Sunday, June 19, 2011

কঙ্গোতে প্রতিদিন এগারো শতাধিক নারী ধর্ষিত হচ্ছে

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে প্রতিদিন এগারো শতাধিক নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ নামের এক মার্কিন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে জাতিসংঘের এক গবেষণায় ধর্ষণের যে হার জানানো হয়েছে, তার চেয়ে বর্তমান হার ২৬ গুণ বেশি।
সাময়িকীতে জানানো হয়, আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ কঙ্গোতে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৭—টানা এক বছর গবেষণাটি চালানো হয়। এ সময়ে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী চার লাখেরও বেশি নারী ধর্ষিত হয়। একই সময়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও একটি গবেষণা চালানো হয়। তাতে জানানো হয়, এ সংখ্যা ১৫ হাজার।
গবেষণার প্রধান লেখক অ্যামবার পিটারম্যান জানান, আগে প্রকাশিত জাতিসংঘের ওই জরিপে কঙ্গোতে যৌন সহিংসতার প্রকৃত সংখ্যা তুলে ধরা হয়নি। সম্প্রতি জরিপেও ধর্ষণের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, তা-ও প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। কারণ, সামাজিক বাধা, লজ্জা ও ভয়ে অনেকেই ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করে না। তা ছাড়া ১৫ বছরের নিচে ও ৪৯ বছরের বেশি নারীদের ক্ষেত্রে ঘটা এ ধরনের নির্যাতন জরিপে ধরা হয়নি।
মানবাধিকার-বিষয়ক সংস্থা হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভের পরিচালক মিখায়েল ভ্যানরোয়েন বলেন, কঙ্গোতে ধর্ষণের ব্যাপকতা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চলা মানবিক সংকটেরই একটি বিভীষিকাময় রূপ।

দ্রাবিড়ের ক্যারিবীয় রোমাঞ্চ

ক্রিকেট ইতিহাসের দারুণ একনিষ্ঠ পাঠক রাহুল দ্রাবিড়। খুব ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট ইতিহাসটা তাঁকে যথেষ্টই আকর্ষণ করে। ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনা আর পরিসংখ্যান ঘেঁটেই বড় হয়েছেন। সেসব রেকর্ড-পরিসংখ্যান তাঁর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পথ-পরিক্রমায় রেখেছে বড় ভূমিকা। দ্রাবিড়ের পুরো শৈশব কেটেছে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের দুর্দমনীয় আধিপত্য দেখে। যে দলটি ১৯৭৫ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত খেলা ৯১টি টেস্টের মাত্র ১২টিতে হেরেছিল। যারা ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি—এমন একটি দলের কীর্তিগাথা অন্তরে নিয়েই বড় হয়েছেন দ্রাবিড়রা। ক্লাইভ লয়েড, জোয়েল গার্নার, আলভিন কালিচরণ, জেফ ডুজন, মাইকেল হোল্ডিং, ম্যালকম মার্শাল, ভিভ রিচার্ডস, অ্যান্ডি রবার্টস আর গ্রিনিজ, হেইন্সরা একটা চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গেছে রাহুল দ্রাবিড়ের তরুণ মনে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সেই স্বর্ণযুগ আর নেই। এই দলটি এখন আর ক্রিকেটের ভয়ংকর কোনো শক্তি নয়। তাদের খেলার ধারাবাহিকতার ছাপ নেই। নেই সাফল্যের ছন্দবদ্ধ ঝংকার। তার পরও কিন্তু রাহুল দ্রাবিড় রোমাঞ্চিত নারকেল, পাইন আর সুনীল জলরাশির আনন্দ জগত্ ক্যারিবীয় দ্বীপে খেলতে এসে।
১৯৯৬ সালে ভারতীয় দলের হয়ে টেস্ট অভিষেক রাহুল দ্রাবিড়ের। সাতানব্বইয়ে প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। এরপর আরও অনেকবারই পৃথিবীর এই অঞ্চলটায় ক্রিকেট খেলতে এসেছেন। গত শুক্রবার আবার এলেন। খুব সম্ভবত শেষবারের মতো। ক্যারিয়ারের একেবারে প্রান্তলগ্নে দাঁড়িয়ে রাহুল দ্রাবিড়, কিন্তু কিছুটা নস্টালজিক তাঁর ছোটবেলার স্বপ্নভূমি ওয়েস্ট ইন্ডিজে পা রেখে।
দ্রাবিড় ভারতীয় দলের ড্রেসিং রুমের সদস্য আজ ১৫ বছর ধরে। এই প্রথমবারের মতো ভারত টেস্টের ১ নম্বর দল হিসেবে ক্যারিবিয়ায় পা রাখছে। শুধু তা-ই নয়, ওয়ানডের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুটও উঠে গিয়েছে তাদের মাথায়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের বিশ্ব শিরোপাটাও একবার ছোঁয়া হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে রাহুল দ্রাবিড়ের কাছেও এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটা একটু অন্য রকম। তিনি নিজেও আনন্দিত ভারতীয় ক্রিকেটের এই উত্তরণে। বলেছেন, ‘জয়ের ধারাবাহিকতার চেয়ে আনন্দদায়ক কিছুই নেই।’
তবে একটি ব্যাপার নিয়ে দ্রাবিড় কিছুটা ধন্ধে আছেন। তিনি এখন ওয়ানডে দলে অপাঙেক্তয়। টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন অনেক দিন হলো। গত ছয়-সাত মাসে ভারতীয় দল যে হারে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে, তাতে টেস্ট ক্রিকেটে মনোনিবেশ একটু কষ্টকরই হবে বলে মনে করেন ‘মি. ওয়াল’ নামে খ্যাত এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।
‘আমি ওয়ানডে দলে নেই। দীর্ঘদিন টেস্ট খেলা হচ্ছে না। সর্বশেষ ছয়-সাত মাস বলতে গেলে বসেই ছিলাম। হঠাত্ করেই টানা সাতটি টেস্ট খেলতে হচ্ছে ভারতকে। ব্যাপারটি সত্যিই সমস্যার। মনোনিবেশই সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে অনেক ক্রিকেটারের কাছে।’
ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসেও রাহুল দ্রাবিড় আজও নাকি নার্ভাস বোধ করেন। ক্যারিবীয় সফরে এসে নিজেকে আরও একবার প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। আজ তাঁর মন দুরু দুরু—ভালো খেলতে পারবেন তো?
ব্যাপারটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। ‘হ্যাঁ আমি এখনো নার্ভাস। এটাই আমার প্রকৃতি। প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে যেমন ছিলাম, ১৫১তম টেস্টের আগেও ঠিক একই রকম বোধ হচ্ছে।

