার্বভৌম ঋণমানের অবনমনের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এই আগ্রহকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের স্বল্পমেয়াদি লেনদেনকে প্রণোদিত করার জন্য আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে। এটি আরও জরুরি, যেহেতু বিনিয়োগ বোর্ড স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নিয়ে কাজ করে না।
আমাদের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক দিন ধরেই খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়ার জুতা ও ওষুধ প্রভৃতি শিল্পের বিকাশের জন্য বিদেশে অধিগ্রহণের কথা বলে আসছে। এভাবে যদি দেশকে একটি পণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে শীর্ষস্থানীয় শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নামে পণ্যের ব্র্যান্ড সৃষ্টির মাধ্যমে বিদেশে বাজার সম্প্রসারণ ও মার্কেটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবে। তখন বিদেশিরাও বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক দামে মানসম্পন্ন পণ্য কেনার একটি অন্যতম উৎস হিসেবে গণ্য করবে।
অফশোর অ্যাকুইজিশন বা অধিগ্রহণ-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশি অর্থায়ন বা বিনিয়োগ আকর্ষণের উপায় বা কৌশলও আমাদের জানা আছে। যেমনটি ভারতের কিছু বহুজাতিক কোম্পানি করেছে। যদি এমনটি হয়, তাহলে দেশ থেকে বিদেশি মুদ্রার প্রত্যাবাসনের পরিমাণও কমবে। এ নিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইনে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটি লাঘব হবে। তার পাশাপাশি আমাদের ব্যবসায়ীরাও এযাবৎকালে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারবেন। দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়বে। কৃষি ও তৈরি পোশাকশিল্পে এটি অনেকটাই প্রমাণিত।
আমাদের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইনের উদ্যোক্তাদের জন্য কিছুটা বিব্রতকরও বটে। এতে বিনিয়োগ বোর্ডের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরও বিদেশি উদ্যোক্তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আবার অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি কোম্পানিকে এ দেশে কাজ করতে হলে যুগপৎ বিনিয়োগ বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এটা নিছক অপ্রয়োজনীয়।
বিদ্যমান আইনের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অথবা পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাকে বা তাদের নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী বলে চিহ্নিত করা হয়। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের আইনের আওতায় কোনো অভিযোগ আনা হলে সেটাকে শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হয় এবং এর জন্য কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ভারতের আইনের আওতায় অভিযোগ উত্থাপিত হলে সেটাকে দেওয়ানি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আর্থিক জরিমানার বিধান আছে, কেউ তা দিতে ব্যর্থ হলেই কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইনে অবশ্যই ঋণপত্রবিহীন বা ওপেন অ্যাকাউন্ট ট্র্যানজেকশনের ক্রমবর্ধমান দাবি বা চাহিদার বিষয়ে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশে বিধানটি বর্তমানে শুধু রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলোয় স্থাপিত সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর জন্যই প্রযোজ্য। এই বিধান ক্রমান্বয়ে শিথিল করে এর আওতায় তৈরি পোশাকশিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ, এ ধরনের রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকেও অনুরূপ চাহিদা রয়েছে।
আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসাধন খুবই সম্ভব। ভারতও তা করেছে।
আমাদের দেশ থেকে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়। বিপরীতে আমরা প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করি। এ অবস্থায় স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যকে সুরক্ষা দিয়ে আমাদের রপ্তানিভিত্তি ও গন্তব্য বা বাজার আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে অধিক পরিমাণে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রবাস-আয়ের প্রবাহ জোরদার করার পদক্ষেপ নিতে হবে। আর তার জন্য ১৯৪৭ সালের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যাক্ট একটি বিরাট বাধা হিসেবে কাজ করছে। এটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কিংবা ‘মধ্যম আয়ের বাংলাদেশের’ স্বপ্নের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইন সংশোধন, আধুনিকায়ন বা যুগোপযোগী করার জন্য এখনই সর্বমুখী উদ্যোগ নিতে হবে।
মামুন রশীদ: ব্যাংকার ও আইসিসি বাংলাদেশের ব্যাংকিং কমিশনের চেয়ারম্যান।

