Thursday, August 12, 2010

বনের অধিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বন রক্ষা by মুশফিকুর রহমান

মধুপুরের বনে গিয়েছিলাম। ঢাকা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পথ। মধুপুরে পৌঁছে সড়কের ওপর আনারস আর কলার পাইকারি বাজার পেরোতে লেগে গেল আধা ঘণ্টারও বেশি। এককালে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার প্রায় ৬৩ হাজার একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত ছিল মধুপুরের বন। এখন বড়জোর বন আছে সাত-আট হাজার একর। প্রাচীন পত্রঝরা মধুপুরের বনাঞ্চল মূলত শালবন। তবে শাল ছাড়াও মধুপুরের বনে হরীতকী, বহেড়া, আমলকী, কড়ই, চাপালিশ, গামার, অশ্বত্থ সোনালু, গাদিলা, কাইকা, সিধা, বাজনা, সিন্দুরি, বিভিন্ন ধরনের বাঁশসহ দুই শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদ, লতাগুল্ম পাওয়া যায়। মধুপুরের বনের মুখপোড়া হনুমান অনন্য। এ ছাড়া মেছোবাঘ, নানা প্রজাতির শেয়াল, বেজি, বনবিড়াল, গুইসাপ, বনমোরগসহ শতাধিক প্রজাতির বিভিন্ন পাখি, প্রাণী, পতঙ্গ মিলিয়ে এক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত জীববৈচিত্র্য এ বনের গর্ব ছিল। দুর্ভাগ্য, এখন মাত্র কয়েক প্রজাতির দেখা মেলে। এবার আমরা সৌভাগ্যক্রমে বানর, হনুমান, মেছোবাঘ, হরিণসহ কয়েক প্রজাতির পাখির দেখা পেয়েছি।
মধুপুরের বনে দুটি উঁচু টাওয়ার আছে। এর একটিতে প্রায় ১০ তলা সমান উঁচুতে উঠে চারপাশে বনের অবশেষ দেখার সুযোগ হলো। বর্ষায় সবুজ বনের সৌন্দর্য অসাধারণ। গাছের পাতার আড়ালে থাকা বিভিন্ন সতর্ক পাখির হঠাৎ দেখা মিললেও ফিঙ্গে, গো-শালিকেরা কারও পরোয়া করে বলে মনে হয় না। এই বনে বানরের দলও মানুষের কাছাকাছি আসতে অভ্যস্ত। নিয়মিত উচ্চ শব্দে বনে হাজির হওয়া পিকনিক পার্টি বোধহয় ওদের ভয় ভাঙিয়েছে। তবে হনুমানের পরিবারগুলো মানুষের কাছ থেকে দূরে উঁচু গাছে ঝুলে থাকা নিরাপদ মনে করে।
বনের বিস্তৃত অংশ পরিষ্কার করে চাষের খেত তৈরি করা হয়েছে। চাষিরা এখন ব্যস্ত ধান রোপণ করতে। প্রতিবছর বন কেটে জমির পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। আদা, হলুদ, কলা, পেঁপে, আনারসের বড় বড় বাগান গড়ে উঠেছে মধুপুরের বনে। সেসব খেত, বাগানে মজুরি খাটছে বনে বাস করা গরিব মানুষ। কিন্তু বনের জমিতে বেড়ে ওঠা আনারস, কলা বড় বড় ট্রাকে ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে। সে সম্পদ যে বিত্তবানদের দখলে তারা অনেক ক্ষমতাবান। কেবল বনের জমি নয়, তাদের ইশারায় বনের গাছ কেটে আনা হয় নিয়মিত।
মধুপুরের বনে বাঙালি ও আদিবাসী মিলিয়ে এখন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বাস করে। প্রায় ৪০-৪৫ বছরে বন সংকুচিত করে এত মানুষের বসত গড়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে গড়ে উঠেছে বাজার, দোকান, বাড়ি, অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা, রাস্তা। ঢাকা-ময়মনসিংহ ব্যস্ত সড়ক এই বনের ভেতর দিয়ে নির্মিত হয়েছে। (প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে আগুনে মধুপুরের বনে ব্যাপক ক্ষতি হয়। সে আগুনের উৎস প্রায়শ রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের ছুড়ে দেওয়া সিগারেটের আগুন)। বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বোমাবর্ষণক্ষেত্র মধুপুরের বন। পরিকল্পিতভাবে বন কেটে আবাদি জমি তৈরি করা ছাড়াও বনে বসবাসকারী মানুষের নিত্যদিনের জ্বালানি কাঠের জোগানও আসছে এই বন থেকে। টাঙ্গাইল বন বিভাগের হিসাবে মাথাপ্রতি প্রতিদিন এক কেজি জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করলেও মধুপুর বনের আধিবাসীরা দিনে ৫০ টন বনের কাঠ ধ্বংস করছে। এর সঙ্গে বনের চারপাশে গড়ে ওঠা প্রায় ১০০ ইটভাটায় ইট পোড়ানোর মৌসুমে প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ ৬০ হাজারটি গাছ পুড়িয়ে ফেলছে। অর্থাৎ প্রতিবছর ইটভাটা উজাড় করছে এক হাজার একর বন।
টাঙ্গাইল বন বিভাগের এখন মধুপুর বনের প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ একর বনভূমি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব। তাদের সুবিধার্থে চারটি রেঞ্জ ও ১০টি বিট অফিস গড়া হয়েছে। মোট জনবল প্রায় ৫০। বন বিভাগের কর্তারা বলছেন, এত বড় বনাঞ্চল সীমিত সামর্থ্য দিয়ে রক্ষা করা অসম্ভব। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অসিত রঞ্জন পাল বর্ণনা করলেন তাঁর দায়িত্বের বন সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জগুলো—বনাঞ্চলের ওপর স্থানীয় মানুষের পূর্ণ নির্ভরতা, গৃহস্থালি ও ইটভাটার জ্বালানির জন্য বনের কাঠের ব্যাপক ব্যবহার, গৃহনির্মাণসামগ্রীর জন্য বিকল্পের অভাব, বনভূমির অবৈধ দখল, ভূমি মালিকানা নিয়ে জটিলতা, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের অসহযোগিতা এবং বন বিভাগের বাস্তবতাবিবর্জিত নীতি গ্রহণ ও তার লালন। বন বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করেন, প্রাকৃতিক সম্পদভান্ডারকে স্থানীয় নির্ভরশীল মানুষ নিজেদের সম্পদ মনে করে সংরক্ষণে এগিয়ে না এলে বন রক্ষা করা দুরূহ।
দেশের ক্রমসংকুচিত বনাঞ্চল দেশের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিপর্যয়, বন্যা, খরা, দুর্যোগ ইত্যাদি প্রশমনের সামর্থ্য হ্রাস করছে। তা ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কার্বন হ্রাস, ভূপৃষ্ঠকে ছায়া দেওয়া, ভূমিক্ষয় রোধ, মাটিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ ও পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বন খুবই প্রয়োজন। দেশের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই গাছপালার বন প্রতিবেশব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ পটভূমিতে বন বিভাগের উদ্যোগে স্থানীয় নির্ভরশীল (বাঙালি ও আদিবাসী) মানুষের পুনর্বাসনের মাধ্যমে মধুপুরের পুনঃ বনায়ন কর্মসূচির এক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার এ প্রকল্পে অর্থায়ন আসছে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে। নতুন বন সৃষ্টি, গাছ চুরি বন্ধ করা, বনে আগুন প্রতিরোধসহ বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ দেওয়া এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। সেই সঙ্গে বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকার সংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে প্রাথমিকভাবে ৫০০ জনের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আসা অনেকের পেশা ছিল বনের গাছ চুরি করা। এমনই প্রশিক্ষণার্থী সবাই আশাবাদী—প্রশিক্ষণ শেষে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মৌমাছি পালন, কম্পোস্ট সার তৈরি, সবজি চাষ, ওষধি গাছ ও ফলের বাগান তৈরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেবেন। বন বিভাগ প্রশিক্ষণকালে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থীদেরও ভাতা দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে জীবিকা উন্নয়নে এককালীন অর্থ-সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বন বিভাগের নতুন বন সৃজন উদ্যোগ ও বনে আগুন নেভানোর কাজেও নিয়োজিত হবে। স্থানীয় সোনাপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী মধুপুর বন সংরক্ষণ ও নতুন বন সৃষ্টির জন্য স্থানীয় ও বনের ওপর নির্ভরশীল লোকজনকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন। তাঁর আশা, অতীতে বনের গাছ চুরি রোধ করতে দেয়াল তোলা, গুলি চালানোর পরও যা সম্ভব হয়নি, এবার হয়তো স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে তা সম্ভব হবে।
ড. মুশফিকুর রহমান: পরিবেশ বিষয়ক লেখক।

