Thursday, May 5, 2011

শেয়ারবাজারে দরপতন চলছে

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন আগে থেকে যে পতন শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এ নিয়ে টানা তিন দিন সূচকের পতন ঘটল দেশের শেয়ারবাজারে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং এর বিভিন্ন বিষয়ে সরকার বক্তব্য দিলেও অনেক বিষয়েই স্পষ্ট করা হয়নি। অনেক বিষয়ে অধিকতরও তদন্ত করার কথা বলা হলেও ঠিক কোন বিষয়গুলো এতে স্থান পাবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। তাই বড় বিনিয়োগকারীদের অনেকেই পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত হতে পারেননি, হননি লেনদেনে সক্রিয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের যাঁরা অনুসরণ করেন, তাঁরাও প্রায় নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।
এ ছাড়া তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংকই আমানতের সুদহার বাড়িয়েছে। শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের অনেকেও এখন ব্যাংকে টাকা রাখাকে বেশি নিরাপদ মনে করছেন।
এসব কারণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে কিছুটা টান পড়াটা অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাজার সূত্রে জানা যায়, নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হয়।
দিনের শুরুতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ১৮ পয়েন্ট কমে যায়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সূচক কিছুটা বাড়লেও এর পর থেকে আবার তা নিম্নমুখী হতে থাকে। দিন শেষে দেখা যায়, ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১২৫ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৮৬৬ পয়েন্টে নেমে আসে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩১০ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৪০৩ পয়েন্টে এসে ঠেকেছে। সিএসইতে এদিন ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩টির, কমেছে ১৬৩ এবং অপরিবর্তিত ছিল ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৫৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৭ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে গতকাল ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৩০টির, কমেছে ২০৭ এবং অপরিবর্তিত ছিল ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৪৫৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৬ কোটি টাকা কম।
খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল প্রায় সব ধরনের খাতেরই দরপতন হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের ৩০টির মধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে। এ ছাড়া সিমেন্ট খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটির, প্রকৌশল খাতের ২৩টির মধ্যে ২০টির, অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২১টির মধ্যে ১৯টির, খাদ্য ও সেবা খাতের ১৫টির মধ্যে ১২টির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ৩৭টির, বিবিধ খাতের নয়টির মধ্যে ছয়টির, ওষুধ খাতের ২১টির মধ্যে ১৭টির, টেলিযোগাযোগ খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান জিপির এবং বস্ত্র খাতের ২৫টির মধ্যে ২০টির দরপতন হয়।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল—বেক্সটেক্স, ইউসিবিএল, বেক্সিমকো, বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটো, আরএন স্পিনিং, মালেক স্পিনিং, এনবিএল, তিতাস গ্যাস ও ইউনাইটেড এয়ার।

কাল বাজারে আসছে বাংলাদেশ ফান্ড

কাল বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে আসছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড’। এরই মধ্যে ফান্ডটির অনুমোদনসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ আজ বুধবার ফান্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ দুপুরে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।
এসইসির সদস্য ইয়াসিন আলী বলেন, ‘ফান্ডটির নিবন্ধনের কাগজপত্র ও নিবন্ধন ফি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ এসইসি থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ফান্ড পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ ব্যাপারে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফায়েকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এসইসির চূড়ান্ত অনুমোদনপত্র হাতে পেয়েছি। সুতরাং ফান্ডটি বাজারে আসার ব্যাপারে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।’ ফান্ড থেকে কালই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান। এই ফান্ড বাজারে স্থিতিশীলতা আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ফান্ডটির উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক—সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা, জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)।
তারল্যসংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার আকার হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। পরে ফান্ডটির নাম দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ ফান্ড’, যা একটি ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ৭৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে এবং বাকি ২৫ শতাংশ মুদ্রাবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। পরে এ ফান্ডের আকার আরও বাড়তে পারে।
এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। প্রতি ১০০টি ইউনিটে একটি মার্কেট লট। এ হিসেবে প্রতি লটের দাম পড়বে এক লাখ টাকা। আইসিবির ওটিসি মার্কেটে ফান্ডটি লেনদেন হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে পারবে।

একজন আন্না হাজারের খোঁজে by শাহানা হুদা

একশ্রেণীর মানুষ আছে, যারা এ দেশের নাগরিক হিসেবে গর্বিত, যারা ক্ষমতাবলয় থেকে অনেক দূরে, অথচ যারা মনে করে, দেশের মঙ্গলের জন্য এটা করলে ভালো হতো, ওটা করলে ভালো হতো। এরা ভোটের সময় মহা উৎসাহে ভোটকেন্দ্রে যায়, বিভিন্ন দলের কথা শোনে, নিজের পছন্দের দলটির জন্য প্রার্থনা করে। এসব মানুষ একদিকে যেমন বাংলাদেশ দল খেলায় জয়ী হলে শিশুর মতো খুশি হয়ে ওঠে, অন্যদিকে চোখের সামনে কোনো অন্যায়-অবিচার দেখলে শোকে-দুঃখে স্তব্ধ হয়ে যায়।
এতক্ষণ যে মানুষগুলোর কথা বললাম, এদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু এদের বড় দুর্বলতা হচ্ছে প্রতিবাদ জানানোর, ক্ষোভ জানানোর, দুঃখ প্রকাশের, এমনকি মন খুলে কথা বলার জন্য কোনো মঞ্চ নেই তাদের। এরা প্রতিদিন খবর দেখে, পত্রিকা পড়ে, চোখের সামনে নানা অন্যায় হতে দেখে, কিন্তু এসব নিয়ে কথা বলার কোনো জায়গা পায় না।
এই অসহায় মানুষগুলোর কথা যে হঠাৎ করে মনে হলো, তা নয়। সব সময়ই মনে হয়। কিন্তু ভারতে দাবি আদায়ের জন্য আন্না হাজারের অনশন ও বিজয় অর্জন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, এ রকম একজন নেতার কত অভাব এই দেশে। যিনি রুখে দাঁড়াবেন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে, কথা বলবেন মানুষের স্বাধীনতার জন্য। ভারতের সামাজিক আন্দোলনের প্রবীণ নেতা আন্না হাজারে গত ৫ এপ্রিল অনশন শুরু করেছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। গান্ধীবাদী এই নেতার দাবি ছিল, দুর্নীতি ঠেকাতে ভারত সরকারকে নয়া ‘লোকপাল বিল’ পাস করতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংসহ বহু নেতার অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি যে অনশন শুরু করেছিলেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০০ মানুষ তাঁর সেই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। আন্না তাঁর এই অনশনকে ‘স্বাধীনতার দ্বিতীয় যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করে ভারতের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ক্রমেই ভারতজুড়ে আন্নার এই আন্দোলনের ডাকে সাড়া পড়ে যায়। ফলে সরকার বাধ্য হয় তাঁর দাবি মেনে নিতে।
ভারতের ক্ষমতাসীন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের জন্য এই লোকপাল বিল। এই বিল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতির বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি তদন্তে উচ্চপর্যায় থেকে আর কোনো অনুমতি লাগবে না। হাজারের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সংস্থা হিসেবে কেন্দ্রে গঠিত হবে ‘জন লোকপাল’ এবং প্রতিটি রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ করার জন্য থাকবে একটি ‘জন লোকায়ত’। এ ছাড়া তাঁর আরেকটি দাবি ছিল সরকার ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের, যে কমিটি একটি শক্তিশালী লোকপাল বিলের খসড়া তৈরি করবে।
অবশেষে ভারত সরকার বাধ্য হয়েছে আন্না হাজারের সব দাবি মেনে নিতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি। দাবি মোতাবেক মন্ত্রী ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি। এখানেই শেষ নয়, আন্না হাজারে পার্লামেন্টে বিল পাস হওয়ার সময়ও বেঁধে দিয়েছেন, ১৫ আগস্ট ২০১১। এরপর তিনি ৯ এপ্রিল তাঁর ৯৮ ঘণ্টার অনশন ভঙ্গ করেন। আন্নার এই আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের বিচার বিভাগের দৃঢ়তা মিলে ভারতের জনগণকে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে।
ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড় তোলা ৭১ বছর বয়সী চিরকুমার এই নেতা দারুণ আর্থিক অনটনের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। তাই পড়াশোনাও আটকে গিয়েছিল সপ্তম শ্রেণীতেই। ১৯৬৩ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ড্রাইভার হিসেবে চাকরি শুরু। ১৯৭৫ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে তিনি তাঁর গ্রাম রালেগান সিদ্ধিতে ফিরে আসেন। সমাজসংস্কারক হিসেবে তাঁর কাজ শুরু এখান থেকেই। গ্রাম থেকে মাদকাসক্তি দূর করা, সেচের জন্য ওয়াটারশেড বাঁধ নির্মাণ, দুগ্ধ সমিতি গঠন, শিক্ষার প্রসার, বর্ণবাদ প্রথা নিরসন, দরিদ্র মানুষের জন্য যৌতুকবিহীন গণবিয়ে চালু, গ্রামসভা প্রতিষ্ঠা, মহারাষ্ট্রে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৫-কে দুর্বল করার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের বিরোধিতা এবং সর্বশেষ লোকপাল বিল আন্দোলন—সবকিছুর সঙ্গে জড়িত এই মহান নেতা আন্না হাজারে। হাজারের মতো একজন নেতা আমরা কোথায় পাই? যাঁর থাকবে না কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ, যিনি চান না ক্ষমতাসীন হতে, যিনি লড়াই করেন শুধু নিজের দেশকে রক্ষা করার জন্য। ব্যক্তিগত লাভক্ষতি, রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রভাব—কোনো কিছুই তাঁকে দমাতে পারে না।
আমরাও স্বপ্ন দেখি এ রকম একজন নেতা বা নেত্রীর—যিনি দুর্যোগ-দুর্বিপাকে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। তিনি ডাক দেবেন অনশনের, বিগ্রহের। আমরাও দলমত-নির্বিশেষে তাঁর বা তাঁদের পেছনে গিয়ে দাঁড়াব। কোনো রাজনীতি নয়, কোনো ক্ষমতা ভাগাভাগি নয়, ভোট চাওয়ার সংস্কৃতি নয়—তিনি বা তাঁরা শুধু আমাদের পথ দেখাবেন। যাঁরা রাষ্ট্র চালাবেন, তাঁরা চাইলেই যেন যা খুশি তা-ই করতে না পারেন, রাষ্ট্রনায়ক যেন পরিণত হতে না পারেন একনায়কে, একটি দুর্বল আইন প্রণয়ন করার সময় সরকার যেন একবার চিন্তা করে—তাদের এই অন্যায় কাজের বিরোধিতা করার মতো একটি শক্তি আছে।
আমাদের দেশেও বিভিন্ন সময়ে কমিশন গঠিত হয়, বিল পাস হয়, কিন্তু একবারও ভেবে দেখা হয় না কমিশনটা প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী হলো কি না। বিলটি কার্যকর হচ্ছে কি না। বরং আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন কমিশন গঠন করেছে এবং চেষ্টা করেছে কমিশনকে অকার্যকর করার মাধ্যমে ক্ষমতা হাতের মুঠোয় রাখতে। নতুন আইন করে কমিশনের ক্ষমতা হ্রাস করার উদ্যোগও আমরা সাধারণ মানুষ দেখেছি, জেনেছি, শুনেছি। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু প্রতিবাদও করেছি কিন্তু জোটবদ্ধ হয়ে জানাতে পারিনি কোনো প্রতিবাদ, ঠেকাতে পারিনি দুর্বল কমিশন গঠন বা আইনের প্রয়োগ। কারণ, আমাদের কোনো নেতা নেই।
আমরা এমন একটি মঞ্চ চাই, যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে, বর্বরোচিত ঘটনার নিন্দা জানাবে, আনন্দের ঘটনায় উল্লসিত হবে, ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে। তবে এসব কিছু করার জন্য চাই আন্না হাজারের মতো নেতা, একজন স্বপ্ননির্মাতা—যিনি আমাদের ভালো কাজের স্বপ্ন দেখাবেন।
শাহানা হুদা: উন্নয়নকর্মী।