২৮ ঘণ্টায় প্রেমিকাসহ চারজনকে খুন

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ম্যাকসিম গেলমান
নিউইয়র্কে ২৮ ঘণ্টার মধ্যে একে একে চারজনকে খুন করেছেন ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন। ম্যাকসিম গেলমান (২৩) নামের ওই যুবককে গত শনিবার টাইমস স্কয়ারের কাছে একটি ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে গেলমানের ছুরিকাঘাতে খুন হন তাঁর সৎবাবা, সাবেক প্রেমিকাসহ চারজন।
গেলমানকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের পুলিশ কমিশনার আর কেলি জানান, গত শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটার দিকে গেলমান পাঁচটি ছুরি নিয়ে হত্যার মিশন শুরু করেন। প্রথমে তিনি খুন করেন সৎবাবাকে। এরপর গাড়ি চালিয়ে চলে যান তাঁর সাবেক প্রেমিকার বাসায়। সেখানে তাঁকে না পেয়ে খুন করেন প্রেমিকার মাকে। বিকেল তাঁর প্রেমিকা বাসায় পৌঁছালে গেলমান তাঁকেও হত্যা করেন।
এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে হলিউড চলচ্চিত্রের মতো শুরু হয় তাঁর পলায়ন অভিযান। এ সময় গেলমানের বেপরোয়া গাড়ির চাপায় ৬২ বছরের এক ব্যক্তি নিহত হন। এরপর শুরু হয় গাড়ি বদল। চালককে ছুরিকাঘাত করে ছিনিয়ে নেন কয়েকটি গাড়ি। পরদিন শনিবার গেলমান ম্যানহাটন সাবওয়ে স্টেশনে একটি ট্রেনের বগিতে উঠে পড়েন। ট্রেনের এক যাত্রী পত্রিকায় ছবি দেখে পুলিশকে ঘটনাটি জানান। কিন্তু গেলমান পালিয়ে ওঠেন অন্য একটি ট্রেনের বগিতে। সেখানেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে গণবিক্ষোভে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে উইকিলিকস

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তাঁর ওয়েবসাইট তিউনিসিয়ায় গণবিক্ষোভে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন বেন আলী ক্ষমতা ত্যাগ করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ওই গণজাগরণের ঢেউ মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে লাগে। মধ্যপ্রাচ্যে গণবিক্ষোভে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে উইকিলিকস। তাঁর ওয়েবসাইট স্ফুলিঙ্গের মতো কাজ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার এসবিএস টেলিভিশনের ‘ডেটলাইন’ অনুষ্ঠানে অ্যাসাঞ্জ বলেন, মার্কিন কূটনীতিকদের গোপন নথি তাঁর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে বেন আলীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের গোমর ফাঁস হয়ে পড়ে। এতে নানা প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এর ফলে সে দেশের জনগণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করতে সাহসী হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘লেবাননের আল আকবর পত্রিকায় প্রকাশিত আমাদের নথি তিউনিসিয়ায় গণবিক্ষোভে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রাখে। জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উসকে দেয়।’
দারিদ্র্য ও বেকারত্বে জর্জরিত তিউনিসিয়ার জনগণ গত মাসে সে দেশে সরকার পতনে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বেন আলী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর মিসরে গণতন্ত্রপন্থীদের মাত্র ১৮ দিনের বিক্ষোভের মুখে সে দেশের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের শাসনের পতন ঘটে। এবার মিসর ছাড়িয়ে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেন ও জর্ডানে।
অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। যৌন নিপীড়নের মামলায় তাঁকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, এ বিষয়ে লন্ডনের আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন অ্যাসাঞ্জ। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের যে জোয়ার বইছে, তা ‘খুবই খুশির’ ঘটনা।
গত সপ্তাহে শুনানির এক ফাঁকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ বলেন, তিনি তাঁর লম্বা চুল খাটো করিয়েছেন, এখন স্যুট পরছেন, যাতে তাঁর ওপর নয়, তাঁর কাজের ওপর সবার নজর পড়ে।
অ্যাসাঞ্জ বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাগরিক তাঁর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিয়েছেন। এটা একটা ইতিবাচক দিক। তবে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের ভূমিকায় তিনি নাখোশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রেখে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অ্যাসাঞ্জ।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন নথি ফাঁস করে দিয়েছে উইকিলিকস। এতে ওয়াশিংটনের কোপানলে পড়েছেন অ্যাসাঞ্জ।