নিউইয়র্কে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগে বিমানকর্মী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কেনেডি বিমানবন্দরে গত সোমবার বেপরোয়া আচরণের অভিযোগে বিমানকর্মী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট স্টিভেন স্লাটারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে জেট ব্লু এয়ারলাইনসের ১০৫২ ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে পৌঁছে। যাত্রীবাহী বিমানটি রানওয়েতে পুরোপুরি থামার আগেই কিছু যাত্রীর মধ্যে হুলস্থুল শুরু হয়। তাঁরা ককপিট থেকে নিরাপদ সংকেত আসার আগেই লাগেজ নিয়ে টানাটানি শুরু করেন। এ সময় ওই যাত্রীদের দিকে এগিয়ে যান স্টিভেন স্লাটার। ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তিনি তাঁদের নিজ নিজ আসনে বসে থাকার অনুরোধ জানান।
একপর্যায়ে এক যাত্রীর লাগেজ ছিটকে পড়ে স্টিভেন স্লাটারের ওপর। শুরু হয় ওই যাত্রীর সঙ্গে তাঁর বাগিবতণ্ডা। পরে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে অমার্জিত ভাষায় তিনি বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আফগানিস্তানে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে: জাতিসংঘ

ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর গোলায় হতাহতের সংখ্যা কমে যাওয়া সত্ত্বেও আফগানিস্তানে বেসামরিক লোকের হতাহতের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়ে গেছে। সদ্য প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের প্রথম ছয় মাসে এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও এক হাজার ৯৯৭ জন বেসামরিক লোক।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান ডি মিসতুরা বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আফগান বেসামরিক লোকজনের হতাহতের সংখ্যা ৩১ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষ দূত জানান, চার ভাগের তিন ভাগ মৃত্যুর জন্য দায়ী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো, যা গত বছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৭৬টি শিশু মারা গেছে। আহত হয়েছে ৩৮৯ জন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫৫ শতাংশ বেশি।
বেশির ভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে দেশজুড়ে জঙ্গিদের ব্যবহার করা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি) বিস্ফোরণে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্রোহীদের হাতে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্ষতিপূরণ তহবিলে অর্থ জমা দিয়েছে বিপি

মেক্সিকো উপসাগরে তেল বিপর্যয় তহবিলে গত সোমবার প্রথমবারের মতো অর্থ জমা দিয়েছে বিপি।
প্রাথমিকভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি ডলার জমা দিয়েছে বিপি। এই অর্থ থেকে সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
বিপির পরবর্তী সিইও বব ডাডলি এক বিবৃতিতে বলেন, তৃতীয় পক্ষের ব্যাংক হিসেবে অর্থ জমা দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে—তেল নিঃসরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের এ সম্পর্কে আশ্বস্ত করা যে, ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি বিপি অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে, এ তহবিল তত্ত্বাবধান করার জন্য প্রখ্যাত আইনজীবী কেনেথ ফিনবার্গকে নিয়োগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন এই আইনজীবী।

চীনে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭০২

চীনে ভূমিধসের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০২। গতকাল মঙ্গলবার উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা যা আশঙ্কা করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি লোক মারা গেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় এক হাজার ১০০ লোক নিখোঁজ রয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে এ প্রাণহানি ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে ভূমিধসে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। উদ্ধারকর্মীরা মঙ্গলবার ভূমিধসে নিখোঁজ লোকের সন্ধানে ব্যাপক অভিযান চালান। এতে এ পর্যন্ত ৩৩৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চীন এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগের মোকাবিলা করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিন তাও গতকাল কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি উদ্ধারকর্মীদের যত দ্রুত সম্ভব নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
গত শনিবার এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য সেখানে প্রায় সাত হাজার সেনা ও ১০০ চিকিৎসাকর্মী পাঠানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গানান প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রধান মাও শেনগউকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যায় ঝউকো কাউন্টির বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ আরও বৃষ্টিপাতরে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও সোমবার ঝউকো প্রদেশের জীবিত উদ্ধারকৃতদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছেন। তিনি দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

নিরপরাধ বন্দীদের ক্ষতিপূরণ দেবে লিবিয়া

একসময় কারাগারে থাকা নিরপরাধ বন্দীদের ক্ষতিপূরণ দেবে লিবিয়ার সরকার। মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে সম্প্রতি দেশটি এ পদক্ষেপ নিয়েছে। খবর ইন্ডিপেনডেন্টের।
যেসব বন্দী বিনা বিচারে কারাগারে আটক ছিল এবং অভিযুক্ত হিসেবে কারাগারে ছিল, কিন্তু পরে নির্দোষ বলে খালাস পেয়েছে, এমন সাবেক বন্দী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে। বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
কোন কোন সাবেক বন্দী ক্ষতিপূরণ পাবে, কতজন ক্ষতিপূরণ পাবে এবং কী পরিমাণ টাকা পাবে, এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
লিবিয়ার প্রভাবশালী সংবাদপত্রওইয়া সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, প্রতি মাসে কারাবন্দীদের জন্য এক হাজার থেকে দুই হাজার লিবিয়ান দিনার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ক্ষতিপূরণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির গবেষক হেবা মোরায়েফ বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা ভালো লক্ষণ।’ তিনি বলেন, তাঁর সংস্থা ত্রিপোলির কাছে আবু সালিম কারাগারে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা ২৮০ ব্যক্তির মুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে।

ফের উসকানি দিলে পাল্টা জবাব

দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়া ফের কোনো উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা চালালে তারা ‘দৃঢ়ভাবে’ এর পাল্টা জবাব দেবে। পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার শেষ দিন গত সোমবার উত্তর কোরিয়া আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করলে সিউলের পক্ষ থেকে গতকাল এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এদিকে, উদ্ভূত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ বাহিনীর কমান্ডাররা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।
সিউলের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের একজন মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তাদের জলসীমা লক্ষ্য করে অন্তত ১৩০টি আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ১০টি শেল দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানায় এসে পড়েছে। তাঁরা ফ্যাক্সযোগে উত্তর কোরিয়ার কাছে এর প্রতিবাদ করে বার্তা পাঠিয়েছেন। ওই বার্তায় তাঁরা জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ং যদি ভবিষ্যতে আবার এ ধরনের উসকানিমূলক আচরণ করে, তাহলে দৃঢ়ভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।
পীতসাগরে টর্পেডোর আঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। কয়েক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া তার জলসীমায় পাঁচ দিনব্যাপী নজিরবিহীন সামরিক মহড়া দেয়। উত্তর কোরিয়া ওই মহড়াকে উসকানিমূলক তৎপরতা বলে আখ্যায়িত করে আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করে।

কোরিয়ার কাছে জাপানের দুঃখ প্রকাশ

কোরিয়ায় ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে জাপান। ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরিয়া জাপানের উপনিবেশ ছিল। এই সময় দেশটির জনগণের দুর্দশার জন্য গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান।
দুঃখ প্রকাশ করে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী কান বলেন, কোরিয়ায় ৩৫ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের সময় দেশটির জনগণের দুর্দশার জন্য তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। ঔপনিবেশিক আমলে দেশটি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আগামী ২৯ আগস্ট কোরিয়ায় জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন শুরুর শততম বার্ষিকীর আগে দুঃখ প্রকাশ করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী কান আরও বলেন, ঔপনিবেশিক শাসন ছিল কোরিয়ার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁরা নিজস্ব সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন দিক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যে সংস্কৃতি নিয়ে তাঁরা গর্ববোধ করতেন, তাতেও অনেক বাধা এসেছে। কান বলেন, অদূর ভবিষ্যতে বেশ কিছু মূল্যবান সাংস্কৃতিক উপাদান ও বিষয়বস্তু কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এসব বিয়ষবস্তুর মধ্যে চুসান রাজবংশের (১৩৯২—১৯১০) বেশ কিছু তথ্যও থাকবে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়া জাপানের কাছ থেকে অনেক আগে থেকে এসব তথ্য দাবি করে আসছে। আগামী ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করবে কোরিয়া। এর চার দিন আগে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী কান।
কোরিয়ার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে দেওয়া জাপানের এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিবৃতি দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিউং বাকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট লি বলেন, এই বিবৃতির ফলে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

