Monday, March 26, 2012

এই দিনে-আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস by গাজীউল হক

চারদিকে সবুজের সমারোহ। দৃষ্টিনন্দন লালমাটির পাহাড়। সুউচ্চ টিলা। প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন। শালবনে ঘেরা প্রকৃতির অদ্ভুত ভালোলাগা আর শান্ত-সরল মানুষের যাপিত জীবন। নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির। লালমাই পাহাড়ের বুকে এখন ধবধবে সাদা রঙের সুউচ্চ দালান। প্রকৃতির এমন মনোলোভা লালমাই পাহাড়েই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

জনপ্রশাসন-রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের ধারা by মোহীত উল আলম

আইনানুগ অসহযোগিতা বা সিভিল ডিসওবিডিয়েন্সের প্রবক্তা ঊনবিংশ শতাব্দীর মার্কিন লেখক ও দার্শনিক হেনরি ডেভিড থরো দুই বছর বোস্টন নগরের পাশে ওয়াল্ডেন পন্ডের পাড়ে কোনো রকম নাগরিক সাহায্য ছাড়া বাস করে প্রমাণ করেছিলেন যে, সহজ উপায়ে কম খরচে প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন সম্ভব।

ভারত-সরকারের আস্থার সংকট by কুলদীপ নায়ার

ভারতে মনমোহন সিং সরকারকে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রলেপ জুগিয়েছিল বামপন্থীরা। কিন্তু তাদের সমর্থন প্রত্যাহারের পর মনমোহন সরকার আর আগের মতো আস্থায় থাকেনি। ইউপিএ জোটের প্রথম পর্যায়ে ধনীদের স্বার্থে অর্থনৈতিক সংস্কার করা সত্ত্বেও বলা যায়, সরকারের নানা নীতি ছিল মোটা দাগে উদারপন্থী।

সমাজ-মুক্তিযোদ্ধাদের স্থান হবে সবার ওপরে by মহিউদ্দিন আহমদ

বছর দুই আগে একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা পড়েছিলাম পত্রিকায়—একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভার পর অতিথিদের খাবারের উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করছেন নিজ পরিবারের জন্য। এটা পড়ে আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা কেঁদেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যত দিন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা অভুক্ত থাকবে, তত দিন আমি বঙ্গভবনে যাব না।’ তিনি তাঁর কথা রেখেছিলেন কি না জানি না।

সময়চিত্র-র‌্যাব: বিতর্ক ও কুতর্ক by আসিফ নজরুল

র‌্যাবের পক্ষ নিয়ে লেখার জন্য আমাকে প্রচুর সমালোচনা শুনতে হয়েছিল বিএনপির আমলে। প্রথম আলোয় প্রকাশিত আমার লেখার নাম ছিল র‌্যাব: পক্ষ-বিপক্ষ। পক্ষের কথাগুলোতে যাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, তাঁরা বিপক্ষের কথাগুলো লক্ষ করেননি। তখনই আমার আবারও মনে হয়েছিল যে বাংলাদেশের বহু মানুষ যুক্তি বা তর্ক বোঝেন না। আবেগসর্বস্ব এ ধরনের লোকজন স্পর্শকাতর ইস্যুতে কোনো ভিন্নমত শুনতেই নারাজ।

সুস্থ ছাত্ররাজনীতির জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে-ছাত্র সংসদ নির্বাচন

সম্প্রতি বরিশাল ব্রজমোহন সরকারি কলেজে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে। কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা পেছানো নয়, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ ও শিক্ষকমণ্ডলীকে অবরোধ করে রাখেন। পরে অধ্যক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি চাই-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চাকরি ত্যাগ

যে দেশে যেকোনো সরকারি চাকরি খুব কাঙ্ক্ষিত বিষয়, সেখানে গত পাঁচ বছরে দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো থেকে ১৪৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে কৌতূহলোদ্দীপক খবর। এ পাঁচ বছরের মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরকারি চাকরি ছেড়েছেন ২০১০ সালে।

স্মরণ-আমার ভাই সম্রাট by জান্নাতুল নাঈম

এই কথা আর কোনো দিন বলতে পারব না, বলতে পারব না—ভাইয়া কেমন আছিস, বাইরে যাস না, সময় ভালো না। এ ধরনের অনেক আদর-ভালোবাসা আর শাসনমাখা কথাগুলো। বুকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারব না, আয় দোস্ত, ঈদ মোবারক। আমি আদর করে ওকে দোস্ত বলে ডাকতাম। আমাদের সব সমস্যা ওর সঙ্গে ভাগাভাগি করতাম। আর কোনো দিন তো বলতে পারব না, বল তো ভাইয়া, কী করা যায়?

উচ্চশিক্ষা-ভালো বিশ্ববিদ্যালয়, মন্দ বিশ্ববিদ্যালয় by আবদুল মান্নান

আমার সাবেক এক সহকর্মী সেদিন আরেক সহকর্মীকে আলাপ প্রসঙ্গে জানালেন, আমি যে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করি তার একমাত্র কারণ, আমি কোনো কিছু পাওয়ার আশায় বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি। একেবারে নাদান উক্তি, তা-ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে! একজন উদার দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কখনো তাঁর

ধর্ম-প্রসূতির পরিচর্যা ও নিরাপদ মাতৃত্ব by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে প্রসূতির নিরাপদ মাতৃত্ব লাভের অধিকার ও মাতৃস্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যাপারে বিভিন্ন শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা রয়েছে। মাতৃত্ব অর্জন যেকোনো নারীসত্তাকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছে দেয়। গর্ভবতী মাকে ধর্মীয় অনুশাসন এবং অনেক কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, অন্যথায় মা ও শিশু উভয়েরই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই যিনি মা হবেন, তাঁর অবশ্যই স্বাস্থ্য

ফিলিস্তিন-নাকবা: সব হারানোর দিন by রামজি বারুদ

মে মাসের ১৫ তারিখ ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যবিপর্যয়ের দিন—নাকবা দিবস। ১৯৪৭-৪৮ সালে তারা হারিয়েছিল তাদের সবকিছু। কোটি কোটি আরব, মুসলিম এবং অন্যান্য সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষ এ দিবস এখনো অনুভব করে। তারা মনে রাখে এই কালো দিন, যেদিন ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করা হয়েছিল আর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ইসরায়েলি রাষ্ট্র।