মোশাররফকে হস্তান্তরের অনুরোধ করবে এফআইএ

পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফকে হস্তান্তরের জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে অনুরোধ জানাবে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফআইএ)। এর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে মোশাররফ অস্বীকৃতি জানান। গত শনিবার দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মোশাররফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

কান্দাহারে পুলিশ সদর দপ্তরে হামলা নিহত ১৯

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার শহরে পুলিশ সদর দপ্তরে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় ১৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৯ জন নিহত ও শিশুসহ ৪৯ জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ-জঙ্গি কয়েক ঘণ্টা গুলিবিনিময় হয়। এ ছাড়া সদর দপ্তরের বাইরে তিনটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অপর তিনটি গাড়িবোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, আফগানিস্তানের শত্রুরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দেশের বিরুদ্ধে শয়তানি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তারা।
হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনী (আইএসএএফ) বলেছে, এতে কোনো বিদেশি সেনা হতাহত হয়নি। তবে আফগান পুলিশের ১৫ জন সদস্য, একজন গোয়েন্দা সদস্য, একজন আফগান সেনা ও দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহতদের বেশিসংখ্যকই পুলিশ। কয়েকটি শিশুও রয়েছে।

মিসরে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত সংবিধান স্থগিত

ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিন পর মিসরের নতুন সামরিক কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছে এবং সংবিধান স্থগিত করেছে। গতকাল রোববার সরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্ষদ (সুপ্রিম কাউন্সিল) জানায়, আগামী ছয় মাস অথবা নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় থাকবে। তারা অস্থায়ী ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য অথবা পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। সামরিক কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারণ বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী অনেক দলই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।
হোসনি মোবারকের একনায়ক শাসনের পতনের পরও মিসরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক পর্ষদ। মোবারকের পতনের পর গত শনিবার সেনা কর্মকর্তারা ঘোষণা দেন, নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েই তাঁরা বিদায় নেবেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই হলো বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া তাঁদের প্রধান কর্তব্য। এর পরই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে বর্তমান সরকার। তবে কবে নাগাদ সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ১৯৭৯ সালে সম্পাদিত শান্তিচুক্তিসহ সব আন্তর্জাতিক চুক্তিই অক্ষুণ্ন থাকবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিসরের সামরিক কর্মকর্তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও অভিনন্দন জানান মিসরের সামরিক পর্ষদের এই পদক্ষেপকে।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, ব্রিটেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের একদল প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে ওবামা মিসরের জনগণের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীর নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্যোগকেও স্বাগত জানান। তিনি বলেন, মিসরের আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় অবশ্যই রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি অক্ষুণ্ন রাখার উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। কেননা, এই চুক্তি হলো মধ্যপ্রাচ্য স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।
তাহরির স্কয়ার এবং রাজধানী কায়রোর বাইরের রাস্তা ও স্কয়ার এখনো তরুণ বিক্ষোভকারীদের দখলে রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন সরকারও হয়তো তাঁদের আন্দোলনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবে। তাই গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাঁরা নতুন আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
মোবারকের পতনের উদ্যাপন এখনো কাটেনি। তাহরির স্কয়ারে শনিবার বিকেলে আয়োজন করা হয় কনসার্টের। সেখানে বিখ্যাত আরব সংগীতের পাশাপাশি জাতীয় সংগীতও পরিবেশন করা হয়।
এদিকে গতকাল রোববার তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সেনাসদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফিরে যেতে বললে তাঁরা না যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না। তবে মোবারকের পতনের তৃতীয় দিনে অনেকেই রাজপথ ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর দেশটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ কারফিউর মেয়াদ আরও চার ঘণ্টা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। বিক্ষোভ দমনে ২৮ জানুয়ারি কারফিউ জারি করেছিল মোবারক সরকার। পুঁজিবাজার আগামী বুধবার চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, শত শত কয়েদি পালিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। শনিবার একদল বন্দুকধারী ও দাঙ্গাবাজ কায়রোর একটি কারাগারে হামলা চালায়। এই সুযোগে সেখান থেকে অন্তত ৬০০ কয়েদি পালিয়ে যায়। কারারক্ষীদের সঙ্গে বন্দুকধারীদের গুলিবিনিময়ের ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়।
মোবারকের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ সৌদি আরব অবশেষে নীরবতা ভেঙেছে। মিসরে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পালাবদলকে তারা শনিবার স্বাগত জানিয়েছে। অথচ মোবারকবিরোধী আন্দোলনের সময়ও সৌদি বাদশা আবদুল্লাহ মিসরের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সমালোচনা করে মোবারকের প্রতি সমর্থন জানান।
মিসরের সরকারি বার্তা সংস্থা এমইএনএ জানিয়েছে, মোবারক-পরবর্তী নতুন অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো গতকাল রোববার বৈঠকে বসেছে।
মোবারকের ঘনিষ্ঠ তিনজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এঁরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ নাজিফ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব আল আদিল ও বর্তমান তথ্যমন্ত্রী আনাস আল ফিক্কি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছে, এই তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