হেলাল উদ্দিন নিজামী এসইসিতে যোগ দিয়েছেন

সদ্য নিয়োগ পাওয়া হেলাল উদ্দিন নিজামী আজ বুধবার থেকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক।
এসইসিতে যোগদানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুঁজিবাজার কারসাজি তদন্তে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসইসি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই কাজ খুবই চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ। এসইসির ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা, সরকার ও জনপ্রত্যাশা পূরণ এবং বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা আমাদের প্রথম কাজ।’ এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি অন্য কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকতে পারবেন না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে সম্মান এবং ফিন্যান্স বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হেলাল উদ্দিন নিজামী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

সিরিয়ায় বিক্ষোভকারীদের অবস্থান ধর্মঘট শুরু

সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা গতকাল মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে। বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক আকারে ধরপাকড় শুরু হওয়ার পর এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
ফেসবুকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সিরিয়ার সব অঞ্চলের মানুষকে আমরা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে অবস্থান ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। দিনে-রাতে সারাক্ষণ এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জনগণের উদ্দেশে ‘বেআইনি কর্মকাণ্ড’ পরিহার করার ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রথম দিনেই অবস্থান ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হলো।

নিউজিল্যান্ডে টর্নেডো দুজন নিহত

নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ডে গতকাল মঙ্গলবার টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এতে দুজন নিহত হয়েছে। ঝড়ের তোড়ে উড়ে যায় অনেক বাড়ির ছাদ। এ ছাড়া অনেক গাড়ি উড়ে যেতে দেখা যায়।
অকল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় আলবানি উপকণ্ঠে ওই টর্নেডো আঘাত হানে। এতে একটি বিপণিকেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, টর্নেডোতে দুজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে টর্নেডো আঘাত হানে। এতে নিহত হয় ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ। ঝড়ে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নিউজিল্যান্ডে বছরে প্রায় ২০টি টর্নেডো আঘাত হানে। তবে বেশির ভাগ ঝড়ই হয় ছোট মাত্রার। এসব ঝড়ে প্রাণহানি সাধারণত হয় না। এ ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও হয় অনেক কম।
নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড় আঘাত হানে ১৯৪৮ সালে। ওই সময় হ্যামিলটনে টর্নেডোর আঘাতে তিনজন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়। ওই ঝড়ে প্রায় ২০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০৪ সালে নর্থ আইল্যান্ডের তারানাকি অঞ্চলের একটি ছোট শহরে টর্নেডো আঘাত হানে। ওই ঝড়ে নিহত হয় দুজন।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না: ক্যামেরন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের আস্থা আছে। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। পাকিস্তানের চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছে মিত্র দেশ চীনও।
সাক্ষাৎকারে ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে পাকিস্তানের বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিলেও ইসলামাবাদের সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ইসলামি জঙ্গিবাদ দমনে চলমান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সহযোগী দেশ পাকিস্তান। লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের কোনো ঘটনা ঘটলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দেবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। সন্ত্রাসবাদ দমনে তাঁরা নিজ ভূমিতে অনেক কিছু করেছেন। এ কারণে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে পাকিস্তান অনেক বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক শক্তিকে আমাদের নিজেদের স্বার্থেই সমর্থন দিতে হবে। এই গণতন্ত্র যত শক্তিশালী হবে, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে গোটা দেশ তত বেশি কাজ করতে পারবে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির সঙ্গে সোমবার কথা হয়েছে বলে জানান ক্যামেরন। এ সময় তাঁরা তাঁকে বলেন, ‘অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে আপনাদের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।’
ক্যামেরন বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে আমাদের স্বার্থেই পাকিস্তান সরকার ও সে দেশের জনগণের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে। দেশটির উন্নয়নেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’ কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘পাকিস্তান থেকে মুখ ফেরালে দেশটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে, যা পুরোপুরি আমাদের স্বার্থবিরোধী।’

বিয়ের চার দিন পর কাজে যোগ দিলেন প্রিন্স উইলিয়াম

বিশ্বজুড়ে আলোচিত বিয়ের উৎসব শেষে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের নবদম্পতি প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন।
গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা ওয়েলসের অ্যাঙ্গেলসিতে নিজেদের বাড়িতে উঠেছেন এবং একই দিনে হেলিকপ্টারের পাইলট হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছেন প্রিন্স উইলিয়াম। ব্রিটেনের রাজকীয় সূত্রগুলো এ খবর জানিয়েছে।
গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত রূপকথার মতো জাঁকজমকপূর্ণ সেই বিয়ের পর রাজকীয় নবদম্পতির এ রকম গ্রামীণ দ্বীপের জীবনে ফিরে যাওয়াটা বেশ অন্য রকম মনে হয়। এ যেন অন্য পৃথিবীর গল্প, কল্পলোকের গল্প শেষে বাস্তব পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন।
আনুমানিক ১০ লাখ লোক লন্ডনের রাস্তায় এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ টেলিভিশনে রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে।
বিয়ের পর উইলিয়াম ও কেট দেশের ভেতরেই একটি সংক্ষিপ্ত মধুচন্দ্রিমায় যান। গত শনিবার বিকেলে তাঁরা হেলিকপ্টারে করে বাকিংহাম প্যালেসের বাইরে ঘুরতে যান।
প্রিন্স চার্লসের কার্যালয় ক্লিয়ারেন্স হাউস বলেছে, তাঁরা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো কোথায় কাটাবেন, তা প্রকাশ করা হবে না।
জানা গেছে, মধুচন্দ্রিমা কাটাতে এই মুহূর্তে দূরে কোথাও যাবেন না এই নবদম্পতি। রাজকীয় কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, উইলিয়াম ও কেট সিসিলি দ্বীপে মধুচন্দ্রিমা কাটাবেন। তবে মধুচন্দ্রিমার তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।
এ ছাড়া আগামী ৩০ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত নবদম্পতি সরকারি সফরে কানাডায় কাটাবেন বলে রাজকীয় সূত্র জানিয়েছে।

ওসামার আত্মগোপন করা বাড়িটি এখন পুলিশের হেফাজতে

আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের যেখানে আত্মগোপন করে ছিলেন, বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া সেই বাড়িটি এখন পুলিশের হেফাজতে। গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানি পুলিশ এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পুলিশ কর্মকর্তা কামার হায়াত জানান, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পুলিশের কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করে। ইসলামাবাদের উত্তরে অবস্থিত অ্যাবোটাবাদ এলাকার এ বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলেন ওসামা বিন লাদেন। মার্কিন বিশেষ বাহিনী গত রোববার রাতে এখানে এক অভিযান চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে।
অভিযানের পর সাংবাদিকদের বাড়ির প্রাচীর পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু কংক্রিটে নির্মিত এর সুউচ্চ প্রাচীরের ভেতরে আর তাঁদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিযানে বাড়িটির এক পাশের প্রাচীর ধসে গেছে। সেখান থেকে দেখা গেছে বাড়ির সামনে একটি বিশাল উঠান আছে।

পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থ দফায় ৬৩ আসনে ভোট

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার চতুর্থ দফায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়। গতকাল হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর ও বর্ধমান জেলার ৬৩টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাওড়ার ১৬টি, হুগলির ১৮টি, পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি এবং বর্ধমান জেলার ১৩টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৩৬৬ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৩৯ জন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের নির্বাচন হচ্ছে ছয় দফায়। শুরু হয়েছে গত ১৮ এপ্রিল। গতকাল পর্যন্ত চার দফার নির্বাচনে ২৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছে। ৭ ও ১০ মে বাকি ৫২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে।
সাত মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারণ: গতকালের নির্বাচনে সাত মন্ত্রীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তাঁরা হলেন: শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন, উচ্চশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী সুদর্শন রায় চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী নরেন দে, অগ্নিনির্বাপণবিষয়ক মন্ত্রী প্রতীম চট্টোপাধ্যায়, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণবিষয়ক মন্ত্রী মোহান্ত চট্টোপাধ্যায়, কারিগরি শিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী চক্রধর মাইকাপ এবং তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৌমেন্দ্রনাথ বেরা।
বিচ্ছিন্ন ঘটনা: চতুর্থ দফার নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের ৭৭টি বুথে সিপিএমকে পোলিং এজেন্ট দিতে দেয়নি তৃণমূল। এর মধ্যে নন্দীগ্রামের ৭৪টি বুথও রয়েছে। এ ছাড়া বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে সিপিএমের প্রার্থী আবদুল কাদের ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে মারধর করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা। এ ঘটনায় তৃণমূলের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া বালির তৃণমূল প্রার্থী ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সিপিএম। হাওড়ায় একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। আরামবাগে পক্ষপাতিত্ব করায় এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমতা, শ্যামপুর ও কাটোয়ার তিনটি বুথে এলাকার উন্নয়ন না হওয়ার প্রতিবাদে ভোটাররা নির্বাচন বয়কট করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগে তিন জেলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসামার প্রতিবেশী এক কৃষককে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানের সেনারা

মার্কিন বাহিনী অ্যাবোটাবাদ শহরের যে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে, সেই বাড়ির কাছ থেকে এক কৃষককে গ্রেপ্তার করেছেন পাকিস্তানের সেনাসদস্যরা। ওই কৃষকের আত্মীয় ও পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।
ওই কৃষকের ছেলে ও প্রতিবেশীরা জানান, গত সোমবার মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী শমরেজ খান (৫০) নামে ওই কৃষককে গ্রেপ্তার করে। তাঁর ছেলে মোহাম্মদ কাশিম (২০) জানান, ‘কোথায় অভিযান চলেছে, তা দেখতে বাড়ির বাইরে এলে সেনারা আমার বাবাকে বন্দী করে।’
সেনাবাহিনীর সদস্যরা শমরেজকে আটক করার দৃশ্য প্রতিবেশীদের অনেকেই দেখেছে। মোহাম্মদ ইসহাক নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শমরেজকে চিনি। তিনি গরিব কৃষক। তিনি নিরপরাধ।

ওসামার বাড়িতে পাওয়া কম্পিউটারের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন গোয়েন্দারা

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পাকিস্তানে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের বাড়িতে পাওয়া কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন। তাঁরা আশা করছেন, এ থেকে আল-কায়েদার অন্যান্য নেতা এবং তাঁদের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র উন্মোচন করা সহজ হবে। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়।
হোয়াইট হাউসের সন্ত্রাস দমন বিষয়ক উপদেষ্টা জন ব্রেনান সোমবার জানান, অভিযানের সময় মার্কিন কমান্ডোরা লাদেনের বাড়ি থেকে কম্পিউটার, সিডিসহ অন্য যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন, ‘আমরা এখন সেগুলো থেকে সঠিক তথ্য বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

‘আল-কায়েদার অন্তত ছয় শীর্ষনেতা পাকিস্তানে’

পাকিস্তানে আল-কায়েদার কমপক্ষে ছয়জন শীর্ষনেতা আছেন। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা মাইক রজার্স এ কথা বলেছেন। তিনি মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক একটি কমিটির চেয়ারম্যান।
মাইক রজার্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের ধারণা, আল-কায়েদার শীর্ষস্থানীয় ২০ নেতার অন্তত ছয়জন পাকিস্তানের কোথাও না-কোথাও বিচরণ করছেন।’
রজার্স বলেন, মার্কিন আইনপ্রণেতারা পাকিস্তানের কাছে প্রশ্ন করতে পারেন, ওসামা বিন লাদেন কীভাবে ইসলামাবাদের কাছে অবস্থান করেছেন।
রজার্স বলেন, ‘মনে হয়, আমরা ওই প্রশ্নই করতে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমাদের এও মনে রাখতে হবে, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করছি। যদিও সেখানে কিছু বাজে লোক আছে।’ তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাগরে সমাহিত করা ইসলাম সমর্থন করে না: আল-আজহার

কাউকে সাগরে সমাহিত করার বিষয়টি ইসলাম সমর্থন করে না। গতকাল মঙ্গলবার মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়। আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে সাগরে সমাহিত করা হয়েছে—মার্কিন কর্মকর্তাদের এ ঘোষণার পর আল-আজহার কর্তৃপক্ষ এ কথা বলে।
আল-আজহারের প্রধান ইমাম শেখ আহমেদ আল-তাইয়েবের উপদেষ্টা মাহমুদ আজাব বলেন, ‘যদি এ কথা সত্য হয় যে লাদেনের লাশটি সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তাহলে ইসলাম এর সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে।’
আজাব বলেন, কেউ যদি খুন হয় কিংবা প্রাকৃতিক কারণে মারা যায়, তাহলে তার লাশের প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে। তিনি বলেন, পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ছাড়া সব মুসলমান ব্যক্তির লাশের কবর হতে হবে।

পাকিস্তান কখনোই সন্ত্রাসবাদের উর্বর ক্ষেত্র নয়: জারদারি

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান নেতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের মাটিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান কখনো সন্ত্রাসবাদের উর্বর ক্ষেত্র ছিল না, কখনো হবেও না। এ-সংক্রান্ত গণমাধ্যমের দাবি কখনোই ঠিক নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন খবর টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে ঠিকই, কিন্তু এর মাধ্যমে কখনোই বাস্তবতা প্রতিফলিত হয় না।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার-ঘোষিত ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিবাদ হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বাড়তি কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাও নিতে দেখা যায়নি। জনমনে কোনো প্রভাবও ফেলেনি এ ঘটনা। পেশোয়ারের দিনমজুর জাইন খান যেমনটা বলছিলেন, ‘সে (লাদেন) মারা গেল কি না গেল তাতে আমার কিছু আসে-যায় না।’
তবে নিজ দেশের মাটিতে লাদেন নিহত হওয়ায় পাকিস্তানের অনেকেই বিব্রত। দ্য নিউজ পত্রিকা তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, সারা বিশ্বের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়ার ব্যর্থতা এবং সেই ব্যক্তির এখানে নিহত হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।
রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার উত্তরে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরের উপকণ্ঠ বিলাল এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র অভিযানে গত রোববার মারা যান বিন লাদেন। জায়গাটি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমির একদম কাছেই অবস্থিত। এ অভিযানে পাকিস্তানের কোনো ভূমিকা ছিল না।
তাই মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানের সমর্থন ছাড়া সে দেশের মাটিতে লাদেনের অবস্থান করার প্রশ্নই ওঠে না। হোয়াইট হাউসের সন্ত্রাসবিরোধী শাখার প্রধান জন ব্রেনান বলেন, এটা অবিশ্বাস্য যে বিন লাদেন পাকিস্তানের সমর্থন পায়নি।
লাদেন নিহত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জারদারি গতকাল মঙ্গলবার বলেন, অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের মতো পাকিস্তানেরও আল-কায়েদাকে ঘৃণা করার যথেষ্ট কারণ আছে। যুক্তরাষ্ট্র যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তেমনি পাকিস্তানও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই লড়াই করতে গিয়ে পাকিস্তানকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের কারণে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমাদের দেশই।’
জারদারি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ন্যাটো জোটের যত সেনা মারা গেছে তার চেয়ে অনেক বেশি সেনা মারা গেছে পাকিস্তানের। এ পর্যন্ত দুই হাজার পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্তত ৩০ হাজার বেসামরিক লোক প্রাণ হারিয়েছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের জনগণের জন্য সামাজিক উন্নয়নের একটা প্রজন্মও হারিয়ে গেছে।
লাদেনকে হত্যার চূড়ান্ত অভিযানে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ না থাকার ব্যাপারে জারদারি বলেন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক দশকব্যাপী সহযোগিতা ও অংশীদারিই ওসামা বিন লাদেনকে নিশ্চিহ্ন করতে সাহায্য করেছে। তবে কীভাবে লাদেন পাকিস্তানের মাটিতে নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশে ছিলেন, সে ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা দেননি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এটুকু বলেছেন, ‘আমরা যেসব স্থান নিয়ে ধারণা করেছিলাম, তার কোনো জায়গাতেই বিন লাদেন ছিলেন না।’
ইসলামাবাদে কর্মরত বিবিসির সাংবাদিক সৈয়দ শোয়েব হাসান বলেছেন, পাকিস্তানের মাটিতে লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। পাশাপাশি মার্কিনদের মনেও নতুন প্রশ্ন জেগেছে, লাদেনের মতো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তালিকাভুক্ত অন্য কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী পাকিস্তান ভূখণ্ডে আস্তানা গেড়ে আছে কি না?
ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ: যুক্তরাষ্ট্র গতকাল ইসলামাবাদে তাদের দূতাবাস এবং অন্য তিনটি শহরে তাদের কনস্যুলেট বন্ধ ঘোষণা করেছে। দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদের দূতাবাস এবং পেশোয়ার, লাহোর ও করাচির তিনটি কনস্যুলেট পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
ওসামা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ নিতে আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা এসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে আশঙ্কা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হারানো সমর্থন ফিরে পেতে পারেন ওবামা

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হারানোর সমর্থন ফিরে পাওয়ার পথ খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এতে ২০১২ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর লড়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক মন্দাসহ অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার কারণে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটার টান চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওবামার জনপ্রিয়তা এখন ৫০ শতাংশের নিচে। মার্কিন সেনাদের গুলিতে লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনায় এই জনপ্রিয়তা আবার চাঙা হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তাই বলে এ ঘটনা সাধারণ মানুষের মন থেকে অর্থনৈতিক সংকটের কথা একেবারে মুছে দেবে আশা করছেন না তাঁরা।
লাদেন নিহত হওয়ার খবর জানার পর মার্কিন জনতা দলে দলে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে ও ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাস্থল গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে সমবেত হয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নামে জয়ধ্বনি করে। ‘আমরা পারি’ বলে স্লোগান দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ওবামা জয়ী হওয়ার পর যা ঘটেছিল, এ সময় সেই আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এমনকি রিপাবলিকান দলের কিছু কট্টর সমালোচকও ওবামার প্রশংসা করেন।
এ ব্যাপারে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার আর্টারটন বলেন, ‘এটি সুস্পষ্ট সাফল্য। এটি ওবামার জন্য একটি ভালো সপ্তাহ উপহার দেবে।’
রিপাবলিকানরা প্রায়ই বলে থাকে, অন্য সব ডেমোক্র্যাট নেতার মতো জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে ওবামা দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনা রিপাবলিকান সমর্থকদের কেবল মুখই বন্ধ করবে না, রাজনৈতিক জীবনে সাফল্যের ক্ষেত্রে ওবামাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।
৯/১১ হামলার পর নিরাপত্তার বিষয়টি মার্কিন জনগণের কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়। এই দুর্বল জায়গায় নাড়া দিয়ে ২০০৪ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনা ২০১২ সালের নির্বাচনে ওবামার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
গত সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের লাদেনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল।
ওবামার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিউ হ্যাম্পশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যান্ডি স্মিথ বলেন, এখনই কিছু বলাটা খুব বেশি তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। তবে এ ঘটনা ওবামার সমর্থন বাড়াবে বলে মনে হচ্ছে।

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১২৮ লাখ কোটি ডলার

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের পিছু ধাওয়াসহ সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১২৮ লাখ কোটি মার্কিন ডলার। একজন ‘সন্ত্রাসীকে’ ধরতে বিশ্বের ইতিহাসে সম্ভবত এত বেশি অর্থ এর আগে কখনো ব্যয় হয়নি।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে বিমান হামলার পরপরই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার জন্য দায়ী করা হয় লাদেনকে।
কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য মতে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ১২৮ লাখ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আট হাজার ৬০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে ইরাকযুদ্ধে, ৪৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে আফগানিস্তানে।
মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের ধারণা, বিন লাদেনের শুরু করা সন্ত্রাসী ঘটনার জের সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আগামী ১০ বছর আরও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১৮০ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিন লাদেনকে হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ যুদ্ধে এখন কেবল আল-কায়েদাই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রতিপক্ষ নয়। ইরাক ও আফগানিস্তানসহ বিশ্বের সর্বত্র ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে, যে লড়াইয়ের সহসা অবসান ঘটবে বলেও মনে করা হচ্ছে না।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এর পর আরও বহু সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছে আরও এক হাজার মানুষ। যদিও সব ঘটনার সঙ্গে বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদার সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা প্রশ্নবিদ্ধ।
মানব সভ্যতার ইতিহাসে বিন লাদেনকে তাড়া করার ইতিহাস সবচেয়ে রক্তাক্ত। ইরাক-আফগানিস্তান মিলে এ পর্যন্ত ছয় হাজার মার্কিন সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। ৫৫ হাজার মার্কিন সেনাকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। যুদ্ধের সরাসরি তাণ্ডবে কেবল ইরাকেই ১২ লাখ সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। আফগানিস্তানে নিহত হয়েছে ২০ হাজার বেসামরিক লোক। ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক লোক এ পর্যন্ত আফগানযুদ্ধে আহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বজোড়া সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে প্রাণহানির এ সংখ্যা প্রকৃত অর্থে আরও বেশি বলে অনেকেরই ধারণা।
যুদ্ধের দ্রুত অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েই বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্বাচনে বিজয়ী হন। বিন লাদেনকে হত্যার মধ্য দিয়ে মার্কিন জনগণকে দেওয়া কথা রেখেছেন ওবামা।

প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানি তালেবান

পাকিস্তানি তালেবান গতকাল মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের হত্যার প্রতিশোধ নিতে তারা পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে। অজ্ঞাত স্থান থেকে পাকিস্তানি গণমাধ্যমে পাঠানো একটি অডিও বার্তায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের মুখপাত্র আহসানউল্লাহ আহসান এ হুঁশিয়ারি দেন।
অডিও বার্তায় আহসান পশতু ভাষায় বলেন, ‘আমরা ওসামা বিন লাদেনের হত্যার প্রতিশোধ নেব। আর আমাদের প্রথম লক্ষ্য পাকিস্তান এবং দ্বিতীয় লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র।’ এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিসহ অন্যান্য নেতা এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাদের হামলার লক্ষ্য বলে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।
অডিও বার্তায় আহসান আরও বলেন, লাদেনের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের উল্লসিত হওয়া উচিত নয়। কারণ, আল-কায়েদা প্রধানের নাগাল পেতে তাদের ১০ বছর সময় লেগেছে। তিনি বলেন, ‘তিন মাসের পরিকল্পনায় আমরা ২০০৭ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে হত্যা করেছি। তাঁকে হত্যা করতে আমরা মাত্র একজন আত্মঘাতী হামলাকারীকে পাঠিয়েছি। অথচ লাদেনকে হত্যা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সময় লেগেছে ১০ বছর।’
মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায়ই বলে থাকেন, হাকিমুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উভয় গোষ্ঠীর জন্য আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে।

লাশের ছবি আপাতত প্রকাশ করবে না যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদ সংস্থা এএফপি বলেছে, গত সোমবার লাদেনের লাশের ছবি হিসেবে ইন্টারনেটে যে ছবিটি দেখা গেছে, সেটি আসল ছবি নয়। লাদেনের একটি ফাইল ছবিকে কম্পিউটারে সম্পাদনা করে সেটিকে তার লাশের ছবি বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। প্রমাণ হিসেবে এএফপি আসল ও সম্পাদিত দুটি ছবিকে পাশাপাশি তুলে ধরে। এদিকে, বিভিন্ন মহল থেকে জোর দাবি জানানো সত্ত্বেও ওসামা বিন লাদেনের লাশের ছবি আপাতত প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ছবিগুলো প্রকাশের যথার্থতা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সংবেদনশীলতা রয়েছে। তিনি বলেন, সেই দিকটি বিবেচনা করে আপাতত এসব ছবি প্রকাশ করা হবে না।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সিনেটর গতকাল ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছবিগুলো প্রকাশ করে মানুষের মনের সন্দেহ দূর করা উচিত। এর আগে গত সোমবার রিপাবলিকান নেতা ও সিনেটর সুসাস কলিন্সও লাদেনের ছবি প্রকাশের দাবি জানান। এ ছাড়া নাইন-ইলেভেনে হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের অনেক স্বজন লাদেনের লাশের ছবি প্রকাশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

আবার শীর্ষে কলকাতা

এর আগেও এমন একটা ইনিংস খেলেছিলেন ইউসুফ পাঠান। বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ২৪ বলে ৪৬ রানের ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি ফোটায়নি। ফোটাল কালকের ২৬ বলে ৩ চার, ৩ ছক্কায় খেলা অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংসটা। পাঠানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সও ডেকান চার্জার্সকে হারিয়ে উঠে গেল শীর্ষে। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট তাদের। সমান পয়েন্ট হলেও এক ম্যাচ কম খেলা মুম্বাই রানরেটের কারণে দুইয়ে। ব্যাট হাতে পাঠানের ঝোড়ো ইনিংস, মনোজ তিওয়ারির সঙ্গে ৮০ রানের জুটির পাশাপাশি বল হাতে ৩ ওভারে ১৯ রান দেওয়াটাও ভূমিকা রেখেছে ২০ রানের এই জয়ে। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৬৯ রান তুলেছিল কলকাতা। জবাবে ৬ উইকেটে ১৪৯ রান তুলতেই ২০ ওভার ফুরিয়ে যায় ডেকানের। টানা তৃতীয় জয় পায় কলকাতা।

ফ্লাওয়ার থাকছেন ইংল্যান্ডেই

আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই বাকি ছিল। সেই ঘোষণাটা এল কাল। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে থাকছেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারই। কাজটা প্রধান কোচেরই, তবে আগে থেকেই ফ্লাওয়ারের পদের কেতাবি নাম ‘টিম ডিরেক্টর’। চুক্তি নবায়ন হলেও সেটি কত বছরের জন্য, তা জানা যায়নি। তবে ফ্লাওয়ারের একটা দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে নিশ্চিত, চাইলে কিছু অগুরুত্বপূর্ণ সফরে নাও যেতে পারেন সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।
চুক্তি নবায়নের পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ফ্লাওয়ার বলেছেন, ‘দল হিসেবে গত কিছুদিনে আমরা যে উন্নতি করেছি, সেটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি উচ্ছ্বসিত। ২০০৯ সালে যখন আমাকে ইংল্যান্ডের টিম ডিরেক্টর করা হয়েছিল, আমার লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ড দলে জয়ের তাড়না সৃষ্টি করা। গত দুই বছরে সব ধরনের ক্রিকেটেই দল যেভাবে উন্নতি করেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট। ২০০৯ সালে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করা, গত শীতে সেটা ধরে রাখা, ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় অবশ্যই মূল অর্জনগুলোর মধ্যে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে আরও অনেক কিছু আমরা অর্জন করতে চাই।’ ওয়েবসাইট।
সেই ‘অর্জনগুলো’ কী কী, সেটাও বলেছেন ৪৩ বছর বয়সী সাবেক ব্যাটসম্যান, ‘বৈশ্বিক শিরোপা জয় এবং বিশ্বের ১ নম্বর দল হওয়ার প্রতিজ্ঞাটা আমরা কখনোই গোপন করিনি এবং আমরা সে পথেই এগোচ্ছি।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্ট, একটি টি-টোয়েন্টি ও পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ দিয়ে এ মাসেই শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ডের নতুন মৌসুম। এর পরই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ।

চেলসিও থাকছে ম্যানইউর ভাবনায়

আজ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ঢোকার সময় স্যার ফার্গির পকেটে বাড়তি কয়েকটা চুইংগাম থাকলেও থাকতে পারে। টেনশনের সময় কাজে দেবে। আজ সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে অ্যালেক্স ফার্গুসনের সঙ্গী হচ্ছে যে বাড়তি দুশ্চিন্তা!
প্রথম লেগটা শালকের মাঠে গিয়ে ২-০ গোলে জিতে আসা, ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখার পরও দুশ্চিন্তা? হ্যাঁ, তা-ই। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচের নোটবুকে যে অনেক সমীকরণ, যেগুলোর হিসাব মেলানোর ঢের বাকি।
মৌসুমের এই শেষ প্রান্তে এসে দলের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তির ছাপ। ১৬ এপ্রিল থেকে একের পর এক হিসাব গরমিল করে দেওয়া সব ফল। এফএ কাপের সেমিফাইনালে ম্যান সিটির কাছে হেরে বিদায়। লিগেও সুবিধাজনক অবস্থান থেকে হঠাৎ চাপে পড়ে যাওয়া; সর্বশেষ তিন ম্যাচের একটিতে ড্র, আরেকটিতে হার। গত ম্যাচে আর্সেনালের কাছে হেরে চেলসির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র তিনে নিয়ে আসা। এই অবস্থায় লিগে আবার পরের ম্যাচটি চেলসির বিপক্ষেই, আগামী রোববার। যে ম্যাচে জিতলেই গোল ব্যবধানের কারণে চেলসি উঠে যাবে এক নম্বরে। বাকি থাকবে মাত্র দুটো ম্যাচ।
ফলে রোববারের সম্ভাব্য শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে চোখ রেখেই আজ মাঠে নামবে ম্যানইউ। এই ম্যাচটায় ফার্গুসন দলের মূল খেলোয়াড়দের অনেককেই বিশ্রাম দিতে চাইবেন। কিন্তু একই সঙ্গে কোচকে এই ভাবনাও মাথায় রাখতে হচ্ছে—শালকে যদি চমকে দেয়! যেমনটা তারা চমকে দিয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানকে; মিলানে গিয়েই ৫-২ গোলে হারিয়ে!
টেনশনের সময় ৬৯ বছর বয়সী ‘তরুণ’ কোচের চিরসঙ্গী চুইংগামের সংখ্যা তাই আজ বাড়তেই পারে। ম্যানইউ সমর্থকেরা অবশ্য চাইবেন, সেই বাড়তি চুইংগামের প্রয়োজন যেন শেষ পর্যন্ত না হয়। সমীকরণ বলছে, জার্মান ক্লাবটিকে টাইব্রেকের ঝামেলায় যেতে না চাইলে জিততে হবে ৩-০ গোলে। তিনটা গোল খেয়ে বসলে একটা গোল শোধ দিয়েও সুবিধা হবে না ম্যানইউর। আবার রেকর্ড বলছে, আজ ম্যানইউয়ের জালে তিন গোল ঢোকানো রাউলদের জন্য হবে পৃথিবীর কঠিনতম কাজ। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১ ম্যাচে মাত্র তিনটি গোল খেয়েছে ম্যানইউ।
তাই আজ ওয়েইন রুনি, গত ম্যাচেই সবচেয়ে বেশি বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের রেকর্ড গড়া রায়ান গিগসকে বিশ্রামে রাখতে চান ফার্গুসন। আর্সেনালের কাছে হেরে যাওয়ার দিনই বলেছেন, ‘আমরা দলে কিছু পরিবর্তন এনে ওদের তরতাজা হওয়ার সুযোগ করে দেব। বুধবার (আজ) আমি অবশ্যই কিছু পরিবর্তন আনব।’ সেই পরিবর্তনটাও বলে দিয়েছেন। ফিরবেন পল স্কোলস, দিমিতার বারবেতভ আর মাইকেল ওয়েন। ফেরার ভালো সম্ভাবনা আছে ড্যারেন ফ্লেচারেরও।

অবশেষে আইপিএলে সৌরভ

শেষ পর্যন্ত আইপিএলের দরজা ঠিকই খুলে গেল সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্য। আইপিএলের নতুন দল পুনে ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে পরশু রাতেই চুক্তিপত্রে সই করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। এখন শুধু মাঠে নামার অপেক্ষা।
এই অপেক্ষারও অবসান হয়ে যেতে পারে আজই। আজ শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে পুনে ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ। যদিও পুনের পরিচালক অভিজিত সরকারের কথায় বিলম্বেরই আভাস, ‘আমরা গতকাল (পরশু) রাতেই তার সঙ্গে চুক্তি করেছি। সৌরভের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিলই। সে যত শিগগির সম্ভব আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে এবং দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করবে। তবে তার মাঠে নামার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে টিম ম্যানেজমেন্ট।’
গত জানুয়ারিতে আইপিএলের খেলোয়াড় নিলামে সৌরভের সাবেক দল কলকাতা তো নয়ই, অন্য কোনো দলও তাঁর ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক থেকে যান অবিক্রীত। পরে আরেক নতুন দল কোচি টাস্কার্স কেরালায় নাম লেখাবেন বলে অনেকবারই গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কিন্তু গুঞ্জন গুঞ্জনই থেকে যায়।
অবশেষে সৌরভের সামনে আইপিএলের বন্ধ দুয়ার খুলে দিল পেসার আশিস নেহরার চোট। আঙুলের চোটের কারণে ছিটকে পড়েছেন নেহরা। তাঁরই শূন্যস্থান পূরণে চুক্তিবদ্ধ হলেন সৌরভ।
প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পাওয়া যুবরাজ সিংয়ের পুনে ওয়ারিয়র্স হেরেছে পরের টানা ৬ ম্যাচে! ৮ ম্যাচ শেষে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সবার নিচে অবস্থান তাদের। আগের তিন মৌসুমে ৪০ ম্যাচে ২৮.৬৩ গড়ে ১০৩১ রান করা সৌরভকে তাই শুরুই করতে হচ্ছে একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে। তা চ্যালেঞ্জ তো তিনি ভালোই বাসেন।