যুক্তি তর্ক গল্প-লিমন ও র্যাবে নয়, সমস্যা আরও গভীরে by আবুল মোমেন

এই লেখা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রথম আলোর বক্তব্য নয়। তাঁর বক্তব্য দেশের সচেতন অনেক মানুষকেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। একজন নাগরিক ও সাংবাদিক হিসেবে সে রকম ভাবনা থেকেই মূলত এ লেখা।

কৃষক ও সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক-ধান-চাল সংগ্রহে জটিলতা

বোরো মৌসুমে এবার আবাদ সন্তোষজনক কিন্তু সরকার এখনই ধান-চাল সংগ্রহে নামছে না। সরকারের আশঙ্কা, এখন সংগ্রহ অভিযান শুরু করলে বাজারে চালের দাম বেড়ে যাবে। অন্যদিকে সরকার বাজারে প্রবেশ না করলে কৃষকের উপযুক্ত দাম না পাওয়ার আশঙ্কা।

নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের-বাসভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

বাসভাড়া নিয়ে গণপরিবহন-ব্যবস্থায় যা ঘটছে, তা এককথায় নৈরাজ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। পরিবহনমালিকেরা তাঁদের খেয়ালখুশিমতো ভাড়া আদায় করছেন, যাত্রীরা তা মানতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কখনো প্রতিবাদ করছেন—এ নিয়ে বচসা-মারামারি এখন প্রতিদিনের ঘটনা। পরিবহনমালিকদের স্বেচ্ছাচারিতাই যেন চূড়ান্ত কথা।

চারদিক-পথের পাশে শিল্প কারিগর by আজাদুর রহমান

লোকে ‘ঋষি’ নামে ডাকে না, ‘মুচি’ বলে। সমাজের অন্যরা যখন মাথা উঁচু করে নানা ধরনের ব্যবসা সাজায়, তখন ঋষিদের চোখ থাকে মানুষের পায়ের দিকে। কার জুতায় কালি কম, রংচটা কারটা, কোন স্যান্ডেলটা ছেঁড়াফাঁড়া—জীবিকার তাগিদে সেসবেই তাঁদের নজর বেশি যায়। বারোয়ারিরা অবশ্য হাতে বাক্স ঝুলিয়ে ঘুরে ঘুরে ফেরি করে।

দূর দেশ-ওবামার মধ্যপ্রাচ্য প্রস্তাবে নতুন কিছু নেই by আলী রীয়াজ

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি-প্রক্রিয়ার জন্য ১৯৬৭ সালের সীমান্তকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ১৯ মে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক নীতিমালা বিষয়ে দেওয়া এক বক্তৃতায় ওবামা বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তরেখা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের

প্রতিক্রিয়া-জাপানি বালক এবং আমরা by মোস্তাক আহমেদ ও ইসহাক চৌধুরী

প্রথম আলোয় ১৭ মে প্রকাশিত অধ্যাপক শেখ আবদুস সালামের লেখা ‘জাপানি বালক, তোমাকে স্যালুট’ পড়ে মুগ্ধ হলাম। সেই সঙ্গে জাপানি ন্যায়বোধ আর শ্রেয়বোধের নিখাদ কর্মতৎপরতার দুটো ছোট্ট ঘটনা যোগ করার জন্যই আমার এ লেখা। পত্রিকান্তরে প্রকাশ একটা, আর অন্যটা এক বন্ধুর নিজ অভিজ্ঞতা।

রাজনীতি-প্রধান দুটি দলের শ্রেণীচরিত্র by এরশাদ মজুমদার

আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। প্রথমে দলটির নাম রাখা হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা ভাসানী বলতেন, মুসলিম লীগ সরকারের মুসলিম লীগ, আর আওয়ামী মুসলিম লীগ হলো জনগণের দল। আওয়ামী মানে জনগণ। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ২২ মাসের মাথায় মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে কেন এই নতুন দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন

সময়ের প্রতিবিম্ব-পা খোয়ানো লিমনকে নিয়ে সরকারের বিড়ম্বনা by এবিএম মূসা

পা খোয়ানো লিমন এখন পত্রিকার পাতায় নিয়মিত সংবাদ। ব্যান্ডেজ পেঁচানো বিক্ষত হাঁটুর ছবি ছাপা হচ্ছে প্রতিদিন। কে এই লিমন, কেমন তার পিতামাতা? লিমন হাসপাতালে ‘বন্দী’ ছিল, তারপর বরিশালের জেলে ইত্যাদি কারণে এই কৌতূহল মেটাতে সময়মতো তাকে দেখতে যাওয়া হয়নি।

দুর্গত মানুষের হাহাকার কবে ঘুচবে?-আইলার দুই বছর

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে। উপকূলবর্তী বাঁধ ভেঙে ভেসে যায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি। আইলার ভয়াবহ আঘাতে মানুষ যেমন ঘরছাড়া হয়, তেমনি হারায় জীবিকাও। দুই বছর পেরিয়ে গেল, অথচ আজও তাদের দুর্দশা ঘোচেনি। সাধারণত বড় কোনো বিপর্যয়ের পর জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া হয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

সমঝোতা ও সহনশীলতাই গণতন্ত্রের পথ-সংসদে গিয়ে কথা বলুন

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগদানের যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। গত মঙ্গলবার পত্রিকান্তরে দলের একাধিক নেতা বলেছেন, দেশ ও জনগণের মঙ্গলের জন্য যা প্রয়োজন, তাঁরা তা-ই করবেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন।

টেপরী রানীর বঞ্চনার দিন আজও ফুরায়নি by ফিরোজ আমিন সরকার

বয়সের ভারে ন্যূব্জ এক নারীর নাম টেপরী রানী। মুখের বলিরেখায় ফেলে আসা জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের ছাপ। সেই মুখচ্ছবি এখন আরও বিষণ্ন। একাত্তরের দুঃসহ স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে। ভুলতে পারেননি সেই ভয়াবহ দিনের কথা। শূন্যে দৃষ্টি মেলে তিনি বয়ান করেন যুদ্ধদিনের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি।

স্বাধীনতার ৪০ বছর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি by শহিদুল ইসলাম

এক. পাকিস্তানের ভাবাদর্শ দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সংস্কৃতি একটি প্রবল শক্তিধর অস্ত্র হয়ে উঠেছিল। সে লড়াইটা শুরু হয়েছিল পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই। কিন্তু সে লড়াইয়ের পেছনে প্রচ্ছন্ন ছিল স্বাধীনতা। পরবর্তী রাজনৈতিক সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে এই সত্যটাই সুপ্রকাশিত হয়েছিল।