নাইজেরিয়ায় প্রেসিডেন্টের সমাবেশে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু

নাইজেরিয়ার তেল উৎপাদনকারী নাইজার ডেলটা অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথনের নির্বাচনী সমাবেশে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১১ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার ডেলটার পোর্ট হারকোর্ট নগরের এক স্টেডিয়ামে ওই সমাবেশে জনাথন বক্তব্য দেওয়ার পর বেরোনোর সময় হুড়োহুড়িতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ২০ হাজার আসনের ওই স্টেডিয়ামে সমাবেশের পর লোকজন বের হওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করলে পুলিশের এক কর্মকর্তা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। জনতাকে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ওই গুলি ছোড়া হলেও এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় সরু একটি রাস্তা দিয়ে লোকজন বের হওয়ার চেষ্টা করে। তখন ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন বলেন, ‘আমি খুবই মর্মাহত ও দুঃখ ভারাক্রান্ত। এ ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্য ও দুঃখজনক।’ প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী ৯ এপ্রিল নাইজেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। এ উপলক্ষে জনাথন গত সপ্তাহ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘মবি ডিক’ ক্যাপ্টেনের জাহাজের খোঁজ মিলেছে

১৯ শতকের প্রখ্যাত লেখক হারম্যান মেলভিল ক্যাপ্টেন জর্জ পোলার্ড নামের যে তিমি শিকারির রোমাঞ্চকর ঘটনা অবলম্বনে তাঁর বিশ্ববিখ্যাত রোমাঞ্চ উপন্যাস মবি ডিক লিখেছিলেন, মার্কিন নৌ-প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সেই ক্যাপ্টেন পোলার্ডের ডুবে যাওয়া একটি জাহাজের ভগ্নাংশ খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনলুলু থেকে ৬০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে সাগরতলে তাঁরা ‘টু ব্রাদার্স’ নামের ওই জাহাজটির কিছু অংশ খুঁজে পেয়েছেন।
গবেষকেরা বলেছেন, দেড় শ বছরেরও বেশি আগে ডুবে যাওয়া জাহাজটি ছিল কাঠের তৈরি। উষ্ণ স্রোতের কারণে জাহাজটির মূল কাঠামো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে তাঁরা সেখানে লোহার তৈরি নোঙর, তিমি শিকারের হারপুন, তিমির চর্বি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জিনিসপত্র পেয়েছেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮২৩ সালে ক্যাপ্টেন জর্জ পোলার্ডের ‘টু ব্রাদার্স’ জাহাজটি একটি প্রবাল প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। এর আগে তাঁর এসেক্স নামের একটি জাহাজ তিমির হামলায় ডুবে গিয়েছিল। ক্যাপ্টেন পোলার্ড ও তাঁর সঙ্গীরা তিন মাস সাগরে ভেসে ছিলেন। জীবন বাঁচাতে তাঁদের মৃত সঙ্গীর মাংস পর্যন্ত খেতে হয়েছিল। ওই ঘটনা নিয়ে মবি ডিক উপন্যাসটি লিখেছিলেন হারম্যান মেলভিল।

অস্ট্রেলিয়ার একটা ঝুঁকিও আছে!

