Friday, February 14, 2020
গল্প- না by নাগিব মাহফুজ

‘সবাই তার দক্ষতার প্রশংসা করে।’ একজন সহকর্মী বলল, ‘আবার তার কঠোরতার কথাও বলে।’
এরকম হতে পারে, সে-সম্ভাবনা সব সময়ই ছিল আর শেষ পর্যন্ত হলোও তাই। তার সুশ্রী মুখম-ল বিবর্ণ হয়ে গেল, টানা কালো চোখে নেমে এলো স্থবির ভাব।
যখন সময় হলো শিক্ষকরা কেতাদুরস্ত হয়ে সারবেঁধে হেডমাস্টারের খোলা রুমে প্রবেশ করল। ডেস্কের পেছনে উঠে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ সবাইকে তিনি সাদরে গ্রহণ করলেন। তাঁর উচ্চতা মাঝারি, শরীর কিছুটা হৃষ্টপুষ্ট, মুখ গোলগাল, নাক বাঁকানো আর চোখ ফোলা। প্রথম দেখায় তাঁর যে-জিনিসটা চোখে পড়ে তা হলো ফুলে ওঠা ঘন গোঁফ, দেখলে মনে হয় ধনুকের মতো বাঁকানো ফেনাযুক্ত ঢেউ। তাঁর বুকের দিকে দৃষ্টি সমান্তরাল রেখে সে এগিয়ে গেল। চোখের দিকে না তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো। কিছু কি বলার আছে? অন্যরা যা বলেছে তাই কি বলবে? যা-হোক, সে চুপ করে থাকল, একটা শব্দও উচ্চারণ করল না। শুধু হেডমাস্টারের চোখ কী বলছে তা দেখতে ইচ্ছা হলো। খসখসে হাতে হেডমাস্টার করমর্দন করলেন আর বিষণœ কণ্ঠে বললেন, ‘ধন্যবাদ’। মার্জিতভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সে চলে এলো।
সারাদিনের কাজের ভিড়ে সব উদ্বেগ ভুলে থাকলেও তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে ভালো নেই। কয়েকজন ছাত্রী তো বলেই ফেলল, ‘মিসের মেজাজ ভালো নেই।’ এরপর কাজ শেষে পিরামিড রোডের শুরুতেই তাদের বাড়িতে ফিরে কাপড় ছেড়ে মায়ের সঙ্গে খেতে বসল। মা মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘সব ঠিক আছে তো?’
‘বদরান বাদাউইকে তোমার মনে আছে? আমাদের হেডমাস্টার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।’ সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর দিলো সে।
‘সত্যি!’
এরপর একমুহূর্ত চুপ থেকে সে বলল, ‘তেমন কোনো ব্যাপার না। সেই কত আগের কথা, প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।’
খাওয়ার পর কিছু পরীক্ষার খাতা নিয়ে বসার আগে একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য পড়ার ঘরে গিয়ে ঢুকল সে। লোকটাকে তো প্রায় ভুলেই গিয়েছিল সে। না, ঠিক পুরোপুরি না। কীভাবে এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়া যায়? যখন বাদাউই প্রথম তাকে গণিত প্রাইভেট পড়ানোর জন্য এসেছিল, তার নিজের বয়স ছিল মাত্র চোদ্দো। আসলে পুরোপুরি চোদ্দো নয়। বাদাউইর বয়স ছিল পঁচিশ, ঠিক তার বাবার সমান। ‘দেখতে অগোছালো হলেও পড়া বোঝাতে পারে ভালোই’, তার মাকে সে বলেছিল। মা বলেছিল, ‘দেখতে যেমনি হোক, কেমন পড়ায় সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
বাদাউই ছিল চমৎকার একজন মানুষ আর জ্ঞান বিতরণের সঙ্গে তাল রেখে তাদের সম্পর্কও ধীরে ধীরে ভালো হলো। তাহলে ব্যাপারটা ঘটল কীভাবে? তার নিজের সরলতার জন্য বাদাউইর আচরণের পরিবর্তনেও সে সাবধান হওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। তারপর একদিন তার বাবাকে ক্লিনিকে যেতে হয়েছিল কোনো এক কারণে আর বাড়িতে তার সঙ্গে ছিল কেবল বাদাউই। বাদাউইর ব্যাপারে তার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না, কারণ তাকে সে চাচার সমতুল্য মনে করত। তাহলে কীভাবে ঘটল সেটা? তার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার প্রেম বা আকাক্সক্ষা ছাড়াই ব্যাপারটা ঘটে গেল। ঘটনার পর আতঙ্কের সঙ্গে সে জিজ্ঞেস করেছিল আসলে কী হয়ে গেল আর বাদাউই উত্তর দিয়েছিল, ‘ভয় বা দুঃখের কোনো কারণ নেই। ব্যাপারটা নিজের ভেতর রেখো। তোমার যখন বয়স হবে আমি নিজেই প্রস্তাব নিয়ে আসব।’
বাদাউই তার কথা রেখেছিল এবং তাকে বিয়ে করার প্রস্তাবও নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে তার ভেতরে এক ধরনের পরিপূর্ণতা এসেছিল, যার ফলে নিজের করুণ অবস্থা অনুধাবন করতে তার বেগ পেতে হয়নি। সে দেখতে পেল বাদাউইর জন্য সম্মান বা ভালোবাসা কোনোটাই তার নেই আর একজন আদর্শ ও নীতিবান ব্যক্তি সম্পর্কে যে ধারণা বা স্বপ্ন তার মনে ছিল বাদাউইর অবস্থান তার থেকে অনেক দূরে। তাহলে কী করার ছিল তার? দুবছর আগেই তার বাবা মারা গিয়েছিলেন আর তার মাও বাদাউইর ওরকম সরাসরি প্রস্তাবে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। যা-হোক, তারপরও মেয়েকে তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি তোমার ঝোঁকের কথা আমি জানি, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তোমার ওপরই ছেড়ে দিলাম।’
নিজের এই জটিল পরিস্থিতি সম্পর্কে সেও সচেতন ছিল। হয় তার প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে নয়তো দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। পরিস্থিতি এমন যে, তাকে হয়তো নিজের অপছন্দের কিছু একটা বাধ্য হয়ে করতে হবে। সে নিজে যেমন সুন্দরী আর সম্পদশালী, তেমনি চারিত্রিক উৎকর্ষের জন্যও তার একটা খ্যাতি আছে; কিন্তু তাকেই এখন এক শক্ত ফাঁদে আটকা পড়ে অসহায়ের মতো লড়াই করতে হচ্ছে, তাও আবার একজনের লোলুপদৃষ্টির সামনে পড়ে। পবিত্রতা নষ্ট হওয়া এক জিনিস আর নিজের সামর্থ্যরে ওপর নির্ভর করে তাকে টেক্কা দেওয়া আর এক জিনিস। বাদাউই বলল, ‘তোমাকে ভালোবাসি বলেই আমার দেওয়া কথার সম্মান করতে আমি এসেছি। আমি জানি তুমি শিক্ষকতা পছন্দ করো আর সেজন্য বিজ্ঞান কলেজে তোমার পড়াশোনাও তুমি শেষ করতে পারবে।’
এমন রাগ হলো তার যা আগে কখনো হয়নি। কদর্যতার মতো নিগ্রহকেও সে সব সময় প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। তাই নিজের বিয়ের চিন্তাকে বিসর্জন দেওয়াটা তার কাছে আসলে কিছুই না। আত্মনির্ভরশীলতাকেই সে সব সময় স্বাগত জানিয়েছে। মূলত একাকিত্ব এবং আত্মসম্মান যখন এক হয় তখন আর সেটা নিঃসঙ্গতার পর্যায়ে থাকে না। তার আরো সন্দেহ হলো যে, বাদাউই তার অর্থসম্পদের জন্যই বিয়েটা করতে চাচ্ছে। পরে মাকে একদম সরাসরিই না বলে দিলো সে। উত্তরে মা বললেন, ‘আমার অবাক লাগছে তুমি প্রথম থেকে কেন এ সিদ্ধান্ত নাওনি।’
বাইরে বাদাউই তার পথ রোধ করে জিজ্ঞেস করল, ‘কী করে প্রত্যাখ্যান করলে তুমি? এর পরিণতি কী, তুমি জানো না?’ রুক্ষস্বরে সে উত্তর দিলো, ‘আপনাকে বিয়ে করার চেয়ে যে-কোনো পরিণতি মেনে নেওয়া ভালো।’ তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বাদাউইর কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
পড়াশোনা শেষ করার পর বাড়তি সময় কাটানোর জন্য সে চাইল কিছু একটা করতে। এজন্যই শিক্ষকতা শুরু। এরপর বহুবার তার বিয়ের সুযোগ এসেছে, কিন্তু সবগুলোকেই সে ফিরিয়ে দিয়েছে।
‘কাউকেই কি তোমার ভালো লাগে না?’ মা ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করেছিল।
‘আমি কী করছি তা আমি ভালো করেই জানি’, সেও নম্রভাবে উত্তর দিয়েছিল।
‘কিন্তু সময় যে বয়ে যাচ্ছে।’
‘যদি যায় তবে যেতে দাও, আমার তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’
ধীরে ধীরে তার বয়স বাড়ল। প্রেম-ভালোবাসাকে সে এড়িয়ে চলে, কারণ তার ভয় হয়। সব শক্তি দিয়ে সে প্রত্যাশা করে জীবনটা সুখের না হলেও, ধীরেসুস্থে পার হয়ে যাবে। সুখ-ভালোবাসা বা মাতৃত্বে সীমাবদ্ধ নয়, নিজেকে এই বলে সে সান্ত¡না দেয়। নিজের শক্ত মনোভাবের জন্য কখনো তার দুঃখবোধ হয়নি। কে জানে সামনে কী হবে? তার সবচেয়ে বেশি মন খারাপ হলো এই ভেবে যে, সেই একই ব্যক্তি আবার তার জীবনে ফিরে এসেছে। তার সঙ্গেই এখন দিনের পর দিন কাটাতে হবে আর তার মাধ্যমেই অতীত হবে জীবন্ত আর বর্তমান হবে বেদনাদায়ক।
এরপর দুজন যখন একা কথা বলার সুযোগ পেল বাদাউইই প্রথম জিজ্ঞেস করল, ‘কেমন আছো?’
‘ভালো’, শীতলভাবে উত্তর দিলো সে।
কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বাদাউই প্রশ্ন করল, ‘এখনো তুমি … মানে … বিয়ে করেছ?’
আলোচনা অতিদ্রুত শেষ করতে ইচ্ছুক এরকম স্বরে সে উত্তর দিলো, ‘আপনাকে তো আগেই বলেছি আমি ঠিক আছি।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভেলরির বিয়ে এবং... by আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে আজ বিরাট হতাশা। আমি যখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শাখা খুলতে যাই তখন প্রায়ই লোকেরা বলে: ‘আর জায়গা পেলেন না ভাই, এখানে এসেছেন! শাখা খুলবেন কোনখানে। সব তো এখানে জন্তু-জানোয়ার।’ আমি কিন্তু তাঁদের সাবধানবাণী শুনি না। শাখা খুলে ফেলি।
বছর-পাঁচেক পর সে-শাখা যখন ফুল পাতায় ঝলমলিয়ে ওঠে তখন তাঁদের কাছে গিয়ে বলি: ‘আপনারা তো ‘জানোয়ার’ ‘জানোয়ার’ করেছিলেন কিন্তু দেখুন কত মানুষ আছে এখানে। কেউ খোঁজেননি বলে তাদের পাননি। যারা এদেশে আজ এই জাতির শক্তি ও বিবেককে ধারণ করে আছে, খুঁজলে ঠিকই তাদের পাওয়া যাবে। না-খুঁজলে কী করে পাব?’
আমাদের চারপাশে যে-অসংখ্য অবহেলিত পঙ্গু মানুষেরা অসহায় হয়ে, তিলে তিলে ধুঁকে মরছে, ভালোবেসে তাদের না খুঁজলে কোনোদিন তাদের আমরা দেখতে পাব না। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের জন্য আমাদের ভেতরে ভালোবাসা না জাগবে ততক্ষণ আমরা কেবল ওদের ঐ কুশ্রী চেহারাতেই দেখব। ফরাসি রূপকথায় ‘বিউটি এ্যান্ড দি বিস্ট’ নামে একটা অপূর্ব গল্প আছে। গল্পটাতে আছে: দানবের মতো দেখতে একটা জন্তু বিউটিকে তার প্রাসাদে ধরে নিয়ে যায়। বিউটি খুবই রূপসী। জন্তুটা বিউটিকে খুবই ভালোবাসে, তার জন্য একা ডুকরে ডুকরে কাঁদে, তাকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু বিউটির মনে তার জন্য প্রেম জাগে না। ‘ও একটা জানোয়ার। ওকে কী করে ভালোবাসব’, মনে হয় বিউটির। ভালোবাসার যন্ত্রণায়, কষ্টে জন্তুটা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মৃত্যুদিন ঘনিয়ে আসে। একদিন প্রাসাদের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ বিউটি ঐ মৃত্যুযন্ত্রণাক্লিষ্ট জানোয়ারটার গোঙানি শুনতে পায়। কাছে গিয়ে দেখে কষ্টে বেদনায় সে শেষ হয়ে এসেছে। জন্তুটার কষ্ট দেখে বিউটির চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা পানি মাটিতে গড়িয়ে পড়ে। তার অমনি ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা। জানোয়ারটা সুদর্শন রাজপুত্র হয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। (আসলে জন্তুটা ছিল একজন অভিশপ্ত রাজপুত্র। যার শাপে সে জন্তু হয়েছিল, সে শর্ত দিয়েছিল, তার দুঃখে ব্যথিত হয়ে কেউ যদি কোনোদিন চোখের পানি ফেলে তবে সে আবার তার রাজপুত্রের চেহারা ফিরে পাবে।) গল্পটার ভেতরের মূল কথাটা কি? কথাটা হল: আমাদের চারপাশের দুঃখী পৃথিবীটা অমনি এক সুদর্শন রাজপুত্রের মতো। অপ্রেমের অভিশাপে সে জন্তুর মতো কদাকার হয়ে আছে। যতক্ষণ আমরা তাকে ভালো না বাসি ততক্ষণ সে তার অভিশপ্ত চেহারা নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকে। আমরা সেই রাজপুত্রকে পাই তখনই যখন তার জন্য আমাদের চোখের পানি মাটিতে ঝরে।
পৃথিবীর কুশ্রীতম নিঃস্বতম মানুষের মধ্যেও আছে এই রাজপুত্র। আমাদের প্রেম দিয়ে, বেদনা দিয়ে, অশ্রু দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে সেই রাজপুত্রকে পেতে হয়। ভেলরি টেইলর তাদের পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশকে ভালো বেসেছেন, এখানকার দুঃখী মানুষের জন্য চোখের পানি ফেলেছেন। তাই সুন্দর রাজপুত্রের মতো এই বাংলাদেশ তাঁর চারপাশে আজ দাঁড়িয়ে আছে।
উনি বাংলাদেশের প্রেমে পড়েছেন। আমার ধারণা কেবল প্রেমে পড়েননি, এদেশের সঙ্গে তিনি বিবাহিতও হয়েছেন। না হলে শুধু প্রেমের জন্য এতদিন, দীর্ঘ তিরিশটা বছর কি তিনি কাটাতে পারতেন? প্রেম এত দীর্ঘজীবী নয়। আমি নিশ্চিত এই জাতির সঙ্গে এক অচ্ছেদ্য বন্ধনে তিনি বাঁধা। কিন্তু কিসের সঙ্গে বাঁধা পড়েছেন? না, এর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা ভোগলিপ্সার সঙ্গে নয়, আখের গোছানোর সঙ্গে নয়, বাঁধা পড়েছেন তিনি এ জাতির অসহায়তার সঙ্গে, নিঃস্বতার সঙ্গে। এর দুঃখ আর অশ্রুর সঙ্গে। উনি অনুভব করেছেন এই বেদনাগুলো ইউরোপেও আছে, কিন্তু অত স্পষ্ট করে তাদের দেখা যায় না। গেলেও সেই বেদনায় শুশ্রƒষা দেবার মানুষ সেখানে আছে। কিন্তু এখানে কেউ নেই। তাই এই বেদনা এবং দায়িত্ব তিনি নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। আমাদের জাতির এই দুঃখের সঙ্গেই তিনি সত্যিকারভাবে বিবাহিত হয়েছেন।
কিন্তু তাই বলে এই প্রাপ্তিটুকুর জন্য একটা গোটা জীবন দিয়ে দেওয়া এ কি এতই সহজ? আমাদের হতাশা-যন্ত্রণা, দুঃখ-কষ্ট আজ এতটাই দুঃসহ যে বেঁচে থাকার সমস্ত আশা আর আনন্দ মানুষ হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এই বাংলাদেশের তলা থেকে আজ জেগে উঠছে আরেকটা বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশকে আমরা আজো ঠিকমতো দেখিনি, কিন্তু অচিরেই দেখব। সে সুখে আশায় ভরা এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আজ সে নেই, কিন্তু সংগ্রাম ও দুঃখের মধ্যদিয়ে তাকে বহু মানুষ তিল তিল করে জন্ম দিয়ে চলেছে। আমাদের সংগ্রাম সেই বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য।
হুবহু এক কাজ না করলেও আমাদের সঙ্গে গভীর মিল আছে তাঁর। উনি একধরনের প্রতিবন্ধী শুধু শারীরিক হয় না, মানসিকও হয়Ñআত্মাও হয়। প্রমথ চৌধুরী লিখেছেন: ‘দেহের মৃত্যুর রেজিস্ট্রি রাখা হয় প্রতিবন্ধিত্বের মতো স্পর্শগ্রাহ্য নয় বলে তা আমাদের চোখে পড়ে না। যদি আত্মার মৃত্যুর রেজিস্ট্রি রাখা হত তাহলে হয়তো দেখা যেত আমাদের তেরো কোটি লোকের মধ্যে ১২ কোটি ৯০ লক্ষ লোক অনেক আগেই মারা গেছে। আমরা সেই মানসিক প্রতিবন্ধিত্বকে সারিয়ে তোলার জন্য অল্পস্বল্প কাজ করছি। কিন্তু শুধু শারীরিক বা মানসিকÑএর যে-কোনো একটিকে আরোগ্য করলেই চলবে না। দুটোকেই আমাদের সারিয়ে তুলতে হবে। আমরা এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে দুই ধরনের প্রতিবন্ধীদের সারিয়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি। এদিক থেকে আমরা পরিপূরক।
এতক্ষণ ভেলরি টেইলরের কাছ থেকে যে-গল্প আমরা শুনলাম এ কি ব্যর্থতার গল্প? এই-যে অসহায়, আশ্বাস-হারিয়ে-ফেলা পঙ্গু হওয়া মানুষদের নিষ্ফল জীবন থেকে টেনে তুলে আলো-আশায় ভরা একটা স্বনির্ভর জীবনের মধ্যে তিনি বাঁচিয়ে তুলছেন, সম্মান আর মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করছেন, এ কি সোজা কাজ? আলোকিত মানুষের জন্য আন্দোলন কি শুধু আমরাই করি? এটাও কি আলোকিত মানুষেরই আন্দোলন নয়? তাঁর মমতার স্পর্শ পেয়ে পঙ্গু বিকলাঙ্গ মানুষেরা এই যে পৃথিবীকে আবার দেখছে, এখানে নিঃশ্বাস নিচ্ছে কী অসাধারণ কাজ এ? কী আলোকবর্তিকারই প্রজ্বলন নয়? একটা মাত্র জীবনই তো আমরা পাই পৃথিবীতে। সেই জীবন হারিয়ে ফেলার চাইতে যন্ত্রণাময় অন্ধকারময় আর কী হতে পারে? সেই জীবন আবার ফুটে উঠল, একটা নিভে যাওয়া প্রদীপ আবার আলোকিত হলÑএটা যে কতবড় অপার্থিব আনন্দ, এ যে পেয়েছে সে-ই জানে। এমনি হাজার হাজার প্রদীপ জ্বালাতে পেরেছেন বলেই এদেশে তিনি থেকে গেছেন, এখানকার মানুষকে ভালোবেসেছেন বলেই জীবনটা তাদের জন্য দিতে পারছেন।
উনি যখন কথা বলছিলেন আমি তখন তার পবিত্রতামাখা মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। নিজেকে অন্যের জন্য বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে পরিতৃপ্তি আর প্রসন্নতায় জ্বলজ্বল করছিল তাঁর মুখ। তাঁর মুখের দীপ্তির মধ্যেই তাঁর ভালোবাসা আমি দেখছিলাম। আমরা অক্ষম। একেকবার একেক ইচ্ছার চাবুক ক্ষতবিক্ষত হই। একবার এটা করি, একবার সেটা। কোনোকিছুতে একাগ্র হতে পারি না। আমার নিজের কথাই বলি। একবার টেলিভিশনে যাই তো একবার করি ডেঙ্গু আন্দোলন। একবার সমাজ, একবার শিল্প; একবার শিক্ষা, একবার সাহিত্য, একবার পরিবেশÑকী এসব! জীবনের সর্বোচ্চকে স্পর্শ করতে চাইলে একটা জায়গায় নতজানু হতে হয়, সেজদা দিয়ে তার ভেতর বিলীন হতে হয়। আমাদের মতো বিশৃঙ্খল, অস্থির, অস্বস্ত মানুষরা এটা পারে না। তাঁকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই এজন্য যে, নিমগ্ন আত্মদানের তিনি এক অনন্য উদাহরণ।
একদিন আমার আমন্ত্রণে ঢাকার স্কুলগুলোর বেশ কিছু হেডমাস্টার এই ঘরে এসেছিলেন। সভা শুরু হলে দেখলাম কয়েকজন ফাদার রয়েছেন তাঁদের মধ্যে। তাঁদের দেখে মনে হল, যে-জ্যাম, জেলি, রুটি, মাখনের জন্য আমাদের মানুষেরা পাগলের মতো দেশ ছেড়ে যায় যায় ইয়োরোপ আমেরিকায়, এঁরা সেসব দেশের সেই সব মোহ ছেড়েই গারো পাহাড়, আসাম আর সুমাত্রার জঙ্গলের মধ্যে জীবন শেষ করে চলেছেন। ভাবলাম, আমরাও কি এই আদর্শের উদাহরণ হতে পারি না? এই ফাদারদের দেখলেও তো বোঝা যায়, কীভাবে মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে। আহরণের ভেতর দিয়ে মানুষ টিকে থাকে, কিন্তু বড় হয় দিতে পারার মধ্য দিয়ে। ছোটজীবনকে উৎসর্গ করেই বড়জীবনকে পেতে হয়; পৃথিবীকে উৎসর্গ করে স্বর্গকে। তাহলেই কেবল জীবন ওরকম আনন্দ-জ্যোতিতে ভরে ওঠে। তিনি ঠিক এই কাজটিই করছেন। তিনি এই নিঃস্ব হতশ্রী দেশে এসে আহত আশাহীন মানুষের সেবায় জীবন শেষ করছেন। তাই তাঁর মুখে এই স্বর্গীয় বিভা, এই অবিশ্বাস্য দীপ্তি।
রাশফুকোর বইয়ে আছে: ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চেহারার খুঁতগুলোর সাথে মনের খুঁতগুলোও ধরা পড়ে।’ কিন্তু এটা সবার জন্য সত্য নয়। যে মনে বা চেহারায় খুঁত নেই বয়স সে খুঁত খুঁজে পাবে কী করে? এমন জীবন কি বয়সের সঙ্গে আরও সুন্দর হয়ে উঠবে না? চল্লিশ বছরের রবীন্দ্রনাথের চাইতে আশি বছরের রবীন্দ্রনাথ অনেক বেশি সুন্দর। কেন? ‘ঐতরেয় ব্রাহ্মণ’ নামে একটা পর্ব আছে উপনিষদের মধ্যে। সেখানে একটা জায়গায় বলা হয়েছে: ‘চলতে চলতে যে মানুষের বদন শ্রান্ত, সেই শ্রান্ত বদনের চাইতে সুন্দরতর শোভা তুমি কোথায় দেখতে পাবে?’ শ্রমের মধ্যে দিয়ে, আত্মোৎসর্গের মধ্য দিয়ে, যে-মানুষের মুখমন্ডল শ্রান্ত হয়েছে সেই শ্রান্ত মুখমন্ডলের চাইতে সুন্দর আর কিছুই হতে পারে না। তাই তাঁর মুখ অমন জ্যোতিতে ভরা। ঐ বইয়ে এমনি আরও অনেক অনবদ্য কথা আছে। তার একটা বলেই কথা শেষ করব।
একটু ভূমিকা দিয়ে কথাটা বলি। আপনারা জানেন, হিন্দুশাস্ত্রে আছে পৃথিবীতে যুগ চারটি। প্রথমে ছিল সত্য যুগ। তখন মিথ্যা, পাপ, অন্যায়Ñএসব কিছুই ছিল না, গরুর দুধ ছিল একদম খাঁটি। তারপর এল দ্বাপর, তারপর এসেছে ত্রেতা। আর আমরা বাস করছি কলির যুগে। কলির যুগে মানে মিথ্যা পাপ আর অনাচারে ভরা পৃথিবীতে। ঋষি বলছেন এই যুগবিভাগ সঠিক নয়। অন্যভাবে একে দেখতে হবে। আসলে: ‘আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখনই কলিকাল, যখন জাগি তখন ত্রেতা, যখন উঠে দাঁড়াই তখন দ্বাপর এবং যখন চলতে শুরু করি তখনই সত্যযুগ।’ সুতরাং ‘চল চল।’ যতক্ষণ চলছি ততক্ষণই সত্যযুগ। তাঁকে দেখলেই বোঝা যায় উনি রয়েছেন সত্যযুগে, কারণ তিনি কেবলই চলছেন। তাই তিনি এমন স্নিগ্ধ আর উজ্জ্বল। আমার হৃদয়ের সমস্ত অভিনন্দন তাঁর জন্য। আমরা আশা করি আদর্শ, আবেগ, অনুভূতি বা স্বপ্নগতভাবে আমরা ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব।
>>>বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ভেলরি টেইলর-এর ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রদত্ত বক্তৃতা: ২০০১
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীর নিয়ে ভারত আর পাকিস্তানের লড়াইয়ের কারণ কি?
![]() |
| পুলওয়ামার আক্রমণ নতুন করে ভারত পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে |
![]() |
| পুলওয়ামাতে সবশেষ আক্রমণে ৪০ জন আধাসামরিক সেনা নিহত হন |
![]() |
| কাশ্মীর বিভক্ত ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এল ও সি দিয়ে |
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে এত সংঘাত-সহিংসতা কেন?
![]() |
| কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে পাকিস্তান, ভারত ও চীন |
![]() |
| আক্রান্ত হলে ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ হবে: বলছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান |
![]() |
| কাশ্মীর বিখ্যাত তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য |
কাশ্মীরে শান্তির আশা দেখা দিয়েও মিলিয়ে গেছে বার বার
![]() |
| পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি |
তাহলে কাশ্মীর কি আগের অবস্থাতেই ফিরে গেল?
![]() |
| কাশ্মীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত ডাল লেক |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
'স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস': সেদিন যা ঘটেছিল
![]() |
| পুলিশের ব্যারিকেডের দিকে এগিয়ে চলছে মিছিল। ছবি: তৎকালীন পত্রপত্রিকা থেকে নেয়া |
![]() |
| সচিবালয় অভিমূখে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মিছিল। ছবিটি তৎকালীন পত্রপত্রিকা থেকে নেয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ▼ 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