স্বাধীনতা দিবস-লক্ষ্যে স্থির থেকেই এগিয়ে যেতে হবে by মোহীত উল আলম

ঈশপের সবচেয়ে পরিচিত গল্পটির কথা বলছি: খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প। খরগোশ তার লক্ষ্যবস্তু জানত: তালগাছ। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর জন্য দৌড় সমাপ্ত করার বদলে সে এক প্রস্থ ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। কারণ, তার প্রতিপক্ষ কচ্ছপ তো খুব ধীরগতির প্রাণী। কচ্ছপকে সে অবমূল্যায়ন করল, ফলে অতি আত্মবিশ্বাস থেকে সে বাজিটা হারল।

জাতীয় সংসদ-চরিত্র হননের অসংসদীয় সংস্কৃতি

রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভের অন্যতম হলো আইনসভা—আমাদের দেশে যাকে বলে জাতীয় সংসদ। গণতান্ত্রিক শাসনের বিকাশে জাতীয় সংসদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু গত চার দশকে আমাদের দেশে একাধিকবার সামরিক শাসন জারি হওয়ায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় সংসদ কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।

স্বাধীনতার চার দশক-নারী-পুরুষ সমতা: আজও সোনার হরিণ! by সালমা খান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার দশকে যখন আমরা আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির খতিয়ান করছি, তখন দেখতে হবে আমাদের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য, একটি সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক ও শ্রেণী-লিঙ্গ সামুদয়িক (inclusive) সামাজিক ব্যবস্থা স্থাপনে আমরা কতটা সফল হয়েছি। এই মূল্যায়নের একটি প্রধান সূচক লিঙ্গসমতা স্থাপনে আমাদের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ

আমাদের অভিনন্দন-নতুন উচ্চতায় মুহাম্মদ ইউনূস

মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান অবদান গ্রামীণ ব্যাংক। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণফোনও আজ ঘরে ঘরে। সংগঠন বা সফল ও টেকসই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সাফল্য অনেকেরই আছে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান অবদান হলো, তিনি শুধু সংগঠনই গড়েননি, গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নের সূচনা করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে-মহান স্বাধীনতা দিবস

আজ ২৬ মার্চ: মহান স্বাধীনতা দিবস। গণতান্ত্রিক অধিকারের দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের এই দিনে সূচিত হয়েছিল এক দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের, নয় মাস পর যার অবসান ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে। ৪১তম স্বাধীনতা দিবসে আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকে।

বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহার্য সামগ্রী by জাহীদ রেজা নূর

একটু থমকে দাঁড়াই। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের এই ঘরটিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিস্মারক রয়েছে। ঘরটি ছোট, কিন্তু মনে হয়, এ যেন ইতিহাসের ব্যাপ্তি নিয়ে হাজির হয়েছে চোখের সামনে। ওই তো, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার ব্রিফকেসটি। মেটাফিজিক্যাল কবিদের কবিতা বিষয়ে একটি বই রয়েছে সঙ্গে।

প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের ডাকটিকিট by এ টি এম আনোয়ারুল কাদির

১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ নামে প্রথম আটটি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। একটি ডাকটিকিট যে শুধু ডাকমাশুল আদায়ের মাধ্যম নয়, ইতিহাসেরও একটি অংশ, তা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের প্রথম আটটি ডাকটিকিট।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা আমবাগানে (যা বর্তমানে মুজিবনগর

কামরুল হাসানের পোস্টার by বীরেন সোম

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। দেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অতঃপর আসে পৈশাচিক ২৫ মার্চ। ২৫ মার্চ রাত একটা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা শুরু হয়। ওই রাতের হত্যাযজ্ঞ, দমন-পীড়ন সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল by খোন্দকার মো. নূরুন্নবী

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমি আগরতলা হয়ে কলকাতায় যাই। সেখানে যাওয়ার পর আমার প্রতিদিনের কাজ ছিল সকালে বাংলাদেশ মিশনে যাওয়া এবং বিভিন্ন রণাঙ্গনের খবর নেওয়া। যুদ্ধ কত দিন চলবে তা জানা নেই। কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে ঘোরাঘুরির সময় খবর পেলাম,