উপমহাদেশের উইকেট ব্যাটিং-স্বর্গ। পেস বোলারদের করার কিছুই থাকে না। মরা পিচে স্পিনাররাই যা একটু করতে পারেন। বদ্ধমূল এই ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে উপমহাদেশের দল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পেস বোলিংয়ে শক্তিশালী দলগুলোও স্পিন বিভাগটা শক্তিশালী করেছে। ব্যতিক্রমী পথে হেঁটেছে কেবল অস্ট্রেলিয়া। টানা চতুর্থ শিরোপার জয়ের অভিযানে স্পিন নয়, পেস বোলিংকেই মূল কৌশল বানিয়েছে তারা।
ব্রেট লি, শন টেইট, মিচেল জনসন, ডগ বলিঞ্জার—দলে চারজন দুর্দান্ত পেসারের পাশে একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার জেসন ক্রেজা। আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে দল সাজানোর পেছনে একটা কারণও আছে। শেন ওয়ার্ন অবসর নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া সেই মানের স্পিনারই তো পাচ্ছে না। অগত্যা গতির ঝড়ই ভরসা। উইকেট যেমনই হোক, গতি দিয়েই প্রতিপক্ষদের পরাস্ত করার পরিকল্পনা। স্পিনবান্ধব ব্যাটিং উইকেটে কতটা সফল হবে অস্ট্রেলিয়ার এই গতিমন্ত্র? অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার, অধিনায়ক রিকি পন্টিং, ব্রেট লিরা এরই মধ্যে দিয়েছেন আশার বাণী।
তাঁদের সুরে সুর মিলিয়েছেন মিচেল জনসনও। বলেছেন গতির ঝড় তুলেই প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের দুমড়েমুচড়ে দেবেন, ‘আমরা সবাই ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারি। শন ও ব্রেট এর চেয়েও বেশি গতি তুলতে পারে। সত্যি বলতে, কোনো ব্যাটসম্যানই এমন গতির মুখোমুখি হতে পছন্দ করে না। একমাত্র দল হিসেবে এই গতিটা আমাদের আছে। আমি মনে করি, এটা আমাদের জন্য বাড়তি।’
ব্রেট লি, শন টেইটের মতো ঝোড়ো গতির দুই সতীর্থের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বল করাটা জনসন উপভোগ করেন। বিশ্বকাপ মঞ্চে চার ফাস্ট বোলার নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্মক বোলিং কতটা ফলদায়ক হবে, তার একটা ধারণা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পাওয়া যাবে প্রস্তুতি ম্যাচে। কাল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে লি-জনসন-বলিঞ্জার-হেস্টিংস দারুণ করেছেন। চারজনে নিয়েছেন ৭ উইকেট। এই বেঙ্গালুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটি আগামীকাল।
গতিতেই অস্ট্রেলীয়দের আস্থা। একটু ভয়ও কি নেই? সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ কিন্তু একটা ভয় পাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৯৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বলছেন, আক্রমণাত্মক বোলিং একটা ঝুঁকিও তৈরি করছে, ‘আমরা চার পেস বোলার নিয়ে আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখিয়েছি। আমি ঠিক নিশ্চিত নই, অন্য দলগুলো এমনটা করেছে কি না। এই কৌশল হয় খুব ভালো কাজ করবে কিংবা পুরো ব্যর্থ হবে।’
তবে ‘বড়’ ওয়াহ এও বলছেন, ‘এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। কিন্তু আমি মনে করি, অস্ট্রেলিয়া দারুণ ফর্মে আছে।

