Tuesday, July 26, 2011

কাকা থেকে যাচ্ছেন রিয়ালেই

একজন ব্রাজিলের শেষের শুরু দেখতে পাওয়া প্রজন্মের প্রতিনিধি, আরেকজন নতুন প্রজন্মের, ভবিষ্যতের আলো। কাকা ও নেইমার—ব্রাজিলের এই দুই প্রজন্মের ফুটবলারকে সম্প্রতি একসঙ্গে আলোচনায় এনেছে ইউরোপের দলবদলের বাজার। আলোচনার সারাংশ—আপাতত দুজনই থাকছেন তাঁদের বর্তমান ঠিকানায়।
গত মৌসুমে হোসে মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই শোনা যাচ্ছিল রিয়ালে কাকার দিন শেষ হয়ে এসেছে। মরিনহোর পরিকল্পনার সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার নাকি মানানসই নন। বাস্তবতা হচ্ছে, গুঞ্জন গুঞ্জনই রয়ে গেছে। কাকা থাকছেন রিয়াল মাদ্রিদে এবং তা মরিনহোর ইচ্ছাতেই। যখন তাঁর পুরোনো ক্লাব এসি মিলান এবং তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলানের সঙ্গে জড়িয়ে খবর হচ্ছে, কাকা বলে দিয়েছেন তিনি রিয়ালেই থাকছেন মরিনহোর চাওয়া অনুযায়ী।
মরিনহোর চাওয়া তো আছেই, কাকা নিজেও থাকতে চান রিয়ালেই, ‘আমি সব সময়ই বলে এসেছি, রিয়াল মাদ্রিদে থাকতে চাই। আমি ক্লাব কর্মকর্তা ও কোচের সঙ্গে কথা বলেছি। কোচ চাইছেন পরের মৌসুমটা আমি এখানেই থেকে যাই এবং ক্লাব কর্মকর্তাদের কথা, আমাকে এখন বিক্রি করার কোনো প্রয়োজন নেই।’
কাকাকে তো রেখে দিতে চাইছেনই। সঙ্গে নেইমারকেও চাইছেন মরিনহো। কিন্তু মরিনহো চাইলেই তো আর হবে না। নেইমারের ইচ্ছা আপাতত সান্তোসেই থাকবেন। অন্তত ক্লাব বিশ্বকাপের আগপর্যন্ত। কারণ রিয়াল মাদ্রিদ কোচের মতোই সান্তোসের কোচ মুরিসি রামালহোও তাঁর তরুণ সম্পদকে এখনই ছাড়তে চান না।
চেলসি তো সেই কবে থেকেই নেইমারের পেছনে লেগে আছে। নেইমারকে পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে বার্সেলোনাও। তবে মুরিসির কথা, ‘আমি আগেই বলেছি, নেইমার এ বছর কোথাও যাবে না। অন্তত ক্লাব বিশ্বকাপ পর্যন্ত সান্তোসেই থাকবে সে।’
নেইমারকে না পেলেও বার্সেলোনা এরই মধ্যে পেয়ে গেছে সময়ের আরেক তরুণ তারকা অ্যালেক্সিস সানচেজকে। ইতালিয়ান ক্লাব উদিনেসে থেকে ন্যু ক্যাম্পে নাম লেখানো সানচেজ বার্সার রোনালদো হবেন—ন্যু ক্যাম্পজুড়ে এই আলোচনাই চলছে।
সানচেজ অবশ্য এগিয়ে যেতে চান তাঁর মতো করে, ‘আমি বার্সেলোনার রোনালদো হতে যাচ্ছি? না, আমি বার্সেলোনার অ্যালেক্সিস সানচেজ হতে চাই! বিশ্বের সেরা ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। বার্সেলোনা গ্রেট দল এবং সবকিছু জিততে চায়। আমি খুব খুশি এবং এখন নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।