রুমানার ঘটনা কি ‘চাঞ্চল্যকর’ by নাসরিন খন্দকার

নিপীড়ক সাইদকে গ্রেপ্তার করে গণমাধ্যমের সামনে আনা হলো। টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলে বারবার দেখানো হলো তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থন। মিডিয়ার সামনে তদন্ত কর্মকর্তা ‘চাঞ্চল্যকর’ মামলা হিসেবে ঘোষণা দিলেন পারিবারিক নির্যাতনের নৃশংস উদাহরণ ‘স্বামী’ সাইদ কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা মনজুরের নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা। তদন্ত কর্মকর্তা এখন এই মামলার সবদিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
রুমানা এখন অন্ধত্বের সঙ্গে লড়ছে। ৫ জুনের ঘটনা এটি। ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর পত্রিকায় খবরটি আসে। ঘটনার পরদিনই নির্যাতিতার বাবা থানায় মামলা করেন। তখন তাঁকে খুঁজে পাওয়ার কী চেষ্টা করেছে পুলিশ, তা জানা না গেলেও এটা জানা গেছে যে নির্যাতক ‘পলাতক’। তখন পর্যন্ত এটি ছিল একজন স্বামী কর্তৃক স্ত্রী নির্যাতনের ‘নীরস’ মামলা। সে সময় আসামি ধরার বিষয়ে পুলিশের তেমন কোনো চাঞ্চল্য দেখা যায়নি। অবশেষে নিপীড়ককে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—মর্মে আদালতের রুল জারির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের নড়াচড়া শুরু হয়। আদালতের তাগাদা পেয়ে এই নড়াচড়ার ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হন নির্যাতক। পারিবারিক নির্যাতনের নীরস মামলায় নির্যাতিত নারীর চরিত্রকেন্দ্রিক আলোচনা ঘটনাটিকে সফলভাবে ‘চাঞ্চল্যকর’ করে তুলতে পেরেছে। বোঝা গেল কোন মামলা কোন মসলায়, কোন আলোচনায়, কাদের কাছে, কোন সময়ে চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে।
অনেকের কাছেই এটি বিস্ময়কর একটি ঘটনা। তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন কীভাবে একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ এমন নির্যাতন করতে পারেন, কীভাবেই বা একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ওপর এমন হামলা হতে পারে? আবার আমার চারপাশের বেশির ভাগ নারীকে কিন্তু অবাক হতে দেখি না, অনেকেই স্বগতোক্তির মতো করে বলতেও থাকেন, ‘রুমানার ক্ষত দৃশ্যমান, আর ঘরে ঘরে প্রতিদিন হাজারো নারী এমন ক্ষত নিয়ে থাকেন, যা দেখা যায় না।’ আমরা এই ক্ষত দেখতে পাই না বলেই কি বিস্মিত হই, রুমানার ওপর নৃশংস হামলাকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়?
রুমানা যে কত ভালো, কত জনপ্রিয়, কত মেধাবী—পরিচিত ব্যক্তিরা বারবার বলে গেছেন। প্রশ্নাতীতভাবে তিনি মেধাবী ও মিষ্টভাষী। কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখি একবারও, নিপীড়নের ঘটনায় নির্যাতিতার চরিত্র কেন এত প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে? নিপীড়নে রক্তাক্ত নারীর পাশে দাঁড়াতে কি আরও কোনো কারণ প্রয়োজন পড়ে? রুমানার নিপীড়নকে বুঝতে, তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে, তাঁর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে কি রুমানার ‘ভালো’ মেয়ে হওয়া জরুরি? তিনি ভালো না হলে কি এই নিপীড়ন যৌক্তিক হয়ে যায়? নির্যাতনের পর রুমানা ‘ভালো’ মেয়ে, এই আলোচনা আসে সেই সামাজিক মন থেকে, যেখানে ধরে নেওয়া হয়, ভালো মেয়ে নয়, ‘খারাপ’ মেয়ের প্রতি নির্যাতন হয়। কেননা ‘খারাপ’ মেয়ে নিপীড়ন একভাবে আহ্বান করে, নির্যাতনের কারণ সৃষ্টি করে।
রুমানা ভালো কি খারাপ, সেই প্রসঙ্গ এই অপরাধের আলোচনায় তাই অপ্রাসঙ্গিক। বরং যদি কিছু প্রাসঙ্গিকতা থাকে, তা হলো রুমানার নীরবতার। তাহলে যাঁরা রুমানার ভালোত্বকে তুলে ধরতে চাইছেন, তাঁরা কি তাঁর এই নীরবতাকেও উদ্যাপন করবেন? আমরা কি আমাদের কন্যাসন্তানদের এমন নীরব ‘ভালো’ হতে উৎসাহ দেব? যে সামাজিক পরিস্থিতি রুমানাকে মুখ খুলতে দেয়নি, আমরা কি সেই পরিস্থিতি বহাল রাখব? আর কত রুমানার মতো নীরব ‘ভালো’ মেয়ে রক্ত দিলে তবে ভালো মেয়ের এই সংজ্ঞা পাল্টাবে?
সাইদ গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নানাজনকে এই নৃশংসতার কারণ খুঁজতে দেখা গেছে। সমাজের অধিপতিসুলভ পুরুষতান্ত্রিক সহানুভূতি অর্জনের জন্য সাইদ ১০ দিন সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন। পুলিশও গ্রেপ্তারে গড়িমসি করে এই সময় তাঁকে দিয়েছে। সমাজের অনেকের মনে সাইদের ভাষ্যে রুমানার চরিত্র জানার আগ্রহ দানা বেঁধেছে। কী ধরনের গল্প ফাঁদলে পুরুষতান্ত্রিক ‘আগ্রহ’ মিটিয়ে সহানুভূতি পাওয়া যায়, তা বুঝতে সাইদের ধারালো মস্তিষ্ক ভুল করেনি। বুঝেশুনেই তাই তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন এই সমাজে নারীর সবচেয়ে বড় ভীতিকে, নারীর প্রতি ব্যবহূত সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র কুৎসা ও চরিত্র হননকে।
প্রথমে তিনি পুরুষের শারীরিক শক্তির দাপটে স্ত্রীকে পদানত করতে না পারার প্রতিশোধ নিতে জ্ঞানী স্ত্রীকে অন্ধ করতে চেয়েছিলেন। এরপর তিনি নেমেছেন স্ত্রীর ‘চরিত্র’ নষ্ট করার চেষ্টায়। প্রথমে দেখিয়েছেন গায়ের জোর, পরে ব্যবহার করেছেন সামাজিক শক্তি। হাসান সাইদ পুরুষের এই দুই শক্তি, যা দিয়ে নারী নির্যাতিত হয়, সে সম্পর্কে দারুণ সচেতন। তাই ধারালো মস্তিষ্কের, ঠান্ডা মাথার নিপীড়ক সাইদ এখন নিজেকে মানসিক অসুস্থ হিসেবে দেখানোর রাস্তা পাকা করছেন। এই রাস্তা একইভাবে তাঁর অপরাধের কারণ খোঁজার আগ্রহ থেকে বা তাঁর অপরাধকে সাইকিক কেস হিসেবে দেখার পাবলিক প্রবণতা থেকেও সমান্তরালে তৈরি হচ্ছে। রুমানার প্রতি সহানুভূতির জন্য তাঁর ‘ভালোত্ব’ তুলে ধরা বা নির্যাতক সাইদের প্রতি সহানুভূতি টানার জন্য রুমানাকে ‘খারাপ’ মেয়ে প্রমাণ করা, উভয়েই তাই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার দুই দিক, মুদ্রার দুই পিঠ মাত্র।
এখন তাই পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক চেতনায় নিপীড়ক হাসান সাইদের পরিচিতি ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’, আর রুমানা ‘ভালো’ মেয়ে হতে ‘স্খলিত/নিপীড়ন আহ্বানকারী নারী’ পরিচয়ে বদলাতে থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় তাই চিহ্নিত নিপীড়ক আর সমাজে বিদ্যমান পুরুষালি নিপীড়ন মানসিকতা হাতে হাত ধরে কাজ করে যাবে। বরাবরের মতোই নিপীড়িতের ভালোত্ব/মন্দত্ব আলোচনার মুখরোচক বিষয়ে পরিণত হবে। বেশ কিছুদিন পত্রিকার পাতা গরম থাকবে রুমানা আর সাইদের দাম্পত্য বিশ্লেষণে, পরকীয়ার আবশ্যিক অনুসন্ধানে, রুমানার চরিত্রের ব্যবচ্ছেদে। সাইদ নয়, রুমানাকেই এখন তাই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে, বিশ্লেষণের বিষয়ে পরিণত করা হবে, আরেকভাবে নিপীড়ন করা হবে তাঁকে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় রুমানার নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র, নিপীড়নের চরম দৃষ্টান্ত চাপা পড়ে যাবে তাদের দাম্পত্যের রসাল আলোচনায়।
আমরা কি তা হতে দেব?
নাসরিন খন্দকার: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
nasrin.khandoker@gmail.com

আবার অনশনে যাব: হাজারে

দুর্নীতি দমন-সংশ্লিষ্ট ‘লোকপাল বিল’ ইস্যুতে ভারত সরকার এবং সে দেশের সুশীল সমাজের সদস্যদের সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর সুশীল সমাজের নেতা আন্না হাজারে আবারও অনশনে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে তিনি জীবন দিতে প্রস্তুত এবং আগামী ১৬ আগস্ট থেকে তিনি আমরণ অনশন শুরু করবেন। এই আন্দোলনে তিনি মরতেও প্রস্তুত বলে জানান।
আন্না হাজারে বলেন, সরকার তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। অন্যদিকে, বিলটি প্রণয়নের জন্য গঠিত যৌথ খসড়া প্যানেলের সদস্য পদে থাকা তিনজন মন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সরকারের সমান্তরাল’ কোনো কাঠামো মেনে নেওয়া হবে না।
ভারতের আইনমন্ত্রী এম বীরাপ্পা মৌলি বলেছেন, মন্ত্রিসভায় একই সঙ্গে দুটি খসড়া বিল পেশ করার প্রশ্নই ওঠে না। আগামী ২০ তারিখের বৈঠকে যদি প্যানেল সদস্যরা মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারেন তাহলেও প্যানেলের বক্তব্য ও পর্যালোচনা মন্ত্রিসভায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

আলোচনা করতে না চাওয়ায় যুক্তরাজ্যকে উদ্ধত বলল আর্জেন্টিনা

বিরোধপূর্ণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আলোচনা করতে রাজি না হওয়ায় যুক্তরাজ্যকে ‘উদ্ধত’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কির্চনার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বৃহস্পতিবার কির্চনার এ মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ফকল্যান্ড অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনাকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়। এরপর গত বুধবার আর্জেন্টিনার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু রোজেনদেল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে এ বিষয়ে সংলাপের তাগাদা দেন। কিন্তু ক্যামেরন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘যতক্ষণ ফকল্যান্ডবাসী ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকতে চায়, তাদের তা থাকতে দেওয়া উচিত—এখানেই শেষ, এ নিয়ে আর কোনো কথা হতে পারে না।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ ও ‘বোকার মতো’ বলে মত প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দেজ।
গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের একজন মুখপাত্র জানান, আর্জেন্টিনাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফকল্যান্ডবাসীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো আলোচনা হতে পারে না।

সিরিয়ায় বিক্ষোভে গুলি, নিহত ১৮

সিরিয়ায় গতকাল শুক্রবার নতুন করে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। গতকাল জুমার নামাজ শেষে দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, গতকাল সিরিয়ার হোমস, বানিয়াস, দেরইজর, হামা, রাকা এবং রাজধানী দামেস্কের হারাস্তা শহরতলিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকটি স্থানে বন্দুকধারীরা পুলিশের ওপরও গুলি ছুড়েছে। এতে অন্তত একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
এদিকে ফ্রান্স বলেছে, তারা সিরিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে চায়।
এর আগের খবরে বলা হয়, সিরিয়ার সেনাবাহিনী ট্যাংক নিয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চলের দুটি শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তারা তুরস্ক সীমান্তের কাছে শুগুর আল-কাদিমাসহ কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালায়।
সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
মাখলুফের ঘোষণা: প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও দেশটির অন্যতম ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রামি মাখলুফ নতুন করে কোনো ব্যবসা না করা এবং সম্পদ জনকল্যাণে ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছেন। একে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের একধরনের জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাখলুফের এই অবস্থানের কথা দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

মিয়ানমার যাচ্ছে ইইউর প্রতিনিধিদল

মিয়ানমারের নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশটি সফরে যাচ্ছে। ইইউর একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক গতকাল এ কথা জানান।
ইইউর এই কূটনীতিক বলেন, সফরের প্রথম লক্ষ্য হলো মিয়ানমারের নতুন কর্তৃপক্ষের মানসিকতা বোঝার জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলা।
ইইউর অন্য একটি সূত্র জানায়, ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টনের বিশেষ উপদেষ্টা রবার্ট কুপার ও ইইউর মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত পিয়েরো ফাসিনো চলতি সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে যাবেন।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা মার্চে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি মিয়ানমারে ক্রমান্বয়ে সংস্কারের ব্যাপারে আশাবাদের সৃষ্টি করে।
এপ্রিলে ইউরোপের সরকারগুলো মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য বৃদ্ধি করে। পরিবর্তনের গতিবৃদ্ধিতে উৎসাহ দিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দরজা খোলা রাখা হয়।
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সংস্কারের পথে মিয়ানমারের সরকারকে উৎসাহিত করার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন শিগগিরই মিয়ানমারের জন্য পূর্ণকালীন বিশেষ দূতের নাম ঘোষণা করবেন।

নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের সদর দপ্তরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা ও হামলাকারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির বোকো হারাম নামে জঙ্গিগোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশের মুখপাত্র ওলুসোলা আমোর জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের গাড়ি রাখার স্থানে ওই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে প্রাণহানি ছাড়াও ৩৩টি গাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। আহত হয় আরও অনেকে। এ সময় ঘটনাস্থলে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডলির সৃষ্টি হয়।
ওলুসোলা আমোর আরও জানান, হামলার আগে বিস্ফোরকভর্তি একটি মার্সিডিজ বেঞ্চ ব্র্যান্ডের গাড়ি পুলিশের মহাপরিদর্শকের গাড়িবহরে যোগ দেয়। গাড়িবহরটি পুলিশের সদর দপ্তরে পৌঁছার পর গাড়ি রাখার স্থানে বিস্ফোরকভর্তি গাড়িটি ঢুকে পড়ে। এর পর ওই বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাঁচজনের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়া আর প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ডুবে গেছে কলকাতা শহর। এ পর্যন্ত রাজ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে ৩৮টি মাছ ধরার ট্রলার। এখনো ছয় শতাধিক জেলের খোঁজ মেলেনি। রাজ্য সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় নৌবাহিনী ও উপকূল রক্ষী বাহিনীর সাহায্য চেয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজ্য সচিবালয়ে দুটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হয়েছে।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুরে পানিতে পড়ে তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াংয়ে একটি বাড়ি ধসে পড়লে ওই বাড়ির গৃহিণী ও তাঁর তিন সন্তান মারা যায়।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০৬ মিলিমিটার। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা জিসি দেবনাথ জানান, শুক্রবার বিকেলে একটি নিম্নচাপ কলকাতা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তর ও উত্তর পূর্বে অবস্থান করছিল। তিনি আরও জানান, এ নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাতও হতে পারে।
এদিকে, নিম্নচাপের প্রভাবে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে এরই মধ্যে কলকাতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার কার্যত পানিতে ডুবে যায় কলকাতা শহর। শহরের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যায়। ব্যাহত হয় কলকাতা, হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে রেল চলাচল। পাতাল রেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়লে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

চীন-ভারত সামরিক যোগাযোগ আবারও শুরু হচ্ছে

ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি সামরিক যোগাযোগ আবারও শুরু হচ্ছে। ভিসা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বছর ধরে এই যোগাযোগ বন্ধ ছিল। আগামীকাল রোববার ভারতের সেনাবাহিনীর আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ছয় দিনের সফরে চীন যাচ্ছে। সরকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন মেজর জেনারেল গুরমিত সিং। দলটি চীনের রাজধানী বেইজিং ও সে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা সফর করবে।
গত বছরের জুলাই মাসে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের তৎকালীন প্রধানকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় বেইজিং। এর প্রতিবাদে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সামরিক আদান-প্রদান বন্ধ করে দেয় নয়াদিল্লি।
কাশ্মীর ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল রাজ্যের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিদ্রোহীদের সঙ্গে গাদ্দাফির সরকারের আলোচনা হচ্ছে

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকার দেশের বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে। রাশিয়ার এক প্রতিনিধি গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। তবে বিদ্রোহীরা আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। গতকাল শুক্রবার তারা বলেছে, গাদ্দাফিকে বিদায় নিতেই হবে।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইতার-তাস জানায়, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি আল-মাহমুদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভ। এরপর মার্গেলভ বলেন, ‘বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে।’ এর আগে গত সপ্তাহে বেনগাজিতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা করেন মার্গেলভ।
মার্গেলভ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার এক পর্ব গতকাল প্যারিসে শেষ হয়েছে। আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজিকে জানানো হয়েছে।’
তবে ফ্রান্স গতকাল জানিয়েছে, লিবিয়া সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা তারা তত্ত্বাবধান করছে না।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিনিধি মার্গেলভও আলোচনার বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। আর বিদ্রোহীরাও আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
বিদ্রোহীদের ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তাঁদের অবস্থান অপরিবর্তিত আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও বলেন, ‘গাদ্দাফিকে বিদায় নিতেই হবে। তাঁকে ক্ষমতায় রাখার বিষয়ে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে যদি কেউ আলোচনা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।’
রাশিয়ার অপর একজন প্রতিনিধি গতকাল জানান, আলোচনার জন্য গাদ্দাফির প্রতিনিধিরা জার্মানি, ফ্রান্স ও নরওয়েসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী মাহমুদি বৃহস্পতিবার ত্রিপোলিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাদ্দাফির অপসারণের প্রশ্নই আসে না। আমাদের লক্ষ্য লিবিয়ার সংহতি বজায় রাখা। আমাদের আলোচনা সে জন্যই।’
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের আগে গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম বলেন, এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ নির্বাচন। ইতালির একটি সংবাদপত্রকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণে এখনই নির্বাচন দিতে হবে।
সাইফের এ প্রস্তাবকে ‘একটু বেশি বিলম্বিত’ অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, গাদ্দাফির ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ হয়ে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার বিষয়ে এ ধরনের প্রস্তাব দিতে গাদ্দাফি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেরি করে ফেলেছেন। এখন গাদ্দাফির ক্ষমতা ছাড়ার সময় এসে গেছে।

আসামে যাত্রীবাহী ট্রেন থেকে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার

ভারতের আসাম রাজ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন থেকে গতকাল শুক্রবার একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষজ্ঞরা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আসাম পুলিশের মহাপরিদর্শক ভাস্করজ্যোতি মোহান্ত জানান, গতকাল সকালে অন্তত এক হাজার যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি ঢোকার আগ মুহূর্তে ওই বোমাটি উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগে পাঁচ কেজি ওজনের ওই বোমার সন্ধান পান। এটি ছিল একটি শক্তিশালী সময়নিয়ন্ত্রিত বোমা।
ভাস্করজ্যোতি মোহান্ত বলেন, ট্রেনটির বিভিন্ন কামরা থেকে যাত্রীদের দ্রুত বের করার পর বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেন।
বোমাটি কারা রেখেছিল—এ ব্যাপারে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি। এর দায়িত্বও কেউ স্বীকার করেনি।
আসামে স্বাধীনতার দাবিতে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামসহ (উলফা) বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে।
এ বছরের গোড়ার দিকে সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হয় উলফা। কর্তৃপক্ষের ধারণা, শান্তি আলোচনাবিরোধী স্থানীয় কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী বোমাটি রেখেছিল।
আসামের স্বাধীনতার দাবিতে সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক।

হাতকড়া পরা এড়াতে চেয়েছিলেন দমিনিক স্ত্রস কান

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান দমিনিক স্ত্রস কান কূটনীতিকের মর্যাদা রক্ষার কথা বলে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। হাতকড়া পরানোর বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রবল আপত্তি তোলেন। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মামলার নথির প্রতিলিপি থেকে এ কথা জানা গেছে। নিউইয়র্কের হোটেলকর্মীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৪ মে তাঁকে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নথির তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশকে তিনি এ ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সাবেক আইএমএফ-প্রধানের কিছু কথা মামলার নথিতে প্রকাশ করা হয়। গ্রেপ্তারকালে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় কান বলেন, ‘আমার কিন্তু কূটনৈতিক নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার আছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ: পেন্টাগন

পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য বিস্তার রোধে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কাজ করে যেতে হবে। গত বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এ কথা বলেন। এদিকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে সেনাসংখ্যা বাড়ানো অব্যাহত রাখতে চায় পেন্টাগন।
অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতার অভিযোগ, দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করতে পাকিস্তান নিজ দায়িত্ব পালন করছে না। পাকিস্তানের জন্য মার্কিন সাহায্য হ্রাস করার জন্যও চাপ দেন তাঁরা।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন বলেন, পরমাণু অস্ত্রসমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর ঝুঁকি নিতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র।
ওসামা বিন লাদেন হত্যা অভিযানে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁদের গ্রেপ্তার করেছেন—এ ধরনের খবরে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়ে যায়।
মাইক মুলেন বলেন, সহযোগিতা না বাড়ালে সাহায্য কমিয়ে দেওয়া হবে—এ ধরনের কোনো সতর্কবার্তা তিনি ইসলামাবাদে পৌঁছে দেননি। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের প্রচেষ্টায় বেশ কয়েকবার পাকিস্তান সফর করেছেন মুলেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান দুই দেশেরই একে অপরকে দরকার এবং এ জন্য যোগাযোগের পথ অবশ্যই খোলা রাখতে হবে।
রবার্ট গেটস বলেন, আফগান সীমান্তে এক লাখ ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। তারা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান ও সোয়াত উপত্যকায় জঙ্গিদের ধরার জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করছে।
এদিকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে সৈন্যসংখ্যা বাড়ানো অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানাবে মার্কিন বাহিনী। গতকাল শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
এই সময়সীমার অর্থ হচ্ছে, আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ওবামা আফগানিস্তান থেকে বিপুল পরিমাণ সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করতে পারবেন। তবে সেনা কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, তাঁদের প্রস্তাবের সঙ্গে নির্বাচনের সময়সূচির কোনো সম্পর্ক নেই।

অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত গ্রিসে মন্ত্রিসভায় রদবদল

চরম অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে অর্থমন্ত্রীসহ বেশ কিছু পদে পরিবর্তন এনেছে ঋণে জর্জরিত ইউরোপীয় দেশ গ্রিস। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইভানজেলোস ভেনিজেলোস। গতকাল প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রু এই নিয়োগ চূড়ান্ত করেন।
দেশের চরম অর্থনৈতিক সংকট ঠিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারা ও বিরোধী দলের সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনে ব্যর্থতায় দলের মধ্যেই কঠোর সমালোচনার মধ্যে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এর এক দিন পরই মন্ত্রিসভায় রদবদল আনেন তিনি। অর্থমন্ত্রী জর্জ পাপাকনস্তানতিনুকে দেওয়া হয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার মানে গ্রিসের স্থান বিশ্বের সর্বনিম্ন (সিসিসি) বলে উল্লেখ করে।
আগামীকাল রোববার গ্রিসে আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (্আইএমএফ) কাছ থেকে সহায়তা প্যাকেজ পেতে গ্রিসকে দুই হাজার ৮০০ কোটি ইউরো খরচ কমাতে বলা হয়। সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কারের মাধ্যমে খরচ কমাতে চাইলেও জনগণ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই সংস্কারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ-ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। ইইউ ও আইএমএফের সহায়তা প্যাকেজের আওতায় আগামী জুলাইয়ে গ্রিসের এক হাজার ২০০ কোটি ইউরো পাওয়ার কথা।
নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে স্তাভরোস ল্যামব্রিনিদিসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যানোস বেগলিতিসকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী দিমিত্রিস দ্রোউতসাস এবং পরিবেশমন্ত্রী তিনা বিরবিলকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পাপানদ্রু গত বৃহস্পতিবার দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে ‘লড়াই চালিয়ে যাওয়ার’ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমরা অনেক বড় সংকট সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটও কাটিয়ে উঠব। এই লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে জনগণ ও আগামী প্রজন্মের জন্য।’
গ্রিসের প্রেসিডেন্ট কারোলোস পাপুলিয়াস দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি না করার জন্য রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি গ্রিসের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। ইউরোপ থেকে গ্রিসের ঋণের প্রায় ৫৫ শতাংশই দুই দেশের ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নেওয়া।
ইইউর অর্থনীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ওলি রেন বলেন, সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে আগামী মাসে গ্রিস পরবর্তী প্যাকেজ পাবে।

রিয়াল-বার্সা অন্য লড়াই

ইউরোপীয় ক্লাব মৌসুম শেষ হয় মে মাসে। এরপর দুই মাসের ছুটি। নিরুত্তাপ ক্লাব ফুটবলে যা একটু উত্তাপ ছড়ানোর, সেটি হওয়ার কথা দলবদল নিয়ে। সেটিও খুব একটা জমছে না। কিন্তু এরই মধ্যে জমিয়ে তোলার ইঙ্গিত দিলেন সান্দ্রো রোসেল। পরশু এক সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক তোপ দাগলেন রিয়াল মাদ্রিদকে তাক করে। রিয়ালের ‘ক্রীড়াবিরোধী আচরণ’ আর কোচ হোসে মরিনহোর কঠোর সমালোচনা করলেন বার্সেলোনার সভাপতি।
গত মৌসুমের শেষ দিকে ১৮ দিনের ব্যবধানে চার-চারটি এল ক্লাসিকো অন্য রকম উত্তাপ ছড়িয়েছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের পর সংবাদ সম্মেলনে বার্সার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আনেন মরিনহো। একটি ছিল এমন, উয়েফা সব সময় বার্সার প্রতি পক্ষপাত করে!
সেসবেরই জবাব এত দিন পর দিলেন রোসেল, ‘আমরা মনে করি, এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ক্রীড়া-প্রতিদ্বন্দ্বিতার গ্রহণযোগ্য সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের ক্লাবের বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ এনেছে যার কোনো ভিত্তি নেই। দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মৌসুমেও অব্যাহত থাকবে। কিন্তু এবার আমরা ক্রীড়াসুলভ আচরণের সীমা ছাড়িয়ে যেতে দেব না। ফুটবলে স্বচ্ছ প্রতিদ্বন্দ্বিতা জরুরি। এবং সেটি রক্ষায় বার্সেলোনা সবকিছুই করবে।’ কী করবেন সেটিও বলে দিয়েছেন রোসেল, ‘দরকার হলে আমরা আইনি ব্যবস্থাও নেব। ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হব।’
কোচ মরিনহো, রিয়াল কর্তৃপক্ষ এবং মাদ্রিদভিত্তিক পত্রিকাগুলো একজোট হয়ে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে বলে মন্তব্য রোসেলের। মাদ্রিদের পত্রপত্রিকায় ‘কাদেনা কোপে’ নামের একটি রেডিওর দেওয়া খবরের সূত্র ধরে বার্সার কিছু খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ডোপ নেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়, পরে যেটি ভিত্তিহীন প্রমাণ হয়। অবশ্য বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগের সপক্ষে ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে হাজির করেছিল মাদ্রিদের পত্রপত্রিকাগুলো। যদিও রিয়ালের আবেদনে সাড়া দিয়ে বার্সার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সে রকম কোনো ব্যবস্থা উয়েফা নেয়নি। বরং পেপে ও মরিনহো শাস্তি পান। বিরাট অঙ্কের জরিমানাও গোনেন মরিনহো।
রিয়াল কোচের বিরুদ্ধে রোসেলের অভিযোগ, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল প্রথম লেগ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ যেসব কথা বলেছেন, সেটি নিজেদের অ্যাথলেট পরিচয় দেওয়া যে কাউকেই লজ্জায় ফেলে দেওয়ার মতো। বার্সেলোনার কেউ যদি এমন কথাবার্তা বলত, আমরা এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতাম, তার বিরুদ্ধেই আদালতে যেতাম। আমরা রিয়াল মাদ্রিদের কাছেও এমনটা আশা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা কিছুই করেনি।’
রোসেলের এমন মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে রিয়াল। ক্লাবটির বিবৃতিতে অবশ্য আক্রমণাত্মক ভাষার পরিবর্তে বলা হয়েছে, ‘ফুটবলের মঙ্গলার্থে আমরা বার্সেলোনার সঙ্গে সম্ভাব্য ভালো সম্পর্কই বজায় রাখার সব রকম চেষ্টা করব, যেটা আমরা ইউরোপ ও বাকি বিশ্বের সবগুলো ক্লাবের সঙ্গেই সাধারণত করে থাকি।’ রোসেলের হুট করে এসব কথাবার্তার পেছনে কাতালান মিডিয়ার চাপ আছে বলে মনে করে রিয়াল। কাদেনা কোপে রেডিওর খবরটির সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতাও অস্বীকার করেছে তারা।

লিভারপুলের ‘শুরু’ নিয়েই চিন্তা জেরার্ডের

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুমটা একেবারেই ভালো কাটেনি লিভারপুলের। পয়েন্ট তালিকার ছয় নম্বর অবস্থানে থেকে লিগ শেষ করেছে অল রেডরা। এ জন্য লিগের শুরুটা ভালোভাবে করতে না পারাকেই দায়ী করেছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার স্টিভেন জেরার্ড। আর আগামী মৌসুমে এর পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেদিকেই মনোযোগ দেওয়ার দিকে সতীর্থদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লিভারপুল অধিনায়ক।
এবারের মৌসুমে প্রথম ৬ ম্যাচে মাত্র ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছিল লিভারপুল। যেটা ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমের পর ঐতিহ্যবাহী এই ইংলিশ ক্লাবটির সবচেয়ে বাজে সূচনা। সেবার কিন্তু অবনমনের শিকার হয়েছিল ক্লাবটি। এবার যেকোনো মূল্যে এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হবে উল্লেখ করে জেরার্ড বলেছেন, ‘শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য শুরুটা ভালোভাবে করা খুব জরুরি। শুরুতেই অনেক ভুলত্রুটি করে ফেললে, পরে কাজটা অনেক কঠিন হয়ে যায়।’
ইতিমধ্যেই আগামী মৌসুমের সময়সূচি ঘোষণা করে ফেলেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। প্রথমেই নিজেদের মাঠে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিগ শুরু করবে লিভারপুল। এরপর বোল্টন ও উলভসের বিপক্ষে আরও দুইটি ম্যাচের পর লিগের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি রেডরা খেলবে আর্সেনালের বিপক্ষে। এসবগুলো ম্যাচেই পুরো তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জেরার্ড। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমেই আমাদের দু-তিনটা শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। তবে আমার বিশ্বাস, এগুলোতে আমরা ইতিবাচক ফলাফলই নিয়ে আসতে পারব। তাহলে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচটাতেও আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে পারব।

ট্রেমলেটে গার্নারের ছায়া

মাত্র ৪২ রানের বিনিময়ে ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং অর্ডারকে আক্ষরিক অর্থেই ধসিয়ে দিয়েছেন ক্রিস ট্রেমলেট। তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের দিনে মাত্র ১৭৭ রানেই নয় উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছে সফরকারীরা। গতকাল দীর্ঘদেহী ট্রেমলেটের বাউন্স আর দুর্দান্ত লাইনলেংথ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি জোয়েল গার্নারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডের নতুন বোলিং কোচ ডেভিড সাকেরকে। ৬.৮ ফুট লম্বা ট্রেমলেটের মধ্যে গার্নারের ছায়া খুঁজে পাচ্ছেন এই অস্ট্রেলিয়ান বোলিং কোচ।
১৯৭০ ও ’৮০-র দশকে ব্যাটসম্যানদের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিতেন জোয়েল গার্নার। মাত্র ৫৮টি টেস্ট খেলেই তিনি শিকার করেছিলেন ২৫৯টি উইকেট। আর মজার ব্যাপার হলো, ট্রেমলেটের মতো তিনিও ছিলেন ৬.৮ ফুট লম্বা। ট্রেমলেটের মধ্যেও গার্নারের বোলিং প্রতিভার অনেক বৈশিষ্ট্য আছে বলে মনে করছেন সাকের। গতকাল সাউদাম্পটন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘জোয়েল গার্নারের সহজাত অনেক প্রতিভা আমি ট্রেমলেটের মধ্যেও দেখতে পাচ্ছি। তাঁদের দুজনই অনেক লম্বা। আর গার্নারের মতো ট্রেমলেটও বাউন্সটা খুব ভালো করে। আমাদের জন্য সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। তাঁর এখনও অনেক উন্নতি করতে হবে। তবে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সে যে একজন উপযুক্ত বোলার, সেটা সে ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে। দীর্ঘদেহীরা সব সময়ই কিছু বাড়তি সুবিধা পায়। আর টেস্ট ক্রিকেটে বাউন্সটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এটা তারা খুব ভালোই করতে পারে।’