ভারতের স্পিনেই আটক পন্টিংরা

ক্রিকেট তখনই ‘ক্রিকেট’, যখন তাতে থাকে গৌরবময় অনিশ্চয়তা। অঙ্ক গুনে গুনে যদি এগিয়ে যায় ম্যাচের গতিপথ; তাতে আর রোমাঞ্চ কোথায়! ২০১১ বিশ্বকাপ সেই অনিশ্চয়তার ‘প্রস্তুতি’ই যেন নিয়ে রাখল। বেঙ্গালুরুর নিস্তব্ধ গ্যালারি যখন অস্ট্রেলিয়ার জয়ের প্রহর গুনছিল, তক্ষুনি নাটকীয় ছোঁয়া। ঘুরে গেল ম্যাচের মোড়। ২১৪ রানে অলআউট ভারত অস্ট্রেলিয়াকে ৩৮ রানে হারিয়ে পেল দারুণ এক জয়।
শেবাগ ছাড়া ভারতের আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। তবে পাঠানের ৩২, দশে নেমে অশ্বিনের ২৫, শেষ ব্যাটসম্যান নেহরার ১৯ ভারতকে ২০০ পেরোতে সাহায্য করেছে। ১৩৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ভারত।
ম্যাচটা ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া জিততে পারে বলেও মনে হচ্ছিল একসময়। ১ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ১১৮ রান। জমিয়ে ব্যাট করছিলেন দুই ‘প’—পেইন আর পন্টিং। তিন পেসার খাচ্ছে বেধড়ক মার, দুই স্পিনার অশ্বিন আর চাওলাও সুবিধা করতে পারছেন না খুব একটা।
যুবরাজ সিং ভাঙলেন ৬৭ রানের জুটি। এর পর থেকেই মড়ক। চাওলা ২৮ রানের ব্যবধানে ক্লার্ক, হোয়াইট, হাসি আর ফার্গুসনকে ফেরালে ৬ উইকেটে ১৪৮ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়ার। কাঁটা হয়ে ছিলেন পন্টিং। চোট থেকে ফিরে এটা তাঁর প্রথম ম্যাচ। সাবলীল খেলছিলেন অধিনায়ক। ৮৫ বলে ৫৭ করা পন্টিংকে ফিরিয়ে ‘প্রিয় শিকার’টি তুলে নিয়েছেন হরভজন। পন্টিংসহ অস্ট্রেলিয়ার শেষ চার উইকেট পড়েছে মাত্র ১০ রানে। লেজ ছেঁটেছেন ‘ভাজ্জি’।
প্রস্তুতি ম্যাচটায় দারুণ নাটকীয়তা দেখার তৃপ্তি নিয়ে ঘরে ফিরল দর্শক। বিশ্বকাপও যদি এমন হয়!
ভারত: ৪৪.৩ ওভারে ২১৪ (শেবাগ ৫৪, পাঠান ৩২, অশ্বিন ২৫*; লি ৩/৩৫, হ্যাস্টিংস ২/২৪, হাসি ২/২৫, বলিঞ্জার ১/২৯, জনসন ১/৪২, ক্রেজা ১/৫৬)। অস্ট্রেলিয়া: ৩৭.৫ ওভারে ১৭৬ (পন্টিং ৫৭, পেইন ৩৭, ওয়াটসন ৩৩; চাওলা ৪/৩১, হরভজন ৩/১৫, যুবরাজ ১/১৯, শ্রীশান্ত ১/২১, অশ্বিন ১/৪৭)।
ফল: ভারত ৩৮ রানে জয়ী।

বার্সার সঙ্গে ব্যবধান কমালো রিয়াল মাদ্রিদ

স্প্যানিশ লিগে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে দুই পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনা স্পোর্টিং গিজনের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ড্র করে বসায় এই সুযোগটা পেয়ে গিয়েছিল রিয়াল। আর গতকাল সেই সুযোগের পুরো ফায়দাটা তুলে আনতে পেরেছে মরিনহো-শিষ্যরা। এসপানিওলের বিপক্ষে গতকাল তারা পেয়েছে ১-০ গোলের জয়। তবে, ম্যাচটা কিন্তু রিয়ালের জন্য একেবারেই কুসুমশয্যা ছিল না। যথেষ্ট ঘাম ঝড়িয়ে জয়টা তুলে নিতে হয়েছে তাঁদের। এই মুহূর্তে লা লিগার ২৩ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা শীর্ষে রয়েছে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে। আর ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল।
অবশ্য, এসপানিওলের বিপক্ষে ম্যাচটির শুরুতেই দারুণ বিপদে পড়ে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ২ মিনিটের মাথায় অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসকে হারিয়ে বসে তাঁরা। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। রিয়াল পরিণত হয় দশ জনের দলে। প্রথমার্ধের ২৪ মিনিটে রিয়ালকে খেলার একমাত্র জয়সূচক গোলটি এনে দেন ডিফেন্ডার মার্সেলো।
দশ জনী দল নিয়েও এসপানিওলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচটা জিততে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মরিনহো। তবে বার্সার সঙ্গে এই দুই পয়েন্টের ব্যবধান কমায় খুব বেশি আত্মতুষ্টিতে ভুগবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল ম্যাচ শেষে এই পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘আমরা দুই পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়েছি। কিন্তু তাই বলে আমি কোনকিছুই বদলে ফেলব না। আমি চাই, দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের সঙ্গে পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান গড়ে আমরাই যাব শীর্ষ স্থানটাতে।’

বিশ্বকাপ দুর্ভাগ্য ঘোচাতে চান ওয়াকার

বিশ্বকাপের আসরটা প্রতিবারই একটা বেদনাদায়ক স্মৃতি হিসেবেই থেকে গেছে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনুসের জন্য। ১৯৮৯ সালে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করার পর ’৯২ সালে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছিলেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলে। কিন্তু শেষমুহূর্তে ইনজুরির কবলে পড়ায় বিশ্বকাপ জয়ী দলের অংশ হতে পারেননি তিনি। আর পরবর্তী তিনটি বিশ্বকাপই তো ছিল তাঁর জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্ন। খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরটিতে সাফল্যের দেখা না পেলেও এবার পাকিস্তানের কোচ হিসেবেই সেই বিশ্বকাপ দুর্ভাগ্যের অবসান ঘটাতে চাচ্ছেন ওয়াকার ইউনুস। বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, বিশ্বকাপের স্মৃতিটা আমার জন্য খুব বেশি সুখকর না। কিন্তু সেই দুর্ভাগ্যগুলো থেকেই আমি অনুপ্রেরণা পাচ্ছি কোচ হিসেবে এই বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার।’
’৯২-এর বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল তরুণ ওয়াকার ইউনুসকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ইনজুরি তাঁকে আর বিশ্বকাপ জয়ী দলটার অংশ হতে দেয়নি। ঘরে টিভিতে বসেই দেখতে হয়েছে ইতিহাসগড়া সেই বিশ্বকাপটা। বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে তবুও সেটাই তাঁর একমাত্র সুখস্মৃতি। পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে শুধু হতাশাই সঙ্গী হয়েছে তাঁর।
’৯৬ সালেও পাকিস্তান ছিল অন্যতম ফেভারিট। আর বিশ্বকাপটা ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাটাও বেড়ে গিয়েছিল বহুগুণ। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৩৯ রানে হেরে সেবারের মতো সমাপ্ত হয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন। আর সেই ম্যাচে ভারতের ইনিংসে ওয়াকারের শেষ দুই ওভার থেকেই ৪২ রান তুলে নিয়েছিলেন অজয় জাদেজা। ফলে তাঁর কিছুটা আক্ষেপ থাকাটাই স্বাভাবিক।
৯৯ বিশ্বকাপে দৃশ্যপট বদলে গেল অনেকখানি। সেবার পাকিস্তান গিয়েছিল ফাইনাল পর্যন্ত। গোটা টুর্নামেন্টেই তাদের পারফরমেন্স নজর কেড়েছিল সবার। কিন্তু যথারীতি ওয়াকারের বিশ্বকাপ দুর্ভাগ্যের অবসান ঘটল না। কারণ অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম তাঁর বদলে মূল একাদশে খেলাতে লাগলেন শোয়েব আকতারকে। সেবার একটি মাত্র ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন ওয়াকার। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই ম্যাচটাতে মাথা নিচু করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে ও তাঁর দলকে।
পরবর্তী বিশ্বকাপটা শুরুর আগে ভাগ্যদেবী কিছুটা মুখ তুলে তাকালেন ওয়াকারের দিকে। এবার তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হলো অধিনায়কত্বের ভার। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত সেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো পাকিস্তানকে। শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বকাপটা দুঃস্বপ্নই হয়ে থাকে ওয়াকারের জন্য। ২০০৭ বিশ্বকাপেও একই পরিণতি হয়েছিল পাকিস্তানের। তবে এবার আর দলের সঙ্গে সেভাবে যুক্ত ছিলেন না তিনি।
খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ সাফল্যের দেখা না পেলেও এবার কোচ হিসেবে এই বিশ্বকাপ দুর্ভাগ্য ঘোঁচাতে চাচ্ছেন ওয়াকার ইউনুস। আর শহীদ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের এবারের দলটা তাঁকে সেই সুযোগটা করে দিতে পারবে বলেই আশা করছেন তিনি। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘১৯৯২ সালে, কেউই ভাবতে পারে নি যে, আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারব। এবারও আমাদের সেরকম সুযোগ আছে। আমি কোচ হিসেবে আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আর আশা করছি এবার বিশ্বকাপ নিয়ে একটা দীর্ঘস্থায়ী সুখস্মৃতি আমার সঙ্গী হবে।’