মুক্তিযুদ্ধের সমরাস্ত্র by মুহাম্মদ লুৎফুল হক

যেকোনো দেশ বা জাতির স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরুটা হয় সাধারণত অগোছালোভাবে সহজলভ্য দেশীয় আর হালকা অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতাকামী মুক্তিবাহিনী সংগঠিত হতে থাকে এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সংসদ অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়, পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। বাঙালির বুঝতে বাকি থাকে না, ন্যায্য অধিকার বা ক্ষমতা দেনদরবার করে নয়, বরং জোর করে আদায় করতে হবে। কিন্তু ওই মুহূর্তে সামরিক জান্তাকে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করা বা ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার মতো শক্তি বাঙালির ছিল না। ২৬ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণের কারণে বাঙালির সশস্ত্র যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
শুরুতে পাকিস্তানি বাহিনী থেকে পালিয়ে আসা বাঙালি রেজিমেন্টের সেনাসদস্যরা তাঁদের বহনযোগ্য হাতিয়ার নিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগ দেন, ভারী অস্ত্র পরিবহনের সুযোগ না থাকায় সেগুলোর বেশির ভাগই ফেলে আসতে হয়। আর অবাঙালি-অধ্যুষিত ব্যাটালিয়নের বাঙালি সদস্য এবং ছুটিতে থাকা বাঙালি সেনাসদস্যরা হাতিয়ার ছাড়াই স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগ দেন। দেশের সাধারণ মানুষ গাদাবন্দুক আর শিকার করার বিভিন্ন রকম বন্দুক নিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রারম্ভিককালে ভারত কিছু অস্ত্রশস্ত্র দিলেও তা ছিল সাধারণ মানের। এসব সাধারণ ও হালকা অস্ত্র নিয়েই শুরু হয় বাঙালির স্বাধীনতাযুদ্ধ।
জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশ বাহিনীকে অধিক যুদ্ধোপযোগী করা এবং চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সাংগঠনিক পরিবর্তন আনা এবং তুলনামূলকভাবে নতুন ও উন্নত অস্ত্রসম্ভার সংগ্রহ শুরু হয়। জুলাই মাসে বাংলাদেশ বাহিনীর প্রথম ব্রিগেড এবং প্রথম গোলন্দাজ বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর সেপ্টেম্বর আর অক্টোবর মাসে জন্ম নেয় বাংলাদেশ বিমান ও নৌবাহিনী। এরই মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর সরাসরি নেতৃত্বে বাঙালি নৌ-কমান্ডোদের প্রশিক্ষণ ও অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সাংগঠনিক পরিবর্তন আর নতুন নতুন সমরসম্ভার মুক্তিবাহিনীকে অধিক শক্তিশালী করে তোলে এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে ভিন্ন মাত্রার সৃষ্টি করে। এসব সাংগঠনিক উদ্যোগ ও সমরসম্ভার স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরাট ও ব্যাপক কর্মযজ্ঞের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ হলেও কয়েকটি উদ্যোগ ও সমরসম্ভারের ব্যতিক্রমী অবদান বা কৃতিত্ব লক্ষ করা যায়। এগুলোকে স্বাধীনতাযুদ্ধের মাইলফলকও বলা চলে। এগুলোর নাম স্মরণে এলে স্মৃতিতে ভেসে আসে স্বাধীনতাযুদ্ধের গৌরবমণ্ডিত কিছু স্মৃতি। এ ধরনের উদ্যোগ বা সমরসম্ভারের মধ্যে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তিনটি উদ্যোগ ও সমরসম্ভার সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হলো।
জেড ফোর্স: বাংলাদেশ বাহিনী গঠনের পরপরই জেনারেল ওসমানী পদাতিক ব্যাটালিয়নগুলো নিয়ে ব্রিগেড সৃষ্টির পরিকল্পনা করেন। তিনি মে মাসের শেষের দিকে প্রথম, তৃতীয় ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তেলঢালায় (মেঘালয়) নিয়ে আসেন। ব্যাটালিয়নগুলোর ঘাটতি জনবল পূরণ এবং প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে যুদ্ধোপযোগী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই তিন ব্যাটালিয়নকে নিয়ে ৭ জুলাই বাংলাদেশ বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডের জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে ব্রিগেডের সঙ্গে যোগ দেয় দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারি ব্যাটারি বা ‘রওশন আরা ব্যাটারি’ নামের আরেকটি সিগন্যাল কোম্পানি। ব্রিগেডের কমান্ডার নিযুক্ত হন লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান। ব্রিগেড সদর দপ্তর স্থাপিত হয় তেলঢালায়। ১০ সেপ্টেম্বর প্রধান সেনাপতি ব্রিগেড কমান্ডারের নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী এই ব্রিগেডের নামকরণ করেন ‘জেড ফোর্স’। জেড ফোর্সের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা নির্ধারিত হয় বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল এবং পরে সিলেটকেও ব্রিগেডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ব্রিগেডের কর্মক্ষমতা প্রমাণের জন্য ৩১ জুলাই প্রথম ইস্ট বেঙ্গল কামালপুর বিওপি, ২ আগস্ট তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল বাহাদুরাবাদ ঘাট এবং ৮ আগস্ট অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল নকশী বিওপি আক্রমণ করে। পরবর্তীকালে ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ‘জেড ফোর্স’ তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বেশ কয়েকটি দুঃসাহসিক যুদ্ধ পরিচালনা করে। চূড়ান্ত যুদ্ধে জেড ফোর্সের ব্যাটালিয়নগুলো যৌথ বাহিনীর বিভিন্ন ব্রিগেডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সিলেট অঞ্চল শত্রুমুক্ত করে।
মুজিব ব্যাটারি
নিয়মিত ব্রিগেড সৃষ্টির পর অধীনে থাকা পদাতিক ব্যাটালিয়নগুলোকে ফায়ার সাপোর্ট দেওয়ার জন্য গোলন্দাজ বাহিনী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৭১ সালের ২২ জুলাই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কোনাবনে বাংলাদেশ বাহিনীর প্রথম গোলন্দাজ ইউনিটের জন্ম হয়। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে এই ব্যাটারির নামকরণ হয় ‘মুজিব ব্যাটারি’। এই ব্যাটারিতে ৩ দশমিক ৭ ইঞ্চি ছয়টি কামান ছিল। এগুলো ১৯৪২ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে ভারতে প্রস্তুত হয়। এই ধরনের কামান সর্বপ্রথম ১৯২০ সালে ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনীতে যুক্ত হয় এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তা ব্যবহূত হয়। কামান থেকে প্রতি মিনিটে পাঁচটি করে গোলা সর্বোচ্চ ছয় হাজার ৪০০ মিটার দূরত্বে নিক্ষেপ করা যেত। প্রতিটি কামান পরিচালনার জন্য নয়জন ক্রু লাগত। পাকিস্তান বাহিনী থেকে পালিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগ দেওয়া বাঙালি গোলন্দাজ কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যরা এই ব্যাটারি পরিচালনা করতেন। জনবলের ঘাটতির কারণে গণবাহিনীর বেশ কিছু সদস্যকেও এই ব্যাটারিতে সংযুক্ত করা হয়। প্রথমে ক্যাপ্টেন আবদুল আজিজ পাশা এবং পরবর্তীকালে ক্যাপ্টেন আনোয়ারুল আলম মুজিব ব্যাটারিকে নেতৃত্ব দেন। ‘কে ফোর্স’ গঠিত হলে মুজিব ব্যাটারিকে কে ফোর্সের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধে এ ইউনিট কাইয়ুমপুর, কসবা, সালদা নদী, আখাউড়া, নাজিরহাট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং নিপুণ ও লক্ষ্যভেদী ফায়ার সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে মুক্তিবাহিনীর বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।
২০১১ সালের ২৩ জুন ভারতীয় বাহিনীর প্রধান জেনারেল বিজয় কুমার সিং স্বাধীনতাযুদ্ধে ব্যবহূত মুজিব ব্যাটারির দুটি কামান এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানকে হস্তান্তর করেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর সামরিক জাদুঘরে মুজিব ব্যাটারির ছয়টি কামানসহ ‘মুজিব ব্যাটারি কর্নার’ উদ্বোধন করেন এবং সর্বসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত করেন।
অটার যুদ্ধবিমান
১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একটি ডিসি-৩ বিমান, একটি অটার বিমান আর একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। এ সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনী এবং পিআইএ থেকে পালিয়ে আসা নয়জন কর্মকর্তা ও ৪৭ জন বিমানসেনা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। উইং কমান্ডার এ কে খন্দকারকে বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নাগাল্যান্ড রাজ্যের ডিমাপুরে বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। অটার ও অ্যালুয়েটের সাহায্যে বিমানবাহিনী তার আক্রমণ পরিচালনা করত আর ডিসি-৩ মূলত পরিবহনকাজে ব্যবহূত হতো।
অটার বিমানটি কানাডায় তৈরি একটি বেসামরিক বিমান ছিল। এটি ভারত সরকার যুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সরকারকে দান করে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সহায়তায় বেসামরিক বিমানটিকে যুদ্ধজাহাজে রূপান্তর করা হয়। অটার বিমানটির দুই পাখার নিচে ট্রাসের মাধ্যমে দুটি রকেট পড লাগিয়ে সাতটি করে ১৪টি রকেট বহন করার উপযোগী করা হয়। পেছনের দরজা খুলে লাগানো হয় মেশিনগান। এর মাধ্যমে একজন অপারেটর বসে থেকে এই মেশিনগানের সাহায্যে গুলি চালাতে পারতেন। বিমানের মেঝের পাটাতন খুলে ২৫ পাউন্ডের ১০টি বোমা যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। বোমাগুলো স্বয়ংক্রিয় ছিল না, ক্রুরা হাতের সাহায্যে পিন খুলে লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করতেন। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুবিধার্থে অটারের জন্য বিশেষ ধরনের এইমিং সাইট তৈরি করা হয়। অল্প দিনের মধ্যে বেসামরিক এই অটার বিমানটিকে শত্রুধ্বংসের দক্ষতাসম্পন্ন জঙ্গি বিমানে রূপান্তর করা হয়। অটারের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ মাইল। যদিও অটারের রাত্রিকালে ওড়ার যোগ্যতা ছিল না, তার পরও বেশির ভাগ অভিযান রাতের অন্ধকারেই করতে হয়। অটার যুদ্ধকালে মোট ছয়টি অপারেশনে অংশ নেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে দুঃসাহসিক অভিযান ছিল ৩ ডিসেম্বর পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারির কাছে তেলের ডিপো ধ্বংস করা।
মুহাম্মদ লুৎফুল হক: লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক

থিয়েটার রোডের পতাকা by আনিসুজ্জামান

সেই আশ্চর্য দিনগুলি মনের পর্দায় ভেসে যায় একটার পর একটা। তখন আমাদের সমগ্র চেতনা কেন্দ্রীভূত হয়েছিল শুধু একটি বিষয়ে: কী হবে আমাদের ভবিষ্যৎ, কোন ইতিহাস আমরা রচনা করতে চলেছি নিজের হাতে? ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছিল এ দেশের এক চরম উত্তেজনাময় দিন।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র by আমীর-উল ইসলাম

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র নিয়ে বলতে গেলে পূর্বাপর কিছু ঘটনা না বললে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে না। যদিও এত বেশি বলার জায়গা এখানে নেই। যতটুকু একেবারেই না বললে নয়, সেখান থেকে শুরু করি। স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে ১১ এপ্রিল রাতে আগরতলা সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠককে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক বলা যেতে পারে।

কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা by মোহাম্মদ মাহবুবুল হক

মুক্তিযুদ্ধের সূচনাতেই ২৬ মার্চ দুপুরে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতার বেতার ঘোষণা প্রচারের জন্য ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’-এর গোড়াপত্তন হয়। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক পরিচালিত সামরিক গণহত্যার খবর, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এ বেতারকেন্দ্র থেকেই প্রচারিত হয়।

আত্মসমর্পণের টেবিল by কে এম সফিউল্লাহ

১২ ডিসেম্বর আমার অধীন মুক্তিযোদ্ধা দলের একাংশ দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লালপুর হয়ে মেঘনা নদী অতিক্রম করে রায়পুরায় পৌঁছায়। আমি আমার হেডকোয়ার্টার দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলের সঙ্গে রাখি। ১২ ডিসেম্বর রাতটি আমরা রায়পুরায় কাটাই। ১৩ ডিসেম্বর সকালে আমরা নরসিংদী অভিমুখে রওনা হই।

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক by শামসুজ্জামান খান

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন বিশ্ব ইতিহাসেরই এক অন্যতম ঘটনা। শত শত বছর ধরে বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছে। এ দেশের কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-দার্শনিক এবং রাজনৈতিক নেতারাও নানাভাবে বাঙালির সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ

বঙ্গবন্ধুর ওয়্যারলেস বার্তা by মানিক চৌধুরী

২৫ মার্চ। পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিশেষ দিন। ২৫ মার্চ আমরা আশা করেছিলাম, ইয়াহিয়া খান বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের সঙ্গে আপস করবে; আমরা আশা করেছিলাম, ইয়াহিয়া খান আমাদের একটি সুযোগ দেবে, যেহেতু আমরা বিশ্বাস করতাম যে আমরা বঞ্চিত হয়েছিলাম; কিন্তু ইয়াহিয়া খান আমাদের সে আশা নষ্ট করে দিল। ২৫ মার্চের রাতে বর্বর ইয়াহিয়া বাহিনী ঢাকার বুকে নিষ্ঠুরভাবে বাংলার নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করতে লাগল। বাংলার নয়নমণি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ধরে নিয়ে গেল। এর আগে বঙ্গবন্ধু বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিকে দিকে যে বার্তা প্রেরণ করেছিলেন, সেই বার্তার একটি কপি আমিও পেয়েছিলাম। রাত প্রায় চারটার সময় আমার ঘরে শব্দ হলো, পিয়ন এসে আমাকে একটা টেলিগ্রাম দিয়ে গেল। যে টেলিগ্রাম দিয়ে গেল, সে টেলিগ্রামটি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে এসেছে বার্তা নিয়ে বাংলার স্বাধীনতার। তিনি ঘোষণা করছেন, বাংলার স্বাধীনতাসংগ্রাম আরম্ভ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন স্বাধীন এবং শত্রুসেনাকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। এটাই আমাদের প্রথম সংবাদ। এই সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকুল হয়ে বেরিয়ে গেলাম গাড়ি নিয়ে। আমি তখন হবিগঞ্জে ছিলাম। হবিগঞ্জে আমার সহকর্মীরাও ছিলেন—কর্নেল রব, মোস্তাফা আলী, মোস্তফা শহীদ ছিলেন—আরও যাঁরা ছিলেন, সবার কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিলাম। যতটুকু খবর পেলাম, চারদিকে স্বাধীনতাসংগ্রাম আরম্ভ হয়ে গেছে। বিদেশি পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনী চারদিক থেকে ছুটে আসছে বাংলাকে গ্রাস করার জন্য ক্যান্টনমেন্ট থেকে। আমরাও সিদ্ধান্ত নিলাম, সিলেটের এই অংশে আমরা শত্রুসেনার মোকাবিলা করব। আমরা বেরিয়ে গেলাম তাদের প্রতিরোধ করার জন্য। অবশ্য এ ব্যাপারে একটি কথা বলতে হয়—৭ মার্চ শেষবারের মতো বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসার সময় বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন, ‘যাও মানিক, দেশে গিয়ে যুদ্ধের, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হও।’ আমি এসেই হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে শেষ সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। চারদিকে ভলান্টিয়ার সংগঠন করেছিলাম—তির-ধনুক নিয়ে প্রস্তুত হয়েছিলাম, চা-বাগানের শ্রমিকদের প্রস্তুত করেছিলাম এবং এই প্রস্তুতির কারণে ২৬ মার্চের ডাকে আমরা ত্বরিত সাড়া দিতে পেরেছিলাম। হবিগঞ্জ থেকে ছুটে গেলাম মাত্র তিনটি বন্দুক ও একটি রিভলবার নিয়ে। আমরা মনে করেছিলাম, শত্রুসেনা কুমিল্লা থেকে আসবে। তাই ভেবেছিলাম সিলেটকে রক্ষা করতে হলে সিলেটের সীমান্ত মাধবপুরে আমাদের ব্যূহ রচনা করতে হবে। তাই মাধবপুরের দিকে এগিয়ে গেলাম। পথে পথে ব্যূহ সৃষ্টি করে গেলাম, ব্যারিকেড সৃষ্টি করে গেলাম, যাতে শত্রুসেনা আর এদিকে আসতে না পারে। মাধবপুরে গিয়ে সেখানে পুলিশের সাহায্যে (এখানে বলতে হয়, মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার আমাকে সাহায্য করেছিলেন। তাঁর হাতে যত অস্ত্র, যত পুলিশ ছিল, সম্পূর্ণভাবে আমার হাতে অর্পণ করে দিয়ে, আমার নির্দেশে পরিচালিত হবে এই নির্দেশে যে ১২ জন কনস্টেবল ছিল আর ১২টি রাইফেল ছিল তা নিয়ে মাধবপুর প্রথম ব্যূহ রচনা করলাম।) ব্যূহ রচনা শেষ করে আমি আবার ফিরে আসছি; আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমি চুনারুঘাটে রাতে থাকলাম। সেখানে থেকে সেই এলাকার চা-বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক নিয়ে তির-ধনুকসহ প্রস্তুত করে ওই পাহাড়ে আমরা ব্যূহ রচনা করলাম। আমাদের চিন্তা ছিল শত্রুসেনা যদি আসে, আমরা এই পাহাড়ের ভেতরে ঘেরাও করে তির-ধনুক দিয়ে সাবাড় করে দেব। রাত তো চলে গেল। ভোর পাঁচটায় আমার এক সহকর্মী এসে সংবাদ দিল শত্রুসেনা সিলেট থেকে আসছে। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লাম। পরমুহূর্তে সংবাদ পেলাম, এরা শত্রুসেনা নয়, এরা ছিল আমাদের বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দল, যারা সিলেটে ছিল। এই দলের দলপতি ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কয়েকটি আন্তজেলা ট্রাকে করে এসব দলচ্যুত পলাতক সেনা কুমিল্লার দিকে রওনা হয়েছেন। পথিমধ্যে আমাদের লোক তাঁদের বাধা দিয়েছিল। এ জন্য আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিরূপণের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি খবর পাঠালেন। এই খবর পেয়ে আমি গেলাম। ইতিমধ্যে পথে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে গেল। তিনি বললেন, যেমন করেই হোক পাঞ্জাবি সেনাদের আটকাতে হবে। তাঁর কাছ থেকেই জানতে পারলাম, সিলেটে প্রায় এক হাজার পাঞ্জাবি সেনা রয়েছে। তারা পেছন থেকে ধাওয়া করছে খালেদ মোশাররফের সেনাবাহিনীকে ধরার জন্য। আমি তাঁকে আশ্বাস দিলাম, আমরা যেকোনোভাবেই হোক না কেন এই পাঞ্জাবি সেনাদলকে প্রতিহত করবই। তিনি আমাকে বললেন, তিনি কুমিল্লা হয়ে ঢাকা যাবেন—ঢাকায় যুদ্ধ চলছে, সেখানে গিয়ে যুদ্ধ করবেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে মুক্ত করবেন। আমি তাঁকে পথে ছেড়ে দিলাম—একটি গোপন পথ দিয়ে তাঁকে পার করে দিলাম। তিনি তেলিয়াপাড়া হয়ে মাধবপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পথে রওনা হয়ে গেলেন। তখন থেকেই সত্যিকারভাবে আমাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হলো। মাথায় অনেক চিন্তা। কীভাবে কী করা যায়। কিছুই নেই। কয়েক হাজার তিরন্দাজ আছে, একটি সুশিক্ষিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে এরা কীভাবে যুদ্ধ করবে, তা ভাবনার বিষয়। তা ছাড়া নিরস্ত্র জনতা শাবল আর বল্লম নিয়ে তো যুদ্ধ করতে পারে না। এই পর্যায়ে আমি হবিগঞ্জে খবর দিলাম। সেখানে কর্নেল রব ছিলেন। তাঁকে জানালাম মেজর মোশাররফের কথা ও বার্তা এবং তাঁকে বললাম, যেকোনো উপায়ে হবিগঞ্জ অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে সেখানকার অস্ত্রশস্ত্র আমাদের হাত করতে হবে এবং এই অস্ত্র নিয়ে আমরা রশীদপুর গিয়ে ব্যূহ রচনা করব, যাতে পাঞ্জাবিরা শ্রীমঙ্গল পার হয়ে আর ধাওয়া করতে না পারে। কর্নেল রব আমাকে আশ্বাস দিলেন, এই অস্ত্র নেওয়ার চেষ্টা তিনি করবেন। আমি তাঁকে বললাম, যেকোনো উপায়ে আজকের দিনের মধ্যেই এ ব্যবস্থা করতে হবে। এই খবর দিয়ে আমি চুনারুঘাট থেকে রশীদপুরে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে সব চা-শ্রমিককে জড়ো করে তির-ধনুক নিয়ে আমরা রশীদপুর পাহাড়ে ব্যূহ রচনা করলাম। কয়েক হাজার তিরন্দাজ সেখানে ছিল এবং ওদের নিয়ে আমরা প্রথম ব্যূহ গড়লাম, যাতে পাকিস্তানি সেনারা রশীদপুর পাড়ি দিয়ে আসতে না পারে। তার পরের ঘটনা, সে আরেক কাহিনি।
[সৌজন্যে: যুগভেরী, সিলেট]
কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলারঅন্যতম আসামি।

