Friday, July 22, 2011

ডিএসইতে ১৮৯৯ ও সিএসইতে ২০২ কোটি টাকার লেনদেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বৃহস্পতিবারও লেনদেন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গতকালের মতো আজও লেনদেন বেড়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে। গত ডিসেম্বরে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ডিএসইতে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে।
বাজার-বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বাজারে ভয়াবহ ধসের পর বিনিয়োগকারীরা বেশ কিছু দিন ধরে বাজারের ওপর আস্থার সংকটে ভুগছিলেন। সম্প্রীতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আবারও বিনিয়োগে সক্রিয় হচ্ছেন। আর এর প্রভাবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে।
আজ ডিএসইতে এক হাজার ৮৯৯ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এ হিসাবে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর এটিই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন।
অন্যদিকে সিএসইতে আজ ২০২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর আগে গত ২ জানুয়ারি ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এটিও ছিল সিএসইতে এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন।
আজ দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪১.৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬,৬৬০.৯৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৪১টির, কমেছে ১১১টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
ডিএসইতে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে সূচক বাড়ে ৪১ পয়েন্ট। দ্বিতীয় ঘণ্টায় সূচক বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও তৃতীয় ঘণ্টায় আবারও বাড়তে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সূচক বাড়ার এ হার অব্যাহত ছিল।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো, ইউনাইটেড এয়ার, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আরএন স্পিনিং, ম্যাকসন স্পিনিং, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সটেক্স ও তিতাস গ্যাস।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ২৬০.৬৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৯১১৪.৭২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে হওয়া ২০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১১৩টির, কমেছে ৮৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

ডিএসইর কারণ জানতে চাওয়ার জবাব দিয়েছে সাত কোম্পানি

অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অনুসন্ধানের জবাব দিয়েছে তালিকাভুক্ত সাত কোম্পানি।
কোম্পানিগুলো হলো ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডিকম, ম্যাকসন স্পিনিং ও অ্যাপেক্স ট্যানারি।
আজ বৃহস্পতিবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ডিএসইর কারণ জানতে চাওয়ার জবাবে কোম্পানিগুলো জানায়, সম্প্রতি শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই।

প্রেসিডেন্ট আয়েন্দে আত্মহত্যাই করেছিলেন

একদল আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট সালভাদর আয়েন্দেকে হত্যা করা হয়নি। তিনি নিজের রাইফেলের গুলিতে আত্মহত্যা করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়েন্দের দেহাবশেষ নিয়ে বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন।
চিলির বামপন্থী নেতা প্রেসিডেন্ট আয়েন্দেকে উৎখাত করতে ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জেনারেল অগাস্তো পিনোশের নেতৃত্বে এবং সিআইএর কথিত মদদে রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থান হয়।
আয়েন্দের মৃত্যু নিয়ে এত দিন নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, আয়েন্দে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর উপহার দেওয়া একেএ স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন।
ব্রিটিশ গবেষক ও ব্যালাস্টিক বিশেষজ্ঞ ডেভিড প্রেয়ার বলেছেন, তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, আয়েন্দে রাইফেলটিকে দুই পায়ের মাঝখানে রেখে নল মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করেন। পরপর দুটি গুলি তাঁর মাথার খুলি ফুটো করে বেরিয়ে যায়।

ক্রোয়েশিয়া যুদ্ধের অপরাধী গোরান হাদজিচ গ্রেপ্তার

ক্রোয়েশিয়া যুদ্ধের সর্বশেষ পলাতক যুদ্ধাপরাধী গোরান হাদজিচকে (৫২) গতকাল বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ আনুষ্ঠানিকভাবে এ গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছেন।
ক্রোয়েশিয়া যুদ্ধের শীর্ষ পলাতক যুদ্ধাপরাধী বসনিয়ান সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচ গ্রেপ্তারের দুই মাসের মধ্যে গোরানকে গ্রেপ্তার করা হলো। তিনিই ছিলেন ক্রোয়েশিয়া যুদ্ধের জাতিসংঘ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একমাত্র পলাতক অপরাধী।
কৌঁসুলিরা জানান, সার্বীয় আদালতে হাজির করার এক সপ্তাহের মধ্যে গোরানকে জাতিসংঘ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আইন অনুযায়ী, গোরানকে প্রথমে সার্বিয়ার যুদ্ধাপরাধ-সংক্রান্ত বিশেষ আদালতে হাজির করা হবে। এর আগে অবশ্য তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
সার্বিয়ার কর্মকর্তারা হয়, রাজধানী বেলগ্রেডের উত্তরে ফ্রুস্কা গোরা পার্বত্য এলাকা থেকে গোরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানে লুকিয়ে থাকতে পারেন এমন খবরের ভিত্তিতে এ গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়।
হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ওঠা ১৬১ জনের মধ্যে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধী হলেন গোরান। তাঁর বিরুদ্ধে নির্যাতন, শাস্তি প্রদান, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড, বিতাড়ন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ ১৪টি অভিযোগ রয়েছে।

মোল্লা ওমর এখনো জীবিত, ভুয়া খবর রটিয়েছে মার্কিনিরা

মোল্লা ওমর জীবিত আছেন, মারা যাননি। মার্কিনিরা তালেবান নেতাদের ফোন হ্যাক করে তাঁর মৃত্যুর ভুয়া খবর প্রচার করেছে। গতকাল বুধবার মুঠোফোনে পাঠানো খুদেবার্তার মাধ্যমে তালেবান এ দাবি করেছে। গতকাল কান্দাহারে পুলিশ ও জঙ্গিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন নিহত হয়েছে।
তালেবান নেতা জাবিহউল্লাহ মুজাহিদের মুঠোফোন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো খুদেবার্তায় বলা হয়েছিল, মোল্লা ওমর মারা গেছেন। তবে জঙ্গিগোষ্ঠীর একজন মুখপাত্র এ খবর নাকচ করে দেন।
জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ পরে এই খুদেবার্তা পাঠানোর কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জোরালোভাবে এই দাবি নাকচ করছি। আমরা এ ধরনের খবর সম্পর্কে জানি না। মার্কিনিরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের মুঠোফোন হ্যাক করে গণমাধ্যমে ওই খুদেবার্তা পাঠায়।’
তালেবানের অপর মুখপাত্র কারি ইউসুফ আহমাদিও মুঠোফোন হ্যাক করে এ খবর পাঠানোর কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এটি ভুয়া বার্তা। পশ্চিমারা আমাদের মোবাইল হ্যাক করে এ ঘটনা ঘটায়। তারা আফগান জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। মোল্লা ওমর মারা যাননি, জীবিত আছেন।’
তালেবানের মূল ঘাঁটি বলে পরিচিত কান্দাহারের গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান আবদুল ওয়াহাব সালিহ বলেন, তালেবানপ্রধানের মৃত্যু সম্পর্কে ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট ফর সিকিউরিটির (এনডিএস) কাছে কোনো খবর নেই।

ওয়াশিংটনে সন্দেহজনক কাশ্মীরি এনজিওর পরিচালক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কাশ্মীর আমেরিকান কাউন্সিলের (কেএসি) পরিচালককে ওয়াশিংটনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কাশ্মীর বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য কেএসি প্রতিষ্ঠা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ গত মঙ্গলবার কেএসির পরিচালক গুলাম নবী ফাইকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। কেএসি কাশ্মীর সেন্টার নামেও পরিচিত।
মার্কিন অ্যাটর্নি নিল ম্যাকব্রাইড বলেন, গুলাম নবী দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীর বিষয়ে মার্কিন সরকারের অবস্থান পাকিস্তানের পক্ষে নেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর পেছনে পাকিস্তানের হাত থাকার বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। গুলাম নবীকে যাঁরা পরিচালনা করছিলেন, তাঁরা ওই এনজিওর মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তা, উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন ও অন্যান্য প্রচেষ্টায় লাখ লাখ ডলার ব্যয় করেন।
মার্কিন নাগরিক গুলাম নবীর বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অর্থ সহায়তায় ও নির্দেশে তদবির করার বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, কেএসি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। একে কাশ্মীরভিত্তিক এনজিও বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কাশ্মীরের জনগণের মাধ্যমেই পরিচালিত হয় এবং মার্কিন জনগণ এর অর্থ জোগান দেয়। এর সব তথ্যই ভুল। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, কেএসি হলো তিনটি কাশ্মীর সেন্টারের একটি, যা পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আইএসআইও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এর অন্য দুটি শাখা লন্ডন ও ব্রাসেলসে।
একজন সাক্ষী মার্কিন তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, কেএসি আইএসআইয়ের সৃষ্টি এবং কাশ্মীর বিষয় নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে প্রচারণা চালায়। মার্কিন বিচার বিভাগ দাবি করে, সাক্ষীরা বলেছেন, কেএসি আইএসআইয়ের পৃষ্ঠপোষকতা ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি গোপন ছিল। আইএসআইয়ের নির্দেশে ২৫ বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন গুলাম নবী। এ জন্য কেএসি ও গুলাম নবী পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে অন্তত ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পেয়েছেন।

হামলা ঠেকানোর অঙ্গীকার গাদ্দাফির

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদ্রোহী বাহিনী ও ন্যাটোর হামলা প্রতিহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এদিকে ফ্রান্স বলেছে, রাজনীতি ছেড়ে দিলে গাদ্দাফি লিবিয়ায় থাকতে পারবেন।
গাদ্দাফি এক ভাষণে বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষ আমার পক্ষে আছেন।’ গত মঙ্গলবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির ৩০ মাইল পশ্চিমে আল-আজিজিয়া এলাকায় সমর্থকদের উদ্দেশে লাউডস্পিকারে তাঁর এ ভাষণ প্রচার করা হয়।
ভাষণে গাদ্দাফি বলেন, ‘আমরা নিজের দেশে আছি। নিজেদের সম্মান, তেল ও সম্পদ রক্ষার জন্য আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ওপর এ যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। লড়াই আমাদের একমাত্র পথ।’
লিবিয়ার নেতা বলেন, বিশ্বাসঘাতক ও ন্যাটোর ভাড়াটে সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরগুলো আবারও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে তাঁরা সেদিকে অগ্রসর হবেন।
এর আগে গত শনিবার গাদ্দাফি বলেন, তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের ভূমি ছেড়ে কোথাও যাবেন না।
এদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপে গতকাল বুধবার এলসিআই টেলিভিশনকে বলেন, প্যারিসের সমর্থনপুষ্ট একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাদ্দাফির লিবিয়ায় থাকার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়নি। মন্ত্রী বলেন, ‘এ সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে যে তিনি লিবিয়ায় থাকতে পারবেন। তবে তা হবে পরিষ্কার শর্তের ভিত্তিতে। আর সে শর্ত হলো, তিনি লিবিয়ার রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে দাঁড়াবেন।’

চীনের জিনজিয়াংয়ে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং এলাকায় একটি থানায় হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার জানায়, চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ওই সহিংসতায় দুই পুলিশ সদস্য, দুই জিম্মি ও ১৪ ‘দাঙ্গাকারী’ নিহত হন।
এর আগে চীনের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছিলেন, গত সোমবারের ওই ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ অন্তত চারজন নিহত হন। তবে জার্মানভিত্তিক নির্বাসিত সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস বলেছে, উইঘুরদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে ওই ঘটনা ঘটে। সংগঠনটি আরও দাবি করে, এতে ২০ উইঘুর নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ১৪ জনকে পিটিয়ে ও ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজ করপোরেশন আবার ঘুরে দাঁড়াবে

মিডিয়া মোগল’ রুপার্ট মারডক বলেছেন, তাঁর কোম্পানি নিউজ করপোরেশন আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আবার মানুষের আস্থা জয় করে কোম্পানিটি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে শুনানিতে অংশ নেওয়ার পর পর গতকাল বুধবার নিউজ করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মারডক বলেন, ‘আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমরা আরও শক্তিশালী কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করব। এ বিষয়ে আমার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’
মারডক বলেন, ‘মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে, এটা ঠিক। তবে আমরা আমাদের অংশীদার, সহকর্মী, গ্রাহক, স্টেকহোল্ডারদের প্রত্যাশা বাড়ানোর ব্যাপারে স্থির প্রতিজ্ঞবদ্ধ রয়েছি।’
এদিকে, ফোনে আড়ি পাতার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেছেন, সে দেশে রুপার্ট মারডকের মালিকানাধীন মিডিয়া সাম্রাজ্যকে ‘কড়া জেরার’ মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্যে মারডকের ব্যবসা-বাণিজ্যের খবর শোনার পর তিনি ‘বিরক্ত’ হয়েছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলসে সাংবাদিকদের গিলার্ড বলেন, ‘মানুষ যখন দেখতে পাচ্ছে কারও কারও ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে এবং এর জের ধরে অনেকের জীবনে দুঃখ নেমে এসেছে, তখন আমি মনে করি, অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়া তাঁদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার ৭০ শতাংশ লোক মারডকের নিউজ করপোরেশনের মালিকানাধীন পত্রিকা ও টেলিভিশনের নিয়মিত পাঠক ও দর্শক।
এদিকে সম্প্রতি বন্ধ করে দেওয়া ব্রিটিশ পত্রিকা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর সাবেক সম্পাদক অ্যান্ডি কুলসনকে নিজের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল লেবার পার্টির কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ফোনে আড়ি পাতার কেলেংকারিতে কুলসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
ফোনে আড়ি পাতার ঘটনায় সম্প্রতি মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডকের মালিকানাধীন নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মারডকের কোম্পানি ডাউ জোনসের প্রধান নির্বাহীর পদ ছেড়ে দেন তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত লেস হিনটন। হিনটনের পদত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টা আগে পদত্যাগ করেন মারডকের নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী রেবেকা ব্রুকস।

নতুন সেন্ট্রিফিউজ বসাচ্ছে ইরান

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, সে দেশের পরমাণু কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে উন্নতমানের ও দ্রুতগতির নতুন সেন্ট্রিফিউজ বসানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বন্ধে আন্তর্জাতিক দাবি উপেক্ষা করে গত মঙ্গলবার দেশটি এ ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইরান উসকানি দিচ্ছে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ত বলেন, ‘নতুন সেন্ট্রিফিউজ বসানোর কাজ চলছে। আমরা তা ঘোষণা করেছি। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা এটি পুরোপুরি তদারক করছে। সংস্থাটি পুরোপুরি অবগত, ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।’ সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইরানের পরমাণু-প্রধান ফেরেদাউন আব্বাসি দাভানি গত ৮ জুন ঘোষণা দেন, শিগগির তাঁর দেশে নতুন প্রজন্মের সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা হবে।

ভারতকে এশিয়ার নেতার ভূমিকা পালনের আহ্বান

এশিয়ায় নেতার ভূমিকা পালন করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ভারত সফররত হিলারি গতকাল বুধবার চেন্নাইয়ে এ আহ্বান জানান।
হিলারি বলেন, ‘এশিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্যই এই অঞ্চলে ভারতের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নেতৃত্ব গড়ে ওঠার ইতিবাচক পরিস্থিতি রয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছি, আপনারা এটা চালিয়ে যান।’ তিনি বলেন, ‘এখন একুশ শতকের সুযোগ-সুবিধাগুলো গ্রহণ করে উত্থানের সময়। এটা নেতৃত্ব দেওয়ার সময়।’
হিলারি বলেন, ভারতের উচিত আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করা। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে সন্ত্রাসপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা পালন করতে পারে নয়াদিল্লি। এতে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। হিলারি আরও বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে হলে ভারতকে নতুন দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।
হিলারির বক্তব্যে এশিয়ায় শক্তিধর দেশ চীনের বিপরীতে সম্ভাব্য শক্তিশালী দেশ হিসেবে ভারতকে দেখার আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত মেলে। বক্তব্যের একপর্যায়ে চীনের প্রসঙ্গও আনেন হিলারি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন, নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে ‘শক্তিশালী গঠনমূলক সম্পর্ক গড়তে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।’
যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও এশিয়ায় ভারতের নেতার ভূমিকা পালন করার সক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। ওয়াশিংটনে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সদানন্দ ধুমে বলেন, ভারত তো প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার কতৃত্ববাদী আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিন দিনের সফরে গত সোমবার রাতে নয়াদিল্লি পৌঁছেন হিলারি। রাতেই তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মঙ্গলবার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণার সঙ্গে।

জেরুজালেম বা রামাল্লায় বসতে প্রস্তুত ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় জেরুজালেম বা রামাল্লায় বসতে প্রস্তুত তাঁর দেশ।
আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটির অংশবিশেষ গতকাল বুধবার প্রচারিত হয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ইসরায়েল ক্ষমতায় দেখতে চায় বলে যে কথা উঠেছে, তা অস্বীকার করেছেন নেতানিয়াহু। তবে তিনি এ কথা স্বীকার করেন, অতীতে গোপনে সিরিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা করেছেন।
ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন নেতৃত্বকে দোষারোপ করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের নেতারা অতীতে চাননি আলোচনা সফলভাবে শেষ হোক। এমনকি এখন তাঁরা আলোচনা শুরু করতে চাইছেন না।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘দুই দেশের জনগণের শান্তির জন্য আমি এখনই প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমার দেশের জেরুজালেম বা ফিলিস্তিনের রামাল্লা বা অন্য কোনো জায়গায় আলোচনা হতে পারে।’
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা শুরুর প্রায় দুই বছর পর ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি স্থাপন সম্প্রসারণ আংশিকভাবে স্থগিত রাখার মেয়াদ শেষ হলেও নেতানিয়াহু আর মেয়াদ বাড়াতে চাননি। ফিলিস্তিন জানায়, ইসরায়েল বসতি স্থাপন বন্ধ না রাখলে তারা শান্তি আলোচনায় যাবে না।
তবে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা আবার হুমকির মুখে পড়েছে ফিলিস্তনের প্রেসিডেন্ট আব্বাসের দল ফাতাহ ও গাজার নিয়ন্ত্রণকারী দল হামাসের মধ্যে সংহতি চুক্তির কারণে। নেতানিয়াহু বলেন, যারা ইসরায়েলের অস্তিত্ব মেনে নিতে চায় না, তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সম্ভব নয়।

করিন্থিয়ানসে যাওয়া হলো না তেভেজের

ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার করিন্থিয়ানসে যাচ্ছেন, এটি প্রায় নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছিল। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির প্রস্তাবে রাজি হয়েই তেভেজকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছিল ম্যান সিটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেভেজের করিন্থিয়ানসে ফেরা হচ্ছে না। গত মঙ্গলবার ক্লাবের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চুক্তির টাকা-পয়সার দেন দরবার করতে করতেই শেষ হয়ে গেছে দলবদলের সময়। ম্যান সিটিতে থাকবেন না জানিয়ে দেওয়ার পরও তেভেজকে হয়ত সেখানেই কাটাতে হবে আরেকটি মৌসুম।

উপভোগের আনন্দ দিতে চান ল

দুজনই অস্ট্রেলিয়ান, পূর্বপরিচিতও। ঢাকায় এসেছেন একই ফ্লাইটে। কাল আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর দিনে যে দর্শনের কথা জানালেন, সেটাও প্রায় এক। কোনো কিছুতেই আমূল পরিবর্তন নয়। যার যেটা আছে, সেটাকেই বরং আরও নিখুঁত করে তুলতে হবে।
ফিল্ডিং কোচ জেসন সুইফটকে নিয়ে স্টুয়ার্ট ল কাল সকালে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঘণ্টা দুয়েকের হালকা অনুশীলন করালেন বাংলাদেশ দলকে। ল জানালেন যার সারমর্মটা, ‘একদমই মৌলিক কিছু কাজ করেছি আমরা, খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। শুরুতে ওদের সঙ্গে আলোচনাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
খেলোয়াড়দের প্রতি নতুন কোচের বার্তা, যা-ই করো, তাতে আনন্দ খুঁজে নিতে হবে। এটিই তাঁর দর্শন, ‘আমি মনে করি, আনন্দ না পেলে আপনি ভালো কাজ করতে পারবেন না। দলের মধ্যে একটা উপভোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চাই আমি। চাই, ওরা প্র্যাকটিস সেশনেও ম্যাচের মতো চাপ অনুভব করুক। আর চাই, এই সবকিছুই করুক আনন্দদায়ক আবহের মধ্যে থেকে।’ সুইফটও উপভোগ আর আনন্দের ওপর জোর দিলেন। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্বীকৃতি দিলেন ‘ক্ষিপ্র এবং অ্যাথলেটিক’ বলে। ল-র মতো তিনিও টেকনিকে বড় কোনো পরিবর্তনে বিশ্বাসী নন।
নতুন দুই কোচের সহজাত কোনো কিছুতে হাত না দেওয়ার নীতি মোহাম্মদ আশরাফুল ও শাহরিয়ার নাফীসের খুব পছন্দ হয়েছে। ব্যাকলিফট থেকে শুরু করে আশরাফুলের ব্যাটিং নিয়ে অনেক গবেষণাই করেছেন আগের কোচ জেমি সিডন্স এবং করে-টরে শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রায় বাতিলের খাতায়ও ফেলে দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার পর আশরাফুলের ল-র দর্শন খুব পছন্দ হওয়াই স্বাভাবিক, ‘নতুন কোচের কথাবার্তা খুবই পজিটিভ। তিনি চান, আমাদের দলটা যেন র‌্যাঙ্কিংয়ের ৬-৭-এ যায়। আমাদের আগের কোচ শুরুর দিকে এতটা পজিটিভ ছিলেন না। বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে অনেক নেগেটিভ ছিলেন উনি।’
আশরাফুলের স্বস্তির বড় কারণ ল-র আরেকটা কথা, ‘কোচের সঙ্গে সকালে আমার ব্যক্তিগতভাবেও আলাপ হয়েছে। সেখানেও উনি বলেছেন, টেকনিক নিয়ে বেশি কথা বলবেন না। পারফরম্যান্স কীভাবে আরও ভালো করা যায়, এটিতেই বেশি জোর দেবেন।’
শুধু টেকনিক নিয়ে কাজ করাই তো আর টেস্ট দলের কোচের একমাত্র কাজ নয়। ম্যান-ম্যানেজমেন্টও খুব গুরুত্বপূর্ণ। শাহরিয়ার নাফীস সেটিতেই জোর দিতে চাইলেন, ‘আশা করি, কোচিং ও খেলোয়াড়ি অভিজ্ঞতা দিয়েই উনি আমাদের সাহায্য করবেন, ম্যান-ম্যানেজমেন্টও ভালো হবে।’
প্রথম দিনে কোচ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবালকে পেলেন না। সাকিব কাল ব্যস্ত ছিলেন বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে। কুঁচকির সমস্যায় আপাতত অনুশীলনের বাইরে তামিম। ল-র মনে যা-ই থাক, মুখে বললেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে হয়তো তারা আসতে পারেনি। সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া সব সময়ই ভালো। আশা করি, কাল (আজ) সকালে আমরা সবাই একসঙ্গে হব।’
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নতুন ফিজিও বিভব সিংও চলে এসেছেন কাল। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ এক দলই।

বাতিস্তাকে ম্যারাডোনার শূল

মোক্ষম সময়ে সার্জিও বাতিস্তার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বলে বসলেন, তিনি কোচ থাকলে এতক্ষণে মানে মানে কেটে পড়তেন। কোপা আমেরিকায় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পরও বাতিস্তার কোচ থেকে যাওয়ার যে মানে খুঁজে পাচ্ছেন না এই কিংবদন্তি।
এক রেডিও সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ বলেছেন, ‘আমি যদি কোচ থাকতাম, আর আমার একমাত্র সাফল্য যদি হতো শুধু কোস্টারিকাকে হারানো, আমি নিজে থেকেই সরে দাঁড়াতাম।’ শুধু বাতিস্তা নয়, এই ফাঁকে হুলিও গ্রন্ডোনাকেও একহাত নিয়েছেন ম্যারাডোনা। বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাধর ফুটবলার, আরও কিছু তারকা খেলোয়াড় থাকার পরও আর্জেন্টিনা কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে, এর পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে খেলোয়াড়দের কোনো দোষ পাচ্ছেন না ম্যারাডোনা। বরং দোষ দেখছেন দেশের ফুটবল প্রশাসনে।
৩২ বছর ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব আঁকড়ে ধরে বসে আছেন গ্রন্ডোনা। তাঁর বিরুদ্ধে ফুটবল প্রশাসনে পরিবারতন্ত্র বিস্তারের অভিযোগও আছে। ম্যারাডোনা বলছেন, ‘যা হচ্ছে তাতে খেলোয়াড়দের কোনো দোষ নেই। হুলিও গ্রন্ডোনা নিজের পছন্দমতো কাজ করে চলেছেন।’
১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলে ম্যারাডোনার সতীর্থ ছিলেন বাতিস্তা। কিন্তু ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই দুজনের সম্পর্কের অবনতি। কোপা আমেরিকা চলার সময়ও বাতিস্তার একাদশ নিয়ে সমালোচনা করেছেন ম্যারাডোনা। হাভিয়ের পাস্তোরেকে বসিয়ে রাখাটা একদমই পছন্দ হয়নি তাঁর। তা ছাড়া বাতিস্তার ‘সব সময় সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকাটা ভালো লাগছে না’ মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছিলেন, ‘সীমান্ত পেরিয়ে উরুগুয়ে চলে যাও। সেখানে তোমাকে কেউ চিনবে না।’ এএফপি।
জাতীয় দলের খেলা নিয়ে অবশ্য খুব বেশি মন্তব্য করেননি। ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আসলে আমি খেলাই দেখছি না।’ কেন খেলা দেখছেন সেটাও জানিয়েছেন, ‘মাঠে খেলোয়াড়দের নামতে দেখলেই মনে হয় কেউ যেন আমার বুকে ছুরি চালিয়ে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিচ্ছে।’

ইতিহাস ডাকছে উরুগুয়েকে

দুটি দেশ আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েকে বিভক্ত করেছে রিভার প্লেট নদী। কিন্তু প্রসঙ্গ যখন ফুটবল, এই নৈকট্য ছাপিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির অবস্থান বিপরীত মেরুতে। দুই দেশের শতবর্ষীয় ফুটবল দ্বৈরথে একই সঙ্গে সুপ্ত মর্যাদা ও তিক্ততা। উরুগুইয়ানদের প্রতি আর্জেন্টাইনদের তিক্ততা নিশ্চিত করেই আরেকটু বাড়ল।
উরুগুয়ের কাছেই কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে কোপার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়াটা অবশ্যই একটা কারণ। আরেকটা কারণ উরুগুয়ে তৈরি করল গতকাল। প্রথম সেমিফাইনালে পেরুকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে উরুগুয়ে। রেকর্ড ১৫তম শিরোপা থেকে মাত্রই এক ধাপ দূরে তারা। কোপার সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের তালিকা থেকে আর্জেন্টিনাকে ছেঁটে ফেলার সুযোগ উরুগুয়ের সামনে।
কোয়ার্টার ফাইনালের ‘ভূমিকম্প’ সেমিফাইনালেও অব্যাহত থাকে কি না, এ নিয়ে কৌতূহল ছিল। কিন্তু পেরুর বিপক্ষে কোনো অঘটন ঘটতে দেয়নি ফোরলান-সুয়ারেজের দল। সুয়ারেজ অবশেষে জ্বললেন আসল সময়ে। দুটি গোলই করেছেন লিভারপুলের এই স্ট্রাইকার। মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে। এই দুই গোলসহ তিন গোল নিয়ে সুয়ারেজ আর্জেন্টিনার সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে যৌথভাবে বসলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে।
শুরুটা অবশ্য ভালো করেছিল পেরুই। কিন্তু ফোরলানের নেতৃত্বে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে উরুগুয়ে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ফোরলানের ফ্রি-কিক থেকে পেরেইরা জালে বলও ঢুকিয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি গোল হয়নি।
ম্যাচটা প্রথম গোল দেখে ৫২ মিনিটে। ৩৫ গজ দূর থেকে ফোরলানের বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট পেরুর গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত লাগাতে পারলেও আটকাতে পারেননি। সুযোগসন্ধানী সুয়ারেজ দুরূহ কোণ থেকে টোকা দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে (১-০)। ৫৭ মিনিটে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে প্রায় মাঝমাঠে ফাঁকায় দাঁড়ানো ওই সুয়ারেজের পায়েই বল ফেলেন আলভারো পেরেরা। অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে সুয়ারেজ আগুয়ান পেরুর গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল পাঠিয়ে দেন লক্ষ্যে (২-০)।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও পেরু হয়তো ম্যাচে ফেরার আশা ছাড়েনি। কিন্তু সে আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায় ৬৯ মিনিটে। বল দখলের লড়াইয়ে উরুগুয়ের ডিফেন্ডার সেবাস্তিয়ান কোটসকে কনুই দিয়ে গুঁতো মারায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন পেরুর অধিনায়ক হুয়ান ভারগাস।
বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়ার পরের বছরই কোপার ফাইনালে ওঠা, উরুগুয়ের ফুটবলে সুদিন ফেরারই আভাস। উরুগুয়ে সর্বশেষ কোপা জিতেছে ১৯৯৫ সালে। ১৯৯৯ সালেও উঠেছিল ফাইনালে। এক যুগ পর আবার ফাইনালে উঠতে পেরে উরুগুইয়ানরা ভাসছে আনন্দে। সুয়ারেজ যেমন বলছেন, ‘আর্জেন্টিনায় ফাইনাল খেলতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। এখন আমরা মুহূর্তটি উপভোগ করব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ফাইনালে উঠেছি, এটাই আমরা চেয়েছিলাম।’ কোচ অস্কার তাবারেজের দৃষ্টিতে এই সাফল্য অভিজ্ঞতার ফসল, ‘এ দলটি অনেক দিন ধরেই একে অন্যকে চেনে-জানে। ফাইনালে উঠতে পেরে আমরা খুবই খুশি। তবে রোববার এখনো অনেক দূর।’ শিরোপা-স্বপ্ন নিয়ে এখনো সতর্ক উরুগুয়ের কোচ। কোচের কথাটাই যেন বলে দিয়েছেন মিডফিল্ডার আলভারো পেরেরা, ‘আমাদের পা মাটিতেই রাখতে হবে।’ ২৪ জুলাই আজকের সেমিফাইনালজয়ীর সঙ্গে উরুগুয়ের পঞ্চদশ শিরোপার লড়াই।

এবার কোপার ফাইনালে প্যারাগুয়ে

ভেনেজুয়েলাকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ফল নির্ধারিত হয় ম্যাচটির।
দুবারের কোপা চ্যাম্পিয়ন প্যারাগুয়ে আগামী রোববার ১৪ বারের শিরোপাজয়ী উরুগুয়ের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবে।
ভেনেজুয়েলার জন্য আজকের ম্যাচটি হূদয়ে রক্তক্ষরণের এক উপলক্ষ হয়েই রইবে। লাতিন অঞ্চলের চিরদিনের দুর্বল ও বিশ্বকাপে একবারও প্রতিনিধিত্ব না করা এই ভেনেজুয়েলাই যে এবারের কোপা প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে চিলিকে হারিয়ে, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সেমিতে ওঠা ভেনেজুয়েলার জন্য টাইব্রেকারে পরাজয়টি তাই দুর্ভাগ্যেরই অপর নাম।
দুর্ভাগ্য আজ ভেনেজুয়েলাকে এমন আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল যে তিনবার তাদের প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে প্যারাগুয়ের গোলপোস্ট। একবার তো প্যারাগুয়ের জালে বল ঠেলে দিয়েও পড়তে হয়েছে অফসাইডের খাড়ায়। সব মিলিয়ে দিনটি একেবারেই ভেনেজুয়েলার ফুটবলারদের ছিল না—সেটা শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয়ে গেল।
ম্যাচের শেষ ২০ মিনিট প্যারাগুয়ে খেলেছে ১০ জনের দল নিয়ে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ার পর জোনাথস সান্তানাকে লাল কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। সে হিসেবে অতিরিক্ত সময়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের পক্ষে সবগুলো স্পট কিক থেকেই গোল করেন খেলোয়াড়েরা। ভেনেজুয়েলার পক্ষে কেবল মিস করেন লুসেনা। এই একটি মিসই শেষ করে দেয় ভেনেজুয়েলানদের কোপা ফাইনালের সব স্বপ্ন। লুসেনা হয়তো অনেক দিন নিজেকে এ কারণে ক্ষমা করতে পারবেন না!