অবসর নিয়ে ভাবেন না বেকহ্যাম

ক্যারিয়ারটা অনেক দিনের। বয়স হয়ে গেছে ৩৬। ইংল্যান্ড দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলটাও এখন দূরের মনে হয়। কিন্তু তার পরও ইংলিশ ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যাম মনে করেন, তিনি আরও দুটো বছর অনায়াসেই খেলে যেতে পারেন।
এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের লা গ্যালাক্সির হয়ে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে বেকহ্যাম। চুক্তির মেয়াদ বাকি রয়েছে আরও এক বছর। এ চুক্তি খুব সম্ভবত আরো বছরখানেক বাড়বে বলে জানা গেছে। বেকহ্যাম যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তাঁর পেশাদারি ফুটবল জীবনের ইতি টানতে চান।
অবসর-ভাবনাটা একেবারেই মাথায় আনতে চান না বেকহ্যাম। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো সুস্থ রয়েছি, রয়েছি ফর্মে। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনুশীলনে যেতে আমার মধ্যে কোনো অনীহা আসে না। আমি এখনো ফুটবলার জীবন উপভোগ করি।’
বয়সটা যেহেতু ৩৬ হয়ে গেছে, তাই অবসরের ভাবনাটা ভাবতে না চাইলেও আনমনে এসে পড়ে। সেটা স্বীকার করে নিয়েই বেকহ্যাম জানিয়েছেন, আরও দুই বছর তিনি পেশাদারি ফুটবল খেলবেন। এরপর হয়তো বুট জোড়া তুলে রাখার কথা ভাববেন।
‘যেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার মনে হবে, আজকের দিনটা একটু আরাম করি, যেদিন অনুশীলনের ব্যাপারে রাজ্যের অনীহা এসে আমার ওপর ভর করবে, সেদিনই বুঝব বিদায় বলার সময় এসে গেছে।’ বেকহ্যামের মন্তব্য।
যুক্তরাষ্ট্রে খেলাটা দারুণ উপভোগ করছেন সাবেক ইংলিশ এই অধিনায়ক—সেটা মুখ দিয়ে বলেও দিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে খেলাটা আমি খুব উপভোগ করছি। টিম ম্যানেজমেন্ট, দলের খেলোয়াড় সবার সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’
পুরোনো দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এখনো তাঁর হূদয়ের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। তিনি ভাবেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আগামী মৌসুমে শক্তিশালী দল গড়বে। ধরে রাখবে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা, জিতবে চ্যাম্পিয়নস লিগ। বেকহ্যাম যথেষ্ট খুশি, ডাচ ফুটবলার ওয়েসলি স্নেইডারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আগমন নিয়ে। বলেছেন, ‘পল স্কোলসের বিদায়ের পর স্নেইডারের চেয়ে ভালো বদলি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর কোথাও পেত না।

নেইমারকে ছাড়তে চায় না সান্তোস

নেইমারকে দলে ভেড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা স্ট্রাইকারকে পাওয়ার জন্য ৪৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতেও রাজি হয়েছে ইউরোপের অন্যতম ধনী এই ক্লাবটি। তবে নেইমারকে এত তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতে কোনো মতেই রাজি হচ্ছে না সান্তোস। আরও অন্তত ছয় মাস তাঁকে ব্রাজিলেই রাখতে চান সান্তোসের সভাপতি লুইস আলভারো ডি অলিভেইরা।
সম্প্রতি এএস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘নেইমার সান্তোসেই থাকবে। এটা যদিও খুব কঠিন, তার পরও তাকে সান্তোসে রাখাটাই আমার লক্ষ্য। আমি তার বাবার সঙ্গেও এ ব্যাপারে অনেক কথা বলেছি। এখন তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা তাঁর ব্যাপার। তবে নেইমারের এখনই সান্তোস ছেড়ে যাওয়ার কোনই অর্থ নেই। আমি রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও অনেকবার কথা বলেছি। সান্তোসে সে যে আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়—তা তিনি বেশ ভালো মতোই জানেন।’
রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার ব্যাপারে খোদ নেইমার কী ভাবছেন, তা অবশ্য এখনো জানা যায়নি। তবে সান্তোস আশা করছে পরবর্তী মৌসুমের ক্লাব ফুটবল বিশ্বকাপটা তিনি ব্রাজিলিয়ান এই ক্লাবের জার্সি গায়েই খেলবেন।

আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে গেল উরুগুয়ে

কোপা আমেরিকার এবারের আসর শুরু হওয়ার আগে ১৪টি করে শিরোপা জয়ের রেকর্ডটা ছিল যৌথভাবে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের দখলে। এবার আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে রেকর্ড ১৫টি শিরোপা জয়ের রেকর্ডটা এককভাবেই নিজেদের দখলে নিল উরুগুয়ে। ডিয়েগো ফোরলানের জোড়া গোলের সুবাদে ফাইনালে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে তারা।
ফাইনালে প্রায় পুরোটা সময়ই মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল উরুগুয়ে। ১১ মিনিটের মাথায় উরুগুয়ের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন লুইস সুয়ারেজ। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন ডিয়েগো ফোরলান। আর শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মুহূর্ত আগে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে উরুগুয়ের জয় নিশ্চিত করেন গত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এ দুই গোল করে ব্যক্তিগত একটি রেকর্ডও করে ফেলেছেন ফোরলান। উরুগুয়ের জার্সি গায়ে সর্বোচ্চ ৩১টি গোল করার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল এককভাবে হেক্টর সারোনের দখলে।
কোপা আমেরিকার এবারের আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারটি গোল করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন লুইস সুয়ারেজ। ম্যাচ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা খুবই একতাবদ্ধভাবে খেলতে পেরেছি। আমরা প্রমাণ করেছি যে বিশ্বকাপে আমরা যা করেছিলাম, সেটা কোনো অঘটন ছিল না এবং লাতিন আমেরিকায় আমরাই সেরা। আমার মনে হয়, আমাদের এ স্মৃতি অনেক দিন মনে থাকবে। আর আমাদের শিরোপা জয়ের আকাঙ্ক্ষাটাও এখন অনেক বেড়ে যাবে।