ভয়াল রাতের স্মৃতি by মেঘনা গুহঠাকুরতা

১৯৭১ সালে আমি তখন ক্লাস টেনের ছাত্রী, হলিক্রস স্কুলের। আমার বাবা জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ছিলেন জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। মা বাসন্তী গুহঠাকুরতা ছিলেন গেণ্ডারিয়া হাইস্কুলের হেড মিস্ট্রেস। আমরা থাকতাম জগন্নাথ হলের পূর্ব পাশের কম্পাউন্ডে কিছু ফ্ল্যাট ছিল সেখানকার একটিতে, নিচতলায়।

যুদ্ধের খোঁজে by শহিদুল্লাহ খান বাদল

১৯৭১ সালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। সৌভাগ্যবশত ফেব্রুয়ারিতেই আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুধু কিছু প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা ছিল বাকি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন করতাম। সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম আর ছিলাম মহসিন হল ছাত্র সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক।

নির্মম নারকীয়তা by রফিকুল ইসলাম

বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেতনার উন্মেষ কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা 'বাঙালি এথনিক ক্লিনজিং' শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। ওইদিন সকালবেলা একটি সামরিক হেলিকপ্টারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর

আমাদের নিবেদন-মার্চ এপ্রিল ১৯৭১

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। চেতনার উজ্জ্বলতম শিখা। জাতি হিসেবে আমাদের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস; যার বেশিরভাগ জুড়েই পরাজয়, শোষণ আর নির্যাতন। আন্দোলন হয়েছে অনেক। বহু পটপরিবর্তনও হয়েছে; কিন্তু শৃঙ্খলে আবদ্ধ এ জাতি স্বাধীনভাবে নিজের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি এর আগে। ১৯৭০-এর নির্বাচনে

বোবা বসন্তের চার দশক by শেখ রোকন

একাত্তরের মার্চে নিশ্চয়ই বাংলায় ছিল ঘোর বসন্ত। কিন্তু মুক্তিপাগল বাঙালির তখন ফুল-পাখি নিয়ে ভাববার সময় কই? কিংবা নিজেরাই এক একটি নতুন পাতা, গানের পাখি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মোড়ে রোজ বিকেলে বেলি ফুলের মালা হাতে অপেক্ষমাণ তরুণকে আর দেখা যায় না।

গোটা দেশ একসঙ্গে আলোকিত by এমএ মালেক

এখন বিশ্বের অনেক দেশে শহর-বন্দর-গ্রাম সর্বত্র ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। প্রতিটি বাড়ি আলোকিত। আমাদের দেশের আয়তন খুব বেশি নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের নানা ধরনের প্রযুক্তি এখন বিশ্বে রয়েছে এবং আমরা চেষ্টা করলেই তার সুফল হাতের নাগালে নিয়ে আসতে পারি

শিক্ষায় ঘটবে বৈপ্লবিক রূপান্তর by এম এম আকাশ

স্বাধীন দেশ হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একচলি্লশ বছরের পথপরিক্রমা শেষ হলো আজ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালে। সরকারের ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান রয়েছে এ সময়কালের জন্য। সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে শিক্ষা, বিদ্যুৎ, কৃষিতে আমরা কতটা এগিয়ে যেতে পারব, এ ক্ষেত্রে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং তা কাটিয়ে ওঠার পথ কী_ সেটা

সমুদ্র জয় by মোহাম্মদ খুরশেদ আলম

আমাদের সমুদ্রে যে বিপুল সম্ভাবনার কথা বললাম তা এখন কোনোভাবেই আর স্বপ্ন নেই। ২০২১ সালের মধ্যেই এর বেশিরভাগ বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আমার নিশ্চিত বিশ্বাস স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা তিন দিকেই_ মিয়ানমার, ভারত ও মহীসোপানের দিকে চিহ্নিত হয়ে যাবে, এমনটি এখন আর স্বপ্ন বা আশায়

কৃষি এগোবে, কিন্তু কৃষক? by শাইখ সিরাজ

আমাদের প্রধান দুটি ফসল ধান ও পাট বৃষ্টিপাতের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করছে। বৃষ্টিপাত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হলে বিকল্প হচ্ছে ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভের পানি। কিন্তু যেহেতু প্রতি বছর ভূপৃষ্ঠে প্রচুর পানি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেটা আমাদের কাজে লাগাতেই হবে এখন যেখানে বাংলাদেশের কৃষি দাঁড়িয়ে আছে, ২০২১ সালে তা থেকে দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে যাবে।

রাস্তায় শিক্ষার্থী-অ-শিক্ষা বটে!