কলকাতাবাসীর প্রতি সহমর্মী কপিল দেব

অনেকেই ইডেন গার্ডেনকে ভারতের সেরা ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে মানেন। বিশ্বকাপ ভারতে অনুষ্ঠিত হবে, আর ইডেনে ভারতের কোনো ম্যাচ থাকবে না এটা অনেকের কাছেই অচিন্তনীয়। সংস্কার বিভ্রাটের বলি হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটি ইডেন থেকে সরে যাওয়ায় কলকাতাবাসী হতাশ ও শোকস্তব্ধ। ইডেনে আরও তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভারতের কোনো ম্যাচ না থাকায় তা কলকাতাবাসীর মধ্যে কোনো আগ্রহ তৈরি করতে পারছে না। সব মিলিয়ে কলকাতার মানুষের বিশ্বকাপের আমেজ যেন অনেকটাই স্তিমিত।
তবে, এ দুঃসময়ে কলকাতার মানুষ বন্ধু হিসেবে পাচ্ছেন ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কপিল দেবকে। তিনি, কলকাতা থেকে ভারতের ম্যাচ সরে যাওয়ায় নিজের সব ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওপর।
‘এখানে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলকে (ক্যাব) একা দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই। বিসিসিআইর উচিত ছিল, ক্যাব কীভাবে ইডেনের সংস্কার কাজগুলো করছে, তার ওপর নজর রাখা।’ কপিলের মন্তব্য।
কপিল আরও বলেন, ‘আমি ক্যাব প্রধান জগমোহন ডালমিয়ারও ভক্ত নই আবার বিসিসিআইর সমর্থকও নই। আমার মতে দুই পক্ষেরই উচিত ছিল একসঙ্গে কাজ করে ইডেনে ভারতের ম্যাচটি নিশ্চিত করা।’
কপিল দেব প্রশ্ন রাখেন, ‘কেন জগমোহন ডালমিয়ার জন্য কলকাতাবাসী ইডেনে ভারতের ম্যাচ থেকে বঞ্চিত হবে?’
কপিল দেব কলকাতার মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি তাদের জন্য সত্যিই দুঃখবোধ করছি।’
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই ইডেন সমস্যার মূলে রয়েছে বলে মনে করেন কপিল। তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের জগমোহন ডালমিয়ার বিরুদ্ধে বিসিসিআইর রাজনীতির কারণেই কলকাতাবাসী ইডেনে ভারতের ম্যাচ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’