দাবানল থেকে রুশ পরমাণু স্থাপনা রক্ষার চেষ্টা

দাবানল থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরমাণু স্থাপনা রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রুশ অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। এদিকে মস্কোয় দৈনিক মৃত্যুর হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে।
দাবানল রাশিয়ার একটি প্রধান পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
আগুন নেভাতে গিয়ে একজন সেনাসদস্য মারা গেছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভাসিলি পানচেনকভ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেন, একটি জ্বলন্ত গাছ ওই সেনাসদস্যের ওপর ভেঙে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দাবানলের সূত্রপাত হয়। দাবানলে এ পর্যন্ত ৫৩ জন মারা গেছে। আগুনে সেনাবাহিনীর একটি গুদাম ধ্বংস হয়ে গেছে। অগ্নিনির্বাপণকাজে অগ্রগতির দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
জরুরি মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস ইউনিটের প্রধান ভ্লাদিমির স্তেফানভ বলেন, দাবানলের কারণে যেসব অঞ্চলে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে জরুরি কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে মস্কোয় দৈনিক মৃত্যুর হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে।
মস্কোর স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আন্দ্রে সেলসোভস্কি মৃত্যুর হার বৃদ্ধির জন্য অপ্রত্যাশিত গরম এবং দম বন্ধ করা কুয়াশা ও ধোঁয়ার মিশ্রণকে দায়ী করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালার বাম সরকারকে রক্ষার আহ্বান

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় জনস্বার্থে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালার বামপন্থী সরকারকে রক্ষার আবেদন জানানো হয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়ওয়াড়া জেলার তুমল্লাপল্লিভেরি কলাক্ষেত্রমে অনুষ্ঠিত সিপিআইএমের চার দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার এই সভা শেষ হয়েছে।
বর্ধিত সভায় আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালার বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে এক প্রস্তাবে জনগণের কাছে এই দুই রাজ্যের বামপন্থী সরকারকে রক্ষার জন্য আবেদন জানানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, সমাজতান্ত্রিক ভারত গড়ার লক্ষ্যে সিপিএমসহ বামপন্থীরা যে লড়াই করছে, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং ত্রিপুরায় বামপন্থীরা সেই নীতির লক্ষ্যেই পথ চলছে। তাই বামপন্থীদের এই নীতিকে অব্যাহত রাখতে এবং গণআন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালায় জনস্বার্থেই বাম সরকারকে রক্ষা করা আশু প্রয়োজন।
বর্ধিত সভায় আরও বলা হয়, এখন বামপন্থীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। সভায় এই প্রস্তাবও গৃহীত হয় যে বিজেপি এবং কংগ্রসের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত সোমবার এই বর্ধিত সভা শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এখন মূল লক্ষ্য মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া। তাঁদের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করা।’ তিনি বলেন, সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে ভুলভ্রান্তির প্রশ্ন উঠলেও নন্দীগ্রামে তো কোনো জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। তবুও ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে মানুষকে।

পেন্টাগনের ব্যয় হ্রাস ও জনবল ছাঁটাই পরিকল্পনা

বন্ধ হবে পুরো একটি কমান্ড, বেকার হবে হাজার হাজার কর্মী, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেছেন, সামরিক ব্যয় সংকোচন করতে তাঁরা জনবল ছাঁটাইসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। এ উদ্দেশে তাঁরা পেন্টাগনের পুরো একটি কমান্ড বন্ধ করে দেওয়া, বাইরের ঠিকাদারদের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং বেশ কিছু জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রতিরক্ষা বিভাগের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন। তবে রবার্ট গেটস বলেছেন, বৈশ্বিক মহামন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যে আর্থিক সংকটে পড়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্য এটাকেই তাঁরা সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে তাঁরা সামরিক খাতে ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হ্রাস করার পরিকল্পনা করেছেন। গত সোমবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন।
রবার্ট গেটস বলেন, ৯/১১ হামলার পর থেকে তাঁদের সামরিক ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে মহামন্দাজনিত আর্থিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় লোকবল এবং বাইরের ঠিকাদারদের ব্যবহার কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব বিবেচনায় তাঁরা ভার্জিনিয়ার নোরফোকে অবস্থিত জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড বন্ধ করে দেবেন। কমপক্ষে ৫০ জন জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেবেন। সামরিক বিভাগের বহিরাগত ঠিকাদারদের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমাবেন। ভার্জিনিয়ার জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তাঁরা বেকার হয়ে যাবেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নিলেও প্রতিরক্ষা খাতের মোট বাজেট কমাবেন না।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ব্যয় হয় ৫৩ হাজার কোটি ডলার। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিবছর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আধুনিকীকরণ হচ্ছে এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন-পরিবর্ধন হচ্ছে। এ কারণে এ খাতে এক থেকে দুই শতাংশ বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত। ওই বর্ধিত অর্থ সমন্বয় করার জন্য লোকবল কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
২০০৯ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ছিল ১.৪১ ট্রিলিয়ন ডলার। ইতিপূর্বে এত বড় ঘাটতির মুখে পড়তে হয়নি যুক্তরাষ্ট্রকে। চলতি বছর এর পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১০ সালের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার সাড়ে নয় শতাংশে এসে দাঁড়াবে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রবার্ট গেটসের ঘোষণাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক কাঠামো ঠিক রাখতে এবং নতুন বছরের বাস্তবতা মোকাবিলা করতে এ ব্যয় সংকোচন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে ভার্জিনিয়ার সিনেটর জিম ওয়েব ও মার্ক ওয়ার্নার তাঁদের এলাকার জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেন এটা করা হলে মার্কিন সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আজ সাধারণ সূচক বেড়েছে ১০.১৭ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ বুধবার সাধারণ সূচক ও মোট লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কমেছে। বেলা তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ১০ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৬৭৩ পয়েন্টে। আজ মোট এক হাজার ৭২৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৭১১ কোটি টাকা কম।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৫টির, কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত আছে মোট দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—তিতাস গ্যাস, সামিট পাওয়ার, বেক্সিমকো, বেক্সিমকো টেক্সটাইল ও লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।
দাম বাড়ায় শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—ইস্টার্ন হাউজিং, আলফা টোবাকো, রহিমা ফুড, এইম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও ফেডারেল ইনস্যুরেন্স।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো—ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সাফকো স্পিনিং, কাশেম সিল্ক ও সমতা লেদার।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ে নয়টি ঝুঁকি শনাক্ত

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নয়টি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গঠন করা একটি কমিটি। এই নয়টি ঝুঁকি কমানো গেলে রাজস্ব আদায়ের হার বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল হবে বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যরা।
প্রায় এক মাস তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি ২১ পাতার এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আমদানি পর্যায়ে আদায় করা রাজস্বের ৬৫ শতাংশ আসে এ কাস্টম হাউস থেকে। এ ছাড়া দেশের মোট আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ এবং রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
আর গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই কাস্টম হাউস ১৬ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।
কমিটির প্রতিবেদনে রাজস্ব ঝুঁকির মধ্যে আমদানি পণ্যের সঠিক শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা না থাকা; সঠিক ঝুঁকিব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অভাব; ভোজ্যতেলের ট্যাংক টার্মিনালে পরিমাপের রাডার কার্যকর না থাকায় সঠিক হিসাবে অনিশ্চয়তা; আমদানি নীতি আদেশ পালনে দীর্ঘসূত্রতা; স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শুল্কায়নব্যবস্থায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং শুল্কায়ন কর্মকর্তার সংকটে অপ্রতুল নজরদারিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরাসরি কর্মকর্তা নিয়োগ না দেওয়ায় আদালতে শুল্ক-সংক্রান্ত মামলায় নজরদারির অভাব; শুল্কায়ন-পরবর্তী নিরীক্ষাব্যবস্থা না থাকা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পদ্ধতির সঙ্গে নিলাম মডিউলের সংযোগ না থাকাকেও অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জুলাই রাজস্ব বোর্ডের এক অফিস আদেশে ছয় সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় এক মাস নানান পর্যালোচনা করে কমিটি এসব ঝুঁকি চিহ্নিত করে। এসব ঝুঁকি নিরসনে ১৫ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয় এ প্রতিবেদনে।
কমিটির প্রধান হলেন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালক প্রকাশ দেওয়ান। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার (রপ্তানি) মো. মাহবুবুজ্জামান, যুগ্ম কমিশনার (আমদানি) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, উপকমিশনার ফাইজুর রহমান এবং শামসুল ইসলাম।
কমিটির অন্যতম সদস্য রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব ঝুঁকির মাত্রা কমানো গেলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। রাজস্ব আদায়ের হারও বাড়বে। এ জন্য ঝুঁকি নিরসনের লক্ষ্যে ১৫ দফা সুপারিশও করা হয়েছে।’
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এসব ঝুঁকির কারণে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা চালান কায়িক পরীক্ষা ছাড়া খালাসের আশঙ্কা রয়েছে। যেমন, দৈবচয়ন ভিত্তিতে পাঁচ শতাংশ এবং কমিশনারের নির্দেশনামতো পাঁচ শতাংশ আমদানি পণ্য চালান হাতেনাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।
আবার প্রাক-জাহাজিকরণ পরিদর্শনব্যবস্থা ছাড়া যেসব পণ্য আমদানি হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে কত শতাংশ কায়িক পরীক্ষা হবে তার কোনো নির্দেশনা নেই রাজস্ব বোর্ড থেকে।
কমিটির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ভোজ্যতেল পরিমাপের রাডার কার্যকর করা; রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে কনটেইনার স্ক্যানার ব্যবহার; নতুন সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড স্থাপন; কাস্টম হাউসে একটি আইনি সেল গঠন; ঝুঁকিব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ভিত্তিতে ১০ শতাংশ চালান সরেজমিনে পরীক্ষার জন্য নির্বাচন; কর্মকর্তা নিয়োগ ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।
বন্দর ব্যবহারকারী চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব প্রথম আলোকে বলেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যেসব ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা এবং পণ্য খালাসে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ঝুঁকিপূর্ণ তা শনাক্ত করা জরুরি। যেসব পণ্য আমদানিতে বেশি কারসাজি হয় সেগুলোও শনাক্ত করা দরকার। তাহলে সমস্যার অনেকখানি লাঘব হবে বলে মনে করেন তিনি।

না থেকেও আছেন ম্যারাডোনা

ম্যারাডোনার ছায়ায় থেকেই ম্যারাডোনা-বলয় থেকে বেরিয়ে আসার পথে যাত্রা শুরু করছে আর্জেন্টিনা। আজ ডাবলিনে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ, যে ম্যাচের দল বেছে নিয়েছিলেন ম্যারাডোনাই। কিন্তু এরই মাঝখানে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার (এএফএ) সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় চুক্তির মেয়াদ বাড়েনি। স্থায়ী নতুন কোনো কোচও নিয়োগ দেয়নি এএফএ। আয়ারল্যান্ডে দলকে নিয়ে এসেছেন সার্জিও বাতিস্তা। তার পরও ম্যারাডোনার অশরীরী উপস্থিতি প্রবলভাবে বিরাজমান এই দলে।
খোদ আয়ারল্যান্ড কোচ জিওভানি ত্রাপাত্তনিই বলেছেন, এই দলটা ম্যারাডোনার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না সহসাই, ‘এই খেলোয়াড়দের তো ম্যারাডোনাই বেছে নিয়েছে। তেভেজ, মাচেরানো, ডিয়েগো মিলিতো, ডি মারিয়ারাই তো খেলছে। ফলে ম্যারাডোনা না থাকলেও তার চেতনা থাকবেই।’
ইতালিয়ান লিগের সবচেয়ে সফল কোচ তিনি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকেই মানছেন, ম্যারাডোনা এই দলের জন্য ছিলেন অন্তহীন প্রেরণার উৎস। ম্যারাডোনা না থাকলেও এই দলটায় প্রেরণার কমতি থাকছে না। কারণ, বিশ্বকাপের ক্ষুধা রয়ে গেছে দলটায়। ত্রাপাত্তনি বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত, ওরা প্রাণপণ ঝাঁপিয়ে পড়বে। ম্যাচটা ওরা জিততেই চাইবে। কারণ, ওরা হারতে পছন্দ করে না। তা ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় যা হয়েছে, তাতে ওদের ভেতর একটা ক্ষোভ জমা হয়ে আছে। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ছিল ওরা। আমি তাই আমার খেলোয়াড়দের প্রস্তুত হতে বলেছি কঠিন একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য।’
আর্জেন্টিনার চেয়ে ম্যাচটা আয়ারল্যান্ডের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আয়ারল্যান্ড নয়, আসলে আজ একঝাঁক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামা ইউরোপীয় দলগুলোর জন্যই নিজ নিজ ম্যাচটা ইউরো বাছাইপর্বের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ। এদিক দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট হল্যান্ড একটু বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। ম্যাচটা তারা খেলবে ইউক্রেনের বিপক্ষে দোনেৎস্কে। ২০১২ ইউরোর দুই যৌথ আয়োজকের একটা ইউক্রেন।
চ্যাম্পিয়ন স্পেন আবার খেলবে মেক্সিকোর বিপক্ষে মেক্সিকো সিটিতে। এই ম্যাচে বার্সেলোনার সাত খেলোয়াড়কে রাখায় এরই মধ্যে কাতালান ক্লাবটি তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কারণ, তিন দিন পরই স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগের ম্যাচ আছে বার্সার।
ইংল্যান্ড খেলবে নিজেদের দেশেই। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ম্যাচটায় দর্শকদের দুয়ো শোনার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা উচিত ফ্যাবিও ক্যাপেলোর দলকে। রোববার কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচে চেলসি-ম্যানইউয়ের ইংলিশ তারকারা এরই মধ্যে সেই দুয়ো একবার হজম করেছেন।
লঁরা ব্লাঁর হাত ধরে আজ থেকে নতুন যুগে ঢুকে যাচ্ছে ফ্রান্স। নরওয়ের বিপক্ষে এমন একটা দল তিনি পাচ্ছেন, যাদের কেউই গত বিশ্বকাপে খেলেনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্রোহ ঘটানোর শাস্তি হিসেবে ওই দলটাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্লাঁ অবশ্য বলছেন, সবকিছু ভুলে গিয়ে ফুটবলে মনোযোগ দিতে।

আদালতের রায় মেনে প্রিমিয়ারেই ঊষা

আদালতের রায় মেনে ঊষা ক্রীড়াচক্রকে আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার বিভাগে খেলার সুযোগ দিচ্ছে হকি ফেডারেশন। কাল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঊষা প্রিমিয়ার বিভাগেরই দল। সদ্যসমাপ্ত লিগের আগের দুবার তারাই ছিল চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু এবারের লিগে ঊষা খেলেনি। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ক্লাব কাপের ফাইনাল ১৫ মিনিট কম খেলানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার জের ধরে ঊষার ওই লিগ বর্জন। লিগের প্রথম দিন পুলিশ দলের বিপক্ষে মাঠেই ছিল না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
নিয়ম অনুযায়ী প্রিমিয়ার লিগ থেকে ঊষার প্রথম বিভাগে নেমে যাওয়ার কথা। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই দলটি প্রিমিয়ারে টিকে থাকা এবং আরও কিছু দাবি উপস্থাপন করে ঢাকা জর্জকোটে মামলা ঠুকে দেয়। হকিতে ঊষার অবদান এবং সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এই দলটিকে যেন প্রিমিয়ারেই খেলতে দেওয়া হয়, সেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত। পাশাপাশি আদালত বলে দিয়েছিলেন, এবারের লিগ না খেলায় ঊষার যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সেটি পুষিয়ে দিতে ফেডারেশন যেন এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয় দলটিকে। দুটি রায়ই কাল মেনে নিয়েছে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি।
ক্লাব কাপের ফাইনাল কেন ১৫ মিনিট কম খেলানো হয়েছে সেই ব্যাখ্যাও ফেডারেশনের কাছে জানতে চেয়েছেন আদালত। এ ব্যাপারে নির্বাহী কমিটির অভিমত, ওই ম্যাচ কম সময় খেলানোর দায় নাকি ফেডারেশনের নয়। মোহামেডান-ঊষার ঘাড়েই সব দায় দিয়েছে ফেডারেশন। আদালতের কাছে এ ব্যাখ্যাই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে কালকের সভায়।

মৌসুমই শেষ বোল্টের

দুই বছরের মধ্যে প্রথম হারের মুখ দেখলেন চোটের কারণে। সেই চোটই এবার উসাইন বোল্টের মৌসুমটা শেষ করে দিল। মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বোল্ট চলতি মৌসুমে আর কোনো প্রতিযোগিতায় না দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্টকহোমের ডায়মন্ড লিগে গত শুক্রবারের পরাজয়ের পর বোল্ট নিজেই বলেছিলেন, তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। অলিম্পিকে স্প্রিন্টে জোড়া বিশ্বরেকর্ডসহ সোনা জেতা বোল্টকে হারিয়ে টাইসন গেও বলেছিলেন, এই বোল্ট সুস্থ নন। সেটাই প্রমাণিত হলো পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। বোল্টের চিকিৎসক হ্যান্স মুলার-ওলফার্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই অবস্থায় বোল্ট আবারও দৌড়ানোর চেষ্টা করলে তিনি আরও ঝুঁকিপূর্ণ ইনজুরিতে পড়তে পারেন। এর পরই কাল বোল্টের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ মৌসুমে তিনি আর কোনো দৌড়ে অংশ নেবেন না।
অর্থাৎ, জুরিখ ও ব্রাসেলসের দুটি ডায়মন্ড লিগই মিস করবেন বোল্ট। তবে ২০১১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিককে মাথায় রেখে তিনি এই বিশ্রামটাকে মেনেই নিচ্ছেন, ‘জুরিখ ও ব্রাসেলসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই দুটি মিট মিস করায় আমি হতাশ। তবে আমার জন্য এ বছর কোনো ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো হবে। ২০১১ ও ২০১২ সালে খুব বড় দুটি চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। সেখানে পুরো সুস্থ হয়ে ফিরতে চাই।’

ফুটবল কোচ আসছেন এ মাসেই

সব ঠিক থাকলে এ মাসেই নতুন ফুটবল কোচ চলে আসছেন ঢাকায়।
বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় এ তথ্য জানিয়েছেন কাল, ‘একজন ক্রোয়েশিয়ান কোচ নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়েছি আমরা। সবকিছু যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ক্রোয়েশিয়ান কোচকেই সম্ভবত আনা হচ্ছে। নতুন কোচের বেতন নিয়ে কথাবার্তা চূড়ান্ত। কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি বিষয়গুলোও ঠিক হয়ে যাবে। এ মাসেই নতুন কোচ ঢাকায় চলে আসবেন বলে আশা করছি।’
নতুন কোচ আসার আগে ফিফার আয়োজনে বাফুফের দুই দিনের কর্মশালা আজ শুরু হচ্ছে কক্সবাজারে। গোটা বাফুফেই কাল চলে গিয়েছে সমুদ্রশহরে। বাফুফের ভবিষ্যতে কীভাবে কাজ করা উচিত, ফুটবলের উন্নয়নে কী করতে হবে, এসব নিয়েই ফিফার প্রতিনিধিরা কথাবার্তা বলবেন সেখানে। এসব ব্যাপার-স্যাপার দেখে বলতেই হচ্ছে, ‘মুক্ত বাতাস’-এর ওই সেমিনারে এই আলোচনাও হওয়া উচিত—কী করে বিদেশি কোচ এনে তাঁকে ধরে রাখা যায়। কিছু দিন পর কোচ বিদায়ের বদনাম শরীর থেকে তাড়ানোর সময়ও এখন বাফুফের সামনে!
কক্সবাজার থেকে ফোনে কথা বলার সময় বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সেসব প্রসঙ্গে যেতে চাইলেন না। নতুন কোচ আগমনী বার্তাই তাঁর কাছে বড়, ‘একজন বিদেশি কোচ আনছি আমরা, এটা স্বস্তির খবর। ক্রোয়েশিয়ান কোচই আনার সম্ভাবনা বেশি। ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।’
বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন ক্রোয়েশিয়ান কোচের নাম রবার্ট রুবচিচ। ইন্টারনেট ঘেঁটে জানা গেল, নতুন কোচ উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী। ক্রোয়েশিয়ার ক্লাব এন কে রিজেকার কোচ হিসেবে কাজ করছেন ২০০৮ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে। প্রথম বিভাগের এই ক্লাবের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন ৪৬ বছরের রবার্ট।
বাফুফে সূত্রের খবর, নতুন কোচ ফিফা ওয়ার্ল্ড স্টার একাদশের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। তার মানে উঁচুমানের খেলোয়াড়ই তিনি। তবে ইন্টারনেটে এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। কবে কখন খেলেছেন, সেটিও অজানাই রইল।
নতুন কোচের দায়িত্ব মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছে বাফুফে। জানা গেছে, শুধু জাতীয় দল নয়, সব পর্যায়ের দলই দেখবেন নতুন কোচ। পদবি হবে, ‘হেড অব কোচিং’। আপাতত নিয়োগ এক বছর। কোচিং স্টাফ কেমন হবে, সেটি কোচ আসার পর ঠিক করা হবে।
বাদল জানাচ্ছেন, ‘নতুন কোচ সবকিছু নিয়ে কাজ করবেন। যেনতেনভাবে নয়, কোচ যাতে পেশাদার পদ্ধতিতে কাজ করতে পারেন, সেই সুযোগ আমরা তৈরি করে দিতে চাই এবার।’
ভালো খবরই দিলেন বাদল। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। কোনো কোচই পেশাদার কাঠামো পাননি এ দেশে। একটা সময় কর্তাদের অপছন্দের পাত্র হয়ে বিদায় নিতে হয়। আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি, এডসন সিলভা ডিডোদের উদাহরণ তো হাতের কাছেই।
ক্রোট কোচ বছরে বেতন চেয়েছেন ৭০ হাজার ডলার বেতন চাইলেও ৫৫ হাজার ডলারে মোটামুটি রাজি। এখন চুক্তির শর্ত তৈরি করা হচ্ছে। যেহেতু নতুন কোচের কর্মপরিধি ভিন্ন হবে, তাই পরিকল্পনাও এবার একটু আলাদা। শুধু জাতীয় দলের কোচ হয়ে এলে বিদেশি কোচরা অন্য দায়িত্ব নিতে চান না বলেই এই কোচকে হেড অব কোচিং করা হচ্ছে, এমনটাই জানা গেছে বাফুফে থেকে। তার অধীনে থাকবেন অন্য কোচরা।
ডিডোকে বিদায় করে সালাউদ্দিন বলেছিলেন, বায়োডাটা দেখে আর কোচ নয়, নতুন কোচ হবে হাইপ্রোফাইল। সালাউদ্দিন কথা রাখতে পারলেন? তাঁর উত্তর, ‘শুধু বায়োডাটা দেখে নয়, নানাভাবে যোগাযোগ করে বুঝেশুনে এই কোচ আনছি আমরা।’
দেখাই যাক, এই কোচের সঙ্গে বাফুফের সঙ্গে সম্পর্কটা কেমন হয়!

এখনই বাঙালির নয় লিভারপুল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লিভারপুল বিক্রি করে দেওয়া হবে—ক্লাবটির মার্কিন মালিক টম হিকস ও জর্জ জিলেটের এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল গুঞ্জন। কে কিনবে দারুণ লাভজনক এই ক্লাবটির মালিকানা? ওয়েবসাইট।
চীন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ভারত পর্যন্ত নানা জায়গার ব্যবসায়ীদের নাম শোনা যাচ্ছিল আলোচনায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর ছিল, ক্লাব কেনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন সাহারা গ্রুপের প্রধান সুব্রত রায়। কিন্তু সাহারা গ্রুপের এক মুখপাত্র গতকাল জানালেন, আপাতত তাঁরা লিভারপুল কেনার লড়াই থেকে সরে আসছেন।
ভারতীয় ক্রিকেট ও হকি দলের পৃষ্ঠপোষক এবং নতুন আইপিএল দল পুনে ওয়ারিয়র্সের মালিক সাহারা পরিবারের মুখপাত্র অভিজিৎ সরকার বললেন, ‘গত কিছুদিন ধরেই আমরা লিভারপুল ফুটবল ক্লাব কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছিলাম। কিন্তু সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত আমরা এ ব্যাপারে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সাহারা পরিবার সরে গেলেও অবশ্য লিভারপুল কেনার লড়াইয়ের আরেক ভারতীয় ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি ঠিকই থেকে গেলেন।

মিলিতো ইন্টারেই থাকছেন

ইতালির প্রথম ক্লাব হিসেবে এক মৌসুমে ‘ট্রেবল’ জেতার ইতিহাস গড়েছে ইন্টার মিলান। তাদের এই সাফল্য-বিধৌত গত মৌসুমের অন্যতম দুই কারিগর ছিলেন দুই আর্জেন্টাইন—ডিয়েগো মিলিতো আর হাভিয়ের জানেত্তি। এই দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গেই নতুন করে চুক্তি করল ইতালির ক্লাবটি। ২০১৪ পর্যন্ত ইন্টারের হয়ে গেলেন মিলিতো। আর ১৫ বছর ধরে এই ক্লাবটিতে খেলে আসা, অধিনায়ক জানেত্তি মেয়াদ বাড়ালেন ২০১৩ পর্যন্ত।
কাপ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুটো ফাইনালেই গোল করেছিলেন মিলিতো। শিরোপা-নির্ধারক হয়ে ওঠা লিগের শেষ ম্যাচেও গোল। সব মিলিয়ে গত মৌসুমে ৩০ গোল করা এই স্ট্রাইকারের ওপর চোখ ছিল অনেকের। কিন্তু চুক্তি বাড়িয়ে ইন্টার জানান দিল, মিলিতোকে বেচার কোনো ইচ্ছে তাদের নেই।
ইন্টার আরেক আর্জেন্টাইন লিভারপুলের হাভিয়ের মাচেরানোকেও দলে নিতে চেয়েছিল। লিভারপুলের সাবেক কোচ রাফা বেনিতেজও ছিলেন আগ্রহী। কিন্তু ইংলিশ ক্লাবটির হেঁকে বসা দাম ইন্টারের কাছে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে কেনার আশা এখনো ছাড়েনি, তবে ইন্টার জানিয়েছে, টাকা জোগাড় করতে তাদেরও বিক্রি করে দিতে হবে কজন খেলোয়াড়। আপাতত মাচেরানোকে না কেনার পক্ষেই অবস্থান তাই তাদের।
দলবদলের বাজারে আপাতত খবরের কেন্দ্রে ইন্টারই। কারণ, উরুগুয়ের ডিয়েগো ফোরলানকেও নাকি কিনতে চায় তারা। গত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ফোরলান জানিয়েছেন, এই খবরে তিনি আনন্দিত। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এ স্রেফ উড়ো খবর। গত বিশ্বকাপের আরেক তারকা মেসুত ওজিলকে নাকি কেনার ব্যাপারে রাজি হয়েছে বার্সেলোনা। এই খবরেরও ভালো কোনো সূত্র নেই।
দলবদলের বাজারে আরেক ‘আকর্ষণ’ রবিনহো-ম্যানসিটি অচলাবস্থা। ব্রাজিল তারকা সিটিতে ফিরতে আগ্রহী নন, আর সিটি আগ্রহী নয় তাঁকে সান্তোসে রেখে দিতে। একটা বিকল্প সমাধান বের করেছে শালকে জিরো ফোর। জার্মান ক্লাবটি আগ্রহ দেখিয়েছে এই স্ট্রাইকারকে কেনার।

র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতিতে আপত্তি নেই মুরালির

সব দল সমান খেলার সুযোগ পাচ্ছে না’, ‘লোকে এই র‌্যাঙ্কিং বোঝে না’—আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের সমালোচনা করে বলেছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের সঙ্গে কিন্তু একমত নন মুত্তিয়া মুরালিধরন। বর্তমান র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতিতে আপত্তি নেই স্পিন কিংবদন্তির। বলেছেন, কোনো র‌্যাঙ্কিংই নিখুঁত নয়। যোগ্য দল হিসেবেই র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ভারত। ওয়েবসাইট।
‘বর্তমান পয়েন্ট পদ্ধতি ভালো না, এই সমালোচনা করা যাবে না। এটার সমালোচনা করা মানে সবার দোষ খুঁজে বের করা। যার যে স্বীকৃতি প্রাপ্য সে সেটা পাবেই’—র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতি নিয়ে কাল বলেছেন মুরালিধরন। অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জেতেনি বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল এক নম্বরের যোগ্য নয়, সাঙ্গাকারা বলেছিলেন এমনটাও। কিন্তু এখানেও অধিনায়কের সঙ্গে দ্বিমত মুরালির, ‘এক নম্বর জায়গাটা ভারতের প্রাপ্য কারণ ওরা অনেক ম্যাচ জিতেছে। অস্ট্রেলিয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে, ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ইংল্যান্ডে, শ্রীলঙ্কাতেও সাম্প্রতিক সিরিজটা ড্র করল।’
সব দেশ সমান ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না বলে বর্তমান র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতিতে গলদ দেখছেন অনেকেই। কিন্তু মুরালির ধারণা কোনো র‌্যাঙ্কিংই নিখুঁত নয়, ‘আইসিসি কার্যকর একটা র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতি চালু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কোনো পদ্ধতিই শতভাগ নিখুঁত নয়। বর্তমানে নয়টা টেস্ট খেলুড়ে দেশ আছে। সব দেশ একে অন্যের বিপক্ষে দেশে ও প্রতিপক্ষের মাটিতে খেলার পরে যদি র‌্যাঙ্কিং ঠিক করতে হয়, তাহলে তো পাঁচ-ছয় বছর লেগে যাবে, এটা অবাস্তব।’
তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিষেণ সিং বেদির আবারও খোঁচা, মুরালির কঠোর জবাব, এরপর আবার সাবেক ভারতীয়দের সমালোচনা—সাম্প্রতিক কথার লড়াইটা আর বাড়াতে চাননি মুরালি, এড়িয়ে গেছেন এই প্রসঙ্গ। তবে আরও একবার জানিয়েছেন ক্রিকেট নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা, ‘অরবিন্দ (প্রধান নির্বাচক) অস্ট্রেলিয়া সফরের ওয়ানডের জন্য আমাকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে। আমি নিয়মিত ট্রেনিং করছি। ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিদায়ের আগে আরও বছর তিনেক আইপিএল খেলতে চাই।’

রেফারিংয়ে সংস্কার আনছে ফিফা

ফুটবল রেফারিংয়ে সংস্কার আনার দাবিটা বেশ কিছুদিন ধরেই চলে আসছে। গত বিশ্বকাপে রেফারিংয়ে বড় ধরনের কিছু গলদের পর আরও জোরালো হয়েছে সেই দাবি। কাল ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার জানিয়েছেন, ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য এখন রেফারিং সংস্কার। অবশ্য ‘গোললাইন’ প্রযুক্তির ব্যাপারে ব্ল্যাটার এখনো নিমরাজি।
‘অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যেই উচ্চ পর্যায়ের রেফারিদের নিয়ে আমরা নতুন প্রকল্প শুরু করব। সবকিছু নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। আমি সব সময়ই পেশাদারির পক্ষে, কেউ যদি এর বিপক্ষে থাকে তার পরও আমি এতে অটল’—বলেছেন ব্ল্যাটার।
কিন্তু প্রযুক্তির ব্যাপারে ফিফা-প্রধানের এত অনীহা কেন? ব্ল্যাটারের উত্তর, ‘প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া মানে বিষয়টি আরও জটিল করে তোলা। কোনো কিছু বাস্তবায়ন করার আগে এ নিয়ে বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।’

কোন কাগজে সই করেছেন জানেন না

অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন ১৩ জন সদস্য। এটা পরশুর খবর, কাল পদত্যাগী সদস্য ফরিদ খান ও শর্মিষ্ঠা রায় দাবি করলেন, তাঁরা নাকি জানতেনই না, কোন বিষয় নিয়ে লেখা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন! ফরিদ খানের কথা, ‘বিদ্যুৎ ছিল না, তাই কোন কাগজে সই করেছি জানি না। সবাই করেছে, তাই আমিও করেছি। শর্মিষ্ঠা বলেছেন, ‘আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি কোন কাগজে সই করেছি। পরে পত্রিকা দেখে বুঝলাম, পদত্যাগপত্র ছিল ওটা!’
এই দুজন যা-ই বলুন, কথাগুলো কিন্তু অবিশ্বাস্য শোনায়। কোন কাগজে সই করলেন, তাঁরা সেটা জানেন না! এসব শুনে এক কর্মকর্তা বললেন, ‘এ দেশে পদত্যাগ-নাটক নিয়ে এসব নতুন নয়। যখন যাকে খুশি করতে হয়, তখন অনেকে সেটাই করেন!’
যাই হোক, অ্যাথলেটিকসের এই পদত্যাগ-নাটক কিন্তু বেশ জমে উঠেছে। বিদেশ সফর, নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না পাওয়া ইত্যাদি অভিযোগ শোনা যাচ্ছে অনেকের মুখে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ও সহসভাপতি আলী ইমাম তপনের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি চরমে। পাওয়া না পাওয়ার বেদনা আর ক্ষোভ থেকে এই ফেডারেশনে ভাঙন ধরেছে। তবে এসব নতুন কিছু নয়। একদল যায়, আরেক দল আসে...এই খেলাই তো চলছে!
শাহ আলম জানান, গত ১৯ জুলাই কানাডায় শুরু হওয়া ওয়ার্ল্ড জুনিয়র অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অ্যাথলেট পাঠানো নিয়েই আলী ইমামের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্যের শুরু। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দক্ষিণ এশীয় গেমসের পুরস্কারের অর্থ বিতরণ নিয়েও দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর পরই নাকি শাহ আলমকে হুমকি দিয়ে তপন বলেন, ‘দেখি, কীভাবে আপনি ফেডারেশন চালান, আমিও দেখে নেব।’ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আলী ইমামের কথা, ‘সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তিনি ফেডারেশন চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবং স্বচ্ছতাও নেই।’ বলা দরকার, আলী ইমামও একসময় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলতেন সদস্যরা।

ব্যাটিং কোচের প্রয়োজন নেই বাটদের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টসহ চলতি ইংল্যান্ড সফরে খেলা চার টেস্টে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যানই তিন অঙ্কের দেখা পাননি।
দুই টেস্টে দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই দুই টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়েও ১০০ রান করতে পারেনননি কোনো পাকিস্তানি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে তিন ফিফটি করা তিন ‘ব্যাটসম্যানই’ তাঁদের ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পেয়েছেন এখানে। এর মধ্যে উমর গুল আবার পরের দুই টেস্টে খেলতে পারছেন না।
পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের সময় কতটা খারাপ যাচ্ছে, তা বুঝতে এসব পরিসংখ্যান জানার দরকার নেই। স্রেফ মাঠে তাঁদের ব্যাট করার ধরন দেখলেই চলে। কিন্তু যে পাকিস্তান একসময় হানিফ মোহাম্মদ, জাভেদ মিয়াঁদাদ, জহির আব্বাস থেকে শুরু করে সাঈদ আনোয়ারের মতো ব্যাটসম্যান উপহার দিয়েছে, তাদের অবস্থা এত খারাপ কেন?
অনেকে কারণ হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন তরুণদের টেকনিকের ঘাটতি। তাঁদের সুপারিশ, দলের সঙ্গে যোগ করা হোক বিশেষজ্ঞ ব্যাটিং কোচ। কিন্তু এই প্রস্তাব শুনে খুবই বিরক্ত সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম।
আকরাম মনে করেন না কোনো ব্যাটিং কোচই রাতারাতি খেলোয়াড়দের টেকনিক ভালো করে ফেলতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, দলের সঙ্গে ইজাজ আহমেদের মতো সাবেক ব্যাটসম্যান আছেন। ওয়াসিমের মতে, তাঁদের আলাদা ব্যাটিং কোচ দরকারই হয় না, ‘পিসিবি যদি ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দেয়, তো যোগ্য লোকটা কে? পত্রিকায় পড়লাম ইনজি (ইনজামাম উল হক) নাকি কাজটা করতে আগ্রহী। ঠিক আছে, ইনজি পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এবং তার অভিজ্ঞতা কাজেও দেবে। কিন্তু দলের সঙ্গে তো ইজাজ আহমেদের মতো ব্যাটসম্যানও আছেন! তারপর আর কাউকে খোঁজার দরকার কী?’
ব্যাটিং নিয়ে যে বিপাকে পাকিস্তানিরা পড়েছেন, তা থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘অবসরপ্রেমী’ মোহাম্মদ ইউসুফকে। এই ফেরানোটাকে সমর্থন করতে পারছেন না আকরাম। যদিও এখন ইউসুফের দিকেই চেয়ে আছেন অধিনায়ক সালমান বাট।
বাট বলছেন, অনেক দিন ক্রিকেটে না থাকা ইউসুফ মাঠে নেমেই সবকিছু বদলে দেবেন—এমন প্রত্যাশার চাপ তিনি তৈরি করছেন না কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা একটা পার্থক্য তো গড়ে দেবেই, ‘ওনাকে মাঠে নামিয়ে দিয়েই রানের আশা করাটা ঠিক হবে না। তার পরও আশা করি উনি রান পাবেন। আশা করি, ওনার অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং এও আশা করি, তরুণেরা তার কাছ থেকে কিছু শিখবে।’
আশা ছাড়া বাটের এখন আর কোনো অবলম্বনও নেই। নিজেসহ ব্যাটসম্যানরা তো যাচ্ছেতাই করছেনই। তার মধ্যে জ্বলজ্বল করতে থাকা বোলারদের বাড়া ভাতে আবার ছাই দিচ্ছেন ফিল্ডাররা। ফিল্ডারদের এমন পিচ্ছিল হাত বড় হতাশ করছে বাটকে, ‘খেলোয়াড়েরা জানে, টেস্ট জিততে ২০ উইকেট নেওয়া লাগবে। কিন্তু আমরা এক ম্যাচে যদি ১৪টা ক্যাচ ফেলি, তাহলে তো কাজটা কঠিন হয়ে যায়।

বুকাননের মুরালি-স্তুতি

বোলিং অ্যাকশন শুদ্ধ নয় বলে ‘নো’ ডেকেছেন দুজন আম্পায়ার, রানআপ শুরু করলেই ‘নো, নো’, ‘চাকার’ বলে চিৎকার করেছে দর্শক, বোলিং অ্যাকশন মিডিয়ায় চলেছে সমানে কাটাছেঁড়া—এতসব বিতর্কই নাকি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মুত্তিয়া মুরালিধরনের জ্বলে উঠতে না পারার কারণ। কোনো শ্রীলঙ্কান নয়, একজন অস্ট্রেলিয়ান বলেছেন এ কথা। সাবেক অস্ট্রেলিয়া কোচ জন বুকানন বলেছেন, বিতর্কের কারণেই অস্ট্রেলিয়ায় মুরালির সেরাটা দেখা যায়নি।
৫ টেস্টে ১২ উইকেট, সেরা ৫৫ রানে ৩ উইকেট—মুরালির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একমাত্র কালির দাগ বলা যায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পারফরম্যান্স। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব মিলিয়ে ১৩ টেস্টে তাঁর ৫৯ উইকেট। পারফরম্যান্স খারাপ বলা যাবে না মোটেও। তবে অন্যান্য দেশের বিপক্ষে মুরালির রেকর্ড এতটাই সমৃদ্ধ যে এটিকেও বলতে হচ্ছে ‘বাজে’ পারফরম্যান্স। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন ১১২ উইকেট পেয়েছেন ১৬ টেস্টে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ টেস্টে ১০৪ উইকেট, ভারতের বিপক্ষে ২২ টেস্টে ১০৫ উইকেট।
‘ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আম্পায়ার আর দর্শকের আচরণে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে মুরালিকে। এ জন্যই হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কখনো স্বস্তিতে বোলিং করতে পারেনি মুরালি’—দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেছেন বুকানন। বুকাননের বক্তব্যের পক্ষে সাক্ষী হতে পারে পরিসংখ্যানও। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সুবিধা করতে না পারলেও দেশের মাটিতে কিন্তু ঠিকই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো করেছেন মুরালি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কায় ৪৭ উইকেট নিয়েছেন ৮ টেস্টে। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল শ্রীলঙ্কা, কিন্তু মুরালি ঠিকই পেয়েছিলেন ৩ টেস্টে ২৮ উইকেট।
ক্রিকেটার মুরালি তো বটেই, বুকানন প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ‘মানুষ’ মুরালিকে, ‘খুব কম খেলোয়াড়ই এমন রূপকথার মতো বিদায় নিতে পারে। ক্যারিয়ারজুড়ে এতসব অর্জনের পর এমন বিদায় মুরালির প্রাপ্য ছিল। ক্রিকেট ওকে দারুণভাবে মিস করবে। শেন ওয়ার্নের মতো মুরালিও বর্ণময়, বিশেষ কিছু স্কিল ওর আছে, স্পিন বোলিংয়ের জাদু ও রহস্য দেখিয়েছে খেলাটার সব সংস্করণে। প্রতিপক্ষ হিসেবে ও সব সময়ই লড়াকু, কিন্তু মানুষ হিসেবে ও খুবই অমায়িক ও সুহূদ।’
ইংল্যান্ড দলের উপদেষ্টা হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে কাজ করার জন্য বুকানন এখন আছেন ইংল্যান্ডেই। দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন ও ক্রিকেটারদের ভেতরের খবর ইংল্যান্ডকে জানাবেন বুকানন। অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে আট বছরের মেয়াদে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন, অ্যাশেজ জিতেছেন তিনটি। বুকাননের কোচিংয়েই ৮৬ বছর পর ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল অস্ট্রেলিয়া।

আরও উন্নতি চান স্ট্রাউস

২০০৪ সালের মে মাস থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে টানা আটটি টেস্ট জিতেছিল ইংল্যান্ড; এটাই দেশটির টানা জয়ের রেকর্ড। মাইকেল ভনের সেই রেকর্ড ছুঁতে আর মাত্র দুটি টেস্ট জিততে হবে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসকে। রেকর্ডের এত কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অধিনায়কের হাওয়ায় ভাসার কথা। কিন্তু হাওয়ায় ভাসা দূরে থাক, স্ট্রাউস উল্টো দলকে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, আরও উন্নতি করতে হবে।
রেকর্ড-টেকর্ড মাথায় না এনে একটা একটা করে ম্যাচের কথা ভাবতে চাইছেন স্ট্রাউস, ‘যেকোনো সময়ই টানা ছয়টি জয় নিজেদের ওপর সন্তুষ্ট হওয়ার মতো পারফরম্যান্স। কিন্তু আমরা ভালোভাবেই জানি যে অনেক অনেক জায়গা রয়ে গেছে, যেখানে উন্নতি প্রয়োজন। ফলে এই সাফল্যে ভেসে যাওয়ার কিছু নেই। আমাদের এখন প্রথম কাজ পরের ম্যাচটা জিতে সিরিজ নিশ্চিত করা এবং তারপর ওদের (পাকিস্তানকে) চেপে ধরা।’
আসলে স্ট্রাউস নিজেদের সাফল্য নিয়ে খানিকটা দার্শনিকভাবেই চিন্তা করছেন। যে চিন্তায় অতীত সাফল্য মাঠে কথা বলে না, ‘আমরা কতটা ভালো দল তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। সময় সব সময় আমাদের পছন্দমতো চলবে না।’ যেমন চলছে না স্টুয়ার্ট ব্রডের জন্য। শৃঙ্খলাজনিত কারণে বেশ সমালোচিত হচ্ছেন এই ইংলিশ ক্রিকেটার। পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টে ফিল্ডিংয়ের সময় জুলকারনাইন হায়দারকে বল ছুড়ে মারায় শাস্তিও পেয়েছেন ব্রড। অন্য দেশের সাবেক খেলোয়াড়েরা তো বটেই, সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেনও বাজে আচরণের জন্য ব্রডের তীব্র সমালোচনা করেছেন, ‘স্টুয়ার্ট ব্রডের এই আচরণ যদি প্রথমবারের মতো হতো, তাহলে আমি এ নিয়ে কথা বলতাম না। কিন্তু স্টুয়ার্টের ইতিহাস মনে রাখলে আপনাকে মানতেই হবে, ও সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
ব্রডের ব্যাপারে আসলে স্ট্রাউসও একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছেন। ক্রিস ব্রড-তনয় স্টুয়ার্ট আগের চেয়ে পরিণত হয়েছেন দাবি করেও ইংলিশ অধিনায়ক বলছেন, ‘অবশ্যই কাজটা ভালো হয়নি। ও নিজেও বুঝতে পেরেছে, ও সীমা অতিক্রম করেছে। ও এর মূল্যও দিয়েছে।’ যদিও মূল্যটা কম হয়েছে বলেই অনেকের ধারণা।

এখন শুধু চুক্তির অপেক্ষা

শুধু চুক্তি করাটাই বাকি এখন। নইলে ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের বোলিং কোচ হিসেবে ল্যান্স ক্লুজনার ও ফিল্ডিং কোচ হিসেবে জুলিয়েন ফাউন্টেনের নাম একরকম চূড়ান্ত। এ ছাড়া বিশ্বকাপের আগে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং উপদেষ্টাও। কাল বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটির সভা শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস।
কাল রাতে টেলিফোনে জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘ল্যান্স ক্লুজনার ও জুলিয়েন ফাউন্টেন দুজনই মৌখিকভাবে আমাদের প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন। তবে এখনো তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়নি। আশা করি, সপ্তাহখানেকের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।’ মিডিয়া কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, ফিল্ডিং কোচ হিসেবে ইংল্যান্ডের সাবেক বেসবল খেলোয়াড় ফাউন্টেনকে নেওয়ার কথা জানেন বর্তমানে ছুটিতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্স। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার ক্লুজনারকে বোলিং কোচ নিয়োগের ব্যাপারটি একটু দেরিতে নিশ্চিত হওয়ায় এ বিষয়ে কোচের সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি।
ফিল্ডিং কোচ ফাউন্টেন এর আগে কাজ করেছেন ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সঙ্গে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বোলিং কোচ হলে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলে কোচ হিসেবে এটাই হবে ক্লুজনারের প্রথম চাকরি। এর আগে সম্ভাব্য বোলিং কোচ হিসেবে শোনা গিয়েছিল ইংল্যান্ডের সাবেক ফাস্ট বোলার গ্রাহাম ডিলির নামও।
বোলিং-ফিল্ডিং কোচই শুধু নয়, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং উপদেষ্টা আনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। ‘জন্টি রোডস, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে স্বল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশ দলের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন তাঁরা’—বলেছেন জালাল ইউনুস। কোচিং স্টাফে পরিবর্তন এবং সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদকে আবার ম্যানেজার করার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, ‘খালেদ মাহমুদ বিসিবির বেতনভুক্ত স্টাফ। তাঁকে প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় ব্যবহার করতে পারে বোর্ড।’
৩০ সদস্যের দল বানিয়ে যত দ্রুত সম্ভব বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু করতে চায় বিসিবি। সিডন্স অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্বকাপের জন্য আবাসিক ক্যাম্প শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন জালাল ইউনুস।

৮৮ রানে গুটিয়ে গেল ভারত

টেস্ট সিরিজ আর ওয়ানডে টুর্নামেন্টের মাঝে মাত্র দুদিন বিরতি। ডাম্বুলায় কোনো বিমানবন্দর নেই, বাসই একমাত্র ভরসা। কলম্বো থেকে পাঁচ ঘণ্টার সেই ভ্রমণ-ক্লান্তি এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থায় হেলিকপ্টারে করে ডাম্বুলায় এসেছিল ভারতীয় দল। তার পরও বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ব্যর্থতার জন্য ক্লান্তিকে দায় দেওয়া যায়। কিন্তু ব্যাটিং?
টেন্ডুলকার-গম্ভীরকে ছাড়াও ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে টুর্নামেন্টের সেরা বলা যায়। কাল কিউই পেসারদের সামনে সেই ব্যাটিং লাইনআপই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দল গুটিয়ে গেল মাত্র ৮৮ রানে, হারল ২০০ রানে। ফেবারিটদের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করল টুর্নামেন্টের আন্ডারডগ নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই প্রথম একশর নিচে অলআউট হলো ভারত। ডাম্বুলার রনগিরি স্টেডিয়ামের সর্বনিম্ন স্কোর এটি, অবশ্য এখানে একবার ৮৮ রান করেছিল ইংল্যান্ডও।
নিউজিল্যান্ড ২৮৮ রান করার পরই তাই ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা। ডাম্বুলার ফ্লাডলাইট ক্রিকেট উপযোগী কি না এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। কৃত্রিম আলোয় বোলাররা এখানে একটু বেশিই সাহায্য পায়। খেলা শুরুর আগে টেন স্পোর্টসে রাসেল আরনল্ড বলেছিলেন প্রথমে ব্যাট করে ২৪০ করতে পারলেই নিশ্চিন্ত। টস জেতার পর ২৫০-২৬০ কেই নিরাপদ বলেছিলেন রস টেলর। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের কথা ভেবে তবু ‘ম্যাচ শেষ’ বলা যাচ্ছিল না। টেন্ডুলকারকে ছাড়াই গত জুনের এশিয়া কাপে এই উইকেটে পাকিস্তানের ২৭১ রান তাড়া করেছে ভারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো বিশেষজ্ঞদের কথাই।
ভারতের শুরুটা খারাপ হয়নি। ঝোড়ো সূচনা না হলেও প্রথম উইকেটে ৩৯ রান তুলেছিলেন বীরেন্দর শেবাগ ও দিনেশ কার্তিক। সপ্তম ওভারের শেষ বলে শেবাগের আউট দিয়ে মহামারির শুরু। কিউই পেসারদের সুইং আর বাউন্সে নাকাল হয়ে আত্মসমর্পণ একের পর এক ভারতীয় ব্যাটসম্যানের। দুই ওপেনার ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন আর কেবল রবীন্দ্র জাদেজা।
নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ছিল ভারতের ঠিক উল্টো। নেহরা-প্রাভিনের সুইংয়ে ২৮ রানেই নেই ৩ উইকেট। কিউই অধিনায়ক রস টেলর আর দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা স্কট স্টাইরিস মিলে শুরু করলেন ইনিংস মেরামতের কাজ। আক্রমণাত্মক দুই ব্যাটসম্যান শুরুতে খেলেছেন দেখেশুনে, বিপর্যয় সামলে ওঠার পর হাত খুলেছেন দুজনই। চতুর্থ উইকেটে গড়েছেন ১৯০ রানের রেকর্ড জুটি। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচে ৭০ করেছিলেন টেলর, দ্বিতীয় ম্যাচে কাল করলেন ৯৫। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি চারটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচ-সেরাও হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। স্টাইরিস ওয়ানডেতে ফিফটি পেলেন ২৫ মাস পর। ডাম্বুলায় খেলা সর্বশেষ ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন নেহরা, পেলেন কালও। দারুণ বোলিং করেছেন প্রাভিন কুমারও। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার আড়ালে চাপা পড়ে গেছে তাঁদের কীর্তি।