মন্ত্রী বা বিশিষ্টজনদের সংবর্ধনার জন্য শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা এ দেশে নতুন নয়। মাঝে মধ্যে বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ এহেন ঘটনায় বিরক্ত হন এবং শিক্ষার্থীদের এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে আসা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের নির্দেশও প্রদান করেন।

স্বাধীনতা দিবস-নতুন প্রেক্ষাপটে মুক্তির লড়াই

স্বাধীনতা মানে কেবলই রাজনৈতিক পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত হওয়া নয়। নতুন মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার গৌরবেও তা সীমিত থাকে না। স্বাধীনতা মানে ইচ্ছার স্বাধীনতা, রাজনীতির স্বাধীনতা এবং অবশ্যই উন্নত-সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক পরিবেশে শ্রেণী-পেশা-ধর্ম নির্বিশেষে সবার আরও ভালো থাকার জন্য নিশ্চিত অধিকার।

শুভ হত্যা মামলা-একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র দীপ্ত দাস শুভকে হত্যার দায়ে মামলার একমাত্র আসামি তাজুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পৃথক ধারায় তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

গোলাম আযমের আইনজীবীর দাবি-ট্রাইব্যুনালের আইনে বাংলাদেশের নাগরিকের বিচার করা সম্ভব নয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর আওতায় বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের বিচার করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গতকাল রোববার এ দাবি করে তিনি বলেন, কারণ, যুদ্ধবন্দী ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্যের বিচারের জন্য এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না

৩৫১ স্বাধীনতার চার দশক উপলক্ষে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন। ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড, বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন এমন বিদেশির সংখ্যা কম নয়। তাঁদের মধ্যে একটি ব্যতিক্রমী নাম ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড। যিনি মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে সাহসী ভূমিকা রাখায় বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন।

ঈশ্বরদী ইপিজেডে ব্যাপক সংঘর্ষ

পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) দুটি কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে গতকাল রোববার পুলিশের সংঘর্ষে ইপিজেড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৪০ জন এবং শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

চারদিক-আমাদের শিশু মুক্তিযোদ্ধারা by কামরুল হাসান ভূঁইয়া

জুলাই মাসের শেষ অথবা আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ। ২ নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তর মেলাঘরে সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর মতিন ও ক্যাপ্টেন হায়দার কী নিয়ে যেন আলাপ করছেন। মাঝেমধ্যে বাঁশের তৈরি টেবিলের ওপর ম্যাপশিট পেতে মার্কার দিয়ে আঁকিবুকিও করছেন। আমাকে মেজর খালেদ ডেকে পাঠিয়েছেন, আমি জানি না কেন।

রাজনীতি-চার দশক পর দেশের হালহকিকত by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

ইতিহাসে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এক চমকপ্রদ ঘটনা। হিসাবে ছিল না। হিসাব মেলেনি। এ ভূখণ্ডের বুদ্ধিধর ব্যক্তিরা তার কল্পনা করেননি। ১৯৪৭ সালে কয়েক সপ্তাহের জন্য মৃতবৎসা একটা ভাবনা আলোর মুখও দেখল না। তবে আমাদের ভাষার মণিকোঠায় এক স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের সম্ভাবনা বিদেশি পণ্ডিতেরা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

প্রসঙ্গ আইএসআইর টাকা-প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ করেছে বিএনপি

প্রথম আলোয় ৪ মার্চ ‘১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদাকে পাঁচ কোটি রুপি দেয় আইএসআই!’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত প্রতিবাদপত্রের বক্তব্য নিচে হুবহু প্রকাশ করা হলো:

আবার হবে মনা...আবার হবে by তারেক মাহমুদ

মা এখন ক্রিকেটও বোঝেন! অবাক হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। মা কখনো খেলা বুঝতেন না। আরেকটু জোরে মারলে ছক্কা হবে—ক্রিকেট সম্পর্কে এই ছিল তাঁর জ্ঞান। সেই মা এখন বোঝাচ্ছেন, ‘এবার হয়নি। পরেরবার হবে।’ মুশফিকের বিস্ময় সীমা ছাড়িয়ে যায়। নাকের ডগা দিয়ে এশিয়া কাপের ট্রফিটা চলে যাওয়ায় গোটা দেশ দুঃখের সাগরে ভাসছে।

বাড়তি জমির সবুজ ফসল by নেয়ামতউল্যাহ

ভোলার ইলিশা বিশ্বরোডের মাথা থেকে ইঞ্জিনের নৌকা ছাড়ল। চারদিকে পানি, ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন নীলাকাশ, দেশি-বিদেশি পাখির ওড়াউড়ি। চরগুলোকে দূর থেকে কালোরেখা মনে হয়। কাছে গেলে রং পাল্টে হয় সবুজ। দুই পাশে ফসলের খেত। মাঝখানে স্রোতোস্বিনী খাল। বড় বড় ট্রলার সে খালে দাঁড়িয়ে সবজি-তরমুজ তুলছে।

মুখোমুখি মুক্তিযুদ্ধের দুই অধিনায়ক জে এফ আর জ্যাকব এবং এ কে খন্দকারপাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের নানা তথ্য-মুক্তিযোদ্ধারা বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে by মিজানুর রহমান খান

সাক্ষাৎ হতেই তাঁরা দুজন উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিলেন। প্রথম আলোর আয়োজনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দুই অধিনায়ক গতকাল রোববার মুখোমুখি হয়েছিলেন রূপসী বাংলা হোটেলের বিজনেস সেন্টারে। তাঁরা হলেন, একাত্তরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফ লে. জেনারেল (অব.) জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকব এবং একাত্তরে

শহীদ যোদ্ধাদের ৫৭১টি কবর সংরক্ষণ হচ্ছে by শরিফুল হাসান

যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চার দশক ধরে এই কবরগুলো অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৫৭১টি কবর সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুজন বীরশ্রেষ্ঠর কবরও থাকছে। সাত বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে এত দিন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও মুন্সী আব্দুর রউফের কবর সংরক্ষিত ছিল না।

বাংলাদেশ এখন অনেক দেশের জন্যই উদাহরণ by শওকত হোসেন বাংলাদেশ এখন অনেক দেশের জন্যই উদাহরণ by শওকত হোসেন

বাংলাদেশ এগোচ্ছে। ১৯৭১ সালেই দেশের ‘সাত কোটি মানুষকে দাবাইয়া রাখতে’ কেউ পারেনি। ৪০ বছর পর সেই মানুষ এখন ১৫ কোটি হয়ে গেছে। মানব উন্নয়নের অনেক সূচকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই উদাহরণ। এগিয়েছে অর্থনীতিও। বাড়ছে প্রবৃদ্ধি, বেড়েছে মাথাপিছু আয়।

১৯৭১- তিব্বতি যে বীরদের ভুলেছে বাংলাদেশ

নিছক ‘সহযোগিতা’ বা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ অবদান’ নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনযুদ্ধে একদল ভিনদেশী মানুষ লড়েছিলেন জানবাজি রেখে। না, ভারতীয় সেনাসদস্য নন তারা। এ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে চীন শাসিত তিব্বতের অধীবাসীদের কথা, একদল সাহসী তিব্বতি মানুষও লড়েছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে, পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে।